Friday, April 29, 2016
ওবামার পররাষ্ট্রনীতি উদ্ভট উদ্দেশ্যহীন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল হলে আন্দোলনের হুমকি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন শাহাদাত
জামিনে মুক্তি পেয়ে কিছুদিন ধরে নিয়মিত অনুশীলন করছেন শাহাদাত। তার দাবি, জীবিকার প্রয়োজনে নিজের পেশায় আবার যুক্ত হওয়ার অনুমতি তাকে দিয়েছেন আদালত। বিসিবি অবশ্য বহাল রেখেছে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে নারাজ বোর্ড। তাই চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে খেলতে পারছেন না এই পেসার। নিলামের আগে খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশের সময় ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস বলেছিল, বিসিবি তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েই শুধু তাকে ঢাকা লীগে খেলার অনুমতি দেয়া হবে। মানবিক দিক বিবেচনা করে ক্রিকেটে তাকে ফিরতে দেয়ার আর্জি জানিয়ে শাহাদাত বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দেশকে ও দেশের ক্রিকেটকে আরও অনেক কিছু দেয়ার আছে আমার। ক্রিকেটের স্বার্থে, জীবিকানির্বাহের স্বার্থে দ্রুত ক্রিকেটে ফিরতে চাই। চলতি ঢাকা লীগ দিয়েই ফিরতে চাই মাঠে। দেশবাসী, ক্রিকেট বোর্ডসহ সবার কাছে মিনতি করছি, অতীতের ভুল শুধরে আগের শাহাদাত হয়ে ফেরার সুযোগ দেয়া হোক আমাকে।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবারও বিচারকের আসনে নিপুণ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওদের কান্নার শেষ নেই by সাখাওয়াত কাওসার

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, নারী কর্মী পাঠানোর পর থেকেই এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। বেশির ভাগ নারী কর্মীই বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এসব বিষয় সরকারের নীতিনির্ধারক মহল অবগত রয়েছে। তবে সময় এসেছে, আমাদের সরকারের উচিত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ওইসব দেশকে জানানো। নইলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়বে বৈ কমবে না।
এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন ‘আইন ও সালিস কেন্দ্র’-আসক পরিচালক নূর খান লিটন। তিনি বলেন, যেখানে আমাদের শ্রমিকদের মানবাধিকার নিশ্চিত হবে না সেখানে শ্রমিক পাঠাতে হবে কেন? সরকারের উচিত হবে এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অফিসিয়ালি অবহিত করা। যারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সরকারকেই যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। এ জন্য তাদের বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয়ও গঠন করা হয়েছে। এখন যদি ওই মন্ত্রণালয় থেকে প্রবাসীরা নিগ্রহ এবং অবহেলার শিকার হন, আর তা দুর্বৃত্তদের পক্ষে যায় সেটা খুবই লজ্জাজনক। মন্ত্রণালয়ের প্রবাসীকল্যাণ বোর্ডের পরিচালক নূরুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নীতিমালায় আছে দুর্ঘটনা এবং মুমূর্ষু অবস্থায় ফিরে এলে এক লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার।
যাত্রাবাড়ীর ভুক্তভোগী ফারহানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদকাসক্ত স্বামীর দিনের পর দিন নির্যাতন ও আর্থিক যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে এবং সিকদার ট্রাভেলসের মালিক সিরাজ সিকদারের কথায় বিশ্বাস করে ৪০ হাজার টাকায় লেবাননে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মাসে ২০ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন। আশা করেছিলেন হয়তো এর থেকেই অন্তত দুই বেলা সন্তানদের মুখে খাবার জুটবে। তবে সুখ তার কপালে সয়নি। ২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পাসপোর্টে লেবাননের ভিসা থাকলেও প্রতারক চক্র কৌশলে তাকে পাঠিয়ে দেয় সিরিয়ায়। ঠাঁই হয় একটি ক্যাম্পে। দালালদের কথামতো কাজ করতে রাজি না হওয়ায় সেখানে টানা ছয় মাস চলে তার ওপর স্টিমরোলার। দুই দফা লুকিয়ে নির্যাতন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। তবে প্রতিবারই সিরিয়ার পুলিশ তাকে তুলে দেয় দালালদের হাতে। ওই ক্যাম্পে ছিল প্রায় ২৮ জন বাংলাদেশি নারী। দালালদের প্রস্তাবে রাজি না হলেই দেওয়া হতো ইলেকট্রিক শক। নির্যাতনের একপর্যায়ে একদিন তার হাতও ভেঙে দেওয়া হয়। চিত্কার করলেই মুখে গুঁজে দেওয়া হতো কাপড়। কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ফেলে রাখা হতো তাকে। যৌন নির্যাতন ও বিভিন্ন মাত্রার শারীরিক নির্যাতনে একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ ফারহানাকে দিয়ে কোনো কাজ করানো সম্ভব না হওয়ায় গত বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ফেরত পাঠায় দালাল চক্র। এরপর থেকে দফায় দফায় হতদরিদ্র মা ফারহানাকে চিকিৎসা করান। তবে এখন চিকিৎসা করতেও পারছেন না তিনি। পরবর্তীতে ফারহানার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-৩ এর একটি দল পল্টন এলাকা থেকে দালাল চক্রের দুই হোতা আল হাসিব রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জসীম আহমেদ, শিকদার ট্রাভেলসের মালিক সিরাজ শিকদারসহ ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তবে কিছু দিনের মধ্যেই তারা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা কুড়িগ্রামের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘হামরা কোনঠে যামু ভাই? হামার কথা কাহো শুনে না। হামরা তো গরিব!...।