Tuesday, September 17, 2024

বৃটেনের হোটেলে নারী আশ্রয়প্রার্থীদের যৌন হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান ডব্লিউআরডব্লিউ'র by আরিফ মাহফুজ

বৃটেনে এসাইলাম প্রার্থীদের জন্য আবাসন ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীদের যেমন হোটেলে বাসস্থান দিচ্ছে তেমনি নারী আশ্রয়প্রার্থীকেও হোটেলে রাখছে হোম অফিস কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা নানা ক্যাটাগরিতে এসাইলাম দাবি করছেন বৃটেনে। সম্প্রতি দেশটিতে এসাইলাম আবেদনকারীদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়ে যাওয়াতে আবাসন ঘাটতি মেটাতে হোটেলে রাখার কারণে নারী আশ্রয়প্রার্থীরা অমানবিক আচরণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এমনটি দাবি করেছে বৃটেন-ভিত্তিক সংগঠন উইমেন ফর রিফিউজি উইমেন (ডব্লিউআরডব্লিউ)।

দাতব্য সংস্থাটির একটি দল সাত নারী আশ্রয়প্রার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা। ''জবরদস্তি এবং নিয়ন্ত্রণ: হোটেলগুলোতে আশ্রয়প্রার্থী নারীদের প্রতি আচরণ'' শিরোনামের প্রতিবেদনে সংগঠনটি বলছে, হোটেলগুলোতে নারী আশ্রয়প্রার্থীরা হোটেল কর্মীদের মাধ্যমে যৌন হয়রানি ও বিভিন্ন অমানবিক আচরণের শিকার হয়ে থাকেন। দাতব্য সংস্থাটির একটি দল সাত নারী আশ্রয়প্রার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম, জবরদস্তি এবং নিয়ন্ত্রণ: হোটেলগুলোতে আশ্রয়প্রার্থী নারীদের প্রতি আচরণ। নারীর প্রতি সহিংসতার কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী নিজ দেশ থেকে পালিয়ে এসেছেন। বৃটেনে তাদের যে হোটেলে রাখা হয়েছে সেখানেও তাদের সঙ্গে জবরদস্তিমূলক আচরণ ও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা দুঃখজনক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হোটেলগুলোর জীবনযাত্রার চাপ নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর’ প্রভাব ফেলেছে। এ নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে তারা। জরিপে অংশ নেওয়াদের ৯১ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগেন এবং ৭৫ শতাংশ হতাশাগ্রস্ত। সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থী নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউআরডব্লিউ। বৃটিশ এই সংগঠন বলেছে, ‘‘হোটেলগুলোতে নারীদের প্রতি আচরণকে পাখির খাঁচার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। খাঁচার পাখি যেমন যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়তে পারে না তেমনভাবে এখানেও নারীরা নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে পারেন না।’’

এসব বিষয় নারীদের আত্মসম্মান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। উইমেন ফর রিফিউজি উইমেন (ডব্লিউআরডব্লিউ) নেটওয়ার্কের সাতজন সদস্য এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাসরত নারীদের অভিজ্ঞতার ওপর একটি অনলাইন সমীক্ষা চালিয়ে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন।

মোট ৬২ জন নারী শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী জরিপে অংশগ্রহণ করেন। এর বাইরে তারা জুলাই মাসে ১০ জনের সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। ডব্লিউআরডব্লিউ’র প্রতিবেদন সম্পর্কে বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, এগুলো গুরুতর অভিযোগ এবং আমরা জরুরি ভিত্তিতে এ ব্যাপারে তদন্ত করবো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশ্রয় ব্যবস্থায় কর্মীদের মাধ্যমে অন্যায় বা অপরাধের অভিযোগকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেয় ইনফোমাইগ্রেন্টস।

প্রতিবেদনে যেসব বিষয়গুলো উঠে এসেছে : নারীদের ওপর নিয়মিত নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ। হোটেল কর্মীদের অবমাননাকর আচরণ। যেমন: যৌন হয়রানি, কক্ষে অনুপ্রবেশ এবং কেন্দ্র থেকে বের হতে বাধা প্রদান, শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুমকি, সহায়তা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা।

