Wednesday, February 11, 2015

খালেদার কার্যালয়ে খাবার নিতে বাধা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে খাবার নিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। রাত ৮টার দিকে কার্যালয়ের গেট থেকে খাবারবহনকারী ভ্যান ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ৩রা জানুয়ারির পর থেকে কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নেতা এবং কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। প্রতিদিন বাইরে থেকে তাদের খাবার নেয়া হয়। গতকাল রাতের খাবার নেয়া হলেও পুলিশ খাবার ভ্যানটি কার্যালয়ের গেট থেকে ফিরিয়ে দেয়। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, টেলিফোন, কেবল টিভি, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় সরকার। ১৯ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হলেও অন্যান্যগুলো এখনও ছিল বিচ্ছিন্ন। এদিকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের আশপাশে কয়েকটি বিদেশী দুতাবাসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিকালে সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল করা হয়।
‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করুন’ -জামায়াত
রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলার আহবান জানিয়েছে জামায়াত। দলের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আজ এক বিবৃতিতে এই আহবান জানান। তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষ জালেম সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করছে। আন্দোলনের তোড়ে দিশেহারা সরকার ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করছে। দেশের কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার প্রায় চারগুণ লোককে ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন জেলায় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধসহ নেতা-কর্মীদের স্ত্রী, কন্যা, পুত্র ও আত্মীয়-স্বজনদের আটক করছে। নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘরে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং লুটপাট করছে। তিনি বলেন, সরকার দলীয় ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে। গত ১০ই ফেব্রুয়ারী বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগের বাড়িতে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরিত হয়ে তার ডান হাতের আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই সন্ত্রাসের নায়ক। তারাই বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে দেশকে রাজনীতি শূন্য করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী তা-ব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য তিনি দেশের ‘সংগ্রামী জনতার’ প্রতি আহ্বান জানান। অধ্যাপক মুজিব বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গতকালও রাজধানী ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় ২০ দলীয় জোটের প্রায় ৩ শত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এভাবে গ্রেপ্তার করে মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে জনগণের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। 

ধারদেনায় সংসার চলছে দিনমজুরদের, অবরোধ-হরতালে কাজ কমেছে

(অবরোধ–হরতালে দিনের পর দিন কর্মহীন থাকছেন রাজধানীর দিনমজুরেরা। মিরপুর–১ নম্বরে গতকালের ছবি l প্রথম আলো) দৈনিক মজুরিতে ইট-বালু তোলার কাজ করেন মো. রাজু ভূঁইয়া। পরিবার নিয়ে থাকেন মিরপুরের গুদারাঘাটে। চারজনের পরিবারের মাসিক খরচ ১০ হাজার টাকার মতো। অথচ গত নয় দিনে কাজ পেয়েছেন তিন দিন। আয় এক হাজার টাকা।
রাজু জানালেন, পুরো জানুয়ারি মাসেই চলেছে এমন অবস্থা। এখন কিছু জমানো আর ধার করা টাকায় চলছেন। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪০০-৪৫০ টাকা মজুরিতে মাসে অন্তত ২৫ দিন কাজ পেতেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর, মোহাম্মদপুর টাউন হল এবং যাত্রাবাড়ী ঘুরে রাজুর মতো এমন অন্তত ৪০ জন দিনমজুরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা ৩৬ দিনের অবরোধ-হরতালে তাঁরা দিনের পর দিন কর্মহীন থাকছেন। অন্য কাজে পারদর্শী না হওয়ায় দিনমজুরিই তাঁদের আয়ের একমাত্র পথ। কিন্তু আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় বর্তমানে ধার-দেনা করে চালাচ্ছেন সংসার। আর যাঁদের পরিবার ঢাকার বাইরে থাকে তাঁরা এখনো বাড়িতে সংসার খরচের টাকা পাঠাতে পারেননি।
মিরপুর-১ নম্বর মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ভোর সাড়ে ছয়টা থেকেই জড়ো হতে শুরু করেন আশপাশের এলাকার দিনমজুরেরা। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে মাটি কাটেন, ইট-বালু তোলেন, কাঠ ও রঙের কাজ করেন এমন নানা ধরনের শ্রমিকেরা আসেন এখানে। গতকাল সকাল সাতটায় গিয়ে দেখা যায়, ৬০-৭০ জন দিনমজুর কাজ পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন।
টুকরি, কোদাল সামনে রেখে বসেছিলেন ইব্রাহিম। থাকেন মিরপুরের দিয়াবাড়িতে। পরিবার থাকে জামালপুরে। ইব্রাহিম বললেন, ‘আগের দুই দিন বইসা ছিলাম। কাজ না পাইয়া কাল (সোমবার) দেড় শ টাকা দিয়ে একজনের বাগান পরিষ্কার করছি। অন্য সময় ৪০০ টাকা রোজে কাজ করতাম।’
মিরপুর-১ নম্বরের এই দিনমজুর-সমাগমের জায়গাটিকে শ্রমিকেরা নিজেরা ডাকেন ‘মার্কেট’ বলে। দিনমজুরদের এই মার্কেটে কাজের আশায় এসেছেন ২৫-৩০ জন মহিলা শ্রমিকও। মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সিঁড়ি, সামনের সড়ক বিভাজকের ওপর বসে কাজ পাওয়ার অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা।
মাটি টানার কাজ করেন নাজমা বেগম। তিনি একা থাকেন গাবতলীতে। সপ্তম শ্রেিণপড়ুয়া মেয়ে আর পঞ্চম শ্রেিণপড়ুয়া ছেলে থাকে কুড়িগ্রামে। প্রতি মাসে বাড়িতে দুই-তিন হাজার টাকা পাঠাতে হয়।
সকাল সোয়া আটটার দিকে মোহাম্মদপুর টাউন হল গভর্নমেন্ট মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, এখানেও দিনমজুরেরা জড়ো হয়ে আছেন। কারও কাছে রাজমিিস্ত্রর সরঞ্জাম, কারও কাছে চুনকাম করার চুন লাগানো বালতি-ব্রাশ। ১৫-১৬ জন কাঠমিিস্ত্র তাঁদের যন্ত্রের বাক্সের ওপর বসেছিলেন। কাঠমিিস্ত্র মো. ফোরকান থাকেন বেড়িবাঁধে আর পরিবারের চার সদস্য থাকে ভোলার লালমোহনে। তিন দিন ধরে কাজ পাচ্ছেন না তিনি।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা, ছাত্রীনিবাসে ফাটল, ছাড়ার নির্দেশ

(ছাত্রীনিবাসে ফাটল ধরায় বন্ধ ঘোষণার পর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা গতকাল মালামালসহ হল ত্যাগ করছেন l প্রথম আলো) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কলেজের একটি ছাত্রীনিবাস বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা ডেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কলেজ বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি গতকাল বিকেলের মধ্যে ছাত্রীনিবাস খালি করারও নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে দুর্ভোগে পড়েন দূরের শিক্ষার্থীরা। অবরোধ-হরতালের মধ্যে তাঁরা কীভাবে বাড়ি যাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অনেকে। কেউ কেউ নগরে থাকা আত্মীয়স্বজন বা সহপাঠীদের বাসায় উঠেছেন।
কলেজ অধ্যক্ষ ভাস্কর সাহা বলেন, পুরোনো ছাত্রীনিবাসের পেছনে নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এটির কাস্টিং পাইল স্থাপন শুরু হলে পুরোনো ভবনটির পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। ফাটল দেখা দেয় বিমে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাঁদের নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কলেজ। কলেজ সূত্র জানায়, তিন মাস আগে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬৫ ফুটের পিলার স্থাপন শুরু হলে পাশের ভবনে ব্যাপক কম্পন সৃষ্টি হয়। ওই কম্পনের ফলে পুরোনো পাঁচতলা ছাত্রীনিবাসটির পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় ফাটল। এতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন ছাত্রীরা। বিষয়টি নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকৌশলী দিয়ে ভবনটি পরীক্ষা করা হয়। তখন ভবনটিতে ঝুঁকি নেই বলায় শিক্ষার্থীরা বসবাস করতে থাকেন। গতকাল আবারও একটি বিমে ফাটল দেখা দেয়। এরপর কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক ডেকে ছাত্রীনিবাস খালি করা ও কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন।
কলেজ থেকে সদ্য পাস করা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর এটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধের মধ্যে ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করতে বলায় বাইরের শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়েছেন। তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে কলেজ বন্ধ ঘোষণা করলে ভালো হতো।
ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীরা বেলা দুইটা থেকে ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেন। তবে পঞ্চম বর্ষের চূড়ান্ত পর্বের ৭৫ জন শিক্ষার্থীকে অন্য একটি ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দূরপাল্লার পথে দিনে কিছু বাস বাড়লেও যাত্রী কম

