Sunday, January 16, 2011

দলকে মানসিক শক্তি ধারণ করতে বললেন ফার্গুসন

টটেনহ্যাম হটসপারের বিপক্ষে ১০ জনের দল নিয়েও আত্মপ্রত্যয়ী খেলা কোচ স্যার আলেক্স ফার্গুসনকে দারুণ অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর মতে, ‘টটেনহ্যামের বিপক্ষে ১০ জনের দল নিয়েও ড্র করে ছেলেরা দেখিয়ে দিয়েছে তাঁদের মানসিক সক্ষমতা।’ তিনি মনে করেন, ‘মৌসুমের বাকি সময়টা এমন মানসিক শক্তি নিয়ে যদি রেড ডেভিলরা খেলতে পারে, তাহলে এবার তাদের হাত থেকে কেউই শিরোপা কেড়ে নিতে পারবে না।’
টটেনহ্যামের সঙ্গে গোল-শূন্য ড্রয়ের পরও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গোল গড়ে লিগের পয়েন্ট তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটিকে পেছনে ফেলেছে।
গতকালের খেলায় শেষ ১৬ মিনিট রাফায়েল ডি সিলভার লাল কার্ডের ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১০ জন নিয়ে খেলে। এ সময় টটেনহ্যাম গোলোর জন্য বারবার ম্যান ইউ সীমানায় আক্রমণের স্রোত বইয়ে দিলেও নেমানজা ভিদিচের নেতৃত্বে বাকি খেলোয়াড় দলের রক্ষণব্যূহকে দারুণ প্রত্যয়ে আগলে রাখেন।
আক্রমণের দুর্বলতার জন্য কাল টটেনহ্যামের বিপক্ষে গোল পায়নি ম্যান ইউ। তার পরও কোচ ফার্গুসন তাঁর দলের খেলায় খুশিই। তিনি বলেন, ‘এ খেলা খেলে যেতে পারলে গোল আসবেই। এতে চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এ মুহূর্তে অপেক্ষায় রয়েছে চেলসি ও ব্ল্যাকপুলের বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের। এ দুটি ম্যাচই প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শিরোপার দাবি জোরালো করবে। ফার্গুসন এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শিরোপার দৌড়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে চেলসি ও ব্ল্যাকপুলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতেও আমাদের খেলার বর্তমান ধারা ধরে রাখতে হবে।’
ফার্গুসন আরও বলেন, ‘আমি আগেই জানিয়েছি, এবারের মৌসুমটা একটা আকর্ষণীয় সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ পাঁচ দলেরই লিগ জেতার সুযোগ রয়েছে। টটেনহ্যামও এ লড়াইয়ের বাইরে নয়। মৌসুমের এমন একটি সময়ে যে দল জেতার অভ্যাসটা ধরে রাখবে এবং একই সঙ্গে নিজেদের মানসিক শক্তিকে ধারণ করতে পারবে শিরোপার সম্মানটা ভাগ্যে জুটবে।’
চেলসির বিপক্ষে ম্যাচটিকে ‘বড় লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ফার্গুসন। তিনি বলেন, ‘ওই ম্যাচে আমাদের জিততেই হবে।’ ব্ল্যাকপুলকেও এ মুহূর্তে লিগের অন্যতম দারুণ দল হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
রাফায়েল ডি সিলভার লাল কার্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ফার্গুসন। তিনি বলেছেন, ‘এ ব্যাপারটি নিয়ে সত্যিই আমি কোনো কথা বলতে চাই না। মাঠে কী হয়েছে, সবাই তা দেখেছে। রাফায়েলের লাল কার্ড সঠিক ছিল কি না, তা দর্শকেরাই বিচার করুক।’
রেফারি মাইক ডিন ব্রাজিলীয় রিক্রুট রাফায়েলকে এক বিতর্কিত পরিস্থিতিতে লাল কার্ড দেখান। রাফায়েলের লাল কার্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শিবিরে মোটামুটি একটা অসন্তুষ্টিই পরিলক্ষিত হয়েছে। কারণ, এ একটি কার্ডেই প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থানটা নড়বড়ে হয়ে যেতে বসেছিল।

