Sunday, May 6, 2018

কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অধ্যাপকসহ নিহত দশ



জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গেরিলাসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক অধ্যাপকসহ পাঁচ গেরিলা ও পাঁচ বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছে।
সংঘর্ষে সামরিক বাহিনীর দুই সদস্য-সহ এক ডজনেরও বেশি বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দ্রুত শ্রীনগরের বাদামীবাগ সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ (রোববার) দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ান জেলায় বাডিগাম জৈনপোরায় ওই সংঘর্ষ হয়। জম্মু-কাশ্মির পুলিশের মহাপরিচালক এস পি বৈদ ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৫ সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মির পুলিশ সদস্যদের বাহবা দিয়েছেন।
এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী ও গেরিলাদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই প্রতিবাদী যুবক নিহত হয়েছেন।
আজ সকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ও গেরিলাদের মধ্যে তুমুল বন্দুক যুদ্ধ হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের পর ৫ গেরিলা নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রফি ভাটসহ অন্যরা রয়েছেন। কয়েকদিন আগেই সমাজবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ রফি ভাট গেরিলা দলে যোগ দিয়েছিলেন। গত (শুক্রবার) বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে গেরিলাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও তারা ওই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিবাদী জনতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
কাশ্মিরে গেরিলাদের নির্মূলের জন্য সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে অপারেশন অলআউট চালানো হচ্ছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৫৯ গেরিলা সংঘর্ষে নিহত হয়েছে।
এদিকে, কাশ্মিরে এক অধ্যাপকসহ ৫ গেরিলা ও ৫ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়া প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার আজ  (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু অধ্যাপক, বহু ছাত্র তারা ভালো প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ভগৎ সিং, আশফাক উল্লাহ খান, সূর্য সেনের কথা ভাবলেই বোঝা যাবে। আসলে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কোনো অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাপকাঠি দিয়ে মাপা যায় না। আমি স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই –এই দাবিকে কোনো অর্থনৈতিক দাবি, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বা প্রকৃত উন্নয়ন ঘটিয়েও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, দাবি মেটানো সম্ভব নয়। এটা কোনোদিনই সম্ভব নয়। কাশ্মিরের মানুষ স্বাধীনতা চায় এবং সেই স্বাধীনতাকে তারা যেকোনো মূল্যে চায়- এটা তাদের দাবি। কারো কাছে  তারা সন্ত্রাসবাদী মনে হতে পারে। যেমন ভগৎ সিংহরা ব্রিটিশদের কাছে সন্ত্রাসবাদী ছিল। কিন্তু ভগৎ সিং কী সন্ত্রাসবাদী? সূর্য সেন কী ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদী?  মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমরা মনে করি, মানবাধিকারের ঘোষণা হল- আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। যেকোনো মানুষের, যেকোনো জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার চাওয়া মানবাধিকার সম্মত দাবি। এরমধ্যে কোনো অন্যায় বা ভুল আমরা মানবাধিকার কর্মীরা দেখি না।’

তকদিরে কপাল পুড়লো বহু তরুণীর by ওয়েছ খছরু

হঠাৎ হঠাৎ মেয়েদের কান্নার শব্দ আসতো ভেতর থেকে। বাইরের মানুষ এটি জানতেন। ভেতরে নির্যাতত হচ্ছে কোনো তরুণী কিংবা অসহায় নারী। সেটি অনুধাবন করতে পারতেন অনেকেই। প্রতিবাদ করতে পারতেন না। পুলিশের সোর্সরা প্রায় সময় আড্ডা দিতো হোটেলের বাইরে। হোটেল তকদিরে কত রমণীর তকদির ভেঙেছে সেই পরিসংখ্যান জানা নেই কারও। তবে ওই হোটেল সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে সম্ভ্রম হারিয়ে সুপথ হারিয়েছেন অনেক নারী। চিরদিনের মতো ভিন্ন পথে হারিয়ে গেছেন তারা। সিলেট নগরীর ক্বিন ব্রিজ নেমে বাম দিকে মোড় নিলেই চোখে পড়বে হোটেল তকদির। চাঁদনীঘাট এলাকায় এই হোটেলের অবস্থান। প্রাচীন হোটেল। স্বাধীনতা উত্তর সময় থেকে এই হোটেল ব্যবসা করছে। এ কারণে পুরাতন হোটেল হিসেবে সেটি পরিচিত। তিনতলা বিশিষ্ট ওই হোটেলের দিকে বাঁকা চোখ এলাকাবাসীর।
সম্প্রতি সময়ে ওই হোটেলে এক তরুণীকে ১১ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওই তরুণীর প্রেমিকই নয়, খদ্দেরকে মনোরঞ্জনে ছুড়ে দেয়া হয়েছে বিছানায়। বিষয়টি এতই মর্মান্তিক যে- ওই তরুণীর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা যারাই শুনেছেন তারাই আঁৎকে উঠেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি পুলিশের জন্য। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ওই হোটেলের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে। হোটেলের কক্ষে তরুণীকে আটক রেখে গণধর্ষণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় বইছে দক্ষিণ সুরমায়। হোটেল আল তকদিরের মালিক এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ওই হোটেলে প্রায়ই মেয়েদের কান্নার আওয়াজ শোনা যেত। তাছাড়া প্রায়ই আল তকদির হোটেলের মূল গেইট বন্ধ থাকতো। হোটেলের মালিক বা কর্মচারীদের পরিচিতজন না হলে গেট খোলা হতো না। দীর্ঘদিন থেকে এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছিল। হোটেলের বর্তমান পরিচালক ধর্ষণের অভিযোগে আটক সৈয়দ নিয়াজ উদ্দিন দক্ষিণ সুরমার মোগলা বাজার থানার কুচাই মাঝপাড়ার বাসিন্দা। হোটেল ব্যবসার আগে সে এলাকায় মোরগ বিক্রি করতো। তার চাচার মৃত্যুর পর নিয়াজ হোটেলের দখল নেয়।
এরপর থেকেই  হোটেলটি অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আস্তানা হয়ে ওঠে। সে নিজেও এর সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। হোটেল আল তকদিরে গ্রাম থেকে শহরে এনে তরুণীকে গণধর্ষণ করার অভিযোগের পর থেকে বেরিয়ে আসছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। এক তরুণীকে ১১ দিন আটক রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠে গত বৃহস্পতিবার। এ নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দক্ষিণ সুরমার হোটেল আল-তকদির থেকে কথিত প্রেমিক জসিম ও হোটেল মালিক নিয়াজ-সহ দুই জনকে আটক করে পুলিশ। এ বিষয়ে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০শে এপ্রিল থেকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমার হোটেল আল তকদিরে রেখে পাশবিক নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। হোটেল আল তকদিরের মালিক ও স্টাফসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। আসামিরা হচ্ছে, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের জসিম উদ্দিন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চাঁদনীঘাটস্থ হোটেল আল তকদিরের  মালিক সৈয়দ নিয়াজ আহমদ, একই হোটেলের স্টাফ জাকির ও নূর মিয়া। পুলিশ জানায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তরুণীর (১৯) সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেম হয় জসিম উদ্দিনের। জসিম প্রেম প্রতারণা ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২০শে এপ্রিল ওই তরুণীকে হোটেল আল তকদিরে ওঠায়।
এখানে তাকে দীর্ঘ ১১ দিন বন্দী রেখে  জসিম ও তার সহযোগীরা তাকে গণধর্ষণ করে। এমনকি ভাড়া দিয়ে খদ্দেরকে দিয়ে ধর্ষণ করায়। পাশাপাশি ওই তরুণীর  জন্ম সনদ, পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। গত ৩০শে এপ্রিল কৌশলে হোটেল থেকে বের হয়ে ওই তরুণী তার পরিচিত এক বান্ধবীর আশ্রয়ে গিয়ে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুরমা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ধর্ষকদের সিলেট মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করে। আদালতের বিচারক তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, গণধর্ষণ মামলায় আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া ধর্ষিত তরুণী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।

