Sunday, December 13, 2015
ইসলামী ব্যাংক বৈধ ব্যবসা করে, টাকা নিয়ে অন্যায় করিনি : পরিকল্পনামন্ত্রী
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ক এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এই সেমিনারের আয়োজন করে।
শনিবার এক অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, আমি মনে করি ইসলামী ব্যাংককে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের স্পনসর করে সরকার ভুল করেছে। এর মাধ্যমে সরাসরি ইসলামী ব্যাংককে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে এটা ঠেকাতে আমি তখন সরকারকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু আজকের পরিকল্পনামন্ত্রী লোটাস কামালের (পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল) কারণে সেটা ঠেকানো যায়নি।
আবুল বারকাতের ওই মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, যারা জীবনে কিছু করে নাই, তারাই এসব মন্তব্য করতে পারে। ইসলামী ব্যাংক যদি মৌলবাদে অর্থায়ন করে বা কোনো অন্যায় কাজ করে, সেটা দেখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক রয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে পাঁচ-ছয়জন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগও দিতে পারে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘তাহলেই আইএসকে পরাজিত করা সম্ভব'
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই বেড়ে চলা উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়ায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে কথা বলতে রাশিয়া ডিরেক্ট বসেছিল ভালদাই ক্লাবের এক সদস্য, অধ্যাপক এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়ার্ল্ড ইকোনমি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনার রিলেশনস’র প্রধান গবেষক মিরস্কাই-এর সঙ্গে। এ সাক্ষাৎকারে রাশিয়া কী করে এ অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করল, আইএসআইএসকে পরাজিত করা কেন প্রায় অসম্ভব এবং সিরিয়ার রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের ইতি টানতে কী কী প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে, তিনি তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রাশিয়া ডিরেক্ট : সিরিয়ায় রাশিয়ার এই ভয়ঙ্কর ও ধারণাতীত হস্তক্ষেপের কারণ কী?
জর্জি মিরস্কাই : ধারণাতীত বলছেন কেন? একটি পর্যায় পর্যন্ত সবই অনুমান করা সম্ভব। তবে একটি বিষয়ে আমাদের ভুল হচ্ছে; আমরা ভাবছি আমাদের বিমান হামলার কারণে সিরিয়ার সেনাবাহিনী লাগাতার আক্রমণ করতে শুরু করবে (বিরোধী এবং আইএসআইএসের বিরুদ্ধে)। প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, সিরিয়ার সেনাবাহিনীর আক্রমণে যেতে যত দিন প্রয়োজন তত দিন আমাদের বিমান হামলা চলবে।
তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাশিয়া বিমান হামলা শুরু করার পরও এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছে সিরীয় সেনাবাহিনী। অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কত দিন পর্যন্ত ওখানে বোমা হামলা চালানো সম্ভব? এখন সিরিয়ায় বোমা হামলা চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন। সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু সিরীয় সেনাবাহিনী (রুশ সেনাবাহিনীর সমর্থন এবং বিরোধীদের ওপর বিমান হামলা সত্ত্বেও) পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। কেন? এর মানে কি, আমরা বোমা হামলা বন্ধ করব? সিরিয়া অভিযানের ফলাফল কী হতে পারে তার হিসাব করার ক্ষেত্রে রাশিয়া ব্যর্থ হয়েছিল বলেই মনে হচ্ছে।
এখানে অস্বস্তিকরভাবে আরেকটি প্রশ্নও চলে আসে। রাশিয়ার এই অভিযান শুরু করার কারণ কী? বলা হচ্ছে, মিসরে আমাদের যাত্রীবাহী বিমানের করুণ পরিণতি এবং তুরস্কের রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার জবাব দিতেই এই হামলা শুরু করা হয়েছে। কাজেই এখন ক্রেমলিনের পক্ষে সিরিয়ায় বিমান হামলা বন্ধ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ সিরিয়া অভিযানের পরিণতি অনুমানে ব্যর্থ হয়েছে রাশিয়া। এর অর্থ কি এই যে, এ হামলা চলতেই থাকবে? কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেটাই বা কতটুকু সম্ভব?
আকাশ থেকে বোমা ফেলা খুব সহজ, তবে ভূমিতে পা ফেলার কথা কেউ কি ভাবছে? এ বিষয়টি নিয়ে কারো আগ্রহ নেই। রুশ নেতৃত্ব বহুবার বলেছে, সিরিয়ায় স্থলসেনা মোতায়েন করা হবে না। কাজেই সিরিয়ার সেনাবাহিনী পরাস্ত হচ্ছে এবং এ নিয়ে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। না সৌদি আরব, না জর্ডান, না আর কারো।
আইএসকে সামরিকভাবে পরাজিত করা যেতে পারে। যদি ওবামা ইরাকে দুই লাখ সেনা পাঠান আর পুতিন দুই লাখ সেনা পাঠান সিরিয়ায়, তাহলেই আইএসআইএসকে পরাজিত করা সম্ভব। কারণ এরা অদৃশ্য কোনো সেনাবাহিনী নয়। কিন্তু কোনো দেশই স্থলসেনা পাঠাবে না। কাজেই সব দরজা এখানে এসে বন্ধ হয়ে যায়।
রাশিয়া ডিরেক্ট : অনেকেই বিশ্বাস করেন, ভিয়েনা আলোচনার মাধ্যমে সিরিয়ায় রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছা সম্ভব। আপনার দৃষ্টিতে এই সংঘর্ষের কূটনৈতিক সমাধানের পথে প্রতিবন্ধকতা কী কী?
জর্জি মিরস্কাই : এমন কোনো সুযোগই নেই। একটি বিষয় স্পষ্ট, রাজনৈতিক সমাধানের জন্য ‘প্রথম শক্তি’ (সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সেনাবাহিনী) এবং তৃতীয় শক্তিকে (বিরোধী এবং ফ্রি সিরিয়ান আর্মি) সমঝোতায় আসতে হবে। তাদের ‘দ্বিতীয় শক্তি’কে (আইএস এবং জাবহাত আল-নুসরা) হারানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শুধু সে ক্ষেত্রেই রুশ বিমান হামলার সহযোগিতা নিয়ে তারা আইএসকে পরাজিত করতে পারবে। কিন্তু কখনোই তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না। এ কারণেই এই সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব- এমন বিশ্বাসের কোনো কারণ নেই।
রাশিয়া ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, আসাদের প্রতি তারা কখনোই সমর্থন প্রত্যাহার করবে না। আমরা ফ্রান্সকেও এ ক্ষেত্রে রাজি করাতে পারি (ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ রাজি হওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছেন), যুক্তরাষ্ট্রও হয়তো সমঝোতা করতে গররাজি হবে না। তবে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
একেবারে অবাস্তবভাবে আপনি যদি ভাবতে চেষ্টাও করেন যে, তারা শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে, তাহলেও তাদের কী করে সামলাবেন যারা গত চার বছর ধরে লড়াই করে রক্ত ঝরাচ্ছে? প্রতিনিয়তই এরা বন্ধু আর স্বজনদের কবরস্থ করে যাচ্ছে। তারা কখনোই আসাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবে না। কখনোই না।
রাশিয়া ডিরেক্ট : অনেকেই মনে করেন, সিরিয়ায় রাশিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। হস্তক্ষেপের আগেই পুরো বিষয়টি প্রচণ্ড অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল। আপনি কি এর সঙ্গে একমত?
