Saturday, January 16, 2016

মধুচন্দ্রিমার পরপরই বিয়ে বিচ্ছেদ?

স্বামী ও স্ত্রীর পরষ্পরকে বোঝার জন্য
সময় দেওয়া উচিত। মডেল: রাজ ও
নাফিজা। ছবি কবির হোসেন
বিয়ের এক মাসের মধ্যেই ভারতের শহুরে দম্পতিদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে। মধুচন্দ্রিমা থেকে ফেরার পর এই হার দিন দিন বেড়েই চলছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত মাসে এক দম্পতি ইন্দোনেশিয়ার বালিতে মধুচন্দ্রিমায় যান। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গ পছন্দ করতে পারেননি স্বামী। অতঃপর ১০ দিনের ভ্রমণ কমিয়ে ৩ দিন শেষে দেশে ফিরে আসেন। স্ত্রীর সঙ্গে কেন অন্তরঙ্গ হতে পারেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই স্বামী বলেন, আগে তাঁর কোনো প্রেমিকা না থাকলেও স্ত্রীর সঙ্গ তিনি উপভোগ করতে পারেননি। মধুচন্দ্রিমা থেকে ফেরার পর তাই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা আর একসঙ্গে থাকবেন না।
ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিবাহ পরামর্শক সঞ্জয় মুখার্জি বলেন, গত তিন বছর ধরে মধুচন্দ্রিমা থেকে ফেরার পরপরই বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরস্পরের প্রতি আবেগ ও শারীরিক অন্তরঙ্গতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন একজন সঙ্গীর কাছে শারীরিক সম্পর্ক একেবারে যান্ত্রিক হয়ে যায় এবং একে অপরের সঙ্গে এই সম্পর্ক উপভোগ করেন না, তখনই এই বিপত্তি ঘটে।
এটা সত্য যে পারিবারিকভাবে বিয়ের ক্ষেত্রে একজন আরেকজনের পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারে সচেতন থাকে না। তবে এমনটা প্রেম করে বিয়ের পরও হতে পারে। আইনজীবী মৃণালিনী দেশমুখ বলেন, গত দুই মাসে তিনি বেশ কয়েকজন দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ দেখেছেন। একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে না নিতে পারায় এসব বিয়ে বিচ্ছেদের বেশির ভাগগুলো ঘটেছে। এ ছাড়া বিয়ের আগের ও পরের আচরণগত পরিবর্তনও এই বিচ্ছেদের একটি বড় কারণ।
গৌরী শেঘাল (ছদ্মনাম) নামের এক নারী সম্প্রতি বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আইনজীবীর কাছে এসেছিলেন। কেন বিয়ে বিচ্ছেদ চান—জানতে চাইলে গৌরী বলেন, ‘আমরা তিন বছর প্রেম করেছি। কিন্তু বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমায় গিয়েই আমার স্বামীর আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পাই, যা আমাকে প্রতিনিয়ত অসুখী করে তোলে। তাই আমি বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিই।’
হরিশ শেঠি নামের একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, এক ছাদের নিচে থাকা আর একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাওয়া একেবারেই ভিন্ন ব্যাপার। বিয়ের পরই একজন মানুষকে ভালোভাবে চেনা যায়। কেউ যদি তার সঙ্গীর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে চায় ও অশ্রদ্ধা দেখায়, তখনই দাম্পত্য জীবনে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।
দুজনের মধ্যে স্বভাবগত পার্থক্য ছাড়াও, আগে প্রেমের সম্পর্ক, উভয়ের মধ্যে সমঝোতার অভাব, সত্য লুকানো, বিয়ের পর ভয় কিংবা অনীহার কারণে শারীরিক সম্পর্ক উপভোগ্য না হওয়া বিবাহ বিচ্ছেদের বড় কারণ। এ ছাড়া দাম্পত্য জীবনে পরিবারের অযাচিত হস্তক্ষেপও সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত কাজের চাপের ফলে একজন আরেকজনের প্রতি সহনশীলতা হারিয়ে ফেলে, কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। উচ্চ মধ্যবিত্তদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
দম্পতিদের জন্য পরামর্শ
পারিবারিকভাবে বিয়ের ক্ষেত্রে, একে অপরকে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবী মৃণালিনী দেশমুখের মতে, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরকে বোঝার জন্য সময় দেওয়া উচিত। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হরিশ শেঠি বলেন, দুজন দুজনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। বিয়ে একটা কাজ। আর এই কাজে একজনের একঘেয়েমি আসতেই পারে। এটা অনেকটা গাড়ির মতো। এটিকে চালিয়ে নিতে নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন।

নাসার ‘রাসায়নিক ল্যাপটপ’

রাসায়নিক ল্যাপটপ
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এমন এক ল্যাপটপ কম্পিউটার তৈরি করেছে, যা হয়তো একদিন ভিনগ্রহে জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে বের করবে। বিজ্ঞানীরা যন্ত্রটিকে বলছেন ‘রাসায়নিক ল্যাপটপ’। গ্রহান্তরে গিয়ে এই ল্যাপটপ নমুনা সংগ্রহ করে তাতে হয়তো এমন কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পাবে, যা এলিয়েন বা জীবনের সন্ধান দেবে। তরল নমুনা সংগ্রহ করে রঙের সঙ্গে মিশিয়ে লেজার রশ্মির মাধ্যমে নির্ধারণ করবে এটি অ্যামাইনো, নাকি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিডই জীবনের অস্তিত্ব শনাক্ত করে।
চলচ্চিত্র মূলত বাস্তব জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। তবে কিছু কিছু চলচ্চিত্র আছে, যেগুলো থেকে বাস্তবের দুনিয়া শিখতে পারে। এমনই এক সিনেমা স্টার ট্রেক। এই ছবি থেকে আগে অনেক কিছুই তৈরি হয়েছে, পাওয়া গেছে নতুন অনেক ধারণা। রাসায়নিক ল্যাপটপকেও এই স্টার ট্রেক-এর ‘ট্রাইকোর্ডার’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন বিজ্ঞানীরা।
নাসার জেট প্রপালশন গবেষণাগারের প্রযুক্তিবিদ ফার্নান্দা মোরা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের যন্ত্রটি মূলত কেমিক্যাল অ্যানালাইজার (রাসায়নিক বিশ্লেষক)। এটাকে পুনরায় প্রোগ্রাম করে নতুন নতুন কাজে ব্যবহার করা যাবে। একই ল্যাপটপের ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপে যেমন ভিন্ন ভিন্ন কাজ হয়, এটাও তেমনই।’ খুব সহজ-সরল মনে হলেও আদতে ব্যাপারটা বেশ জটিল। অ্যামাইনো ও ফ্যাটি—দুই ধরনের অ্যাসিডই জীবনের চিহ্ন বহন করে। তবে জীবের বাইরেও এসব অ্যাসিড তৈরি হতে পারে। সমস্যাটা এখানেই, পার্থক্য করাটা কঠিন। এরও সমাধান আছে নাসার এই যন্ত্রে। তরল নমুনা নিয়ে কাজ করে বলে এটা বৃহষ্পতির উপগ্রহ ইউরোপাতে কাজে লাগানো যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের অনেক দিনের ধারণা, ইউরোপাতে হয়তো জীবনের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
ম্যাশেবল অবলম্বনে মেহেদী হাসান

