Sunday, January 6, 2019

কূটনীতিকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক: সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চাপ প্রয়োগের আবেদন রেখেছি: ড. কামাল

একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে  কূটনীতিকদের   কাছে আবেদন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে গতকাল গুলশানে হোটেল আমারি ঢাকায় এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। ড. কামাল বলেন, নির্বাচনের অনিয়ম ও সহিংসতার তথ্য উপাত্ত আসমা কূটনৈতিকদের কাছে তুলে ধরেছি।
আমরা যেগুলো বলেছি, তথ্য দিয়েছি তারা সেগুলো দেখেছেন এবং একসেপ্ট করেছেন। আমরা বলেছি সব রাষ্ট্র আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। উনারা বাংলাদেশের মানুষের মঙ্গল চেয়েছেন। এ দেশের মানুষ যেন সুন্দরভাবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থাকতে পারে, শান্তি শৃঙ্খলা থাকে ও আইনের শাসন থাকে সেটাই চেয়েছেন। আমরা বলেছি, কূটনীতিকরা আমাদের জন্য যেটা চান আমরাও সেটাই চাই।
মানুষের গণমত যাচাই করলে দেখা যাবে তারাও চায়- দেশে শান্তি শৃঙ্খলা থাকুক। মানুষ কাজ কর্ম করে বেচে থাকুক। তিনি বলেন, ৩০শে ডিসেম্বর ভালোমতো নির্বাচন হলে সেই জিনিসটাই প্রতিষ্ঠা করা যেত। এখন আমাদের কথা হল- নির্বাচনে যা হয়েছে, হয়েছে। এখন একটা ভালো নির্বাচন দিয়ে একটা সুন্দর সমাজ গড়ার সুযোগ দেয়া হোক। আমরা কূটনীতিকদের কাছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই সরকারকে চাপ প্রয়োগ করার আবেদন রেখেছি। তারা না বলেননি। আমরা বলেছি, সবাই যেন গঠনমূলক একটি ভূমিকা রাখতে পারি সেই জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ না হলেও তো যুক্তি দিয়ে বুঝাতে পারেন।
এর আগে বিকেল সোয়া ৪টায় কূটনৈতিকদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। চলে প্রায় দেড় ঘন্টা। বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ফ্রন্টের  মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকে অংশ নেয়া প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, আফরোজা আব্বাস, কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা অংশ নেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড আর্ল মিলারসহ যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ ৩০টি বেশি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ফ্রান্স, সুইডেন, স্পেন, জার্মানী, নরওয়ে, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইতালী, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকার কুটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ড. কামাল হোসেন নির্বাচনের অনিয়ম ও নির্বাচনের আগে এবং পরের ঘটনা তুলে ধরেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে কথা বলেন। কূটনীতিকদের কাছে ভোটের নানা অনিয়মের একটি ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া, ভিডিওর সিডি ও তথ্য প্রমাণের কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়।

ইসলামি বিপ্লবের ৪০ বছর: বিপ্লবের আগে ও পরে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের গত ৪০ বছরের ইতিহাস নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভরপুর। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান প্রচারের পদক্ষেপ নিয়েছি। ধারাবাহিক এ আলোচনার প্রথম পর্বে আমরা ইসলামি বিপ্লবের আগে ও পরে ইরানের পররাষ্ট্র নীতির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করব।
ইসলামি বিপ্লবের আগে স্বৈরাচারী পাহলভি শাসনামলে ইরানের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি বলতে কিছু ছিল না এবং তৎকালীন শাসক বিদেশীদের ক্রীড়নক বা সেবাদাসে পরিণত হয়েছিল। দ্বিতীয় পাহলভি শাসকের পররাষ্ট্র নীতি মূলত আমেরিকা ও ব্রিটেনের দ্বারা পরিচালিত হত। এ ছাড়া, ইরান সরকারের গঠন কাঠামোর মধ্যেও বিশেষ করে দেশটির সংসদ ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে আমেরিকা সরাসরি হস্তক্ষেপ করত। স্বৈরাচারী শাহ সরকারের শাসনামলে ইরানের ওপর আমেরিকার প্রভাব এতটা বেশি ছিল যে, ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর মার্কিন সরকার ইরানে ক্যাপিচুলেশন আইন বাস্তবায়ন করার ধৃষ্টতা দেখায়। বিশ্বের ইতিহাসে এই আইন বাস্তবায়নকারী দেশের নজীর নেই বললেই চলে। এই আইনে বলা হয়, ইরানে অবস্থানরত আমেরিকার নাগরিকরা কোনো অপরাধ করলে এমনকি কাউকে খুন করলেও তাকে ইরানের আইনে বিচার করা যাবে না বরং তাকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে হবে।
রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে রেজা শাহ
সে সময় শাহ সরকারের সঙ্গে আমেরিকার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এত বেশি বেড়ে যায় যে, মার্কিন সরকারের আঙুলের ইশারায় ইরানের সরকার চলতে থাকে। তৎকালীন ইরান সরকার পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। সেসময় ইরান ও সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার পক্ষে পুলিশি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নে অন্যতম হাতিয়ার বা স্তম্ভ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় পাহলভি সরকার এতোবেশি গর্বিত ও খুশী হয়েছিল যে তারা নিজেকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ভাবত। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দ্বিতীয় পাহলভি শাসক অর্থাৎ মোহাম্মদ রেজা শাহ ১৯৬৯ সালের অক্টোবরে আমেরিকা সফরে যান। রেজা শাহ আমেরিকা পৌঁছার পর প্রেসিডেন্ট নিক্সন তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং রেজা শাহের 'স্বেত বিপ্লব'এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট নিক্সন বলেন, রেজা শাহের 'স্বেত বিপ্লব' উন্নয়নে আগ্রহী সব দেশের জন্যই দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। নিক্সন আরো বলেছিলেন, ইরান ও আমেরিকার সম্পর্ক অতীতে কখনোই এতোটা ভালো ছিল না। বিশেষ করে শুধু দেশ নয় বরং একজন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের এ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের ব্যাপারে নিক্সনের ওই বক্তব্য আমেরিকার সঙ্গে সৌদি আরবের বর্তমান সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়। কারণ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্কের ধরনটাও নিক্সন ও রেজা শাহের মতোই।
আমেরিকার স্বার্থ দেখাশোনা করা ও তাদের সেবাদাসে পরিণত হওয়া ছিল ইরানের তৎকালীন শাসক রেজা শাহের পররাষ্ট্র নীতির অন্যতম একটি দিক। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সকল পরাধিনতা ছিন্ন করে পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে স্বাধীন নীতি গ্রহণ করে যা ছিল সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার জন্য বিরাট চপেটাঘাত। ইরানের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইয়্যেদ জালাল দেহকানি ফিরোজাবাদি বলেছেন, "ইসলামি ইরানের পররাষ্ট্র নীতির ভিত্তি হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা। আর এটাই ইরান ও আমেরিকাকে মুখোমুখি দাড় করিয়েছে।"
ইমাম খোমেনি
ইরানে ইসলামি বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনি(র.) বলেছিলেন, "আমেরিকা হোক কিংবা সোভিয়েত ইউনিয়ন হোক আমরা কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গেই আপোষ করব না।" ইরানের সংবিধানের ১৫২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, "ইরানের পররাষ্ট্র নীতি হবে আধিপত্যবাদ প্রত্যাখ্যান করা, দেশের সার্বাঙ্গীন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, আধিপত্যবাদী পরাশক্তিগুলোর ব্যাপারে জোটনিরপেক্ষ থাকা এবং যুদ্ধে জড়িত নয়-এমন দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ও বিশ্বের সব মুসলমানদের অধিকার রক্ষা করা।"
ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছর ধরে পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে ইরান এ নীতি মেনে চলছে। ইরান আমেরিকার নির্যাতনমূলক নিষেধাজ্ঞা সহ্য করলেও নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপোষ করেনি। আর এটাই ইরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অতীতের সব সরকারের ক্ষোভ ও অসন্তোষের বড় কারণ। ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য পরমাণু সমঝোতার মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতেও আমেরিকা কুণ্ঠাবোধ করেনি যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এমনকি ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞ ও সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনাকেও আমেরিকা উপেক্ষা করে চলেছে। কারণ সৌদি আরব হচ্ছে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র যে কিনা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ দেখাশোনা করছে অনেকটা ইরানের সাবেক রেজা শাহ পাহলভি সরকারের মতো। কিন্তু বিপ্লবের পর ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আসায় আমেরিকা ইরানের এক নম্বর শত্রুতে পরিণত হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের আগে রেজা শাহের শাসনামলে বিদেশি বিশেষ করে মার্কিন সামরিক উপদেষ্টাদের ব্যাপক আনাগোনা ছিল ইরানে। বলতে গেলে আমেরিকাই ইরানকে পরিচালনা করত। এ ব্যাপারে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আলি রেজা আযগান্দি এক নিবন্ধে লিখেছেন, " ১৯৫৩ সালের ৮ নভেম্বর ইরানে অভ্যুত্থানের পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকে আমেরিকা ইরানের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার নামে এদেশে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করা শুরু করে। ইরানে আমেরিকার সামরিক উপদেষ্টাদের সংখ্যা এতো বাড়ানো হয় যে, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের মাত্র এক বছর আগে ৪৫ হাজার মার্কিন উপদেষ্টা ইরানে উপস্থিত ছিল। এমনকি তাদের লাখ লাখ ডলারের বেতনও ইরানকে পরিশোধ করতে হত। ৪৫ হাজার মার্কিন সামরিক উপদেষ্টার উপস্থিতির ফলে ইরানকে বিপুল অংকের অস্ত্র আমেরিকার কাছ থেকে কিনতে হত। এসব অস্ত্র দিয়ে তৎকালীন রেজা শাহ সরকার মধ্যপ্রাচ্যে পুলিশি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল এবং মার্কিন নীতি বাস্তবায়ন করত।
হেনরি কিসিঞ্জার
১৯৭৪ সালের ৬ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের তেহরান সফরের সময় স্বৈরাচারী রেজা শাহের অর্থমন্ত্রী হুশাঙ্গ আনসারি বলেছিলেন, "ইরানের অতীতের শাসকরা বলতেন, আমেরিকার একার পক্ষে বিশ্বে তাদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে না এবং সে কারণে তাদের নির্ভরযোগ্য বন্ধুর প্রয়োজন হবে। তাই ইরান আমেরিকার সর্বোত্তম বন্ধু হতে পারে।"
আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার জন্য ইরানের রেজা শাহ যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে পুলিশি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল তাই স্বাভাবিকভাবেই ইরানের জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় না এনে মার্কিন জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নিজের পররাষ্ট্র নীতিকে ঢেলে সাজানো হয়েছিল। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বর্তমানে সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও। সৌদি আরব আমেরিকার কাছ থেকে বিপুল অংকের অস্ত্র কেনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং ওয়াশিংটনের নীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।  
ইসলামি বিপ্লবের আগে ও পরে ইরানের অবস্থানের দিকে লক্ষ্য করলে একটি বড় পার্থক্য চোখে পড়বে। আর তা হচ্ছে, বিপ্লবের আগে ইরানে ৪৫ হাজার মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ইরানে নিয়োজিত ছিল। কিন্তু বিপ্লবের পর আজ ইরান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে ও আত্মনির্ভরশীল হয়েছে। এমনকি ইরান আজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য অন্য দেশে সামরিক উপদেষ্টা পাঠাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইরাক ও সিরিয়ার কথা উল্লেখ করা যায়।

বাংলাদেশে ভোট, ইকোনমিস্টের দৃষ্টিতে

আওয়ামী লীগ চিত্তাকর্ষক একটি সংগঠন। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সংগঠনটির নেতৃত্বে যে আন্দোলন হয় তার মাধ্যমেই ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। গত এক দশকসহ স্বাধীনতার পর এই ৪৭ বছরের ১৯ বছরই দেশ শাসন করেছে দলটি। ৩০শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ফের ৫ বছর মেয়াদে ক্ষমতা পেয়েছে। ছোটখাটো কিছু মিত্র সমেত দলটি মোট আসনের ৯৬ শতাংশ লাভ করেছে। ক্ষমতাসীন জোট ২০১৪ সালে যত আসন পেয়েছিল, এবার পেয়েছে তার চেয়েও বেশি আসন। সেবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নির্বাচন বয়কটের কারণে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কমে যায়। অর্ধেকেরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয় পায় ক্ষমতাসীন জোট।
কিন্ত ২৯৯ টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে আওয়ামী লীগ ও দলের নেত্রী শেখ হাসিনার জয় কি এটাই বোঝায় যে, তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে? সেটা জানার আর কোনো উপায় নেই।
এই নির্বাচনে মাঠ এতটাই অসমতল ছিল, ভোটাভুটি এতটাই ত্রুটিপূর্ণ ছিল ও ভোটগণনা এতটাই অস্বচ্ছ ছিল যে, খোদ দলের অনেক সমর্থকই এই ফলাফল নিয়ে সন্দিহান।