স্বৈরতন্ত্রের শেকড় উপড়ানো সহজ নয় by মানিক আনিসুজ্জামান

নব্বইয়ের স্বৈরাচারের পতনের পর আমরা আশা করেছিলাম, দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু মাগুরা উপনির্বাচন জানান দিয়ে যায় স্বৈরতন্ত্রের শেকড় উপড়ানো এত সহজ নয়। আমাদের চিন্তা-চেতনায়, মননে-মগজে সময়-সুযোগ পেলে স্বৈরতন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে-পরে সহিংসতা বিবেকবান মানুষকে আহত করে। জাতীয় নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য নব-উদ্ভাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা হয় প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতার কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঁধে চেপে থাকে সামরিক সরকার দুই বছর। এই দুই বছর দেশের মানুষ সীমাহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও নির্বাচনব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য অর্জন কম হয়নি। ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে। অল্প সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বেড়েছে। শাসনতন্ত্রে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য এগুলো আমাদের অর্জন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হলেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা স্থায়ী রূপ নেবে এমন কথা বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বাস করানো কঠিন। রাজনৈতিক দল ছাড়া সামাজিক-সাংস্কৃতিক অ্যামেচারিস্ট কল্পনাবিলাসী কিছু মানুষ দিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলই শাসনতন্ত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। আমাদের সেই জবাবদিহিমূলক দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল কোথায়? প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা প্রায় শূন্যের ঘরে। অবশ্য রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা এবং বিকশিত হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ এ দেশে কখনো ছিল না। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর থেকেই সামরিক শাসন এবং ছদ্ম সামরিক শাসন চলছে। একাত্তর থেকে পঁচাত্তর সাল পর্যন্ত বাদ দিলে বাকি সময় এ দেশে সামরিক শাসনমুক্ত পরিবেশ ছিল না। সেনাছাউনি থেকে জন্ম নিয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল। এসব রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য ডিফিকাল্ট করেছে। ফলে জনগণের মধ্যে থেকে যেসব রাজনৈতিক দলের জন্ম এবং যারা জনশক্তির ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করে, তারাও বিভ্রান্ত হয়েছে। এসব দলও জনশক্তির ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় যাওয়ার কঠিন পথ পরিত্যাগ করে অন্ধকারের কানা গলিতে সহজ পথে পা বাড়ায়। এ পথে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গণতন্ত্র একটি আদর্শিক মতবাদ। প্রতিনিয়ত চর্চার মধ্য দিয়ে এটি বিকশিত হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকশিত হয়ে কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্ম নিয়েছে। আমরা এখনো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাই নিশ্চিত করতে পারিনি। রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ শাসন করে। স্বাভাবিকভাবেই দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা না হলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা দুরাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা একেবারেই নেই। দলপ্রধানের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই সব। দলপ্রধানের কর্মসূচির সমালোচনা করলে দলের সদস্যপদ রাখাই কঠিন। শুধু রাজনৈতিক দলে নয়, আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক, সরকারি-বেসরকারি অফিসে এমনকি এনজিওগুলোতে সবাই যেন ডিকটেটর। তোষামোদকারীদের ভাগে মুলাটা-কলাটা জোটে। কিছু এনজিও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেও নিজেদের ডিকটেটরশিপ অক্ষুণ্ন রাখে। এনজিও-প্রধানের কাজকর্ম সম্পর্কে কর্মকর্তাদের মতামত ব্যক্ত করাও অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নির্বাচন কমিশন খবরদারি করেও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্ধারিত সময়ে নামমাত্র কাউন্সিল পর্যন্ত করতে পারেনি। কাউন্সিলের কথা এ কারণেই বলছি যে বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে সম্মেলন-কাউন্সিল জড়িত। দলের কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে জাতীয় জীবনে কখনো কখনো দিকনির্দেশনা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বেরিয়ে আসে। ভারতবর্ষে চরম সংকট মূহূর্তে সম্মেলনের মধ্য দিয়েই নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া গেছে। সম্মেলন করার ইতিহাসও ভারতবর্ষে প্রাচীন। গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর পর বৌদ্ধধর্মের আচার-আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে কয়েকটি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার সমাধান ঘটে। সবচেয়ে বড় সমাবেশ ঘটেছিল সম্রাট অশোকের সময়। আকবরের দরবারে বিরুদ্ধ মতের গুরুত্ব ছিল। ভারতবর্ষের এই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী কিছুটা আমরাও। মওলানা ভাসানী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সম্মেলন করেছেন। দেশ-বিদেশের অনেক রাজনৈতিক নেতা-কমী, সংবাদকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী ভাসানীর সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সম্মেলন ছিল উৎসব। কাগমারী সম্মেলনের পর এ দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে রাজনৈতিক দলের আর সম্মেলন হয়নি।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারের পতনের পর গণতন্ত্রের চর্চার জায়গাগুলো জাতীয় পার্টির শাসনামলের শেষ দিকের চেয়ে সংকুচিত হয়েছে। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। ডাকসু, রাকসু, চাকসু, বাকসু নামে এখন শুধু ভবন রয়েছে, ছাত্র সংসদ নেই। সবশেষ রাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে, আজ থেকে ২০ বছর আগে। সে সময় যাঁরা রাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের সন্তানেরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। সরকারি-বেসরকারি কোনো কলেজেই নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই। আমরা আশা করেছিলাম, স্বৈরাচারের পতনের পর নির্বাচিত সরকারের সময় প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হবে। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রেও নির্বাচিত ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছাত্র সংসদ হল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাধ্যক্ষ এবং আবাসিক শিক্ষকদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এসবের আয়োজন কোথায়? শুধু উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন, স্কুল-কলেজের পরিচালনা পরিষদে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবছর নির্বাচন করা হলে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বাড়বে। কলকারখানার শ্রমিক সংগঠনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে পোশাকশিল্পে শ্রমিক সহিংসতা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকত। সংবাদপত্র হাউসে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা কি উচিত নয়?
আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের সময় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অঙ্গীকার করে। কিন্তু নির্বাচনের পর বিরোধী দলের অবিরাম সংসদ বর্জন সংসদীয় সংস্কৃতির অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে অনুপস্থিত থেকে সুযোগ-সুবিধা নিতে কারও কোনো অসুবিধা হয় না। সংসদ বর্জনকারী দলগুলো যদি নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিত যে আমরা বিরোধী দলে গেলে যত দিন সংসদে গেলে সদস্যপদ থাকবে, কেবল তত দিনই সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকব। তাহলে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের অঙ্গীকার ভঙ্গের অভিযোগ উত্থাপন করার সুযোগ ছিল না। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সরকার যেমন অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তেমনই সংসদ অধিবেশনে যোগ না দেওয়াও ওয়াদার বরখেলাপ।
সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। প্রবাসীরা বিশ্বে অবদান রাখছে। আমাদের পোশাকশিল্প বিশ্বে সমাদৃত। শ্রমঘন শিল্প বিকাশের এ দেশে সুযোগ রয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা দাবি করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবেশী ভারত বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমপর্যায়ে যেতে না পারলেও আমাদের উন্নয়নের একটি ওয়াগনে উঠতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। বিশ্ব-পরিস্থিতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো তাল মেলাতে না পারলে নিজেরা মুসলিম লীগের মতো সাইনবোর্ড-সর্বস্ব দলে পরিণত হবে এবং জনগণের ক্ষতির কারণ হয়েই দাঁড়াবে। সমাজের সর্বস্তরে যে স্বৈরাচারী অসহিষ্ণু মনোভাব প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা থিতিয়ে আনতে হলে প্রথমত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা ও ন্যূনতম সহযোগিতা জরুরি। এ ছাড়া দিন বদলালেও স্বৈরতন্ত্রের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়।
মানিক আনিসুজ্জামান: শিক্ষক, দর্শন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
manik780@yahoo.com

