Saturday, February 20, 2016
ভারমুক্ত হলো বৃক্ষমানবের ডান হাত
![]() |
| অস্ত্রোপচার শেষে আবুল বাজানদারের হাত দেখাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। -ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সৌজন্যে |
অস্ত্রোপচার শেষে আবুল বাজনদার হাসি মুখে বললেন, ‘দুর্বল শরীর তো। ভয় লাগছিল। ভালো লাগছে এখন।’
আজ সকাল সোয়া নয়টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আবুল বাজনদারের অস্ত্রোপচার হয়। ‘ট্রিম্যান সিনড্রোমে’ ভোগা বিশ্বের চতুর্থ রোগী হিসেবে দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দেন তিনি।
অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে চিকিৎসকেরা আজ সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অস্ত্রোপচারটি তাঁদের ভাষায় ‘যথেষ্ট জটিল’ ছিল। তবে রোগীর হাসি মুখ তাঁদের শঙ্কামুক্ত করেছে।
মেডিকেল বোর্ড এবং বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম বলেন, ‘চারপাশ থেকে গাছের শেকড়ের বৃদ্ধির কারণে ওর আঙুলগুলো চিহ্নিত করা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। পাঁচটি আঙুলই আমরা খুঁজে পেয়েছি। আশার কথা আঙুলগুলোয় স্বাভাবিক রক্ত চলাচল আছে। এটি একটি ভালো লক্ষণ।’
প্রথমে দুটি জটমুক্ত করার কথা থাকলেও, পরে পাঁচটি আঙুলেই অস্ত্রোপচার করা হয়। এ বিষয়ে আবুল কালাম বলেন, ‘বেশ দ্রুতই আমরা দুটি আঙুল খুঁজে পাই। পরে বোর্ডের সবার সম্মতিতে পাঁচটি আঙুলেই অস্ত্রোপচারের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিই। আপনি যদি সাত দিন হাতে কোনো কাজ না করেন, অষ্টম দিনে হাতটি ঠিকমতো কাজ করবে না। আবুল বাজনদারের হাতটি প্রচণ্ড ভারী হয়েছিল। অকেজো হয়ে পড়েছিল। কিন্তু রক্ত সঞ্চালন থাকায় আমরা আশা করছি, তিনি হয়তো সাধারণ কাজকর্ম করতে পারবেন।’
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা অস্ত্রোপচারের পুরো প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেন। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ‘এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস’ বা ‘ট্রি-ম্যান’ (বৃক্ষমানব) সিনড্রোমে আক্রান্ত হন আবুল বাজনদার। এই ভাইরাসের সংক্রমণে ক্যানসার হয়ে থাকে। অস্ত্রোপচারের আগেই ক্যানসার আছে কি না সে পরীক্ষাসহ, প্রয়োজনীয় বাকি সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা।
অস্ত্রোপচারের জন্য আজ আবুল বাজনদারকে পুরোপুরি অচেতন করা হয়নি। বোর্ড বলছে, পুরোপুরি অচেতন করা হলে হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা থাকে। তাঁর বেলায় শুধু মাত্র ডান হাতটি অবশ করা হয়েছে। ছুরি ব্যবহার না করে চিকিৎসকেরা ইলেকট্রো সার্জারি করেন। এতে অস্ত্রোপচার হয়েছে দ্রুত, রক্তপাত হয়েছে খুবই কম।
ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডে আরও তিনজনকে যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারির বিভাগীয় প্রধান এ বি এম খুরশীদ আলম ও মাইক্রোবায়োলজির প্রধান শহীদুল ইসলাম ছাড়াও দেশের অন্যতম চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এম ইউ কবীরকেও বোর্ডে যুক্ত করা হয়। এম ইউ কবীর বলেন, ‘আগামী সোমবার আবুল বাজনদারের হাতের ব্যান্ডেজটি খোলার কথা রয়েছে। এরপর আমরা লো লেভেল রাইট থেরাপি দেব। এতে তাঁর হাতে রক্ত চলাচল বাড়বে, ব্যাকটেরিয়া দমন করা সম্ভব হবে, স্নায়ুর কার্যকারিতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।’
পরের অস্ত্রোপচারটির জন্য কমপক্ষে তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে বলেও জানান মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। আবুল কালাম বলেছেন, আবুল বাজনদারের চিকিৎসায় রয়াল মেলবোর্ন হাসপাতাল ও লন্ডন স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
তবু শঙ্কা: আপাতত ভারমুক্ত হলেও নতুন করে আবুল বাজনদারের হাতে আবারও এমন বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আবুল বাজনদার যে রোগটিতে ভুগছেন তার উৎপত্তি জিনগত কারণে। ডিএনএ’র ঠিক কোন জায়গাটিতে অসংগতি সেটি ধরতে হলে ‘ডিএনএ ম্যাপিং’ করতে হবে। ডিএনএ ম্যাপিং এর কাজ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে চলছে। ওই প্রতিবেদন হাতে পেতে আরও প্রায় দুই মাস সময় লাগবে। প্রতিবেদন হাতে পেলে আবুল বাজনদারের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে হতে পারে।
পরিবারের সদস্যরা খুশি: পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে থাকা আবুল বাজনদারের কাছে দাঁড়িয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন কথা বলছিলেন। আবুল বাজনদার হাসি মুখে টুকটাক কথা বলছিল চিকিৎসকদের সঙ্গে। মাথার কাছে তখন দাঁড়িয়ে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েটি।
