Tuesday, January 2, 2018

পারমাণবিক বোমার সুইচ আমার টেবিলেই আছে

নতুন বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন বার্তা দিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছেন। বলেছেন, সর্বদা পারমাণবিক অস্ত্রের বাটনে হাত রয়েছে তার। অর্থাৎ তিনি যেকোনো মুহূর্তে সেই বাটনে চাপ দিয়ে দিতে পারেন। যদি তা-ই করেন, তাহলে শুরু হয়ে যাবে এক ধ্বংসলীলা। নতুন বর্ষবরণ উপলক্ষে দেয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে, বিশেষত এর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এ হুমকি দিয়েছেন।
জোরালোভাবে বলেছেন, সব সময়ই আমার অফিসে আমার ডেস্কের ওপর রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের বাটন। আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রের পাল্লার মধ্যে রয়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্র। তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) যথার্থই সচেতন হওয়া উচিত এ জন্য যে, এটা কোনো হুমকি নয়। এটাই বাস্তবতা। কিম জং উন আরো ঘোষণা দেন, যেসব দেশ শান্তি ভালোবাসে তেমন দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তিধর তার দেশও। তিনি আরো ঘোষণা দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সরাসরি কোনো আগ্রাসন আসে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এসব পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো বাসনা বা ইচ্ছা আমাদের নেই। এ সময় তার কন্ঠে ছিল না সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত। জাতিকে একত্রিতকরণের কোনো আভাস ছিল না। তবে তিনি তার দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন অধিক পরিমাণে পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বৃদ্ধি করার জন্য। তার ভাষায়, আমাদের রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির গবেষণা ও রকেট ইঞ্জিনিয়ারিং। এ অবস্থায় আমাদের প্রয়োজন পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এমন অস্ত্র ব্যাপকভাবে উৎপাদন করা। এসব অস্ত্রের ক্ষমতা ও সক্ষমতা এরই মধ্যে পরীক্ষিত। যদি কোনো শত্রু আমাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করে তাহলে এসব অস্ত্র দিয়ে তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে লোয়ি ইন্সটিটিউটে ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রোগ্রামের পরিচালক ইউয়ান গ্রাহাম বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের বাটনে নিজের হাত রাখার যে কথা বলেছেন কিম জং তা কার্যত একটি বাগাড়ম্বরতা। আগে শোনা যায়নি, এমন কিছুই তিনি বলেননি। তিনি যা বলেছেন, তার মধ্য দিয়ে তিনি সবাইকে নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যে, এসব অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ব শুধু তার হাতেই। এটা বিজয় ঘোষণার মতো, যেন তারা যুদ্ধ শেষ করে ফেলেছেন। তারা আসলে এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেয়া হয়েছে। বোঝানো হয়েছে তাদের হাতেও পারমাণবিক অস্ত্র আছে। কার্যত তা নাও থাকতে পারে। এভাবেই তিনি পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জফেন্ট চিফ অব স্টাফ এডমিরাল মাইক মুলেন বলেছেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে এবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুলেন সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, কিম জং উনকে লক্ষ্য করে প্রেসিডেন্ট পুতিনের উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি উত্তর কোরিয়ার এই আগ্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপকেই বেশি পছন্দ করেন। সর্বশেষ ২৯শে নভেম্বর ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া। এর জবাবে গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে সর্বসম্মত অবরোধ আরোপ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কোনোভাবেই ঘাঁট মানছে না উত্তর কোরিয়া। উল্টো তারা আরো জোরালো হুমকি দিচ্ছে। শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, দেশটি ২০১৮ সালেও তাদের পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক্ষেত্রে তাদের নীতির কোনো পরিবর্তন হবে না।

উন্মাতাল রাত by রুদ্র মিজান ও শুভ্র দেব

বিটের তালে কেঁপে উঠছে ফ্লোর, চার দেয়াল। মঞ্চ থেকে আঙুলের জাদু দেখাচ্ছেন ডিজেরা। একের পর এক বাজছে হিন্দি, ইংরেজি গান। বিশাল বলরুমজুড়ে বর্ণিল আলো। লাল, নীল আলো-আবছা আঁধারে ওয়েস্টার্র্ন ড্যান্সে মেতে উঠেছেন তরুণ-তরুণীরা। অনেকের হাতে বিয়ারের ক্যান।
হুইস্কির গ্লাস। ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলে চিয়ারস করছিল তারা। নাচ করতে করতে বেসামাল হয়েছেন অনেকে। মিউজিকের তালে তালে অন্তরঙ্গভাবে মিশে যাচ্ছিলেন সমবেত নারী-পুরুষ। তরুণীদের লিপস্টিকের দাগ লেগেছিল অনেক তরুণের গালে, শার্টে, ব্লেজারে। ক্লান্ত হয়ে কেউ কেউ  ফ্লোরের চার পাশের সোফায় বসেছিলেন সঙ্গীর কোলে-পাশে। রাতভর ছিলো আনন্দ-উন্মাদনা। এভাবেই চার দেয়ালের ভেতরে পালিত হয়েছে থার্টি ফার্স্ট নাইট। রাজধানীর তারকা হোটেলগুলো ঘুরে দেখা গেছে এসব দৃশ্য।
ফ্যাশন শো, লাতিন ড্যান্স চলছিলো সন্ধ্যা থেকেই। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে রেডিসনের বলরুমের দৃশ্যপট। বিটের তালে চলছিলো ব্যালে ড্যান্স। স্বল্পবসনা তরুণীরা ঠাঁই নিয়েছেন নির্ধারিত পুরুষদের বুকে। নাচ করতে করতেই পান করছেন তারা। মদে-নাচে মাতাল হয়েছিলেন কেউ কেউ। মাথায় পানি ঢালতে হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। রাত ১টার পরে বাজাচ্ছিলেন ডিজে পরী। ড্যান্স ফ্লোরে কয়েক শ’ তরুণী। তিন-চার জনকে দেখা গেছে শাড়ি পরে এতে অংশ নিতে। শাড়িতেও ছিল চমক। হাত-পিঠকাটা ব্লাউজের সঙ্গে পাতলা শাড়ি পরেই সমান তালে নাচ করছিলেন সঙ্গীর সঙ্গে। তবে নাচতে নাচতে শাড়ি পরা তরুণীদের দুই-একজন অর্ধবসন হারা হয়েছেন। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী এই পার্টিতে ড্যান্স করছিলেন। তবে প্রফেশনাল তরুণীদের সংখ্যা ছিলো বেশি। মতিঝিল থেকে পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন রূপা নামের সাতাশ বছর বয়সী এক নারী। তিনি জানান, তারকা হোটেলে ডাক পড়লেই ছুটে যান তিনি। পার্টিতে নাচ করেই সংসার চালান এক সন্তানের এই জননী। মতিঝিল থেকে রাত ৯টার দিকে পার্টিতে অংশ নেন তিনি। এক বন্ধুর দেয়া টিকিটে প্রবেশ করেন সেখানে। নেচে নেচে সারারাতে উপহার পেয়েছেন প্রায় আট হাজার টাকা। তবে, সুমি, লোনাসহ অনেক তরুণী জানান, পুরুষ সঙ্গীকে আনন্দ দিয়েও নগদ টাকা উপহার নেন তারা। কেউ কেউ নাচার পর কোনো উপহার না দিয়েই চলে যান। এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন ড্যান্স ফ্লোরের অনেক তরুণী। ‘বি’ গ্রেডের কয়েক মডেলকে দেখা গেছে সেখানে নাচ করে উপহার গ্রহণ করতে।
সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে অনভিপ্রেত ঘটনাও ঘটেছে। মঞ্চে তখন হাতের যাদু দেখাচ্ছিলেন ডিজে মারিয়া। ফ্লোরে মাতাল নৃত্য। বলরুমের দরজার আশপাশে বিয়ারের ক্যান হাতে সমবেতরা। নাচ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে সোফাতে বসে সঙ্গীকে জড়িয়ে বিটের তালে শরীর দুলানোর চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। ওই সময়ে অন্য যুবকের হাত থেকে এক সন্দরী তরুণীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন মাতাল যুবক। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা বেশিদূর যাওয়ার আগেই মাতাল যুবককে অন্যরা টেনে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরেই ওই যুবকের মাথায় পানি ঢেলে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন অন্যরা। কিছু সময় নাচার পরও সঙ্গী যুবকের কাছে একটা বিয়ারের আবদার করেছিলেন শারমিন নামের তরুণী। যুবক নগদ টাকা উপহার দিয়ে চলে যেতে চাইলেও কিছুতেই বিয়ার না পেয়ে ছাড়তে রাজি না তরুণী। তাকে টেনে হোটেলের স্টোর রুমে নিয়ে যাচ্ছিলেন শারমিন। রাত পৌনে ৪টার দিকে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় রেডিসনের এই পার্টি।
তার আগে সন্ধ্যা থেকেই ওয়েস্টিন, রেডিসন ব্লু, ঢাকা রিজেন্সিসহ তারকা হোটেলগুলোতে ভিড় করছিলেন তরুণ-তরুণীরা। লাইন বেঁধে পার্টির ভেন্যুতে ঢুকেছেন তারা। রাত ১টার পর নিরাপত্তার কারণে ফটক বন্ধ করে দেয়া হয় রেডিসনের। নানা চেষ্টা তদবির করেও ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না। হোটেল কর্তৃপক্ষ ছাড়া কড়া পাহারায় ছিলো পুলিশ। ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের সদস্যরা সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত হোটেলের আশপাশে অবস্থান নেন। কড়া নিরপত্তার কারণে অনুষ্ঠানে ঢুকতে না পেরে ফিরে গেছেন অনেকে। আয়োজকদের একজন সজল জানান, ছয়শ’ টিকিটের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার শ’ টিকেট বিক্রি হয়েছে তাদের। টিকেটের মূল্য ছিলো চার হাজার টাকা করে। কাপলের ক্ষেত্রে ছয় হাজার টাকা। পার্টিগুলোতে  তেমন কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটলেও পার্টি শেষে রেডিসনের ফটকের সামনে এক তরুণীকে নিজের গাড়িতে টেনে তুলতে গেলে ঘটে বিপত্তি। তরুণী যুবকের সঙ্গে যাবেন না। এই টানাটানির মধ্যেই তরুণীর পক্ষের যুবকদের সঙ্গে ওই যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা  ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রাইভেট কারটি (ঢাকা মেট্টো-খ-২১৯১) টান দিয়ে দ্রুত ত্যাগ করতে চাইলে দুর্ঘটনার শিকার হন ড্যান্স ফ্লোরের এক তরুণী।
এছাড়াও ওয়েস্টিনের পার্টিতে দেশি-বিদেশি অনেকে অংশ নিয়েছিলেন। সঙ্গীকে নিয়েই রাতভর সেখানে আনন্দে মেতেছিলেন আগতরা। ঘড়ির কাঁটা ১২ ছুঁতেই ভিন্ন রকম এক বাদ্য বেজে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলে নতুন বছরকে স্বাগত জানান সববেতরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী, প্রেমিকাকে নিয়ে আসা অনেকেই ওয়েস্টিন থেকে ঘরে ফেরা শুরু করেন।
সন্ধ্যার পর থেকেই ঢাকা রিজেন্সিতে আনাগোনা বেড়ে যায় অভিজাত ঘরের তরুণ-তরুণীদের। ভিড় বাড়তে থাকে রিজেন্সির ১৪ তলায়। সেখানে হিন্দি, পপ ও ইংরেজি গানের তালে তালে ড্যান্সে মেতে উঠেছিলেন তারা। সঙ্গে  বিয়ার, সিগারেট পান করছিলেন অবিরত। ঘড়ির কাঁটা কাউন্ট ডাউন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যায় উত্তেজনা। মাতাল উন্মাদনায় নেচে উঠেন তরুণ-তরুণীরা। তার সঙ্গে পারফর্ম করেন ডিজে সনিকা, ডিজে ডন, ডিজে ইয়ামিন, ডিজে সামান্তা, ডিজে রাজ্জি ও ডিজে রেইন। চলতে থাকে স্টমি স্কাই ড্যান্স গ্রুপের নন স্টপ মিউজিক সঙ্গে ছিল লেজার শো। সবকিছু মিলিয়ে রিজেন্সিতে চলছিল অন্যরকম উন্মাদনা। থার্টিফার্স্টের এই রাতটি ছিল তাদের কাছে আনন্দঘন উন্মদনায় হারিয়ে যাওয়ার এক রাত। নাচতে নাচতে সঙ্গীকে একান্তে পেতে শুরু করে ভিন্ন চেষ্টা। অবশ্য যাদের আগে থেকে হোটেলে রুম বুকিং ছিল তাদের বেলায় কোন সমস্যা হয়নি। আবার অনেকেই প্রিয় মানুষটিকে একান্তে কাছে পাওয়ার জন্য হোটেল ত্যাগ করে চলে যান অন্যত্র। কেউ কেউ নিজের গাড়িতে করেই চলে যান লং ড্রাইভে। তবে যারা কোনো সঙ্গী ছাড়াই ডিজেতে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ছিল। টাকার বিনিময়ে খণ্ডকালীন সময়ে কিছু পেশাদার তরুণী তাদেরকে সঙ্গ দিয়েছেন। পেশাদার তরুণীরা অর্থের বিনিময়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গী হয়েছেন। এমনকি, নাচে সঙ্গী হওয়ার জন্যও নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করেছেন তারা। কথা হয় জুঁই নামের এক তরুণীর সঙ্গে। তিনি চার বছর ধরে পার্টিতে কাজ করেন। বান্ধবীর হাত ধরেই প্রথম পার্টিতে আসা শুরু তার। প্রথমদিকে নাচ না জানার কারণে জমাতে পারেননি। ধীরে ধীরে এখন সবকিছু আয়ত্ত করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে আমি এই কাজ করি। থার্টিফার্স্ট ছাড়া যে কোনো ধরনের পার্টিতে অংশগ্রহণ করি। নিজের প্রয়োজনেই সব ধরনের কাজ করি। তিনি জানান, তরুণরা নাচের সঙ্গীকে বিছানার সঙ্গী হিসাবে পেতে চায়। থার্টিফার্স্ট নাইটে চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের কাজই করি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী এবারের থার্টিফার্স্ট নাইট চার দেয়ালের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। থার্টিফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে অন্যান্য হোটেল রিসোর্টের পাশাপাশি রাজধানীর খিলক্ষেতের ঢাকা রিজেন্সির আয়োজনে কমতি ছিল না। ঢাকা রিজেন্সির এই পার্টিতে প্রবেশ মূল্য ছিল তিন হাজার টাকা। পার্টিতে বাইরে থেকে খাবার, সিগারেট, পানীয় নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এতে করে টিকেটের সঙ্গে থাকা নাস্তাও পানীয়র উপর নির্ভরশীল থাকতে হয় অনেককে। প্রয়োজনে কোনো সিগারেট, খাবার পানি ও পানীয় ক্রয় করতে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়েছে।
পাঁচ তারকা হোটেলের বাইরে পুরো রাজধানীতে আতশবাজি উৎসবে পালিত হয়েছে বর্ষবরণ। প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদেই ছিলো নানা আয়োজন।

ওষুধকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা -বাণিজ্যমেলা উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

ওষুধ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যকে ২০১৮ সালের ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা   করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মুন্সীগঞ্জে ওষুধের কাঁচামালের প্ল্যান্ট স্থাপন করছি। এই প্রোডাক্ট বিদেশে রপ্তানি হয় এবং তা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালের জন্য কাঁচামালসহ ওষুধকে ‘প্রোডাক্ট অফ দি ইয়ার’ ঘোষণা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ওষুধ শিল্প একটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির শিল্প। দেশের চাহিদার ৯৮ ভাগ যোগান দিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকাসহ সারা বিশ্বব্যাপী শতাধিক দেশে আমাদের এই ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার বিশ্বাস তৈরি পোশাক শিল্পের মতো এই শিল্প অচিরেই আমাদের জন্য, দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্রসীমা আমরা অর্জন করেছি। এই সমুদ্র সম্পদকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এই সম্পদ আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরাট অবদান রাখতে পারে। আমরা সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করছি। ২০১৭ সালে চামড়া খাতকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করেছিলাম। চামড়া শিল্পের উন্নয়নে আমরা অনেক কাজ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের বিদেশে নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করে তাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, দেশের রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধ করতেই এটি জরুরি। তিনি বলেন, আমাদের শুধু একদিকে তাকালে চলবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন দেশ, নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করতে হবে, নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং সেইসব বাজারে কোন ধরনের পণ্য রপ্তানি করা যায় সেটাও খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদিত পণ্যের মান নিশ্চিত করা, ব্রান্ডিং করা এবং এগুলোকে আকর্ষণীয় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা সাহায্য করার তা তার সরকার করে যাচ্ছে এবং করে যাবে বলেও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবসময় মাথায় রাখতে হবে বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এই প্রতিযোগিতাময় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তিনি ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের বলেন, শুধু নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা আনলেই হবে না। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়াতে হবে। আপনার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো একান্তভাবেই প্রয়োজন।
বহির্বিশ্বে বর্তমান সরকারের ব্যবসা-বাণিজ্য সমপ্রসারণের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরো ১২টি দেশে নতুন দূতাবাস এবং ১৭টি মিশন খুলেছি। সে সব দেশের অ্যাম্বাসেডর, হাইকমিশনারদের ডেকে ওয়ার্কশপ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং দেশে বিনিয়োগ কিভাবে বাড়ানো যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরফলে ব্যবসার দ্বার আরো উন্মুক্ত হবে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা তাদের নতুন পণ্য প্রদর্শনীর সুযোগ পান। আবার দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদার একটি চিত্রও তারা পেয়ে থাকেন। ফলে পণ্যের মানোন্নয়ন ও বহুমুখী করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বিশ্বের ৪৬তম বৃহত্তম অর্থনীতি। গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২৮ শতাংশ। এখন আমদানি ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ আয় থেকে মেটানো হচ্ছে। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক অধিকাংশ সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৯৯টি দেশে ৭৫০টি পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। ২০১৬-২০১৭ সালে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪১ বিলিয়ন ডলার। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের অবস্থান আরো সুসংহত হবে।
আমাদের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবেই একটা দেশকে উন্নয়ন করতে হলে শিল্পায়নে যেতে হবে। কিন্তু, কৃষিকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। কৃষিটা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, কৃষির মধ্য দিয়েই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। অর্থনীতি ত্বরান্বিত করতে শিল্পায়নটাও করতে হবে। আবার রপ্তানিও করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালায় গ্রামকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। পণ্য ব্যবহারে গ্রামীণ জনগণের ক্ষমতাটা যেন বাড়ে, আপনাদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করে তারা যেন তাদের জীবনমান উন্নত করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, সেই সঙ্গে আর একটা পদক্ষেপ আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক রেখে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো।
ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন বছর সবার জন্য আরো উন্নতি এবং প্রগতি নিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বণিজ্যমেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সুভাশীষ বোস এবং ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বাণিজ্য খাতের অগ্রগতি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ প্রদর্শিত হয়।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫৮৯ স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। মেলায় ১৭ দেশের ৪৩ প্রতিষ্ঠানের স্টল বা প্যাভিলিয়ন থাকছে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য থাকছে দুটি শিশুপার্ক, সুন্দরবনের আদলে একটি ইকোপার্ক।
নিরাপত্তায় মেলায় পুলিশ ও র‌্যাবের ওয়াচ টাওয়ারসহ আনসার ও ভিডিপি, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বিজিবি এবং র‌্যাব সদস্যরা মোতায়েন থাকছেন। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
বাণিজ্যমেলায় কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। প্রবেশ ফি প্রতিজন ৩০ টাকা। ছোটদের জন্য ২০ টাকা।

বাবরি মসজিদ ভাঙা বলবীর এখন মুসলমান

আজ থেকে ২৫ বছর আগে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের মাথায় উঠে শাবল দিয়ে আঘাত করেছিলেন। এখন লম্বা দাড়ি রেখে হয়েছেন মৌলভী। মেরামত করছেন ভেঙে পড়া মসজিদ। এক সময় শিবসেনার সক্রিয় কর্মী সেই বলবীর সিংহ এখন মোহাম্মদ আমির। মুখে সারাক্ষণ আল্লাহর নাম। নিয়মিত ভোরে আজানও দেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

বাবরি মসজিদ ভাঙার পর সব হারিয়েছেন তিনি। বাবা বাড়ি থেকে বের করে দেন। বাবার মৃত্যুর পরও বাড়িতে ঠাঁই হয়নি। এমনকি তার বাবাকে মুখাগ্নিও দিতে দেয়া হয়নি বলবীরকে।

শুধু তাই নয়, বদলে গেছেন বলবীরের বন্ধু যোগেন্দ্র পালও। ২৫ বছর আগে তিনিও বলবীরের সঙ্গে উঠেছিলেন বাবরির মাথায়। শাবলের আঘাতে ভেঙেছিলেন মসজিদ। তিনিও এখন মুসলিম।

বলবীর বলেন, সেটাই স্বাভাবিক ছিল। কারণ তার পরিবার কোনো দিনই উগ্র হিন্দু ছিলেন না। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি পাওয়া বলবীর তার পরিবারের সঙ্গে ছোটবেলায় থাকতেন পানিপথের কাছে খুব ছোট্ট একটা গ্রামে। দশ বছর বয়সে তার বাবা দৌলতরাম তাদের নিয়ে চলে আসেন পানিপথে।

তার কথায়, আমার বাবা বরাবরই গান্ধীবাদে বিশ্বাসী। তিনি দেশভাগ দেখেছিলেন। তার যন্ত্রণা বুঝেছিলেন। তাই আমাদের আশপাশে যে মুসলিমরা থাকতেন, তাদের আগলে রাখতেন বাবা। কিন্তু পানিপথের পরিবেশটা ছিল অন্য রকম। হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা মানুষ তেমন মর্যাদা পেতেন না পানিপথে।

ফলে একটা গভীর দুঃখবোধ সব সময় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত বলবীরকে। সেই পানিপথেই আরএসএসের একটি শাখার কর্মীরা বলবীরকে দেখা হলেই ‘আপ’ (আপনি) বলে সম্বোধন করতেন।


বলবীর বলেন, সেটাই আমার খুব ভালো লেগে যায়। সেই থেকেই ওদের সঙ্গে ওঠাবসা। শিবসেনা করতে করতেই বিয়ে করি। আর এমএ করি রোহতকের মহর্ষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তখন প্রতিবেশীরা ভাবতো আমি কট্টর হিন্দু। কিন্তু বাবা কোনো দিনই মূর্তি পূজায় বিশ্বাস করতেন না। আমরা কোনো মন্দিরেও যেতাম না। বাড়িতে একটা গীতা ছিল। কিন্তু আমি বা আমার ভাইয়েরা কেউই সেটা কখনো পড়িনি। পানিপথে কেউ বাঁ হাতে রুটি খেলেও তখন তাকে মুসলিম বলে হেয় করা হয়।

শিবসেনাই বলবীর আর যোগেন্দ্রকে অযোধ্যায় পাঠিয়েছিল। তারা হয়ে যান করসেবক।


তিনি বলেন, বাবরি ভেঙে পানিপথে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে আমাকে ও যোগেন্দ্রকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। যে দুটি ইট এনেছিলাম, সেগুলো পানিপথে শিবসেনার স্থানীয় অফিসে সাজিয়ে রাখা হয়।

বলবীর আরো বলেন, কিন্তু বাড়িতে ঢুকতেই ক্ষেপে যান বাবা। বাবা আমাকে বললেন, হয় তুমি এই বাড়িতে থাকবে, না হলে আমি। বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলাম আমিই। থেকে গেলো আমার স্ত্রীও।

তখন ভবঘুরের মতো জীবন কাটিয়েছেন বলবীর। লম্বা দাড়িওলা লোক দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতেন। বেশ কিছুদিন পর বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন বাবা মারা গেছেন। বলবীর বাবরি ভাঙায় যে দুঃখ পেয়েছিলেন তার বাবা, তাতেই নাকি তার মৃত্যু হয়েছে।

এরপর পুরনো বন্ধু যোগেন্দ্রের খোঁজখবর নিতে গিয়ে আরো মুষড়ে পড়েন বলবীর। কেননা ততদিনে মুসলমান হয়ে গেছেন যোগেন্দ্র। মসজিদ ভাঙার পর থেকেই নাকি মাথায় কিছু একটা হয়েছে মনে হতে থাকে যোগেন্দ্রের। মনে হয়েছিল পাপ করেছেন। তাই প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে মুসলমান হয়ে যান যোগেন্দ্র।

এরপরই আর দেরি না করে সোনেপতে গিয়ে মাওলানা কালিম সিদ্দিকির কাছে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নেন বলবীর। হয়ে যান মোহাম্মদ আমির।

‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে কী কী করতে চান বলবীর সিংহ ওরফে মোহাম্মদ আমির? তার কথায়, কম করে ভেঙে পড়া শ খানেক মসজিদকে মেরামত করতে চাই।

বলবীরের দাবি, ১৯৯৩ থেকে ২০১৭, এই ২৪ বছরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে মেওয়াটে বেশ কিছু ভেঙে পড়া মসজিদ মেরামত করেছেন। উত্তর প্রদেশের হাথরাসের কাছে মেন্ডুর মসজিদও নাকি মেরামত করেছেন তিনিই। সেই কাজে মুসলিমরাই তাকে এগিয়ে এসে সাহায্য করেছেন, দাবি বলবীরের।

ডিসেম্বরেই চালু হবে পদ্মা সেতু


নির্মাণ কাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও এ বছরের ডিসেম্বরেই চালু হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এমনটি আবারো জোর দিয়েই বললেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছে। দ্বিতীয় স্প্যান বসাতে একটু সময় লাগে। এরপর অন্যান্য স্প্যান বসাতে আমাদের আর ভাবতে হবে না। এর মধ্যে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা হিসেব করে দেখেছি- যথাসময়ে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে।

আনুষ্ঠানিক কাজ শুরুর প্রায় পৌনে দুই বছর পর গত সেপ্টেম্বরে বিশাল পদ্মার বুকে দৃশ্যমান হয় সেতুর মূল কাঠামো বা স্প্যান। পদ্মার জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের উপর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। এই কাঠামোর উপর দিয়েই চলবে যানবাহন।

সেতু বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ২৮ হাজার ৭শ ৯৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ৪২টি পিলারের উপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত বসেছে মাত্র একটিই।

ডিসেম্বরে সেতু চালু করতে হলে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের বাকি ৪০টি স্প্যান বসানোর কাজ এবছরই শেষ করতে হবে।

এ লক্ষ্যে পদ্মার দুপাড়েই দিন-রাত কাজ করছেন হাজারো দেশি-বিদেশি কর্মী।

তবে বৈরি আবহাওয়া ও বিশাল কর্মযজ্ঞের কারণে নির্ধারিত সময়ে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্মাণ কাজ শেষ করতে তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়েই করার পরামর্শও দেন তারা।

নগর গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, তোড়জোড় নয়, বরং মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজ সবদিক বিবেচনায় নিয়ে সাবধানতার সঙ্গেই অগ্রসর হতে হবে।



নতুন খবর দিলেন জয়া আহসান

নতুন বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতে মুক্তি পাচ্ছে জয়া আহসান অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র। আগামী ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে মুক্তি পাবে সাইফুল ইসলাম মাননু পরিচালিত ‘পুত্র’। আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১২ জানুয়ারি মুক্তি পাবে ‘আমি জয় চ্যাটার্জি’।

অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘পুত্র’ ছবিটি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন হারুন রশীদ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড।