করাচিতে জিয়ো টিভির সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের বন্দরনগর করাচিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ওয়ালি বাবর নামের ওই সাংবাদিক সংবাদভিত্তিক জিয়ো টেলিভিশনে কাজ করতেন। হত্যাকারীদের পরিচয় জানা যায়নি।পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন বাবর। লিয়াকুয়াতাবাদ এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে এসে তাঁর পথ রোধ করে। তারা খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। জিয়ো টিভির খবরে বলা হয়, এটি আরেকটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

ব্রিটেনের উপনির্বাচনে লেবার পার্টির জয়

ব্রিটেনের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত একটি উপনির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে। বিগত সাধারণ নির্বাচনে হেরে ক্ষমতা হারানোর পর দলটি এ জয় পেল।ওল্ডহ্যাম ইস্ট অ্যান্ড স্যাডলওয়ার্থ আসনের এ নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী ডেবি আব্রাহাম পান ১৪ হাজার ৭১৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এলউইন ওয়াটকিনস পান ১১ হাজার ১৬০ ভোট। এ ছাড়া কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী পান চার হাজার ৪৮১ ভোট।লেবার পার্টির সাবেক মন্ত্রী ফিল উলস ওয়াটকিনস সম্পর্কে মিথ্যা বলায় একটি বিশেষ আদালত নির্বাচনের ওই ফলাফল বাতিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকালের ওই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে লেবার পার্টি ১০৩ ভোটে বিজয়ী হয়েছিল।নির্বাচনে জয়ের পর ডেবি আব্রাহাম বলেন, লেবার পার্টি সামনে এগিয়ে চলার যে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছে, এ জয় তার প্রথম পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ডেভিড ক্যামেরন, আপনাকে জনগণের কথা শুনতে হবে, ভাবতে হবে এবং যেসব সংস্কার করছেন, তা পরিবর্তন করতে হবে।’
লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড বলেন, কর ও শিক্ষা খাতে খরচ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাতে ব্যয়সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে এটি একটি সুস্পষ্ট বার্তা।

