Saturday, November 15, 2014

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে আবারো হাড় উদ্ধার

সাভার বাসস্ট্যাণ্ডের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে আবারও শনিবার সন্ধ্যায় মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।  পরে  পুলিশ তা থানায় নিয়ে যায়।
টেক্সটাইল গামের্ন্টস ওয়ার্কার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহআলম হোসাইন জানায়, সন্ধ্যায় পথ শিশুরা ধ্বংসস্তুপে লোহার রড়সহ মূল্যবান সামগ্রী খোঁজ করতে গিয়ে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের ৮ /১০টি হাড় দেখতে পায় । এ সময় হাড়ের সাথে একটি জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়া যায় । যাতে লেখা ছিল জুয়েল পিতা- নাজিমউদ্দিন গ্রাম-তারাইল,পোঃ জোলপুকুর,থানা-গাংনি জেলা মেহেরপুর। আর আইডি কার্ড নং-০৭১৪৭১০৪৯৭৮৫৮।   পরে স্থানীয়রা  থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ  হাড় ও জাতীয় পরিচয় পত্রটি থানায় নিয়ে যায়।
সাভার থানার উপপরিদর্শক খন্দকার সামছুজ্জামান হাড় ও একটি জাতীয় পরিচয় পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান- এ গুলো মামলার আইওর নিকট পাঠিয়ে দেয়া হবে ।
উল্লেখ্য গত বছরের  ২৪ এপ্রিল সাভার বাসষ্ট্যান্ডের ৮তলা  রানা প্লাজা ধসে একহাজার একশত ৩৬ জন শ্রমিক নিহত হয় । দুই হাজার চারশত ৩৮ জন শ্রমিককে আহত উদ্ধার করা হয়।

ফেনীতে এমপি রহিম উল্লাহকে মারধর করেছে যুবলীগ কর্মীরা- ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপে রক্ষা

ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রহিম উল্যাহকে মারধর করেছে যুবলীগ কর্মীরা। ফেনী সার্কিট হাউজে আজ শনিবার রাতে এ ঘটনার সময় সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীর দলীয় কর্মসূচি শেষে ফেনী সার্কিট হাউজে পৌঁছলে দলীয় নেতাকর্মীরা তার সাথে দেখা করতে ভীড় জমায়। এসময় ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেদ্দা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী রহিম উল্লাহ, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কমসহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী এলাকা দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে টিআর কাবিখা বণ্টনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে মূল্যায়ন না করার অভিযোগ এনে দলীয় নেতাকর্মীরা হাজী রহিম উল্লাহর উপর চড়াও হন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি দিয়ে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এসময় তার সাথে থাকা লোকজনকেও মারধর করা হয়েছে বলে হাজী রহিম উল্লাহ অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, ঘটনার সময় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এশার নামাজ পড়ছিলেন। হই-হট্টগোল শুনে মন্ত্রী ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। একপর্যায়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপিকে উদ্ধার করে পুলিশ পাহারায় সোনাগাজীর নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান বি.কম দলীয় নেতা-কর্মীদের হাতে হাজী রহিম উল্লাহ লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিকট অস্বীকার করেন।
এর আগে দাগনভূঞার শরীফপুর গ্রামের কাঁচা রাস্তা পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মতবিনিময় সভার কথা ছিল ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যার। এজন্য এমপিকে অভিনন্দন জানিয়ে নারায়নপুর রাস্তার মাথা ও শরীফপুর গ্রামে দুটি তোরণ নির্মাণ করা হয়। নারায়ণপুর রাস্তার মাথার তোরণটি অনুষ্ঠান শুরুর একঘণ্টা আগে দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তোরণটি সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৩টার দিকে সংসদ সদস্য রহিম উল্যা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলেও আতঙ্কে লোকজনের উপস্থিতি ছিল নগন্য। তিনি ১০ মিনিট উপস্থিত কয়েকজনের সাথে কথা বলে দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত; ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ারকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী রহিম উল্লাহ। নির্বাচনের পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দূরত্ব বাড়তে থাকে সৌদি প্রবাসী এ ধনকুবেরের।

বৈঠক ডেকেছেন এইচ টি ইমাম

ছাত্রলীগকে বিসিএসে চাকরির অবাঞ্ছিত প্রস্তাব ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী ম্যাকনিজম ফাঁস করে সমালোচনার মুখে পড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম দলীয় ফোরামের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
আগামীকাল রোববার সকাল ১১টায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার উপ পরিষদের এ বৈঠকটি ডেকেছেন তিনি। তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার উপ-পরিষদের চেয়ারম্যান।
সূত্র জানায়, চাপের মুখে থাকা এ উপদেষ্টা দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জনে ত্বরিত এ বৈঠকের আহ্বান করেছেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ অনুরোধ জানিয়েছেন বলে দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

কেয়ামত পর্যন্ত পূরণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা শেষ হবে না : তোফায়েল

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, জিএসপি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে একের পর এক নির্দেশনা দিয়ে চলেছে তাতে মনে হচ্ছে, কেয়ামত পর্যন্ত পূরণ করলেও তা শেষ হবে না। তাদের শর্ত বাড়তেই থাকবে। তবে দেশের অর্থনীতি যে হারে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে ২০২১ সালের পর বাংলাদেশের জিএসপি কিংবা অন্য কোটা সুবিধার দরকার হবে না।
আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা ট্রিবিউন আয়োজিত ‘পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় একথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স পোশাক শিল্পের খুঁটিনাটি ত্রুটিকেও বড় আকারে প্রচার করায় পোশাক রফতানি কমে গেছে।
জাফর সুবহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি শ্রীনিবাস রেড্ডি, অ্যাকর্ডের প্রতিনিধি রব ওয়েজেস, অ্যালায়েন্স প্রতিনিধি মেজবাহ রবিন, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি টিপু মুন্সী এমপি, আনোয়ার-উল আলম পারভেজ ও আব্দুস সালাম মুর্শেদী, কর্মজীবি নারীর সভাপতি শিরিণ আক্তার এমপি, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আর্বিটেশন সেন্টারের প্রধান নির্বাহী তৌফিক আলী, শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি, বিলসের ড. ওজেদুল ইসলাম প্রমুখ।
দেশে অনেক শ্রমিক নেতা রয়েছেন যারা এই শিল্পের বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বে অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ শিল্পের স্বার্থে এসব অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকারের জন্য বিদেশী ক্রেতারা পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোয় সরকারি খাতে ২৫ শতাংশ ও বেসরকারি খাতে ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে মাত্র ৯ শতাংশ।
রানা প্লাজা পরবর্তী ইমেজ সংকট কাটাতে বেগ পেতে হচ্ছে জানিয়ে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে যে মাত্র দুই শতাংশ সমস্যা রয়েছে তা বিদেশীদের সামনে ভালোভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে কোনো ক্রেতা নতুন প্রতিষ্ঠানে অর্ডার দিচ্ছে না। অর্ডার পেতে হলে কারখানাগুলোকে কিয়ারিং সার্টিফিকেট দেখাতে হয়। তা না হলে অর্ডার হচ্ছে না। এতে করে রফতানি কমে গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সহায়তা না দিয়ে সরকার চীন, জাপান, কোরিয়াকে অর্থনৈতিক জোনসহ অবকাঠামো সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। টেকসই অর্থনীতির জন্য এটা শুভ লক্ষণ নয়। দেশী উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের দাবি জানান তিনি।
আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, মার্কেটে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হলে সংস্কার করা কারখানাগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে হবে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের শিল্প কারখানাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ালে বিদেশী বিনিয়োগের দরকার হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। শিল্পের সহযোগী খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন সালাম মুর্শেদী।
পোশাক কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কারখানা পরিদর্শনে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে জানিয়ে শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, কারখানাগুলোর খবর নেয়া হলেও বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের খবর কেউ নিচ্ছে না।
সব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালুর সুযোগ দাবি করে তিনি বলেন, সঠিকভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠলে তাতে মালিক শ্রমিক সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

রাবি শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা by সাইফুল্লাহ সাইফ

দুর্বৃত্তদের হামলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে বেলা তিনটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রফেসর এ কে এম শফিউল ইসলামকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বিহাশ এলাকায় শিক্ষক কোয়ার্টারে থাকেন।

জানা গেছে, ড. শফিউল ইসলাম বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে কোয়ার্টারে ফিরছিলেন। বিহাশ এলাকায় পৌঁছালে সেখানে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে আলোপাতারি কোপাতে থাকে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তারা শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বিকেল ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর নীলুফার সুলতানা বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষকরা সবসময় একা চলাফেরা করেন। শিক্ষকদের উপর এভাবে হামলা করে হত্যা করা হলে আমাদের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা কোথায়? তিনি এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন।
মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, আমি সেখানে গিয়েছিলাম, কে বা করা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে আমরা প্রফেসরের উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

‘জয় অর্বাচীন বালক’ -মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অর্বাচীন বালক আখ্যায়িত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটা শিশু বলে স্বৈরাচার। বিএনপির জন্ম স্বৈরাচারে। আগে নিজের চেহারা আয়নাতে দেখো। ‘বিএনপি রাজাকারের দল’ জয়ের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের নতুন নেতা জয় সাহেব ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক আর্মির তত্ত্বাবধানে যার জন্ম; যিনি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন। তিনি কিনা বলেন জিয়াউর রহমানের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে মুছে দিতে হবে। তাদের নেতাদের ভাষায় বলতে চাই- অর্বাচীন বালকের মতো কথা বলা বন্ধ করুন। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে ইতিহাস অস্বীকার করা হবে। জিয়াউর রহমান ৭৫ পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম দিয়েছেন। আজ   জাতীয়  প্রেস ক্লাবে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জয়ের উদ্দেশে  তিনি বলেন, ইতিহাস জেনে কথা বলেন- এদেশের মানুষ পছন্দ করবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতো কথা বললে এদেশের মানুষের নতুন প্রজন্মের নতুন  নেতা হিসেবে আপনাকে মেনে নিতে কষ্ট হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন জয়কে সরকার থেকে প্রতি মাসে দুই লাখ ডলার করে দেয়া হয়। এটি সত্য কিনা জনগণ জানতে চায়। শুধু হজ নিয়ে কথা বলায় লতিফ সিদ্দিকীকে চাকরি হারাতে হয়েছে, না জয়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য চাকরি গেছে তাও জনগণ জানতে চায়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি কমরেড মণি সিংহ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির সবাই জিয়াউর রহমানের সময় বিএনপিকে সমর্থন করেছিলেন দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। জনগণই বিএনপির একমাত্র শক্তি।
এইচটি ইমামের বক্তব্যে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন কিভাবে করেছেন, এই তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন এইচটি ইমাম। আমি তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। সত্য কথা প্রকাশ করার জন্য। তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা নাকি নাখোশ। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি আফম ইউসুফ হায়দার, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, চলচিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, জাকির হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

‘কোন হুমকিতে কাজ হবে না’ -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন হুমকি-ধামকিতে কাজ হবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যমআয়ের দেশে পরিণত করা হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। আজ বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। সেই স্বাধীনতার সুফল জাতি পেতে শুরু করেছে। আগামীতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় একটি মানুষও অনাহারে থাকবে না। প্রতিটি ঘরে ঘরে আলোর জ্বালানো হবে। কেউ অন্ধকারে থাকবে না। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগ নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শেখ ফজলুল হক মনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। তিনি অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। তিনি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই যুবলীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে হবে। আগামীতে যুবলীগ সদস্যরা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন। এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সমাবেশের উদ্বোধন করেন  শেখ হাসিনা। এরপর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা।

‘ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চায় আ’লীগ’ -জয়

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দেশের যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে তা আমরা ধরে রাখতে চাই। বর্তমানে যারা বয়স্ক, ভবিষ্যতে তো তারা বেঁচে থাকবেন না। তখন যুবকদের কী করণীয় হবে, কী কাজ করবে সে জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্বপ্ন শুধু বর্তমানকে নিয়ে নয়, ভবিষ্যৎকেও নিশ্চিত করতে চায়। শনিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সংগঠনের ইয়াং বাংলা কর্মসূচি উদ্বোধন কালে তিনি এসব কথা বলেন। জয় আরও বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে হাজার হাজার যুবককে বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি শুরু করেছে। আমরা শুধু যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই না। চাই তারা নিজেদের উদ্যোগে কিছু করুক।

ফখরুলকে অতিথি করায় ফুটবল ম্যাচ পণ্ড

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করায় ম্যাচ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। আজ দুপুরে রাজধানী বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি মাঠে সাবেক ফুটবলারদের উদ্যোগে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পরও ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে দেয়নি পুলিশ। আজ বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও খেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, শনিবার বিকাল ৩টায় বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি মাঠে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এবং বর্তমান খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজন করা  ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন করার কথা ছিল মির্জা আলমগীরের। এজন্য আয়োজক কমিটি গত ১০ই নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, গুলশান ও বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি  নেন। কিন্তু সকালে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে গেলে বনানী থানার পুলিশ মাঠে উপস্থিত হয়ে আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে বলেন। এর কারণ জানতে চাইলে বনানী থানায় যোগাযোগ করতে আমাদের বলা হয়। বনানী থানায় যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পাশেই আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের বাসা। তাই সেখানে মির্জা আলমগীরকে দিয়ে ম্যাচটি উদ্বোধন করতে দেয়া যাবে না। খেলার আয়োজন করা হলে সবাইকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে আমাদের সরঞ্জাম ও লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে মাঠের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনার নিন্দা জানান আমিনুল। সাবেক এই ফুটবলার বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই বলেই পুলিশ একটি ফুটবল ম্যাচও আয়োজন করতে দিচ্ছে না। প্রকৃত গণতন্ত্র মানুষের অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় জনগণ হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। সংবাদ সম্মেলনে খেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক ফুটবলার মেজবাহউদ্দিন মিজু, ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব, মতিউর মুন্না, আমিন রানা উপস্থিত ছিলেন।

‘আমাকে গ্রেপ্তার করলে এক মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না’ -বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, রাজাকারকে রাজাকার বলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আপনি আমাকে গ্রেপ্তার করে এক মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। ক্ষমতায় থাকতে পারলে হাতে চুড়ি পরবো। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন রাজাকারকে রাজাকারই বলে যাবো। রাজাকারকে রাজাকার বলার জন্যই আপনার বাবার পা ছুঁয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আপনি আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে  রাজাকারদের পক্ষ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। শনিবার টাঙ্গাইলের সখীপুরের কচুয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ’৯৯ এর ১৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৮ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি তার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী সম্পর্কে বলেন, আওয়ামী লীগ ইসলামের দল নয়। আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসেছেন তাই আওয়ামী লীগের ভূত এখন আপনার কাঁধে নেই। হজ ও তাবলীগের বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি তাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল হালিম সরকারের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন,  কেন্দ্রীয় জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিণী নাসরিন কাদের সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, এএইচএম আবদুল হাই, এ্যাড.রফিকুল ইসলাম, মীর জুলফিকার শামীম প্রমুখ।