‘ডব্লিউআরডব্লিউ’ সংগঠনটি বৃটেনের সরকারকে এই পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
mzamin

ভারতের দ্বিতীয় নারী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন অতিশী মারলেনা

দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন অতিশী মারলেনা। আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ  নেতাদের বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তার নাম ঘোষণা করেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির উপরাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনার সঙ্গে দেখা করে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন কেজরিওয়াল। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, কেজরিওয়াল নিজেই অতিশীর নাম প্রস্তাব করেছেন। উল্লেখ্য, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর অতিশীই এ বার দেশের দ্বিতীয় মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। দিল্লির আবগারি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি কেজরিওয়াল। তিনিই দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরেই আম আদমি পার্টির প্রধান কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। গত রোববার দুপুরে দলীয় এক সম্মেলনে আম আদমি পার্টির প্রধান জানিয়েছেন, দু’দিন পরেই মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেবেন তিনি। সঙ্গে এ-ও জানিয়েছেন, পুনরায় ভোটে না জেতা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনি আর ফিরবেন না। তার পর থেকেই দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পদে কেজরিওয়ালের উত্তরাধিকারী হিসাবে পাঁচ জন আপ নেতার নাম নিয়ে আলোচনা ছিল আপের অন্দরে।

এই পাঁচ নেতা হলেন অতিশী মারলেনা, সৌরভ ভরদ্বাজ, কৈলাস গহলৌত, গোপাল রাই এবং ইমরান হুসেন। এই পাঁচ নেতা ছাড়াও আলোচনায় ছিলেন কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতাও। সে ভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও স্বামীর গ্রেপ্তারের পর সুনীতাকেই দলের সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় দিল্লির বাসিন্দাদের কাছে কারাবন্দি কেজরিওয়ালের বার্তাও তুলে ধরতেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সকলকে পিছনে ফেলে দিলেন অতিশী। উল্লেখ্য, দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কেজরিওয়াল। গত ২১ মার্চ নিজের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। ইডির মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও সিবিআইয়ের মামলায় জেলেই থাকতে হয়েছে তাকে। সিবিআইয়ের গ্রেপ্তার চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেজরি। কিন্তু সেখানে স্বস্তি মেলেনি। তার পরই সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেন আপ প্রধান। গত ৫ সেপ্টেম্বর সেই সংক্রান্ত শুনানি শেষ হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে। তার পর রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার কেজরিকে জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে জামিন দেওয়ার সময় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, জেল থেকে বেরোনোর পর কেজরিওয়াল কোনো ফাইলে সাক্ষর করতে পারবেন না। নিজের দপ্তরেও যেতে পারবেন না। এ ছাড়া, প্রকাশ্যে এই সংক্রান্ত কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না আপ প্রধান।

mzamin

গাজায় মোট নিহতের ১১ হাজারই শিক্ষার্থী

গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নৃশংস হামলায় মোট নিহতের ১১ হাজারই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দশ মাসের বেশি সময় ধরে পুরো গাজা অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলের বাহিনী। এতে যে পরিমাণ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১১,০০১ জন। এ ছাড়া তেল আবিবের হামলায় এ পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৭২ জনে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গাজায় ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৮৮ জন। এতে আহত হয়েছেন ১৭ হাজার ২২৪ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে পশ্চিম তীরে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৪ জন শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন ৪২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের ৭ই অক্টোবর দখলদারির বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।  তেল আবিবের দাবি সে সময় হামাসের হাতে ১,২০০ ইসরাইলি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামাস সে সময় ২৫০ জন ইসরাইলি নাগরিককে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসে। পরে হামাস নির্মূলের নামে পুরো গাজায় অমানবিক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে ইসরাইল। তারা এখনো একাধারে বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তেল আবিব দিনকে দিন গাজায় তাদের হামলার মাত্রা বৃদ্ধি করছে। যেসব অঞ্চলকে ‘মানবিক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল সেখানেও এখন হামলা জোরদার করেছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। মঙ্গলবার আল জাজিরার স্থানীয় সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বৈরুতে ইসরাইলের বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এখনো অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে যাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে পারছে না উদ্ধারকর্মীরা। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৪১ হাজার ২৫২ ফিলিস্তিনি। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় এখনো দশ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করছেন। মোট আহত হয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৯৭ ফিলিস্তিনি। ইসরাইল এমন অমানবিক হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ। জাতিসংঘের অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী  বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তিনি জিম্মিদের ফেরানোর নামে অভিযান জোরালো করার নির্দেশ দিয়েছেন। 
mzamin

