Sunday, April 2, 2017

ব্যাগে ব্রেস্ট পাম্প, ভারতীয় নারীকে নগ্ন করে তল্লাশি

জার্মানির ফ্রাঙ্কফ্রুট বিমানবন্দরে এক ভারতীয় নারী হেনস্থার শিকার হয়েছেন। সঙ্গে শিশু সন্তান না থাকার পরও ব্যাগে ব্রেস্ট পাম্প থাকায় শ্রুতি বসাপ্পা (৩০) নামের ওই নারীকে নগ্ন করে তল্লাশি করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা। খবর এনডিটিভি, আনন্দবাজারের। জবাবে নিরাপত্তারক্ষীরা সন্তুষ্ট হতে না পেরে শ্রুতিকে আলাদা ঘরে নিয়ে টানা ৪৫ মিনিট জেরা করা হয়। এ সময় সত্যিই ব্রেস্ট পাম্প কাজে লাগে কি না জানতে তার জামা খুলে ল্যাকটেশন পরীক্ষা করেন এক মহিলা অফিসার। গত ২৯ মার্চের এ ঘটনায় অপমানিত হয়ে শ্রুতি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত শ্রুতি সিঙ্গাপুরে থাকেন। তার তিন বছরের এবং সাত মাসের দুটি শিশু রয়েছে। ঘটনার দিন তিনি একাই প্যারিস যাচ্ছিলেন। দুই শিশু সিঙ্গাপুরে পরিবারের কাছে থেকে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে শ্রুতি জানান, ফ্রাঙ্কফ্রুট বিমানবন্দরে তার প্রায় সমস্ত চেকিং হয়ে গিয়েছিল। সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু ব্যাগ এক্স-রে মেশিনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পরই তার প্রতি ব্যবহার বদলে যায় নিরাপত্তারক্ষীদের। শ্রুতির ভাষ্যে, এক্স-রে মেশিনেই ধরা পড়ে যে অন্যান্য মালপত্রের সঙ্গে ব্যাগে একটি ব্রেস্ট পাম্পও রয়েছে। প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীরা জানতে চান ব্রেস্ট পাম্প কিসের জন্য তিনি রেখেছেন।
শিশুদের কথা জানিয়ে শ্রুতি বলেন, তার এখন ব্রেস্ট পাম্পের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তিনি সেটা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। এতে সন্দেহ দূর না হওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আলাদা একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে জেরা করতে শুরু করেন। শ্রুতির অভিযোগ, তার যে সত্যিই ব্রেস্ট পাম্পের প্রয়োজন আছে, তা জানতে জেরা চলাকালীন এক মহিলা অফিসার তাকে জামা খুলে দেখাতে বলেন। তাতে রাজি না হলে জোর করে তার জামা খুলে সেই অফিসার নিজেই তার শরীরে হাত দিয়ে পরীক্ষা করতে শুরু করেন। এভাবে ৪৫ মিনিট ধরে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি কাটান তিনি। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হলে বেরিয়ে এসে পুলিশে অভিযোগ করেন শ্রুতি। তবে এ বিষয়ে জার্মান ফেডারেল পুলিশ কোনো মন্তব্য করতে রাহি হয়নি। জার্মান ফেডারেল পুলিশের মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান অলটেনহফেন জানান, তদন্তের স্বার্থেই এটা গোপন রাখা হচ্ছে। গত জানুয়ারিতেই এই বিমানবন্দরে তল্লাশির নামে এক ভারতীয় নারীকে হেনস্থা করা হয়েছিল। ব্যাগে ব্রেস্ট পাম্প অথচ সঙ্গে শিশু নেই- কর্তৃপক্ষের সন্দেহ মেটাতে সেবারও ব্লাউজ খুলে 'পরীক্ষা' দিতে হয়েছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা গায়ত্রী বসুকে (৩৩)।

‘গরু জবাই করলে ফাঁসিতে চড়াব’

ভারতের ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রমন সিং বলেছেন, গরু জবাই করলে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। গুজরাটের বিধানসভায় গরু জবাই করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আইন পাসের পরদিনই তিনি আরও একধাপ এগিয়ে এ মন্তব্য করলেন। খবর এনডিটিভির। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গরুর মাংস নিষিদ্ধ করার উদ্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়। দরিদ্র মুসলিমদের আমিষের অন্যতম উপাদান ছিল গরুর মাংস। রমন সিংকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- তার রাজ্যে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে কিনা। মুখ্যমন্ত্রীর জবাব- ‘গত ১৫ বছরে ছত্তিশগড়ে এমন কোনো কথা (গরু জবাইয়ের খবর) আদৌ শুনেছেন... গরু জবাই করলে ফাঁসিতে ঝোলাব।’ এর আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন শুরু করেছেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি বলেছেন, ‘বিজেপি গরু, গঙ্গা ও গীতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।’ ২০১১ সাল থেকেই গুজরাটে গরু জবাই ও পরিবহন নিষিদ্ধ। তখন সেখানকার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিশ্বে ৩০ কোটি মানুষ হতাশায় ভুগছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিশ্বে বর্তমানে ৩০ কোটি মানুষ হতাশায় ভুগছেন। বিশ্বজুড়ে মানুষের অসুস্থতা ও অক্ষমতাই হতাশার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। শুক্রবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্মৃতিবিভ্রাট ও ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণা থেকে মানুষকে মুক্ত রাখতে প্রচারাভিযান চালিয়ে থাকে ডব্লিউএইচও। এই সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক শেখর স্যাক্সেনা বলেন, ‘হতাশায় ভোগা কেউ যদি বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে এটি হয় তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ।’ ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত হতাশাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১৮ শতাংশ। তবে যথাযথ সহযোগিতা ও চিকিৎসকার অভাবে মানসিকতা ভালো রেখে স্বাস্থ্যসম্মত ও উৎপাদনশীল জীবনযাপন করতে পারছে না অনেকে। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক মার্গারেট চান বলেছেন, এই পরিসংখ্যান সব দেশের সরকারকে তার জনগণের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সজাগ হতে মনে করিয়ে দিচ্ছে এবং প্রয়োজনমতো জরুরি সেবা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণে সতর্ক করছে। মানসিক অসুস্থতা একটি সাধারণ রোগ। টানা বিষাদের মধ্যে থাকা,
স্বার্থহানি এবং প্রতিদিনের কাজকর্মে অক্ষম হওয়া থেকে মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয় মানুষ। কিছু মারাত্মক রোগ এবং মানসিক বৈকল্যের ঝুঁকি বাড়ায় হতাশা। মানুষ হতাশ হয়ে পড়লে তাদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা, নেশাগ্রস্ত হওয়া, ডায়াবেটিস ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এসব কারণে বিশ্বের বড় অংশের মানুষ মারা যায়। ডব্লিউএইচও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশ্বের অনেক দেশে হতাশাগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই অথবা থাকলেও তা খুবই অপ্রতুল। তা ছাড়া ধনী দেশগুলোতে হতাশায় ভোগা মানুষের মাত্র অর্ধেক চিকিৎসার আওতায় আসে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, মোটের ওপর বিশ্বে সরকারগুলো তাদের স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের মাত্র ৩ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যয় করে, যা দরিদ্র দেশগুলোতে ১ শতাংশেরও কম। আর উন্নত দেশগুলোতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ব্যয় করা হয়। পরিচালক স্যাক্সেনা বলেছেন, ‘হতাশা বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে এবং এর চিকিৎসার উপায় জানতে যা করতে হবে, তা হল- এখনই শুরু করুন।’ মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক আছে বুঝতে টেকসই আচরণকে বোঝায়। এর অর্থ সবার কাছে, এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়, এমন আচরণকে বোঝায়।

প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ সুচি

এক বছর আগে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) ক্ষমতার মসনদে বসিয়েছিল দেশটির জনগণ। সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন সুচি। সামরিক শাসন হটিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী সুচির হাতে ক্ষমতা যাওয়ায় মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের জাতিগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছিল। এজন্য হতাশ দেশটির সাধারণ জনগণ। হতাশ সুচি নিজও। এজন্য জনগণ চাইলে নেতার পদ থেকে সরে যাবেন বলে ঘোষণাও দিয়েছেন দেশটির নেতা অং সান সুচি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমতার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর বলেন, তার ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ যদি যথেষ্ট না হয়, তবে তিনি পদত্যাগ করবেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ এনে যে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে তাও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। খবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট, গার্ডিয়ান ও এএফপির। নোবেল পুরস্কারজয়ী এ নেতা বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলেছি, সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। জনগণ যদি মনে করে, আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা তাদের জন্য যথেষ্ট নয় এবং আমাদের চেয়ে ভালো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থাকে তবে পদত্যাগ করতে আমরা প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়া এত সহজ নয়, তবে আমাদের অনেক আকাঙ্খা আছে। শান্তির পথে আমরা কিছু দূর এগিয়ে যাই, আবার কিছুক্ষণের জন্য থামি অথবা একটু পিছিয়ে যাই। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবেই আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন এবং তা অর্জনে এগিয়ে যাব।’ রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তদন্তে দেশটিতে জাতিসংঘ যে মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সমালোচনাও করেছেন সুচি। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচআরসি) রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্তকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দেয়।
এর সমালোচনা করে সুচি বলেন, ‘শান্তি ও জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার গুরুত্ব দেই আমরা। দেশের প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা কাজ করব। দেশের কল্যাণে কোনটি মঙ্গলজনক, সেটি আমরাই ঠিক করব।’ তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় আমরা জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি না। এটা জাতিসংঘের প্রতি অসম্মান নয়।’ দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারে বৈষম্যের শিকার রোহিঙ্গারা। জাতিসংঘ এ সম্প্রদায়টিকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে। গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ‘অপারেশন ক্লিন’ নামের এ অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনী হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় শতাধিক নিহতের পরে এটাই সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে ক্ষমতায় আসে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। ধারণা করা হয়েছিল, তার দল ক্ষমতায় এলে রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু রাখাইন অঞ্চলে সেনা অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সেনাদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন তিনি। এতে সমালোচিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। জাতিসংঘ প্রকাশিত প্রতিবেদনকেও অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছে দেশটির সরকার।
সুচির জনপ্রিয়তার প্রথম পরীক্ষা : ক্ষমতার এক বছর পর জনপ্রিয়তার প্রথম পরীক্ষার মুখোমুখি সুচি। তার শাসনে শনিবার প্রথম স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সীমান্তে সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের ক্রমবর্ধমান লড়াইয়ের মাঝে দেশটির পার্লামেন্টের ১৯টি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনকে সুচির জন্য অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুচির নেতৃত্বের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও ইঙ্গিত মিলবে। দেশটির জাতীয় এবং আঞ্চলিক পার্লামেন্টের ১৯টি আসনে এমন একসময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আকাশচুম্বী প্রত্যাশার সঙ্গে খাপ খাওয়ার লড়াই করছেন সুচি। ১৯টি আসনের মধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ৩টি, নিন্মকক্ষের ৯টি এবং বাকি ৭টি আসন সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক এলাকায় জাতীয় এবং আঞ্চলিক পার্লামেন্টের জন্য। দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২০ লাখ মানুষ এ নির্বাচনের জন্য নিবন্ধিত। ফল আজ প্রকাশ করা হবে। এ নির্বাচনের ফল পার্লামেন্টে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ সুচির এনএলডির ক্ষমতার ভারসাম্যে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে এটি প্রশাসনের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি সুযোগ। মিয়ানমারে মতামত ভোটের কোনো সুযোগ নেই।

সাংবাদিকের প্রশ্নে ট্রাম্পের ‘ওয়াকআউট’

এক সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান থেকে ওয়াকআউট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার বাণিজ্যবিষয়ক দুটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরের আগে হোয়াইট হাউসে এ ঘটনা ঘটে। সিএনএন জানায়, হোয়াইট হাউসে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকালে সাংবাদিকরা সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের ব্যাপারে প্রশ্ন করেন ট্রাম্পকে।
ফ্লিন গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইনি ঝামেলা থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। সাংবাকিদের প্রশ্ন স্পষ্টত এড়িয়ে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর না করেই অনুষ্ঠান থেকে অন্য একটি কক্ষে চলে যান তিনি। তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স নির্বাহী আদেশের কাগজপত্র তুলে নিয়ে তার সঙ্গে যান। হোয়ইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প পরে বৈদেশিক বাণিজ্যের সমস্যবলী চিহ্নিত করার লক্ষ্যে গৃহীত দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।

