Monday, May 4, 2015
ক্ষত শুকায়নি আতঙ্কের কাঠগড়ায় by কমল জোহা খান
![]() |
| ডাকাতদের প্রতিরোধে এগিয়ে যান আয়ুব আলী। কিন্তু গ্রেনেড হামলায় এখন তাঁর দুই পা ক্ষত-বিক্ষত। ছবি: কমল জোহা খান |
গত ২১ এপ্রিল কমার্স ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির ঘটনায় নিহত হন আটজন। তাঁদের মধ্যে ডাকাতদের হামলায় ব্যাংকের ভেতরে ব্যবস্থাপকসহ তিনজন এবং ডাকাতদের প্রতিহত করতে গিয়ে গুলি-বোমায় চারজন নিহত হন। জনতার পিটুনিতে মারা যায় এক সন্দেহভাজন ডাকাত। এ ছাড়া ডাকাতির ঘটনায় আহত হন আরও অনেকে।
ডাকাতের হামলার আহত লোকজনের অনেকেই এই বাজারে ব্যবসা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁদেরই একজন বলেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে আরও মাস কয়েক সময় লাগবে। তবে সবই নির্ভর করছে আসামিদের ধরা পড়ার ওপর।’
সাভার বা আশুলিয়ার মতো বড় পরিসরে না হলেও কাঠগড়া এলাকায় ব্যবসায়িক লেনদেনের কমতি নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরগরম থাকে পুরো এলাকা। মূলত অসংখ্য পোশাক কারখানাকে ঘিরে এই এলাকার ব্যস্ততা। পণ্যবাহী যানবাহন আর পোশাক কর্মীদের আসা-যাওয়া চলে সব সময়।
১৯৮৪ সালের দিকে ছোট পরিসরে কাঠগড়ায় বাজার বসা শুরু হয়। স্থানীয় লোকজন জানান, ২০০০ সালের দিকে একের পর এক পোশাক কারখানা স্থাপনের কারণে নিরিবিলি কাঠগড়ায় ভিড় বাড়তে থাকে। গোটা দুয়েক ব্যাংক শাখা খোলে। এ দুটিরই একটি কমার্স ব্যাংক।
কাঠগড়া হাজি নজমুদ্দীন সুপার মার্কেটের সভাপতি ও কমার্স ব্যাংক ভবনের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই বাজারে প্রায় ২৫০ দোকান রয়েছে। প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন চলে। কমার্স ব্যাংক শাখা খোলার আগে এলাকাবাসীকে যেতে হতো ১০ কিলোমিটার দূরের সাভারে অথবা ৮ কিলোমিটার দূরের আশুলিয়া বাজারে। ব্যাংক থাকায় এখন সেই সমস্যা নেই।
কাঠগড়া বাজারের পোশাক ব্যবসায়ী কবির হোসেন খান, যিনি ডাকাতের বোমা হামলায় আহত হয়েছেন। প্রায় দিন দশেক বন্ধ রাখার পর সোমবার দোকান খুলেছেন তিনি। কবির হোসেন বলেন, কমার্স ব্যাংকের ডাকাতির ঘটনায় নিহত ম্যানেজার ওয়ালীউল্লাহর কারণে ব্যবসার জন্য ঋণ পাই। ডাকাতির পর তাঁর ব্যবসা প্রায় নেই বলে তিনি জানান।
শুধু ব্যবসায়িক ঋণ নয়; শিক্ষা, কৃষি খামার, গৃহিণী ও ছাত্রদের জন্যও কমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া এই ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় কাঠগড়াবাসীকে এখন আর সাভারে যেতে হয় না। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে দুই কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হয় কমার্স ব্যাংকে।
এদিকে কমার্স ব্যাংকের লেনদেন চললেও গ্রাহক অনেক কম। সোমবার হাটের দিনও ব্যাংকের ভেতর প্রায় শূন্য। গ্রাহকদের যাঁরা ভেতরে ছিলেন, তাঁদের মধ্যেও কাজ করছে আতঙ্ক।
নতুন ব্যবস্থাপকের কক্ষে এক গ্রাহক বলেই ফেললেন, ‘অনেকে ভাবতাছে ডাকাতির পর ট্যাকা আছে তো।’
তবে লেনদেন সম্পর্কে নতুন ব্যবস্থাপক ফিরোজ আহমেদ প্রথম আলোকে, ‘আমাদের লেনদেন চলছে আগের মতোই। বেড়েছে বা কমেছে কিনা সেটি এমাসের শেষে বুঝতে পারব।’
আতঙ্কের পাশাপাশি আক্ষেপও আছে। ‘গেটে তালা মারতে পারলে সব ডাকাতকে ধরন যাইতো’-অনেকটা আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন ওই ডাকাতির ঘটনায় আহত আয়ুব আলী। ২১ এপ্রিল সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এখনো আঁতকে ওঠেন চল্লিশোর্ধ্ব এই মানুষটি।
আয়ুব আলী বলেন, ‘আমি এই এলাকায় ১৩ বছর ধরে ব্যবসা করি। এই বাজার কমিটির সহসভাপতি আমি। কিন্তু ডাকাতদের কাউকে কখনো আগে দেখিনি।’
দুই পায়ের ব্যান্ডেজ আর ক্ষত চিহ্ন দেখিয়ে আয়ুব আলী বলেন, ‘আমার পায়ে দু বার অপারেশন করা হয়। পাঁচটি লোহার টুকরো বের করা হইছে। ভাগ্য ভালো যে পা কাটা লাগবে না।’
আয়ুব আলীর ভাগ্য ভালো হলেও আরেক আয়ুব আলী প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি ছিলেন কমার্স ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ছেলে রবিউল ইসলাম। রবিউলের জন্য ব্যাংকে চাকরি জন্য এসেছিলেন তাঁর মা মরিয়ম বেগম। মরিয়ম বলেন, ছেলেকে ফিরে পেলেও আতঙ্ক দূর হয়নি তাঁর।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে ২ মে পুলিশ প্রত্যাহার করায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে মরিয়ম বেগমের। তিনি বলেন, ‘রাইতে ঘুম আসে না। দরজা-জানালা বন্ধ রাখি সব সময়। আমরা পোলাও ভয়ে বাইর হয় না।’
এদিকে কমার্স ব্যাংক থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়া ভীষণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। কমার্স ব্যাংক ভবনের মালিক বরকতউল্লাহ বলেন, ‘আমরা পুলিশ ক্যাম্প চাইছিলাম। জায়গার ব্যবস্থা করছিলাম। কিন্তু পুলিশই সরাইয়া ফেলছে আর আমরা কিছুই জানি না।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বুয়েটের শিক্ষকদের ছাত্রলীগের হুমকি
শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আজীবন বহিষ্কার করে সাপের লেজে পা দিয়েছেন তারা। তাই তাদেরকে এর প্রতিঘাত পেতেই হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আজীবন বহিষ্কারের প্রতিবাদে ও বুয়েট শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সোহাগ বলেন, এ রকম পাষণ্ড শিক্ষকদের কাছে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা একরকম জিম্মি। এদের জন্যই বুয়েট এক সময় ৬ মাস বন্ধ ছিল। আজ এ সব শিক্ষকদের বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করার সময় হয়েছে।
সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি আগামীকাল সকাল ১০টায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন, ১১ তারিখ সকাল ১১টায় বুয়েট শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশের ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম এই বহিষ্কারাদেশের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দাবী আদায় করার হুঁশিয়ারী দেন এবং অবিলম্বে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, সহ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নাদিম, দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে দেয়া কমেন্ট নিয়ে সিভিল ইনঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গত ১২ এপ্রিলের শিক্ষকের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেন বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক। এ ঘটনায় আরো দুই শিক্ষার্থীসহ শুভ্র ও কনককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হবে’ -হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল জানতে চাইলে জবাব দেয়া হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গার্মেন্ট শ্রমিকদের দুর্দশার প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য ট্রু কস্ট’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উত্তরে পানি পেতে কষ্ট, দক্ষিণে দুর্গন্ধ by অরূপ দত্ত
![]() |
| এলাকাজুড়ে বাসাবাড়িতে পানিতে দুর্গন্ধ, তাই ঢাকা ওয়াসার পাম্পে বাসিন্দাদের ভিড়। বাসাবোর কদমতলা সংসদ পাম্প থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো |
অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে এক সপ্তাহের বেশি পানির সংকট চলছে। অনেক বাড়িতে পানি আসে গভীর রাতে। এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড।
ঢাকা সিটি করপোরেশন দুভাগ হলেও উত্তর-দক্ষিণ দুটোরই পানি সরবরাহের দায়িত্বে ঢাকা ওয়াসা। কদমতলা ও নূরজাহান রোডের মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের অনেক এলাকাতেই এখন পানির কষ্ট। দক্ষিণের মুগদা, মানিকনগর, ধলপুর, সায়েদাবাদ, গেন্ডারিয়া, তাঁতীবাজার, রাজার দেউড়ি, কবিরাজ লেনসহ বিভিন্ন জায়গার পানিতে ময়লা ও গন্ধ। উত্তরের শেখেরটেক, মিরপুরের ১৪ নম্বর সেকশন, ইব্রাহিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি-সংকটের খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণের কদমতলা সংসদ পানির পাম্পে পানি নিতে এলেও ক্যামেরার সামনে মুখ লুকাচ্ছিলেন একাধিক মহিলা। কদমতলার কালভার্ট রোড-সংলগ্ন এলাকার গৃহবধূ ফারজানা রাজ্জাক তাঁর পরিচারিকাকে পাঠিয়েছেন পানি সংগ্রহে। বললেন, পানিতে শুধু গন্ধ নয়, ময়লাও আছে। পানি গরম করলে ফেনা বেরোয়। অন্য এক বাসিন্দা বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে ভালো পানির ব্যবস্থা করবেন। এখন কাউন্সিলর কী করেন, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন।
নির্বাচনের আগে ১৭ এপ্রিল এলাকার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. আশ্রাফুজ্জামান বলেছিলেন, এলাকায় পানির খুব সমস্যা নেই, তবে গন্ধ আছে। নির্বাচিত হলে দেখবেন কী করা যায়। ওই প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল তিনি বলেন, মিটিংয়ে আছেন, আধা ঘণ্টা পর কথা হবে। পরে আবার যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘পরে বলব, এখন এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।’ কদমতলা পাম্পে কর্তব্যরত একজন কর্মচারী বলেন, প্রজেক্টের (সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার) পানি খারাপ হওয়ায় এলাকায় পানিতে দুর্গন্ধ।
ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, শোধনাগার থেকে সরবরাহ হওয়া পানিতে এখন ‘গন্ধ সমস্যা’ নেই। ড্রেনেজ বা পয়োনালা ফুটো হয়ে পানির লাইনে যুক্ত হওয়ার কারণে এমন গন্ধ হতে পারে।
মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডের একজন বাসিন্দা গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলো কার্যালয়ে ফোন করে জানান, পাঁচ দিন ধরে পানির কষ্টে আছেন। ‘আর’ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মো. নূরুজ্জামান বলেন, রাত ১২টার পর ওয়াসার পানি আসে। পানির জন্য রাত জাগতে হচ্ছে। ‘এস’ নম্বর রোডের প্রথম গলির বাসিন্দা বাহার উদ্দিন অভিযোগ করেন, মোটর ব্যবহার না করে পানি পাওয়ার উপায় নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকায় পানির স্তর নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপের কার্যক্ষমতাও কমে গেছে। তবে ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, স্থানীয় অন্য কোনো সমস্যাও হতে পারে। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৪১ শতাংশই বিবাহিত
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিন্টুর কফিনে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা, জানাজা সম্পন্ন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তাজউদ্দীন আহমদ ও প্রথম বাংলাদেশ সরকার by শারমিন আহমদ