এইসব অসভ্যতা বন্ধ হবে কবে? by মরিয়ম চম্পা

চলন্ত বাসে উঠার জন্য লড়াই চলছে। কেউ উঠতে পারছেন। কেউ পারছেন না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে নারীরা। ভিড় ঠেলে বাসের কাছে পৌঁছানোই দায়। ধাক্কাধাক্কির ভোগান্তি। বাসের হেলপারের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ। রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রায় একইরকম দৃশ্যের দেখা মেলে রাজধানীর ফার্মগেট, বাংলামোটর, ধানমন্ডি ও শাহ্‌বাগে।
অবশ্য এ চিত্র রোজকার দেখা যায়। দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। এই হয়রানি। খোদ রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে নারীদের রাস্তায় বের হতে হয়। কেউ কর্মজীবী, কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা নিজের আদরের সন্তানটিকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত এসব নারীর বড় অংশকেই কোনো না কোনো হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। এসব অঘটনগুলো ভেঙেচুরে দেয় নারীর মনোজগৎ। তছনছ করে দেয় নারীর আত্মবিশ্বাসকে। নানা মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন অনেকে।
নারীদের রাস্তাঘাটে চলাচল যেন এক ধরনের যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের কথা অনেকটা আক্ষেপ করে শোনালেন একাধিক নারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মিথিলা। মোহাম্মদপুর থেকে নিয়মিত ধানমন্ডি আসা-যাওয়া করেন তিনি। মিথিলা বলেন, বাসে উঠতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়। ভিড় ঠেলে বাসে উঠা খুবই কষ্টকর। হেলপারদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণতো আছেই। ওরা বাসে উঠতে সাহায্য করার নামে পিঠে হাত দেয়। নিষেধ করলেও শোনে না। বলে না ধরলে পইরা গেলেতো দোষ দিবেন হেলপার আর ড্রাইভারের।
বাসে উঠার পর বসার আসন পাওয়া যায় না বেশির ভাগ দিন। মিনিবাসে তিন চারটি এবং বড় বাসে নয়টি সংরক্ষিত আসন থাকলেও পুরুষ যাত্রীরা ওইসব আসনে বসে থাকেন। আর উঠতে বললে বলেন, সমান অধিকার চাইলে দাঁড়িয়ে চলাফেরা করতে শিখুন। তিনি বলেন, কখনোও কখনোও বাসে ভিড় থাকলে হেলপাররা সিট খালি নেই বলে তুলতে চায় না। তাদের ধারণা নারী যাত্রীরা বাসে উঠতে-নামতে সময় বেশি নেয়। দাঁড়িয়ে যেতে বেশি জায়গা লাগে। সন্ধ্যার পর বাসে উঠা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
ফার্মগেট তেজতুরী বাজারের একটি ছাত্রী হোস্টেলে বাস করা নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি কোচিং উপলক্ষে প্রথম হোস্টেলে উঠি। প্রথমদিকে কোচিং ক্লাস করতে যাওয়ার সময় হোস্টেলের গেটে ৫-৬ জন কম বয়সী ছেলে পথ আটকে বসে থাকতো। অনেক কষ্টে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে কোচিং এর গেট পর্যন্ত পৌঁছতে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হতো ফুটপাতের হকার ও পথচারীদের দ্বারা। প্রথম একবছর ফার্মগেটের ওভারব্রিজের নিচ দিয়ে যেতে কেটেছে অপরিচিত ব্যক্তিদের ধাক্কা ও কটূক্তি শুনে। কখন যে শরীরে ধাক্কা দিয়ে অবুঝের মতো চলে যেতেন বুঝতেই পারতাম না। প্রায়সই হোস্টেলে ফিরে অনেক কান্না করতাম। মনে হতো পুরো শরীরটাই যেন নোংরা হয়ে গেছে। যেখানে ধাক্কা খেতাম সেই স্থানটা পানি দিয়ে বারবার ধুয়েও যেন স্বস্তি পেতাম না। এরপরই স্থির করতাম এই শহরেই থাকবো না। রাগে দুঃখে বাবাকে ফোন দিয়ে বলতাম বাবা আমি এখানে থাকতে চাই না। আমাকে এসে নিয়ে যাও। আমি ঢাকাতে আর পড়বো না। বাবা বলতেন মামনি, পরিবেশ পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনাটাও একধরনের পরীক্ষা। একপর্যায়ে মোটা ও শক্ত মলাটের একধরনের ব্যাংকের ডায়রি ব্যবহার করা শুরু করি। ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় যেভাবে বুকের সামনে বই আগলে রাখতাম ঠিক একই ভাবে ডায়রি ব্যবহার শুরু করি। যেন কোনো অপরিচিত পথচারী ধাক্কা দিলে বরং সে নিজেই ব্যথা পায়। এভাবে আরও কতোদিন শক্ত মলাটের ডায়রি ব্যবহার করতে হবে জানি না।    
নারী অধিকারকর্মী কাশফিয়া ফিরোজ বলেন, ২০১৪ সালে একটি ‘বেইজ লাইন সার্ভে’ করা হয়। ২০১৭ সালে ‘নারীর সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা’- শিরোনামে বেসরকারি সংস্থা একশন এইড-এর প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায় হয়রানির নানা চিত্র। নগর উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প নকশা ও বাস্তবায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যাস্বল্পতার কারণে নারীবান্ধব নগর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এর ফলে রাস্তাঘাট, ফুটপাত, মার্কেট, পরিবহন ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট, পার্ক ইত্যাদি গণপরিসরে নারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি ও বিচরণ যথেষ্ট সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। আরো হতাশার দিক হলো- একজন নারী কিন্তু একাধিকবার একাধিক ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। যেমন গড়ে একজন নারী তিন মাসে ৪ থেকে ৫ বার অশোভন আচরণের সম্মুখীন হয়েছেন, একইভাবে ৪ থেকে ৫ বার অপরিচিতের কাছ থেকে কুপ্রস্তাব পেয়েছেন। এবং ২ থেকে ৩ বার অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের মতো হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন। যৌন হয়রানি বা নির্যাতন কোনো বিশেষ বয়সের নারীর ক্ষেত্রেই ঘটে না। কিশোরী বা প্রাপ্ত বয়স্ক সব বয়সের নারীর ক্ষেত্রেই এটা ঘটতে পারে।
সুমাইয়া খাতুন সুমী। পেশায় একজন ব্যাংকার। থাকেন পল্টনে। চাকরি করেন গাবতলীর একটি ব্যাংকে। পল্টন বাসস্ট্যান্ড থেকে ওয়েলকাম নইলে অন্য বাসে চড়ে গাবতলী যান। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নেমে নিরাপদ রাস্তা পারাপারের জন্য তিনি গাবতলীর আন্ডারপাস ব্যবহার করতেন। কিন্তু অপর্যাপ্ত আলো এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি তা ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন।
সুমাইয়া খাতুন বলেন, পর্যাপ্ত আলো না থাকায় গাবতলী আন্ডারপাসের ভেতরে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেশি। একদিন আন্ডারপাস দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি সেখানে বসে নেশা করছিল। তারা তাকে উদ্দেশ্য করে খারাপ কথা বলে। আন্ডারপাসের ভেতরে পরিবেশ ভালো না হওয়ার কারণে মেয়েরা এই আন্ডারপাস ব্যবহারও কম করে। এরপর থেকে তিনিও আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাবতলীর আন্ডারপাস ব্যবহার করেন না। ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পারাপার হন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়নে নারীর চাহিদা এবং আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় আসে না। এর কারণ নগর উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প নকশা ও বাস্তবায়নে নারীর অংশগ্রহণ কম। ফলে নারীবান্ধব নগর কাঠামো তৈরি হয়নি।
ঢাকা শহরে নারীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া দরকার এ প্রসঙ্গে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবীর বলেন, দেশে জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ এখনও গড়ে ওঠেনি। স্কুল-কলেজের মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়ার জন্য কোনো পাবলিক গাড়ি নেই। স্কুলে স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য বাথরুমের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বাথরুম নোংরা হওয়ার কারণে মেয়েরা তা ব্যবহার করা এড়িয়ে যায়। গার্মেন্টস কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ফুটপাতে যে সব নারী, মেয়ে, শিশু অবস্থান করেন তাদের পাবলিক টয়লেট নেই। এর ফলে ইউরিন ইনফেকশনে  ভোগেন তারা।
সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ঘরে নারী যেমন সুরক্ষা পাবে, তেমনি নারী ঘরের বাইরে সুরক্ষা পাবে। তাদের কেন্দ্রে রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। যেমন- কর্মস্থল, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে নারী যাবেন তার যাতায়াতের নিরাপত্তার জন্য রাস্তাঘাট, ফুটপাত, পরিবহন কতখানি নিরাপদ। এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে। নারীর চলাচলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট- রিকশা, বাস, টেম্পো, সিএনজি। সিএনজি, বেবিট্যাক্সি মেয়েদের চলাচলের জন্য কতটা নিরাপদ তা ট্রাফিক পুলিশকে দেখতে হবে। বাসে ড্রাইভার, হেলপার মেয়ে যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে কিনা তাও ট্রাফিক পুলিশেরই দেখার দায়িত্ব। এ ছাড়া মেয়েদের জন্য আলাদা বাসের পরিমাণ বাড়ানো দরকার। নইলে সাধারণ বাসে মেয়েদের আগে ওঠার ব্যবস্থা করা এবং তাদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ কমানোর দায়িত্ব পরিবহন ম্যানেজমেন্টের।
ব্র্যাক-এর জেন্ডার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নিশাত সুলতানা বলেন, সম্প্রতি আমরা ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনা মুক্ত সড়ক’- শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। যেখানে দেখা গেছে গণপরিবহনে শতকরা ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন।
ব্র্যাক’র সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসেইন বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতার অংশ হিসেবে আমরা গাজীপুর, টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেপাশের ১০০ টি স্কুলে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। এসব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা ও যৌন হয়রানি সম্পর্কে তথ্য জানানো ও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।  ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাস গবেষণাকর্মটি পরিচালিত হয়। ৪১৫ জন নারী এই জরিপে অংশগ্রহণ করেন। মূলত ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় নগর, উপনগর এবং গ্রামাঞ্চল এই তিন অঞ্চলের নিম্ন ও নিম্ন মধ্য আয়ের পরিবারের নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারের অভিজ্ঞতার ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়।
গণপরিবহনে ৯৪ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময় মৌখিক, শারীরিক এবং অন্যান্য যৌন হয়রানির শিকার হন। এরমধ্যে ৬৬ শতাংশ নারী জানায়, ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারাই নারীরা বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হন। ৩৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা ১৯-২৫ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। গণপরিবহনে নারী নির্যাতনে কারণ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকা, বাসে অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনে পর্যাপ্ত আলো না থাকা, তদারকির (সিসিটিভি ফুটেজ মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা) অভাবে নারীদের ওপর যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপরিবহন ব্যবহারকারী উত্তরদাতারা বলেন, শারীরিক যৌন হায়রানির মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃত স্পর্শ করা, চিমটি কাটা, কাছে ঘেঁষে দাঁড়ানো, আস্তে ধাক্কা দেয়া, নারীদের চুল স্পর্শ করা, কাঁধে হাত রাখা, হাত, বুক বা শরীরের অন্যান্য অংশ দিয়ে নারীর শরীর স্পর্শ করা ইত্যাদি। এসব ঘটনায় ৮১ শতাংশ নারী চুপ থাকেন। ৭৯ শতাংশ আক্রান্ত হওয়ার স্থান থেকে সরে আসেন।

বৃটেনে সিলেটি নাজমার চমক

বৃটেনে চমক দেখালেন সিলেটের কাউন্সিলরপত্নী নাজমা রহমান। স্বামীর মতো তিনিও বৃটেনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে বাঙালি কমিউনিটিতে। সিলেট থেকে বৃটেনেও ছুটে গেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সিনিয়র কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। গত বৃহস্পতিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর ওখানকার এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীও তাকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কাউন্সিলর আজাদপত্মীর এই চমকে সিলেটেও চলছে আনন্দ উচ্ছ্বাস। পেশায় পুষ্টিবিদ নাজমা রহমান। বসবাস করেন বৃটেনের ওয়েস্ট হ্যাম্পস্টেড এলাকায়। পুষ্টিবিদ নাজমা রহমান এবার কেমডেন কাউন্সিলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কাউন্সিলর পদে তিনি ১ হাজার ৩৯০টি ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। নাজমা রহমানের স্বামী সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি একাধিক বার সিলেটের ওই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কাউন্সিলরের পাশাপাশি তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। সিলেটের পরিচিত মুখ কাউন্সিলর আজাদ। তার স্ত্রী বসবাস করেন বৃটেন। সন্তানরাও ওখানকার বাসিন্দা। আর নিজ শহর সিলেটে বসবাস করেন কাউন্সিলর। বৃটেনের কেমডেন কাউন্সিল স্থানীয় নির্বাচনে ওয়েস্ট হ্যাম্পস্টেড এলাকা থেকে কাউন্সিলর পড়ে প্রার্থী হন নাজমা রহমান। তিনি লেবার পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নামে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে- নাজমা রহমান দীর্ঘদিন থেকে বৃটেনের লেবার পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তার সঙ্গে একই এলাকা থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন একই দলের প্রার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিবা তিওয়ারি ও ইরানী বংশোদ্ভূত পিটার তাহিরি। নির্বাচিত তিনজনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন নাজমা রহমান। বিজয়ের পর নাজমা রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনী টিউলিপ সিদ্দিক এমপি।

সামরিকভাবে গোপনে আরো শক্তিশালী হচ্ছে চীন! by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

ক্রমশ বিশ্বে পরাশক্তি হয়ে উঠছে চীন। বৈশ্বিক, আঞ্চলিক সব অঙ্গনেই আধিপত্য বিস্তারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বা হয়েছে দেশটি। এক্ষেত্রে ভারত অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সামরিক দিক দিয়েও চীন অনেকটা এগিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে যে, চীনের সামরিক যুদ্ধ বিমান, যেটাকে বোমারু বিমান বলা হয় তাতে যুক্ত হয়েছে বা হচ্ছে নিঃশব্দ বোমারু বিমান। এমান যুদ্ধবিমানকে ইংরেজিতে বলা হয় স্টিলদি বোম্বার এয়ারক্রাফট। এটি সাধারণত এইচ-২০ যুদ্ধবিমান নামে পরিচিত। আসলে স্টিলথ বোম্বার যুদ্ধবিমান কি এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। এমন প্রথম যুদ্ধবিমানের অধিকারী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে এটাই প্রথম নিঃশব্দ যুদ্ধবিমান। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীতে এটি যুক্ত হয়। এর নাম বি-২ স্পিরিট। ১৯৯০ এর দশকে এটি প্রথম বিমানবাহিনীর সার্ভিসে যুক্ত হয়। এখন পর্যন্ত বি-২ হলো বিশ্বে যেকোন সামরিক বাহিনীতে সার্ভিসে যুক্ত থাকা একক নিঃশব্দ বোমারু যুদ্ধবিমান। এর থেকেও উন্নততর এক যুদ্ধবিমান তৈরির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর নাম দেয়া হবে বি-২১ রাইডার। ২০২০ এর দশকের মাঝামাঝি তা সার্ভিসে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়াও তাদের নিজেদের মতো করে একই ধরনের যুদ্ধবিমান তৈরি করছে। এর সাধারণ নাম পিএকে ডিএ। সেক্ষেত্রে এমন যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে চীন হলো তৃতীয় দেশ। বি-২ যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৯৯ সালে। ওই সময় কসোভোতে হস্তক্ষেপ করে ন্যাটো। তখন সেখানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে বোমা হামলা চালায় বি-২। যুক্তরাষ্ট্র এটাকে একটি দুর্ঘটনা বলে ব্যাখ্যা দেয়। এর আগে পর্যন্ত বি-২ এর সক্ষমতার বিষয়ে সচেতন বা জানতেন না চীনা কর্মকর্তারা। ওই হামলার পর তারা এ বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠে। এমন যুদ্ধবিমান অর্জনের আকাঙ্খার বিষয়ে মুখ বন্ধ করে রাখে চীনা কর্মকর্তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা বি-২ সংক্রান্ত প্রযুক্তি অর্জনের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করতে থাকে চীন। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, চীনের এমন প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানের প্রতি আকাঙ্খা তৈরি হয়েছিল। তবে বিষয়টি বাইরে থেকে বোঝা যায় নি।  এরপর ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ধরে নেয়া হয়, এ সময়ে তারা এমন যুদ্ধবিমান তৈরির গবেষণা ও উন্নয়নমুলক কাজ শুরু করে। এ সময় প্রত্যাশা করা হয় যে, চীন একদিন এমন যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তির উন্নয়ন করবে এবং তারা এমন বিমান তৈরি করবে। তবে এর ভবিষ্যত কি তা অজ্ঞাত। এমন বিমান থাকার কথা সরকারি ভাবে স্বীকার করা হয় না। কিন্তু বিভিন্ন ভাবে বলা হয়, চীনের হাতে আছে এইচ-৮, এইচ-৯, এইচ-১০ ও এইচ-এক্সের মতো যুদ্ধবিমান। ২০১০ সালের শেষের দিকে জে-২০ যুদ্ধবিমান এবং ২০১২ সালে কৌশলগত পরিবহন ওয়াই-২০ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। এর ফলে এইচ-এক্স নিয়ে যে প্রত্যাশা বা পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয় তার হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়। ধারণা করা হয়, চীন আরো উন্নততর প্রযুক্তির ও বিশাল আকারের যুদ্ধবিমান তৈরি করতে যাচ্ছে। এ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য সামনে চলে এসেছে। যেমন- দীর্ঘদিন ধরে এমন যুদ্ধবিমান তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। ৬০৩ ইন্সটিটিউট এবং এক্সএসি’র নতুন অগ্রাধিকারে চলে আসে বিষয়টি। ওয়াই-২০ নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নের ফলে এক্ষেত্রে নজর দেয়া হয়। ফলে পরীক্ষামুলক পদক্ষেপ নেয়া হয়। এইচ-২০ যুদ্ধবিমান ডিজাইনে যুদ্ধবিমান তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই যুদ্ধবিমানটি অস্ত্র বহন করে উড়তে পারবে এমনভাবে তৈরি করা হয়। এইচ-২০তে চারটি ইঞ্জিন থাকার কথা বলা হয়।
(দ্য ডিপ্লোম্যাট অবলম্বনে)