জর্জি মিরস্কাই : পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে গেছে। কারণ দীর্ঘ দিন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই বা দেরিতে হলেও সিরীয় সেনাবাহিনী পরাজিত হবে। এখন অবধারিতভাবেই তেমন কিছু আর ঘটবে না। আসাদকে রক্ষা করা পুতিনের মান রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরেকটি বিষয়ও আছে; বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইএসআইএসকে পরাজিত করতে চায়। তবে আজকের পরিস্থিতিতে এটা স্পষ্ট যে, তেমন কিছু আর সম্ভব নয়।
অন্য দিকে আইএসআইএসকে দেখুন। সবাই একে ঘৃণা করে আবার ভয়ও পায়। বাস্তবে কেউ তাদের সঙ্গে লড়াই করছে না। লড়াইয়ের ভান করছে মাত্র। এদের মধ্যে ইরান, সৌদি আরব এবং অন্যরাও রয়েছে। আসাদও সেই একই ভান ধরে আছেন, যেন তিনি আইএসআইএসের সঙ্গে লড়ছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি ‘তৃতীয় শক্তি’ অর্থাৎ ফ্রি সিরিয়ান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। ইরাকের অবস্থাও অনুরূপ। তাদের দাবি, আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়ছে তারা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইরাকিরা নিজেদের এবং বাগদাদকে রক্ষা করে চলেছে; ঠিক যেমনটি কুর্দিরা নিজ ভূখণ্ড রক্ষা করার জন্য লড়ে যাচ্ছে।
পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছে বলে জানিয়ে আসছে বহু দিন থেকেই। কিন্তু সত্যিটা হলো, খুব বেছে বেছে বোমা ফেলছে তারা যাতে করে হতাহতের সংখ্যা বেশি না হয়। সিরীয়দের মৃত্যুর জন্য ওবামাই দায়ী- এমন একটি অভিযোগ থেকে প্রেসিডেন্টকে বাঁচাতে চাইছে তারা। দেখুন, এখানে সবাই কিন্তু দাবিই করছে। কারণ সবারই নিজ নিজ দ্বিগুণ, তিন গুণ কর্মসূচি আছে, স্বার্থ আছে।
রাশিয়া ডিরেক্ট : এমন অভিযোগও রয়েছে যে, আমরা আইএসআইএসের সম্ভাবনাকে অতিরঞ্জিত করছি। কারো কারো যুক্তি হলো, এটি একটি প্রকল্প মাত্র, একটি রাষ্ট্র সৃষ্টির চেষ্টা- যার কোনো দীর্ঘমেয়াদি দর্শন নেই।
জর্জি মিরস্কাই : এটি আসলেই একটি রাষ্ট্র। প্রয়োজনীয় সব মন্ত্রণালয়, সব সংস্থা, প্রশাসন ও প্রচারণা- সবই তাদের আছে। এর সশস্ত্র বাহিনী আছে। তবে যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের ঘাটতি রয়েছে। তার পরও একটি রাষ্ট্রের যা যা প্রয়োজন তার প্রায় সবই তাদের আছে।
রাশিয়া ডিরেক্ট : আইএসআইএসবিরোধী জোটকে কি হিটলারবিরোধী জোটের সঙ্গে তুলনা করা যায়? গেলে কতটা?
জর্জি মিরস্কাই : হিটলার সত্যিকার অর্থেই পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি ছিলেন। সবাই বিষয়টি বুঝত। সবাই বুঝত যে, শুধু ঐক্যবদ্ধ শক্তিই তাকে ধরাশায়ী করতে পারবে। অন্যথায় পুরো বিষয়টিই একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হতো। সভ্যতা ধ্বংস হতো। আইএসআইএসের ক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে, তারা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনকেও মোকাবেলা করতে পারবে না। এর ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। হিটলারবিরোধী শক্তির সাথে আইএসআইএসবিরোধী জোটের তুলনা করার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
রাশিয়া ডিরেক্ট : তা হলে এই তুলনা আপনার কাছে বাগাড়ম্বর মনে হচ্ছে?
জর্জি মিরস্কাই : না। তা হবে কেন? বিষয়টি হলো, তুলনা করা মানুষের স্বভাব। মানুষ সাদৃশ্যও খোঁজে। কারণ এগুলো মানুষকে বুঝতে সহায়তা করে। সাদৃশ্য পেলেই বিষয়টি তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।
রাশিয়া ডিরেক্ট : আমরা সাদৃশ্যগুলোই খুঁজে ফিরি। যখন রাশিয়া সিরিয়ায় বোমা ফেলতে শুরু করল, তখন এর সাথে তুলনা শুরু হলো ১৯৭৯ সালে রাশিয়ার আফগানিস্তান অভিযানের। গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রচুর কথা বলেছে।
জর্জি মিরস্কাই : আমি সাদৃশ্যের ভক্ত নই। কারণ আনাড়ি লোকেরা এসব খুঁজে ফেরে। গভীরভাবে বোধ তৈরি হওয়া কিংবা ইতিহাস, সমাজ, ধর্ম বোঝার আগেই পুরো বিষয়টিকে তারা খুব সহজ করে ফেলে। তাদের বিশ্বাস, সাদৃশ্য খুঁজে পেলেই সবকিছু খুব সহজেই ব্যাখ্যা করে ফেলবে তারা।
রাশিয়া ডিরেক্ট : আপনি কি মনে করেন ১৩ নভেম্বর প্যারিস হামলা এবং মিসরে রুশ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা রাশিয়ার সাথে পশ্চিমাদের ঐক্যবদ্ধ করতে ভূমিকা রাখতে পারে?
জর্জি মিরস্কাই : কোনোভাবেই না। পশ্চিমারা খুব ভালো করেই বোঝে, পুতিন সিরিয়ায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যাননি। বরং আসাদকে রক্ষা করতে গিয়েছেন। আর পশ্চিমারা আসাদকে উৎখাত করতে চায়। কাজেই এ ধরনের একটি পরিস্থিতিতে জোট হওয়ার প্রশ্ন অবান্তর।
রাশিয়া ডিরেক্ট : তাহলে কূটনীতিক ও রাজনীতিকদের জন্য কোন সমাধানের পথ বা উপদেশ দিতে চান আপনি?