কলম্বিয়ায় ভূমিধসে নিহত বেড়ে ২৫৪

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৪ জনে। দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিধসে ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। ৪০০ শতাধিক আহত ও অন্তত ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আক্রান্ত ১৭টি অঞ্চলের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতায় এক হাজার ১শ' সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃংখলা বাহিনী কাজ করছে। খবর রয়টার্স, বিবিসির। শুক্রবার রাতভর ভারী বৃষ্টির ফলে নদীর পানি পাড় উপচে মোকোয়া শহর প্লাবিত হয়ে যায়। শনিবার সকালে ধসে পড়ে বহু ঘর, মাটির নিচেও বাড়িঘর চাপা পড়ে। ধ্বংসস্তূপে শ্বশুরকে খুঁজে ফেরা ৪২ বছর বয়সী মারিও উসালে জানান, শুক্রবার রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড় হয়। এতে আমার শাশুড়িও নিখোঁজ হন। দুই কিলোমিটার দূরে তাকে মাথায় গুরুতর জখম অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার জ্ঞান রয়েছে। ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। ওই এলাকায় জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট জানান, আক্রান্ত এলাকা থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এ সময় আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
সান্তোস বলেন, 'আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। নিহত আরও বাড়ছে। আক্রান্তদের সাহায্যে সম্ভব সব কিছু করা হবে।' উদ্ধারকাজে নিয়োজিত একজন সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোকোয়া শহরের মূল হাসপাতালে আহত মানুষদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা। শহরটির গভর্নর সরেল আরোকা কলম্বিয়ার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশপাশের সব এলাকা মাটিতে চাপা পড়ে গেছে। এদিকে, উদ্ধার কর্মীরা জানাচ্ছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে এবং রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। কলম্বিয়ার এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ধনী

বড় বড় অনেক ধনী লোক রয়েছেন দুনিয়াজুড়ে। কারও কারও সম্পত্তির কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। যেমন বিল গেটস, মুকেশ অম্বানি কিংবা সৌদি আরবের শেখরা। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড়লোক অর্থাৎ ধনী ব্যক্তি কে ছিলেন তা খুঁজে বের করতে সম্প্রতি সমীক্ষা চালিয়েছিল সেলিব্রেটি নেট ওরথ নামের এক সংস্থা। হিসাবটা এভাবে করা হয়েছে, ১৯১৩ সালে যদি সম্পত্তির পরিমাণ থাকে ১০০ মিলিয়ন ডলার, ২০১৩-এর হিসাবে সেটা হবে ২২৯৯.৬৩ বিলিয়ন ডলার। এমন হিসাবে দেখা গেছে ২৫ জন সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির মধ্যে ১৪ জনই আমেরিকান। আর এদের মধ্যে কেবল বিল গেটসই জীবিত। তিনিই সবচেয়ে ধনী আমেরিকান। তবে গোটা বিশ্বের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে তার নাম অনেকেই শোনেননি। তিনি হলেন মানসা মুসা। পশ্চিম আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন তিনি। মালি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কেইতার ভাগ্নে ছিলেন সম্রাট মানসা মুসা। ১৩০৭ সালে তিনি সিংহাসনে বসেন। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। তার সম্পদ এত বেশি ছিল যে তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আনুমানিক ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি ছিল তার। প্রচলিত আছে, ১৩২৪ সালে তিনি যখন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান তখন তার হজবহরের ৬০ হাজার লোক ছিল শুধু রসদপূর্ণ ব্যাগ বহনের জন্য। সঙ্গে ছিল ৫০০ গোলাম, যারা প্রত্যেকে একটি করে সোনার দণ্ড নিয়ে গিয়েছিল। ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি সোনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
তার এই যাত্রাপথে তিনি প্রায় কয়েকশ’কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেছিলেন। কায়রোতে তিনি এত বেশি সোনা বিতরণ করেছিলেন যে, বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে সোনার দাম অনেক কম ছিল। মুসার সফরে তার প্রথম স্ত্রী সঙ্গী হন। মুসার স্ত্রীর সেবায় ৫০০ দাসী নিযুক্ত ছিল। এই কাফেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সঙ্গীতশিল্পীও ছিলেন। মুসা অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। কথিত আছে, প্রতি জুমাবারে মুসা একটি মসজিদ তৈরি করতেন। হজের পর মক্কার জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভিভূত হয়ে পড়েন তিনি। মক্কা থেকে উট বোঝাই করে চিকিৎসা, জোতির্বিদ্যা, দর্শন, ভূগোল, ইতিহাস, গণিতশাস্ত্র এবং আইনের ওপর প্রচুর বই তার দেশে নিয়ে যান। মক্কা থেকে মেধাবী এবং সেরা গণিতবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আর্কিটেক্টদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে যান। বলা হয়ে থাকে মুসা এই ঐতিহাসিক হজে ১ কোটি ৫০ হাজার পাউন্ড সোনা ব্যয় করেছিলেন। তিনি মালি সাম্রাজ্যের প্রায় ৪০০টি শহরকে আধুনিক করে গড়ে তোলেন। তার তৈরি স্থাপত্যের মধ্যে শংকর মাদ্রাসা বা ইউনিভার্সিটি অব শংকর, হল অডিয়েন্স, গ্র্যান্ড প্যালেস উল্লেখযোগ্য। মুসার মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে জানা যায় না। শোনা যায়, তিনি ২৫ বছর রাজত্ব করেছিলেন।

আইএসের অভিনব আবিষ্কার ‘ল্যাপটপ বোমা’

ইসলামিক স্টেট ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইলেকট্রুনিক ডিভাইসে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখার অভিনব পদ্ধতি বের করেছে। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে তা শনাক্ত করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ দাবি করেছেন। মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআই’র বরাত দিয়ে সিএনএন এ খবর দিয়েছে। খবরে আরও বলা হয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে তৈরি ল্যাপটপ বোমা বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত যন্ত্রপাতিকে ফাঁকি দিয়ে পাচারের বিষয়ে পরীক্ষা করছে সন্ত্রাসীরা। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে বোমাসহ সন্ত্রাসীদের বিমানে ওঠার সুযোগ বেড়েছে বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়।
দৃশ্যত এ কারণেই মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার আট দেশের ১০ বিমানবন্দর থেকে ল্যাপটপসহ বড় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বিমানে ওঠার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কয়েক মাস ধরে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে খবরে দাবি করা হয়। গত মাসের গোড়ার দিকে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে ল্যাপটপসহ বড় ইলেকট্রুনিক ডিভাইস নিয়ে উড়োজাহাজের কেবিনে ওঠার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবত করা হয়।

কলম্বিয়ায় ভূমিধসে নিহত ১১২

ভূমিধসে কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রদেশ পুতুমায়োতে কমপক্ষে ১১২ জন মারা গেছে। শনিবার রাতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণের কারণে এ ভুমিধসের সৃষ্ট হয়। দুর্গত অঞ্চল ঘুরে দেশটির প্রেসিডেন্ট জন ম্যানুয়েল স্যান্টোস হতাহতের এখবর জানান। এঘটনায় কয়েকশ আহত হওয়া ছাড়াও নিখোঁজ রয়েছে অসংখ্য মানুষ।
এক সেনা কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় হাসপাতলগুলো পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। সান্তোস জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর সোরেল আরোকা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পুরো এলাকাটা সমাধিতে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ বিদ্যালয়ে ভর্তি না করার মন-মানসিকতা ত্যাগ করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘দশম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৭’ উপলক্ষে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধীতার কারণে কোনো শিশুকে শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রাখা যাবে না। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সকল শিশু সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করবে। ফলে এ ধরনের সকল শিশুরা নিজ পরিবার থেকে বাড়ির নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে সাধারণ শিশুরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে মিশে মানুষের ভিন্নতা সম্পর্কে জানবে এবং ভিন্নতাকে মেনে নেয়ার শিক্ষা পাবে। শিক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১০ সালে একটি বাস্তবমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘প্রতিবন্ধীতার কারণে কোনো শিশুকে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা যাবে না’। এতে করে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই সহনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা লাভ করবে। এতে গোটা সমাজ ব্যবস্থাই উপকৃত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অটিজম বৈশিষ্ট্য-সম্পন্ন ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে কম্পিউটার, ইন্টারনেটেও অন্য সবার মতোই সমান পারদর্শিতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম। তিনি প্রতিবন্ধীবান্ধব সফটওয়্যার, অডিও-ভিডিও শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি অনুরোধ জানান। অটিজমসহ সকল ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং পরিবারে ও সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের প্রতি এসকল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের একাগ্রতা থাকে অনেক বেশি এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতিও অন্যদের তুলনায় সন্তোষজনক। তিনি বলেন, অটিজম একটি স্বাভাবিক অবস্থা এটি শিশুর শৈশব থেকেই দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে তাদের উপযোগী কর্মক্ষেত্র চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ছাড়াও বিসিএসসহ সকল শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে অটিজমসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অটিজমসহ সকল ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে অটিজম সম্পর্কে মানুষের তেমন কোনো ধারণা ছিল না। আমার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ-এর নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অটিজমের গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে এখন বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন। তার উদ্যোগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থ-সামাজিক সহায়তা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রস্তাব গৃহীত হয়। তিনি বলেন, আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর সায়মা ওয়াজেদ-এর পরামর্শে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের কল্যাণে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে বাস্তবায়ন শুরু করি। তার সরকার অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ পাশ করেছে এবং এই আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের ভবিষ্যত জীবনের কথা বিবেচনায় নিয়ে এই আইনের আওতায় একটি নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট গঠন করেছি। ট্রাস্টের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে আমরা ৪১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি এবং আমি চাই সমাজের বিত্তবানরা এখানে সহায়তা করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘ডিজ্যাবিলিটি ইনফরমেশন সিস্টেম’ সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এতে দেশব্যাপী ‘প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৫ লাখ ১০ হাজার ৮শ’ প্রতিবন্ধীর ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালার আওতায় ৬২টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৮ হাজার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে। ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম এন্ড নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজএ্যাবিলিটিস’ স্থাপনের কাজ চলছে। এখানে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সকল শিশুদের একীভূত শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসকল শিশুদের বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের সুবিধার্থে ক্রমান্বয়ে সকল বিদ্যালয়ে র‌্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে।
অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, মূক ও বধির শিশুদের সুষ্ঠুভাবে পাঠদানের লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে’ বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লার রহমান স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের উর্ধ্বতন কমৃকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অটিজম আক্রান্ত শিশু-কিশোর, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে অটিজম অতিক্রমে সফল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নীলবাতি প্রজ্জ্বলন করেন। অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্ব শেষে অটিজম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২ এপ্রিল দিবসটি বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘স্বকীয়তা ও আত্মপ্রত্যয়ের পথে।’

স্মার্টফোন সঙ্গে প্রশ্ন আনতে গিয়ে শ্রীঘরে ৩ শিক্ষক

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সঙ্গে স্মার্টফোন রেখে ঢাকা ট্রেজারি থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহের সময় রাজধানীর দুটি কলেজের তিন শিক্ষককে পুলিশে দেয়া হয়েছে। রোববার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর দিনে ঢাকা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। আটক তিন শিক্ষক হলেন- রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের আবদুর রশিদ, মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নাঈমা নাসরিন ও মাহবুবুর রহমান। জানা যায়, কেন্দ্র সচিবের প্রতিনিধি হিসেবে ওই তিন শিক্ষক ঢাকা ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে স্মার্টফোন ছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে এবার আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের সময় প্রতিনিধিদের স্মার্টফোন না রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'এই তিন শিক্ষকের কাছে স্মার্টফোন থাকার কথা নয়। তাই প্রথমে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে প্রশ্নপত্র দেয়া হয়। পরে তাদের পুলিশে দেয়া হয়।' এ সময় তিনি অবৈধ পন্থা অবলম্বনকারী শিক্ষকদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা যদি পরীক্ষার উত্তরপত্রে অন্যায্য নম্বর দেয়ার কথা বলেন বা নির্দেশনা দেন, তবে তারা বেআইনি কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।' এদিকে আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। এরপর হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এবার মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষা দিচ্ছেন।

স্থানীয়ভাবে প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে আগামী বছর থেকে এসএসসি পরীক্ষায় স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্নপত্র ছাপানো ও বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রোববার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর দিনে ঢাকা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা এড়াতে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরির সুপারিশ করেছেন। সেই সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে সরকার স্থানীয়ভাবে প্রশ্নপত্র ছাপানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছর থেকেই এই ব্যবস্থা চালু করব।’
প্রশ্নফাঁস এড়াতে তিনি শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতা এবং সহযোগিতার আহ্বান জানান। এ সময় সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। এরপর হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এবার মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষা দিচ্ছে।