১ এপ্রিল রাত ১০টায় একটি মালবাহী পুরোনো রাশান AN 12 সামরিক বিমানে তাজউদ্দীন আহমদ, আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম, গোলোক মজুমদার ও বিএসএফের নিরাপত্তা অফিসার শরদিন্দু চট্টোপাধ্যায় সঙ্গোপনে নয়াদিল্লির পথে রওনা দেন। সেখানে ভারত সরকার তাজউদ্দীন আহমদ সমন্ধে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয় যে তিনিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে মূল ব্যক্তি।
৩ এপ্রিল, ১৯৭১, রাত ১০টায় ১০ নম্বর সফদার জং রোডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনের বাহুল্যবর্জিত পড়ার ঘরে তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর প্রথম সাক্ষাৎ হয়। আলাপে তাজউদ্দীন আহমদ যে বিষয়টিতে জোর দেন তা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সহায়তার জন্য ভারতের সাহায্যপ্রার্থী হলেও এই যুদ্ধ আমাদের বাংলাদেশের মানুষের যুদ্ধ। বাংলাদেশ চায় না যে ভারত তার সামরিক বল দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিক। এই স্বাধীনতার যুদ্ধটি করতে হবে বাংলাদেশের মানুষকেই। ভারত হবে বাংলাদেশের মিত্র শক্তি। সেদিনের আলাপে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, রসদ, শরণার্থীদের আহার, বাসস্থান, বাইরের জগতের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সম্প্রচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভারতের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি লাভ করেন।
ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাফল্যজনক সাক্ষাতের পর ভারতসহ সারা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা ও মুক্তিযুদ্ধকে জাতীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে তাকে পরিচালনার জন্য অবিলম্বে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে অসহযোগ আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহকর্মী শীর্ষস্থানীয় পাঁচজন নেতাসহ যে হাইকমান্ড গঠন করা হয়েছিল এবং যাঁরা ছায়া সরকারের কাজ করছিলেন, তাঁদের নিয়েই প্রথম বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হবে। হাইকমান্ড নিয়ে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথম কাজ হয় বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করা। কলকাতায় এম মনসুর আলী ও আবু হেনা কামরুজ্জামানকে খুঁজে পেলেন। তাঁরাসহ আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধশত এমএলএ, এমপি ও রাজনীতিক, যাঁরা সীমান্ত পার হয়ে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে সরকার গঠন করার ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা হয়। সরকার গঠনের পক্ষে তাজউদ্দীন আহমদের শাণিত যুক্তি ও বক্তব্য সবাই মেনে নেন।
ইতিমধ্যে ১০ এপ্রিল, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শিলিগুড়ির জঙ্গলের গোপন বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের দিকনির্দেশনাকারী ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রচারিত হয়। ভাষণটির খসড়া তিনি নিজে, আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম এবং অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান মিলে তৈরি করেছিলেন, যার মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অকুতোভয় সংগ্রাম এবং বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের কথা। ভাষণটির সমাপ্তি পর্বে ধ্বনিত হয় নতুন প্রত্যুষের দিগন্ত আলোকিত স্বপ্ন ও প্রতিজ্ঞা।
১১ এপ্রিল বিএসএফের সহায়তায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও এমপি আবদুল মান্নানের খোঁজ পাওয়া গেল। ময়মনসিংহের তুরা পাহাড়ের কাছে ডাকোটা প্লেন থেকে নেমে তাজউদ্দীন আহমদ একান্তে আলাপ করলেন সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে। সব শুনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানালেন এবং সরকার গঠনের পক্ষে সম্পূর্ণ মত দিলেন। এরপর ডাকোটা প্লেনে করে তাঁরা আগরতলায় খুঁজে পেলেন মন্ত্রিসভার অপর সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমদকে। সেখানে কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীর সঙ্গে দেখা হলো। তাজউদ্দীন আহমদ ওনার সঙ্গে আলাপ করলেন। প্রথাগত যুদ্ধের বিপরীতে জনযুদ্ধকে গেরিলাযুদ্ধের মধ্যে সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর ওপর প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হলো। তিনি পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জেনারেল পদে উন্নীত হন।
১৭ এপ্রিল, তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে সূচিত হয় নয়া ইতিহাস। শতাধিক বিদেশি সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর সামনে আত্মপ্রকাশ করে গণপ্রজাতন্ত্রী প্রথম বাংলাদেশ সরকার। তাজউদ্দীন আহমদ সেদিন তাঁর বক্তব্যের এক অংশে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান আজ মৃত এবং অসংখ্য আদম সন্তানের লাশের তলায় তার কবর রচিত হয়েছে।’ একটি আত্মনির্ভরশীল, সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নকে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রকাশ করেছিলেন স্বাধীনতাযুদ্ধ অবস্থার সেই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও।
প্রথম বাংলাদেশ সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে মুক্তিসংগ্রামকে তিনি জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের কাঠামোয় সংহত করে বিজয়কে নিশ্চিত করেছিলেন। সেই দিন ওই প্রথম বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ওই আম্রকাননের নামকরণ করেন ‘মুজিবনগর’, যা হলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন যে যুদ্ধ অবস্থায় সরকার যেখানেই যাবে, সেই স্থানের নাম হবে মুজিবনগর। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেরণা। তিনি বন্দী অবস্থাতেও চেতনায় ছিলেন উপস্থিত। কিন্তু সেই চেতনাকে বাস্তব রূপদানের জন্য তাঁর নিকটতম সহচর তাজউদ্দীন আহমদ নির্মোহ ও নিঃস্বার্থ সাধকের মতোই হাল ধরেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের। মুক্তিযুদ্ধের সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তাঁরা পারিবারিক জীবন যাপন করবেন না। যোদ্ধারা যদি পরিবারবিহীন অবস্থায় যুদ্ধ করতে পারেন, তাঁরা নেতা হয়ে কেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন না। অন্যান্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের সে প্রতিজ্ঞা পালন করা সম্ভবপর না হলেও তাজউদ্দীন আহমদ কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোড তথা প্রথম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাজধানীর (বর্তমান শেক্সপিয়ার সরণি) অফিসকক্ষে দিবারাত্র থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। বাইরে পরার কাপড় ছিল একটি মাত্র খাকি শার্ট, যা তিনি নিজ হাতে ধুয়ে পরতেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়টি প্রধানমন্ত্রী ও দেশরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে পাড়ি দিতে হয় পিচ্ছিল সর্পিল পথ, মোকাবিলা করতে হয় জটিলতর পরিস্থিতির। বাইরে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হামলা, ভেতরে বৈদেশিক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদের পাকিস্তান ও সিআইএর পক্ষ হয়ে কনফেডারেশন গঠনসহ নানা ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতাযুদ্ধের ঐক্য দিখণ্ডকারী এসব ভয়াবহ পরিস্থিতি তাঁকে মোকাবিলা করতে হয় সঙ্গোপনে। বাইরের কাউকে বুঝতে না দিয়ে তিনি তাঁর ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সাহস দিয়ে ষড়যন্ত্রগুলো বানচাল করতে সক্ষম হন।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকালে তাজউদ্দীন আহমদের বড় চারটি অর্জন হলো: ১. স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিজয়ে যুগান্তকারী সফল নেতৃত্ব প্রদান। ২. নবজাত বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের স্বীকৃতি আদায় এবং স্বীকৃতি প্রদানের পরেই মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এই শর্তের উল্লেখ ও বাস্তবায়ন। ৩. ভারতের সঙ্গে চুক্তি যে বাংলাদেশ সরকার যত দিন চাইবে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তত দিন পর্যন্তই বাংলাদেশে থাকবে। তারপর তাদের ফিরে যেতে হবে। বিশ্ব ইতিহাসের ওই বিরল চুক্তিটি প্রমাণ করে যে ভিন্ন দেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে, তাদের সাহায্য, সমর্থন লাভ করার পরেও নিজ রাষ্ট্রের মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কতখানি আপসহীন ছিলেন এই সুউচ্চ চিন্তাশক্তির বিরল রাষ্ট্রনায়ক। ৪. আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিতকরণ।
স্বাধীন বাংলাদেশে পবিত্র ধর্মের নাম অপব্যবহার করে সাম্রাজ্যবাদ, রাজতন্ত্র ও সামরিকতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতাপুষ্ট তথাকথিত ধর্মবাদী দলগুলো যাতে মাথাচাড়া না দিতে পারে, সে জন্যে বিজয়ের আগেই, ১৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভায় সম্মিলিতভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি বলতেন, ‘আমরা এমন কাজ যেন না করি, যাতে করে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র একদিন ক্ষমতাসীন হয়ে দেশ স্বাধীন করার “অপরাধে” আমাদেরই উৎখাত করতে সচেষ্ট হয়।’ প্রতিক্রিয়াশীলদের চক্রান্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের সঙ্গে নিহত এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সৎ, নির্লোভ, স্বাধীনচেতা ও স্পষ্টবাদী এই রাজনীতিবিদের বহু কথাই আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি নিজেকে আড়াল করে, কোনো কৃতিত্ব দাবি না করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছিলেন, তার সঠিক মূল্যায়ন রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আজও হয়নি। ইতিহাস প্রমাণ, মানুষটি আজ পরিণত হয়েছেন ইতিহাসের ফুটনোটে। এই দুর্ভাগ্য তাঁর নয়, দুর্ভাগ্য এ জাতির। তার পরও আশা থাকবে যে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ইতিহাসের কলঙ্ক মুছতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে গণ-আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছে, তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে শিকড় গাড়া সকল প্রকার কলুষতা, অসত্য, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চেতনার নবজাগরণ ঘটাতে; চেতনার রূপান্তরিত নিষ্কলুষ বিকাশে জন্ম নেবে তাজউদ্দীন আহমদ ও তাঁর মতো সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের প্রতীক নতুন শিশু। তারা বাংলাদেশকে পথনির্দেশ করবে আলোর পথে।