অন্যদিকে ‘আমি জয় চ্যাটার্জি’হচ্ছে থ্রিলার ধাঁচের সিনেমা। পরিচালনা করেছেন মনোজ মিশিগান। সিনেমাটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আবির চট্টোপাধ্যায়। এর আগে ‘আবর্ত’, ‘রাজকাহিনী’, ‘বিসর্জন’ সিনেমায় আবিরের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন জয়া। ‘আমি জয় চ্যাটার্জি’ সিনেমাটি এই জুটির চতুর্থ সিনেমা।

এছাড়া বাংলাদেশের ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন কলকাতার পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। এই সিনেমায় ভাওয়াল সন্ন্যাসী রমেন্দ্রনারায়ণের বোনের চরিত্রে অভিনয় করবেন জয়া আহসান।

সিনেমাটির নাম ঠিক করা হয়েছে ‘এক যে ছিল রাজা’। চিত্রনাট্য লিখেছেন সৃজিত নিজেই। এতে রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণের চরিত্রে অভিনয় করবেন টালিগঞ্জের যিশু সেনগুপ্ত। এ মাসেই ছবিটির শুটিং শুরু হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে নতুন বছরে আরো একটি নতুন খবর দিলেন জয়া আহসান। আজ মঙ্গলবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান তিনি। একইসঙ্গে তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ফলো করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

জয়া বলেন, সবাইকে নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আর এই নতুন বছর থেকে আপনাদের সঙ্গে সরাসরি কানেক্টেড থাকার জন্য আমি হাজির হলাম আমার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ নিয়ে। এটি ছোট উদ্যোগ, কিন্তু আন্তরিক প্রচেষ্টা আপনাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার জন্য। আসুন একটি সুন্দর যাত্রা একসঙ্গে শুরু করা যাক।

এই অভিনেত্রী আরো বলেন, এ বছর আপনাদের সঙ্গে আমি সরাসরি যুক্ত থাকবো আমার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ নিয়ে। এখানে আমি, আমার কাজ—সবকিছু দ্রুত পাবেন। থাকবে সব এক্সাইটিং আপডেট, প্রতিক্রিয়া, লাইভ, আলোকচিত্র, ভিডিও, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা তথ্য।

চট্টগ্রামে নব্য জেএমবির ২ সদস্যকে আটকের পর সাতদিনের রিমান্ডে নিল পুলিশ

নগরীতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার  চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমান এই আদেশ দিয়েছেন।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবির  জানিয়েছেন, সিটিটিসি’র পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়ার দায়ের করা মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বাংলানিউজকে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসি’র পরিদর্শক আফতাব আহমেদ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন।  শুনানি শেষে আদালত সাতদিন মঞ্জুর করেছেন।

সোমবার (০১ জানুয়ারি) নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ির বালুর মাঠ সংলগ্ন পোর্ট সিটি হাউজিং সোসাইটির মিনু ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালানো হয়।

এসময় সেখান থেকে দুজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি সদরঘাট থানায় হামলার পরিকল্পনা-সম্বলিত টার্গেট ওয়ান লেখা একটি মানচিত্র পাওয়া গেছে।  এছাড়া ১০টি তাজা হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি সুইসাইডাল ভেস্ট এবং একটি মোবাইল ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া নব্য জেএমবির দুই সদস্য হলেন, ময়মনসিংহের মো.আশফাকুর রহমান ওরফে আবু মাহির আল বাঙালি ওরফে রাসেল ওরফে সেলেবি তিতুশ (২২) এবং মো.রাকিবুল হাসান ওরফে জনি ওরফে সালেহ উদ্দিন আয়ূবী ওরফে আবু তাইছির আল বাঙালি ওরফে হাসান (১৯)।

আলোকিত সাতকানিয়া'য় সংবাদদাতা ও মার্কেটিং এক্সিউটিভ নিয়োগ


চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ম্যাগাজিন পত্রিকা “আলোকিত সাতকানিয়া’’  এর জন্য সাতকানিয়ার প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে সংবাদদাতা ও চট্টগ্রামে শহরের জন্য মার্কেটিং এক্সিউটিভ নিয়োগ দেয়া হবে।

সংবাদদাতার ক্ষেত্রে কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
বেতন আলোচনা সাপেক্ষে। 

মার্কেটিং এক্সিউটিভ পদে  অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
বেতন আলোচনা সাপেক্ষে। 

আগ্রহী প্রার্থীরা ই-মেইলে ছবিসহ বায়োডাটা পাঠােনার ঠিকানা: alokitosatkanianews@gmail.com
ফেসবুক :Alokito Satkania

সরাসরি যোগাযোগ করার ঠিকানা:  ৯২, মোমিন রোড,  ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের পাশে, শাহ আনিস মসজিদ মার্কেট ২য় তলা, জামালখান, চট্টগ্রাম  আলোকিত সাতকানিয়ার অফিস।

মোবাইল ফোনে # ০১৯৭৯- ৮৫৯ ৯৯৮৩,


আমরা কর্মবিমুখ জাতি গড়তে চাই না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার কোনোভাবেই কর্মবিমুখ জাতি গড়ে তুলতে চায় না, বরং যার যা কর্মদক্ষতা আছে তাকে কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে চায়। তিনি বলেন, ‘কর্মবিমুখ জাতি গড়ে উঠুক সেটা আমরা চাই না। বরং যার যা কর্মদক্ষতা, কর্মশক্তি আছে সেটাকে যেন তারা কাজে লাগাতে পারে সেদিকেই দৃষ্টি দিচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০১৮’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে বিধবা-বয়স্ক ভাতা দেই তার একটি লক্ষ্য আছে। সেখানে আর একটি বিষয় আমরা লক্ষ্য রাখি তা হলো কেউ যেন সম্পূর্ণভাবে ভাতার উপর নির্ভরশীল না হয়। যে কর্মক্ষম সে কাজ করে খাবে। কিন্তু সে যেন কোনভাবেই অভুক্ত না থাকে সেদিকে আমরা লক্ষ্য রেখে অন্তত মাসে যেন ১০ কেজি চাল কিনতে পারে তার সমপরিমাণ এবং সাথে কিছু বেশি টাকা দিচ্ছি। শুধু ভাতার ওপরই যেন তারা নির্ভরশীল না হয়, যার যার কর্মক্ষমতা আছে সে যেন কাজ করে নিজের উপার্জন বাড়াতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে-বলেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লার রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনিতিকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং সমাজসেবা মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি, বিভিন্ন উপকার ভোগী ও প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তিনি যে সংবিধান দিয়েছেন সেই সংবিধানেই অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নের সুষ্পষ্ট উল্লেখ ছিল। সমাজের সকল শ্রেনী পেশার মানুষ যেন সরকার ও দেশের কাছ থেকে সমানভাবে সুযোগ পায় তিনি সেটা তিনি নিশ্চিত করে দিয়ে যান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন এবং একটি যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে যখন তিনি আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপরই দেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির শুরু। এ সময় জাতির পিতার ভাষণের উদ্বৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা, বাংলাদেশের মানুষ যেন তাদের খাদ্য পায়, আশ্রয় পায় এবং উন্নত জীবনের অধিকারী হয়।’ তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রতিবন্ধিতা, বৈধব্য, মাতৃ-পিতৃহীন শিশু, প্রবীণ ব্যক্তিসহ অভাবগ্রস্তদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করেন। তিনি বিভিন্ন জেলায় স্থাপন করেছিলেন সরকারি শিশু সদন। তিনি ১৯৭৪ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি প্রবর্তন করেন। যা আজও সারাদেশে ‘পল্লী সমাজসেবা (আরএসএস) কার্যক্রম’ নামে পরিচিত।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৯ সালে তার সমাজসেবা ভবন উদ্বোধনকালে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি সমাজসেবা দিবস পালনের ঘোষণা দেয়ার কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আমরা প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য প্রথমবারের মত বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা চালু করি। পরে সকল ভাতার পরিমান ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করি। তিনি বলেন, তার সরকার ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমরা ৩৫ লাখ প্রবীণ ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ৫শ’ টাকা হারে বয়স্কভাতা দিচ্ছে। এ বছর ১২ লাখ ৬৫ হাজার নারীকে জনপ্রতি মাসিক ৫শ’ টাকা হারে বিধবা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এখাতে বছরে ৭ শত ৫৯ কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতা জনপ্রতি ৭শ’ টাকায় উন্নীত করে এখাতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ থেকে ৮ লাখ ২৫ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে। ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি। বর্তমানে ৮৬ হাজার ৪শ’ এতিম শিশুকে জনপ্রতি মাসিক এক হাজার টাকা হারে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট দেয়া হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন- ২০১১’, ‘শিশু আইন- ২০১৩’, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩’ ও ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা-২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তিনি এ সময় তাঁর সরকারের আমলে করা বিভিন্ন আইন ও কৌশলপত্রের উল্লেখ করে বলেন, ‘লাইফ সাইকেল বেজ’ কর্মসূচি ও হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্তান মাতৃগর্ভে আসার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার সাম্যতার ভিত্তিতে প্রদান সম্ভব হবে। সরকার প্রধান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার থেকে সামাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ যেন বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে সুবিধাভোগীদের জন্য ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিষ্টেম (এমআইএস)’ তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৬ লাখ বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে সকল ভাতাভোগীরা যাতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ঘরে বসে ভাতা পেতে পারে সে লক্ষ্যে তাঁর সরকার ‘ক্যাশ ইনফর্মেশন ট্রান্সফার মর্ডানাইজেশন (সিটিএম) প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এর উপকারভোগীরা ভাতা পাবেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’, ‘বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ এবং ‘চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক তিনটি কার্যক্রম তাঁর সরকার বাস্তবায়ন করছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা দিতে ৪শ’ ১৯টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে হাসাপাতালে সমাজসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের উন্নয়ন ও কল্যাণে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী ৮৫টি সরকারি শিশু পরিবারের কার্যক্রম চলছে। ৬ বিভাগে ৬টি ছোটমণি নিবাস (বেবি হোম), ১টি দিবাকালীন শিশুযতœ কেন্দ্র, ৩টি দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, আমরা ৬ বিভাগে ৬টি এতিম ও প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছি। ১২টি শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে পথশিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিপদাপন্ন শিশুকে পুনর্বাসনসহ পরিবারে একীভূত করার জন্য ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোস্যাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ (সিএসপিবি)’ শীর্ষক প্রকল্পটির ২য় পর্যায়ে আরও ৫ বছরের জন্য অনুমোদন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি শিশু পরিবারসমূহের পুরাতন ভবনসমূহ ভেঙ্গে নতুনভাবে ডরমেটরি ভবন তৈরি করা হচ্ছে। জয়পুরহাটে নির্মাণ করা হবে নতুন কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র। প্রতিবন্ধিতা শণাক্তকরণ জরিপ অনুযায়ী দেশে এখন পযর্ন্ত ১৫ লাখ ৪১ হাজার প্রতিবন্ধীকে সনাক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অনলাইনেও প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছি। এসব তথ্য সংরক্ষণের জন্য ‘ডিজ্যাবিলিটি ইনফর্মেশন সিষ্টেম’ (ডিআইএস) সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে । প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করছি। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নের তাঁর সরকার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা সকল সমাজিক নিরাপত্তা সেবাকে ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ জন্য সমাজসেবা অধিদফতরকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ৬৪ জেলায় সোস্যাল সার্ভিসেস কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পও একনেক এ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২২টি জেলায় অবিলম্বে এ কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতাই আমাদের এই জায়গা দিয়ে যান যেটা আমরা এখন কাজে লাগাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী পরে অনুষ্ঠান স্থল থেকে ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে আগারগাঁওয়ে চারদিন ব্যাপী জাতীয় সমাজ সেবা মেলার ও উদ্বোধন করেন এবং দেশবাসীকেও এ সময় প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান। আলোচনা পর্ব শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ট্রাম্পের টুইটের জের : মার্কিন দূতকে তলব পাকিস্তানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটের জেরে পাকিস্তান দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন। উগ্রবাদীদের সম্পর্কে ‘মিথ্যা ও শঠতার আশ্রয় নেয়ার’ অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানে সহায়তা বন্ধের কথা বলার পর দুই দেশের মধ্যে ব্যতিক্রমী এ প্রকাশ্য বিরোধের সৃষ্টি হলো। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড হালেকে সোমবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাদের পররাষ্ট্র দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। এর আগে ইসলামাবাদ ট্রাম্পের ওই অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দেশটিকে উগ্রবাদীদের জন্য নিরাপদ স্বর্গ বানিয়ে ফেলেছে বলে ট্রাম্প টুইটারে অভিযোগ করেন।

বিক্ষোভ দমিয়ে ফেলল ইরান

ইরানের রাজধানী তেহরান ও দেশটির যেসব নগরীতে রাজপথে বিক্ষোভ হচ্ছে সেসব নগরীর পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসলামি বিপ্লব গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র রমাজান শরিফের বরাত দিয়ে আল ময়াদীন টিভি চ্যানেলের খবরে একথা বলা হয়। খবর তাসের। শরিফ বলেন, ‘আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনেক ভালোভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।’ আল-ময়াদীন টিভি নেটওয়ার্কের এর আগের খবরে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ ইউনিট সোমবার তেহরানের আজাদি, ইংহেলাব ও ফেরদৌসি স্কয়ার দখল করে বিক্ষোভ করা ব্যক্তিদের দমন করে।
টিভি চ্যানেলের খবরে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১শ’ জন বিক্ষোভকারীর একটি গ্রুপকে নগরীর কেন্দ্রস্থলে জড়ো হতে দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ রাজপথে বিক্ষোভের উস্কানিদাতাদের একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি আল-ময়াদীন টিভি চ্যানেলকে বলেন, ‘এই বিক্ষোভ হচ্ছে ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশটির জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।’ তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবকে দায়ী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে রাজপথে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভটি ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মাশাদে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার পুলিশ তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকমের শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