জর্জি মিরস্কাই: সমাধানের কোনো পথ নেই, কোনো উপদেশও নেই। এ বিষয়ে কথা বলাই অর্থহীন। কারণ বিবেচনাবোধ আছে এমন লোকদেরই আপনি উপদেশ দিতে পারেন। যারা নিজের নাকের ডগার চেয়েও সামনে দেখতে পারেন, যারা নিজ দেশ, দল, কংগ্রেস, নিজের মেয়াদ, শ্রোতা- সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেন বিশ্ব মানবতার মূল্যবোধ ও স্বার্থকে- শুধু এ ধরনের লোকই আপনার উপদেশ শুনবে। কিন্তু (রাজনীতির) বিশ্বে এমন কোনো মানুষ নেই। কাজেই (রাজনীতিবিদদের) কোনো বিষয় নিয়েই কোনো উপদেশ দেয়ার কোনো মানে হয় না।
১.ভালদাই ক্লাব : ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ক্লাব বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জন্য রাশিয়া এবং পুরো বিশ্বে পরিচিত ও প্রশংসিত। বিশ্বের ৬২টি দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নয় শতাধিক শিক্ষাবিদ ও গবেষক এই সংগঠনের সদস্য।
অনুবাদ : তানজিলা কাওকাব
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘এই যে মেরুদণ্ড, একদম সোজা’ by ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রহসনমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সাজায় সরকার। এদের কেউ দুগ্ধপোষ্য শিশু নন, প্রত্যেকেরই বয়স হয়েছে। যা এদের কারো কারো ভেতরে তৈরি হয়নি, তা হলো মেরুদণ্ড ও আত্মমর্যাদাবোধ। মানুষের আত্মমর্যাদাবোধের সৃষ্টি হয় উপযুক্ত শিক্ষা থেকে। চরিত্রের দিক থেকে এরা নতজানু হিসেবে তৈরি হয়েছেন। আর সরকারও খুঁজে খুঁজে এমন প্রার্থীদেরই এনে নির্বাচন কমিশনে বসিয়েছে। এরা যে ধরনের লোকই হোন না কেন, যে পদে তাদের বসানো হয়েছে, তা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সেটি উপলব্ধি করার ক্ষমতাও যেন এদের নেই। ফলে ব্যর্থ হয়ে গেল কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আকুতি : ‘তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শকতি’। মেরুদণ্ডহীনদের হাতে পতাকা তুলে দেয়া হলো বটে, কিন্তু সে পতাকার ভার বইবার শক্তি তাদের ছিল না। ফলে তারা কুণ্ডুলি পাকিয়ে গুটিয়ে গেলেন।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দল ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল। ফলে ভোটকেন্দ্রে আসেনি তেমন কেউ। নির্বাচনকেন্দ্র্রে কুকুরদের নরম রোদ পোহাতে দেখা গেছে। চেয়ার পেতে অলস বসেছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঘুমিয়ে ছিলেন পোলিং অফিসাররা। নারী ভলান্টিয়াররা মগ্ন ছিলেন খোশগল্পে। পাঁচ শতাংশও ভোট পড়ল না কেন্দ্রগুলোতে। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেননি। বিনা ভোটে পছন্দের লোকেরা এমপি হয়ে গেছেন নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায়। প্রায় ৫০ কেন্দ্রে একজন লোকও ভোট দেয়নি। এমনকি সেখানে আওয়ামী লীগসহ তাদের মহাজোটের কয়েক হালি করে কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন, ছিলেন পোলিং এজেন্টরা। কিন্তু তারা কেউ নিজের ভোট দেয়ার প্রয়োজনও অনুভব করেননি। অর্থাৎ নির্বাচনের নামে যে তামাশা হচ্ছিল সেটা তারাও উপলব্ধি করেছিলেন। কেবল উপলব্ধি করতে পারলেন না নির্বাচন কমিশনার। তারা বেশ কয়েক দিন পর সরকারের ইচ্ছামাফিক গরমিলের হিসাবে বলে দিলেন, নির্বাচনে ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে! আত্মমর্যাদাবান তো দূরের কথা, তাদের সুস্থ মানুষ ভাবতেও কষ্ট হয়।
এই নির্বাচন দেখে সারা পৃথিবী বিস্ময়ে হতবাক। গোটা দুনিয়া বলল, এটা কোনো নির্বাচনই হয়নি। বাংলাদেশ যে একটি গণতান্ত্রিক দেশ, এটা প্রমাণ করতে চাইলে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। সরকার প্রথম দিকে মিনমিন করছিল- এটা নিয়ম রক্ষার, সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। শিগগিরই আরেকটি নির্বাচন দেয়া হবে।’ এই সরকারকে স্বীকৃতি দিলো একমাত্র ভারত। আওয়ামী লীগ সরকারকে জেতানোর জন্য ভারতের কংগ্রেস সরকার করেনি এমন কোনো কাণ্ড নেই। নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় এরশাদকে নির্বাচনে নিতে মনমোহন সরকার তার পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংকে ঢাকায় পাঠিয়ে রীতিমতো থ্রেট করে গেলেন। এরশাদ সে কথা মিডিয়ায় প্রকাশও করে দিলেন। যা হোক, ভারতের সমর্থনে সরকার মনে করল- বিশ্বজয় হয়ে গেছে। তারপর সরকারের লোকেরা একেবারে বজ্রকণ্ঠে বলতে থাকলেন, ২০১৯ সালের আগে আর কোনো সংসদ নির্বাচন নয়। আর সে নির্বাচনও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতোই শেখ হাসিনার অধীনেই হবে।’
তখন আনাড়ি বিশ্লেষকদের মিনমিনে একটি সমালোচনাও ছিল যে, বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। সরকার বলল, বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এরপর একে একেবারেই ধুলায় মিশিয়ে দিতে মামলা-হামলা, গুম-খুন শুরু করল। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে পোরা হলো। মহাসমারোহে শুরু হলো স্বেচ্ছাচারী শাসনকাল।
এতে বিএনপির জন্য সঙ্কটের সৃষ্টি তো হলোই; তারপর এলো উপজেলা নির্বাচন। এ কথা একটি শিশুও বোঝে যে, দেশে যদি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে জয়ী হওয়া সম্ভব হবে না। ইতোমধ্যে জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন দেশ সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখল সুষ্ঠু নির্বাচন ও একটি নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। অনেকেই আশা করতে থাকলেন, এত ঘটনার পর বোধ করি উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। অতএব, এই নির্বাচনে বিএনপির যাওয়া উচিত। তিন দফায় সে নির্বাচনের ঘোষণা দিলো নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফা নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের তুলনায় সিকি ভোটও পেলেন না আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা। সরকার কিংবা তার পছন্দসই নির্বাচন কমিশন হয়তো ধারণাও করতে পারেনি যে, কী বিপুল ধস নেমেছে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায়। তাই সম্ভবত ভোটডাকাতির চিন্তা তখন এত ব্যাপকভাবে করা হয়নি। ফলে জনগণ তাদের জবাব দিয়ে দিলো।
উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন যুক্তি করে ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলে নেমে পড়ল। র্যাব-পুলিশ-বিজিবি এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগসহ নানা কিসিমের লীগ সেই সাথে নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা একত্র হয়ে ভোটডাকাতি ঘটতে থাকে। বিরোধী দলের ভোটারদের যেতে দিলো না বুথের আশপাশেও। ভোটকেন্দ্র দখল করে গণহারে সিল মারল আওয়ামী লীগের ব্যালটে। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া গেল না। তারা পাথরের মূর্তির মতো নিশ্চল নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলেন। কোনো ব্যবস্থাই নিলেন না। তারা যেসব বিধিবিধান করেছিলেন, সেগুলো রয়ে গেল কিতাবের পাতায়। বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না। তাই দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার নির্বাচনে বেশিসংখ্যক আসনে জয়ী ঘোষণা করা হলো আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে মানুষ দুয়ো দিলো। কিন্তু দু’কান কাটার লজ্জা থাকে না। নির্বাচন কমিশন এবার রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটতে শুরু করল।
এখন দেশে ২৩৫টি পৌরসভায় নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন বুঝে গেছে, এ যাত্রায় সুষ্ঠুভাবে ভোট হতে দিলে সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থনহীনতা প্রকাশ হয়ে পড়বে। আর সে কারণেই ভোট কারচুপি আর জাল ভোট গণহারে সিল মারা প্রভৃতির সুবিধার্থে ঘোষণা করা হলো, পৌরসভা নির্বাচন হবে দলীয় ভিত্তিতে। অর্থাৎ প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবেন। সরকার এ নিয়ে তাড়াহুড়া করে একটি ত্রুটিপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করাল। তাতে বলা হলো, পৌর মেয়র ও সব কমিশনার নির্বাচন করবেন দলীয় প্রতীক নিয়ে। পরে দেখা গেল, সেটা একেবারেই অসম্ভব। ফলে সংশোধনী আনা হলো। না, শুধু মেয়ররা নির্বাচন করবেন দলীয় প্রতীকে। বাকিরা দলীয় প্রতীক পাবেন না। বারবার পরিবর্তন করতে হলো সিদ্ধান্ত। সরকারের আনাড়িপনার এটাও এক নগ্ন উদাহরণ। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে কথা বলারও প্রয়োজন অনুভব করেনি। সরকার যা বলেছে, একান্ত বাধ্যগতের মতো তাই করে গেছে নির্দ্বিধায়। আবার সরকারি নির্দেশ মতোই তাদের দু’বার বিধিবিধান সংশোধন করতে হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি এবং সরকারের শরিক এরশাদ ও মেনন প্রস্তুতির জন্য নির্বাচন দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানালে কমিশন তা বিনা বাক্যব্যয়ে বাতিল করে দেয়। তারা অনুগত সরকারের; বিএনপি, এরশাদ বা মেননের নয়।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের জন্য নানা ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তা ছাড়া আগের আইনকানুন তো রয়েছেই। সেসব আইনকানুনের মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলে কাউকে বাধা দেয়া যাবে না। কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া যাবে না। কোনো মন্ত্রী-এমপি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না; ইত্যাদি ইত্যাদি। একজন মাত্র মেয়র প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবেন দলের মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে। কিন্তু দেখা গেল আওয়ামী লীগ নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন, তার মনোনয়ন কোনো কারণে বাতিল হয়ে গেছে। তখন নতুন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেন নেত্রী আর নির্বাচন কমিশন সুড়সুড় করে তা মেনে নিলো। বিভিন্ন স্থানে বিএনপির শতাধিক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমাই দিতে দেয়া হলো না। সে অভিযোগ আমলে নিলো না নির্বাচন কমিশন। মনে হয় যেন ভাবখানা এ রকম যে, ‘তোমাদের তো জিততে দেয়া হচ্ছে না, তাহলে এত হল্লাচিল্লা করছ কেন। তফাত যাও।’ এমনকি আওয়ামী সরকারের অংশ এরশাদ পর্যন্ত অভিযোগ করেছেন, সরকারি দলের লোকেরা তার দলের প্রার্থীদেরও মনোনয়নপত্র দাখিল করতে দেয়নি। শুধু ফেনীতেই ৩৪টি আসনে কাউকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি আওয়ামী লীগ। ফলে এ দলের ৩৪ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েগেছেন।
এ দিকে কমিশন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে প্রশাসনিক ক্যাডারদের। এক কমিশনার যুক্তি দেখালেন, তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞ কর্মকর্তা না থাকায় তারা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধার করেছেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, ইসি আর প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মিলেমিশে একটি চমৎকার নির্বাচন উপহার দেবেন। কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার মুরোদ আছে, সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়? তারা ইতোমধ্যেই এমন কাজ করেছেন। তারা বিএনপি প্রার্থীর হলফনামা সরিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে বলেছেন, ‘তথ্যে ভুল আছে। অতএব, বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল।’ অথচ এসব নিয়ে ইসি একেবারেই নিশ্চুপ। উপরন্তু এই নির্বাচন কমিশন হাস্যকর রুচিহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তা না হলে তারা নারীদের নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফ্রক, চুড়ি, পুতুল, চুলা প্রভৃতি প্রতীক বরাদ্দের সাহস পেতেন না। নারীর প্রতি এই অবমাননার দায়ে তাদের কমিশন থেকে অব্যাহতি নেয়া উচিত ছিল।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন দুই মন্ত্রী। এমপিরা তো হামেশাই করছেন। ওই দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে দায় এড়িয়ে যান নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। যেন বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তাদের নয়। নিজেদের দায়িত্ব তারা চাপিয়ে দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসারদের ওপর। সরকারি কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, এটা কেউ চিন্তাও করতে পারেন না। আর সেটাই ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এই কমিশন আর তাদের একই প্রকৃতির রিটার্নিং অফিসার দিয়ে হবে সুষ্ঠু নির্বাচন? দেশের মানুষ এতটা অবিবেচক হয়নি যে, এই নির্বাচন কমিশনকে তারা বিশ্বাস করে বসবে।
অতএব, পৌর নির্বাচনও সম্ভবত হতে যাচ্ছে এক বিশাল প্রহসন। আর ইতিহাস সাক্ষী, এ রকম ধড়িবাজদের পরিণতি সাধারণত বড়ই করুণ হয়ে থাকে। অতএব, সামনে ঘোর দুঃসময়!
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক্স-রে যন্ত্র তিন বছর ধরে নষ্ট থাকে কীভাবে?
