Monday, December 9, 2024
গোলান মালভূমির বাফার জোনে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি সেনা: নেতানিয়াহু
১৯৭৪ সালে সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল, তাতে সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিপর্যয়কর হয়ে উঠেছে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, গোলান মালভূমিতে ইসরায়েল অধিকৃত এলাকা থেকে বাফার জোনে এবং আশপাশের কমান্ডিং অবস্থানগুলোতে ঢোকার জন্য তিনি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরায়েল নিজেদের সীমান্তে কোনো শত্রু বাহিনীকে অবস্থান নিতে দেবে না বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি যুদ্ধবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা বলেছে, শনিবার সিরিয়ার সেনারা কুনেইত্রা প্রদেশে তাদের অবস্থানগুলো থেকে সরে যায়। কুনেইত্রা প্রদেশের অংশ বিশেষ ওই বাফার জোনের ভেতরে পড়েছে।
গতকাল রোববার পাঁচটি সিরীয় গ্রামের বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান করতে বলেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা রাজধানী দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গোলান মালভূমির বাফার জোনে এমন পদক্ষেপ নিল ইসরায়েল। ১৯৭১ সাল থেকে বাশার আল–আসাদ এবং তাঁর বাবা ক্ষমতায় আছেন। রোববার ভোরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহী সংগঠন হায়াত তাহরির আল–শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন গোষ্ঠী দামেস্কে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে ‘সিরিয়া এখন মুক্ত’ বলে ঘোষণা দেয়।
দামেস্কের প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৪০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি পাথুরে মালভূমি গোলান। ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধের শেষ ধাপে গোলান মালভূমির দখল নেয় ইসরায়েল। ১৯৮১ সালে তারা এটিকে একতরফাভাবে নিজেদের অংশ বলে ঘোষণা করে। তবে ইসরায়েলের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। যদিও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আসাদ সরকারের পতনকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঐতিহাসিক দিন বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘দামেস্কে স্বৈরশাসক আসাদ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে এতে উল্লেখজনক বিপদও আছে।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ইরানে এবং লেবাননের ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলার বদৌলতে সিরিয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহ আসাদের মিত্র হিসেবে পরিচিত।
যেসব সিরীয় নাগরিক ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিতে থাকতে চান, তাঁদের প্রতি ইসরায়েল সৌহার্দ্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী বাফার জোনে যে অবস্থান নিয়েছে, তা সাময়িক আত্মরক্ষামূলক অবস্থান। যথাযথ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান বজায় থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
![]() |
| গোলান মালভূমির কাছে ইসরায়েলি ট্যাংক, ৮ ডিসেম্বর। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লন্ডনে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সমাবেশে সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা by সাইদুল ইসলাম
সমাবেশের দর্শকসারিতে যাঁদের বসে থাকতে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার।
গতকাল পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেসন ভেন্যু হলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের আয়োজনে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সমাবেশ হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর লন্ডনের এই সমাবেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গেল আব্দুর রহমান, শফিকুর রহমান চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব ও কবির বিন আনোয়ারকে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান ফরিদপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেট ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। হাবিবুর রহমান হাবিব সিলেট ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
জনপ্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন কবির বিন আনোয়ার। গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পদ থেকে অবসরে যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে গতকাল লন্ডনে উল্লিখিত চারজনকে দেখা গেল। দেশে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ অক্টোবর কবির বিন আনোয়ার ও তাঁর স্ত্রী তৌফিকা আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
![]() |
| যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সমাবেশের দর্শকসারিতে সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান (সারির সামনে)। ছবি: সংগৃহীত |
![]() |
| যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সমাবেশের দর্শকসারিতে সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী (সারির সামনে) ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আসাদের পতন হতেই শিরোনামে সিরিয়ার কুখ্যাত 'সেদনায়া' কারাগার
অন্যান্য ফুটেজে দেখানো হয়েছে বন্দিদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে, যার মধ্যে একটি ছোট শিশুকে তার মায়ের কাছে রাখা হয়েছে। তুরস্ক-ভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন অফ ডিটেনিস অ্যান্ড দ্য মিসিং ইন সেদনায়া প্রিজন (এডিএমএসপি) দ্বারা পোস্ট করা বন্দি মুক্তির একটি ভিডিওতে তাকে দেখানো হয়েছে। ভিডিওতে একটি কণ্ঠস্বরকে বলতে শোনা যায়, ‘ভয় পাবেন না, আসাদ সরকারের পতন হয়েছে।’
এএফপি দ্বারা যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে যে সিরিয়ানরা সেদনায়া থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে তাদের আত্মীয়স্বজন ছিল কিনা তা দেখতে ছুটে আসছে, এই কারাগারে আসাদ সরকারের অধীনে হাজার হাজার বিরোধী সমর্থককে নির্যাতন করা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী বাহিনী সিরিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সরকারী কারাগার থেকে বন্দিদের মুক্ত করেছে।
শনিবার হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) বলেছে যে তারা শহরটি দখল করার সাথে সাথে হোমস সামরিক কারাগার থেকে ৩৫০০ জনের বেশি বন্দিকে মুক্ত করেছে। সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর নামগুলোর একটি হল সেদনায়া কারাগার। দামাস্কাসের কাছে এই জেলে বন্দি ছিলেন সরকার বিরোধী হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দি।
২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর, সরকার বিরোধী প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে চালানো নিপীড়নের এক বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠে সেদনায়া। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউমান রাইটস -এর রিপোর্ট অনুসারে অনুমান করা হচ্ছে, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নির্যাতন, চিকিৎসা সেবার অভাব বা অনাহারে ৩০ হাজারেরও জনেরও বেশি বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে বা মারা গেছে। মুক্তি পাওয়া কয়েকজন বন্দির বয়ান মোতাবেক ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কমপক্ষে আরও ৫০০ বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেদনায়াকে ‘মানব কসাইখানা’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। সেই সময়ে সরকার অ্যামনেস্টির দাবিগুলিকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘সত্য বর্জিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। জোর দিয়েছিল যে সিরিয়ায় সমস্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। সেদনায়ায় নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং গণহত্যা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। অনেকেই বহু বছর ধরে জানে না যে তাদের পরিবারের সদস্যটি এখনো জীবিত নাকি মৃত। এই কঠিন অগ্নিপরীক্ষা থেকে বেঁচে যাওয়া একজন ওমর আল-শোগ্রে রবিবার বিবিসিকে বলেছেন, কিশোর বয়সে তিন বছরের কারাবাসের সময় তিনি কী নির্যাতন সহ্য করেছিলেন।
ওমর বলেন, 'আপনি সেখানে যে ব্যথা, একাকীত্ব, হতাশা অনুভব করবেন তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। তারা আমার চাচাতো ভাই, যাকে আমি খুব ভালোবাসতাম তাকে দিয়ে আমার ওপর নির্যাতন চালাতে বাধ্য করেছিল। অন্যথায়, আমাদের দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ভয় দেখানো হতো '। সিরিয়ার একটি মানবাধিকার নেটওয়ার্ক অনুমান করে যে ২০১১ সাল থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি লোককে এই পরিস্থিতিতে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী লেবাননেও, সিরিয়ার অন্ধকূপে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ভয় বহু বছর তাড়া করে বেড়িয়েছে। আর তাই কয়েক দশকের অন্ধকার থেকে আলোতে উদ্ভাসিত হওয়া সিরিয়ার এই মানুষগুলি এখনো বিশ্বাস করিতে পারছেন না যে আসাদ সরকারের পতন হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১২ দিনের ‘ঝড়ে’ বাশারের পতন, মস্কোয় আশ্রয়
এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক এখন বাশারবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে। দামেস্ক শহরের একটি মসজিদে দেওয়া ভাষণে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রধান নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি বলেছেন, ‘এই বিজয় সিরিয়ার সব মানুষের।’ এর আগে এক বিবৃতিতে জোলানি বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের আগপর্যন্ত অন্তর্বর্তী দায়িত্বে থাকবেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালি।
বাশার সরকারের পতনের পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে সেখানে কারফিউ জারি করেছেন বিদ্রোহীরা। এমন অবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় ক্ষমতায় ছিলেন বাশারের বাবা হাফিজ আল-আসাদ। বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতার মসনদে বসেন বাশার। প্রথমে সংস্কারের পথ ধরে এগোলেও পরে বাবার মতোই কর্তৃত্ববাদী শাসকে পরিণত হন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধীদের কঠোর নিপীড়নসহ নানা অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এর জের ধরে ‘আরব বসন্তের’ সময় ২০১১ সালে বাশারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। সেই গৃহযুদ্ধই চলছিল প্রায় ১৩ বছর ধরে।
গৃহযুদ্ধ ও রক্তপাতের ধারাবাহিকতায় গত ২৭ নভেম্বর নতুন করে অভিযান শুরু করেন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)। সঙ্গে ছিল ছোট-বড় আরও কয়েকটি গোষ্ঠী। অভিযান শুরুর চার দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখলে নেয় তারা। বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে কৌশলগত বিভিন্ন অবস্থান থেকে একের পর এক পালিয়ে যেতে থাকেন বাশারের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা।
এ সময় বাশার অবশ্য বিদ্রোহীদের ‘নির্মূল’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। বাশার সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া বিদ্রোহীদের ওপর দফায় দফায় বিমান হামলাও চালিয়েছে। আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের দামেস্ক যাওয়া ঠেকাতে মধ্যবর্তী হামা শহরে যোদ্ধা পাঠিয়ে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করেছে বাশারের আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের সমর্থক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এত কিছুর পরও বৃহস্পতিবার হামা দখল করে নেন বিদ্রোহী যোদ্ধারা।
এরপর এইচটিএসের নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে দামেস্কের দিকে এগোতে থাকেন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। গত শনিবার তাঁদের হাতে সিরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমসের পতন হয়। এরপর একে একে দামেস্কের কাছের ডেরা ও সুয়েইদা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায় সরকারি বাহিনী। শেষে গতকাল রোববার দামেস্কে প্রবেশ করেন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। ঘোষণা আসে, স্বৈরাচারী বাশার পালিয়ে গেছেন। দামেস্ক পুরোপুরি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে।
পরিবারসহ মস্কোয় বাশার
সরকার পতনের পর বাশারের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা শুরু হয়। বিদ্রোহী যোদ্ধারা গতকাল যখন দামেস্কে প্রবেশ করছিলেন, তখন দামেস্ক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় একটি উড়োজাহাজ। ‘সিরিয়ান এয়ার ৯২১৮ ফ্লাইটটি’ দামেস্ক থেকে উড়াল দেওয়া সর্বশেষ ফ্লাইট ছিল বলে জানিয়েছে ফ্লাইটরাডার ২৪। বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখা ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্যানুযায়ী, দামেস্ক থেকে উড়োজাহাজটি প্রথমে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে উড়ে যায়। সেখান থেকে পরে আবার উল্টোপথে যাওয়া শুরু করে। কয়েক মিনিট পর সেটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তিনি কোন দেশে গেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাচ্ছিল না।
পরে বাংলাদেশ সময় গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে রুশ বার্তা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাশার মস্কোয় পৌঁছেছেন। সেখানে তাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে রাশিয়া।
অন্তর্বর্তী দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রী জালালি
বাশারের পতনের পর রাজধানী দামেস্কসহ সিরিয়ার বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষকে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। দামেস্ক থেকে গবেষক রায়না কাতাফ বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা ১৩ বছর পানিতে ডুবে ছিলাম। এখন ওপরে উঠে শ্বাস নিতে পারছি। আমরা আবার সেই ২০১১ সালে ফিরে গেছি। আমাদের বয়স ১৩ বছর কমে গেছে।’
এদিকে বাশারের পতনের পর রাজধানী দামেস্কসহ অনেক স্থানে বাশারের বাবা হাফিজ আল-আসাদের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। হামলা হয়েছে দামেস্কে ইরানের দূতাবাসে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে লুটপাট করা হয়েছে। লুটপাট হয়েছে বাশারের ব্যক্তিগত বাসভবনেও। এই পরিস্থিতিতে গতকাল বিকেল চারটা থেকে আজ ভোর পাঁচটা পর্যন্ত দামেস্কে কারফিউ জারি করেন বিদ্রোহীরা।
এমন পরিস্থিতিতে সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, জনগণের বেছে নেওয়া যেকোনো ‘নেতৃত্বকে’ সহায়তা করতে তিনি প্রস্তুত। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সময়ে কীভাবে দেশ চলবে, সে বিষয়ে জোলানির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি।
বাশারের পতনের পর এক বিবৃতিতে জোলানি বলেন, গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আল-জালালি পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত নিজের পদে থাকবেন। পরে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা পুরস্কার হিসেবে এই বিজয় পেয়েছি। এই জয় সিরিয়ার সব মানুষের।’
১৩ বছর রক্তাক্ত সিরিয়া
সিরিয়ায় ২০১১ সালে প্রথম বাশারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই বিক্ষোভ শক্ত হাতে দমন করেছিলেন তিনি। তখন অনেক বিক্ষোভকারী অস্ত্র হাতে তুলে নেন। সামরিক বাহিনীর অনেকে যোগ দেন তাতে। একপর্যায়ে এই বিক্ষোভ সশস্ত্র বিপ্লবে রূপ নেয়। তখন থেকে সিরিয়ায় ১৩ বছর ধরে চলা সংঘাতে জড়িয়েছে বিভিন্ন পক্ষ। ধাপে ধাপে তারা দেশটির বড় একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়ার সামরিক সহায়তায় ২০২০ সাল নাগাদ আলেপ্পোসহ সিরিয়ার মূল শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান বাশার। তখন থেকেই সিরিয়ার সিংহভাগ অঞ্চলে চলছিল বাশারের শাসন। তবে সংঘাত-রক্তপাত একেবারে থেমে থাকেনি। সিরিয়ায় ২০১১ সাল থেকে চলা যুদ্ধে সব মিলিয়ে নিহত হয়েছেন ৬ লাখের বেশি মানুষ। বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছে অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে।
রাশিয়া ও ইরানের এককাট্টা সমর্থন পাওয়া বাশারের পতন এমন সময় হলো, যখন যুদ্ধ-সংঘাতে অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বিশ্ব। লেবাননে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অনেক নেতা নিহত হয়েছেন। গোষ্ঠীটি এখন আগের চেয়ে দুর্বল। বাশারের আরেক মিত্র রাশিয়াও এখন ইউক্রেনে যুদ্ধ করছে। মূলত সেই যুদ্ধের দিকেই বর্তমানে নজর দিচ্ছে মস্কো।
হায়াত তাহরির আল-শাম কারা
২০১২ সালে দামেস্কে বোমা হামলা চালানো নুসরাত ফ্রন্টকে বলা হতো বাশারবিরোধী সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী। ২০১৬ সালে আল-কায়েদা থেকে আলাদা হয়ে যায় তারা। পরে আরও কয়েকটি গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে তারা হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএস নামে আত্মপ্রকাশ করে।
এই গোষ্ঠীকে এখনো আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট মনে করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘ। আর গোষ্ঠীটির প্রধান আবু মোহাম্মদ আল-জোলানিকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
যা বলছে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
বাশারের মস্কোয় আশ্রয় নেওয়ার খবর সামনে আসার আগে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করে সিরিয়া ছাড়তে সম্মত হন বাশার। বৈঠকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