ছোট খবর

প্যারিসজনপদে বাঘপ্যারিসের কাছে বৃহস্পতিবার রাতে একটি বাঘ ঘুরে বেড়ায়। দমকল কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা দিনব্যাপী বাঘটির খোঁজে ব্যাপক নিষ্ফল তল্লাশি চালানোর পর রাতে তল্লাশি অভিযান স্থগিত করেছে। শহরের আতংকিত মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে। বাঘটি কোথা থেকে এসেছে সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর এএফপির।সকাল বেলা ডিজনিল্যান্ড প্যারিসের খুব কাছের শহর মঁতেভ্রেঁর এক সুপার মার্কেটের কার পার্কিংয়ে বাঘটিকে দেখে স্থানীয় এক মহিলা চিৎকার করে ওঠেন। এরপর আরও কয়েকজন লোকও বাঘটিকে দেখতে পান। তারা জানান, তারা বাঘটিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন। এএফপিকিয়েভহোয়াইট উইডো খুনশেষ পর্যন্ত খুন হলেন বিশ্বের মোস্টওয়ান্টেড মহিলা জঙ্গি হোয়াইট উইডো। ইউক্রেনের রাস্তায় মুখোশধারী এক বন্দুকবাজের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন সামান্থা লিউথোয়াট ওরফে হোয়াইট উইডো।সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, সামান্থা দুসপ্তাহ আগে ইউক্রেনে এসেছিলেন। সরকারপন্থী দল আইদার-যের গুপ্তচর হয়েই কাজ করছিলেন তিনি। ব্রিটিশ সন্ত্রাসবাদী হোয়াইট উইডোর হত্যাকারী রাশিয়ান গুপ্তচরের মাথার দাম ৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছে ইউক্রেনের স্পেশাল সার্ভিস। ২০১১ সালে কেনিয়ার মোম্বাসাতে হোটেল ও শপিং সেন্টার ধ্বংসের পরিকল্পনার পেছনে প্রধান মাথা ছিলেন এই মহিলা জঙ্গি। এএফপিকলকাতাআত্মহত্যার চেষ্টাঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত সারদা-চিটফান্ডের টাকা আত্মসাতের অন্যতম অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত তৃণমূল সংসদ সদস্য কুনাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কুনাল ঘোষ দৈনিক পত্রিকা সংবাদ প্রতিদিনের কার্যনির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে সারদা আর্থিক কেলেংকারির বিষয়টি প্রকাশ পেলে তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এরপর তিনি মমতা ব্যানার্জিসহ তার দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। জিনিউজকাবুলপ্রেসিডেন্ট পাকিস্তানেআফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দুই দিনের সফরে শুক্রবার পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। নূর খান বিমান ঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ। ইসলামাবাদে পৌঁছেই আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায়। এদিনই পাক প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেনের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (৬-৪৭) দুজনের সাক্ষাতের খবর পাওয়া যায়নি। এএফপিজেরুজালেমবয়সসীমা প্রত্যাহারজেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ বা বাইতুল মোকাদ্দাসে এখন থেকে সব বয়সের মুসল্লি জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। ইসরাইল জুমার নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে বয়সসীমার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ সুযোগ সৃষ্টি হল। পুলিশ মুখপাত্র মিকি রোসেনফেল্ড এএফপিকে বলেন, আমরা আশা করছি এ মসজিদে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে এখন থেকে বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ না থাকায় ওই মসজিদ এলাকাটি শান্ত থাকবে। নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে মুসল্লিদের বয়সের ওপর ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ এলাকা বারবার অশান্ত হয়ে ওঠে। এএফপি

মিয়ানমারে অবশ্যই সংস্কার হতে হবে : ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মিয়ানমারের সংস্কার অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে এবং এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে চলবে না।
শুক্রবার মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে তার ইয়াংগুনের বাসভবনে বৈঠকের পর ওবামা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিয়ানমারে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটিতে আগামী বছর নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সুচি ও তার দল অংশ নিতে পারে।বিরোধী নেতা সুচি মিয়ানমারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় ‘আশাবাদ ও নিরাশাবাদের মধ্যে একটি যথোপযুক্ত ভারসাম্য’ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।এর আগে বৃহস্পতিবার নেইপিদোতে ওবামা মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি জেনারেল থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া এ নেতার অধীনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ব্যাপারে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি ব্রিটেনের

ইউক্রেন সংকট নিরসনে এগিয়ে না এলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে শুক্রবার হুমকি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন-সংক্রান্ত মস্কোর পদক্ষেপকে তার ভাষায় অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ভাষণ দেয়ার জন্য ক্যানবেরা গিয়েছিলেন ক্যামেরন। সেখান থেকে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠেয় জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা দেশগুলো এ পর্যন্ত যে সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের স্বাধীনতা এবং নিজ দায়িত্বের প্রতি যদি রাশিয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয় তবে পশ্চিমা দেশগুলো আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে; কিন্তু রাশিয়া যদি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে থাকে তবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়বে। এদিকে ব্রিসবেনের শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনেরও যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। এপি

৮ হাজার কোটি টাকার তালাক

স্ত্রীকে তালাক দিলে আইন অনুযায়ী তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে হয় স্বামীকে। না হলে তালাক কার্যকর হয় না, এমনকি স্বামীকে সাজা ভোগ করতেও হয় কখনও কখনও। একটি তালাকের মূল্য হিসেবে স্ত্রী কত টাকা পেতে পারেন বা দাবি করতে পারেন, এর স্বাভাবিক হিসাবটা আন্দাজ করা যায় বৈকি। কিন্তু তালাক মূল্য যদি হয় ৮ হাজার কোটি টাকা, তবে তা কি আর স্বাভাবিক থাকে? এমনও কেউ আছেন যাদের কাছে তা স্বাভাবিক, দাবি আরও বেশি। স্ত্রীকে তালাক বাবদ কন্টিনেন্টাল রিসোর্স নামের যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত তেল কোম্পানির মালিক হ্যারল্ড হ্যামকে গুনতে হচ্ছে এই ৮ হাজার কোটি টাকা। সেইসঙ্গে কিছু সম্পত্তি এবং একটি বাড়িও পাচ্ছেন তিনি। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তালাকমূল্য হিসাবে ওই পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ দেয়ার নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি টাকায় আগে কখনও তালাক নিষ্পত্তি হয়নি। অর্থাৎ তালাকের ইতিহাসে এটি বিরল একটি রেকর্ড। হ্যারল্ড হামের স্ত্রী সু অ্যান হ্যাম এতে সন্তুষ্ট নন। তিনি দাবি করেছেন ধার্য তালাকমূল্যের কয়েক গুণ বেশি টাকা। ২৫ বছর সংসার করেছেন এই দম্পতি। সংসার জীবনে স্বামীর সব কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। এখন ছাড়াছাড়ি যখন হচ্ছেই, তখন ন্যায্য তালাকমূল্য চান তিনি। সু অ্যান হ্যাম জানিয়েছেন, তার স্বামী হ্যারল্ড হ্যাম কন্টিনেন্টাল রিসোর্সের ৬৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক। যার বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। সু অ্যান হ্যামের দাবি, তাকে তালাক দেয়ার জন্য গত আগস্টে যখন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন স্বামী হ্যারল্ড হ্যামের সম্পদের শেয়ারমূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাব মোতাবেক তিনি তালাকমূল্য দাবি করেছেন। টেলিগ্রাফ অনলাইন।

হোয়াইট হাউসে অনুপ্রবেশে নিরাপত্তা ব্যর্থতা দায়ী

হোয়াইট হাউসের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে এক ব্যক্তির অনুপ্রবেশের ঘটনায় ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির ওপর অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় গোয়েন্দা সার্ভিসের বেশ কিছু ব্যর্থতার বিষয় উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ওমর গঞ্জালেস নামের এক ব্যক্তি এই অনুপ্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউটির ওই পর্যালোচনাটি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্বরত কর্মকর্তার অবহেলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি ব্যর্থতার কারণেই ইরাক যুদ্ধ ফেরত ওমর গঞ্জালেস নিরাপত্তাব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ভবনে প্রবেশ করতে পেরেছে। পর্যালোচনায় আরও বলা হয়, ৪২ বছর বয়সী গঞ্জালেসকে সিক্রেস সার্ভিসের কর্মকর্তারা আটকাতে পারতেন। তার ওই সময়ে উত্তর লনে কুকুরসহ পাহারা দেয়ার কথা ছিল। খবর এএফপির।

ব্রিটিশ জিহাদিদের দেশে ফিরতে দেবে না ব্রিটেন

বিদেশের মাটিতে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করা ব্রিটিশ জিহাদিদের পাসপোর্ট জব্দ এবং তারা যাতে দেশে ফিরে আসতে না পারে সেব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন শুক্রবার পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
ব্রিটেনের জঙ্গিবাদী প্রায় ৫০০ নাগরিক ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উভয় দেশ ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি গ্র“পের ভয়াবহ হামলার শিকার হচ্ছে।ব্রিসবনে জি-২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে ভাষণে ক্যামেরন বলেন, আমরা যুক্তরাজ্যে আমাদের নিজস্ব একটি নতুন সন্ত্রাস দমন আইন দ্রুত প্রণয়নে বিল উত্থাপন করতে যাচ্ছি।বন্দরে পাসপোর্ট জব্দ, সন্দেহভাজন লোকদের ভ্রমণ এবং আইএসের হয়ে যুদ্ধ করা যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের দেশে ফিরে আসা ঠেকাতে পুলিশকে নতুন করে আরও ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের মাটিতে আমাদের তালিকাবহির্ভূত কোনো বিমান যাতে নামতে না পারে নতুন আইনে তা নিশ্চিত করা হবে।ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এ আইন সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করা ব্রিটেনের নাগরিকদের দেশে ফিরে আসা রোধ করবে। আইনটি চলতি মাসেই পার্লামেন্টে পাস করা হবে। এদিকে অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করছে। সিরিয়া ও ইরাক ভ্রমণ রোধে তারা কমপক্ষে ৭৩ জনের পাসপোর্ট বাতিল করেছে। এএফপি

বড়লোক হওয়া মানেই সুখের দেখা নয়

অনেকেই অর্থের পেছনে ছুটে বেড়ান, বড়লোক হতে চান। ভাবেন, অনেক টাকা হলেই বুঝি অনেক সুখ মেলে! কিন্তু এই ধনী হওয়ায় যন্ত্রণা আছে, সেইসঙ্গে আছে চাপ। এই চাপের কথা স্বীকার করেছেন আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা ও চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জ্যাক মা। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জ্যাক মার বর্তমান সম্পদের আর্থিক মূল্য প্রায় দুই হাজার ৩৯০ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু এই বিশাল অর্থ-সম্পদের মালিক জ্যাক মা বলেছেন, বড়লোক হওয়া মানেই সুখী হওয়া নয়।আজ থেকে ১৫ বছর আগে নিজের ঘরে বসে ই-কমার্স সাইট আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। ১১ নভেম্বর চীনের সিঙ্গেল ডে উদযাপন উপলক্ষে তার এই সাইট থেকে মাত্র একদিনেই প্রায় ৯৩০ কোটি ডলারের কেনাবেচা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে আইপিও ছাড়ে তার প্রতিষ্ঠান আলিবাবা। এক সময়ে ইংরেজি শিক্ষক আলিবাবার আয় ছিল ঘণ্টায় মাত্র ২০ ডলার। এখন তিনি চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। ধনী হওয়া প্রসঙ্গে জ্যাক মা বলেন, ধনী হওয়া সত্যিকারের যন্ত্রণা বটে। মাত্র এক মাসে এত অর্থ আয় হওয়ায় আমি মোটেও খুশি নই বরং আমার কাছে অনেক বেশি চাপ মনে হচ্ছে।জ্যাক মা আরও বলেন, আমি সব সময় চিন্তার ক্ষেত্রে এক দশক এগিয়ে থাকতে চাই। হয়তো আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক ভাবি এবং অনেক বিষয় নিয়েই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।বিশাল অর্থ থাকার খারাপ দিক সম্পর্কে জ্যাক মা বলেন, মানুষ বলেন, এটা বিশাল যন্ত্রণার কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বনে যাওয়া মানে আমার চারপাশে যারা আসবে সবাই টাকার জন্য ঘুরঘুর করবে। চীনের এই উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, আমার এই অর্থ-সম্পদ কীভাবে ভালো কাজে লাগানো যায় তার উপায় খুঁজছি এবং একটি সংস্থা তৈরি করছি যেখান থেকে ব্যবসায়িক পদ্ধতিতে অর্থ খরচ করা সম্ভব হবে। চায়না ডেইলি

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দিচ্ছেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। এতে কমপক্ষে ৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসীর বৈধতা পাওয়া সুযোগ সৃষ্টি হবে। নিউইয়র্ক টাইমস ও ফক্স নিউজের এক খবরে শুক্রবার বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী কয়েকজনের বাবা-মাকে প্রত্যাবাসন থেকে জোরালো সুরক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করছেন ওবামা।
রিপাবলিকানদের বিরোধিতার পরও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ওয়াশিংটনের রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার এখতিয়ার ওবামার নেই। হাউস স্পিকার জন বোয়েনার সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট তার অবস্থান থেকে সরে না এলে আমরাও এর বিরুদ্ধে লড়াই করব। সিনেটে পরবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককোনেল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের উপায় খুঁজতে তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টকে বার বার বলা হয়েছে এবং আমরা আজ আবার বলছি- এটা করবেন না। কারণ তার নির্বাহী আদেশে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এশিয়া সফর শেষে আগামী রোববার দেশে ফিরবেন ওবামা। এক সপ্তাহ আগে তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে এ বছর শেষ হওয়ার আগেই অভিবাসন সমস্যার সমাধান করতে চান তিনি। নির্বাহী আদেশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে এমন সব সন্তানদের পিতামাতার অবৈধতার অবসান ঘটবে। অনেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আর ফিরে যাননি। অনেকে নানা পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বিয়ে করেছেন, লিভ টুগেদার করেছেন, সন্তান জন্ম দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই জন্মসূত্রে সেদেশের নাগরিক হওয়া যায়। ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া সন্তানের পিতমাতা প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে বৈধতার সুযোগ পাবেন।তবে নির্বাহী আদেশে অভিবাসন নীতিতে সংস্কার আনা ওবামার জন্য খুব সহজ হবে না। কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেস এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। আর কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নির্বাহী আদেশে অবৈধদের বৈধতা দেয়ার পরিণাম খারাপ হবে। বলে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।এছাড়া খোদ নিজ দলের মধ্য থেকেও ওবামার ওপর চাপ রয়েছে। সিনেটে শীর্ষ ডেমোক্রেট হ্যারি রিড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারকে তহবিল দেয়া সংক্রান্ত বিল কংগ্রেসে পাস হওয়ার পরই কেবল প্রেসিডেন্ট তার পদক্ষেপ নিতে পারেন। তিনি বলেন, বিষয়টি আপনার ওপর নির্ভর করছে। তবে আমি মনে করি, সংকট থেকে বের হয়ে আসতে তহবিল প্রয়োজন। এএফপি

