Wednesday, June 26, 2019

সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা সৌদি শ্রমবাজার by ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া

সৌদি আরবের ভিসা সেন্টার বা ড্রপ বক্স চালুর উদ্যোগে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দু’টি ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে ভিসা জমা নেয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন হলেও এজেন্সিগুলোর আন্দোলনের মুখে তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে মনে করছে আন্দোলনকারী এজেন্সিগুলো। তবে যেকোনো সময় সেন্টার দু’টি চালুর আশঙ্কায় এজেন্সিগুলো তাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। আগামী শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি রয়েছে ক্ষুব্ধ এজেন্সিগুলোর। এজেন্সিগুলো বলছে, ভিসা সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা পেলে মালয়েশিয়ার মতো সৌদি আরবের শ্রমবাজারও সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাবে। আশঙ্কার প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় কোনো কোম্পানিকে না দিয়ে মাত্র দু’টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের তৈরি করা কোম্পানিকে গোপনে এই সেন্টারখোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে যারা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের সাথেও জড়িত ছিল।
এ ছাড়াও এরা দুই কোম্পানিতে ২৪ জন করে মোট ৪৮টি এজেন্সিকে এর সাথে রেখেছে। তাদের আরো অভিযোগ করেছে, এজেন্সিগুলোর ব্যবসায়িক গোপনীয়তা রক্ষা হবে না, মূল ভিসা দাতার সাথে ড্রপ বক্সের সাথে জড়িতরা সরাসরি যোগাযোগ করে ব্যবসায় হাতিয়ে নেবে এবং প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। এ ছাড়া এখন পাসপোর্ট প্রতি ১১০০ টাকা নেয়ার কথা বলা হলেও পরে তা অনেকগুণ বাড়িয়ে নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের কোনো পর্যায়ে আলোচনা ছাড়াই অতি গোপনে এই সার্ভিস সেন্টার চালু এবং এ ক্ষেত্রে বায়রার বর্তমান শীর্ষনেতারাও গোপনীয়তা রক্ষা করে সিন্ডিকেটের পক্ষ নিয়েছে বলে এজেন্সিগুলোর অভিযোগ।
গত বছর ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে এই ধরনের সৌদি ভিসা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেয়া হলে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে স্থগিত রাখতে সৌদি দূতাবাস বাধ্য হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে জনশক্তি রফতানিকারক এজেন্সিগুলোর প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) বলছে, সৌদি দূতাবাসের ইচ্ছা অনুযায়ীই এই সার্ভিস সেন্টার হচ্ছে। বায়রা এই সার্ভিস সেন্টারের ব্যাপারে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ীই অনাপত্তিপত্র দিয়েছে।
যে দু’টি ভিসা সেন্টার দু’টি কোম্পানির নামে খোলা হয়েছে সেগুলোর একটির মালিক বায়রার সাবেক সভাপতি নূর আলী এবং অন্যটির মালিক সাবেক সহসভাপতি আব্দুল হাই। বনানী ও গুলশানে সেন্টার দু’টির অফিস স্থাপন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে সেন্টার দু’টি চালু করা হবে বলে সৌদি দূতাবাস থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। পরে সফটওয়ার প্রস্তুত না হওয়ার কথা জানিয়ে জানানো হয়, আগের নিয়মেই সরাসরি পাসপোর্ট নেবে দূতাবাস। এর আগে দু’টি কোম্পানিকে অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে অনাপত্তি জানিয়ে বায়রার পক্ষ থেকে গত ২৫ এপ্রিল দু’টি পৃথক চিঠি দেয়া হয় সৌদি দূতাবাসকে।
বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বায়রা চিঠি দিয়েছে। বায়রা এই ধরনের অনেক চিঠিই মন্ত্রণালয়, দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় দিয়ে থাকে। এখানে সমস্যা কোথায়?
এজেন্সিগুলোর কী ক্ষতি হবে? সদস্যদের মতামত বা জরুরি সাধারণ সভা ডেকে সভার মতামত নিয়ে বায়রা এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বায়রার সিদ্ধান্ত নিতে সব সদস্যকে জিজ্ঞেস করতে হবে এটা কোথায় বলা আছে? তিনি বলেন, কেন সৌদি দূতাবাস এই ভিসা সেন্টার চালু করেছে কাউন্সিলর সভা করে সেটা জানিয়েছে। যারা আপত্তি করছে তারা ওই দিন সেই সভায় যায়নি কেন, তাকে প্রশ্ন করেনি কেন?
‘ড্রপবক্স সিন্ডিকেট নির্মূল কমিটি ও ক্ষতিগ্রস্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকবৃন্দের’ ব্যানারে রিক্রুটিং এজেন্সির একটি বড় অংশ প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। তারা প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে এবং সোমবার নিউ ইস্কাটনে বায়রা কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে।
আন্দোলনকারী সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল আলিম গত রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছে আন্দোলনের মুখে সৌদি দূতাবাস ড্রপ বক্সের মাধ্যমে ভিসা নেয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। স্বাভাবিক নিয়েমে ভিসা নিচ্ছে। এভাবেতো হবে না। এটা আমরা মানব না। এটাতো একটা সিন্ডিকেট। যারা এই ভিসা সেন্টার চালাবে তারাও আমাদের লোক আমরা এটা মানতে পারি না। তিনি বলেন, এই ভিসা সার্ভিস সেন্টার চালু হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক গোপনীয়তা আর থাকবে না। কারণ, সৌদি আরব থেকে ভিসা আসবে আমার প্রতিষ্ঠানের নামে। সেখানে নিয়োগদাতার নাম-ঠিকানা থাকবে। সার্ভিস সেন্টার চাইলেই সেই নিয়োগদাতার সাথে যোগাযোগ করে আমার ব্যবসা নিয়ে নিতে পারবে। এ ছাড়া নিয়োগদাতারা যখন দেখবে সব ভিসা প্রসেস করছে দু’টি প্রতিষ্ঠান, তখন আমাদের আর ভিসা দেবে না।
সংগঠনের সদস্যসচিব মোবারক উল্লাহ শিমুল নয়া দিগন্তকে বলেন, আপাতত স্থগিত রাখা হলেও আমরা আতঙ্কিত। এটা অপকৌশল হতে পারে আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্য। তিনি বলেন, গত বছর ভারত, শ্রীলঙ্কায়ও এমন ড্রপ বক্স চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের মুখে সৌদি দূতাবাস তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। আমরা আগামী শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করব। তাতে বেশির ভাগ রিক্রুটিং এজেন্সি অংশ নেবে বলেও তিনি জানান।
বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, বায়রা নির্বাহী কমিটি কিভাবে কাজ করবে এটা নির্বাহী কমিটির ব্যাপার। বর্তমানে সৌদি দূতাবাসে সরাসরি পাসপোর্ট জমা দিতে গেলে একটি এজেন্সি সপ্তাহে দুই দিন জমা দিতে পারে। সার্ভিস সেন্টার হওয়ার কারণে আমরা সপ্তাহে পাঁচ দিন পাসপোর্ট জমা দিতে পারব এবং এটি হবে আনলিমিটেড।
আন্দোলনকারীদের সংগঠনের সদস্যসচিব মোবারক উল্লাহ শিমুল এ ব্যাপারে বলেন, বায়রা অনৈতিক কাজ করেছে গোপনে চিঠি দিয়ে। তিনি বলেন, গত বছর এমন উদ্যোগের বিরোধিতা করে বায়রার পক্ষ থেকে সৌদি দূতাবাসে চিঠি দেয়া হয়েছিল। তখন যিনি সভাপতি ছিলেন তিনিই আবার এখন সিন্ডিকেটের পক্ষে চিঠি দিলেন। তিনি বলেন, এই ধরনের একটি বড় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে অবশ্যই বায়রার ইজিএম ডাকতে হয়। কিন্তু দেখা যায়, আপত্তি ওঠার পর গত ২৩ জুন হোটেল ওয়েস্টিনে কিছু এজেন্সিকে নিয়ে একটি মিটিং করে তাদের সার্ভিস সেন্টার চালুর বিষয় অবহিত করা হলো। তিনি বলেন, এই সার্ভিস সেন্টার সৌদি দূতাবাসের ইচ্ছায় হলে মাত্র দু’টি কোম্পানিকে গোপনে কেন দেয়া হবে? আমাদের সরকার কেন বিষয়টি জানবে না? তিনি বলেন, আগে যেখানে মাসে এক লাখ সৌদি ভিসা প্রসেসিং হতো এখন মাসে ২০ হাজারের মতো হয়। এই ভিসার জন্য দূতাবাসে সরাসরি পাসপোর্ট দিয়ে প্রসেসিং করতে সমস্যা কোথায়?
আন্দোলনকারী জনশক্তি রফতানিকারকেরা সোমবার তাদের মানববন্ধনে বলেন, আগে তারা সরাসরি সৌদি দূতাবাসে ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিতে পারতেন। এখন সার্ভিস সেন্টারে ভিসা জমা দিতে গেলে বাড়তি ফি দিতে হবে। এতে অভিবাসন ব্যয় বাড়বে। ড্রপবক্সে ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ১,১০০ টাকা ফি ঠিক করা হয়েছে। এটা কিছুদিন পরে ১১,০০০ টাকায় রূপ নিতে পারে।
বায়রার সাধারণ সদস্য টিপু সুলতান বলেন, আমরা এখন যেই পাসপোর্টগুলো সৌদি দূতাবাসে জমা দিচ্ছি তা কোনো খরচ ছাড়া। এখন তারা যেই চার্জ নির্ধারণ করেছে সে ক্ষেত্রে আমাদের অভিবাসন ব্যয় বছরে ২০০ কোটি টাকা বাড়বে।
বায়রার সাধারণ সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘বায়রার ১৬ শ’ এজেন্সি এখানে ব্যবসায়িক অধিকার হারাবে। যেটা অতীতে আমরা মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে দেখেছি। এভাবেই শ্রমবাজারটি নষ্ট হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক।
বায়রার সাধারণ সদস্যরা শনিবার রাজধানীর বিজয় নগরে একটি হোটেলে ‘ভিসা সেন্টার’ প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বলেছে, এজেন্সিগুলো ওই দুই জনশক্তি রফতানিকারকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। সৌদি আরবে কর্মী পাঠাতে গেলে দুই জনশক্তি রফতানিকারকের কাছে ধর্ণা দিতে হবে। তারা কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিলে তবেই কর্মী পাঠানো যাবে। আর সুযোগ না দিলে কোনো জনশক্তি রফতানিকারক কর্মী পাঠাতে পারবে না। ওই সমাবেশ থেকে কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলিম বলেন, বায়রার সাধারণ সদস্যরা ভিসা সার্ভিস সেন্টার বাতিলের দাবিতে লাগাতার কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সার্ভিস সেন্টার বাতিল না হলে, সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়া হবে। একই সাথে সার্ভিস সেন্টারে কোনো পাসপোর্ট জমা না দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। বলা হয়, গত কয়েক বছর মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট করে কর্মী পাঠিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন ওই সিন্ডিকেট সৌদি আরবেও সিন্ডিকেট করেছে।
সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, আন্দোলনের মুখে সৌদি দূতাবাস সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে ভিসা নেয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। দূতাবাসের তিন দিন আগে বিদায় নেয়া কাউন্সিল মো: ইব্রাহিমের বিরুদ্ধেও সিন্ডিকেটের সাথে যোজসাজশের অভিযোগ করে আন্দোলনকারীরা বলছেন, আজকালের নতুন কাউন্সিলর মরগানের কাছে এই সার্ভিস সেন্টার বন্ধের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। এরই মধ্যে এজেন্সিগুলো তাদের সৌদি কাউন্টার পার্ট ও সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও আপত্তি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন মোবারক উল্লাহ শিমুল।

অর্থনীতির আড়ালে বাহরাইনে শেষ হল ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা নিয়ে সম্মেলন