ব্লগার রাজীব হত্যায় রানা-দীপের মৃত্যুদণ্ড বহাল

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় নিন্ম আদালতে দু'জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য আসামিদের দেয়া বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে বাড়ির কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ে দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানীসহ অন্য ছয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। হত্যার ঘটনা তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। ওই বছরের ১৮ মার্চ চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে তাদের বিচার শুরু করেন আদালত। ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ এ মামলার রায়ে দু'জনকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্যদের কারাদণ্ডাদেশ দেন। রায়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পলাতক রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপের ফাঁসির আদেশ হয়।
ওই দু’জনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশও দেন আদালত। এছাড়া মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি পাঁচজনের মধ্যে এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক। আর সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে তিন বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের পর মামলার নথিপত্র গত ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে আসে। পরে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটি হাইকোর্টে শুরু হয়, যার চূড়ান্ত রায় হল আজ।

ঘুষের হাট নবাবগঞ্জ ভূমি অফিস

রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলা অফিসে ঢুকতেই চোখে পড়বে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার নানান উদ্যোগ। দালাল থেকে দূরে থাকুন, নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি ফি সাড়ে ১১শ’ টাকার বেশি কাউকে দিবেন না। রসিদ বুঝে টাকা জমা দিন ইত্যাদি। কিন্তু ভূমি অফিসটির ভেতরের চিত্র একেবারেই উল্টো। বাস্তবতা হল এখানে প্রতিদিন রীতিমতো ঘুষের হাট বসে। প্রকাশ্যে চলে ঘুষ লেনদেন। দালাল ছাড়া রেকর্ড সংশোধনের কোনো ফাইল জমা হয় না। খোদ এসি ল্যান্ড (সহকারী কমিশনার, ভূমি) শাহানাজ মিথুন মুন্নীর নেতৃত্বে চলে ঘুষ লেনদেন। তবে তিনি সরাসরি কোনো ঘুষ নেন না। তার পক্ষে ঘুষ আদায়ে নিয়োজিত আছেন কানুনগো, নাজির, সার্ভেয়ার, তহশিলদারসহ একদল দালাল। এখানে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলের মুক্তি মেলে না। নামজারি ফাইলে ঘুষের রেট বেশি। এসি ল্যান্ডের জন্য মোটা অংকের ভাগ রেখে দিয়ে অন্যরা ফাইলের ম্যারিট ও মক্কেল বুঝে টাকা হাতিয়ে নেন। দালালরা ধারণা দিয়েছেন, কোনো কোনো মাসে কোটি টাকার ওপরে ঘুষ লেনদেন হয়। শুধু ভূমি অফিসের দালালি করে এখানে অনেকে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। অথচ ওপরে সবাই নিজেকে সৎ ও সাহসী অফিসার বলে দাবি করেন। কিন্তু সন্ধ্যা হলে ঠিকই ঘুষের খাতা কল করে কড়ায়-গণ্ডায় নিজের পাওনা বুঝে নেয়া হয়। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঘুষ লেনদেনের ভয়াবহ সব চিত্র। নমুনা হিসেবে কয়েকটি ঘটনার অডিও-ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপজেলা হওয়ায় দোহার-নবাবগঞ্জের জমি অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক মূল্যবান। প্রায় প্রতিটি বাড়ির কেউ না কেউ বিদেশে থাকেন। আছেন অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি। এই সুযোগে জমির প্রকৃত মালিকদের জিম্মি করে নামজারিসহ নানা খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা ঘুষ আদায় করেন এখানকার হর্তাকর্তারা। এ সুবাদে এখানে গড়ে উঠেছে দালালদের একটি শক্ত গ্রুপ। যারা ভূমি অফিসের কর্মচারীদের মতো ফাইলপত্রের কাজ করেন। অথচ তারা ভূমি অফিসের কেউ নন। মূলত এদের মাধ্যমে ঘুষের দরকষাকষি হয়। আবার কোনো কর্মকর্তা নিজেই প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনে অভ্যস্ত। সেবাপ্রার্থী সেজে যে কেউ গেলে এমন দৃশ্য অহরহ চোখে পড়বে।
দালাল দিয়েই শুরু : নিয়মানুযায়ী জমির প্রকৃত মালিক নামজারির রেকর্ডপত্র সংশোধন কিংবা মিসকেসের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে সরাসরি আবেদন করেন। ভূমি অফিসের বাইরে বড় একটি সাইনবোর্ডে এ বিষয়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি টানানো আছে। ওই সাইনবোর্ডে ‘মিউটেশন (নামজারি), জমাভাগ ও জমা একত্রীকরণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী’তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেয়া আছে। নামজারিতে সরকারি খরচের একটি হিসাবও আছে দৃশ্যমান। যেখানে আবেদনে ২০ টাকার কোর্ট ফি, নোটিশ জারির ফি ৫০, রেকর্ড সংশোধন ও পর্চা ফি ১ হাজার এবং প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০ টাকা। সর্বমোট ১ হাজার ১৭০ টাকা। এছাড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মালিকানা বিষয়ে কোনো বিতর্ক না থাকলে ৪৫ দিনের মধ্যে মিউটেশন কেস নিষ্পত্তি হবে। এ সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না হলে এবং উল্লিখিত খরচের অতিরিক্ত ফি কেউ দাবি করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অথবা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়। কিন্তু নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া কোনো আবেদন করা যায় না। আবার সরাসরি কোনো উপকারভোগী নথিপত্র জমা দিলেও রহস্যজনকভাবে তা হারিয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়েই জমির প্রকৃত মালিক দালালদের সহায়তা নেন। এসব দালালের আবার রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। দালালদের মাধ্যমে রেকর্ডপত্র জমা হলে এর একটি হিসাব রাখা হয়। নামজারিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পর কোন দালালের মাধ্যমে ফাইলটি জমা হলো, সেই হিসাব অনুযায়ী ঘুষের টাকা আদায় করা হয়। দিনশেষে এ টাকা ভাগাভাগি করা হয়। এজন্য একটি খাতাও মেইনটেন করা হয়। তাই ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান রনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ভূমি অফিসে সবই অনিয়ম-দুর্নীতি। কোনো কিছুই টাকা ছাড়া হয় না। মানুষ তার প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে সুপারিশ করাতে আমার কাছে অনেকে আসেন। গরিব মানুষ যারা টাকা দিতে পারেন না, তাদের পক্ষে আমাকে কথা বলতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘নতুন এসিল্যান্ড যোগদান করার পর মনে করেছিলাম ঘুষের রেট হয়তো কমবে। কিন্তু কমেনি। আমি এমনও দেখেছি, যিনি টাকা-পয়সা দেন না, তার মিসকেসের রায়ও হয় না।’ এক প্রশ্নের জবাবে নবনির্বাচিত এ জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘একটি খারিজ ফাইলে শতভাগ নথিপত্র ঠিক থাকলেও এসিল্যান্ড, তহশিলদার, সার্ভেয়ার, কানুনগো এবং পিয়নকে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়া রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।’ এ সময় ভুক্তভোগী একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, ‘আরে ভাই না, না। বর্তমান এস্যিল্যান্ড ফাইলপ্রতি ঘুষের রেট আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘ভূমি অফিসে সরাসরি কোনো খারিজ ফাইল জমা নেয়া হয় না। জমা দেয়া হলেও তা হারিয়ে যায়। এ কারণে বাধ্য হয়েই মানুষ দালালের শরণাপন্ন হন।’ তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে জেলে পাঠানোর ভয় দেখান এসিল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নী। দালালদের মাধ্যমে যেসব নথি জমা হয় সেসব নথির পেছনের পৃষ্ঠায় বিশেষ সংকেত দেয়া হয়। যেগুলো দ্রুত গতিতে নিষ্পত্তি হয়। প্রতিদিন ফাইল হিসাব করেই ঘুষের টাকা নেয়া হয়। এরপরই একসঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়।’ নথির পেছনের পৃষ্ঠায় বিশেষ সংকেতের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, নামজারির জন্য জমা হওয়া শত শত নথির শেষ পৃষ্ঠায় দালালদের স্বাক্ষর করা রয়েছে। কোনো কোনো নথিতে দালালদের মোবাইল নম্বরও দেয়া আছে।
ঘুষের সাক্ষী : অভিযোগ অনুসন্ধানে সরেজমিন দেখা যায়, ভূমি অফিসটির ঘুষ বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট। কানুনগো আবুল কালাম আজাদ, সার্ভেয়ার মস্তফা জামান আব্বাছি, জাকারিয়া আহমেদ, সহকারী নাজির গৌর গোপাল সাহাসহ অফিসের পিয়নকেও নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিতে হয়। ২১ মার্চ ছিল মিসকেস শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ। ওই দিন নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসে গিয়েই দেখা যায়, সার্ভেয়ার জাকারিয়া আহমেদ স্থানীয় এক সেবাপ্রত্যাশীর কাছ থেকে নামজারির জন্য প্রকাশ্যে ঘুষ নিচ্ছেন। আবার পাশের রুমে নিজের টেবিলে বসা নাজির গৌর গোপাল সাহাকেও ঘুষ দিচ্ছেন কইলাইল গ্রামের দালাল আইয়ুব আলী। ২৭ মার্চ প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের এমন চিত্র প্রতিদিনের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাবশালী দালাল উপজেলার মাদবপুর খন্দকার হাটির শাহজাহান কোনোরকম রাখডাক না রেখেই যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি প্রতি ফাইলে বেশি টাকা দেই। পরিমাণ ১০-১২ হাজার। এর কম আমি দেই না। কারণ আমার কাজটা ঝটপট। আমি ১০ দিন দেরি করবার পারুম না। তাদের কাছে আমার কথাই থাকে; আমার কাছ থেকে টাকা নিবেন, কিন্তু ২২ দিন অপেক্ষা করবার পারুম না। আবার ২২ দিনের কথা কইয়া যদি তিন মাসও ঘুরায় তাহলে আমি বইলাই দেই, আমার টাকাটা ১০ দিনেই ফেরত দিবেন।’ তিনি বলেন, ‘এ চায়, ও চায়, আমি কিয়ারে ঘুরবার যামু মানুষের কাছে। আমারে এসিল্যান্ড কয়, আপনে নিজে করবার পারেন না?’ আমার একটা মান-সম্মান নাই? আমি একটা সেকেন্ড ক্লাস অফিসার ছিলাম।’ আপনি এত টাকা দেন কেন জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন, ‘দেই ওগো একটা হক আছে না(!) আমি ২৫ হাজার টাকা দিয়াও খারিজ করাইছি। ওরা (কর্মকর্তারা) কয় আমাগো কিছু থাকে না, তো আমি কী করমু? সাংবাদিকরা এইটা দেখে না?’ জমি খারিজ করতে যে টাকা লাগে তা প্রমাণ করতে শাহজাহান প্রতিবেদকের সামনে ডেকে আনেন আরেক দালাল কিরণজি গ্রামের নুরুল হককে। তিনি একটি খারিজের বিষয়ে বলেন, ‘১০ হাজার টাকা তো লাগবেই।’ এরপর শাহজাহান বলেন, ‘এ অফিসে পাঁচজন পিয়ন। আর এই ৫ জন পিয়নের কর্মচারী আরও ৭ জন। এদের প্রত্যেকের নামে টাকা আদায় করা হয়। এসি ল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নীর ওমেদার (বেসরকারি) আক্কাছ বলেন, ‘নতুন এসি ল্যান্ড এসে ঘুষের রেট বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ রেট কত জানতে চাইলে আক্কাছ বলেন, ‘ম্যাডামকেই দিতে হয়.... টাকা’। এ ছাড়া তহশিলদার এক হাজার টাকার নিচে ফাইল ছাড়তে চান না। কানুনগো, সার্ভেয়ারের টাকা আলাদা।’ এসি ল্যান্ডকে টাকা না দিলে হয় না এমন প্রশ্নের জবাবে আক্কাস বলেন, ‘তিনি তো এই টাকা একা পান না। অফিসে একটা খরচা আছে না! ওপরেও দিতে হয়।’ এ প্রসঙ্গে দালাল নুরুল হক বলেন, ‘পুলিশের কাছে যত আইনের ধারা, ভূমি অফিসেও আইনের তত ব্যাখ্যা। এসি ল্যান্ড ফাইল আটকায়া দিলে কী করবেন?’ এসি ল্যান্ড টাকা সরাসরি নেন কিনা জানতে চাইলে পাশ থেকে জালাল নামে আরেক দালাল বলেন, ‘যে কর্মকর্তার মাধ্যমে ফাইল জমা হয় সেই কর্মকর্তাই ঘুষের টাকা আদায় করেন। আর টাকা নেয়ার কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে আছেন সার্ভেয়ার আব্বাছি, জাকারিয়া ও সহকারী নাজির গৌর গোপাল সাহা। তাদের মাধ্যমেই ঘুষের টাকা আদায় করা হয়।
ওদের অনেক টাকা : সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ মিথুন মুন্নীর বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসের দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন কর্মকর্তা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এসি ল্যান্ড ম্যাডাম কাজ বোঝেন না। বুঝতেও চান না। এমন কর্মকর্তা দীর্ঘ চাকরিজীবনে পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘ভূমি অফিসে দু-একটা টাকা সবাই নেন। কেউ কম নেন, আবার কেউ বেশি। কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে দালাল সিন্ডিকেট করে মানুষের পকেট থেকে টাকা নেয়ার রেওয়াজ আমি দেখিনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সার্ভেয়ার মস্তফা জামান আব্বাসী টানা চার বছর এখানে কাজ করেছেন। দুই মাস না যেতেই আবার এখানেই পোস্টিং নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর স্ট্রিম রোলার চালাতে শুরু করেছেন। একইভাবে সার্ভেয়ার জাকারিয়ার বিরুদ্ধেও মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। এদের মাধ্যমেই ম্যাডাম সব করাচ্ছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা তাদের সম্পদের হিসাব নিলেই সব বের হয়ে যাবে। দুদক এদের চোখে দেখে না?’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওদের অনেক টাকা। এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও ম্যাডাম তাদেরকে দিয়েই জমির সরেজমিন তদন্ত করান। এমনকি বাদী ও বিবাদী দু’পক্ষেরই তদন্ত একজনকে দিয়ে করানোর নজির রয়েছে।’ আপনার বিরুদ্ধেও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ আছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওদের মতো আমি টাকা নিই না। খুশি হয়ে যদি কেউ দেয় সেটা নিই।’
পিয়নদের ৭ পিয়ন : নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসে সরকারিভাবে ৫ জন এমএলএসএস কর্মরত আছেন। তারপরও এখানে অতিরিক্ত আরও ৭ জন পিয়ন হিসেবে কাজ করেন। সরকারিভাবে কর্মরতরা হলেন : কাশেম, জাহাঙ্গীর, জিকু, সুফিয়ান ও সালাম। অন্যদিকে স্বেচ্ছায় কর্মরতদের মধ্যে আছেন মামুন, রবিন, মহিউদ্দিন, ইউসুফ, কাওছার, সোহেল, আরিফ ও আক্কাস। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যে টাকা ঘুষ নেন তাদের মধ্য থেকে হাতে গোনা কিছু টাকা এদের দেয়া হয়। আর ফাইল তল্লাশি বা অন্য কোনো সহযোগিতা করে নথি জমাকারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন। এসব পিয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এই ভূমি অফিসে। এদের মধ্যে আক্কাছ এসি ল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নীর বাসায় কাজ করেন। তিনি যখন অফিস করেন তখন আক্কাছও অফিসে ডিউটি করেন। আর অন্য সবাইকে পিয়নের পিয়ন হিসেবেই সবাই জানেন।
এসি ল্যান্ডের বক্তব্য : উল্লিখিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসি ল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার অফিসের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আমার জানা নেই। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। যদি কেউ এসব কাজ করে থাকে তা আমার অজ্ঞাতসারে। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ঘুষ নেয়ার বিষয়ে কানুনগো আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, ‘খুশি হয়ে কেউ দিলে আমি নিয়ে থাকি। তবে ফাইল আটকিয়ে কোনো টাকা-পয়সা নিই না।’ সার্ভেয়ার মস্তফা জামান আব্বাছি বলেন, কারও কাছে চেয়ে ঘুষ নেয়া হয় না। সারা দিন জমি ডিমারকেশন করলে উপকার পেয়ে মানুষ কিছু দিতে পারে।’ বারবার ঘুরেফিরে কেন আপনি নবাবগঞ্জেই পোস্টিং নেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাকে বারবার দেয়। এ পর্যন্ত দু’বার আমাকে এখানে বদলি করেছে।’ সহকারী নাজির গৌর গোপাল সাহা বলেন, ‘মানুষ এভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে চাকরি ছেড়ে দেব। আসলে আমি সহকারী নামজারিকারক। জোর করে আমাকে সহকারী নাজিরের দায়িত্ব দেয়া হয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মচারীদের বেতন দিতে গেলে তো টাকা লেনদেন হবেই।’ ভিডিও ক্লিপ দেখতে ওপরের কিউআর কোডটি স্ক্যান করুন।

