Tuesday, April 29, 2025
পাক-ভারত বিরোধের মূল কারণ ও সংঘাতের ইতিহাস
প্রধান বিরোধের কারণসমূহ: ১. কাশ্মীর সংকট ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর কাশ্মীরের অধিভুক্তি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। তৎকালীন মহারাজা হরি সিং কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করেন, যা পাকিস্তানের জন্য ছিল অগ্রহণযোগ্য। এর ফলেই ১৯৪৭-৪৮ সালে প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। কাশ্মীর আজও উভয় দেশের জাতীয় গর্ব ও রাজনৈতিক স্বার্থের প্রতীকে পরিণত হয়েছে, এবং এ অঞ্চল ঘিরেই বারবার সংঘাত ছড়িয়েছে।
২. ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজন ভারত ও পাকিস্তান—দুটি রাষ্ট্রই গড়ে উঠেছিল আলাদা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে। পাকিস্তান নিজেকে মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই ভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বৈরিতাকে আরও গভীর করেছে।
৩. সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা ইস্যু ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ করে আসছে, বিশেষ করে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এই পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
৪. পানি বণ্টন সংকট সিন্ধু নদী ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পানি বিরোধ রয়েছে। যদিও ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি কিছুটা শান্তি এনেছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদী ব্যবস্থাপনা ও নতুন প্রকল্প নিয়ে উত্তেজনা পুনরায় বাড়ছে।
৫. পারমাণবিক প্রতিযোগিতা ১৯৭৪ সালে ভারতের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানও পারমাণবিক শক্তি অর্জনের ঘোষণা দেয়। উভয় দেশের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন এবং তা ঘিরে প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তাকে নাজুক করে তুলেছে।
কালপঞ্জি:
১৯৪৭
১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা।
কাশ্মীরের দখল নিয়ে প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সূচনা।
১৯৪৯
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি; লাইন অব কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৬৫
কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বিতীয় পাক-ভারত যুদ্ধ।
তাসখন্দ চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান।
১৯৭১
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ।
পাকিস্তানের পূর্বাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ।
১৯৯৮
উভয় দেশের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা; দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু উত্তেজনা বৃদ্ধি।
১৯৯৯
কারগিল যুদ্ধ; পাকিস্তানি সেনা ও জঙ্গিরা লাইন অব কন্ট্রোল অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
ভারত সেনা অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করে।
২০০১
ভারতের সংসদ ভবনে হামলা; দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
২০০৮
মুম্বাইতে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা; ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদের অভিযোগ তোলে।
২০১৬
উরি সেনাঘাঁটিতে হামলার পর ভারত ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর দাবি করে।
২০১৯
পুলওয়ামা হামলায় ৪০ জন ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হন।
পাল্টা ভারতীয় বিমান হামলা; বালাকোটে কথিত জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত।
একই বছরে ভারত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা তুলে দেয়; পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মির ইস্যু উত্থাপন করে।
উভয় দেশের মধ্যে ট্র্যাক-টু কূটনীতি ও জনগণ-জনগণ যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
২০২৫
২২ এপ্রিল: জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগামে বৈসরান উপত্যকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের একটি দল পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে পর্যটক ও সরকারি কর্মচারী—উভয়ই ছিলেন। আরও কয়েকজন আহত হন।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করে এবং ভারতবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেই দায়ী করে। একাধিক গণমাধ্যম দাবি করেছে যে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লশকর-ই-তৈয়বার সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট এই হামলার দায় স্বীকার করে।
তবে পাকিস্তান সরকার এ দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে দায় স্বীকারের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো হামলায় জড়িত তিন সন্দেহভাজনের স্কেচ প্রকাশ করেছে। গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে ‘পিটিআই’ জানিয়েছে, হামলাকারীদের সবাই লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের মধ্যে কমপক্ষে দু’জন ‘বিদেশি’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধ মূলত আস্থা সংকট ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। কাশ্মীর প্রশ্নের ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান ছাড়া স্থায়ী শান্তি অর্জন প্রায় অসম্ভব বলেও তারা মনে করেন।
পাশাপাশি দুই দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি প্রায়শই সম্পর্ক উন্নয়নের পথে অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগই বিরোধ নিরসনের একমাত্র পথ হতে পারে।
পহেলগাম হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, কাশ্মীর ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি সুদূরপরাহত। উভয় দেশের উচিত পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এই দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটানো।
![]() |
| ভারত-পাকিস্তান বিরোধের ইতিহাস। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলি চাপ তোয়াক্কা না করেই পারমাণবিক কর্মসূচির পথে ইরান
সোমবার (২৮ এপ্রিল) এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং অর্থবহ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইরানের ‘রেড লাইন’, যা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের মূল নীতিগুলোর প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগোব। এসব নীতির প্রতি সম্মান না দেখানো হলে কোনো চুক্তি হবে না।
ওমানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তিন দফা পরোক্ষ আলোচনা করেছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি সার্বভৌম অধিকার, যেখানে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
ইরানের রাজনৈতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচিও দেশটির দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি মজলিসের সামনে বলেন, শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব—এই তিনটি বিষয় আলোচনার বাইরে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলছে, ইরানকে অবিলম্বে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, নতুবা তারা যে কোনো সময় পারমাণবিক বোমা তৈরির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার ইরানকে দিতে প্রস্তুত বলে আভাস মিলেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট আয়োজিত এক সম্মেলনে বলেন, যে কোনো উপায়ে হোক, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সব পথ বন্ধ করতে হবে। ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ইসরায়েল নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে।
ওমানের মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আংশিক অগ্রগতি হলেও নেতানিয়াহু তা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি লিবিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘যদি ইরান লিবিয়ার মতো সমস্ত পারমাণবিক ও রাসায়নিক কর্মসূচি বাতিল না করে, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকি সোমবার (২৮ এপ্রিল) জানান, ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ নীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর বাইরের চাপ বরদাশত করবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন হলে এর জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর।
আরাকি আরও বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েলের অস্বাভাবিক প্রভাব খুবই দৃষ্টিকটু এবং তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য শুভ লক্ষণ নয়।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল একদিকে যেমন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথেই থাকতে চায় বলে জানিয়েছে।
সূত্র : ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও প্রেস টিভি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৩০টির বেশি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র ‘এমনি এমনি সাজিয়ে’ রাখা হয়নি: পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী
ভারতীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এ খবর দিয়েছে। গত শনিবার হানিফ আব্বাসি আরও বলেন, ‘এসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই তোমাদের (ভারতের) দিকে তাক করা আছে।’
আব্বাসির এমন মন্তব্য দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে ভারত ও পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে দুটি কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে। উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে থাকে। তবে বর্তমানে দুই দেশ এর ভিন্ন ভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ভারত ও পাকিস্তান আরও কয়েকবার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। এর জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হিমালয় অঞ্চলকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
পাকিস্তানের ‘ফুল স্পেকট্রাম ডিটারেন্স’ নামক সামরিক নীতিমালায় প্রচলিত হুমকিকে প্রতিরোধ করতে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের ‘কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিন’-এর নকশা করা হয়েছে দ্রুত হামলা চালানোর কথা মাথায় রেখে। এই বিপরীতমুখী কৌশলগুলোর কারণে যেকোনো সংঘর্ষ দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও লেখক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘জনগণের চাপ, গত সপ্তাহের হামলার ভয়াবহতা এবং প্রতিরোধ শক্তি পুনর্গঠনের ইচ্ছাকে বিবেচনায় নিয়ে দিল্লির দিক থেকে কোনো না কোনো ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হতে পারে। আর যদি তা ঘটে, তাহলে পাকিস্তান নিজেদের দুর্বল দেখাতে চাইবে না। তারা অবশ্যই পাল্টা জবাব দেবে।’
তবে কুগেলম্যান মনে করেন, সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা নেই। ভারত কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও তারা আসলে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসীদের দুর্বল করা এবং প্রতিরোধ শক্তি পুনরুদ্ধার করার মতো সীমিত বিকল্প পথগুলোর কথা ভাবছে।
নয়াদিল্লি অভিযোগ করেছে, পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার সঙ্গে ইসলামাবাদের যোগসূত্র রয়েছে। ভারত এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করলেও তারা বলছে, অতীতে পাকিস্তান ভারতবিরোধী সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়েছিল।
হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা হয়েছে এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
জবাবে ইসলামাবাদও ভারতীয় কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে, ভারতীয়দের ভিসা বাতিল করেছে এবং ভারতীয় বিমান সংস্থার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে।
রয়টার্সকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী: ভারতের হামলা আসন্ন ধরে নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি
কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলার পর পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ভারতের সামরিক আক্রমণ আসন্ন ছিল বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এ কথা বলেছেন তিনি।
সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিজের কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দেন খাজা মুহাম্মদ আসিফ। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বাহিনীগুলোকে নতুনভাবে মোতায়েন করেছি। কারণ, এটা (ভারতের হামলা) এখন আসন্ন। এমন পরিস্থিতিতে কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।’
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারতের বাগাড়ম্বর ক্রমেই বাড়ছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সম্ভাব্য ভারতীয় হামলার বিষয়ে সরকারকে অবহিত করেছে। তবে কেন তিনি ভারতের হামলা আসন্ন বলে মনে করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাঁদের বেশির ভাগ পর্যটক। নয়াদিল্লির অভিযোগ, হামলার সঙ্গে ইসলামাবাদ জড়িত। ইসলামাবাদ তা নাকচ করে দিয়েছে। তবে এরই মধ্যে হামলার জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে করা ৬৫ বছরের পুরোনো সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিতসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পর থেকে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পেহেলগামের হামলার পর ভারত দুজন সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে, যাঁরা পাকিস্তানি বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। কিন্তু হামলার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা বারবার অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে জানিয়ে খাজা আসিফ রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি হুমকি’ এলেই কেবল আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করব।
![]() |
| পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী মোহাম্মদ হানিফ আব্বাসি। ছবি: মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীরে ব্যাপক ধরপাকড়, ভাঙা হচ্ছে বাড়ি: ‘আমার ভাই জড়িত থাকলেও পরিবারের অপরাধ কী’
রোববার রাতের গোলাগুলির বিষয়ে ভারতের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য আগের দিনগুলোর মতোই। তারা জানিয়েছে, কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখায় কোনো উসকানি ছাড়াই গুলি ছোড়েন পাকিস্তানি সেনারা। এরপর ভারত এর পাল্টা জবাব দেয়। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আর আগেই মতোই এদিনও গোলাগুলির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান সরকার বা দেশটির বাহিনী।
এই গোলাগুলি নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি অবস্থান করা বাসিন্দাদের নতুন করে দুর্দশার মধ্যে ফেলেছে। এমনই একজন ভারতের ডাওকে এলাকার বাসিন্দা হরদেব সিং। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মাঠে কৃষিকাজ করতে যেতে পারছি না।’ অন্যদিকে লানজোত এলাকার বাসিন্দা শওকাত আওয়ান বলেন, ‘আমরা এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বড় হয়েছি। আমাদের মধ্যে আর ভয় কাজ করে না।’
কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা নতুন নয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে কাশ্মীরের মালিকানা নিয়ে তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে দুই দেশ। তবে ২২ এপ্রিল পেহেলগামে হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর শুরু হওয়া গোলাগুলি বড় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ, ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে নয়াদিল্লি। যদিও এ অভিযোগ নাকচ করেছে ইসলামাবাদ।
হামলার পর ভিসা বাতিল, সিন্ধু পানিচুক্তি বাতিল, আকাশসীমা বন্ধসহ একরাশ পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের নাম না নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘কঠিন জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আর পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী মোহাম্মদ হানিফ আব্বাসি শনিবার বলেছেন, পাকিস্তানের ১৩০টির বেশি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
পেহেলগাম হামলা ঘিরে এই যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আজ সোমবার পাকিস্তানের কয়েক ডজন ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ করেছে ভারত। অভিযোগ—ওই চ্যানেলগুলো কাশ্মীর হামলা নিয়ে উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করছে। এ ছাড়া ইউটিউবে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন, সামা টিভি, এআরওয়াই নিউজ, বোল নিউজ, রাফতার, জিও নিউজ ও সুনো নিউজের চ্যানেল নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।
২ হাজার আটক
পেহেলগামে হামলায় জড়িত সন্দেহে তিনজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে ভারতীয় পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, এই তিনজন পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর–ই–তাইয়েবার সদস্য। গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় রেখেছে জাতিসংঘ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিলে ২০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত।
হামলার পর ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও পুলিশ। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ভারতের একজন পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাশ্মীরের প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তাঁদের অনেককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরপাকড় ছাড়াও অনেককে থানায় তলব করা হয়েছে।
এদিকে হামলায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় অনেকের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নয়টি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে অনেক পরিবার নিজেদের সহায়–সম্বল হারিয়েছে। আসিফ শেখ নামে সন্দেহভাজন এক তরুণের বোন ইয়াসমিনা বলেন, ‘আমার ভাই যদি জড়িত থাকেও, তাহলে আমার পরিবারের অপরাধ কী?’
সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন কাশ্মীরের রাজনীতিকেরা। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘পেহেলগামের ঘটনার পর অবশ্যই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক লড়াই চালাতে হবে। মূলে আঘাত করতে হবে। কিন্তু তা করতে গিয়ে যেন ভুল পদক্ষেপ না হয়।’ আর ভারতের কেন্দ্রীয় আইনপ্রণেতা আগা রুহুল্লাহ বলেছেন, একটি ঘটনার জন্য সব কাশ্মীরিকে সাজা দেওয়া হচ্ছে।
যোগাযোগ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র
সংকটময় এই পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানকে সংযত থাকার আহ্বান আগেই জানিয়েছিল জাতিসংঘ। আজ একই আহ্বান জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাদের আশা, দুই দেশ সংযত থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়—এমন পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে বেইজিং নিবিড়ভাবে নজর রাখছে বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে জানিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
এদিকে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালায় বলেছে, একটি ‘দায়িত্বশীল সমাধানে’ পৌঁছাতে কাজ করার জন্য দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। আর মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন ভারতের পাশে রয়েছে এবং পেহেলগামে হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’
চীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেন্দ্র করে এশিয়ায় ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন বেশ উষ্ণ। অপর দিকে পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক আগের মতো আর শক্তিশালী নেই। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তখন নিজেদের সন্ত্রাসবিরোধী বয়ানের কথা উল্লেখ করে তাতে বাধা না–ও দিতে পারে ওয়াশিংটন। বিষয়টি ইসলামাবাদের জন্য উদ্বেগের।
তবে আপাতত ভারত–পাকিস্তান সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মাথা ঘামাবে না বলে মনে করেন মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অঙ্গনের নানা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে ওয়াশিংটন। তাই হয়তো ভারত–পাকিস্তান সংকট সমাধানের বিষয়টি দেশ দুটির ওপর ছেড়ে দিতে পারেন ট্রাম্প। অন্তত প্রথম কিছুদিনের জন্য হলেও।
![]() |
| ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলাওয়ামার মুররান গ্রামে সন্দেহভাজন এক সন্ত্রাসীর বাড়ি ভেঙে ফেলার পর ধ্বংসস্তূপের ওপর লোকজন হাঁটছে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিয়ানমারে সংঘাত: মানবিক করিডরের সিদ্ধান্ত হলেও শর্ত নিয়ে চলছে আলোচনা
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র সোমবার প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাংলাদেশ সফরের পর সরকার রাখাইনে মানবিক করিডর দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন জাতিসংঘের সঙ্গে শর্ত চূড়ান্ত করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা রাখাইনের জন্য করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এমন করিডর চালুর সিদ্ধান্তের আগে এ বিষয়ে রাখাইনের বিবদমান পক্ষগুলোর ঐকমত্য থাকা জরুরি। তাদের মধ্যে ঐকমত্য না হলে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হতে পারে। পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তাঝুঁকি। ফলে এমন একটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলসহ দেশের অভ্যন্তরে আলোচনা অপরিহার্য।
প্রসঙ্গত, মানবিক করিডর দেওয়া নিয়ে গত রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এতটুকু আপনাদের বলতে পারি, নীতিগতভাবে আমরা এতে সম্মত। কারণ, এটি একটি হিউম্যানিটেরিয়ান প্যাসেজ (মানবিক সহায়তা সরবরাহের পথ) হবে। কিন্তু আমাদের কিছু শর্ত রয়েছে, সেই বিস্তারিততে যাচ্ছি না। সেই শর্তাবলি যদি পালিত হয়, আমরা অবশ্যই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সহযোগিতা করব।’
চলতি বছরের শুরুতে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে জানায়, রাখাইনের পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে রাজ্যটিতে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, রাখাইনের দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা না গেলে এবার শুধু রোহিঙ্গা নয়, সেখানে বসবাসরত বাকি জনগোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। তাই সেখানকার দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় করিডর করতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাইছে জাতিসংঘ।
গত বছরের অক্টোবরে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে রাখাইনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, রাখাইনে পণ্য প্রবেশের জন্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সীমান্ত বন্ধ রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের আয়ের কোনো উৎস নেই, ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি হয়েছে, অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদনে ধস নেমেছে, জরুরি সেবা এবং সামাজিক সুরক্ষায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ অথবা এপ্রিল মাসের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ করিডরটিকে মানবিক ক্ষেত্রে ত্রাণ পাঠানোর জন্য চিহ্নিত করলেও করিডরটি ঝুঁকিপূর্ণ। আরাকান আর্মিকে কোণঠাসা করতে সব সরবরাহ আটকে দিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এখন বাংলাদেশ হয়ে যে ত্রাণ যাবে, তা রাখাইনের বেসামরিক নাগরিকদের কাছে পৌঁছাবে, নাকি আরাকান আর্মি সেগুলোকে দখলে নেবে, তার নিশ্চয়তা ঢাকার কাছে নেই।
এ অঞ্চল বিশ্বে মাদক, অবৈধ অস্ত্র পাচারসহ নানা আন্তসীমান্ত অপরাধের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। করিডর দিলে মাদক বা অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা থাকবে। এ ছাড়া মিয়ানমারের রাখাইনে বর্তমানে কোনো স্বীকৃত প্রশাসন নেই। ফলে সেখানকার ‘অস্বীকৃত’ কারও সঙ্গে কোনো ধরনের দর-কষাকষির আলাদা ঝুঁকি রয়েছে । সেই সঙ্গে অন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকি তো রয়েছেই। মানবিক করিডর পেতে শুধু বাংলাদেশের ওপর নির্ভর না করে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশেও সম্ভাবনা খোঁজা উচিত জাতিসংঘের।
![]() |
| বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির। ফাইল ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডলারের সিংহাসন কি কেঁপে উঠছে by মরিস অবস্ফেল্ড
দুটি বই-ই ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর প্রকাশিত। ব্লুস্টেইনের বইটি বেরিয়েছিল ট্রাম্পের বিশ্ব অর্থনীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর আগে। রগফ ও আমি ১৯৮৩ সাল থেকে একসঙ্গে গবেষণা করেছি। ব্লুস্টেইন ছিলেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্ট–এর সাংবাদিক।
এমআইটিতে পড়ার সময় আমরা শিখেছিলাম, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই ডলারের আধিপত্য বোঝার জন্য বৈশ্বিক রাজনীতি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক চিন্তায় পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হয়। রগফ ও ব্লুস্টেইনের বই এই বিষয়গুলো সহজ করে ব্যাখ্যা করেছে। ডলার ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস সম্মেলনের মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা ও বাণিজ্যের মাধ্যম হয়ে ওঠে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ডলারের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল।
সে সময় অধিকাংশ দেশ নিজেদের মুদ্রাকে ডলারের সহযোগী হিসেবে দাঁড় করায়। আর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দেয়, চাইলে প্রতি আউন্স সোনার বিনিময়ে তারা ৩৫ ডলার ফেরত দেবে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল অপেক্ষাকৃত স্বাধীন; তবে তাকে বিশ্বব্যবস্থার স্থিতিশীলতার দিকেও খেয়াল রাখতে হতো।
১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধব্যয়, বাজেট–ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপে পড়ে। প্রেসিডেন্ট নিক্সন তখন ডলারে স্বর্ণ বিনিময় বন্ধ করেন এবং আমদানি শুল্ক বসান। ট্রেজারি সেক্রেটারি জন কনলি তখন বলেছিলেন, ‘ডলার আমাদের মুদ্রা, কিন্তু এটা তোমাদের সমস্যা।’ এরপর বড় বড় দেশগুলো নিজেদের মুদ্রাকে জাগিয়ে তুলতে শুরু করে। অনেকেই ভেবেছিলেন, ডলারের আধিপত্য কমবে, কিন্তু তা হয়নি।
ডলার নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও টিকে থেকেছে। ১৯৭০-এর দশকে আইএমএফ বিশেষ ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) চালু করলেও, ডলার বিকল্প হারায়নি। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান পল ভলকারের কঠোর নীতিতে মূল্যস্ফীতি কমে আসে, আর্থিক বাজারের উদারীকরণ হয় এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিশ্বের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে জনপ্রিয় হয়।
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ৮৮ শতাংশে এখনো ডলার বিজড়িত। তবে ডলারের শক্তির ভিত্তি (আইনের শাসন, মুক্তবাজার, মূল্য স্থিতিশীলতা) ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। আমেরিকার আর্থিক অব্যবস্থাপনা এত বেড়েছে যে কংগ্রেসের কাছ থেকে দায়িত্বশীল বাজেট প্রত্যাশা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্লুস্টেইন কিছুটা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু রগফ মনে করেন, ডলারের আধিপত্যের সময় ফুরিয়ে আসছে এবং পতনের মূল কারণ আমেরিকার নিজের ভেতর থেকেই আসছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কমিয়ে দিয়েছে, মিত্রদের আস্থা হারিয়েছে এবং দেশের ভেতর ফেডারেল রিজার্ভ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে। এতে ডলারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী আর্থিক তত্ত্বাবধানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কমে যাচ্ছে। ফেডের ডলার সোয়াপ লাইনের ওপরও আস্থা দুর্বল হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি অতিরিক্ত উদার হলেও ডিজিটাল ডলার বা সিবিডিসি চালুর উদ্যোগ বন্ধ করেছে। এটি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একঘরে করছে।
এপ্রিলের শুরুতে ট্রাম্প যখন ‘মুক্তির দিন’ ঘোষণা করে নতুন শুল্ক আরোপ করেন, তখন মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে যায়, আর ডলার পড়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্কিন সম্পদের ওপর আস্থা কমে যায় এবং শেয়ারবাজারও বড় ধাক্কা খায়।
এই এপ্রিল মাস সত্যিই টি এস এলিয়টের ভাষায় ‘সবচেয়ে নিষ্ঠুর মাস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব মুদ্রাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ডলারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। যদি বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে হয়তো বিশ্ব মুদ্রাব্যবস্থায় ডলারের একক আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে আসছে।
● মরিস অবস্ফেল্ড আইএমএফের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বার্কলে)-এর অর্থনীতির ইমেরিটাস অধ্যাপক
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপে অনূদিত
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে পরীক্ষার মুখে ভারতের সামরিক বাহিনী -নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ
পাকিস্তানের হাতে ২০১৯ সালে একটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় লজ্জায় পড়ে যায় দেশটি। এতে ভারতের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামরিক বাহিনীতে কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেন। অস্ত্র কিনতে নতুন আন্তর্জাতিক মিত্র খুঁজে নেন। দেশীয়ভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ান। এসব প্রচেষ্টায় ঠিক কতটুকু পরিবর্তন এসেছে, হয়তো খুব শিগগিরই তার পরীক্ষা হবে।
ভারত ও পাকিস্তান আবারও একটি সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কারণ, কাশ্মীরে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ভারত। দেশটি বলছে, এর সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা আছে। উত্তেজনা দ্রুতই এতটা বেড়ে গেছে যে, পাকিস্তানের প্রবাহিত কয়েকটি নদীর পানিপ্রবাহ আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ভারত। এমন কঠোর পদক্ষেপ কয়েক দশকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের সময়েও নেওয়া হয়নি।
কাশ্মীরের মনোরম এক উপত্যকায় ২২ এপ্রিল দুই ডজনেরও বেশি পর্যটককে হত্যার ঘটনা ভারতীয়দের স্তম্ভিত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর পাকিস্তানে হামলা চালাতে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক অচলাবস্থার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কারণ, পারমাণবিক শক্তিধর এ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেশ কয়েক বছর আগেই অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো বর্তমানে অন্যান্য সংকট নিয়ে ব্যতিব্যস্ত আছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের সামরিক বাহিনী এখনো আধুনিকায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় দুর্বলতা ফাঁস হওয়ার ভয়ে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযমী হতে পারে ভারত।
