Showing posts with label জ্বালানি তেল. Show all posts
Showing posts with label জ্বালানি তেল. Show all posts

Sunday, November 24, 2024

সরকারের তিন মাসে জ্বালানি খাতে সাশ্রয় হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৩ মাসে জ্বালানি খাতে ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। গতকাল ‘দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট সমাধানের পথ’- শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সেমিনারটি আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। এতে বিভিন্ন শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। ফাওজুল কবির খান বলেন, জ্বালানি তেলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের স্পেসিফিকেশন ছিল, যিনি জ্বালানি তেল সরবরাহ করবেন তাকে রিফাইনারির মালিক হতে হবে। আমি এটাকে ক্ষাণিকটা পরিবর্তন করে দিলাম যে, রিফাইনারির মালিক হলে ভালো, যদি আপনি বড় সরবরাহকারী হন তাহলেও হবে। এর ফলে ৩ মাসে যে জ্বালানি আমদানি করেছি, তাতে ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। যেটার বার্ষিক ভ্যালু প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা। এজন্য আমাদের সরকারি জ্বালানি ক্রয় প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে এবং এটাই সবথেকে বড় সুযোগ। আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির দুইটা সমস্যা হলো- একটা প্রতিযোগিতার অভাব, আরেকটি অপচয়। এখানে ব্যবসা করতে হলে মন্ত্রী, সচিবকে চিনতে হয়। আমাদের ভোলাতে যে গ্যাস আছে, সেটা আমরা পাইপলাইনের কারণে আনতে পারছি না। ওখান থেকে আপনারা গ্যাস এলএনজি অথবা সিএনজি ফর্মে আনেন এবং ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের সহজ সমাধানের কথা না ভেবে প্রকৃত সমাধানের কথা ভাবতে হবে। প্রকৃত সমাধান হলো- আমাদের রিনিউয়েবল এনার্জিতে যেতে হবে। অনেকে বলে জায়গার অভাব, এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। অপ্রয়োজনীয় জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি বিদ্যুৎ ছাড়াও সেতু ও রেলওয়ে দেখি- যেখানে বিনিয়োগ দরকার ছিল সেখানে হয়নি, আর যেখানে বিনিয়োগ অপ্রয়োজনীয় ছিল সেখানে করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সবার পার ক্যাপিটা জিডিপি বাড়ছে। যখন এগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি, এখন গ্রোথ রেট কমে যাচ্ছে। অনেকে বলছে, এই উপদেষ্টারা তো কিছুই পারে না। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা কি অপচয়ের গ্রোথ রেট চান নাকি প্রকৃত গ্রোথ রেট চান? আমরা উন্নয়নটা মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত করতে চাচ্ছি।

দেশের অর্থনীতিকে ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ মুক্ত করার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনারা এটাতে অংশ নেবেন। আরেকটা জিনিস, ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ বা অন্যের পরিচয়ে ব্যবসা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আমাদের দেশে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ের কোনো ভিত্তি হতে পারে না।

ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সরকারের সখ্যতার ভিত্তিতে না ব্যবসা করে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা করেন। আমাদের অর্থনীতি উন্মুক্ত করার যে প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি, সেটার সঙ্গে আপনারা যুক্ত হবেন। আমাদের ভালো ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসবেন। এতে অর্থনৈতিক সংকট থেকে আমরা পরিত্রাণ পাবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে দেশ নৈরাজ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছিল। সে সময় ব্যবসায়ীদেরও কোনো মর্যাদা ছিল না। তবে এখন সে পরিস্থিতি বদলেছে। বিগত সরকারের সময়ে গ্যাস সংযোগ পাওয়া নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাবেক জ্বালানি মন্ত্রীর কাছে আমি গিয়েছিলাম। ওই সময় ওনার বাসার সামনে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়েছিলাম, যেন আমি কোনো চাকরি চাইতে গিয়েছি। এর কারণ, এত টাকা বিনিয়োগ করেছি, কিন্তু গ্যাস সংযোগ পাচ্ছিলাম না। তখন গ্যাস সংযোগ পাওয়া আমার কাছে মনে হতো ব্যাংকের নিবন্ধন পাওয়ার মতো।