যৌনকর্মীদের সিরিয়াল-সিনেমায় পুনর্বাসন দিতে মমতার প্রকল্প

যে সব যৌনকর্মী পতিতাবৃত্তির পেশা ছাড়তে চান তাদেরকে অভিনয় দুনিয়ায় পুনর্বাসন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন কলকাতার মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বাবলম্বন স্পেশাল’। প্রকল্পের ঘোষণা দেয়ার পর ইতিমধ্যে দু’মাস পেরিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত নাম লিখিয়েছেন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন। আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবসরে নিজে বাংলা সিরিয়ার দেখেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা। বাংলা ছবি ও সিরিয়ালের অনেক অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তিনি এবার পেশা ছাড়তে আগ্রহী যৌনকর্মীদের অভিনয়ের দুনিয়ায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করেছেন। তবে প্রকল্প ঘোষণার দু’মাস পেরিয়ে গেলেও নাম লেখানো যৌনকর্মীদের সংখ্যা অনেক কম। মনে হচ্ছে, অভিনয় জগতের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থাকলেও পেশা ছাড়তে চাওয়া বেশিরভাগ যৌনকর্মী এখনই মুখ্যমন্ত্রীর বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। ফলে শুরুতেই খানিকটা হোঁচট খেয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সমাজকল্যাণ দপ্তর। দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, পেশা ছাড়তে চাওয়া যৌনকর্মী মেয়েদের জন্য আগে ‘স্বাবলম্বন’ নামে একটি প্রকল্প ছিল। সেখানে আচার-বড়ি তৈরি, সেলাই কিংবা মশলা গুঁড়ো করার মতো পুরনো, একঘেয়ে কাজে তাঁদের মন নেই বলে জানিয়েছিলেন অনেক মেয়ে। বরং সিনেমা-সিরিয়ালে অভিনয়ের কথা শুনে অনেকেই আগ্রহ দেখান। রাজ্যের নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়। তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত এই ‘স্বাবলম্বন স্পেশ্যাল’ প্রকল্প। গত ডিসেম্বরে নির্মাণভবনে নারী উন্নয়ন নিগমে যৌনকর্মী এবং যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠনের সঙ্গে দু’বার বৈঠক করে প্রকল্পের কথা ও কাঠামো জানিয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, স্বাবলম্বন স্পেশ্যাল-এ দু’টি কাজ শেখানো হবে বলে ঠিক হয়েছে। এক, অভিনয়। এটি চার মাসের কোর্স। অন্যটি কস্টিউম জুয়েলারি তৈরি। এটি তিন মাসের কোর্স। কিন্তু সমাজকল্যাণ দপ্তর সূত্রেই জানা গেছে, পর্দায় অভিনয় করার জন্য প্রথম দিকে উৎসাহ দেখা গেলেও এখন যেন সেখানে ভাটার টান। এখনও পর্যন্ত অভিনয় ও কস্টিউম জুয়েলারি বানানোর কোর্স দু’টির জন্য মাত্র ১৫ জন যৌনকর্মী আবেদন করেছেন। এই অনীহার কারণ কী? একাধিক সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা জানান, প্রথমে শুনে গ্ল্যামারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। শুনেছি, ওই পেশায় টাকাও মন্দ নয়। কিন্তু তার পর কিছু সমস্যা সামনে আসে। যেমন, কোর্স চলাকালীন সরকার থেকে মেয়েদের মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া যাতায়াত ও টিফিন বাবদ প্রতিদিন দেওয়া হবে ১৫০ টাকা করে। অনেক মেয়েরই মাসিক রোজগার এর থেকে অনেক বেশি বলে তাঁরা রাজি হচ্ছেন না। সরকার চাইছে, কোর্স শুরু করার পর মেয়েরা যৌনপল্লিতে থাকলেও যৌনপেশায় আর থাকবেন না। পরে যৌনপল্লি ছেড়ে অন্য জায়গায় ঘর ভাড়া নিতে হবে তাঁদের। এতেও মেয়েরা ধন্দে। নিজের পেশা ছেড়ে় বিকল্প পেশায় যেতে আগ্রহী সোনাগাছির এক যৌনকর্মীর কথায়, ‘ধরা যাক, অভিনয়ের কোর্সে নাম লেখালাম। তখন তো আমাকে এই পেশা বন্ধ করতে হবে। তার পর যদি দেখি ঠিকঠাক অভিনয় করতে পারছি না তখন কী হবে?’ আর এক যৌনকর্মীর আশঙ্কা, ‘কোর্স করার পরেও যে সিনেমা সিরিয়ালে সুযোগ পাব তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। সিরিয়ালে-সিনেমায় মুখ দেখে পেশার কারণে পুরনো কেউ যদি চিনে ফেলে? প্রশ্ন তাঁদের। আরও একটি প্রশ্নও এই প্রসঙ্গে উঠছে। বাংলা ছবি ও সিরিয়াল পুরোটাই বেসরকারি উদ্যোগে হয়। এটি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। ফলে, সরকার কী ভাবে এই ধরনের পুনর্বাসন প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে? যৌনপল্লির যে মেয়েরা নিজেদের পেশা ছেড়ে অভিনয়ের জগতে পা রাখতে চাইবেন, তাঁরা ঠিকমতো সুযোগ পাবেন কি? না পেলে তখন তাঁরা কী করবেন? যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘দুর্বার সমন্বয় সমিতি’র এক মুখপাত্র জানান, টেলিউড বা টলিউডে মানুষ ওঁদের কী ভাবে নেবেন, ব্রাত্য করে রাখবেন কি না, অপমানজনক কথা বলবেন কি না; এ সব নিয়েও মেয়েরা চিন্তিত। যদিও আমরা ওঁদের ভয় দূর করতে সোনাগাছি, খিদিরপুর, বৌবাজার, কালীঘাট, চেতলার যৌনপল্লির বাড়ি-বাড়ি গিয়ে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছি। তবু সংশয়ে রয়েছেন মেয়েরা। সমাজকল্যাণ দপ্তরের অন্তর্গত ‘উওম্যান ডেভেলপমেন্ট আন্ডারটেকিং’-এর চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য কোর্স-শেষে কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, প্রথম দিকে যাতে কাজ পেতে অসুবিধা না-হয়, তা নিশ্চিত করতে কোর্সের পরে একাধিক নামী পরিচালক দিয়ে অভিনয় ওয়ার্কশপ করানোর ব্যবস্থা হবে। সেই পর্ব মিটলে সরাসরি সিরিয়াল ও সিনেমায় মেয়েদের অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। লীনাদেবীর এই আশ্বাসেও আপাতত চিঁড়ে ভিজছে না। তাই সাবলম্বন স্পেশাল-এর আকর্ষণ বাড়াতে গ্ল্যামার দুনিয়ার হাতছানি সোনাগাছির নিশিজীবনে এখনও কোনও সাড়া ফেলতে পারেনি।

নাজমুল হুদা ভিড়ছেন ১৪ দলে? by আবদুর রশিদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) যুক্ত হতে চায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটে। এ ব্যাপারে ১৪-দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
তবে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনএকে জোটে নেওয়ার আগে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। সেখানে নির্ধারণ করা হবে, নাজমুল হুদার জোটটি ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত হবে, না জোটের সঙ্গে যুগপৎভাবে থাকবে। পরে প্রস্তাবটি জোটের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পেশ করা হবে।
বিএনএ জোটের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তাদের (১৪-দল) সঙ্গে জোট করতে রাজি আছি। যদি আজকে দেশে সুস্থ রাজনীতি ও সুশাসন আনতে এই ১৪ দলীয় জোট কাজ করে এবং এই ব্যাপারে সিরিয়াস হয়, তবে অবশ্যই তাদের সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছি।’ সরকারের বর্তমান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসাও করেন নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, ‘তারা যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের শরিক হতে পারলে তো অসুবিধা নাই। একমাত্র পলিটিক্যাল সাইড ছাড়া এই সরকারকে সবদিক থেকে মানুষ মেনে নিয়েছে।’ ১৪-দলীয় জোটে যাওয়ার আগে তাঁরাও বিএনএ জোটের সঙ্গে বসবেন। জোটের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করবেন।
আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিমণ্ডলীর  সদস্য বলেন, নাজমুল হুদার বর্তমান কর্মকাণ্ড জ্বালাও-পোড়াওয়ের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বলেও তাঁকে তাঁদের মনে হয়। তা ছাড়া রাজনীতিতে ভাঙা-গড়া সবকিছু চলে। তবে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের অবজ্ঞা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না আওয়ামী লীগ। জোটের শীর্ষ নেতারা ইতিবাচক মনোভাব দেখালে কেবল তা জোটের প্রধান শেখ হাসিনার কাছে নাজমুল হুদার যোগদানের বিষয়ে আলোচনা হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিএনএর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। সেখানে তিনি বিএনএ-কে ১৪ দলে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখান। বিএনএ-কে ১৪ দলে নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৪ দলসহ ওনাদের (বিএনএ) সঙ্গে বসব। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নিয়ে যেহেতু ১৪ দল নামে একটি জোট আছে; ওনাদের নিয়ে বসব। একটা বৈঠক হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেব। তারা জোটের সঙ্গে থাকবে, না একই ধরনের কর্মসূচি পালন করবে। এটা নিয়ে ১৪-দলীয় জোট ও বিএনএ জোটের সঙ্গে মতবিনিময় হবে।’ তবে কবে নাগাদ এ বৈঠক হবে, সেটা নিয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
অবশ্য বিএনএর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না নাজমুল হুদা। তবে নাজমুল হুদার প্রশংসা করতে ভোলেননি মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘আলোচনা করব, আলোচনা করেই এগিয়ে যাব। নাজমুল হুদা ভাই থাকলে ভালো হতো। উনি খুব ভালো ব্যক্তিত্ব।’

‘মাছের রাজা ইলিশ দেশের রাজা পুলিশ—ভয়ানক উক্তি’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ‘মাছের রাজা ইলিশ দেশের রাজা পুলিশ’ বলে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তি করা হয়েছে তা একটি ভয়ানক উক্তি। দেশে যে অবস্থা চলছে তা এখনই রুদ্ধ করা না হলে, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে, যার পরিণতি ভালো হবে না।
আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাসকে (৪০) রাজধানীর ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিকাশ চন্দ্র দাস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন। শুক্রবার ভোরে পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে মারাত্মক আহত হন বিকাশ। ​মিজানুর রহমান বলেন, বিকাশ চন্দ্র দাসকে যে ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড, সাংবিধানিক অধিকার এবং নির্যাতন বিরোধী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিকাশকে মারার সময় সেখানে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘মাছের রাজা ইলিশ, দেশের রাজা পুলিশ।’ বিকাশকে মারার সময় সেখানে উপস্থিত এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী গণমাধ্য​মকে এ কথা জানান।
শুক্রবার ভোরে চারটার দিকে পরিচ্ছন্নতার কাজ তদারক করতে বেরিয়ে ছিলেন বিকাশ। এক জায়গায় তদারক শেষে মীর হাজিরবাগ খাল-সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন লোক তাঁকে থামতে বলেন। বিকাশ তাঁদের ছিনতাইকারী ভেবে মোটরসাইকেল ঘোরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁরা বিকাশকে তাড়া করেন। বিকাশ মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে লোকগুলো বিকাশকে ধাওয়া করে ধরে মারধর শুরু করেন। পরে জানা যায়, এঁরা সাদাপোশাকের পুলিশ। এ সময় আশপাশে কর্মরত সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দৌড়ে এসে বিকাশকে তাঁদের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামনেই তাঁরা বিকাশকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে পেটান এবং বুট দিয়ে পা থেঁতলে দেন। একপর্যায়ে আহত বিকাশকে পুলিশি ভ্যানে তোলা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পুলিশের ভ্যানটিকে ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ বিকাশকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হাসপাতালে বিকাশ চন্দ্র দাসকে আইসিইউতে দেখে আসার পর গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের দায়মুক্তির ভাব গ্রাস করেছে। তাদের কোনো কিছু হবে না, কোনো কিছু স্পর্শ করবে না ভাবছে। ডিএমপি কমিশনার সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরাও তাঁর কথায় আস্থা রাখতে চাই, বিশ্বাস রাখতে চাই।’
মিজানুর রহমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিকাশ চন্দ্র দাস এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী এই দুজনের বেলায় অন্ততপক্ষে দৃষ্টান্ত রাখুন। প্রমাণ করুন আইন সবার জন্য প্রযোজ্য। পুলিশের কেউ অপরাধ করলেও রাষ্ট্র তা সহ্য করবে না তা আমরা দেখতে চাই।
বিকাশ চন্দ্র দাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, তিনি প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। তাঁর কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। কথাও অস্পষ্ট। ঘাড়ে, মাথার পেছনে, হাঁটুতে চরম আঘাত পেয়েছেন। দুটো পা নাকি তাঁর অবশ মনে হচ্ছে মাঝে মাঝে। তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন তিনি। এ ঘটনায় ভবিষ্যতে তাঁর কিডনি বা লিভারে প্রভাব ফেলবে কি না তা চিকিৎসকেরা পরে বলতে পারবেন।
মিজানুর রহমান পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা ব্যয়ভার রাষ্ট্রের বহন করা উচিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকেও যথাযথ জায়গায় আবেদন, সুপারিশ করা হবে।
ল্যাবএইড হাসপাতালের হাসপাতাল সমন্বয়ক ইখতিয়ার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বিকাশ চন্দ্র দাসের অবস্থা স্থিতিশীল আছে তবে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।