নারীশিক্ষা বন্ধের নীতি থেকে সরে আসছে তালেবান

আফগাস্তািনে নারীশিক্ষা বন্ধের নীতি থেকে সরে আসছে তালেবান। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ফারুক ওরয়াদাক এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার ওপর তালেবান যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেটা প্রত্যাহারের জন্য তারা (তালেবান) এখন প্রস্তুত।ব্রিটেনের টাইমস এডুকেশনাল সাপ্লিমেন্টকে (টিইএস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারুক ওরয়াদাক বলেন, আফগানিস্তানে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আসছে। তালেবান এখন আর নারীশিক্ষার বিরোধিতা করছে না।আফগান সরকারের সঙ্গে লড়াইরত তালেবান কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেনি।
তালেবান শাসনামলে আফগানিস্তানে নারীদের কাজ করা ও বিদ্যালয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। মার্কিন অভিযানে ২০০১ সালে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়।টিইএসকে ফারুক ওরয়াদাক বলেন, তালেবানের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক মহল সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন, তারা আর সাধারণ শিক্ষা এবং নারীশিক্ষার বিরোধিতা করবে না।
শিক্ষামন্ত্রী এটাও স্বীকার করেন, তালেবানের বিরোধিতা ছাড়াও আফগান সমাজে ছেলেমেয়দের বিদ্যালয়ে পড়তে না দেওয়ার একটা প্রবণতা আছে। এ কারণে আফগানিস্তানের অনেক প্রদেশে নারী বা পুরুষ শিক্ষক পাওয়া যায় না। বিবিসি।

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ

পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনে এক নাগরিকের মৃত্যুর পর কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাকিব যাবের আল খালিদ আল সাবাহ গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবাহ বলেন, ‘হ্যাঁ, সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। যে মন্ত্রণালয়ের অধীন বাহিনী দেশের নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে পারে, আমি সে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকব না। এটা আমার জন্য সম্মানের নয়।’মোহম্মাদ গাজী আল মায়মনি আল মুতাইরি নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে মারা যান। মুতাইরিকে যখন স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনো তাঁর হাতে হাতকড়া ছিল, সঙ্গে ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার পাঁচজন সদস্য। ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
চিকিৎসকেরা জানান, নির্যাতনে মুতাইরি মারা গেছেন। যদিও সরকারিভাবে প্রথমে বলা হয়েছিল তিনি মারা গেছেন হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাদক চোরচালানের অভিযোগে গত শনিবার আটক করা হয় মুতাইরিকে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ২৪ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ছুরি মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলে এবং তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। কাজেই তাঁকে নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠে না। এরপর তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ব্রাজিলে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে

ব্রাজিলে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। আরও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে। মৃত্যের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।
উদ্ধার কর্মীরা উপদ্রুত এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। এ অভিযানে নিখোঁজদের স্বজনেরাও যোগ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে। রাস্তাঘাট ও সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় দুর্যোগকবলিত এলাকায় যোগাযোগ রক্ষা ও উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। কয়েকটি এলাকায় টেলিফোন সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
১৯৬৭ সালের পর ব্রাজিলের মানুষ এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দেখেনি। ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় ৪২ কোটি ডলারের জরুরি ত্রাণ সাহায্য পাঠানো হয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে রিও ডি জেনিরোর পার্শ্ববর্তী নোভা ফ্রিবুরগো, সেরানা, পেট্রোপোলিস ও তেরেসোপোলিস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত নোভা ফ্রিবুরগো এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০১ জন, তেরেসোপোলিসে ১৭৫ জন এবং পেট্রোপোলিসে ৩৯ জন। বন্যাক্রান্ত অন্যান্য এলাকায় বাকি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

কাশ্মীরে সেনা হ্রাসের কথা ভাবছে ভারত

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাসংখ্যা কমানোর কথা চিন্তাভাবনা করছে নয়া দিল্লি। এ ছাড়া পাকিস্তানিদের ভারতে অবস্থানের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে দিল্লির। রাজনৈতিকভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব জি কে পিল্লাই গতকাল শুক্রবার এসব কথা জানিয়েছেন।তবে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা বলেছেন, উপত্যকায় শান্তিরক্ষার স্বার্থে সেখানে সেনা হ্রাস করা হলে চলবে না, সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিল্লাই বলেন, কাশ্মীর থেকে আগামী এক বছরে ২৫ শতাংশ সেনা হ্রাসের কথা ভাবছে সরকার।ভারতের ভূস্বর্গখ্যাত মুসলিম-অধ্যুষিত কাশ্মীর উপত্যকা থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে সেখানকার জনগণ। গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সেখানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়।সরকার চলমান এ সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধানের আশ্বাস দিলে কাশ্মীরি জনগণ আপাত শান্ত হয়।পিল্লাই বলেন, কাশ্মীরের জনগণ যদি সেখানে সেনা উপস্থিতিকে তাদের হয়রানি মনে করে, আর যদি স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে ওই এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা সক্ষম হয়, তাহলে সেখান থেকে সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনা যেতে পারে।