কথা হয় আবুল বাজনদারের মা আমিনা বেগমের সঙ্গে। এই মায়ের এখন একমাত্র চাওয়া ছেলেকে ফিরে পাওয়া। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বেশি কথা বলতে দেয়নে। তবে ছেলে ভালো আছে বলিছে। আপনারা সবাই দোয়া করেন, ছেলেটা যেন আমার কোলে ফিরি আসে।’ সন্তুষ্ট আবুল বাজনদারের বাবা মানিক বাজনদারও। দরিদ্র পরিবারের প্রায় পঙ্গু ছেলেটির কোনো দিন চিকিৎসা হবে-সে আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রেসিডেন্ট জিয়া তখন সার্কিট হাউসে ঘুমিয়ে
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের সদ্য প্রকাশিত ‘বিএনপি সময়-অসময়’ শীর্ষক বইয়ে এসব কথা লেখা হয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, দুই দিনের মধ্যেই এই বিদ্রোহের অবসান হয়। ১ জুন রাত আড়াইটায় মঞ্জুর কয়েকজন সহযোগীসহ সেনানিবাস ছেড়ে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। পথে হাটহাজারী থানার একদল পুলিশের হাকে ধরা পড়েন। তাকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে এনে হত্যা করা হয়। বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা গ্রেপ্তার হন। কেউ কেউ আত্মসমর্পণ করেন। বিদ্রোহীদের অন্যতম মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
৩০ মে ঢাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হওয়ার এবং এতে জিয়াউর রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। জিয়ার মৃত্যুসংবাদ শুনে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। ওই সময়ের ঘটনাবলির একটা চিত্র পাওয়া যায় ছাত্রদলের নেতা সাজ্জাদ হোসেনের বয়ান থেকে:
ভোরে আমি শহীদুল্লাহ হল থেকে কয়েকজন সঙ্গীসহ গোলাপ শাহ মাজারের কাছে নিউ স্টার রেস্তোরাঁয় নাশতা খেতে গিয়েছিলাম। রেডিওতে জিয়া হত্যার খবর শুনে হলে ফিরে যাই। তারপর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে রওনা হই মিন্টো রোডে ভাইস প্রেসিডেন্ট সাত্তারের বাড়ির উদ্দেশে। জিপিওর মোড়ে আসতেই দেখলাম অনেক লোক জড়ো হয়েছে। জালাল একটা স্লোগান দিল- এক জিয়ার রক্ত থেকে লক্ষ জিয়া জন্ম নিবে। কয়েক হাজার লোকের ভিড় জমে গেল। আমারা মিছিল করে মিন্টো রোড হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গেলাম। তারপর জহুরুল হক হলে। এই প্রথম ছাত্রদলের মিছিল নিয়ে জহু হলে ঢুকলাম। তারপর শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিল শেষ হলো। সন্ধ্যায় ৩০ টা বেবিট্যাক্সিতে ‘তাহের মাইক’ লাগিয়ে পরদিন ঢাকা স্টেডিয়ামে জিয়ার জানাজা হবে এটা প্রচারের ব্যবস্থা করলাম। ইচ্ছে করেই ‘গায়েবানা’ শব্দটার ব্যবহার করিনি। ভেবেছিলাম মানুষ মনে করবে জিয়ার লাশ এসে গেছে এবং তারা বেশি সংখ্যায় জানাজায় হাজির হবে।
সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শামসুল হুদা চৌধুরী, শাজ আজিজ আর ডা. মতিন ছিলেন। তারা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনবে ডেকে এনে হম্বিতম্বি করলেন-কার হুকুমে জানাজা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তারা বললেন, ক্যান্টনমেন্টের পরিস্থিতি আমরা জানি না। বিশেষ করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। অ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট জানাজায় যাবেন না।
৩১ মে সকাল নয়টায় ঢাকা স্টেডিয়ামে জানাজা হলো। মোনজাতের ঠিক আগের মুহূর্তে জাস্টিস সাত্তার এসে উপস্থিত হলেন। তখন এটা অফিসিয়াল জানাজা হয়ে গেল। জিয়ার লাশ ঢাকায় আসার পর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হলো স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এই আমাদের পুলিশ! by আব্দুল কাইয়ুম
আমরা সেদিন খুব হেসেছি। ওটা যে নেহাতই গল্প, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল না। অবশ্য মজার সেই সম্পাদকীয় সেদিন লেখা হয়েছিল। কারণ, ও রকমই একটি কাণ্ড পুলিশ ঘটিয়েছিল। হুবহু এক ছিল না। তাই গল্পটি খাপ খাওয়ানোর জন্য কিছু কসরত করতে হয়েছিল।
আজ প্রায় ২৫ বছর পর হঠাৎ একটি খবর দেখে বুঝলাম, হুবহু ওই রকম ঘটনা এখনো ঘটছে। অপরাধ করেছেন ছোট বোন আর পুলিশ ধরে এনেছে বড় বোনকে। বিনা অপরাধে তাঁকে জেলে আটক থাকতে হয়েছে প্রায় তিন মাস। বড় বোনের নাম লাকি আর ছোট বোনের পাসপোর্টে নাম ছিল লাকি আক্তার মুক্তা। সোনা চোরাচালানের মামলায় আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ বড় বোনকে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকায়। যাত্রাবাড়ী থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) বলেন, ‘বড় বোনের নাম লাকি। আবার ছোট বোনের নামের এক জায়গায় লাকি রয়েছে। এই দুজনের স্বামীর নামেও কিছু মিল আছে। বড় বোনের স্বামীর নাম হারুন দেওয়ান আর ছোট বোনের হারুন-অর-রশীদ। নামের মিল থাকায় লাকিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করি (প্রথম আলো অনলাইন, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)!’