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সনদ জাল মামলা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববার ঘটা করে তার মন্ত্রিসভার আকার বাড়িয়েছেন। ২১ নতুন মুখও ঠাঁই পেয়েছে তার বহরে। তাদের একজন হচ্ছেন অধ্যাপক আরএস কাঠেরিয়া। জুনিয়র মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। দায়িত্ব পান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। সেই অধ্যাপক কাঠেরিয়ার বিরুদ্ধেই সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আজ থেকে ঠিক ১২ দিন পরই তাকে দাঁড়াতে হচ্ছে কাঠগড়ায়। আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি নিতে গিয়ে তিনি এই জালিয়াতি করেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএ ক্লাসের দ্বিতীয় বর্ষে সনদে এই জালিয়াতি করেন কাঠেরিয়া। ওই বছরের পরীক্ষায় তিনি হিন্দি সাহিত্যে ৪৩ এবং ইংরেজি ভাষায় ৪২ নম্বর পান। কিন্তু আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি নিতে গিয়ে জাল সনদে ওই দুই বিষয়ে লিখেন যথাক্রমে ৫৩ ও ৫২।কাঠেরিয়ার বিরুদ্ধে মাস্টার্সেও সনদ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, এখানে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় প্রিন্সিপলস অব লিটেরারি রাইটিংয়ে তিনি পান ৩৮ নম্বর। জালিয়াতি করে সেখানে লিখেন ৭২।তার বিরুদ্ধে ভারতের প্যানেল কোডের ৪২০ ধারা অনুযায়ী প্রতারণা ও অসততার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। দণ্ডিত হলে মন্ত্রিত্বও হারাবেন। কয়েক বছরের জন্য নির্বাচনেও অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। অধ্যাপক কাঠেরিয়া অবশ্য নিজেকে রক্ষা করতে রাজনীতিকেই বর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জাতীয় নির্বাচনে তার কাছে হেরে যাওয়া বহুজন সমাজবাদী পার্টির এক নেতা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওই মামলা করেন। উত্তরপ্রদেশের মায়াবতী সরকার অভিযোগ নিয়ে তদন্তও করেন। কিন্তু তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।এ নিয়ে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয় কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠল। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির সনদ নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছিল।

প্রিয় লাইব্রেরিতে নেহেরুর দুর্লভ চিঠি

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। বৃহস্পতিবার ছিল তার ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তার লেখা কোনো চিঠির অংশ যে দুর্মূল্য তা নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ থাকে না। তেমনই দুটি চিঠির খোঁজ পাওয়া গেছে পুনের একটি ৮৩ বছর পুরনো বইয়ের দোকানে। ইন্টারন্যাশনাল বুক সার্ভিসের এক নির্জন কোণে রাখা রয়েছে চিঠি দুটি। এখানেই শেষ নয়। এই বইয়ের দোকানটি নেহেরুর বিশেষ প্রিয় ছিল। সবমিলিয়ে মোট চারবার এই দোকানটিতে গিয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। এই দোকানে মজুদ দেশী-বিদেশী অসংখ্য বইয়ের সংগ্রহ তার খুবই পছন্দের ছিল। তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা চিঠিতেও এই বইয়ের দোকানের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তিনি ইন্দিরাকে বলেছিলেন, যদি কখনো কোনো বই পেতে অসুবিধে হয়, তাহলে যেন তিনি অবশ্যই একবার এই দোকানে সেই বইয়ের খোঁজ করেন।
যে চিঠি দুটির খোঁজ পাওয়া গেছে সেগুলো নেহেরু দোকানের মালিক ভিএন দীক্ষিতকে লিখেছিলেন ১৯৬১ সালে। চিঠি লেখার কিছুদিন আগেই ভয়াবহ বন্যা হয় পুনেতে। সেই সূত্রেই ব্যক্তিগত এই চিঠি দুটি তিনি পাঠান। টাইপ করা এই দুটি চিঠিতে রয়েছে জওহরলাল নেহেরুর স্বাক্ষরও। উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী সেই চিঠিতে লিখেছিলেন, ...It was sad that your work of many years should be largely destroyed by floods. But I have no doubt that this will be reborn again and will function with greater vigour...। ১৯৩১ সালের ১ জানুয়ারি স্থাপিত হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল বুক সার্ভিস।

দুদিনব্যাপী ব্রিসবেন সম্মেলন শুরু আজ

জি২০ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আসিয়ান সম্মেলন শেষে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে করে ব্রিসবেনে পৌঁছান তিনি। ১৯৮৬ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সফরের ২৮ বছর পর এটাই কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর।
শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুদিনব্যাপী জি২০ সম্মেলনে মোদি বিদেশে পাচার হওয়া ভারতীয়দের কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও প্রচারণা চালাবেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোটের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে মোদির।এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বিশ্বনেতারা জড়ো হতে শুরু করেছেন। আজ এখানেই বসবে বিশ্ব শীর্ষ ২০টি অর্থনৈতিক পরাশক্তি দেশের সংগঠন দ্য গ্রুপ অব টোয়েন্টি বা বি২০র সম্মেলন।দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারতসহ অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশের নেতারা। মূলত জোটভুক্ত দেশগুলোতে কিভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো যায় সে ব্যাপারেই সম্মেলনে এবার নেতারা জোর দেবেন।অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট বলেন, সম্মেলনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর খেলাপিদের চিহ্নিতকরণ এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণে আলোচনা হবে। এছাড়া ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের উত্তেজনাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সম্মেলন উপলক্ষে ব্রিসবেনে সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সৌদিতে হামলার হুমকি বাগদাদির

সৌদি আরবের শাসকদের বিরুদ্ধে হামলার আহ্বান জানিয়েছেন আইএসের (ইসলামিক স্টেট) প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি। গত বৃহস্পতিবার প্রচারিত এক অডিও বার্তায় সৌদিসহ পাঁচটি আরব রাষ্ট্রে খেলাফতের সীমানা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় বাগদাদি নিহত বা আহত হয়েছেন এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এই অডিও বার্তা প্রকাশ করেছে আইএস। খবর রয়টার্সের। বাগদাদি বলেন, সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন হামলা ব্যর্থ হয়েছে। তারা এখন ভীতসন্ত্রস্ত ও দুর্বল। বিশ্বব্যাপী জিহাদের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ও ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা, জিহাদের অগ্নিগিরি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দাও। সব এক নায়কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিশ্বকে আলোকিত কর।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইসলামিক স্টেটের সীমানা নতুন কয়েকটি দেশে বাড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছি। এগুলো হল- হারামাইন (সৌদি আরব), ইয়েমেন, মিসর, লিবিয়া ও আলজেরিয়া।পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরী আল-হারামাইন হিসেবে পরিচিত। সৌদির (হারামাইন) নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বাগদাদি বলেন, ও হারামাইনের সন্তানরা... সেখানে বিশ্বাসঘাতকতা ও রোগ ছড়িয়ে পড়েছে... তোমার তলোয়ার উঠাও ও জীবন কেড়ে নাও। সেখানে মুহাজিরদের কোনো নিরাপত্তা নেই। অডিও বার্তায় ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে জিহাদিদের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া মিসরের সিনাই উপত্যকায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর জিহাদিদের হামলার ঘটনার প্রশংসা করেন। এ হামলা মিসরের একনায়কের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেন বাগদাদি। গত সপ্তাহে মিসরের জিহাদি সংগঠন আনসার বাইত আল-মাকদিস আইএসের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে। এর আগে লেবানন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জিহাদি সংগঠন আইএসের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছিল।১৭ মিনিটের ওই বার্তায় বাগদাদি বলেন, আইএস নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলা ব্যর্থ হয়েছে। বার্তায় শত্র“দের ওপর হামলা অব্যাহত রাখতে জিহাদিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বলেন, একজন যোদ্ধা বেঁচে থাকতে এ লড়াই বন্ধ হবে না। হামলার তীব্রতাও বাড়ানো হবে।সৌদি আরবের রাজকীয় শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য দেশটির আইএস সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান আইএসপ্রধান। আইএস বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় সৌদি আরব ইতিমধ্যে যোগ দিয়েছে। বাগদাদি বলেন, মুসলিমরা নিশ্চিত হও, তোমাদের রাষ্ট্র ভালো ও সর্বোত্তম অবস্থায় আছে। আল্লাহর আদেশে এই অভিযান চলতেই থাকবে। মুজাহিদরা রোমে পৌঁছানো পর্যন্ত তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, ইসলামী খেলাফত ফিরে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। শিগগিরই ইহুদি, শয়তান, জালেম ও ধর্মযোদ্ধা স্থলযুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে। তাদের সেনারা সেখানেই নিহত ও ধ্বংস হবে।প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার আইএস নেতাদের বৈঠক লক্ষ্য করে ইরাকের মসুলে বিমান হামলা চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। ওই হামলায় বাগদাদি আহত অথবা নিহত হয়েছে বলে ইরাকি প্রশাসন দাবি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ সংবাদ নিশ্চিত করেনি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই হামলার ঘটনায় ওঠা গুজবের কাউন্টার হিসেবে এ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।তবে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেন সাকি এ ধরনের বক্তব্যকে আগ্রাসী বলে অভিহিত করেছেন।

কিবরিয়া হত্যায় বিএনপি নেতাদের জড়ানো রাজনৈতিক

৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি যে কারচুপির আশংকা করেছিল, এইচটি ইমামের কথায় তা সত্য বলে প্রমাণ হয়েছে। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ফখরুল বলেন, এইচটি ইমামের বক্তব্যে আমাদের অভিযোগ প্রমাণ হয়ে গেল। আমরা আগেই বলেছি, আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে নির্বাচনকে পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এমন একটি নির্বাচন করেছে। তা এইচটি ইমামের কথায় প্রমাণ হয়েছে। তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যাপারে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিএনপি মনে করে, ১০ বছর পর তৃতীয়বারের মতো অভিযোগপত্র দিয়ে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক ও হবিগঞ্জের মেয়র জিকে গউছকে রাজনৈতিক কারণে জড়ানো হয়েছে। তবে এই মামলায় বিএনপির সাবেক নেতা হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হলেও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি ফখরুল।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, আমরা আগেই বলেছি, এ বিচার নিয়ে মন্তব্য করব না। তবে আমাদের আগে যে স্ট্যান্ড ছিল সেটাই এখনও আছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক তা আমরা চাই। তবে সেটা যেন রাজনৈতিক উদ্দেশে না হয়। বিচার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হতে হবে।অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্দোলনের বিকল্প নেই। সময়মতো উপযুক্ত আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে। নির্বাচনের পর ১০ মাস অতিবাহিত হলেও বিএনপি জোরালো আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেনি- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনেই আছি। আন্দোলন করছি। সময়মতো আন্দোলন যেভাবে আসা দরকার সেভাবে আসবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা হবে।লিখিত বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তগুলো জানান ফখরুল। তিনি বলেন, সভায় খালেদা জিয়া একটি অর্থবহ নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অতি দ্রুত অঙ্গসংগঠনসহ মূল দলের সব স্তরে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।তিনি জানান, সভায় বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে, অবৈধ সরকারের দুঃশাসনে জনজীবন দুঃসহ হয়ে উঠেছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। হত্যা, খুন, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই ধর্ষণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের বেআইনি আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও এ বিষয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। সভায় র‌্যাব ও পুলিশকে এ ধরনের আইনবহির্ভূত কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।মির্জা আলমগীর জানান, ৮ নভেম্বর ঢাকায় তাদের সমাবেশ করতে না দেয়া এবং ৯ নভেম্বর বিএনপির কর্মসূচিতে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের হামলা চালানোর ঘটনায় সভায় নিন্দা জানানো হয়। ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির কর্মিসভা, সমাবেশ, মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে এই অবৈধ সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে। সভা মনে করে, সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে দমন করার হীন চক্রান্ত করছে।তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রতিনিধিদের আটক করার মাধ্যমে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে। সভায় যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেফতার, বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি জানানো হয়।তিনি বলেন, সভায় জিয়াউর রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যেরও নিন্দা জানানো হয়। সভা মনে করে, এ ধরনের মিথ্যাচার, কটূক্তি রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও কলুষিত করবে এবং এর দায়ভার বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের প্রত্যক্ষ মদদে দুর্নীতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার ধ্বংস, পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়া, বিদেশে শ্রমবাজার বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানিসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ অবস্থায় সব দলের অংশগ্রহণে একটি অর্থবহ নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই।সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।এদিকে বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের আজ যে পরিস্থিত এখানে মানুষের কথা বলার অধিকার নেই- গণতন্ত্র বিপন্ন। মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত। এ অবস্থায় নুরুল হুদা মির্জাদের মতো ক্ষণজন্মা মানুষদের খুব প্রয়োজন ছিল। নুরুল হুদা মির্জার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুরুল হুদা মির্জা স্মৃতি পরিষদ এ স্মরণসভার আয়োজন করে।নুরুল হুদার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আমার প্রথম হাতে খড়ি নুরুল হুদা মির্জার কাছ থেকেই। তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এ রকম আÍমর্যাদাসম্পন্ন লোক খুব কমই আমরা দেখেছি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, আমরা যদি বাংলাদেশের আদর্শ পুরুষের নামের তালিকা তৈরি করি, তাহলে সে তালিকা খুব বেশি লম্বা হবে না। সংক্ষিপ্ত তালিকায় নুরুল হুদা মির্জার নাম ওপরের দিকেই থাকবে। তিনি ছিলেন স্বআদর্শ ও নীতিতে বিশ্বাসী এক বিরল মনীষী।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিশিষ্ট কলামিস্ট বদরুদ্দীন ওমর, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হায়দার আকবর খান রনো, অধ্যাপক নুরুল আহমেদ, সাংবাদিক কামাল উদ্দীন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমুখ।