বাশারের পতনের পর দেরি করে হলেও মুখ খুলেছে ইরান। গতকাল এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও দেশটির মানুষের একতার প্রতি সম্মান রয়েছে তেহরানের। দেশটিতে দ্রুত সামরিক সংঘাতের অবসান, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমন এবং সমাজের সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সিরিয়া প্রসঙ্গে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া কিংবা ইরানের হিজবুল্লাহ—কেউই সিরিয়া সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। বাশারের পতনের পর এখন ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চয়তার এক মুহূর্ত বিরাজ করছে। সিরিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের কারও কারও মত, বাশারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা এইচটিএসের গোড়া হলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদা। সংগঠনটির অতীতে উগ্রবাদ রয়েছে। যদিও পরে তারা নিজেদের জাতীয়বাদী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই সংগঠনটি সাম্প্রতিক বার্তায় সমঝোতা-আলোচনার কথা বললেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অবস্থান কেমন হবে, তা নিশ্চিত নয়।
বাশারের পতনের পর যে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলা হচ্ছে, তা কতটা শৃঙ্খলাপূর্ণ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের পরিচালক জোশুয়া ল্যান্ডিস। তিনি বলেন, আসল প্রশ্নটা হচ্ছে কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে এই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে? তবে এটা পরিষ্কার যে জোলানি তা শৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই করতে চান। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, তা তিনি চাইবেন না।
![]() |
| সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৮ বছর পর সন্তান হলেও বাবা ডাক শোনা হলো না মিছরাফের by আব্দুর রহমান সোহেল
সরজমিন মিছরাফ খাঁ’র বাড়িতে গিয়ে দেখ যায় করুণ দৃশ্য। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মিছরাফ খাঁর মা ও স্ত্রী জেসমিন বেগম। কথা বলতে না পারা ছেলেটা লোকজনের ভিড় দেখে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাচ্ছে চারিদিকে। হয়তো মানুষের ভিড়ে খুঁজছে তার বাবা মিছরাফ খাঁ’কে। অবুঝ শিশুটি কীভাবে বুঝবে তার বাবা আর নেই। ঘাতকের এক আঘাতেই চলে গেছেন না ফেরা দেশে। গ্রামের খাঁ ও সৈয়দ গোষ্ঠীর বিরোধে নিভে গেল মিছরাফ খাঁ’র জীবন প্রদীপ।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন থেকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল সুনাটিকি গ্রামের খাঁ ও সৈয়দ গোষ্ঠীর মাঝে। গত বৃহস্পতিবার এনিয়ে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যস্থতাকারীর অনুপস্থিতিতে তা হয়নি। গত ৬ই ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর বিরোধপূর্ণ জমির ডোবায় মাছ ধরতে যান সৈয়দ জুয়েল আলী ও তার লোকজন। সালিশ বৈঠকে যেহেতু সমাধান হবে তাই মাছ না ধরার জন্য আপত্তি জানান খাঁ গোষ্ঠীর নূরুল আমিন খাঁ। কিন্তু সৈয়দ গোষ্ঠীর লোকজন আপত্তি আমলে না নিয়ে মাছ ধরতে থাকে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুই গোষ্ঠীর লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সৈয়দ মহরম খাঁ’র ছেলে মিছরাফ খাঁ (৪৫) প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ সময় অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত মিছরাফ খাঁ’র লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত পরবর্তী গত শনিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। দাফন শেষে ওইদিন রাতেই ইউপি সদস্য নূরুল আমিন বাদী হয়ে ৪৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৫০/৬ কে আসামি করে মামলা করেন। এই মামলায় আটককৃতরা হলো- সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলী, সৈয়দ মনসুর আলী, সৈয়দ লিয়াকত আলী, সৈয়দ আবদার আলী।
রাজনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহ মোবাশ্বীর হোসেন বলেন, সৈয়দ গোষ্ঠী ও খাঁ গোষ্ঠী একে অপরের আত্মীয়। বিরোধপূর্ণ ডোবাতে মাছ ধরতে গিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনার স্থলে মিছরাফ খাঁ নিহত হয়েছেন। মামলা হয়েছে, পুলিশ ৪ জনকে আকট করেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উল্লসিত ইসরাইল, কী পরিবর্তন আসছে মধ্যপ্রাচ্যে: আসাদের পতনের নেপথ্যে কে এই জোলানি? by আব্দুল কাইয়ুম
রোববার বিনা বাধায় রাজধানী দামেস্ক দখলের পর আসাদ সরকারের পতনের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দেয় এইচটিএস নামের গোষ্ঠীটি। এতে বলা হয়, দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন জালিম শাসক বাশার আল-আসাদ। সিরিয়া এখন মুক্ত। এর মধ্যদিয়ে একটি অন্ধকার যুগের সমাপ্তি হলো। আর সূচনা হলো একটি নতুন যুগের। দুই যুগের বেশি সময় ধরে সিরিয়াকে লৌহমুষ্টিতে শাসন করা আসাদের এমন করুণ পতনে গোটা বিশ্বই হতবাক। কেননা, কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে একটি দেশের শক্তিশালী প্রেসিডেন্টের পতন নিশ্চিত করা নজিরবিহীন ঘটনাই বটে। তবে টানা ২৪ বছর পর আসাদের এমন পতনের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এইচটিএসের নেতৃত্বে থাকা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। সকলেই জানতে চাইছে আসাদের পতনের নেতৃত্ব দেয়া নেপথ্যের নায়ক কে এই জোলানি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে জোলানির অতীত-বর্তমান। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ওই নেতার নানা দিক। তাতে বলা হয়, আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির আসল নাম আহমেদ হুসাইন আল-শারা। ১৯৮২ সালে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তার পিতা সেখানে পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৮৯ সালে তার পরিবার সিরিয়ায় ফিরে আসে। দামেস্কের অদূরে বসতি স্থাপন করে। দামেস্কে থাকাকালে জোলানি কী করতেন, তা জানা যায় নি। ২০০৩ সালে সিরিয়া থেকে ইরাকে এসে তিনি আল-কায়েদায় যোগ দেন। এই বছরই ইরাকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেন। তখন থেকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।
২০০৬ সালে জোলানি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর আটক থাকেন। গণতন্ত্রের দাবিতে ২০১১ সালে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে বাশার আল-আসাদ সহিংসতার পথ বেছে নেন। এর জেরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় জোলানি ছাড়া পান। এরপর তার নেতৃত্বে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে, বিশেষত ইদলিবে শক্তিশালী হতে থাকে। প্রথম দিকের কয়েক বছর আবু বকর আল-বাগদাদির সঙ্গে কাজ করেন জোলানি। বাগদাদি ছিলেন ইরাকের ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান। এই সশস্ত্র গোষ্ঠী পরে আইএসআইএল (আইএসআইএস) নাম ধারণ করে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে বাগদাদি আকস্মিকভাবে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সিরিয়ায় নিজেদের তৎপরতা বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেন। একটা পর্যায়ে আইএসআইএল আল-নুসরা ফ্রন্টকে বেশ ভালোভাবে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে ফেলে। তখনই আইএসআইএলের জন্ম হয়।
জোলানি এ পরিবর্তন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালে আল-জাজিরাকে প্রথমবারের মতো টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেন জোলানি। এতে তিনি বলেছিলেন, তার গোষ্ঠী ‘ইসলামিক আইনের’ যে ব্যাখ্যা দেবে, সিরিয়া সেই অনুযায়ী শাসিত হবে। তবে কয়েক বছর পর জোলানির মধ্যে পরিবর্তন আসে। তিনি আল কায়েদার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোয় ‘বিশ্বব্যাপী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার প্রকল্প থেকে সরে আসেন। এমন কিছুর পরিবর্তে সিরিয়া সীমান্তের ভেতরে নিজের গোষ্ঠীর তৎপরতা সীমাবদ্ধ করেন জোলানি। তার এ পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তারা মনে করেন, এর মধ্যদিয়ে জোলানির গোষ্ঠীটি বহুজাতিক বা আন্তঃদেশীয় গোষ্ঠীর বদলে একটি জাতীয় গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়।
২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাশার সরকার আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইদলিবের দিকে চলে যায়। সিরিয়ার এ অঞ্চল তখনো বিদ্রোহীদের দখলে। ২০১৬ সালে জোলানি প্রকাশ্যে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আল-নুসরা বিলুপ্ত করেন। গঠন করেন নতুন সংগঠন জাভাত ফাতেহ আল-শাম। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে আলেপ্পো থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা ইদলিবে পালিয়ে আসেন। এ সময়ে বিদ্রোহীদের ছোট ছোট অনেক গোষ্ঠী ও নিজের জাভাত ফাতেহ আল-শাম নিয়ে এইচটিএস গঠন করেন জোলানি। এইচটিএসের ঘোষিত লক্ষ্যই ছিল বাশার আল-আসাদের স্বৈরাচারী শাসন থেকে সিরিয়াকে মুক্ত করা। এইচটিএস আজ এই লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিলো।
এইচটিএসের অন্য লক্ষ্যের মধ্যে আছে সিরিয়া থেকে ‘ইরানের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা’। নিজেদের দেয়া ‘ইসলামী আইনের’ ব্যাখ্যা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা। পর্যবেক্ষকদের মতে, বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘সবচেয়ে কার্যকর’ ভূমিকা পালন করেছে এইচটিএস ও এর প্রধান জোলানি।
আসাদকে কী হত্যা করা হয়েছে?