মান্নান খান দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ আজ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আজ চার্জ (অভিযোগ) গঠন সংক্রান্ত আদেশ দেবেন আদালত। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠনসংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন না করায় চার্জ গঠন সম্ভব হয়নি। ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম যুগান্তরকে বলেন, মান্নান খান দম্পতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চার্জ গঠনসংক্রান্ত আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তাকে বেশকিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল করতে বলেছিলেন আদালত। সেসব নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আজ দুদকের ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত থাকবেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। অপরদিকে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে কমিশন। এরপর শুরু হয় মামলার তদন্ত। আর এ তদন্ত শেষ করতে দুদক প্রায় এক বছর সময় নেয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাতে দেখা যায়, তার আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার। অপরদিকে তদন্ত শেষে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ডব্লিউএইচওর ‘অটিজম আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন’ সায়মা ওয়াজেদ

বিশেষ চাহিদার শিশুদের চিকিৎসা ও সচেতনতায় অবদান রাখায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘অটিজমবিষয়ক চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিল্লি কার্যালয় অটিজমবিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি পুতুলকে এ সম্মানে ভূষিত করে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য পুতুলের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সচেতনতা বাড়ানো, দুর্ভোগের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান এবং তাদের বাবা-মা ও যত্মকারীদের নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কারণেই তাকে এ সম্মাননা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। অটিজম সচেতনতায় বিশ্বে ‘রোল মডেল’ এখন বাংলাদেশ। এদিকে অটিজম সচেতনতায় বিশ্বে ‘বাংলাদেশ রোল মডেল’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ উপলক্ষে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার গত ৮ বছর ধরে অটিজম ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যা বাংলাদেশকে অটিজম সচেতনতার ক্ষেত্রে বিশ্বের বুকে রোল মডেলে পরিণত করেছে।
বাংলাদেশ এ অঞ্চলের গুটিকয় দেশের মধ্যে অন্যতম, যে দেশ শুধু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনই নয়, এ সংক্রান্ত অপশনাল প্রটোকলও অনুস্বাক্ষর করেছে। তাছাড়া জাতীয় সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২১) বাংলাদেশ সরকার অটিজম, নিউরো ডেভলপমেন্ট ডিজঅর্ডার ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক ইস্যুগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য, বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা হোসেনের অটিজম সংক্রান্ত অবদানের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মোমেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে নিরলসভাবে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখার জন্য তিনি পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে কাতার মিশন ও  অটিজম স্পিকস গ্লোবালি। অনুষ্ঠানের স্পন্সর করে চীন, ভারত ও তুরস্কের স্থায়ী মিশন। বৈঠকে জাতিসংঘের কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক ইনফরমেশন বিভাগের সহকারী মহাসচিব মাহের নাসের জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্য পড়ে শোনান। এছাড়া কাতার, ভারত, বুলগেরিয়া, চীন ও তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি ও অটিজম স্পিকস গ্লোবালির সভাপতি উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

ব্যয় বাড়ছে ৬০৬ শতাংশ

গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পরে নানা কারণ দেখিয়ে ৬১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মেয়াদ ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত সংশোধন করা হয়। এখন আবার ২য় বারের মতো ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। এর ফলে মূল ব্যয়ের তুলনায় খরচ বাড়ছে ৬০৬ শতাংশ। শুধু তাই নয়, প্রকল্পটি ৪ বছরে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এখন সময় লাগছে ১০ বছর। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর কারণ হিসেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বলছে, প্রকল্পটিতে নতুনভাবে প্রায় ১৯টি অঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে। এতে হাতিরঝিলের চেয়ে প্রকল্পটি দৃষ্টিনন্দন করা হবে। এ সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রস্তাব পাওয়ার পর ১৫ মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ মার্চ প্রকাশিত ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে শুধু সরকারি তহবিলের টাকার পরিমাণ না বাড়িয়ে রাজউকের তহবিল থেকে ব্যয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) আবদুর রহমান শনিবার যুগান্তরকে জানান, মূল প্রকল্পে মোট ব্যয়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণই ছিল প্রধান কাজ। কিন্তু সেক্ষেত্রে জটিলতা থাকায় খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।
এখন সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুনভাবে এবং নতুন নতুন কার্যক্রম যুক্ত করায় প্রকল্পটির ব্যয় অনেক বেশি বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, জুনের মধ্যে অনুমোদন করাতে পারলে ২০২০ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তার দাবি-এটি হাতিরঝিলের চেয়েও দৃষ্টিনন্দন করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন ও নগরবাসীর বিনোদন সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। ২০১০ সালের ৬ জুলাই ৪১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পরে নানা কারণ দেখিয়ে ব্যয় ৬১১ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এবং মেয়াদ ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রথম সংশোধন করা হয় ২০১৫ সালে। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত নকশার ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত ব্যয় প্রাক্কলন, জমি অধিগ্রহণের পরিমান বৃদ্ধি, মাটি ভরাট, পানির গুণগতমান রক্ষায় নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তি, নতুন ব্রিজ, ওভারপাস, তীর রক্ষা কাজ, কড়াইল বস্তিবাসীদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। অগ্রগতি কম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পিইসি সভায় অংশ নেয়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফজাল হোসেন যুগান্তরকে জানান, প্রকল্পটির দায়িত্বে না থাকলেও ওই দিন আমাকে বৈঠকে পাঠানো হয়েছিল। তাই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। বৈঠকে অংশ নেয়া বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালক কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণ সমস্যায় এত দিন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হয়নি বললেই চলে। প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও শতাংশের দিক থেকে অগ্রগতি বলার মতো কিছু হয়নি। সূত্র জানায়, এ প্রকল্পে প্রস্তাবিত ১৯টি নতুন অঙ্গ সংযোজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- প্রশিক্ষণ, লেকের পানি ক্লিনিং, প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, মেইনটেন্যান্স ও রেনোভেশন,
স্লাজ রিমুভাল, প্রটেকটিভ ওয়ার্ক, রিটেইনিং ওয়াল, ৮টি ব্রিজ, ৪টি ওভারপাস, আরসিসি পাইপ স্থাপন, সোলার একুয়াটিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, বিনোদন, পাবলিক ফ্যাসিলিটিজ ইত্যাদি। কিন্তু সমীক্ষা ছাড়াই এসব কাজের প্রস্তাব করা ঠিক হয়নি বলে মত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়া বিদ্যমান স্টাবল অ্যাপ্রোচ রোড কেটে বা খনন করে ১০০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজ নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন অঙ্গগুলোর বিষয়ে বুয়েটের মাধ্যমে একটি স্টাডি প্রতিবেদন ও বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়ন করে তার আলোকে ব্যয় প্রাক্কলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পিইসি সভায় রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বে এটি লেক ছিল না, আবাদি জমি ছিল। কিন্তু পার্শ^বর্তী এলাকা উন্নয়নের জন্য এখান থেকে মাটি খননের ফলে লেক তৈরি হয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় লেক সংলগ্ন এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি উন্নয়ন হয়েছে, আবাসন গড়ে উঠেছে এবং লেকের আকার কমে গেছে। পরে উচ্চ আদালত থেকে বিদ্যমান এলাকাটিকে লেক হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এটি সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়। পরিবেশ অধিদফতর থেকে লেকটিকে ক্রিটিক্যাল এলাকা ঘোষণা করে এটির মানোন্নয়নেরও নির্দেশ দেয়া হয়। এসব নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে লেকটি সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল।

রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার রাতে চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ খবর জানান। দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপির পক্ষ থেকে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করা হতে পারে। সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকে দেশের চলমান রাজনীতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সইসহ নানা ইস্যুতে আলোচনা ও দলের করণীয় ঠিক করা হতে পারে এ বৈঠকে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর কমিটিকে উত্তর ও দক্ষিণ দু’ভাগ এবং দ্রুত কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ বৈঠকে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি হলে আন্দোলন : খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে দেশবিরোধী কোনো চুক্তি করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে রাজপথের আন্দোলনে যেতে হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের (একাংশ) নেতারা দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি যাই কিছু করুন না কেন, দেশবিরোধী কোনো চুক্তি করলে মেনে নেওয়া হবে না। আশা করি এমন কিছু তিনি করবেন না। জনগণকে পাশ কাটিয়ে কিছু করা হলে অবশ্যই আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। প্রয়োজনে রাজপথের আন্দোলনে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি ভালো নেই। কারো কোনো নিরাপত্তা নেই। গুম-খুন অব্যাহত রয়েছে। ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুর মতো তরুণকে আজ পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এ দায় এড়াতে পারে না।’
বেগম জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে, সুষ্ঠু ভোট হলে তাদের ভরাডুবি হবে। তাই তারা কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু করছে না।’ টালবাহানা না করে অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান বিএনপি প্রধান। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনেও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পারেনি। যদি সুষ্ঠু ভোট হতো তাহলে আরো অন্তত ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের বিজয় হতো। সাক্ষাৎকালে ৩০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএফইউজে সভাপতি শওকত মাহমুদ। এ সময় চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, বিএফইউজে সাধারণ সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, এম এ আজিজ, ইলিয়াস খান, মোদাব্বের হোসেন, বাকের হোসেন, শফিউল আলম দোলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুরে  সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সংবাদ মাধ্যমের জন্যে নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা ও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ ১১ দফা জানানো হয়।

আগুন আতংকে হুড়োহুড়ি, আহত ৫০

আগুন আতংকে গাজীপুরের শ্রীপুরে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। রোববার দুপুর ১টার দিকে শ্রীপুর পৌর শহরের গিলারচালা এলাকার ভিনটেজ ডেনিম লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এদের মধ্যে অঞ্জনা (৪০) ও অন্তঃস্বত্তা রোমানাকে (৪০) ঢাকা এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩৫ জনকে মাওনা চৌরাস্তা একে মেমোরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেডে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ভর্তি করা হয়েছে ১৫ জনকে। কারখানাটির শ্রমিক রানা ও মিন্টু জানান, সকাল ৮টার দিকে প্রথমে বিকট শব্দে কারখানার প্যাকিং শাখার ওয়াল ফ্যান পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারখানার ভেতরে থাকা গাছের মৃত ডাল বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আগুন দেখা দিলে আতংকের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। আগুন লেগেছে ভেবে নামতে গিয়ে তারা আহত হন। কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) খন্দকার হামিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কারখানার বাইরে বিদ্যুতের তারে গাছের একটি মৃত ডাল পড়ে আগুন দেখা দেয়। এতে ভয় ও আতংকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শ্রমিকেরা আহত হন। এ ঘটনার পর সুইং, ফিনিশিং ও আয়রনসহ চারটি শাখা রোববারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কয়েল বানানোর মেশিনে পেঁচিয়ে শিশু শ্রমিকের মৃত্যু

সাভারে একটি কয়েল কারখানার মেশিনে পেঁচিয়ে রায়হান নামের (১২) এক শিশু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার শোভাপুর এলাকার কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রায়হান গাইবান্ধার সদরের বলমপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাভারের তরফ রাজাঘাট এলাকায় মিরাজ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো। কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে কারখানার মেশিনে কয়েল বানাচ্ছিলেন শিশু শ্রমিক রায়হানসহ অন্যরা। এসময় একটি কয়েল বানানোর মেশিনে হাত ঢুকে যায় রায়হানের। এসময় মেশিনটি তাকে টেনে নিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

কৃমিনাশক খেয়ে আরও ২ শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ার পর এবার মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় কৃমিনাশক খেয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। এর আগে গতকাল শনিবার কৃমিনাশক খেয়ে ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন প্রাথমিক ও হাইস্কুলের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার গাংনী উপজেলায় কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রোববার সকাল ৮টায় উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের গাড়াডোব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মানান জানান, বিদ্যালয়ে সাড়ে ৫শ’ শিক্ষার্থী। সকাল ৯টা থেকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো শুরু হয়। ওষুধ সেবনের ঘণ্টাখানেক পর থেকে তারা অসুস্থ হতে শুরু করে। মেহেরপুর জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) অলোক কুমার দাস জানান, এটি ম্যাস সাইকিয়াটিক রোগ। একজনের দেখাদেখি অরেকজন আক্রান্ত হয়। তবে আতংকের কিছু নয়। ঘণ্টা দু'য়েকের মধ্যে আক্রান্তরা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলায় কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার একটি বালিকা বিদ্যালয়সহ তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষক অভিভাবকরা মিলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে যান। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা হাদিকাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় রোববার সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য কর্মীরা কৃমিনাশক ট্যাবলেট দিয়ে যান। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুল আমিন জানান, ট্যাবলেটগুলো পাওয়ার পর আমরা শতাধিক ছাত্রীকে একটি করে ট্যাবলেট খেতে বলি। ছাত্রীরা বেলা ১১টার দিকে অসুস্থ হতে শুরু করে। কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যায়, কেউ কেউ বমি করতে থাকে। পুরো মাদ্রাসায় আতংক নেমে আসে। এ সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা অসুস্থ ছাত্রীদের দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন। একইভাবে পার্শ্ববর্তী পীরপুরকুল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চন্দ্রবাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল যুগান্তরকে জানান, ‘প্রচণ্ড গরমের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে ট্যাবলেট সেবনে এমনটি হওয়ার কথা নয়। শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে হয়তো এমন হয়েছে। তবে তাদের চিকিৎসা চলছে। আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।’ এদিকে শিক্ষার্থীদের এমন অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর শুনে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান কৃমিনাশক ট্যাবলেট শিক্ষার্থীদের হাতে দেননি। তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

দুই বছর পর সিসিক মেয়রের দায়িত্বে আরিফুল

দুই বছর তিন মাস পর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়রের চেয়ারে বসলেন আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার সকাল ১১ টা ১১ মিনিটে তিনি নগর ভবনের অস্থায়ী কার্যালয়ে পৌঁছান। এসময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। চেয়ারে বসার পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব পালনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
জানা যায়, ২০১৪ সালে তৃতীয় সম্পূরক চার্জশিটে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আসামি করা হয়। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হলে ২৮ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। আদালতের বিচারক মেয়র আরিফের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। একই বছরের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এক আদেশে সিসিক মেয়র আরিফকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। সম্প্রতি এই আদেশের বিরুদ্ধে মেয়র আরিফ রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সরকার পক্ষ আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। এর মধ্য দিয়ে আরিফের মেয়র পদে ফিরতে সকল আইনি বাধা দূর হয়। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি দীর্ঘ কারাভোগের পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান আরিফুল হক চৌধুরী। অপরদিকে, কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর মেয়র আরিফকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

নারায়ণগঞ্জে ট্রলারডুবি: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় আরও চার পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫ জন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতরা হলেন- মো. বাবুল হোসেন (৪৫) কুমিল্লার জিরোইন গ্রামের সব্বর আলীর ছেলে, মো. কামাল হাওয়াদার (২২) ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানার জাঙ্গালিয়া এলাকার মকলেস হাওলাদারের ছেলে, ইসমাইল (২৩) কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার জলারপাড় গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে ও ফারুক মিয়া (৪০) গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের দুমবাড়িয়ার চর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় এখনো ৬-৭ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে যুগান্তরকে জানান চরকিশোরগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মাকসুদুর রহমান। তিনি বলেন,  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় চার পুরুষের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরি দল আজ উদ্ধার কাজে অংশ না নেয়ায় পুলিশ ওই চারজনের লাশ উদ্ধার করে।
এর আগে শনিবার দুপুরে শিল্পী বেগম (৩২) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী ও মৃত শিশু লামিয়া আক্তার নদীর (৪) মা। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুইদিনে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতরা হলো- বানু বেগম (৪৫) রামপুরা এলাকার হারুন ভান্ডারীর স্ত্রী। এর আগে দুপুরে উদ্ধারকৃতরা হলো- রামপুরা এলাকা শফিক মিয়ার মেয়ে রুবিনা আক্তার (৩০), রুবিনার মা শাফিয়া আক্তার (৪৬), রামপুরা এলাকার জয়বুন নেছা (৬৫) এবং তার দুই মেয়ে রানু আক্তার (৩২) ও সান্তা আক্তার (২৮)। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকালে ৯০ জন যাত্রী নিয়ে রাজধানীর রামপুর এলাকা থেকে ইঞ্জিন চালিত একটি ট্রলারে করে মতলবের বেলতলি সোলেমান শাহ ওরফে লেংটার মেলায় যাচ্ছিল। বিকাল ৪টার দিকে পথে সোনারগাঁ উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে বিকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি করে ঢাকার রামপুরা এলাকার আব্দুস সাত্তার (৪০), তার মেয়ে লামিয়া (৫), জোহরা বেগম (৬০), কাঞ্চন বেগমকে (৬৫) উদ্ধার করে।

অভিযান সমাপ্তির ৯ ঘণ্টা পর শিশুর লাশ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণার ৯ ঘণ্টা পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে রাহাতের (১০ মাস) লাশ উদ্ধার করা হয়। রাহাত মোরেলগঞ্জের পল্লীমঙ্গল গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় মোট ১৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হল।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সরদার মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে জানান, শনিবার রাতে পানগুছি নদীর সোনাখালী এলাকায় শিশু রাহাতের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার সকালে শতাধিক যাত্রী নিয়ে পানগুছি নদীতে ট্রুলারটি ডুবে যায়।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে চায় ইরান

ভারত, পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মির ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে চায় ইরান । পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মেহদি হোনারদুস্ত বলেছেন, দুটি দেশের (ভারত-পাকিস্তান) মধ্যে যেকোনো বিবাদ-সংঘাত, উত্তেজনায় শুধু তাদের বিকাশ ও উন্নয়নই মার খাবে না, পাশের দেশগুলোর অর্থনীতিরও ক্ষতি হবে। অনুরোধ পেলে তারা দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কাশ্মির প্রশ্নে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সালিশি করতে আগ্রহী বলে হোনারদুস্তকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদপত্র দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। উপমহাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা বহাল রাখতে ইরান সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানিয়েছে সংবাদপত্রটি। পাকিস্তান-ইরান বাণিজ্যিক সম্পর্কে তিনি বলেন, দুপক্ষের মধ্যে একটি অবাধ বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। শিগগিরই তার বাস্তবায়ন শুরু হবে, যাতে উভয় দিকেই লেনদেন বাড়বে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর গোটা এলাকাকে আমূল বদলে দেবে তো বটেই, এতে সামিল দেশগুলিকে বেঁধে রাখতেও বড় ভূমিকা পালন করবে। ইরান সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ইসলামিক কোয়ালিশনে ঢুকতে চায় কিনা, প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ইরান গভীরভাবে বিশ্বাস করে, মুসলিম দুনিয়ার সামনে ওঠা সমস্যাগুলো নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নিতে হবে। ইতিমধ্যেই সেই জোটে যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ইরান।

রাজীব হত্যায় আগের রায় বহাল

ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় আগের রায় বহাল রেখেছেন আদালত। রায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া, নিম্ন আদালতের দেওয়া তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, একজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অপর একজনকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া রায়ও বহাল রেখেছেন আদালত। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে রাজধানীর পল্লবীতে তার বাসার সামনে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিনের করা মামলায় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে মাকসুর হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আনসারুল্লা বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামি সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ রায়ের পর মামলার নথিপত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে আসে। গত বছরের ৩১ অক্টোবর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিতায় ওঠে। গত ৭ নভেম্বর হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। গত ৯ জানুয়ারি রাজীব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আদালত। গত ২৭ মার্চ এই মামলার আপিল ও ডেথরেফারেন্সের রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট।

বালিয়াকান্দিতে ভূমি সেবা সপ্তাহ পালন

“বর্তমান সরকারের ঘোষণা, গৃহহীন কেউ থাকবে না” এ শে¬াগানকে সামনে রেখে ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে ভূমি অফিস চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম রকিব হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ মানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ এহিয়াতুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তহমিদা খানম, উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাইফুল আলম, একটি বাড়ী একটি খামারের ম্যানেজার গালীব হোসেন, বালিয়াকান্দি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার রহমান, সাধারন সম্পাদক সোহেল রানাসহ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিয়নের ভুমি সহকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সরকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জয়রামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াত