২০১৮ সালে এক সংসদীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের ৬৮ শতাংশ সামরিক সরঞ্জাম ‘সেকেলে’, ২৪ শতাংশ এখনকার মানের এবং মাত্র ৮ শতাংশ ‘সর্বাধুনিক’। পাঁচ বছর পর ২০২৩ সালে দেওয়া এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, বিশাল আকারের বাহিনী হওয়ার চ্যালেঞ্জের কারণে পর্যাপ্ত পরিবর্তন আসেনি।
যদিও ২০২৩ সালের সংসদীয় শুনানিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সর্বাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, তবু একটি আধুনিক সেনাবাহিনীর মানের বিবেচনায় এটি অনেক কম। অর্ধেকেরও বেশি সরঞ্জাম এখনো পুরোনোই রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে নরেন্দ্র মোদি তুলনামূলক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন। যেমন, সীমিত পরিসরে বিমান হামলা বা পাকিস্তান সীমান্তের কাছে বিশেষ বাহিনীর অভিযান। এসব অভিযান জনরোষ প্রশমিত করবে, সম্ভাব্য বিব্রতকর ভুলের ঝুঁকি কমাবে এবং প্রতিশোধমূলক হামলা এড়াতে কাজে আসবে। এদিকে পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, ভারত হামলা করলে তারাও একই ধরনের জবাব দেবে।
পাকিস্তানে হামলা চালাতে জনমত নরেন্দ্র মোদির জন্য সহায়ক হলেও, ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো একই সঙ্গে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।
পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়াল থেকে সেনাবাহিনী দেশ পরিচালনা করে আসছে। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে দেশটির নেতৃত্ব তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাবে। তারা সংঘাত বাড়তে দিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আরও সুবিধা নিতে পারে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে খুব সহজেই প্রতিহত করতে পারবে বলে ভারত আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এ দাবির যদি পরীক্ষা নেওয়া হয়, তাহলে ভারতের আরেক প্রতিবেশী চীন তাতে নিবিড় নজর রাখবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে পাকিস্তানের চেয়ে চীনকে বড় সংকট হিসেবে বিবেচনা করছে ভারত। বিশেষ করে ২০২০ সালে হিমালয়ের উঁচু এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনাদের বারবার অনুপ্রবেশের পর থেকে এ অবস্থা তৈরি হয়। ফলে দেশটির সামরিক নেতৃত্বকে দুই ফ্রন্টে লড়তে হবে এমন এক যুদ্ধের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এ ধরনের বহুমুখী চাপ তাদের সামর্থ্যকে ভাগ করে ফেলে।
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া থেকে শিক্ষা নেয় ভারত
২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সংঘাতের এক বছরের একটু বেশি সময় আগে পাকিস্তান ভারতীয় একটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে এবং এর পাইলটকে আটক করে। নয়াদিল্লিভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজের’ নেতৃত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় জেনারেল দুষ্যন্ত সিং বলেন, বিমান ভূপাতিতের ঘটনা ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জন্য সজাগ হওয়ার বার্তা হিসেবে আসে।
দুষ্যন্ত সিং বলেন, এরপর থেকে ভারত নিজেদের সামরিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য ‘বিভিন্ন পথ’ অনুসন্ধান করেছে। দেশটি আমেরিকার আপত্তির পরেও রাশিয়ার কাছ থেকে সংগ্রহ করা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি ফ্রান্স থেকে কয়েকজন ডজন যুদ্ধবিমান এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছে।
বৈশ্বিকভাবে যখন সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তখন ভারত স্থানীয়ভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনেও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে, প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। এখন কিছুটা ধীরগতিতে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে সামরিক বাহিনীকে এটি আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে।
দুষ্যন্ত সিং বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা এমন হওয়া দরকার যেন তা বিদ্যমান সামর্থ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।’ আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রাতারাতি এ উদ্যোগগুলোর ফল আসবে না। এতে কিছুটা সময় লাগবে।’
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ভারতের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণে চ্যালেঞ্জগুলো বহুমুখী— প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক এমনকি ভূরাজনৈতিকও।
প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তবে বাহিনীগুলোর মধ্যে কর্তৃত্বের লড়াই থাকায় এ কাজ কঠিন বলেই প্রমাণিত হয়েছে। মোদি সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন শীর্ষ পর্যায়ের এক জেনারেলকে, যিনি ২০২১ সালে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হলে এ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
ভারতের অর্থনীতি এখন বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তম অবস্থানে আছে, পাকিস্তানের চেয়ে প্রায় দশগুণ বড়। ফলে ভারত সামরিক খাতে বরাদ্দের জন্য এখন আরও বেশি সম্পদ ব্যয় করতে পারছে। কিন্তু দেশটির বিপুল জনসংখ্যা ব্যাপক চাহিদা পূরণে সরকারকে নজর দিতে হচ্ছে বলে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) ২ শতাংশেরও কম। বিশেষজ্ঞদের মতে এটা অপর্যাপ্ত।
২০২০ সালে সংঘর্ষের পরে চীন সীমান্তে চার বছর ধরে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রাখার ব্যয়বহুল উদ্যোগ ভারতের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেয়। আরেকটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ। এটি ভারতের সবচেয়ে বড় উৎস রাশিয়া থেকে অস্ত্র সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সংসদে দেওয়া দাপ্তরিক নথিতে দেখা গেছে, অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সামরিক বাহিনী তা ব্যয় করতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ ‘বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির’ কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ক্রয়াদেশ অনুযায়ী সামরিক সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এ ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে ভারত সবার আগে বড় ঘাটতিগুলো পূরণের চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি গোপন অভিযানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান থেকে নিয়ন্ত্রিত ভারতবিরোধী জঙ্গিদের হত্যা করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়েছে।
অস্ত্র আমদানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় ভারত
গত পাঁচ বছর ধরে সামরিক সরঞ্জাম আমদানিতে ইউক্রেনের পরেই ভারত দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। এদিকে পাকিস্তান ছিল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম আমদানিকারকের স্থানে।
রাশিয়া এখনো ভারতের অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী হলেও গত পাঁচ বছরে তাদের কাছ থেকে কেনা অস্ত্রের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ কমে এসেছে। অস্ত্র কিনতে ভারত ক্রমেই ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তারা রাশিয়া থেকে কেনা পাঁচটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে তিনটি মোতায়েন করেছে। ফ্রান্স থেকে কেনা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের সবগুলো বিমানবাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৬টি কেনার পরিকল্পনা করছে। ভারত এখন দেশীয়ভাবে নির্মিত অনেকগুলো যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করছে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা মনে করেন, ‘সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো রাফাল যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তি। এগুলো ভারতীয় বাহিনীর সক্ষমতায় বড় উন্নতি সাধন করেছে।’
শুক্লা বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই নতুন সামরিক সরঞ্জাম দক্ষতার সঙ্গে মোতায়েন করা যা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ‘কার্যকর প্রতিরোধ’ গড়ে তুলবে।
এই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বলেন, ‘আমি নিশ্চিত হতে চাই যে আমরা যেন আত্মপ্রবঞ্চনার মধ্যে না থাকি। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, আমাদের সামরিক সরঞ্জাম থাকলেও, চূড়ান্ত মুহূর্তে যখন সেগুলোর ব্যবহার প্রয়োজন হবে, তখন (দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে না পারায়) দেখা গেল প্রকৃতপক্ষে সেগুলো আমাদের নেই।’
![]() |
| পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলার পর শ্রীনগরের একটি বাজার এলাকায় টহল দেন ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আজ সোমবার কাশ্মীরে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের সেনাবাহিনী যুদ্ধের জন্য কতটা সক্ষম by মুজিব মাশাল ও সুহাসিনী রাজ
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলতেই থাকে। শেষবার যখন তা সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে রূপ নিয়েছিল, তখন ভারতীয় কর্মকর্তারা এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। আর তা হলো দেশের বিশাল সেনাবাহিনী ছিল পুরোনো ও সীমান্তের তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।
২০১৯ সালে পাকিস্তানের হাতে একটি ভারতীয় জেট ভূপাতিত হওয়ার অপমান ভারতের সামরিক শক্তির আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টায় গতি এনে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেনাবাহিনীতে কোটি কোটি ডলার ঢালেন। অস্ত্র কেনার জন্য নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদার খুঁজে বের করেন। সেই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
এসব প্রচেষ্টা আদৌ কতটা ফল দিয়েছে, তা হয়তো খুব শিগগির পরীক্ষা হয়ে যেতে পারে।
ভারত ও পাকিস্তান আবারও একটি সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। কাশ্মীরে প্রাণঘাতী একটি সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। আর এই হামলার জন্য তারা পাকিস্তান সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করেছে। উত্তেজনা বেড়ে এমন জায়গায় গেছে যে ভারত পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত একটি প্রধান নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এর আগে দুই দেশের একাধিক যুদ্ধের সময়েও তা কখনো করা হয়নি।
পাকিস্তান কাশ্মীর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেই সঙ্গে এই পানিপ্রবাহ বন্ধের সিদ্ধান্তকে তারা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ভারতীয় কাশ্মীরের পেহেলগামে ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ায় ভারতবাসী হতবাক হয়ে গেছেন। পাকিস্তানের ওপর আঘাত হানতে মোদি অভূতপূর্ব অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়েছেন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংযোগ বহু আগেই স্তিমিত হয়ে গেছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলো বর্তমানে অন্য সব সংকট নিয়ে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সামরিক বাহিনী এখনো রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি মোদিকে সংযত থাকতে বাধ্য করতে পারে।
২০১৮ সালে একটি সংসদীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভারতের সেনাবাহিনীর ৬৮ শতাংশ সরঞ্জাম ছিল ‘প্রাচীন’, ২৪ শতাংশ বর্তমান সময়ের জন্য মানানসই এবং মাত্র ৮ শতাংশ ছিল সর্বাধুনিক। পাঁচ বছর পর, ২০২৩ সালের একটি হালনাগাদে সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, চ্যালেঞ্জের বিশালতার কারণে অবস্থার যথেষ্ট পরিবর্তন আসেনি।
সংসদীয় সাক্ষ্যমতে, সর্বাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের অনুপাত প্রায় দ্বিগুণ হলেও তা এখনো আধুনিক সেনাবাহিনীর চাহিদার তুলনায় অনেক কম। অধিকন্তু, অর্ধেকের বেশি সরঞ্জাম এখনো পুরোনো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই সীমাবদ্ধতার কারণে মোদি হয়তো আরও সীমিত ধরনের হামলার মধ্যে সীমিত থাকবেন। যেমন সীমান্তের কাছাকাছি ছোটখাটো বিমান হামলা বা বিশেষ বাহিনীর অভিযান। এতে জনরোষ প্রশমিত হবে, বিব্রতকর দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাবে আবার পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও খুব বেশি হবে না। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই যেকোনো ভারতীয় হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