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের জন্য জাপানের সবচেয়ে বড় ঋণ–সহায়তা by মাসাতো ওয়াতানাবে
![]() |
| মাসাতো ওয়াতানাবে |
প্রিয় ফুল শাপলা ও সাকুরার নামে, কিংবা পতাকার নকশায় সাদৃশ্যের মতো আরও নানা আঙ্গিকে অন্তর্নিহিত আছে জাপান ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব, যা কোনো কার্যকারণ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্তরিক। আরও গভীরে দেখলে, আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর তেনশিন ওকাকুরার প্রগাঢ় সাংস্কৃতিক বিনিময়ের উত্তরাধিকার, যা মানুষে মানুষে আত্মিক সংযোগ ঘটায় এবং হৃদয়ে এক অতুলনীয় কোমল জায়গা তৈরি করে, যাতে এখন আমরা নিজেদের মাঝে অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পাই।
গত বছর বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীদের দ্বিপক্ষীয় সফরের সময় শুরু হওয়া ‘সমন্বিত অংশীদারত্ব’ দুই দেশের পরীক্ষিত বন্ধুত্বকে আরও বৃহৎ পরিসরে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে, যাতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘বিগ-বি’ বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টের আওতায় আরও জোরদার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা।
আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে জাপান সরকার তার ৩৬তম জাপানি ইয়েন ঋণ প্রকল্প ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার আওতায় ছয়টি প্রকল্পের জন্য সর্বমোট বরাদ্দ ১৩ হাজার ৩২৬ দশমিক ৫ কোটি ইয়েন (১১১.১ কোটি মার্কিন ডলার), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। নিঃসন্দেহে এযাবৎকালের বাংলাদেশের জন্য জাপানের সবচেয়ে বড় ঋণ-সহায়তা। এ ক্ষেত্রে ঋণের শর্তগুলো অতীব রেয়াতি, যার সুদের হার এবং পরিশোধকাল যথাক্রমে বার্ষিক ০.০১% এবং ৪০ বছর। এই ছয়টি প্রকল্প হলো: ১. প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিকরণ; ২. ঢাকা-চট্টগ্রাম পাওয়ার গ্রিড শক্তিশালীকরণ; ৩. শহুরে ভবনের নিরাপত্তা উন্নয়ন; ৪. সেতু উন্নয়ন; ৫. মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং ৬. স্থানীয় শাসনব্যবস্থা উন্নয়ন।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাওয়ার গ্রিড শক্তিশালীকরণ প্রকল্প মাতারবাড়ী সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পরিপূর্ণ করবে, যা সারা দেশের বৃহত্তম শহরগুলোতে দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রেরণে সহায়তা করবে। প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে, যা উৎপাদন খাতের বিবর্তন ত্বরান্বিত করবে এবং যা একটি উচ্চ মানসম্পন্ন আঞ্চলিক সরবরাহ কেন্দ্র হবে। সংক্ষিপ্ত আকারে, ৩৬তম ইয়েন ঋণ প্রকল্প, বিগ-বি পদক্ষেপের উন্নয়নের মাধ্যমে সহায়তা করবে, যা আমাদের ব্যাপক অংশীদারত্ব যৌথ পদক্ষেপ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে এবং বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে এবং মর্যাদা অর্জনে সহায়তা করবে।
এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ বাংলাদেশের জন্য তার সামাজিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। স্বাস্থ্য খাতে জাপান মা ও শিশুস্বাস্থ্যের ওপর জোর দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে ‘মা, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প’ এমন একটি পদ্ধতি, যা প্রশাসন ও নাগরিক উভয়কে সচল করবে। ‘উপজেলা সরকার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ স্থানীয় সরকারের পক্ষে স্থানীয় অধিবাসীদের আরও ক্ষমতাবান করবে, যা সরকারকে মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য আরও দ্রুত সাড়া দিতে ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।
এই প্রকল্পগুলো সামগ্রিকভাবে স্ব স্ব ক্ষেত্রে গুরুত্বের দাবিদার। এবং সুসমন্বিত হলে বিগ-বির সমান্তরালে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে নগর ও বেসরকারি খাতে উন্নয়ন উৎসাহিত করতে যোগাযোগ ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি করা।
বাংলাদেশের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলা দীর্ঘ সফরে সুসময়ে-দুঃসময়ে জাপান সব সময় পাশে থাকবে। আমি নিশ্চিত, ৩৬তম ইয়েন লোন প্যাকেজ বাংলাদেশকে কবিগুরুর দেশপ্রেমে সিক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আরও একধাপ এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উপমহাদেশের রাজনীতিতে মেরূকরণ আসন্ন
ঢাকার কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিষয়ে সাম্প্রতিক পাকিস্তানি মিথ্যাচারের পটভূমিতে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে যখন টানাপড়েন চলছে তখন ইসলামাবাদ থেকে কাকতালীয়ভাবে গত সপ্তাহে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঘোষণা দেন যে, মোদি পাকিস্তান সফর করবেন। এটা লক্ষণীয় যে, ভারত এবারে গোড়া থেকেই সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে চলেছে। গত জুলাইয়ে রাশিয়ার উফ শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এর শীর্ষ সম্মেলনকালে মোদি-নওয়াজ বৈঠকে মিলিত হন। ১০ই জুলাই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস. জয়শঙ্কর এবং তার পাকিস্তানি প্রতিপক্ষ আজিজ আহমেদ চৌধুরী এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যে, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নওয়াজের আমন্ত্রণ মোদি গ্রহণ করেছেন।
গত ৮ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সফররত ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ‘‘শুরুটা ভারতের প্রধানমন্ত্রীই করছেন। আগামী বছরেই তিনি যাচ্ছেন পাকিস্তান সফরে ‘সার্ক’ সম্মেলনে যোগ দিতে। ওই সময় আমিও আসবো প্রধানমন্ত্রীজীর সঙ্গে।’’
উল্লেখ্য, সার্ক সনদ অনুযায়ী কোনো একটি দেশের সরকার বা নির্বাহী প্রধান সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকার করলে সার্ক শীর্ষ বৈঠক করা সম্ভব নয়। ২০০৪ সালে ‘সার্ক’ জোটের সম্মেলনে যোগ দিতেই ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। সেটাই ছিল কোনো ভারতীয় শীর্ষ নেতার শেষ পাকিস্তান সফর।
ভারতের মিডিয়া বলেছে, বন্ধুত্বের হাতটা ভারতই প্রথম বাড়িয়ে দিতে চাইলো এই উপমহাদেশে শান্তির জন্য। দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করে তোলাই এর লক্ষ্য। আগামী বছরেই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৫ বছর পর এই প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন পাকিস্তানে। ‘সার্ক’ জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে।
বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ইসলামাবাদে গিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়েছেন ভারতীয় উপমহাদেশ সহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপরে। আর সেই লক্ষ্যে আগামী বছরেই পাকিস্তান, চীন, আফগানিস্তান সহ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রীদের ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানালেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ইসলামাবাদে সুষমা টুইট করেছেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের তাগিদ দিয়ে।