আরজিকর কাণ্ড : জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের চাপে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দিলেন মমতা by সেবন্তী ভট্টচার্য

আরজি কর কাণ্ডের আবহে আন্দোলনের শুরুর  দিন থেকে জুনিয়র চিকিৎসকদের অন্যতম দাবি ছিল, কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগ।  ডাক্তারদের সেই দাবি মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  বিনীতের পরিবর্তে কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হচ্ছেন মনোজ বর্মা। এতদিন এডিজি আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। বিনীত গোয়েলকে পাঠানো হল এসটিএফের এডিজি এবং আইজিপি পদে। গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তাঁকে ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগ ওঠে । ওই দিন থেকে কর্মবিরতিতে রয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। তাঁরা পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন। সেই পাঁচ দফার মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল, কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে বিনীতকে অপসারণ। পাশাপাশি, ডিসি সেন্ট্রাল অভিষেক গুপ্তের  অপসারণ। সেই দুই দাবিই মেনে নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।অভিষেক গুপ্তার বদলে ডিসি সেন্ট্রাল পদে এলেন দীপক সরকার। শিলিগুড়ির ইস্টের ডিসি ছিলেন তিনি। অভিষেক গুপ্তাকে  এফআর সেকেন্ড ব্যাটেলিয়নের সিও করা হয়েছে। এর আগে কমিশনার পদ থেকে বিনীতকে সরানোর দাবি নিয়ে লালবাজার অভিযান করেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। সেখানে গিয়ে প্রাক্তন কমিশনার বিনীতের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সঙ্গে তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন প্রতীকী মেরুদণ্ড। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, 'পুলিশ কমিশনার  অনেক বার এসেছিলেন পদত্যাগ করার জন্য। কিন্তু তিনি তা করতে দেননি।' কেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘সামনে পুজো রয়েছে। আপনারাই বলুন, যিনি দায়িত্বে থাকবেন, তাঁকে তো আইনশৃঙ্খলা জানতে হবে।' কিন্তু  আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি ছিল , অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন বিনীত গোয়েল। তাঁর নেতৃত্বে অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করে হয়েছে।  অবশেষে তাঁদের দাবি মেনে নিলেন মমতা।
mzamin


পাপুয়া নিউগিনিতে সোনার খনির দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর লড়াই, মৃত ৩০