ক্ষমতা ছেড়ে কোনোমতে জীবন নিয়ে পালান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। যে বিমান তাকে নিয়ে আকাশে উড়েছে তাতে তার স্ত্রী আসমা এবং দুই সন্তান ছিলেন কিনা তাও কেউ বলতে পারছেন না। কেউই বলতে পারছেন না বাশার আল আসাদের শেষ গন্তব্য আসলে কোথায়? তাকে বহনকারী বিমানকেও আর শনাক্ত করতে পারেনি ফ্লাইটরাডার। এর আগে শোনা যায়, বিমানটি কিছুদূর যাওয়ার পর গতিপথ পরিবর্তন করে ইউটার্ন নেয়। এমন অবস্থায় সিরিয়ার দু’টি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, যদি ওই বিমানে আসাদ থেকে থাকেন, তাহলে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কারণ, তাকে বহনকারী বিমানটি ফ্লাইটরাডার ওয়েবসাইট থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু শতভাগ সত্য কোনো তথ্য মিলছে না। ইথারে অনেক খবর। গত এক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক উত্তাল অবস্থা মোকাবিলা করছিলেন বাশার আল আসাদ। জল্পনা আছে তিনি মস্কো বা তার প্রধান মিত্র ইরানের কাছে আশ্রয় চেয়ে থাকতে পারেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া থেকেও নিশ্চিত করা হয়নি তিনি কোথায় আছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে আশ্রয় দেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাহলে কোথায় যেতে পারেন বাশার? তাকে বহনকারী বিমান যখন ইউটার্ন নিয়েছে এবং তা অদৃশ্য হয়েছে, এরপরই জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। দু’জন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্ক দখলে নিয়েছে। এর মধ্যদিয়ে ২৪ বছর পর ক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার। এমন অবস্থায় তিনি রোববার দিনের একেবারে শুরুর দিকে একটি বিমানে করে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশ্যে আকাশে পাখা মেলেন। এক সপ্তাহ আগে আকস্মিকভাবে বিদ্রোহীরা আক্রমণ তীব্র করে তোলে। তারা উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহর দখল করে নেয়ার পর অগ্রসর হতে থাকে রাজধানীমুখে। এরপর থেকে প্রকাশ্যে আর কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি আসাদকে। পালিয়ে গেলেও তিনি, তার স্ত্রী এবং দু’সন্তান কোথায়, তাদের পরিণতি কি- এসব প্রশ্নের নিশ্চিত কোনোই উত্তর মিলছে না। রয়টার্স লিখেছে, বিদ্রোহীরা রাজধানী শহর দখলে নেয়ার পরই দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে সিরিয়ার একটি বিমানে করে দেশ ছাড়েন আসাদ। ফ্লাইটরাডার এই তথ্য দিচ্ছে। এতে বলা হয়, প্রথমে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল আসাদের শক্তিশালী ঘাঁটি আলাউয়িটের দিকে উড়ে যায় বিমানটি। তার পরপরই তা ইউটার্ন নেয় আকস্মিকভাবে এবং কয়েক মিনিট বিপরীত দিকে উড়তে থাকে। এরপরই তা মানচিত্র থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিমানে আসাদ ছিলেন বলে বলা হলেও তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে সিনিয়র কর্মকর্তারা বলছেন- তিনি ওই বিমানে থাকলে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকারে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন। বিস্তারিত না জানিয়ে সিরিয়ার একটি সূত্র বলেছেন- বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। সম্ভবত এর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
সারা দেশে ফ্রন্টলাইনে সরকারি বাহিনীর বড় পতন হয়। ফলে শনিবার রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হতে থাকে বিদ্রোহীরা। এর ফলে বাশার আল আসাদের জন্য টিকে থাকাই বড় রকম হুমকি সৃষ্টি হয়। রয়টার্স বলছে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহর হোমস বিদ্রোহীরা দখল করে নেয়ার পরপরই দামেস্ক ছাড়ে ওই বিমানটি। আসাদের রাশিয়ান মিত্রদের বিমান ও নৌঘাঁটি আছে- এমন স্থানের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বদলে যাবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি
ঠিক এক সপ্তাহ আগে বিদ্রোহীরা তাদের ইদলিব প্রদেশের ঘাঁটি থেকে সিরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিস্ময়কর আক্রমণ শুরু করে। তখনো প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন হবে এ বিষয়টি ছিল অচিন্তনীয়। কিন্তু সিরিয়ায় সে ঘটনাই একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শুধু পতন হয়েছে এমনই নয়। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তার আগে ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিলেন তার পিতা হাফিজ আল আসাদ। গত এক সপ্তাহে বিদ্রোহীরা হাফিজ আল আসাদের মূর্তি ভেঙে, তার ওপর প্রহার করেছে, যে যেভাবে পারে- অবমাননা করেছে। হাফিজ আল আসাদের মৃত্যুর পর ২০০০ সালে ক্ষমতায় আসেন তার ছেলে আসাদ। কিন্তু তিনিও পিতার মতো কঠোর হয়ে ওঠেন। সবকিছু লৌহমানবের মতো চালাতে থাকেন। তার পিতার প্রশাসন ও দেশের ওপর ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং তার ছিল নিষ্পেষণমূলক রাজনৈতিক কাঠামো। তার শাসনামলে বিরোধীদের মোটেও সহ্য করা হতো না। সেই ধারা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন বাশার আল আসাদ। প্রথমে সবাই ধারণা করেছিলেন বাশার তার পিতার মতো হবেন না। তিনি উদার হবেন। মুক্ত হবেন। কম নিষ্ঠুর হবেন। কিন্তু সেই আশার মেয়াদ হয়েছে খুব কম। ২০১১ সালে তার শাসনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু তার ওপর তিনি সহিংসতা শুরু করেন। সেই সহিংসতার ফলে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়। এই যুদ্ধে কমপক্ষে ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। শরণার্থী হয়েছেন ৬০ লাখ মানুষ। রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতায় বিদ্রোহীদের দমন করতে থাকেন বাশার এবং তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকেন। রাশিয়া তাকে আকাশপথের শক্তি এবং ইরান তার সামরিক সহযোগিতা পাঠিয়ে বাশার আল আসাদকে সহযোগিতা করে। কিন্তু সব শুরুর একটা শেষ আছে। শেষ পর্যন্ত ইরান ও রাশিয়ার তরফ থেকে সেই সহযোগিতা তিনি পাননি। তার মিত্ররা এবার তাকে পরিত্যাগ করে। তাদের সহায়তা ছাড়া আসাদের সেনারা বিদ্রোহীদের থামাতে পারেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা সেটা করেননি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা ইচ্ছা করেই ইসলামিস্ট মিলিট্যান্ট গ্রুপ হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস) বিদ্রোহীদের বাধা দেননি। প্রথমেই গত সপ্তাহে তারা দখল করে নেয় দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো। এক্ষেত্রে তাদেরকে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়নি। এর কয়েকদিন পরে দখল করে হামা এবং গুরুত্বপূর্ণ হোমস। বিদ্রোহীরা পূর্ব ও দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হতে থাকেন। তাদের আক্রমণের মুখে রাজধানী কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা রাজধানীতে প্রবেশ করেন এবং আসাদের মসনদ উল্টে ফেলেন। এর মধ্যদিয়ে পিতা হাফিজ আল বাশার ও ছেলে বাশার আল আসাদের মোট ৫৩ বছরের ক্ষমতার অবসান হয়। আসাদ পরিবারের কব্জা থেকে মুক্তি পায় সিরিয়াবাসী। এরপর এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে দেশটি ভারসাম্য রক্ষায় চেষ্টা করবে। এর মধ্যদিয়ে কিন্তু ইরান আবারো একটি বড় রকমের আঘাত খেলো। আসাদের ক্ষমতার মেয়াদে ইরান ও লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ’র মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করেছে সিরিয়া। এই সম্পর্ককে ব্যবহার করে হিজবুল্লাহ’র কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ দেয়া হতো। তবে ইসরাইলের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় যুদ্ধ করে করে হিজবুল্লাহও দুর্বল হয়ে গেছে। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। অন্যদিকে ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি বার বার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব অংশ, সঙ্গে ইরাকের মিলিশিয়া, গাজার যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসকে মিলে বলা হয় অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স।এই প্রতিরোধের অক্ষ সম্প্রতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন অবস্থায় বাশার আল আসাদের পলায়ন এবং হিজবুল্লাহ, হামাস দুর্বল হয়ে যাওয়া ইসরাইলের জন্য খুশির খবর। তবে তারা এখনো ইরানকে বড় রকমের হুমকি হিসেবে দেখে। অনেকে মনে করেন সিরিয়ায় সর্বশেষ ঘটনা বা প্রেসিডেন্ট বাশারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত সম্ভব হতো না যদি তুরস্ক এইচটিএস’কে সমর্থন না দিতো। তবে এমন অভিযোগ তুরস্ক প্রত্যাখ্যান করেছে। কিছু সময় ধরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করার জন্য বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার জন্য আসাদকে চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাতে রাজি হননি আসাদ। ফলে আসাদের বিদায়ে বেশ খুশি তার দেশবাসী। এটা কি খুব খুশির খবর? এরপরে কী ঘটতে যাচ্ছে সিরিয়ায়? বলা হচ্ছে এইচটিএসের শিকড় রয়েছে আল কায়েদায়। তাদের আছে সহিংস অতীতও। এখন শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের পর তাদের ভূমিকা কী হবে তা সময়ই বলে দেবে। একই সঙ্গে আসাদ পালিয়ে যাওয়ায় সিরিয়ার ক্ষমতায় এক বিপজ্জনক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দামেস্ক এখন নিরাপদ
সিরিয়ার রাজধানী এখন নিরাপদ বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা হাদি আল-বাহরা। স্থানীয় গণমাধ্যম আল-আরাবিয়্যাকে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। হাদি বলেছেন, আসাদ শাসনামলের অবসান হয়েছে এবং এর মধ্যদিয়ে সিরিয়া তার অন্ধকার যুগ শেষ করেছে। দ্য ন্যাশনাল কোয়ালিশন অব সিরিয়া রেভ্যুলুশন অ্যান্ড অপজিশন ফোর্সেস জোটের নেতৃত্ব রয়েছেন বাহরা। তিনি জনগণকে উদ্দেশ্য করে জোর দিয়ে বলেছেন দামেস্কের পরিস্থিতি এখন নিরাপদ। এক্সে দেয়া এক বার্তায় বাহরা বলেছেন, সকল সমপ্রদায়ের এবং ধর্মের মানুষকে লক্ষ্য করে এক্সের এক বার্তায় বাহরা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি অন্য কারও উপর অস্ত্র তুলে ধরছেন বা ঘরে অবস্থান করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিরাপদ। এখন থেকে কোনোরকম প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হবে না। এ ছাড়া সিরিয়ার সকল জনগণের মানবিক মর্যাদা রক্ষা করার ঘোষণাও দিয়েছেন বিরোধী দলের ওই নেতা।
গোলান মালভূমিতে প্রতিরক্ষা লাইন শক্তিশালী করার আহ্বান ইসরাইলি মন্ত্রীর
অধিকৃত গোলান মালভূমিতে নতুন করে প্রতিরক্ষা লাইন শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী অ্যামিচাই চিকলি। তিনি বলেছেন, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অগ্রগতি দেশটির জন্য ‘উদ্যাপনের কোনো বিষয়’ নয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, সিরিয়ার বেশির ভাগ অংশ এখন ‘আল কায়েদা ও আইএসআইএল’-এর সহযোগী তাহরির আল-শামসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণে। সশস্ত্র এসব গোষ্ঠীর নেতৃত্বে যোদ্ধারা দামেস্কে প্রবেশ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) শক্তিশালী উত্থানকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন অ্যামিচাই চিকলি। এক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, ইসরাইলকে অবশ্যই অধিকৃত গোলান মালভূমির মাউন্ট হারমন অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনর্নবীকরণ করতে হবে। ১৯৭৪ সাল থেকে চলা গোলান মালভূমিতে যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে জোরালোভাবে নতুন প্রতিরক্ষা লাইন স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের ওই মন্ত্রী। উল্লেখ্য, এসডিএফের ঘনিষ্ঠ মিত্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা। সিরিয়ার গোলান মালভূমির বেশির ভাগ অংশই ১৯৬৭ সালে দখলে নিয়েছিল ইসরাইল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পদ্মাপারে কি আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন হাসিনা? মুজিব-কন্যার দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তুঙ্গে জল্পনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেদের একাংশের অনুমান, হাসিনার আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করতে পারে ঢাকার অন্তর্বর্তিকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে যার মাথায় রয়েছেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। লীগের উপর কড়া পদক্ষেপ করলে বাংলাদেশি জনতার একটা বড় অংশের সমর্থন পাবেন তিনি। কারণ, চলতি বছরের ‘জুলাই বিদ্রোহ’-এর সময়ে চলা হিংসার জন্য হাসিনার দলকেই দায়ী করেন তাঁরা।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন ৮৪ বছরের ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘টাইম ম্যাগাজ়িন’কে তিনি বলেন, ‘‘এ বছরের জুলাইয়ে নির্বিচারে খুনের নেপথ্যে যাঁদের হাত ছিল, তাঁদের বিচার হবে। এর আওতায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক হাসিনাও। তার পর অবশ্য সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করলে আমরাই স্বাগত জানাব।’’
পদ্মাপারের নোবেলজয়ী প্রধান উপদেষ্টার দাবি, মুজিব-কন্যার সঙ্গে রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে লড়াই করবে দেশের অন্যান্য দল। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে লীগের কোনও বাধা নেই। তবে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর জোর দিয়েছেন তিনি। পুরনো ধ্যানধারণা বদলে মাইক্রো ফিন্যান্স এবং সামাজ়িক ব্যবসাকে দৃঢ় করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউনূস।
এই ইস্যুতে ‘দ্য হিন্দু’র তরফে প্রশ্ন করা হলে বর্ষীয়ান নোবেলজয়ী বলেন, ‘‘আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। কারণ এ ব্যাপারে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’-এর (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি) আপত্তি রয়েছে। এটি দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল। ফলে বিএনপির মতামতকে আমরা কখনওই অস্বীকার করতে পারব না।’’
বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশের মাটি থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলার বিরোধী কট্টরপন্থী ‘জামাত-ই-ইসলামি’ও। উল্টে পদ্মাপারের রাজনীতিতে মুজিব-কন্যার দল সক্রিয় থাকুক, এমনটাই চাইছেন তাঁরা। এর মধ্যে বিএনপির ভূমিকা সবচেয়ে আশ্চর্যজনক। হাসিনার আমলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জ়িয়ার পার্টি। লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বার বার নির্বাচনে কারচুপি, দলের সদস্য-সমর্থকদের গুম-খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সবচেয়ে সরব ছিলেন তাঁরা।