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় কথিত অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্মেলনের আজ ছিল দ্বিতীয় ও শেষ দিন। গতকাল ওই সম্মেলন শুরু হয়েছিল। বাহরাইনের জনগণ এ সম্মেলনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
দু'দিনের এ সম্মেলনকে অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্মেলন বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে, অর্থনীতির আড়ালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমেরিকা এ সম্মেলনকে অর্থনৈতিক সম্মেলন হিসেবে প্রচার চালালেও প্রকৃতপক্ষে, 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' পরিকল্পনার ব্যাপারে ফিলিস্তিনিদের বিরোধিতার মাত্রা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও ওই পরিকল্পনা প্রণয়নের অন্যতম হোতা জারেড কুশনার বাহরাইনে সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে দাবি করেছেন, "ট্রাম্পের 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অন্তত ১০ লাখ ফিলিস্তিনির কর্মসংস্থান হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জর্দান, লেবানন ও  মিশরে বিপুল পুঁজি বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মানামা সম্মেলন পুরোপুরি ব্যর্থ হবে। কারণ এ সম্মেলনের আয়োজকরা যদিও দাবি করেছেন, এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষা করা কিন্তু ফিলিস্তিনের সব রাজনৈতিক দল মানামা বৈঠক বর্জন করেছে। ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষ ও ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসসহ সব রাজনৈতিক দল মানামা সম্মেলনের বিরোধিতা করে এতে আরব দেশগুলোর অংশগ্রহণকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করেছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অর্থনৈতিক সম্মেলনের আড়ালে বাহরাইন সম্মেলনের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করা। সম্মেলনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে উপস্থিত ইসরাইলি প্রতিনিধিরা আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের পাশে বসে কথাবার্তা বলেছেন। এ ছাড়া ইসরাইলের অন্তত ২০ জন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
যাইহোক ষড়যন্ত্রমূলক এ সম্মেলনের বিরুদ্ধে জনমত ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত, মরক্কো ও মিশরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। মানামায় যখন সম্মেলন চলে তখন বাহরাইনের জনগণ বাইরে বিক্ষোভ করেছে এবং ঘরে ঘরে  ফিলিস্তিনিদের পতাকা উড়িয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাহরাইন সম্মেলনের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের জনগণের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় এটি কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা ব্যর্থ হতে বাধ্য। এ ব্যাপারে আরবের খ্যাতনামা বিশ্লেষক আব্দুল বারি আতাওয়ান বলেছেন, কথিত অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্মেলনের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে এবং এর আসল উদ্দেশ্য এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে।
মোটকথা, ইসরাইলকে রক্ষার স্বার্থেই মানামা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে এখানে ফিলিস্তিনিদের কোনো স্বার্থে নেই। তবে আমেরিকার এ প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এভাবে প্রকাশ্যে কোপাল!

প্রথম আলো, ২৬ জুন ২০১৯: রিফাত শরীফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে কয়েকজন। তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার তা ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফের চলল হামলা, যতক্ষণ না রক্তাক্ত হচ্ছেন শরীফ। বরগুনা শহরে দিনেদুপুরে এমন নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন রিফাত শরীফ (২২)।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এই হামলার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত রিফাত শরীফ সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের দুলাল শরীফের ছেলে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়ন ও রিফাত ফরাজী নামের দুজনের নাম বলতে পেরেছেন নিহত ব্যক্তির বন্ধুরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রিফাত শরীফ আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তারকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তাঁরা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। আয়েশাকে বিয়ে করা নিয়ে নয়নের সঙ্গে রিফাত শরীফের দ্বন্দ্ব চলছিল। এ কারণে রিফাত শরীফ প্রতিদিন আয়েশাকে কলেজে পৌঁছে দিতেন। স্ত্রীকে কলেজে দিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হন রিফাত শরীফ। প্রথমে তাঁকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।
নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ জানান, দুই মাস আগে তাঁর ছেলে রিফাত শরীফ বরগুনা পুলিশ লাইনস এলাকার আয়েশা আক্তার ওরফে মিন্নিকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে আয়েশাকে নিজের সাবেক স্ত্রী দাবি করে পশ্চিম কলেজ সড়কের নয়ন নামের এক তরুণ তাঁকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন। একপর্যায়ে নয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করেন। এ নিয়ে রিফাত শরীফের সঙ্গে নয়নের বিরোধ হয়। এর জেরে নয়ন ও তাঁর বন্ধু রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, রাব্বি আকন ফরাজীসহ কয়েকজন মিলে তাঁর ছেলে রিফাত শরীফকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যান।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রিফাতের বুক, ঘাড় ও পিঠে গুরুতর আঘাত থাকায় প্রচুর রক্ষক্ষরণ হচ্ছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বরিশাল পাঠানো হয়। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে হাসপাতালে আনার পর দ্রুত তাঁকে অস্ত্রোপচারের জন্য নেওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। রিফাতের লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে। কাল বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রিফাতের চাচা সালাম শরীফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো মানুষ এভাবে কাউকে কুপিয়ে হত্যা করতে পারে, আগে ভাবিনি। আমার ভাইয়ের ছেলেকে ওরা এত নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা...।’ কথা শেষ করতে পারেননি সালাম শরীফ, কাঁদতে থাকেন তিনি।
বরগুনার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মাদ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে তাঁদের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। নয়নকে গ্রেপ্তারে থানা-পুলিশ ও ডিবি সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে। নয়নের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা আছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন মোবাইল ফোনে রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বরগুনা শহরের কলেজ রোডে বুধবার প্রকাশ্যে কোপানো হয় রিফাত শরীফকে। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
রিফাত শরীফ

'ইয়াবা ভুট্টোর' বাড়ি-সম্পদ জব্দই থাকবে

দু’টি বিলাসবহুল বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের দেয়া নির্দেশ বাতিল চেয়ে কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ওরফে ভুট্টোর আবেদন সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর ফলে তার বাড়ি ও সম্পদ জব্দই থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। নুরুল হক ভুট্টোর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন প্রবীর রঞ্জন হালদার। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব।
মানি লন্ডারিংয়ের এক মামলায় পুলিশের আবেদনে সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এক আদেশে ভুট্টোর পরিবারের সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে পুলিশ মামলায় বর্ণিত সম্পদ জব্দ করে। সেই থেকে এই সম্পদ জব্দ করা অবস্থায় রয়েছে।
পরবর্তীতে গত ১৬ জুন হাইকোর্টে এ আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে সম্পদ জব্দের বিষয়ে কক্সবাজার আদালতের আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়। একইসঙ্গে কক্সবাজার আদালতের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।
১৯ জুন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ২৫ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডির তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মত জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। এজন্য বিশেষজ্ঞদের আদালতে হাজির করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এ আদেশ অনুসারে বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব।
আদেশের পর আমিন উদ্দিন মানিক জানান, আবেদন সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। ফলে তার বাড়ি সম্পদ জব্দ থাকবে। এছাড়া বিশেষজ্ঞ মতামতে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ২০১৯ সালের একটা রুলস হয়েছে। সেটা অনুসারে এ মামলায় সিআইডি তদন্ত করতে পারবে।
১৯ জুন আমিন উদ্দিন মানিক জানিয়েছিলেন, মানি লন্ডারিং আইনে করা নারায়ণগঞ্জের একটি মামলায় তদন্তকালে নুরুল হক ভুট্টোর অবৈধ সম্পদের তথ্য পায় আইন-শৃংখলা বাহিনী। এরপর তদন্তে নেমে ভুট্টোর মাদক ব্যবসা ও সম্পদের পাহাড়ের তথ্য পায়। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম (ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড) এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট টেকনাফ থানায় নুরুল হক ভুট্টো, তার বাবা, স্ত্রী, ভাইসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
একইদিন পুলিশ নুরুল হক ভুট্টোকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি গতবছর ২৮ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। এরপর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দীর্ঘদিন নিম্ন আদালতে স্বশরীরে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দাখিল করেন। এছাড়াও এ মামলার আসামি নুর মোহাম্মদকে (ভুট্টোর ভাই) গত ২১ মার্চ গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তিনি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

হত্যার পর কাটা মাথা নিয়ে থানায় খুনি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার পর তার খণ্ডিত মাথা নিয়ে থানায় হাজির হয়েছে লবু দাস (৪৬) নামের এক খুনি। গতকাল দুপুর ১টার দিকে উপজেলা সদরের গৌরমন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। হত্যার শিকার হয়েছে লিটন ঘোষ (৫৫)। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায়। অভিযুক্ত লবু দাস  নাসিরনগর উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়া মহল্লার মৃত পরমানন্দ দাসের ছেলে।
গৌরমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লিটন দাস নাসিরনগর উপজেলা সদরের  ঘোষপাড়ায় তার আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। দুপুরে তিনি মন্দিরে ঘুমিয়েছিলেন। এসময় লবু দাস ধারালো দা দিয়ে লিটনকে হত্যা করে।
এরপর শরীর থেকে মাথা আলাদা করে বাজারের ব্যাগে করে নিজেই থানায় নিয়ে যান। তবে কি কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তা জানা যায়নি। নাসিরনগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) কবির আহমেদ খণ্ডিত মাথা নিয়ে এক ব্যক্তির থানায় হাজির হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে বলেও জানান তিনি।  উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বে লবু দাস তার আপন চাচা (৭নং ওয়ার্ড মেম্বার) মতি দাসকে হত্যা করে। কিছুদিন না যেতেই জামিনে মুক্তি পায় সে। স্থানীয়রা জানান, নিহত লিটন ও লবু দুজনই মাদকসেবী।

রোহিঙ্গাদের কারণে নিরাপত্তা শঙ্কা আছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে না পারলে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সাংসদ নূর মোহাম্মদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
সংসদ নেতা বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা অধিবাসীরা অসন্তুষ্টিতে ভুগছে। তাদের অনেক অভাব অভিযোগ রয়েছে। তাদের প্রত্যাবাসনে সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার অপপ্রচার চালাচ্ছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে যথাযথ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহল মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। আমরা বারবার বিভিন্ন ফোরামে বলেছি যে, এসব বাস্তুচ্যুত জনগণের ফেরত মিয়ানমার সরকারের ওপর বর্তায় এবং তাদেরকেই উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মিয়ানমার সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু মিয়ানমার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে এবং বলছে, বাংলাদেশের অসহযোগিতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব জনমত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অব্যাহতভাবে আমাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনে একটি রিপোর্ট প্রেরণ করেছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের এ বিষয়ে কাজ করতে দিচ্ছে না। মিয়ানমারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও আমরা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দুটি পথই খোলা রেখেছি।’
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়নমারের এসব নাগরিক এখানে স্বেচ্ছায় আসেনি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের বলপূর্বক বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করেছে। নির্মম নির্যাতনের শিকার এসব মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি ছিল। এ জন্য তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় এনজিওর সঙ্গে সমন্বয় করে এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডির লোমহর্ষক বর্ণনা: ‘প্রস্রাব খেয়ে গলা ভিজিয়েছি’ by রোকনুজ্জামান পিয়াস

মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে তোলা হয় ট্রলারে। ৩৫ জনের ট্রলারে ৭০ জনকে। এরপর ভাসিয়ে দেয়া হয় সাগরে। ট্রলারে কোনো দক্ষ মাঝি ছিল না। ছিল না খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাই একমাত্র ভরসা ছিল সৃষ্টিকর্তার করুণা। সামনে অনিশ্চিত সময় আর উত্তাল সাগরের মাঝে   ছোট্ট ট্রলারে গাদাগাদি করে থাকা মানুষের সামনে ইউরোপে স্বপ্নের যাত্রার সঙ্গে ছিল মৃত্যুর হাতছানি। এভাবেই পার হয়েছে দু’দিন।
খাবার-দাবার, পানিও নিঃশেষ হয়ে যায় একেবারে। আরও একদিন কেটে যায় না খেয়ে। সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাপিয়ে কয়েক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার দেখা দেয় ট্রলারযাত্রীদের মধ্যে। শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে কারও কারও। এই অবস্থায় নিজের প্রশ্রাবে গলা ভেজানোর আশায় শেষমেষ সেটাই পান করে কেউ কেউ। ২২ দিন সাগরে ভেসে ফিরে আসা মাদারীপুর সদর উপজেলার আপাসী গ্রামের মোখলেস মাতব্বরের ছেলে রাসেল মাতব্বর এভাবেই বর্ণনা করেন সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা। তার সঙ্গে আরও ৬৪ বাংলাদেশি একবুক স্বপ্ন নিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নির্মম এই বাস্তবতার শিকার হন। সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তার গলা ধরে আসে। বলেন, এ অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নের চেয়ে ভয়াবহ। মনে হলে গা শিহরে ওঠে। এরই মধ্যে বেঁচে থাকার ক্ষীণ আলো দেখতে পায় হতভাগ্য এই ট্রলারযাত্রীরা। অদূরে দেখা মেলে মিশরীয় একটি জাহাজের। কিন্তু কাছে না ভিড়ে, উদ্ধার না করে নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রাখে জাহাজটি। অবশেষে ড্রামের সঙ্গে নিজের শরীর বেঁধে কেউ কেউ ঝাঁপ দেয় সাগরে। উদ্দেশ্য, মিশরীয় জাহাজটির দৃষ্টি আকর্ষণ। অবশেষে সফল হয় তারা। এরপর আরও ১৮ দিন অনাহারে-অর্ধাহারে কাটে সেই জাহাজে। এই প্রতিবেদকের কাছে রাসেল মাতব্বর বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া এবং লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে আটকে পড়ার সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন দীর্ঘসময়।
রাসেল জানান, ২০১৮ সালের ২২শে ডিসেম্বর তিনি লিবিয়া যান। যুদ্ধবিধস্ত দেশটিতে বাংলাদেশ তার কর্মী পাঠানো নিষিদ্ধ করায় দালালরা তাকে বিকল্প পথে পাঠায়। এজন্য ৫ লাখ টাকা নেয় দালালরা। সেই অভিজ্ঞতাও খুব সুখকর ছিলো না। মূলত: প্রতারণা করে দেশটিতে পাঠানো হয় তাকে। সেখানে ৬ মাস অবস্থান করার পর লিবীয় এবং বাংলাদেশি দালালরা তাকে আড়াই লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেয়। তার সঙ্গে ছিলো আরও অনেক বাংলাদেশি। একটি বড় জাহাজে করে ইতালি উপকূলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো দালালরা।
রাসেল শুরু করেন এভাবে- দালালদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২২শে রমজান তারা ইতালির উদ্দেশ্যে জাহাজে ওঠার জন্য লিবিয়ার জোয়ারা থেকে রওনা দেন। তাদের মরুভূমির ভেতর দিয়ে ৫ কিলোমিটার হাঁটিয়ে একটি দ্বীপ এলাকায় নিয়ে যায় লিবীয় দালালরা। তাদের সঙ্গে ছিলো আরও ৫০ জন বাংলাদেশি।
এর মধ্যে রাসেলসহ ২১ জনকে একটি কক্ষে রাখে। ইফতারের সময় আবারও ডাক পড়ে তাদের। রাসেল বলেন, আমরা ইফতার ঠিকমতো করতেও পারিনি। এরইমধ্যে দালালরা এসে বলে এখনই রওনা দিতে হবে। ওই অবস্থায় আবারও ৫ কিলোমিটার হাঁটিয়ে আরেকটি দ্বীপে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে সাগরপাড়ে নিয়ে ট্রলারে উঠতে বলে। কিন্তু আমরা ট্রলারে যাবো না বলে জানিয়ে দিই। বলি, ট্রলারে নয়, জাহাজে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আড়াই লাখ করে টাকা দিয়েছি।
রাসেল বলেন, এ কথা বলার পরই তারা পিস্তল বের করে আমাদের মাথায় ঠেকায়। বলে, ‘যদি ট্রলারে না উঠিস তো গুলি করে মেরে সাগরে ভাসিয়ে দেবো।’ পরে ভয় দেখিয়ে জোর-জবরদস্তি করে ৩৫ জন করে দুটি ট্রলারে মোট ৭০ জনকে তোলে। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিলো ৬৪ জন। পরে ওই অবস্থায় দুই ট্রলারে দু’জন করে মাঝিসহ আলাদাভাবে রওনা দেয়। সাগরে ভাসার ৬ ঘন্টা পর দুই ট্রলার আবারও একসঙ্গে হয়। তিনি বলেন, অন্য ট্রলার থেকে বাকি ৩৫ জনকেও আমাদের ট্রলারে তুলে দেয়া হয়। তাদেরকে ট্রলারের নিচের ডেকে রাখে। পরে চারজন মাঝি খালি ট্রলার নিয়ে ফিরে যায়। আমাদের ট্রলারে কোন মাঝি না থাকায় একজন মিশরীয় ব্যক্তি হাল ধরেন। এই ট্রলারের ওপরে ৩৫ জন আর নিচের ডেকে ৩৫ জন। সারাদিন আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো। সাগরও শান্ত ছিলো। কিন্তু রাতে আবহাওয়া ভয়াবহ আকার ধারন করে। সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু হয়ে ঢেউ ট্রলারের সঙ্গে আছড়ে পড়ে। এ সময় নিচের যাত্রীরা ওপরে ওঠে আসে। চিৎকার-চেচামেচি আর কান্নার রোল পড়ে যায়। রাসেল বলেন, তখন কারো কথা মনে হয়নি। শুধু আল্লাহর নাম নিয়েছি। বলেছি, এবার যদি বেঁচে যাই আর কখনো এমন ভুল করবো না। এভাবে রাত পার হয়েছে। পরদিন সকালেও একইরকম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এভাবে মৃত্যু আশঙ্কায় উত্তাল সাগরে দ্বিতীয় দিনও পার হয়। ট্রলারের তেলও শেষ হয়ে যায়। তৃতীয়দিন সকালে সাগর কিছুটা শান্ত হয়। ওইসময় একটি মিশরীয় জাহাজ আসে। তাদের কাছে কাকুতি-মিনতি জানাই উদ্ধারের জন্য। কিন্তু তারা উদ্ধার না করেই এবং তেল না দিয়ে চলে যায়।
তবে তারা আধাকিলোমিটার দূরে অবস্থান করে আমাদের ওপর দৃষ্টি রাখে। এর আগেই খাবার-দাবার ও খাবার পানি শেষ হয়ে গিয়েছিলো। ‘পানি পানি’ বলে চিৎকার করতে থাকি। কোন উপায় না পেয়ে নিজের প্রস্রাব নিজেই খেয়ে কোন রকম জান বাঁচাই। এরপর রাত আসে। কান্নাকাটি আর আহাজারি বাড়তেই থাকে। দূরে মিশরীয় জাহাজের বাতি দেখা যায়। এভাবে সেই রাতও পার হয়। পরদিন সকালে ১০-১২ জন নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে। মনে হয়েছিলো- তারা মারা গেছে। পরে ধাক্কা দিয়ে দেখা যায়, বেঁচে আছে। এই অবস্থায় বাঁচার কোন আশাই আর ছিলো না। তখনও মিশরীয় জাহাজ সেখানে অবস্থান করছিলো। আমাদের ধারনা হয়েছিলো- ট্রলার ডুবে গেলে তারা আমাদের উদ্ধার করতে আসবে।
রাসেল বলেন, ৪র্থ দিন রশি দিয়ে ড্রামের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে সাগরে ঝাঁপ দিই। আমার সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন এভাবে ঝাঁপ দেয়। উদ্দেশ্য মিশরীয় জাহাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এরই মধ্যে ড্রাম নিয়ে সাঁতরে তিনজন জাহাজে পৌঁছায়। তারা ওই তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের কাছে দুর্ভোগের কথা শুনে ট্রলারযাত্রীদের উদ্ধার করে জাহাজে তোলে। ওই জাহাজে তাদের কাটে আরও ১৮দিন।  সেখানেও অনাহারে-অর্ধাহারে কেটেছে তাদের। তিনি জানান, মিশরীয় জাহাজের নাবিকরা তাদের ইতালিতে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু পরে তারা জানায়, ইতালি তাদের গ্রহণ করবে না। এই অবস্থায় তারা তিউনিশিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারাও ট্রলারযাত্রীদের নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বাংলাদেশ সরকারের লোকজন যায়। রাসেল জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমাদের বুঝিয়ে দেশে ফেরার পাঠানোর ব্যবস্থা করে। পরে কিছুদিন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর ক্যাম্পে রাখে। সেখান থেকেই শুক্রবার ১৭ জনকে দেশে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, কমকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বাকিদেরকেও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
রাসেল সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। আর কেউ যেনো দালালের প্রলোভনে পড়ে এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়। 
সূত্র জানিয়েছে, রাসেলের সঙ্গে দেশে ফেরা আরও ১৬ জন হলেন, মাদারীপুরের মোহাম্মদ লাদেম মাতব্বর, রাজিব মাতবর, জুয়েল সিজাল, আজাদ রহমান, পিয়ার আলী (২৯), আকমন মাতব্বর (২০), মীর আজিজুল ইসলাম (৩৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবু বকর সিদ্দিক, শাহেজুল খাদু (২৫), ইদ্রিস জমাদ্দার (২৪), নিয়ামত শিকদার (১৮), নোয়াখালীর রফিকুল ইসলাম, চাঁদপুরের শফিকুল ইসলাম, শরিয়তপুরের রাকিব হোসেন, মৌলভীবাজারের জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের শিপন আহমেদ।

দুবাইয়ে পাচার,ধর্ষণ,পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করানোর দায়ে যাবজ্জীবন এক বাংলাদেশীর

বাংলাদেশী ১৭ বছর বয়সী এক বালিকাকে পাচার করে দুবাই নিয়ে ধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে এক বাংলাদেশীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গত রোববার দুবাইয়ের ফার্স্ট ইন্সট্যান্স কোর্ট এ রায় দেয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ।
১৭ বছর বয়সী ওই বালিকাকে জোরপূর্বক সাত মাস পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ সময়ে যে উপার্জন হতো তা দিয়ে তিনি তার পরিবারকে সাহায্য করতেন। অবশেষে দুবাই পুলিশ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে উদ্ধার করে। তাকে ইংরেজি আদ্যক্ষর এস.এ নামে প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তার আগে বাংলাদেশে তার বয়স ২৫ বছর দেখিয়ে পাসপোর্ট করা হয়। সংগ্রহ করা হয় ভিজিট ভিসা।
তাকে দুবাই নিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশীর বয়স ৪৪ বছর। সে তাকে দুবাই নিয়ে নিজে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর দেশে তার মা ও বোনদের কাছে প্রতি মাসে ১৫০০ দিরহাম পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে জোর করে ঠেলে দেয় পতিতাবৃত্তিতে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দুবাই পুলিশ এ বিষয়ে গোপনে খবর পায়। তারা ফাঁদ পাতে। সেই ফাঁদে পা দেয় ওই বাংলাদেশী পাচারকারী। তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং উদ্ধার করে ওই বালিকাকে। এ সময় ওই বালিকা পুলিশকে বলেছে, তাকে প্রথমে আল ঘাসাইস এলাকায় একটি ফ্লাটে রেখে পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করা হয়েছে।
দুবাই পুলিশের মানব পাচার বিরোধী বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা ওই পাচারকারীকে ধরতে খদ্দের সাজিয়ে একজন ছদ্মবেশী পুলিশ সদস্যকে পাঠান ওই ফ্লাটে। এ সময় ছদ্মবেশী ওই পুলিশ সদস্য ওই ফ্লাটে গিয়ে ওই বালিকা সহ আরো ৬ জন পতিতাকে দেখতে পান। তিনি পুলিশকে সংকেত পাঠান। ফলে পুলিশ গিয়ে ওই ফ্লাটে ঘেরাও দেয়। উদ্ধার করে ওই বালিকাকে। অন্যদিকে অভিযুক্ত বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে একটি মেয়েকে পাচার, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করানো, পতিতালয় পরিচালনা ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আইওএম নির্বাচনে ঢাকার জয় by মিজানুর রহমান