পাপুয়া নিউগিনিতে সোনার খনির দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর গুলির লড়াইয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়ংকর পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়েছে প্রশাসন। এলাকা ঘিরে ফেলে অপারেশনে নেমেছে পুলিশ। দেশে অ্যালকোহল বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং রাতারাতি কারফিউ জারি করা হয়েছে। সাকার গোষ্ঠীর সদস্যরা আগস্টে কোনো এক সময় তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পিয়ান্দের মালিকানাধীন জমিতে বসতি স্থাপনের পর থেকে দেশের  পোরগেরা সোনার খনির কাছে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বলছে, দুই  গোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে রবিবারই  ৩০০ টিরও বেশি গুলি চলেছে ঘটনাস্থলে । পাপুয়া নিউ গিনির পুলিশ কমিশনার ডেভিড ম্যানিং জানাচ্ছেন - অবৈধ খনি শ্রমিক, যারা সোনার খনি এলাকায় সম্প্রতি বসতি স্থাপন করেছিল, তাদের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কানাডার মালিকানাধীন ওই সোনার খনিটি, পাপুয়া নিউগিনি দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণখনি বলে জানা গিয়েছে। সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে বেশ কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এলাকার স্কুল, সরকারি অফিস বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। হাসপাতালেও নজর রাখছে পুলিশ। পাপুয়া নিউ গিনির উচ্চভূমিতে উপজাতি দ্বন্দ্ব একটি সাধারণ ঘটনা, কিন্তু পুলিশের মতে, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ভীষণভাবে বেড়েছে। একসময় পাপুয়া নিউ গিনির বার্ষিক রপ্তানি আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ আসতো পোরগেরা সোনার খনি ছিল, কিন্তু উপজাতি গোষ্ঠীর  সহিংসতার  জেরে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রেডিও নিউজিল্যান্ডের সাথে কথা বলার সময় একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাম্প্রতিক সহিংসতার মাত্রাকে "মারাত্মক " বলে বর্ণনা করেছেন।এই বছরের শুরুতে পূর্ব সেপিক প্রদেশের তিনটি গ্রামে হামলায় ১৬ শিশুসহ অন্তত ২৬ জন নিহত হয়। ২০২২ সালে, খনির কাছে বসবাসকারী প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছিল। শান্তি ফেরাতে খনির দিকে যাওয়ার মহাসড়কের পাশে নিরাপত্তা দলগুলিকে পোস্ট করা হয়েছে। এই মাসের শুরুতে একটি সফরের সময় পাপুয়া নিউ গিনিতে সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

সূত্র: বিবিসি 

mzamin

যানজট নিরসনের উপায় খোঁজার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে পুলিশ ও দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের কাছে সমাধান খুঁজতে বলেছেন।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই সিটি ট্রাফিক সিস্টেম বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশ দেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার দুই কোটি মানুষের ট্রাফিক সমস্যার ‘কিছু দ্রুত ও কার্যকর সমাধান’ খুঁজে বের করতে ডিএমপিকে নির্দেশ দেন ড. ইউনূস।

ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমাদের যানজট কমাতে হবে। অবিলম্বে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

ট্রাফিক পুলিশকে যানজট বিরোধী কিছু পাইলট স্কিম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে, যেমন ছোট স্টেশনগুলোতে বাস থামানোর সময়কে ২-৩ টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দুই মিনিটের কম সময় সীমাবদ্ধ করা এবং পরবর্তীতে শহরের অন্যান্য রাস্তায়ও এ ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করা।

বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের অন্তত একটি ট্রাফিক করিডোরে তাদের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কিছু ঘরোয়া সমাধান খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। তাদের স্থানীয় দক্ষতা ব্যবহার করে সিগন্যালিং সিস্টেম ঠিক করতে বলা হয়।

বৈঠকে একটি প্রেজেন্টেশন দেন বুয়েটের পরিবহন ও ট্রাফিক সিস্টেম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা শহরে যানজটে প্রতি বছর দেশের অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার, ট্রাফিক নাজমুল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করার পর ট্রাফিক পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ মোতায়েন আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আব্দুল হাফিজ, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ফারুক আহমেদ।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত


দুস্থদের তালিকায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রীর স্বজনেরা by জহির রায়হান

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বোন নূরন নাহার আনোয়ার। তাঁর স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। অথচ দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের বিশেষ অনুদানপ্রাপ্ত (ব্যক্তি পর্যায়ে) ব্যক্তিদের তালিকায় নূরন নাহারের নাম আছে।

শুধু নূরন নাহার নয়, তাঁর মেয়ে জামাতা মোহাম্মদ জাভেদ চৌধুরীরও নাম আছে তালিকায়। যদিও জাভেদ একটি মুঠোফোন কোম্পানির কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা উভয়ই কানাডায় আছেন। জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের তথ্য বলছে, এই দুজনের নামেই ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। এই প্রতিষ্ঠান দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের চিকিৎসা, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ ও গৃহ মেরামত বাবদ সহায়তা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট জেলার ১ হাজার ৬৩১ জন ব্যক্তিকে ২ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার টাকা বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