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে নতুন মেরূকরণ by ইব্রাহিম খলিল

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অবস্থান ছিল দু’মেরুতে। তাদের অনুসারীরাও কখনো এক ঘাটে জল খেতেন না। সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়াত সেই চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনেক অনুসারী ভিড়ছেন আ জ ম নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ঘাটে। শুধু অনুসারী নই, খোদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও সেই ঘাটে ভিড়েছেন এখন, যা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে নয়া মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন রাজনীতিকরা। তবে এই মেরুকরণে আ জ ম নাছির উদ্দিনের জয়ের দামামা বাজলেও হতাশ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরীক্ষিত নেতাদের অন্যতম। কিন্তু গত ২০শে এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমপাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে সঙ্গে নিয়ে হঠাৎ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা গুঞ্জন।
আর এই গুঞ্জন শেষ হতে না হতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর রোববার সন্ধ্যায় সাক্ষাৎ করতে যান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে, যা নিয়ে তোলপাড় চলছে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
এর আগে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আরেক পরীক্ষিত নেতা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনও ভিড়েন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ঘাটে। তবে এর পেছনে কারণ ছিল আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। তিনি ভিড়েন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বলয়ে।
এমএ লতিফ আর খোরশেদ আলম সুজন একই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। আসন্ন একাদশ নির্বাচনে নিজের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন পাকা করতেই তাদের এই মেরুকরণ বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
এদিকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিযুক্ত হন। আর এরপর থেকে শুরু হয় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এই নয়া মেরুকরণ।
আর এই মেরুকরণ নিয়ে চরম হতাশা ও তুমুল উত্তেজনা চলছে দলটির মধ্যে। বিশেষ করে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম নগরীর চট্টেশ্বরী রোডে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে দেখা করা নিয়ে তুমুল গুঞ্জন চলছে।
তার চেয়েও বেশি আলোচনা-সমালোচনা চলছে রোববার সন্ধ্যায় আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের সাক্ষাৎ নিয়ে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে সদ্য অব্যাহতি নেওয়া নুরুল আজম রনির অনুসারীদের ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। আবার পাশাপাশি আ জ ম নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা এ সাক্ষাৎকে স্বাভাবিক বলে ফলাও করে প্রচার করছে।
এরমধ্যে মেয়রের বরাত দিয়ে তার একান্ত সহকারী সচিব রায়হান ইউসুফ লিখেছেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক হিসেবে সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অভিভাবক মেয়র। সেই হিসেবে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি তার সঙ্গে দেখা করেছেন গতকাল। তারা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদকের কাছ থেকে সংগঠন সমপর্কে বিভিন্ন উপদেশ পরামর্শ নিয়েছেন, তারাও তাদের কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তাদের অভিভাবককে। এটাই স্বাভাবিক একটা বিষয়।
মুনতাসির চৌধুরী মাহিন নামে একজন লিখেছেন, মাই কিউরাস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নোহ, যারা সুইমিংপুলের পানিকে রক্তে লাল বানাতে চেয়েছিল সেই পুলের স্বচ্ছ পানি কি তাদের জন্য হালাল হবে? অভিনন্দন মাননীয় মেয়র আরেকটি সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। এভাবেই সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।
তবে রনির পক্ষে সোচ্চার প্রাণের ৭১ নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক সিলভি আনোয়ার লিখেছেন, হায়রে রাজনীতি! নুরুল আজিম রনি তুই ভাই সত্যি বোকা। বেস্ট পল্টি অফ দি ইয়ার। সিলভি আনোয়ারের এই পোস্টে বেশিরভাগ মন্তব্যদাতাই ইমু আর দস্তগীরের বিপক্ষে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
সৈয়দ মোহাম্মদ বোরহান নামে একজন সুইমিংপুলি বিরোধী নগর ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ছবি ও আজকে সেই সুইমিংপুল পরিদর্শনে মেয়রের সাথে ইমু-দস্তগীরের ছবি দিয়ে পার্থক্য করে তখন- এখন শিরোনামে লিখেছেন, শুধু এটা দেখার বাকি ছিল।
সালাউদ্দিন জিকু নামে একজন পোস্ট করে লিখেছেন, ছাত্রলীগ থেকে যেমন বীর সেনানীর জন্ম হয়, তেমনি বেঈমান বিশ্বাস ঘাতকের জন্মও হয়।
নয়া এই মেরুকরণ সম্পর্কে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, রাজনীতিতে মেরুকরণ নতুন কিছু নয়। চট্টগ্রামেও রাজনীতির সবচেয়ে বড় অভিভাবক মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে অনুসারী নেতাকর্মীরা প্রায় দিকহারা হয়ে পড়েছেন। ফলে নতুন অভিভাবকের সন্ধানে এই নয়া মেরুকরণ ঘটছে।
তিনি বলেন, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে চট্টগ্রামে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে হানাহানির ঘটনাও কম ঘটেনি।
বন্দর পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফ বলেন, কোনো কারণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে আসা সম্ভব হয়নি আমার। কিন্তু তার ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র, নম্র। তার আচরণ ও শিক্ষার গুণ যে কারোর মাঝে প্রভাব পড়তে বাধ্য। তার আচরণে আমি মুগ্ধ।
তবে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ বিষয়ে তেমন কিছু বলতে নারাজ। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, মাহতাব ভাই চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়া গিয়েছিলেন। ইন্ডিয়া থেকে এসেছেন। উনি আমাদের নেতা, নেতার শারীরিক খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম। তবে এ সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে।
আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জয়ের জন্য যা যা করার দরকার দলের একনিষ্ঠ নেতারা তা করছেন। দলের চেয়ে নিজের স্বার্থকে যারা বড় মনে করছেন তারাই নানা আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার রূপরেখায় যা থাকতে পারে by শফিকুল ইসলাম

উন্নত বিশ্বের মতো সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার একটি রূপরেখা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, সরকারি পেনশনারগণ দেশের সমগ্র জনগণের একটি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। তাই সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি সবার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অংশগ্রহণমূলক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে আমরা কাজ করছি। আমাদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে অন্তর্নিহিত লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।
অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন অর্থবছরের বাজেটে এর একটি নির্দেশনাও থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না। যে বছর থেকে এটি কার্যকর হবে,তারপর যোগদানকারীদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।
সূত্র আরও জানায়,সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতির আওতায় বেসরকারি পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে বড় বড় কর্পোরেট হাউস, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে কমর্ররত চাকরিজীবীদের আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানকেও আনা হবে বলে জানা গেছে।
এজন্য পেনশন তহবিল জেনারেট করতে হবে। এ তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য অভিজ্ঞ লোকবল প্রয়োজন হবে। ইউনিভার্সল পেনশন সিস্টেমের জন্য ইনস্টিটিউশন তৈরি করতে হবে। ফরমাল ও ইনফরমাল পেনশনের জন্য রেগুলেটরি অথরিটি লাগবে। অর্থমন্ত্রী আগামী বাজেটে এটার রূপরেখা দেবেন। তার ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী।
রূপরেখার আলোকেই কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যতদূর জানা গেছে, প্রস্তাবিত সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় পেনশন তহবিল হবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। অর্থাৎ চাকরিজীবী ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ তহবিলে অর্থ দেবে। এর পরিমাণ হতে পারে চাকরিজীবীর মূল বেতনের শতকরা ১০ ভাগ। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষও সমপরিমাণ অর্থ দেবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে একই নিয়মে তহবিল গঠন করা হবে। পেনশনের এ তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি রেগুলেটরি অথরিটি থাকবে। এ অথরিটির মাধ্যমেই পেনশনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত পেনশন স্কিমের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বয়স হবে ৬০ বছর। বেসরকারি খাতের জন্য ৬৫ বছর। নির্ধারিত সময়ে চাকরি শেষে অর্ধেক পেনশনের টাকা এককালীন তুলতে পারবেন। বাকি টাকা তহবিলে থাকবে। সে অর্থ পরবর্তীতে প্রতি মাসে ধাপে ধাপে ওঠাতে পারবেন।
তহবিল পরিচালনার জন্য আলাদা রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করা হবে। তারা লাভজনক খাতে তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করবেন। বিনিয়োগ সুরক্ষাও দেওয়া হবে। এ থেকে যে মুনাফা আসবে, তার অংশ মাসে মাসে পাবেন সুবিধাভোগীরা। পেনশনভোগীদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত পেনশন স্কিমে ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। এতে সবাই উপকার পাবেন। তবে বেসরকারি খাতে এটির বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে মনে করেন মির্জ্জা আজিজ।
কারণ,ব্যাখ্যা করে মির্জ্জা আজিজ বলেন, এতে সরকারকে বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। বেসরকারি কোম্পানি রাজি না হলে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে পেনশন তহবিল পরিচালনা করাও কঠিন হবে বলেও জানান মির্জ্জা আজিজ।
এ প্রসঙ্গে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, জাতীয় নাগরিক পেনশন-ব্যবস্থা হিসেবে একটি ব্যবস্থা চালু করতে হলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে একটি ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ’ গঠন। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হবে ‘জাতীয় পেনশন তহবিল গঠন’।
এই তহবিলের বহুমুখী উৎস থাকতে পারে। প্রধান উৎস হবে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর প্রদানকারীদের আয়করের একটি অংশ। অর্থাৎ প্রতিবছর যাঁরা আয়কর দিয়ে থাকেন, তাঁদের আয়করের নির্দিষ্ট একটি অংশ ২ থেকে ৩ শতাংশ জাতীয় পেনশন তহবিলে হস্তান্তর। দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সরকার প্রতিবছর বাজেট থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ স্থানান্তর করবে। তৃতীয় উৎস হবে কর্মকর্তা-কর্মচারী (সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে) চাকরিজীবীর নিজের এবং সংগঠনের প্রদেয় অংশ। এভাবে যে অর্থ প্রতিবছর জাতীয় পেনশন তহবিলে জমা হবে, তা সরকার বিভিন্ন লাভজনক কাজে বিনিয়োগ করে ওই তহবিলের আকার ও পরিমাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ, এ পরিমাণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ৫ শতাংশ। যারা সরকারের পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ৯৫ শতাংশের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত । তাদের কোনো পেনশন সুবিধা নেই। দেশে গড় আয়ু ও প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ার কারণে সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বেড়েছে। এ ঝুঁকি মোকাবিলা ও সমতা বিধান করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্যই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, বাজেটের কাজ চলছে। সবার মতামত নিচ্ছি। নিজেও ভাবছি। যেহেতু গত বাজেট বক্তৃতায় কথা দিয়েছি, সেহেতু কিছু একটা তো করতেই হবে। আর তা হতে হবে সবার জন্য মঙ্গলময়। তবে কাজটি কিছুটা জটিল। সময় তো লাগবে। রূপরেখা তৈরি করতে পারলে কাজটি সহজ হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন by কাজী সোহাগ

আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে ২০১৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশের ১৩টি সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করে আন্তর্জাতিক হ্যাকার সংগঠন অ্যানোনিমাস। এর মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সংক্রান্ত সরকারি পোর্টালও ছিল। গত বছর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ওয়েবসাইট হ্যাক করে মিয়ানমারের হ্যাকাররা। চলতি বছর মরক্কোর একটি হ্যাকার দল ফেসবুকে বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় থাকা ওয়েবসাইটগুলো তারা হ্যাক করেছিল বলে দাবি করে। তার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের পোর্টালও ছিল। সর্বশেষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় দপ্তরের ওয়েবসাইট কয়েক ঘণ্টা হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। মূলত গত কয়েক বছর ধরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন হ্যাকার সংগঠন বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে হানা দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাইট হ্যাক হলেই কেবল নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। আগে থেকে সতর্ক থাকার বিষয়টি তারা মূলত উপেক্ষা করে চলেছেন। আর এই সুযোগটি নিচ্ছে দেশি-বিদেশি হ্যাকাররা। তারা জানান, ওয়েবসাইট মুছে গেলেও ব্যাকআপ থেকে সাইট দাঁড় করানো যাবে। কিন্তু পাসওয়ার্ড হাতছাড়া হলে পুরো সিসটেম বেদখল হয়ে যেতে পারে। সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং সরকারি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এটা অতিক্রম করা সহজ নয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ৫০ হাজারের বেশি অফিস রয়েছে। গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে এসব অফিসের ওয়েবসাইটগুলোকে ন্যাশনাল ওয়েবপোর্টালের আওতায় নিয়ে আসার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৪৮ হাজার সাইট ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্কে চলেও এসেছে। তবে প্রশাসনিক কারণে অনেক সাইট এখনও বাইরে রয়েছে। সব মন্ত্রণালয়কেও এখনও আনা যায়নি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি সাইটগুলো সব সময় হ্যাকারদের খুব পছন্দের টার্গেট। তাছাড়া সরকারি সাইটগুলো নিয়মিত পরিচর্যায় থাকে না। সিকিউরিটি আপডেট করার যে প্রক্রিয়া তা হয়তো ঠিকঠাক নেই। এসব প্রসঙ্গে ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির মানবজমিনকে বলেন, সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল সেক্টরে সাইবার হামলা বেশি বেড়েছে। সহজভাবে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতেই এটা বেশি হচ্ছে। আবার সাইবার হামলা এখন একটা প্রতিবাদও। কোটা আন্দোলনে যেসব হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে এটা তারই প্রমাণ। কখনও দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিলে হ্যাকাররা সক্রিয় হয়ে উঠছেন। সরকারি ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করে বসছে। সাইটগুলোর প্রধান দুর্বলতা ‘মেইনটেইন্স’-এর অভাব বলে মনে করেন তিনি। সুমন আহমেদ সাবির বলেন, একটা সাইট খোলার পর সেটাকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যা যা করনীয় তা হচ্ছে না। এখানে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। যার কারণে যে কোনো আক্রমণে খুব সহজে ভেঙে পড়ে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে গত ১১ই এপ্রিল রাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরের ওয়েবসাইটে হানা দেয় হ্যাকাররা। সেখানে বসিয়ে দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের বার্তা। রাতেই ওয়েবসাইটগুলো পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পর ওয়েবসাইটগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে। সাইবার নিয়ে কাজ করেন এমন কয়েক ব্যক্তি মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতার দুটো বড় কারণ হলো জনবল ও বাজেটের অভাব। সিকিউরিটি হচ্ছে প্রথম কথা। কিন্তু বাজেট সমস্যার কারণে অনেক সময় নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না। অন্যদিকে সিকিউরিটি সেলের প্রয়োজনীয় কাঠামো থাকলেও সেজন্য যে জনবল দরকার তা নেই। তারা জানান, সাইবার সিকিউরিটি একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র। এখানে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়, লম্বা সময় তাদের এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আজকে একজন যে দায়িত্বে আছেন, এক বছর পরে তিনি অন্য খানে চলে যান। আজকে যিনি আইটিতে ছিলেন, এরপর তিনি হয়তো অন্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন। গত কয়েক বছরে সরকারি ওয়েবসাইটগুলোয় একাধিকবার সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ-ভারত সাইবারযুদ্ধ। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক যোগে বাংলাদেশের শত শত ওয়েবসাইটে হামলা করা হয়। সেসব হ্যাকিংয়ের ঘটনায় দায়ী করা হয় ভারতীয় হ্যাকারদের। এর পাল্টায় বাংলাদেশের হ্যাকাররাও ভারতীয় সাইটে আক্রমণ চালায়। ২০১১ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরি ফেলানী খাতুনের মৃত্যুর পর ভারতীয় কিছু ওয়েবসাইট হ্যাকিং করেছিল বাংলাদেশি হ্যাকাররা। ২০১৫ সালে বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে রাজপথে আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় ‘চুপ থাকায়’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোনালী ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাকারের দখলে ছিল কয়েক ঘণ্টা। চলতি বছর দুবার হ্যাকারদের দখলে যায় বিআরটিএ-এর ওয়েবসাইটটি। ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের পতাকা ও জাতীয় সংগীত ব্যবহার করে দেয়া হ্যাকারদের বার্তায় বাংলাদেশি হ্যাকারদের সতর্ক করা হয়। পরের মাসে বাংলাদেশের হ্যাকাররাই বিআরটিএ ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ঢাকার রাস্তায় ছাত্রলীগের এক কর্মসূচির মধ্যে এক কলেজ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ জানানো হয় সেখানে। জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয় ২০১৩ ও ২০১৫ সালে।

মিয়ানমারকে চাপ দিন -ওআইসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে ওআইসি তথা বিশ্ববাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকায় ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রের জোট ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলনের উদ্বোধনীতে তিনি এ আহ্বান জানান। বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ওআইসিকে অবশ্যই নেপিদোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। হযরত মুহম্মদ (সা.) এর বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ানোর অমোঘ বাণীর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নবী নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কাজেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি ওআইসি তখন নিশ্চুপ থাকতে পারে না।’ গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ওই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সরকার প্রধান বলেন- রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার এবং জীবন জীবিকার অধিকার রাখে।’ অনুষ্ঠানে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং ওআইসি মহাসচিব ইউসুফ এ ওসাইমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আইভরিকোস্ট-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ৪৪তম সিএফএম’র সভাপতি মার্সেল আমন-তানোহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে ৪৫তম সিএফএম’র সভাপতিত্ব হস্তান্তর করেন। তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতির প্রতিনিধি বেকির বোজড্যাগসহ এশিয়া, আরব এবং আফ্রিকার পক্ষে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ভাইস মিনিস্টার আবদুর রাহমান মোহাম্মাদ ফাসির, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দেল বিন আহমেদ আল জুবায়ের এবং সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিদকি কাবা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দেয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নিপীড়িত মানবতার জন্য আমরা আমাদের চিত্ত ও সীমান্ত দুই-ই উন্মুক্ত করে দিয়েছি। মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাদের (বাস্তুচ্যুত হয়ে এদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা) জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ব্যথায় ব্যথিত। কারণ, আমার পিতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর আমি ছয় বছর দেশে ফিরতে পারিনি, উদ্বাস্তু হিসেবে বিদেশের মাটিতে কাটিয়েছি। কাজেই জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমি ওআইসিকে তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
ইতিহাসের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে ঢাকায় ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলন হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটা সময় অতিক্রম করছি যখন প্রযুক্তি প্রবাহ ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং যুব সমাজের কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে অসমতা, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক অবিচার এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব। এসবের সমন্বিত প্রভাবে আমাদের ইসলামী চিন্তা-চেতনার মৌলিক ভিত্তি আজ হুমকির সম্মুখীন। এমন অবস্থা আগে কখনো আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। তিনি বলেন, এখনকার মতো মুসলিম বিশ্ব আগে কখনো এত বেশি পরিমাণ সংঘাত, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ, বিভাজন ও অস্থিরতার মুখোমুখি হয়নি। লক্ষ্য করা যায়নি এত ব্যাপক হারে বাস্তুহারা জনগোষ্ঠীর দেশান্তর। আজকে মুসলমান পরিচয়কে ভুলভাবে সহিংসতা ও চরমপন্থার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময় এসেছে আমাদের চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার। সময় এসেছে টেকসই শান্তি, সংহতি ও সমৃদ্ধির আলোকে আমাদের ভবিষ্যৎকে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর। ইসলামী বিশ্বের রূপকল্প এমন হতে হবে যাতে আমরা আমাদের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারি। নিজেরাই সকল দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সমাধান করতে পারি। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ আমাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ফলাফল-কেন্দ্রিক নতুন কৌশল-সম্বলিত একটি রূপান্তরিত ওআইসি। অনুষ্ঠানে ওআইসি মহাসচিব ইউসুফ এ ওসাইমিন প্রধানমন্ত্রীকে পবিত্র কাবা শরীফের গিলাব উপহার দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম বৈঠক (সিএফএম) উপলক্ষে অনুষ্ঠানে স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্ত করেন।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী প্রেসিডেন্ট: এদিকে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও উগ্র-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সর্বদা জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করে আসছে, অতএব সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওআইসি সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকায় আসা সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল বিন আহমেদ আল জুবের গতকাল বিকালে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামে সন্ত্রাসবাদের কোনো জায়গা নেই- এই সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বাংলাদেশ সৌদি সরকারের সঙ্গে এক যোগে কাজ করবে।’ এ সময় রিয়াদে ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশন (আইএমসিটিসি) গঠনে সৌদি বাদশাহ’র প্রচেষ্টার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বললেন: কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখাইনে ধর্মভিত্তিক বৈষম্য ও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘রাখাইনের নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর সেটা নির্ভর করছে আমাদের ওপর।’ তিনি রাখাইনে চালানো নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দোষীদের জবাবদিহি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এজন্য মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওআইসির সদস্য দেশগুলো রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে। আর এতে পূর্ণ সমর্থন দেবে কানাডা। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তার দেশ ইতিমধ্যেই রাখাইন অভিযানের দায়িত্বে থাকা জেনারেল মং মং সো’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এই মন্ত্রী। বক্তৃতায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেখানে শরণার্থীদের দুঃখ-কষ্ট শুনেছি। ভূমিধসে এক শিশু নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জীবনের ঝুঁকিতে থাকা এসব রোহিঙ্গার নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। তিনি বিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরেন। বলেন, নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর পক্ষে যখন কেউ থাকে না, তখন তাদের সঙ্গে কি ঘটে তা আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, রাখাইনে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। নির্যাতিত নারীরা বলেছে, বাড়ির টয়লেট ভেঙে ফেলে তাদেরকে বাইরের টয়লেট ব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছে। যেন সহজেই তাদের ওপর নির্যাতন চালানো যায়। এই নির্যাতনের বিচার হওয়া প্রয়োজন।

পরশুরামে ভুট্টার বাম্পার ফলন by এম এ হাসান

পরশুরামে প্রথম বারের মতো ৩৪ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে। এখানকার মাটি ভুট্টা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী হওয়ায় ভুট্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমবারের মতো ভুট্টার চাষ হওয়ায় ‘আশার আলো’ দেখছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পরশুরাম পৌরসভা, মির্জানগর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের ৮ গ্রামে ৩৪ বিঘা জমিতে চলতি রবি মৌসুমে ভুট্টা চাষাবাদ করা হয়েছে। কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে উচ্চ ফলনশীল ‘ইয়েন’ জাতের ভুট্টার বীজ রোপণ করা হয়। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে মে মাসের শেষের দিকে ক্ষেত থেকে ভুট্টা ঘরে তোলা যাবে। রোপণের মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব বলে কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের ভুট্টাচাষি জালাল আহমেদ জানান, ভুট্টা উৎপাদনে সেচ কম লাগে। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল হয়ে থাকে বলে ৮ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)র এক গবেষণায় দেখা গেছে, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী বিধৌত পরশুরামের অধিকাংশ মাটি বেলে দোঁআশ প্রকৃতির মাটি। যা ভুট্টা, মাসকলাইসহ দানাদার ফসল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। েবৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে,ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। ভুট্টায় ১১ ভাগ আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে অ্যামিনো এসিড, ট্রিপ্টোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমাণে আছে। এছাড়া ভুট্টার প্রতি দানায় প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘এ’ থাকে। উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা উত্তম মজুমদার জানান, এখানকার মাটি দোঁআশ, বেলে দোঁআশ মাটি হওয়ায় ভুট্টা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। কৃষকদের ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, পানি সংকটের কারণে বোরো ফসল অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুট্টা চাষে পানির তেমন প্রয়োজন হয় না। বোরো ফসলের বিকল্প হিসেবে এখানে ভুট্টা চাষের উজ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