বিএনপির দাবি, মিথ্যা মামলায় তাদের ৫০ লক্ষ কর্মীকে জেলে পুরেছিল হাসিনা প্রশাসন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বর্তমানে লীগের সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ চাইছে খালেদা জ়িয়ার দল। শুধু তাই নয়, জামাত আবার মুজিব-কন্যার দলকে ‘আমাদের পরিবারের অংশ’ বলে উল্লেখ করেছে। জামাতের মতো কট্টরপন্থী এই রাজনৈতিক দলকে পদ্মাপারের মাটি থেকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টাতেও খামতি রাখেননি বলে হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন দুই রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। বিএনপির মহাসচিব মির্জ়া ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে লীগকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। তবে তাঁর কথায়, ‘‘হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করা কখনওই গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়।’’ একই সুর শোনা গিয়েছে জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের গলায়। মুজিব-কন্যার শাসনকালে কট্টরপন্থী এই রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তৎকালীন বাংলাদেশ প্রশাসন।
আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিএনপি এবং জামাতের এই উদারতার নেপথ্যে একাধিক কারণের কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের আশঙ্কা, হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ জুড়ে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা দখল করা সেই দলের পক্ষে খুব একটা কঠিন হবে না। অন্য দিকে পদ্মাপারে মুজিব-কন্যার ফেলে যাওয়া কুর্সিতে বসতে বদ্ধপরিকর জামাত ও বিএনপি।
জাতিসংঘের সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি সে ভাবে আস্থাশীল নয় বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। দেশটির জনসংখ্যার ৬৪ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের কম। অভিযোগ, হাসিনার আমলে এই যুব সমাজের খুব অল্প সংখ্যকই নির্বাচনী অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তাঁরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিয়াকে খুব পছন্দ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কী ভাবে ক্ষমতা দখল করা যায়, তার ছক কষছেন জিয়া ও জামাতের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর তাই মিষ্টি কথায় আমজনতা এবং আওয়ামী লীগের ভরসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। দ্বিতীয়ত, হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়া ইস্তক গত চার মাসে তাঁর দলের প্রায় ৪০০ নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এ ক্ষেত্রে আঙুল উঠেছে বিএনপি এবং জামাতের বিরুদ্ধে।
কিন্তু, এই কালি গায়ে মাখতে নারাজ পদ্মাপারের দুই রাজনৈতিক দল। আর তাই আওয়ামী লীগের প্রতি ‘নরম’ মনোভাব দেখিয়ে বিএনপি ও জামাত দায়মুক্ত হওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তা ছাড়া লীগের আস্থাভাজন হতে পারলে হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর নিজের দলের অন্দরেই চাপ তৈরি করা যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার মনে করেন, শুধুমাত্র হাসিনা পরিচালিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই জুলাইয়ের গণবিক্ষোভ আছড়ে পড়েনি। বরং পদ্মাপারের বিভিন্ন ধরনের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যাপারও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। নতুন এই ‘হাওয়া’ কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না বিএনপি ও জামাত নেতৃত্ব। লীগকে নিষিদ্ধ করার কথা বলে তাঁদেরও অবস্থা মুজিব-কন্যার মতো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
গত দেড় দশক ধরে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কম চেষ্টা করেনি জামাত ও বিএনপি। কিন্তু বাংলাদেশি জনতা যে দারুণ ভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে এমনটা নয়। দু’টি দলেরই বহু নেতা এখনও মনে করেন বর্তমান আর্থ-সামাজিক এবং সমাজমাধ্যমের রমরমার যুগে আমজনতার নাড়ি বুঝতে ঢের সময় লাগবে। আর তাই অগণতান্ত্রিক বা বিতর্কিত কোনও মন্তব্য করে পরিস্থিতি জটিল করতে চাইছেন না তাঁরা।
সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ না হলেও পদ্মাপারে যে ভাবে লীগকে কোণঠাসা করা হয়েছে, তাতে পরবর্তী নির্বাচনে হাসিনার দলের পক্ষে পূর্ণশক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কার্যত অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে অস্তিত্বহীন রাজনৈতিক শত্রুর পরাজয় এবং ভোটে জেতার সুযোগ ছাড়তে নারাজ বিএনপি। ক্ষমতার শীর্ষে যাওয়ার আগে যাবতীয় অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়াতে চাইছে তারা।
কিছু বিএনপি নেতা-নেত্রীর সন্তান বা আত্মীয়ের সঙ্গে আবার বৈবাহিক সূত্রে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আর তাই ক্রমাগত মুজিব-কন্যার দল আক্রান্ত হলে জিয়ার দলেও ফাটল ধরার আশঙ্কা থাকবে। জামাত আবার এই সুযোগে ১৯৭১ সালের ‘গণহত্যার’ বিচারের দাবিতে অনড়। আর এর মাধ্যমে লীগের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধপরাধ’-এর মতো অভিযোগ আনতে চাইছেন তাঁরা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, নিকট ভবিষ্যতে ক্ষমতায় ফিরবে না আওয়ামী লীগ। এর জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকেই দায়ী করেছেন তাঁরা। সম্প্রতি, মুজিব-কন্যার একটি অডিয়ো ফাঁসের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে বাংলাদেশ প্রশাসনকে ‘হুমকি’ দিতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি, সহ-নাগরিকদের ‘মূর্খ’ বলেছেন তিনি। যদিও ওই অডিয়ো টেপের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার অনলাইন।
অডিও টেপ অনুযায়ী, বছর ৭৭-এর হাসিনা দাবি করেছেন, দেশের খুব কাছেই রয়েছেন তিনি। ঠিক সময়ে পদ্মাপারে পা পড়বে তাঁর। দুর্বৃত্তদের কাউকে ক্ষমা করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এ হেন মনোভাবকে প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। চলতি মাসেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিউ ইয়র্কে চলা বাংলাদেশ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চলা একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন মুজিব-কন্যা। সেখানে ইউনূস প্রশাসনকে ‘গণহত্যাকারী’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি।
সূত্র: আনন্দবাজার

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসনাতেই জিম্মি ছিল বরিশাল by মারুফ কিবরিয়া
সম্প্রতি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালের একক নিয়ন্ত্রক ছিলেন সেরনিয়াবাত আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। অর্থের বিনিময়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ পাইয়ে দেয়া ছাড়াও সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে কমিশন, সরকারি বরাদ্দের অর্থ নিজের সম্পদ উন্নয়নে ব্যয় করা ও ব্যাপক জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে হাসনাত আবদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে। আর এসবে ভূমিকা রাখতেন তার তিন ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও আশিক আবদুল্লাহ। গত ৫ই আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালানোর পরপর সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন। যদিও মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি জামিনে ছাড়া পান। গত ৩রা ডিসেম্বর ফের তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ: আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৫ বছরে বরিশাল অঞ্চলের যেকোনো নির্বাচনে মনোনয়ন কে পাবেন সেটার নির্ধারক ছিলেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা জেলা ও জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করে দিতেন তিনি। বিজয়ী প্রার্থীও নির্ধারণ করতেন তিনি। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তা নিয়ন্ত্রণ করতেন হাসনাত আবদুল্লাহ। টাকা না দিলে প্রার্থিতা মিলতো না- এমন অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে হাসনাত আবদুল্লাহ’র পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিলে নিজেই বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করাতেন। আর তাকে জয়ী করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা কাজে লাগাতেন।