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) -এর নির্বাচনে বাংলাদেশের জয় মেনে নিয়েছে দুনিয়া। সংস্থার নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের চুড়ান্ত বিজয়ের অপরিহার্য শর্ত দুই তৃতীয়াংশ ভোট নিশ্চিত করতে হ্যাঁ, না ভোট শুরু হয়েছে। আইওএম এর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপ-মহাপরিচালক পদে নির্বাচনে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের বিজয় এখন ঘোষণার অপেক্ষা মাত্র।  গত শুক্রবার জেনেভাস্থ আইওএম হেড কোয়ার্টারে ওই নির্বাচনের ভোটাভুটি হয়।
এ ভোটাভুটি পঞ্চম রাউন্ড পর্যন্ত ভোট গড়ায়। চূড়ান্ত পর্ব তথা পঞ্চম রাউন্ডে সুদানকে পরাজিত করে জয় পায় বাংলাদেশ। কিন্তু সুদান পরাজয় মেনে না নেয়ায় জটিলতা তৈরি হয়, ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভোটাভুটি মুলতবি করা হয়।
শুক্রবারের উত্তেজনাপূর্ণ ওই নির্বাচনের ভোটাভুটির শেষ রাউন্ডে দু’জন প্রার্থীর লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রার্থী ১৪৮টি ভোটের মধ্যে ৭৫ ভোট পান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুদানের প্রার্থী পান ৭৩ ভোট। ভোটাভুটিতে ১৫০টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি (ভোটার) উপস্থিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে ২ জন ইচ্ছাকৃতভাবে ঘোষণা দিয়ে (অ্যাবস্টেইন) ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকেন। বাকি ১৪৮ জনের মধ্যে বাংলাদেশ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
আইওএম-এর ভোটের বিধান হচ্ছে দু’জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় হেরে যাওয় প্রার্থী সাড়ে দাঁড়ান। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে হ্যাঁ-না ভোটের সুযোগ করে দেন তার জয়ের অন্যতম শর্ত দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন আদায়ের জন্য। কিন্তু এটি মানতে নারাজ ছিল সুদান তথা আফ্রিকান ইউনিয়ন। জটিলতার সূচনা সেখানেই। সুদান ফের ভোট চায়। আর ঢাকা চায় আইনের প্রয়োগ, অর্থাৎ চূড়ান্ত জয়ের জন্য হ্যাঁ-না ভোট। ৩ দিনের নাটকীয়তার পর অবশেষে ঢাকাই জয়ী হয়েছে।
সুদান ছাড়াও আরও ৩ দেশ এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিল। ভোটের ফল তাদের অনুকূলে না যাওয়ায় তারা নিয়ম অনুযায়ী তা মেনে নিয়েছেন এবং পর্যায়ক্রমে সরে দাঁড়িয়েছেন। দেশ ৩টি হলো- ফিলিপাইন, আফগানিস্তান ও জর্ডান।
বাংলাদেশ সময় গত শুক্রবার দুপুর ২টায় শুরু হওয়া ওই নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে শহীদুল দ্বিতীয় হন। প্রথমদিকেই ফিলিপাইন ও জর্দান তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়। চতুর্থ রাউন্ডেও শহীদুল দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন। এই রাউন্ড শেষে আফগানিস্তান প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে বাংলাদেশ ও সুদানের মধ্যে পঞ্চম রাউন্ডের চূড়ান্ত ভোট হয়। সেখানে শহীদুল প্রথম হন। অভিবাসন দুনিয়ায় পরিচিত মুখ শহীদুল হক আইওএমে ১১ বছর বিভিন্ন উচ্চ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১২ সালে এ সংস্থা ছাড়েন এবং ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসাবে তিনি এখনও দায়িত্ব পালন করছেন।

তাড়াশে নেশা করতে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে মারধর

বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নেশা করতে বাধা দেয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক শিক্ষককে মারপিট করেছে একই বিদ্যালয়ের ছাত্র ও তার স্বজনরা। আহত আইয়ুব আলী ওই বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক। অভিযুক্ত ছাত্র সাব্বির হোসেন ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ও উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বিপাচান গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। উপজেলার রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, শিক্ষককে মারপিটের ঘটনায় অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। আহত শিক্ষক আইয়ুব আলী অভিযোগ করে বলেন, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন শ্রেণি কক্ষে এবং বিদ্যালয় মাঠের মধ্যে প্রতিনিয়ত (ড্যান্ডি) নেশা করে। তার সহপাঠী শ্রী শিবনাথের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার সাব্বিরকে বিদ্যালয়ে ডেকে শাসন করার সময় সে তর্কে জড়িয়ে পড়লে একটা থাপ্পড় মারা হয়।
এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে আসার পথে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সাব্বির, তার ভাই রাব্বি, চাচা আলাউদ্দিন এবং রাব্বি’র বন্ধু কামরুল ইসলাম উলিপুর বিপাচান ব্রিজ এলাকায় পথ আটকে তাকে কিল-ঘুষি মারে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ অবস্থায় সাব্বির ও তার স্বজনরা সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শ’ শ’ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সামনেই আবারো শিক্ষক আইয়ুব আলীকে স্টিলের স্কেল দিয়ে পিটিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শিবনাথ, আসিফ, রাজু, ইব্রাহিম, রাবেয়া ও মরিয়ম খাতুন বলেন, বিদ্যালয় চলাকালীন বিদ্যালয় মাঠের মধ্যে প্রবেশ করে গণিত শিক্ষককে মারপিট করতে থাকলে প্রতিবাদের মুখে সাব্বির ও তার স্বজনরা পালিয়ে গেছে।
রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবি উজ্জামান নান্নু বলেন, ঘটনার সময় তিনি লাইব্রেরিতে বসে ছিলেন। বাইরে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। 
তাড়াশ থানা ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন জানান, আহত শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন বলেন, একজন শিক্ষককে মারপিট করা দুঃখজনক ও নিন্দনীয় অপরাধ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

'জয় শ্রী রাম' সন্ত্রাস, চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা মাদরাসা শিক্ষককে!

ভারতীয় মুসলিম
ভারতে জয় শ্রীরাম স্লোগান না দেওয়ায় চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হলো এক ব্যক্তিকে। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান বা ঝাড়খণ্ডে নয়- এই ঘটনা ঘটেছে এবার খাস কলকাতায়। এমনই অভিযোগ করেছেন হাফিজ মোহাম্মদ শাহরুখ হালদার নামের এক মাদরাসা শিক্ষক। অভিযোগের তীর, কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ কী?
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হুগলি যাওয়ার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থেকে শিয়ালদাগামী লোকাল ট্রেন ধরেছিলেন শাহরুখ। ২৬ বছরের যুবক জানিয়েছেন, ট্রেনে আগাম কিছু লোকজন চিৎকার করছিলেন। পাশের কামরায় যে কোনো গন্ডগোল চলছে, তা বোঝা যাচ্ছিল। 'হঠাৎই ওদের কয়েকজন আমার কামরাতেও চলে আসে।' পোশাক, মাথায় টুপি ও দাড়ি দেখেই শাহরুখকে 'ইচ্ছাকৃতভাবে চিহ্নিত' করা হয় বলে অভিযোগ। শাহরুখের অভিযোগ, 'আমায় গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে মারধর করে। ওরা আমায় ঘিরে নেয়, জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে বাধ্য করতে থাকে।'
তবে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে চাননি মাদরাসা শিক্ষক। যার জেরে মারধর বেড়ে যায়। ট্রেন পার্ক সার্কাস স্টেশনে ঢোকার সময় কোনও রকমে পালানোর চেষ্টা করেন শাহরুখ। তবে ব্যর্থ হওয়ায় বেধড়ক মারধর করা হয় তাকে। এরপর চলন্ত ট্রেন থেকেই প্ল্যাটফর্মে ফেলে দেয়া হয়।
সূত্র : এই সময়

দুই বান্ধবীর শেষ বিদায় by ওয়েছ খছরু

সানজিদার লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রাশিদা। বারবার বলছিলেন- আমি তো মৃত মুখ দেখতে  চাইনি। ‘আমার কলিজার টুুকরো কিছু না বলে চলে গেলো।’ রাশিদা বেগমের আর্তনাদে গতকাল ভারী হয়ে উঠেছিল সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর। এমন মৃত্যুতে গোটা পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মা রাশিদা বারবারই বলতেন- ‘গাড়িতে যেও না। ট্রেনে যেও। নিরাপদে যেতে পারবা।’ কিন্তু এই ট্রেনই কেড়ে নিলো তার আদরের মেয়ে সানজিদাকে। কফিনবন্দি মেয়ের লাশ নিয়ে গতকাল দুপুরে কেঁদে কেঁদে সিলেট ছাড়লেন রাশিদা বেগম।
কিন্তু তার এই কান্নায় চোখের জল কেড়েছেন সবার। হাউমাউ করে কেঁদেছে সানজিদা ও ফাহমিদার সহপাঠীরা। এক দুর্ঘটনায় দুই বান্ধবীকে হারিয়ে তারা দিশাহারা। সিলেট নার্সিং কলেজ ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শোকাতুর পরিবেশ নেমে এসেছে। গতকাল থেকে দুটি প্রতিষ্ঠান তিন দিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সিলেট নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সানজিদা আক্তার ও ফাহমিদা ইয়াসমীন। গতকাল তাদের সহপাঠীরা জানিয়েছেন- সানজিদা ও ফাহমিদা দু’জনই মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা একে অপরের ভালো বন্ধু। দুই বন্ধু এক সঙ্গে মিলে মাতিয়ে রাখতো নার্সিং কলেজের হোস্টেল ও ক্যাম্পাস। কখনো কখনো ফাহমিদা তার বান্ধবীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি জালালপুরে বেড়াতে যেত। তারা দুই জন ছিলেন শ্রেণি কক্ষের প্রাণ। ঘটনার দিন দুই বান্ধবী ঢাকার একটি সেমিনারে যাওয়ার জন্য হোস্টেল থেকে বের হয়। যাওয়ার সময় বলেছিল- ‘দোয়া করিস, যেন ভালোভাবে পৌঁছাতে পারি।’ রাতের উপবন ট্রেনের বড়ছড়ায় পড়ে যাওয়া বগিতেই তারা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের নিচে একাংশ থেকে স্থানীয়রা তাদের বের করেন। যখন তাদের উদ্ধার করা হয় তখন তারা মৃত। তাৎক্ষণিক তাদের কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বজনরা গিয়ে তাদের লাশ শনাক্ত করেন। ফাহমিদা ইয়াসমিনের বাড়ি সিলেটের জালালপুরে। স্বজনরা জানিয়েছেন- দুর্ঘটনার পর থেকেই তারা ফাহমিদার খোঁজ করছিলেন। কিন্তু পাচ্ছিলেন না। এরপর তারা তার খবর নেন কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে গিয়ে তারা ফাহমিদার লাশ খুঁজে পান। পরদিন দুপুরের আগেই তারা মরদেহ বাড়ি নিয়ে আসেন। ফাহমিদার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাদের অনেক সহপাঠী ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে। সেখানেও তারা প্রিয় সহপাঠীর মুখ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ওই দিন বিকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় বাগের হাটের সানজিদার মরদেহ। খবর পেয়ে বাগের হাট থেকে ছুটে আসেন মা রাশিদা বেগম। তিনি বুধবার ভোররাতে সিলেট এসে পৌঁছেন। গতকাল সকালে হাসপাতালে  যান। সেখানে মেয়ের লাশ দেখে কান্নায় লুটে পড়েন। লাশ দেখে অঝোরে কাঁদেন মা। সেখানে সিলেট নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাকে সান্ত্বনা জানান। এ সময় তারাও কেঁদে ফেলেন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘সানজিদার মায়ের আর্তনাদে কেঁদেছেন সবাই। এমন মৃত্যু আমরা কেউ চাই না। আমাদের দুটি বোন এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে স্বপ্নেও ভাবিনি। তাদের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। এ কারণে আমরা তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছি।’ মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছ রহমান লাশ হস্তান্তর করেন। রাশিদা বেগম মেয়ের লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে রওনা দেন। সেখানেই দাফন হবে সানজিদার। লাশ হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন ওসমানী হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক রেনু আরা আক্তার, নার্সিং মেডিকেলের প্রিন্সিপাল ফয়সাল আহমদ চৌধুরী, সিলেট নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক, যুগ্ম সম্পাদক সুলেমান আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চন্দ্র দাস, নার্সিং স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অনিক দে, সাধারণ সম্পাদক সিঁথি শিকদার, কোষাধ্যক্ষ তানজিনা তিথি। সঙ্গে ছিলেন সানজিদার সহপাঠীরা। সানজিদার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার ভানদরখোলা গ্রামে। আর ফাহমিদা সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জালালপুরের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুল বারীর মেয়ে।

নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দ্রুত সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সব রেল ও সড়ক সেতু সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জরিপের মাধ্যমে নড়বড়ে সেতু চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করতে বলেছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, গত ২৩ জুন দিবাগত রাতে মৌলভীবাজারে রেলের বগি পড়ে হতাহতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসন। সবগুলো রেলসেতু জরিপ করার দায়িত্ব দিয়েছেন রেলপথ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরকে। জরিপের মাধ্যমে যেসব সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উঠে আসবে, সেগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ব্রিফিংয়ে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান। এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল আমীন, কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও সিনিয়র সচিব অধ্যাপক শামসুল আলমসহ সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় ছয় হাজার ৯৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দশটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই অর্থ জিওবি থেকে ৬ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা, সংস্থা ২৪১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প অনুদান থেকে ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা জোগান দেয়া হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের কোন কোন সড়ক ও জনপথ অধিদফতর দেখাশুনা করবে, আর কোন কোন সড়ক এলজিইডি দেখাশুনা করবে, তা জরিপের পর ভাগ করে নিতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশে সমন্বিতভাবে সরকারি অফিস স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বড়, ছোট ও মাঝারি এই তিন ভাগে ভাগ করে জেলা সদরের সরকারি অফিসগুলো যেন একই ডিজাইনের হয় সে জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সন্ত্রাস মোকাবেলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং জাপান সরকার অনুদান হিসেবে দেবে ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পুলিশ। সরকার সন্ত্রাস মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। কিন্তু সুরক্ষিত যানবাহনের অভাবে অনেক সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে অভিযান পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। সীমিত জনবল, লজিস্টিকস ও যন্ত্রপাতি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বিগত কয়েক বছরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিটি অপারেশনে সফলতা অর্জন করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর কারণে বাংলাদেশের এই অর্জন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এটা মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশের জন্য এপিসি, এস্কট গাড়ি ও ফাড লাইট গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মূল কাজ হলো, ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের অভিযান সরঞ্জাম কেনা। এগুলোর মধ্যে ১০টি আরমোরড পারসোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি), ২০টি এস্কট ভেহিকেল এবং ৫টি ফ্লাড লাইট ভেহিকেল ক্রয় করা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, ৪২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে বামনডাঙ্গা (গাইবান্ধা)-শঠিবাড়ী-আফতাবগঞ্জ জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প, ৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোনের প্রধান সংযোগ রাস্তা প্রশস্তকরণসহ নর্দমা ও ফুটপাথ নির্মাণ প্রকল্প, ২২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা ক্যাম্পাসে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মানিকগঞ্জ বহুতল বিশিষ্ট সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ২৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২১টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ নবরূপায়ণ প্রকল্প, ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে কোনাবাড়ি, গাজীপুর দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ, প্রকল্প, ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সন্ত্রাস মোকাবেলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প, ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর ফরিদপুর সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়েস্ট জোন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আপগ্রেডেশন প্রকল্প।

মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা : তসলিমা নাসরিনের বিস্ফোরণ

তসলিমা নাসরিন
ঝাড়খণ্ডে ১৮ ঘণ্টা ধরে এক যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় স্তম্ভিত সারা ভারত। এই ঘটনার ধিক্কার জানালেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
ঝাড়খণ্ডে মৃত ওই যুবকের নাম তাবরেজ আনসারি। তাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলিয়ে বেধড়ক মারধর করে কয়েকজন যুবক। মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বলা হচ্ছে, একটি মোটরবাইকের সামনে ওই যুবককে দাঁড়াতে দেখে মোটরবাইক চোর সন্দেহ করে ওই যুবকরা। তারপরেই শুরু হয় নৃশংস অত্যাচার।
২৪ বছরের ওই মুসলমান যুবকটিকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে হিন্দুত্ববাদীদের দিকে। পুলিশ তাবরেজকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। ঝাড়খন্ডে গত দু-তিন বছরে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে এমন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বারেবারেই প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে তসলিমা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, '২৪ বছর বয়সী তাবরেজ আনসারিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পিটিয়েছে তারা, যারা তাকে জয় শ্রীরাম আর জয় হনুমান বলতে বাধ্য করেছে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই মরতে হলো তাবরেজকে। মোটর সাইকেল চুরি করতে চেয়েছিল তাবরেজ । বেটা চোর। কিন্তু চোরকে কি পিটিয়ে মেরে ফেলতে হয়? চোরকে কেনই বা জয় শ্রীরাম বলতে বলা হবে। রাগটা কি তবে যত না সে চোর বলে, তার চেয়ে বেশি মুসলমান বলে? ভারত নিয়ে আমি কতই না গর্ব করি যে এই দেশটি এর সংখ্যালঘুদের বড় ভালো রাখে। বাংলাদেশ আর পাকিস্তান তো তাদের সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। কিন্তু কদিন পর পরই এই ভারতবর্ষে ঘটে যাচ্ছে সংখ্যালঘুকে পিটিয়ে মারার কাহিনী, জোর করে জয় শ্রীরাম বলার কাহিনী। আমি জানি না কী মনে করে এরা মুসলমানদের মুখ থেকে জয় শ্রীরাম শুনতে চায়। রামের যারা ভক্ত, তারা তো জয় শ্রীরাম বলছেই, তাদের তো কেউ বাধা দিচ্ছে না। জয় শ্রীরাম বললে কি মুসলমানরা হিন্দু হয়ে যায় বা রামকে ঈশ্বর বলে মানতে শুরু করে ? তা তো নয়, বরং এসবের জন্য হিন্দুদের বদনাম হয়। পিটিয়ে কি ১৭ কোটি মুসলমানকে মেরে ফেলা যাবে, সে তো যাবে না।শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলা ছাড়া আপাতত আর কোনও উপায় নেই। অন্যের প্রতি তীব্র ঘৃণা নিয়ে দিনের পর দিন বাস করাও দুর্বিষহ।প্রাণের আরাম হয় না। সে কারণে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্বই একমাত্র সমাধান। ভারত মহান। ভারতকে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো হওয়া মানায় না।'
সূত্র : কলকাতা২৪৭

আগুনে দগ্ধ কলেজছাত্রী ফুলন মারা গেছেন

নরসিংদীতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ তরুণী ফুলন রানী বর্মণ ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতালে মারা গেছেন। ২২ বছর বয়সী এই তরুণী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান।
নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুরের যুগেন্দ্র বর্মণের মেয়ে ফুলন গত বছর এইচএসসি পাস করেন। পরিবারের আর্থিক অসঙ্গতির কারণে আর কোথাও তার ভর্তি হওয়া হয়নি।
গত ১৩ জুন রাতে বাড়ির কাছেই তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। সেই রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ফুলনের শরীরের ২০ ভাগ পুড়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা সে সময় বলেছিলেন, এক আত্মীয়র সঙ্গে সেদিন রাতে দোকানে কেক কিনতে গিয়েছিলেন ফুলন। কেক কিনে দিয়ে ওই আত্মীয় তাকে একা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে চলে যান।
বাড়ির কাছে পৌঁছালে কয়েকজন মুখ চেপে ধরে ফুলনকে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। পরে তার চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন গিয়ে তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পায়। এ ঘটনায় ফুলনের বাবা যোগেন্দ্র বর্মণ নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে গোয়েন্দা পুলিশ ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষ এবং তার বন্ধু সঞ্জীব ও রাজু সূত্রধর ও আনন্দ বর্মণকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার রাজু গত শুক্রবার নরসিংদীর বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে রাজুর দেওয়া বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ফুলনের বাবার সঙ্গে প্রতিবেশী সুখলাল ও হীরালালের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে গত ১১ জুন ভবতোষ ও ফুলনের মায়ের সঙ্গে সুখলালের ঝগড়া হয়।
‘এর জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন ভবতোষ। ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজু ও আনন্দকে নিয়ে সে ফুলনের গায়ে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা করে। সেদিন রাতে দোকান থেকে ফেরার পথে ফুলনের মাথা ও শরীরে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন দেওয়া হয়,’ বলেন জাকির হোসেন।

মার্কিন প্রশাসন বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয়েছে: ড. রুহানি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা হাস্যকর। এর মাধ্যমে তারা নিলর্জ্জতার পরিচয় দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর দপ্তরের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী কেবল ইরানের নেতা নন বরং তিনি গোটা বিশ্বের ইসলামি বিপ্লবপ্রেমী ও মুসলমানের নেতা। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয়েছে।
আজ সোমবার তেহরানে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহানি বলেন, বর্তমানে লেবানন, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিয়া-সুন্নিসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভক্ত এবং তারা সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে চলেন। বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেলেই কেবল কেউ এ ধরণের ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এই পদক্ষেপ হাস্যকর ও নির্লজ্জতা।
তিনি বলেন, আমেরিকা নতুন নিষেধাজ্ঞায় সর্বোচ্চ নেতার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানিয়েছে। আসলে সর্বোচ্চ নেতার সম্পদ বলতে রয়েছে একটি হোসাইনিয়া (ধর্মীয় অনুষ্ঠানের স্থান) ও একটি সাদাসিধে বাড়ী।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতাদের মতো নন যে তাঁর বিদেশি অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ ডলার রয়েছে এবং আমেরিকা সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেবে ও অর্থ বাজেয়াপ্ত করবে। 
রুহানি বলেন, আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রমাণ করে তারা আলোচনার যে কথা বলছে তা মিথ্যাচার। তিনি আমেরিকার উদ্দেশে বলেন, আপনারা আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছেন। আপনাদের কথা যদি সত্য হয় তাহলে কেন আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার একই সময়ে আমাদের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করছেন?
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানচিন সম্প্রতি বলেছেন, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। 
রুহানি বলেন, আলোচনা ইস্যুতে আমেরিকা মিথ্যা কথা বলছে।
সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কথা বলছেন প্রেসিডেন্ট রুহানি

আর্থিক ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্টরা

জায়ান্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিনা ল্যাগার্দে।
গত ১০ জুন শনিবার জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ফুকুকা শহরে জি-২০ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এমন সতর্কবার্তা দেন ল্যাগার্দে।
আইএমএফপ্রধান বলেন, বড় তথ্যভান্ডার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে মাত্র কয়েকটি সংস্থা বিশ্বব্যাপী আর্থিক লেনদেন এবং নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালাতে পারে।
অর্থমন্ত্রীদের ওই বৈঠকে ফেসবুক-গুগলের মতো ইন্টারনেট দুনিয়ার জায়ান্টদের কর পলায়ননীতি বন্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। ফেসবুক-আমাজনের মতো বৃহৎ ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানিগুলো আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর আয় করের সুযোগ নিয়ে থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশেও তারা বিপুল মুনাফা করে, তবে সেখানেও প্রায় কোনো করই দেয় না এসব প্রতিষ্ঠান। আলোচনায় বলা হয়, এমন সংস্থাগুলোর প্রধান কার্যালয় যেখানে, সে দেশে কর আরোপের চেয়ে যে দেশে মুনাফা করে, সেখানেই কর আরোপ করা একটি বিকল্প হতে পারে।
ল্যাগার্দে বলেন, আর্থিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আসতে পারে। বিপুল তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের বিপুল গ্রাহককে ব্যবহার করে আর্থিক পণ্য অফার করতে পারে।
চীনের উদাহরণ টেনে ল্যাগার্দে বলেন, গত পাঁচ বছরে প্রযুক্তি খাতে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে চীন। নতুন প্রজন্মকে আর্থিক পণ্যগুলোয় এক্সেস দিচ্ছে এবং ভালো মানের চাকরির সুযোগ পাচ্ছে তারা। তবে মোবাইল পেমেন্ট বাজারের ৯০ শতাংশই মাত্র দুটি কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
জায়ান্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে, সতর্ক করেছেন আইএমএফপ্রধান। ছবি: রয়টার্স

ইরানকে বিরত রাখতে সবকিছু করবে ইসরাইল

পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে বিরত রাখতে ইরানের বিরুদ্ধে সবকিছুই করবে ইসরাইল। রাশিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তা নিকোলাই পাত্রুশেভের সফরের সময় এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সবকিছু বা এভরিথিং বলতে তিনি কি বুঝিয়েছেন সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেন নি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান আমাদের ধ্বংস চায়। তাদেরকে আমাদের সীমান্তে ধারেকাছে আসতে অনুমোদন দেবে না ইসরাইল। তাদেরকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে বিরত রাখতে আমরা সব কিছুই করবো।
মস্কোর শক্তিশালী নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান নিকোলাইকে পাশে রেখে এসব কথা বলেন তিনি।
পারস্য উপসাগরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা যখন শিরদাড়া বেয়ে নামছে তখন এ সফর করেছেন নিকোলাই পাত্রুশেভ। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী সিরিয়ায় ইরানি বাহিনীকে বিরত রাখতে ইসরাইল বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দিচ্ছে ইরান ও মস্কো উভয়েই। এমনিতেই ইরানের ঘোর বিরোধী ইসরাইল। তাদের অভিযোগ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। কিন্তু ইসরাইলে কি পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র আছে বা তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে কিনা, সে বিষয়টি রয়েছে গোপন। কাউকে এ বিষয়ে জানার কোনো সুযোগ দেয়া হয় না। তাদের ভয়, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তাহলে তারা ইসরাইলে হামলা চালাতে পারে। এ জন্য ইসরাইল সরকার ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের ঘোর বিরোধিতা করে। ইরান যতই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে ব্যবহারের জন্য। তাদের সেই যুক্তিতে কান দিচ্ছে না পশ্চিমা বিশ্ব। 
২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক ঐতিহাসিক চুক্তি করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বিনিময়ে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপ করা অবরোধ শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে একতরফাভাবে ওই চুক্তি বাতিল করে দেন। নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করেন। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সঙ্কট নতুন রূপ পায়, যা এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও নিকোলাই পাত্রুশেভ সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করেন নি। তবে তিনি বলেছেন, আমরা ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীরভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখি। সিরিয়া সহ এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত প্রয়োজন। 
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পরে নিকোলাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাত হলো নেতানিয়াহুর। জন বোল্টন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করেন। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মায়ার বেন শাবাতের সঙ্গে মঙ্গলবার সাক্ষাতের কথা রয়েছে জন বোল্টন ও নিকোলাই পাত্রুশেভের। ওদিকে এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে অবরোধ আরোপ করেছে সোমবার। এ অবরোধকে সোমবার অবৈধ বলে এর নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করে তাহলে তা হবে এক বিপর্যয়।

কে হবেন তেরেসা মের উত্তরসূরি?