থমথমে পাহাড় হরতালের ডাক by আলমগীর মানিক

থমথমে পাহাড়। দু’দিনের ছয় হত্যাকাণ্ডে পাহাড়জুড়ে নেমে এসেছে আতঙ্ক। নানিয়ারচরের একমাত্র সড়কপথে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। এ অবস্থায় ৭ ও ৮ই মে তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ। শুক্রবার ব্রাশফায়ারে গাড়িচালক সজীব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এ হরতালের ডাক দেয়া হয়। ওদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা ও গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের ৬ নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের পর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ তথ্য জানিয়ে নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেছেন, নানিয়ারচরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাহাড়ে উত্তপ্ত এ পরিস্থিতি পরিদর্শনে গতকাল নানিয়ারচর গেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এসএম মনির-উজ-জামান। এ সময় তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, পুলিশ জীবন দিয়ে হলেও জনগণের জানমাল রক্ষা করবে। তিনি বলেন, এখন থেকে পাহাড়ে পুলিশ নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। ডিআইজি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্ত পরিবেশকে যারা অশান্ত করতে চায় তারাই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। পাহাড়ে অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিকালে নানিয়ারচর উপজেলা সদরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওদিকে, নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা, ইউপিডিএফ সংস্কার গ্রুপের প্রধান তপনজ্যোতি বর্মাসহ ছয় হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি। উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে শুক্রবার দুপুরে বেতছড়িতে বাঙ্গালী গাড়িচালক সজীব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিন পার্বত্য জেলায় ৬ই মে কালো পতাকা উত্তোলন, ৭ ও ৮ই মে সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে পার্র্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ।
বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন সাকিব বলেন, গাড়িচালক সজীব হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও মহালছড়ি থেকে অপহৃত তিন বাঙ্গালীকে উদ্ধার করার দাবিতে তারা এই কর্মসূচি দিয়েছে। তিনি বলেন, সজীব হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও অপহৃত বাঙ্গালীদের মুক্তি না দিলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
এক বছরে ৪২ খুন
পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়। এলাকার দখল চাঁদাবাজির এলাকা নির্ধারণ এবং নিজেদের প্রতিপত্তি প্রকাশের হীন মানসিকতায় ক্রমেই প্রাণ হারাচ্ছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। গত এক বছরে পার্বত্য তিন জেলায় আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে ৪২ খুন এবং ২৫ জন গুলিবিদ্ধ কিংবা আক্রমণের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি পাহাড়ে শতাধিক অপহরণের ঘটনাও ঘটিয়েছে আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীরা। সংগঠনগুলোর ধার্যকৃত চাঁদা পরিশোধের বিড়ম্বনার সঙ্গে এই ধরনের হিংসা হানাহানি ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পাহাড়ের মানুষ। সর্বশেষ চলতি মাসের ৩ ও ৪ঠা এপ্রিল মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই শীর্ষ নেতাসহ ৬ জন আর গত এক মাসে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়িতে অন্তত ১২ জন খুন হয়েছেন। এ সময় ১৫ জনেরও অধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়েছেন। যার মধ্যে ৪ঠা এপ্রিলই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৮ জন। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিপক্ষ পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস (এমএন লারমা) এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শক্তিমানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে আবারো সেই একই পক্ষের অতর্কিত ব্রাশ ফায়ারে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা ও জেএসএস এম এন লারমা সমর্থিত ৫ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে পাহাড়ের সংগঠন ইউপিডিএফ’র (গণতান্ত্রিক) আহ্বাযক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা (৪৮), জেএসএস সংস্কার সমর্থিত সেতু লাল চাকমা (৪০) ভাড়ায় চালিত মাইক্রো চালক পানছড়ির বাসিন্দা মো. সজিব (৩৬), মহালছড়ি যুব সমিতির সুজন চাকমা (৩২) ও তুজিম চাকমা (২৯) বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তপন জ্যোতি চাকমাকে বহন করা মাক্রোবাস লক্ষ্য করে গুলি করলে ভাড়ায় চালিত মাইক্রোড্রাইভার গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় বিভক্ত আরো দু’অস্ত্র ধারী হামলাকারী গ্রুপ সে গাড়িতে গুলিবর্ষণ করলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এ ঘটনার জন্য সংগঠনটি প্রতিপক্ষ গ্রুপ প্রসীত বিকাশ খীসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে দায়ী করছে।
এদিকে এর আগে, ১০ই এপ্রিল মহালছড়ি থেকে জেএসএস (এমএন লারমা) দলের দুই নেতাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনার একদিন পরেই ১১ই এপ্রিল নানিয়ারচরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয় ইউপিডিএফ নেতা জনি চাকমাকে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ১২ই এপ্রিল ইউপিডিএফ নামধারী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় জেএসএস(এমএন) লারমা দলের কালোময় চাকমা ও সাধন চাকমাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এদের মধ্যে সন্ত্রাসীরা কালোময় চাকমাকে মেরেই ক্ষান্ত হয়নি, তাকে পুড়িয়েও ফেলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ১৫ই এপ্রিল খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে উদ্ধার করা হয় এক বাঙালি যুবকের লাশ। তাকে অপহরণ করা হয়েছিল আরো দুইদিন আগেই। মোশারফ হোসেন নামে উদ্ধারকৃত যুবকের লাশের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১৫ই এপ্রিল রাত ৮টার সময় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ ও জেএসএস (এমএন) এর মধ্যে চলা বন্দুকযুদ্ধে ইউপিডিএফর দুই নেতা বিজয় চাকমা ও তপন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনার সময় দীঘিনালা থেকে এক চাকমা যুবকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে এই ধরনের হামলা-পাল্টা হামলাসহ খুন, গুম অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ভাবিয়ে তুলেছে পাহাড়বাসীদের। অন্তর্কোন্দলে অগ্নিগর্ভ আকার ধারণ করছে পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতি।
একের পর এক সশস্ত্র সংঘাতে ব্যাপকহারে হতাহতের ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন পাহাড়ের জনপ্রতিনিধিরা। নিজেরা বড়ই অসহায়বোধ করছেন জানিয়ে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুন চাকমা বলেন, আমাদের একজন জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে মেরে ফেলল। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিজেও এখন খুবই অসহায়বোধ করছি।
অপরদিকে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা জানান, একজন নারী জনপ্রতিনিধি হয়ে বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছি। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা এখন অত্যন্ত শোচনীয়। চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা পরবর্তী সময়ে তিনিও খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান সম্পর্কে যদি বুঝেও না বোঝার ভান করি তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদের বোঝাতে বা সঠিক পথে ফেরাতে পারবে না।
রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা ব্যবসায়িরাসহ রাঙ্গামাটিবাসী পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছি। আমাদের দাবিগুলো যদি আমলে নিয়ে কাজ শুরু হতো তাহলে আজকের দিনের নৃশংস পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।
এদিকে রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, শুক্রবার একদিনেই পাঁচটি হত্যাসহ গুলিবিদ্ধের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে সবার সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবো। এক প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, পাহাড়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমতলের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে পাহাড়ের পুলিশ বাহিনীকে তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দিলেই এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিপরীতে পুলিশ ত্বরিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।

মধুপুরে প্রতিদিন ২০ লাখ টাকার বেগুন উৎপাদন by মো. নজরুল ইসলাম

মধুপুরের পদ্মারবাড়ী  গ্রামের মো. রুহুল আমীন (৩৫)। তিনি এবার কৃড়ালিয়া ইউনিয়নের কদিমহাতীল গামের ২৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বেগুন চাষ করেছেন। তার প্রতি গাছে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। লভ্যাংশের আশায় হাইব্রিড ও নসিমন জাতের বেগুন চাষ করেছেন। তার বেগুন খেতে এবার ভালো ফলন হয়েছে। প্রতিদিন সে গড়ে প্রায় ৭০০ কেজি বেগুন বিক্রি করতে পারছেন। বাজারে বর্তমানে ২ হাজার টাকা মণ বেগুন বিক্রি হচ্ছে। ফলে বেগুনে যা ব্যয় করেছেন তার চেয়ে লাভ হচ্ছে বহুগুণ।
শুধু রুহুল আমীন নয়, মধুপুরে এ রকম প্রায় ৪০ জন বেগুন চাষি রয়েছেন। তারাও অনুরূপভাবে ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি বেগুন বিক্রি করে থাকেন। বেগুন চাষিদের হিসাব মতে শুধু মধুপুরেই প্রতিদিন ২০ লাখ টাকার বেগুন উৎপাদন হচ্ছে। আর মধুপুরের সবজি রপ্তানি হচ্ছে বিদেশের মাটিতেও। বেগুন বিক্রি করে রুহুল আমীনের মতো অনেক চাষি স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বেগুন খেতে কাজ আশেপাশের অনেক শ্রমিকেরও আত্মকর্মস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। হাইব্রিড ও নসিমন জাতের বেগুন রোপণ করে ৫০-৬০ দিনের মাথায় বেগুন পাওয়া যায়।
বর্তমানে আড়তদাররা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করছেন বিদেশে পাঠানোর জন্য। মো. রুহুল আমীন জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেগুনে লাভ পাওয়া যায় বেশি তাই এ বেগুন চাষ করেছি। বাজার দাম অনুয়ায়ী যা খরচ করেছি তার চেয়ে বেশি উঠে আসছে। তিনি আরও জানান, সামনের রমজানে বেগুনের দাম আরও বাড়বে। বিকল্প পন্থায় আড়তদারদের মাধ্যমে বেগুন বিদেশে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, মধুপুরে এ বছরে অনেক জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। তবে কৃষকরা বেগুনের প্রধান শত্রু পোকা দমনে সেক্স ফেরোমিন ফাঁদ ব্যবহার করলে ভালো হবে।

জেসমিনের অফিসে মিললো ‘সুইসাইড নোট’ by মারুফ কিবরিয়া

রাজধানীর মিরপুরের সরকারি কলোনির বাসা থেকে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনা নতুন মোড় দিয়েছে। ঘটনার দিন লেখা নিহত জেসমিন আখতারের একটি নোট রহস্যের জন্ম দিয়েছে। চিঠিটি জেসমিনের কর্মস্থল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার তদন্তকারী দারুস সালাম থানার এসআই রায়হানুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে বাংলা কলেজের পাশে টোলারবাগ এলাকার সি-টাইপ স্টাফ কোয়ার্টারের ১৩৪নং ভবনের চারতলা থেকে দুই শিশুকন্যা ও মায়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। চিঠির বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিনই জেসমিন আখতার তার অফিসের টেবিলের ড্রয়ারে একটি নোট লিখে রাখেন। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আমরা তা পেয়েছি। ওই চিঠিতে লেখা আছে ‘আমি বেঁচে থাকার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার সব দিক থেকে অনেক অন্ধকার নেমে এসেছে। আমার মৃত্যুর জন্য আমার নির্মম দুর্ভাগ্যই দায়ী।’ এ চিঠির বিষয়ে জেসমিনের স্বজনরা বলছেন, নিহত জেসমিনের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে হয়তো রহস্যের জট খুলবে। একই কথা বলেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তাও। এ ব্যাপারে জেসমিনের ভাই শাহীনুর মানবজমিনকে বলেন, আমি এখনো ঢাকার বাইরে। আমার বোন অসুস্থ ছিলেন তা ঠিক। কিন্তু এতগুলো আঘাতের চিহ্ন থাকায় এখন আমার সন্দেহ কাজ করছে। একজন মানুষ দুই মেয়ের গলা কাটার পর আবার নিজে শরীরে এত আঘাত কিভাবে করে! এটা আমার কাছে সন্দেহ হচ্ছে। এখনো কাউকে এর জন্য দায়ী করার কোনো ক্লু পাচ্ছি না। তবে আমিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। সেখানে কি পাওয়া যায় সেটা দেখে তারপর স্টেপ নেবো।
নিহত জেসমিন আক্তার (৩৫) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন। তার স্বামী হাসিবুল ইসলাম জাতীয় সংসদের সহকারী লেজিসলেটিভ ড্রাফটম্যান হিসেবে কর্মরত। হাসিবুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের ভজনপুর গ্রামে। জেসমিনের বাবার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। হাসিবুল ইসলাম ২০০৬ সালে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৭ সালে তিনি সরকারিভাবে ওই কোয়ার্টারে বাসা বরাদ্দ পান। ২০০৮ সালে জেসমিনকে বিয়ে করার পর স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ওই বাসাতেই বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩০শে এপ্রিল অফিস থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে বাসায় চলে আসেন জেসমিন আখতার। এসেই মেয়েদের খাইয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বিকাল ৫টার দিকে তার স্বামী হাসিবুল বাসায় আসেন। তবে রুমের দরজা বন্ধ এবং ভেতরে টিভির শব্দ শুনে আর ভেতরে প্রবেশ করেননি। তিনি ভেবেছিলেন জেসমিন তার দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমাচ্ছেন।  তাই তিনি কাউকে না ডেকেই নামাজ পড়তে মসজিদে যান হাসিবুল। মাগরিবের নামাজ শেষে এসে জেসমিনকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তারপর হাসিবুল দরজা ধাক্কা দিয়ে একটু ফাঁক করে দেখেন ভেতরে রক্ত। তখন নিহত জেসমিনের ভাই শাহীনুর ও তার স্বামী দরজা ভেঙে রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। তিন নিহতের পরিবার জানায়, জেসমিন আখতার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন অনেকদিন আগে থেকেই। তিনি মাইগ্রেন আক্রান্তও। কলকাতায় তাকে নিয়ে চিকিৎসাও দেয়া হয়েছিল। পরিবারের  সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই অসংলগ্ন আচরণ করতেন জেসমিন আখতার।