জনগণের আবেগ মোদিকে পাকিস্তানের ওপর আঘাত হানতে উদ্বুদ্ধ করলেও, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই আবার তাকে চাপ দিতে পারে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।
অন্যদিকে পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নেপথ্যে থেকে দেশ চালিয়ে এসেছে। তারা সম্ভবত রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে দিয়েই এই সংঘাতকে বাড়তে দেবে। এর ফলে সেনাবাহিনী দেশের ভেতরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারবে।
ভারত নিজেদের এমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাজির করছে, দেখাতে চাইছে যে তারা সহজেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করতে পারবে। যদি এই দাবির সত্যতা পরীক্ষার মুখে পড়ে, তাহলে আরেক প্রতিবেশী চীনও তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
ভারত গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের তুলনায় চীনকে সীমান্তের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে হিমালয়ে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর। তা ছাড়া চীন বারবার ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশেও করছে।
এর মানে, ভারতের সামরিক নেতাদের এখন পাকিস্তান ও চীন—এই দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এর ফলে সরবরাহ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে উঠবে।
২০১৯ সালে পাকিস্তানের হাতে একটি ভারতীয় জেট ভূপাতিত হয়। ঘটনার এক বছরের কম সময় পর ২০২০ সালে ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় জেনারেল এবং দিল্লিভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজের প্রধান দুষ্যন্ত সিং বলেন, সেই জেট ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ভারতের জন্য একপ্রকার সতর্কবার্তা ছিল।
দুষ্যন্ত সিং বলেন, এর পর থেকে ভারত নিজেদের সামরিক ঘাটতি পূরণের জন্য বিভিন্ন পথ অনুসন্ধান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে নতুন মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফ্রান্স থেকে ডজন ডজন যুদ্ধবিমান আনা হয়েছে। কেনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও মিসাইল।
বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়ায় ভারত নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনেও প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। এই উদ্যোগ এখনো ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর জন্য তা মজবুত ভিত্তি গড়ে দেবে।
দুষ্যন্ত সিং বলেন, ‘এই আধুনিকীকরণের ফলাফল রাতারাতি আসবে না। এতে সময় লাগবে।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের সামরিক আধুনিকীকরণের চ্যালেঞ্জ বহুস্তরীয়—প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিকও।
মোদি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করেছেন। চেষ্টা করছেন বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া মোদি যে গুরুত্বপূর্ণ জেনারেলকে সেনাবাহিনীর পুনর্গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তিনি ২০২১ সালে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এতে কাজ আরও জটিল হয়ে পড়ে।
ভারতের অর্থনীতি এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম। পাকিস্তানের অর্থনীতির প্রায় ১০ গুণ বেশি। ফলে সামরিক বাহিনীর জন্য টাকা কোনো সমস্যা নয়। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশের কম। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তা যথেষ্ট নয়। সরকারকে দেশের বিশাল জনগণের অন্যান্য প্রয়োজনীয়তার দিকেও মনোযোগ দিতে হচ্ছে।
২০২০ সালের চীনের সঙ্গে সংঘাতের পর চার বছরের জন্য ভারতকে সীমান্তে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রাখতে হয়েছে। এর ফলে আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। আরেকটি বড় বাধা ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী রাশিয়া থেকে অস্ত্র আসা বিলম্বিত করেছে।
সরকারি সংসদীয় সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্ডারগুলো আটকে ছিল।
এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে ভারত সবচেয়ে জরুরি ঘাটতিগুলো পূরণের দিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন। পাশাপাশি, গোপন অভিযান বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানভিত্তিক বহু ভারতবিরোধী জঙ্গিকে টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।
গত পাঁচ বছরে ইউক্রেনের পর ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক। পাকিস্তান ছিল পঞ্চম স্থানে।
রাশিয়া এখনো ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী। কিন্তু গত পাঁচ বছরে ভারতের রাশিয়া থেকে কেনাকাটা প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। ভারত এখন বেশি করে ঝুঁকছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে রাশিয়া থেকে কেনা পাঁচটি এস-৪০০ মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে তিনটি মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে এই মিসাইল কেনায় কড়া আপত্তি জানিয়েছিল।
ফ্রান্স থেকে কেনা ৩৬টি রাফালে যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। আরও ২৬টি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত নিজস্বভাবে তৈরি প্রচুরসংখ্যক যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করছে।
নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা বলেন, রাফালের বিমান সংযুক্ত করাটা ভারতীয় বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে শুক্লা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চ্যালেঞ্জ হলো এসব নতুন অস্ত্রব্যবস্থা এমন দক্ষতায় ব্যবহার করা, যাতে তা প্রতিপক্ষের কাছে ‘কার্যকর প্রতিরোধ’ হিসেবে প্রমাণিত হয়।
শুক্লা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত হতে চাই, যেন আমরা নিজেদের ধোঁকা না দিই।...ভয় হলো, যদি অস্ত্রব্যবস্থা থাকেও, শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনের সময় দেখা গেল যে আমাদের কাছে তা আসলে নেই।’
মুজিব মাশাল দ্য টাইমসের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো চিফ
সুহাসিনী রাজ নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক
নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ জাভেদ হুসেন
| কাশ্মীরের একটি গ্রামের প্রবেশমুখ, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতি থেকে ‘পরিবারতন্ত্র’ উচ্ছেদ করা কতটা সম্ভব? by মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার
আমি যখন অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়েছিলাম, তখন মেলবোর্ন শহরের বাইরে একটু গ্রামীণ পরিবেশে একটি বাসায় ভাড়া থাকতাম। সেই বাসার মালিক ছিলেন বেশ ধনী একজন লোক; তাঁর সম্ভবত ৮ থেকে ১০টি বাড়ি ছিল। তাঁর একটাই মেয়ে ছিল, যাকে তিনি তখনই তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে একটি বাড়ি দিয়েছিলেন।
একদিন আমি ‘বাঙালি স্বভাব’ অনুযায়ী লোকটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘আপনি কি আপনার সব সম্পত্তি মেয়েকে দিয়ে যাবেন?’ তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘না, সব দেব না। আমাদের দেশে এটা ঠিক নয়। এখানে সন্তানেরা নিজেরাই গড়ে ওঠে। সরকার আর সমাজ তাদের পাশে থাকে। তাই সবকিছু সন্তানের নামে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এরপরও কেউ যদি নিজের সব সম্পদ সন্তানদের দিতে চায়, তখন আমরা তাকে নেতিবাচকভাবে দেখি।’
এমন দৃষ্টিভঙ্গি শুধু অস্ট্রেলিয়ার নয়, আমেরিকা–ইউরোপেও দেখা যায়। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, ইলন মাস্কদের মতো ধনী ব্যক্তিরাও ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁদের সম্পদের বড় অংশ ‘জনকল্যাণে’ দান করবেন। কারণ, তাঁদের বিশ্বাস, বেশি সম্পত্তি সন্তানের দায়িত্ববোধ নষ্ট করে দেয়।
এসব দেশ বৃদ্ধদের পেনশন, চিকিৎসা দেয়; বেকারদের ভাতা দেয়। তাই বাবা-মায়েদের সন্তাননির্ভর হয়ে থাকতে হয় না। এই চিন্তাভাবনা এক দিনে আসেনি। সমাজকাঠামো আর রাষ্ট্রের ভূমিকা পাল্টে যাওয়ার মধ্য দিয়েই এসব পরিবর্তন এসেছে।
এ অভিজ্ঞতা আমাকে ভাবতে বাধ্য করল, বাংলাদেশে তো পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। আমাদের সমাজে পরিবার মানে শুধু আত্মীয়তা নয়, এটি জীবনের নিরাপত্তা, আশ্রয় ও শেষ ভরসার জায়গা। বাবা-মায়েরা তাঁদের জমি, টাকাপয়সা, সঞ্চয়—সবকিছু সন্তানের হাতে তুলে দেন। তাঁরা মনে করেন, সন্তানই তাঁদের বার্ধক্যের শেষ ভরসা, চিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদার ভিত্তি। ফলে সন্তানদের যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়া ও পরবর্তী সময়ে তাদেরই সব সম্পদ দিয়ে দেওয়া আমাদের সমাজে একধরনের ‘নিয়ম’ হয়ে গেছে।
পরিবার, অভ্যাস ও সামাজিক পুঁজি
এই পরিবারনির্ভরতা কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই, এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব আমাদের সমাজকাঠামো ও ক্ষমতার বিন্যাসেও পড়েছে। বিষয়টি বুঝতে আমরা ফরাসি সমাজতাত্ত্বিক পিয়েরে বোর্দিওর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ‘হেবিটাস’ ও ‘সোশ্যাল ক্যাপিটাল’ প্রসঙ্গিকভাবে ব্যবহার করতে পারি।
হ্যাবিটাস বলতে বোঝায় এমন একধরনের স্বভাব বা মানসিকতা, যা গড়ে ওঠে পরিবার, সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাবে। আমরা কীভাবে চিন্তা করি, স্বপ্ন দেখি বা সিদ্ধান্ত নিই, সবই এ অভ্যাসের অংশ। মাইক্রোফিনান্স অ্যান্ড ইটস ডিসকনটেন্ট: উইমেন ডেবট ইন বাংলাদেশ বইয়ে লামিয়া করিম দেখিয়েছেন, কীভাবে গ্রামের নারীরা পরিবার ও সমাজের চাপে এমনভাবে গড়ে ওঠে, যেখানে তারা নিজের কথা বলার সুযোগই পায় না। এ অভ্যাসই তাদের আত্মবিশ্বাস বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে আটকে রাখে।
অন্যদিকে সোশ্যাল ক্যাপিটাল হলো এমন একধরনের শক্তি, যা আমরা সামাজিক সম্পর্ক, পরিচিতি ও যোগাযোগের মাধ্যমে অর্জন করি। ‘মাইগ্রেশন এজ আ লিভিংহুড স্ট্র্যাটেজি অব দ্য পুওর’ গবেষণায় এ ধারণা ব্যবহার করেছেন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি দেখিয়েছেন, বিদেশে থাকা আত্মীয়ের মাধ্যমে অনেকেই সহজে অভিবাসন করতে পারে, যেটা অন্যদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে একটি পরিবার অভিবাসনের অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ আর মানসিকতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তর করে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, পরিবারে কীভাবে হ্যাবিটাস ও সোশ্যাল ক্যাপিটাল একসঙ্গে কাজ করে।
‘ইয়ুথ, পভার্টি অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট’ গবেষণায় প্রায় একই রকমই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, অনেক তরুণের চাকরি পাওয়া বা সুযোগ তৈরি হওয়া নির্ভর করে কে তার চাচা বা মামা, অর্থাৎ তার পরিচিতি বা সম্পর্ক কেমন, সে বিষয়ের ওপর। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটাই সোশ্যাল ক্যাপিটালের একটি বাস্তব রূপ।
বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, সেখানে পরিবারই হয়ে ওঠে নিরাপত্তা, উপায় ও স্বীকৃতির প্রধান উৎস। এই পারিবারিক অভ্যাস ও সম্পর্কের শক্তি যখন রাজনীতির ভেতর ঢুকে পড়ে, তখন সেটাকে অভিহিত করা হয় ‘পরিবারতন্ত্র’ বলে।
রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রকে শুধু কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমস্যা বললে ভুল হবে। এটি আমাদের সামাজিক কাঠামোরই একটি বহিঃপ্রকাশ, যেখানে মানুষ পরিবারকে জীবনের ভরসা হিসেবে দেখে এবং সেই ভরসা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।
রাজনীতির বাইরেও পরিবারতন্ত্র
পারিবারিক প্রভাব বা ‘আধিপত্য’ কেবল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে সীমাবদ্ধ থাকে না; বাংলাদেশে ব্যবসা, শিক্ষা ও উন্নয়ন খাতেও এর স্পষ্ট প্রভাব দেখা যায়। অনেক এনজিও (বেসরকারি সংস্থা), এমনকি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় পরিবারভিত্তিক বোর্ড দ্বারা, যেখানে সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরাই।
এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দক্ষতার চেয়ে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে যোগ্যতা নয়, আত্মীয়তাই হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মূল মাপকাঠি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও একই প্রবণতা লক্ষণীয়; পারিবারিক মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোয় পেশাদার ব্যবস্থাপনার চেয়ে পরিবারভিত্তিক সিদ্ধান্ত বেশি গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশে পরিবারতন্ত্রের গভীর শিকড় কেবল রাজনীতি বা অর্থনীতিতে নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চার মধ্যেও গেঁথে আছে। উপমহাদেশের সুলতানি, মোগল বা নবাবি আমলে নেতৃত্ব ছিল সম্পূর্ণরূপে বংশানুক্রমিক ও পরিবারকেন্দ্রিক। সেই আমলে শাসকের সন্তান বা আত্মীয়রাই নেতৃত্বে আসার অধিকার দাবি করতেন।