বাংলাদেশের মালালা শ্রীপুরের সাহিদা আক্তার স্বর্ণা

অভাবের সংসারে পুত্রের আশায় পর পর পাঁচ কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। পুত্রসন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচ কন্যাসন্তানের মাকে ‘অপয়া’ আখ্যা দিয়ে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। কন্যাদের পড়ালেখার খরচ দিতে পারবেন না বলে বড় মেয়েকে বাল্যবিয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কন্যাকেও বাল্যবিয়ে দিয়ে বাবা চতুর্থ শিশুকন্যারও বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেন। কিন্তু বাধ সাদে চতুর্থ কন্যা সাহিদা আক্তার স্বর্ণা। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তিনি। দু’দফা নিজের বাল্যবিয়ে ভেঙে গ্রামে আলোচনায় চলে আসেন স্বর্ণা। শুধু নিজের নয়, গ্রামের যেখানেই বাল্যবিয়ে সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়েন সাহিদা আক্তার স্বর্ণা। কখনও কন্যাশিশুর মা-বাবাকে বুঝিয়ে আবার কখনও বা তিনি শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি অথবা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভেঙে দেন বাল্যবিয়ে। ৮ থেকে ১০ গ্রামের শিশুদের মধ্যে স্বর্ণা এখন সম্ভাবনার প্রতীক।
সাহিদা আক্তার স্বর্ণা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংদীঘি গ্রামের দরিদ্র তোতা মিয়ার কন্যা। নিজের অদম্য ইচ্ছার কাছে চরম দারিদ্র্যকেও হার মানিয়েছেন স্বর্ণা। তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। স্বর্ণার স্বপ্ন, দেশের অবহেলিত শিশু ও নারীদের পাশে দাঁড়ানো।সাহিদা আক্তার স্বর্ণা বর্তমানে প্ল্যান বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল শিশু সুরক্ষা দলের সদস্য ও যুব নারী সংঘের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। ৭ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী নরওয়ের অসলোতে অনুষ্ঠিত শিশু ও নারীবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও স্বর্ণা অংশ নেন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইর্না সোলবার্গ। সম্মেলনে স্বর্ণা তার জীবনের দুঃখগাথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার মতোই নিপীড়িত শিশুদেরও সচেতন করে সংগ্রামী করার গল্প শুনে প্রধানমন্ত্রী ইর্না সোলবার্গ তাকে বাংলার মালালা ইউসুফজাই বলে আখ্যা দেন।শুক্রবার সকালে সাহিদা আক্তার স্বর্ণার বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার দেখা মিলল পাশের গ্রামে শিশুদের নিয়ে পরিচালিত ‘উঠোন বৈঠক’-এ। সাহিদা আক্তার স্বর্ণা জানান, তার বাবা তোতা মিয়া সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। মা শরিফুন নেছা পড়ালেখা করেননি। তার বাবা সব সময়ে একটি পুত্রসন্তান কামনা করেছেন। কন্যাসন্তান ছিল অনাকাক্সিক্ষত। পুত্র সন্তানের আশায় এক এক করে পাঁচ কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পুত্রসন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মাকে অবর্ণনীয় নির্যাতন করতেন বাবা তোতা মিয়া। বোনদের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার করতেন তিনি। পড়ালেখার খরচ দিতে পারবেন না বলে তাদের শিশু বয়সেই বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১০ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন স্বর্ণা। এরপর আবানও তাকে বিয়ে দিতে ওঠেপড়ে লাগেন তার বাবা। পোশাক কারখানার এক শ্রমিকের সঙ্গে তার বিয়ের দিনক্ষণও ঠিক করা হয়। এবার তার বাবার সঙ্গে যোগ দেন তার বড় ভগ্নিপতি। রাজি না হওয়ায় তার বাবা তাকে মারধরও করেন। কিন্তু তার অমতে বিয়ে দিলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেন। এতে পিছু হটেন তার বাবা ও ভগ্নিপতি। সাহিদা আক্তার স্বর্ণা আরও জানান, দু’দফা তিনি নিজের বিয়ে পণ্ড করায় গ্রামে নানা কথা রটে। কেউ বলেন, মেয়ের অন্য কারও সঙ্গে গভীর প্রেম রয়েছে। কেউ বা বলেন, এ কেমন জাতের মেয়ে!এরই মধ্যে প্রতিবেশী এক শিশুর বাল্যবিয়ের খবর জেনে স্বর্ণা ছুটে গিয়ে অভিভাবকদের বিয়ে বন্ধ করার অহ্বান জানান। এতে ব্যর্থ হওয়ার পর শ্রীপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে ঘটনা জানান স্বর্ণা। পরে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা বিলকিস নাহার পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। এ ভাবে গ্রামে অগ্নিকন্যার ভূমিকা পালন করেন স্বর্ণা। স্বর্ণা জানান, এভাবে গ্রামে একের পর এক বাল্যবিয়ে পণ্ড করে দেন স্বর্ণা। গ্রামে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সিংদীঘি গ্রামে শিশুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘সূর্যমুখী শিশু ক্লাব’। পাশাপাশি তিনি অন্তর্ভুক্ত হন প্ল্যান বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালের শিশু সুরক্ষা প্রকল্পে। প্ল্যান বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে ২০১২ সালে মাওনা ইউনিয়ন শিশু ফোরামের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।স্বর্ণা দৃঢ় আশা প্রকাশ করে জানান, তিনি শুধু তার ইউনিয়নেই নয়, সারা দেশে ঘরে-ঘরে শিশুদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে চান। বাল্যবিয়েসহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সারা দেশে বিপ্লব ঘটাতে চান।

বগুড়ায় ৭ কোটি টাকা নিয়ে এনজিও পরিচালক উধাও

বগুড়ার নন্দীগ্রামে অ্যাসপো নামের একটি বেসরকারি সংস্থা প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের জামানতের অন্তত ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে সংস্থাটির পরিচালক আনোয়ার হোসেন। জমিজমা ও সহায়সম্বল বিক্রি করে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে ওই এলাকার অসহায় কৃষক শ্রমিকসহ সাধারণ লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের হাজারকি গ্রামের আনোয়ার হোসেন গত ২০০৪ সালে স্থানীয় সমাজসেবা অধিদফতর থেকে তার কৃষি ও সমাজকল্যাণ সংস্থার (অ্যাসপো) নিবন্ধন (রেজিঃ বগুড়া-১০৯৩/০৪) লাভ করেন। পরে ধুন্দারবাজার এলাকায় প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে। অ্যাসপোর উদ্যোক্তা ও পরিচালক আনোয়ার হোসেন প্রথম দিকে কিস্তিতে ও স্বল্পমূল্যে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সমাজসেবার নামে শুধু নন্দীগ্রাম নয়; পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর ও শেরপুর উপজেলার সহজ-সরল মানুষদের ফাঁদে ফেলেন। দ্বিগুণ মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দিয়ে তাদের কাছে জামানত সংগ্রহ করেন। প্রথম প্রথম কিছু গ্রাহককে মুনাফা দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন। এভাবে তিনি কয়েকটি উপজেলার প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের কাছে অন্তত সাত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
প্রতারণার শিকার শাজাহানপুরের আনসার আলী জানান, তিনি চার বিঘা জমি বিক্রি করে অ্যাসপোতে ৬০ লাখ টাকা জামানত রাখেন। কথা ছিল দশ বছরে দ্বিগুণ এবং প্রত্যেক তিন মাস পর ৬০ হাজার টাকা মুনাফা তোলা যাবে। কিছু দিন ধরে পরিচালক আনোয়ার হোসেন গা-ঢাকা দিয়েছেন, তার মোবাইল ফোন বন্ধ।তবে আনোয়ার অজ্ঞাত স্থান থেকে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কয়েকজন গ্রাহক সামান্য কিছু টাকা পাবেন। জমি বিক্রি করে শিগগিরই তা পরিশোধ করা হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার ইমাম জানান, অ্যাসপোর পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আÍসাতের অভিযোগ শোনার পর বিষয়টি তদন্ত করতে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চার মাসে ১ লাখ ৭১ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বেড়েছে

চার মাসে দেশের শেয়ারবাজারে ১ লাখ ৭১ হাজার বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার) অ্যাকাউন্ট বেড়েছে। ফলে আবারও বিও অ্যাকাউন্ট ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। তবে ৩০ শতাংশ অ্যাকাউন্টে শেয়ার নেই। এরা শুধু প্রাথমিক শেয়ারে (আইপিও) আবেদন করে। ইলেট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সিডিবিএল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিও অ্যাকাউন্ট বাজারের জন্য ইতিবাচক। কারণ এতে বাজারে নতুন পুঁজি আসে। ফলে তারল্য প্রবাহ বাড়ে। কিন্তু আমাদের দেশে বিনিয়োগকারীরা অনভিজ্ঞ। ফলে নতুন বিনিয়োগকারী এলে লুটেরাদের সুযোগ তৈরি হয়।
জানা গেছে, শেয়ারবাজারে ব্যবসা করতে হলে ব্রোকারেজ হাউস কিংবা মার্চেন্ট ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। শেয়ারবাজারের পরিভাষায় একে বিও অ্যাকাউন্ট বলে। সিডিবিএল সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৬ জুলাই বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৪৬ হাজার। সোমবার পর্যন্ত তা বেড়ে ৩০ লাখ ১৭ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এ হিসাবে ৪ মাসে বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার। সিডিবিলের তথ্যানুসারে বর্তমানে পুরুষের বিও অ্যাকাউন্ট ২২ লাখ এবং নারীদের প্রায় ৮ লাখ। অন্যদিকে আবাসিক হিসেবে বাংলাদেশে বসবাসকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট ২৮ লাখ ৫২ হাজার, প্রবাসীদের ১ লাখ ৪২ হাজার এবং কোম্পানির অ্যাকাউন্ট ১০ হাজার। তবে বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার নেই। এসব অ্যাকাউন্টধারী শুধু আইপিওতে (শেয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) আবেদন করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলেছে।সূত্র জানায়, আইপিও আবেদনের জন্য নামে-বেনামে প্রচুর বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। একই ব্যক্তি এক থেকে দেড়শ পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ত্বরিতগতিতে বিও অ্যাকাউন্ট বাড়তে থাকে। আর ২০০৯-১০ সালে ব্যাপক আকার বাড়ে। ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ। কিন্তু ২০১০ সাল শেষে তা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর এই প্রবণতা রোধে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়াও বিও অ্যাকাউন্টে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সার্টিফিকেট দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে যারা একবার অ্যাকাউন্ট খুলেছে, ওই অ্যাকাউন্টে নতুন করে ন্যাশনাল আইডি কার্ড নেয়া হয়নি। এদিকে ২০১০ সালে বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর বিও অ্যাকাউন্ট কমতে থাকে। ২০১২ সালে তা ৩০ লাখের নিচে নেমে আসে।সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করতে ৫০০ টাকা লাগে। এরমধ্যে সিডিবিএল ১৫০, হিসাব পরিচালনাকারী ব্রোকারেজ হাউস ১০০, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন (বিএসইসি) ৫০ এবং বিএসইসির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ২০০ টাকা জমা হয়। প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে এই টাকা সিডিবিএলে জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে নবায়ন ফি না দেয়ায় গত বছর ১ লাখ ৪১ হাজার অ্যাকাউন্ট বাতিল করা হয়েছিল। আর সর্বশেষ হিসাবে ১৬ জুলাই দেশের শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৪৬ হাজার। নতুন বেশ কিছু কোম্পানিকে কেন্দ্র করে বিও বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত সোমবার তা ৩০ লাখ ১৭ হাজারে উন্নীত হয়।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিও বৃদ্ধি বাজারের জন্য ইতিবাচক। কারণ নতুন অ্যাকাউন্ট খুললে বাজারে নতুন পুঁজি আসে। এতে তারল্য প্রবাহ বাড়ে। কিন্তু আমাদের দেশে বিনিয়োগকারী অনভিজ্ঞ। বিনিয়োগকারীরা হুজগে মাতে। কোম্পানির মৌল ভিত্তি বিবেচনা ছাড়াই গুজবে প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনে। আর শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ বিও অ্যাকাউন্ট বাড়লে লুটেরা শ্রেণী লাভবান হয়। তবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে উদ্যোগ নিতে হবে। বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি হলে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, নতুন বেশ কিছু কোম্পানি বাজারে এসেছে। এসব কোম্পানির আইপিওকে কেন্দ্র করে বিও অ্যাকাউন্ট বাড়তে পারে। তিনি বলেন, বিও অ্যাকাউন্ট বৃদ্ধি বাজারের জন্য ইতিবাচক। তবে আমাদের বিনিয়োগকারীদের পরিপক্বতার অভাব রয়েছে। ফলে তারা দুর্বল মৌল ভিত্তির শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিলেটে ৩ নেতার পক্ষে মাঠে নামছে বিএনপি

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে দলটি। শুক্রবার স্থানীয় একটি হোটেলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে আগামী রোববার নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সমাবেশ থেকেই পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শমসের মবিন চৌধুরী। এদিকে, সিটি মেয়র আরিফকে কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সিটি কাউন্সিলররা। শুক্রবার বিকালে সিটি কর্পোরেশন হলরুমে আয়োজিত জরুরি সভায় এ বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।
চার্জশিট থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এএমএস কিবরিয়া একজন সজ্জন মানুষ ছিলেন। আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে। মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই নির্বাচন জনগণ বয়কট করেছিল। আওয়ামী লীগ মানুষের কথা শুনছে না। তারা দেশব্যাপী ন্যক্কারজনক আচরণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ বছর পর কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের সম্পূরক চার্জশিট দিয়েছে। এই চার্জশিটে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জিকে গউছকে আসামি করা হয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্য, বিএনপিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে তাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কিবরিয়া সাহেবের পরিবারের পক্ষ থেকে রেজা কিবরিয়া এই চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিএনপিও এই চার্জশিটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, অবৈধ সরকার একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ ঢাকায় খালেদা জিয়াকেও মহাসমাবেশ করতে দেয়নি সরকার।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, সদস্য সচিব বদরুজ্জামান সেলিম, বিএনপি নেতা আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, এমএ হক, দিলদার হোসেন সেলিম, অ্যাডভোকেট নোমান মাহমুদ, নাসিম হোসাইন, অ্যাডভোকেট আবদুল গফফার, আলী আহমদ, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, আজমল বখত সাদেক, এমদাদ চৌধুরী, মাহবুব চৌধুরী, মিফতাহ সিদ্দিকী ও ডা. নাজমুল ইসলাম।এদিকে, শুক্রবার বিকালে সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সভায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের আহবান জানিয়ে কাউন্সিলররা বলেন, আমরাও চাই প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কিন্তু এই তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিলেটের জনপ্রিয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে জড়িয়ে যাতে অযথা হয়রানি করা না হয় সেজন্য আমরা সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। প্যানেল মেয়র সিটি কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।এদিকে হবিগঞ্জ প্রতিনিধি এখলাছুর রহমান খোকন জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে আহত ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে। তৃতীয় দফার চার্জশিটে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। এখন দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে বলে প্রত্যাশাও তাদের।তবে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিকে গউছকে এ মামলায় আসামি করায় বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় ছাত্রদলের একাংশ ও যুবদল।শুক্রবার যুগান্তরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মামলার আইনজীবী আলমগীর ভূঁইয়া বাবুল বলেন, সেদিন আমি নিজেও গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছি। এছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। তা সত্ত্বেও আমি তখন মামলার আইনজীবীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। সিআইডির তৎকালীন এএসপি মুন্সী আতিক প্রথম দফার চার্জশিট দিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি বাদী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নারাজি দেই। আদালত নারাজি গ্রহণ করে পুনরায় অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডির সিনিয়র এএসপি রফিকুল ইসলাম তদন্ত করে ২০১১ সালে ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। আমরা চার্জশিট পর্যালোচনা করে বাদী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এর বিরুদ্ধেও নারাজি দেই। সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা সিলেটের সিআইডির এএসপি মেহেরুন্নেছা যে চার্জশিট দিয়েছেন তাতে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে অনেক তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করেছেন। মনে হচ্ছে এটি সঠিক চার্জশিটই দিয়েছেন তিনি। তবে চার্জশিট হাতে পাওয়ার পর বাদী পক্ষ এবং হামলায় গুরুতর আহত জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর গ্রেনেড হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আহাদ ফারুক যুগান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমাতায় থাকলেও এ মামলার বিচার হচ্ছে না। ফলে আমরা মানুষের কাছে বিভিন্ন সময় প্রশ্নের সম্মুখীন হই। আমি আশা করি এ চার্জশিটের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং হবিগঞ্জবাসী কলংক মুক্ত হবে।হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এ চার্জশিট দাখিল করায় আওয়ামী পরিবারসহ হবিগঞ্জের মানুষ আনন্দে আত্মহারা। যারা অপরাধী এবং প্রকৃত দোষী তাদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে হবে। এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বেও দেশ সমাদৃত হবে।এদিকে চার্জশিটটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদলের একাংশ ও যুবদল। তাদের দাবি জিকে গউছকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জনকে হত্যা করে।