গত ২৬ মার্চ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে ট্রাক ও আলমসাধুর (শ্যালোচালিত গাড়ী) মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৩ ও আহত ১২ হতদরিদ্র দিনমজুর পরিবারের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগীতা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। শনিবার বিকালে দামুড়হুদা উপজেলার ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বড়বলদিয়া গ্রামে নিহত ও আহত পরিবার সমুহের বাড়ী বাড়ী গিয়ে নিহত পরিবার প্রতি আমীরে জামায়াত মকবুল আহমেদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সমবেদনা প্রকাশ করে দোয়া বানী, ও নিহত ১৩ জনের প্রত্যেকের অসহায় পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং নিহত ও আহত ২৫ পরিবারের প্রত্যেককে ২০ কেজি চাউলসহ আলু,সয়াবিন তেল,ডাল,পেয়াজ ইত্যাদি সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।
ত্রাণ বিতরন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর আনোয়ারুল হক মালিক,নায়েবে আমীর ও দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারী মোঃ রুহুল আমিন,সহকারী সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, সাবেক উপজেলা আমীর মোঃ নায়েবে আলী,দর্শনা পৌর আমীর মাহবুবুর রহমান টুকু,বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা হাবিবুর রহমান ও মাওলানা আবু জার গিফারী, জেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোঃ শরীফুল ইসলাম ,সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান,বায়তুল মাল সম্পাদক নাজমুস সাকিব,মদনা ইউনিয়ন আমীর ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দীক, সবিউল ইসলাম সবুজ, আ: রহমান ,আবির , তানজিল এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী,স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী উপস্থিত হন।

লাঙ্গলবন্দে কাল স্নানোৎসব

লাঙ্গলবন্দের ব্রম্মপুত্র নদের তীরে আদি ব্রহ্মপুত্র নদে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুই দিন ব্যাপি স্নানোৎসব। এ উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দ। বিকেল ৫টা৩০ মিনিটে শুরু হয়ে চলবে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত। সুষ্ঠুভাবে স্নান সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১৩ টি স্নান ঘাট সংস্কার , ৬০ টি অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন, কাপড় পাল্টানোর ঘর নির্মাণ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। হে মহা ভাগ ব্রহ্মপুত্র, ”হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর ; এ মন্ত্র উচ্চারন করে পাপ মোচনের আশায় লাখ লাখ পূণ্যার্থী আদি ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নানোৎসবে অংশ নিবেন। তীর্থকেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূর্নার্থীদরা আসতে শুরু করেছে। অন্য বারের চেয়ে এবার লোক সমাগম বেশী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী লাঙ্গলবন্দে এসেছেন বলে স্নান উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে। ফেনী থেকে আসা তীর্থযাত্রী অতিশ চন্দ্র মন্ডল জানান,
ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে পাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায়ও ব্রহ্মার কৃপা লাভ করা যায়। তাই তিনি প্রতি বছরই স্বপরিবারে তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দে আসেন। ১ নং ঢাকেশ্বরী টিন লাইন ও বনগুন মিলন সংঘ, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম, নিপসম, সেবা সংঘ, লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম প্রভৃতি সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠান দর্শনাথীদের খাবার সরবরাহ ও অন্যান্য সেবা প্রদান করছে। অষ্টমী স্নান উপলক্ষে লাঙ্গলবন্দে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লোকজ মেলা বসেছে। মেলায় আবহমান বাংলার চীর চেনা রূপ ফুটে উঠেছে। সাধুসন্ত বাউলদের ভাবসংগীত পরিবেশনায় মুখর হয়ে উঠেছে তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দ। গতকাল বিকেলে বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদ।

প্লাস্টিকের ডিম কি আদৌ সম্ভব?

প্লাস্টিকের ডিম নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আমাদের দেশেও এই আতঙ্ক হাজির হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যেকেই ডিম কেনার সময় পরীক্ষা করে নিচ্ছে আসল না নকল। অনেকেই আবার ডিম খাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্লাস্টিকের ডিম বলে কোনো বস্তু বাজারে নেই। তাহলে ধরপাকড়ে ‌যে প্লাস্টিক ডিম উদ্ধার হলো? স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফার্মে অনেক ডিমই সরিয়ে রাখা হয় নিষিক্ত করার জন্য। তেমনই কিছু ডিম বাজারে এসে গেছে। সাধারণত এগরোল দোকানিরা সস্তায় এই ধরণের ডিম কিনে নিয়ে ‌যান। কড়‌েয়ার বাসিন্দা অনিতা কুমারও সেরকমই ডিম পেয়েছিলেন। আরো একটা কারণ রয়েছে। ডিমে থাকে অ্যালবুমিন প্রোটিন।
প্রচণ্ড গরমে এই প্রোটিনের রূপ পরিবর্তন হতে পারে। ফলে হলদে অংশ জেলির মতো হতে পারে। এই ধরণের ডিম পোড়ালে দুর্গন্ধ ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়। বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, কেন প্লাস্টিকের ডিম বেচা সম্ভব নয়? একটা ডিমের খরচ পড়ে ৪ রুপি। এই টাকায় কী প্লাস্টিক দিয়ে ডিম বানানো সম্ভব! তাও আবার উন্নতমানের প্লাস্টিক দিয়ে! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা অসম্ভব। তাই নিরাপদে ডিম খান। হ্যাঁ একটু দেখে নিন। গুজবে কান দেবেন না।

ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতেই জঙ্গিবাদের নাটক : রিজভী

ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করার জন্যই দেশে জঙ্গিবাদের নামে একের পর এক নাটক সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালি, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ। রিজভী বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের নাটকিয়তা জনগণের কাছে জিজ্ঞাসাতে পরিণত হয়েছে।
জঙ্গিবাদকে জনগণ বিশ্বাস করে না। জঙ্গিবাদের আস্তানা নিয়েও মানুষের সন্দেহ আছে। জনগণের দৃষ্টি প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে না নিয়ে অন্য দিকে নেয়ার জন্যই জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে তারা ব্যর্থ হয়েছে। জনগণ নিজের দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। ভারতের সাথে চুক্তি করে সরকার রাষ্ট্রের জানাজা প্রস্তুত করছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। চট্টগ্রামে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল আলম নুরু হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পুলিশ সরাসরি জড়িত। নিহত নেতার লাশ নিতে দলের সিনিয়র নেতারা গেলে পুলিশ তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পুলিশ বলেন এটি হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া।

কলম্বিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আড়াই শতাধিক

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আড়াই শতাধিকে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরো শতাধিক। গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। দেশটির পুতুমায়ো প্রদেশে শনিবার রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি উপচে পড়ে মোকোয়া শহর প্লাবিত হয়ে যায় এবং ধসে পড়ে বহু ঘর, মাটির নিচেও বাড়িঘর চাপা পড়ে যায়। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৫৪ জন। আহত হয়েছেন চার শতাধিক। এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরো দুই শতাধিক। উদ্ধার কাজে ১১০০ জন সৈন্য কাজ করছেন।
সাথে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরটির মূল হাসপাতালে আহত মানুষদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যেই দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। ওই এলাকায় জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন তিনি। শহরটির গভর্নর সরেল আরোকা কলম্বিয়ার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশপাশের সব এলাকা মাটিতে চাপা পড়ে গেছে। এদিকে উদ্ধার কর্মীরা জানাচ্ছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে এবং রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হচ্ছে। কলম্বিয়ার এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স তাদের সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছে।

'গরু জবাই করলেই ফাঁসি'

গরু জবাইয়ের শাস্তি হিসেবে গুজরাটের চেয়ে একধাপ উপরে উঠে এবার ফাঁসি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রমন সিং। শনিবার জগদলপুরে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে কিছুতেই গরু জবাই সহ্য করা হবে না। কেউ এমন কাজ করলে তাকে ফাঁসি দেয়া হবে।’ রাজ্য সরকার গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইন আনছে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘রাজ্যে কোথাও কি গো-হত্যা হচ্ছে? শেষ ১৫ বছরে একটি গরুও কি হত্যা হয়েছে?’ এরপরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘(জো গাই কো মারেগা, উনকো লাটকা দেঙ্গে) যে গরুকে হত্যা করবে, তাকে ঝুলিয়ে (ফাঁসি) দেব। শুক্রবার বিজেপিশাসিত গুজরাটে গরু জবাই সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে গরু জবাই করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটাই দেশে গরু জবাই বন্ধে সবচেয়ে কঠোর আইন। এর পরের দিনই গরু জবাইয়ের শাস্তি হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলানোর কথা বললেন ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি ‘গরু, গঙ্গা এবং গীতা রক্ষা করার জন্য দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে জানিয়েছেন। গুজরাট শাকাহারী হোক সেটাই তিনি চান। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির দাবি, ‘গোটা বিশ্বকে নৈতিক ও আত্মিক অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে গরু রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
ভারতীয়দের কাছে গরু হলো অন্য সমস্ত জীবের প্রতীক। গরু বিশ্বের প্রতীক, পুষ্টি প্রদানকারী, কোনো কিছু দাবি না করেই শুধু দিয়ে যায়।’ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গোটা রাজ্যে অবৈধ কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ওই রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সাইনি গরু জাবাই করলে তার হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খাটাউলির বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সাইনি বলেন, 'যে ব্যক্তি ‘বন্দেমাতরম’ বলতে অনিচ্ছুক বা জাতীয়তাবাদী স্লোগান দিতে গর্ববোধ করে না, অথবা গরুকে ‘মা’ হিসেবে মনে করে না এবং গো-হত্যা করে তাহলে আমি কথা দিচ্ছি- তার হাত ও পা ভেঙে রেখে দেব।' ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং ২০০৩ সালে ক্ষমতায় এসে গরু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। রাজ্যে ২০০৪ সালে তৈরি গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন অনুসারে, গবাদি পশু হত্যা বা পাচারে অভিযুক্তকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আইন রয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং এবার গরু জবাই করলে ফাঁসিতে ঝোলানোর হুঁশিয়ারি দিলেন। সূত্র : ওয়েবসাইট

পাকিস্তানে মাজারে ২০ জনকে কুপিয়ে হত্যা

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের একটি মাজারের খাদেম রোববার ভোরে চার নারীসহ ২০ জনকে হত্যা করেছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। ওই এলাকার একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২শ’ কিলোমিটার দক্ষিণে সারগোদা জেলায় রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এ সময় মাজারের ভক্তরা আধ্যাত্মিক পরামর্শ ও চিকিৎসার জন্য সেখানে জমায়েত হয়েছিল। সারগোদা জেলার ডেপুটি কমিশনার লিয়াকত আলি চাত্তা বলেন, মাজারের খাদেম আব্দুল ওয়াহিদ খুব সম্ভবত মানসিক ভারসাম্যহীন। এ কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, ওয়াহিদ সারগোদায় পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের কর্মী।
তিনি তার ভক্তদের নেশার ওধুষ খাওয়ানোর পর ছুরি ও লাঠি দিয়ে হত্যা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওয়াহিদ ও তার সঙ্গীরা নেশাগ্রস্ত দর্শনার্থীদের নির্মমভাবে হত্যা করেন। পুলিশ এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ওয়াহিদ ও তার ঘনিষ্ঠ পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা মাজহার শাহ সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় আহত অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া তিনজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, উদ্ধারকারী দলকে রোববার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করতে একটি ফোন করা হয়। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ডেপুটি কমিশনার জানান, নিহতদের বাড়ি পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ও রাজধানী ইসলামাবাদে।

