Saturday, April 5, 2014

নিজের খুনে লাল ছাত্রলীগ by সোহরাব হাসান

প্রায় ৪০ বছর আগের ও পরের দুটি ঘটনা। প্রথমটি ঘটেছে ১৯৭৪ সালে, দ্বিতীয়টি ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল। দুটো ঘটনারই ঘটক সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এবং শিকারও ছাত্রলীগ। প্রথম ঘটনাটির স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল। ঘাতকেরা রাতের বেলা টিভিকক্ষের সামনে ব্রাশফায়ার করে কোহিনুরসহ ছাত্রলীগের সাতজন নেতা-কর্মীকে হত্যা করে, যাঁরা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলমের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পরপরই শফিউল আলম প্রধান হত্যার বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেছিলেন।

যত অত্যাচার তত লড়াই by সাযযাদ কাদির

উদার গণতান্ত্রিক সমাজকল্যাণ রাষ্ট্র হবে বাংলাদেশ- এই স্বপ্ন ছিল আমাদের। এ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম মওলানা ভাসানীর ‘আসসালামু আলাইকুম’ ঘোষণার অর্থ ও তাৎপর্য সার্বিক ভাবে হৃদয়ঙ্গম করার পর থেকে। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলন শুরু হতেই বুঝেছিলাম সে স্বপ্ন সত্যি হতে বেশি বাকি নেই আর। মুক্তিযুদ্ধকালে, বধ্যশিবির-উত্তর উদ্যত সঙ্গীনের নিচে ক্ষতাক্ত জীবনে ওই স্বপ্নই ছিল একমাত্র সান্ত¡না।

কন্যাশিশু এবং কিছু অভিজ্ঞতা by আদনান সৈয়দ

আমি থাকি যুক্তরাষ্ট্রে। ছুটিছাঁটায় সময়-সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে চলে আসি। তবে এবার বাংলাদেশে আসার সময় আমার অনুভূতি ছিল একটু ভিন্ন। আমার স্ত্রী বাংলাদেশে, তিনি সন্তানসম্ভবা। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! আর বাবা হওয়ার আনন্দটা সত্যিই কি ভাষায় প্রকাশ করা যায়?

বিস্ময়-বালিকা by মো. সাইফুল্লাহ

সারিনা হোসেনের বয়স ১০ বছর। ছোট্ট মেয়েটার একটা বই বের হয়েছে লন্ডনের অলিম্পিয়া পাবলিশার্স থেকে। তার লেখা গল্পের অংশবিশেষের অনুবাদ প্রকাশিত হলো তোমাদের জন্য।

গ্রামেও সমর্থন হারাচ্ছে কংগ্রেস

ভারতের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জরিপে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের আভাস মিলেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দিল্লির মসনদে বসছেন নরেন্দ্র মোদি। এবার তাঁদের জন্য সুসংবাদ নিয়ে এসেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার। পিউ রিসার্চের জরিপে দেখা যায়, গ্রামীণ জনগণের সমর্থন দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের পক্ষে থাকলেও এবার তারা বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। ভারতীয়রা প্রতিবেশী চীনের ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও পাকিস্তান নিয়ে তারা বেশ সতর্ক। আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সাধারণভাবে তাদের ইতিবাচক ধারণা রয়েছে। পিউ রিসার্চ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এ জরিপ চালায়। জরিপে পাঁচটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো: গ্রামের জনগণ বিজেপির পক্ষে ভারতের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী দেশটির প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টিকেই (বিজেপি) বেশি সমর্থন করে। যদিও ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ জনগণের সমর্থন পেয়ে আসছিল। আর এ কারণেই কংগ্রেসও গ্রামীণ জনগণবান্ধব বেশ কিছু আইন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। উদাহরণ হিসেবে গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন ও জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা প্রকল্পের কথা বলা যায়। তার পরও দেখা যায়, এবার গ্রামের ৬৪ শতাংশ মানুষের সমর্থন বিজেপির দিকে। বিপরীতে ১৮ শতাংশ মানুষ কংগ্রেসকে সমর্থন করছে। তরুণদের সমর্থনও বিজেপির পক্ষে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভারতীয়দের মধ্যে তিনজনে একজন মনে করেন, দেশের সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো বিজেপি। তরুণেরা মনে করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, মূল্যস্ফীতি রোধ, সন্ত্রাসবাদ দমন ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের মতো কাজ বিজেপির পক্ষেই সফলভাবে করা সম্ভব।
হতাশ হলেও অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের বেশি ভারতীয় মনে করেন, দেশ ভুল পথে চলছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে হতাশা আছে। তবে ৫৭ শতাংশ ভারতীয় মনে করেন, তাঁদের অর্থনীতি এ মুহূর্তে ভালো অবস্থায় আছে। অবশ্য প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কম। ৬২ শতাংশ মনে করেন, আগামী ১২ মাসে অর্থনীতির আরও উন্নতি হবে। ৬৪ শতাংশ মনে করেন, এখনকার শিশুরা পূর্ণবয়স্ক হলে এখনকার পূর্ণবয়স্ক ভারতীয়দের চেয়ে ভালো থাকবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তুলনা করলে বেশির ভাগ ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। নিউইয়র্কে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়েকে গ্রেপ্তার ও হেনস্তার ঘটনা সত্ত্বেও ৫৭ শতাংশ ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক। বিপরীতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ৩৫ শতাংশের। প্রতি দুজনে একজন ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীনকেই ভারতের জন্য বড় হুমকি বলে বিবেচনা করেন। আর প্রতি চারজনে একজনের বেশি ভারতীয় মনে করেন, চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান প্রসঙ্গ ৭১ ভাগ ভারতীয় প্রতিবেশী দেশ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে অপছন্দ করেন। তবে তাঁরা দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা দেখতে চান। প্রতি ১০ জনে নয়জনই পাকিস্তানকে ভারতের জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করেন। আর ৮০ শতাংশ পাকিস্তানকে ভারতের জন্য ভয়ংকর হুমকি বলে বিবেচনা করেন। ৬৪ শতাংশের মতে, নয়াদিল্লির সঙ্গে ইসলামাবাদ সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। আর এটা করতে ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনাকে সমর্থন করেন ৫৩ শতাংশ ভারতীয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সেনাঘাঁটিতে আবার গুলি, নিহত ৪