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার শান ট্রাভেলসে গেছিনু। হামাক খেদাই দিছে। মন্ত্রণালয়ে গেছিলাম। তারাও কিছু করল না।’
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার বলেন, ঘটনার মানবিকতা উপলব্ধি করে এ বিষয়ে বিশেষ তত্পরতা চালানো হয়। তবে রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। হতাশার কথা হলো, অনেক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিককে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে কিছু দিনের মধ্যেই তারা জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় বিদেশে শ্রমিক পাঠাচ্ছে। এখন বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অনেক নারী শ্রমিকের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উপকূল সমৃদ্ধ হলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে by অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এতোই ব্যাপক ও বি¯তৃত যে, উপকূল ও উপকূলবাসীকে রক্ষার জন্য যথাযথ ও সময়োচিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমৃদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় তিন কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কেননা, জলবায়ুতে উষ্ণতার কারণে যদি সমুদ্রের উচ্চতা ৪৫ সে. মি. বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এলাকা তলিয়ে যাবে। এমন কি, যদি ২১০০ সাল নাগাদ এক মিটার সমুদ্র সমতলের পরিবর্তন ঘটে, তবে বাংলাদেশের তিন মিলিয়ন হেক্টর জমি প্লাবিত হতে পারে। এই প্লাবনযোগ্য অঞ্চলগুলোর সবগুলোই এদেশের উপকূলীয় অঞ্চল। এছাড়া, উপকূলীয় অঞ্চলের উপযুক্ত সুরক্ষা না হলে এদেশের সাত কোটি লোক বিভিন্নভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আক্রান্ত হবে। উপরোক্ত আলোচনা থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পরিধি এবং গুরুত্ব নিঃসন্দেহে আরো সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।
দুঃখের বিষয়, আমরা উপকূলও বুঝি না, উপকূলের গুরুত্বও বুঝি না। তাই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বিরাজ করছে। এছাড়াও, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বসতবাড়ি নির্মাণের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে কৃষিজমির উপর। শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপর্যাপ্ততার কারণে সঠিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার অভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের লোকেরা বিরাজমান সমস্যাবলির কাক্সিক্ষত সমাধান করতে সক্ষম হচ্ছে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপর্যাপ্ত ব্যবহার ও প্রয়োগের কারণে উন্নত চাষাবাদ কিংবা সুপরিকল্পিত বিজ্ঞানসম্মত বনায়ন-কিছুতেই কাক্সিক্ষত সাফল্য ও অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর কাক্সিক্ষত মান অর্জন করতে হলে প্রয়োজন যুগ ও বিশ্বের সাথে তাল মেলানো উন্নয়নমুখী গতিশীলতা এবং এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ গতিশীলতার জন্য সরকারের আন্তরিক ও গতিশীল পদক্ষেপ অপরিহার্য।
বাংলাদেশের উপকূলভাগ অনেক ব্যাপক এবং বি¯তৃত। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এই উপকূলভাগেই অবস্থিত। মাছ, চিংড়ি, লবণ, কৃষি ও বনায়ন, পর্যটন ও বিনোদন এলাকা - সব দিক দিয়ে দেশের জাতীয় আয় ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে এগুলো সর্বোচ্চ সহায়ক। অথচ দেশের সবচেয়ে উপেক্ষিত অঞ্চলও এই উপকূলীয় অঞ্চলসমুহ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো - প্রভৃতিতে আক্রান্ত হয়ে জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া এ অঞ্চলগুলোর নৈমিত্তিক বৈশিষ্ট্য। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই এলাকাসমুহের উন্নয়ন সাধন ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, সর্বোপরি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকূলবাসীকে সুপ্রতিষ্ঠিতকরণ সময়ের দাবি।