আইভরি কোস্টে জাতিসংঘের গাড়িতে আগুন দিল বাগবোর সমর্থকেরা

আইভরি কোস্টের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোর সমর্থকেরা গত বৃহস্পতিবার রাজধানী আবিদজানে জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীকে লক্ষ্য করে বাগবোর ক্রমবর্ধমান সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এ হামলা চালানো হলো।
হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের পক্ষ থেকে কঠোর নিন্দা জানানো হয়। জাতিসংঘ জানায়, বাগবো বাহিনীর এ আগ্রাসন যুদ্ধাপরাধের শামিল।গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর আইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাগবো ও বিরোধী নেতা আলাসেন ওয়াতারা উভয়েই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করেন। তবে জাতিসংঘ ওয়াতারাকে দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সঙ্গে বাগবোর উত্তেজনা বাড়ছে।জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন এক বিবৃতিতে জানান, মহাসচিব বান কি মুন আইভরি কোস্টের ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাগবোর অনুগত নিয়মিত-অনিয়মিত সেনা ও সমর্থকেরা জাতিসংঘের গাড়িতে হামলা চালাচ্ছে এবং আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।গত বৃহস্পতিবার সকালের দিকে আবিদজানে এ রকম ছয়টি ঘটনা ঘটে। সেখানে জাতিসংঘ মিশনের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি আবিদজানে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাগবোর সমর্থকদের হামলায় জাতিসংঘের দুটি গাড়ি পুড়ে যায় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্য তিনটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাগবোর শিবির বর্তমানে জাতিসংঘ ও শান্তিরক্ষী বাহিনীর শত্রুশিবিরে পরিণত হয়েছে। আগে তারা মৌখিক অপপ্রচার চালাত। কিন্তু এখন সরাসরি হামলা চালাচ্ছে।’আইভরি কোস্টে নিয়োজিত জাতিসংঘের কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি দিন দিন উসকানিমূলক হয়ে উঠছে। বাগবোর অনুসারী সেনারা তাঁদের কৌশল পাল্টে জনতাকে জাতিসংঘের সেনাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছেন। তাঁরা জনতাকে জাতিসংঘের গাড়িতে হামলা চালাতে উৎসাহিত করছেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা আরও জানান, জনতার ওপর গুলি চালাতে বাগবো জাতিসংঘের সেনাদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে দেশে জাতিসংঘের সেনাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

গ্রিনল্যান্ডে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই সূর্যের উঁকি

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সব হিসাবনিকাশ ভুল প্রতিপন্ন করে উত্তর গোলার্ধের এলাকা গ্রিনল্যান্ডে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে সূর্যোদয় হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার সেখানে সূর্য ওঠার কথা ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার দুপুর একটায় সবাইকে অবাক করে আর্কটিক অঞ্চলের সর্ব পশ্চিমের শহর লুলিসাতে সূর্যদেব উঁকি দেন।
গোলার্ধ অঞ্চলে পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার মতো সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত হয় না। দুই মেরু অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দিনের আলো অথবা রাতে অন্ধকার থাকে। এলাকাভেদে সূর্যের আলোর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির মেয়াদ সেখানে টানা ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে। ‘পোলার সার্কেল’ বা মেরুচক্রের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় এ মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। মেরুচক্রের সবচেয়ে প্রান্তবর্তী এলাকায় একটানা ছয় মাস দিনের আলো এবং টানা ছয় মাস অন্ধকার থাকে।
বিজ্ঞানীদের গাণিতিক ছক অনুযায়ী এত দিন সূর্য ও পৃথিবীর গতিপ্রকৃতির নির্ভুল হিসাব পাওয়া যাচ্ছিল। সূর্য কখন, কোন অবস্থানে থাকবে, সে হিসাব কখনো ভুল প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু গত মঙ্গলবার লুলিসাত শহরে সূর্যের এই ‘অকালবোধন’ বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
বিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিক এলাকায় হিমশৈল দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে দিগন্তসীমা আগের চেয়ে অনেক বেশি নিচু হয়ে গেছে। সে কারণে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই সূর্য দৃশ্যমান হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, এই তত্ত্ব সঠিক হলে এটাই প্রমাণিত হবে যে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা মেরু এলাকায় যে মাত্রায় বরফ গলছে বলে এত কাল ধারণা করে আসছেন, সে ধারণার চেয়ে অনেক গুণ বেশি গতিতে বরফ গলছে। তবে সূর্যের এই ‘আগাম উপস্থিতি’র এটাই যে মূল কারণ, সেটা তাঁরা নিশ্চিত করে বলেননি। এ ঘটনার নিশ্চিত ব্যাখ্যা না পাওয়ার কারণে তাঁরা চিন্তিত রয়েছেন।
ভিয়েনায় অবস্থিত সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট ফর মেটেরোলজির ভূ-পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক উলফ্যাং লেনহার্থ বলেছেন, নক্ষত্রপুঞ্জে কোনো অবস্থানগত পরিবর্তন আসেনি। তেমনটি হলে সারা পৃথিবী লন্ডভন্ড হয়ে যেত। পৃথিবীর কক্ষপথ ও সেখানে তার পরিভ্রমণ-সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত প্রতি মুহূর্তে বিজ্ঞানীরা সংগ্রহ করছেন, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের খোঁজখবর রাখছেন। সে সব তথ্যে কোনো অনিয়মের আভাস পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় দুই দিন আগে সূর্যের উপস্থিতি তাঁদের ভাবিয়ে তুলেছে।
গ্রিনল্যান্ডের থমাস পোচ শহরে অবস্থিত ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান-বিষয়ক ইনস্টিটিউট বলেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বরফের পাহাড়গুলো গলে ক্রমেই উচ্চতা হারাচ্ছে। এতে দিগন্তের উচ্চতাও কমে এসেছে। ফলে সূর্য নির্ধারিত সময়ে উদিত হলেও দিগন্তসীমা নিচু হওয়ার কারণে তাকে আগেভাগে দেখা গেছে।