বিভাগের ছয় জেলা ও ৪২টি উপজেলায় বেশির ভাগ কমিটিতে পদ-পদবি পেয়েছেন তার অনুসারীরা। পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের বেশির ভাগ চেয়ারম্যান ও মেয়রও হয়েছে তার পছন্দের লোকজন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্য করেছেন তিনি। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের গুনতে হয়েছে এলাকার গুরুত্ব বিবেচনা করে ৫০ লাখ থেকে এক কোটির অধিক টাকা।
তার নিজের পছন্দের লোক ছাড়া দলের পদ ও জনপ্রতিনিধি হওয়া প্রায় অসম্ভব করে ফেলেছিলেন আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার নির্দেশ অমান্য করতে পারে, এমন কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধি শান্তিতে থাকতে পারতো না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক কর্মী মানবজমিনকে বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ’র প্রভাবে ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্তত ৯জন চেয়ারম্যান হন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য প্রত্যেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নেয় তার পরিবার। ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য তাদের দিতে হয়েছে এক কোটি টাকা করে। বিষয়টি তখন ওপেন সিক্রেট ছিল। মনোনয়ন বঞ্চিতরা তখনই বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি তুলেছিলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে টাকা দিতে হতো। গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটনের মাধ্যমে হাসনাত এই টাকা নিতেন।
উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন: দলীয় নেতাকর্মী ও ঠিকাদারিতে জড়িত বেশ ক’জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌরসভাসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পের কোন কাজ কে পাবেন, সেটাও ঠিক করে দিতো হাসনাত পরিবার। কয়েক বছর ধরে হাসনাতের মেয়ে আর তিন ছেলে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা রাখতেন। হাসনাত পরিবারকে প্রকল্পের মোট বরাদ্দের ১০ শতাংশ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন কাজ শুরুর আগেই দিতে হতো। উন্নয়ন কাজের দরপত্র বণ্টন ও কমিশন আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন গৌরনদী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান হারিছ এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন।
জমি দখলে সেরা: জমি পছন্দ হলেই নিজের করে নিতেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার পরিবার। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই একর ১৯ শতাংশ জমির রেকর্ড নিজ নামে করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এছাড়াও বরিশাল নগরীর বান্দ রোড, কালিবাড়ী রোড, সিঅ্যান্ডবি রোড, কাশিপুরে এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক একর জমির মালিক তিনি ও তার পরিবার। এসব জমি নামমাত্র টাকায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে কেনার অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল নগরীসহ গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় নামে-বেনামে শত একরের ওপর জমি রয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘দি লক্ষ্মণ দাস সার্কাস’ এর মালিকের অরুণ দাসের মালিকানাধীন লীলা সিনেমা হলের ভবনসহ ৩৪ শতাংশ জমি জোর দলিল করে নিয়েছেন। এছাড়াও অরুণ দাসের আরও ৯৬ শতাংশের দীঘি নেয়ার চেষ্টা করেন। অরুণ দাস অভিযোগ করেন, পূর্বপুরুষের ৯৬ শতাংশ জমির ওপরে থাকা ঐতিহ্যবাহী পালরদী দীঘি তার নামে নেয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। বাধ্য হয়ে গত ১০ বছর ধরে গৌরনদী যাননি তিনি।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতার ১৫ বছরে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদী গ্রামের রিকশা মিস্ত্রি নূর মোহাম্মদের ১ একর ৪৮ শতাংশ, পৌর যুবলীগের সদস্য ফিরোজ হাওলাদারের ৫৬ শতাংশ, উত্তর বিজয়পুরে দুই হিন্দু পরিবারের ৭০ শতাংশ, এক চিকিৎসকের ১০ শতাংশ, অপর একটি পরিবারের ৬০ শতাংশ জমি লিখে নেন আবুল হাসনাত। ২০১৯ সালে উপজেলার উত্তর বিজয়পুর এলাকার মৃত ময়জুদ্দিনের ২৮ শতাংশ জমি হাসনাতের মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত হোমিওপ্যাথিক কলেজকে রেকর্ড করে নিয়েছেন। গৌরনদী মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পাঠাগারের নামে বিভিন্ন জনের ৩০ শতাংশ জমি রেকর্ড করিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি: হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া)। গত তিনটি সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া সম্পদ বিবরণী থেকে জানা যায়, ১০ বছরে হাসনাত আবদুল্লাহ’র ব্যক্তিগত সম্পদ বেড়েছে।
১০ বছরের ব্যবধানে হাসনাত আবদুল্লাহ’র বার্ষিক আয় ১৬ গুণ বেড়ে হয় ৪ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৪ টাকা। আর আর্থিক বা অস্থাবর সম্পদ ১৩ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ৮২০ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি কিছুটা কমে ১৭ একর এবং অকৃষিজমি কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ দশমিক শূন্য ৪৯ শতাংশ। আগের পুরোনো দালানের বাইরেও রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের কথা হলফনামায় উল্লেখ করেন তিনি।
সিটি করপোরেশনে চাচা-ভাতিজার ত্রাস: ২০১৮ সালে অনেকটা বিতর্কিত ভোটের মধ্য দিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র হন হাসনাত আবদুল্লাহ’র ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। পাঁচ বছরে পরিবারের ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ সব নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ২০২৩ সালে তাকে আর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ভাতিজার বদলে দেয়া হয়েছে বরিশাল মহানগীরর রাজনীতিতে অচেনা মুখ আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত। তিনিও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। এক বছরেই নানা বিতর্ক এবং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
বরিশাল সিটির একাধিক প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবজমিনকে জানান, খোকন সেরনিয়াবাত মেয়র হওয়ার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেন। বিভিন্ন স্থাপনা, বাস টার্মিনাল, বালুমহাল, ব্যবসায়িক স্থান ইত্যাদি দখল করেন। বরিশালের বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারা বাতিল করার পর সেগুলো তার দলের লোকজনের কাছে তুলে দেয়া হয় এবং এর মাধ্যমে নিয়মিত উৎকোচ আদায় হতো। এ ছাড়া ছয়তলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের সময়ও উৎকোচ গ্রহণের ব্যাপারে অভিযোগ আছে। বরিশাল সিটি করপোরেশন চলতি বছরের মার্চ মাসে নগরীর সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের জন্য ২৬৭ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করে। এই টেন্ডারে বরিশালের বিতর্কিত ঠিকাদার মাহফুজ খানের নামও উঠে আসে। একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, এসব প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হতো এবং এসব কাজের জন্য শতকরা ১০ শতাংশ অগ্রিম টাকা দাবি করা হতো। প্রায় সব ঠিকাদারি কাজে খোকন সেরনিয়াবাতের লোকজন নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ টাকা নিতেন, যা পৌঁছাতো খোকনের হাতে।