আফগানিস্তানের উন্নয়ন নিয়ে গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে ‘হার্ট অফ এশিয়া সম্মেলনে’র পঞ্চম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়ে আমরা এখন অনেক পরিণত হয়েছি। আমাদের আত্মবিশ্বাসও অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরাই প্রস্তাব দিচ্ছি, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করে তোলার জন্য যা যা করণীয়, তা করা হোক। সেটা যত দ্রুত করা যায় ততই ভালো। তবে আমাদের কোনো ব্যস্ততা নেই। পাকিস্তান তার জন্য যতটা সময় চায়, আমরা সেই সময় দিতে রাজি আছি। দক্ষিণ এশিয়ায় সবক’টি দেশের মধ্যেই পণ্যের আদান-প্রদান ও ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তার জন্য যে সব বাধা রয়েছে, সেগুলো সরানোর জন্য এই অঞ্চলের সবক’টি দেশকেই আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’’ তিনি আন্তঃসার্ক কানেকটিভিটি ও ট্রানজিটের ওপর জোর দিয়েছেন।
পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান থেকে ভারতে পণ্য আসার ব্যাপারে ইসলামাবাদ যাতে আপত্তি না করে, তার জন্যও এ দিন অনুরোধ জানান ভারতের বিদেশমন্ত্রী।
আফগানিস্তান নিয়ে ‘হার্ট অফ এশিয়া সম্মেলন’-এর পঞ্চম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে গত ৮ই ডিসেম্বর ইসলামাবাদে পৌঁছান ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। অতিথিদের সম্মানে দেয়া নৈশভোজে গতকাল ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে বেশকিছু ক্ষণ আলোচনা হয় পাক বিদেশমন্ত্রী সরতাজ আজিজের। পরে ওই সম্মেলনে সুষমার পাশের আসনটিতে বসে থাকতে দেখা যায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীকে। তিন বছর পর এই প্রথম ভারতের কোনো বিদেশমন্ত্রী গেলেন ইসলামাবাদে।
ওই সম্মেলন চলার সময়ে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গেও আলাদা ভাবে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সূত্রের খবর, কাশ্মীরের মতো কয়েকটি বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ঢাকার পর্যবেক্ষকরা বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে এরকম শান্তিপূর্ণ আলোচনা অত্যন্ত বিরল। নব্বইয়ের দশকে একাধিকবার এই কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দুই দেশ মুখ দেখাদেখি বন্ধ রেখেছে। এবার বিরাট ব্যতিক্রম।
উল্লেখ্য যে, ১৯৮৫ সালে প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়। এই কাশ্মীর প্রশ্নে অন্তত ৫টি সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ৩১ বছরে সার্ক সামিট হওয়ার কথা ৩১টি। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে ১৮টি। এক ডজন সার্ক সম্মেলন প্রধানত দুই দেশের বৈরিতায় ভেস্তে গেছে।
সুষমা বলেছেন, ‘‘দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও জোরদার করা আর সেই প্রয়াসকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই আমি ইসলামাবাদে এসেছি।’’
কিছু দিন থমকে থাকার পর মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই সম্প্রতি দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক হয় ব্যাংককে। সেই বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর, সীমান্ত সমস্যা, সন্ত্রাস দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ঘণ্টা চারেকের বৈঠক হয় দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে। পরে তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যৌথ বিবৃতিও দেয়া হয়।
ঢাকার পর্যবেক্ষকরা বলেন, দুই দেশের দুই দক্ষিণপন্থি সরকারের মধ্যকার এরকম দহরম মহরম দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে সামনের দিনগুলোতে কি প্রভাব ফেলে সেটা দেখার জন্য অনেকেই আগ্রহী থাকবেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আপাতত সব থেকে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে মনে করা হয়। অনেকে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথাও বলছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উন্নয়নে সহযোগিতায় প্রস্তুত ভারত
সরকারের সঙ্গে সব সময় ডিল করে ভারত: মতবিনিময়কালে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা এবং ভারতের বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যোগাযোগের চেষ্টার বিষয়ে হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে সব সময় ‘ডিল’ করে ভারত। তার ভাষায়, যখন যে সরকারে থাকে তার সঙ্গেই আমরা ডিল করি। এটাই আমাদের পলিসি, আমরা এই নীতিতে চলি। ভারত সব সময় সরকারগুলোর সঙ্গে ডিল করে। ভারত মনে করে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল, আজকের দিনেও এ অবস্থানে কোনো পরিবর্তন নেই। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বর্তমান ব্যবস্থায় ভারত খুশি কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কিভাবে তার লিডারশিপ নির্বাচন করবে এবং এখানে শাসনব্যবস্থা কিভাবে চালাবে- এ ব্যাপরে ভারত কোনো প্রেসক্রাইব করে না। তিনি বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা গণতন্ত্রকে সমর্থন করি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। একটি স্বাধীন দেশ কিভাবে চলবে তা তার দেশের জনগণই নির্ধারণ করবেন। নিরাপত্তা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে শরণ বলেন, আইএস বা আইএসআইএলের হুমকি একটি বৈশ্বিক বিষয়। ভারতও এ থেকে ব্যতিক্রম নয়। এদের মোকাবিলায় যেখানে যা প্রয়োজন ভারত সেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। হাইকমিশনার বলেন, আমার ধারণা বাংলাদেশ সরকারও একই কাজ করছে। দৈনন্দিন নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৪ সালের বর্ধমান বিস্ফোরণ নিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, আমরা একে-অপরকে সহযোগিতা করছি। বাংলাদেশে বিদেশিদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব দিতে চাননি। এখানে যা ঘটছে সে বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কারণীয় ঠিক করতে সমর্থ হবে বলে আশা করেন তিনি।
একই নৌকায় বাংলাদেশ-ভারত: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গত কয়েক বছরে ‘নতুন ধরনের আস্থা ও বোঝাপড়া জন্মেছে’ বলে মনে করে পঙ্কজ শরণ। এর ফলে অনেক ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান সহজতর হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। শরণ বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি (এলবিএ) দেখিয়েছে যে, দুই দেশ সবচেয়ে কঠিন ইস্যুসমূহও সমাধান করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এলবিএ সমস্যা নিষ্পত্তিতে অটল কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য কৃতিত্ব দেয়া হয়ে থাকে পঙ্কজ শরণকে। বাংলাদেশে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বহু উচ্চপর্যায়ের সফর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করাটা ছিল ‘সত্যিকারের সম্মান’। তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল এটি। আমি সৌভাগ্যবান যে, এমন এক সময় আমি উপস্থিত ছিলাম, যখন সম্পর্ক বিভিন্ন দিক থেকে উন্নতি হয়েছে। কয়েক দশক ধরে আটকে থাকা ইস্যুর বিষয়ে অগ্রগতিও আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। এ সময়ে আমাদের দুই দেশের পার্থক্য কমিয়ে আনা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি। আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে এটি ছিল খুবই সন্তোষজনক সময়। তিনি বলেন, এ সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, ভারতের জন্যও ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’।