(২০ দলের ডাকা হরতাল–অবরোধে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলো কম চলাচল করছে। যাত্রীও কম। তাই বাসের টিকিট কাউন্টারগুলো ফাঁকা। ছবিটি গতকাল বেলা সাঁড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে তোলা l প্রথম আলো) রাত নয়টার পর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস না চালানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর গতকাল মঙ্গলবার দিনের বেলায় দূরপাল্লার পথে বাস চলাচল কিছু বেড়েছে। তবে যাত্রী সে তুলনায় বাড়েনি বলে জানিয়েছেন পরিবহনমালিকেরা। তাঁরা বলেছেন, মূলত রাতেই বাসে যাত্রী বেশি হয়।
রাজধানীর মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গতকাল মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, কিছু কিছু বাস বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে ময়মনসিংহগামী বাস এনার কাউন্টারে গিয়ে জানা যায়, তাদের কিছু বাস চলছে। প্রায় এক ঘণ্টার কিছু কম সময়ের ব্যবধানে যাত্রীভর্তি দুটি বাস ছাড়তে দেখা যায়। স্বাভাবিক সময়ে ১৫ মিনিট পর পর এনার বাস ছাড়ে। এখন যাত্রী কমে যাওয়ায় বাস ছাড়ার সময়ের ব্যবধান বাড়ছে।
ওই কাউন্টারে দায়িত্বরত একজন জানান, এখন সব আসনের টিকিট বিক্রি না হলে বাস ছাড়া হচ্ছে না। এ জন্য বাস ছাড়ার সময়ের ব্যবধান বেড়েছে।
এই টার্মিনালে শ্যামল বাংলা, বিনিময়সহ আরও কয়েকটি বাসের কর্মীদের যাত্রীর জন্য হাঁকডাক করতে দেখা গেল। জানা যায়, ময়মনসিংহ ও আশপাশের জেলার পথে কয়েক দিন ধরেই কিছু যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে। তবে যাত্রী কম।
গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কিছু বাস ছেড়েছে। গাবতলী টার্মিনালে অনেক পরিবহনের টিকিট কাউন্টার দেখা গেছে ফাঁকা। যাত্রীর ভিড় নেই।
গত সোমবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে রাত নয়টার মধ্যেই। তবে পণ্যবাহী যান আগের মতোই চলাচল করবে। এ সিদ্ধান্তের আগেই শনিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পরিবহনমালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক রাত নয়টার পর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেন। একাধিক পরিবহনমালিক রাতে দূরপাল্লার পথে যাত্রীবাহী বাস চালানোর পক্ষে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেন।
বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সোহাগ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী ফারুক তালুকদার গতকাল প্রথম
আলোকে বলেন, ‘সরকার কিছুদিন সময় চেয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী রাত নয়টার পর যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি। এ জন্য দিনে বাস বেড়েছে। কিন্তু যাত্রী বাড়েনি। এখন যত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে রাতে বাস চলাচল করা যায় ততই মঙ্গল।’

বীভৎস ছবি হাতে শিশুরা মানববন্ধনে

(শিশুর রক্তাক্ত মুখের ছবি দিয়ে তৈরি ব্যানার শিশুদেরই হাতে ধরিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সিলেট শিশু একাডেমী। ছবিটি গতকাল সকালে নগরের রিকাবীবাজার এলাকা থেকে তোলা l প্রথম আলো) বীভৎস ও রক্তাক্ত মুখের ছবি-সংবলিত ব্যানার শিশুদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী। ব্যানারের ছবি দেখে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিশু ভয়ে আঁতকে ওঠে। আর এভাবেই পৌনে এক ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছে শিশুরা। এ নিয়ে অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে বেলা ১১টায় মানববন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি আধা ঘণ্টা পর শুরু হয়। কর্মসূচিতে অভিভাবকদের সঙ্গে আড়াই শতাধিক শিশু অংশ নেয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম নির্ধারিত সময়ের অনেক পর দুপুর সোয়া ১২টায় কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত হন।
কয়েকজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক জানান, শিশুর রক্তাক্ত ও বীভৎস মুখের আলোকচিত্র ব্যবহার করে মানববন্ধনের একাধিক ব্যানার তৈরি করা হয়েছে। এসব ব্যানারে শিশুর রক্তাক্ত মুখ, পেট্রলবোমায় দগ্ধ হওয়া ব্যক্তির বীভৎস শরীর এবং বার্ন ইউনিটে ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় চিকিৎসাধীন শিশুর আলোকচিত্র রয়েছে। এসব আলোকচিত্র দেখে অনেক শিশু শিহরিত হয়েছে।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর প্রশিক্ষণার্থীরা ছাড়াও বাগবাড়ি সরকারি শিশু পরিবার, শিশুদের সাংস্কৃতিক সংগঠন পাঠশালা, চারুবাক, চারুপাঠ, মুক্তাক্ষর, শ্রুতি, গ্রিন ডিজেবলসহ কয়েকটি সংগঠনের আড়াই শতাধিক শিশু উপস্থিত ছিল। শিশুদের হাতে ধরা ডিজিটাল ব্যানারে ‘আমাকে মেরো না, প্লিজ!’, ‘প্লিজ স্টপ পেট্রলবোম’, ‘আমি মায়ের কাছে যাব’, ‘আমাকে পুড়িয়ে মারলে কেন, আমার কী অপরাধ’, ‘শিশুহত্যা বন্ধ করো’—জাতীয় স্লোগানের পাশাপাশি বীভৎস সব ছবি ছিল। কিছু ছবিতে অন্য দেশের বাচ্চাদের মুখাবয়ব ছিল বলে কয়েকজন অভিভাবক সন্দেহ পোষণ করেছেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু একাডেমীর জেলা সংগঠক সাইদুর রহমান ভূইঞা। মানববন্ধনে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী, শিশু একাডেমীর সাবেক জেলা সংগঠক মাহবুবুজ্জামান চৌধুরী, জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রাজিয়া বেগম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মনোরঞ্জন দে, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শিশু একাডেমীর সংগীত বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা ‘প্রতিটি শিশুকে দাও নিশ্চয়তা, যেন সে সমাজে পায় মর্যাদা’ শীর্ষক একটি দলীয়সংগীত পরিবেশন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘প্রধান অতিথি না আসায় আয়োজকেরা শিশুদের রোদের মধ্যে রাস্তায় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে। নির্যাতিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ওই শিশুরাই আয়োজকদের দ্বারা নির্যাতন ও কষ্টের শিকার হলো।’ দুজন শিশু বলে, ‘রক্তর ছবি। ডর লাগে।’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যানারে বীভৎস ছবির বিষয়টি আমার চোখে পড়েনি। আর মানববন্ধন কর্মসূচিতে তো কিছুটা সময় দাঁড়িয়েই থাকতে হয়।’
বীভৎস ছবি-সংবলিত ব্যানার দিয়ে মানববন্ধন করা প্রসঙ্গে শিশু একাডেমীর জেলা সংগঠক সাইদুর রহমান ভূইঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শিশুরা রক্তাক্ত হচ্ছে—এটির প্রতিবাদ জানাতেই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। বাস্তবতা বোঝাতেই ব্যানারে সেসব ছবি রাখা হয়েছে। তবে ছোট বাচ্চাদের হাতে এসব ব্যানার দেওয়া হয়নি, যারা কিছুটা বড়—তাদের হাতেই ব্যানার দেওয়া হয়েছে।’ অন্য দেশের শিশুদের ছবি থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ভুলবশত কাজটি হয়েছে।
তবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘জাতীয় শিশুনীতি, ২০১১’-তে শিশুর সুরক্ষা হিসেবে শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার, প্রলোভন বা জোরপূর্বক জড়িত করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুদের দিয়ে এ ধরনের মানববন্ধন করানো কতটা সঠিক—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিশুকিশোর সংগঠন খেলাঘরের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম বাঙালি। তিনি বলেন, ‘এটা একেবারেই অনুচিত কাজ। ব্যানারে বীভৎস ছবি দেখে শিশুদের কোমল মনে স্থায়ী একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

প্রকাশ্যে ৯০টি গাছ কাটল দুর্বৃত্তরা

(মেহেরপুর শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়সংলগ্ন পুরোনো জেলখানার পেছনের বাগানে গতকাল দুর্বৃত্তদের কেটে ফেলা গাছের কয়েকটি l ছবি: প্রথম আলো) মুকুল আসা ৫০ আমগাছসহ ৯০টি বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার মেহেরপুর শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়সংলগ্ন পুরোনো জেলখানার পেছনের এক বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
বাগানমালিক আবদুল মজিদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে দুর্বৃত্তকারীদের দেখলেও তারা ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় কাউকে আটক করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে ওই বাগানে দেখা যায়, আমগাছসহ মাঝারি আকারের বিভিন্ন জাতের ৯০টি গাছ কাটা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল সকাল নয়টার দিকে শহরের ছিতু, সালাম, রশিদ, মতিন, গনিসহ ১২-১৪ জন যুবক করাত, কুড়ালসহ বাগানে ঢুকে গোড়া থেকে গাছ কাটা শুরু করেন। ওই যুবকেরা সবাই এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত।
তবে এ সময় ওই দুর্বৃত্তরা নিজেদের এলাকার খোয়াদ আলীর ভাড়াটে লোক হিসেবে পরিচয় দেয়। গাছ কাটার শেষ মুহূর্তে উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান বাগানমালিক। কিন্তু পুলিশ কাউকে আটক না করে ক্ষয়ক্ষতি দেখে চলে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোয়াদ আলীর ভাগনে আবদুস সালাম জানান, শরিকানা সূত্রে জমির বৈধ মালিক তাঁর মামা খোয়াদ আলী। জাল কাগজপত্র আদালতে দাখিল করে অবৈধভাবে আদালতের রায় নিয়েছেন আবদুল মজিদ। জমি এত দিন মজিদ দখল করে রাখলেও তিনি অবৈধ মালিক। এ কারণে ওই জমির দখল নিতেই তাঁরা সব গাছ কেটে জমি ফাঁকা করেছেন।
এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে জানান, তিনি সরেজমিন গিয়ে গাছ কাটার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন। কোনো পক্ষ থানায় মামলা না করায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করেনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ থানায় মামলা করলে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