পরে ছোট বোন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বড় বোন মুক্তি পান, ছোট বোন জেলে যান।
এই আমাদের পুলিশ। এটা পুলিশের ভুল না ভেল্কিবাজি, তা কে জানে।
আজকাল পুলিশের নানা কাণ্ড নিয়ে কাগজে খবর বেরোয়। সেদিন মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদের কাছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে পুলিশ রিকশা থেকে নামিয়ে একটি দোকানে ঢোকায়। দোকানিকে বের করে দিয়ে পুলিশ সেই ছাত্রীকে হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিচার বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে আদালত ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে চা-দোকানি বাবুল মাতবরকে জ্বলন্ত চুলায় ফেলে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় মিরপুরের শাহ আলী থানার তৎকালীন ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পায় পুলিশেরই গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি।
এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কি না, তা পুলিশকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেখাতে হবে। আমরা জানি, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আমাদের এই পুলিশই হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। আমরা সব সময় পুলিশের সেই আত্মোৎসর্গ গর্বের সঙ্গে স্মরণ করি। তাদের সেই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল রণাঙ্গনে আমাদের প্রেরণার উৎস।
স্বাধীন বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময় পুলিশকে বেশ বুদ্ধিদীপ্ত ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। বিশেষভাবে আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশ ছিল গণ-আন্দোলনের পক্ষে। ছাত্ররা তখন প্রায়ই পথসভা করতেন এবং পত্রিকায় কর্মসূচি ঘোষণা করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হতো কোথা থেকে কোন সময়ে পথসভা শুরু হবে। পত্রিকার খবর দেখে কর্মীরা সেই সব স্থানে সমবেত হতেন, স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্লোগান দিয়ে রাজপথে মিছিল বের করতেন।
কিন্তু মুশকিল হলো, মিছিলের স্থান ও সময় শুধু আন্দোলনের কর্মীরাই নন, পুলিশও পেয়ে যেত। ছাত্ররা দেখতেন কর্মীদের আগে পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলেছে। প্রায়ই পুলিশের ধাওয়ার মুখে মিছিল পণ্ড হতো। পরে পুলিশই একটি বুদ্ধি বাতলে দিল। তারা ছাত্রদের পরামর্শ দিল, পত্রিকায় মিছিলের স্থান সদরঘাট উল্লেখ করে যেন বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে মিছিল শুরু করা হয়। কর্মীদের যেন গোপনে পরিবর্তিত স্থান জানিয়ে দেওয়া হয়। তা হলে পুলিশ যাবে সদরঘাটে আর গরম মিছিল বের হবে বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে। আন্দোলনও বেগবান হবে, পুলিশেরও চাকরিতে অসুবিধা হবে না।
এই বুদ্ধিটি পুলিশই দিয়েছিল। ফলে অনেক মিছিল-মিটিং সেই সময় নির্বিঘ্নে করা সম্ভব হতো।
মুশকিল হলো, আমাদের সমাজ এখনো স্বতঃস্ফূর্ততায় বেশি প্রভাবিত। ঝোঁকের মাথায় কাজ করা মানুষের অভ্যাস। ১৬ কোটি মানুষের ছোট এই দেশে শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন। তাই বিচ্যুতি সহজাত। এখানেই আমাদের চ্যালেঞ্জ।
১৯৭৭ সালে একবার রাজনৈতিক কারণে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে আসে। কিন্তু প্রথমে সেই কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের কথা না বলে কৌশলে থানায় নিয়ে যেতে চান। আমি সরল মনে তাঁর সঙ্গে থানায় যেতে চাই। কিন্তু লক্ষ করি, সঙ্গের একজন পুলিশ সদস্য চোখের ইশারায় থানায় যেতে মানা করছেন। সেই পুলিশের সহযোগিতামূলক মনোভাব আমি বুঝতে পারিনি। তাই থানায় গিয়ে বিপদে পড়ি। কিছু সময় আটক ছিলাম। পরে সেই পুলিশ সদস্য আমাকে বললেন, ‘চোখের ইশারা বোঝেন না? আমি আপনাকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আপনি রাজনীতি করেন, দেশের জন্য কাজ করেন, আপনাকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম।’
এই পুলিশ আমাদেরই কাছের মানুষ। সব পেশায়ই এদিক-ওদিক কিছু হয়। তার মানে সবাইকে এক কাতারে ফেলে দেখতে হবে, তা নয়।
কয়েক বছর আগে আমার ঘনিষ্ঠ একজন বিসিএস দিয়ে পুলিশ বিভাগে চাকরিতে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স, এরপর আবার এমবিএ করে তিনি পুলিশে যান। কেন? জিজ্ঞেস করলে বলেন, তিনি লক্ষ করেছেন যে পুলিশে ভালো ও উন্নত মানের দক্ষ কর্মকর্তা গড়ে তুলতে আমেরিকা-ইউরোপ উদ্যোগী হয়েছে। তাই তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে পুলিশ দেশের জন্য খুব মর্যাদাসম্পন্ন একটি শক্তি হিসেবে দাঁড়াবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অবদান রাখার জন্য তিনি পুলিশ ক্যাডার বেছে নিয়েছেন।
এখন পুলিশে অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন, যাঁরা মানবাধিকার ও অন্যান্য বিষয়ে বিলাত-আমেরিকার নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে এসেছেন। আমাদের পুলিশ নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আছে। তবে অনেক ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন দেখা দেয়।
বিশ্বের উন্নত অনেক দেশেও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কিন্তু পুলিশের যেকোনো বিচ্যুতির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে ওই সব দেশের মানুষ পুলিশের ওপর আস্থা হারায় না। যেকোনো পেশায় কোনো সদস্য ভুল করতে পারেন। অথবা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু এসব বিচ্যুতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কতটা দৃঢ়, সেটাই বিচার্য। যদি ফাঁকফোকর বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে কিছু সদস্যের জন্য একটি পুরো প্রতিষ্ঠানের মুখে চুনকালি পড়ে না।