তবু আফ্রিদিকেই চান আকরাম

শহীদ আফ্রিদি নাকি মিসবাহ-উল হক? বিশ্বকাপে কার হাতে দেওয়া উচিত পাকিস্তানের নেতৃত্বভার? এখনো ঠিক করে উঠতে পারেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে আফ্রিদিই দায়িত্ব পালন করছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও অধিনায়ক তিনি। তবে সাবেকদের অনেকেই আফ্রিদির মধ্যে নেতৃত্বগুণের অভাব দেখেন। তাঁদের মত, বিশ্বকাপে অধিনায়ক করা উচিত মিসবাহকে। টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে মিসবাহ দারুণ করছেন। ব্যাটেও ভালো রান আছে তাঁর।
বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্নটা পূরণের জন্য আফ্রিদি অপ্রত্যাশিত সমর্থন পেলেন ওয়াসিম আকরামের কাছে। অপ্রত্যাশিতই, কারণ আফ্রিদির নেতৃত্বগুণ নিয়ে সোচ্চার সাবেকদের একজন এই আকরামই। তবে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের রানার্সআপ পাকিস্তানের অধিনায়ক আকরাম বলছেন, ২০১১ বিশ্বকাপে নতুন অধিনায়ক না করাটাই মঙ্গলজনক, ‘বিশ্বকাপের আর মাত্র কদিন বাকি। এর মধ্যে অধিনায়ক পাল্টালে সেটি দলের জন্য ক্ষতিকর তো হবেই, শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও কমে যাবে।’
আফ্রিদির মূল সমস্যা জানার জন্য অবশ্য আকরাম হতে হয় না। সেটি সাদা চোখেই বোঝা যায়—ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব। ওয়ানডেতে গত ১০ ইনিংসে তাঁর একটি সেঞ্চুরি, এরপর কোনো ফিফটিও নেই। ক্যারিয়ারের ২৩.৮১ ব্যাটিং-গড় বলছে, সমস্যাটা ৩০৬টি ওয়ানডে খেলা আফ্রিদির অনেক পুরোনো।
আরেকটি সমস্যা দেখতে পাচ্ছেন আকরাম। নিউজিল্যান্ড সফরে মোহাম্মদ ইউসুফকে না নেওয়া। বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে থাকলেও ইউসুফকে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট দলের পর ওয়ানডে দলেও নেওয়া হলো না। বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজে তাঁকে সুযোগ না দেওয়া হয়তো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে না রাখারই পূর্বাভাস। কিন্তু আকরাম ইউসুফকে চান, ‘ইউসুফ পরীক্ষিত খেলোয়াড়। বিশ্বকাপে চাপ থাকবে অনেক বেশি, প্রতিটি ম্যাচই সেখানে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মিডল-অর্ডার স্থিতিশীল রাখতে ইউসুফের মতো ব্যাটসম্যান খুবই দরকার। ওকে অবশ্যই রাখা উচিত।’

প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-আর্জেন্টিনা

এ বছরই জুলাইতে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট কোপা আমেরিকা। এরই প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি হবে ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার নিউ জার্সির মিডোল্যান্ডস স্টেডিয়ামে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিফা-ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসির খেলা দেখার জন্য অবশ্য এতটা অপেক্ষা না করলেও চলছে। কারণ এর আগেই আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে সার্জিও বাতিস্তার দল, ৯ ফেব্রুয়ারি ইউরোপের দেশ পর্তুগালের বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের দুই দিন পরই আবার কোস্টারিকার সঙ্গে আর্জেন্টিনার আরেকটি ম্যাচ

পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নিকট ভবিষ্যতে নেই: রিচার্ডসন