জ্বালানি খাত দুর্নীতির অন্যতম জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পরে কিছু আর্থিক অপরাধী সম্পর্কে জানতে পারছি। এসব জেনে আমার কিছু কিছু মানুষের ব্রেন স্ক্যান করে দেখতে ইচ্ছা করে, যে এরা এতটা ক্রিমিনাল কী করে হতে পারে! শেখ বশিরউদ্দিন আরও বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমানে যে দুর্বলতা রয়েছে তা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা নেই। আমরা বিদ্যমান সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানের দিকেও যেতে পারবো বলে আশা করছি।
সেমিনারে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. ইজাজ হোসেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার প্রমুখ।

mzamin

Friday, August 30, 2024

তুরস্কের হাতে যাচ্ছে ইউরোপের জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ

পশ্চিমা মদদপুষ্ট ইউক্রেন ও অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়ার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দানে যেন তুরস্কের ভাগ্য লেখা হচ্ছে। এ যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো প্রকাশ্যে দুই ভাগ হয়ে গেলেও দুই নৌকায় পা দিয়ে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সবশেষ রুশ জ্বালানি রপ্তানি থেকেও বিপুল সুবিধা পেতে যাচ্ছে তুরস্ক।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস রপ্তানি নিয়ে ইউরোপিয়ান ভোক্তাদের সতর্ক করেছে রাশিয়া। বলা হচ্ছে, ইউক্রেন যদি রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস ট্রানজিট চুক্তি নবায়ন না করে তবে ইউরোপীয় ভোক্তাদের চড়া মূল্যে গ্যাস কিনতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেনের এ চুক্তি চলতি বছরের শেষ দিন সমাপ্ত হবে।

এদিকে, চলমান যুদ্ধের মধ্যে গ্যাস ট্রানজিট চুক্তি নবায়ন করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। এমনটা হলে রুশ গ্যাস রপ্তানির অন্যতম ট্রানজিট হয়ে উঠতে পারে তুরস্ক। এমনটা জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। বুধবার (২৮ আগস্ট) নিয়মিত সম্মেলনে পেসকভ জানান, যদি ইউক্রেন চুক্তি বাড়াতে সম্মত না হয় তবে তুরস্কে একটি গ্যাস হাব তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম অগ্রগতির দিকে আছে বলেও জানান তিনি।

রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেন বাহিনী ঢুকে পড়ায় হুমকির মুখে পড়েছে রুশ গ্যাস ট্রানজিট। সেখানে গ্যাস ট্রানজিট পয়েন্ট সুডজা অবস্থিত। ফলে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইউরোপে গ্যাস রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পেসকভ জানান, ইউক্রেন যদি নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা ইউরোপীয় ভোক্তাদের জন্য চরম খারাপ খবর ডেকে আনবে। কারণ অন্য বিক্রেতাদের কাছ থেকে জ্বালানি ক্রয়ের জন্য তাদের প্রচুর অর্থ খরচ করত হবে। এমনকি মার্কিন এলএনজি কিনতে চাইলেও তারা সস্তায় তা পাবে না।

২০২২ সালে ইউরোপের হারিয়ে যাওয়া ভোক্তাদের ফিরে পেতে তুরস্কে একটি গ্যাস হাব স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে আঙ্কারাও চাইছিল জ্বালানি খাতের অন্যতম বিনিময়কারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। এ বিষয়ে এখনো রুশ ও তুর্কি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা যায়। তারা বর্তমানে এ প্রকল্পের রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছেন।