রাজকোষ কেলেঙ্কারি নিয়ে রয়টার্সের রিপোর্ট: আদালতের বাইরে মীমাংসায় আপত্তি নেই বাংলাদেশের

রাজকোষ কেলেঙ্কারির ইস্যুতে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের সঙ্গে আদালতের বাইরে মীমাংসা করার বিষয়টি বিবেচনা করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিউ ইয়র্ক ফেড অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ট্রান্সফার করে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকে। ইতিহাসের অন্যতম বড় এই সাইবার চুরির ঘটনায় হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট সিস্টেমে ভুয়া লেনদেন ইস্যু করতে সক্ষম হয়। পরে তা ম্যানিলার রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং কর্প থেকে উত্তোলনের পর কৌশলে ক্যাসিনোর মাধ্যমে গায়েব হয়ে যায়। 
রয়টার্সের রিপোর্টে বলা হয়, এই চুরির ঘটনায় একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং দু’বছর ধরে বাংলাদশে, ফিলিপাইন, ফেড এবং সুইফট একে অপরের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলেও কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় নি।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিনিয়র এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আদালতের বাইরে এ ইস্যুটি সুরাহা করার একটি সুযোগ আমাদের সামনে আছে।’ পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই কর্মকর্তা অতীতের এমন একটি মীমাংসার ঘটনা তুলে ধরেন। ২০১৫ সালের একটি সাইবার চুরির ঘটনায় ইকুয়েডরের ব্যাংকো দেল অস্ত্রো এবং ওয়েলস ফার্গো আদালতের বাইরে মীমাংসা করে ফেব্রুয়ারিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস ডমিনগেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ম্যানিলায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের চার দিনব্যাপী বার্ষিক সভার এক ফাঁকে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারা ২০১৬’র সাইবার চুরির ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন।
রিপোর্টে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ এখনও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয় নি। তবে, চুরি যাওয়া ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার পুনরুদ্ধারে মামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ম্যানিলার জাঙ্কেট অপারেটকের কাছ থেকে ইতিমধ্যে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তারা আরো বলেন, ‘আমাদের চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে আমরা সম্ভাব্য সকল উপায়েই চেষ্টা করবো।’ এ নিয়ে ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রী ডমিনগেজ বা ম্যানিলার রিজাল ব্যাংকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি।

গাজীপুরে ফ্যাক্টর মান্নান-আজমত by কাফি কামাল

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলই মেয়র পদে এনেছে পরিবর্তন। অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে তারুণ্যের ওপর ভরসা রেখেছে আওয়ামী লীগ। গাজীপুরের বর্তমান মেয়র বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর এমএ মান্নান। স্বাভাবিকভাবে প্রার্থী হিসেবে তিনিই ছিলেন প্রথম পছন্দ। কিন্তু বারবার কারাভোগের কারণে মেয়র মান্নান শারীরিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপিকে বেছে নিতে হয়েছে বিকল্প। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডকে চুলের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়েছে প্রার্থী বাছাইয়ে। একদিকে অভিজ্ঞ ও সবমহলে গ্রহণযোগ্য আজমত উল্লাহ, অন্যদিকে তারুণ্যের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম। বিগত নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটে পরাজিত আজমতের চেয়ে হাল আমলের প্রভাবশালী জাহাঙ্গীরকেই বেছে নেয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দুই পুরনো প্রার্থীই মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবারের নির্বাচনে। শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করে দলের মনোনয়ন বোর্ডেও হাজির হয়েছিলেন মেয়র মান্নান। বর্ষীয়ান এ দুই নেতা মনোনয়ন না পাওয়ায় গাজীপুরে মান্নান অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মী ও আজমত অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হতাশ হন। তবে দুই বর্ষীয়ান নেতাই মেনে নিয়েছেন দলের সিদ্ধান্ত। প্রার্থিতায় পরিবর্তন এলেও গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে অন্যতম ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে বর্তমান মেয়র এমএ মান্নান ও আওয়ামী লীগ নেতা আজমত উল্লাহর ভূমিকা। অতীতে নানা নির্বাচনে কাউলতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদর আসনের এমপি, চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী এবং সর্বশেষ গাজীপুর সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এমএ মান্নান। ফলে গাজীপুর সিটির উত্তরাংশের সাবেক পৌর এলাকাসহ কাউলতিয়া ইউনিয়নে ব্যাপক প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে তার।
ওই এলাকায় তার নিজস্ব ভোটব্যাংক থাকার প্রমাণ দিয়েছেন বিগত নির্বাচনে। এছাড়া মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে বারবার কারাগারে পাঠানো এবং মেয়রের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটানোর কারণে তার প্রতি সহানুভূতি রয়েছে নগরবাসীর। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর গাজীপুরে আওয়ামী লীগের ইতিহাস আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে প্রথম ব্যাচের ছাত্র আজমত উল্লাহ খানের রাজনীতি এক সুতোয় গাঁথা। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন সক্রিয়ভাবে। গাজীপুরের প্রতিটি অলি-গলি ও রাজপথ ঘুরে সংগঠনকে গড়ে তুলেছেন তিনি। তরুণ বয়সে টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন পরপর তিনবার। নগরীর প্রতিটি পাড়া ও অলিগলিতে আছে তার অবাধ বিচরণ। তিনবার গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী এ নেতা বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। সর্বোপরি বিগত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ফলে নির্বাচনে প্রবীণ এ দুই নেতার অনুসারীরা পুরোমাত্রায় সক্রিয় না হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভোটের চিত্রে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলের প্রার্থীর জন্যই তাদের পূর্বসূরিদের সমর্থন আদায় জরুরি। এ ক্ষেত্রে যিনি সফল হবেন বিজয়ী হওয়ার সুযোগ বাড়বে তার। এদিকে মেয়র পদে থাকায় নির্বাচনী বিধির কারণে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছেন না মেয়র মান্নান। তবে তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিএনপি নেতারা দলের নানা কমিটিতে যুক্ত হয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে আজমত উল্লাহকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও প্রধান এজেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি সে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে এই দুই নেতাকে নিয়ে এখনও নানা গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে। তাদের আন্তরিকতা এবং তাদের অনুসারী নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা নিয়ে আলোচনা থামেনি। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। আজমত উল্লাহ নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় হলেও নির্বাচনী আচরণ বিধির কারণে মেয়র মান্নান একদম চুপ।
গাজীপুরে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক: মান্নান
নির্বাচনী বিধির কারণে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেয়ার সুযোগ নেই গাজীপুরের মেয়র এমএ মান্নানের। নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন এড়াতে ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন তিনি। প্রচারণায় সরাসরি অংশ নিতে বাধা থাকলেও অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনার ক্ষেত্রে সে বাধা নেই। কিন্তু দিনের বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে তার মোবাইল ফোন। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দলীয় নেতাকর্মী বা গণমাধ্যম কারও সঙ্গে কথা বলেন না। কয়েকদিন ধরে অব্যাহত চেষ্টার পর গতকাল দৈনিক মানবজমিন-এর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মেয়র মান্নান বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আমার কোনো ভূমিকাই নেই। নির্বাচনী বিধির কারণে কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগও নেই। আমি চাই, গাজীপুরে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, নগরবাসী ভোট দেয়ার সুযোগ পাক। নির্বাচনের আগে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। ক্ষমা করবেন। তার ঘনিষ্ঠ নেতা বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে মেয়র হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ ও গণমাধ্যমে কথা বলতে পারছেন না এমএ মান্নান। তবে তার লোকজন বসে নেই। দলের তরফে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেভাবে তারা কাজ করছেন। বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, জেলা বিএনপি নেতাদের মধ্যে মেয়র মান্নানের অনুসারী হিসেবে পরিচিতরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয়। বিশেষ করে টঙ্গীতে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর সদর থানা বিএনপির সভাপতি নাজিম আহমেদ চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বশির আহমেদ বাচ্চু দিনরাত নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
দলের অর্পিত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করব: আজমত
আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন আজমত উল্লাহ। যিনি বিগত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী করেছিলেন। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দলের মনোনয়ন, প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণাসহ সার্বিক বিষয়ে তিনি দৈনিক মানবজমিন-এর কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর এখন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তার ভূমিকা কেমন হবে- এ প্রশ্নে আজমত উল্লাহ বলেন, আমি মনোনয়ন পেলে যেভাবে কাজ করতাম, এখনও তেমনটিই করব। এ অঙ্গীকার আমি আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সামনে করে এসেছি। সে অনুযায়ীই দায়িত্ব পালন করছি। তিনি বলেন, আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু দল যাকে সুইটেবল মনে করেছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। নেত্রীর নেতৃত্বে আমাদের দলের মনোনয়ন বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও সমর্থন আছে। সেটা আমি মেনে নিয়েছি। আজমত উল্লাহ বলেন, আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, দলের সাধারণ সদস্য হলে দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে একটি অঙ্গীকার করি। দলের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও আনুগত্য রয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আজমত উল্লাহ বলেন, আমাকে দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। আমি সে দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে দলের সমন্বিত প্রচারণা জোরদার না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আজমত উল্লাহ বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নামেনি বা জেলা আওয়ামী লীগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে না- এসব আসলে অপপ্রচার। আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশিরভাগই এমপি বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। নির্বাচনী আচরণবিধি মান্য করার কারণে তারা গণসংযোগে নামছেন না। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের নিয়মিত পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। আহমদ হোসেন, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, অসীম কুমার উকিলসহ শ্রমিক লীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা প্রচারণার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আমাদের দলের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, কোনভাবেই যেন নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘিত না হয়। দেখুন, গাজীপুরের মেয়র বিএনপি নেতা এমএ মান্নানও কিন্তু এ বিধির কারণে প্রচারণার মাঠে নামতে পারেননি। গাজীপুরের রাজনীতিতে সরকার পরিবারের প্রভাব ও বিএনপি’র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের অভিজ্ঞতার বিপরীতে আওয়ামী লীগ দলীয় তরুণ প্রার্থী ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন এমন প্রশ্ন রয়েছে নগরজুড়ে। এ ব্যাপারে আজমত উল্লাহ বলেন, জাহাঙ্গীর আলম তারুণ্যের প্রতিনিধি। এছাড়া সিটি করপোরেশনের মধ্যেই তার নিজের এবং মামাবাড়ি। ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে আমাদের প্রার্থী কোনভাবেই পিছিয়ে নেই। আজমত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ সর্বক্ষেত্রে সামনের দিকে এগোচ্ছে। আগে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়নি, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন।
ফলে বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রভাব অবশ্যই গাজীপুর সিটি নির্বাচনে পড়বে। উন্নয়নের স্বার্থে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের অসন্তুষ্টি রয়েছে- এমন গুঞ্জনের ব্যাপারে তিনি বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের মধ্যে যারা আমাদের সমমনা বা নিরপেক্ষ তাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি। তারা সাড়া দিচ্ছেন। নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের ভূমিকা কেমন হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে আজমত উল্লাহ বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কিন্তু গাজীপুরে বিরাজমান। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। তারা পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে পারবে। তারপরও নির্বাচন কমিশন কোন সহায়তা চাইলে আওয়ামী লীগ, আমাদের প্রার্থী এবং আমরা সে সহায়তা করব। শান্তিপূর্ণভাবে গাজীপুর সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা ইতিহাস গড়তে চাই। তিনি বলেন, আমরা গাজীপুরকে একটি পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হলে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নগরকে তিনটি জোনে ভাগ করে, নগরবাসী এবং নগরবিদদের মতামতের ভিত্তিতে সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পদক্ষেপ নেয়া হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিত উপায়ে, সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে বসবাস উপযোগী একটি নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