শারমিন আহমদ: লেখক ও গবেষক, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাংবাদিক নির্যাতনে এগিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতাসীন দল
প্রতিবেদনে চারজন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন- শাহ আলম মোল্লা, সরকার নিপুল, দেলোয়ার হোসেন, জি এম বাবর আলী। সাংবাদিক শাহ আলম মোল্লার প্রসঙ্গ টেনে তাহমিনা বলেন, রাজধানী ঢাকার উত্তরা ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষের দুর্নীতি বিষয়ক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করায় উত্তরা মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে থানার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। তার স্বজনরা জানিয়েছেন, পুলিশ তাকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৪ সালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংস একটি ঘটনায়ও বিচারের মাধ্যমে কাউকে দোষী সাব্যস্থ করে শাস্তি দেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার মাত্র পাঁচটির তদন্ত শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ শতাংশ ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ সংগঠিত ঘটনাই আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৬.৫৫ ভাগ আক্রমণের ঘটনায় কোন আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অধিকাংশ ঘটনায় আক্রমণের শিকার সাংবাদিকরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত করেননি। অন্যান্য ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এসব ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা দেশের বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থার নানা ফাঁকফোকর ও বিভিন্ন পর্যায় থেকে অসহযোগিতার কারণে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এ কারণগুলোকে হয়রানির মূলমন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় অপরাধের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে কিছুই বলা হয়নি (যেমন রাষ্ট্র এবং ব্যক্তির ইমেজ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে; অথবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রদান করা হয়েছে ইত্যাদি)। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী এর সুযোগ গ্রহণ করে। এটি একটি বড় সমস্যাসঙ্কুল বিষয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আর্টিকেল-১৯ এর প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, আক্রমণের প্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, তদন্তে ধীরগতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি সাংবাদিকদের জন্য চরম বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া আইনের ফাঁকফোকর মতামত প্রকাশের জন্য ভয়-ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে (ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট) আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্যক অনলাইন পত্রিকা রয়েছে, তাই বিষয়টি অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রতিবেদনের সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘কর্মপরিকল্পনা’য় বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যা ‘ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিও’তে প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা, আর্টিক্যাল-১৯ এর মিডিয়া কনসালট্যান্ট হীরেন পণ্ডিত প্রমুখ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিন্টুর মৃত্যু নানা প্রশ্ন
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এদিকে পিন্টুর ছোটভাই রিন্টু জানান, দুপুরে তারা টিভির স্ক্রল দেখে পিন্টুর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। খবর পেয়ে সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও পিন্টুর আত্মীয় রফিকুল ইসলাম দিপু রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। রিন্টু বলেছেন, তার ভাইয়ের লাশ রাজশাহী থেকে ঢাকা আনতে হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন। কিন্তু রাতে হেলিকপ্টারে লাশ বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পিন্টুর লাশ আনতে তার ছোট ভাই নাসিম উদ্দিন আহম্মেদ, শ্যালক মোহাম্মদ অপু, পিন্টুর সাবেক পিএস রফিক আহমেদ ডলার, যুবদল নেতা রুহুল আমিন আকিল, সাবেক ছাত্রদল নেতা নয়ন হোসেন ও মোহাম্মদ টিটু রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রিন্টু জানান, সোমবার হাজারীবাগ ও নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে। এদিকে পিন্টুর মৃতু?্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে তার রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার ২৫ মনেশ্বর রোডের ?বাসায় চলছে শোকের মাতম। দুপুরে ২৫/১ হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডের পিন্টুর বাসায় গিয়ে দেখা যায় তার স্ত্রী, বোন ও ভাই এবং ঘনিষ্ঠজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তার বাসায় জড়ো হচ্ছেন তার স্বজন ও দলের নেতাকর্মীরা। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বাড়ির তিনপাশের সকল রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর জন্ম ১৯৬৭ সালে। পুরান ঢাকার মরহুম নিজাম উদ্দিন আহম্মেদের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে পিন্টু ছিলেন সবার বড়। তার বোন ও সাবেক কাউন্সিলর ছায়েদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিও এক সময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ছিলেন। পিন্টুর স্ত্রীর নাম নাসিমা আক্তার কল্পনা। তাদের বড় ছেলে শাহরিয়ার আহম্মেদ রাতুল কানাডার টরেন্টোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। ছোট ছেলে নাহান আহম্মেদ ঢাকার স্কলাস্টিকার ছাত্র। পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় আসামিদের পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসার পর ২০০৯ সালের জুন মাসে হাইকোর্টের বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক এমপি পিন্টুকে। এরপর তিনি আর জামিন পাননি। ২০১৩ সালের ৫ই নভেম্বর বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলার রায়ে পিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। পিন্টুর বিরুদ্ধে পিলখানা হত্যা মামলাসহ দুর্নীতি ও ভাঙচুরের সাতটি মামলা রয়েছে। পিন্টুর আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবা জানান, পিলখানার মামলায় সাজা হয়েছে। বাকি ছয়টি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে। এদিকে সূত্র আরও জানায়, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (দক্ষিণ) নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি সিটি নির্বাচনে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন সেই আশঙ্কা থেকে পিলখানা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পিন্টুকে ২০শে এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি চিকিৎসককে
এদিকে অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী কারাকর্তৃপক্ষের বাধার কারণে শনিবার বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারেননি চিকিৎসক। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. রইস উদ্দিন শনিবার সকালে পিন্টুকে কারাগারে চিকিৎসা দিতে যান। কিন্তু তাকে পিন্টুর সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। ডা. রইস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কারাগারে আনার কয়েক দিন পরেই বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ২৬শে এপ্রিল তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, এর আগে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর চিকিৎসার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেয়ে হাসপাতাল পরিচালককে চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘বিএনপি নেতা পিন্টুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তবে তাকে হাসপাতালে নয়, কারা হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হবে। এ কারণে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে কারাগারে পাঠানোর অনুরোধ করা গেল।’ ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পিন্টুকে চিকিৎসা দিতে যাই। কিন্তু সেখানে সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান আমাকে পিন্টুর সঙ্গে দেখা করতে দেননি। তিনি বলেন, আমি সিনিয়র জেল সুপারকে বলেছিলাম, আপনারা পিন্টুর জন্য চিকিৎসক চাওয়ায় পরিচালক তাকে পাঠিয়েছেন। তবে কেন আপনারা তার সঙ্গে আমাকে দেখা করতে দিচ্ছেন না? তিনি অভিযোগ করেন, আমি জেল সুপারকে বলেছি, আল্লাহ না করুক, বিএনপি নেতা পিন্টুর যদি কোন দুর্ঘটনা হয়, তবে এ জন্য আপনারাই দায়ী থাকবেন। এরপরও তিনি আমাকে পিন্টুর সঙ্গে দেখা করতে দেননি। বরং চা খাইয়ে বিদায় করে দেন। রোববার হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাৎক্ষণিক ইসিজি করা হলে তার হৃদস্পন্দন পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে আনার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগেই পিন্টুর মৃত্যু হয়েছে। তবে রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান জানান, পিন্টু নানাবিধ অসুখে ভুগছিলেন। হার্ট, কিডনি, ডায়াবেটিকস, ব্লাডপ্রেসারসহ চোখ ও বুকের সমস্যা ছিল তার। রোববার বেলা ১২টার দিকে তিনি কারাগারের মধ্যে বুকের ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত তাকে কারাগার থেকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের
এদিকে নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, কারাগারে পরিকল্পিতভাবে পিন্টুকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে পিন্টুর হাজারীবাগের বাসায় তার স্ত্রী ও ভাইবোনেরা সাংবাদিকদের কাছে এমনই অভিযোগ করেছেন। পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলা করে পরিকল্পিতভাবে পিন্টুকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে নেয়া হয়। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা ছিল, পিন্টুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা দেয়া। আমরা আদালতের ওই নির্দেশনার কাগজ আইজি প্রিজনের কাছে দিলেও তাকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। পিন্টুর ভাই নাসিমউদ্দিন আহম্মেদ রিন্টু বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই সরকার এরআগেও দুইবার আমার ভাইকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে উন্নতমানের চিকিৎসা না দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। রিন্টু বলেন, কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় চিকিৎসার অবহেলায় তার ভাই পিন্টুর একটি চোখ নষ্ট হয়েছিল। তার স্পাইন্যাল ও হার্টে গুরুতর সমস্যা ছিল। এই কারণে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২ মাস আগে উচ্চ আদালত এই মর্মে নির্দেশনা দিয়েছিল যে, পিন্টুর অসুস্থতাসহ সার্বিক বিষয়ে চিন্তা করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল নতুবা সমমানের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেখে স্থায়ী চিকিৎসা দেয়ার জন্য। কিন্তু আইজি প্রিজনের কঠোর নির্দেশে পিন্টুকে সিটি নির্বাচনের আগেই পিন্টুকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। যাওয়ার পর থেকে সেখানে পিন্টু আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। শনিবার রাতে পিন্টু অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন ডেপুটি জেলার তাকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। তখন কারাগারের চিকিৎসককে দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। সকালে সেলে পিন্টুর শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা আরও বেড়ে গেলে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে স্থানীয় (আইসিইউ) ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করেন। দুপুর পৌনে একটার দিকে পিন্টু কোমায় চলে যান। কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে। রিন্টু আরও বলেন, প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দিলে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হতো না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পিন্টুর বোনেরা বলেন, বিডিআর হত্যা মামলায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে জড়ানো হয়েছিল। এই ঘটনায় আমাদের ভাই পিন্টু জড়িত ছিল না। এটা সরকারের অপকৌশল ছিল। এদিকে পিন্টুর বোন সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহম্মেদ মিষ্টি বলেন, আমার ভাইকে সরকার মেরে ফেলেছে। কারাকর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসা করতে দেয়নি। আমরা বারবার তার উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সরকার তার চিকিৎসায় অবহেলা করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মতিউর রহমান মন্টু সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার সকালে তিনি পিন্টুর সঙ্গে দেখা করেছেন। ওই সময় পিন্টু জানিয়েছেন, অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও রাজশাহী কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে সময়মতো ওষুধ দিচ্ছে না।
চিকিৎসা গাফিলতির কারণে অকাল মৃত্যু: বিএনপি
এদিকে নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পিন্টু কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছিল। সেখানে পিন্টুকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বা সমপর্যায়ের একটি মেডিক্যালে রেখে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। উল্টো কারাকর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে রাজশাহীতে স্থানান্তর করে। সেখানেও তাকে সঠিকভাবে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেয়া হয়নি। কারাকর্তৃপক্ষের চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে পিন্টুর অকাল মৃত্যু হয়েছে। এ সময় দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান ও সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি কারান্তরীণ নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর নামাজে জানাজা আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ শুভানুধ্যায়ীদেরকে যথাসময়ে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো। এছাড়া, নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর মৃত্যুতে দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শোক প্রকাশ করা হবে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অস্বীকার
তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পিন্টুর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এটা নিয়ে কেউ কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে তা হবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পিন্টু হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তাকে কারাগার থেকে রাজশাহী মেডিক্যালে নেয়া হলে সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু একজন বন্দি ছিলেন। একজন বন্দি হিসেবে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তাকে তা দেয়া হয়েছে।
রাজনীতিতে পিন্টু
জেল-জুলুম ও নির্যাতন দিয়েই ছাত্র রাজনীতিতে আবির্ভাব হয়েছিলেন নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর। রাজনৈতিক জীবনের বেশির ভাগ সময় কারাগারেই কাটিয়েছেন তিনি। কারাগার থেকেই শেষ বিদায় নিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি। তৃণমূল থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। মহানগরের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ আমলে চার দফায় ২৩ মাস কারাভোগ করেন। ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের নির্বাচনে ঢাকার লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পাঁচবছরে নানা ঘটনায় বহুবার পত্রিকার শিরোনাম হন পিন্টু। এরকম এক ঘটনায় বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় কারাগারে যেতে হয় তখনকার এমপি পিন্টুকে। ওয়ান-ইলেভেনের জরুরি সরকারের জমানায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দুইবছর কারাভোগ করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের কাছে পরাজিত হন পিন্টু। সর্বশেষ কাউন্সিলে পিন্টুকে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। সদ্য সমাপ্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কারাগারে থেকেই তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের পর গত ১লা এপ্রিল তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক মহলের শোক
বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দলের চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবাণীতে তিনি অভিযোগ করেন উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে সুচিকিৎসা না দিয়ে বরং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। দুই দিন কোন চিকিৎসা না দিয়ে ২৬শে এপ্রিল তাকে রাজশাহী কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসায় কারা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা এবং সুচিকিৎসা দিতে ডাক্তারদের পরামর্শ উপেক্ষা করার কারণেই তার অকাল মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের এই ধরনের অমানবিকতায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া। শোকবাণীতে তিনি বলেন, নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যুতে দেশবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ন্যায় আমিও গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী পিন্টু সমাজসেবার মহান ব্রত নিয়ে রাজনীতি করতেন। আর এ কারণেই ঢাকাবাসীসহ সারা দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসীদের কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছিল। এছাড়া তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে অবদানের কথা তার এলাকাবাসী কোন দিনও ভুলে যাবে না। মরহুম নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, লড়াই ও সংগ্রামে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা দেশবাসী চিরকাল স্মরণ রাখবে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি একজন অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবককে হারালো, যার শূন্যস্থান সহজে পূরণ হওয়ার নয়। খালেদা জিয়া পিন্টুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আলাদা শোকবাণীতে শোক প্রকাশ করেছে ছাত্রদল। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান এ শোক প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ছাত্রদলের উজ্জ্বল নক্ষত্র। পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করার পেছনে তার অবদান স্মরণীয়। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে যখনই বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তখনই নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ঢাকার রাজপথে গর্জে উঠেছেন। বর্তমান অবৈধ সরকারেরও বড় ভয় ছিল তাকে নিয়ে। সে কারণেই মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারারুদ্ধ রেখে, উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা। শোকপ্রকাশ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, একজন কারাবন্দি রাজনীতিবিদ হিসাবে নাসির উদ্দিন পিন্টুর এ মৃত্যু মোটেই স্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে জনাব পিন্টুর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি কারাগারে অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার সুবন্দোবস্ত করেনি। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এক শোকবার্তায় সাবেক এমপি পিন্টুর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এক শোকবাণীতে বলেছেন, পিন্টু দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়ার আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কারা হেফাজতে বিনা চিকিৎসায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। সরকার বিএনপির জনপ্রিয় নেতাদের একের পর এক গুম, খুন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার নির্মম যে খেলায় মেতেছে- পিন্টু তারই ধারাবাহিকতারই অংশ। আমরা প্রতিটি গুম, খুনের আন্তর্জাতিক ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর মৃত্যুতে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত ইসলামী, লেবার পার্টি, এনডিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের তীর কারা কর্তৃপক্ষের দিকে