আমাদের দেশে এখন এদিকে জোর দিতে হবে। পুলিশের প্রশিক্ষণ এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। আমাদের পুলিশ প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো গর্ব করার মতো। সেখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ হয়। দক্ষ ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
কিন্তু মুশকিল হলো, আমাদের সমাজ এখনো স্বতঃস্ফূর্ততায় বেশি প্রভাবিত। ঝোঁকের মাথায় কাজ করা মানুষের অভ্যাস। ১৬ কোটি মানুষের ছোট এই দেশে শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন। তাই বিচ্যুতি সহজাত। এখানেই আমাদের চ্যালেঞ্জ। মানুষই ঘুষ দিয়ে অবৈধ গ্যাসলাইন নেয়, আবার পুলিশ দিয়ে সেই অবৈধ লাইন কেটে দেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় পুনরায় অবৈধ সংযোগ চালু হয়ে যায়।
এখানে আইনের সঠিক প্রয়োগও বেশ কঠিন। কিন্তু এই কঠিন কাজটিই আমাদের করতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি? by সোহরাব হাসান
১৯৭৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির বার্ষিক সম্মেলনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরীর ইংরেজিতে দেওয়া বক্তৃতা থেকে
গণতন্ত্র নিয়ে অন্য কারও বক্তব্য উদ্ধৃত করলে ক্ষমতাসীনেরা বাঁকা চোখে দেখতে পারেন। কিন্তু মোজাফফর আহমদ চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার সদস্য। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই প্রথিতযশা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গণতন্ত্র সম্পর্কে যে অভিমত প্রকাশ করেছেন, তার অপরিহার্যতা অস্বীকার করার উপায় আছে বলে মনে করি না। তিনি যা বলেছেন তাঁর মর্মার্থ হলো, সরকার কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরোধিতাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র মানলে সংখ্যালঘিষ্ঠকে কথা বলতে দিতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে যাঁরাই যখন ক্ষমতায় থাকেন, তাঁরা অন্যদের কথা বলার সমস্ত পথ বন্ধ করতে সচেষ্ট থাকেন। এমনকি নিজ দলের ভেতরেও ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাবানেরা নিজেদের রাষ্ট্র ভাবেন আর সরকারের বিরোধিতাকে গণ্য করেন রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে। তাঁরা ভুলে যান, যে শাসনব্যবস্থায় সরকারের বিরোধিতা বা সমালোচনা করা যায় না, সেটি পরিণত হয় কর্তৃত্ববাদী শাসনে। এখন তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশকে তাঁরা কোথায় নিয়ে যাবেন? গণতন্ত্রের যে সর্বজনীন রূপ আছে, সেটি গ্রহণ করবেন, না নিজের মতো করে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে থাকবেন?
২.
দেশ কেমন চলছে—এই প্রশ্নের উত্তরে একেক মহারথী একেক কথা বলবেন। বিরোধী দলের (অবশ্যই যারা সরকারের শরিক নয়) মতে, দেশ একেবারে উচ্ছন্নে গেছে। অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। আবার ক্ষমতাসীনদের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁরা মনে করেন, বর্তমান সরকারের আমলে এমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা অতীতে হয়নি। দেশের মানুষ এ রকম উন্নয়নও কখনো দেখেনি। অর্থাৎ দুই পক্ষই দুই মেরুতে অবস্থান করছে। কিন্তু সম্ভবত কেউ সত্যের ধারেকাছে নেই। দেশে গণতন্ত্র আছে, আবার গণতন্ত্র নেইও। ক্ষমতাসীনদের জন্য শতভাগ গণতন্ত্র থাকলেও ভিন্নমত পোষণকারীদের জন্য তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। কেননা, ক্ষমতাসীনেরা মনেই করেন, তাঁদের সঙ্গে যাঁরা ভিন্নমত পোষণ করেন, তাঁরা দেশের মঙ্গল চাইতে পারেন না। আর যে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তার সুফল কারা ভোগ করছেন, কতটুকু পাচ্ছেন, সেই তত্ত্বতালাশও জরুরি।
গণতন্ত্রের সর্বজনীন সংজ্ঞা হলো সবাইকে নিয়ে চলা। সবার মতামতের সুযোগ থাকা। কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা মনে করেন, তাঁরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণতন্ত্রী ও দেশপ্রেমিক। যাঁরা তাঁদের সমালোচনা করেন, তাঁরা হয় নির্বোধ অথবা দেশদ্রোহী। অন্যান্য দেশের রাজনীতিকেরা ভুল করলে স্বীকার করেন। কিন্তু আমাদের রাজনীতিকদের অভিধানে ভুল শব্দটিই অনুপস্থিত। তাঁরা কখনোই ভুল করতে পারেন না। এমনকি কেউ ভুল স্বীকার করলেও তাঁর নিস্তার নেই। এমনই এক অভাবিত ও অপরিণত গণতন্ত্রে আমরা বাস করছি!
যে পরিবেশে একজন নাগরিক সাহস করে সত্য কথা বলবেন, সেই পরিবেশ বর্তমানে বিরাজ করছে, সে কথা জোর দিয়ে বলা যাবে না। অতীতের ঘটনা নিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনামকে যেভাবে ক্ষমতাবানেরা অপমান ও হয়রানি করে চলেছেন, তাতে বর্তমান নিয়ে সত্য কথা বলা আরও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি সম্ভবত প্যান্ডোরার বাক্সটি খুলে দিয়েছেন। এ কারণেই ক্ষমতাসীন মহলে হইহই রইরই পড়ে গেছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা মাহ্ফুজ আনামকে সেই সময়ের তথ্যদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি তা না করে যদি যাঁরা দলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে সে সময়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তাঁদের এই সুপরামর্শটি দিতেন, সেটিই উত্তম হতো।
৩.