এ সম্পর্কের ভবিষ্যত সম্পর্কে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিকগুলো বের করতে চাই আমরা। বিভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের বিষয়টি দুই দেশের জন্যই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ইস্যু সমাধানে সংলাপই একমাত্র উপায়। আবার তিনি এ-ও বলেন, বাস্তবতাকেও আমাদের মেনে নিতে হবে। আমাদের উভয়ই পানি স্বল্পতায় ভুগছে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিজের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তিনি বলেন, প্রায় প্রত্যেক খাতেই দুই দেশের সম্পর্ক উঁচু পর্যায়ে রূপান্তরের বিষয়টি আমি প্রত্যক্ষ করতে পেরেছি। তার মতে, বাংলাদেশ এখন পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় ‘অনেক বেশি পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী’। বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বে স্বীকৃত। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রতিটি শক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবের ব্যাপারে তিনি বলেন, ভারত সম্পর্কে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। তবে সেসব মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। কথা বলতে হবে, নিজেদের বার্তা পৌঁছাতে হবে। তার মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের গন্তব্য অভিন্ন। তার ভাষায়, পছন্দ করি অথবা না করি, আমরা একই নৌকায় চড়েছি। হয় আমরা একসঙ্গে চলবো, নয়তো একসঙ্গে ডুববো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানছুরা ধর্ষণের পর সাদা কাগজে সই নেয় মাতবররা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘পৌর নির্বাচন নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্র আমরা বুঝি’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিদেশিদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা by আলী ইমাম মজুমদার
![]() |
| বিদেশিদের নিরাপত্তায় গুলশান-বারিধারায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন |
মাত্র কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা বলে তাদের নির্ধারিত ও সব প্রস্তুতি নেওয়া সফরসূচি বাতিল করে। আবার এর কিছুকাল পরেই তাদের ফুটবল দল এখানে এসে খেলে যায়। বরাবরই এ ধরনের খেলোয়াড়দের জন্য সরকার বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়। সাম্প্রতিক কালের ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে তা জোরদারও করা হয়েছে। এতে তাদের আশ্বস্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে দেশটি অতিসম্প্রতি তাদের সব স্বেচ্ছাসেবককে বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বলেছে। দূতাবাসকে নির্দেশ দিয়েছে তাদের জনবল ছেঁটে ফেলতে। এতে আমরা শুধু দুঃখিত বললে কম বলা হবে। বরং ক্ষুব্ধও। প্রশ্ন আসে, সব দেশের ক্ষেত্রেই কি তারা এমনটা করে? কয় দিন আগে প্যারিসে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটল, তা গোটা বিশ্ববাসীর জন্যই বেদনাদায়ক। আমরাও এর অংশীদার। সে নগরে তো আইএস নামক জঙ্গি সংগঠনটি নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে এমনটা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে হামেশাই খুনখারাবি হয়। এই সেদিনও ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি হলিডে পার্টির ওপর তিনজন বন্দুকধারীর গুলিতে ১৪ জন নিহত হন। সেখানে মাঝেমধ্যে স্কুলে ঢুকেও গুলি করে বাচ্চাদের মেরে ফেলে কেউ কেউ। সংবাদপত্র সূত্র থেকে জানা যায়, সে দেশে শুধু এ বছরই ৩৫৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে জোর দাবি থাকলেও অস্ত্র উৎপাদনকারীদের লবিং এটা হতে দিচ্ছে না। বছর কয়েক আগে মুম্বাইয়ের একটি হোটেলসহ নগরের অংশবিশেষ লম্বা সময় মাত্র কয়েকজন দুর্বৃত্তের নিয়ন্ত্রণে ছিল। খুন হয়েছে অনেক। প্যারিস হামলার পরেই সেখানে একটি শীর্ষ সম্মেলন হয়ে গেল। হওয়ারই কথা। যত বেদনাদায়কই হোক, কোনো দুর্ঘটনার জন্য তো সব স্থবির হয়ে যায় না। আর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে প্রতিদিন হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক যাচ্ছেন। যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, এমনকি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরাও। এটা তো স্বাভাবিক।
হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আমাদের তুলনায় অনেক জোরদার। তাদের বিত্ত-সামর্থ্য বিবেচনায় তাই হওয়ার কথা। তবে সে নিরাপত্তাব্যবস্থার মাঝেই তো ঘটনাগুলো ঘটছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আগাম সবকিছু জানার সুযোগ নেই। এর ফলেই এমনটা ঘটে। এ কথাটা আমাদের জন্যও প্রযোজ্য। তবে তারা দ্রুত অপরাধী শনাক্তকরণ ও বিচারের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। আর আমাদের এখানে এর ঘাটতি যথেষ্ট। তা ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ–জাতীয় ঘটনার তদন্ত ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্নমুখী করা হয়। যেমনটা ঘটেছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায়। এখনো এমন কিছু ঘটবে না এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না। আর তা ঘটলে প্রকৃত অপরাধী আড়ালে থেকে যায়। সুযোগ পায় নতুন করে অপরাধ ঘটানোর। তা ছাড়া প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতেও সময়ক্ষেপণ হয় কারণে-অকারণে। এসব করেই আমরা অন্য দেশগুলোকে আমাদের বিষয়ে বিরূপ ও অপমানজনক মন্তব্য করা ও ব্যবস্থা নিতে সুযোগ দিচ্ছি। আর তারাও বিবেচনাহীনভাবে বা ভিন্ন কোনো বিবেচনা থেকে আমাদের মতো দেশকে অপদস্থ করার সুযোগ হাতছাড়া করে না। এ দেশে আইএস নামক জঙ্গি সংগঠন আছে কি নেই—এ নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক। সেটা থাকুক বা না থাকুক, আমাদের এখানেও জঙ্গি তৎপরতা চলছে এবং তা দ্রুত দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা না করলে ডালপালা মেলে অধিকতর বিপদ ডেকে আনতে পারে। তবে ইউরোপে আইএস যে সক্রিয় সে প্রমাণ তো আমরা সেদিনই দেখলাম। আর আইএস কাদের সহায়তায় গঠিত এবং এর সুবিধাভোগী কারা এটা নিয়ে তো অনেক খোলামেলা কথাবার্তাই হচ্ছে। অন্তত আমাদের মতো দেশ এ বিপজ্জনক খেলায় নামেনি সেটা নিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রও তার নাগরিকদের আমাদের দেশ ভ্রমণে সতর্ক করেছে। আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামে সে দেশের সরকারের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ নেতিবাচক। তবে তাদের সুশীল সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছিল, এটা ভুলে যাওয়ার নয়। এককেন্দ্রিক বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বমূলক সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা অনেক। তা ছাড়া তাদের কিছু কিছু পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি রাখে। যেমন, গত জাতীয় নির্বাচনটি সাংবিধানিকভাবে বৈধ হলেও রাজনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল। একটি অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সে দুর্বলতা কাটানোর একটি পথ। তবে ইউরোপের কিছু দেশ এমনকি জাতিসংঘ আমাদের মানবাধিকার