আবারো ঝাঁজ বেড়েছে পিয়াজের

রমজান শুরুর আগে আবারো পিয়াজের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারগুলোতে পিয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। বেড়েছে পাইকারি বাজারেও। অন্যদিকে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে সবজির দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া বেগুনের দাম আরো এক দফা বেড়ে কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছে গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আরো বাড়তে পারে। আর পাইকাররা বলছেন, বাজারে কোনো মানিটরিং না থাকায় ইচ্ছেমতো পিয়াজের দাম হাঁকাচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ বেশি থাকা সত্ত্বেও বাড়তি দাম নিচ্ছে বিক্রেতারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান আসছে। রোজা এলেই একশ্রেণির অসাধু মুনাফালোভী মজুতদার ও ব্যবসায়ীরা কৌশলে পণ্যের দাম বাড়ায়। তা না হলে তিনদিনের ব্যবধানে কেন পিয়াজের দাম ১০ টাকা বাড়বে? রাজধানীর কাওরানবাজার, সেগুনবাগিচা এবং হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে বাজারগুলোতে দেশি পিয়াজ মান ভেদে বিক্রি হয়েছে ২৮ থেকে ৩৫ টাকায়, আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। কিন্তু এখন এক কেজি দেশি পিয়াজ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। কোথাও কোথাও আবার ৫০ টাকায় বিক্রিরও খবর পাওয়া গেছে। আর আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। যদিও গত বছরের এ সময়ে বাজারে দেশি পিয়াজের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকা আর আমদানি করা পিয়াজের দাম ছিল ২৩ থেকে ২৫ টাকা।
কাওরানবাজারে কাইকারি প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা আর আমদানি করা পিয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। সেই হিসাবে দেশি পিয়াজের কেজি ৪৪ টাকা আর আমদানি করা পিয়াজের কেজি পড়ছে ২৮ টাকা। ঠিক এক সপ্তাহ আগে কারওয়ানবাজারে কেজিপ্রতি দেশি পিয়াজ ছিল ৩৪ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজ ছিল ২৫ টাকা। এই বাজারের পিয়াজ বিক্রেতা সাদেকুল বলেন, মাঝখানে কিছুদিন দাম স্থিতিশীল ছিল। এখন মোকামে দাম বাড়তে শুরু করেছে। খুচরা বাজারে এর সঙ্গে আরো যুক্ত হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক মাসে পিয়াজের দাম বেড়েছে গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ। এ সময়ে দেশি পিয়াজের দাম ১০.৬৭ শতাংশ এবং আমদানি করা পিয়াজের দাম বেড়েছে ৮.৩৩ শতাংশ। টিসিবি হিসাবে, বাজারে এখন দেশি পিয়াজের দাম ৪০-৫০ টাকা, যা এক মাস আগের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।
পিয়াজের পাশাপাশি আমদানি করা রসুনের দামও কেজিতে অন্তত ৩০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই খুচরায় দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে দেশি রসুন আগের মতোই প্রতিকেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে চীনা রসুন প্রতিকেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে গিয়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। চলতি সপ্তাহে চীনা রসুনের দাম প্রতিকেজি ১২০ টাকা। রসুনের মতো বিভিন্ন মানের আদার দামও গত দুই সপ্তাহে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শ্যামবাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মহসিন উদ্দিন ভুলু মিয়া বলেন, অন্যান্য সময় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়। গত সপ্তাহে মাত্র ৪ থেকে ৫ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। সেকারণেই এখন দামটা একটু বেশি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে। ভুলু মিয়া বলেন, বাংলাদেশের পিয়াজের বাজার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রপ্তানির উপর নির্ভর করে। তারা রপ্তানি কমিয়ে দিলেই বেড়ে যায় বাংলাদেশের পিয়াজের বাজার।
এদিকে বাজারে বেশির ভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। ৫০ টাকা কেজির নিচে শুধু করলা ও পটল মিলছে।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে টমেটো, লাউ, করলা, পটল, ঢেঁড়স, বরবটির সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তবে রোজার আগে হওয়ায় এখন সব সবজির দামই চড়া।
বেগুনের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর রমজান আসার আগেই বেগুনের চাহিদা ও দাম বেড়ে যায়। এবারও সেটাই হয়েছে। তবে বাজারে সাদা ও লাল গোল বেগুনের দাম কম হলেও লম্বা বেগুনের চাহিদা বেশি। সবজি বিক্রেতা তসলিম বলেন, গত সপ্তাহে যে বেগুন ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, তা ৮০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আড়তে বেগুনের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে সমনের সপ্তাহে দেখবেন বেগুন ১০০ টাকা হয়ে গেছে।
এদিকে গত সপ্তাহে ৩৫-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে দাম বেড়েছে অন্য সবজিগুলোর। ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বরবটি ও ঢেঁড়সের দাম বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা হয়েছে। ৪০ টাকার শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম বেড়ে ৪০-৫০ টাকা হয়েছে। ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। আর ৩০ টাকার শসার দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। তবে লাল শাক, সবুজ ডাঁটা শাক, পাট শাক, কলমি শাক আগের সপ্তাহের মতো ৫-১০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। পুঁইশাক বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়।
বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭০ টাকায়। এ ছাড়া ৬৪ টাকা ও ৬৫ টাকা দরেও ছোলা বিক্রি হচ্ছে। কাবলি বুট প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খেসারি ডাল কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা, ডাবলি ৩৮ টাকা, মসুর ডাল ৫৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানে চাহিদার শীর্ষে থাকা খেজুরের দামও স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে এখন সবচেয়ে ভালো মানের খেজুর বা মরিয়ম খেজুরের কেজি ৭৫০ টাকা, তিউনিশীয় খেজুর ৩৮০ টাকা, দাবাস খেজুর ২৪০ টাকা এবং খোলা খেজুর ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পুলিশের হাতে ৪ ক্লু by ইব্রাহিম খলিল

তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জা ও
তাসফিয়া আমিন
চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের মৃত্যু রহস্যের কূল-কিনারা এখনো করতে পারেনি পুলিশ। তাসফিয়া খুন হয়েছে নাকি আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে ফিরোজ নামে এক যুবলীগ নেতাকে খুঁজছে পুলিশ। সে সঙ্গে একটি আংটি, অটোরিকশা চালকের সন্ধান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ মৃত্যু রহস্য উন্মোচিত হবে বলে পুলিশের ধারণা।
পুলিশের তথ্যমতে, ১লা মে বিকালে তাসফিয়া নিখোঁজের পর তার মায়ের ফোন পেয়ে আদনান তাদের বাসায় যায়। এ সময় তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন প্রথমে আদনানকে নিয়ে চায়না রেস্টুরেন্টে যান। সেখান থেকে আবারও বাসায় আসেন। সেখানে আদনানকে আটকে রাখেন তিনি।
খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা ফিরোজ ও যুবলীগ কর্মী আকরাম তাসফিয়াদের বাসায় আসেন। এ সময় আদনানকে ছেড়ে দিতে সময় বেঁধে দেন তারা। পরে দুই ঘণ্টার মধ্যে তাসফিয়াকে বাসায় ফেরত দেয়ার কথা বলে আদনানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর লাপাত্তা হয়ে যান তারা।
ওই রাত শেষে বুধবার সকালে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নেভাল একাডেমির অদূরে ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করলেও দুপুর ২টার সময় পরিচয় মিলে।
তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে আসে এই কিশোরীর ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। নিহত তাসফিয়ার পিঠ, বুক ও সপর্শকাতর অঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটো নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।
৩রা মে দুপুরে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন কন্যা হত্যার অভিযোগে আদনান মির্জা ও সুনির্দিষ্ট ছয়জনকে আসামি করে পতেঙ্গা থানায় মামলা করেন। ওই মামলার ষষ্ঠ নম্বর আসামি ফিরোজ।
তিনি প্রধান আসামি আদনান মির্জার বড় ভাই। ফিরোজের পরিচালিত রিচকিডস নামের গ্যাং স্টারের (এডমিন) প্রধান আদনান। আর বাকি ৫ আসামি সেই গ্যাং স্টারের ক্যাডার।
পুলিশ জানায়, যুবলীগ ক্যাডার ফিরোজ অস্ত্রসহ এক সময় র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিল। ভারতে বন্দি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাজ্জাদের সহযোগী সে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০১৩ সালের জুলাই মাসে অস্ত্রসহ দুবার আটক হয় পুলিশের হাতে।
জেল থেকে বেরিয়ে ২০১৫ সাল থেকে ফিরোজ যুবলীগের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়। সে সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের ছবি ব্যবহার করে বিলবোর্ড টাঙিয়ে সমালোচনায় আসে ফিরোজ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের চাঁদাবাজি ও খুনের অপারেশনে সক্রিয় ছিল ফিরোজ। এক সময় যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিলেও সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো সাজ্জাদ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ফিরোজের মাধ্যমে।
এছাড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাসফিয়া যে অটোরিকশায় উঠেছিলেন, সেই অটোরিকশায় করেই তিনি পতেঙ্গায় পৌঁছান। সেই অটোরিকশায় তাসফিয়া এক থেকে দেড় ঘণ্টার মতো ছিলেন। এই সময়ে কোনো ফাউল প্লে হয়েছিল কি না পুলিশ সেটা খতিয়ে দেখছে।
এছাড়া রেস্টুরেন্টের ভিডিও ফুটেজে তাসফিয়ার আঙুলে একটি সোনার আংটি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, তাসফিয়া ওই আংটি অটোরিকশা চালককে দিয়ে ভাড়া মিটিয়েছে।
৪ঠা মে নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। এরপর সন্ধ্যায় পতেঙ্গার নেভাল এলাকায় গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তাসফিয়া গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যে অটোরিকশায় উঠেছিলেন সেটি আনুমানিক একশ গজ দূরে মেডিকেল সেন্টারের সামনে গিয়ে থামে এবং তাসফিয়া নেমে যান। সেখানে ৭ সেকেন্ড অপেক্ষার পর তাসফিয়া আবারও অটোরিকশায় উঠলে সেটি চলতে শুরু করে। ৬টা ৪৮ মিনিটে অটোরিকশাটি জিইসি মোড়ের দিকে যাত্রা করে। এরপর রাত সোয়া ৮টায় তাসফিয়াকে নেভালে পাথরের ওপর একাকী বসে থাকতে দেখা গেছে।
তিনি বলেন, এ থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, তাসফিয়া যে অটোরিকশায় করে চায়না গ্রিলের সামনে থেকে রওনা হয়েছিলেন, সেই অটোরিকশাতেই পতেঙ্গায় পৌঁছেন। এর মধ্যে তাসফিয়া বাসার দিকে যায়নি, এটাও আমরা নিশ্চিত হয়েছি।
সূত্রমতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পরও পুলিশ সিএনজি অটোরিকশার নম্বর পেতে ব্যর্থ হয়েছে। অটোরিকশাটি চিহ্নিত করতে পারলেও প্রতিটি ফুটেজে অতিরিক্ত আলোর কারণে নম্বরটি পাওয়া যায়নি।
জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, তাসফিয়ার আংটি, অটোরিকশার চালক এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও আদনানের রিচ কিডস গ্যাং ও কথিত বড় ভাই ফিরোজকে নিয়ে কাজ করছি। এছাড়া আরো কিছু ক্লু মিলেছে যেগুলো এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বুধবার (২রা মে) সকালে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ১৮ নম্বর ব্রিজঘাটের পাথরের ওপর থেকে সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের (১৬) মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাসফিয়ার প্রেমিক আদনান মির্জাকে আটক করে। আদনান মির্জা বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মির্জার ছেলে।