খাসজমিতে ঘর নির্মাণ করছেন আ.লীগ নেতা

(ফরিদপুর-চরভদ্রাসন পুরোনো সড়কের আলম ফকিরের হাট এলাকায় খাসজমি দখল করে ঘর নির্মাণ করছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তাঁর তিন ভাই l ছবি: প্রথম আলো) ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সরকারি খাসজমি দখল করে ঘর নির্মাণ করছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তাঁর তিন ভাই। প্রশাসন কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।
ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর-চরভদ্রাসন পুরাতন সড়কের আলম ফকিরের হাট এলাকায় (চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়ন ও চরহরিরামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী) দোকানঘর তুলছেন চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর মাঝি ও তাঁর ভাইয়েরা। গত শুক্রবার আলমগীর এবং তাঁর তিন ভাই নান্নু মাঝি, চুন্নু মাঝি ও পান্নু মাঝি আনুমানিক তিন শতাংশ আয়তনের ওই জায়গাটিতে নিজেদের স্বত্ব দাবি করে হাটসংলগ্ন রাস্তার ঢালে আরসিসি পিলার ও টিন দিয়ে ঘর তুলতে শুরু করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ইউএনওর নির্দেশ উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবু বক্কর ছিদ্দীক জানান, সর্বশেষ জরিপে ওই জমি নদীশিকস্তি হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এ কারণে ২০০৬ সাল থেকে ওই জমির খাজনা নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু ওই জমির ওপর নিজের স্বত্ব দাবি করে আলমগীর মাঝি এ ব্যাপারে একটি মামলা করেছেন। সেটি এখনো বিচারাধীন।
আলমগীর মাঝি বলেন, ‘দলিল অনুযায়ী এ জমির মালিক আমরা চার ভাই। এ কারণে আমরা ঘর নির্মাণ করেছি।’ তিনি দাবি করেন, ইউএনও শুক্রবার এসে বাধা দিলেও ওই দিনই তিনি ঘর তোলার অনুমতি দিয়ে গেছেন।
জমি নিয়ে মামলা হওয়ার কথা নিশ্চিত করে আলমগীর বলেন, রায় না হলে ওই জায়গায় ঘর তুলতে পারব না—মর্মে আদালত কোনো নির্দেশনা তাঁদের দেননি।
ইউএনও নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শুক্রবার খাসজমিতে ঘর ওঠানোর খবর পেয়ে আমি নিজে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিই। কিন্তু আমার নির্দেশ উপেক্ষা করে তাঁরা কাজ করেছেন।’ তিনি পরে ঘর তোলার কোনো অনুমতি দেননি বলে মন্তব্য করেন। অনতিবিলম্বে
ওই এলাকায় মাপজোখ করে দখলদারদের উচ্ছেদ করে খাসজমি উদ্ধার করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিষিদ্ধ জালে মারা পড়ছে মা–কচ্ছপ by এম জসীম উদ্দীন

(তালতলীর নলবুনিয়া সমুদ্রসৈকতে পিটিয়ে মারা একটি কচ্ছপ। গত বুধবার তোলা ছবি l প্রথম আলো) বরগুনার তালতলী উপজেলার বঙ্গোপসাগর তীরের সোনাকাটা, আশারচর, নলবুনিয়াচরসহ সংলগ্ন সৈকতে ডিম দিতে এসে প্রতিনিয়ত মারা পড়েছে মা-কচ্ছপ। চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ ধরার ছোট ফাঁসের অবৈধ জালে আটকা পড়ে এসব কচ্ছপ মারা পড়ছে।
জলপাই রঙের (অলিভ রিডলে) বৃহৎ এসব সামুদ্রিক কচ্ছপ ডিম পাড়ার জন্য দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন সৈকতে আসে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তালিকা অনুযায়ী, এ প্রজাতির কচ্ছপের অবস্থা সংকটাপন্ন। সৈকতে আসার পর নিষিদ্ধ খুঁটিজাল, ভাসাজাল, চিংড়ি ধরার জাল, বেড়জালসহ ছোট ফাঁসের জালে আটকা পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালতলীর সখিনা এলাকার একজন জেলে জানান, বেহুন্দি ও ফাঁস জালে আটকা পড়ার পর জেলেরা পিটিয়ে এসব কচ্ছপ মেরে ফেলেন। অনেক সময় তা কিনারে এনে এক-দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। বিক্রি করতে না পারলে চরে ফেলে রাখেন।
বঙ্গোপসাগরের মোহনার তালতলী উপজেলার আশারচর, নলবুনিয়া এলাকায় শুঁটকিপল্লি গড়ে ওঠায় সংলগ্ন প্রায় ৫০ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগর মোহনাজুড়ে এসব নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে শুঁটকি করার জন্য। মাৎস্য বিজ্ঞানীরা জানান, জুলাই থেকে আগস্টে কচ্ছপ ডিম দেয়। মা-কচ্ছপ বালুচরে গর্ত করে ডিম পাড়ে এবং ৪৫ থেকে ৭০ দিন পরে বালুর উত্তাপে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। প্রতিটি মা-কচ্ছপ একসঙ্গে ৫০ থেকে ১৮০টি ডিম পাড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে আশারচর ও নলবুনিয়া বনসংলগ্ন চরে দেখা যায়, মৃত দুটি কচ্ছপ চরে আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে একটি পচে বিকৃত হয়ে গেছে। আরেকটি ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
মাছ পরিবহনের কাজে নিয়োজিত একটি ট্রলারের জেলে মামুন জানান, গত জানুয়ারির শেষ দিকে একই এলাকায় চারটি মৃত কচ্ছপ বালুচরে পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। দুলাল মিয়া নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, গত ডিসেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত জালে আটকা পড়ে ও বিভিন্নভাবে কমপক্ষে ৪০টি কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে। আশার চরের একটি মাছ ট্রলারের মাঝি আকরাম গনি বলেন, ‘আমরা ইচ্ছে করে কচ্ছপ মারি না। বড় কচ্ছপ জালে আটকা পড়লে জাল ছিঁড়ে ফেলে। তাই সেগুলো মেরে ফেলি। এসব কচ্ছপের ওজন ৩০ থেকে ৪০ কেজি কিংবা তারও বেশি। কেউ কেউ আবার এগুলো বিক্রির জন্যও পিটিয়ে মেরে ফেলেন।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ কে এম নওশাদ আলম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, চিংড়ি ও অন্যান্য জালে টিইডি (টার্টেল এক্সক্লুসিভ) থাকা বাধ্যতামূলক। জালের এই ফাঁকা পকেট (টিইডি) দিয়ে কচ্ছপগুলো নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের বেশির ভাগ জেলে তা ব্যবহার করছেন না বলে এই প্রজাতির কচ্ছপের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হচ্ছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কর্মকর্তা সুকুমার বিশ্বাস বলেন, যেসব অঞ্চলকে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়ার (ইসিএ) আওতায় আনা হয়েছে, সেসব অঞ্চলে কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কমিটি রয়েছে। বরগুনা এর আওতায় নয়, তাই এখানে এগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব বন বিভাগের।
পটুয়াখালী-বরগুনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মিহির কুমার দো বলেন, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সংলগ্ন চরে যেসব কচ্ছপ ডিম পাড়তে আসে, তাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়মিত টহল অব্যাহত আছে। কেউ যদি এসব কচ্ছপ মারা বা ধরার চেষ্টা করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিলেটে ১০ শিশুসহ ২৩ জনের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন

(ছবি-১ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে নগরের শেখঘাট এলাকার ফাতেমা বেগমের এক দিন বয়েসী শিশু। কাঁদছেন মা। গতকাল দুপুরে তাঁর বাসা থেকে তোলা ছবি l আনিস মাহমুদ ছবি-২ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের শিশু বিভাগে আতঙ্কিত অভিভাবকেরা l ছবি: প্রথম আলো) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে ১০ শিশুসহ ২৩টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা সংখ্যার দিক থেকে অস্বাভাবিক। এসব মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগও আছে।
গত সোমবার সকাল আটটা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক’ বললেও মৃত্যুর সংখ্যাকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আলাদা তদন্ত কমিটি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও। জানুয়ারি মাসে এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে রোগী মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৪। আর দিনে গড়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই ২৪ ঘণ্টায় শিশু ওয়ার্ডে এক থেকে দেড় দিন বয়সী চার নবজাতকসহ ১০ শিশু মারা যায়। তাদের মৃত্যুর কারণ জন্মগত ত্রুটি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াজনিত বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ১০ শিশু হলো: সিলেটের গোয়াইনঘাটের সায়মা (দেড় বছর), জকিগঞ্জের দশগ্রামের আকাশ (সাত দিন), সিলেট নগরের শেখঘাটের নিলুফা আক্তারের দেড় দিনের শিশু, একই এলাকার ফাতেমা বেগম ও সন্ধ্যা রাণীর এক দিনের করে দুই নবজাতক, সুনামগঞ্জ সদরের তাজরিয়া (সাড়ে তিন বছর), মাহাদি (আড়াই মাস), ছাতকের সাফরাজ (তিন বছর), বিশ্বম্ভরপুরের নাদিরা (ছয় মাস) ও হবিগঞ্জের ইয়াসমিন (তিন দিন)।
শিশু ছাড়াও ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জন রোগী মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে চার, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় পাঁচ এবং যক্ষ্মা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, এনকেফালাইটিস ও অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটের একটি গ্রামে মারামারির ঘটনায় আহত পাঁচজন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা রোগী নন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আবদুস সবুর মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, মারা যাওয়া শিশুদের চিকিৎসায় কয়েক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধের মেয়াদ, কোন মাত্রায় কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং চিকিৎসায় কোনো রকম গাফিলতি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, মারা যাওয়া ১০ শিশুর বেশির ভাগই সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসেছিল। তারা ঠিক কী অবস্থায় হাসপাতালে এসে পৌঁছায়, তারও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার মারা যাওয়া এক শিশুর স্বজন অভিযোগ করেন, রাত ১০টার পর তাঁর বোনের মেয়ে ছটফট শুরু করলে তাঁরা ওয়ার্ডে চিকিৎসক খুঁজে পাননি। শিশুটিকে দেখে যাওয়ার জন্য সেবিকাদেরও বলেছেন, কিন্তু সাড়া পাননি। ভোরে শিশুটি মারা যায়।
সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকার একটি কলোনির বাসিন্দা নিলুফা আক্তার জানালেন, সোমবার দুপুরে তাঁর কন্যাসন্তান হয়। স্বাভাবিক প্রসব ছিল। গতকাল সকাল ছয়টার দিকে সে মারা যায়। কাঁদতে কাঁদতে নিলুফা বলেন, ‘জানতে চাইছিলাম, কিতা অইছিল তার (শিশুর)। নার্স হায়াত ফুরাই গেছে (আয়ু শেষ) কইয়া বাইচ্চারে কোলে তুলে বিদায় করি দিল!’
গতকাল সকাল নয়টার মধ্যে ১০ শিশুর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাড়ে ১০টার দিকে ওয়ার্ডে গিয়ে শিশুদের কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি। শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের একাধিক স্বজন অভিযোগ করেন, দিনে চিকিৎসক ও সেবিকাদের পাওয়া গেলেও রাত আটটার পর কাউকে পাওয়া যায় না। এ সময় চিকিৎসকের খোঁজ করলেও সেবিকারা ধমক দিয়ে থামিয়ে রাখেন।
একজন রোগীর স্বজনের অভিযোগ, তিনি ছয় মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে পাঁচ দিন ধরে শিশু ওয়ার্ডে আছেন। একদিন মাত্র রাত আটটার দিকে একজন চিকিৎসক দেখেছেন। আরেক শিশুর অভিভাবক অভিযোগ করেন, রোগীর অবস্থা খারাপ হলে সেবিকারা শুধু মোবাইল ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কাজ সারেন।
২৪ ঘণ্টায় যে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়, তার মধ্যে সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সাতটি শিশুর মৃত্যু হয়।
শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রভাত রঞ্জন দে বলেন, সংখ্যার হিসাবে এক দিনে মৃত্যু বেশি হলেও এর পেছনে চিকিৎসকের অবহেলা বলে কিছু নেই। জন্মগত ত্রুটি আর জন্মের পরপরই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ ওঠায় তদন্ত হবে। তিনি জানান, ৯৭ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ৩২২টি শিশুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের প্রশাসন শাখা সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার হাসপাতালে ৯০০ রোগী ভর্তি আছে। বহির্বিভাগসহ এই হাসপাতালে দিনে চিকিৎসা নেয় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার রোগী। প্রতিদিন গড়ে রোগী মৃত্যুর সংখ্যা ১৪ থেকে ১৬। শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দুইয়ের কিছু বেশি।
তদন্ত কমিটি: অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গতকাল সকালে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গতকালই কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক মো. আবদুছ ছালাম। এসব মৃত্যু ‘স্বাভাবিক’ কিন্তু সংখ্যাটা ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপপরিচালক বলেন, ওসমানী হাসপাতাল ২০১৩ সালে সেবার জন্য জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করেছে। এ অবস্থায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন: ওসমানী হাসপাতালে ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কথা জানান। কমিটি আজ সিলেটে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে রোগীরা যথা সময়ে হাসপাতালে যেতে পারছে না। রোগী খুব জটিল অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে। এতে করেও চিকিৎসা দুরূহ হয়ে পড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মো. নুরুল হক জানান, মৃত ১০টি শিশুর চারটিই জন্মকালীন শ্বাসরোধের সমস্যায় ভুগছিল। এ ছাড়া মায়ের অপুষ্টিজনিত কারণে তিনটি, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতায় একটি, ডায়রিয়া ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ায় দুই শিশু মারা যায়।

ওপার থেকে আসছে বিষাক্ত পানি by দুলাল ঘোষ

(কালো আর উৎকট গন্ধের এই পানিতে ১৫টি গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় পড়েছে) আখাউড়ার সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত সিঅ্যান্ডবি খাল আর জাজি নদী দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসছে বিষাক্ত পানি। কুচকুচে কালো আর উৎকট গন্ধের এই পানিতে উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় পড়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান ওই পানিতে চাষ হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই খাল ও নদী দিয়ে ভারত থেকে পানি নেমে আসছে আখাউড়ায়। তবে কয়েক বছর ধরে এই পানির রং আগের তুলনায় কুচকুচে কালো, গন্ধ তীব্র আর উৎকট। এই পানিতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। চাষিরা শ্বাসকষ্ট আর চুলকানিতে ভুগছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দর সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে সিঅ্যান্ডবি খাল দিয়ে নামছে ওই পানি। অন্যদিকে সীমান্তের কালিকাপুর গ্রামের জাজি নদী দিয়েও আসছে কালো পানি। নদীর পানি মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুর পহেলা আর নয়াদিল দিয়ে এবং খালের পানি পৌর শহরের তারাগন হয়ে দেবগ্রাম দিয়ে এবং শহরের প্রধান সড়কের পাশ ধরে নেমে এসে মিশে যাচ্ছে তিতাস নদে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবীব বলেন, কৃষি, বন ও পরিবেশ এবং মৎস্য বিভাগ গত নভেম্বরে প্রাথমিক কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাতে ওই পানিতে আখাউড়ার সীমান্তবর্তী সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন ও মোগড়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভার একটি অংশে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আখাউড়া কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে এই কালো পানি দিয়ে ধানের চাষ হয়। উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নে ধানি জমি বেশি। মোগড়া ইউনিয়ন ও আখাউড়া পৌরসভারও কিছু জমি আছে। নদী ও খাল থেকে মেশিনে জমিতে পানি দেওয়ার সময় ওই পানি ধানগাছের পাতায় লাগলে গাছ লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। সেচের পানি যেখানে প্রথম পড়ছে, সেখানকার ধানগাছ পুড়ে যাচ্ছে।
ওই পানিতে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক রয়েছে। এ কারণেই এমনটি হচ্ছে জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, ঠিক কী কী ক্ষতির সম্ভাবনা আছে, তা নিশ্চিত হতে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফালু মিয়ার বাড়ি সিঅ্যান্ডবি খালের পাশে। চার মাস ধরে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। এ ছাড়া গত সপ্তাহ থেকে চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ইদানীং উপজেলার সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট আর চুলকানির প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে দেখা দিয়েছে।
উৎকট গন্ধের কারণে আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী, শুল্ক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা এবং বিজিবির সদস্যরাও নিজেদের কার্যালয়ে কাজ করতে পারছেন না।
বিজিবি ১২ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তছলিম উদ্দিন জানান, স্থলবন্দর বিজিবি ক্যাম্পের জোয়ানদের সেখানে সাত দিনের বেশি রাখা যাচ্ছে না। খালের পানির গন্ধে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সেখানে তাই নিয়মিত নতুন জোয়ান পাঠাতে হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোশাররফ হোসেন বলেন, ৩ ফেব্রুয়ারি আগরতলায় জেলা প্রশাসকদের সীমান্ত সম্মেলনে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারেই দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

খালেদা-গিবসন বৈঠক, পরিণতি সম্পর্কে সব পক্ষকে পরিপূর্ণভাবে ভাবার আহ্বান ব্রিটিশ হাইকমিশনারের

(চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যান ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন। এ সময় তাঁরা বৈঠক করেন। খালেদা জিয়া গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে তাঁর কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। ছবি: বিএনপি কার্যালয় থেকে সংগৃহীত) চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটে সকল পক্ষকে তাদের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডব্লিউ গিবসন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকে পড়ে শোনানো এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। গিবসন বলেন, আমি ক্রমাগতভাবে সকল পক্ষকে আহ্বান জানিয়ে আসছি- যেন তারা তাদের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে ভাবেন এবং দেশের জাতীয় স্বার্থহানিকর কাজ থেকে বিরত থাকেন। আমি সকল পক্ষকে আরও আহ্বান জানাই, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে সবাই যেন আস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যা দেশের বর্তমান অস্থিরতা নিরসন করবে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আমি প্রত্যাশা করি- এই আস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া জোরদার হবে। যা বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহিংসতা ও বিঘ্ন সৃষ্টির যে অভ্যাসগত চরিত্রায়ণ ঘটেছে তার বিলুপ্তি ঘটাবে। এবং সকল বৈধ রাজনৈতিক কর্মকা- শান্তিপূর্ণভাবে পালনকে অনুমোদন করবে। গিবসন বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সংকল্পবদ্ধ। এতে এখন এবং আগামীতেও আমরা অংশীদার। আমি আগে যেমনটা বলেছি, এই সহিংসতা ও বাংলাদেশের সকল মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা চলতে থাকা দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। তিনি বলেন, আমি আরাফাত রহমান কোকো’র প্রয়াণে বিএনপির সম্মানিত চেয়ারপারসনকে তাঁর সন্তান হারানোর জন্য সমবেদনা জানিয়েছি। এর আগে বিকাল ৫টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ও বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক করেছেন। একতরফা ১০ম জাতীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৩রা জানুয়ারি থেকে নিজের কার্যালয়ে পুলিশি ব্যারিকেডে অবরুদ্ধ হন খালেদা জিয়া। তিনি ৫ই জানুয়ারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে কার্যালয় থেকে বের হতে বাধা পাওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও দফায় দফায় হরতাল কর্মসূচি পালন করছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল। পরে পুলিশ ব্যারিকেড তুলে নিলেও কার্যালয়েই অবস্থান করছেন তিনি। আর ৩রা জানুয়ারির পর প্রথম বিদেশী কূটনীতিক হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বৃটিশ হাইকমিশনার। তার সাক্ষাৎ করতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ৩৯ দিন পর খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের মূল ফটক খোলা হয়।