প্রশ্নে প্রায়ই যেসব কথা বলে, তা তর্কাতীতভাবে মেনে নেওয়া যায় না। মানবাধিকার দেশ, কাল ও স্থানভেদে ভিন্ন মাত্রা পায়। ইউরোপ প্রাণদণ্ড রদ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্য তা করেনি। করেনি জাপান, চীন ও ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত অনুরাগী মিসর ও সৌদি আরব শত শত লোককে প্রাণদণ্ড দিয়ে থাকে। মিসরে সামরিক বাহিনী তাদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রাণদণ্ড দিয়েছে। অবশ্য দণ্ড কার্যকর হয়নি এখনো। এসব ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কোনো জোর প্রতিবাদ করেছে এমনটা আমরা জানি না। আমাদের দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক ঘটনাই ঘটে থাকে। এগুলো নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে ও হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশও সে বিষয়ে কথা বললে অযৌক্তিক বলা যাবে না। তবে এসব বলতে নিজেদের অবস্থানটি একটু দেখে নিলে ভালো হয়। গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক যুদ্ধবন্দীদের জেনেভা কনভেনশনে স্বীকৃত সুবিধাদির কিছুই দেওয়া হয়নি। বরং সেখানে বছরের পর বছর চলেছে অমানবিক নির্যাতন। হতে পারে ওসামা বিন লাদেন ছিল সন্ত্রাসী নেতা। আমাদের অনেকের মাঝেই তার জন্য কোনো সহানুভূতি নেই। তবে তারও আইনের আওতায় বিচার পাওয়ার অধিকার ছিল। কিন্তু তা মেনে নেওয়া হয়নি। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অগোচরে সে দেশে সশস্ত্র হামলা করে তার মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে নিশ্চিহ্ন করা হয়। অবশ্য তারা এগুলো করেছে বলেই আমরাও মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে থাকব, এমন কোনো কথা নয়।
পাশ্চাত্য বিশ্বের কাছে আমরা অনেকভাবে ঋণী। আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে তারা সমৃদ্ধ করছে আমাদের জনসম্পদকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা ত্বরান্বিত করছে উন্নয়নের গতি। বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে তাদের দেশে। তাঁরা পেয়েছেন সমৃদ্ধ জীবনের স্বাদ। এ ছাড়া বিপন্ন মানবতার ডাকে ওই দেশগুলো লক্ষণীয়ভাবে সাড়া দেয়। সম্প্রতি সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীদের ইউরোপই আশ্রয় দিয়েছে উদারভাবে। অথচ তাদের জনশক্তি আমদানি করতে হয়। আমাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার হিসেবেও ইউরোপ আর আমেরিকা সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ওপর নির্ভর করতে হয় আমাদের। তবে একটি জাতির আত্মসম্মান অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেটি তাদের ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি প্রযোজ্য আমাদের ক্ষেত্রেও। অবশ্যই আমরা তাদের পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেব। আর তাদেরও কারণে-অকারণে আমাদের হেয় করার পথ থেকে দূরে থাকতে হবে।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসির তথ্যে গোলমাল
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ গতকাল মানবজমিনকে বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে যে আচারণবিধি করা হয়েছে তা লঙ্ঘিত হলে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়। এটা করতে পারলে কিছুটা হলেও ইসির নিরপেক্ষতা রক্ষিত হবে। বাকি বিষয়গুলোতো আর নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই। যেমন, মামলা দিয়ে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এগুলো তো সরকারই করে থাকে। এ মুহূর্তে সরকারকে এসব কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে কে? সরকারের কাছে নির্বাচন কমিশন তো অসহায়। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একতরফা নির্বাচন হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় পৌরসভা নির্বাচনও একতরফা হওয়ার কথা। কিন্তু এ নির্বাচনে গুণগত পরিবর্তন হয় কি না সেটা আর কিছুদিন পরে বোঝা যাবে।
গত বছরের শুরুতে পাঁচ ধাপে দেশের সাড়ে ৪ শতাধিক উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সহিংসতা বিএনপি সমর্থিত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ নিহত হয় প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী। আহত হয় কয়েক সহস্রাধিক। ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে। ভোটগ্রহণের আগের রাতেই কেন্দ্র দখল করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সভর্তি করে রাখেন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন ও সহিংসতা রোধে ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়ে ইসি। সংঘাত-সহিংসতার পেছনে কমিশনের উদাসীনতা ও সরকারের প্রতি নতজানু ভূমিকাকেই প্রধানত দায়ী করে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনে আগের দিন ও ভোটের দিন কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির টহলও সহিংসতা রোধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইসি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ইসি। নির্বাচনে প্রচুর পরিমাণে আচরণবিধি লঙ্ঘন তথা ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল ও জালভোটসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে পুলিশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সামনেই। কোনো কোনো জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লাঞ্ছিত করে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। যার ছবি ও সংবাদ গণমাধ্যমে আসে। এর পরেও ইসি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উপরন্তু শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে গণমাধ্যমে দাবি করে।
গত ২৮শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় দেশের বড় তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। নির্বাচনে তিন সিটিতেই ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটদানে বাধা, ভোট কারচুপি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের মারধর ও বের করে দেয় সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা। অনেক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারও এ অনিয়মে শামিল হন। যদিও ওই নির্বাচনও সুষ্ঠু হয় বলে নির্বাচন কমিশন দাবি করে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
December
(688)
-
▼
Dec 13
(12)
- ইসলামী ব্যাংক বৈধ ব্যবসা করে, টাকা নিয়ে অন্যায় করি...
- ‘তাহলেই আইএসকে পরাজিত করা সম্ভব'
- ‘এই যে মেরুদণ্ড, একদম সোজা’ by ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
- ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন
- এক্স-রে যন্ত্র তিন বছর ধরে নষ্ট থাকে কীভাবে?
- বাংলাদেশের জন্য জাপানের সবচেয়ে বড় ঋণ–সহায়তা by মাস...
- উপমহাদেশের রাজনীতিতে মেরূকরণ আসন্ন
- বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উন্নয়নে সহযোগিতায় প্রস্তুত ভারত
- মানছুরা ধর্ষণের পর সাদা কাগজে সই নেয় মাতবররা
- ‘পৌর নির্বাচন নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্র আমরা বুঝি’
- বিদেশিদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা by আলী ইমাম মজুমদার
- ইসির তথ্যে গোলমাল
-
▼
Dec 13
(12)
-
▼
December
(688)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