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু বুকে ব্যথা অনুভব করলেও তার দেড় ঘণ্টা পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার মৃত্যুকে ঘিরে নানান প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলা ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেছেন একাধিক বিএনপি নেতা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও কারা কর্তৃপক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। রামেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. রইস উদ্দিন জানান, প্রথমে নাসিরউদ্দিন পিন্টুকে দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হৃদরোগ বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তবে তার আগেই তিনি মারা যান। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, গত শনিবার কারা কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়ে তিনি কারাগারে পিন্টুসহ অন্যদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যান। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য অজুহাত দেখিয়ে সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান তাকে পিন্টুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেননি। ডা. রইছের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র জেলার শফিকুল ইসলাম খান বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ডা. রইস এসেছিলেন। তাই তাকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি। তাছাড়া, নাসিরউদ্দিন পিন্টুকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি ছিল। তিনি বেঁচে থাকলে আগামী ১১ই মে তাকে পিজিতে চিকিৎসার জন্য নেয়া হতো। এদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক এস এম সায়েম জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাসিরউদ্দিন পিন্টু বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তাকে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার কথা বলেছিলেন। কারা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা পিন্টুকে গত ২০শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তাকে কোন ডিভিশন দেয়া হয় নি। তিনি ১০ নম্বর সেলের একটি কক্ষে থাকতেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মিন্টু অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল যাতে নাসিরউদ্দিন পিন্টুকে ঢাকা বা তার আশেপাশের এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও না নেয়া হয়। এরপরও ২০শে এপ্রিল তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করেন এই নেতা। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দীন জানান, নাসিরউদ্দিন পিন্টুকে জরুরি বিভাগ থেকে দ্রুত তাকে হৃদরোগ বিভাগে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরআগে গত ২৬শে এপ্রিল নাসিরউদ্দিন পিন্টুকে কারা কর্তৃপক্ষ রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সে সময় তার হৃদরোগ ও চোখের পরীক্ষা করা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় তাকে সেদিনই আবারো কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে জানিয়েছিলো নাসিরউদ্দিন পিন্টুর আগামী ১১ই মে তার রিভিউ ডেট আছে। কোন প্রয়োজন দেখা দিলে যেন কারাগারে চিকিৎসক পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, গত ২৫শে এপ্রিল ইস্যুকৃত একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে হৃদরোগ বিভাগের প্রধান গত শনিবার কারাগারে গিয়েছিলেন। ওই আবেদনটি ক’দিন পরে তারা পেয়েছিলেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ফিরিয়ে দেন। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গতকাল দুপুরে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত রামেক পাঠানো হয়। তখন তার জ্ঞান ছিল না, তবে শ্বাস নিচ্ছিলেন। হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পিন্টুকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পিন্টুর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শামীম-আইভী ফের মুখোমুখি by বিল্লাল হোসেন রবিন
ডা. আইভী বলেন, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান। এসব কাজ যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সমাপ্ত হতে না পারে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নগরবাসীর কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা না যায় এ জন্যই ওসমান পরিবার পরিকল্পিভাবে মাঠে নেমেছে। গত কয়েক দিন ধরে তাদের তৎপরতায় এটাই প্রমাণ হয়েছে।
নাসিম ওসমানের মৃত্যুর দায় নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই নিতে হবে, সেলিম ওসমানের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আইভী বলেন, এক বছর পরে এ ধরনের কথা কেন? আমি তো মনে করি, এটা পরিকল্পিতভাবে সেলিম ওসমান করছেন। তার স্বমূর্তি তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে প্রকাশ করলেন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যে কথা বলেছিলেন, উনি উনার ভাইদের থেকে একটু আলাদা। উনি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন করতে চান। উনি সাম্যের গান, গান। এগুলো সবই তাহলে মিথ্যা?
আইভী আরও বলেন, শনিবার সেলিম ওসমান যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিগত ৪-৫ দিন ধরে যেসব কথা বলছেন, এটাতে প্রতীয়মান হয় যে, উনি কোন অংশে উনার দুই ভাইয়ের (শামীম ওসমান ও প্রয়াত নাসিম ওসমান) তুলনায় কম নন। তারা কথায় কথায় মানুষকে পিষে মারতে চান। উনারা হেঁটে গেলে মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেই ধরনের বক্তব্য দিতে উনারা অভ্যস্ত, সেলিম ওসমানও তাদের বাইরে কেউ নন। তারা শহরবাসীকে পুনরায় ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করে তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য এই কাজগুলো করে যাচ্ছেন।
আইভী বলেন, তারপরও আমি মোটেও শঙ্কিত নয়। কারণ, আমি জানি নারায়ণগঞ্জের জনগণ আমার সঙ্গে আছে। তাছাড়া তাদের এই হুমকিধমকি তো আর নতুন শুনছি না। উনারা দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ মানুষকে এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। তাই শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মৃত্যুর মালিক আল্লাহ। তাদের হুমকিধমকিতে এই শহরের মানুষ ভীত নয়। আমি কেন, নারায়ণগঞ্জের একজন পথচারীও জানে তারা কি করতে পারে। আর প্রশাসনকে উনারা যেভাবে ব্যবহার করছেন, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন পর্যন্ত যে কোন মানুষের পক্ষে এ ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা যদি থাকে তখন বড় বড় কথা যে কেউ বলতে পারে।
ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আজকে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের রহস্য খোলাসা হয়েছে। ‘দুধ কা দুধ আর পানি কা পানি’ হয়ে গেছে। শামীম ওসমানের এ বক্তব্যে আইভী বলেন, তদন্তের মধ্যে তো আর বেরিয়ে আসেনি তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তদন্তেই তো দেখা গেছে আজমিরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। যেটা তদন্ত করেছে একটি আইনশঙ্খলা বাহিনী এবং যদিও এখনও তারা চার্জশিট দেয়নি। কিন্তু সনামধন্য কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি কাদের নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে এবং সেখানে স্পষ্টভাবে ১১-১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং চাইলেই তো আর কারও বিরুদ্ধে অপবাদ দিতে পারেন না। প্রমাণিত হয়েছে ওখানে তারা ছিলেন।
আমরা এখন যা বলতে চাচ্ছি, তারা ত্বকী হত্যাকাণ্ডের মোড় অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করছেন। যদি তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থেকে থাকেন, তাহলে তাদেরই দায়িত্ব প্রমাণ করা যে, ত্বকীকে কে বা কারা হত্যা করেছে।
‘যদি আমার নেতাকর্মীদের দিকে চেয়ে চোখের ইশারা করি, তাহলে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে তাদের বাড়ি-ঘরের ইট থাকবে না। কিন্তু আমি তা করিনি।’- শামীম ওসমানের এই বক্তব্যের জবাবে আইভী বলেন, কারও বাড়ির ইট খুলে নেয়ার আগে তাদের নিজেদের বাড়ির ইট রক্ষা হয় কি না সেই ব্যবস্থা উনাদের করতে হবে। কারণ, এই রকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা বলে নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষকে যেমন থামিয়ে রাখা যাবে না, একইভাবে ত্বকী হত্যাকাণ্ডকেও আড়াল করা যাবে না। শহরের মানুষকে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেদের আধিপত্য ও অস্তিত্বকে জানান দেয়ার জন্য সেই কাজগুলো করে যাচ্ছেন।
আইভী বলেন, আমার তো মনে হয়, উনারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে এই শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছেন আওয়ামী লীগের। বাড়ি-ঘরের ইট খুলে নেয়ার দুঃসাহস তারা কোথা থেকে পায়? তারা কি জানে? নারায়ণগঞ্জের মানুষ যদি এক হয়, তাহলে উনাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান যা বলেছিলেন: শনিবার নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নতুন গ্যাস সংযোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, ‘প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুর দায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ত্বকী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একের পর এক মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরেই মানসিক যন্ত্রণায় নাসিম ওসমানের মৃত্যু হয়েছে। পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শামীম ওসমান বলেছে তার ৫ মিনিট লাগবে। শামীম ওসমান রাজনীতি করে। আর আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি এলএমজি চালিয়েছি। আমি মুক্তিযোদ্ধা। বুড়ো হয়ে যেতে পারি কিন্তু থাবা ভুলি নাই। আমি কারও হুকুমে কাজ করি না। ঢোল বাদকরা সাবধান হয়ে যান। আমি আওয়ামী লীগ করি না কিন্তু আমার শ্রমিক আছে। আমার শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসলে চোখের পলক পড়া লাগবে না। যেখান দিয়ে যাবো ব্লুডোজারের মতো গুঁড়িয়ে দিয়ে যাবো।’
একই অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান না, আমি শামীম ওসমান। যদি আমার নেতাকর্মীদের দিকে চেয়ে চোখের ইশারা করি, তাহলে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে তাদের বাড়ি-ঘরের ইট থাকবে না। কিন্তু আমি তা করিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের (নাসিম ওসমান) মৃত্যুর পর আমরা রাজনীতি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। সেলিম ওসমানকে জোর করে রাজনীতিতে আনা হয়েছে। কি অপরাধ করেছিল নাসিম ওসমান যে উনার মরণোত্তর বিচার করার কথা বলা হয়েছে। আর যারা বলেছে, তাদের ক্ষমতা কতটুকু?’
শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের কিছু নাস্তিক আছে, তারা ঢাকা থেকে আমদানি করে বড় বড় কমিউনিস্ট নেতা নিয়ে আসেন। যারা ঢাকায় নির্বাচন করে সবাই মিলে ৬ হাজার ভোটও পায়নি। তাদের একবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়নি, তাদের হাজার বার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। দেশটার চেহারা পাল্টে দিতে চায় তারা। তাদের কারণেই আমার ভাইয়ের মৃত্যুটি স্বাভাবিক হয়নি। তার পরিবারকে ও তাকে মানসিকভাবে আঘাত করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। একটি পত্রিকা ছাড়া আমি সকল পত্রিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। কারণ তাদের লেখনীর কারণে আজকে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের রহস্য খোলাসা হয়েছে। দুধ কা দুধ আর পানি কা পানি হয়ে গেছে।’
ত্বকী হত্যাকাণ্ডকে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানোর চেষ্টায় ওসমান পরিবার- সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ:
এদিকে রোববার সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেছে, তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি করার জন্যে সম্প্রতি এ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ওসমান পরিবার তাদের অনুগত সংবাদকর্মীদের নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা তাদের পুরনো কিছু কথা দুই বছর পরে আজ নতুন করে উপস্থাপন করে এ হত্যায় ‘জজমিয়া নাটক’ তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ থেকে অভিযুক্ত পরিবারটিকে রক্ষা করার জন্য যে এ ‘মিশন’ তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরছি -
তারা বলছেন, সম্প্রতি কতিপয় সংস্থার তদন্তে ত্বকী হত্যা নিয়ে কতগুলো অসঙ্গতি উঠে এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কোন সংস্থা নতুন করে ত্বকী হত্যা নিয়ে তদন্ত শুরু করলো? মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে র্যাবকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়ার পর এর বাইরে কোন সংস্থাই তদন্ত করছে না এবং করার সুযোগও নেই। সুতরাং এ কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর র্যাবের পক্ষ থেকে ‘আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন ত্বকীকে হত্যা করেছে’ বলে জানানোর পর আর নতুন কোনও তথ্য হাজির করা হয়নি।
তারা বলছেন, র্যাবের অভিযানে আজমেরী ওসমানের টর্চারসেলে পাওয়া প্যান্টটি ত্বকীর হলে লাশ উদ্ধারের সময় ত্বকীর পরনে প্যান্ট এলো কি করে? এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, আজমেরী ওসমানের টর্চারসেলে পাওয়া প্যান্টটিকে কখন কে বলেছে ওটা ত্বকীর প্যান্ট? এটি যেমন ত্বকীর পরিবার থেকে কখনো বলা হয়নি, তেমনি অভিযান চালানো র্যাবের পক্ষ থেকেও কখনও তা বলা হয়নি। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘রক্তমাখা প্যান্ট’। আর এ মামলার বাদী ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বরাবরই বলেছেন, ত্বকীর পরনেই ত্বকীর প্যান্ট ছিল। আজমেরী ওসমানের টর্চারসেলে পাওয়া রক্তমাখা প্যান্টটি ত্বকীর নয়। শুধু মাত্র শামীম ওসমানই শুরু থেকে এ প্যান্টটিকে ত্বকীর প্যান্ট বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তারা বলছেন, ১৬৪ ধারায় দেয়া ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমরের জবানবন্দি ভিন্নতর। এখানে স্পষ্ট যে, উভয়ের জবানবন্দিতেই হত্যার ধরন ও হত্যাকারী হিসেবে যাদের নাম এসেছে তা অভিন্ন। উভয়ের জবানবন্দিতে নাম এসেছে লিটন, ভ্রমর, কালাম শিকদার, রাজিব, কাজল, শিপন, জ্যাকি, মামুন, অপু ও ড্রাইভার জমশেদের। যারা সবাই ওসমান পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভ্রমর তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে আজমেরীর টর্চারসেলে আজমেরীর নির্দেশে ও নেতৃত্বে তারা ত্বকীকে হত্যা করেছে আর লিটন তার জবানবন্দিতে আজমেরীর নাম উল্লেখ করেনি। কেন করেনি তা বের করার দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। আর জবানবন্দি কখনোই একজনের সঙ্গে আরেক জনেরটা হুবহু মিল হয় না। ঘটনার সত্য বের করবে তদন্তকারী সংস্থা- কখনোই অভিযুক্ত ব্যক্তি বা পরিবার নয়।
তারা বলছেন, ত্বকীকে বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হলে বস্তা থেকে লাশ বের হলো কি করে? লিটন তার জবানবন্দিতে বলেছে, ব্যাগ খুলে ত্বকীকে বের করে কুমুদিনী খালের পাড়ে ফেলে দেয়ার পর তারা খালি ব্যাগটিতে ইট ভরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। লিটন উল্লেখ করেছে, ত্বকীকে ফেলে দেয়ার সময় তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আজকে নতুন করে ত্বকী হত্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে কোন লাভ হবে না। এসব করে ত্বকী হত্যার বিচার বিলম্বিত করা গেলেও কোনভাবেই তা বন্ধ করা যাবে না। আমরা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জানতে চাই, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ত্বকী হত্যায় নেতৃত্ব দেয়া আজমেরী ওসমান কিভাবে প্রকাশ্যে এবং আপনাদের সামনে ঘুরে বেড়াতে পারে? আমরা দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার এবং ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি। ত্বকী হত্যা নিয়ে কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। এ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়া অথবা ‘জজ মিয়া নাটক’ তৈরির অপচেষ্টাকারীদেরও একদিন বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত করবো না -শেখ হাসিনা
যারা অবরোধ-হরতালের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করলো, নির্বিচারে বাস-ট্রাক পুড়িয়ে দিলো- সেই বিএনপি নেত্রীই নির্বাচনের মাঠে নেমে বাস মার্কায় ভোট চাইলেন। আর সেই বাস মার্কায় ৩ লাখ ভোট কীভাবে পড়লো?