ভালোবেসেছিলেন বাংলাদেশ by মিজানুর রহমান খান

জেনারেল জ্যাকবকে প্রথম দেখি ২০০৮ সালের মার্চে, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে। প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ হলাম। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই সারেন্ডার অ্যাট ঢাকার প্রচ্ছদে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের মুখচ্ছবি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সংস্করণের প্রচ্ছদে নিয়াজি-অরোরার আত্মসমর্পণ দলিল স্বাক্ষরের আলোকচিত্রটি ঠাঁই পেয়েছে। এতে তিনি মোটেই সন্তুষ্ট নন। তাই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধাদের মুখচ্ছবিসংবলিত তাঁর বইয়ের প্রথম সংস্করণের কপি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেছিলেন। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাই অগ্রণী ছিল।
দিল্লির আর কে পুরামের বাসায় দুই যাত্রায় পুরো দুই দিন অন্তরঙ্গ আলাপের সুযোগ হয়েছে আমার। জ্যাকব নিশ্চয় নানাভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর বীরত্বগাথার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে তিনি খুব তৃপ্ত ছিলেন না। ভারতের কোনো কোনো সরকারি মহলের প্রতি তাঁর চাপা ক্ষোভ ছিল। এর প্রধান কারণ সারেন্ডার অ্যাট ঢাকায় তিনি যেভাবে যুদ্ধের বিবরণ, বিশেষ করে ডিসেম্বরের ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন, তা তারা কবুল করেনি। ভারতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। এমনকি ভারতের হাইকমান্ডকে পাশ কাটিয়ে জ্যাকব তাঁর রণকৌশলে বাংলাদেশ বিজয় চূড়ান্ত করেছিলেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশি যুদ্ধ গবেষকেরাও একমত হননি। যদিও তিনি ছিলেন ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ। অবশ্য যুদ্ধকালে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন যে অনেক সময় মাঠে থাকা জেনারেলদের ওপর নির্ভর করে, তার কিছু নজির আমাদের জানা আছে। চূড়ান্ত কোনো মত দেব না, বিষয়টি সমরবিদ ও ভাবীকালের যুদ্ধবিদ্যার্থীদের গবেষণার বিষয় হয়ে থাকবে। ভারত সরকারের প্রস্তুত করা অথচ অপ্রকাশিত যুদ্ধ-ইতিহাস ছাপা হলে হয়তো আমরা জ্যাকবের দাবি নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ পাব।
জ্যাকব ভারতের সেনাপ্রধান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁকে সেনাপ্রধান করা হলে তিনি হতেন ভারতের সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম ইহুদি সেনাপ্রধান। যদিও ধর্মের পরিচয় দিতে তিনি বড়ই কুণ্ঠিত। তাঁর কোনো জাত্যভিমান আমি দেখিনি। সেনাপ্রধান না হতে পারার একটা সূক্ষ্ম বেদনাবোধ ওঁর সুপ্ত ছিল। তিনি যে রকম উঁচু মাপের উদারনৈতিক ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ, সেই হিসেবে বিজেপিতে যোগদান করা ছিল বিস্ময়কর। বিজেপি সরকারের আমলে তিনি গোয়া ও পাঞ্জাবের গভর্নর হয়েছিলেন, এটুকুই। বিজেপি-বন্দনা তিনি করেননি।
১৬ ডিসেম্বর তারিখটিতেই বিজয় অর্জন সম্পর্কে তাঁর একটি বিশেষ অনুভূতি ছিল। তিনি এই বিশ্বাসে আচ্ছন্ন ছিলেন যে, ডিসেম্বরে ঢাকায় তিনি এমন একটি কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, যার সিংহভাগ কৃতিত্ব ও প্রশংসা তাঁর প্রাপ্য। তিনি ডিসেম্বরে ব্যক্তিগতভাবে এমনই এক কুশলী রণকৌশল অবলম্বন করেছিলেন, যার ফলে ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দলিলে নিয়াজি সই দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মুজিবনগরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের খসড়া মুসাবিদা তৈরিতে তাঁর হাতের ছোঁয়া ছিল। এসব বিবরণ দিতে দিতে তিনি আনন্দের আতিশয্যে আপ্লুত হয়েছেন। মনে হয়েছে, কোনো নিয়মে ফেলে জেনারেল অরোরার পরিবর্তে ওই দলিলখানায় যদি নিয়াজির প্রতিপক্ষ হিসেবে জ্যাকব সই দিতে পারতেন!
বিদেশি বন্ধু হিসেবে জ্যাকব সম্মাননা নিয়েছেন। তাঁকে কি আমরা একটা বিশেষ সংবর্ধনা দিতে পারতাম? আমাকে তিনি বলেছিলেন, বাহাত্তরে একবার তাজউদ্দীন আহমদ কলকাতা থেকে বিমানে দিল্লি গিয়েছিলেন। সেই যাত্রাকালে তাজউদ্দীন তাঁকে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু সরকার তাঁকে একটি সংবর্ধনা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।
২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের ডেইলি টাইমস-এ পড়লাম, একাত্তরের যুদ্ধে নিখোঁজ ২ হাজার ২৩৮ ভারতীয় প্রতিরক্ষাকর্মী। সিমলা চুক্তির পরে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যকে ভারত ফেরত দিল। আর পাকিস্তান ফেরত দিল মাত্র ৬১৭ জনকে। ৫৪ ভারতীয় পরিবার আজও নিখোঁজ। এর বিস্তারিত জানতে জ্যাকবের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। তিনি ১৬ জানুয়ারি আমাকে লিখেছিলেন, আমার ই-মেইলটি তিনি ভারতের সেনা সদরে পাঠিয়েছেন। আরেক বার্তায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় শহীদ পরিবারের কতিপয় ঠিকানার খোঁজ জানতে লিখেছিলাম। ১৭ মে ২০১১ তিনি লিখলেন, ‘আমার মনে হয় না প্রতিরক্ষা বিভাগে এর কোনো রেকর্ড আছে।’
জীবনসায়াহ্নে তিনি ইন্টারনেটে সদা তৎপর ছিলেন। অনেক সময় দ্রুত উত্তর পেয়ে অবাক হয়েছি। ‘আই অ্যাম ফাইন।’ তাঁর সবশেষ ই-মেইল পেয়েছিলাম ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪।
তাঁর স্মৃতিকথন অ্যান অডিসি ইন ওয়ার অ্যান্ড পিস। ২০১১ সালে এটি বের করেছে দিল্লির লোটাস কালেকশন। এই বইয়ের একটি পরিচ্ছেদের দলিলপত্র আমি তাঁকে সরবরাহ করেছিলাম। এটি বইয়ের শেষ চ্যাপ্টার, জর্জ গ্রিফিন উপাখ্যান: ব্যর্থ গুপ্তচর। এই সেই গ্রিফিন, যিনি একাত্তরে কলকাতার মার্কিন মিশনে কাজী জহিরুল কাইয়ুমের মাধ্যমে ইয়াহিয়া সরকারের সঙ্গে কিছু গোপন আলোচনা চালিয়েছিলেন। তখনকার ভারতীয় সরকারি মহলে গ্রিফিনকে সিআইএর এজেন্ট ভাবা হতো। ২৪ এপ্রিল তিনি আমাকে লিখেছিলেন, এতে তাঁর স্কুল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য, বার্মা, সুমাত্রা, সাতচল্লিশের আর্মি পোস্ট, নকশাল, নাগা, মিজো বিদ্রোহ-বাংলাদেশের স্বাধীনতা—গোয়া ও পাঞ্জাবের গভর্নর ও চণ্ডীগড়ের প্রশাসকজীবনের প্রতিফলন ঘটেছে। ৮ জুলাই জ্যাকব লিখলেন, ‘খবরের কাগজে পড়লাম, ইন্দিরার পক্ষে পদক নিতে সোনিয়া ঢাকায় যাচ্ছেন। ইন্দিরা সেরা প্রাপ্যের দাবিদার। বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে তিনি সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। তিনি সমগ্র যুদ্ধজুড়ে সুমহান ব্যক্তিত্ব, সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন।’ সোনিয়ার সফরকালে তাঁর এই উদ্ধৃতি তিনি প্রথম আলোয় ছাপতে বলেছিলেন। সেটা হয়নি। তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় তিনি খুশি হননি। তাই তিনি মনমোহনের সফরের পরে ‘কিছু ফিডব্যাক’ জানতে চেয়েছিলেন।
জ্যাকব বিশ্বাস করেছেন, যুদ্ধ ডিসেম্বর ছাড়িয়ে আরও বহুদূর যেত। এ বিষয়ে ঢাকার জাতিসংঘ মিশনের চাল তিনিই বানচাল করেছিলেন। তিনিই বুদ্ধি করে বহু শহর শত্রুমুক্ত না করেই দ্রুত ‘ঢাকার পতন’ নিশ্চিত করেছিলেন। জ্যাকব দিলখোলা হাসিতে উদ্ভাসিত হতেন এটা বলতে যে, নিয়াজি নিজেই স্বীকার করেছেন, জ্যাকব আমাকে বোকা বানিয়েছে!
আমি এ-সংক্রান্ত তাঁর বিবরণে যে শিশুর সারল্য ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখেছি, তাতে আমার এটা বিশ্বাস করতে ভালো লাগে যে, তিনি ডিসেম্বরের কোনো কৌশলগত লগ্নের উৎকর্ষে নিজেকে নায়ক থেকে মহানায়কে পরিণত করেছিলেন। সেই প্রশংসা তাঁর প্রাপ্য। আমি তাঁকে মানবতাবাদী হিসেবে সব থেকে বেশি শ্রদ্ধা জানাই। জ্যাক জ্যাকবের বাড়িতে কিছুটা ইসলামি সংস্কৃতির ছাপ ছিল। পরিবারের অন্দরমহলে বিশ্বস্ত জন ছিলেন মুসলিম নরনারী। তাঁর আরবি জানা জননী হয়তো সে কারণেও তাঁকে আদর করে একটি আরবি উপনামে ‘ফারাজ’ (সুখ) ডাকতেন।
জ্যাক জ্যাকব অমর হোন। শঙ্খচিল শালিক হয়ে আপনি বারংবার ফিরে আসুন, আপনারই বড় প্রিয় এই বাংলায়। আপনাকে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য, অভিবাদন, প্রিয় জেনারেল।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