উত্তরে শীত দক্ষিণে বৃষ্টির পর শৈত্যপ্রবাহ

মধ্য পৌষে বিচিত্র এক আচরণ করছে প্রকৃতি। বেশ কয়েক দিন ধরে রাত থেকে পড়ছে ঘন কুয়াশা। এর সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলে পড়ছে শীত। আবার দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ঝরছে বৃষ্টি। শীত-বৃষ্টি হলেও জানুয়ারি মাসে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ রয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জানুয়ারি মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি পড়তে পারে। এই দুই অঞ্চলে মাঝারি ধরনের একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এতে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় দুই থেকে তিনটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা কমে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। তবে নদী অববাহিকায় কুয়াশা বেশি পড়তে পারে।
দেশের অনেক এলাকা দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকতে পারে। এদিকে তিন দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে কক্সবাজার, টেকনাফ, কুতুবদিয়া, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, রাঙামাটিসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায়। গতকাল সোমবার সকাল থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কক্সবাজারে ২৫, টেকনাফে ১৭, কুতুবদিয়ায় এবং চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও রাঙামাটিতে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের কারণে এই বৃষ্টি হয়েছে। এরপর উপকূলীয় এলাকায় কুয়াশার পড়বে। এর সঙ্গে তাপমাত্রাও কমে আসবে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, পশ্চিম ও উত্তর–পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা বাতাসের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীত পড়ে থাকে। লঘুচাপের প্রভাবে দক্ষিণের উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। কাল বুধবার থেকে এসব এলাকায় কুয়াশা পড়বে। এর সঙ্গে সারা দেশেই তাপমাত্রা কমে আসতে পারে। তাপমাত্রা যদি টানা তিন দিন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর কম থাকে, তাহলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় এর মাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এক সাগর মেঘের দেশে



পাহাড়, মেঘের বাড়ি! মন তো ছুটে যাবেই। গিয়েছিলাম রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে। কোথাও গেলে দল বেঁধেই যাই। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু এবার যাওয়াটা ছিল একটু ভিন্ন। দলের সবার সঙ্গে আগে সামনাসামনি কখনো দেখা হয়নি। ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় পরিচয়। লোকে বলে, ভার্চ্যুয়াল জগতের মানুষ আর আসল মানুষ নাকি ভিন্ন দুই সত্তা। কেবল ফেসবুকের গ্রুপে সামান্য পরিচয় ভরসা করে পাহাড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত! অনেকে বলেছিল বোকামি। সঙ্গী মনমতো না হলে ভ্রমণের আনন্দটাই তো মাটি। সাজেক ঘুরে এসে শেষ কথাটা সবার আগে বলতে ইচ্ছে করছে, এ রকম ‘বোকামি’ বারবার করতে চাই। পরিকল্পনাটা করেছিলাম বাধ্য হয়েই। কাছের বন্ধুদের সঙ্গেই যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এর ছুটি মেলে তো ওর মেলে না। শেষমেশ বিকল্প হিসেবেই ফেসবুকের ভ্রমণ গ্রুপগুলোতে খোঁজ নেওয়া। একটা গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ হলো। যাদের আয়োজনে ১৩ জনের একটা দল সাজেকে যাচ্ছে। ভিড়ে গেলাম সেই দলে। তবে টিকিট কাটা, কটেজ ভাড়া করা, খাবারদাবার—সব নিয়ে বেশ টেনশনই হচ্ছিল। সঙ্গী হিসেবে আমার স্ত্রী আয়েশাও যাচ্ছে, ফলে চিন্তাটা একটু বেশিই। জিজ্ঞেস করতেই ওই গ্রুপের অ্যাডমিন বললেন, আপনাকে কোনো চিন্তা করতে হবে না। শুধু টাকা দেবেন। আমরাই সব করে দেব। টিকিট থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়া সবই। এরপর এসে গেল সেই দিন। রাতে বাস ছাড়ল ঢাকার ফকিরাপুল থেকে।
ভোরে খাগড়াছড়ি পৌঁছালাম যখন, চোখেমুখে রাজ্যের ক্লান্তি। ঘুম ভেঙে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে হকচকিয়ে গেলাম। আমরা কয়েক শ ফুট ওপরে। কুয়াশার ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে এগিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। মিনিট কয়েক পরপর প্রায় ৯০ ডিগ্রি বাঁক। গা কাঁটা দিয়ে উঠছিল। উত্তেজনাও বোধ হচ্ছিল। যখন খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছালাম, তখন সকাল নয়টা। দলনেতা বললেন, আমরা রওনা দেব ঠিক ১০টায়। চাঁদের গাড়িতে। বলে রাখা ভালো প্রশাসনিক মানচিত্রে সাজেকের অবস্থান রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় হলেও খাগড়াছড়ি শহর থেকে যেতে হয়। তখন মাথায় শুধুই ঘুরছিল পাহাড় আর মেঘ। আমার স্ত্রী আর আমার জায়গা হলো চাঁদের গাড়ির সামনের আসনে। শহরের ইট-দালানের ঘোর কাটিয়ে শুরু হলো পাহাড়ি বনাঞ্চল। ৩০ মিনিট পর আমরা প্রবেশ করলাম এক অন্য পৃথিবীতে। ধুলো নেই, নেই শহুরে কোলাহল। সবুজের দেশ, কুয়াশার দেশ; যেন এক টুকরো স্বর্গোদ্যান। সর্পিল গতিতে কখনো ডানে তো কখনো বাঁয়ে চলছে গাড়ি। কখনো ১০০ ফুট উঁচুতে তো কখনো ১০০ ফুট নিচে নামছে। যেন গাড়ি না, কোনো রোলারকোস্টারে যেন চড়ে বসেছি আমরা। আগে কখনো পাহাড়ে যাইনি বলে পুরো যাত্রাপথটাই আমার কাছে ছিল রোমাঞ্চের। সেই ঘোর নিয়েই দুপুরে পৌঁছালাম মেঘের দেশ সাজেক ভ্যালিতে। দুপুরে খেলাম মুরগি-ভাত। লুসাইদের প্রচলিত পাহাড়ি বাঁশের তরকারি। সঙ্গে ঘন ডাল। তবে যাঁরা মরিচ কম খান তাঁরা একটু সাবধান। পাহাড়ি মরিচে ঝাল বেশি! একটু জিরিয়ে নিয়ে বেলা তিনটার দিকে রওনা হলাম কংলাকপাড়া দেখতে। দুই হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতার কংলাক পাহাড়চূড়া থেকে সূর্যাস্ত দেখাটাই উদ্দেশ্য। এবার আর গাড়ি নয়; নিজের পাজোড়াই ভরসা। ১৫ মিনিট ট্র্যাকিং করে পৌঁছালাম পাহাড়চূড়ায়। পাহাড়ি মিষ্টি পেঁপের অভ্যর্থনা পেলাম। বিক্রি করছেন স্থানীয় লোকজন। দামও বেশি নয়। পেঁপে খেয়ে কিছুক্ষণ ছবি তুললাম। সবাই মিলে সূর্যাস্ত উপভোগ করলাম। সে রাত ছিল পূর্ণিমার। এবার গন্তব্য সাজেক ভ্যালির হেলিপ্যাড। হেলিপ্যাডে বসেই পূর্ণিমার চাঁদ উপভোগ করা। ফিরতে ফিরতেই চাঁদ আলো দিতে শুরু করেছিল। সেখানে সবাই মিলে গোল হয়ে বসলাম। এতক্ষণে এসে সবার সঙ্গে সবার পরিচয় হওয়ার সুযোগ মিলল। এর আগে সবাই একসঙ্গে গান গেয়েছি। কবিতা আবৃত্তি করেছি। কিন্তু ঘটা করে পরিচিত হওয়াটাই হয়নি। পরিচিতি পর্বে জানা গেল কেউ প্রকৌশলী, কেউ বেসরকারি চাকরিজীবী, কেউ চালাচ্ছেন নিজের প্রতিষ্ঠান। কেউবা ব্যাংকার।
সবাই শুধু ভিন্ন ভিন্ন পেশারই না, ভিন্ন ভিন্ন জেলারও অধিবাসী। পেয়ে গেলাম একজন বিদেশিও। শুভায়্যু বিশ্বাস এসেছিলেন কলকাতা থেকে! আমাদের দলে ছিল আরও চার দম্পতি। সবাই উপভোগই করলাম পূর্ণিমাস্নাত রাতে ফানুস ওড়ানো। রাতে খেলাম বাঁশে রান্না করা মুরগি। বিশেষভাবে রান্না করা ডাল ও আলুভাজা। খেয়ে সবাই বেশ ক্লান্ত ছিলেন। অনেকেই ঘুমোতে চললেন। আয়েশাকে বললাম, ঘুমোলেই রাত কেটে যাবে। এই চাঁদমাখা সাজেক মিস করব? সঙ্গে পেলাম শাহিন ভাই ও তাঁর স্ত্রী মৌরীকে। কটেজ থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের হেলিপ্যাডের উদ্দেশে রওনা হলাম। সেখানে প্রায় আরও দুই ঘণ্টা আড্ডা দিয়ে কটেজে ফিরে ঘুম। অ্যালার্ম আর মোরগের ডাকে ঘুম ভাঙতেই দেখি আমাদের ঘর ধোঁয়াচ্ছন্ন। বারান্দায় গিয়ে দেখি ঠিক সামনেই মেঘের ভেলা। সত্যিকারের মেঘ! পাতলা মেঘের চাদরেই আমরা ঘুমিয়েছি। মনে হচ্ছিল স্বপ্নের দেশে আমরা। ভোর পাঁচটা বাজতেই বেরিয়ে পড়লাম। অপেক্ষায় রইলাম সকালের সূর্য দেখার। মিজোরাম পাহাড়ের মাথার ওপর দিয়ে উঠল লাল সূর্য। কী আশ্চর্য, কয়েক সেকেন্ডেই বেরিয়ে এল ডগমগে সূর্য। যত বেলা বাড়তে থাকল, কুয়াশার মতো মেঘদল ঘন হতে লাগল। মিজোরামের পাহাড়ের রেঞ্জ আর সাজেকের মাঝে যেন এক সাগর মেঘ! পায়ের নিচে ভেসে যাওয়া এই মেঘের ভেলা দেখে সবাই খুব উল্লসিত। সাজেককে বিদায় জানানোর পালা এল। নাশতা সেরে ১০টায় রওনা হলাম খাগড়াছড়ির উদ্দেশে। এই ভ্রমণে আরও ছিল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা আলুটিলা গুহা, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার ফুট ওপরে। আছে তেরাং চূড়া। যেখানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় পুরো খাগড়াছড়ি শহর। দেখা যায় শহরের বুক চিরে এঁকেবেঁকে চলা চেঙ্গী নদী।
যা যা জানা প্রয়োজন
*  খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক যাওয়ার পথ বেশ দুর্গম ও পাহাড়ি। সবচেয়ে ভালো চাঁদের গাড়ি। সাধারণত পার্বত্য জেলার অধিবাসীরাই গাড়ির চালক হয়ে থাকেন। পাহাড়ি পথঘাট তাঁদের নখদর্পণে। তাঁরা বেশ দক্ষও। তাই ভয়ের তেমন কোনো কারণ নেই।
*  পাহাড়ে প্রচুর মশা ও পোকামাকড় রয়েছে। তাই মশানিরোধক মলম সঙ্গে নেওয়া ভালো।
*  হাঁটাহাঁটি করা বা পাহাডে ভ্রমণ উপযুক্ত জুতা নিয়ে যান।
*  সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নিন। সৌরবিদ্যুৎ আর জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও সে সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য
*  সংকট রয়েছে পানির। সঙ্গে পানি নেওয়া উচিত।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ

সদ্য বিদায়ী ২০১৭ সালে আগের বছরের তুলনায় সব ধরনের চালের গড় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে মোটা চালের দাম সরু চালের চেয়ে বেশি বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২০১৭ সালে ঢাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। বৃদ্ধির এই হার আগের বছরের চেয়ে বেশি। আজ মঙ্গলবার কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের এই হিসাব প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবার মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবার তথ্য পর্যালোচনা করে ক্যাব এই হিসাব করেছে। এই হিসাব শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয়বহির্ভূত। ২০১৬ সালে জীবযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধি পায় ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। অনুষ্ঠানে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, নিম্ন ও নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষের ওপরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি হারে পড়েছে। অন্তত ২০১৭ সালে এই মানুষেরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল পায়নি।
গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। দেশি পেঁয়াজে দাম বেড়েছে ৪০ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও আমদানি করা পেঁয়াজে বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। শাকসবজির গড়ে দাম বেড়েছে ২৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। তরল দুধে বেড়েছে ২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ, গরুর মাংস ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। চিনি ও গুড়ে গড়ে দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ ও লবণে বেড়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ভোজ্যতেলে ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ, চা-পাতায় বেড়েছে ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ ছাড়া দেশি শাড়ি কাপড়, গুঁড়ো দুধ, মাছ, ডালডা, ঘি, মুরগি, ডিম, আটা-ময়দা প্রভৃতি জিনিসের দাম বেড়েছে। গত এক বছরে দেশি মসুর ডালের দাম কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আমদানি করা মসুর ডালে কমেছে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। কমেছে ফার্মের ডিম, নারকেল তেল, আলু, রসুন, জ্বালানি তেলের দাম। সার্বিকভাবে মাছে দাম বাড়লেও দেশে উৎপাদিত কই ও ইলিশের দাম কমেছে। অনুষ্ঠানে ক্যাবের আহ্বায়ক মোবাশ্বের হোসেন উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার প্রতিবেশী আরও ধনী হয়েছেন। আমি আরও গরিব হয়েছি। দুজনে মিলে কিন্তু সম্পদ বেড়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে চলে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক।’ ক্যাবের উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রা ব্যয়ের শিকার হয়েছে ১২ কোটি মানুষ। যাদের আয় দুই ডলারের নিচে। অনুষ্ঠানে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