বৃটেনের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েছেন দুইজন বাদে সকল প্রার্থী। চূড়ান্ত দফা নির্বাচনের দোরগোড়ায় এসে টিকে আছেন সাবেক ও বর্তমান দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী মাসেই জানা যাবে কে হচ্ছেন বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী ও টরি দলের নেতা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, বৃটেনের স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পঞ্চম দফা। এতে প্রতিযোগিতা করেন তিনজন- বর্তমান পরিবেশমন্ত্রী মাইক্যাল গোভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। এর আগে চতুর্থ দফায় বাদ পড়েন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদসহ আরো কয়েকজন। চতুর্থ দফার ভোটাভুটিতে তিনি ৩৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন।
৫৯ ভোট নিয়ে তৃতীয় হন হান্ট। আগের প্রত্যেক দফার ভোটেই দ্বিতীয় ছিলেন হান্ট। কিন্তু চতুর্থ দফায় এক ধাপ নিচে নেমে যান তিনি। তাই পঞ্চম দফায় তার টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। গোভ তার চেয়ে দুই ভোট বেশি পেয়েছিলেন। যথারীতি শীর্ষে ছিলেন জনসন। পেয়েছিলেন ১৫৭টি ভোট।
পঞ্চম দফায়ও ভোট বণ্টন প্রায় একইরকম ছিল। জনসন পেয়েছেন ১৬০ ভোট। হান্ট পেয়েছেন ৭৭ ভোট। আর তার চেয়ে দুই ভোট কম পেয়েছেন গোভ। এই দফার প্রতিযোগিতা শেষে এক টুইটে জনসন জানান, এমন বিপুল সমর্থন পেয়ে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছেন। হান্ট জানান, তিনি জানেন যে চূড়ান্ত দফায় তিনি আন্ডারডগ হিসেবে লড়বেন তবে জনসনকে সহজে ছেড়ে দেবেন না। হান্ট বলেন, রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত ঘটনা সব সময়ই ঘটে থাকে। গোভকে কনজারভেটিভ দলের উজ্জ্বল এক তারা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে, গোভ তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে
অভিনন্দন জানিয়েছেন। বলেছেন, স্বাভাবিকভাবেই তিনি কিছুটা হতাশ তবে তার টিম যে প্রচারণা চালিয়েছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট। 
ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শীর্ষ দুই প্রার্থী। তবে তখন তাদেরকে এমপিরা নির্বাচন করবেন না। দলের ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মীর ভোটেই নির্বাচিত হবেন তারা। বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ২২শে জুলাই। যিনিই ক্ষমতাসীন দলের নেতা হবেন, নিয়মানুযায়ী তিনিই হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক লরা কুয়েন্সবার্গ বলেন, ‘এই পর্যায়ে এসে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রধানমন্ত্রী ও দলের নেতা হওয়ার দৌড়ে জনসনই এগিয়ে আছেন। পঞ্চম দফার ফলাফল তার ও তার প্রচারণা শিবিরের জন্য এক ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে। তাদের ধারণা, গোভের চেয়ে হান্টকে পরাজিত করা বেশি সহজ হবে।
এই দুই প্রার্থীর মধ্যকার সকল ব্যবধান ও তাদের রাজনীতির ধরনের দিকে মনোযোগ না দিলেও একটি বিষয় অগ্রাহ্য করা কঠিন- জনসন একজন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি আর হান্ট ব্রেক্সিট গণভোটে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থেকে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। টরি সদস্যরা তাদের দলের নেতা পর্যায়ে এমন কাউকে দেখতে চায় যারা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম।

ধর্ষণের অভিযোগকে ‘কল্পকাহিনি’ বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগকে ‘কল্পকাহিনি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। গত শুক্রবার নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন মার্কিন লেখিকা ই. জিন ক্যারোল। আজ শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্কের এক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সাজঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ট্রাম্পের দাবি, ক্যারোলের সঙ্গে তাঁর কখনো দেখাই হয়নি। ধর্ষণের অভিযোগকে ওই লেখিকার নতুন বইয়ের কাটতি বাড়ানোর ধান্দা বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এর আগে ডজনখানেকেরও বেশি নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রতিবারই সে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘ক্যারোলের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি। নতুন বই বেচার চেষ্টা করছে সে, তার কর্মকাণ্ড সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। এই বই কল্পকাহিনি শাখায় বিক্রি করা উচিত।’ ডেমোক্রেটিক পার্টি ক্যারোল কিংবা নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের সঙ্গে কাজ করছে, এমন কোনো তথ্য পেলে হোয়াইট হাউসকে জানাতে বলেছেন তিনি।
এই অভিযোগকে মর্যাদাহানিকর বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। অপ্রয়োজনীয় ভুয়া খবর প্রকাশ করায় প্রতিবেদনটিকে দায়ী করেছেন তিনি। তিনি বলেন, যৌন হয়রানির মিথ্যা গল্প ফেঁদে নিজেদের প্রচারণা চালানো, বই বেচতে চাওয়া বা রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রকাশ করা লজ্জাজনক। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের কথা বিশ্বাস করাও ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদনে ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে বা ১৯৯৬ সালের প্রথম দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় বলে জানান ক্যারোল। বার্গডোফ গুডম্যান নামে নিউইয়র্কের অভিজাত এক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে দেখা হয় তাঁদের। সে সময় ট্রাম্পকে আবাসন জগতের অন্যতম সম্রাট বলেই চিনতেন ক্যারোল। কোনো এক মেয়ের জন্য উপহার কিনতে সেখানে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ক্যারোলকে টেলিভিশনের বদরাগী আন্টি হিসেবে চিনতেন তিনি। দুজনের মধ্যে অনেকক্ষণ হাসি-তামাশা হয়। একসঙ্গে সাজঘরে যান তাঁরা, সেখানেই ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে জানান ক্যারোল।
সে সময় ট্রাম্প ও ক্যারোলের বয়স ছিল পঞ্চাশের ঘরে। মার্লা ম্যাপলস ছিলেন ট্রাম্পের তৎকালীন স্ত্রী। দুই বন্ধুকে এই ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন ক্যারোল। একজন তাঁকে পুলিশের সাহায্য নিতে বলেছিলেন। তবে অন্যজন তাঁকে বুঝিয়েছিলেন ট্রাম্পের অন্তত ২০০ আইনজীবী আছে। ক্যারোলকে দাফন করে দিতে সময় লাগবে না ট্রাম্পের।
ওই প্রতিবেদনে ছয়জন ‘ভয়ংকর পুরুষের’ বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন ক্যারোল। ট্রাম্প ছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএসের সাবেক প্রধান নির্বাহী লেস মুনভেস। ২০১৮ সালে যৌন নিপীড়নের দায়ে পদত্যাগ করেন তিনি। মুনভেসের প্রতিনিধি নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে জানান, এ ঘটনার দায় সমানুভূতির সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছেন মুনভেস।
বার্গডোফ গুডম্যান জানিয়েছে, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ নেই। ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বার্গডোফ গুডম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ, উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান নিরাপত্তা পরিষদের

পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ দেয়ার পর তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মত একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে কুয়েত। নিরাপত্তা পরিষদ তার মাধ্যমে সম্প্রতি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলেছে, ওই হামলা বিশ্ব বাজারে তেল সরবরাহের জন্য হুমকি। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও তা হুমকি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
নিরাপত্তা পরিষদে সোমবার এ নিয়ে দু’ঘন্টার বৈঠক হয়।
এরপর একটি বিবৃতিতে একমত হয় পরিষদ। তবে তাতে ইরানের নাম উল্লেখ করা হয় নি। কিন্তু পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, সামরিক যুদ্ধের ভয়াবহ আশঙ্কা থেকে সব পক্ষকে বিরত থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ দেয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই বিশ্ব শক্তিগুলো ওই যৌথ বিবৃতি দেয়। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের সর্বশেষ অবরোধে টার্গেট করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিই এবং আটজন কমান্ডারকে।
ওয়াশিংটনের অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে। তবে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রাভানচি সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তার ভাষায়, এমন কারো সঙ্গে আপনি আলোচনায় বসতে পারেন না, যিনি আপনাকে হুমকি দিচ্ছেন, ভীতি প্রদর্শন করছেন।
তবে ওই অঞ্চলে সব পক্ষ ও দেশকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বলা হয়েছে, উত্তেজনা ও যুদ্ধংদেহী মানোভাব কমিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়া এই বিবৃতিতে সমর্থন দিয়েছে। এতে সমর্থন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরও। এতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ আলোচনার মাধ্যমে মতবিরোধ অবশ্যই কমিয়ে আনতে আহ্বান জানাচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখিয়ে উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনার জন্য আলাদাভাবে আহ্বান জানিয়েছে বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি।

এটাই শুধু বাকি ছিল সাকিবের! by রানা আব্বাস

সাকিব আল হাসান ব্যাটিং-বোলিং—সব বিভাগে রাঙিয়ে চলেছেন প্রতিটি ম্যাচে। ধারাবাহিক অসাধারণ ব্যাটিংয়ের পর আজ দুর্দান্ত বোলিং—বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো বোলার হিসেবেই শুধু ৫ উইকেট পাননি, ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংটাই করেছেন সাকিব।
লন্ডন, কার্ডিফ, ব্রিস্টল, টন্টন, নটিংহাম হয়ে বাংলাদেশ টাইটানিকের ঘাট সাউদাম্পটনে নোঙর করেছে কি ডুবতে? কাল আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব হুমকি দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে নিয়ে ডুববেন! তিনি মাশরাফিদের ডোবাতে চেয়েছিলেন স্পিনের জাল বিছিয়ে। অথচ সে জালেই আটকা পড়ে আজ হ্যাম্পশায়ার বোলে হাঁসফাঁস করল আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানের রশিদ খান আছেন, মুজিব উর রহমান আছেন; আছেন মোহাম্মদ নবী—আফগান স্পিনত্রয়ী বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খেলবেন, অনেক কথাই হলো ম্যাচটার আগে। ভারতের বিপক্ষে ভালো করায় কথাটা এত জোরালো হলো, প্রশ্ন উঠল, মন্থর এই উইকেটে আফগানিস্তানের স্পিনারদের সামলাতে পারবে তো বাংলাদেশ?
সাকিব আল হাসান হয়তো এসব শুনে মুচকি হেসেছেন। ‘এত স্পিন-স্পিন করছেন, আমার বল ওরা সামলাতে পারবে তো?’—ক্রিকেটীয় সৌজন্য মেনে প্রশ্নটা তিনি করেননি। কিন্তু আজ আফগান ব্যাটসম্যানদের যেভাবে নাচিয়ে ছাড়লেন, তাতে অমন প্রশ্ন করলে কেউ কিছু মনেও করত না নিশ্চিত!
হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেটের এ মাঠটা অনেক বড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়ার হিটারদেরও এই মাঠে তুলে মারতে বেগ পেতে হবে। দৌলত জারদানের যে বলটা মুশফিকুর রহিমের এগিয়ে গিয়ে লং অন দিয়ে বিশাল ছক্কা মারলেন, সেটি সীমানা পেরোতে ৮০ মিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। সাকিব এটি জানেন বলেই মাঠের আয়তনটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন, ফ্লাইটের কারুকাজ দেখিয়েছেন। রহমত শাহ বলের ফ্লাইট আর স্কিড না বুঝে পুল করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ হয়েছেন তামিম ইকবালের। সাকিব আসগর আফগানকেও ফিরিয়েছেন একই ফাঁদে ফেলে।
গুলবদিনের আউটে একটু মাশরাফি বিন মুর্তজারও ভূমিকা আছে। শর্ট মিড অফে লিটন দাসকে দাঁড় করিয়ে যে ফাঁদ পাতা হয়েছিল, সেটিই পা দিয়েছেন আফগান অধিনায়ক। মোহাম্মদ নবীকে সাকিব হারিয়ে দিয়েছেন শুধুই স্কিলে। প্রথম বলটা ঠিকঠাক রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে পেরেছিলেন নবী। যে বলে বোল্ড হয়েছেন, সেটিরও লেংথ একই ছিল। পার্থক্য হচ্ছে, সাকিব এবার বলটা একটু ভেতরে ঢুকিয়েছেন। তাতেই ব্যাট-প্যাড গলে নবীর বেল পড়ে গেছে!
প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ৫ উইকেটের কীর্তি গড়া, ক্যারিয়ারসেরা বোলিং—স্বপ্নের মতো এক বোলিং সাকিবের। এই বিশ্বকাপে এটা করাই তাঁর বাকি ছিল। ধারাবাহিক দুর্দান্ত ব্যাটিং করছেন। ২ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটিতে ৪৭৬ রান করে আবারও শীর্ষ রানসংগ্রাহকের চেয়ারটা নিজের অধিকারে নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ের মতো অসাধারণ বোলিং তাঁর কাছে পাওনা হয়ে গিয়েছিল, সেটিও দেখা গেল আজ সাউদাম্পটনে। আজ কত রেকর্ড ধরা দিল তাঁর কাছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা বোলিং, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছেন ১ হাজার রান পূর্ণ। শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নয়, সাকিবের ছবি আঁকা হলো আরও বড় ক্যানভাসে ।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অলরাউন্ডার হিসেবে ১ হাজার রান আর ৩০ উইকেট পাওয়ার কীর্তিটা তাঁর। আর যুবরাজ সিংয়ের পর দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপের ম্যাচে করেছেন ফিফটি আর বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এ বিশ্বকাপের সেরা বোলিং ফিগারও এখন তাঁর।
অতি উজ্জ্বল এই সাকিবকে দেখে প্রেসবক্সে একজন বলে উঠলেন, টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটা এখনই তাঁকে দিয়ে দিলেই তো হয়!
বোলার
বোলিং পরিসংখ্যান
প্রতিপক্ষ
বিশ্বকাপ
সাকিব আল হাসান
২৯/৫ (১০)
আফগানিস্তান
২০১৯
শফিউল ইসলাম
২১/৪ (৮.০)
আয়ারল্যান্ড
২০১১
মাশরাফি বিন মর্তুজা
৩৮/৪ (৯.৩)
ভারত
২০০৭
রুবেল হোসেন
৫৩/৪ (৯.৩)
ইংল্যান্ড
২০১৫
সাকিব আল হাসান
৫৫/৪ (৮.৫)
নিউজিল্যান্ড
২০১৫

কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না চীনা নাগরিকের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে দেশে হঠাৎ করে একজন চীনা নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা দু’দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হলে এবং বিচারে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে সেটি মেনে নেবে চীন। এতে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।
গত ১৯ জুন ভোরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়। সরকারের তরফ থেকে অবশ্য এ ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ।
তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি এক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভুলবোঝাবুঝির জের ধরে মঙ্গলবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। আহতদের দুজন বাংলাদেশি ও পাঁচজন চীনের নাগরিক।
বাংলাদেশে বিদেশি কোনো শ্রমিক হত্যার ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তারা বলছেন, দেশের ভাবমূর্তির স্বার্থে এ ধরনের হত্যা বা দেশি-বিদেশি শ্রমিক দ্বন্দ্ব যাতে তৈরি না হয় বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।
আগামী ১ জুলাই পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চীন যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে চীনা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এমতাবস্থায় চীন বিষয়টি কীভাবে দেখবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহম্মদ রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে একজন বিদেশি হিসেবে চীন অত্যন্ত অভিজাত জাতি। তারা সুপার পাওয়ার। তাদের দেশের একজন নাগরিক কীভাবে, কেন মারা গেল সেটা চীন হয়তো জানতে চাইবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে তারা তড়িঘড়ি করবে না। তারা অপেক্ষা করবে। এ ছাড়া কূটনৈতিক চ্যানেলে বিচারের দাবি থাকবে। বাংলাদেশও নিশ্চয় বিচারিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে।’
বিষয়টি দুদেশের সম্পর্কে মারাত্মক প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, ‘এটা বিচারিক প্রক্রিয়ায় থাকবে। আমাদের দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যদি ন্যায়বিচার হয় তাহলে চীনেরও কোনো আপত্তি থাকবে না। তাছাড়া আন্তর্জাতিক ইস্যু হওয়ায় দেশের বিচার ব্যবস্থাও সেই স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলবে।’
এ ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, পায়রা বন্দরে চীনা নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পায়রা বন্দরে চীনা নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। এটি এমন একটি সময়ে ঘটল, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে যাচ্ছেন।’
ড. মোমেন বলেন, ‘পায়রা বন্দরে বাংলাদেশের একজন শ্রমিক ওপর থেকে পড়ে মারা গেছেন। আর আমাদের লোক মনে করেছেন, এ শ্রমিককে চীনারা মেরে ফেলেছেন। এমন গুজবের ফলে এ ঘটনা ঘটেছে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।’
২০১০ সাল থেকে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। চীনের সংস্থাগুলো পদ্মা সেতু, বন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণ করছে।
২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
যৌথভাবে বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের আগস্টে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ৬৬০ মেগাওয়াটের মোট ২টি ইউনিট নির্মাণ করা হবে। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং একই বছর ৩১ অক্টোবর শেষ হবে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এ প্রকল্পে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালিত হবে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কয়লার মাধ্যমে।
চীন সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের পাশাপাশি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারে চীন বিনিয়োগ করছে। তবে শান্তি-শৃঙ্খলা না থাকলে, বিনিয়োগ করে কোনো লাভ হবে না। এটা আমরা চীনকে বোঝাতে চাই। এ অঞ্চলে চীন, মিয়ানমার, প্রতিবেশী ভারত সবার মঙ্গলের জন্যই শান্তি দরকার।’
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে এ অঞ্চলে মৌলবাদের উত্থানসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে বেইজিংকে জানাবে বাংলাদেশ।

বিশ্বমিডিয়ার চোখে সাকিবের জন্য কোনো বিশেষণই যেন যথেষ্ট নয়

শুধু অলরাউন্ডারই নন তিনি। ‘স্পেশাল অলরাউন্ড পারফরমেন্স’ দেখিয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। তিনি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের স্বপ্নকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। নিজের একদিনের ক্রিকেটে সর্বোত্তম বোলিং ক্যারিয়ার প্রদর্শন করে রেকর্ড গড়েছেন। ‘সুপার্ব’ ক্রিকেট প্রদর্শন করে এখন ভারতকে ‘আপসেট’ করার অপেক্ষায় সাকিব। বাংলাদেশ ক্রিকেট হতে পারে ইংল্যান্ডের কাঁধে গরম নিশ্বাস। আফগানিস্তান বধের পর ‘বাংলাদেশের বিস্ময়’ সাকিব আল হাসানকে নিয়ে এসব কথা লিখেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। তারা সাকিবের প্রশংসা এমনভাবে করেছে, যাতে মনে হয় আর কোনো বিশেষণ বাকি নেই।
সাকিবের প্রশংসা করতে হলে নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করতে হবে।
তাই ভারতের দ্য হিন্দুর বিজনেস লাইন সাকিবকে ‘সেনসেশনাল সাকিব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের শিরোনাম ‘সেনসেশনাল সাকিব বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা জাগিয়ে রাখলেন’। এতে সাকিবকে শুধু অলরাউন্ডার হিসেবেই আখ্যায়িত করা হয় নি। তার আগে একটি ‘স্পেশাল’ শব্দ যোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্পেশাল অল রাউন্ড পারফরমেন্স নিয়ে হাজির হয়েছেন সাকিব আল হাসান। সোমবার ৬২ রানে আফগানিস্তানকে বধ করে চালকের আসনে তিনিই ছিলেন বাংলাদেশে। মুশফিকুর রহিম ও সাকিব কঠিন অবস্থায় তাদের ‘ক্লাস’ বা জাত প্রদর্শন করেছেন। নিজে অর্ধশত রান করে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এখন ওই সাকিবের (৫১)। শুধু তাই-ই নয়। তিনি বল হাতেও ‘এক্সেপশনাল’ বা ব্যতিক্রমী। বাম হাতি এই স্পিনার পুরো ১০ ওভার বল করে মাত্র ২৯টি রান দিয়েছেন। আর তুলে নিয়েছেন ৫টি উইকেট। এটিই একদিনের ক্রিকেটে তার সেরা বোলিং।
এই পত্রিকাটি আরো লিখেছে, ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টায়’ সাকিব ভারতের যুবরাজ সিংয়ের পর নিজেকে আরো একটি উচ্চতায় তুলে ধরেছেন। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ৫০ রান করে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এর আগে যুবরাজ সিং। তারপরেই দ্বিতীয় নামটি সাকিবের। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডকেও টপকে গেছেন তিনি। সাকিব সম্পর্কে এই পত্রিকাটি ইংরেজিতে এভাবে লিখেছে- বিশ্বের ‘প্রিমিয়ার অল-রাউন্ডার’ এরই মধ্যে পর পর দুটি শত রান পূর্ণ করেছেন। করেছেন তিনটি অর্ধ শতক। অন্যদিকে তার দলকে সামনে এগিয়ে নিতে সাকিবের পাশাপাশি আরেক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন মুশফিকুর রহিম।
অনলাইন ফ্রান্স ২৪-এর শিরোনাম ‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলার আশা জাগিয়ে তোলার পর ভারতকে আপসেট করতে চান সাকিব’। এতে বলা হয়, সেমি ফাইনালে দলকে খেলানোর যোগ্যতায় টিকিয়ে রাখতে সাকিব ‘সুপার্ব ডিসপ্লে’ প্রদর্শন করেছেন। এখন ভারতকে আপসেট করার দিকে দৃষ্টি তার। বাংলাদেশের সামনে এখন ভারত ও পাকিস্তান। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ‘ফেমাসলি’ হারিয়েছিল ভারতকে। তাই বিরাট কোহলির দলকে আগামী ২রা জুলাই বিপদে ফেলতে পারে বলে আস্থা রয়েছে সাকিবের। তিনি ভারতকে উদ্দেশ্য করে সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা সেরা দল। তারা এমন একটি দল, যারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা করছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে খেলাটা সহজ হবে না। কিন্তু এটা আমি বলছি, আমরা আমাদের সেরা খেলাটা দিতে চাই। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা আমাদের সাহায্য করবে। ভারতকে হারানোর জন্য আমাদেরকে আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে হবে। তাদের আছে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। আমি বলছি আমাদেরকে সেরাটা দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের টিমও যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন।
ফ্রান্স ২৪ আরো লিখেছে, বাংলাদেশের টেস্ট ও টি২০ দলের অধিনায়ক সাকিব। তিনি বলেছেন, বিশ্বমঞ্চে তার সফলতা সন্তোষজনক। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি তা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকবেন। তার ভাষায়, খুবই সন্তোষজনক। এটা আমার জন্য প্রয়োজন ছিল। আমার জন্য এবং টিমের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সৌভাগ্য যে, আমি এটা করতে পেরেছি। আমি খুবই খুশি এ জন্য যে, আমাদের টুর্নামেন্ট সামনে অগ্রসর হচ্ছে। এখনও আমাদের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি, এর পরেও থাকবে।
লন্ডনের অনলাইন গার্ডিয়ানের শিরোনাম ‘আফগানিস্তানকে ডুবিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের আশাকে বাঁচিয়ে রাখলেন সাকিব আল হাসান’। যদি ইংল্যান্ডের সামনে এমন উদাহরণ প্রয়োজন হয় যে, কোনো ভঙ্গুর আশাকে কিভাবে জাগিয়ে তুলতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ বর্তমানে তাদের কাঁধের ওপর নিশ্বাস ফেলছে, সেটাই হতে পারে সেই উদাহরণ। মাঠে গর্জনরত বাঘের পোশাক পরা ভক্ত। তাদের সেই গর্জনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যে পারফরমেন্স প্রদর্শন করেছে, তাতে তাদের মধ্যে জেনুইন আশা জেগে উঠেছে যে, টুর্নামেন্টের শেষ চারটি দলের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবে তারা। বাংলাদেশ বর্তমানে তালিকায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে ৫ম অবস্থানে। ইংল্যান্ডের চেয়ে এক পয়েন্টে পিছিয়ে আছে তারা। তাদের এখনও দুটি ম্যাচ বাকি। একটি ভারত, অন্যটি পাকিস্তানের সঙ্গে। যদি এই দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশ বিজয়ী হয়, তাহলে শেষ চারটি দলের মধ্যে মর্গানের ইংল্যান্ডের নাম লেখাতে হলে তাদেরকে অবশ্যই আরো তিনটি ম্যাচের মধ্যে কমপক্ষে দুটি ম্যাচে বিজয় অর্জন করতে হবে। মঙ্গলবার লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে হবে তাদেরকে। এরপরে রয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের খেলা। এর কোনটির বিষয়েই নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।
অন্যদিকে সাকিব আল হাসান যে ফর্মে আছেন তাতে বাংলাদেশ যেকোনো কিছুকে সম্ভব করে তুলতে পারে। তিনি বিশ্বের ‘বেস্ট অলরাউন্ডার’ এর পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে। একই সঙ্গে একই ম্যাচে অর্ধশতক রান পূর্ণ করে, ৫টি উইকেট শিকারী হিসেবে তিনি দ্বিতীয় খেলোয়াড়। তাই অধিনায়ক মাশরাফি বলেছেন, পুরো টুর্নামেন্টে সাকিব ফ্যান্টাস্টিক পারফরমেন্স দেখাচ্ছে। তিনি বিস্ময়কর। পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবো। একই সুরে কথা বলেছেন, দলেকে এই মুহূর্তে সামনে এগিয়ে নেয়ার শক্তি সাকিব আল হাসান। তিনি বলেছেন, ইংল্যান্ডের এখনো তিনটি ম্যাচ বাকি। আমাদের আছে দুটি। ফলে গাণিতিক হিসাবটা অনেক জটিল। তবে, যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। আমাদেরকে এটা বিশ্বাস করতে হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির শিরোনাম ‘বাংলাদেশের সাকিব বিশ্বকাপে রান রেকর্ডে শীর্ষে’। এতে এ বছর বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান করার কথা বলা হয়েছে। তিনি সবচেয়ে বেশি রান করে এবার এক নম্বরে অবস্থান করছেন।