২০০৯ সালের মার্চ মাসে শেষবারের মতো পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসর বসেছিল। সফরকারী শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর বন্দুকধারীদের হামলা ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই দেশ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে একেবারে নির্বাসিতই করেছে। অনেক আগে থেকেই সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের ওপর একটা কালো ছায়া ফেলেছিল। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে বহু আগে থেকেই পাকিস্তান সফর বন্ধ করে দিয়েছিল। পাকিস্তানের জন্য আশা হয়ে ছিল উপমহাদেশীয় দেশগুলো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলা সেই ‘আশায় গুঁড়ে বালি’ ঢেলে দেয়। কোনো দল সফরে যেতে না চাওয়ায় পাকিস্তান তাদের হোম সিরিজগুলো এখন খেলছে ইংল্যান্ড ও আবুধাবির মতো খরুচে জায়গায়। প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সব মিলিয়ে পুরো পরিস্থিতিই দারুণভাবে ব্যাহত করছে গোটা পাকিস্তান ক্রিকেটকে। নিরাপত্তার কারণে আসন্ন বিশ্বকাপের ১৪টি ম্যাচও পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নেয় আইসিসি। সন্ত্রাসবাদের কারণে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ায় বহির্বিশ্বে পাকিস্তান পড়েছে গভীর ইমেজ-সংকটে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তান প্রাণান্তকর প্রয়াস চালিয়ে গেলেও দেশটিতে নিকট ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো আসরই আয়োজনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি।
আইসিসির মহাব্যবস্থাপক ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক উইকেটরক্ষক ডেভ রিচার্ডসন জানিয়েছেন, যখন পাকিস্তানে নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি হবে, তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দেশগুলো এমনিতেই পাকিস্তানে খেলতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। তবে তার আগে তাদের নিরাপত্তাবোধ শক্তিশালী হতে হবে। এই মুহূর্তে সেটার অভাবই লক্ষ করা যাচ্ছে।’
ডেভ রিচার্ডসন পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট কায়েদে আজম ট্রফির ফাইনাল দেখতে বর্তমানে করাচি রয়েছেন। পিসিবি কায়েদে আজম ট্রফির ফাইনাল ফ্লাড লাইটে আয়োজন করায় এর প্রশংসা করেছেন রিচার্ডসন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এভাবেই প্রথম শ্রেণী ও টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা জাগিয়ে তুলতে হবে। এ ব্যাপারে পিসিবির উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

বদলে যাচ্ছে চেলসি: আনচেলত্তি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতবারের শিরোপা জয়ী স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাব চেলসি। সে হিসেবে এবারের মৌসুমটা ফেবারিট হিসেবেই শুরু করেছিল ‘ব্লুজ’রা। লিগের প্রথম দিকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাদের ফেবারিট তকমার যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছিল বেশ ভালোভাবেই। কিন্তু মৌসুমের মাঝপর্যায়ে এসে একেবারেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে দলটি। গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারের লিগের পারফরম্যান্সকেই চেলসির সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স হিসেবে ধরা হচ্ছে। শেষ ১১ ম্যাচ থেকে তাদের খাতায় যোগ হয়েছে মাত্র ১০ পয়েন্ট। লিগের ২১ ম্যাচ শেষে তাদের অবস্থান পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে।
এদিকে, অনেকেই কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যত্ নিয়েও কথাবার্তা তোলা শুরু করে দিয়েছে। ২০০৯ সালে চেলসির সাবেক কোচ লুইস ফিলিপ স্কলারিকে যেভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল, আনচেলত্তির ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটার আশঙ্কা যাচাই করেও দেখছেন অনেকে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের পারফরমেন্স ও ফলাফলের চরম অবনতির কারণ দেখিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছিল স্কলারিকে। আনচেলত্তির অবস্থাও এখন অনেকটা সে রকমই বটে। তবে গত সপ্তাহে এফএ কাপে ইপসউইচের বিপক্ষে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয়টা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে চেলসি শিবিরে। আনচেলত্তিও আশা করছেন আবারও হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে তাঁর শিষ্যরা। তিনি বলেছেন, ‘এটা ঠিক যে আমাদের মধ্যে অনেকেই কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস হারিয়েছিল। কিন্তু আমি মনে করি, গত বছর আমরা যেমন ভালো ফল করেছিলাম, এবারও আমাদের সে রকম খেলার সামর্থ্য আছে। ইপসউইচের বিপক্ষে আমাদের পারফরমেন্স খুবই ভালো ছিল। খেলোয়াড়েরা অনেক ভালো খেলেছে।’
তবে এফএ কাপ আর প্রিমিয়ার লিগের পরিবেশ-পরিস্থিতি অনেকখানিই ভিন্ন। আবার ঘুরে দাঁড়াতে হলে লিগে ভালো করাটাই চেলসির জন্য বেশি জরুরি। সে কারণেই আজকে ব্লাকবার্নের বিপক্ষের ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন আনচেলত্তি। আর আজকের ম্যাচটার জন্য ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা তারকা ফুটবলারদের চেয়ে তরুণদেরই অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি। ইপসউইচের বিপক্ষে ম্যাচটায় অসাধারণ পারফমেন্স দেখিয়ে তাঁর নজর কেড়েছে দুই তরুণ ম্যাককারান ও স্টুরিজ। এখনো পরিষ্কার করে কিছু না বললেও এদের কথা যে তিনি বেশ ভালোমতোই বিবেচনা করছেন তা টের পাওয়া গেছে তাঁর কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এদের ভালো পারফরমেন্সের পরই তিনি দলটা নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এটা একটা কারণ। তারা খুবই ভালো খেলেছে। আমাকে তাদের কথা বিবেচনায় রাখতেই হচ্ছে। ম্যাককারান এখন প্রিমিয়ার লিগ শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