গুলির পর গত বুধবার টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটির প্রধান
ফটকে যানবাহনে তল্লাশি চালান নিরাপত্তাকর্মীরা। রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে আবার এক সেনার পিস্তলের গুলিতে অন্তত তিন সেনা নিহত ও ১৬ সেনা আহত হয়েছেন। পরে হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেন। গত বুধবার এ ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘হামলার এই ঘটনায় আমি সীমাহীন কষ্ট পেয়েছি।’ ২০০৯ সালে একই ঘাঁটিতে সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসান গুলি করে ১৩ সেনা সদস্যকে হত্যা করেন। এ সময় অপর ৩২ জন সেনা আহত হন।
ওই হামলার ঘটনায় নিদালকে মৃত্যুদণ্ড হয়। ঘাঁটির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মার্ক মিলে বলেন, বুধবারের হামলাকারী ওই সেনা ২০১১ সালে ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগছিলেন। গতকাল হামলার ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিরা সবাই সেনা। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কমান্ডার মিলে আরও বলেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারী সেনা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর চিকিৎসা চলছিল। একটি স্বয়ংক্রিয় পিস্তল থেকে গতকাল তিনি আকস্মিক গুলি ছোড়েন। পিস্তলটি সম্প্রতি কিনেছিলেন তিনি। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই সেনার নাম ইভান লোপেজ (৩৪)। তবে সেনা কর্তৃপক্ষ এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। এএফপি ও বিবিসি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে যুবকদের ভূমিকা

যুবসমাজই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার ক্ষেত্রে উদ্দীপনামূলক ভূমিকা নিতে পারে। একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল যুবসমাজের ভাবমূর্তির ওপর সমগ্র জাতির নীতি-নৈতিকতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব প্রাজ্ঞ প্রবীণদের ওপর থাকে। তাঁদের অভিজ্ঞতা, সততা, দক্ষতা এবং ন্যায়নিষ্ঠার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি বাস্তবায়নের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে তরুণ ও যুবক বয়সীরা। তরুণদের মেধা, শ্রম ও দক্ষতা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য এনে দেয়। অল্প কিছুসংখ্যক বিপথগামী বাদে সমাজের অধিকাংশ তরুণ-যুবক বিশুদ্ধ ও আদর্শবান। তাদের একত্র করা সম্ভব হলে তাদের দিয়েই দেশে বিরাজমান দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে। সুনাগরিকেরা এমন একটি সামাজিক পরিবেশ চায়, যেখানে তারা সবাই মিলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। যেখানে দুর্নীতি হবে, সেখানেই শান্তিপূর্ণভাবে জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে। পবিত্র কোরআনে সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে, ‘জলে-স্থলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কিছু কিছু কাজের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রুম, আয়াত: ৪১)
দেশের জাতীয় সমস্যা দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। শুধু দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিয়ে সম্ভব নয়, এ জন্য প্রয়োজন গণসচেতনতা, দেশপ্রেম এবং তারুণ্যের অঙ্গীকার। তরুণ ও যুবকদেরই দুর্নীতি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের প্রত্যয়, দর্শন, প্রত্যাশা ও অঙ্গীকারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে দুর্নীতির মাত্রা এবং কারণ নিয়ে দ্বিমত থাকলেও এর প্রতিরোধের বিষয়ে কারও কোনো ভিন্নমত থাকার কথা নয়। এ ছাড়া সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে সুখী-সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল দেশ গড়ার আন্দোলনে অংশ নিতে হবে। যেমনভাবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) আপামর জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যেকোনো অন্যায়কারী দুর্নীতিবাজকে দমনে সে যেন হাত দিয়ে প্রতিরোধ করে, যদি তা করতে না পারে তবে সে যেন মুখ দিয়ে প্রতিহত করে। যদি সে মুখ দিয়েও না পারে, তাহলে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা পোষণ করে; আর এটা দুর্বল ঈমানের পরিচয়।’ (বুখারি) ‘দুর্জয় তারুণ্য দুর্নীতি রুখবেই’—তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক মূল্যবোধ নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে এবং পরে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তরুণদের সাহসিকতা ও সংঘবদ্ধতার মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ করা যায়। সাহসী তরুণেরা যদি একত্র হয়, তবে তাদের দলগত শক্তি দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে।
সবাইকে বলতে হবে, ‘দুর্নীতি করব না এবং সইব না’। দুর্নীতি প্রতিরোধে মন্দকে পেছনে ফেলে ভালোকে কাছে টানার অনুভূতি সৃষ্টি করতে হবে। পাহাড় সমান দুর্নীতি দূর করার জন্য আদর্শবান ও সৎ তরুণ-যুবকদের সমাজকল্যাণমূলক কাজের নেতৃত্বে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হোক, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ দুর্নীতিমূলক কাজে নিষেধ করবে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪) যুবসমাজের দ্বারা জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে দুর্নীতির শিকড় উৎপাটন করা দরকার। কারা কীভাবে দুর্নীতি করছে, সে তথ্য প্রকাশ্যে ও জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। নিজেদের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে দুর্নীতি না করার এবং প্রতিরোধেরও অঙ্গীকার করতে হবে। তরুণ যুবসমাজ এ ব্যাপারে কেবল সাহায্য-সহযোগিতা করবে। দেশের যুবসমাজ অসততা, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরোধিতা শুরু করলে দুর্নীতিপরায়ণ লোকেরা দুর্নীতি পরিত্যাগ করতে বাধ্য হবে। এর জন্য প্রয়োজন তরুণ ও যুবকদের সম্মিলিত ঐক্যমত ও সংঘবদ্ধতা। ধর্মীয় বিধিবিধান ও নৈতিক অনুশাসনের কথা জনসাধারণের কাছে সুন্দরভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব।
দুর্নীতি প্রতিরোধে নিজের ইচ্ছাশক্তি ও আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন। মানুষের আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে বিবেকবোধের মাধ্যমে সমাজে দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করতে হবে। কেউ যদি দুর্নীতিতে আকৃষ্ট হয়েও নিজের বিবেকের তাড়নায় দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকতে পারেন, তাহলে তিনি খাঁটি ধর্মপ্রাণ লোক। প্রতিরোধের মাধ্যমেই দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। দুর্নীতি দমনের জন্য সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। ‘সমৃদ্ধ দেশ আলোকিত মন, হয়ে উঠি সচেতন একজন’—এমন বাস্তবধর্মী স্লোগান সামনে রেখে তরুণ-যুবকদের সেই সুশীল সমাজ বিনির্মাণের জন্য কাজ করতে হবে, যেখানে কোনো অন্যায়-অপরাধ, প্রতারণা, অবিচার থাকবে না। আত্মশক্তি বিকাশের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম তথা যুবসমাজ রুখে দাঁড়ালে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে বাধ্য। এ জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-জীবনের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিবিষয়ক সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় প্রভৃতি স্থান থেকে সদুপদেশ ও ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকে তৃণমূল পর্যায় থেকে দুর্নীতি দমনের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরি করে সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে আন্তধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাই আসুন, দুর্নীতিকে ‘না’ বলার প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকার সামনে রেখে সর্বাত্মক নৈতিকতা চর্চার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

সন্ত্রাসী হামলা, বেঁচে গেলেন মোশাররফ

পারভেজ মোশাররফ
পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফ অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর গাড়িবহর ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ সেতু পার হওয়ার পর পর ওই সেতুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, মোশাররফের গাড়িবহরে হামলার উদ্দেশ্যেই ওই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাওয়ালপিন্ডির সশস্ত্র বাহিনীর হূদেরাগ ইনস্টিটিউট আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলোজি (এএফআইসি) থেকে চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মোশাররফকে তাঁর খামারবাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল। তাঁর গাড়িবহর ফয়জাবাদ সেতু পার হওয়ার পর পর ওই সেতুতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত নিয়াজি জানান, চার থেকে ছয় কিলোগ্রাম ওজনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে ওই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেতুর সঙ্গে লাগানো পাইপলাইন দিয়ে এসব বিস্ফোরক ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এই বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,
বিস্ফোরণের ফলে ঘটনাস্থলে এক ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া রাস্তার পাশের পায়ে হাঁটার পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলামাবাদ পুলিশের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাইম জানান, ওই ঘটনার পর পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী স্কোয়াড ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। তবে আর কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। তবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদা ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দীর্ঘদিন ধরে মোশাররফকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। মোশাররফকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ৩ জানুয়ারি আদালতে নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে এএফআইসিতে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত হন পারভেজ মোশাররফ। ডন ও এএফপি।

সোনিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান মোদির

সোনিয়া গান্ধী
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কংগ্রেস সভানেত্রী জামা মসজিদের শাহি ইমামের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছেন। ধর্মকে কাজে লাগিয়ে ভোট পেতে চাইছে কংগ্রেস। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজিয়াবাদ শহরে এক সমাবেশে মোদি এ কথা বলেন। এদিকে সোনিয়া গান্ধী শাহি ইমামের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের ঘটনা নিয়ে বিজেপির সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিজেপির এই অভিযোগ “তামাশা” ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা নির্বাচনকে মেরুকরণ করতে চাই না।’ জি নিউজ।

দুর্নীতি প্রতিরোধে যুবকদের ভূমিকা

যুবসমাজই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার ক্ষেত্রে উদ্দীপনামূলক ভূমিকা নিতে পারে। একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল যুবসমাজের ভাবমূর্তির ওপর সমগ্র জাতির নীতি-নৈতিকতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব প্রাজ্ঞ প্রবীণদের ওপর থাকে। তাঁদের অভিজ্ঞতা, সততা, দক্ষতা এবং ন্যায়নিষ্ঠার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি বাস্তবায়নের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে তরুণ ও যুবক বয়সীরা। তরুণদের মেধা, শ্রম ও দক্ষতা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য এনে দেয়। অল্প কিছুসংখ্যক বিপথগামী বাদে সমাজের অধিকাংশ তরুণ-যুবক বিশুদ্ধ ও আদর্শবান। তাদের একত্র করা সম্ভব হলে তাদের দিয়েই দেশে বিরাজমান দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে। সুনাগরিকেরা এমন একটি সামাজিক পরিবেশ চায়, যেখানে তারা সবাই মিলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। যেখানে দুর্নীতি হবে, সেখানেই শান্তিপূর্ণভাবে জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে। পবিত্র কোরআনে সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে, ‘জলে-স্থলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কিছু কিছু কাজের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রুম, আয়াত: ৪১)
দেশের জাতীয় সমস্যা দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। শুধু দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিয়ে সম্ভব নয়, এ জন্য প্রয়োজন গণসচেতনতা, দেশপ্রেম এবং তারুণ্যের অঙ্গীকার। তরুণ ও যুবকদেরই দুর্নীতি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের প্রত্যয়, দর্শন, প্রত্যাশা ও অঙ্গীকারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে দুর্নীতির মাত্রা এবং কারণ নিয়ে দ্বিমত থাকলেও এর প্রতিরোধের বিষয়ে কারও কোনো ভিন্নমত থাকার কথা নয়। এ ছাড়া সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে সুখী-সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল দেশ গড়ার আন্দোলনে অংশ নিতে হবে। যেমনভাবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) আপামর জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যেকোনো অন্যায়কারী দুর্নীতিবাজকে দমনে সে যেন হাত দিয়ে প্রতিরোধ করে, যদি তা করতে না পারে তবে সে যেন মুখ দিয়ে প্রতিহত করে। যদি সে মুখ দিয়েও না পারে, তাহলে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা পোষণ করে; আর এটা দুর্বল ঈমানের পরিচয়।’ (বুখারি)
‘দুর্জয় তারুণ্য দুর্নীতি রুখবেই’—তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক মূল্যবোধ নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে এবং পরে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তরুণদের সাহসিকতা ও সংঘবদ্ধতার মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ করা যায়। সাহসী তরুণেরা যদি একত্র হয়, তবে তাদের দলগত শক্তি দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে। সবাইকে বলতে হবে, ‘দুর্নীতি করব না এবং সইব না’। দুর্নীতি প্রতিরোধে মন্দকে পেছনে ফেলে ভালোকে কাছে টানার অনুভূতি সৃষ্টি করতে হবে। পাহাড় সমান দুর্নীতি দূর করার জন্য আদর্শবান ও সৎ তরুণ-যুবকদের সমাজকল্যাণমূলক কাজের নেতৃত্বে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হোক, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ দুর্নীতিমূলক কাজে নিষেধ করবে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪) যুবসমাজের দ্বারা জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে দুর্নীতির শিকড় উৎপাটন করা দরকার। কারা কীভাবে দুর্নীতি করছে, সে তথ্য প্রকাশ্যে ও জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। নিজেদের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে দুর্নীতি না করার এবং প্রতিরোধেরও অঙ্গীকার করতে হবে। তরুণ যুবসমাজ এ ব্যাপারে কেবল সাহায্য-সহযোগিতা করবে। দেশের যুবসমাজ অসততা, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরোধিতা শুরু করলে দুর্নীতিপরায়ণ লোকেরা দুর্নীতি পরিত্যাগ করতে বাধ্য হবে। এর জন্য প্রয়োজন তরুণ ও যুবকদের সম্মিলিত ঐক্যমত ও সংঘবদ্ধতা। ধর্মীয় বিধিবিধান ও নৈতিক অনুশাসনের কথা জনসাধারণের কাছে সুন্দরভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব।
দুর্নীতি প্রতিরোধে নিজের ইচ্ছাশক্তি ও আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন। মানুষের আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে বিবেকবোধের মাধ্যমে সমাজে দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করতে হবে। কেউ যদি দুর্নীতিতে আকৃষ্ট হয়েও নিজের বিবেকের তাড়নায় দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকতে পারেন, তাহলে তিনি খাঁটি ধর্মপ্রাণ লোক। প্রতিরোধের মাধ্যমেই দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। দুর্নীতি দমনের জন্য সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। ‘সমৃদ্ধ দেশ আলোকিত মন, হয়ে উঠি সচেতন একজন’—এমন বাস্তবধর্মী স্লোগান সামনে রেখে তরুণ-যুবকদের সেই সুশীল সমাজ বিনির্মাণের জন্য কাজ করতে হবে, যেখানে কোনো অন্যায়-অপরাধ, প্রতারণা, অবিচার থাকবে না। আত্মশক্তি বিকাশের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম তথা যুবসমাজ রুখে দাঁড়ালে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে বাধ্য। এ জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-জীবনের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিবিষয়ক সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় প্রভৃতি স্থান থেকে সদুপদেশ ও ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকে তৃণমূল পর্যায় থেকে দুর্নীতি দমনের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরি করে সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে আন্তধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাই আসুন, দুর্নীতিকে ‘না’ বলার প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকার সামনে রেখে সর্বাত্মক নৈতিকতা চর্চার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।



ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

কত কী দেখলাম!

প্রথম চীনা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করি। ১৯৭৭-৭৮ সালের কথা। তখন আমি পড়ি ক্লাস সেভেন কি এইটে। খুব শুকনা-পটকা ছিলাম। কিন্তু মাথাটা ছিল বড়। এ জন্য অনেকেই আমাকে ডাকত কাতলা মাছ বলে। নরকঙ্কালের মতো শরীরটা থাকার ফলে একটা কাজ পাওয়া গেল। আমার বড় ভাই পড়তেন মেডিকেল কলেজে। তিনি আমাকে খালি গায়ে দাঁড় করিয়ে রেখে আমার বুকের হাড্ডিগুলোতে পেনসিল দিয়ে দাগ দিতেন আর পড়া মুখস্থ করতেন। শর্ত হলো, পরীক্ষা শেষে তিনি আমাকে চায়নিজ খাওয়াবেন। তখন রংপুরে সবে একটা চায়নিজ রেস্টুরেন্ট হয়েছে। বলাকা হোটেলের নিচে। তো চায়নিজ খেতে দুই ভাইয়ের কেউই কখনো যাইনি। ভাই মেনুটা পড়ে একটা খাবারের অর্ডার দিলেন। সেটা ছিল সবজি। আমাদের সামনে একটা বাটিতে ভাতের মাড় দেওয়া কতগুলো পেঁপে সেদ্ধ এল। আমরা দুই ভাই কাঁটা চামচ ব্যবহার করে সেই জিনিস খেলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম, চায়নিজ অত্যন্ত বিস্বাদ।প্রথম কোমল পানীয় খাওয়ার গল্পটা বলি। ক্লাস নাইনে পড়ি। রংপুর জিলা স্কুলের নাইনের ছাত্ররা ঠিক করলাম পিকনিকে যাব। তিস্তা নদীর ধারে। আমাদের বড়লোক বন্ধু রাজদের ট্রাক আছে, সেটায় চড়ে আমরা তিস্তা নদীর ধারে বাঁধের ওপরে একটা শিমুলগাছের নিচে আশ্রয় নিলাম। কিন্তু খাবারের মেনুতে আছে সেভেনআপ। আমি আর আমার তখনকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্বপনের মধ্যে কথা হচ্ছে:
‘দোস্ত, এইটা তো কোনো দিন খাই নাই? কেমন লাগে খাইতে?’
‘আমিও তো খাই নাই। কেমনে যে খাইতে হয়, জানিও না তো!’
‘কী করবি?’
‘অরা তো মনে হয় আগে খাইছে। অরা খাক। ওদের দেখে দেখে খাব।’ ওরা সেভেনআপের বোতল খুলে পাইপ দিয়ে খাওয়া শুরু করল। আমরাও দুজনে ভয়ে ভয়ে দুটো সেভেনআপের বোতল হাতে নিলাম। দুপুরের রোদে বোতল গরম হয়ে আছে। সেই জিনিস মুখে দিতেই ঝাঁজ... তারপর উদ্গার... রংপুর শহরে লিফট এসেছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। লিফট কী, দেখতে যাব। বন্ধুরা মিলে সাইকেল চালিয়ে একদিন গেলাম লিফট দেখতে। রংপুর শহরে টেলিভিশন এসেছে। সেটা দেখতে কার বাসায় গিয়েছিলাম মনে নেই। তবে মোহাম্মদ আলী ক্লের শেষ লড়াইটা দেখতে স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হলো আর আমরা আমাদের বন্ধু ভিকটোর রাধাবল্লভের বাড়ি গেলাম। কারণ, তার বাসায় টেলিভিশন আছে। পরের দিন মোস্তাফিজুর স্যার বললেন, ‘এহ, একেবারে গো-হারা হারছে!’ ঢাকা শহরে মোবাইল ফোন এল। প্রথমে তো বড় বড় সেট, শুধু অতি বড়লোকেরা ব্যবহার করেন। ফোন করলে তাঁরাও বিল ওঠার ভয়ে কেটে দেন। তারপরে এল গ্রামীণফোন। আমিও একটা কিনে ফেললাম। কারণ, বাসায় ল্যান্ডফোন ছিল না। ইয়া বড় সেট। সেটা নিয়ে রাস্তায় নামলে ট্রাফিক কন্ট্রোল করা যেত। কারণ, লোকে ভাবত ওয়াকিটকি হাতে পুলিশের লোক। আমার মনে আছে, আমাদের বন্ধু লেখক-সাংবাদিক প্রভাষ আমিন আর আমি এক রিকশায় যাচ্ছি, সম্ভবত আমিনুর রশীদও ছিলেন। প্রভাষ চূড়ায় বসে বললেন, আপনার মোবাইল ফোনটা দেন তো, ভাব নিই। তিনি কানে মোবাইলটা ধরে অকারণে কথা বলার ভান করতে লাগলেন। কিছুদিন পরে হানিফ সংকেত ইত্যাদিতে দেখালেন, মুরগিওয়ালা মোবাইল ফোনে কথা বলছে। দেখে আমাদের হাসি আর থামে না। এখন? মুরগিওয়ালার বাড়িতে অন্তত তিনটা মোবাইল ফোন আছে। ঢাকা শহরে কারও কারও বাড়িতে কম্পিউটার রাখা শুরু হলো। তখন আমরা কাজ করি ভোরের কাগজ-এ। তার মানে ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি। পত্রিকা অফিসে কম্পিউটার আগেই এসে গেছে। কিন্তু বাড়িতে লোকে কম্পিউটার রাখে কী কাজে?
এটা নতুন ট্রেন্ড। আমাদের পরিচিতদের মধ্যে আসফিয়া আজিমের বাসায় পিসি আছে। আমি বললাম, এটা নিয়ে একটা ফিচার লিখতে হবে। বাসায় পিসি রেখে লোকে কী করে? আগে বের হতো ক্যাসেট। গানের অ্যালবামের ক্যাসেট। এখন বের হয় সিডি। ভোরের কাগজ-এর বেনজীর আহমেদ আমাদের বললেন, সিডির নিউজ দিতে হবে। সিডির নিউজ দেওয়া শুরু হলো। তারপর একদিন খবর এল, দেশের প্রথম ডিভিডি বের হয়েছে কুমার বিশ্বজিতের। আমেরিকায়। আমাদের দুশ্চিন্তা, ডিভিডি প্লেয়ার তো কারও নেই। কুমার বিশ্বজিতের ডিভিডি চালানো হবে কোন যন্ত্রে। তারও আগে সত্তরের দশকের শেষে আর আশির দশকের চল ছিল ভিসিআরের। ভিসিআরে লোকে হিন্দি ছবি দেখত। হাওয়া হাওয়া গানটা বা আই এম এ ডিস্কো ড্যান্সার লোকের মুখে মুখে ফিরত। বিয়ের অনুষ্ঠান রেকর্ড করা হতো আর সেটার ক্যাসেট সংরক্ষণ করা হতো। মাঝেমধ্যে ভিসিআরে সেটা চালিয়ে দেখা হতো। ভিসিআর সস্তা হয়ে এল ভিসিডি। এখন তিন হাজার টাকায় ডিভিডি প্লেয়ার পাওয়া যায়। পিসি, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্ট ফোন। লোকে কৌতুক করে, পাত্র স্মার্ট, এটা কোনো যোগ্যতা হলো? আমার ফোনই তো স্মার্ট। শেষে আরেকটা সত্য ঘটনা বলি। হংকংয়ে গৃহপরিচারিকার চাকরি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এক বন্ধু তার পরিচারিকাকে দিয়ে আবেদন করাল। আবেদন গৃহীত হলো। মেয়েটি চাকরি নিয়ে এখন হংকংয়ে। হংকং থেকে সে ফোন করেছে আমাদের বন্ধুটিকে, খালাম্মা, আপনার ফোনে ভাইবার নেন। ভাইবার নিলে ফোনে কথা বলতে পয়সা লাগে না! বাংলাদেশ যে কত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, বাংলাদেশের মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারতের চেয়েও এগিয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা এই প্রযুক্তিকে ভালো কাজে, ইতিবাচক কাজে, নিজের ও দেশের উন্নতির জন্য ব্যবহার করব কি না!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

ক্রিমিয়া নিয়ে ভোট ও ‘আমাদের মাথাব্যথা’

ক্রিমিয়ার রাশিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গত সপ্তাহে যে নিন্দাজ্ঞাপক প্রস্তাবের ওপর ভোট গৃহীত হয়, বাংলাদেশসহ ৫৮টি দেশ তাতে ভোটদানে বিরত থাকে। ১০০টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ও ১১টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়। তবে মোট দেশের হিসেবে কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাশিয়ার নিন্দাই করেছে। এমনিতে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত মানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু তার যে কূটনৈতিক গুরুত্ব আছে, তা অস্বীকার করা যায় না। ২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়ার দক্ষিণ অসেতিয়া প্রদেশ দখলের চেষ্টা করলে সাধারণ পরিষদ তার নিন্দা করেছিল। কিন্তু সেবার পক্ষে ১৪, বিপক্ষে ১১, এই সামান্য ব্যবধানে সেই নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। কারণ, ১০৫টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। সে প্রস্তাবকে রাশিয়া তার পক্ষে জয় বলে দাবি করতে পারত, করেও ছিল; কিন্তু তার পরও অসেতিয়া দখলের চেষ্টা না করে তাকে স্বাধীন বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ক্রিমিয়া প্রসঙ্গে যে ৫৮টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে, তার প্রায় সবই উন্নয়নশীল দেশসমূহের আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রুপ অব ৭৭-এর সদস্য। এই গ্রুপের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ অধিকাংশ সময় সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুসারেই সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দিয়ে থাকে। তৃতীয় বিশ্বের দেশ মানেই দুর্বল কবজি, খালি পকেট। তাদের একমাত্র যা আছে তা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
সে কারণে যেকোনো আন্তর্জাতিক ফোরামেই তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহ কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে তাদের এই সংখ্যার জোরকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে থাকে। সব সময় যে কাজে লাগে তা নয়, তবে একলা লড়ার চেয়ে অনেকে মিলে লড়লে জেতার সম্ভাবনা অনেক বেশি, এতে ভুল নেই। ক্রিমিয়ার প্রশ্নে দুই পুরোনো পরাশক্তি নতুন করে কাজিয়া শুরু করায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য তা বিব্রতকর সমস্যার সৃষ্টি করেছে। একদিকে আমেরিকা, এখনো বিশ্বের এক নম্বর—কারও কারও মতে একমাত্র পরাশক্তি। কবজির জোর ও পকেটের রেস্ত, তার দুটোই কমতির দিকে, কিন্তু তাই বলে আমেরিকাকে উপেক্ষা করবে, এমন অবস্থার সৃষ্টি এখনো হয়নি। অন্যদিকে রাশিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যে লন্ডভন্ড অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তার অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহ এই দুইয়ের কাউকেই অখুশি করতে চায় না। রুশ ভালুক যেভাবে ক্রিমিয়াকে নিজের হাতের থাবার নিচে নিয়ে এল, এদের অনেকের চোখেই তা হয়তো আগ্রাসী মনে হয়েছে। নীতির কথা বিবেচনা করলে তাদের রাশিয়ার বিপক্ষে, তাকে নিন্দা করে সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার কথা। কিন্তু কূটনীতিতে কবে কে আবার নীতির কথা মাথায় রাখে! সেখানে জাতীয় স্বার্থটাই মুখ্য। অতএব, সে বিবেচনায় বাংলাদেশ যে গ্রুপ অব ৭৭-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে ভোটদানে বিরত থাকে, সেটাই সঠিক হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকা আশা করেছিল, বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার আগ্রাসনের বিপক্ষে ভোট দেবে। অর্থাৎ ভোটটা আমেরিকার পক্ষেই যাবে। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত সে কথা মুখ ফুটে বলেও ফেলেছিলেন।
সে কথার জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যা বলেছেন, তা কারও কারও ভ্রুকুটির কারণ ঘটাতে পারে। মন্ত্রী বলেছেন, কে কী ভাবল, তা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই। জোটনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশ্নে নাক গলানো আমাদের কাজ নয়। অতএব, ইউক্রেন প্রশ্নে ভোটদানে বিরত থেকে বাংলাদেশ ঠিক কাজই করেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশও প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বদলে ভোটদানে বিরত থাকে। রাশিয়ার চোখে তাদের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। অন্যের জমি দখলের কাজটা তো বাহবা পাওয়ার মতো কিছু নয়। ফলে নিন্দার বদলে মুখে কুলুপ এঁটে রাখা হলে তা তো মস্কোর পক্ষেই গেল। তবে কেন ভোটদানে বিরত থাকলাম, তার ব্যাখ্যা হিসেবে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা নাক গলাই না’ বলে যে যুক্তি বাংলাদেশ এবং কোনো কোনো জোটনিরপেক্ষ দেশ দিয়েছে, তা খুব কার্যকর নয়। সিরিয়ায় আজ যা ঘটছে, প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকারের চোখে তা সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুদানের দারফুর, কঙ্গো বা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে যা ঘটছে, তাও সেসব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই তারা দাবি করে থাকে। ১৯৭১-এ বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের গণহত্যা, অধিকাংশ ‘জোটনিরপেক্ষ’ দেশ তাকেও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে চালাতে চেয়েছে। একাত্তরে এদের কাউকেই আমরা কাছে পাইনি। ১২ বছর আগে কসোভোর ঘটনাবলিকে সার্বিয়া ও রাশিয়া উভয়েই অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করেছে। কিন্তু আমরা এখন জানি, এর কোনোটাই কোনো এক দেশের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয় নয়। মানুষের জীবন যখন বিপন্ন, তাকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়, অতএব সে বিষয়ে আমরা নাক গলাই না,’—এ যুক্তি বোধ হয় ধোপে টেকে না।
এই ভোট নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অবস্থানের যে মৃদু সমালোচনা করেছেন, তার উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তাতেও কিছুটা খটকা জেগেছে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমেরিকা কী ভাবল বা ভাবল না, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই—কথাটা খুব যে কূটনীতিকসুলভ হয়েছে, তা বোধ হয় বলা যাবে না। কোনো হেজি পেজি দেশ আমেরিকা নয়। তাকে আমরা বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচনা করি, আমেরিকাও আমাদের শত্রু ভাবে, তা কখনো শুনিনি। ফলে, এমন দেশের প্রতিক্রিয়া কী হবে, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সে কথা মাথায় রাখা পরিণত কূটনীতিকের প্রমাণ। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। কোনো কোনো ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতি আমেরিকা প্রসন্ন নয়। সম্প্রতি যে নির্বাচন হয়ে গেল, তার ফলাফল নিয়ে আমেরিকার সমালোচনা আমাদের ক্ষমতাসীন মহলের ভালো লাগেনি। এ কথা ঠিক, অনেক ব্যাপারেই আমেরিকা বড় ভাইসুলভ ব্যবহার করে থাকে। কাজে-অকাজে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলায়। এর কোনোটাই আমাদের ভালো লাগার কথা নয়, কিন্তু তাই বলে সে দেশকে খরচার খাতায় লিখে দেব, তাও কোনো কাজের কাজ নয়। আমরা ছোট দেশ। আমেরিকা আমাদের পাশে থাকলে আমাদেরই লাভ। বস্তুত, আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে, তা কোনো মৌল বিষয়ে মতভেদ থেকে নয়। আর যদি মতভেদ থেকেও থাকে, বন্ধুরাষ্ট্রের কাছে তা ব্যাখ্যা করাই দক্ষ কূটনীতিকের কাজ। ভয় হচ্ছে, সেই দক্ষতার কিছুটা খামতি বোধ হয় থেকেই যাচ্ছে।
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