এ ধরনের শাসনব্যবস্থা আমাদের সমাজে নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ধারণাকে এমনভাবে গঠন করেছে, যেখানে পরিবার মানেই নেতৃত্বের বৈধতা; রক্তের সম্পর্ক মানেই অধিকার। এসব ধারণা এখনো আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
এ মনস্তত্ত্ব ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চর্চার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের দেশে বহু স্থানে পীর-মাজার সংস্কৃতি প্রচলিত। এসব ক্ষেত্রে একজন পীরের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে বা পরিবারের সদস্যরাই পীরের আসনে বসেন এবং অনুসারীরা তা মেনে নেন।
এগুলো কোনো ধর্মীয় বিধান নয়, বরং একটি সামাজিক রীতি বা সাংস্কৃতিক অনুশীলন যা আমাদের পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের মানসিকতা ও স্বীকৃতির দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে। এমন রীতি বা চর্চা সমাজে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সেটি সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা অবলম্বন করে। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের মানসিক গঠন এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যেখানে নেতৃত্ব মানেই পারিবারিক উত্তরাধিকার।
পরিবারতন্ত্র: একটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা
পরিবারতন্ত্র কেবল দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সমস্যা নয়; বরং এটি একটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যমান। যদিও এর রূপ, পরিসর ও প্রভাব দেশের সামাজিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে, তবু সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিবারগুলোর ক্ষমতায় থাকার প্রবণতা অনেক দেশের রাজনৈতিক জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বুশ, কেনেডি ও ক্লিনটন পরিবারের মতো প্রভাবশালী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মূল স্রোতে সক্রিয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে সম্প্রতি রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনের জন্য প্রতিনিধি হিসেবে বাছাই করা হয়েছিল, যদিও পরে তিনি নিজেই সরে দাঁড়ান। অনেকের মতে, তাঁকে ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক দায়িত্বের জন্য তৈরি করা হতে পারে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাঁর বাবা পিয়েরে ট্রুডোর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন। ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামের রাজনীতিতেও পরিবারতন্ত্রের উপস্থিতি দেখা যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সংসদ সদস্যদের প্রায় ১০ শতাংশের বাবা বা মা আগে সংসদ সদস্য ছিলেন। এটা ‘রাজনৈতিক উত্তরাধিকার’ ধারণার প্রমাণ বহন করে। যদিও ইউরোপে এ ধরনের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম, তারপরও এটি একেবারে অনুপস্থিত নয় (দ্য ব্রাসেলস টাইমস, ২০২০)।
জাপানে পরিবারতন্ত্রের একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক পরিবারগুলো ‘জিবান’ (স্থানীয় ভিত্তি), ‘কানবান’ (পরিবারের নাম ও খ্যাতি) এবং ‘কাবান’ (অর্থনৈতিক সহায়তা) নামের তিনটি মূলধনের ওপর নির্ভর করে। জাপানের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের প্রায় ৩০ শতাংশ সদস্যই উত্তরাধিকারসূত্রে রাজনীতিতে এসেছেন; আর শাসক দল এলডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ সদস্যই কোনো না কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান (দ্য ডিপ্লোম্যাট, ২০১৭ এবং ইস্ট এশিয়া ফোরাম, ২০২৩)।
লক্ষণীয় হলো, এসব দেশ শক্তিশালী নির্বাচনব্যবস্থা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সক্রিয় নাগরিক সমাজ এ ধরনের পরিবারতান্ত্রিক প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে; পরিবারতন্ত্র থাকলেও সেটি একচ্ছত্র ক্ষমতায় রূপ নেয় না।
আমার এই লেখার মূল বক্তব্য হচ্ছে, পরিবারতন্ত্র শুধু একটা দলের সমস্যা নয়, এটা আমাদের সমাজের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার অংশ। প্রয়াত ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন একাধিক টক শো ও পত্রিকায় বলেছিলেন, পারিবারিক রাজনীতি আসলে আমাদের সমাজের রাজনৈতিক দলবদ্ধতার প্রতিচ্ছবি। তাঁর মতে, যদি জনগণ একে মেনে নেয়, তাহলে সেটাও একধরণের গণতন্ত্রের প্রকাশ হতে পারে (চ্যানেল আই টক শো)।
অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী রীয়াজ বাংলাদেশ: আ পলিটিক্যাল হিস্ট্রি সিন্স ইনডিপেনডেন্স বইয়ে দেখিয়েছেন, কীভাবে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি ধীরে ধীরে গণতন্ত্রকে ক্ষয় করে। তিনি এটাও বলেছেন, এ সমস্যা আসলে সমাজ থেকেই আসে; দলীয় আনুগত্য, পৃষ্ঠপোষকতা ও নেতাকে নিয়ে ‘নায়কতান্ত্রিক’ সংস্কৃতিই এর মূল শিকড়।
দ্য পলিটিকস অব দ্য গভর্নড বইয়ে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে জনগণ অনেক সময় নেতাকে পরিবারের একজন বড় মানুষের মতো ভাবেন, যিনি সুরক্ষা দেন, সিদ্ধান্ত নেন এবং যাঁর প্রতি ভক্তি তৈরি হয়। ফলে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নয়, সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায় প্রধান মানদণ্ড।
এ রকম বাস্তবতায় ‘রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক’ কেবল একটি স্লোগান হয়েই থাকবে, যদি না আমরা বুঝতে পারি এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও কাঠামোগত বাস্তবতার প্রতিফলন। তবে এর মানে এই নয় যে কোনো রাজনৈতিক পরিবার থেকে কেউ রাজনীতিতে এলে তাঁকে অগ্রাহ্য করতে হবে।
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, সেই ব্যক্তি কি যোগ্য? তিনি কি সংগঠক হিসেবে দক্ষ? জনগণ কি তার ওপর আস্থা রাখে? যদি এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক হয়, তবে তাঁকে বাধা না দিয়ে আমাদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে; যেখানে থাকবে জবাবদিহি, অংশগ্রহণ ও কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
পরিবারতন্ত্রকে শুধু ক্ষমতাধর পরিবারের সমস্যা হিসেবে না দেখে সমাজকাঠামোর অন্তর্নিহিত রূপ হিসেবে বোঝা জরুরি। কেবল স্লোগান, ক্ষোভ, আবেগ কিংবা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন আসবে না। পরিবর্তন আসতে পারে শিক্ষা, বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও নাগরিক সচেতনতার মধ্য দিয়ে; ধাপে ধাপে, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এগুলো করতে হবে।
●মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আদালতে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে চড়-থাপ্পড়
এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ প্রিয়জন ভ্যান ঘিরে রাখেন। তখন ভ্যানের চারপাশে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সাবেক আইনমন্ত্রীর ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় আনিসুল হককে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. কাইউম খান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া সোলাইমান হত্যা মামলায় আনিসুল হককে চারদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ৫ই আগস্ট দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর গুলিবিদ্ধ হন ১৯ বছর বয়সী হাফেজ সোলাইমান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২২শে আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন নিহত সোলাইমানের ভগ্নিপতি শামীম কবির। মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, মন্ত্রী দিপু মনি, আনিসুল হক, ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ৫১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, গত বছরের ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পণ্ড করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেন। ওই সময় আনিসুল হকের নির্দেশ পেয়ে আসামিরা সড়কে অবস্থানরত ছাত্র-জনতার ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতির সৃষ্টি ও হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। তখন মাদ্রাসাছাত্র সোলাইমান গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাইক-গাড়িতে ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী by শুভ্র দেব ও ফাহিমা আক্তার সুমি
শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকার গ্রিনল্যান্ড টাওয়ারের সামনে প্রাইভেটকারের জানালা খুলে এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগসহ ওই নারীকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশে শাড়ি পরা ওই নারী দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার হাতে ছিল একটি ভ্যানিটি ব্যাগ, পাশে একটি ট্রলি ব্যাগ। গাজীপুরে একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। হঠাৎ সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার এসে থামে তার সামনে। ঠিক তখনি সাদা প্রাইভেটকারের জানালা খুলে এক ব্যক্তি ঝাঁপিয়ে পড়ে নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে। কিন্তু ব্যাগ না ছাড়ায় মুহূর্তেই রাস্তায় পড়ে যান ওই নারী। ব্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তাকেও টেনে নিয়ে যেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের গাড়ি চলে যায়।
রাস্তায় পড়ে আর্ত চিৎকার করছিলেন ওই নারী। তার চিৎকারে আশপাশে থাকা লোকজন ওই নারীকে উদ্ধারে ছুটে আসেন। ব্যস্ত সড়কে এই ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ওই নারী গুরুতর শারীরিক আঘাত পেয়েছেন। তার অবস্থা সংকটমুক্ত হলেও মানসিকভাবে চরম আঘাত পেয়েছেন। রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় ইস্ট-ওয়েস্ট স্কুলের পাশের গলিতে ১৮ই এপ্রিল ভোররাতে চাপাতি ঠেকিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে রুপার চেইন ও ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। মোটরসাইকেলে করে ওই ছিনতাইকারী ছিনতাই করে চলে যায়। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র ছড়ানোর পর পুলিশ তৎপর হয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৫১টি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮২ শতাংশ বেশি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১লা জানুয়ারি থেকে ৮ই মার্চ পর্যন্ত রাজধানীতে ছিনতাইয়ের (দস্যুতা) ৩২০টি মামলায় ৮৫২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চ পর্যন্ত আড়াই মাসে রাজধানীতে ছিনতাই, ডাকাতি ও দস্যুতার মামলায় গ্রেপ্তার অন্তত ১৫০ জন জামিন পেয়েছেন।
গত ২১শে এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ‘ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে’ মো. আরমান হোসেন (২২) নামের এক তরুণ নিহত হন। পরিবারের দাবি, ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। আদালত সূত্র জানায়, এর আগে গত আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজধানীতে ছিনতাইকারীর হাতে সাতজন খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল বাজার এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কাউসার (২৫) নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি একটি মশার কয়েল স্ট্যান্ডের কারখানায় কাজ করতেন।
ছিনতাইয়ের ৪৩২ হটস্পট: একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় ছিনতাইয়ের হটস্পটের সংখ্যা ৩৪২টি। এগুলোর মধ্যে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় আছে ১০৮টি স্পট। শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল এবং হাতিরঝিল থানা এলাকায় ২৫ স্পট। বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় রয়েছে ৯৫টি হটস্পট। গুলশান ও উত্তরা বিভাগে আছে ৯৪টি এবং মতিঝিল বিভাগে-৩০, ওয়ারীতে-৩৫, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ৪৫টি হটস্পট। এসব স্পটে ছিনতাইয়ে সক্রিয় রয়েছে প্রায় ১২শ’ অপরাধী। এর মধ্যে মতিঝিল বিভাগ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ২১২ জন, মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে সক্রিয় ৩৮৬, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২১৭, উত্তরা এবং গুলশান বিভাগে ১৫৪, মোহাম্মদপুর থানার আওতাধীন এলাকায় ২০৫ জন ছিনতাইকারী সক্রিয়ভাবে জড়িত।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন মো. নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা খুবই কম। একটা-দু’টা ঘটছে সেগুলো আসামি ধরা পড়ছে। শেওড়াপাড়ার ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। সিদ্ধেশ্বরীর ঘটনায় গাড়ি পাওয়া গেছে। মালিকানা কার নামে সেটি বের করার কাজ চলছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘটনা বাড়লেও র্যাব আগে থেকেই সতর্ক। র্যাব’র ঢাকার ৫টি ব্যাটালিয়নের টহল টিম সার্বক্ষণিক রাস্তায় থাকে। প্রত্যেকটা ব্যাটালিয়নের অধীনে ৪টা করে টহল টিম শিডিউল করে দায়িত্ব পালন করে। মোহাম্মদপুর, বছিলা, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইকারীদের হাতেনাতে ধরেছি। তিনি বলেন, আমরা সবসময় ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রতিহত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তবুও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। সিদ্ধেশ্বরীর ঘটনায়ও আমরা ছায়া তদন্ত করছি।