দলে এলেন ডোহার্টি, বাদ হারিজ

বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণার শেষ দিন ১৯ জানুয়ারি। তাঁর আগে কাল রোববার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিই হবে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ওয়ানডে। এই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন বাঁ হাতি স্পিনার হাভিয়ের ডোহার্টি। ডোহার্টিকে দলে নিতে কোপ পড়েছে নাথান হারিজের ওপর। এর পাশাপাশি, ইনজুরি কাটিয়ে ব্রেট লির ওডিআই দলে ফেরাটাকেও বড় ঘটনাই বলা চলে।
ব্রেট লির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ‘গতি বিভাগ’কে সঞ্চালন করবেন ডাউগ বলিঞ্জার ও শন টেইট। দলে জায়গা হয়নি মিশেল জনসন ও পিটার সিডলের।
দল ঘোষণা করে অস্ট্রেলীয় নির্বাচক গ্রেগ চ্যাপেল আজ বলেছেন, ‘ডোহার্টিকে প্রথম ম্যাচে হারিজের জায়গায় খেলানোর একটা পরিকল্পনা সব সময়ই আমাদের ছিল।’ হারিজকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘হারিজের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। খুব সম্ভবত সে বেলরিভেই (হোবার্ট) খেলতে পারে। সেখানেই তার একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে।’
প্রথম ওয়ানডের জন্য অস্ট্রেলিয়া দল: মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), ক্যামেরন হোয়াইট, ডাউগ বলিঞ্জার, হাভিয়ের ডোহার্টি, ডেভিড হাসি, মাইক হাসি, ব্র্যাড হাডিন, স্টিভ স্মিথ, ব্রেট লি, শন টেইট, শেন ওয়াটসন।

বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টায় কিউইরা

প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এবার দ্বিতীয় টেস্টেও খুব একটা ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকেরা। আজ প্রথম দিনের খেলা শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করেছে ২৪৬ রান। ১৮০ রানেই ছয় উইকেট তুলে নিয়ে কিউইদের বেশ ভালো রকম চাপের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন পাকিস্তানি বোলাররা। কিন্তু সপ্তম উইকেট জুটিতে ৬৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি ও রিস ইয়ং। ভেট্টরি ৩৮ ও ইয়ং ২৮ রানে অপরাজিত আছেন।
আজ দিনের শুরুতে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই একটা বড় ধরনের ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। প্রথম ওভারেই ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে পাঠান উমর গুল। ২১ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান কেন উইলিয়ামসন। এবারও উইকেট শিকারি উমর গুল। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫২ রান যোগ করেন মার্টিন গুপ্তিল ও রস টেলর। কিন্তু ৩৩তম ওভারের শেষ দুই বলে গুপ্তিল ও জেসি রাইডারকে ফিরিয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ডকে চাপের মুখে ফেলে দেন তানভির আহমেদ। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন চার উইকেটে ৯৮ রান। পঞ্চম উইকেট জুটিতে আবার ৬৮ রানের জুটি গড়ে সেই বিপর্যয় সামাল দেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন ও টেলর। কিন্তু এই জুটিটাকে খুব বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে দেননি বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রেহমান। ৩৩ রান করা ফ্রাঙ্কলিনকে বাধ্য করেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে। কয়েক ওভার পর টেলরের উইকেটটাও তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে খেলায় ফিরিয়েছেন ওয়াহাব রিয়াজ। ৭৮ রানের চমত্কার এক ইনিংস খেলে ফিরে গেছেন টেলর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড (প্রথম ইনিংস, প্রথম দিন শেষে) ২৪৬/৬
রস টেলর ৭৮, ড্যানিয়েল ভেট্টরি ৩৮*, রিস ইয়ং ২৮*
উমর গুল ২/৫৩, তানভীর আহমেদ ২/৬৩। রয়টার্স।

নিবন্ধ- অন্ধত্ব ও আরোগ্য পরম্পরা by দ্বিজেন শর্মা

বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর প্রথম পরিবেশবাদী নতুন ধরনের এক সমাজতান্ত্রিক দেশ_এমন অদ্ভুত ভাবনাকে 'সকল অসম্ভবের দেশ' বাংলাদেশে অসম্ভব বলা যাবে কি? না, তেমন অসম্ভবের সম্ভাবনাও আছে এ দেশে। আমাদের অনন্যতার তালিকা বেশ দীর্ঘ। প্রাকৃতিক ও মানুষী পরিবেশের কিছু দিক থেকেও আমরা শীর্ষে। বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ।