Wednesday, April 3, 2019

মিজোরামে ভোট বর্জনের ডাক

ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ভোট বর্জনের ডাক দিল সেখানকার শক্তিশালী এনজিওগুলোর কো-অর্ডিনেশন কমিটি। একই সঙ্গে ৮ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজ্যে হরতাল পালনেরও হুমকি দিয়েছে তারা। ভারতের লোকসভা ভোটের এই সময়ে উত্তর–পূর্বাঞ্চলের আরেক রাজ্য মণিপুরেও আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট।
ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য মিজোরাম। খ্রিষ্টান অধ্যুষিত রাজ্যটিতে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা এনজিও বেশ শক্তিশালী। প্রতিটি রাজনৈতিক দলে তাদেরই প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি।
এই এনজিওগুলোর সমন্বয় সমিতি গতকাল মঙ্গলবার এক বৈঠকে ঠিক করেছে, আসন্ন লোকসভা ভোট তারা বয়কট করবে। শুধু তা–ই নয়, ৮ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মিজোরাম বন্‌ধেরও ডাক দেওয়া হয়েছে।
এনজিও কো-অর্ডিনেশন কমিটির চেয়ারম্যান ভানুলাল রুয়াতার দাবি, ত্রিপুরায় আশ্রিত মিজোরামের বাস্তুচ্যুত রিয়াং বা ব্রুদের জন্য আলাদা ভোটদান কেন্দ্র করা চলবে না। তাদের নিজ নিজ বুথে গিয়েই ভোট দিতে হবে বলে দাবি তোলা হয়।
মিজো অধ্যুষিত রাজ্যটির রিয়াং সম্প্রদায়ের মানুষেরা ২২ বছর ধরে ত্রিপুরায় বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন। মিজোরামে সংঘর্ষের জেরে তাঁরা পালিয়ে আসেন ত্রিপুরায়। ভারত সরকার এই বাস্তুচ্যুতদের জন্য প্রয়োজনীয় রেশনের ব্যবস্থা করছে।
ত্রিপুরায় মোট ছয়টি শিবিরে ৩৫ হাজার ব্রু বসবাস করে। তাদের মধ্যে ভোটার আছেন ১২ হাজার। ব্রুদের ৫২ শতাংশ সেই নির্বাচনে অংশ নেন।
২০১৮ সালের মিজোরাম বিধানসভা নির্বাচনে এই ব্রু-রা মিজোরামে গিয়েই ভোট দিয়ে আসেন। বিভিন্ন সাধারণ বুথেই নির্পাত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁরা ভোট দেন। এবার ভারতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁদের জন্য ১৫টি বিশেষ বুথ গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এতেই ক্ষিপ্ত সংখ্যাগুরু মিজোরা। তাঁদের দাবি, বিশেষ বুথ করা চলবে না। তাই মঙ্গলবার তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভোট বয়কট করা হবে।
ভানুলাল জানান, মিজোরা কেউ ভোটের ডিউটি করবেন না। বেসরকারি গাড়িকেও ভোটের কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, নির্বাচনে কোনো ধরনেরই সহযোগিতা করা হবে না। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এনজিও কো-অর্ডিনেশন কমিটির দাবি, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যদি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হয় তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতালে যাবে তারা। তবে রাজ্যে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক আশি কুন্দ্রা এনজিওগুলোকে তাঁদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।
এনজিওগুলো এখনো কড়া অবস্থান নিয়ে চলেছে। এখন দেখার শেষমেশ ব্রুদের নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
পাশের রাজ্য মণিপুরে আজ ভারতীয় সময় সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার বন্‌ধ্‌। বন্‌ধের ডাক দিয়েছে মণিপুরের যৌথ সংগ্রাম সমিতি।
সম্প্রতি পুলিশি হেফাজতেই মঞ্জুর আহমেদ নামের এক পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বন্‌ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। বন্‌ধের জেরে সকাল থেকেই বিঘ্নিত মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের স্বাভাবিক জনজীবন।
মিজোরামের মতো মণিপুরেও ১১ এপ্রিল শুরু হচ্ছে লোকসভার ভোট। মিজোরামে এক দিনে শেষ হলেও মণিপুরে অবশ্য ১৮ এপ্রিলও ভোট আছে। ভোটের আগে হরতাল আর হরতালের হুমকির জেরে জেরবার প্রশাসন।

ব্রেক্সিট নিয়ে বিরোধী নেতা করবিনের দ্বারস্থ হবেন তেরেসা মে

ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে অচলাবস্থা। কঠিন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। কিন্তু তিনি ব্রেক্সিটের কোনো কূলকিনারা করতে পারেন নি। ব্রেক্সিটের বিকল্প হিসেবে যেসব প্রস্তাব এসেছিল পার্লামেন্টে তাও দুই দফা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেরেসা মে’র ক্ষমতা দুলছে। যেকোনো সময় তার ছন্দপতন হতে পারে। এমন এক অস্থির সময়ে সব ভেদাভেদ ভুলে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বিরোধী লেবার দলের দিকে হাত বাড়িয়েছেন।
পার্লামেন্টের এই অচলাবস্থা কাটাতে, ব্রেক্সিট সম্পাদনে তিনি সহায়তা আহ্বান করবেন লেবার দলনেতা জেরেমি করবিনের। তার সঙ্গে সাক্ষাত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তেরেসা মে।
সেই সাক্ষাতে আলোচনা করতে চেয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বৃটেনের ভবিষ্যত সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে। দু’নেতা একমত হয়ে এগুতে চাইছেন দেশের জন্য। তেরেসা মের এমন আহ্বানকে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন জেরেমি করবিন। তিনি বলেছেন, এমন আহ্বান পেয়ে আমি খুবই খুশি। আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি কাস্টমস ইউনিয়ন পরিকল্পনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ওয়ার্কারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার বিষয়গুলো থাকবে আলোচনার টেবিলে। করবিন আরো বলেছেন, টেলিভিশনের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে পেরেছেন এবং এমন আলোচনায় যুক্ত হওয়ার দায়বদ্ধতা তার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে তেরেসা মের এ উদ্যোগে তার দল কনজার্ভেটিভ পার্টির ব্রেক্সিটপন্থিরা, বিশেষ করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন সহ অনেকেই ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, চূড়ান্ত দফায় ব্রেক্সিট তুলে দেয়া হচ্ছে লেবার দলের হাতে! এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে তার ব্রেক্সিট চুক্তি এরই মধ্যে তিনবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ভোটে দিয়েছেন। প্রথমবার ঐতিহাসিকভাবে ভয়াবহ পরাজয়ের মুখে পড়েছেন তিনি। তারপরের দু’বারও পরাজিত হয়েছেন বড় ব্যবধানে। এরপরেই সরকার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এমপিরা বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে সামনে আসেন। তার ভিতর থেকে বাছাই করা প্রস্তাবগুলো স্পিকার জন বারকাউ ভোটে দেন। দু’দফার ভোটে তাও পরাজিত হয়। এখন ব্রেক্সিট তাহলে কোনপথে যাবে! তেরেসা মে-ই বা কি করবেন! তিনি কি আগাম নির্বাচন দেবেন! সেখানেও বিপত্তি। মন্ত্রীপরিষদের কমপক্ষে অর্ধ ডজন সদস্য হুমকি দিয়েছেন, আগাম নির্বাচন ডাকা হলে তারা বিপক্ষে ভোট দেবেন। অনেকে পদত্যাগ করারও হুমকি দিয়েছেন। তাহলে কি চতুর্থ দফা ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে ভোটে দেবেন তেরেসা মে! এতেও তিনি হেরে যাওয়ার বড় ভয় আছে। এ অবস্থায় তিনি বিরোধী দলনেতা জেরেমি করবিনের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তার সঙ্গে যদি কাস্টমস ইউনিয়নের বিষয়ে ঐকমত্য হয় তাহলে তাতে বেঁকে বসতে পারেন বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, কাস্টমস ইউনিয়নে থাকার পক্ষে তিনি কখনো রাজি হবেন না।
এ অবস্থায় বিবিসির সাংবাদিক লরা কুয়েন্সবার্গ বলছেন, প্রধামনমন্ত্রী সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছেন একটি সফট ব্রেক্সিটের মাধ্যমে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ব্রেক্সিট সম্পাদনের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদনও করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে বৃটেনের সামনে সময় আছে ১২ই এপ্রিল। এ সময়ের মধ্যে বৃটেন যে প্রস্তাব দেবে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মানতে হবে। আর যদি তারা না মানে তাহলে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৃটেনকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ছেড়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে পার্লামেন্টে যেহেতু ‘জ্যাম’ লেগে আছে তাই তেরেসা মে সময় বৃদ্ধির আহ্বান জানাবেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কাছে।
এর আগে গত ২৯ শে মার্চ ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ করার কথা ছিল বৃটেনের। কিন্তু সে সময়ের মধ্যে তেরেসা মে সব কিছু গুছিয়ে উঠতে পারেন নি। ফলে অল্প সময়ের জন্য ওই সময়সীমা বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী ১২ই এপ্রিল পর্যন্ত সময় পান তিনি। কিন্তু তাতেও যেন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাই ডাউনিং স্ট্রিট থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তিনি এই সময়সীমা আবার বর্ধিত করতে চান। তা হতে পারে ২২ শে মে পর্যন্ত, যাতে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নির্বাচনে অংশ নিতে না হয় বৃটেনকে। এ জন্য তিনি হাত বাড়িয়েছেন জেরেমি করবিনের দিকে। তার সঙ্গে একটি নতুন পরিকল্পনা করে এগুতে চাইছেন এবং সেই পরিকল্পনা ১০ই এপ্রিলের আগে হাউস অব কমন্সে ভোটে দিতে চাইছেন। ওই সময়ে ব্রেক্সিট নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। কিন্তু জেরেমি করবিনের সঙ্গে যদি তেরেসা মে একটি একক প্রচেষ্টায় সম্মত হতে না পারেন তাহলে এমপিদের কাছে বেশ কিছু বিকল্প পন্থা ছুড়ে দিতে পারেন তিনি, যেন তারা নির্ধারণ করতে পারে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া কি হবে। তবে এখনও সময়সীমা বর্ধিত করার বিষয়ে সম্মত হতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে।

চীনা ধনীরা ভিন্ন পণ্য খুঁজছেন

* পছন্দের পরিবর্তন।
* আজকের ধনী তরুণ ক্রেতারা ‘মান’, ‘ভিন্নতা’ ও ‘শিল্পনৈপুণ্য’ নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন।
* ছোট কোম্পানি এসব চাহিদা পূরণ করছে।
কয়েক বছর ধরে চীনের বিলাসদ্রব্যের ক্রেতাদের রুচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বড় বড় কোম্পানির পণ্যের প্রতি তাদের এখন আর আকর্ষণ নেই। তাদের আকর্ষণ এখন দামি, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত বুটিক পণ্যের প্রতি। এসব পণ্যই এখন বিলাসবহুল কেনাকাটার প্রতীক হয়ে উঠেছে। চীনা দৈনিক ডেইলি জিং সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।
বাজারই এই পরিবর্তনের নিয়ামক শক্তি। ব্যাপারটা হলো, ক্রেতাদের বয়স যেমন কমে গেছে, তেমনি তাদের রুচিও পরিশীলিত হচ্ছে। এক দশক আগেও বিলাসদ্রব্যের ক্রেতারা গুসি ও প্রাদার পণ্যের পার্থক্য নিয়ে মাথা ঘামাত। আর আজকের ধনী তরুণ ক্রেতারা ‘মান’, ‘ভিন্নতা’ ও ‘শিল্পনৈপুণ্য’ নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছে। আর এর ভিত্তিতেই সুনির্দিষ্ট ক্রেতার চাহিদা পূরণকারী ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ব্র্যান্ড ভাবমূর্তি তৈরি করছে।
হংকংভিত্তিক পেডার গ্রুপের মার্চেন্ডাইজিং পরিচালক সারা ওং জিংকে বলেন, ‘চীনা ক্রেতারা খুবই পরিবর্তনকামী। তারা নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। ফলে দুনিয়ার চল সম্পর্কে এরা অবগত। রীতি অনুযায়ী তাদের বড় বড় কোম্পানির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে তারা নতুন, অনন্য ও প্রাসঙ্গিক ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছে।
এ রকম বেশ কিছু ব্র্যান্ড চীনে ব্যাপক কাটতি পেয়েছে। মার্কিন স্কিন কেয়ার কোম্পানি এরনো লাসজলো ঠিক সে রকম একটি ব্র্যান্ড। কোম্পানিটি ৯৩ বছরের পুরোনো হরেও চীনের বাজারে তাদের প্রবেশ মাত্র পাঁচ বছর আগে। চীনের বেশ কয়েকটি সুপারশপে এখন তাদের কাউন্টার আছে। তাদের পণ্য খুবই উঁচু মানের হওয়ায় চীনা ক্রেতারা এখন এই ব্র্যান্ডের পণ্য ডাকনামে ডাকতে শুরু করেছে।
লাসজলোর প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ক্রিস্টি ওয়াটসন জিংকে বলেন, ছোট কোম্পানি হওয়ার কারণেই লাসজলো চীনে সফর হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘আপনি যত ছোট হবেন, মানুষের সঙ্গে জনে জনে কথা বলার সুযোগ তত বেশি পাবেন। নির্দিষ্ট কিছু পণ্য উৎপাদন করার কারণে ক্রেতাদের মূল গুরুত্ব দেওয়ার বেলায় বড় কোম্পানির চেয়ে আপনাকে ভালো করতে হবে। এ ছাড়া আপনাকে নিয়োগও দিতে হবে সেভাবে, যাতে কর্মীরা ক্রেতাদের বিশেষ অভিজ্ঞতার স্বাদ দিতে পারেন। এ ছাড়া ক্রেতার শক্তি বলেও একটা ব্যাপার আছে। ক্রেতারাই আমাদের সবচেয়ে বড় শুভেচ্ছা দূত। যেদিন থেকে তাঁরা আমাদের আবিষ্কার করেন, সেদিন থেকে তাঁরা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অংশীদার হয়ে যান।’
এ লক্ষ্যে এসব কোম্পানি ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে বিপণন করে থাকে এবং তাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া তারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ মতামত নির্ধারণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে। তারা আবার কোম্পানির পক্ষে চীনের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয়। ক্রিস্টি ওয়াটসন আরও বলেন, ‘কৌশল হিসেবে এটি ডিজিটাল মাধ্যমই প্রথম ব্যবহার করে থাকে। অফলাইনেও আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি।’ এই কৌশল যথেষ্ট সফল বলেই মন্তব্য করেন ওয়াটসন। লাসজলোর ৬০ শতাংশ রাজস্ব আসছে এসব টিমল নামের একটি সুপারশপ থেকে। এ ছাড়া ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য তারা আরও মলে কাউন্টার খোলার কথা ভাবছে।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বুটিক হ্যান্ডব্যাগ ব্র্যান্ড ওয়েলডেনও চীনে একই কায়দায় ক্রেতাদের কাছে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারেও তারা পারদর্শিতা দেখিয়েছে।
ওয়েলডেন ২০১৭ সালে চীনের অনলাইন বিক্রয় কেন্দ্র তাওবাও গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিক্রি করতে শুরু করে। ৪০ হাজার গ্রাহকের কাছে এই প্ল্যাটফর্মের পণ্য সরাসরি প্রদর্শিত হয়। চীনের ফ্যাশন কোম্পানি অ্যান্ড লুক্সে ইনকরপোরেশন, মার্ক ইউয়ান ও জোয়ে ঝাং ওয়েলডেনকে বাছাই করে। ওয়েলডেনের প্রতিষ্ঠাতা স্যান্ডি ফ্রেইসেন বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটা আমার বাসাতেই সম্পন্ন হয়েছে। ক্রেতারা আমাদের কোম্পানি ও পণ্যের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পেরেছেন। পণ্যের মান ও কার্যকারিতার কারণে দুই দিনের মধ্যে তারা তিন লাখ ডলারের ব্যাগ বিক্রি করে। এর মধ্যে ৮ লাখ ৮ হাজার মানুষ তাদের পণ্য দেখে এবং ৪০ লাখ ৬ হাজার মানুষ তাদের পণ্যে লাইক দেয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন বা ছোট ব্র্যান্ডগুলোর সফল হতে গেলে এখন এই কৌশলেই যেতে হবে। বড় কোম্পানির পক্ষে যা করা সম্ভব নয়, তাদের ঠিক সেটাই করতে হবে। তবে বিপণন প্রক্রিয়ার মধ্যে এই কৌশল বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

শুক্রবার মাউন্ট এলিজাবেথ থেকে রিলিজ পেতে পারেন কাদের

বাইপাস সার্জারির পর ক্রমেই শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। এই উন্নতি অব্যাহত থাকলে আগামী শুক্রবার অথবা শনিবার সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেতে পারেন তিনি।
এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. আবু নাছের।
মঙ্গলবার রাতে তিনি গণমাধ্যমে জানান, ওবায়দুল কাদের সুস্থ হয়ে উঠছেন। শরীরের এই উন্নতির ধারাবাহিকতা থাকলে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা। সব ঠিক থাকলে শুক্র অথবা শনিবার তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া যেতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলে মাউন্ট এলিজাবেথের পাশে একটি ভাড়াবাসা নেয়া হবে। ওই বাসায রেখে তার চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলবে।

রামের মূর্তি বৈধ হলে আমারটা নয় কেন? -মায়াবতীর প্রশ্ন

উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর মূর্তি নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জবাব দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, যদি রামের মূর্তি নির্মাণ করা বৈধ হয় তাহলে তারটা কেন বৈধ নয়। তিনি যখন ওই প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও দলিত সম্প্রদায়ের অন্য নেতাদের অনেক মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। এ নিয়ে মঙ্গলবার এক পিটিশনের জবাব দিয়েছেন মায়াবতী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অযোধ্যায় রামের ২২১ মিটার উঁচু মূর্তি নির্মাণ প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
মায়াবতী উত্তর প্রদেশের বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান।
তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে একটি এফিডেভিট দিয়েছেন। আইনজীবী শাইল দ্বিবেদীর মাধ্যমে তিনি এটি জমা দিয়েছেন। তাতে ভারতে মূর্তি নির্মাণের একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। মায়াবতী এফিডেভিটে লিখেছেন, ভারতে স্মৃতিস্তম্ভ ও মূর্তি নির্মাণ কোনো নতুন ঘটনা নয়। কংগ্রেসের সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন এজেন্সি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি অর্থে প্রতিস্থাপন করেছে জওয়াহারলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, পি ভি নরসীমা রাও-এর মূর্তি। কিন্তু মিডিয়া বা পিটিশনকারী এ বিষয়ে কখনো কোনো প্রশ্ন তোলে নি।
মায়াবতী গুজরাটে সরদার প্যাটেলের ১৮২ মিটার উঁচু মূর্তি নির্মাণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ৩০০০ কোটি রুপি সরকারি অর্থে গুজরাট রাজ্য সরকার এটি নির্মাণ করছে। অন্যদিকে যোগী আদিত্যনাথের সরকার প্রভু রামের মূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন। এখাতে প্রাথমিকভাবে ভূমি অধিকগ্রহণ, পরীক্ষা, ডিজাইন নির্ধারণ এবং প্রকল্প বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ২০০ কোটি রুপি।
সরকারি অর্থে মুম্বইয়ে শিবাজি, লক্ষেèৗতে অটল বিহারি বাজপেয়ী, অন্ধ্র প্রদেশে ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডি, কর্ণাটকের মান্দিয়ায় ৩০০০ কোটি রুপিতে প্রস্তাবিত ৩৫০ ফুট উঁচু মাদার চ্যাভরের মূর্তি নির্মাণ, ১৫৫ কোটি রুপিতে অমরাবতীতে এন টি রমা রাওয়ের মূর্তি ও ৫০ কোটি রুপিতে চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচে জে জয়ললিতার মূর্তি নির্মাণের কথা তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন ।
দলিত নেত্রী মায়াবতী বলেছেন, তিনি নিজেকে জনগণের জন্য সঁপে দিয়েছেন। সে জন্য তিনি অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিপীড়িত মানুষকে উপরে তুলে ধরার জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তাই রাজ্যের এমপিরা বাজেট অনুমোদন করে তার স্মৃতিস্তম্ভ ও মূর্তি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু তা সহ্য করতে পারছেন না অনেকে।
তার রাজ্যে বিপুল সংখ্যাক হাতির মূর্তি নির্মাণ প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, তার বহুজন সমাজ পার্টির নির্বাচনী প্রতীক হাতি। রিপাবলিকান পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বি আর আম্বেদকর এই নির্বাচনী প্রতীক বাছাই করেছিলেন।

৫ বছর পর রাতারগুলে শামুকখোল by উজ্জ্বল মেহেদী

• শামুকখোল নিরাপত্তাহীন হয়ে রাতারগুল ছেড়েছিল।
• পর্যটক চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাতারগুলে ফিরছে শামুকখোল।
• ২০১৩ সালের পর এই প্রথম অনেক শামুকখোলের দেখা।

জল আর বনের মিতালি, তাই তো এটি জলাবন। দূর থেকে বনের সবুজে চোখ পড়লে থোকা থোকা বস্তুর মতো দেখায়। কাছে গেলে নড়াচড়া আর ওড়াউড়িতে দেখা মেলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। এ পাখি সিলেটের জলাবন রাতারগুলের বাসিন্দা শামুকখোল। প্রায় পাঁচ বছর পর রাতারগুলে দেখা মিলল।
বন বিভাগ বলছে, পর্যটকদের আনাগোনায় একসময় শামুকখোল নিরাপত্তাহীন হয়ে রাতারগুল ছেড়েছিল। বন বিভাগের সহব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে পর্যটকদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় রাতারগুলে ফিরছে শামুকখোল। ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথম ঝাঁকে ঝাঁকে শামুকখোলের দেখা মিলছে। দিনভর ওড়াউড়ি, দল বেঁধে খাবারের সন্ধানে দূরে ছুটে গেলেও দিনের শেষে আবার শামুকখোল ফিরছে রাতারগুলে।
জলাবন রাতারগুলের অবস্থান সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে। ১৯৭৩ সালে বন বিভাগ জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) হিসেবে সংরক্ষিত ঘোষণা করে। নদী ও হাওরবেষ্টিত ৫০৪ দশমিক ৫০ একর আয়তনের পুরো এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অনেকটা অজানা ছিল। ২০১২ সালের বিশ্ব পর্যটন দিবসে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় রাতারগুলের একটি আলোকচিত্র নতুন করে পরিচিত করে তোলে একে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা হিজল-করচ-বরুণগাছের পাশাপাশি বেত, ইকরা, খাগড়া, মুর্তা ও শণজাতীয় গাছ রাতারগুলকে জলাবন হিসেবে অনন্য করেছে। বনে ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদের সঙ্গে ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৭৫ প্রজাতির পাখি ও ৯ প্রজাতির উভচর প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে।
বনের পাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২০১৩ সাল থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় পাখিদের আনাগোনা কমে যায়। এর মধ্যে শামুকখোল ছিল রাতারগুলের বাসিন্দা স্থায়ী একটি পাখি। নিচে অবারিত জলরাশি আর গাছে গাছে শামুকখোলের বিচরণ ছিল। ২০১৩ সালের পর থেকে আর এ পাখিকে রাতারগুলে দেখা যায়নি। প্রায় পাঁচ বছর বিরতি দিয়ে শামুকখোল আবার ফেরায় বনের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা রাতারগুলের ‘প্রাণ’ ফিরছে বলে মন্তব্য করছেন।
সম্প্রতি সকালে ও বিকেলে দুই দফা রাতারগুলে গিয়ে দেখা গেছে শামুকখোলের নিরাপদ বিচরণ। বনের পাশের গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া জানালেন, পাঁচ-সাত বছর আগে এভাবেই দেখেছিলেন তিনি। গত বছর হাতে গোনা কয়েকটি দেখেছিলেন। এবার তাঁর দেখামতে হাজারো পাখি এসেছে। একসঙ্গে এত পাখি আগে দেখা যায়নি। শীত শেষেও রাতারগুল ছেড়ে না যাওয়ায় তাঁর আশা, শামুকখোল আর রাতারগুল ছেড়ে যাবে না।
বাংলাদেশের পাখি বিশেষজ্ঞ শরীফ খান প্রথম আলোকে বলেন, শামুকখোল বাংলাদেশের আবাসিক পাখি এবং বন বিভাগের প্রাণী সংরক্ষণ দপ্তর থেকে ‘বিপদগ্রস্ত’ বলে ঘোষিত। শামুকখোল (বৈজ্ঞানিক নাম anastomus oscitans) শামুক ভেঙে খেতে ওস্তাদ, তাই পাখিটির এই নাম। মাছ, কাঁকড়া, ছোট ছোট প্রাণী, ব্যাঙ ইত্যাদিও আছে খাদ্যের তালিকায়। বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক এই পাখি বর্তমানে বন্য প্রাণী আইনে সংরক্ষিত পাখির তালিকায় আছে। এটি দেখতে বকের মতো, তবে ঠোঁট লম্বা ও ভারী। গায়ের রং ধূসর-সাদা। জলাভূমিগুলোতে এখন প্রায়ই এদের দলে দলে শামুক খুঁজতে দেখা যায়। সারসজাতীয় পাখি শামুকখোলের পৃথিবীতে দুটি প্রজাতি আছে। একটি হচ্ছে এশীয়, আরেকটি আফ্রিকান। বাংলাদেশে যে পাখিটি দেখা যায়, তা হচ্ছে এশীয় প্রজাতির।
এই প্রজাতির শামুকখোলই রাতারগুলে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আর এস এম মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে রাতারগুলে পর্যটকদের বাঁধভাঙা যাতায়াত পরিলক্ষিত হয়। সংরক্ষিত বনে পর্যটকদের নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাফেরা করতে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্যে বন বিভাগের সহব্যবস্থাপনা কার্যক্রম রাতারগুলের আশপাশের ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এ কমিটির সচেতনতায় রাতারগুল এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। তাই কয়েক বছর বিরতি দিয়ে আবার ফিরতে দেখা গেছে শামুকখোলকে। পাশাপাশি অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের দেখা মিলছে।
শামুকখোলের নিরাপদ আবাস স্থায়ী হবে—এমন আশাবাদ জানিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাতারগুলে কয়েকটি জলাশয় ছিল। এগুলো মাছ ধরার মৌসুমে বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রথা ছিল। শুষ্ক মৌসুমে জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা হতো। আমি জলাশয় বন্দোবস্ত বাতিল করেছি। জলাশয় সংরক্ষিত থাকায় জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছে। বলা যায়, এরই একটি সুফল শামুকখোল ফেরা।’

আগামী বাজেট থেকে দেশের সব প্রতিবন্ধী ভাতা পাবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার আগামী বাজেট থেকে দেশের সব প্রতিবন্ধীকে ভাতা প্রদান করবে। বর্তমানে সরকার ১০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করছে এবং সেন্সাস রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে এখন ১৪ লাখ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী রয়েছে। যারা আগামীতে ভাতার আওতায় আসবে। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০১৯ উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুরা সুস্থ পরিচর্যা পেলে স্বাভাবিকভাবে জীবনে সকলের সঙ্গে মিলে চলতে পারবে। অটিজম আক্রান্ত শিশুরা কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের মাঝে যে সুপ্ত জ্ঞান এবং প্রতিভা থাকে, সেটাকেও কাজে লাগাতে হবে। শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের মেধাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বলেন, তাদেরকে আপনারা যদি একটু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে তাদের জীবনটাও অর্থবহ হয়।
তারা যতটুকু সুযোগ পায় সেটাকে কাজে লাগাতে পারে। প্রতিবন্ধীদের জন্য তার সরকার এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় আধা ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা যতটা সময় পায় তার থেকে প্রতিবন্ধীরা একটু বেশি সময় পায় এই জন্য যে, তারা যেন পরীক্ষাটা ঠিকমতো দিতে পারে। কারণ, তারা অন্য সবার মতো একই সঙ্গে লিখে শেষ করতে পারে না।
সরকার প্রধান বলেন, তার সরকার সবসময়ই চায় প্রতিবন্ধীরা কোনোভাবেই যেন সমাজের বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। তাদেরকে কেউ যেন বোঝা মনে না করে। কারণ, তাদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এসময় ‘মুক্ত পানি’ মিনারেল ওয়াটারের বোতল হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানের সবাইকে দেখিয়ে বলেন, এটিও কিন্তু আমাদের প্রতিবন্ধীরাই তৈরি করছে। তিনি এই পানি কেনার জন্যও সকলের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের বহুমুখী প্রতিভার উদাহরণ দিয়ে বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা প্লাস্টিক এবং বেত দিয়ে মোড়া তৈরি করছে, নানা সাংসারিক উপকরণ তৈরি করছে। তিনি সুযোগ পেলেই এগুলো সংগ্রহ করেন এবং ব্যবহার করেন বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর দুই ঈদ এবং নববর্ষের জন্য যেসব শুভেচ্ছা কার্ড পাঠান সেগুলো প্রতিবন্ধীদের চিত্রাঙ্কন থেকেই নির্ধারিত মূল্য দিয়ে সংগ্রহ করা বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের এই চিত্রাঙ্কন থেকে তৈরি কার্ড দিয়ে তার মেয়ে এবং বিশ্ব অটিজম আন্দোলনের অগ্রপথিক সায়মা ওয়াজেদ হোসেন একটি অ্যালবাম তৈরি করেছেন। যেটি তার সরকার উপহার স্বরূপও বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্য এবং পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ মালিক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জোয়েনা আজিজ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অটিজম আক্রান্তদের পক্ষে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অটিজম আক্রান্ত ৫ জন শিশুকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এবং অটিজম সচেতনতা সৃষ্টিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনজন ব্যক্তিত্ব এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানকেও পুরস্কৃত করেন।

এসব কি বলেন উভকামী সুপারমডেল কারা ডেলিভিঙ্গেনে!

কোনো রাখঢাক নেই ইংলিশ সুপারমডেল কারা ডেলিভিঙ্গেনে’র। পার্টিতে পার্টিতে উদ্দামতায় মেতে থাকতে ভালবাসেন তিনি। তবে নারী ও পুরুষ- উভয়ের প্রতি রয়েছে তার প্রচণ্ড যৌনঝোঁক। তাই তাকে বলা হয়, উভকামী। অনায়াসে স্বীকার করেছেন, যৌন সম্পর্কের গোপন অধ্যায় নিয়ে।  তাকে নিয়ে অনেক নারী-পুরুষের চোখ চড়কগাছ। তার খোলামেলা পোশাক। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সব কথা বলে দেয়ায় জুড়ি মেলা ভার। বছরের পর বছর তিনি বিভিন্ন শোবিজে অংশ নিয়েছেন।
তবে এখন তিনি এমন উদ্দামতায় মেতে উঠার জন্য নিজের ঘরকেই বেশি পছন্দ করেন। বলেছেন, ঘরের বাইরে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার চেয়ে এখন ঘরকেই বেশি পছন্দ আমার, যদিও আমি ক্লাবে যাই। বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ওই সাক্ষাতকারে কারা স্বীকার করেছেন, তিনি বিছানায় নারীদের সঙ্গে ভালবাসা বিনিময় করতে ভালবাসেন। তবে পুরুষ প্রেমিকদের সঙ্গে বশ্যতা স্বীকার করেও তিনি আনন্দ উপভোগ করেন। কারা বলেছেন, তিনি সঙ্গীকে সবচেয়ে বেশি যে উপহারটি দেন, তাহলো চরম উত্তেজনা।
কারা ডেলিভিঙ্গেনে এখন ২৬ বছর বয়সী টগবগে যুবতী। সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, আমি ভালবাসা দেয়ার ক্ষেত্রে খুবই দক্ষ। তবে এমনটা ফেরত চাই না। নারী বা পুরুষ সবার সঙ্গেই আমি এক রকম বিছানায়। আনন্দ বা তৃপ্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার কাছে জটিলতা মনে হয়। তাই আমি ভালবাসা দিতে পছন্দ করি।
উল্লেখ্য, ‘প্রিটি লিটল লায়ারস’-এর অভিনেত্রী অ্যাশলে বেনসেন (২৯)-এর সঙ্গে গত বছর মে মাস থেকে চুটিয়ে ডেটিং করে যাচ্ছেন কারা ডেলিভিঙ্গেনে। অর্থাৎ তাদের দুই নারীর প্রেম চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি বলেন, যেসব মানুষ নিজেকে খুব বেশি যৌন আবেদনময়ী হিসেবে ফুটিয়ে তোলেন, তারা হলেন সবচেয়ে বাজে প্রেমিক বা প্রেমিকা। তার ভাষায়, ভালবাসার ভিতরে যৌন সম্পর্ক হলো এক রকম পাশবিকতা। আপনার কারো সঙ্গে জানাশোনা হতে পারে। যখন তাকে নিয়ে আপনি বেডরুমে যাবেন, তখন দেখতে পাবেন সে একটি পশুর মতো, অন্যরকম। তবে আমার কাছে অন্য বিষয়টি খুবই মজার। তা হলো, এমন কিছু মানুষ আছেন যারা সুপার সেক্সি এবং তারা আপনাকে নিয়ে বন্যতায় মেতে উঠবে। তারপর যখন আপনি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করবেন, তখন দেখবেন তা ভয়াবহ এক স্বস্তিকর অভিজ্ঞতা।
কারা ডেলিভিঙ্গেনে বলেন, আমি ওইসব মানুষকে খুব পছন্দ করি, যারা বাস্তবেই খুব শালীন। তারপর তাদেরকে বেডরুমে নেয়া হলে, তারা সেটা পছন্দ করে। যেন পুরোপুরি ট্রান্সফরমেশন ঘটে।
গত বছরই কারা ডেলিভিঙ্গেনে স্বীকার করেছেন ১৮ বছর বয়সে তিনি কুমারীত্ব হারিয়েছেন। অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তারপর তিনি নারী ও পুরুষদের সঙ্গে প্রেম করেছেন। প্রথম এমন শিকার করেছিলেন যাদের তার মধ্যে হাই-প্রোফাইল বা প্রথম সারিতে যারা আছেন তার মধ্যে অন্যতম সঙ্গীত শিল্পী রিটা ওরা (২৮)। কারা ডেলিভিঙ্গেনে’কে তিনি আদর করে ডাকেন ‘উয়াইফি’।  এ ছাড়া ‘ওয়ান ডাইকেশন’ তারকা হ্যারি স্টাইলস (২৫)-এর সঙ্গে ২০১২ সালে ডেটিং করেছেন কারা ডেলিভিঙ্গেনে। এ ছাড়া তার শিকারে পরিণত হয়েছেন গায়ক জ্যাক বাগ (২৫)।
২০১৪ সালে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর নায়িকা মিশেলে রড্রিগুয়েজের (বর্তমান বয়স ৪০ বছর) সঙ্গে বাধাহীন যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কারা ডেলিভিঙ্গেনে। ওই বছরের শেষের দিকে জড়িয়ে পড়েন ‘স্কিনস’-এর অভিনেতা জ্যাক ও’কনেল (২৮)-এর সঙ্গে প্রেমে। গায়িকা সেইন্ট ভিনসেন্ট (৩৬), যার প্রকৃত নাম অ্যানি ক্লার্ক, তার সঙ্গে দেড় বছর সম্পর্ক বজায় রাখেন  কারা ডেলিভিঙ্গেনে। সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে ২০১৬ সালে। এরপর তিনি অল্প সময়ের জন্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন প্রয়াত পপ স¤্রাট মাইকেল জ্যাকসনের কন্যা প্যারিস জ্যাকসনের (২০) সঙ্গে।
সেই কারা ডেলিভিঙ্গেনে কিভাবে এতসব প্রেমিক, প্রেমিকার মন জয় করেন! এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, নারী এবং পুরুষদের সঙ্গে বেডরুমে তার আচরণ এক এক রকম। এটা নির্ভর করে সঙ্গী তার নারী না পুরুষ তার ওপর। কারা ডেলিভিঙ্গেনে বলেন, আমি আত্মতৃপ্তিকে অনুমোদন করি। কিন্তু ওই মানুষদের মধ্যে ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া কষ্ট। সব সময়ই আমি পুরুষদের অনেক বেশি বশ্যতা স্বীকার করি। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে আমি ঠিক এর বিপরীত। বিষয়টি উদ্ভটও বটে। এ ছাড়া সম্পর্কের আরো বিষয় আরো খোলামেলা করে বলেছেন তিনি।

চকবাজার ট্র্যাজেডি: এখনো বাবার পথ চেয়ে থাকে মোহাম্মদ

‘বাবা তুমি কই? তুমি আসবা না? আমার বাবা কবে আসবে? তোমরা আমার বাবাকে এনে দাও’। এভাবেই সারাদিন বাবাকে খোঁজে শিশু মোহাম্মদ। সে তো জানে না, বাবা যে হারিয়ে গেছে না ফেরার দেশে। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যান বাবা মাসুদ রানা। ঘটনার এক মাস পার হয়ে গেলেও প্রত্যেক দিন ঘুম থেকে উঠেই বাবার পথ চেয়ে বসে থাকে মোহাম্মদ। ঘুমাতে গেলেও বাবার বালিশ নিয়ে ঘুমায়। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই বাবার সঙ্গেই বেশি সময় কেটেছে মোহাম্মদের। বাবা যতক্ষণ দোকান   থেকে না ফিরতেন ততোক্ষণ ঘুমাতো না সে।
বাবা আসলে তার সঙ্গে খেয়ে ঘুমোতে যেত।
ওই দিনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারান মাসুদ রানার মেজ ভাই মাহবুবুর রহমান রাজুও। মৃত্যুর আগে তার বিয়ের বয়স ছিল মাত্র একমাস। স্ত্রী আফরোজা সুলতানা স্মৃতি গতকাল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা। রানা-রাজু দুজনই ছিল বাবা মোহাম্মদ শাহেবুল্লাহর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম লোক। বয়োবৃদ্ধ বাবাকে একরকম জোর করেই ব্যবসা থেকে সরিয়ে এনেছিলেন মাসুদ রানা ও মাহবুবুর রহমান রাজু। বাবা শাহেবুল্লাহও নিশ্চিন্তে মনোনিবেশ করেছিলেন ধর্মচিন্তায়। স্বাবলম্বী হতে মাসুদ রানা চুড়িহাট্টায় মোবাইল এক্সেসরিজের ব্যবসা শুরু করলে পরে তাতে যোগ দেন তার মেজ ভাই রাজু। দুই ভাই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন পরিবারের সবটুকু ভার। চাঁদের মতো দুই ছেলেকে হারিয়ে বাবা সাহেবুল্লাহ এখন অনেকটাই দিশাহারা। একদিকে ছেলে হারানোর শোক। অন্যদিকে পরিবার বাঁচানোর চিন্তা। শাহেবুল্লাহ’র তৃতীয় ছেলে খলিলুর রহমান মেরাজ সদ্য পড়াশোনা শেষ করেছেন। সে এখন চাকরি খুঁজছেন।
রানা-রাজুর বাবা শাহেবুল্লাহ মানবজমিনকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই ছিল কপালে! আমার সোনার টুকরা দুইটা ছেলে এভাবে চোখের সামনে চলে গেল। এটা আমি এখনো চিন্তা করতে পারি না যে, আমার ছেলেরা বেঁচে নেই। আল্লাহ ওদের পরিবর্তে আমাকে নিয়ে গেল না কেন? একদিকে সন্তান হারানোর শোক। আরেকদিকে পরিবার। আমি কি করবো? আমি এখন কিছুই করি না। ছোট ছেলেটা মাত্র পড়াশোনা শেষ করেছে। পরিবার কীভাবে চালাবো বুঝতে পারছি না। আমার কাছে যা টাকা ছিল এগুলো দিয়ে ছেলেদের ব্যবসা করতে দিয়েছি। সব তো শেষ হয়ে গেল। ছোট ছেলেটার যদি কোনো একটা গতি হতো তাহলে আমার পরিবার কিছুটা বাঁচার অবলম্বন পেতো।
রানা-রাজুর চাচা এমএ রহিমও ওই ওয়াহেদ ম্যানশনে ব্যবসা করতেন। অগ্নিকাণ্ডে তার দোকানও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল এমএ রহিম মানবজমিনকে বলেন, আমার কোনো ছেলে নেই। নিজের ছেলের মতো ওদের ভালোবাসি। কত স্মৃতি ওদের সঙ্গে। পরিশ্রমী ছেলে দুটা এভাবে মারা যাবে ভাবতে পারছি না। আমার বড় ভাইও ব্যবসা করতো। এখন তার বয়স হয়েছে। রানা-রাজুই ছিল উপার্জনক্ষম। ছেলে দুটা মরে যাওয়ায় পরিবারটির বেঁচে থাকার মেরুদণ্ডই ভেঙে গেল।

ভিপি নুরের ওপর হামলা, ছাত্রীরা লাঞ্ছিত: ছাত্রকে পিটিয়ে রক্তাক্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। তাকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে উর্দু বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ফরিদ হাসানের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে হল প্রাধ্যক্ষকে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন নুর। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৬টা ও সোয়া ৭টার দিকে দুই দফা এ হামলা হয়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর ডিম ছুড়ে মারেন। হলটিতে ভিপি নুরসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা।
লাঞ্ছিত করা হয় প্রতিবাদী ছাত্রীদের। ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন ভিপি নুরের সঙ্গে থাকা কয়েকজন।
হামলায় আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। রাত ৮টার দিকে শামসুন্নাহার হল সংসদের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থী এস এম হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিতে যান। মিছিল নিয়ে হলের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে ছাত্রলীগ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে হল অফিসে স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার পথে হল গেটে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
এ সময় তারা উপস্থিত ছাত্রীদেরসহ প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ডিম ছুড়ে মারেন। গায়ে হাত দেয়া হয় ছাত্রীদের। অন্যদিকে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী ফরিদ হাসানকে তার কক্ষে পোশাক পরিবর্তন করতে নিয়ে গেলে ছাত্রলীগ নুরসহ সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখে। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, আমরা প্রক্টর স্যারকে স্মারকলিপি দিয়ে এসএম হলে প্রাধ্যক্ষ স্যারকে স্মারকলিপি দিতে আসি। কিন্তু স্মারকলিপি দিয়ে হল গেটে এলে আমাদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। তারা আমাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করে।
ছাত্রী বোনদেরও তারা ছাড়েনি। ডিম ছুড়ে মেরেছে। কয়েকজনের গায়েও আঘাত করেছে। অন্যদিকে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ কয়েকজন ফরিদ হাসানের কক্ষে তার পোশাক পরিবর্তন করতে নিয়ে গেলে তাদের সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগ। ঘটনা জানতে পেরে ছুটে আসেন হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুব জোয়ার্দারসহ কয়েকজন আবাসিক শিক্ষক। এ সময় তারা ভিপি নুরসহ প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে উভয়পক্ষের অভিযোগ শোনার পর প্রাধ্যক্ষ নিজ নিরাপত্তায় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ভিপি নুরসহ অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বাইরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে বের হন। কিন্তু হল গেটে আবারো ছাত্রলীগ হামলা চালায়। আবারো ছুড়ে মারা হয় ডিম। ডিম বৃষ্টি থেকে রেহাই পাননি হল প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্রীরাও। এ সময় ছাত্রলীগ প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে ফুলার রোডে নিয়ে যায়।
লাঞ্ছিত করে ছাত্রীদের। ছাত্রীদের রক্ষা করতে গিয়ে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন কয়েকজন প্রতিবাদী ছাত্র। এখানে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শামসুন্নাহার হল সংসদের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, ছাত্রলীগ আমাদের ওপর বাজেভাবে আক্রমণ করেছে। তারা আমাদের মেয়েদের ওপর হামলে পড়েছে। বারবার পেছন থেকে জামা ধরে টান মারছে। আমাদের সেফ করতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। তার মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহতরা হলেন- উম্মে হাবিবা বেনজীর, আতাউল্লাহ, হাবীবুল্লাহ বেলালী। তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এদিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ভিপি নুরসহ প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কয়েকটি হলে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও।
শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করে ছাত্রলীগ: ১১ই মার্চ অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়া শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করেছে শাখা ছাত্রলীগ ও হল সংসদের নেতারা। সোমবার রাতে হলের ডাইনিং রুমে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফরিদ হাসান। তিনি উর্দু বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। আহত ফরিদের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ৩২টি সেলাই লেগেছে। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফরিদ ছাত্রলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে শীর্ষ নেতাদের চাপে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনে ছাত্রলীগ।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে তাকে মারধর করে হল ছাড়া করে ছাত্রলীগ। জানা গেছে, হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, সাবেক নেতা মিজানুর রহমান পিকুল ও হল সংসদের জিএস জুলিয়াস জিসারের নেতৃত্বে মারধর করা হয়। মারধরের আগে রাত ১০টায় ছাত্রলীগের হল কমিটির সভা ছিল। সভা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফরিদ হাসানকে মারধর করে হল ছাড়া করা হয় বলে ছাত্রলীগের একটি অংশের অভিযোগ। তবে ফরিদকে মারধরে জড়িত থাকার বিষয় অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও হল সংসদের জিএস। এদিকে ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি হলের বিষয়।
হল প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আমরা হল প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি রাত ১১টার দিকে রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন লাঠিসোটাসহ গিয়ে ডেকে মেসের ডাইনিংয়ে নিয়ে যায়। সেখানে হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, সাবেক নেতা মিজানুর রহমান পিকুল ও হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজারসহ হল কমিটির প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত নেতারা ‘তোর সাহস তো কম নয়, এখনো হলে থাকিস’ এই বলে আমাকে ব্যাপক মারধর শুরু করে। সেখান থেকে মারতে মারতে হল গেটে নিয়ে গিয়ে বেরিয়ে যেতে বলে। এ সময় আমাকে কেউ হাসপাতালে নিয়ে যেতেও সাহস করেনি। পরে নিজে নিজেই হাসপাতালে গিয়েছি। ফরিদ জানান, হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা তাকে শাসিয়ে ও হুমকি-ধমকি দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বলেন। এক পর্যায়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি। মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার বলেন, আমরা হল ছাত্র সংসদ সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোনো মাদক ব্যবসায়ী ও শিবিরকে হলে থাকতে দেয়া হবে না। সে হিসেবে ফরিদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত। তাই আমরা তাকে ভদ্রভাবে হল ছেড়ে দিতে বলেছি। এ ক্ষেত্রে আমরা হল শাখা ছাত্রলীগের সহযোগিতা নিয়েছিলাম।
কারণ তারা হলে ক্রিয়াশীল। তিনি বলেন, আমরা তাকে মারধর করিনি। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করেছে বলে জানতে পেরেছি। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, আমার হলে যখন মিটিং করছিলাম তখন বাইরে হট্টগোলের শব্দ পেয়ে গিয়ে দেখি ফরিদকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মারধর করেছে। এর সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি তাকে মারধরের আগে দেখিওনি। আর সে ছিল হলের বাইরে। সপ্তাহখানেক আগে মাদক সংশ্লিষ্টতার কারণে তার রুম হল প্রশাসন সিলগালা করেছে। এদিকে মারধরের খবর শুনে সকালে ফরিদকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে দেখতে যান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, হলে অছাত্র যারা থাকে তারাই নিয়মিত ছাত্রদের নির্যাতন করে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য আমাদের যা করা লাগে তাই করবো।