সিদ্ধেশ্বরীর ঘটনার সময় ওই ভবনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি ঘটনার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি এমন ঘটনা। তখন রাস্তাঘাটে তেমন মানুষ ছিল না। তার শুধুমাত্র একটা চিৎকার শুনতে পাই- এসময় আমিও পেছন পেছন ছুটতে থাকি। বেশ কিছুদূরে এভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। পরে আমরা সবাই এগিয়ে যাই। এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এদের ঠেকাবে কে? কিছুদিন আগে আমার নিজেরই ক্যামেরা নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা।
ঘটনাস্থলে থাকা সিদ্ধেশ্বরী কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ঘটনাটি যেভাবে ঘটতে দেখেছি ওই নারী তো মারাও যেতে পারতেন। আমরা কেউ রাস্তায় নিরাপদ না। ভিডিওটি দেখে এখনো ভয় কাটছে না, যেকোনো সময় আমাদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পেহেলগাম হামলার 'দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের' আহ্বান চীনের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দার কাশ্মীর অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সম্পর্কে ওয়াংকে (যিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্যও) অবহিত করেন। তার পক্ষ থেকে ওয়াং বলেন যে, চীন ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সমগ্র বিশ্বের একটি যৌথ দায়িত্ব। পাকিস্তানের দৃঢ় সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টার প্রতি বেইজিংয়ের ধারাবাহিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রতিবেদনে ওয়াংকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, একজন দৃঢ় বন্ধু এবং সর্বকালের কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে চীন পাকিস্তানের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগগুলো সম্পূর্ণরূপে বোঝে এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষাকে সমর্থন করে।'
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, ‘বেইজিং দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের পক্ষে এবং বিশ্বাস করে যে সংঘাত ভারত বা পাকিস্তান কারোরই মৌলিক স্বার্থ পূরণ করে না। এমনকি এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও উপকারী নয়।’
তিনি আরও বলেন, চীন আশা করে যে উভয়পক্ষই সংযত থাকবে এবং উত্তেজনা কমাতে একসাথে কাজ করবে।
সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, দার জোর দিয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে এবং দৃঢ়ভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। চীন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে পাকিস্তান যোগাযোগ বজায় রেখে চলবে। ২৩শে এপ্রিল, চীন জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে, যেখানে ২৬ জন নিহত হয়েছিল। যাদের বেশিরভাগই পর্যটক ছিলেন।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। চীন দৃঢ়ভাবে সকল ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে। আমরা শোকাহত পরিবার এবং আহতদের প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করছি।
পৃথকভাবে, ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
সূত্র : দ্য হিন্দু

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এখনো মানুষ মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের জন্য ভালো সমাধান -আল জাজিরাকে ড. ইউনূস
উপস্থাপক প্রধান উপদেষ্টাকে এক প্রশ্নে বলেন, এটা কি বলা ঠিক যে, শেখ হাসিনার পতনের পরের ‘মধুচন্দ্রিমা’ এখন সম্ভবত শেষ হয়েছে। কিছু বেশ বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট জবাব আপনাকে দিতে হবে। কারণ, পুরনো ক্ষমতাধরদের প্রভাব রয়েছে, অন্যরা রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগাতে চাইতে পারে। যেমন লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এর সমাধান কি বাংলাদেশ একা করতে পারে? অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর জবাবে বলেন, ‘দুটি বিষয়, একটি জনগণের অধৈর্য নিয়ে, তা মধুচন্দ্রিমা শেষ হোক বা না হোক। বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে এখনো মানুষ মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো তাদের জন্য ভালো সমাধান। তারা বলছে না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেতে দাও। আজ আমাদের নির্বাচন। কেউ তা বলেনি। এই দিকেই আমরা যাচ্ছি। আমরা এমন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি যেখানে লোকেরা বলছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের হস্তান্তর করো।’ প্রফেসর ড. ইউনূসের কাছে ওই উপস্থাপক জানতে চেয়ে বলেন, আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে জানতে চাই। স্পষ্টতই তিনি এখনো দাবি করেন যে, তিনি এখনো বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভারত থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার উপস্থিতি কীভাবে দেখে ভারতের সরকার? জবাবে ড. ইউনূস বলেছেন, আমাদের বিমসটেকে (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমি কো-অপারেশন) একটি বৈঠক ছিল। যেখানে বিমসটেকভুক্ত সকল দেশের প্রধানরা ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সেখানে ছিলেন। তার সঙ্গে আলাপ করেছি এবং স্পষ্ট করে বলেছি যে, ঠিক আছে- আপনারা যদি তাকে রাখতে চান তাহলে এ বিষয়টি এমন কিছু নয় যা আপনাদের সঙ্গে মীমাংসা করতে পারি। যেহেতু তিনি ভারতে আছেন তাই অবশ্যই তাকে চুপ থাকতে হবে। কেননা, তার কথা বলা আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। তিনি বাংলাদেশের ভেতরে মানুষকে উত্তেজিত করার জন্য কথা বলছেন, যাতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই কথার প্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদি কী বলেছেন জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, আমি যদি মূল বিষয়টি উল্লেখ করি- তিনি বলেছেন, ভারত এমন দেশ যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া সকলের জন্যই উন্মুক্ত। যার ওপর আমি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। উপস্থাপক জানতে চান, তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে- আপনি কি মনে করেন যে, ভারত তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে? তাকে কি দেশে নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত? আর আপনি কি এ বিষয়ে কোনো সহায়তা পাবেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই হাসিনাকে ফেরত পেতে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছি। তবে তারা এখনো এতে সাড়া দেয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নোটিশ দেবে। এরপর এ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা যাবে। আল জাজিরার উপস্থাপক ড. ইউনূসকে বলেন, আপনি বলতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি আপনাকে বলেছেন যে, আমরা (ভারত) তার বাকস্বাধীনতা নিয়ে কিছুই করতে পারবো না। যদিও ভারতে বাকস্বাধীনতা হরণের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারেও কোনো নিশ্চয়তা দেননি তিনি। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, না। মোদি এমন কোনো নিশ্চয়তা দেননি। এ বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে কেমন প্রভাব ফেলছে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের নিজেদেরকেই সমাধান করতে হবে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা জানি তাদের আইনি পরিস্থিতি কেমন, আর আমাদের আইনি পরিস্থিতি কেমন। কিন্তু আমরা আদালত থেকে আইনি নোটিশ আসার অপেক্ষায় আছি। ড. ইউনূস কি ইচ্ছা করেই ভারতের আগে চীন সফর করেছিলেন? এর মাধ্যমে তিনি কি কোনো বার্তা দিতে চেয়েছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, যারা চেয়েছে আমি সকলের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছি। এ কারণেই আমি চীনে গিয়েছিলাম এবং এখন আমি মালয়েশিয়া যাবো। এখন আমি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আছি। আমি আশপাশের অনেক দেশ সফর করেছি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে জোট সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। কেননা, বর্তমানে সার্ক কিছুটা অচলাবস্থার মধ্যে আছে। জোটটি কাজ করছে না। আমি সার্কভুক্ত দেশের নেতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছি যে, আসুন আমরা পুনরায় সার্ক পুনরুজ্জীবিত করি। একে অপরকে সহযোগিতা করি। একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি ইত্যাদি, ইত্যাদি। আমার আরেকটি প্রচেষ্টার অংশ হচ্ছে বিমসটেককে কেন্দ্র করে। সেখানেও আমি বলবো, আসুন আমরা একত্রিত হই এবং নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধান করি। একত্রে কাজ চালিয়ে যাই। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতি। তাই বিমসটেকের বিভিন্ন সভা আয়োজন করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জমি নিয়ে বিরোধ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফ্রিজিং ভ্যানে লাশ আটকে রেখে সালিশ
জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে মাজেদ বিশ্বাসের প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে হামফুল বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি এবং এই সংসারে কোনো ছেলে মেয়ে হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে মাজেদ বিশ্বাস শয্যাশয়ী হলে পুলিশে চাকরিরত তার দুই ছেলে লতিফুর রহমান ও জাব্বার চিকিৎসার কথা বলে তার বাবাকে অন্য জায়গায় নিয়ে যান এবং সেখানে বাবার সম্পত্তি তাদের নামে লিখে নেন। এর মধ্যে গত ১৬ই এপ্রিল মাজেদ বিশ্বাসের তালাকনামা উকিল নোটিশের মাধ্যমে হামফুল বেগমের কাছে পাঠানো হয় এবং হামফুল বেগম সেটি গ্রহণ করেননি। এ নিয়ে হামফুল বেগম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দিলে আগামী ৫ই মে গ্রাম্য সালিসের দিন নির্ধারণ হয়। কিন্তু গত রোববার মাজেদ বিশ্বাস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। লাশ দাফনের জন্য তার দুই ছেলে গ্রামের বাড়ি নিয়ে এলে মাজেদ বিশ্বাসের দ্বিতীয় স্ত্রী হামফুল বেগম এলাকবাসীকে সাথে নিয়ে দাফনে বাধা দেন। এ ঘটনায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সালিশে বসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট মরাপাগলা এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, যিনি মারা গেছেন তিনি কিছুদিন আগে অসুস্থ ছিলেন। তার ছেলেরা তাকে চিকিৎসা করানোর নাম করে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে (সৎ মাকে) তালাক দেয়ায় এবং তার সব সম্পত্তি ছেলেরা নিজের নামে লিখে নেন। এর মধ্যে মাজেদ মারা যান এবং তার ছেলেরা দাফন কাফনের জন্য লাশ নিয়ে আসেন। কিন্তু তার ছেলেরা জমি লিখে নেয়ার কারণে দ্বিতীয় স্ত্রী দাফন কাফনে বাধা দেন। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সালিশে বসেছে। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সকাল থেকে সালিশ চলছে। তারা ভাইয়েরা জমি লিখে নিয়েছিল এবং সৎ মাকে ফাঁকি দিয়েছিল। এখন শেষ সমাধান হলো সকল জমি আইন অনুযায়ী বন্টন হবে। কিন্তু এর মধ্যে বোন ও ভাবির সাথে ঝগড়া লেগে গেছে এবং তারা সালিশ মানবে না। আমরা এলাকাবাসী সুষ্ঠু বিচার চাই এবং লাশ ভালোভাবে দাফন হোক এটাই চাই।
হামফুল বেগম বলেন, ২০ আগে আমি আমার বিয়ে হয়। দ্বিতীয় সংসারে এসে আমার সৎ ছেলেগুলোকে মানুষ করি এবং তারা সরকারি চাকরি পেয়েছে। এখন তারা ভালোভাবে জীবন যাপন করছে। এই সংসারে এসে আমার স্বামীর সেবা-যত্ন ভালোভাবে করেছি। কিছুদিন আগে আমার ছেলেরা প্রায় ১০ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেছে তাও কিছু বলিনি। তারপরে আমার স্বামীকে হঠাৎ করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলে গেল এবং সেখানে আমার ছেলেরা জোর করে তাদের নামে মাটি লিখে নিয়েছে। তারপরে আমার স্বামীর হুঁশ না থাকা অবস্থায় আমাকে তালাক দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি আমার স্বামী তালাক দেবে না। এটা ছেলেরা করিয়েছে। তাই আমি নায্য বিচার চাই।
তবে এই বিষয়ে দুই ছেলে লতিফুর রহমান ও জাব্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যতটুকু শুনেছি যিনি মারা গেছেন তার দুটি পক্ষ আছে। একটি পক্ষের ছেলেরা তাদের বাবাকে চিকিৎসা করার নাম করে নিয়ে গিয়ে জায়গা জমি লিখে নিয়েছে। এই নিয়ে মাজেদ বিশ্বাস মারা গেলে এক পক্ষ লাশ দাফনে বাঁধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপস মীমাংসা করেছে এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে উভয়পক্ষের অংশীদারদের মাঝে জমি সমবণ্টন করে তারপর লাশ দাফন করা হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লাইসেন্স পেলো স্টারলিংক