ক্ষমতাসীনেরা কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির কথা বলেন। কিন্তু তাঁদের কাজকর্মে তার ন্যূনতম প্রতিফলন লক্ষ করি না। মুক্তিযুদ্ধের মূল কথাই ছিল গণতন্ত্র ও সমতা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও রাজনীতিকেরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে যা হচ্ছে, তা দলতন্ত্র। আরও স্পষ্ট করে বললে ব্যক্তিতন্ত্র। বর্তমানের চেয়ে অতীত ভালো ছিল কি না, সেই বিতর্কের চেয়েও জরুরি হলো ভবিষ্যতে কী হবে? আমরা কোথায় যাচ্ছি? অতীত খারাপ হলে সেই অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখার কোনো যুক্তি নেই। বরং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে এগোতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সুখী না হলেও প্রচণ্ডভাবে আশাবাদী। তারা বারবারই রাজনীতিকদের কথায় আস্থা রেখে ভোট দিয়ে তাঁদের ক্ষমতায় এনে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন চেয়েছেন। কিন্তু রাজনীতিকেরা নিজেদের ভাগ্য নিয়ে যত চিন্তিত, জনগণের ভাগ্য নিয়ে ততটাই উদাসীন।
ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে প্রায়ই একটি কথা বলা হয় যে গত সাত বছরে বাংলাদেশে যা উন্নতি হয়েছে, তা নাকি গত ৩৭ বছরেও হয়নি। কিন্তু উন্নতি কিংবা অধোগতি—দুটিরই ভিত্তি লাগে। অতীতের ওপরই বর্তমান দাঁড়িয়ে থাকে। বর্তমানের ওপর নির্মিত হবে ভবিষ্যৎ। ১০ বছর ধরেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ বা তার অধিক হারে বেড়ে চলেছে। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান যে ভিত্তি বিনিয়োগ, সে ক্ষেত্রে আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গালমন্দ করা যত সহজ, ততই কঠিন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। তার চেয়েও কঠিন গণতান্ত্রিক কাঠামো বির্নিমাণ। গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসে না—এ কথা যেমন সত্য, তেমনি অসত্য নয়, নির্বাচন বর্জনেও গণতন্ত্র আসে না। গণতন্ত্র থাকে ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠীর রাজনৈতিক চেতনায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই চেতনার ধারেকাছেও তাঁরা যেতে পারেননি।
কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একটি সমাবেশে বলেছিলেন, ‘সাদাকে সাদা বলুন। কালোকে কালো বলুন।’ কিন্তু আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো, সাদাকে সাদা বলতে পারলেও কালোকে কালো বলা যায় না। কেন যায় না, সেই প্রশ্নের উত্তর কি ক্ষমতাবানেরা দিতে পারবেন?
৪.
নব্বই-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেসব মৌলিক পরিবর্তন ঘটে গেছে, তার অন্যতম হলো যত জনপ্রিয় দলই হোক না কেন, এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। নব্বই-পূর্ব রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যথাক্রমে ৯৭ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশ আসন পেত। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে সাতটি পদে সব আসনই লাভ করেছিল, যার মধ্যে জোরজবরদস্তির ঘটনাও কম ছিল না। ১৯৭৯ সালে সামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন পায়। কিন্তু পরবর্তী রাজনীতিতে যে মেরুকরণ ঘটেছে, তাতে এককভাবে কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করতে পারে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি এই হিসাবে আনছি না। কেননা, এটি কোনোভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ছিল না। কিন্তু ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতার প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কী করেছে, তা আমাদের অজানা নয়। এমনকি ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচনটি হওয়ার কথা ছিল, বিএনপির গোঁয়ার্তুমি না দেখালে সেটি হতো এবং ক্ষমতার ভিন্ন সমীকরণ ঘটত, তা এখন অনেকের কাছেই অবাস্তব মনে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার দলটি সেদিন খেলাফত মজলিসের সঙ্গে পাঁচ দফা চুক্তি করেছিল। সেই না হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযাত্রী ছিল বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, অলি আহমদের এলডিপি, ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। অন্যরা এখন সরকারের চোখে বৈরী ঘোষিত হলেও এরশাদ সরকারের সঙ্গেই আছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রধর্মের আশ্চর্য সহ–অবস্থান! আওয়ামী লীগের নেতারা আজ যাঁদের স্বাধীনতাবিরোধী কিংবা গণতন্ত্র হন্তারক বলে চিহ্নিত করেছেন, তাঁদের অনেকেই ২০০৭ সাল পর্যন্ত মিত্র ছিলেন।
৫.
দেশের অর্থনীতি যত সমৃদ্ধির সোপান রচনা করুক না কেন, আমাদের রাজনীতিটা ক্রমেই অসুস্থ ও অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে। সামাজিক মূল্যবোধে এতটাই অবক্ষয় ঘটেছে যে একের পর এক শিশুহত্যা ও অপহরণের ঘটনাও আমাদের বিচলিত করে না। শিক্ষাঙ্গন মানেই এখন সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনটির দৌরাত্ম্য। সেখানে প্রতিপক্ষ ছাত্রদল তো বটেই, ছোট ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মেরে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে।
রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা কী ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তা অন্তত চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ এম এ লতিফ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। তিনি চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতা এবং চেম্বারের সাবেক সভাপতি। তিনি কোনো ভুল করে থাকলে সাংগঠনিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। টাঙ্গাইলের লতিফ সিদ্দিকী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাঁর ক্ষেত্রে যেমনটি হয়েছে। কিন্তু তাই বলে জনসমক্ষে একজন সাংসদকে এভাবে অপমান, তাঁর ছবিতে জুতা মারা কী ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি? যে দলের নেতা-কর্মীরা একজন দলীয় সাংসদকে অপমান করতে পারেন, সেই দলের কাছে সাধারণ মানুষ বা সাংবাদিক সম্মান পাবেন, সেটি আশা করি না। পত্রিকান্তরে আরও যে উদ্বেগজনক খবর হলো, সাংসদ লতিফের ওপর সংঘবদ্ধ আক্রমণের কারণ বন্দরের কর্তৃত্ব। একসময় চট্টগ্রাম বন্দরে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর একাধিপত্য থাকলেও হালে সেটি আর নেই। এখন কথায় কথায় কেউ দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন বলে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরকে অচল করতে পারেন না।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুম্বইয়ে দেহব্যবসা চক্র থেকে বাংলাদেশী যুবতী উদ্ধার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চার কবরে ভারি সুন্দ্রাটিকি by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ ও নূরুল ইসলাম মনি
কে বা কারা এমন পাষণ্ড, এত মায়ের চোখে জল এনে দিলো। সন্দেহের তীর গ্রামেরই এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দিকে। ৮ পঞ্চায়েতের গ্রামে যিনি নিজেও এক পঞ্চায়েতের প্রধান। বাকি ৭ পঞ্চায়েতের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও আবদুল আলী তার পঞ্চায়েত নিয়ে একলাই চলতেন। সন্দেহের তীর সেই আবদুল আলীর দিকে। সাধারণের সন্দেহ ছড়িয়েছে পুলিশের মাঝেও। আবদুল আলী এখন তার দুই ছেলে নিয়ে পুলিশের খাঁচায় বন্দি। এর মধ্যে এক ছেলে জুয়েল মিয়াসহ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। চার শিশুহত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলম। বুধবার রাতেই এ দুজনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার আটক হন আবদুল আলীর আরেক ছেলে রুবেল মিয়া ও আরও তিন সন্দেহভাজন হাবিবুর রহমান আরজু, বাচ্চু মিয়া ও বশির মিয়া। পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মিজানুর রহমান গতকাল আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন ভুঁইয়া, হবিগঞ্জের এসপি জয়দেব ভদ্রও।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, আবদুল আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক ‘কীর্তিগাথা’র কারিগর। পুরনো দুটো হত্যাকাণ্ডে আবদুল আলীর সম্পৃক্ততার তথ্য জানা গেছে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপে। ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোতাসির মিয়ার ভাই মোশাহিদ হত্যার ঘটনায় মামলার আসামিও ছিলেন তিনি, যে ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৫ সালে। বয়োবৃদ্ধরা স্মৃতি হাতড়ে জানালেন ২৫ বছর আগের জলিল হত্যা ঘটনার সঙ্গেও আবদুল আলীর সম্পৃক্ততার কথা। এর বাইরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণেও আবদুল আলী ও তার পরিবার গ্রামে আতঙ্কের কারণ। চাঁদা না পেয়ে গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একটি লেবুবাগান দখল করতে গিয়ে কদিন জেলও খেটে এসেছেন আবদুল আলী। কম যান না তার পরিবারের সদস্যরাও। তার ছেলে রুবেল আহমদ গত বছরের ৩১শে অক্টোবর ভাঙচুর চালান স্থানীয় ফয়জাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হারুন আল রশিদ জানান, রুবেলের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ ছিল। সালিশের উদ্যোগ নিলে খেপে গিয়ে দলবল নিয়ে হামলা চালায় সে।
গত জানুয়ারিতে আবদুল আলীর অনুসারীদের সঙ্গে গ্রামের বাকি ৭ পঞ্চায়েতের নতুন করে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মুরব্বি সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল খালিক জানান, গ্রামের বাসিন্দা কাজল মিয়া, সাজিদ মিয়ার সঙ্গে তাদের চাচা রইসউল্লাহ’র জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে গোষ্ঠীগত বিরোধের সৃষ্টি করেন আবদুল আলী। গ্রামবাসীর ধারণা, এ বিরোধের জেরেই আবদুল আলীর লোকজন হত্যা করেছে ৪ শিশুকে।
গ্রামের এক প্রান্তে লোকের আনাগোনা অন্য প্রান্তে চিত্র অন্যরকম। কোনো পুরুষের দেখা মেলেনি আবদুল আলীর বাড়ির আশপাশে। নারীরাও যেন নিজেদের ঘরে বন্দি করে রেখেছিলেন। কথা হয়, আবদুল আলীর বড় স্ত্রী হালিমা বেগমের সঙ্গে। তার দাবি, তার স্বামী ও সন্তানরা নির্দোষ। তাদের ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, ছেলের এসএসসি পরীক্ষা চলছে তাকেও ছাড় দেয়া হয়নি। পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। আবদুল আলীর পুত্রবধূ তফিনা বেগম দৃঢ়কণ্ঠে বললেন, তার শ্বশুরকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সন্দেহ করেন, বাকি ৭ পঞ্চায়েতের মধ্য থেকে কেউই এ ঘটনা ঘটিয়ে তাদের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছে। তিনি তার শিশুকন্যার মাথায় হাত রেখে বলেন, তিনি জানেন তার শ্বশুর দোষী না। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানান তিনিও।
চার শিশুর লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সম্পর্কে এ পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, শিশুদের শ্বাসরোধ করে হত্যা হয়েছে। সে হিসেবে অনেকেই ধারণা করছেন এ ঘটনা একজন বা দুজনে মিলে ঘটানো সম্ভব নয়। তাদের সন্দেহ, বড় একটি দলই সরাসরি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। র্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব হাসান মানবজমিনকে বলেন, অনেক বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সন্দেহ করার মতো অনেক কিছু আছে-সন্দেহের কারণও আছে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সকলেরই একটাই লক্ষ্য-প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা। র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