সাক্ষ্য দিতে কাল ফের ভারত যাচ্ছেন ফেলানীর বাবা

ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ সেক্টর সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের ডাক পেয়ে আগামীকাল ভারত যাচ্ছেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু। সঙ্গে যাচ্ছেন বিজিবির ৪৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোফাজ্জাল হোসেন আকন্দ ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন।
সোমবার সকাল ১০টায় ভারতের ওই বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দেবেন ফেলানীর বাবা। আদালতকে জানাবেন বিএিসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ ঠাণ্ডা মাথায় কিভাবে কাছ থেকে গুলি করে ফেলানীকে হত্যা করেছিলেন।অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার কাজ শুরু হয় ২২ সেপ্টেম্বর। একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছাড়াই আদালত চলে ৩ দিন। আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ৪৫ বিজিবির সদর দফতর থেকে ভারতের পথে রওনা হন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামসহ তিন সদস্যের দল। কিন্তু লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ি নামক স্থানে পৌঁছার পর মোবাইলে জানানো হয় আদালত ৩ দিনের জন্য মুলতবি হয়ে গেছে। পরে সাক্ষ্য দেয়ার সময় ও তারিখ জানানো হবে। ফলে মাঝপথ থেকেই ফিরে আসে তিন সদস্যের ওই দল। শুক্রবার বিকালে আবারও সাক্ষ্য দিতে ভারতে যাওয়ার কথা জানানো হয়। তারা এখন ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, অনেক দিন পর ডাক পাইলাম। আমার চোক্ষের সামনে মেয়েডারে গুলি কইর‌্যা পাখির মতো মেরেছে। পানি খাইতে চাইলে দেয় নাই। আগেরবার বিচারের নামে ওরা তামশা করছিল। আশা করি এবার ন্যায়বিচার পামু।লে. কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ জানান, শুধু ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরুর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। তিন সদস্যের দল রোববার সকালে কুড়িগ্রাম বিজিবির সদর সফতর থেকে বুড়িমারী চেকপোস্টের উদ্দেশে রওনা হবে।উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্য অমিয় ঘোষ ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বিচারে বিএসএফ সদস্যকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়। রায় প্রত্যাখ্যান করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে মানবাধিকার সংগঠন আসকের (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) মাধ্যমে আবেদন করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ।

প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় ২ যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলে প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা যুবলীগের এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তসিকুল ইসলাম এবং যুবলীগ নেতা লাল বাহাদুর। পরে শুক্রবার বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাদল চন্দ্র হালদার তাদের ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করায় তাদের গ্রেফতার ও দণ্ড দেয়া হয়েছে।
এদিকে দুই যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতারের আগে বাঘা থানায় এ সংক্রান্ত করা একটি জিডিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে গালিগালাজের বিষয়টি উল্লে­খ করেছে পুলিশ। থানা পুলিশের একটি সূত্র বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিজেই সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে নাম রয়েছে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাবুলের।অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিপরীত প্যানেলে প্রার্থী হয়েছেন সভাপতি পদে বাঘা পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাস আলী ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তসিকুল ইসলাম। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তসিকুল ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা লাল বাহাদুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নেতাদের গ্রেফতার ও দণ্ডের ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুর রহমান শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, মদ্যপ অবস্থায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে গালিগালাজের অভিযোগে দুই যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অভিযোগে বিচার করে তাদের দণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজা ঘোষণার পরপরই দণ্ডিত দুই যুবলীগ নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি নিশ্চিত করেন।এদিকে তসিকুলকে গ্রেফতার ও দণ্ড দেয়ার বিষয়টি পুরোপুরি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন তার বড় ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে গালিগালাজ দেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা। কাউন্সিলে প্রার্থী হতে না দেয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে গ্রেফতার করে দণ্ড দেয়া হয়েছে।

সিডর কেড়ে নিতে পারেনি বড় হওয়ার স্বপ্ন by গোলাম কিবরিয়া

ঘুর্ণিঝড় সিডর চলে গেছে সাত বছর আগে। কিন্তু ক্ষত রয়ে গেছে এখনো। বরগুনার বিভিন্ন স্থানে আজো চলছে আহাজারি। আবার একই সাথে চলছে বড় হওয়ার অদম্য ইচ্ছা। বরগুনার তালতলী উপজেলার কবিরাজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান তার এক মাসের কন্যা ডলি (৭) ও কলী (১১)কে নিয়ে বেঁচে আছেন। তার পরিবারের বাকি ১১ সদস্য সবাই মারা গেছেন। বেঁচে থাকা কন্যা দুটি মায়ের আদর-যতœ ছাড়াই বড় হয়েছে। তার এক মেয়ে নানা বাড়িতে থেকে কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে।
তেতুলবাড়ীয়া গ্রামের আরেক পরিবারের নয়জন নিহত হন। তাদের পরিবারে বেঁচে থাকা আলমগীর জানান, কোনোমতে দিনাতিপাত করছেন তিনি। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে তিনি আজ অসহায়। লেখাপড়া করার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও পারেননি। পরিবারের অভিভাবক হারিয়ে সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়েছেন। আমতলী ঘটখালী গ্রামের ১৪ জন দিনমজুর পানের বরজের ধানশি লতা সংগ্রহের জন্য ট্রলার নিয়ে সাগরে গিয়েছিলেন। সিডরের ভয়াল সেই রাতে জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়েন তারা। তাদের মধ্যে চারজন ফিরে এলেও হারিয়ে গেছেন ১০ জন। আমতলীর দিন মজুর ইউসুফ সরদার ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র অভিভাবক। তিনি মারা গেছেন তিন সন্তান ও স্ত্রী আমেনা বেগমকে রেখে। আমেনা বেগম বলেন, তার বড় মেয়ে সারমিন ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। ছোট মেয়ে নীল এ বছর ২য় শ্রেণীর ছাত্রী, ছেলে শাওন ৭ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে। আমেনা বেগম বলেন, আমি স্বামী হারিয়েছি, আজ এ এতিম সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করতে পারছি না। তারপরও ওদের আগ্রহের কারণে অনেক কষ্টে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি।
নিহত মনিরুলের স্ত্রী হামিদা বেগম জানান, তিনি দিনমজুরের কাজ করে একমাত্র মেয়ে সাইফার (৯) লেখাপাড়া করার স্বপ্ন নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। চতুর্থ শ্রেনীতে পড়–য়া সাইফা জানায়, বাবাকে হারিয়েছি। মায়ের মাঝেই বাবার স্মৃতি খুঁজে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপাড়া করছি। নিহত রত্তনের পিতা আব্দুল বারেক মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘মোর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নাই, মোর পোলায় দু’ছেলে রাইখ্যা গেছে, হ্যাগো ল্যাহাপড়া হরাইতে বড় কষ্ট অইতেছে। সরকার এই এতিম সন্তানদের দিকে তাকাইলে বড় ভালো অইতো।’
বৈঠাকাটা গ্রামের একই পরিবারের দু’ভাই দেলোয়ার ও আলতাফ নিহত হয়েছে। তাদের বড় ভাই প্রতিবন্ধী বাবা আলী আজম গত বছর মারা গেছেন। দেলোয়ারের দু’ছেলে এখন অসহায়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সোবাহানের দুই ছেলে, বড় ছেলে রাসেল ঘটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে আমতলী ডিগ্রি কলেজে লেখাপাড়া করছে। অর্থের অভাবে ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারছে না। অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে। কাজের ফাঁকে লেখাপড়া করে। রাসেল জানায়, তার বাবা ছিলেন দিনমজুর। অর্থের সন্ধানে সাগরে গিয়ে আর ফেরেন নি। তার পরিবারের আর যেন কোনো সদস্যের সাগরের বুকে হারিয়ে যেতে না হয় এ জন্যই লেখাপড়া করছে সে। কষ্ট হলেও একদিন সমাজের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানো আশা রাসেলের।
ঘটখালীর সমাজসেবক আলমগীর হোসেন জানান, নিহত পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করার অদম্য বাসনা নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এদের মধ্যে অনেকে মেধাবী ও প্রতিভাবান। আমার বিশ্বাস এরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সহযোগিতা পেলে দেশের সু-নাগরিক হয়ে উঠবে।
>> অবিভাবকদের হারিয়ে মেধাবী শিশুরা মানুষ হওয়ার অদ্যম স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে

দুই নেত্রীর মামলা করলেও কোনো পার্টিকে বিলং করি না : ব্যারিস্টার রফিক উল হক

দুই নেত্রীর আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করলেও তাদের দলের হয়ে কোনো রাজনীতি করেন না বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক। তিনি বলেন, ‘আমি দুই নেত্রীর আইনজীবী হতে পারি কিন্তু কোনো পার্টিকে বিলং করি না’।
আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটরিয়ামে আইনজীবীদের এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সন্তানদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, আইনজীবী পরিবার কল্যাণ সমিতি কোনো পার্টির সংগঠন নয়, তাই এ অনুষ্ঠানে এসেছি। তিনি জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও আইনজীবী হও।’ ভবিষ্যতে আরো ভালো করো এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। তিনি আইনজীবী পরিবারকে তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালগুলোতে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানেরও আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ব্যারিস্টার রফিক উল হককে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি (ব্যারিস্টার রফিক উল হক) যদি অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হন, তাহলে দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কে? তিনি হলেন রাজনৈতিক গুরু।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের উদ্দেশে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তেমাদের জিপিএ-৫ পাওয়াই শেষ নয়। ভবিষ্যতে তোমরা আরো ভালো করে দেশের সুনামের পাশাপাশি আইনজীবী মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। তিনি প্রতিটি আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন এবং সন্তানের সফলতার জন্য সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মায়েদেরও ধন্যবাদ জানান।
আইনজীবী পরিবার কল্যাণ সমিতি এ সম্মানার আয়োজন করে। আইনজীবী পরিবার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মহসীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন জসীম, খোরশেদ আলম, খোরশেদ মিয়া আলম, মাহবুবর রহমান, এখলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া, আখতার উন নবী আকন্দ, নজরুল ইসলাম সরদার। এছাড়াও সম্মাননা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন অমিয়া বিশ্বাস।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিবার কল্যাণ সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক সৈয়দা শাহীন আরা লাইলী। কোরাআন তেলাওয়াত করেন অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম খলিল। অনুষ্ঠানে জিপিএ- ৫ পাওয়া ৩২ জন শিক্ষার্থীর হাতে অতিথিরা সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় মোলুকা সমুদ্রাঞ্চলে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে সুনামিটি ইন্দোনেশিয়াসহ ফিলিপাইন, পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, জাপান ও তাইওয়ানের কয়েকটি অংশে আঘাত হানতে পারে বলে সুনামি সতর্কতায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। সর্বোচ্চ ১ মিটার বা ৩ দশমিক ৩ ফুট উঁচু পর্যন্ত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র। ভূমিকম্পের ব্যাসার্ধের ৩০০ কিলোমিটার এলাকা-সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলে এ জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মালুকু দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-গর্ভের ৪৬ কিলোমিটার গভীরে। সুনামির প্রথম ঢেউটি পরবর্তী ৬ ঘণ্টার মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২০০৪ সালে বান্দা আচেহ সমুদ্র উপকূলে ৯ দশমিক ১ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী এক ভূমিকম্পে ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে।

গাঁয়ের যোগী ভিখ পায় না! by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