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল প্যারিস কার্নিভাল

আবারো বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল প্যারিস। শনিবার প্যারিস কার্নিভালের বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। আহতদের মধ্যে প্যারিসের ভিলিপ্টিনের মেয়র মার্টাইন ভালেটনও আছেন। তিনি ডান পায়ে চোট পেয়েছেন। এছাড়া পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কার্নিভাল কর্তৃপক্ষ থেকে জানিয়েছে। এই বিস্ফোরণ সাধারণ দুর্ঘটনার ফলেই ঘটেছে এবং এর সাথে সন্ত্রাসের কোনরকম যোগ নেই বলেই সূত্রের খবর।
ক্যারাবিয়ান নৃত্য চলাকালীন হঠাৎই ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যায়। এবং সেখান থেকেই বিস্ফোরণটি হয়। উপস্থিত মানুষদের মধ্যে সাথে সাথেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর ইমার্জেন্সি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এই কার্নিভালে উপস্থিত ছিল প্রায় এক হাজার শিশু। প্যারিসের ভিলেপিন্টের এই কার্নিভাল এতই বিখ্যাত যে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল এবাদি তার দেশের স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা গণ-বাহিনী ‘হাশদ আশ শা’বি’র প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, যে হাত এই বাহিনীকে বিলুপ্ত করতে চায় তা কেটে ফেলা হবে। শনিবার ‘ইরাকি শহীদ দিবস’ পালনের অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হায়দার আল এবাদি ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণ-বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর অবমাননা ও তাদের অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের বাহিনীর অবমাননাকারীদের মোকাবেলা করা হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, ইরাকের গণ-বাহিনীগুলো আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, কিন্তু কোনো কোনো মহল এইসব জনপ্রিয় গণবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর অধিকার পদ-দলনের চেষ্টা করছে। ইরাক আর কখনও সাম্প্রদায়িকতার যুগে ফিরে যাবে না- এ কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী হায়দার এবাদি বলেন, ‘হাশদ আশ শা’বি’ ইরাকের সব শ্রেণী ও গোত্রের প্রতিনিধি এবং এই বাহিনী ইরাকের নেতৃস্থানীয় আলেমদের ফতোয়ায় সাড়া দিয়ে গড়ে উঠেছে; কোনো রাজনৈতিক পদ বা লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে না জনপ্রিয় এই বাহিনী। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইএসের অপরাধযজ্ঞকে ভোলানোর চেষ্টা ও তৎপরতা ব্যর্থ হবে এবং সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা ব্যাপক মাত্রায় কমে গেছে। ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী ‘হাশদ আশ শা’বি’ গড়ে উঠেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ সিস্তানির আহ্বানে সাড়া দিয়ে। দেশটির সব শ্রেণী ও মাজহাবের অনুসারীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বাহিনী। ২০১৪ সালের ১০ জুন আইএস মসুল দখল করলে আয়াতুল্লাহ সিস্তানি স্বেচ্ছাসেবী গণ-বাহিনী গঠনের ওই আহ্বান জানান। এই বাহিনী গঠনের পর ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক শক্তি দ্বিগুণ বেড়ে যায় এবং ইরাকিরা কৌশলগত অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল আইএসের হাত থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়। সূত্র : ওয়েবসাইট

নারী মন্ত্রীর পিছু নিল চার ছোকরা!

ভারতের কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির পিছু নেয়ায় দিল্লিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল চার ছাত্রকে। রাতভর জেলে থাকার পর রোববার সকালে জামিন পায় অভিযুক্তরা। তারা দিল্লি ইউনিভার্সিটির রাম লাল কলেজের ছাত্র। দিল্লি পুলিশের বিশেষ কমিশনার মুকেশ কুমার মীনা জানিয়েছেন, ‘‌শনিবার বিকেল সোয়া ৫টা নাগাদ মোতি বাগ ফ্লাইওভার দিয়ে আসছিলেন স্মৃতি ইরানি। সেইসময় একটি হুন্ডাই স্যানট্রো গাড়ি নিয়ে তাঁ পিছু নেয় ওই ৪ ছাত্র। দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে বস্ত্রমন্ত্রীর কনভয়কে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল তারা। বিপদের আঁচ পেয়ে তখনই ফোনে পুলিশকে খবর দেন স্মৃতি ইরানি। দ্রুত হুন্ডাই গাড়িটিকে চিহ্নিত করে পুলিশ। তারপর দিল্লির মার্কিন দূতাবাসের কাছে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
নিয়ে যাওয়া হয় চাণক্যপুরি থানায়। সেখানে ১৫৪–ডি (‌উত্যক্ত করা)‌ ও ৫০৯ (‌মহিলার সম্মানহানি‌)‌ ধারায় মামলা দায়ের হয়।’‌ থানা সূত্রে খবর, শনিবার বিকেলে দক্ষিণ দিল্লির এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিল ওই ৪ ছাত্র। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বেয়াদপি করছিল। অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ থেকে ১৯–এর মধ্যে। ডাক্তারি পরীক্ষায় ঘটনার সময় তাদের মদ্যপ থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিনয় ছেড়ে কয়েক বছর আগে রাজনীতিতে যোগ দেন স্মৃতি ইরানি। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। গত বছর জুলাইয়ে বস্ত্র দফতরের দায়িত্ব হাতে পান।

রাশিয়ার কাছ থেকে ‘সুখোই’ সুপারজেট কিনছে ইরান

রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি সুখোই সুপারজেট বিমান কিনবে ইরান। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি ‘চূড়ান্ত’ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রুশ জ্বালানীমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক। তিনি বলেছেন, গত ১৮ মাস ধরে ১০০ আসনবিশিষ্ট এই বিমান বিক্রির জন্য মস্কোর সাথে তেহরানের আলোচনা হয়েছে। আপাতত ১২টি বিমান কেনার জন্য ইরান চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলে জানান নোভাক। রুশ মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই ইরানের কাছে আরো ১৮টি বিমান বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এ ছাড়া, ইরান মোট ১০০টি সুখোই বিমান কিনতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
রাশিয়ার গণমাধ্যম গত ডিসেম্বরে খবর দিয়েছিল, দেশটির বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুখোই’ ইরানের কাছে ১০০ আসনবিশিষ্ট যাত্রীবাহী বিমান বিক্রি করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এর আগে ইরানের বেসরকারি ‘আসেমান’ এয়ারলাইন্সের প্রধান হোসেইন আলায়ি বলেছিলেন, তার সংস্থার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার সুখোইসহ আরো কিছু আন্তর্জাতিক বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে। তিনি আরো জানান, তার এয়ারলাইন্সের আমন্ত্রণে সুখোই কোম্পানির একটি যাত্রীবাহী বিমান ২০১৬ সালে ইরান ভ্রমণে এসেছিল। সূত্র : ওয়েবসাইট

হোয়াইট হাউজের স্টাফদের কার কত সম্পদ

হোয়াইট হাউজে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্পদের তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবনের স্টাফদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সম্পদের হিসাব বেরিয়ে এসেছে। প্রকাশিত নথি অনুসারে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা এবং তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের সম্পদের মূল্য হবে ২০ কোটি ৪০ লাখ ডলার থেকে ৭৪ কোটি ডলারের মধ্যে। এর মধ্যে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলও রয়েছে।
ইভাঙ্কা এই হোটেলের অংশীদার। এখান থেকে তার আয় ১০ লাখ ডলার থেকে ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে। হোয়াইট হাউজের প্রকাশিত নথির মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতনের তালিকাও রয়েছে। তবে শুক্রবার প্রকাশিত ওই তালিকায় ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। মার্কিন নিয়ম অনুসারে, হোয়াইট হাউজে কাজ শুরু করার আগে কর্মীদের আর্থিক অবস্থার বিবরণ পেশ করতে হয় এবং দায়িত্ব পালন শেষে আরেকটি হিসাবের মাধ্যমে দেখা হয় যে, তাদের সম্পত্তি অনিয়ন্ত্রিতভাবে হঠাৎ বেড়ে গেল কি না। অনলাইন আপলোড করা এসব নথিতে যারা রয়েছেন তাদের কয়েকজন হচ্ছেন -
ইভাঙ্কা ট্রাম্প : তার সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি ডলার। এর মধ্যে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের অংশীদারিত্ব।
জ্যারেড কুশনার : তার সম্পদের বিবরণ দেয়া হয়েছে ৫৪ পৃষ্ঠার নথিতে। এতে জ্যারেডের ২৬৭টি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। গত বছর শুধু রিয়েল এস্টেট কোম্পানি থেকে কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন ট্রাম্পের এই উপদেষ্টা ও মেয়ের জামাই।
স্টিভ বেনন : হোয়াইট হাউজের এই সিনিয়র উপদেষ্টাকে নির্বাচনকালীন পরামর্শক হিসেবে দেয়া হয়েছিল এক লাখ ৯১ হাজার ডলার। এ ছাড়া অন্য চাকরি থেকে তার উপার্জন কমপে আরো ১০ লাখ ডলার। তার সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ডলার থেকে এক কোটি ২৬ লাখ ডলারের মধ্যে হবে।
শন স্পাইসার : নির্বাচনকালীন রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির প্রধান কৌশলী এবং যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে স্পাইসারকে দেয়া হয়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ ছাড়া আরো কয়েকটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক তিনি।
ক্যালিয়ানি কনওয়ে : নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের শিবিরের প্রচারণা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কনওয়ে। এ জন্য তাকে প্রদান করা হয়েছে আট লাখ মার্কিন ডলার। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের ২৫ শতাংশকে ‘অত্যন্ত ধনী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বারাক ওবামাসহ আগের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে তারা অনেক বেশি ধনী। সম্প্রতি ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টারা মিলে মোট এক হাজার ২০০ কোটি ডলারের মালিক। সূত্র : বিবিসি

কলম্বিয়ায় ভূমিধস : নিহত দুই শতাধিক

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ২০৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বহু। ধ্বংসস্তূপে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। দেশটির পুতুমায়ো প্রদেশে রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি উপচে পড়ে মোকোয়া শহর প্লাবিত হয়ে যায় এবং ধসে পড়ে বহু ঘর, মাটির নিচেও বাড়িঘর চাপা পড়ে যায় । এ ঘটনায় বহু হতাহত হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ, কিন্তু কত সংখ্যক নিখোঁজ সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। যদিও রেডক্রস জানাচ্ছে, ২২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত অন্তত ২০২ জন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরটির মূল হাসপাতালে আহত মানুষদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
ইতোমধ্যেই দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। ওই এলাকায় জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন সান্তোস। শহরটির গভর্নর সরেল আরোকা কলম্বিয়ার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশপাশের সব এলাকা মাটিতে চাপা পড়ে গেছে। এদিকে উদ্ধার কর্মীরা জানাচ্ছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে এবং রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হচ্ছে। কলম্বিয়ার এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স তাদের সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র : বিবিসি