Wednesday, November 16, 2011

বাসমালিকদের দুরভিসন্ধির কাছে নতিস্বীকার নয় - জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের মূল্য আরেক দফা বাড়ানোর ঘটনাটিকে বাসমালিকেরা নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর মতলব এঁটেছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। শিগগিরই তাঁরা বাসভাড়া বাড়াবেন, কিন্তু কতটা বাড়াবেন সেই হিসাব করতে গিয়ে শুধু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিটাই ধরবেন না, আরও অন্তত ষোলটি বিষয় যোগ করবেন। এবং সোমবারের প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, যোগাযোগমন্ত্রী ও নৌপরিবহনমন্ত্রী বাসমালিকদের এই দুরভিসন্ধি পূরণে সায় দিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় ডিজেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছে লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা। এর ফলে বাসভাড়া বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার হওয়ার কথা কিলোমিটারপ্রতি পাঁচ পয়সা। এর আগের বাসভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছিল এই হারেই। কিন্তু এবার বাসমালিকেরা বলছেন শুধু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির অনুপাতে তাঁরা বাসভাড়া বাড়াবেন না, আমলে নেবেন খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ আরও ষোলটি বিষয়। বলা হচ্ছে, বাসমালিকদের সামগ্রিক ব্যয় বিশ্লেষণ করে নতুন করে বাসভাড়া নির্ধারণ করা হবে। রোববার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে দুই মন্ত্রী ও এক পরিবহন নেতা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন; প্রকাশিত খবর অনুযায়ী যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ‘কিছু দাবি-দাওয়া’ মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে বাসভাড়া বাড়ানো হচ্ছে না, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়া নির্ধারণ-সংক্রান্ত কমিটি বাসমালিকদের ‘ব্যয় বিশ্লেষণ’ করার পর নতুন ভাড়ার হার নির্ধারণ করবে, এবং তা ঘটবে শিগগিরই।
জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রীরা জনগণের স্বার্থ দেখছেন, নাকি বাসমালিকদের মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষে যোগসাজশ করছেন—এমন প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি পরিষ্কার। বাসভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে তাঁরা বৈঠক করছেন পরিবহন নেতার সঙ্গে। অতি মুনাফালোভী বাসমালিকদের কথাই শুধু তাঁরা শুনছেন, তাঁদের অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া মেনে নিচ্ছেন। জনস্বার্থের কথা তাঁরা ভাবছেন না, যাত্রীস্বার্থের প্রতিনিধিদের বৈঠকে কথা বলার জন্য ডাকাও হচ্ছে না। দুই মন্ত্রীর এই অবস্থান এক কথায় গণবিরোধী।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাসভাড়া বৃদ্ধি অবশ্যই যৌক্তিক হারে হতে হবে, এর অতিরিক্ত জনগণ মেনে নেবে না। যে ‘ব্যয় বিশ্লেষণের’ কথা বলা হচ্ছে তাতে কেবল পরিবহন মালিকদের স্বার্থই বিবেচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বাসের খুচরা যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়েছে, অন্যান্যা ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সবকিছুর পরেও বর্তমান হারেই বাসমালিকদের মুনাফা হচ্ছে কি না, সেই হিসাব কি তাঁরা সরকারকে দিয়েছেন বা সরকার কি তাঁদের কাছে সেই হিসাব কখনো চেয়েছে? কতটা মুনাফা যৌক্তিক—এই প্রশ্নও কি কখনো তোলা হয়েছে?
মুনাফা যৌক্তিক মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে জনগণের ঘাড়ে বাড়তি মাশুল চাপানোর অপচেষ্টা কোনো কোনো মহল করতে পারে। এ ধরনের প্রবণতা মোকাবিলা করার দায়িত্ব সরকারের, উল্টোটা নয়। জনগণের ওপর আর্থিক চাপের বোঝা যাতে না বাড়ে সেটাও দেখার দায়িত্ব সরকারের। বাসের খুচরা যন্ত্রাংশের শুল্কহার কমানোসহ বাসমালিকদের সামগ্রিক ব্যয় লাঘবের ক্ষেত্রে সরকারের কিছু করণীয় থাকলে তা করা উচিত এবং একই সঙ্গে বেশি হারে বাসভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করা উচিত। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির চাপে ইতিমধ্যে বিপর্যস্ত জনগণের ওপর আরও চাপ বাড়ানোর পথ বন্ধ করুন।