খুলনা সিটি নির্বাচন: নিরাপত্তার শঙ্কায় ভোটাররা by রাশিদুল ইসলাম

খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ থাকবে কি-না- এটা নিয়েই উদ্বেগ বেশি ভোটারদের। এরপর ভোট দিতে গিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যে পড়তে হয় কি-না- তা নিয়েও দুশ্চিন্তা তাদের। আর প্রার্থীদের দুশ্চিন্তা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে। ভোটাররা ভোট সঠিকভাবে দিতে পারবেন কি-না, সেই ভোট সঠিকভাবে গুনে-বুঝে নেয়া যাবে কি-না, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট কতটুকু নিয়ন্ত্রণে থাকবে- এসব নিয়ে উদ্বেগ তাদের। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা আজ রোববার বিকেল তিনটায় বয়রাস্থ সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের  সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগদান করবেন। সভায় বিশেষ অতিথি থাকবেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। খুলনা মহানগরীর ৩১ নং ওয়ার্ডের ভোটার চায়ের দোকানদার মকবুল মোল্লা বলেন, দলে দলে সন্ধ্যার পরে যেভাবে মোটর সাইকেলে লোকজন আসে তাতে আমরা ভীতু হয়ে পড়ছি। আর এসব পোলাপান তো আমাদের এলাকার না। এদেরকে তো আমরা কেউ চিনি না। ভোটের দিন যদি এরা এইভাবে আসা যাওয়া করে তবে, বউ বাচ্চা দিয়ে ভোট দিতে যাব কি না তাই চিন্তা করছি।
একই এলাকার ভোটার ভ্যানে করে সবজি বিক্রেতা আবদুস সাত্তার ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে আস্তে আস্তে বলেন, ভোট দিতে না গেলেও নাকি ভোট হয়ে যাবে। পোলাপানরা বলছে-কাকা কষ্ট করে আর ভোট কেন্দ্রে যাওয়া লাগবে না। তবে, ধানের শীষের লিফলেট দিতে এসে এক যুবক বাড়িতে বলে গেছে- ‘ভয় নাই ভোট দিতে যাবেন’। জানি না কি করবো।
২৭ নং ওয়ার্ডের পূর্ব বানিয়া খামার এলাকার ভোটার বয়োবৃদ্ধ দিনমজুর নজু মিয়া বলেন, বাবা ভোট দিতে রাজি আছি। কিন্তু শেষ বয়সে ভোটের জন্য জীবন দিতে পারবো না। যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে ভোট দিতে যাবো। কিন্তু মারামারি হলে আর যাবো না।
একইভাবে ইজিবাইক চালক খালেক তার সাথে সুর মিলিয়ে বলেন, ভোট হবে তো? যদি হয় তবে ভোটকেন্দ্রে যাবো। চাঁদাবাজদের চাঁদা দিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়ে বাচ্চা কাচ্চাদের নিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর। আমরা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবো কি না তা বর্তমান অবস্থাতে বোঝা যাচ্ছে না। দেখি আর কয়েকদিন যাক।
১৭ নং ওয়ার্ডের হাফিজ সড়কের ভোটার পান দোকানদার আবদুল কুদ্দুস বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় অপরিচিত লোকের আনাগোনা বেড়ে যায়। এদের আচার-আচরণ দেখে তাদের নাম ঠিকানা জানতেও সাহস পাই না। কারণ অকারণে রাস্তায় জটলা করে চেঁচামেচি করতে থাকে। অনেক সময় একে অপরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালিও দেয়। আগে এদেরকে কখনও দেখিনি। এলাকার মুরব্বীদের কাছে বললে তারা বলেন ১৫ তারিখ পর্যন্ত এ সব জ্বালা সহ্য করা লাগবে। বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এজেন্ট ও জেলা সভাপতি এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, কেসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে বিএনপি’র কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন খুলনায় এখনও সে অবস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি। উপরন্তু,  অকারণে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তার করে নির্বাচনী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে বিএনপিসহ সচেতনমহল শঙ্কায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন বলেন, নৌকার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু একের পর এক মিথ্যাচার করে জনগণের আস্থা অর্জনের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।  বিগত দিনে বিএনপির ব্যর্থতা সম্পর্কে নগরবাসী অবগত। তাই সাধারণ নাগরিকরা বিএনপি’র অপকৌশলের ফাঁদে পা দেবে না।
কেএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া উইং-এর প্রধান) সোনালী সেন বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত করতে সহিংসতার পথ বেছে নিলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’ গত বুধবার দিনগত রাতে পুলিশের অভিযানে বিএনপি’র ২১ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারের পর সৃষ্ট পরিবেশ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পৃথক প্রেস ব্রিফিং করেছে। তাতে একে অন্যের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করা হয়। সেই সঙ্গে দুই দলের নেতাকর্মীদের মাঝে হামলা ও মামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
খুলনার নাগরিক নেতা এডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘নির্বাচনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র বাকযুদ্ধ উত্তাপ ছড়াতে থাকে। যা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে সেই পরিবেশ। এখন প্রশাসনের পক্ষে নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। যা নগরবাসীর জন্য ভাবনার অন্যতম কারণে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আলমনগরে বিএনপি নেতাকর্মীর উপর হামলা করে। এতে বিএনপি নেতা আবদুস সামাদ ও ছাত্রদল নেতা আল আমিন তালুকদারসহ ৭ জন আহত হয়। এ ঘটনায় উল্টা আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুুল হান্নান বাদী হয়ে বিএনপি’র ১১ নেতা-কর্মীর নামে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় হান্নান অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রচারণার সময় তাকে মারধর ও নৌকা প্রতীক ভাঙচুর করে।
মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলম বলেন, ‘গণসংযোগ চলাকালে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ মিছিল বের করে বিএনপি’র গণসংযোগে চড়াও হয়। এ সময় বিএনপি’র সাত কর্মী আহত হন। পুলিশ সবই জানে। কারণ, তারাই পরিস্থিতি শান্ত করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ততার কারণে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করছেন। বিএনপি অবশ্যই এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবে।’
বিএনপি’র  ৭ নেতা-কর্মী  গ্রেপ্তার: খুলনা জেলা পুলিশ শুক্রবার বিকালে এবং রাতে জেলার রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলা থেকে বিএনপি’র ৭ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও কেসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা জানান, গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীরা গত কয়েকদিন যাবত কেসিসি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন। পুলিশ তাদেরকে প্রচারণায় অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার জন্যে গ্রেপ্তার  করেছে। তিনি এসব গ্রেপ্তারির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জেলা বিএনপি’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রবি, রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান ঝনো, নৈহাটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবাদুল ইসলাম, রহিমনগরের বিএনপি কর্মী জহর আলী ও মনা, দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক কামাল হোসেন এবং সেনহাটির ইউপি মেম্বর মোহাম্মদ আলী মিন্টু।
কেসিসিতে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মনিরুজ্জামান
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমান মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ৯৫ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টাকা ৭২ পয়সা রেখে গিয়ে ৭শ্থ কোটি টাকার বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।  গতকাল শনিবার নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে কেসিসি’র মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, কেসিসি’র নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের কাছ থেকে নগরবাসী সত্য ভাষণ ও কমিটমেন্ট আশা করেন। নগরবাসী তথা ভোটারদের কাছে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। মেয়র মনিরুজ্জামান লিখিত বক্তব্যে বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০১৮ প্রচারণাকালে মেয়র প্রার্থীগণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর এ সকল প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হলে খুলনা মহানগরীর নাগরিক সুবিধা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং বিভাগীয় শহর খুলনা অর্থনৈতিক, সামাজিক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে সামগ্রিকভাবে এই এলাকার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মহানগরী উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলি টেকসই হতে হবে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে খুলনা মহানগরীকে মানুষের বসবাসের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের এ সকল বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে সম্প্রতি কেসিসি’র সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক তার দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে ৭শ’ কোটি টাকা রেখে গেছেন বলে প্রচার করছেন। কথাটি সত্য নয়। তিনি ২০১৩ সালের ৯ই মে মেয়র পদ হতে পদত্যাগ করেন। ১৩ সালের ১৫ই জুন অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। তবে পরিষদের কাউন্সিলরগণ একই বছর ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল ছিলেন। ঐ সময়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৮ নং ওয়ার্ডের পরাজিত কাউন্সিলর আজমল আহমেদ তপন মেয়রস প্যানেলের এক নম্বর সদস্য থাকায় আইনগত কারণেই দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ১৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে আমি বিজয়ী সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরবৃন্দদের সাথে নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব হস্তান্তরের স্বাক্ষরিত কাগজে সিটি করপোরেশনের ক্যাশভল্টে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক বিবরণী অনুযায়ী ৯৫ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টাকা ৭৩ পয়সা স্থিতির উল্লেখ ছিল। এ সম্পর্কিত সেই দিনকার দায়িত্ব অর্পণ ও গ্রহণকারী সভায় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগকালে কেন্দ্রীয় নেতারা
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে জিয়া পরিবারের অবদান কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বিশেষত নারী ও শিক্ষার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আজ অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রাখা অপশক্তি মিথ্যা মামলায় সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান একজন নারী খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে। মিথ্যা বানেয়াট প্রচারণায় তারেক রহমানকে বিতর্কিত করছে। তিনি বলেন, দেশমাতার মুক্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামকে তরান্বিত করতেই বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আর এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দক্ষিণ বঙ্গের সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি বলেন, খুলনার সার্বিক উন্নয়নে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কোনো বিকল্প নেই। আগামী ১৫ই মে নগরবাসী তাদের যোগ্য প্রতিনিধিকে বেছে নেবে। মেজর হাফিজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন। মাগরিবের নামাজের পর কর্মসূচি শুরু হয়। তিনি পায়ে হেঁটে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান এবং ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। গণসংযোগের এক পর্যায়ে কর্মসূচিতে এসে যোগ দেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন, যশোর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বানিয়া খামার ক্লাবের মোড়ে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। এ সময় কাউন্সিলর প্রার্থী মনিরুল ইসলাম ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী শামসুন নাহার লিপিকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত ৩১ নং ওয়ার্ডের লবণচরা, বান্দাবাজার, ক্ষেত্রখালী খালপাড়, চুমকি রোড, ইসলামপাড়া ও জিন্নাহ্‌ পাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন। এরপর বউবাজার ও মুক্তার খালপাড়ে পৃথক দুই পথসভায় বক্তৃতা করেন। পাটকল শ্রমিকদের মজুরি কমিশন ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শুক্রবার বিকালে নগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ক্রিসেন্ট জুটমিল গেটে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান তিনি। কেসিসি নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সাবেক হুইপ মুজিবর রহমান সারোয়ার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জোট নেতা সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু, মুজিবর রহমান এইচএম ডালিম, আবু তাহের মজুমদার, দীন মোহাম্মদ, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, আবুল কালাম জিয়া, আসাদুজ্জামান আসাদ, মোহাম্মদ হোসেন, মোকসেদুল আলম প্রমুখ। এর আগে নেতৃবৃন্দ বিআইডিসি রোড এলাকায় ধানের শিষের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত জিয়া পরিষদ খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হুমায়ূনের নেতৃত্বে জেলা ও মহানগর জিয়া পরিষদ খালিশপুর পিপলস গোল চত্ব্বর, ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশুপার্ক ও হাজী মো. মহসিন কলেজের সামনে গণসংযোগ লিফলেট বিতরণ করেন এবং ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের মাঝে বিভিন্নভাবে যুক্তি উপস্থান করেন। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে শুক্রবার নগরীর ডাকবাংলো, সিমেট্রি রোড, পিকচার প্যালেস ও থানার মোড়, কেডি ঘোষ রোড এবং হেলাতলা এলাকায় কয়েকজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র শিল্পী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, জাকির হোসেন রোকন, খলনায়ক আজাহার আলী চৌধুরী শিবা সানু, মোহাম্মদ ফেরদৌস ফকির, আমির হোসেন বাবু, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুর মিয়া, চিত্র নায়িকা শাহ নূর, শেখ তরিকুল ইসলাম তরু, শাহনাজ পারভীন, সরোয়ার হোসেন, আক্তার হোসেন লাবু, মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

ইসরাইল প্রতিরক্ষার দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে: ইরান

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামাজান শরিফ
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র প্রভাবশালী কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামাজান শরিফ বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে চলমান আন্দোলনে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের তরুণরা শামিল হওয়ায় তাদের সংগ্রাম নতুনকরে শক্তি পেয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামাজান শরিফ ইরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের ইন্তিফাদা ও কুদস বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করছেন। ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার যে আন্দোলন শুরু করেছে তা তাদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী চেতনা আরও জোরদার করবে বলে তিনি জানান।
রামাজান শরিফ আরও বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের ষড়যন্ত্রের জন্য আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলকে চড়া মূল্য দিতে হবে। মুসলিম উম্মাহর দৃঢ়তা এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। 
এ সময় তিনি বিশ্ব কুদস দিবসে ইসরাইল বিরোধী মিছিলে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আহ্বানে প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কুদস দিবস পালিত হয়ে আসছে।