পরিবারের সঙ্গে খুশি গ্রামবাসী

হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন মজিবর রহমান
জয়পুরহাট সদর উপজেলার মহুরুল গ্রামের মজিবর রহমান দেবদাস (৮৫) ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে অমানসিক নির্যাতনের শিকার হন। ধীর ধীরে তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর তিনি একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। এ খবরে পরিবার ও গ্রামবাসী আনন্দিত হলেও স্মৃতিশক্তি হারানো মজিবর কিছুই বুঝতে পারছেন না।
গত সোমবার মহুরুল গ্রামে গিয়ে মজিবরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তিনি ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। মজিবরের ভাতিজা শিক্ষক মাহফুজার রহমান জানান, মজিবর স্থানীয় খঞ্জনপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৪৬ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে পড়ালেখা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করার পর বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের করাচির নাজিমাবাদ কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে তিনি ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। নাজিমাবাদ কলেজের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে ১৯৬৭ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি একটি চিঠি লিখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। এ ছাড়া তিনি ওই গণহত্যার প্রতিবাদে এফিডেভিটের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে নিজের নামের শেষে ‘দেবদাস’ যুক্ত করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসন জোহা হলে স্থাপন করা সেই সময়ের সেনাক্যাম্পে তাঁর ওই চিঠি পৌঁছে দেয়। ওই চিঠি নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর এক ক্যাপ্টেন ১৯৭১ সালের ১২ মে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পাকিস্তানি বাহিনী তাদের ক্যাম্পে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।
ছোট ভাই মোখলেছার রহমানের স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, নির্যাতনের পর মজিবর ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তবে প্রতিদিন সকালে তাঁকে দু-তিনটি জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা পড়ার জন্য দিতে হয়। এ জন্য বাসায় নিয়মিত পত্রিকা রাখা হয়েছে। স্বাধীনতার পর কেউ মজিবরের খবর রাখেননি। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৮ সালের ২ আগস্ট মজিবরকে সংবর্ধনা দেয়।
জেলা জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক জানান, অধ্যাপক মজিবরকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক কান পেতে রই নমে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন, যা বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিতও হয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য বাংলাদেশে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে : কানাডার হাইকমিশনার

কানাডার হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়ের লাঘামে বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য বাংলাদেশ ও তার জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। একইসাথে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সুশাসন, শান্তি ও গণতন্ত্র কোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে সাক্ষাতকালে লাঘামে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে শক্তিশালী উন্নয়ন অংশীদারত্ব বজায় রেখেছে কানাডা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কানাডার বিনিয়োগ বাংলাদেশের ভবিষ্যত অগ্রগতির ভিত্তি রচনা করছে। তিনি বলেন, কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২০০ কোটি কানাডিয়ান ডলারে পৌছেছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের বেশীরভাগ পণ্য কানাডাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।
হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে সরকার ও জনগনের সাথে কানাডা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে যাবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকের অভূতপূর্ব উন্নয়নের বিষয়ে হাইকমিশনার লাঘামের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার আলম জানান, শুধুমাত্র বৈদেশিক সহায়তা নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এদেশের জনগণের কঠোর পরিশ্রম, কৃষি খাতে নতুন উদ্ভাবন ও তার প্রয়োগ, শিল্পখাতের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি এবং রফতানীর উর্ধ্বগতির ফলে এ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, অর্জিত সাফল্যসমূহ এদেশের সরকার ও জনগণকে উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে উত্তরণের আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা  যোগাচ্ছে। এ পথ ধরেই বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশের পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংলাপের আহবান ইউরোপীয় ইউনিয়নের

দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে ফের সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপের ২৮ রাষ্ট্রের ওই জোটের ঢাকায় নবনিযুক্ত ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়েদুন আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান। ইইউ দূতের কার্যালয় থেকে বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে দূত বলেছেন, ইইউ যে কোন ধরনের সহিংসতার বিপক্ষে, তারা অব্যাহতভাবে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। যে কোন অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা জরুরি উল্লেখ করে ইইউ দূত বলেন, বাংলাদেশের যেভাবে সহিংসতা বিস্তার ঘটছে তাতে দেশের নিরীহ মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে ইইউ দূত বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ বক্ত করেন। তাদের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও উন্নয়সসহ বাংলাদেশ ও ইইউ সম্পর্কিত বিভিন্ন ইস্যু ওঠে আসে। সমুদ্র সম্পদের উন্নয়ন (ব্লু-ইকোনমি) ও ডিজিটাল বাংলাদেশ-এ দুটি খাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে তাদের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে সহযোগিতা করতে চায় জানিয়ে দূত বলেন, এটি  বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেত সহায়ক হবে।

‘রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন এক নয়’

রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করেন। বুদ্ধিজীবীরা রাজনীতি করেন না। তারা বুদ্ধি বিবেচনায় দ্বারা স্বস্ব দল বা মতাদর্শকে সহায়তা করেন। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে এই বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। তখনকার দিনের স্বাধিকার আন্দোলনের শক্তি আওয়ামী লীগকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নামীদামী শিক্ষক বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা দিয়েছিলেন। আর সেজন্যই বিজয়ের পূর্বমুর্হুতে হানাদার বাহিনীর লক্ষ হয়ে দাঁড়ায় জাতির বিবেক বুদ্ধিজীবীবৃন্দ। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীকালে অবশ্য ক্রমে ক্রমে বুদ্ধিজীবীদের ‘বিবেক সুলভ ভূমিকা’ দলীয় পরিচয়ে আবর্তিত-বিবর্তিত হতে থাকে। প্রাথমিক শাসক এলিটদের নিছক দলীয় মনোবৃত্তি, একাংশের মতাদর্শিক অবস্থান এবং সামরিক শাসকদের হুকুমদারিতে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পচন শুরু হয়। স্বৈরাচারের পতন পরবর্তী গণতান্ত্রিক শাসন আমলে নাগরিক সাধারণ আশা করেছিল দেশের বুদ্ধিজীবীরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিক নির্মাণে মূল্যবান ভূমিকা রাখবেন। জাতি একটি আলোকিত সমাজ উপহার পাবে। কিন্তু তা না হয়ে বিভেদের দেয়াল আরও উচুঁ হয়ে দেখা দেয়। দেশ যত সংকট সহিংসতা অতিক্রম করছে ততই বুদ্ধিজীবী শ্রেণীও বিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে। জাতি বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে নিছক দলীয় ভূমিকা আশা করে না। তা আওয়ামী লীগের পক্ষে হোক বা বিএনপির পক্ষে। সন্দেহ নেই ব্যক্তিগতভাবে আমরা কোন না কোন দল বা মতাদর্শ ধারণ করি। কিন্তু তারও একটি সীমা রেখা আছে। বুদ্ধিজীবীদের রাজনৈতিক কর্মীর মত কাজ করা সমীচীন নয়। শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষক ভিন্ন দলীয় পরিচয় অন্যায় এবং অনাকাঙ্খিত। এইসব ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ ভারসাম্যমূলক এবং সংযমী আচরণে বিশ্বাসী একজন শিক্ষককে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমমাত্রায় হুকুমের আসামী হতে দেখে নাগরিক সাধারণ বিস্মিত।
প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ এদেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর। এই জাতির প্রতিটি বাক পরিবর্তনে তিনি সব সময়েই সস্পৃক্ত ছিলেন। স্বাধিকার আন্দোলন থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণ পর্যন্ত- তার ছিল মননশীল ভূমিকা। জ্ঞান-গুণ-বিদ্যাবুদ্ধি, আচার-আচরণে যেসব প্রবীণ ব্যক্তি আমাদের অনুকরণীয়-অনুুসরণীয় তিনি তাদের একজন। সে নিরিখেই আমরা বলতে পারি একটি দল ও মতকে সমর্থন করলেও কিছুতেই কট্টর বা দলান্ধ লোক তিনি নন। সরকারের তরফ থেকে তাকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে প্রচার করা হলেও আদৌ তিনি বিএনপির কোন আনুষ্ঠানিক পদাধিকারী নন। সত্য বটে, বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্কটময় সময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটা নিছক মানবিক অনুভূতি, রাজনীতি নয়। প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ বিএনপির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার কেউ নন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে যে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গির কথা প্রকাশ করেছেন তা একান্তই ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রসূত। তা বিএনপির মত নয়। জাতীয় সরকারের যে ধারণা তিনি ব্যক্ত করছেন- দেশের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে সমঝোতার প্রয়াসে সংকট উত্তরণের লক্ষ্যেই বলছেন। এসব কিছুই প্রমাণ করে যে, তিনি রাজনৈতিক বলয়ের লোক নন। বরং তার সমস্ত কর্মকা- জাতীয় স্বার্থে নিবেদিত। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে লেখা তার পত্রও জাতীয় স্বার্থে বিবেচিত। ক্ষমতাসীন বুদ্ধিজীবীরা তার এই পদক্ষেপকে বাঁকা চোখে দেখলেও সঙ্কট সমাধানে ব্যাকুল জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে তার উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছেন। দি ডেইলি স্টার পরিচালিত এক জনমত যাচাইয়ে দেখা যায়- দেশের শতকরা ৫৭ ভাগ মানুষ তার উদ্যোগের পক্ষে রয়েছেন (দি ডেইলি স্টার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫)।
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এ ধরনের স্বাধীনচেতা মানুষকে পুরস্কৃত করে না। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলীলপত্র প্রশ্নে যখন বিতর্ক দেখা দেয় তখন তিনি সত্যাশ্রয়ী মতামতই প্রধান করেছেন। দলীয় মত দ্বারা প্রভাবিত হননি। বিগত বিএনপি আমলে তিনি প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন এ রকম খবর বেরিয়েছিল, কিন্তু তা হয়নি। এমন কি কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি অধিষ্টিত হননি। তাকে একটি রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ দেয়া হলে পেশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখান করেছেন। এ কথার অর্থ এই নয় যে, তাকে জাতীয়তাবাদী ঘরানা থেকে দূরে দেখাতে চাই। বরং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে তার স্বকীয়তা, ব্যক্তিত্ব এবং মর্যাদাপূর্ণ স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরা। এ ধরনের একজন সম্মানীয় ব্যক্তিকে ফৌজদারী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখানো রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। ক্ষমতাসীন সরকারকে বুঝতে হবে রাজনীতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন এক নয়। প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ-এর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে সরকার একটি দৃষ্টিকটু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এদেশে দলমত নির্বিশেষে এমাজউদ্দিনের এক বিশাল ভক্ত-অনুরক্ত জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাই সরকারের কাছে বিনীত নিবেদন- তাকে মামলা এবং অহেতুক হয়রানি থেকে বিরত থাকুন।
লেখকগণ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর এম সলিমউল্লাহ খান (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ), প্রফেসর আবদুল লতিফ মাসুম (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ), প্রফেসর মো. শামছুল আলম (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ), প্রফেসর মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার (ফার্মেসী বিভাগ), প্রফেসর মো. শরিফউদ্দীন (গণিত বিভাগ)।