বাহরাইন সম্মেলনের বিরুদ্ধে লেবাননে বিক্ষোভ

ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের নামে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় বাহরাইনে যে সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার বিরোধিতা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভ হয়েছে। ২৫ ও ২৬ জুন দুদিনব্যাপী এ সম্মেলন হবে এবং সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ অংশবিশেষ উন্মোচন করা হতে পারে।
এর বিরুদ্ধে বৈরুতে বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার প্রতিবাদ সমাবেশ করেন এবং কথিত মার্কিন পরিকল্পনাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন।
এদিকে, লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুরা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় তাইয়ের শহরে ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুল বন্ধ ছিল। এছাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ ছিল। এসব কর্মসূচি থেকে বাহরাইন সম্মেলনের নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়।
ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের নামে বাহরাইনে অনুষ্ঠানরত এ সম্মেলন বয়কট করেছে খোদ ফিলিস্তিনের সমস্ত রাজনৈতিক সংগঠন ও গোষ্ঠী। তারা বলছে, এ সম্মেলন ফিস্তিনিদের জন্য চরম অপমান। এর আগে ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি সম্পর্কে যে তথ্য ফাঁস হয়েছে তাতে ফিলিস্তিনকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সরাসরি অধীনস্ত করা হবে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

এখানেই ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করেছিল আমেরিকা

১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই ইরানের যাত্রীবাহী বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছিল আমেরিকা
ইরান গত বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরের যে এলাকায় একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে সেই একই এলাকায় তিন দশক আগে ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমান গুলি করে সাগরে ফেলে দিয়েছিল আমেরিকা।
আরবি টেলিভিশন চ্যানেল আল-মায়াদিন এ স্মৃতিচারণ করে বলেছে, মার্কিন ‘গ্লোবাল হক’ ড্রোনটি ঠিক সেই স্থানে বিধ্বস্ত হয়েছে যেখানে ১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল আমেরিকা। পারস্য উপসাগরে মোতায়েন মার্কিন রণতরী ইউএসএস ভিনসেস থেকে ওই বিমানে গুলি করা হয়। এর ফলে ওই বিমানের ২৯০ হতভাগ্য আরোহীর সবাই নিহত হন যাদের মধ্যে ৫৩ জন শিশু ছিল।
আল-মায়াদিন আরো জানিয়েছে, ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই যে, আমেরিকা তিন দশক আগে যে স্থানে ইরানের বিমান ভূপাতিত করে নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড় নিয়েছিল ঠিক সেই স্থানে এবার আমেরিকার সম্মান ধুলায় মিশে গেল।
ইরানের যাত্রীবাহী বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার পর ৩১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত আমেরিকা ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি ওই ঘটনায় মার্কিন সরকার ইউএসএস ভিনসেস’র কমান্ডার উইলিয়াম রজার্সকে পদক দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক সমাজ আমেরিকার ওই পদক্ষেপের নিন্দা জানায় এবং ওই পদক্ষেপকে মানবতা বিরোধী অপরাধ বলে অভিহিত করে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি গত বৃহস্পতিবার ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া, আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদে বলেন, “ভূপাতিত মার্কিন ড্রোনটির সঙ্গে একটি মার্কিন পি-৮ সামরিক বিমান ছিল এবং সে বিমানে ৩৫ জন আরোহী ছিল।” তিনি আরো বলেন, “ওই বিমানটিও আমাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল এবং আমরা সেটিকে ভূপাতিত করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি কারণ, আমরা শুধুমাত্র ড্রোনটিকে বিধ্বস্ত করে আমেরিকাকে সতর্ক করতে চেয়েছি।”
মার্কিন ড্রোনের বিধ্বস্ত ধ্বংসাবশেষ দেখছেন জেনারেল হাজিযাদে

ট্রেনে যাত্রী ছিল ৩ গুণ গতি ছিল বেশি

সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে উঠেছিল অতিরিক্ত যাত্রী। খোদ রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় তিন গুণ যাত্রী ছিল ওই ট্রেনে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। যাত্রী বোঝাই ট্রেনের গতি বেশি থাকার কারণেই কুলাউড়ার বরমচালে  এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন সবাই। একই সঙ্গে রেল লাইনটিও ছিল দুর্বল। সংস্কার হয়নি অনেক দিন। স্থানীয়রা নিজেরাও দেখেছে অনেক নাট খোলা রয়েছে। কোনো ক্লিপ ছিল না।
এ নিয়ে কয়েক দিন আগে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাসও দিয়েছে। যোগাযোগ করেছে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও। এরপরও ওই অংশ মেরামত করা হয়নি। তবে রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এ প্রসঙ্গে কোনো কথা বলেননি। শুধু বলেছেন, তদন্তের পর জানা যাবে কেন এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর কয়েক জন যাত্রী মানবজমিনকে জানিয়েছে, ট্রেনের গতি ছিল বেশি। কারণ, প্রায় ৪০ মিনিট বিলম্বে ওই ট্রেনটি সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। ওই এলাকায় যাওয়া মাত্রই ট্রেনের গতি কমানো হয়। পাহাড়ি এলোমেলো রাস্তা। এ কারণে সাতগাঁও এলাকা পর্যন্ত ট্রেন কম গতিতে যায়। ফলে ওই এলাকা পাড়ি দিতে সোয়া দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু ট্রেনের গতি কমানো হয়নি। যখন ট্রেনটি দুর্ঘটনা কবলিত হয় তখনো চালক ট্রেন থামাতে পারেননি। গতির কারণে ছিটকে যাওয়া ৫টি বগি রেখেই চালক প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ট্রেন থামান। ততক্ষণে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ট্রেনের পেছনের দিকের ৫টি বগি। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী ওই ট্রেনের প্রায় ১৭টি বগি ছিল। এতে নির্ধারিত আসনে যাত্রী ছিল প্রায় ৯০০ জন। এর বাইরে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে আরো দিগুণ যাত্রী ওঠে। কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনের অনেক যাত্রী ছিলেন। সব মিলিয়ে যাত্রী হবে প্রায় আড়াই হাজার। ট্রেনের ভেতরে এসব যাত্রী ব্যাগেজ ছিল। ফলে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় গত তিন দিন ধরে ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো প্রেসার নিতে পারছিল না। ট্রেনের চালকরাও এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ওপর বিরক্ত ছিলেন। কারণ- প্রেসার (শক্তি) কম থাকার কারণে ট্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন চালকরা। গত শুক্রবার রাতেও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া উপবন ট্রেন কম প্রেসারের কবলে পড়েছিল। এ কারণে প্রায় ৩ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছিল ওই রাতের ট্রেন। এরপর থেকে প্রতিদিনই ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। ট্রেন দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানিয়েছেন, বরমচালের কালা মিয়ার বাজার পাড়ি দিলেই বড়ছড়া রেল ব্রিজ। ওই ব্রিজটি বেশি বড় না। ট্রেনের একটি বগির আয়তনের চেয়ে ছোট। ব্রিজের দুই পাশে রেলওয়ে সড়কে ক্লিপ ছিল না। এ কারণে নড়বড়ে ছিল রেল লাইন। বিষয়টি গত ঈদের সময় তাদের নজরে আসে। এ নিয়ে তারা ফেসবুকে সতর্কতামূলক পোস্ট দেন। স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনে এ বিষয়টি জানিয়েছেন। এরপরও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ঘটনা। ঘটনা কবলিত বড় ছড়া ব্রিজ ও তার আগের রেলের স্লিপার ও পাত সরে গেছে। চ্যাপ্টা হয়ে গেছে অনেক স্থানে। ফলে ট্রেনটির গতি বেশি থাকার কারণে পেছনের ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশে পড়ে যায়। দুঘর্টনার সময় বিকট একটি শব্দ হয়। সচরাচর ট্রেন চলাচলের সময় এরকম শব্দ তারা পান না। কিন্তু রোববারের রাতের শব্দ বিকট হওয়ায় আশপাশের লোকজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন ট্রেনের ৫টি বগি ছিটকে পড়ে গেছে। এ সময় তারা আহতদের আর্ত চিৎকার শুনেন। রেললাইনের পাশের নন্দনগরের বাসিন্দা ফারুক মিয়া জানিয়েছেন, ব্রিজের পাশে জোড়ার মধ্যে পাত দুটি লাগানো থাকে। এদিকে একটি নাট, ওদিকে আরেকটি নাট থাকার কথা। কিন্তু কোনো নাটই ছিল না। এ কারণে ট্রেন যাওয়ার সময় ওই এলাকায় কাঁপে বেশি। নরুল আমিন চৌধুরী  জানিয়েছেন, অন্যদিনের চেয়ে কালকে গতিও একটু বেশি মনে হয়েছে। মহলাল এলাকার বাসিন্দা পারভেজ বলেন, রাতে ট্রেনটিতে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ছিল। অন্য সময়ের তুলনায় অনেক যাত্রী। এদিকে সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেললাইন ঝুঁকিপূর্ণ অনেক আগে থেকেই। এ কারণে সিলেটবাসী এই রুটে ডাবল লাইন করার দাবি জানিয়ে আসছে। ঝুঁকিপূর্ণ একটি লাইন এবং তাও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে সিলেট-আখাউড়া রেলপথ। বেশ কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন সময় বগি লাইনচ্যুত্যের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ত্রুটি সারিয়ে ট্রেন চলাচল করা হয়। স্থায়ী কোনো সমাধান দেয়া হয় না। কখনো পাহাড়ি ঢলে রেললাইনের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। আবার কখনো ব্রিজ ভেঙে যায়। এই রুটের অধিকাংশ স্লিপারেই নেই নাট-বল্টু। জীবনবাজি রেখে প্রতিদিন ছুটে চলে ৬টি আন্তঃনগরসহ কয়েকটি লোকাল ট্রেনের যাত্রীরা। ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে পারাবত, জয়ন্তিকা, পাহাড়িকা, উদয়ন, উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস নামের ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন প্রতিদিন দুবার করে ১২ বার আসা-যাওয়া করে। হবিগঞ্জের শাহজিবাজারে ৭৩ নম্বর সেতু, লস্করপুরে ১০২ নম্বর সেতু, শায়েস্তাগঞ্জে ১০৫ নম্বর সেতু, বাহুবলের রশিদপুরে ১১৪ নম্বর সেতু, কমলগঞ্জের ভানুগাছে ১৮৩ নম্বর সেতু এবং ছাতকে ৩২ নম্বর সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই সেতুগুলোকে মেরামতের তালিকায় রেখেছে।