মানুষ যেখানে অনন্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে ভুল ধারণা হলো, একদিন তা মানুষের মতো সৃজনশীল হয়ে উঠবে। তখন মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে যন্ত্র। তা অবশ্য হবে। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে মানুষ সব সময় এগিয়ে থাকবে একটি কাজে। সেটা কী, তা জানার আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজের ধরন জেনে নেওয়া যাক।
কীভাবে কাজ করে এআই?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিচয় কম্পিউটার বিজ্ঞানের ‘ফরওয়ার্ড’ মডেল হিসেবে। ইনপুট দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এর কাজ। এই তথ্য সংখ্যা হতে পারে, লেখা হতে পারে, ছবি হতে পারে। গাণিতিকভাবে নির্ণয়যোগ্য যেকোনো কিছু হতে পারে। নতুন তথ্য পেলে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে যত বেশি সময় ধরে তথ্য পেতে থাকবে, তত বেশি চৌকস হয়ে উঠবে এআই। গৃহীত সিদ্ধান্ত তত বেশি সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। নব্বইয়ের দশকের কম্পিউটিং মডেলগুলোও তো একই কাজ করত। তাহলে পার্থক্যটা কোথায়? এআই-পূর্ববর্তী এই কম্পিউটিং পদ্ধতি ‘ব্যাকওয়ার্ড’ মডেল নামে পরিচিত। ব্যাকওয়ার্ড মডেলে যে তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়, অ্যালগরিদমে জুড়ে দেওয়া শর্তের ভিত্তিতে তা প্রক্রিয়াজাত শেষে ফলাফল দেয়। ডেটার পরিমাণ বাড়ালে নতুন ডেটার জন্য নতুন করে প্রক্রিয়াজাত করে, ফলাফলও নতুন হয়। অন্যদিকে, এআইভিত্তিক ফরওয়ার্ড মডেলে নতুন করে ডেটা ইনপুট দিলে আগের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে পারে। আরও বেশি ডেটা দেওয়া হলে, হিসাবনিকাশ প্রথম থেকে শুরু করে না, আগে গ্রহণ করা সিদ্ধান্তে নতুন ডেটার প্রভাব খতিয়ে দেখে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যন্ত্রকে ‘প্রশিক্ষণ’ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য থাকতে হয়। প্রচুর তথ্য না থাকলে এআই ব্যবহারের যৌক্তিকতা থাকে না। তাত্ত্বিক দিক থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শুরু নব্বইয়ের দশকে। তবে বিকাশটা কিন্তু হয়েছে ইদানীং। কারণ দুটি। প্রথমত, আগে এত ডেটা নিয়ে কাজ করতে হতো না। দ্বিতীয়ত, আগে প্রচুর ডেটা একসঙ্গে প্রক্রিয়াকরণের জন্য পর্যাপ্ত গতির কম্পিউটার ছিল না।
এআই কী পারে, কী পারে না
এআই হলো কম্পিউটার প্রোগ্রাম। দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। অ্যালগরিদম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। তবে কখনো সৃজনশীল হতে পারে না। ব্যক্তি-স্থান-ধারণা সম্পর্কে নিজের সৃজনশীল মতামত জানাতে পারে না। এআই মানুষের আচরণ নকল করতে পারে। তবে কল্পনাশক্তি নেই। যন্ত্র একই কাজ একইভাবে দিনের পর দিন করে যেতে পারে। মানুষও পারে, তবে যন্ত্রের মতো দক্ষতার সঙ্গে নয়। স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনশিল্পে দিন দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়তে থাকবে। পৌনঃপুনিক কাজের জন্য মানুষের শ্রমের চাহিদা কমতে থাকবে। তবে এখন মানুষ দরকার সৃজনশীলতার জন্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির তৈরির জন্য এবং মানুষের কাজে তা লাগানোর জন্য। মানব মন একই সঙ্গে কল্পনাপ্রবণ ও সৃজনশীল। এই একটা জায়গায় যন্ত্র মানুষের জায়গা দখল করতে পারে না। মার্কিন চলচ্চিত্রনির্মাতা ওয়াল্ট ডিজনি যেমন বলেছিলেন, যা তুমি স্বপ্ন দেখতে পারো, তা করতেও পারো। মানুষ পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পারে না। এখানেই মানুষ অনন্য।
মেহেদী হাসান, সূত্র: ফরচুন

পরীক্ষার দুই দিন আগে প্রশ্ন ফাঁস: সিআইডি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬ সালে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার দুই দিন আগেই ফাঁস হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচ ছাত্রকে খুঁজছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামি গতকাল সোমবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে জবানবন্দি দেন। ওই আসামির নাম সজীব আহমেদ। গতকাল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস প্রথম আলোকে বলেন, ইন্দিরা রোডের একটি ছাপাখানা থেকে ২০১৬ সালের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ওই ঘটনায় সজীব আহমেদ গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরীক্ষার দুই দিন আগে প্রশ্নপত্র হাতে পান সজীব। গত ১৪ ডিসেম্বর সিআইডি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘পিপলস প্রিন্টিং’ নামের ওই ছাপাখানার কর্মচারী খান বাহাদুরসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল।
সুমন কুমার দাস আরও বলেন, ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সজীবের বাড়ি জামালপুর। তিনি ওই প্রেসের কর্মচারী খান বাহাদুরের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন। তিনি তা বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা পান। তবে খান বাহাদুরকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে দেন। সিআইডি বলেছে, সজীব তাঁর এলাকায় পাঁচজন ক্রেতা জোগাড় করেন। প্রশ্নগুলোর সমাধানেও তিনি সহযোগিতা করেন। ওই পাঁচজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এখন লেখাপড়া করছেন। সিআইডি ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা উদ্‌ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিআইডিকে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে টিএসসির চায়ের দোকান

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সব চায়ের দোকান। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই টিএসসি চত্বরে কোনো চায়ের দোকান খুলতে দেওয়া হয়নি। চায়ের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাতে প্রক্টোরিয়াল দলের সদস্যরা এসে আজ থেকে চায়ের দোকান খুলতে নিষেধ করেন তাঁদের।
আজ সকালেও দোকান খুলতে এলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। বলা হয়, এখানে আর দোকান করা যাবে না। কারণ জানতে চাইলে প্রক্টোরিয়াল দল কিছু জানায়নি বলে জানান চায়ের দোকানিরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিএসসির পরিচালক এ এম মহিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনার ব্যাপারে তিনি জানেন না। প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, শুধু টিএসসির চায়ের দোকানের বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা নেই। ভাসমান দোকানগুলোতে নিম্নমানের চা ও খাবার পরিবেশন করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এগুলো নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিরোধী। এর আগে গত ১৭ অক্টোবর টিএসসির পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রাত আটটার মধ্যে টিএসসির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ (http://www. prothomalo. com/bangladesh/article/ 1348376) দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। প্রতিবাদ জানান সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তীব্র সমালোচনার মুখে সময় বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুর নরম করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

৫ জানুয়ারি ঘিরে উত্তেজনা

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবার উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এদিন আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তবে বিএনপি এদিন রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি এখনো পায়নি। তবে দলটি বলছে, বিএনপি সমাবেশের সব প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে। তবে ডিএমপি সূত্র জানায়, এরই মধ্যে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি নামের একটি দলকে ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘পত্রিকায় এসেছে, একটা অপরিচিত নাম-গোত্রহীন ইসলামি পার্টিকে সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়, এই সরকার আসলে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।
ভবিষ্যতে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার সব উদ্যোগকে বাধা দিচ্ছে।’ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের পর থেকে দিনটিকে বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি শুক্রবার বিএনপি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ এবং দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিল করবে। রুহুল কবির বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গত শনিবার বিএনপি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে বিএনপিকে কিছু জানানো হয়নি। তবে বিএনপি সমাবেশের সব প্রস্তুতি রাখছে। গত বছরও বিএনপি ঢাকায় ৫ জানুয়ারির সমাবেশ করতে পারেনি। দলটি গত বছরের ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না হলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কোথাও অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি সামনে রেখে গত রোববার নিজেদের কর্মসূচি ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। ওইদিন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাজধানীর গুলশানে এবং মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করা হবে। সারা দেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়েও একই কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।

শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ জুতা পায়ে অতিথিরা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর সদরের ফজরউদ্দিন (এফইউ) উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানিয়ে গতকাল সোমবার বই উৎসব করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই মঞ্চে অতিথি-শিক্ষক সবাই জুতা পায়েও ওঠেন। এতে অনেকে ক্ষুব্ধ হন। বই উৎসবে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানানো হয়েছে। সেখানে টেবিলের ওপর নতুন বই রাখা হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠানের অতিথিরা একে একে সবাই জুতা পায়ে মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসেন। বই বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাদেকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা রহমান, পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য আবদুর রহিম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন প্রমুখ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক রাজেন্দ্র প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়ের বই উৎসবের অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানানো হয়েছে। অতিথি-শিক্ষক সবাই মঞ্চে জুতা পায়ে বসে আছেন। আমাকে মঞ্চে ডাকা হয়েছিল। শহীদ মিনার অবমাননা দেখে মঞ্চে উঠিনি।’ এটা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অজ্ঞতা নাকি ধৃষ্টতা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিন বলেন, ‘আগামীতে আমরা আর শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ করব না। এটা আমাদের ভুল হয়েছে।’ তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান বলেন, ‘শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানানো হলেও সেখানে কার্পেট বিছানো ছিল। এ কারণে শহীদ মিনারের অসম্মান হয়নি।’ পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মঞ্চ হিসেবে সেখানে উঠেছি। কিন্তু সেখানে শহীদ মিনার ছিল কি না তা জানি না। যদি সেখানে শহীদ মিনার থেকে থাকে, সেই দায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।’

বিশ্বসুন্দরীর অমৃত বাণী ও মাতৃমৃত্যু by উম্মে মুসলিমা

অনেক দিন থেকেই বিষয়টা নিয়ে লেখার জন্য তাগিদ অনুভব করছিলাম। ২০১৭ সালের বিশ্বসুন্দরী আর একটু উসকে দিলেন তাঁর প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিশ্বসুন্দরী ভারতের মানুষি ছিল্লারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—কোন পেশায় সবচেয়ে বেশি বেতন হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন এবং কেন। ছিল্লার নম্রভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘কারও জন্য বেতন বিবেচ্য বিষয় নয়, তবে আমার কাছে মনে হয় মাতৃত্বের জায়গাটাই সবচেয়ে সম্মানের হওয়া উচিত। এখানে অর্থকড়ি মূল্যহীন। পুরোটাই ভালোবাসা আর সম্মানের।’ তাঁর জবাবে ধন্য ধন্য পড়ে গেল। বিশ্বসুন্দরীর মুকুট উঠে গেল তাঁর মাথায়। কুড়ি বছরের একটি মেয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই মাতৃত্বের মহিমাকে অমূল্য হিসেবে হৃদয়ে লালন করবেন সন্দেহ নেই। কিন্তু বাস্তব যে কত নিষ্ঠুর, তা কেবল জানেন যে মায়েরা সন্তান ধারণ ও লালন করেন। আর প্রতিবছর যেসব শিশু জন্মের পরই হারাচ্ছে তাদের মাকে, তাদের বেড়ে ওঠার বেদনা যে কত দুর্বিষহ, তা সেই সব শিশুই জানে। সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমেনি বরং বেড়েছে। সাত বছর আগে সর্বশেষ মাতৃমৃত্যু জরিপে দেখা গিয়েছিল ১ লাখ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ১৯৪ জন মায়ের মৃত্যু হয়েছে, ২০১৫ সালের পর থেকে তা বাড়ছে। সুতরাং বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু–সম্পর্কিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করতে পারেনি। ১৬ কোটির বেশি জনসংখ্যায় ১০ থেকে ১১ লাখ পথশিশু। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের। সম্পদশালী আছে মাত্র ৮০-৯০ লাখ। প্রতিবছর আমাদের দেশে ৩২ লাখ শিশু জন্ম নেয়।
প্রতিবছর প্রসবকালীন ১৫ হাজার নারীর মৃত্যু ঘটে। এ ক্ষেত্রে এ বছরের বিশ্বসুন্দরীর দেশের অবস্থা আমাদের দেশের চেয়ে কোনো অংশেই ভালো নয়। বিশ্বসুন্দরী বললেন যে মাতৃত্বের জায়গাটিই সবচেয়ে সম্মানের হওয়া উচিত, এখানে অর্থকড়ি মূল্যহীন। তাঁর দেশে যে হারে মেয়ে ভ্রূণ হত্যা চলছে, তাতে মাতৃত্বের সম্মানই বড় হওয়া উচিত। কিন্তু মেয়ের বিয়ের জন্য কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা–মাতার অর্থকড়ির আয়োজনে নিজেদের জীবন ধারণ যেভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেখানে মাতৃত্ব অভিশাপ। তাহলে দেখা যাক আমাদের ও তাদের দেশে এত মাতৃমৃত্যুর কারণ কী। ইউনিসেফের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ মা নিরাপদ মাতৃত্বের আওতায় আছেন। বাদবাকি মায়েদের প্রত্যক্ষ মৃত্যুর কারণের মধ্যে রয়েছে প্রসবকালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি, প্রসব জটিলতা, দীর্ঘ সময় ধরে প্রসব, গর্ভপাত, হৃদ্‌রোগ, জন্ডিস ইত্যাদি। পরোক্ষ কারণ অপরিণত বয়স, দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টিহীনতা, প্রয়োজনীয় খাবারের অপ্রতুলতা, রক্তস্বল্পতা, অদক্ষ ধাত্রী, অর্থাভাব, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দূরত্ব ও কুসংস্কার। এ ছাড়া প্রসব-পূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসব-উত্তর সেবাযত্নের অভাবও একটা বড় কারণ। এখনো ৬৮ শতাংশ প্রসব বাড়িতে হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীদের দ্বারা হয় ৩৩ শতাংশ। একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রসূতিকক্ষ। আবেদা খাতুনের শাশুড়ির ইচ্ছা ছিল না হাসপাতালে দুনিয়ার লোকজনের মধ্যে ঘরের বউ বাচ্চা প্রসব করুক। তা ছাড়া হাসপাতালে এলেই খরচ। হাতে টাকাপয়সা নেই। ছেলে ঢাকায় রিকশা চালায়। কবে আসবে তার কোনো ঠিক নেই। কিন্তু আবেদার বড় বোন নাছোড়বান্দা। তাঁর নিজের তিনটি সন্তানের মধ্যে কেবল শেষেরটাই বেঁচে আছে। তিনিও মরতে মরতে কোনোমতে বেঁচে উঠেছেন, তা কেবল হাসপাতালে এসেছিলেন বলেই। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে বোন আর বাচ্চাটাকে বাঁচানোর জন্য জোর করে হাসপাতালে এনেছেন। কিন্তু একটা বাচ্চা জন্ম দিতে শরীরে যেটুকু শক্তির দরকার, আবেদার তা ছিল না। রক্তশূন্য, পুষ্টিহীন, কোটরাগত পাংশু চোখ আর কাঠির মতো হাত-পায়ের আবেদাকে দেখে ডাক্তার আশা দিতে পারলেন না। বোন মানুষি ছিল্লার, আমাদের উপমহাদেশে অর্থকড়ি মূল্যহীন নয় বরং মাতৃত্ব রক্ষায় অন্যতম উপযোগ। বাল্যবিবাহ রোধ, কুসংস্কার থেকে মুক্তি, শিক্ষা, স্বনির্ভরতা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির সমন্বয় যেদিন হবে, সেদিন হয়তো মাতৃমৃত্যু ও মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে আসবে।
হয়তো একদিন এ দেশে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের প্রতি পরিবারের সবাই সচেতন ও যত্নবান হয়ে উঠবেন। কিন্তু যত দিন না হয়, তত দিন গর্ভবতী নারীর নিজেকে প্রসবের পূর্বে অল্প অল্প করে কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে হবে। এ শুধু নিম্নবিত্ত নারীর সমস্যা নয়, অনেক মধ্যবিত্ত নারীও চূড়ান্ত মুহূর্তে অর্থের সংকটে পড়েন। দেখা গেল প্রসবের জটিলতায় অস্ত্রোপচার দরকার, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য রক্তের প্রয়োজন বা নবজাতকের সুস্থতার জন্য ওষুধ-পথ্য চাই, কিন্তু আর্থিক প্রস্তুতি নেই। গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা গর্ভধারণের পর থেকেই মাটির ব্যাংকে প্রতিদিন দুই-পাঁচ টাকা করে রাখলেও হাসপাতালে যাওয়ার ভ্যান ভাড়াটুকু জোগাড় থাকে বা সপ্তাহে দু-একটা ডিম খেতে পারেন। বিত্তহীন নারীদের মুষ্টিচাল সংরক্ষণের মাধ্যমেও কিছু অর্থের সংস্থান হয়। কেবল শিক্ষিত বা প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হওয়াই নারীর জন্য সব নয়। সব নারীই উপার্জনক্ষম হতে পারবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় চাকরিরত নারীরা সন্তানধারণের পরপরই শারীরিক, সাংসারিক ও দাপ্তরিক জটিলতায় চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। সন্তান স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই। মায়েরা সন্তান জন্ম দেবেন আর বাবারা হবেন সন্তানের দাবিদার—এসব দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসতে হবে। কোন পেশায় সবচেয়ে বেশি বেতন হওয়া উচিত—এই প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বসুন্দরীর জবাব হতে পারত—মাতৃত্ব কোনো পেশা নয় (গর্ভ ভাড়া ব্যতীত), কিন্তু সন্তানধারণ ও লালনকালীন নারীকে স্বামীর বা সরকারের বেতন দেওয়া উচিত। কারণ, শেষাবধি তাঁর সন্তান রাষ্ট্রেরই সম্পদ হবে। তবে বেতনের বিকল্প হতে পারে নারীর জীবনের যে সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল, সংকটপূর্ণ, অসহায়, পরিবর্তনে প্রক্রিয়াধীন, রূপান্তরময়—সেই সব সময়ে উত্তরণে স্বজনের সেবা, সহায়তা ও সহমর্মিতা।
উম্মে মুসলিমা: কথাসাহিত্যিক।
muslima.umme@gmail.com