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ও তার পুত্র আন্তর্জাতিকভাবে অপরাধ করে যাচ্ছেন। বিএনপি নেত্রীর দুর্নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রমাণ হয়েছে। এমনকি জয়কে অপহরণ ও ক্ষতি করার জন্য তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিল। সেই অপরাধে বিএনপির নেতার পুত্রের কারাদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া সাত মার্কিন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল এবং ভারতের বিজেপি সভাপতির সঙ্গে মিথ্যা ফোনালাপের কথা বলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন এই খালেদা জিয়া। ফলে আমি নই, খালেদা জিয়া ও তার পুত্র দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও অপরাধ করে যাচ্ছেন।
তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপির কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, নিজে চোর বলেই উনি সবাইকে চোর ভাবেন। বিএনপি নেত্রী কি ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের কথা ভুলে গেছেন। উনি ওই নির্বাচন কিভাবে করেছিলেন? ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাগুরা, মিরপুর ও ফালুকে জেতাতে তেজগাঁও উপ-নির্বাচনে উনি কিভাবে ভোট ডাকাতি করেছিলেন, সেটাও কী ভুলে গেছেন? তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী ভুলে গেলেও দেশের মানুষ তা কোনদিনই ভুলবে না।
রাত সোয়া আটটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। আ জ ম নাছিরও প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মাহবুব-উল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, এবি তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, আলাউদ্দিন চৌধুরী নাছিম, নুরুল ইসলাম বিএসসি, সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফ, মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, আবদুচ ছালাম, সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি, একরামুল হক, সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৪ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের নেয়া বাস্তবমুখী পদক্ষেপের কারণে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এতে বিদ্যুতের চাহিদা কম হবে এবং গ্রাহকরাও স্বস্তি পাবেন। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪টি বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিদ্যুৎ খাতের ৬টি প্রকল্প উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ৬ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমানে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এটি সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের দ্রুত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের কারণে। তিনি বলেন, অনেকে অনেক কিছু বলতে পারে। কিন্তু দেশবাসী এমনকি রাজধানীর জনগণকে বিদ্যুৎ সংকটের ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তা কার্যকর করা খুবই কঠিন কাজ।
উদ্বোধন করা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে নাটোর ৫২ দশমিক ২০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গগননগর (নারায়ণগঞ্জ) ১০২ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঘোড়াশাল (নরসিংদী) ১০৮ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কাঠপট্টি (মুন্সীগঞ্জ) ৫২ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এগুলোর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ৩১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মেঘনাঘাট থেকে আমিন বাজার পর্যন্ত ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন এবং লালবাগ ১৩২/৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনও উদ্বোধন করেন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহি চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলামও বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং বিদ্যুৎ অধিদপ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এখন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াট। ২০০৯ সালে তা ছিল ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচ বছর মেয়াদকালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছিল।
তিনি বলেন, কিন্তু বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার মেগাওয়াটে নেমে যাওয়ার কারণে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণের জীবন থেকে ৭ বছর হারিয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুতের চাহিদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়নি। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই এ কাজটিকে কঠিন ভেবেছিল। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি হচ্ছে উন্নয়নের মূল উপাদান এবং নাগরিকদের প্রতি কাজকর্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এখন জনগণের চাহিদা বদলে গেছে। কারণ, তারা বিদ্যুৎ চান। এক সময় তারা কেবল খাদ্য ও বাসস্থান চাইতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রথমেই বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করেছিল। তিনি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার সেচ কাজের জন্য সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অগ্রগতি লাভের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতার নজির স্থাপন করে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কেনার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট এবং আগরতলা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা হবে। নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রেমের জন্য... by মাহফুজ আনাম
রনির পুরো নাম রনি কান্তি দে। রনি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের রাজা রাস্তার বাড়ির মৃত ধনা কান্তি দে’র ছেলে। সবেমাত্র ফটিকছড়ি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে রনি। তাদের পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসলিম পরিবারের মেয়ে জান্নাতুল নাঈমা যুথীর সঙ্গে গত পাঁচ বছর ধরে মন দেয়া-নেয়া চলে আসছে তার। যুথী স্থানীয় কাঞ্চনহাট দাখিল মাদরাসা থেকে দুই বছর আগে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে থামিয়ে দেয় শিক্ষা জীবন। দুজন দুই ধর্মাবলম্বী হলেও তাদের প্রেমে ফাটল সৃষ্টি হয়নি বিন্দু পরিমাণও। উভয় পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েক দফা সালিশি বৈঠক হয় তাদের এই প্রেম নিয়ে। উভয় পরিবার থেকে শারীরিক অত্যাচারের শেষটুকু হজম করে। কিন্তু মেয়ের পরিবার যখন জোর করে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার দিনক্ষণ ঠিক করেন, তখনই পাল্টে যায় চিত্র। প্রেমিক জুটি সিদ্ধান্ত নেয় পালিয়ে যাবে অজানা উদ্দেশে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত শুক্রবার সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও ছেলেটি বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। তার পরিবার বিষয়টি টের পেয়ে আটকে রাখে রনিকে। জব্ধ করে ফেলা হয় তার মুঠোফোনটি। মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করতে চাইলেও ব্যর্থ হয়। পরে মেয়েটি তারেক নামের তাদের এক বন্ধুর সহায়তায় পালিয়ে যায় কুমিল্লায়। সেখানে তাদের পরিচিত এক বাসায় আশ্রয় নেয়। প্রেমিক রনি কৌশলে বন্দি থেকে পালিয়ে প্রেমিকার কাছে ছুটে যায়। পালিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই মেয়ের পরিবার তাদের সহযোগী তারেককে ধরে বেধড়ক পিটিয়ে অবস্থান জেনে নেন। শনিবার সকালে গোপনে সেখানে গিয়ে উভয়কে নিয়ে এসে ফটিকছড়ি থানায় সোপর্দ করেন। শনিবার রাতে থানা হাজতে কথা হয় প্রেমিকজুটির সঙ্গে।
প্রেমিকা জান্নাতুল নাঈমা যুথী বলে, ‘আমি এভাবে পালিয়ে পরিবারকে ছোট করতে চাইনি। বাধ্য হয়ে পালিয়ে গেছি। আমি রনির জন্য পৃথিবীও ছাড়তে রাজি।’
প্রেমিক রনি কান্তি দে বলে, আমি যুথীর জন্য ধর্ম, পরিবারও ত্যাগ করতে প্রস্তুত। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে যুথীকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাই’।
সরজমিন দেখা যায়, থানা হাজতে উভয়কে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। ছেলেপক্ষের কাউকে পাওয়া না গেলেও মেয়ের বাবা আবুল বশর এসেছেন ছেলেটির বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করতে। মামলা দায়ের করে চলে যাওয়ার সময় কিছু কিনে খেতে মেয়ের হাতে দিয়ে যান কিছু টাকা। সেই টাকা দিয়ে মেয়েটি কিছু জুস, কেক আর কলা কিনে আনলো এক পুলিশ কনস্টেবল দিয়ে। আর সেই সব খাবার নিজে না খেয়ে পাঠিয়ে দিলো প্রেমিক রনি কান্তি দে’র কাছে। রনিও যখন শুনলো তার যুথী পাঠিয়েছে, তখনই দু’হাত বাড়িয়ে লুফে নিলো সেসব খাবার।
ফটিকছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, মেয়ের বাবা বাদী হয়ে রনির বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। অপহরণ মামলার প্রেক্ষিতে তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রুবেলের আংটি বদল এবং হ্যাপির চিঠি
রুবেল ও দোলার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সপ্তাহ খানেক আগে রুবেলের পিতা ও এক মামা দোলাদের বাড়ি দেখে গেছেন। একইভাবে দোলাদের পক্ষ থেকেও তাদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। কোন পরিবারই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। রুবেলের মা ও পিতা জানিয়েছেন, তাদের ছেলের এখন একটাই লক্ষ্য ভাল খেলা উপহার দেয়া। পাকিস্তানের সঙ্গে ভাল খেলাই তার একমাত্র লক্ষ্য। ছেলের বিয়ের খবরটি রুবেলের মা-ও অস্বীকার করেননি। তবে বলেছেন, এখনই নয়, রুবেল পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্ট ম্যাচের আগে বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে আগ্রহী নয়। রুবেলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে বিয়ের পাত্রী এক দফা রুবেলের নাগেরবাজারের বাড়িও ঘুরে গেছে। আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যখন রুবেল প্রথম টেস্ট খেলছেন তারই কোন একদিনে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকজন আনুষ্ঠানিকভাবে পাত্রীও দেখে এসেছেন।