প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে আবেদনকৃত লাইসেন্স ইস্যুর জন্য গত ২১শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত ২৯৪তম কমিশন সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্টারলিংক বাংলাদেশের ইন্টারনেটে নতুন সংযোজন। শ্রীলংকার পরে দক্ষিণ এশিয়ার ২য় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বৈশ্বিক এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করল। এ প্রসঙ্গে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের উপর্যুপরি ইন্টারনেট বন্ধের প্রতিবাদে স্টারলিংককে বাংলাদেশের নিয়ে আসা একটা গণদাবীতে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিনিয়োগ বান্ধব হিসেবে একটা বার্তা পৌঁছে দেয়ার ইচ্ছা ছিল প্রধান উপদেষ্টার। বাংলাদেশের হাওর বাওড় দ্বীপাঞ্চলে, দুর্গম পার্বত্য এলাকায়, বিশেষভাবে উপকূলীয় দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন এবং মানসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেসব অঞ্চলে এখনো ফাইবার পৌঁছেনি সেখানে দ্রুততম সময়ে মানসম্পন্ন ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা স্বউদ্যোগী হয়ে স্পেইসএক্স সিইও ইলন মাস্ককে ফোন করে ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংককে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্য অর্জনে বিডা, বিটিআরসি, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, স্টারলিংকের সেবাগুলো মধ্যে একটা প্রাথমিক সেবা হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট, যেখানে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে না, যেটা আইএসপির ক্ষেত্রে হয়। অনেক ক্ষেত্রে যদি লম্বা সময় ধরে লোডশেডিং থাকে, মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারির ব্যাকআপ ফুরিয়ে গেলে মোবাইল ইন্টারনেটেও বিঘ্ন ঘটে। স্টারলিংকের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশে ফাইবার নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সীমিত। উপরন্তু এই ফাইবার নেটওয়ার্কের উল্লেখযোগ্য অংশ টেলকো গ্রেডের নয়। বাংলাদেশের অন্তত ৬৫ শতাংশ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এখনো ফাইবারাইজেশনের বাইরে, সেখানে মাইক্রোওয়েভ দিয়ে সেবা দেওয়া হয়, খুবই সীমিত ধারণক্ষমতা। আবার আমাদের মোবাইল নেটওয়ার্কের যে কাভারেজ ও ক্যাপাসিটি আছে, তাতেও সমস্যা আছে, হাইওয়ে মোবিলিটি কভারেজের সমস্যা আছে। স্টারলিংক এসব সমস্যার সমাধান করবে। তিনি জানান, স্টারলিংক বাংলাদেশের মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বাজারকে প্রতিযোগিতামূলক করবে। এর মাধ্যমে ভয়েস কল এবং ডেটা বান্ডেল ভিত্তিক গতানুগতিক ইন্টারনেট সেবাদান ব্যবস্থা ডিজিটাল সার্ভিস কেন্দ্রিক নতুন রূপান্তরে মধ্য দিয়ে যাবে। তিনি বলেন, স্টার্লিংকের সার্ভিসের ফলে কমিউনিকেশন ইন্ডাস্ট্রিতে ডিরেগুলেশনের সূচনা হবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে, শহর কিংবা গ্রামভেদে নিরবচ্ছিন্ন এবং মানসম্পন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রাপ্তির নিশ্চয়তা তৈরি হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কঠিন চাপে পিএসসি by শরিফ রুবেল
একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্ত আসার আগে সরকারের একজন উপদেষ্টা কীভাবে বিসিএস’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিতে পারেন এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পিএসসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাপে পড়ে পিএসসি সিদ্ধান্ত জানাতে বাধ্য হয়েছে। এই পরীক্ষা যদি স্থায়ীভাবে বাতিল বা দীর্ঘদিন স্থগিত থাকে তাহলে চলমান নিয়োগ জট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। আগামী কয়েক বছরেও এই জট দূর করা সম্ভব হবে না। ওদিকে লিখিত পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণার পর চরম হতাশা দেখা দিয়েছে কয়েক হাজার পরীক্ষার্থীর মাঝে। ৪৬তম বিসিএস’র লিখিত পরীক্ষা স্থগিত নিয়ে কী ঘটেছে এই কয়েকদিনে মানবজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় একটি ফোন কল আসে পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের কাছে। ফোনটি করেন সরকারের একজন উপদেষ্টা। তিনি ৪৬তম বিসিএস’র লিখিত পরীক্ষা পিছিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। তখন পিএসসি চেয়ারম্যান ৪টি বিসিএস’র পরীক্ষাজটের যুক্তি দিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা যাবে না বলে জানান। তখন ওই উপদেষ্টা বলেন, আপনি কল্পনা করতে পারছেন না কি হচ্ছে। অনশনে থাকা একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এখন তিনি মারা গেলে এর দায়ভার কে নিবে। আমরা এর দায়ভার নিতে পারবো না। আপনাকে এর দায় নিতে হবে। আরও অনেকে অসুস্থ। এ সময় তিনি ফোনে দ্রুত পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার আদেশ জারি করতে বলেন। এর পরপরই পিএসসি চেয়ারম্যান বোর্ড মেম্বারদের নিয়ে জরুরি সভায় বসেন। বোর্ড সদস্যদের কাছে উপদেষ্টার নির্দেশ তুলে ধরে তাদের সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হয়। তবে সভায় সদস্যদের কেউই ওই সিদ্ধান্তে সায় দেননি।
বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যার দিকে পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে ফোন করেন সরকারের আরেকজন উপদেষ্টা। ফোনে তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানকে হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে যেতে বলেন। এবং দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ৪৬তম বিসিএস স্থগিত করে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে বলেন। পিএসসি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথা বলার সময় চান। কিন্তু ওই উপদেষ্টা তা মানতে রাজি হননি। এমনকি বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানকে তিনি এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ফোন রেখে দেন। পরে সন্ধ্যায় পিএসসি’র তিনজন সদস্য জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাজমুল আমীন মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আসিফ মাহমুদ ও অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এবং পরীক্ষা পেছালে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও তারা মানতে নারাজ ছিলেন। একপর্যায়ে ওই উপদেষ্টা তাদের পরীক্ষা স্থগিত করতে চাপ দেন। এমনকি সমিতিতে বসেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়ে দেন। ফোনে পিএসসি চেয়ারম্যানকেও একই নির্দেশনা দেন। পরে পিএসসি’র তিন সদস্যকে সঙ্গে রেখেই ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন উপদেষ্টা।
এখনো হস্তক্ষেপ এড়াতে পারছে না পিএসসি: বাংলাদেশ জাতীয় কর্ম কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পিএসসিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ ছিল। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম আর কোটার কারণে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনই হাসিনা সরকারের পতনের সূচনা করে। গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে পিএসসিকে সকল রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাহিরে রাখতে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। নিয়োগ দেয়া হয় অভিজ্ঞ ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিদের। গত ৬ মাস ধরে বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাজট কমাতে স্বাধীনভাবে কাজ করছে বর্তমান বোর্ড। ছাত্র আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এনসিপি’র র্শীষ নেতা সারজিস আলম পিএসসিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাহিরে রাখার পরামর্শ দেন। ৪৬তম বিসিএস বাতিলের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে যোগ দিয়ে সারজিস আলম বলেন, ১৬ বছরে পিএসসি’র উপর অনেক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দেখেছি। বিসিএস-এ এই রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু চলতি মাসে ৪৬তম বিসিএস বাতিলের দাবিতে চলা আন্দোলনে চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে ব্যধ্য হয় সরকারি কর্ম কমিশন। সূত্র বলছে, একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনবরত চাপে পরীক্ষা না পেছানোর অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় পিএসসি। এক প্রকার বহু বছরের রীতি ভেঙে একটি বৈঠকে বসে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি। এতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তাহলে কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে পিএসসি।
আন্দোলনে কারা নেতৃত্ব দিয়েছেন: ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল। এমনকি তারা পরীক্ষা পেছানোর যুক্তি দিয়ে বিবৃতিও দেয়। এসব কারণে পিএসপি সতর্কতার অংশ হিসেবে প্রশ্নপত্রের ছাপাখানা পরিবর্তন এবং প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার করে। পিএসসি’র একটি সূত্র বলছে, তারা যেকোনো মূল্যে পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরিবর্তনে সম্মত ছিলেন না। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পরেও অনড় ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকেও পিএসসি’র সিদ্ধান্তের উপর একমত পোষণ করা হয়। তবে বিপত্তি বাধে প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ সফরে যাওয়ায়। এরপর থেকেই ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষা বাতিল করতে পিএসসি’র উপর সীমাহীন চাপ আসতে শুরু করে। এমনকি সরকারের দুটি প্রভাবশালী মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিতে পিএসসিকে চাপ দেন। উপায় না পেয়ে পিএসসি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি’র শীর্ষ এক নেতার সঙ্গে কথা বলেন। আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে অনুরোধ করেন। এবং আলোচনা করে একটি ভালো সমাধানের পথ বের করতে সাহায্য চান। কিন্তু তাতে ওই নেতা সাড়া দেননি। অভিযোগ রয়েছে, পিএসসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলনের শুরু থেকে নেতৃত্ব দেন বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা সিরাজুস সালেহীন সিয়ন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮-১৯ সেশন ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী সাকির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আওরঙ্গজেব, ঢাবি শিক্ষার্থী শাহ আলম স্নেহ ও মোস্তাকিন আহমেদ আশিক।
পরীক্ষা পেছানো নিয়ে যা ঘটেছে: ৮ই এপ্রিল। দুপুরে ১০ থেকে ১২ জন চাকরিপ্রার্থী বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন পিএসসি’র সামনে এসে জড়ো হোন। ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। দুপুর আড়াইটার দিকে ওই অল্প কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গেট ভেঙে পিএসসি ভবনে ঢুকে পড়েন। তারা দৌড়ে পিএসসি’র মূল ভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। যেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত আছে। খবর পেয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম নিচে নেমে আসেন। এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এক পর্যায়ে তারা দাবি- দাওয়া নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে আলাপ করতে চান। পরে তাদের পিএসসি’র কনফারেন্স রুমে নেয়া হয়। চেয়ারম্যানসহ বোর্ড সদস্যরা ওই চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের দাবিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়। এবং সরকারের সঙ্গে আলাপ করে জানানোর আশ্বাস দেয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা তা মানতে রাজি হয়নি। তারা তখনই সিদ্ধান্ত জানাতে বলেন। পরে তারা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সকলে একযোগে স্লোগান দিয়ে পিএসসি ভবন থেকে বেরিয়ে যান। পরদিন ৯ই এপ্রিল।
ঢাবির রাজু ভাস্কর্য এলাকায় একই দাবিতে আন্দোলন করেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে ১০ই এপ্রিল তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিবৃতিতে পিএসসি’র কার্যক্রমে গতিশীলতা ও বিসিএস পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, একই সঙ্গে বিসিএসের নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার আগে লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ এবং ভাইভার আগে ক্যাডার চয়েস রদবদলের সুযোগ রাখার দাবি করা হয়। এ ছাড়া জুনের শেষ সপ্তাহ অথবা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সম্ভব না হলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে লিখিত পরীক্ষা শুরু করতে হবে এমন একগুচ্ছ দাবি জানায় দলটি। একই দিনে পাল্টা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পিএসসি জানায়, পিএসসি নির্ধারিত সময়সূচি আপাতত পরিবর্তন করবে না। তবে ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা এবং ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা একদিনে পড়লে বিকল্প তারিখ নির্ধারণ করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কমিশনকে বর্তমানে ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৪৭তম বিসিএসসহ নন-ক্যাডারের বিভিন্ন নিয়োগ সংক্রান্ত জট নিরসনকল্পে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হচ্ছে। পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কমিশন প্রার্থীদের সার্বিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার ইতি টানার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এমনকি সার্বিক বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশন এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রার্থীসহ দেশের সব মহলের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তবে ১১ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আবারো ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানো না হলে পিএসসি’র চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করার ঘোষণা দেন। দুইদিন পর পিএসসি ১৩ই এপ্রিল ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করে ৮ই আগস্ট নির্ধারণ করেন।