ট্যানারি, বুড়িগঙ্গা ও আবাসন বড় চ্যালেঞ্জ: রেহমান সোবহান

রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি
আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক
রেহমান সোবহান। ছবি: ফোকাস বাংলা
বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় তিনটি বিষয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এগুলো হচ্ছে, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানো, বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করা ও ঢাকা শহরের জলাশয়, খাল, দখল করে গড়ে ওঠা আবাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক বক্তৃতায় রেহমান সোবহান এ কথা বলেন। সেখানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নলেজ নেটওয়ার্কের নির্বাহী প্রধান সাইমন ম্যাক্সুয়েল বক্তব্য দেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির বার্ষিক বক্তৃতা ২০১৫ এর অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে রেহমান সোবহান বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করা থেকে সরে এলেও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নিজস্ব বাজেট থেকে টাকা বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে রেহমান সোবহান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে আরও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলো জলবায়ু তহবিলে অর্থ না দিলে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে কি না, তিনি সে প্রশ্ন তোলেন।
রেহমান সোবহান বলেন, ‘আমরা গত ৩০ বছর ধরে বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার কথা বলছি, কিন্তু দূষণ বন্ধ হয়নি। এখনো চলছে। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানো নিয়ে আরেকটি নাটক আমরা দেখছি। ট্যানারিগুলো তাদের বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষিত করছে। তাদের এখনো সরানো যাচ্ছে না। ঢাকা শহরের জলাশয়, খাল, দখল করে আবাসন হচ্ছে। এ নিয়েও আমরা কিছু করতে পারছি না। বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য এই তিনটি বিষয় বড় চ্যালেঞ্জ।’
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নলেজ নেটওয়ার্কের নির্বাহী প্রধান সাইমন ম্যাক্সুয়েল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সঠিক নেতৃত্ব, সঠিক নীতি প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন দরকার।
সাইমন বিশ্বের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এ তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সাইমন জলবায়ু সম্মেলনকে সফল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে অন্তত বিশ্বের ১৮৫টি দেশ তার কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। তবে তা কতটুকু সফল হবে, তা রাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ ছাড়া দেশের জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, কূটনৈতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রশ্নোত্তরপর্বে অংশ নেন।

অচল বিশ্ববিদ্যালয়, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা by মোশতাক আহমেদ ও তানভীর সোহেল

শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতিতে শিক্ষার্থী শূন্য ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ। ছবি: ফাইল ছবি
অষ্টম বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড বহাল, গ্রেড সমস্যা নিরসন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেলের দাবিতে গত ছয় দিন ধরে কর্মবিরতি করছেন দেশের ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। এখনো দাবি পূরণে সরকারের তরফ থেকে শিক্ষকেরা কোনো সাড়া পাননি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অচল হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষক ও প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। গত ১১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষকেরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কবে শিক্ষকেদের আন্দোলন শেষ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় এই আশঙ্কা প্রতিদিনই বাড়ছে।
আজ শনিবার সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেছে, কলা ভবন, কার্জন হল ও সায়েন্স এনেক্স ভবনের বেশির ভাগ শ্রেণি কক্ষ বন্ধ। কয়েকটি বিভাগ খোলা থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরি, অফিস কক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনগুলো খোলা আছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি খোলা রয়েছে। এ ছাড়া পূর্বঘোষিত পরীক্ষাগুলোও চলছে। নতুন করে কোনো পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করছেন না শিক্ষকেরা।
এদিকে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল ও মাস্টার দা সূর্যসেন হলের অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস না হওয়ায় বাড়ি চলে গেছেন। আবার যাঁরা বাড়িতে গেছেন, তাঁরাও আপাতত ফিরছেন না।
অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত তাঁদের দাবি-দাওয়া পূরণে কোনো অগ্রগতি নেই। এ কারণে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন। তবে কিছু বিষয় আছে, সরকারের নীতি নির্ধারণের সিদ্ধান্তে বিষয়। অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শিক্ষকদের মূল দাবি ২৫ শতাংশ অধ্যাপককে গ্রেড-১ করা এবং তাঁদের একটি গ্রহণযোগ্য অংশকে জ্যেষ্ঠ সচিবের সমান বেতন স্কেল দেওয়া। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এখনো কোনো ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এতে তাঁদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট একেবারেই কমে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। অবশ্য কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সেশনজট আছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতে বিভাগভেদে কমবেশি এক বছরের সেশনজট আছে। এখন শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে এক বছরের সঙ্গে আরও কয়েক মাসের সেশনজট হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

পুলিশের নির্যাতনে এবার হাসপাতালে ডিএসসিসি কর্মকর্তা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন
কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাসl -প্রথম আলো
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০১ নম্বর ওয়ার্ডের বিছানায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শুয়ে আছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাস (৪০)। মাঝে মাঝে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বেড়ে বুক কামারখানার হাপরের মতো ওঠানামা শুরু করলেই ছেলের ওপর ঝুঁকে উদ্বিগ্ন মা চারুবালা বলে উঠছেন, ‘বিকাশ, ও বিকাশ, কী অইলো তর! উড বাবা।’
গতকাল শুক্রবার ভোরে রাজধানীর মীর হাজিরবাগ এলাকায় কর্তব্যরত অবস্থায় বিকাশকে বেধড়ক পেটায় যাত্রাবাড়ী থানার কয়েকজন পুলিশ। তারপর থেকে হাসপাতালে বিকাশ। সংজ্ঞাহীন বিকাশ যখনই একটু নড়াচড়া বা ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছিলেন, তখনই মা চারুবালা, স্ত্রী সরস্বতী দাস উতলা হয়ে চিকিৎসক, নার্সদের ডাকাডাকি করছিলেন। বিকেলে বিকাশকে ঢাকা মেডিকেল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
৯ জানুয়ারি রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে মারধর ও ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ শিকদারকে অবশ্য প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী এখনো হাসপাতালে পড়ে আছেন। শারীরিক আঘাত সেরে উঠলেও মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত তিনি। ওই ঘটনার তদন্ত এখনো পুলিশ শেষ করেনি।
এরই মধ্যে বিকাশকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাঠিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ। তবে ঘটনাটিকে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ বলছে পুলিশ। কর্মকর্তারা বলছেন, ছিনতাইপ্রবণ ওই এলাকায় বিকাশকে ছিনতাইকারী ভেবে সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের দলটি ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত ডিআইজি (আইসিটি) হারুন-উর-রশীদকে প্রধান করে গতকাল একটি কমিটি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। হারুন-উর-রশীদ ব্যাংক কর্মকর্তা নির্যাতনের ঘটনাও তদন্ত করছেন।
নির্যাতনের শিকার বিকাশের ছোট ভাই লিটন চন্দ্র দাস ও ভগ্নিপতি চন্দন দাস বলেন, গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে পরিচ্ছন্নতার কাজ তদারক করতে গিয়েছিলেন বিকাশ। এক জায়গায় তদারক শেষে মীর হাজিরবাগ খাল-সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন লোক তাঁকে থামতে বলেন। বিকাশ তাঁদেরকে ছিনতাইকারী ভেবে মোটরসাইকেল ঘোরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁরা বিকাশকে তাড়া করেন। বিকাশ মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে লোকগুলো বিকাশকে ধাওয়া করে ধরে মারধর শুরু করেন। পরে জানা যায়, এঁরা সাদাপোশাকের পুলিশ। এ সময় আশপাশে কর্মরত সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দৌড়ে এসে বিকাশকে তাঁদের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামনেই তাঁরা বিকাশকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে পেটান এবং বুট দিয়ে পা থেঁতলে দেন। একপর্যায়ে আহত বিকাশকে পুলিশি ভ্যানে তোলা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পুলিশের ভ্যানটিকে ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ বিকাশকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়্যারলেসে ঘটনা শুনে ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, বিকাশকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আমাকে হামলার বিষয়ে বলেছেন।’ সিটি করপোরেশনের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা এলে এরপর সবাই মিলে বিকাশকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিকাশকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিকাশের মুখমণ্ডল, ডান কান ও কপালে আঘাত রয়েছে। নাক দিয়ে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। দুই পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নীল-ফোলা জখম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকের বাঁট ও বুটের আঘাতের ফলে এসব জখম হয়েছে।
হাসপাতালে বিকাশকে দেখতে এসেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর সৈয়দা রোকসানা ইসলাম। তিনি বলেন, মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী বেলা ১১টার মধ্যে সব বর্জ্য সরানোর জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগের পরিদর্শককের রাত তিনটা থেকে কাজে নামতে হয়। সে অনুযায়ী কাজে এসেছেন বিকাশ। কিন্তু তাঁকে এভাবে মারধরের ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ওটা একটা ভুল-বোঝাবুঝি। তিনি বলেন, রাতের বাসযাত্রীরা যাতে ছিনতাইয়ের শিকার না হন, সে জন্য পুলিশের সাদাপোশাকের একটি দল সেখানে কাজ করছিল। তাদের সংকেত পেয়ে বিকাশ না থামায় পুলিশ তাঁকে ছিনতাইকারী ভেবে ধাওয়া করে আটক করে। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পর হাতাহাতি হয়।
উপকমিশনার বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাইনুল ইসলামকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি বা অশোভন আচরণের প্রমাণ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাদাপোশাকে পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে অব্যাহত অভিযোগের মুখে গত বছরের ১৭ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার লিখিতভাবে ‘সিভিল টিম’ পরিচালনা না করার নির্দেশ দেন। এরপরও থানাগুলো সাদাপোশাকে পুলিশের কার্যক্রম চালাতে থাকে। চার দিন পর ২১ জুন আবারও সিভিল টিম না চালানোর জন্য চিঠি দিয়ে থানাগুলোকে সতর্ক করেন ডিএমপির কমিশনার। কিন্তু সাদাপোশাকে অভিযান বন্ধ হয়নি।
গতকালের ঘটনা সম্পর্কে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শঙ্কর কর প্রথম আলোকে বলেন, ওই এলাকায় পুলিশের চার সদস্যের একটি দল ছিল। তারা অন্যায়ভাবে যদি মেরে থাকে, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বছরের ১৯ নভেম্বর রাতে রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতির চিত্র ধারণের সময় বেসরকারি এশিয়ান টিভির প্রতিবেদক নূরে আলম ও ক্যামেরা পারসন দিদার হোসেনকে মারধর করেন ঢাকা জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিউর রহমান। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মশিউরের কোনো শাস্তি হয়নি। গতকাল সাংবাদিক নূরে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়। তিনি তদন্ত কমিটি দুটির কাছে গিয়ে বক্তব্য দিয়ে এসেছেন। এখন তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নির্যাতিত ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বী ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাসকে দেখে এসে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, রাব্বী মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত। তাঁর আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। নূর খান বলেন, ‘রাব্বী যে ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং তাঁর সামনে পুলিশ অন্যদের যেভাবে নির্যাতন করেছেন বলে তাঁর মুখ থেকে শুনেছি, তা খুবই উদ্বেগের। বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সরকার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের এখনই জোরেশোরে ভাবতে হবে। আপাতত তাঁদের উচিত দোষীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা।’