রাহুলের আবেদনপত্র বাতিল

ভোটের মুখে নতুন অস্বস্তিতে পড়লেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। আমেথির বাসিন্দা রাহুল গান্ধীর আবেদনপত্র নাকচ করে দিলেন আদালত। আবেদনপত্র জমা দেয়ার সঠিক পদ্ধতি না মানার কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে নিজেকে আমেথির বাসিন্দা প্রমাণ করতে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য দরখাস্ত জমা দেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। কিন্তু আবেদনপত্রে তার জায়গায় স্বাক্ষর করেন জনৈক রাজেন্দ্র সিং। দরখাস্তটি সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেন জেলা আদালত। বৃহস্পতিবার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট জগৎরাজ ত্রিপাঠি বলেছেন, রাহুল যে আমেথিতে বসবাস করেন কিংবা এখানে এসে প্রায়ই থাকেন তার কোনো প্রমাণ নেই।
এই কারণেই রাহুলের ঠিকানার প্রমাণপত্র খারিজ করা হচ্ছে। গত দশ বছর ধরে আমেথির সংসদ সদস্য রাহুল। এবারও আমেথির লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা আবশ্যিক এবং ওই অ্যাকাউন্ট খুলতেই প্রয়োজন ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের। স্থানীয় মানসী গেস্ট হাউসকে রাহুলের অস্থায়ী বাসভবন হিসেবে দেখিয়ে আবেদনপত্রে সই করেন আমেথির কংগ্রেস মুখপাত্র রাজেন্দ্র সিং। আগপিছ না ভেবে এই খামখেয়ালির ষোল আনা মাসুল গুনতে হচ্ছে রাহুলকে।