মতামত জরিপ ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরণের ভয়াবহ জালিয়াতি ছাড়াও শেখ হাসিনার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেত। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা, স্বাধীনতার নায়কের কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনার মর্যাদার কারণে দলটি দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভোটারের সমর্থন এমনিতেই পেয়ে আসছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মানব সম্পদ উন্নয়নে বড় অগ্রগতি ও চরমপন্থার প্রতি কঠোরতা দেশে তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তার বিভিন্ন নীতিমালার প্রশংসা বিদেশেও হয়, বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতে।
বাংলাদেশের খুব কম বুদ্ধিজীবী কিংবা বিদেশী কূটনীতিক প্রত্যাশা করেছিলেন কিংবা খুব করে চেয়েছিলেন যে বিএনপি জিতুক। বিএনপিরও ঐতিহাসিকভাবে সমর্থক ঘাঁটি ছিল যেটি হয়তো আওয়ামী লীগের চেয়ে কিছুটা ছোট। ২০০১-২০০৬ সালে সর্বশেষ বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও চরমপন্থীদের সঙ্গে হৃদ্যতার দুর্নাম জুটেছিল দলটির। পার্লামেন্টে দশ বছর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শাসন করে আওয়ামী লীগ দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে করায়ত্ত করেছে। এ নিয়ে দলটির অনেক সমর্থকদের মধ্যেও সমালোচনা জন্ম নিয়েছে। জবাবদিহির আওতায় না থাকা পুলিশ ও সরকারী কৌঁসুলিরা প্রায়ই বিএনপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ও গ্রেপ্তার করে হয়রানি করে।
সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের ব্যাপারে ‘আগে গুলি করো’ নীতির কারণে মে মাসের পর থেকে প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। দলটির ‘ছাত্র সংগঠনে’র গুন্ডারা কাউকে শত্রু মনে করলেই মেরে ফেলে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকায় ছাত্ররা বিক্ষোভ করলে, সরকারের এই গুন্ডারা বেশ নৃশংস প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাদের আচরণ ছিল এমন যেন খোদ রাষ্ট্রই বিপদে আছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ এমন সব আইন প্রণয়ন করেছে যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে সীমিত করে।
এ ধরণের চাপের কারণে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে, বিএনপি হয়তো ২০১৪ সালের মতো ফের নির্বাচন বয়কট করতে পারে। তবে অক্টোবরে অনেককে অবাক করে দিয়ে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ছাড় দেয়। ৮১ বছর বয়সী সাংবিধানিক আইনজীবী, প্রখ্যাত উদারবাদী ও আওয়ামী লীগেরই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বৃহত্তর জোটে যোগ দেয়। নির্বাচনের সময় ব্যাপক ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি সত্ত্বেও এই জোট মাটি কামড়ে ছিল। এর মধ্যে বিএনপির ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়, বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি, প্রায় ১০ হাজার কর্মী আটক হয়।
তবে বিএনপি নির্বাচনে থাকায় স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও বিদেশী কূটনীতিকরা তখন সম্ভাব্য ফল নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু করেন। তারা ভেবেছিলেন, নির্বাচনী ফল হাসিনার অনুকূলে যাবে। তবে শক্তিশালী বিরোধীদল তাকে হয়তো কিছুটা হলেও সংযত রাখবে। এক বুদ্ধিজীবী বলেন, যদি আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের কম আসন পেয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তা সহায়ক হবে। অন্তত: আমাদেরকে ক্ষত উপশমের পথে নিয়ে যাবে।
কিন্তু সেই পথে আর যাওয়া যাবে না। দেশজুড়ে প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোটাভুটি শুরু হতে না হতেই, কিছু ব্যালট বক্স সন্দেহজনকভাবে পরিপূর্ণ দেখা যেতে লাগলো। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেল আওয়ামী লীগের অসংখ্য ব্যানার আর পোস্টারের বিপরীতে বিএনপির পোস্টার পাওয়া যায় না বললেই চলে। প্রত্যেকটি বুথে বহু আওয়ামী লীগ সহায়তাকারীর বিপরীতে কোনো বিরোধী এজেন্ট পাওয়া গেল না। অর্থাৎ সেখানে ভোটাভুটি কিংবা ভোটগণনা প্রত্যক্ষ করার কেউ ছিল না।
আওয়ামী লীগের আধিপত্য আছে যেসব এলাকায়, সেখানে ভোট খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। ভোটার সারিও ছিল কম। ভোটদানে তেমন ঝামেলাও পোহাতে হয়নি। কিন্তু ঢাকা-১৫ আসনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মনিপুর হাই স্কুলে হাজার হাজার ক্ষুদ্ধ নারী পুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকে শেষ অবদি রাগে-ক্ষোভে চলেও গেছেন। কারণ, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা খুবই সামান্য কিছু ভোটারকে একটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন। অথচ ভেতরে ৩৬টি ব্যালট বক্স ছিল। দুপুরের মধ্যে দেখা গেল, একটি কক্ষে মাত্র ৪১ জন ভোটার ভোট দিতে পেরেছিলেন। অথচ এখানে ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন এক হাজার জন।