শিশু চারটি হারিয়ে গিয়েছিল গত শুক্রবার। খুঁজে খুঁজে হয়রান হওয়ার পর গত বুধবার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে ইছা বিলের গর্তে বালিচাপা লাশ মিলে চার শিশুর। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই শিশুদের স্বজনদের বুকে যে কান্না জমেছিল, লাশ উদ্ধারের পর তা যেন বাঁধ ভেঙে যায়। কেবলই কাঁদছেন তারা। বুকের কষ্ট বুকে চেপে রাখতে চাইলেও সে সুযোগ তারা পাচ্ছেন না। দর্শনার্থী-কৌতূহলীদের ভিড়ে, প্রশ্নে নীরবে দুই ফোঁটা জল ফেলতে পারছেন না। পুলিশ-মিডিয়ার আনাগোনায় ফুরসত নেই একটু দম ফেলারও। কাঁদতে কাঁদতে তাদের চোখের জল ফুরিয়ে যাওয়ার যোগাড় তাও নিস্তার নেই। টিভি ক্যামেরাগুলো বাড়তি দুঃখের আবহ তৈরি করতে চোখের জলের ‘আবদার’ জানায়। ঘটনার পর বিভিন্ন সংবাদে মায়েদের দেখানো হয়ে যাওয়ায় নতুন মুখেরও সন্ধান করেন তারা। টিভি ক্যামেরার সামনে হাজির হতে হয় দাদি, খালা, চাচিদেরও। ‘হৃদয়স্পর্শী’ আবহের জন্য ঘর থেকে শিশুদের পড়ার বইগুলো এনে ফেলা হয় কান্নারত স্বজনদের কোলে। এতো আয়োজনের অবশ্য দরকার ছিল না। শিশুদের ঘরের দরজায় পা রাখলে এমনিতেই চোখের পাতা ভারি হয়, ঝাপসা হয়ে আসে। একেক জন মায়ের জলহীন চোখ, ভাষাহীন মুখ বুকের ভেতরে আঘাত করবে যে কারোরই।
কান্নাভেজা বাতাস যেন বইছে পুরো সুন্দ্রাটিকিতে। আর আছে সন্দেহ-অবিশ্বাস। কেউ কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ভরসা রাখার সাহসও যেন তারা হারিয়ে ফেলেছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৬ জনের কিলিং মিশন- অটোরিকশায় অজ্ঞান করে গলাটিপে হত্যা by মো. আমীর হোসেন
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার আলামত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে বাচ্চুর ব্যবহৃত, সিএনজি-অটোরিকশা, আরজুর বাড়ি থেকে কোদাল আর শাবল, রাস্তা থেকে কয়েকটি বস্তা এবং একটি রক্তমাখা পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়েছে। আরজুর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মুটিভ উন্মোচিত হয়েছে। তবে একজনের স্বীকারোক্তিই শেষ কথা নয়। সে কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই তদন্ত অব্যাহত থাকবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগভিত্তিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে ৬ জনের নাম এলেও এর মধ্যে রুবেল এবং আরজু গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্যরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। আরজুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আরজু, রুবেল ছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত বশিরের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। সোমবার রিমান্ড শুনানি হবে। গ্রেপ্তারকৃত ৫ আসামিকে রিমান্ডে নিলেই প্রকৃত তথ্য পরিষ্কার হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি ঘটনার সময় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদুল আহাদ ৪ শিশুকে বাচ্চু মিয়ার সিএনজি-অটোরিকশায় দেখেছে বললেও পরে অস্বীকার করে। ফলে পুলিশ বিভ্রান্ত হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের কৌশল ব্যবহার করে ঘটনার মোটিভ উদ্ধার করা হয়। সুন্দ্রাটিকি গ্রামে ডিবি, ডিএসবিসহ ৫০ জন পুলিশ সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি করে সফল হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি মিডিয়ারও প্রচুর কষ্ট হয়েছে। একজনের জবানবন্দি পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয় না। তবে এই জবানবন্দি ঘটনার রহস্য উদঘাটনের ভিত্তি হিসাবে কাজ করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার জন্য পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সিলেটের ডিআইজি মিজানুর রহমান পিপিএম বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনই কমবেশী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। শুক্রবার বিকালে পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে এক সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত করতে। এই ঘটনায় ৫ জন গ্রেপ্তার হলেও এর পিছনে আরও কোনো গডফাদার জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোচ্চার এলাকাবাসী: ৪ শিশু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন বাহুবলের জনগণ। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ (শনিবার) অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মানববন্ধন ডেকেছে। এসব সমাবেশ ও মানববন্ধন সফল করতে চলছে মাইকযোগে প্রচারণা। এদিকে, গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিহতদের জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ২টার দিকে উপজেলা সদরে জাঙ্গালিয়া প্রজন্ম ক্লাব নামে একটি সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে। মিছিল থেকে খুনিদের ফাঁসির দাবি করা হয়। এদিকে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় বাহুবল অনার্স কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক, বাদ আছর তৌহিদী জনতার ব্যানারে স্থানীয় মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষক, সচেতন নাগরিক সমাজ, সানশাইন প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুল মানববন্ধন ও সমাবেশ আহ্বান করেছে।