কবি নিশ্চয়ই বুঝেছিলেন, এই দুর্ভাগা জাতি দেশের ঠাকুর রেখে বিদেশী কুকুর বরণ করতে কুণ্ঠা করবে না। তাই নিজের স্বপ্নের কথা বলেছেন- ‘কতরূপে স্নেহ করি দেশের কুকুর ধরি বিদেশের ঠাকুর ত্যাজিয়া’। আমরা মধ্য আয়ের দেশ হতে চাই। আমরা অচিরেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই। তবে সব ক্ষেত্রেই বিদেশী পরামর্শক প্রয়োজন। যদিও বিদেশী পরামর্শক আর বিশেষজ্ঞ যে শুধু কাড়ি কাড়ি টাকা নিতে পারে এবং যুগ যুগ ধরে সমস্যা জিইয়ে রাখে, তার ভূরিভূরি উদাহরণ রয়েছে। এই তো সেদিন বাংলাদেশ বিমানকে লাভের মুখ দেখানোর জন্য এক বিদেশী ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা হয়েছিল। পত্রিকান্তরে জানা গেল, বিমানকে বেহাল রেখেই তিনি সরে পড়েছেন। যমুনা সেতু তৈরির কিছুদিনের মধ্যেই ফাটল ধরেছে। বিদেশী বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন কমিশনে একই কাজ করার জন্য একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকেও মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে সম্ভবত বিএ পাস বিশেষজ্ঞ আকাশ স্পর্শ করা বেতনে চাকরি করেছেন, সঙ্গে তার স্ত্রীও চড়া বেতনে।
আমরা শুধু ভারত থেকে নয়, এখন শ্রীলংকা থেকেও কম্পিউটারের পরামর্শক আনা শুরু করেছি। মিয়ানমার আর নেপাল শুধু সময়ের ব্যাপার। অন্তত সেই প্রকল্পগুলো যে সফলতার মুখ দেখেনি, তা না জেনেও বলা যায়। কারণ, সফল হলে শুধু তারা নয়, তাদের উত্তরাধিকারীরাও আমাদের দেশের সস্তা রোজগার থেকে নিজেদের বঞ্চিত করত না। রাজনৈতিক হানাহানির দেশে যখন বিদেশের ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ অনিশ্চিত পরিবেশে পরামর্শক হিসেবে আসে, তখন বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কোনো কারণ নেই যে, নিজের দেশে তাদের কাজের অভাব, উপরন্তু আমাদের দেশে আকাশচুম্বী বেতন।
একবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে একজন প্রবাসী বাংলাদেশীর চাকরির সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলাম। অনেক টাকা বেতন। কিন্তু যখন তার সার্টিফিকেট দেখতে চাচ্ছিলাম, তা আর পাওয়া যাচ্ছিল না। যাও একটা পাওয়া গেল তার চল্লিশ ভাগ লেখা মুছে গেছে। আমি ভালো একটি কপি দাবি করে চলে এলাম। পরদিন সকালে একজন এসে আমার বিভাগে মাস্টার্স করার সম্ভাবনা যাচাই করছিল। তার সার্টিফিকেট আর ওই দামি প্রবাসী বিশেষজ্ঞের শিক্ষা জীবনের শেষ সার্টিফিকেট এক হওয়ায় আমি ধারণা পেলাম, নিজের দেশে নিজেদের কী পরিমাণ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেই না আমরা চলেছি। অথচ আমাদের স্নাতকেরা বিদেশে সুনামের সঙ্গে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নয়, ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করছে এবং অনেকেই শুধু আমাদের ডিগ্রি নিয়েই। স্বদেশী পণ্য এবং উৎপাদনমুখী নীতি অনুসরণ করে মানসম্পন্ন ব্লেড তৈরিতে অপারগ ভারত প্রথম এশীয় দেশ হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহে রকেট পাঠিয়েছে। এর আগে তাদের রকেট চাঁদে পানির অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করেছে। আমরা আগেও বিদেশী পণ্য, বিশেষজ্ঞ ও সেবায় ধন্য হয়েছি, এখনও তাই। ব্যবধান এটুকু যে, আগে বিদেশ বলতে জাপান, জার্মানি, আমেরিকা বোঝাত; আর এখন বিদেশ আমাদের অনেক কাছে- মালয়েশিয়া, ভারত, শ্রীলংকা কিংবা থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ।
কয়েকদিন আগে যে সারা দেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটল, তার সমাধান নাকি বিদেশী পরামর্শক নিয়োগ! টিভিতে তাই দেখতে পেলাম। ২০০৭ সালেও এমন বিপর্যয় ঘটেছিল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সমস্যা চিহ্নিত করে সুপারিশও করেছিলেন, যার কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। বাঙালরা কি আর এ সবকিছু বোঝে? বিদেশী হলে অবশ্য যে কোনো রঙের হলেও পারে! অথচ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গর্ব করার মতো মেধাবী শিক্ষকে সমৃদ্ধ। এই বিভাগের স্নাতকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আইইই-এর ফেলো, বার্কলেসহ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আবার আমেরিকার বিখ্যাত ইলেকট্রিক পাওয়ার রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আরশাদ মনসুর হলেন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নামকরা গবেষক। এবারের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পরপরই জনপ্রিয় সাহিত্যিক-কলামিস্ট আনিসুল হক এ সমস্যায় তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আমাদের দেশেও প্রয়োজনে তার সহযোগিতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।
আমরা দেশটি ঠিকঠাকই চালাতে পারছি, তবে শুধু গর্বের প্রতীক আদমজী জুট মিল চালাতে না পেরে বন্ধ করে দেই, কখনওবা বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মতো একেবারেই গৃহস্থালির কাজও বিদেশীদের দিয়ে করানোর উদ্যোগ নেই, অথবা চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা থাইদের হাতে ছেড়ে দিতে চাই। এ কাজগুলো বিদেশীদের দিলে কখনও নিজেরা শিখতে পারব না। কোনো দেশই আমাদের সেই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তাদের কাজ ছেড়ে দেবে না। নিজেদের কাজ নিজেদেরই করতে হবে, তা যত আনাড়িভাবেই আমরা পারি না কেন। এক প্রজন্মের ত্যাগ ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশের গোড়াপত্তন করবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা না থাকলে জন্মজন্মান্তর আমাদের উত্তরসূরিরা উন্নয়নশীল দেশের ছাপ কপালে নিয়ে নিগৃহীত হবে।
স্বাধীনতার পর ৪০ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এভাবে পরমুখাপেক্ষী থাকায় কোনো গৌরব নেই, বরং বিস্তর গ্লানি আছে। জাতি হিসেবে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাই। আমাদের মেরুদণ্ড যতই দুর্বল হোক না কেন, এর ওপর ভর করেই শির উন্নত করে আমরা দাঁড়াতে চাই। বিদেশ-বিভূঁইয়ে অনাত্মীয় পরিবেশে, এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য শুধু নিজেরা নয়, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতাদেরও মরতে দিতে চাই না। নিজের দেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে মরতে মরতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বাঁচাতে ও বাঁচতে শিখে যাবে।
ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ : অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইলেই হবে না কীভাবে সেটাও বলতে হবে by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক সংকট চলমান রয়েছে। সংকটটি জন্ম নিয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনটি ছিল গণতান্ত্রিক বিশ্বের সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন। নির্বাচনটি এমনই ব্যতিক্রমী ছিল যে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি দল সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে। প্রধান বিরোধী দলের বর্জনের কারণে এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় একটি বড় দলকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ওই দলের কিছুসংখ্যক নেতাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিয়ে তাদের দিয়ে সংসদে একটি অভূতপূর্ব ও বিচিত্র বিরোধী দল সৃষ্টি করা হয়। এ নির্বাচনের অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা দেখার পর সাধারণ মানুষ নির্বাচনটির প্রতি একেবারেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এসব কারণে নামকাওয়াস্তের এ নির্বাচনটি যুগপৎ দেশে-বিদেশে একটি সাধারণ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মতো গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। সে কারণে এ নির্বাচনের ওপর ভর করে গঠিত সরকারও দেশে সমালোচনা ও আন্দোলন এবং বিদেশে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। বিরোধী দল থেকে এবং বন্ধুপ্রতিম গণতান্ত্রিক দেশগুলো থেকেও বারংবার একটি অংশগ্রহণমূলক স্বচ্ছ নির্বাচনের আয়োজন করতে বলা হচ্ছে। নাগরিকদের অনেকেই ভাবছেন, সরকার একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলে হয়তো চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে এবং দেশ আবার শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
সাধারণ মানুষের এ ধারণা একেবারেই ভুল। কারণ, একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করলেই কেবল চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে না। পঞ্চদশ সংশোধনী-উত্তর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনে ও বর্তমান চরিত্রের নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি কেন, পাঁচ-দশটি মধ্যবর্তী নির্বাচন করেও চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা যাবে না। আর ওই রকম নির্বাচনে সংসদের বাইরের প্রধান ও প্রকৃত বিরোধী দল বিএনপি হয়তো অংশগ্রহণও করবে না। কারণ, এমন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বিরোধী দলের পক্ষে মুখ রক্ষা করা সহজ হবে না। তখন বিএনপিকে স্বীকার করতে হবে যে, তারা তাহলে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ভুল করেছিল। আরও স্বীকার করে নিতে হবে যে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে দশম সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন করে দলটি ভুল করেছিল এবং ওই আন্দোলন করতে গিয়ে যারা আহত ও নিহত হয়েছিলেন এবং যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল সেজন্য তারাই দায়ী। এ রকম স্বীকারোক্তি করা আর নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা একই কথা। এ কাজ করলে দলটির জনসমর্থন কমে যাবে এবং দলটি নির্বাচনেও ভালো করতে পারবে না। এমন নির্বাচনে যদি তারা ভুল করে অংশগ্রহণ করেও, তাহলে দলটির জণসমর্থনও কমে যাবে। অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপির পক্ষে ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে না। আর প্রকৃত প্রধান বিরোধী দল ছাড়া কেবল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং শওকত হোসেন নিলুরা অংশগ্রহণ করলে ওই রকম মধ্যবর্তী নির্বাচন আবারও গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
কাজেই সরকার যদি চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আন্তরিক হতে চায়, তাহলে দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের চিন্তা বাদ দিতে হবে। কারণ, এমন নির্বাচন করলে ওই নির্বাচনের স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা দিলেও কেউ বিশ্বাস করবে না। আর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকায় নির্বাচন যে কতটা দুর্নীতি-কারচুপিমুক্ত এবং অবাধ হতে পারবে সে বিষয়টি যুগপৎ দশম সংসদ নির্বাচন এবং তৎপরবর্তী চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই সরকার যদি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে চলমান সংকটের সমাধান করতে চায়, তাহলে তাকে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে কেমন সরকারের অধীনে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। সরকারকে জনগণের মধ্যে এ বিশ্বাস আনতে হবে, যে মধ্যবর্তী নির্বাচন তারা করবে তা দশম সংসদ বা চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মতো হবে না। এ কাজটি করতে হলে সরকারকে আগামী সংসদ নির্বাচন কেমন সরকারের অধীনে হবে, তার রূপরেখা তৈরি করতে হবে। এ কাজ করতে বেশ সময় লাগবে। সেজন্য সরকার যদি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে চায়, তাহলে তাকে খুব বেশি দেরি না করেই ওই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং সে লক্ষ্যে এখনই নির্বাচনকালীন সরকারের একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ শুরু করতে হবে।
চলমান রাজনৈতিক সংকটটি যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা তৈরি করেছেন, কাজেই এর সমাধানও তাদেরই বের করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিদেশীদের ওপর নির্ভর করে তাদের বেশি গুরুত্ব না দেয়াই ভালো। অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এ দেশে এ ধরনের সংকট বিদেশীরা দূর করতে পারেনি। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে স্যার নিনিয়ান স্টিফেন এবং ২০১৩ সালে অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা দেশবাসী বিস্মৃত হননি। কাজেই বিদেশীদের মাধ্যমে আলোচ্য সমস্যার সমাধান করার প্রচেষ্টা নিলে তাতে কেবল সময় নষ্ট করা হবে। তবে সরকার যদি বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে ও জামায়াত-হেফাজতকে নিষ্ক্রিয় করার প্রয়াস নিয়ে চলমান সংকটের সমাধানে গড়িমসি করে, তাহলে সরকারি ফর্মুলায়ই যে রাজনৈতিক অংক চলবে এমনটি নাও হতে পারে। ভোটবঞ্চিত সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে মোনাফেকি করে নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের পর আরেকটি নির্বাচন না দিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ হওয়ার সম্ভাবনাটি নাকচ করার মতো নয়। সরকার যদি এ বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের প্রলোভন দেখিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করার বিষয়টি অবহেলা করে, তাহলে তা এক রকমের বোকামি হবে।
বিশ্বায়নের যুগে বিদেশীদের দেশীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব দিতে না চাইলেও তাদের একেবারেই উপেক্ষা করে একাকী যা খুশি তা করার দিন আজ নেই। যেহেতু অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে মিলিমিশেই বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে, সে কারণে বহির্বিশ্বকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিজের দেশে যা খুশি তাই করার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। নিজে যা খুশি তাই করতে গেলে যে অনেক সময় তা সম্ভব হয় না সে বিষয়টি পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা প্রদান প্রত্যাহার করার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই বিরোধী দলকে আন্দোলন করতে না দিয়ে এবং তাদের হামলা-মামলায় পর্যুদস্ত করে এককভাবে দেশ পরিচালনা করতে চাইলে বিদেশী গণতান্ত্রিক বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলো যে এ ব্যাপারে চুপ থাকবে না তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে বিদেশী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো সরকারকে বারবার সে ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা অর্থবহ সংলাপ করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিলেও সরকার সে পরামর্শ গায়ে মাখছে না।
গণতান্ত্রিক বিশ্বের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলো ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে প্রথম থেকেই প্রশংসা করেনি। আজও ওই দেশগুলো তাদের সে অবস্থানে অনড় রয়েছে। গত ১১ মাসে যখনই সুযোগ পেয়েছে তখনই তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে তাদের মনোভাব জানিয়ে দিয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও নেতারা বিদেশ সফর করলে তাদের বারবার নতুন করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দেয়া হচ্ছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী লিন ফেদারস্টোন ঢাকা সফরে এলে অবাধ নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে ওই রকম নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের তরফ থেকে এ রকম কোনো সংলাপের উদ্যোগ না থাকায় এ ব্রিটিশমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে গেছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তার আগের অবস্থানে অনড় থেকে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ প্রদান অব্যাহত রেখেছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার কোনো পরিবর্তন পরবর্তীকালে যে হয়নি, সে বিষয়টি অক্টোবরে ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান সিকিউরিটি প্রজেক্ট আয়োজিত বাংলাদেশ : প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস শীর্ষক সেমিনারে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপ-সহকারী মন্ত্রী ট্যাড ব্রাউন আবারও নিশ্চিত করেছেন। এ মাসের শেষ সপ্তাহে কাঠমুন্ডুর সার্ক সম্মেলন শেষ করে দুদিনের জন্য আবারও ঢাকায় আসছেন সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। তিনি ঢাকা এসে একই সুরে আবারও যে চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ও সে লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অর্থবহ সংলাপের তাগিদ দিয়ে যাবেন, তা আগেই বলে দেয়া যায়।
ভোটাধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় এবং বন্ধুপ্রতিম গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মনোভাবে কোনো পরিবর্তন না দেখে সরকার বুঝতে পেরেছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ওপর ভর করে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার প্রচেষ্টা যুগপৎ দেশে ও বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে। সেজন্য সরকারের অনেক নেতা-মন্ত্রী ২০১৯ সালের আগে সংসদ নির্বাচন হবে না বলে বক্তব্য দিলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য ঘুরে এসে নির্বাচন সময়মতো হবে বলে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণমূলক মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন। আবারও বলতে হচ্ছে, সরকার কেবল মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে কোনো সাফল্য দাবি করতে পারবে না এবং এমন নির্বাচনে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধানও হবে না। সরকার চলমান সংকট নিরসনের কৃতিত্ব কেবল তখনই দাবি করতে পারবে, যখন সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার উদ্ভাবন করতে পারবে।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শিশু ও শিক্ষা দুটিরই বিশেষ যত্ন প্রয়োজন by মো. সিদ্দিকুর রহমান