হ্যাপির খোলা চিঠি: এদিকে রুবেলের বিয়ের প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে যাওয়ার পর ফেসবুকে তাকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি লিখেছেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপি। শনিবার তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ওই খোলা চিঠি পোস্ট করেন।
রুবেলের উদ্দেশে হ্যাপি লিখেন, আমি জানি আপনি খুবই ভাল আছেন। থাকাটাই মনে হয় সাধারণ ব্যাপার। আপনার মতো মানুষ সবসময় ভালই থাকে। আপনার আংটি বদল হয়েছে আমি আগেই জেনেছি। পাকিস্তান সিরিজের পর বিয়ে করছেন তা-ও জানি। যাকে বিয়ে করছেন তার বিষয়ে আপনি অবশ্যই অবগত আমিও অবগত আছি। তার নাম দোলা। বাগেরহাট-এর মুনিগঞ্জ বাড়ি। পষধংং ৮- এ অধ্যয়নরত দুইবার জেএসসিতে ফেল। পাস করতে পারছে না। বাগেরহাটে তার অনেক সুনাম বিশেষ করে ইয়াং ছেলেদের কাছে এক নামে পরিচিত। কারণ, অনেক ছেলেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর কারণে। দেখতে নাকি ভাল! এখন একটা কথা বলতে ইচ্ছা করছে, মাকাল ফল দেখার সাধ মিটেছে আমার। তবে একটা কথা আল্লাহ মানুষকে ভাল সময় এবং অর্থ দিয়ে পরখ করেন। হয়তো বা এটা আপনার বোধশক্তির বাইরে। সব মানুষই তার কর্মফল ভোগ করবে। মনে রাখবেন আপনিও মানুষ এবং অবশ্যই আপনি এই নিয়মের বাইরে না। আপনার জীবনে হয়তো আরও অনেক ভাল সময় আসবে, হয়তো নিজের অন্যায়গুলোও ভুলে যাবেন। ওপরে একজন আছেন, তিনি কিছুই ভুলবেন না। আমার সঙ্গে এত বড় অন্যায় আল্লাহ তায়ালা কিছুতেই সহ্য করবেন না। আমিও দেখবো আমার জীবনটা শেষ করে কত দিন ভাল থাকতে পারেন। মানুষের শরীর কেটে যখম হলে আমরা দেখতে পারি কিন্তু ভেতরের খবর কেউ জানতে পারি না। আমার ভেতরটা আপনি একদম শেষ করে দিয়েছেন। আমি কাঁদলে চোখ থেকে শুধু পানি বের হয় না, আমার হৃদয় জখম হওয়ার নষড়ড়ফ বের হয়। যা কাউকে দেখাতে পারি না। একটা মানুষ কথা বললে, হেঁটে বেড়ালেই বেঁচে থাকা বলে না। আমাকে অনেক আগেই নিজ হাতে খুন করেছেন। আমি শুধু আল্লাহকে বলি তিনি যেন এই অন্যায় সহ্য না করেন। আপনি আপনার বউকে নিয়ে কোন বাসায় থাকবেন! যে বাসার সবগুলো দেয়াল, আসবাবপত্র আমার ছোঁয়াতে অভ্যস্ত। আপনি কোন হাতে কারও হাত ধরবেন? যে হাত আমার হাত ছাড়া কিছু বুঝতো না! যে বুকে মাথা রাখার জায়গাটা শুধু আমার, সেই জায়গাতে অন্য কেউ! বাহ! রুবেল বাহ! এত ভাল অভিনেতা দুনিয়া আর পাবে না। আল্লাহ এখনও কেন চুপ করে আছেন? মনে রেখো আমার ভালবাসা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে খুব তাড়াতাড়ি তোমার বিচার তুমি পেয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ! একটা মানুষের জীবন নিয়ে খেলে তুমি ভাল থাকতে পারবে না। আমার চোখের পানির মূল্য তোমাকে দিতেই হবে। ইতি- হ্যাপি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যতিক্রমী জুটি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে দেশে সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েছে -আর্টিকেল ১৯-এর প্রতিবেদন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে ১১ শতাংশ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বাক্স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন আর্টিকেল-১৯ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা কৌশল ও নীতিমালা করাসহ কয়েকটি সুপারিশ করেছে।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আর্টিকেল-১৯ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন বাংলাদেশ-২০১৪’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান। তিনি বলেন, এমন নির্যাতন সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য হুমকি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রযন্ত্রের বাইরে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হাতে ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে সাংবাদিকদের হয়রানির পরিমাণ বেড়েছে ১০৬ শতাংশ। হয়রানির মধ্যে মানহানির দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাও রয়েছে। ২০১৩ সালে হয়রানির ঘটনা ছিল ৩৩টি; ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮টিতে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১০টি ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তাহমিনা রহমান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন মামলার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে এসব মামলার সব কটিই হয়রানিমূলক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম আলোর সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক ও কুমিল্লার নিজস্ব প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার দেওয়ানি মানহানির মামলা করে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের মালিকপক্ষ। অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে মামলাটি করা হয়।
যুগান্তর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং এক প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাদী হয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও দীপু মনির পক্ষে একটি ফৌজদারি মামলা করেন চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মামলাটি হওয়ার কারণ ছিল ‘হেভিওয়েট প্রার্থীরা যে কারণে বাদ পড়লেন’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন। আর্টিকেল ১৯-এর প্রতিবেদনে এমন আরও কয়েকটি মামলার উদাহরণ দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে মোট ২১৩ জন সাংবাদিক ও আটজন ব্লগার বিভিন্নভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গুরুতর জখম হয়েছেন ৪০ জন। আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬২ জন সাংবাদিক। হত্যাকাণ্ডের শিকার চার সাংবাদিক হলেন শাহ আলম মোল্লা, সরদার নিপুণ, দেলোয়ার হোসেন ও জি এম বাবর আলী। এঁদের মধ্যে নিহত সাংবাদিক শাহ আলম মোল্লা রাজধানী ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। তাঁর স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশই ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিক নেতারাসহ ১৩ জন মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে আদালত অবমাননার অভিযোগের মুখোমুখি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান প্রমুখ। গত বছর আটজন ব্লগার ও অনলাইন ব্যবহারকারীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৩ জনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়। আক্রান্ত সাংবাদিকদের মধ্যে ১৯ জন (৮ দশমিক ৯২ শতাংশ) হুমকির শিকার হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকেরা লিঙ্গগত হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঘটা সহিংস ঘটনার একটিরও বিচারের মাধ্যমে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার মধ্যে মাত্র পাঁচটি ঘটনার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। ২৭ শতাংশ ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। আর প্রায় ৭০ শতাংশ ঘটনা আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ আক্রমণের ঘটনায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অধিকাংশ ঘটনায় আক্রান্ত সাংবাদিকেরা সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেননি। অন্যান্য ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনের অস্পষ্টতা ও দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাংবাদিক, ব্লগার ও অনলাইনের কর্মীদের হয়রানির সুযোগ পায়। যেমন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সুস্পষ্টভাবে অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নির্দোষ প্রচারণার কারণেও সাংবাদিক ও ব্লগাররা আইনি হয়রানির শিকার হন। বিচারহীনতার কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র, এমনকি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অনেক সময় সহিংসতা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত আক্রমণ, সহিংস ঘটনার বিচারিক তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গণমাধ্যমের কর্মীদের জন্য চরম বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আর্টিকেল-১৯ সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা কৌশল ও নীতিমালা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, মানহানি ও আদালত অবমাননাসংক্রান্ত আইনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাসহ আরও কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 04
(28)
- ক্ষত শুকায়নি আতঙ্কের কাঠগড়ায় by কমল জোহা খান
- বুয়েটের শিক্ষকদের ছাত্রলীগের হুমকি
- ‘জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হবে’ -হুসেই...
- নির্বাচনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল জানতে চাইলে জবাব ...
- গার্মেন্ট শ্রমিকদের দুর্দশার প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য ট...
- উত্তরে পানি পেতে কষ্ট, দক্ষিণে দুর্গন্ধ by অরূপ দত্ত
- ভারতের ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৪১ শতাংশই বিবাহিত
- পিন্টুর কফিনে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা, জানাজা সম্পন্ন
- তাজউদ্দীন আহমদ ও প্রথম বাংলাদেশ সরকার by শারমিন আহমদ
- সাংবাদিক নির্যাতনে এগিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতাসীন দল
- পিন্টুর মৃত্যু নানা প্রশ্ন
- শামীম-আইভী ফের মুখোমুখি by বিল্লাল হোসেন রবিন
- আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত করবো না -শেখ হাসিনা
- প্রেমের জন্য... by মাহফুজ আনাম
- রুবেলের আংটি বদল এবং হ্যাপির চিঠি
- ব্যতিক্রমী জুটি
- রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে দেশে সাংবাদিক নির্যাতন বেড়...
- ২০১০-এর পর বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ভূমিকম্প
- কাছির গাউ দ্য কাউ!
- সব হত্যারই বিচার হবে -খালেদা জিয়া
- শীর্ষ ২০০ ঋণখেলাপির কাছে জিম্মি চার সরকারি ব্যাংক ...
- থাই গণকবরে জীবিত বাংলাদেশী
- মানবতাবাদী গৌতম বুদ্ধ by দিলীপ কুমার বড়ুয়া
- নির্বাচনী অপরাধ আমলে নেবে না ইসি
- নিক্কির পর্নো ছবিতে সয়লাব ইন্টারনেট
- আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তারের দাবি ত্বকী মঞ্চের
- লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড
- রাজপরিবারে নতুন অতিথি আসা নিয়ে যত প্রথা
-
▼
May 04
(28)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...