মার্কিন কংগ্রেসে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ

ক্রিস্টোফার করনেল
মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্রিস্টোফার করনেল নামে ওই ব্যক্তি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে এ পরিকল্পনা করেন বলে মার্কিন গোয়েন্দারা দাবি করেছেন। গত বুধবার আগ্নেয়াস্ত্র কেনার পর ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ক্রিস্টোফার করনেলকে গ্রেপ্তার করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির। আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী করনেলকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। টুইটার বার্তায় আইএসের মতো উগ্রপন্থী সংগঠনকে সমর্থন করার পর তিনি এফবিআইয়ের নজরে আসেন। ক্রিস্টোফারের বাবা জন করনেল বলেছেন, তাঁর ছেলে জিহাদের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ বার্তা দিয়ে থাকতে পারে, তবে হামলা করার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। এবিসি টেলিভিশনকে জন করনেল বলেন, তাঁর ছেলে ক্রিস্টোফার সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। সে কখনো বাবা বা মায়ের কাছে কোনো ধরনের সহিংসতার কথা বলেনি। জন বলেন, ‘ও তার মায়ের খুব আদরের ছেলে। মাকে সবকিছুই বলে থাকে।’
তদন্তকারীরা বলছেন, ক্রিস্টোফার ‘রাহিল মাহরুস উবায়দাহ’ নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট চালাতেন। বিষয়টি জানার পর এফবিআই তাঁকে নজরদারিতে রাখে। আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন আরেকটি মামলায় সুবিধা পেতে একটি সূত্র এফবিআইকে সহযোগিতা করে আসছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্রিস্টোফার করনেল ওই সূত্রকে বলেন, সন্ত্রাসী হামলা চালানো নিয়ে বিদেশের আইএস নেতাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। ‘নিজস্ব তাগিদে জিহাদে লিপ্ত হওয়া’র ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই তথ্যদাতা এবং করনেল উভয়ে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের হ্যামিলটন কাউন্টিতে বাস করেন। টুইটারের মাধ্যমে তাঁদের প্রথম যোগাযোগ হয়। পরে টুইটারের মতোই বার্তা আদান-প্রদানের কোনো মাধ্যমে তাঁরা যোগাযোগ করেন। নথিতে দেখা গেছে, এক বার্তায় করনেল বলেছেন, ‘আমি মনে করি আমাদের এক হয়ে আইএসের মিত্র হিসেবে এখানে নিজস্ব সংগঠন গড়ে তুলে কর্মকাণ্ড চালানো উচিত।’ ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়, গত অক্টোবরে ওই সূত্রের সঙ্গে এক সাক্ষাতে করনেল বলেন, তাঁর অস্ত্রের প্রয়োজন। কিন্তু তিনি তাঁকে নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। দ্বিতীয় দফার সাক্ষাতে তিনি ওই সূত্রকে বলেন, মার্কিন কংগ্রেস ভবনে বোমা স্থাপন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুলি করতে হবে।

শরণার্থীদের মার্কেলের অফিসে পাঠালেন মেয়র

জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের এক ক্ষুব্ধ মেয়র সিরিয়ার শরণার্থীদের একটি গ্রুপকে বাসে বোঝাই করে রাজধানী বার্লিনে চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। মেয়র অবশ্য এসব শরণার্থীকে খালি হাতে পাঠাননি। বার্লিনে তাদের বাসাভাড়া করে থাকার খরচটুকু নিজের পকেট থেকেই দিয়েছেন মেয়র পিটার দ্রিয়ের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাসটি বার্লিনে এসে পৌঁছেছে। খবর এএফপি, ডেইলি মেইল। ল্যান্ডশাট জেলার মেয়র পিটার জানান, এর মাধ্যমে তিনি এই বার্তা দিতে চান যে, শরণার্থীদের বিষয়ে জার্মানিকে আর পূর্বের নীতিতে চলা যাবে না। মেয়র আরও জানান, শরণার্থীদের বাসে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনার কথা গত অক্টোবরে তিনি মার্কেলকে জানিয়েছিলেন। বাসটি অবশ্য প্রায় দেড় ঘণ্টা মার্কেলের কার্যালয়ের বাইরে দাঁড় করানো ছিল। পরে কর্মকর্তারা বাসটিকে অন্যত্র নিয়ে যান। জার্মান সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, বাসে থাকা শরণার্থীদের যে রাজনৈতিক বিবৃতি হিসেবে ব্যবহার করছে তা তারা জানত না। মেয়রের এই পদক্ষেপে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বাভারিয়ান গ্রিন পার্টির নেতা সিগি হ্যাগল বলেন, ‘এটা খুবই জঘন্য যে যারা আশ্রয় খুঁজছে তিনি (মেয়র) তাদের ব্যবহার করছেন। এটা পুরোপুরি ভুল।’ গত বছর জার্মানি প্রায় ১১ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার শরণার্থীদের আশ্রয় ও অন্যান্য ব্যবস্থা করবে।
কেন্দ্রীয় সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। ডেনমার্কের দেখাদেখি এবার শরণার্থীদের মালামাল জব্দ করছে সুইজারল্যান্ড সিরিয়া থেকে ধেয়ে আসা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর খরচ মেটাতে তাদের কাছ থেকে মালামাল জব্দ করার তালিকায় নাম লেখালো সুইজারল্যান্ডও। এতদিন শরণার্থীদের কাছ থেকে সম্পত্তি জব্দ করার কারণে সমালোচিত হয়ে আসছিল ডেনমার্ক। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফের এক শোতে বলা হয়, তাদের দেশে যেসব শরণার্থী আসছেন তাদের কাছ থেকেও মালামাল জব্দ করা হচ্ছে। এসআরএফের ওই শোতে বলা হয়, শরণার্থীদের কাছে যদি এমন কোনো মালামাল থাকে যার অর্থমূল্য ১ হাজার সুইস ফ্রাংকের চেয়ে বেশি তবে তা সুইস সরকারের কাছে জমা দেয়ার নিয়ম করা হয়েছে। বিনিময়ে শরণার্থীদের একটি রিসিট দেয়া হয়। আর এ প্রক্রিয়ার কারণে নিজেদের আরও বেশি অসহায় মনে করছেন শরণার্থীরা। এসআরএফের শোতে রিসিটধারী এক সিরীয় শরণার্থীকে উপস্থাপন করা হয়। তিনি জানান, সিরিয়া থেকে আসার পথে দালালদের টাকা-পয়সা দেয়ার পর তার কাছে যে পরিমাণ টাকা ছিল তার অর্ধেকেরও বেশি সুইস সরকারের কাছে জমা দিতে হয়েছে। এদিকে সুইজার?ল্যান্ডের এ পদক্ষেপে ক্ষোভ জানিয়েছে অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংগঠনগুলো। স্টেফ্যান ফ্রে নামের এক সহায়তাকারী বলেন, ‘এ ধরনের নিয়ম অসম্মানজনক। এটির পরিবর্তন প্রয়োজন।’ এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার সমালোচনার মুখে অভিবাসীদের সম্পত্তি জব্দ করার প্রস্তাবে কিছুটা পরিবর্তন আনছে ডেনমার্ক। অভিবাসীদের কাছে আগের চেয়ে বেশি মূল্যের সম্পত্তির মালিকানা রাখার ব্যাপারে অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

থমথমে জাকার্তা জনমনে আতংক

সন্ত্রাসী হামলার একদিন পর ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দেশটিতে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। বৃহস্পতিবারের ওই হামলার পর এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি জাকার্তা। শংকা কাটেনি সাধারণ মানুষের। এদিকে, সন্ত্রাসীদের আস্তানা খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। এরই মধ্যে আইএস জঙ্গি সন্দেহে আটক করা হয়েছে তিনজনকে। হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও অস্ট্রেলিয়া। খবর জাকার্তা পোস্ট ও এএফপির। ব্যস্ততম শহর জাকার্তায় ভোর না হতেই কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়, অথচ শুক্রবার সকালে সেখানে যেন কবরের নিস্তব্ধতা। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘যেখানে হামলা হল কাল আমার সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। খবর শোনার পর আমি দ্রুত বাসায় চলে যাই।’ অপর এক ব্যক্তি বলেন, ‘বিস্ফোরণ হওয়ার পর থেকেই মানুষ আতংকিত, আমার যারা নিয়মিত ক্রেতা ছিল তারাও এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।’ সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়াজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে চলছে তল্লাশি। বৃহস্পতিবার শহরটির গুরুত্বপূর্ণ সারিনাহ এলাকায় প্যারিসের মতোই হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। আত্মঘাতী বোমা হামলা, গুলি বর্ষণে এক কানাডীয় পর্যটকসহ দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন এক আলজেরীয়, অস্ট্রীয়, জার্মান ও ডাচসহ অন্তত ২০ জন। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ৫ হামলাকারীও। হামলার ধরন দেখে প্রথম থেকেই আইএসকে সন্দেহ করছিল সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। ৬ ঘণ্টা পর দায়ভার স্বীকার করে নেয় জঙ্গিগোষ্ঠীটি। জাকার্তার পুলিশ প্রধান টিটো কার্নাভিয়ান বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক, আমরা এরই মধ্যে জঙ্গি সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছি।
পরে ঘটনাস্থলে খোঁজ করে আরও ৬টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আমি আমার প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারাও তৎপর হয়ে ওঠে। কারণ জঙ্গিগোষ্ঠীটি সারাবিশ্বে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করছে।’ জাকার্তার পুলিশ প্রধান আরও জানিয়েছেন সন্ত্রাসীদের আস্তানা খুঁজে বের করার জন্য চলছে অভিযান। বাহরুন নঈম নামের এক ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিবিসি বলছে সে দেশের আইএসপন্থী জঙ্গিসংগঠন ইন্দোনেশিয়ান মুজাহিদিন গ্রুপ-এমআইটির এই নেতা বর্তমানে সিরিয়ায় রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জাকার্তায় হামলাকারীদের পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে চিহ্নিত করা গেছে। এদের মধ্যে ২ জন আগেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। পুলিশ হামলাকারীদের একজনের নাম আফিফ সুনাকিম বলে জানিয়েছে। সে বন্দুক এবং একটি ব্যাগ বহন করছিল আক্রমণের সময়। এর আগে একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করায় তার সাত বছরের জেল হয়। এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এই বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার বলেন, ‘আইএস জঙ্গি দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, তাই সারা বিশ্বের জন্যই এটি এখন হুমকি। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা জঙ্গিদের দমনে এক হয়ে কাজ করতে একমত হয়েছি।’ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে এর আগেও ইসলামপন্থী জঙ্গিরা হামলা চালায়। ২০০০-২০০৯ সাল পর্যন্ত জঙ্গিদের ৬ দফা হামলায় প্রায় আড়াইশ’ মানুষ প্রাণ হারায় সেখানে।