এতে ১৫ই এপ্রিল পুনরায় সরকারি কর্ম কমিশনের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে বিক্ষোভ শেষে সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন পরীক্ষার্থীরা। ১৭ই এপ্রিল ১০ থেকে ১২ জন আন্দোলনকারী আবার পিএসসি’র সামনে গেলে সেনাবাহিনী তাদের ধাওয়া দেন। পরে ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে যান। ২৩শে এপ্রিল পিএসসি সংস্কার চেয়ে আবার আন্দোলনে নামে কয়েকজন শিক্ষার্থী। এদিন তারা আট দফা দাবি পেশ করেন। পরদিন ২৪শে এপ্রিল ৪৪তম বিসিএসের ভাইভা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ এবং ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আমরণ অনশনে বসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। ৭২ ঘণ্টা ধরে অনশন কর্মসূচি পালন করতে যেয়ে ৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২৫শে এপ্রিল অনশনরত চাকরি প্রত্যাশীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাদের সঙ্গে এসে যোগ দেন। ২৮শে এপ্রিল আবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ করেন একদল চাকরিপ্রত্যাশী। সন্ধ্যায় তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন। পরে এদিন রাতে পিএসসি’র সঙ্গে আলাপ করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন। পরদিন সোমবার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়।
পরীক্ষা পেছানোর আন্দোলনে কতজন: অতীতে দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি থাকলেও ৪৬তম বিসিএস’র লিখিত পরীক্ষা পেছানোর আন্দোলনে খুব বেশি শিক্ষার্থীকে সামিল হতে দেখা যায়নি। প্রতিদিনের কর্মসূচিতে ঘুরেফিরে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকেই দেখা গেছে। আন্দোলন দেখতে আশপাশে উৎসুক জনতা থাকলেও কেউ তাদের সঙ্গে যোগ দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ, পিএসসি’র সামনে অবস্থান, প্রধান উদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও, আমরণ অনশন, প্রতিবাদ মিছিল ও শাহবাগে অবরোধে ঘুরেফিরে সেই ১০ থেকে ১২জন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এই অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর দাবিকে কীভাবে জনদাবি হিসাবে রূপান্তর করা হলো। এর পেছনে কারা আছেন? তাদের উদ্দেশ্য কি? কেন লাখ লাখ বিসিএস পরীক্ষার্থীর নিয়মিত পরীক্ষা চালু রাখার পিএসসি’র প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করা হলো? ৪৬তম বিসিএস পেছালে যে জট সৃষ্টি হবে এর দায়ভার কে নেবে। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
পিএসসি সূত্র জানায়, সীমাহীন নিয়োগ জট কমাতে তারা দ্রুতই একটি কর্ম পরিকল্পনা নিয়েছিল। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পিএসসি’র জট কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন। আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে জট খোলার অগ্রগতি দেখা যাবে। এজন্য তারা কিছুতেই কোনো পরীক্ষা পেছাতে চাইছেন না। পিএসসি আরও বলছে, ৪৬তম বিসিএস’র প্রিলির প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এর কোনো প্রমাণ কেউ হাজির করতে পারেনি। সিআইডি ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে পিএসসিই সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাখে।
সাধারণ পরীক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: লিখিত পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে একজন চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে টিকেছি, আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে। এটি ছোট খাটো অন্যায় নয়, এটা অনেক চাকরি প্রার্থীকে মেরে ফেলার সমান অন্যায় হবে। আমরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছি ক্যাডার হওয়ার আশায়। আমাদের অনেকেরই শেষ বিসিএস। অনেকেই আমরা অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ৪৬তম বিসিএস দিয়েছি এবং উত্তীর্ণও হয়েছিলেন। এখন এই পরিশ্রম, আর্থিক ক্ষতি পূরণ হবে কীভাবে? সাইফ মো. হাসান নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, বাতিল করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না।
আসিফ সরকার বলেন, যে ব্যক্তি অসদুপায়ে প্রিলি পাস করেছে, সে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না। ভাইভার মার্ক অনেক সময় একটা বিরাট পার্থক্য গড়ে তোলে। আমাদের আন্দোলন করা উচিত ভাইভার নম্বর কমানো নিয়ে। তা না করে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হলো। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রার্থী ফেসবুকের একটি গ্রুপে লেখেন, এই যে আপনাদের অনশন নেতা সালেহীন সিয়ন ভাই। তার কিন্তু ৪৬-এ বয়স-ই ছিল না। বুঝেন এখন? কারা বসছিল এক্সাম পিছাতে নাকি বাতিল করতে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন: আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর আগে গুলি করে হত্যা করা হয়
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালকে বলা হয়, লাশ পোড়ানোর আগে গুলি করে হত্যার একটি নতুন ভিডিও পাওয়া গেছে। পরে আগামী ২৫শে মে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর ২ সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অংশ নেন। এসময় প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম, শাইখ মাহদী ও ব্যারিস্টার মঈনুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
সকালে এই মামলার আসামি সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, সাবেক উপ-পরিদর্শক মালেক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের একটি নতুন ভিডিও পাওয়া গেছে। ঐ ভিডিওতে লাশ পোড়ানোর আগে গুলি করে হত্যার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে ভিডিও পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ১ মাস সময় প্রয়োজন। পরে ট্রাইব্যুনাল সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫শে মে তারিখ ধার্য করেন।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন আজ ধার্য ছিল। তারা যখন তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করছিলেন, সেই মুহূর্তে হঠাৎ করে একটা তথ্য আসে। তারা একটা ভিডিও শনাক্ত করতে পেরেছেন। তারা উদ্ধারও করেছেন। এতে দেখা গেছে যে, এখানে (আশুলিয়ায়) কারা কীভাবে লাশ পোড়ানোর আগে গুলি করে হত্যা করেছে। সেই বিষয়টা তাদের সামনে এসেছে। সেটা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত সমাপ্ত করার জন্য কিছুদিন সময় দরকার।
তদন্তের এই পর্যায়ে এসে নতুন ভিডিও পাওয়া গেলেও, দীর্ঘ ৮ মাসে সেই ভিডিও কেন পাওয়া যায় নাই- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত একটা চলমান প্রক্রিয়া। এখন কোনো তথ্য যদি আমাদের সামনে আসে নতুন করে, সেই তথ্য উপেক্ষা করে তো আমরা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবো না। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টের জন্য এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই সময়টা প্রয়োজন। এটা বিচারকে বিলম্বিত করার জন্য না, ন্যায়বিচারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
এদিকে জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৩ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো প্রায় ৩ মাস বাড়ানো হয়েছে। এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আগামী ২০শে জুলাই নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এটি গণ-অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে করা ৩য় মামলা। এই মামলায় গ্রেপ্তার ৮ আসামিকে গতকাল ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলেও বাকিরা পলাতক। গ্রেপ্তারকৃত ৮ আসামি হলেন- সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, ডিএমপি’র মিরপুর বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, বরখাস্ত হওয়া ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, গুলশান থানার সাবেক ওসি মো. মাজহারুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি-উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা, পরীক্ষার মুখে ভারতের সামরিক শক্তি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কী ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
তাৎক্ষণিক পাকিস্তান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পরে ২২ এপ্রিলের ওই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছে ভারত। তবে ইসলামাবাদ দৃঢ়ভাবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি একটি ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি এবং আমরা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা ভারত ও পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করছি। উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা ইস্যুতে ভারতের প্রতি প্রবল সমর্থন এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ওয়াশিংটন। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০২১ সালে প্রতিবেশী আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ওয়াশিংটনের কাছে পাকিস্তানের গুরুত্ব হ্রাস পেলেও, এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলা করার লক্ষ্যে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, বর্তমানে পাকিস্তানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশি ঘনিষ্ঠ ভারত। তিনি বলেন, যদি ভারত সামরিক প্রতিশোধের দিকে আগায় তাহলে ইসলামাবাদের জন্য চিন্তুার কারণ হবে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে ওয়াশিংটন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে এবং ভারতকে আটকানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে পারে।
কুগেলম্যান আরও বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে ওয়াশিংটনের জড়িত থাকা এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে, ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিকভাবে বেশ কিছু বিষয় মোকাবেলা করছে। অন্তত উত্তেজনার প্রাথমিক দিনগুলোতে ভারত ও পাকিস্তানকে তাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং হাডসন ইনস্টিটিউট থিঙ্ক ট্যাঙ্কের একজন সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ওয়াশিংটনের কোনো আগ্রহ নেই বলেই মনে হচ্ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
April
(427)
-
▼
Apr 29
(22)
- পাক-ভারত বিরোধের মূল কারণ ও সংঘাতের ইতিহাস
- ইসরায়েলি চাপ তোয়াক্কা না করেই পারমাণবিক কর্মসূচির ...
- ১৩০টির বেশি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র ‘এমনি এমনি সাজিয়ে’...
- কাশ্মীরে ব্যাপক ধরপাকড়, ভাঙা হচ্ছে বাড়ি: ‘আমার ভাই...
- মিয়ানমারে সংঘাত: মানবিক করিডরের সিদ্ধান্ত হলেও শর্...
- ডলারের সিংহাসন কি কেঁপে উঠছে by মরিস অবস্ফেল্ড
- পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে পরীক্ষার মুখে ভা...
- ভারতের সেনাবাহিনী যুদ্ধের জন্য কতটা সক্ষম by মুজিব...
- রাজনীতি থেকে ‘পরিবারতন্ত্র’ উচ্ছেদ করা কতটা সম্ভব?...
- আদালতে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে চড়-থাপ্পড়
- বাইক-গাড়িতে ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী by শুভ্র দেব ও ফাহিম...
- পেহেলগাম হামলার 'দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের' আহ্বান চীনের
- এখনো মানুষ মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের জন...
- জমি নিয়ে বিরোধ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফ্রিজিং ভ্যানে লাশ...
- লাইসেন্স পেলো স্টারলিংক
- কঠিন চাপে পিএসসি by শরিফ রুবেল
- ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন: আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর ...
- পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা, পরীক্ষার মুখে ভারতের স...
- ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কী ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
- নানা বিপত্তির মাঝেও বাড়ছে পোশাক রপ্তানি
- বিবিসিকে কড়া বার্তা মোদি সরকারের
- হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ইরেশ যাকের: মামলা বিরক্...
-
▼
Apr 29
(22)
-
▼
April
(427)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