৯০ বছর পর জামায়াতে নামাজ পড়ার সুযোগ তুর্কি সেনাদের

তুর্কি সেনাবাহিনী দীর্ঘ ৯০ বছর পর জামায়াতে নামাজ পড়ার সুযোগ পেল তুর্কি সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান ৯০ বছর ধরে চলা এই নিষেধাজ্ঞা বুধবার রাতে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এর ফলে তুর্কি সেনারা এখন জামায়াতে নামাজ পড়তে পারবে বলে তুরস্কের ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে। পত্রিকাটি অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
কামাল আতাতুর্ক উসমানিয়া খেলাফত উচ্ছেদের পর সৈন্যদের ওপর জামায়াতে নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তিনি সৈন্যবাহিনী ইসলাম অনুসারীদের ওপর বেশ বিরূপ ছিলেন। তার উত্তরসূরিরাও কড়াভাবে নজর রাখতেন যাতে কেউ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ না করে। এমনকি নামাজ পড়লেও চাকরিচ্যুত হতে হতো তুর্কি সেনা সদস্যদের। এরদোগান ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

পরিবহন সঙ্কটে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ ব্যাহত- নগরবাড়ী ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে সারের স্তূপ by শফিউল আযম

( নগরবাড়ীতে জাহাজ থেকে সার নামিয়ে যমুনার পাড়ে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত) টানা অবরোধ আর হরতালে নগরবাড়ী ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ঘাট থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় রাসায়নিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সেখানে বিদেশ থেকে আমদানি করা হাজার হাজার টন রাসায়নিক সার আকাশের নিচে স্তূপাকারে রাখা হচ্ছে। এতে সারের গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও বন্দরের হাজার হাজার শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। সময় মতো সার সরবরাহ না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে বোরো আবাদ ও ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
নগরবাড়ী নৌবন্দর ঘাটের সার আমদানিকারক এশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আরিফ হোসেন জানান, বিসিআইসি আমদানিকারকদের মাধ্যমে চীন, মিসর, সৌদি আরব, তিউনিসিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার আমদানি করে। পরে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে রাসায়নিক সার লাইটারেজ জাহাজে করে নগরবাড়ী ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে আনা হয়। পরে সেখান থেকে সড়ক পথে উত্তরাঞ্চলের বিসিআইসির পাবনা-সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী, বগুড়া, সান্তাহার, জয়পুরহাট, রাজশাহী, নাটোর, রংপুর, লালমনিহাটের মহেন্দ্রনগর, দিনাজপুর, পার্বতীপুর চরকাট, ঠাকুরগাঁও, বিরামপুর ও গাইবান্ধায় বাফার গুদামে ওই সার পৌঁছে দেয়া হয়।
কিন্তু অবরোধ ও হরতালে পরিবহন সঙ্কটে সার সরবরাহ অনেক কমে গেছে। এ দিকে নৌপথে যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকায় প্রতিদিনই সারবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ী ও নগরবাড়ী নৌবন্দরে ভিড়ছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে সারের স্তূপ বেড়েই চলেছে। নওগাঁ থেকে সার নিতে আসা ট্রাকচালক আবুল হোসেন বলেন, পুলিশি নিরাপত্তায় বগুড়া পর্যন্ত এসেছি। পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নগরবাড়ী বন্দর পর্যন্ত আসতেই পথে পিকেটারদের হামলার শিকার হতে হয়েছে। তবুও এসেছি জীবন-জীবিকার তাগিদে।
জানা যায়, স্বাভাবিক অবস্থায় পাবনার নগরবাড়ী ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ঘাট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ ট্রাক সার উত্তরাঞ্চলে ১৪টি বাফার গুদামে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেখানে ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক সার সরবরাহ হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে।
নগরবাড়ী নৌবন্দরের রুহুল আমিন জানান, অবরোধ ও হরতালের কারণে বন্দরে সার নিতে ট্রাক কম আসায় শ্রমিকদের কাজ কমে গেছে। নগরবাড়ী সার আমদানিকারক সমিতির যুগ্মসম্পাদক বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা জানান, অবরোধের কারণে ব্যবসায়বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে। ট্রাক চালকেরা ঝুঁকি নিয়ে সার পরিবহনে রাজি হচ্ছে না। ফলে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এতে সার পরিবহনে খরচ বেশি পড়ায় ঠিকাদারেরা বিভিন্ন বাফার গুদামে সার পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
 রাসায়নিক সার আমদানিকারক রতন সাহা নয়া দিগন্ত প্রতিনিধিকে জানান, সময় মতো সরবরাহ করতে না পারায় প্রায় দুই লাখ বস্তা সার খোলা আকাশের নিচে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। নগরবাড়ী বন্দরে একটি বাফার গুদাম থাকলে সার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকত না। অবরোধের কারণে পর্যাপ্ত সার নগরবাড়ী ও বাঘাবাড়ী বন্দরে মজুদ পড়ে রয়েছে। এতে চলতি বোরো মওসুমে কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলে সার সরবরাহ নির্বিঘ্ন না করতে পারলে কৃষি ক্ষেত্রের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) বগুড়া অফিসের লিয়াজোঁ অফিসার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সার সরবরাহ মনিটরিং অফিসার শামীম আক্তার জানান, নগরবাড়ী ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ঘাটে খোলা আকাশের নিচে বিপুল সার মজুদ আছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে ফেব্রুয়ারি মাসের চাহিদার দ্বিগুণ সার মজুদ আছে। ফলে চলতি বোরো মওসুমে এ অঞ্চলে ইউরিয়া সার সঙ্কটের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী, ‘টক শোওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

বিএনপির সাথে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কার সাথে আলোচনা করব? হত্যাকারীর সাথে? আগুনে যে পুড়িয়ে মারে, তার সাথে? আজ বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। হরতাল অবরোধে পেট্রলবোমায় দগ্ধদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান। এসময় প্রধানমন্ত্রী দগ্ধ ৬৩ জনের পরিবারকে প্রত্যেকের হাতে ১০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নেয়া আলোচনার উদ্যোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এগুলো বলছেন, তারা-যারা সন্ত্রাস করছে, জঙ্গিবাদ করছে, তাদের দেখছেন না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে মারা গেল। আমাকে ঢুকতে দেয়া হলো না। আমাকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, যারা আলোচনার কথা বলছেন, তাদের যদি সেভাবে অপমান করা হতো, তারা কি আর যেতেন? আলোচনার উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, তারা আগে খালেদা জিয়াকে মানুষ খুন করা থেকে বিরত থাকতে বলুন।
‘টক শোতে যারা সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথা বলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যাঁরা টক শোতে সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথা বলেন, তাঁদের মনিটর করা হবে, ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাঁদের ব্যাপারটাও আমরা দেখব। তবে সরকারের সমালোচনা করা যাবে। তিনি বলেন, যাঁরা টক শোতে নানান কথা বলেন, তাঁদের বলতে চাই, তাঁরা কি একবারও বার্ন ইউনিটে পোড়াদের দেখতে খোঁজ নিয়েছেন, দেখতে গিয়েছেন? প্রাইভেট চ্যানেলগুলো থেকে টক শোয়ের মাধ্যমে তারা পেট্রলবোমা মারা বন্ধ করতে বলুক। তারা ভাবছে, কয়েক দিন পর কিছু একটা হবে। কী হবে? অন্যর ওপর নির্ভর না করে নিজেরা কিছু করেন। বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেট্রলবোমায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের সহায়তা দেয়া হবে।

ভিআইপি নিরাপত্তা নেবেন না কেজরিওয়াল

'আম আদমি' তথা সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দিল্লির ক্ষমতায় আসা অরবিন্দ কেজরিওয়াল কাজের ক্ষেত্রেও এর ছাপ রাখতে চান।
এজন্য চলাফেরার সময় 'জেড প্লাস' ক্যাটাগরির সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা নেবেন না তিনি। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ বাংলোতেও থাকবেন না দিল্লির এ হবু মুখ্যমন্ত্রী।
আম আদমি পার্টির নেতা (এএপি) নেতা কুমার বিশ্বাস জানান, 'আমরা এ ধরনের সব কিছুর বিরোধী। পুলিশের কাজ শুধু মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরার সময় ভিড় এড়ানো এবং এ সময় যাতে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা।'
ঘাজিয়াবাদের পুলিশ সুপার ভিপ্পিন তাদা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত দিল্লির নিকটবর্তী কেজরিওয়ালের ঘাজিয়াবাদের বাসার সামনে ১০ জন পুলিশ পরিদর্শক, ৫০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী কনস্টেবল থাকবেন।
তবে এ বিষয়ে এএপির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ও ভিআইপি নিরাপত্তা বলয় এড়িয়ে চলেন কেজরিওয়াল। এমনকি রাস্তায় ট্রাফিক সিগনালে লালবাতি জ্বললে তিনি সাধারণ মানুষের মতো গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত বাংলোতে না থেকে কেজরিওয়াল নিজের জন্য দুটি ফ্ল্যাট চেয়েছেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গত শনিবারের নির্বাচনে এএপি ৯৫ দশমিক ৭ শতাংশ আসন পেয়ে অভূতপূর্ব বিজয় লাভ করে। বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে শতকরা হিসেবে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড এটি। আগামী শনিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন কেজরিওয়াল।
জ্যেষ্ঠ এএপি নেতা মনীষ সিসদিয়া জানিয়েছেন, আগামী শনিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ কেন্দ্রীয় সব মন্ত্রী, লোকসভা নির্বাচনে দিল্লি থেকে নির্বাচিত বিজেপির ৭ সদস্য, বিধানসভার নির্বাচিত ৩ বিধায়ক এবং বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী কিরণ বেদিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
মোদিকে আমন্ত্রণ জানাতে এরইমধ্যে তার সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন কেজরিওয়াল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মোদির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে জানা গেছে।

ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি by বদরুদ্দীন উমর

ভারতে চরম ফ্যাসিবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল বিজেপির বিরাট উত্থান ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এক বিপজ্জনক ব্যাপার। বিজেপি সরকার ভারতকে হিন্দুদের দেশ, মুসলমান ও খ্রিস্টানরা ভারতে বহিরাগত, গীতা ভারতের জাতীয় গ্রন্থ ইত্যাদি বলে এক 'ঘর ওয়াপাসি' (গৃহ প্রত্যাবর্তন) আন্দোলন শুরু করে গরিব মুসলমান ও খ্রিস্টানদের হিন্দু ধর্মান্তকরণ করে ভারতকে শুধু হিন্দুদের বাসভূমিতে পরিণত করার যে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে, সেই অনুযায়ী গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ইত্যাদি রাজ্যে তারা ইতিমধ্যেই শত শত লোককে ধর্মান্তরিত করেছে। ভারতের ইতিহাস বলতে তারা শুধু প্রাচীন ভারতের ইতিহাসই বোঝে। তাতে ভারতের মধ্যযুগ এবং পাঠান মোগল ইতিহাসের কোনো স্থান নেই। কারণ সে ইতিহাসের কথা বললে ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে মুসলমানদের অবদানের কথা বলতে ও স্বীকার করতে হবে। এ কথা গত জানুয়ারি মাসেই হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সম্পাদক বিখ্যাত 'হিন্দু' পত্রিকায় লিখেছিলেন। ভারতে এ বিষয়টিই উল্লেখযোগ্য। সেখানে একদিকে যেমন ইতিহাস বিষয়ে সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের প্রচারণা আছে, তেমনি তার বিপরীতে আছে ভারতীয় লেখক, ঐতিহাসিক ও বুদ্ধিজীবীদের একাংশের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধিতা। এই বিরোধিতার কথা বিবেচনা করলে এটা মনে করা সঙ্গত যে, ভারতে এখন সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের যে আস্ফালন ও জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে, সেটা কোনো স্থায়ী ব্যাপার নয়। তার পরিবর্তন হবে। ভারত সম্পূর্ণভাবে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত না হলেও রাজনীতিতে তার প্রাধান্য এবং আধিপত্য খর্ব হবে। এটা যে হবে তার আভাস ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ২০১৪ সালের মে মাসে নির্বাচনে বিজেপির জয়জয়কারের পর থেকে নরেন্দ্র মোদি সরকার কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনে জয়লাভ করে এ পর্যন্ত তার জয়যাত্রা অব্যাহত রাখলেও তার শক্তি প্রতিহত হওয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে দিলি্লতে যে নির্বাচন হয়েছে তার ওপর সাতটি এক্সিট পোলের হিসেবে আম আদমি পার্টি বিজেপিকে পেছনে ফেলে সংখ্যারগরিষ্ঠতা অর্জন করার কথা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন যদি না-ও করে তাহলেও বিজেপির অগ্রগতি যে বড় রকম বাধার সম্মুখীন হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। দিলি্লর নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা দেখে নরেন্দ্র মোদি ও তার দল এ সরকারের হোমরাচোমরা নেতারা মরিয়া হয়ে যেভাবে মাঠে নেমেছিলেন, তার থেকেই বোঝার অসুবিধা নেই যে, পরিস্থিতির এই দিকটি বিজেপিকেও শঙ্কিত করেছে। তবে আবার লক্ষ্য করার ব্যাপার যে, খোদ ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি এই অবস্থা হলেও পশ্চিমবঙ্গে তাদের অবস্থার এমন উন্নতি হয়েছে যা এর আগে দেখা যায়নি। সেখানে বিজেপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেখানে বিজেপির কোনো স্থান কোনোদিন না থাকলেও পরবর্তী রাজ্য নির্বাচনে তাদের ভালো করার সম্ভাবনা। এর জন্য পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিই দায়ী। প্রতারক সারদা গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার কারণে তাদের প্রভাবশালী নেতারা এখন তদন্তের সম্মুখীন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভারতের তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এখন জেলে পাঠিয়েছে। মমতা ব্যানার্জির নিজের সততার ভাবমূর্তিও আর আগের মতো নেই। এ ব্যাপারে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা, এমনকি গ্রেফতার করার দাবিও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস এখন করছে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে পূর্ববর্তী সিপিএমের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জায়গা করে নিচ্ছে। এর ফলে পরবর্তী রাজ্য নির্বাচনে বিজেপির ক্ষমতা দখলের একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু যদি তারা সে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসতে না পারে, তাহলে তার পরবর্তী নির্বাচনে তাদের আর সেখানে ক্ষমতায় বসা সম্ভব নয়। কারণ সে সময়ের মধ্যে বিজেপির অগ্রগতির বাষ্প বড় আকারে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। নরেন্দ্র মোদি সরকার ভারতের কৃষক-শ্রমিক ও মধ্যবিত্তের স্বার্থ উপেক্ষা করে যেভাবে বড় পুঁজির খেদমতে নীতিনির্ধারণ ও কার্যকর করছে এবং সাম্প্রদায়িকতার আশ্রয় নিয়ে ভারতের রাজনীতি বিষাক্ত করার চেষ্টায় নিয়োজিত আছে, তার পরিণতিতেই এটা ঘটবে। নির্বাচনে জয়জয়কার হয়ে একক দল হিসেবে তারা যেভাবে সরকার গঠন করেছে, তাতে নরেন্দ্র মোদি এবং তাদের দল বিজেপির মধ্যে যে ক্ষমতা মদমত্ততা দেখা দিয়েছে তাতে তারা মনে করছেন যে, চরম সাম্প্রদায়িক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) পরিবারভুক্ত দল হিসেবে তারা সাম্প্রদায়িকতাকে আশ্রয় করে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবেন। কিন্তু ভারতে কংগ্রেসের আমলেও অঘোষিতভাবে সাম্প্রদায়িকতা নীতিনির্ধারণ ও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িকতাকে বিজেপি যে পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে, সেটা সম্ভব নয়। তাদের 'ঘর ওয়াপাসি' আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশে ও বিদেশে সমালোচিত ও নিন্দিত হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যে ইতিমধ্যেই দানা বাঁধতে শুরু করেছে, দিলি্লর নির্বাচনের মধ্যে সেটা দেখা যাচ্ছে। ২৬ জানুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে মোদি প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করে তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু তিনি এই গাঁটছড়াকে তার সাম্প্রদায়িক নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে যথেচ্ছভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করলেও সেটা যে সফল হওয়ার নয়, তা বারাক ওবামা তার সফরের তৃতীয় ও শেষ দিনে ছাত্রদের এক সভায় এবং কয়েকদিন আগে হোয়াইট হাউসের এক বক্তৃতায় মোদি সরকারের সাম্প্রদায়িক ভেদনীতির যে সমালোচনা করেছেন, তার থেকেই স্পষ্ট। ওবামা বলেছেন, সাম্প্রদায়িক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে ভারতের পক্ষে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। সাম্রাজ্যবাদী গাঁটছড়া সত্ত্বেও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এটা বোঝার অসুবিধা নেই যে, ভারতে মোদি সরকার সাম্প্রদায়িকতাকে যে পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর হয়েছে, সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে পরিস্থিতিকে সংকটজনক করবে। তাছাড়া এ ধরনের একটা সরকারকে নিঃশর্ত সমর্থন জানালে আমেরিকাতেও এর বিরুদ্ধে তাঁকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। শুধু মুসলমান নয়, খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধেও মোদির 'ঘর ওয়াপাসি' আন্দোলন যে এই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।
মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বেশ কয়েকটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। রাজধানী দিলি্লতে পর্যন্ত কয়েকটি চার্চে ভাংচুর হয়েছে। কংগ্রেসের দুর্নীতি এবং অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিজেপির উত্থান হলেও বস্তুত দেখা যাচ্ছে যে, কংগ্রেস যে মূল প্রতিক্রিয়াশীল নীতির ওপর দাঁড়িয়ে তাদের শাসন চালিয়ে এসেছে, বড় পুঁজির স্বার্থে যে গণবিরোধী নীতি কার্যকর করে এসেছে, তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বিজেপি তাকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাতেই নিযুক্ত আছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাদের হিন্দুত্বের কর্মসূচি। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে বিজেপির শাসন এবং তাদের তলোয়ার ঘোরানো প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ যে খুব উজ্জ্বল, এটা মনে করার কারণ নেই। একদলীয় শাসনের পরিবর্তে ভারত যে পরবর্তী নির্বাচনে কোয়ালিশন সরকারের যুগে ফেরত যাবে এমন সম্ভাবনাই এই পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
৯.২.২০১৫
সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে ২ শতাধিক অভিবাসী নিহত