ক্যাফে মালিক থেকে আইএস নেতা

সাত বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার মফস্বল শহর সোলোর নির্ঝঞ্ঝাট সাধাসিধে মানুষ ছিলেন বাহরুন নঈম। ছোট শহরের এক কোণে একটি ইন্টারনেট ক্যাফে চালাতেন নঈম। শান্তশিষ্ট ধর্মানুরাগী হিসেবে যুবক নঈমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন প্রতিবেশী-পরিজনরা। অথচ সেই নঈমই নাকি জাকার্তায় আইএস হামলার নেপথ্য নায়ক। ইন্দোনেশিয়ায় আইএসের শীর্ষ নেতা- চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মতো এত বড় খবর সোলোবাসী দ্বিতীয়টি আর শোনেনি। অন্যদিকে বিবিসি লিখেছে, এক সময় কম্পিউটার টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন নঈম। ধারণা করা হয়, তার বাড়ি সেন্ট্রাল জাভার পেকালংগানে। বৃহস্পতিবার পুলিশ নঈমকে চিহ্নিত করেছে জাকার্তা হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে। জাকার্তার কেন্দ্রস্থলে বোমা ফাটিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী এ হামলায় নিহত হয়েছেন পাঁচ হামলাকারীসহ সাতজন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি দল ইসলামিক স্টেট এর দায় স্বীকার করেছে। পুলিশ বলছে, এ হামলা পরিকল্পনার পেছনে মূল ব্যক্তি হলেন সেই বাহরুন নঈম। তিনি এখন আছেন সিরিয়ায় আইএসের কথিত রাজধানী রাকায়; সেখান থেকেই তিনি হামলার ছক সাজিয়েছেন। শুক্রবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে অবৈধ অস্ত্রসহ ধরা পড়লে তিন বছরের জেল হয় নঈমের।
সাজা ভোগের পর ইন্দোনেশিয়ার সোলো ও কেন্দ্রীয় জাভা অঞ্চলের জঙ্গি নেটওয়ার্কের মূল সংযোগকারী হয়ে ওঠেন তিনি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া গত বছরখানেক ধরেই জঙ্গি হামলার হুমকি পেয়ে আসছিল। খিলাফত কায়েমের নামে ব্যাপক হত্যা-সন্ত্রাস চালিয়ে আসা আইএস ইন্দোনেশিয়াকেই তাদের এশিয়ায় অবতরণের প্রথম বন্দর বানাতে চায়। জাকার্তার পুলিশপ্রধান টিটো কার্নাভিয়ান বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, নঈম বেশ কিছুদিন ধরেই হামলার পরিকল্পনা করছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএসের নেতা হওয়ার ‘বাসনা’ রয়েছে তার। নভেম্বরে প্যারিসে একসঙ্গে কয়েকটি স্থানে সমন্বিত হামলার পর ‘জঙ্গি বুদ্ধিজীবী’ বাহরুন নঈম একটি ব্লগ লেখেন। সেখানে তিনি অনুসারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন- কীভাবে ইন্দোনেশিয়ার নিরক্ষীয় জঙ্গলের গেরিলাযুদ্ধ থেকে ‘জিহাদকে’ সহজেই শহরে নিয়ে যাওয়া যায়। ওই ব্লগে তার অনুসারীদের ওই ঘটনা থেকে শিখতে বলেন। ‘প্যারিস জিহাদের’ পরিকল্পনা, নিশানা, টাইমিং, সমন্বয়, নিরাপত্তা ও সাহসিকতার দিকগুলো ভালোভাবে বুঝে নিতে বলেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, প্যারিস হামলার ধরন অনুসরণ করে জাকার্তার ঘটনা ঘটানো হলেও হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে হামলাকারীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের অভাবের কারণে। নঈমের ঘনিষ্ঠ একজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ নভেম্বর টেলিগ্রাম ম্যাসেঞ্জারে ইন্দোনেশিয়ার এ জঙ্গি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। ওই কথোপকথনে নঈম বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার জন্য যথেষ্ট আইএস সমর্থক রয়েছে। তারা কেবল অপেক্ষা করছে ‘সঠিক’ সুযোগের জন্য। বৃহস্পতিবার জাকার্তায় হামলার ঘটনার পর আবারও নঈমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে রয়টার্স। তবে এবার আর তাকে পাওয়া যায়নি।

ভারত-পাকিস্তান বৈঠক হলো না

নরেন্দ্র মোদি, নওয়াজ শরিফ
কথা ছিল আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিবরা বৈঠকে বসবেন। শেষ পর্যন্ত তা হলো না। তবে দেশ দুটি বলছে, আলোচনা একেবারে ভেস্তে যাচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই দেশ ‘সমঝোতা’ করে ঠিক করেছে ‘খুব শিগগির’ আলোচনা হবে। এ ছাড়া ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের পাঠানকোটের যে বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, সেখানে পাকিস্তানের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ এসব কথা জানিয়েছেন। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের ডন পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে। গতকাল বিকাশ স্বরূপ সাংবাদিকদের জানান, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্যারিস থেকে দিল্লি ফিরেই পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসির খান জানজুয়াকে ফোন করেন। ফোনে দুই উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে কথা হয়। বৈঠকের তারিখ একপক্ষীয়ভাবে পেছানো হলো কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরূপ বিকাশ বলেন, দুই পক্ষ আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনার পরবর্তী তারিখ সুনির্দিষ্ট করে ঠিক করা হয়নি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের নেতা মাওলানা মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তার করার যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন স্বরূপ বিকাশ। তবে মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘোষণার পরপরই ভারত জানায়, পাকিস্তান মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পরে গতকাল খোদ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তারা কিছু জানে না।
পাঠানকোট হামলার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ফোন করে জানান, এই হামলায় পাকিস্তানের জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাকিস্তান যদি তাদের বিরুদ্ধে ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য ও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয় তাহলে আলোচনার পথ খোলা থাকবে। এ বিষয়ে নওয়াজ শরিফ সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার পাকিস্তানের দুই সরকারি কর্মকর্তা জানান, মাসুদ আজহার, তাঁর এক ভাই ও শ্যালককে গত সোমবার ইসলামাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডন পত্রিকার খবরে বলা হয়, বুধবার নওয়াজ শরিফ তাঁর সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে করেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি পাঠানকোটের হামলাস্থল পরিদর্শন করার জন্য কয়েকজন প্রতিনিধি পাঠাতে চান। নওয়াজ শরিফের ওই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গতকাল বিকাশ স্বরূপ বলেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের তাঁরা স্বাগত জানাবেন এবং সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন। ডন জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীদের বিষয়ে ভারত যেসব তথ্য দিয়েছে তার কিছু সত্যতা নিয়ে পাকিস্তান প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে হামলাকারীদের সহায়তাকারীদের ব্যবহৃত ফোন নম্বর হিসেবে যে নম্বরগুলো পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, এসব নম্বর পাকিস্তানে ব্যবহৃত হয় না। গত ২৫ ডিসেম্বর নরেন্দ্র মোদি আকস্মিক সফরে লাহোরে গিয়ে নওয়াজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে শান্তি আলোচনার জন্য আজ ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার তারিখ ঠিক করেন। তবে এর কয়েক দিন পরই পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা হয়।

১৬০ কোটি ডলার এক লটারিতেই!