পৃষ্ঠা এলোমেলো, ছবি চেনা দায়

পৃ. ১১১ মাওলানা ভাসানীকে দেখে
চেনার কোনো উপায় নেই
সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও গতকাল সোমবার বই উৎসব হয়েছে। কিন্তু নতুন বই হাতে নিয়ে অনেক শিশুর মন খারাপ হয়েছে। বইয়ের পাতা এলোমেলো। কবির চেহারা চেনার উপায় নেই। লাল-সবুজের পতাকার রং পাল্টে গেছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে এই বিভ্রাট বেশি হয়েছে। অনেক শিশু বই নেয়নি। আবার কেউ কেউ বদলে দেওয়ার শর্তে বই নিয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির ‘আমার বাংলা’ বইয়ে মলাট ঝকঝকে হলেও এর ভেতরে ছাপা ঝাপসা। কোনো বইয়ের পৃষ্ঠা এলোমেলো। এই বইয়ের ৫৪ পৃষ্ঠার পরে ৫৫ পৃষ্ঠা হওয়ার কথা থাকলেও ৫৪-এর পরের পৃষ্ঠা নম্বর দেওয়া হয়েছে ৭০। এই বইয়ের ১৬টি পৃষ্ঠা বাদ পড়েছে। বইটির মলাট ওল্টালেই পতাকার একটি পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাবে। কিন্তু বইয়ের ভেতরের পৃষ্ঠার ছাপা আর পরিষ্কার নয়। বইয়ের ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি পতাকার ছবি ছাপা হয়েছে। এই পতাকার লাল অংশটুকু ফোটেনি। সবুজ রংটুকুও কালচে হয়ে আছে। ১০৮ পৃষ্ঠায় কবি পরিচিতি অংশে কবি শামসুর রাহমানের ছবি ছাপা হয়েছে। এতই কালিঝুলি মাখা ছবি যে নিচের নাম না পড়লে বোঝার উপায় নেই, সবার পরিচিত সুদর্শন চেহারার কবি শামসুর রাহমানের ছবি এটি। একই অবস্থা করা হয়েছে ৪৩ পৃষ্ঠায় কবি সুকুমার বড়ুয়া ও ৫৫ পৃষ্ঠায় আহসান হাবিবের ছবিতেও। ঘাসফুল কবিতার কবি জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের ছবির দিকে তাকালে মনে হচ্ছে, এই ছবির কোনো মুখ নেই। শুধুই কালো রং। ১১১ পৃষ্ঠায় ছাপা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে ছবি দেখে কেউ চিনতে পারবে না। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ডাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুন এই বই না নিয়ে ফেরত দিয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, কয়টা বই এ রকম হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে খেয়াল করা হয়নি। মাহমুদা বইয়ের পাতা ওল্টাতে গিয়ে পৃষ্ঠা এলোমেলো দেখে ফেরত দিয়ে গেছে। অন্য কোথাও এ রকম হয়েছে কি না জানার জন্য রাজশাহী নগরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফোন করলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, তাঁরাও এ ধরনের বই পেয়েছেন।
শিক্ষকেরা আরও জানিয়েছেন, পঞ্চম শ্রেণির গণিত বইয়ের ৪১ থেকে ৫৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত দুবার ছাপা হয়েছে। রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বইয়ের চালানে উল্লেখ ছিল, রাজশাহী জেলায় বই ছাপা ও সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং নাজিরেরবাগ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ঢাকা। কিন্তু রাজশাহীতে বলাকা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, নাজিরেরবাগ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ঢাকা থেকে মুদ্রিত বইও সরবরাহ করা হয়েছে। জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষার রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক আবুল খায়ের প্রথমআলোকে বলেন, কোনো বই ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলে সেগুলো বিদ্যালয়ে জমা দিলেই পরে তাদের ভালো বই সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, এত বইয়ের মধ্যে দু-চারখানা এ রকম থাকতেই পারে। অন্য প্রকাশনা থেকে বই ছাপার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা তাঁদের দেখার বিষয় নয়। তাঁরা বই পেয়েছেন, এটাই বড় কথা। গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহীর অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে জেলা পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাসিমা খাতুন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক ও পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসবের সভাপতি শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী। বই বিতরণ শেষে ওই স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাচ-গান-গম্ভীরার মাধ্যমে উৎসবে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা।

আসামে নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক

নতুন বছরের প্রথম দিনেই অনিশ্চয়তার কবলে পড়েছেন ভারতের আসাম রাজ্যের ১ কোটি ৩৯ লাখ লোক। নাগরিকত্বের জাতীয় নিবন্ধনের (এনআরসি) খসড়া তালিকায় তাদের কারও নাম নেই। ইতিমধ্যেই তালিকায় নাম না থাকায় এক মণিপুরি মুসলিম আত্মহত্যা করেছেন। তালিকায় ১ কোটি ৯০ লাখ লোকের নাম ঠাঁই পেলেও বাদ পড়েছেন রাজ্যের চার বিধায়কসহ সাবেক মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা। বাদ পড়া বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য, আসাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ-এর মালিক-সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী প্রমুখ। ভারতীয় সময় গত রোববার মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের অন্য কোনো রাজ্যে নাগরিকদের নিবন্ধন না হলেও শুধু আসামেই তা করা হলো। বিজেপি শাসিত আসাম রাজ্য সরকারসহ সেখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, আসামে প্রচুর বাংলাদেশির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আর বিজেপি গত বছরের মে মাসে রাজ্য সরকার গঠনের পর থেকে অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় হিন্দুদের কর্মসংস্থান নষ্ট করছে দাবি করে ‘অবৈধ’ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তাই বিদেশিদের শনাক্ত করতেই সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে শুরু হয় এনআরসি তালিকা প্রস্তুতি। তালিকা প্রকাশকে ঘিরে তাই আতঙ্কে ছিল মুসলমান-অধ্যুষিত বরপেটা, দুবরি, করিমগঞ্জ, কাছাড়সহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা। রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয় তালিকা প্রকাশকে ঘিরে। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশের সময় বলেন, চলতি বছরেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত হবে। রাজ্যের ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখের নাম প্রথম তালিকায় রয়েছে। অন্যদের নাম যাচাইয়ের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলার বরাত দিয়ে পিটিআই জানায়, প্রথম দফায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। নাম যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা থাকায় এক পরিবারের কোনো কোনো সদস্যদের নাম প্রথম তালিকা থেকে বাদ গেছে। যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যেহেতু এখনো শেষ হয়নি, তাই তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছে, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আসামের লোকজনের নাগরিকত্ব নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ২০১৫ সালের মে মাসে। বছরের প্রথম দিনই কাছাড় জেলার কাশীপুরে মণিপুরি মুসলিম হানিফ খান (৪৫) আত্মহত্যা করেন। পুলিশ মুখে কুলুপ আঁটলেও স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, এনআরসিতে নাম থাকায় হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন হানিফ। হানিফের মতো আত্মহত্যার রাস্তা বেছে না নিলেও বহু মানুষ রাজ্য ছাড়তে শুরু করেছেন।
অবশ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্বিতীয় তালিকায় বৈধ নাগরিকদের নাম থাকবে। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত আসামে আসা হিন্দুরা নিশ্চিন্ত। তবে ‘বিদেশি’ মুসলিমদের রাজ্য ছাড়তে হবে। প্রয়োজনে ভারতের অন্য রাজ্যে ‘বাংলাদেশি মুসলিমদের’ আশ্রয় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিজেপিরই জোট শরিক আসাম গণপরিষদের রাজ্য সভাপতি অতুল বরার দাবি, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর যাঁরাই আসামে অনুপ্রবেশ করেছে, জাতি-ধর্মনির্বিশেষে তাঁদের রাজ্য ছাড়তে হবে। কংগ্রেস অবশ্য মনে করে, আসামে বিদেশি শনাক্তকরণের নামে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করছে বিজেপি। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈ সাংবাদিকদের কাছে আগেই দাবি করেছেন, আসামে একজনও বাংলাদেশি নেই। আসামে এনআরসি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (এএএসইউ) নেতা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্যের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নাম বাদ পড়া। এনআরসির প্রথম খসড়া প্রকাশকে অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে আসামের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত আখ্যা দিয়ে তিনি তালিকাকে স্বাগত জানান। আসামের নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সাধন পুরকায়স্থ শিলচর থেকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবাই খ্রিষ্টীয় নববর্ষ পালন করলেও আসামের বাঙালিদের কোনো আনন্দ নেই। নতুন বছর আমাদের কাছে অশুভ বার্তা বয়ে এনেছে। ৭০ শতাংশ বাঙালির নাম বাদ পড়েছে।’

জাপানে নববর্ষের বিশেষ খাবার খেয়ে দুজনের মৃত্যু

বছরের প্রথম দিন উদ্‌যাপনে তৈরি বিশেষ খাবার খেয়ে জাপানে মারা গেছেন দুজন। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল সোমবার বর্ষবরণ উদ্‌যাপন উপলক্ষে চাল দিয়ে বিশেষ ধরনের কেক তৈরি হয় জাপানের ঘরে ঘরে। আর এই খাবার খেয়েই মারা গেছেন দুজন। প্রতিবছরই খ্রিষ্টীয় নববর্ষে এই বিশেষ খাবার করা হয়। ‘মোচি’ নামের ঐতিহ্যবাহী এই খাবার তৈরি হয় নতুন চাল দিয়ে।
দেখতে খুবই সাধারণ এই খাবারের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি খেতে হলে প্রচুর চিবোতে হয়। মুখে নিয়ে অল্প নাড়িয়ে খেতে গেলেই বাধে বিপত্তি। গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়ে যায়। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মোচি খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা এবারই প্রথম নয়। প্রতিবছরই এই খাবার খেয়ে দু-একজন করে মারা যান। তাই প্রশাসনও প্রতিবছরই সতর্ক করে মানুষকে। মোচি খুব নরম মসৃণ বনরুটির মতো দেখতে একটি খাবার। চাল সেদ্ধ করে, দলাই-মলাই করে ও মাখিয়ে বেক করে তৈরি হয় এটি। সমস্যা একটাই—খেতে হলে অনেক চিবোতে হবে। বেশি করে না চিবিয়ে খেলে গলায় আটকে যায় খাবারটি। তবে তারপরও থেমে না থাকে মোচি খাওয়ার উৎসব। এই খাবার খেতে গিয়ে মারা যায় বেশি বৃদ্ধ ও শিশুরা। অনেক সময় শিশু ও বৃদ্ধদের এই কেক ছোট ছোট করে কেটে দেওয়া হয়। তবে ঐতিহ্য অনুযায়ী আস্ত কেকই খেতে চান সবাই। জাপানের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নববর্ষের দিন গলায় খাবার আটকে যত মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের ৯০ শতাংশের বয়স ৬৫। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মোচি খেতে গিয়ে মারা যান নয়জন। ২০১৬ সালে একজন। গত বছরের নববর্ষে মারা গেছেন দুজন। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন বহু মানুষ।