নুরুজ্জামান আহমেদ ২০১৬ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সালে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের মন্ত্রিসভায় তিনি বাদ পড়েন। তিনি ২০১৪ সাল থেকে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

২০২১-২২ অর্থবছরে অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় কালীগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনশ্বর গ্রামে নুরুজ্জামান আহমেদের স্ত্রীর ভাতিজা গোলাম মোস্তফা, গোলাম ফারুক, আবু সাঈদ খান, আবু জাফর খানসহ তাঁদের পরিবারের ১৬ ব্যক্তির নাম রয়েছে। এ অর্থবছরে মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা পেয়েছেন তাঁরা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও গোলাম ফারুকদের পরিবারের ১০ সদস্য আবার সহায়তার টাকা পান।

গোলাম ফারুক অবশ্য তালিকায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামের বিষয়টি জানেন না বলে মুঠোফোনে দাবি করেছেন। তবে কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সদ্য বিদায়ী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক তাঁদের টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কালীগঞ্জের তুষভান্ডার ইউনিয়নের সদস্য রাকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাবেক মন্ত্রী তাঁর আত্মীয়স্বজনকে তুষ্ট করে দরিদ্র মানুষকে বঞ্চিত করেছেন।

আর নূরন নাহার আনোয়ার ও জাভেদ চৌধুরী সপরিবার কানাডায় থাকায় হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নূরন নাহারের ছোট ভাই কালীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুবুজ্জামান আহমেদ আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা (বোন ও ভাগনি জামাই) ভালো মানুষ। অন্য কেউ হয়তো তাঁদের নাম ব্যবহার করেছেন।

তালিকায় সাবেক মন্ত্রীর এপিএসের শ্বশুর–শাশুড়ি ও শ্যালক

কালীগঞ্জের তুষভান্ডার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তালেব আলবানী সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) শ্বশুর। আবু তালেবসহ তাঁর স্ত্রী মুসারত রেহেনা ও ছেলে ফুয়াদ হাসানের নাম আছে ২০২১–২২ অর্থবছরের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায়। জানতে চাইলে আবু তালেব মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের নাম অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে।

তবে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা গ্রামের আশিক বাবু ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি এপিএস মিজানুর রহমানের চাচাতো ভাই। তাঁর নামও আছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে অনুপ্রাপ্তদের তালিকায়। আশিকের দাবি, এপিএস মিজান তাঁর কাছ থেকে একটি মাদ্রাসার নিয়োগ বাবদ ৭ লাখ টাকা নেন। কিন্তু চাকরি না হলে অনুদানের দুটি চেক দিয়ে এক লাখ টাকা ফেরত দেন।

আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়নের দেলজার রহমানের নামে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলেও তিনি সেই টাকা পাননি। দেলজারের দাবি, এপিএস মিজানুরের মামা সেকেন্দার আলী তাঁকে দিয়ে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে হিসাব খুলে নেন। কিন্তু পরে টাকা পাননি। দেলজারের মতো অন্তত ২০ জন প্রথম আলোকে বলেছেন, তালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও টাকা পাননি।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তাঁর এপিএসের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁরা আত্মগোপনে গেছেন।

এই অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের আরও ঘটনা রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিটন মিয়ার শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন, তাঁর শাশুড়ি, স্ত্রী ও স্ত্রীর চার বোন গত তিন অর্থবছরে প্রায় দুই লাখ টাকা পেয়েছেন। যদিও লিটনের শ্বশুর কালীগঞ্জের দক্ষিণ দলগ্রামে মোহাম্মদ হোসেন একজন সচ্ছল কৃষক। দুস্থদের টাকা তাঁর স্ত্রী কীভাবে পেলেন জানতে চাইলে লিটন মিয়া বলেন, তাঁর স্ত্রী ‘অসুস্থ’ থাকায় এই টাকা নেন।