পাওয়ারবল জ্যাকপট লটারির ড্রর পর ফ্লোরিডা লটারি
স্টুডিওতে বিজয়ী নম্বরগুলো দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
অবশেষে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত জ্যাকপট লটারির তিন বিজয়ী। এখনো নাম না জানা গেলেও এটুকু নিশ্চিত হয়েছে, তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও টেনেসি অঙ্গরাজ্যের তিন সৌভাগ্যবান। তিনজনে মিলে পাবেন প্রায় ১৬০ কোটি ডলার। দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের লটারির ড্র। খবর এএফপির। পাওয়ারবল লটারি জ্যাকপট নামে পরিচিত এই লটারির ড্র গত বুধবার টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছেন লাখো মানুষ। এ থেকে বোঝা যায়, এই ড্র ঘিরে কী বিপুল উন্মাদনা ছিল দেশটিতে। ড্রতে বিজয়ী নম্বরগুলো ছিল ৪, ৮, ১৯, ২৭ ও ৩৪। এর সঙ্গে কথিত পাওয়ারবল নম্বর ছিল ১০। বুধবার দিনটা এককথায় লটারি-জ্বরে ধরেছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। টিকিট বিক্রির দোকানগুলোতে সারা দিনই ছিল লম্বা লাইন। সময় যত গড়াচ্ছিল, আরও লম্বা হচ্ছিল তা। এরপর ড্রয়ের ফল ঘোষণার পর সবাই অনেকটা পাগলের মতো ছুটছিল নিজের দুই ডলার মূল্যের টিকিটগুলোর পরিণতি জানার উচ্ছ্বাসে।
শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, বিজয়ী হয়েছে তিনটি নম্বর। বুধবারের এই জ্যাকপটের যাত্রা শুরু গত ৭ নভেম্বরে। তখন এর মূল্যমান ছিল চার কোটি ডলার। এর মধ্যে ২০টির মতো ড্র হলেও কোনো বিজয়ী নম্বর পাওয়া যায়নি। গত শনিবারও এই লটারির ড্র হয়। তখন এর মূল্যমান ছিল ৯০ কোটি ডলার। আর বুধবার ড্রয়ের দিন বেশির ভাগ সময়ই এর মূল্যমান ছিল ১৫০ কোটি ডলার। কিন্তু টিকিট বিক্রির ধুম পড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা ১৫৯ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রেকর্ড গড়ে। এনবিসি টেলিভিশন জানায়, এই বিরাট অঙ্কের অর্থ এখন বিজয়ী তিন সৌভাগ্যবান ভাগ করে নেবেন। প্রত্যেকে পাবেন ৫২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। যদিও শিগগিরই তাঁরা মার্কিন কর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ডাক পাবেন। প্রাপ্ত অর্থের ওপর কড়ায়-গন্ডায় কর পরিশোধ করতে হবে তাঁদের।

প্রণব-খালেদা বৈঠক প্রশ্নে সমালোচকরা কি ভুল ছিলেন? by সাজেদুল হক

প্রণব মুখার্জির সঙ্গে কেন খালেদা জিয়া দেখা করেননি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। সব রাজনৈতিক বিশ্লেষকই একবাক্যে বলে এসেছেন, ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা না করার কারণে খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে কড়া মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। এমনকি বিএনপির ভেতরেও এ মত রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের যে চেষ্টা তিনি সেসময় করেছিলেন, ওই বৈঠক বাতিলের ফলে তা হাওয়ায় উড়ে যায়।
বৈঠকটি কেন বাতিল করেছিলেন খালেদা জিয়া? তার পেছনে দুুটি কারণ শোনা যায়। ১. বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর পরামর্শের কারণেই খালেদা জিয়া ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। ২. নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে একটি শক্তিশালী মহল থেকে খালেদা জিয়াকে ওই বৈঠকে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।
যে কারণেই হোক না কেন জামায়াতের হরতালের মধ্যে খালেদা জিয়ার দেখা না করার কারণে প্রণব মুখার্জি বিব্রতবোধ করেছিলেন। তবে ভারতের কংগ্রেস জমানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এখন জানাচ্ছেন, এ বৈঠক বাতিলের আগেই বাংলাদেশ নীতি প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। কিভাবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কংগ্রেস সরকারের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা হাওয়ায় উড়ে গিয়েছিল তার বিবরণ রয়েছে সালমান খুরশিদের লেখা সদ্য প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘দ্য আদার সাইড অব মাউন্টেইন’-এ।
সালমান খুরশিদ লিখেছেন, বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের খুবই উষ্ণতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। খালেদা জিয়া ভারত সফরের সময় প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। যদিও প্রণবের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনেক নেতারই ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। সালমান খুরশিদের ভাষায় সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল। তার বাংলাদেশ সফরের সময়ও খালেদা জিয়া তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন।
সবকিছু চমৎকারভাবেই এগুচ্ছিল। কিন্তু পুরো বিষয়টিই ভেস্তে যায় শাহবাগ আন্দোলনের ফলে। সালমান খুরশিদ শাহবাগ আন্দোলন কথাটি ব্যবহার করেননি। তবে তার বয়ানে বুঝা যায়, তিনি শাহবাগ আন্দোলনের কথাই বুঝিয়েছেন। তার ভাষায়, সরকার সমর্থক যুব শক্তি এবং জামায়াতের কট্টরপন্থিরা রাজপথে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। আর তখনই ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সালমান খুরশিদ এখানে একেবারেই অকপট। অনেক বস্তাপচা আত্মজীবনীতে যেমন মিথ্যার বেসাতি গাওয়া হয় সালমান খুরশিদ সে পথে হাঁটেননি। তিনি লিখেছেন, সেই পরিস্থিতিতে ভারত আওয়ামী লীগকেই বেছে নেয়।
সালমান খুরশিদের এই বই প্রকাশের পর প্রশ্নটি আবার নতুন করে সামনে এসেছে। তাহলে কি প্রণব-খালেদা বৈঠক প্রশ্নে বিশ্লেষকরা ভুল ছিলেন।

‘সন্ত্রাসীদের বর্বরতায় ভীত হওয়া চলবে না’

গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণের উচ্চ পর্যায়ের এক অধিবেশনে চরমপন্থা দমনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট কর্ম-কৌশল সম্পর্কে নিজের মতামত ব্যক্তকালে মহাসচিব বান কি মুন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান এবং মানবতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ঠাণ্ডা মাথায় এবং কমনসেন্স দিয়ে উগ্রপন্থিদের সহিংসতার জবাব দানের আহবান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বিশ্বব্যাপী চরমপন্থা তথা সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় গৃহীত এযাবৎকালের বোধহীন পলিসি প্রকারান্তরে দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে বিস্তৃত করেছে। মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা বিরাট জনগোষ্ঠীকে শত্রুর শিবিরে ঠেলে দিয়েছে এবং প্রকৃত অর্থে সন্ত্রাসীরাই লাভবান হয়েছে। এ সমাবেশে বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সবধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। স্থানীয়, আঞ্চলিক অথবা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস নির্মূলে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উগ্রবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের নীতি তুলে ধরেন। মহিলা সম্প্রদায়, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় ও স্থানীয় সরকারের নেতৃবৃন্দ, তৃণমূল সদস্য এবং মিডিয়ার সামগ্রিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সহিংসতা রোধে বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহও উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আয়োজিত ‘কাউন্টারিং ভাইয়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম’ শীর্ষক অধিবেশনে যোগ দিয়ে সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের পুনর্ব্যক্ত করেন বলেও এ সমাবেশকে অবহিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে উপস্থিত অধিকাংশ রাষ্ট্রই সাধুবাদ জানিয়েছে বিপুল করতালির মধ্য দিয়ে।
জাতিসংঘ মহাসচিব এ সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেছেন, এটা আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো শুধু সহিংসতাকে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে দিতে চায় না, ওরা আরো বেশি নির্মম প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করে। এবং আমরা নির্বোধের মতো সে ধরনের কর্মই করে চলেছি সন্ত্রাসীদের বর্বরতার বিরুদ্ধে। আমাদেরকে ওদের বর্বরতায় ভীত হওয়া চলবে না। এবং আরো বেশি নিষ্ঠুরতা চালানো যাবে না, যা থেকে সন্ত্রাসীরাই লাভবান হতে পারে’-মন্তব্য মুনের। মহাসচিব বলেন,  দেশের জনসাধারণের মধ্যে কোন কারণে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং মানবাধিকার এবং প্রচলিত রীতি যাতে ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। কোনভাবেই যাতে মানুষ আরো বিতশ্রদ্ধ না হয় সে ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরী রাষ্ট্র পরিচালকদের। অন্যথায় শত্রুরা তথা চরমপন্থিরাই লাভবান হবে।
মহাসচিবের ২২ পৃষ্টার কর্ম-কৌশলের মধ্যে বলা হয়েছে যে, শতাধিক দেশ থেকে চরমপন্থিরা ৩০ হাজার ‘বিদেশী সন্ত্রাসী যোদ্ধা’ নিয়োগ করেছে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া এবং ইয়েমেন সফরের জন্যে।’ মহাসচিব বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা শুধু একটি ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, একটি জাতির মধ্যেও নয়, কিংবা বিশেষ কোন সম্প্রদায়ের মধ্যেও ওরা সীমাবদ্ধ নয়। এবং সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার যারা হচ্ছে তার সিংগভাগই মুসলমান।’
সন্ত্রাসবাদ দমনে এযাবতকালের গৃহিত পদক্ষেপের সমালোচনা করে মহাসচিব উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, অদূরদর্শিতা, ব্যর্থ নেতৃত্ব, আনাড়ি প্রস্তাব, এককভাবে শুধুমাত্র নিরাপত্তার ব্যাপারকে প্রাধান্য দিয়ে মানবাধিকারকে পাত্তা না দেয়ায় পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করা হয়েছে।

জাকার্তার হামলাকারীরা নতুন ধারার জঙ্গি?