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল এদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমুহের উপর বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কথা এদেশের মানুষ ভোলেনি, ভুলে যাওয়ার কথাও নয়। এ প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের ১৬টি জেলার ৪৭টি উপজেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৪ লক্ষাধিক মানুষ ও অসংখ্য গবাদি পশু প্রাণ হারায়। এই অসংখ্য মানুষের মৃত্যু এবং অগুন্ত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি জনম জনম ধরে এদেশের উপকূলবাসীর জন্য এক মর্মন্তুদ ও করুণ ইতিহাস হয়ে থাকবে। অথচ ২৯ এপ্রিল যে শিক্ষা উপকূলবাসীসহ এদেশের মানুষকে দিয়েছে সে শিক্ষা অনুসারে এখনো পর্যন্ত নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ের পর বয়ে গেল ১৯৯৭ এর ঘূর্ণিঝড়সহ সাম্প্রতিক প্রলয়ংকরী মর্মান্তিক সিডর যার ভিকটিমেরা এখনো বঞ্চিত ও উপেক্ষিত অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। উপকূলীয় মানুষদের জন্য ঘূর্ণিঝড়, সিডর ইত্যাদি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে আরো অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলবাসী সর্বশান্ত হবে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ইত্যাদির আক্রমণে উপকূলীয় অঞ্চলের জান-মাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৫৪, ১৯৬৮, ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল নিকট অতীতের ভয়াবহতম। ১৯৭৪ সালের বন্যার কারণে ফসলহানিতে সংঘটিত ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ লক্ষ লক্ষ প্রাণ সংহার করেছে। ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহতম। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৩টি এ বন্যায় ডুবে যায়, ৩০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং ৪৫ লাখ হেক্টর জমির ফসল ধ্বংস হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল ইতিহাসের দীর্ঘতম। ৩ মাস স্থায়ী এ বন্যায় দেশের ৫৪টি জেলা জলমগ্ন হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় দেশের ৫৬টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি প্রাথমিক হিসাব মোতাবেক এ বন্যায় মোট ৪২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল এ বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিকট এক মূর্তিমান আতঙ্ক। গত ১৮৫ বছরে অন্তত ৫১ বার ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাসের হামলায় পড়েছে বাংলাদেশ। তবে ১৯৬০, ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৯১ এবং ১৯৯৭ সালের জলোচ্ছ্বাস ছিল বিভীষিকাময়। ১৯৭০ সালের সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় বিশাল এলাকাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল এবং এতে ৫ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। ১৯৮৫ সালের ঘূর্ণিঝড়ে উড়িরচর নামক জনপদ সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ে।
এটা সকলেরই নিকট সুবিদিত যে, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মাছ, চিংড়ি এবং লবণ এদেশের অর্থনীতির জন্য অতীব অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এদেশের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির সাথে এগুলোর সম্পর্ক নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য। অথচ বেশ অবাক লাগে যখন দেখি এই উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর উন্নয়নের ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, পার্বত্য অঞ্চলগুলোর পক্ষ থেকে অনুরূপ কোন অবদান না থাকলেও সরকারি সহযোগিতায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় দিন দিন এগুলো সমৃদ্ধ হতে সমৃদ্ধতর হয়ে যাচ্ছে। আসলে আমরা যে আমাদের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি বুঝি না, এটা আমাদের জাতীয় দোষ। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সবক্ষেত্রেই এটি সন্দেহাতীতভাবে সত্য। এখন সময় এসেছে, অতীতের ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর যথার্থ মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন করা। এ অগ্রগতি অর্জনের বিস্তারিত উপায় সম্পর্কে আমাদেরকে অবশ্যই ভাবতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সরকারি রেস্ট হাউজ নির্মাণপূর্বক যদি সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে সেগুলো টেন্ডার দেওয়া হতো, তাহলে একদিকে যেমন উপকূলীয় এলাকার বিকাশের পথ সুগম হতো, অপরদিকে উত্তরোত্তর বিকাশ ও সমৃদ্ধির ফলে জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পেতো। এছাড়াও, উপকূলীয় এলাকাগুলো সরকারের øেহচ্ছায়ায় নিয়ন্ত্রিত হতো বিধায় উপকূলের মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনা লাভের মাধ্যমে সৃষ্টিশীল অভিযাত্রায় পরিকল্পিত উপায়ে এলাকার কাক্সিক্ষত বিকাশ ও মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করতো , ফলশ্র“তিতে অতি দ্রুত বদলে যেতো উপকূলীয় মানুষের জীবন। উদাহরণস্বরূপ, মগনামা, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার, আনোয়ারা, বাঁশখালী, মহেশখালী ও হাতিয়ায় সরকারি রেস্ট হাউজ স্থাপিত হলে উক্ত এলাকার অনেক অগ্রগতি অর্জিত হতো, সরকারেরও আয় বাড়তো। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে যে সমস্ত খাস জমি পড়ে আছে, সেগুলোকে ভূমিহীন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষদেরকে বরাদ্দ দিলে ভালো হয়; এক্ষেত্রে কোন এনজিওর মাধ্যমে এটি কার্যকর না করে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে করলেই ভালো হয়। এছাড়াও, খাসজমিগুলোর বরাদ্দসহ যে কোন সরকারি দান-অনুদান বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব ঠেকাতে হলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজনীয় মনে করছি। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ১৯৯১-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের শুমারি এখনো পর্যন্ত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই অদ্যাবধি চরম দুর্দশায় জীবনযাপন করছেন। অবিলম্বে উক্ত শুমারি সম্পন্ন করে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করা প্রয়োজন।
উপকূলীয় এলাকাগুলোর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল সরকার কর্তৃক একটি উপকূলীয় মন্ত্রণালয় এবং একটি উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হওয়া। এদেশে রয়েছে অনেকগুলো উপকূলীয় জেলা এবং দেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হলো এই উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। মাছ, চিংড়ি, লবণ, পর্যটন ও বিনোদন এলাকা - সর্বদিক দিয়ে দেশের জাতীয় আয় ও উৎপাদন অনেকাংশেই এগুলোর উপর নির্ভরশীল। অবাক হই যখন দেখি পার্বত্য এলাকাগুলো থেকে অনুরূপ কোন আয় ও উৎপাদন না পাওয়া সত্ত্বেও সব সময় পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে কোন সরকার কর্তৃক গঠিত হয় অথচ উপকুলের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোন সরকারের আমলেই কোন মন্ত্রণালয় গঠিত হয় না, এমনকি, কোন উপকূলের উন্নয়ন বোর্ডও গঠন করা হয় না। কিন্তু এটা সুস্পষ্ট যে, এ ধরনের মন্ত্রণালয় ও বোর্ড গঠিত হলে জাতীয় আয়, উৎপাদন ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতো।
উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে শিক্ষার উন্নয়ন ঘটাতে হবে, বাড়াতে হবে শিক্ষার হার। আরো অনেক স্কুল ও কলেজ স্থাপন করতে হবে। কক্সবাজারে শিক্ষার প্রসারের জন্য এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়। সুন্দরবন, কুয়াকাটা, নিঝুম দ্বীপ ও সেন্ট মার্টিনসহ দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও প্রসারকে ত্বরান্বিত করতে হবে। কক্সবাজার ইনানী বীচকে করতে হবে আরো সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয়। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, এতে বৈদেশিক আয় অনেক বেশি বাড়বে। ভারত ও মায়ানমার সংশ্লিষ্ট সমুদ্র সীমার বিজয়টিকে কাজে লাগাতে হবে এবং এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন ও আয় বাড়াতে হবে। উপকূলবাসীকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উৎসাহিত ও পুরস্কৃতকরণমূলক বনায়ন কার্যক্রমটিকে আরো জোরদার করতে হবে যাতে উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ সব ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।
পরিশেষে বলবো, উপকূলীয় অঞ্চল মানেই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমুহ। বাংলাদেশের প্রকৃত ও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলোর উপর নির্ভরশীল। তাই এই এলাকাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানপূর্বক সরকার ও জনগণ উভয়কেই আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হতে হবে উপকূলের সকল সমস্যা সমাধানপূর্বক কাক্সিক্ষত মান অর্জনের মাধ্যমে সার্বিক বিকাশ সাধন করতে। এতে করে খুব অল্প সময়েই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জাতি উত্তরোত্তর বৃহত্তর সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
![]() |
| অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ |
অধ্যক্ষ, মেরন সান কলেজ; চেয়ারম্যান, মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন;
সভাপতি, সার্ক কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ;
সহসভাপতি, উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ▼ 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