গত শুক্রবার বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে স্কুলপড়ুয়া চার শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বুধবার সকালে সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ঈসা বিল এলাকায় তাদের বালিচাপা লাশ পাওয়া যায়। নিহত শিশুরা হলো- স্থানীয় আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আবদুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) এবং আবদুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)। মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে এবং তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদরাসার ছাত্র। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন- আবদুল আলী বাগাল, তার দুই ছেলে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া, আজিজুর রহমান আরজু ও বশির মিয়া। এদের মধ্যে আবদুল আলী বাগাল ও জুয়েল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে সিলেট পুলিশের পক্ষ থেকে। গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বৈরশাসন আসবে ও যাবে by হানিফ খন্দকার
জর্জ অরওয়েল একালের সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি, আনোয়ার সাদতদের পতন দেখে যাননি। কিন্তু তিনি কল্পনা করতে পেরেছিলেন বিশ্বে যুগে যুগে স্বৈরশাসকরা আসবেই। আর তাদের হাতে উইন্সটনের মতো দেশপ্রেমিকদের দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হবে। সে পরীক্ষায় উইন্সটনরা অবশ্যই হারবে। কারণ, তাদের না হারালে স্বৈরশাসকদের পতনকে অবশ্যম্ভাবী করা যায় না। অরওয়েল তাই বোধগম্যকারণেই উইন্সটনকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও নির্যাতন দিয়ে তাঁর কণ্ঠকে স্তব্ধ করেছেন। অরওয়েল কারাগার থেকে উইন্সটনকে পালাতে দেননি। কারণ, তিনি জানেন স্বৈরতান্ত্রিকতাবাদকে পরাস্ত করতে চান। যদি উইন্সটনকে তিনি চূড়ান্তভাবে জয়ী করতে চান, তাহলে স্বৈরাচারের মৃত্যুঘণ্টা আপতত আর বাজালে চলবে না।
পাঠকরা সহজেই উইন্সটনকে চিনতে পারছেন। তাকে আপন করে তোলা হয়েছে। তাঁর আত্মমর্যাদা আছে। মানুষের মমতা আছে। একটি সভ্য সমাজের বাসিন্দা হিসাবে কতগুলো মূল্যেবোধ নিয়ে তাকে চলতে হয়। সেটা সম্ভব না হলে কোনো ব্যক্তি নিজেকে দায়িত্বশীল নাগরিক ভাবতে পারেন না।
গণতন্ত্র, শাস্তি, স্বাধীনতা, ভালোবাসা ও শালীনতা তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অরওয়েল যখন তাকে ধ্বংস করে দিলেন তখন তার সঙ্গে এসব মূল্যবোধও ধ্বংস হয়ে গেল। তবে এটা দোখানো হয়েছে যে এসব নৈতিক মূল্যোবোধ অপরাজিত। এর কোনো মৃত্যু নেই। আর এ সবই একজনকে গুণাবলী সম্পন্ন মানুষে পরিণত করে। মানুষ হিসেবে ব্যক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে । সুতরাং এর সারকথা হলো, মানবজাতির ইতিহাসে যখন যেখানে যে জনগোষ্ঠী একনায়কের কবলে পড়বে, সেখানে বসবাসরতদের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের একটি বিষয় থাকবে। বিনা প্রতিবাদে তাকে যেতে দেয়া যাবে না। নাগরিক সমাজের জন্য এটা বিকল্প নয়। অবশ্য কর্তব্য।
উইন্সটন তাই আমজনতার একজন প্রতিনিধি, যাঁর কাজ হচ্ছে শুভ আর অশুভ শক্তির মধ্যে লড়াইকে টিকিয়ে রাখা। আর এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য যে খুবই স্পষ্ট, সে বিষয়ে অরওয়েল কোনো সন্দেহ সৃষ্টি রাখতে চাননি।
শেষ পর্যন্ত উইন্সটন তাঁর চেতনা ও তার মানবিকতা হারিয়ে ফেললেন। কিন্তু পাঠক দেখেছে এ দুটো বিষয়কে রক্ষার জন্য তিনি কঠিন পরিশ্রম করেছেন। লেখক দেখাতে চেয়েছেন উইন্সটনের ভাগ্য যে কোনো নাগরিকের জীবনে ঘটতে পারে। আর সেকারণেই গল্পের একেবারেই শেষে তিনি তাকে বাঁচিয়ে রাখেননি। অদৃশ্য আততায়ীর হাত দিয়ে তাকে হত্যা করেছেন। লেখকের উদ্দেশ্য হলো মানবজাতিকে সতর্ক করে দেয়া ১৯৮৪ সালটি আসবে এবং চলে যাবে কিন্তু এতে যে সমাজের চিত্র তিনি এঁকেছেন তা কখনো শেষ হবে না।
জুলিয়ার চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তার প্রতি তার ভালোবাসার স্বার্থ আছে। এবং বিগ ব্রাদারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনায় তাকে মৃত্যু হিসেবে পাওয়া গিয়েছে। জুলিয়ার ভিতরের লেখক যেসব মানবিক উপাদান দেখিয়েছেন সেসব আবার নায়কের মধ্যে দেননি। জুলিয়ার মানবিক উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকৃত যৌনতা, ধূর্ততা এবং জীবন সংগ্রামে টিকে থাকা। নায়ক যখন কেবল সাদামাটা জীবন বেছে নিয়েছে নায়িকা তখন যেকোনো মূল্যে জীবনকে উপভোগ্য করতে চেয়েছেন। দুজনেই ক্ষমতাসীন দলের সদস্য।
উইন্সটন যেখানে যৌনতা ও অন্তরঙ্গতা উপভোগ করেছেন, সেখানে জুলিয়া সম্পূর্ণরূপে ভুলিয়ে ও যৌনতা দিয়ে চারপাশের জগৎকে কব্জায় রাখতে চেয়েছেন। তাকে দেখা গেছে তিনি নিয়মিতভাবে পার্টির সদস্যদের সঙ্গে শয্যাশায়ী হয়েছেন। অন্তত উইন্সটনের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে এরকম গোপন অভিসারে মগ্ন থাকতে দেখা গেছে। তবে জুলিয়া পার্টিকে ধ্বংস করার জন্য একাজ করেননি। এটা তিনি করেছিলেন নিজের ইচ্ছার প্রাধান্য বাজায় রাখতে। আর সেটাই এ দুজনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য।
দুজনেই বিদ্রোহী। একজনের বিদ্রোহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মঙ্গলের জন্য। আরেজনের বিদ্রোহ সম্পূর্ণরূপে দুর্ঘটনাবশত, যা তার নিজের জৈবিক চাহিদাকে বাস্তবে রূপদানের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা হয়েছে। চলবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1353)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
February
(648)
-
▼
Feb 20
(8)
- ভারমুক্ত হলো বৃক্ষমানবের ডান হাত
- প্রেসিডেন্ট জিয়া তখন সার্কিট হাউসে ঘুমিয়ে
- এই আমাদের পুলিশ! by আব্দুল কাইয়ুম
- আমরা কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি? by সোহরাব হাসান
- মুম্বইয়ে দেহব্যবসা চক্র থেকে বাংলাদেশী যুবতী উদ্ধার
- চার কবরে ভারি সুন্দ্রাটিকি by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ ও...
- ৬ জনের কিলিং মিশন- অটোরিকশায় অজ্ঞান করে গলাটিপে হত...
- স্বৈরশাসন আসবে ও যাবে by হানিফ খন্দকার
-
▼
Feb 20
(8)
-
▼
February
(648)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