শিশুশিক্ষা বা প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করি। দীর্ঘদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলাম। হয়তো এ কারণেই এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। মেয়েদের শিক্ষা ও শিশু অধিকার আন্দোলনের স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর নির্বাচন করা হয়েছে নোবেল শান্তি পুরস্কার। কিশোরী মালালা ইউসুফজাই ও ৬০ বছর বয়সী কৈলাস সত্যার্থী তাদের ত্যাগ ও সাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকা, যেখানে মেয়েদের শিক্ষা মানে মৃত্যু অনিবার্য, সেই মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে, কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে মালালা এগিয়ে নিয়ে গেছেন মেয়েদের শিক্ষার আন্দোলন। ২০১২ সালে তালেবান জঙ্গিদের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত মালালা ব্রিটেনে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে ওঠেন। তার সাহসী কর্মকাণ্ড মেয়েদের, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে অনুপ্রাণিত করবে। মেয়েদের শিক্ষার চ্যালেঞ্জ দূর করার লক্ষ্যে অসীম সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য মালালা অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। মুক্তচিন্তার পক্ষে কাজ করার জন্য মালালা ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ‘শাখারভ’ মানবাধিকার পুরস্কার পেয়েছেন। মালালাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার। এর আগে যারা কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব পেয়েছেন তারা হলেন- দালাইলামা, নেলসন ম্যান্ডেলা, অং সান সুচির মতো খ্যাতিমানরা।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে নিজের ১৬তম জন্মবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে এক আবেগময় ভাষণ দেন মালালা। ভাষণে প্রতিটি শিশুর জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালুর আবেদন জানান তিনি। প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকারের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন মালালা। জঙ্গিদের সম্পর্কে বলেন, ‘তারা ভেবেছিল বুলেট আমাকে স্তব্ধ করে দেবে, থামিয়ে দেবে। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে। জঙ্গিরা ভেবেছিল তারা আমাকে লক্ষ্য ও আকাক্সক্ষা থেকে বিচ্যুত করবে। কিন্তু তারা আমার জীবনে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।’ মালালা বলেন, ‘বই ও কলমকে জঙ্গিরা ভয় পায়। আসুন আমরা প্রতিটি শিশুর হাতে তুলে দিই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র বই ও কলম। একজন শিশু, একজন শিক্ষক আর একটি বই গোটা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে।’ গুলিতে আহত হওয়ার পর জনসম্মুখে এটাই তার প্রথম ভাষণ। ভাষণে তিনি আরও বলেন, আগে নারী আন্দোলনকারীরা তাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতে পুরুষের শরণাপন্ন হতেন, এখন আমরা মেয়েরাই সেই কাজ করব। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন মালালার জন্মদিনটিকে ‘মালালা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
অপর নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে ফোনালাপ প্রসঙ্গে মালালা বলেন, আমরা দুজনই ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়তে চাই। আমি চাই দুই দেশই সংলাপে বসুক। পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বদলে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে কথা বলুক। আমরা দুজনই চাই ভারত-পাকিস্তানের নেতারা নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকুক। আমরা সত্যিই শান্তিতে বিশ্বাস করি। দু’দেশের উন্নয়নের জন্য শান্তি ও দুই দেশের সুসম্পর্ক থাকা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।
মালালার তুলনায় কৈলাসের নাম ভারত ছাড়া বিশ্ববাসীর কাছে অতটা পরিচিত নয়। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম কৈলাসকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কৈলাস সত্যার্থীর জন্ম ১৯৫৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বিদিশা শহরে। সত্যার্থী পেশায় একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হলেও ১৯৮৩ সালে গড়ে তোলেন ‘বাচপন বাঁচাও’ আন্দোলন বা শৈশব রক্ষা আন্দোলন নামের একটি সংস্থা। শৈশব রক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিন দশক আগে কৈলাস তার প্রকৌশল জীবনের সমাপ্তি ঘটান। বর্তমানে অলাভজনক এ সংস্থাটি ভারতে শিশু পাচার ও শিশুশ্রম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে। ভারতজুড়ে এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ৩০ বছর ধরে পাচার হয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধারে কাজ করছে। চার মাস আগে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি শিশুদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বলেছেন, ‘আমি শিশুদের বন্ধু- এটাই আমার দর্শন। আমার মনে হয় না কারও উচিত তাদের করুণাকে অজ্ঞতা বা মূর্খতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা। এ ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। শিশুরা নিষ্পাপ, তারা সরাসরি কথা বলে। তাদের কোনো পক্ষপাত নেই। শিশুদের সরলতাই আমাকে বেশি টানে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব অন্য অনেক কিছুর চেয়ে আমার কাছে বেশি অর্থপূর্ণ।’ বিদিশার পর উড়িষ্যা ও মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরে শিশু পাচার, শিশুশ্রম ও শিশু শিক্ষার অভাবের বিরুদ্ধে কৈলাস নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন করেছেন। রক্ত ঝরেছে, তবু কৈলাসকে কেউ দমাতে পারেনি। যার ফলে স্বীকৃতি মিলেছে দেশ-বিদেশে। নানা দেশে সক্রিয় ‘গ্লোবাল মার্চ এগেইনস্ট চাইল্ড লেবার’ তার তৈরি। তিনি ডিফেন্ডারস অব ডেমোক্রেসি, মেডেল অব দি ইতালিয়ান সিনেট, রবার্ট এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ডের মতো একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। তার ব্যক্তিত্ব শিশুর মতো সরল। কৈলাসের নেতৃত্বে ভারতের ৮০ হাজার শিশু শ্রমদাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে। শিশুশ্রম বন্ধের দাবিতে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৯৯৮ সালে ১০০টি দেশে ৮০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা সংগঠিত করেন।
এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বহু দেশে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার ও শিশুশ্রম বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হয়। শিশুদের শ্রমদাসত্ব ও অশিক্ষার অভিশাপের দায় যেন শোধ করতে চান কৈলাস। তিনি ও তার সহকর্মীরা নিয়মিত হানা দেন কারখানায়, শিশু পাচারের আস্তানায় ও বাল্যবিবাহের ঘাঁটিতে। নানা অত্যাচারের পরও কৈলাসের একজন সহকর্মীকে গুলি করে এবং অন্যজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অনুজ সহকর্মীরা বেশিরভাগই প্রহৃত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দাসত্ব কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আমি শিশু অধিকার খর্ব হোক এটা কোনোভাবেই মানতে পারি না।’ নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগের সপ্তাহেও তিনি ছুটে গেছেন শিশুশ্রম ব্যবহারকারী এক কারখানায়। শিশুশ্রম দাসত্ব পাচারের বিরুদ্ধে শিশুশ্রম আন্দোলন অনেক তরুণকে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জোর দেন রাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর। সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে, শিক্ষা মৌলিক মানবাধিকার। এটা দান খয়রাতের বিষয় নয়, এটা কেবল উদারতার ব্যাপার নয়, এটা কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়। যদি আমরা শিক্ষাকে পণ্য করে তুলি, তাহলে সবচেয়ে ভালো মানের শিক্ষা কিনবে উচ্চ মধ্যবিত্তরা, আর যদি দয়ার ব্যাপার মনে করি, তাহলে জনগণ নিুমানের শিক্ষা পাবে। শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের, অন্য কারও নয়। মালালা ও কৈলাস উভয়ই শিশু ও মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাদের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন।
বাংলাদেশের অগণিত শিশু তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিশুদের জন্য আজও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি। ইদানীং বিদ্যালয়ের ভূমি দখল, প্রভাবশালীদের নানা কর্মকাণ্ড স্কুলের পরিবেশ বিনষ্ট করছে। বহু শিশু খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করছে। শিশু শিক্ষাক্ষেত্রে এ অবস্থার শিগগির অবসান হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমাদের আশাবাদী করে। আমরা যেন সব শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তাদের জন্য সুখী ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।
মো. সিদ্দিকুর রহমান : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি

সংকট গোড়ায়, উপরে নয় by ফরহাদ মজহার

রাজনীতির উপর তলায় আমরা যে সংকট দেখি তার গোড়ার উপরে না, গোড়াতেই। অতএব গোড়া ধরে কথা না বললে আমাদের সামনে রাজনৈতিক ইস্যুটা ঠিক কী, সেটা বোঝানো কঠিন। কিন্তু আলোচনাটা উপরের ঘটনাঘটন থেকেই শুরু করা দরকার হয়ে পড়ে। নইলে সাধারণ পাঠকরা এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী হয় না।
রাজনৈতিক তর্কাতর্কির গোড়ায় না গিয়ে সামাজিক আলোচনা-সমালোচনা ভাসাভাসা রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করছে প্রধানত গণমাধ্যমই। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রধান। এই পরিস্থিতিতে পত্রিকায় মন্তব্যমূলক লেখা সংকটের চরিত্র ধরতে কিংবা বোঝাতে পারে না। সংকট আরও গাঢ় হতে থাকে।
ধরুন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কথা। আচ্ছা, আমরা কী দাবি কিংবা কী নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কথাটা তো হাওয়াই কিছু না। সেই চেতনাটা কী ছিল? আমাদের নিজ নিজ মনগড়া চেতনার কেচ্ছার কথা বলছি না। স্বাধীনতার অর্থ ক্ষমতা, শ্রেণী বা লিঙ্গভেদে সমাজে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন রকম হতে পারে। কার চেতনা সহি, কার চেতনা ভুল সেসব তর্কও এখানে তুলছি না। স্বাধীনতার যুদ্ধ করতে হলে কারা কার বিরুদ্ধে কিসের যুদ্ধ করছে তার একটা ঘোষণা থাকে। এমন এক ঘোষণা যার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও গাঠনিক (constituent power) শক্তির আবির্ভাব ঘোষণা করে। স্বাধীনতা ঘোষণার রাজনৈতিক দিক আমরা বুঝতে পারি, কিন্তু গাঠনিক শক্তি কথাটা বুঝি না। কারণ শেষের দিকটি নিয়ে আমাদের সমাজে আদৌ আলোচনা হয়েছে, আমার চোখে পড়েনি। একদমই আলোচনা হয়নি এবং হয়ও না। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের গোড়া বুঝতে হলে প্রাথমিকভাবে হলেও ধারণাটি সম্পর্কে পরিচয় দরকার।
প্রথমেই বুঝতে হবে স্বাধীনতার ঘোষণা কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যাপার নয়, আমরা রাজরাজড়াদের ইতিহাস নিয়ে লিখতে বসিনি, এটা জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ঘোষণা। আমরা এখানে পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে বসিনি। যেসব ঘোষণার কথা শুনি, সেখানে ব্যক্তির মহিমা বা ভূমিকার গৌরবকে অস্বীকার করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর আবির্ভাব ও রাষ্ট্র গঠনের দিক থেকে সেসব ঘোষণা বিশেষ গৌণ, অনেক সময় অর্থহীনও বটে। কারণ তখনও রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের গাঠনিক শক্তির আবির্ভাব ঘটেনি, যা অনিবার্যভাবেই একটি রাষ্ট্র গঠনের দিকে ধাবিত হয়। স্বাধীনতার ঘোষণা একই সঙ্গে আসন্ন রাষ্ট্রের ভিত্তির কথাও ঘোষণা করে। গাঠনিক ক্ষমতা ধারণ করেনি বলে বাংলাদেশের সত্যিকারের স্বাধীনতার ঘোষণার আগের সব ঘোষণাকে আমরা জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত নিদর্শন গণ্য করলেও তার মধ্যে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনিবার্য আবির্ভাবের উপাদান খুঁজে পাই না, যার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে, কিংবা যার ভিত্তিতে নতুন কোনো রাষ্ট্র জনগণ গঠন করতে পারে। গাঠনিক শক্তি সংবলিত ঘোষণা বিশেষ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে, এই ভাষা নিছকই সাহিত্য বা আবেগের ভাষা নয়।
স্বাধীনতার ঘোষণার দুটি দিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক. রাজনৈতিক দিক এবং দুই. গঠনতান্ত্রিক বা আইনি দিক (constitutional)। ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদি এই দুয়ের মধ্যে হাজির থাকে, কিন্তু ধর্ম, সংস্কৃতি বা ইতিহাস হিসেবে নয়- অথচ রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি উপাদান হিসেবে। সেটা কেমন, সেই বিষয়েই আজ আলোচনা।
গাঠনিক শক্তি এক কথায় ক্ষমতা। যে কোনো সংঘ, দল বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা আমরা তো হরহামেশাই দেখছি। রাজনৈতিকভাবে নিজেদের এক মনে করে, এ রকম একটি জনগোষ্ঠীর ক্ষমতাই তার গাঠনিক ক্ষমতা। যে ক্ষমতার দ্বারা তারা শত্র“র বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, নিজেদের রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করে। তাদের গোষ্ঠীর অন্তর্গত সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ইত্যাদি। গাঠনিক শক্তি রাষ্ট্রের গঠনতান্ত্রিক (constitutional) প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
দুই
বাংলাদেশের কনস্টিটিউশনের অনুবাদ করা হয়েছে সংবিধান- অর্থাৎ যা বিধান বা আইন সংক্রান্ত ব্যাপার। কিন্তু কনস্টিটিউশন তো শুধু আইন নয়- এটা সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস, শক্তি, গাঠনিক ভিত্তি, কাঠামো, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি নানা কিছুর সঙ্গে জড়িত। ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা ধারণ করেন এবং ঔপনিবেশিক ব্রিটেনকেই আদর্শ মনে করেন এমন আইনজীবীরাই বাংলাদেশের সংবিধানের মুসাবিদা করেছেন। তাই তারা ঔপনিবেশিক চিন্তা মাথায় রেখেই সংবিধান লিখেছেন। ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে কনস্টিটিউশন কথাটার কোনো মানে নেই। কারণ পরাধীন জাতি তাদের জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের শাসনের জন্য দরকার শাসনতন্ত্র। অর্থাৎ দরকার পরাধীন জনগোষ্ঠীকে শাসন করার একটি বিধান বা আইন। বাংলাদেশের সংবিধান এ ধরনের ঔপনিবেশিক চিন্তার দ্বারা দুষ্ট। এ ঔপনিবেশিক চিন্তা থেকেই কনস্টিটিউশনের অনুবাদ সংবিধান নিছকই বিধান বা আইন, যার দ্বারা পরাধীন জনগোষ্ঠীকে শাসন করা হয়। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে নিছকই আইনি সত্তা। তার অধিক কিছু নয়। এর সঙ্গে সংস্কৃতি, ইতিহাস, ক্ষমতা ইত্যাদির সম্পর্ক ক্ষীণ বা অতিশয় দূরবর্তী।
সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্যবোধ গাঠনিক শক্তি (constituent power) পরিগঠনের পশ্চাৎকারণ, কিন্তু যথেষ্ট কারণ নয়। ষাট দশকের পর থেকে আমাদের উপলব্ধি ঘটতে শুরু করে যে, আমরা সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা। কিন্তু আলাদাবোধ আমাদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভাবের ন্যায্যতা দেয় না। পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে আমাদের স্বাতন্ত্র্য এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের মীমাংসা করা গেলে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশের আলাদা আত্মপ্রকাশের প্রয়োজনীয়তা থাকত কিনা সন্দেহ। রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের উপলব্ধি শুধু সাংস্কৃতিক বা ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্যবোধ নয়, একই সঙ্গে গাঠনিক ক্ষমতার উপলব্ধিও বটে। গাঠনিক ক্ষমতাই রাষ্ট্র গঠনের ন্যায্যতা দান করে। এটা সহজেই বোঝা যায়। যতই আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উপলব্ধি থাকুক, যদি সেই উপলব্ধিকে আমরা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে গঠনের দিকে নিয়ে যাওয়ার হিম্মত না রাখতাম, তাহলে আজ আমরা যেখানে আছি সেখানে এসে হাজির হতে পারতাম কিনা সন্দেহ।
গাঠনিক শক্তি তাহলে গঠনতন্ত্র ও রাষ্ট্র বিচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা কতটা বাঙালি, কত পারসেন্ট মুসলমান এই তর্কের চেয়ে আলাদা। আপনি বাঙালি? হ্যাঁ। অবশ্যই। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আপনার বিচ্ছেদ্য অধিকার আপনি রক্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আপনাকে নিয়ে বিশ্ব গর্ব করে। আপনি কি মুসলমান? নিশ্চয়ই। এটা আমার ধর্ম বা বিশ্বাস শুধু না, এটা আমার ইতিহাস। কারণ কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর থেকে জমিহারা যে কৃষক ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছে আমিই সেই জনগোষ্ঠী। আমি পাকিস্তান চেয়েছি, পাকিস্তান কায়েমের জন্য লড়েছি। স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানে জমিদারি ব্যবস্থা রদ হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার ইতিহাসের এক পর্ব শেষ হয়েছে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমি আরেকটি বিশ্ব-ঐতিহাসিক পর্বে প্রবেশ করেছি। ইনশাআল্লাহ্?, এই যুদ্ধেও আমি জিতব। আপনি কি হিন্দু? নিশ্চয়ই, আমার হাজার বছরের সনাতন লোকায়ত সংস্কৃতি আর বিশ্বাস, আমি তা নানাভাবে আমার সংস্কৃতিকে ধারণ করি। তাছাড়া সিন্ধু নদের এদিকে যারা বাস করে, ধর্ম কিংবা নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয় নির্বিশেষে তারা তো সবাই হিন্দু। আপনি কি বৌদ্ধ বা জৈন? আরে, নইলে আমার বিবর্তন বুঝবেন কী করে? কিংবা আমার ভাবচর্চা ও ভাবান্দোলন? আপনি কি চাকমা, সাঁওতাল, মান্দি, রাজবংশী, ম্রং বা অন্য কোনো ক্ষুদ্র জাতিসত্তা? আলবৎ। আমরা অনেক জাতি অনেক ভাষা বিচিত্র আমাদের সংস্কৃতি? আচ্ছা, বুঝলাম। এই বিচিত্র ও বিভিন্ন নৃ-তত্ত্ব, ভূগোল, ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে আপনি বা আপনারা বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে আছেন।
কিন্তু আপনারা কি একই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? এখানে একটু থমকে দাঁড়ানো যাক। কী? রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী? হ্যাঁ, প্রশ্নটা এখানেই। সেই কথাই বলছিলাম। আপনি বাঙালি, না অবাঙালি, মান্দি নাকি মুসলমান তার বিচার তো আছেই। মূল প্রশ্ন হচ্ছে, আপনারা সবাই মিলে কি একই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত? নাকি আলাদা আলাদা? আপনি কি নিজেকে শুধু মুসলমান বা হিন্দু ভাবেন? নাকি আপনি আমি কে, তুমি কে বাঙালি বাঙালি বলে নিজেদের হাতে মিডিয়া আছে বলে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তোলেন? কে আপনি? কে আপনারা? কী আপনাদের রাজনৈতিক পরিচয়? প্রশ্নটা এখানেই। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে ভাবা, উপলব্ধি করা এবং সেই মোতাবেক গাঠনিক শক্তি গড়ে তোলার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত, আশা করি তা খানিকটা বোঝাতে পেরেছি।
আমরা কি আসলে একই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত। এটা তত্ত্ব করে বলা বা এখানে কলাম লিখে প্রমাণের বিষয় নয়। আমরা নিজেদের নিজেরাই প্রশ্ন করতে পারি। আসলেই আমি কে? কে আমি? কী চাই? কীভাবে চাই? এই বিশ্বসভায় টিকে থাকতে হলে আমার চাওয়া কেমন হওয়া উচিত যাতে ষোলো কোটি মানুষ নিয়ে আমি পরাক্রমে উঠে দাঁড়াতে পারি। আমার হুংকারে রয়েল বেঙ্গল টাইগার অন্তত প্রজাতি হিসেবে বিলুপ্ত হওয়ার আগে বুঝতে পারবে এ দেশে একদা বাঘ বাস করত।
একাত্তরে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমরা একই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত। এই অভিন্নতাই আমাদের পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছে। এ ঐক্যই আমাদের গাঠনিক শক্তি। এই শক্তির জোরেই আমরা যুদ্ধ করেছি। তারাই আমাদের শত্রু যারা একাত্তরে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে আমাদের এই গঠনকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তারাই মিত্র যারা আমাদের গাঠনিক শক্তিকে স্বীকার করেছে এবং শত্র“র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকে ন্যায্য মনে করেছে। গাঠনিক শক্তির বিচার ছাড়া বাংলাদেশ কীভাবে রাষ্ট্র হল, কিংবা রাষ্ট্র হিসেবে আদৌ কোনো ন্যায্য প্রতিষ্ঠান কি-না সেই বিচার অসম্ভব। এই বিচারের সঙ্গে আমরা কে কতটা বাঙালি কিংবা কে কতটা মুসলমান তার কোনো সম্পর্ক নাই। আমরা একসঙ্গে দুটিই হতে পারি। কিংবা দাবি করতে পারি নৃতাত্ত্বিক দিক থেকে আমরা মুণ্ডা, সাঁওতাল কিংবা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীরই। কিংবা হতে পারে আমাদের অনেকের পূর্বপুরুষ আবিসিনিয়া, সিরিয়া, ইরাক বা ইয়েমেন থেকে এসেছে। আপনি যা খুশি তা হন, কেউই আপনাকে কামড়াতে যাবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, একাত্তরে যে গাঠনিক শক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল, আপনি তা ন্যায্য ভেবে সমর্থন করেন কি-না। সেই আবির্ভাবের একটা ঘোষিত দলিল আছে। আপনি কি তা মানেন? নাকি মানেন না? প্রশ্ন ঠিক এখানেই।
গাঠনিক শক্তির আবির্ভাবের ঘোষণা সংবলিত দলিলের কথাই বলছি। যদি থাকে, তাহলে হাওয়াই তর্ক করে লাভ নাই। দলিলে কী ছিল এবং দলিলের ন্যায্যতা দলিল নিজে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল কি-না, করলে কীভাবে- ইত্যাদি আলোচনা হতে পারে। সে সবই বিচারের অধীনে আনার কথা বলছি।
তাহলে মুক্তিযুদ্ধের দলিল কী? এটা একটি গুরুতর প্রশ্ন। এমন কোনো দলিল ছিল কি? ছিল। স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধটা শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে। এভাবেই হয়। কিন্তু তার আগে? তার আগে কি কেউ স্বাধীনতার কথা বলেনি? বলেছিল। কিন্তু আমরা যে অর্থে এখন স্বাধীনতার ঘোষণা কথাটা বলছি, সেই অর্থে নয়। সেটা স্বাধীনতার ঘোষণার দলিল হয়ে ওঠেনি। কেন? কারণ সেটাই স্বাধীনতার ঘোষণা, যার মধ্যে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর আবির্ভাবের ঘোষণা থাকে এবং সে হাজির হয় শত্রুর বিরুদ্ধে নিজের ক্ষমতা বা হিম্মতের চ্যালেঞ্জ দিয়ে। শুধু তাই নয়, নতুন রাষ্ট্রের গঠন অর্থাৎ স্বাধীনতার ঘোষণা একই সঙ্গে গাঠনিক শক্তির আবির্ভাবের ঘোষণা। যার দ্বারা শত্র“-মিত্র নির্ধারিত হয়ে যায়। তাহলে সেসব ঘোষণা স্বাধীনতার ঘোষণা হতে পারে না। সেসব ঘোষণার ডাকে জনগণের আবেগি সাড়া মিললেও না। কারণ সেটাই গাঠনিক শক্তি, যা একই সঙ্গে রাষ্ট্র গঠনের আগাম ঘোষণা হিসেবে হাজির হয়, নিছক আবেগ প্রকাশের জন্য নয়। শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন বলে যে দাবি উঠেছে এবং আদালত যে ঘোষণা মান্য করতে আমাদের বলছে, তা নিয়ে তর্ক থাকলেও সেটা গাঠনিক শক্তির আবির্ভাবও নয়, রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণাও নয়। শেখ মুজিব তখনও পাকিস্তানের গঠন কাঠামোর বাইরে যাননি। পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যেই তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যার সমাধান চাইছিলেন। জিয়াউর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন বলে একটা দাবি আছে। কিন্তু আমরা যে অর্থে এখানে গাঠনিক শক্তির আবির্ভাব ও তার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে রাষ্ট্র গঠনের কথা বলছি, জিয়াউর রহমানের ঘোষণাও তার মধ্যে পড়ে না। স্বাধীনতার ঘোষণার দলিলের কথা বলছি, জিয়াউর রহমানের ঘোষণা সেই প্রকার দলিলের পর্যায়ে পড়ে না। ঠিক যে কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের যে বক্তৃতাকে স্বাধীনতার ঘোষণা বলা হয়, তাকেও আমরা স্বাধীনতার ঘোষণা বলতে পারি না।
তিন
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সেটাই যেখানে বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি কি এই ঘোষণা দিয়েছিল? না। কারা দিয়েছিল? আমরা। গঠনতান্ত্রিক বা আইনি ভাষায় যাকে বলা হয় we the elected representative of the people of Bangladesh... বা আমরা বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ...। এখানে ফাঁকি আছে, আমরা বাংলাদেশের জনগণ... বলা হয়নি, বলা হয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ...। কিন্তু সেই নির্বাচন তো বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের নির্বাচন ছিল না, ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের নির্বাচন। যারা নির্বাচিত করেছিলেন, তারা ছিলেন পাকিস্তানের নাগরিক। বাংলাদেশের আবির্ভাব তখন ঘটেনি। পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ তাদের নির্বাচিত করেছিলেন। ফলে তারা বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধি ছিলেন না, ছিলেন পাকিস্তানের নাগরিকদের প্রতিনিধি। বিসমিল্লায় একটা বড়সড় গলদ ঘটে গিয়েছিল। যে কারণে স্বাধীনতার ঘোষণায় এই গাঠনিক শক্তির ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিস্তর বাড়তি কথা খরচ করতে হয়েছে। কিন্তু প্রসঙ্গ পাকিস্তানের বাইরে নয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের গোড়ার গলদ এখানে।
ইতিহাসের সত্য হচ্ছে, এ ঘোষণার অধীনেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। একে নস্যাৎ করে পাল্টা কোনো ঘোষণা দাঁড়ায়নি। সেটা হতো কি-না আমরা এখন জানি না। কারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার নয় মাসের মধ্যেই দিল্লির হস্তক্ষেপে যুদ্ধ শেষ হয়েছে। দিল্লি এখন দাবি করে তারাই বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়েছে। যে গাঠনিক শক্তির ক্ষণিক আবির্ভাব আমরা একাত্তরে দেখেছিলাম, সেটা দিল্লির শক্তি, উই দ্য পিপল অব বাংলাদেশ বা আমরা বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের নিজেরা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে গঠন করছি এবং আমাদের শক্তি বা হিম্মত নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি- এ কথা আমরা বলতে পারিনি। এখনও না।
রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ গঠন করার এটা দ্বিতীয় গলদ।
কিন্তু নতুন রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে যে তিনটি নীতি স্বাধীনতার ঘোষণায় সন্নিবেশিত হয়েছে তার তাৎপর্য অস্বীকার করার উপায় নাই। সেই তিনটি নীতি হচ্ছে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। রাষ্ট্র গঠন করার যে অঙ্গীকার নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা তার ভিত্তি এগুলো। এই তিন নীতি বা আদর্শ- আবারও বলি- হচ্ছে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার।
তাহলে কেউ যদি প্রশ্ন করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী? এর স্পষ্ট উত্তর : সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। এই তিনটি নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্যই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতার ঘোষণা তো তা-ই বলে। এর বাইরে স্বাধীনতার অন্য কোনো দলিল নাই।
কিন্তু আমরা তো সারাক্ষণ ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের কথা শুনি। ঠিক। কিন্তু এসব আওয়ামী লীগের দাবি। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি। ইসলামী দলগুলো ইসলাম কায়েমের দাবি করে। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের দাবি করে। সবারই রাজনীতির অধিকার আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মসূচি বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি-উপাদান নয়। এর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা স্বাধীনতা যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নাই। এটা পরিষ্কার থাকা দরকার। আওয়ামী লীগসহ সবার কাছেই।
আওয়ামী লীগ যা বলে, ইতিহাস বরং তার উল্টো। যারা আওয়ামী কর্মসূচীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে দাবি করে, তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতা করে। প্রমাণ ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণা। এটাই স্বাধীনতার দলিল। এর ভিত্তিতেই যুদ্ধ হয়েছিল।
ইতিহাসের এসব সত্য সম্পর্কে সচেতন না হয়ে রাজনীতির ওপর তলার কেচ্ছা-কাহিনী আমাদের কোনো কাজে আসবে না। সমস্যা গোড়ায়। গোড়া সাফ করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই।
একাত্তরে যে গাঠনিক ক্ষমতার ক্ষণিক আবির্ভাব আমরা দেখেছিলাম, তাকে পুনরুদ্ধার সোজা কাজ নয়। সেটা এখন অনেক কঠিন। এটাও ভাবা দরকার, স্বাধীনতার এই তিন নীতির ভিত্তিতে আমাদের আবার এক হয়ে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা আছে কি-না। নাকি পুরনো যুদ্ধ সম্পূর্ণ করা ছাড়া রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাব এখন অসম্ভব হয়ে গিয়েছে।
আগামী দিনের রাজনীতিই সেটা বলে দেবে।