কালীগঞ্জের গোপাল রায় গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইনসানা বেগম ও তাঁর স্বামী জেলা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মনজু আলী শেখ ২০২১-২২ অর্থবছরে দুবার করে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। ইনসানার দাবি, তাঁর শ্বশুর ক্যানসার রোগী হওয়ায় তাঁরা এই টাকা পেয়েছেন। তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, দুস্থ নন, শুধু দলীয় পরিচয়ে এমন শতাধিক ব্যক্তি অনুদান পেয়েছেন।

ভুয়া মাস্টাররোলে অর্থ আত্মসাৎ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ও গরিব, অসহায় ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২–২৩ অর্থবছরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজকল্যাণ কমিটিকে ১ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়।

এই কমিটির সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকের (৪ সেপ্টেম্বর তিনি রংপুরের পীরগঞ্জে বদলি হয়েছেন) দাবি, ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা দিয়ে মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার জন্য এবং ৮ লাখ টাকা ভিক্ষুক পুনর্বাসনে ব্যয় হয়েছে। বাকি বরাদ্দ গরিব ও অসহায় ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু অন্তত চারটি মাস্টাররোল ঘেঁটে কোনো সুবিধাভোগীকে পাওয়া পায়নি। কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, বিভিন্ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগীদের নাম দিয়ে এই ভুয়া মাস্টাররোল করা হয়।

এদিকে সমাজকল্যাণ পরিষদের বণ্টন মাস্টাররোলসহ যাবতীয় নথিপত্র হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে ৫ সেপ্টেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন অফিস সহকারী পারভীন বেগম। ওই অফিসে কর্মরত একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুর্নীতির’ প্রমাণ না রাখতে সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক ও অফিস সহকারী পারভীন বেগম (সদ্য বদলি হয়েছেন) নথি হারানোর ঘটনা সাজিয়েছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে জেলা সমাজকল্যাণ কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ
সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, ফাইল ছবি

বুধবার পুরো বিশ্বের আর্থিক খাত কেন মার্কিন ফেডের দিকে তাকিয়ে থাকবে

পুরো বিশ্বের আর্থিক খাত এখন তাকিয়ে আছে ফেডারেল রিজার্ভের দিকে। সুদের হার কমানোর বিষয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী বুধবার কী সিদ্ধান্ত নেয়, নজর সেদিকেই। এই বহুল প্রত্যাশিত পদক্ষেপ শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, তার প্রভাব থাকবে পৃথিবীজুড়েই। এমনকি ডলার তেজি থাকবে, নাকি তা তেজ হারাবে, তা–ও নির্ভর করবে ফেডের সিদ্ধান্তের ওপর।

মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে ফেড দীর্ঘ সময় ধরে নীতি সুদহার বাড়িয়েই চলছিল। অনেক বছরের মধ্যে এখন তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বেশ কয়েক বছরের মধ্যে নেওয়া প্রথম পদক্ষেপে সুদের হার কতটা কমানো হবে, তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষে রয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি বাড়তি উদ্বেগের বিষয়।

সোসাইটি জেনারেলের এফএক্স অ্যান্ড রেটস বিভাগের করপোরেট গবেষণা বিষয়ক প্রধান কেনেথ ব্রো বলেন, ‘আমরা জানি না এই ধারা কেমন হবে। এটি কি ১৯৯৫ সালের মতো হবে, যখন ৭৫ ভিত্তি পয়েন্ট করে হার কমানো হচ্ছিল। নাকি এটা ২০০৭–০৮ সালের মতো হবে, যখন ৫০০ ভিত্তি পয়েন্ট কমানো হয়েছিল।’
দেখা যাক বিশ্বের আর্থিক বাজারে প্রত্যাশা কী:

১. নেতৃত্বকে অনুসরণ করা

গত বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তখন এই প্রশ্ন ছিল যে ফেড যদি নীতি সুদ না কমায়, তাহলে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা ব্যাংক অব কানাডা সুদের হার কতটা কমাতে পারবে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যে সুদের হার কমাচ্ছে, তা দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে এখন স্বস্তি দেবে।

ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে যাচ্ছে বলে বাজারে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তা ইতিমধ্যে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নীতি সুদ কমাতে উৎসাহিত করেছে। তবে ইউরোপে ফেডের তুলনায় সুদের হার হ্রাস কম হবে। কারণ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক অব ইল্যান্ড মূল্যস্ফীতির বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছে।

বন্ড বাজারের জন্যও নীতিসুদ কমানো আশীর্বাদ হতে পারে। ২০২৩ সাল শেষের পর এই প্রথম বারের মতো মার্কিন, জার্মান ও ব্রিটিশ সরকারি বন্ডের বিপরীতে সুদ আয় কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২. স্বস্তির জায়গা

উদীয়মান দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য মার্কিন সুদের হার কমানোর বিষয়টি বেশ স্বস্তির ব্যাপার হবে। এর ফলে তারা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির জন্য আরও বেশি সমর্থন জোগাতে পারবে। রয়টার্স যে ১৮টি উদীয়মান দেশের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তাদের অর্ধেকই এরই মধ্যে সুদের হার কমাতে শুরু করেছে। তারা এই কাজ করছে ফেডের পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অনিশ্চয়তার বিষয়টিও তাদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে রয়েছে। বিএনপি পারিবাসের কর্মকর্তা ট্রাং নগুয়েন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হবে। রাজস্ব নীতির যে ভিন্নতা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তা সুদের হার কমানোর এই কালচক্রকে জটিল করে তুলেছে।

৩. ডলারের শক্তিক্ষয়

যেসব দেশ আশা করছে যে মার্কিন নীতিসুদ কমানোর ফলে ডলারের শক্তি কমবে এবং তাদের মুদ্রা শক্তিশালী হবে, তাদের সেই আশা পূরণ না–ও হতে পারে। বিনিয়োগ ব্যাংক জে পি মর্গান স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে ফেডের সুদের হার কমানোর সর্বশেষ চার কালচক্রের তিনটির ক্ষেত্রেই প্রথম দফায় ডলার শক্তিশালী হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সুদহার কমানো অন্যদের জন্য কতটা আপেক্ষিক, তার ওপর ডলারের দামের বিষয়টি নির্ভর করবে। ডলার যদি সত্যিই কম আয়ের মুদ্রা না হয়ে ওঠে, তাহলে অ–মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে এর আবেদন থেকেই যাবে।

তবে এশিয়ার অনেক দেশ মার্কিনদের আগেই সুদের হার কমিয়েছে। এর ফলে জুলাই ও আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার ওন, থাইল্যান্ডের বাথ ও মালয়েশিয়ার রিঙ্গিতের দাম বেড়েছে। আর ডলারের বিপরীতে চীনের ইউয়ানের দাম বছরজুড়ে যতটা কমেছিল, সেই ঘাটতি ওই সময়ে পূরণ হয়ে যায়।

৪. ইকুইটির অগ্রযাত্রা


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকার কারণে অর্থ বিনিয়োগ হোঁচট খেয়েছিল। মার্কিন সুদহার কমলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার হবে, ফলে ইকুইটি বিনিয়োগ আবার বাড়তে পারে। আগস্টে দুর্বল মার্কিন কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান প্রকাশের পরের তিন দিনে বিশ্বে শেয়ারবাজারের ৬ শতাংশ পতন হয়েছিল।

৫. উজ্জ্বল দিন

ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমালে মূল্যবান ও মৌলিক ধাতু সুবিধা পেতে পারে। কম সুদের হার ও দুর্বল ডলার বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধাতু কিনতে উৎসাহিত করতে পারে। স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়তে পারে। দেখা গেছে বন্ড থেকে আয় কমে গেলে এর দাম বাড়ে, কারণ বিনিয়োগকারীরা সোনা কেনেন।

সোনার দাম এখন রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের জন রিড বলেন, বিনিয়োগকারীদের সোনা কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত।

ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেড
ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেডছবি : রয়টার্স