সুন্দরবনে এক দশকে বাঘ কমেছে ৩৩৪ টি

প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী রয়েল বেঙ্গল টাইগার আজ নানা সংকটে দিন দিন কমছে। চোরা শিকারীদের অপতৎপরতা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, লবনাক্ততা বৃদ্ধি,আবাসস্থল নষ্ট,খাদ্য সংকটসহ আন্তর্জাতিক ষঢ়যন্ত্রে মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিকূলতায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সুন্দরবন থেকে আশংকাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে বাঘের সংখ্যা। শুমারী অনুযায়ী গত মাত্র ১ দশকের ব্যবধানে বাঘ কমেছে ৩৩৪ টি। ২০০৪ সালের শুমারিতে যেখানে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০ টি ২০১৫ সালের শুমারিতে তার সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০৬ টিতে। তবে বনবিভাগ টাইগার কনজারভেশন এ্যাক্টিভিটি প্রকল্পের আওতায় বাঘের সংখ্যা ও তার জীবন যাপন জানতে সম্প্রতি ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয়বারের মত ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বাঘের সঠিক সংখ্যা পেতে তারা এবার দেশী-বিদেশী গবেষকদের পাশাপাশি সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। যার ফলাফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত এমনটাই জানিয়েছে বনবিভাগ। বাঘ রক্ষায় সরকার বিভিন্ন সময় নানামুখি ব্যাপক পদক্ষেপ নিলেও বহুবিধ সংকটে কার্যত তা বাঘ বিলুপ্তিতে বিশেষ কোন প্রভাব পড়েনি। তবে কেন বাঘের এই কমে যাওয়া ? কারা মারছে, কেন মারছে আর যাচ্ছেই বা কোথায়? এমন প্রশ্ন থেকে সরকারি বা আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা সংস্থা বিভিন্ন সময় ব্যাপক অনুসন্ধানও চালিয়েছে। এনিয়ে সর্বশেষ পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের এক প্রতিবেদনও পাঠিয়েছিল। যাতে উঠে এসেছে বাঘ নিধনে জানা অজানা চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। বিশ্লেষকদের আশংকা, এমনটি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে ম্যনগ্রোভ সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তবে সর্বশেষ আশার কথা, সুন্দরবনের নীলকমল, কটকা, কচিখালি ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের বাচ্চা দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সেজন্য প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সুন্দরবনে নতুন করে তৈরী করা হচ্ছে আরো ১৮ টি অভয়ারণ্য। আর ঠিক এমন অবস্থায় বিশ্ববাসীকে জানান দিতে গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে বনবিভাগ সুন্দরবনে দ্বিতীয়বারের মত ক্যামেরা ট্রাফিংয়ের মাধ্যমে বাঘ মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করে। যা ইতেমধ্যে শেষ হয়েছে। ইন্টাপোলের তথ্য সহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানাযায়, চোরা শিকারি ও ডাকাত দলের সমন্বয়ে পরিচালিত নিধন অভিযানে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও বিষ-ফাঁদ দিয়ে বাঘ হত্যা করে থাকে। এর পর বাঘের চামড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুন্দরবন সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট চক্ররা বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ইন্টারপোল ঐ ৩ চক্রের মোট ৩২ জন সদস্যকে চিহ্নিত করে ঐপ্রতিবেদনে। যার তথ্যানুযায়ী, বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির মূলত তিনটি বাজার রয়েছে, ভারত, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। এসব এলাকা থেকে আবার কখনো কখনো তা চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পাচার হয়।
এছাড়া দেশের অভ্যন্তরেও নাকি বাঘের এসব অংগ-প্রত্যঙ্গ ও মাংসের বাজার রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘ হত্যার পর সুন্দরবন থেকে ছোট্ট নৌকা বা স্পিড বোট সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তে সেদেশের চোরা চালানীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। কখনো বাংলাদেশ থেকে চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কাঁকড়া ও মাছের চালানের সাথেও লুকিয়ে বাঘের চামড়া ও অংগ-প্রত্যঙ্গ পাচার হয় বলেও ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত,বন ও জলদস্যুদের হাতে পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের নিয়ন্ত্রন চলে যাওয়ায় এ পর্যন্ত তাদের হাতে শতাধিক বাঘ শিকার হয়েছে। খাদ্য ও আবাসস্থল সংকটে বহু বাঘ পাড়ি জমিয়েছে সুন্দরবনের ভারতের অংশে। স্থানীয়রা অবশ্য বাঘের সংখ্যা আশঙকাজনকহারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে ৮টি কারণ চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়,বন্যা,জলোচ্ছ্বাস), লবনাক্ততা বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট, আবাসস্থল ধ্বংস ও বিশেষ করে চোরা শিকারিদের অপতৎপরতা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে যে, ৮ কারণে বাঘের মৃত্যু হতে পারে তা হল, বয়স্ক বাঘের স্বাভাবিক মৃত্যু,পুরুষ বাঘ কতৃক বাচ্চা খেয়ে ফেলা, পর্যাপ্ত খাদ্যাভাব, লোনা পানি গ্রহনে লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত,প্রাকৃতিক দূর্যোগ,ব্যাবস্থপনাজনিত সমস্যা বিদেশী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনবিভাগের দায়িত্বহীনতা, বাঘের প্রতি উদাসহীন দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিকারীদের অপতৎপরতার কারনে সুন্দরবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঘ। বন বিভাগ ও এলাকাবাসী জানায়, ১৯৯৮ সালের ২৬ মার্চ শ্যামনগরের দাতনিখালি গ্রামে একটি বাঘ ঢুকে পড়লে এলাকাবাসী বাঘটিকে গুলি করে হত্যা করে। এর মাত্র এক দিন পরে একই এলাকায় আরো একটি বাঘ গণ পিটুনিতে মারা যায়। ২০০৮ সালের ২০ জুন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে একটি বাঘ প্রবেশ করে। ঐ সময় বাঘটির আক্রমনে ১ গৃহবধূ সহ ৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরো ২ জন। এঘটনায় এলাকাবাসী পরের দিন বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। ২০০৯ সালের ২জুন সুন্দরবনের চুনা নদী পার হয়ে শ্যামনগরের খলিশাবুনিয়া গ্রামের কালীবাড়ি এলাকায় একটি বাঘ ঢুকে পড়ে। এসময় তার আক্রমনে ৩ জন আহত হয়। ঘটনার প্রায় ১০ ঘন্টা পর এলাকাবাসী গলায় ফাঁস দিয়ে বাঘটিকে হত্যা করে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে লোকালয়ে প্রবেশ করে চন্ডিপুরের খোরশেদ আলীর রান্না ঘরের চালের উপর অবস্থান নেয়। গ্রামবাসী বাঘটিকে ঘেরাও করে বনবিভাগ ও পুলিশে খবর দেয়। যার ১২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও বনবিভাগ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গ্রামবাসী এক প্রকার বাধ্য হয়ে বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। ২০১১ সালের ২৫ মার্চ শ্যামনগরের ভোলা খালী গ্রামে জনতার গণপিটুনিতে মারা যায় আরো একটি বাঘ। ২০১৩ সালের ২১ জুলাই কৈখালি এলাকায় এলাকাবাসী আরো একটি বাঘকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এভাবে প্রতি বছর শীত মওসুম এলে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী লোকালয়ে বাঘের আনাগোনা দেখা গেলেও গত কয়েক বছরে লোকালয়ে বাঘের অনুপ্রবেশ বা আক্রমণ দেখা যায়নি। সেখানকার মানুষের ধারণা, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা একেবারে কমে গেছে সে জন্য বর্তমানে আর বাঘের দেখা মিলছেনা। যার প্রমাণ, ১৫’ সালের ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে পরিচালিত শুমারিতে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখা ১০৬ টিতে নেমে এসেছে। সূত্র জানায়, সুন্দরবন থেকে পাচার হওয়া ৩ টি বাঘের শাবক ২০১২ সালের ১১ জুন ঢাকার শ্যমলী থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‌্যাব। পরে শাবকগুলোকে ডুলহাজরা সাপারী পার্কে অবমুক্ত করা হয়। সুন্দরবন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালের আগষ্ট মাসে শিকারী দলের মংলা এলাকার সদস্য জামাল উদ্দীন সাতক্ষীরা এলাকায় বাঘের চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। শিকারী দল ২০১০ ও ২০১১ সালে বেশ তৎপর ছিল। বন বিভাগের তথ্যমতে, ১৯৭১ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ বার বাঘ শুমারী হয়েছে। তার মধ্যে ১৯৭১ সালের শুমারীতে বাঘের সংখ্যা ছিল ৩২০ টি,১৯৭৫ সালে ৩৫০ টি, ১৯৮০ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৩০ থেকে ৪৫০ টি,১৯৯২ সালে ৩৫৯ টি,১৯৯৩ সালে ৩৬২ টি,২০০৪ সালে ৪৪০টি ও সর্বশেষ ২০১৫ সালে ১০৬ টি বাঘ রয়েছে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে। শুমারীগুলোতে দেখা যায়, কখনো বাঘের সংখ্যা কমেছে আবার কখনো বেড়েছে। তবে সর্বশেষ ১৫’ সালের শুমারীর তথ্যানুযায়ী বাঘের সংখ্যা আশংকাজনকহারে হ্্রাস পেয়েছে। তাহলে কি সেখানে বাঘের বংশ বিস্তার ঘটেনি? নাকি বংশবৃদ্ধি হলেও তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে ? নাকি নানা প্রতিকূলতায় তারা চলে গেছে সুন্দরবনের ভারতের অংশে? অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের সুন্দরবনের পরিবেশ অনুযায়ী সেখানে বাঘ বৃদ্ধির উত্তম কেন্দ্র। এরই মধ্যে সুন্দরবনের নীলকমল,কটকা,কচিখালী ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে নাকি বাঘের বাচ্চার দেখা মিলছে। তবে কি নতুন করে বাঘের বংশবিস্তার হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সর্বশেষ বনবিভাগের টাইগার কনজারভেশন এ্যাক্টিভিটি প্রকল্পের আওতায় শেষ হল গণনা প্রকল্প। সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী জানান, প্রকল্পে ৪৫ জন বন কর্মী ৯টি দলে বিভক্ত হয়ে সুন্দরবনের দু’টি অভয়ারণ্য অঞ্চল সহ প্রায় ২ হাজার বর্গফুট এলাকায় ৩৪০টি পয়েন্টের গাছের সাথে সাড়ে ৪শ’ ক্যামেরা স্থাপন করে ১০৩ দিনের তথ্য সংগ্রহ ও মনিটরিং করে। বাঘদের আকৃষ্ট করতে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয় পাহাড়ি শুটকির গুড়া। মনিটরিংয়ে বিশেষজ্ঞরা বাঘের খাদ্য শৃঙ্খল,প্রজনন,শিকারীদের তৎপরতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে মনিটরিং করেন। এজন্য ওয়াশিংটন ডিসির কনজার্ভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউশনের ২ জন বিশেষজ্ঞ গ্যারি এফ কলিন্স ও ক্যাথি ওয়াচয়ালা প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন বনবিভাগের সুন্দরবন সার্কেলের বন সংরক্ষক জহির উদ্দীন আহম্মেদ। সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। বাঘের প্রজনন বাড়াতে আরো ১৮ টি নতুন অভয়ারণ্য করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানাযায়,একটি পুরুষ বাঘের দৈর্ঘ্য মাথা থেকে লেজ সহ প্রায় সাড়ে ৩ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। যার লেজের দৈর্ঘ্য ৮৫ থেকে ৯৫ সেঃমিঃ। গড় ওজন ২০০ থেকে ২৩৬ কেজি পর্যন্ত। এযাবৎ সবচেয়ে বড় বাঘের ওজন ৩৮৮.৭ কেজি পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। স্ত্রী বাঘ আকারে ছোট হয়। দৈর্ঘ্য ৩ মিটার থেকে তার কিছু বেশী হতে পারে। বাঘের পায়ের ছাপ গোলাকৃতির আর বাঘিনীর ছাপ লম্বাটে হয়। বাঘের সারা শরীর হলুদ-কমলা-বাদামি এবং সাদা-কালো লম্বাটে ডোরাকাটা ঢেউ খেলানো দাগ থাকে। প্রচন্ড শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর হিংস্র এই প্রাণী গভীর অরণ্যে নির্জনে থাকতে ভাল বাসে। প্রতিটি বাঘ একেক লাফে ৭/৮ মিটার অতিক্রম ও ৩ মিটার উচুতে উঠতে পারে। এছাড়া এরা ভাল সাঁতার কাটতে পারে। প্রণীটির খাদ্য তালিকায় রয়েছে, হলিণ,শূকর,বনগরু,গয়াল,নীল গাই,হাতি বা গন্ডারের বাচ্চা,মহিষ,কুমির,অজগর এমনকি তারা মাছও খেয়ে থাকে। বাঘ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার শিকার করে থাকে। তবে শিকারের ওজন ৩০/৪০ কেজির কম হলে আবারো বের হতে হয় তাদের। প্রতিদিন এদের গড় ৭ কেজি খাদ্যের প্রয়োজন হয়। সে জন্য প্রতিটি বাঘের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে বছরে ৩ হাজার ৬৫০ কেজি মাংসের প্রয়োজন। যার ওজন ৭৩ টি চিত্রা হরিণের সমান। প্রায় সব প্রজাতির বাঘ প্রজননক্ষম হয় আড়াই থেকে ৩ বছর বয়সে। বাঘিণীর বাচ্চা ধারণের সময়সীমা ১০৮ দিন। একটি বাঘিণী এক সাথে ২ থেকে ৬ টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে থাকে। বাঘের জীবনকাল ১৪ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সীমানায় অবস্থিত ১০ হাজার বর্গ কিঃমিঃ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের উপর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সুন্দরবন ব্যবস্থাপনার জন্য ইতোমধ্যে সরকার ৫ হাজার ৬শ’ ৭৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার একটি সহায়তা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার ১ হাজার ২শ’ ৬৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা জিওবি এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে ৪ হাজার ৪ শ’ ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থায়ন হবে। যা বাস্তবায়ন হবে ২০১৫ সালের মে থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে বলে টিটিপিতে উলে¬খ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় থাকছে, বেজ লাইন সার্ভে ও মনিটরিং,অফিস ভবন/প্যাট্রোল পোষ্ট সংষ্কার,পন্টুন ও গ্যাংওয়ে মেরামোত,কমিউনিটিভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা,৬০ হাজার কিঃমিঃ বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ,আন্তর্জাতিক সেবা,দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ ও ষ্টাডি ট্যুর,যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়,প্রশিক্ষণ,ওয়ার্কশপ,সেমিনার ও মিটিং আয়োজন করা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় দু’বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। সর্বশেষ ১৫’সালের জরীপে গত ১ দশকে সুন্দর বনের বাঘ কমেছে ৩৪০টি। এর মাত্র ১ বছরের ব্যাবধানে বনবিভাগের দ্বিতীয় দফার ক্যামেরা ট্রাফিংয়ে বাঘের সংখ্যা বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত, এমনটাই জানিয়েছেন বন বিভাগ।