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও খোকন তার লোকজন বসান। যেখানে আগে ছিলেন বাসমালিক গ্রুপের সভাপতি আফতাব হোসেন। খোকন তাকে সরিয়ে ছাত্রলীগ নেতা অসীম দেওয়ানকে সেখানে বসিয়ে দেন। স্থানীয় বাজারগুলো থেকে আয় প্রতিদিন তার বাসায় পৌঁছাতো। এ ছাড়া খোকন সেরনিয়াবাতের লোকজন বরিশাল লঞ্চঘাটসহ অন্যান্য নদীবন্দরের ঘাট দখল করে নেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা জানান, একসময় ঘাটের রাজস্ব আদায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একইভাবে, বরিশালের দু’টি বাস টার্মিনাল থেকে প্রতি মাসে ২৫-৩০ লাখ টাকা আদায় করা হতো; যা খোকনকে দিতে হতো। নতুন দূরপাল্লার পরিবহনের আগমনের পরও ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা তার হাতে পৌঁছাতো। এ ছাড়া বরিশাল প্ল্যানেট পার্কের চুক্তি নবায়নকালে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পার্কের পরিচালনা পরিষদের এক সদস্য জানান, চুক্তির নবায়ন এবং সিটি করপোরেশনের ফি ছাড়াও আলাদা ৪০ লাখ টাকা খোকন সেরনিয়াবাতকে দিতে হয়েছিল।
৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর খোকন সেরনিয়াবাত বরিশাল ছেড়ে পালিয়ে যান, এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এদিকে, বরিশাল আওয়ামী লীগ নেতারা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, খোকন সেরনিয়াবাত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়া সরাসরি মেয়র হয়ে ওঠেন; যা বরিশালবাসীর জন্য এক দুঃখজনক ঘটনা। বরিশালবাসী এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদরা খোকন সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য পদক্ষেপ এবং সরকারি পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে খোকন সেরনিয়াবাত, সাদিক আবদুল্লাহ কিংবা হাসনাত আবদুল্লাহ’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাদিক দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, খোকন সেরনিয়াবাত দেশের ভেতরেই কোথাও পালিয়ে রয়েছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শৈশবের স্কুলে গিয়ে আপ্লুত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত
পিতার কর্মসূত্রের কারণে উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের শৈশব ও কৈশোর কাটে যশোরে। এ সময় তিনি যশোর জিলা স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯৫৮ সালে পিতার বদলিজনিত কারণে তিনি জিলা স্কুল ছেড়ে চলে যান। তারপর কেটে গেছে ৬৬ বছর। গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় কাজে যশোর আসেন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। ওঠেন যশোর সার্কিট হাউসে। সার্কিট হাউসের দক্ষিণ প্রাচীর ঘেঁষা যশোর জিলা স্কুল। সার্কিট হাউসে প্রবেশ করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম শেষ করে স্কুলে বেড়াতে যাবেন। ফলে শুক্র ও শনিবারের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রোগ্রাম শেষ করে তিনি গতকাল সকালে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ছুটে যান নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের রুমে ভিড় করতে থাকেন। এ সময় উপদেষ্টা নিজে উঠে গিয়ে উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মী ছুটে যান জিলা স্কুলে এবং উপদেষ্টার কাছে তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধে তাদের কী করণীয় সে সম্পর্কে উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করেন। উপদেষ্টা বলেন, ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবিলা করতে আমাদের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভারত ভিসা বন্ধ করে দেয়ায় আমাদের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি; ক্ষতি যা হওয়ার তা তো ভারতের হচ্ছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। কিন্তু ভারতের যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে তা সে পুষিয়ে নেবে কি করে। তিনি ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবিলায় সর্বস্তরের ছাত্র জনতাকে সরব হওয়ার আহ্বান জানান।
পরে তিনি বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বইতে তার মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন। এর আগের দিন রাতে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সব রাষ্ট্রীয় প্রটোকল উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের বেশে যশোর শহরের কালেক্টরেট চত্বর, প্যারিস রোড় খ্যাত বই মার্কেট, পিঠা পুলির দোকান ও ধর্মতলায় গরুর খাঁটি দুধের চায়ের দোকান ঘুরে ঘুরে দেখেন। এক পর্যায়ে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন প্যারিস রোড়ের রাস্তার পাশে টুলে বসে যান এবং যশোরের স্মৃতিবিজড়িত চিতই পিঠা, কুলি পিঠা, ভাপা পিঠা, ছিটরুটি ও হাঁসের মাংসের স্বাদ গ্রহণ করেন। পরে তিনি ধর্মতলায় যান এবং রাস্তার পাশের ফুটপাতে বসে গরুর খাঁটি দুধের চা পান করেন। এ সময় তার সঙ্গে ২/১ জন সরকারি অফিসার ছাড়া কোনো পুলিশ প্রোটেকশন বা সরকারি কোনো প্রটোকল ছিলো না এবং তিনি তা নিতে চাননি। এ সময় উপদেষ্টা রাস্তার পাশে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা সমস্যা ও তার সমাধানের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। এবং বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষকে তিনি পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় সাধারণ মানুষকে বলতে শোনা যায়, সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম মন্ত্রী থাকাকালীন এভাবেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে চায়ের দোকানে বা রাস্তার পাশের ওষুধের দোকানে বা গাড়ি খানা রোডের মানবাধিকার সংগঠনের অফিসে বা দৈনিক মানবজমিন পত্রিকা অফিসে বসে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিতেন। তাদের নানা বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। আজ ১৫ বছর পর সরকারের একজন মন্ত্রী বা উপদেষ্টা ঠিক সেইভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেলেন। এটাই পরিবর্তন। এর জন্যই ছাত্র-জনতা জুলাই বিপ্লবে অকাতরে প্রাণ দিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে দিয়েছে। আজ দেশে সত্যিকারের গণমানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1347)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
December
(237)
-
▼
Dec 09
(9)
- গোলান মালভূমির বাফার জোনে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ...
- লন্ডনে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সমাবেশে সাবেক মন্ত্...
- আসাদের পতন হতেই শিরোনামে সিরিয়ার কুখ্যাত 'সেদনায়া'...
- ১২ দিনের ‘ঝড়ে’ বাশারের পতন, মস্কোয় আশ্রয়
- ১৮ বছর পর সন্তান হলেও বাবা ডাক শোনা হলো না মিছরাফে...
- উল্লসিত ইসরাইল, কী পরিবর্তন আসছে মধ্যপ্রাচ্যে: আসা...
- পদ্মাপারে কি আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন হাসিনা? মুজিব...
- হাসনাতেই জিম্মি ছিল বরিশাল by মারুফ কিবরিয়া
- শৈশবের স্কুলে গিয়ে আপ্লুত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখ...
-
▼
Dec 09
(9)
-
▼
December
(237)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