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের কুটা এলাকায়
বালি বোমা হামলা স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ
পরিদর্শন করছেন পর্যটকেরা। রাজধানী জাকার্তায়
ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার এক দিন পর গতকাল
তোলা ছবি (বাঁয়ে)। ছবি: রয়টার্স
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার ব্যস্ত কেন্দ্রস্থলে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচজন সন্ত্রাসীর চারজন শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন আগেই একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। আর সাম্প্রতিকতম এ হামলার পর এতে জড়িত সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
বিবিসি ও আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ যে চার হামলাকারীকে শনাক্ত করেছে তাদের মধ্যে আফিফ সুনাকিম নামের একজনকে বৃহস্পতিবার হামলার সময় বন্দুক ও কাঁধে ব্যাগ বহন করতে দেখা গেছে। আচেহ প্রদেশের একটি জঙ্গি শিবিরে অংশগ্রহণের দায়ে ইতিপূর্বে সে সাত বছরের জেলও খাটে।
গতকাল বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গি সংগঠনগুলোর এক নতুন ধারা বা প্রজন্মের সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োহানস সুলেইমান মনে করেন, যেভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে তা দেশটিতে একেবারেই নতুন ধাঁচের।
ইন্দোনেশীয় পুলিশ প্রধান জেনারেল বাদরুদ্দিন হাইতির বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, শনাক্ত হওয়া চার সন্ত্রাসীসহ পাঁচ হামলাকারীই বৃহস্পতিবার গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়। হামলায় একজন কানাডীয় ও একজন ইন্দোনেশীয় বেসামরিক লোকও প্রাণ হারান। আহত হন অন্তত আরও ২০ জন।
পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের দুজন নিহত হয় একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায়। বাকি তিনজন বন্দুক লড়াইয়ে।
জেনারেল হাইতি জানান, সুনাকিম ও আরেক হামলাকারী উভয়ই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত ছিল। আর জাকার্তার পুলিশ প্রধান টিটো কারনাভিয়ান বলেন, বৃহস্পতিবারের হামলায় যে সন্ত্রাসী সেল জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে, তা উদ্ঘাটনে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ছোট একটা দল এ হামলা চালালেও সেটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা, মূল অপরাধীরা জাভা ও সুলাওয়াশিভিত্তিক অন্য সেলগুলোর সঙ্গে যুক্ত।
এরই মধ্যে, গতকাল সকালে জাকার্তার কাছাকাছি স্থান থেকে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাহরুম নাইম নামের একজন ইন্দোনেশীয়র নাম প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ধারণা, তিনি এ হামলার সমন্বয়কারী এবং আইএসের হয়ে লড়াই করতে সিরিয়া গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএস-সমর্থক গোষ্ঠীগুলোকে সংগঠিত করার কাজ করছিলেন তিনি।
পুলিশ বলছে, গত বছরের শেষ নাগাদ আইএসের এক হামলার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছিল। আটক করা হয়েছিল সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে। তাঁদের একজন বলেছিলেন, তিনি এই নাইমের কাছ থেকেই নির্দেশনা পান। নাইম সুলাওয়াশি দ্বীপের আইএস-সমর্থিত গোষ্ঠী ইস্ট ইন্দোনেশিয়া মুজাহিদীন গ্রুপের (এমআইটি) সঙ্গে জড়িত।
গতকাল বিবিসির একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, জাকার্তায় বৃহস্পতিবারের হামলার লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী হলেও প্রাথমিক খবরে যা জানা গেছে সে অনুযায়ী এতে ছিল নানা ধরনের অনভিজ্ঞতার ছাপ। বড় রকমের হত্যাকাণ্ড ঘটাতেই জাকার্তার কেন্দ্রের ব্যস্ত এলাকা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয় হামলাকারীরা। কিন্তু তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তা ছাড়া, দৃশ্যত এটি ছিল এলোমেলো ও স্পষ্টতই কম সমন্বিত।
প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণে এ ইঙ্গিতই মিলেছে, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর প্রজন্মরা নয়; বরং শৌখিন একটি গোষ্ঠীই এ হামলা চালিয়েছে। এর সদস্যরা এমন এক নতুন প্রজন্মের সদস্য, যারা হয় ইন্টারনেট ও উগ্রপন্থী সাইটগুলো থেকে এ কাজে উজ্জীবিত হয়েছে; নয়তো পুরোনো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেয়ে তাদের তৎপরতাই কেবল অনুসরণ করেছে।

গরুর মাংস রাখার সন্দেহে ভারতে মুসলিম দম্পতির ওপর হামলা

ভারতে আবারও গরুর মাংস নিয়ে এক মুসলিম দম্পতিকে হেনস্থা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠন। হেনস্তার শিকার হওয়া ওই দম্পতি মধ্যপ্রদেশের হারদা জেলার বাসিন্দা। তাদের নাম নাসিমা বানু ও মুহম্মদ হুসেইন। তারা অভিযোগ করেছেন, ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন তারা। এমন সময় গোরক্ষক সমিতি নামের একটি সংগঠনের একদল সদস্য তারা গরুর মাংস নিয়ে যাচ্ছেন অভিযোগ তুলে হেনস্তা করে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এর আগে ভারতের উত্তরপ্রদেশে বাড়িতে গরুর মাংস আছে এমন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে এক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এবারে, হয়রানীর শিকার হলেনর হারদা জেলার মুসলিম দম্পতি। তারা ট্রেনে যাওয়ার সময় খিরকিয়া নামক একটি স্টেশনে ওই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা ট্রেনে ওঠে। তারা দাবি করে তাদের কাছে খবর আছে কেউ গরুর মাংস নিয়ে ট্রেনে উঠেছে। এরপর সবার ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে তারা। ওই দম্পতির ব্যাগও তল্লাশি করা হয়। কিন্তু এরপর তাদের হেনস্তা করা শুরু হয়। প্রত্যেক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশির পর মালপত্র এদিক সেদিক ছড়িয়ে দেয়া হয়। নাসিমা বানু প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। এরপর তার হাত ধরে টানা টানি করতে থাকে অভিযুক্তরা। নাসিমা বানুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্বামী মুহম্মদ হুসেইন। যেই গোমাংস আছে অভিযোগে তারা তল্লাশি আর হেনস্তা করেছে তা কিন্তু মেলেনি। ওই দম্পতির কাছে ছিল মহিষের মাংস। পুলিশ শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগে ওই সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে। উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরেই গরুর মাংস নিয়ে উস্কানিমূলক বিবাদ সৃষ্টি করছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।

বুরকিনা ফাসোয় সন্ত্রাসী হামলা, ৩০ জিম্মি মুক্ত

বুরকিনা ফাসোর একটি হোটেলে সন্ত্রাসী হামলার পর জিম্মি ৩০ ব্যক্তি মুক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মুক্ত হওয়ার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির এক মন্ত্রী ক্লেমেন্ট সাওয়াদোগো। হামলাকারীদের নির্মূলে অভিযান এখনও চলছে। দেশটির রাজধানী ওউয়াগাদৌগু এর একটি হোটেলে সন্ত্রাসীদের ওই হামলায় কমপক্ষে ২০ জনের প্রাণহানী হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়, স্পেøনডিড হোটেলে কয়েকজন মুখোশধারী হামলাকারী অতর্কিত হামলা চালিয়ে অনেককে জিম্মি করে নেয়। এর আগে হোটেলের বাইরে গাড়ি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বুরকিনা ফাসোর যোগাযোগ মন্ত্রী রেমিস ডানজিনৌ এক টুইটে ৩০ জিম্মির মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সামরিক অভিযান এখনও চলছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, হামলায় আহত ৩৩ জন ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হোটেলের মধ্যে ঠিক কতজন মানুষ জিম্মি রয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পশ্চিমা বিশ্বের নাগরিকরা হোটলটি বেশি ব্যবহার করেন। হামলার লক্ষ্যও তারা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্দুকধারীরা প্রথমে  হোটেলের বাইরে দুটি গাড়ি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর তিন-চারজন হামলাকারী হোটেলের ভেতরে ঢুকে গুলি চালায় ও অনেককে জিম্মি করে। ওউয়াগাদৌগু ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের পরিচালক রবার্ট সানগারে বিবিসিকে বলেন, চিকিৎসাধীন আহতদের কারও কারও গায়ে গুলির চিহ্ন আছে। কেউ  কেউ আবার জঙ্গিদের হাত থেকে বাঁচতে লাফিয়ে পড়েছিলেন। জঙ্গি তৎপরতা নজরদারি গ্রুপ সাইট জানিয়েছে, আল কায়েদা ইন দ্য ইসলামিক মাগরেব হামলার দায় স্বীকার করেছে।

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৫,০০০ করার দাবি

নারায়ণগঞ্জে একটি শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এবার গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। গতকাল বিকালে শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। শ্রমিক সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপ’র নেতা জাহেদুল হক মিলু। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে শ্রমিক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহসভাপতি এম.এ. মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস.এম. কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফ। জাহেদুল হক মিলু বলেন-জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে, সংসার চালানোর খরচ বাড়ছে একথা বলে মন্ত্রী, এমপি, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি সবার ভাতা বাড়ে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বাড়ে। কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ। শ্রমিকদের কি বাসা ভাড়া দিতে হয় না? জিনিসপত্র কিনে খেতে হয় না? পে-স্কেলে এক বিরাট বৈষম্য করা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন হবে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা, আর সর্বোচ্চ বেতন হবে দেড় লাখ টাকারও বেশি, অথচ তারা একই বাজার থেকে জিনিস কিনবে। এত বৈষম্য সত্ত্বেও সরকার স্বীকার করেছে সর্বনিম্ন বেতন হবে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। তাহলে শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বেতন কত হওয়া উচিত। অতীতে সব সময় পে-স্কেলের তুলনায় শ্রমিকদের বেতন বেশি থাকতো। কারণ, সরকারি কর্মচারীরা অনেক সুবিধা পায় বেসরকারি শ্রমিকরা পায় না। আমরা তাই বাজার দর, জীবন যাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার হাজার টাকা দাবি করছি। সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন দেশে শ্রম আইন, শ্রম বিধিমালা আছে। কিন্তু এগুলো মালিকের পক্ষে করা হয়েছে। শ্রম আইনে শ্রমিকদের যে সামান্য অধিকার আছে মালিকরা তাও দিতে চায় না। যখন তখন ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ করার হুমকি দেয়া হয়। রি-রোলিং মিলের শ্রমিকরা নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করে না মালিকেরা। দেশে সবাই গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু ট্রেড ইউনিয়ন করা যে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার তা মালিকরা স্বীকার করতে চায় না। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকরা সংখ্যায় বেশি, কিন্তু অসংগঠিত। সংগঠন ছাড়া শ্রমিক অসহায়। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট শ্রেণি সচেতন বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার সংগ্রাম করছে। নেতৃবৃন্দ সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের পতাকা তলে শ্রমিকদের সংগঠিত হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করুন।

দলীয়করণের রাজনীতি করবো না

দলীয়করণের রাজনীতি কখনোই করবেন না বলে জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গণফোরামের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম ও কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক নওয়াব আলীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়। বর্তমানে দলীয়করণের রাজনীতি চলছে অভিযোগ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সালে রাজনীতিতে যে সংকট ছিল, বর্তমানেও সেই সংকট চলছে। তখন যেমন ভোটারবিহীন নির্বাচন, মিডিয়া ক্যু ছিল- বর্তমানেও তাই চলছে। দেশের জনগণের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্য দরকার। এক্ষেত্রে তরুণ সমাজই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। যেমনটা তারা ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছে। আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন বলেন, আবুল কাসেম ও নওয়াব আলী কখনো দলীয়করণের রাজনীতি করেননি। আমিও তাদের নীতিতেই রাজনীতি করবো, দলীয়করণের রাজনীতি নয়। শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, নারী নেত্রী ফৌজিয়া মুসলেম প্রমুখ।