ছয় মাসে প্রবাসী আয় সাড়ে ১২% বেড়েছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসার পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈধ পথে প্রবাসী আয় এসেছে ৬৯৩ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৬১৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ এ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রবাসী আয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধভাবে প্রবাসী আয় আসা ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রবাসী আয়ে তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ আয় গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। সদ্য বিদায়ী ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১১৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার, গত নভেম্বরে যা ছিল ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের মধ্যে ডিসেম্বরে এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এনেছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে গত মাসে এসেছে ২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এরপরের দুটি স্থানে আছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংক।
অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ১০ কোটি ৮১ লাখ ডলার। একই সময়ে সোনালী ব্যাংক এনেছে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়। কারণ, গত বছর প্রচুর লোক বিদেশে গেছেন। তাঁদের আয় এখন দেশে আসতে শুরু করেছে। ডলারের বিপরীতে টাকা অতিমূল্যায়িত ছিল, সেটা অনেকটা ঠিক হয়েছে। বৈধ ও অবৈধ উপায়ে টাকা পাঠানোর বিনিময় হারের পার্থক্য আগের চেয়ে কমেছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ আসা বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কঠোর পদক্ষেপও প্রবাসী আয় বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে প্রবাসী আয় বিতরণের অভিযোগে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ২ হাজার ৮৮৭টি এজেন্টের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ১ হাজার ৮৬৩টি এজেন্ট হিসাব বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকাশের মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে প্রবাসী আয় আসার কারণে তা বৈধ পথে আসা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে।

ভ্যাট চালু করল সৌদি ও আমিরাত

প্রথমবারের মতো পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট চালু করল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আজ সোমবার নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে বেশির ভাগ পণ্য ও সেবার ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করল দেশ দুটি। দীর্ঘ সময় ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো বিদেশি কর্মীদের করমুক্ত জীবনধারার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আকৃষ্ট করে আসছিল। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হলো তাদের। তেলের দাম কমায় আয় কমেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের। আয় বাড়াতেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রথম বছর ভ্যাট থেকে ৩৩০ কোটি ডলার আয় হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের। পেট্রল, ডিজেল, খাদ্য, কাপড়, বিভিন্ন সেবা,
হোটেল ভাড়ার ওপর এখন থেকে ভ্যাট দিতে হবে জনগণকে। তবে চিকিৎসাসেবা, সরকারি পরিবহন, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো সেবার ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ বহুদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোকে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে আসার পরামর্শ দিচ্ছিল। সৌদি আরবের বাজেট আয়ের ৯০ শতাংশ তেলের ওপর নির্ভরশীল। আর সংযুক্ত আরবের তা ৮০ শতাংশ। দুটি দেশই সরকারি তহবিল বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। সৌদি আরবে তামাক ও কোমল পানীয়ের ওপর কর আরোপের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকে দেওয়া কিছু ভর্তুকিও কর্তন করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাস্তা ব্যবহারের ওপর টোল বাড়ানো হয়েছে ও নতুন করে পর্যটন কর আরোপ করা হয়েছে। তবে ভ্যাট আরোপ করা হলেও আয়কর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই দেশ দুটির। এ দুটি দেশের মানুষের আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হয় না। উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো যেমন বাহরাইন, কুয়েত, ওমান কাতারও ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে এই পরিকল্পনা ২০১৯ সাল পর্যন্ত স্থগিত করেছে তারা। সূত্র: বিবিসি অনলাইন

ভারত থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি!

ভারত থেকে এবার হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি করতে চান ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তাঁরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছেন। ব্যবসায়ীদের এই উদ্যোগের পক্ষে মত রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রতি কেজি হিমায়িত গরুর মাংসের আমদানি খরচ পড়বে ২৫০ টাকার মতো। অন্যান্য খরচ যোগ করার পর ভোক্তাদের কাছে ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে গরু আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ব্যবসায়ীরা এখন গরুর মাংস আমদানি করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কারণ, বাংলাদেশে গরুর মাংসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। ভারত থেকে চোরাই পথে গরু এনে এত দিন দেশের মাংসের চাহিদা মেটানো হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করায় চোরাই পথে গরু আসা অনেক কমে গেছে। তাই ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বৈধ পথে ভারত থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানির অনুমতির বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম অনুযায়ী, কোনোভাবেই ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করা যাবে না। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শূকরের মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানিতে কোনো বাধা নেই। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি করা হলে বাজারে গরুর মাংসের দাম কমবে। গত ২৬ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মতামত দিয়ে বাণিজ্যসচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) এবং ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ব্যবসায়িক সম্মেলনে বাংলাদেশের অনেক আমদানিকারক ভারত থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানির প্রস্তাব দেন। তাই আইনকানুনের আলোকে কী করা যায়, সে বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে মতামত দিতে ট্যারিফ কমিশন, রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, দেশে গরুর মাংসের যে চাহিদা, সেই অনুযায়ী জোগান নেই। তাই চাহিদা বাড়তে থাকলে দামও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে আইনগতভাবে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি করলে ভোক্তাদের সুবিধা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাংস আমদানির পক্ষে মতামত দিয়েছি। আমরা বলেছি, বিষয়টি যেন তদারক করা হয়। আমরা তো এখন প্রয়োজনে চালও আমদানি করছি, বিষয়টি সে রকমই।’ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে আমেরিকান ডেইরি লিমিটেড, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রির হিসাবে বাংলাদেশে প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস গরুর মাংসের বর্তমান প্রাপ্যতা বছরে ৭১ দশমিক ৫৪ লাখ মেট্রিক টন। মন্ত্রণালয় এ-ও জানিয়েছে, দেশের অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক বর্তমানে গরু মোটাতাজাকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গরুর মাংস উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত।
অর্থনীতিতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি করা হলে খুচরা বাজারে দাম কমলেও দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী দেশের মানুষ শরিয়াহ মোতাবেক জবাই করা গরুর মাংস খেয়ে থাকে। পাশের দেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করা হলে জবাইয়ের পদ্ধতিটি নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহিবুজ্জামান হিমায়িত গরুর মাংস আমদানির পক্ষে মতামত দিয়ে জানান, বাংলাদেশের ভোক্তাদের আগে ‘রেডি ফুড’ খাওয়ার অভ্যাস ছিল না। তবে ভোক্তারা এ ধরনের খাবারে অভ্যস্ত হচ্ছে। গরুর মাংস আমদানির পক্ষে মত দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের পরিচালক নেছার আহম্মেদ বলেন, গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করা যাবে না। কিন্তু দুগ্ধজাত প্রতিষ্ঠান রক্ষায় শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। গত জুলাইয়ে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে একটি ব্যবসায়ী সম্মেলনে ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের কৃষি ও খাদ্যপণ্য বিভাগের প্রধান মধুপর্ণা ভৌমিক বলেছিলেন, ভারত যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের গরুর মাংস বিক্রি করে, সেহেতু বাংলাদেশও বড় বাজার হতে পারে। এদিকে অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এ কে এম আলমগীর সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন, ভারত থেকে গরু চোরাচালান বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতেই এ দেশে ডেইরি-শিল্প বিকশিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা গরু মোটাতাজাকরণ এবং দুগ্ধশিল্পে কাজ করছেন। এর মধ্যে ভারত থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি করলে দেশীয় উদ্যোক্তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

সামরিক কূটনীতি: বাংলাদেশের সম্ভাবনা by আ ন ম মুনীরুজজামান

বর্তমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে দেশকে কিছু নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। আমরা হঠাৎ করে আবিষ্কার করলাম আমাদের দীর্ঘদিনের কিছু বন্ধুরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে নেই। সংকট উত্তরণে গতানুগতিক কূটনৈতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে আমরা অনেকাংশেই প্রত্যাশিত ফল লাভ করতে পারিনি। কাজেই আধুনিক কূটনীতির যে নানাবিধ পন্থা রয়েছে, সেগুলো সফলভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন অর্থনৈতিক কূটনীতি, সামরিক কূটনীতি, সাংস্কৃতিক কূটনীতি ইত্যাদি। দেশের স্বার্থরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান মজবুত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ যেসব কৌশল অবলম্বন করে থাকে, এর মধ্যে সামরিক কূটনীতি একটি বিশেষ কৌশল এবং বর্তমান বিশ্বে এর প্রভাব ও প্রয়োগ দুটিই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামরিক কূটনীতির তাৎপর্য সর্বজনস্বীকৃত হলেও এটার প্রয়োগকৌশল নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে সামরিক কূটনীতির কোনো সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা নেই। তবে সাধারণভাবে এটাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে-কোনো রাষ্ট্রের সামরিক মাধ্যমগুলোকে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে ব্যবহার করা।
সামরিক কূটনীতিসংক্রান্ত কৌশল প্রণয়ন ও প্রয়োগ করার দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সামরিক মাধ্যমগুলো এ ক্ষেত্রে সহযোগীর ভূমিকা পালন করে। সামরিক কূটনীতিসংক্রান্ত কৌশলনীতি উন্মুক্ত এবং স্বচ্ছ হয়। গবেষণা ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্বের অনেক দেশই ইতিমধ্যে সামরিক কূটনীতির ওপর জাতীয় কৌশলনীতি প্রণয়ন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, স্পেন সামরিক কূটনীতিসংক্রান্ত একটি চমৎকার জাতীয় কৌশলনীতি প্রকাশ করেছে। ২০০৪ সালে চীন একটি সামরিক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে, যাতে উল্লেখ করা হয়, সামরিক কূটনীতিকে চীন রাষ্ট্রীয়ভাবে একটা কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে চায়। আমি জানি না, এ ধরনের কোনো জাতীয় পরিকল্পনা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আছে কি না। যদিও সামরিক কূটনীতির বিষয়টা ইদানীং বেশ জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে, কিন্তু এর ইতিহাস অনেক পুরোনো। তবে সময়ের সঙ্গে এর প্রকৃতি ও প্রয়োগ ভিন্ন ছিল। প্রাচীনকালে বিভিন্ন দেশের সম্রাটেরা নানা দেশে সামরিক প্রতিনিধিদল পাঠাতেন। কখনো অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে, আবার কখনো প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যে। চীনের প্রাচীন মিং সম্রাটের প্রতিনিধি হয়ে সামরিক কর্মকর্তা ঝেং হো তৎকালীন ভারতবর্ষসহ নানা অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন। বর্তমানে সামরিক কূটনীতির ধরন বদলালেও উদ্দেশ্য অভিন্ন রয়ে গেছে। উদ্দেশ্যটা হলো দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ সমুন্নত করা। সামরিক কূটনীতি কাজে লাগিয়ে দেশের স্বার্থে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করার নানাবিধ কৌশল রয়েছে। বাংলাদেশের এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা ও সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর মাধ্যমে কোনো দেশের সঙ্গে চমৎকার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব।
বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণের দিক থেকে প্রথম সারিতে অবস্থান করে। এই শান্তিরক্ষী বাহিনী পৃথিবীর নানা দেশে নিয়োজিত রয়েছে। আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর দক্ষতা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ কৌশল বিশ্ব পরিমণ্ডলে বেশ সমাদৃত হয়েছে। সুদূর আফ্রিকার সিয়েরা লিওনে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সম্মানার্থে বাংলা ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে সম্মান ও মর্যাদা আমরা নানা দেশে পেয়েছি, তা কতটা বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাতে পেরেছি, সেই প্রশ্ন আমার মনে বারবার ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে আমার কম্বোডিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশ্নটা আরও জোরদার হয়েছে। কম্বোডিয়ায় ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৮৮০ (১৯৯৩) প্রস্তাব অনুসারে আমি সে দেশে জাতিসংঘ স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিই। সেই বিরল অভিজ্ঞতার আলোকে আমি দেখতে পাই যে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো কীভাবে শান্তি মিশনোত্তর পর্যায়ে কম্বোডিয়ায় তাদের জাতীয় ও কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী ও প্রভাব বিস্তার করতে কাজে লাগায়। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী ৫৪টি মিশনে সুনামের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। এই বিশাল অর্জন ও সম্ভাবনাকে আমরা কতটুকু কূটনৈতিক অর্জনে রূপান্তরিত করতে পেরেছি, সেই প্রশ্ন আমাদের করতে হবে। যেমন জিজ্ঞেস করা দরকার, লাইবেরিয়ার সঙ্গে আজ আমাদের কী সম্পর্ক রয়েছে? কিংবা মোজাম্বিকের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে আমরা কী করছি? যেহেতু এসব দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিশাল অর্জন ও ভূমিকা ছিল, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সৈনিকেরা এ ক্ষেত্রে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাই তঁাদের আত্মত্যাগের ফলে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের ষোলো আনা কাজে লাগাতে হবে। সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমেও কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা সম্ভব। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে বিভিন্ন দেশের সেনা অফিসাররা প্রশিক্ষণের জন্য আসেন। উদাহরণস্বরূপ, শ্রীলঙ্কার একমাত্র ফিল্ড মার্শাল এবং বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য সারাথ ফনসেকাসহ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ জ্যেষ্ঠ অফিসার আমাদের দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এই প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যে গভীর সম্পর্ক স্থাপনে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম, তা কি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে কাজে লাগিয়েছি? পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সামরিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক তৈরি করে এবং তাদের কাজে লাগায়।
আমরাও একইভাবে চিন্তা করতে এবং দেশের কূটনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাতে পারি। বাংলাদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নানা দেশের সেনা অফিসারদের কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে আমাদের কূটনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করা এবং প্রভাববলয় শক্তিশালী করা সম্ভব। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পর্ক দৃঢ় করার ক্ষেত্রে কার্যকর একটা কৌশল। ভারতের পর মিয়ানমার বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিবেশী রাষ্ট্র হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আমাদের জন্য অনস্বীকার্য। মিয়ানমারে চলমান রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে আমরা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সব রকমের চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া যায়নি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সেনাবাহিনীর প্রভাব অপরিসীম। তা ছাড়া বর্তমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টা সেনাবাহিনীর আওতার মধ্যে পড়ে। ফলে দেশটির সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত না করে সংকট মোকাবিলায় যেকোনো পদক্ষেপ বিফলে যেতে বাধ্য। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে যদি আগে থেকেই পেশাদার নিবিড় যোগাযোগ থাকত, তাহলে বর্তমান সংকট নিরসনে সেই সম্পর্ক চমৎকারভাবে কাজে লাগানো যেত। কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করার ক্ষেত্রে সামরিক কূটনীতির অধীনে আরও বেশ কিছু কৌশল রয়েছে। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগ একটা অন্যতম মাধ্যম। ইদানীং বিভিন্ন দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যেটা অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুদ্ধাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শনী, আন্তরাষ্ট্রীয় সামরিক খেলাধুলার প্রতিযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করা সম্ভব। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি অন্যতম একটা উপায়। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রেষণে সহযোগী দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক স্থাপনায় নিয়োজিত করার মাধ্যমেও পারস্পরিক মেলবন্ধন শক্তিশালী করা যায়। সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, যা সামরিক কূটনীতির ক্ষেত্রে চমৎকারভাবে কাজে লাগানো সম্ভব, কিন্তু সেটার সুবিধা আমরা এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। সামরিক কূটনীতির পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে হলে বাংলাদেশকে একটা সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। সবার প্রথমে সামরিক কূটনীতিসংক্রান্ত একটা সাধারণ জাতীয় কৌশলনীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করবে। তারপর সামরিক কূটনীতির ধরন প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য কেমন হবে, সে সম্পর্কেও ধারণা দিতে হবে। সৈন্যদের বিদেশে পাঠানোর আগেই সামরিক কূটনীতির ওপর উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কূটনৈতিক মিশনে প্রেষণে যে সামরিক অ্যাটাশে প্রেরণ করা হয়, তাদের জাতীয় সামরিক কূটনীতিসংক্রান্ত কৌশলনীতির আওতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। বর্তমানে ও ভবিষ্যতে যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে কিংবা হবে, সেগুলোকে জাতীয় কৌশলনীতির অধীনে কার্যকর করতে হবে। এ বিষয়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে সামরিক কূটনীতির ক্ষেত্রে আমাদের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তা জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজজামান (অব.): সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস), ঢাকা।

বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকিপূর্ণ পুনরুদ্ধার by জোসেফ ই স্টিগলিৎস

এক বছর আগে আমি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম, ২০১৭ সালের সবচেয়ে লক্ষণীয় দিক হবে অনিশ্চয়তা। এই অনিশ্চয়তার অন্যান্য কারণের মধ্যে একটা হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া, আর একটা কারণ হবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট। অনিশ্চয়তাকেই একমাত্র নিশ্চয়তা মনে হয়েছিল, মনে হয়েছিল ভবিষ্যৎটা খুবই গোলমেলে হবে। দেখা গেল, ২০১৭ সালটা খুব ভালো ছিল না, তবে যতটা খারাপ হবে বলে অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, ততটা খারাপও গেল না। যেমনটা ধারণা ছিল, ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর ও খামখেয়ালিপনা যথেষ্টই দেখা গেল। যাঁরা তাঁর ক্ষান্তিহীন টুইটার বার্তাগুলোর দিকে লক্ষ রেখেছেন, তাঁরা ভাবতে পারেন যে যুক্তরাষ্ট্র বুঝি বাণিজ্যযুদ্ধ আর পরমাণুযুদ্ধের মাঝখানে টলোমলো করছে।
ট্রাম্প একদিন সুইডেনকে তিরস্কার করলেন তো আরেকদিন অস্ট্রেলিয়াকে, তারপর ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। তারপর সমর্থন জানালেন নিজের ঘরের নয়া নাৎসিবাদীদের প্রতি। আর তাঁর ধনিকগোষ্ঠী-নিয়ন্ত্রিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ স্বার্থসিদ্ধি, অদক্ষতা-অযোগ্যতা ও স্রেফ নোংরামির প্রতিযোগিতায় একে অপরকে টেক্কা দিয়ে চলেছেন। উদ্বেগজনকভাবে কিছু রেগুলেটরি পশ্চাদপসরণ লক্ষ করা গেছে, বিশেষত পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে। ঘৃণাতাড়িত কর্মকাণ্ডের কথা না-ই বা বললাম, যেগুলোর পেছনে ট্রাম্পের গোঁড়ামিপূর্ণ অবস্থানের প্রণোদনা ছিল। তবে এ পর্যন্ত আমেরিকান প্রতিষ্ঠানসমূহ ও ট্রাম্প প্রশাসনের অদক্ষতা মিলিয়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সৌভাগ্যবশত প্রেসিডেন্টের কদর্য বাগাড়ম্বর ও বাস্তবে যা করা হয়েছে, তার মধ্যে বিরাট ফারাক দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো বাণিজ্যযুদ্ধ বেধে যায়নি। বাণিজ্য আলোচনাগুলো থেমে যাওয়া সত্ত্বেও নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের (নাফটা) ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে; মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাবিনিময় হারকে মানদণ্ড ধরলে সেটা বোঝা যায়।
কিন্তু ট্রাম্পের উল্টাপাল্টা কথাবার্তা ও কাণ্ডকীর্তি থামছে না: বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ট্রাম্প যে হ্যান্ড গ্রেনেড ছুড়ে দিয়েছেন, সেটা ২০১৮ সালে শেষ পর্যন্ত ফাটতে পারে। মার্কিন শেয়ারবাজারের রেকর্ড মাত্রার চাঙা অবস্থাকে কেউ কেউ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক মিরাকলের প্রমাণ হিসেবে দেখাতে চাইছেন। আমার মনে হয়, এ থেকে অংশত এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে মহামন্দা কাটিয়ে ওঠার যে প্রক্রিয়া এক দশক ধরে চলে আসছে, শেষ পর্যন্ত তা স্থিতিশীল হচ্ছে। প্রতিটি পতনেরই শেষ আছে, এমনকি গভীরতম পতনেরও শেষ আছে। ট্রাম্প ভাগ্যবান এই অর্থে যে তিনি এই সময়ে হোয়াইট হাউসে আছেন এবং তাঁর পূর্বসূরিদের কাজের সুফল পাচ্ছেন। কিন্তু আমি এটাকে বাজারে অংশগ্রহণকারীদের অদূরদর্শিতারও প্রমাণ মনে করি। কর হ্রাসের সম্ভাবনায় তারা এই ভেবে উল্লসিত যে ২০০৭ সালের আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনা গেলে এই অর্থ আবারও শেয়ারবাজারে যাবে। ২০০৮ সালের পর যা ঘটেছিল—৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গভীর মন্দা, বাজেট ঘাটতি এবং অতি ধনীদের কর হ্রাসের ফলে ক্রমবর্ধমান অসমতা—এগুলো তারা আমলে নিচ্ছে না। ট্রাম্পের সুরক্ষানীতির ফলে যে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, তা তারা আমলে নিচ্ছে না। এবং তারা দেখছে না যে ট্রাম্প প্রশাসনের ঋণ করে কর হ্রাস যখন কার্যকর হবে, তখন আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে দেবে, যার ফলে অর্থবাজারে পরিবর্তন শুরু হয়ে যাবে। অন্যকথায়, আবার দেখা যাচ্ছে যে বাজার স্বল্প মেয়াদে চিন্তা করতে ভালোবাসে এবং বিশুদ্ধ লোভ দ্বারা তাড়িত হয়। আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কর্মসম্পাদনের পক্ষে এসবের কোনোটাই ভালো ইঙ্গিত দেয় না। এবং মনে হয়, যদিও ২০১৮ সাল ২০১৭ সালের চেয়ে ভালো যাবে, তবু সামনে আরও বড় ধরনের ঝুঁকি রয়ে গেছে। ইউরোপের চিত্রও একই রকমের। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে অর্থনীতিতে সে রকম প্রভাব পড়েনি, যে রকম এর বেরিয়ে যাওয়ার বিরোধিতাকারীরা আশঙ্কা করেছিলেন। তার কারণ ব্রিটিশ পাউন্ডের অবমূল্যায়ন। কিন্তু এটা ক্রমেই পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কী হবে, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সরকারের পরিষ্কার কোনো দৃষ্টি নেই। ইউরোপের জন্য দু-দুটো ঝামেলার সম্ভাবনা আছে। একটা ঝুঁকি হলো, সুদের হার যখন নিশ্চিতভাবেই স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে, তখন ইতালির মতো ব্যাপকভাবে ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সংকট এড়ানো কঠিন হবে। আসলে ভবিষ্যতে কিছু সময়ের জন্য ইউরোজোনের পক্ষে রেকর্ড মাত্রায় নিম্ন সুদের হার অর্জন করা সম্ভব, এমনকি যদি যুক্তরাষ্ট্রে তা বাড়েও।
হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড ইউরোপের জন্য আরও বড় অস্তিত্ববাদী সংকট হিসেবে দেখা দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটা সুবিধাজনক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছাড়া কিছু নয়। এতে কতগুলো দেশের ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব আছে, মৌলিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোর প্রতি যাদের অঙ্গীকার আছে। কিন্তু হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড এখন সেই মূল্যবোধগুলোকে দাম দিচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরীক্ষা চলছে এবং বেশ ভালো আশঙ্কা আছে যে এই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘাটতি বের হবে। এ বছরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এসব রাজনৈতিক পরীক্ষার প্রভাব খুব বড় হবে না বটে, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিগুলো পরিষ্কার ও গুরুতর। পৃথিবীর অন্য পাশে, চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের ফলে ইউরেশিয়ার অর্থনৈতিক ভূগোল বদলে যাচ্ছে। চীন চলে যাচ্ছে একদম কেন্দ্রে এবং অঞ্চলভিত্তিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু চীনের সামনেও অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। কারণ, সে রপ্তানিভিত্তিক প্রবৃদ্ধি থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির দিকে, ম্যানুফ্যাকচারিং অর্থনীতি থেকে সেবাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এবং গ্রামীণ থেকে শহুরে সমাজে রূপান্তরের এক জটিল প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চীনে মানুষের বয়স বাড়ছে দ্রুত; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লক্ষণীয়ভাবে ধীরগতি লাভ করেছে। কিছু হিসাবে চীনে অসমতা যুক্তরাষ্ট্রে অসমতার প্রায় সমান মাত্রায় প্রকট। আর প্রাকৃতিক পরিবেশের অবক্ষয়ের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের ঝুঁকির মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। গত চার দশকে চীনে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সাফল্যের আংশিক ভিত্তি এমন একটা ব্যবস্থা, যেখানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা রাষ্ট্রের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে কতকগুলো সংস্কার শুরু করা হয়েছিল এবং প্রতিটি সংস্কারের ক্ষেত্রেই উভয়ের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ছিল। সি চিন পিং যেভাবে নিজের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন, তা কি আকার ও জটিলতায় এমনভাবে বেড়ে ওঠা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে? চীনের মতো সুবৃহৎ ও জটিল অর্থবাজারের পক্ষে কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আবার একই সঙ্গে আমরা জানি, অর্থবাজার পরিচালনায় ঘাটতি থাকলে সেখানকার অর্থনীতি কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে। অবশ্য এই সবগুলোই দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি। ২০১৮ সালের জন্য বলা যেতে পারে, চীন তার পথ সামলেই এগোবে, যদিও প্রবৃদ্ধি আরও একটু কমে যেতে পারে। সংক্ষেপে যা বলতে চাই, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর ২০০৮-পরবর্তী মন্দা যখন দূর অতীতে মিলিয়ে যাচ্ছে, তখন ২০১৮ সালে বৈশ্বিক সম্ভাবনা ২০১৭ সালের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে। রাজস্ব কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি থেকে অধিকতর প্রণোদনামূলক অবস্থানের দিকে সরে আসার ফলে অতিমাত্রায় কঠোর মুদ্রানীতির প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে, আর এ রকম মুদ্রানীতি শুধু যে অর্থবাজারেই বিকৃতিমূলক প্রভাব রাখে তা নয়, প্রকৃত অর্থনীতিরও ক্ষতি করে। কিন্তু চীনে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, ইউরোজোনের ত্রুটিপূর্ণ কাঠামো সংস্কারে ব্যর্থতা (এ পর্যন্ত) এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা, আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের প্রতি ট্রাম্পের ঘৃণা, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতি তাঁর প্রত্যাখ্যান এবং তিনি গণতন্ত্রের যে ক্ষতি করছেন—এই সমস্ত কিছুই আরও গভীর সব ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। ঝুঁকিগুলো শুধু বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যই নয়, বিশ্বব্যাপী বৃহত্তর গণতন্ত্রের জন্যও বটে। আমাদের ক্ষণস্থায়ী সাফল্যে তৃপ্ত হলে চলবে না।
জোসেফ ই স্টিগলিৎস: নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ; যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও রুজভেল্ট ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ।
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডেকেট
অনুবাদ: মশিউল আলম