ভূমধ্যসাগরে ইঞ্জিনচালিত একাধিক নৌকাডুবে ২০৩ অভিবাসী নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। খারাপ আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারণে ডিঙ্গি নৌকাগুলো ডুবে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র কারলোতা সামি বুধবার এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, 'নৌকাডুবির চারদিন পর ৯ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকী ২০৩ জন সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে গেছেন।' খবর- এএফপি, বিবিসি
গত শনিবার লেবাননের উপকূল থেকে নৌকাগুলো ইতালির উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, 'ইতালির লম্পেদুসা দ্বীপের কাছ থেকে দেশটির কোস্টগার্ড ৯ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। তারা ফরাসি ভাষায় কথা বলছেন। সম্ভবত এসব অভিবাসী পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্ট বা সেনেগালের নাগরিক।'
এর আগে গত সোমবার ভূমধ্যসাগরে ইতালির লম্পেদুসা দ্বীপের কাছে তীব্র শীতে মারা যাওয়া ২৯ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করে ইতালির কোস্টগার্ড। প্রচণ্ড বাতাস ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে ভিজে গেলে মারা যান ওই অভিবাসীরা।
গত এক বছরে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে এক হাজারের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে লাম্পেদুসার উপকূলে একটি মাছ ধরা নৌকাডুবিতে ৩৬৬ জন অভিবাসী মারা যান। এর পর ইতালি ‘মেয়ার নস্ট্রাম’ নামের একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল প্রতিষ্ঠা করে। তবে এক বছর পরেই দলটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কুতুবদিয়ার মালেকশাহ্ (রাহ.) বার্ষিক ফাতিহা ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি

কুতুবদিয়ার আবদুল মালেক আল-কুতুবী মুহিউদ্দীন আ’জমী (রাহ.) প্রকাশ ‘কুতুবদিয়ার মালেক শাহ্ হুজুর’ এর দু’দিন ব্যাপী ১৫তম বার্ষিক র্ওস ও ফাতিহা শরীফ আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় অনুষ্টিত হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ-লাখ ভক্তগণ বাবাজান কেবলার আধ্যাত্মিক এ মহা মিলন মেলায় সহজে শরীক হওয়ার জন্যে আগামী ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত হরতাল ও অবরোধ মুক্ত রাখাতে দরবার এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বিশেষ আহবান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশের যানবাহনসহ কুতুবদিয়ার বিভিন্ন জেটি ও পারাপারঘাটে সাধারণ ভক্ত-অনুরক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষক করেন দরবার পরিচালক শাহ্জাদা হজরত শেখ ফরিদ (ম.জি.আ.),এন্তেজামিয়া কমিটির মহা-সচিব আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির বাবুল, কুতুব শরীফ দরবার কুতুবদিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ শরীফ, সেক্রেটারী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধূরী, কোষাধ্যক্ষ কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবর, সহ-কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ তাহের, দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল-আযাদ, কুতুবদিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী ও দরবারের অফিস ইনচার্জ জাহেদুল ইসলাম। 
সংবাদবিজ্ঞপ্তি

টইটং বটতলী শফিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা'র দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সম্বর্ধানায় অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্

টইটং ইউনিয়ন এর একমাত্র এম.পি.ও ভুক্ত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
বটতলী শফিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা'র দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সম্বর্ধানা ও দোয়া মাহফিল ২০১৫
টইটং ইউনিয়ন এর একমাত্র এম.পি.ও ভুক্ত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বটতলী শফিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা'র দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সম্বর্ধানা ও দোয়া মাহফিল ২০১৫

সাগর-রুনি হত্যার ৩ বছর সেই তিমিরেই মামলার তদন্ত by নুরুজ্জামান লাবু

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। কিন্তু এই তিন বছরেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। মামলার তদন্তের কোন অগ্রগতি হয়নি। থানা পুলিশ, ডিবি ঘুরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত করছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। অনেককে ধরপাকড়, অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কোনও আশার বাণী শোনাতে পারেনি মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এককথায়, মামলার তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই। পুরোটাই থমকে আছে তদন্ত। এদিকে অন্তহীন অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যরা। ন্যায় বিচারের আশা ছাড়েননি এখনও। আশার প্রহর গুনছেন তারা। পরিবারের সদস্যদের এখনও বিশ্বাস, কোন একদিন হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হবে। খুনিরা ধরা পড়বে। তাদের বিচার হবে। সেই দিনের দিকে চেয়ে আছেন তারা। ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিবাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা রাতের কোন এক সময়ে সাগরু-রুনিকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই দিনই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেন। এর দু’দিনের মাথায় ১৩ই ফেব্রুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের সাংবাদিক সম্মেলনে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার। কিন্তু একে একে হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হলেও সেই ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’র কথা জানতে পারেনি কেউ। খুনের মোটিভ জানা যায়নি। ধরা পড়া তো দূরের কথা, খুনিদের চিহ্নিতও করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলটি প্রথমে তদন্ত শুরু করে শেরেবাংলানগর থানা পুলিশ। একদিনের মাথায় তা স্থানান্তর করা হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। একপর্যায়ে উচ্চ আদালতে ব্যর্থতা স্বীকার করলে আদালত মামলাটি র‌্যাবকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। বতর্মানে মামলাটির তদন্ত করছেন র‌্যাব ইনভেস্টিগেশন সেলের এএসপি ওয়ারেছ। তদন্তের দায়িত্ব নেয়ার পর আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের ২৬শে এপ্রিল হত্যাকাণ্ডের ৭৫ দিন পর কবর থেকে লাশ তুলে ভিসেরা পরীক্ষা করা হয়। ভিসেরা রিপোর্টে এই সাংবাদিক দম্পতিকে হত্যার আগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কিনা তা জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এমন আলামতও পাওয়া যায়নি। সূত্র জানায়, সাগর-রুনি ও হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ছুরি ও হাত-পা বাঁধার রশিসহ বিভিন্ন আলামত পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফরেনসিক গবেষণাগারে। এসব আলামত থেকে পৃথক দু’টি পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়ার কথাও ঘোষণা দেয় র‌্যাব। পরবর্তীতে এসব নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য সন্দেহভাজন আরও ২১ জনের ডিএনএ নমুনাও পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সেই রিপোর্ট হাতে পেয়েছে র‌্যাব। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হয়নি। কারও সঙ্গে সেই ডিএনএ নমুনা মিলেনি। র‌্যাব কর্মর্তারা অবশ্য বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো পরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো নিয়ে র‌্যাব কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত বলার মতো কোন অগ্রগতি নেই। র‌্যাব’র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মামলাটি প্রথম থেকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। রহস্য উন্মোচনে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। ডিএনএ প্রতিবেদন, বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা বিষয় নিয়ে র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে। মামলাটির রহস্য উন্মোচনে র‌্যাব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গ্রিলকাটা চোরসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে তদন্ত করে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পর ডিবি পুলিশ এক ছিঁচকে চোরকে নিয়ে রাজাবাজারে সাগর-রুনির বাসায় গিয়ে জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশও করায়। কিন্তু পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখির কারণে তা নিয়ে আর এগোয়নি পুলিশ। ঘটনার বাসার দুই দারোয়ান রুদ্র পলাশ ও এনামুলকে নিয়ে রহস্য তৈরি হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দিলে এনামুল পালিয়ে যায়। পরে এনামুলকে ধরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দশ লাখ টাকা পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু এনামুলকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেও কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ গত নভেম্বরে পলাশ ও এনামুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সূত্র জানায়, মামলার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা সাগর-রুনি হত্যা মামলায় পাঁচ ডাকাতকে গ্রেপ্তার দেখায়। তারা হলো- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, সাঈদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ। এই পাঁচজন মহাখালীর ডা. নিতাই হত্যাকাণ্ডের আসামি। তাদেরও কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোন তথ্য পায়নি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাদের কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেননি। এ ঘটনায় বর্তমানে দুই দারোয়ানসহ সাতজন কারাবন্দি রয়েছে। সূত্র জানায়, সাগর-রুনি হত্যকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের পারিবারিক বন্ধু তানভীর নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে কোন তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি র‌্যাব। বর্তমানে তানভীর জামিনে রয়েছেন।
তদন্ত সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রতি মাসেই একবার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কর্মকর্তা। এ পর্যন্ত আদালতে ৩২টি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদন দেয়া হয় গত ২রা ফেব্রুয়ারি। আগামী ১লা এপ্রিল পরবর্তী অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে প্রতিটি প্রতিবেদনের ভাষাই এক। তাতে রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বলা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ তিন বছর পার হয়ে গেলেও খুনিদের শনাক্ত করতে না পারায় ক্ষোভ আর হতাশা ব্যক্ত করেছেন পরিবারের সদস্যরা। মামলার বাদী ও নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তাদের কিছু জানানও না। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হবে না এমন মন্তব্য করে নওশের আলম রোমান বলেন, আশা পুরোপুরি ছেড়ে দিলেও অপেক্ষায় আছি, কোন একদিন হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ঠিকই উন্মোচন হবে। ন্যায় বিচার হবে। রোমান বলেন, সাগর-রুনি দম্পতির একমাত্র সন্তান মেঘ যতই বড় হচ্ছে তত বাবা-মাকে হারানোর কষ্ট অনুভব করতে পারছে। মেঘ মাঝে-মধ্যেই মা-বাবার কথা মনে করে কান্না করে। তাকে কেউ কোন সান্ত্বনা দিতে পারে না। রোমান জানান, তাদের মা নুরুন্নাহার বেগমের বয়স হয়েছে। তিনিও তার জীবদ্দশায় মেয়ে-জামাই হত্যার বিচার দেখে যেতে চান।
মানববন্ধন: সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। ডিআরইউ’র আয়োজনে এতে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।