সারাদেশ থেকে একই ধরণের প্রতিবেদন আসতে শুরু করলো যে, বিরোধীদলের এজেন্টদের হুমকি দেয়া হয়েছে কিংবা মার দেয়া হয়েছে। অনেক ভোটারকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বুথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ‘মধ্যহ্নভোজে’র জন্য কিংবা ব্যালট শেষ হয়ে গেছে এই যুক্তিতে। নির্বাচনের দিন সহিংসতায় ১৯ জন মারা গেছেন।
প্রত্যাশিতভাবেই সরকার মনোনীত নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, ভোটাভুটি হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থাপিত এক অদ্ভূত গোষ্ঠীও সন্তোষ প্রকাশ করে। আঞ্চলিক দুই শক্তি চীন ও ভারত অভিনন্দন জানায়।
শেখ হাসিনা নিজেও অনেক ঘটনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তার বক্তব্য, এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যে, বিরোধীদলের হাতে আমাদের দলের কর্মীরা মারা গেছেন। তার নিজের আসনে তার জয়ের অনুপাত ছিল ১০০০:১-এরও বেশি। কিছু কেন্দ্রে বিরোধীদলের প্রার্থীরা একটি ভোটও পাননি, নিজেদের ভোটও নয়।
কাজ যখন হয়েই গেছে, সরকারী মন্ত্রীরা ফের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির কাজে নেমে পড়ার কথা বলছেন। পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে রাষ্ট্র। বিদেশে আছে ক্ষমতাধর বন্ধু। আর সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত বিরোধীদল। ফলে এই মন্ত্রীরা এখন হয়তো ভালো করে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু ঢাকার এক শঙ্কিত শিক্ষক যেমনটা বলছিলেন, ‘তারা যেটা বুঝতে পারছে না সেটা হলো, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো তাদেরই লাগামহীন ক্ষমতা।

প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে দুই মুসলিম নারী: শপথ নিলেন কোরআন ছুঁয়ে

প্রথম মুসলিম নারী সদস্য হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে শপথ নিয়েছেন ইলহান ওমর ও রাশিদা তিলাইব। কেনিয়ান বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর কংগ্রেসের ইতিহাসে একমাত্র হিজাব পরিহিতা সদস্য। বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে আরেক মুসলিম নারী রাশিদা তিলাইবও কোরআনের ওপর হাত রেখে কংগ্রেস সদস্যের শপথ পাঠ করেন। তবে রাশিদা মুসলিম বিধান অনুযায়ী হিজাব পরিধান না করে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন।
একসময় ইলহান ওমরের বসবাস ছিল কেনিয়ার শরণার্থী শিবিরে। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়ার ২৩ বছরের মাথায় বৃহস্পতিবার ডেমোক্রেট সদস্য হিসেবে প্রভাবশালী মার্কিন কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্ত করলেন নিজেকে। আর এর মধ্য দিয়েই প্রথম হিজাবধারী নারী হিসেবে কংগ্রেস সদস্যের শপথ পাঠ করে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যপদ দিতে ১৮১ বছরের পুরাতন আইন সংশোধন করা হয়েছে।
ওই আইনে কংগ্রেসের চেম্বারে হিজাব পরে বা মাথা আবৃত করে বসার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া ছিল। সম্প্রতি সেই আইনের সংশোধনী আনা হয়। এর আওতায় তিনি প্রথম হিজাবধারী নারী হিসেবে কংগ্রেস সদস্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। হিজাবের বিষয়ে গত নভেম্বরে ইলহান ওমর এক টুইটে বলেন, ‘কেউ আমার মাথায় হিজাব পরিয়ে দেয়নি। আমি নিজেই পরেছি। এটা আমার পছন্দ।’
দুই মুসলিমসহ বৃহস্পতিবার রেকর্ড সংখ্যক ১০২ জন নারী মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এবারের প্রতিনিধি পরিষদকে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় পরিষদ। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ইলহান ওমরের পাশাপাশি কংগ্রেস সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরেক মুসলিম নারী রাশিদা তিলাইব। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এই নারী মায়ের হাতে সেলাই করা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে কোরআনের ওপর হাত রেখে শপথবাক্য পাঠ করেন। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচনে ভোটাভুটির সময় রাশিদা যখন ন্যান্সি পেলোসির প্রতি নিজের সমর্থন জানাচ্ছিলেন, তখন তার দুই ছেলে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। বড় ছেলে ১৩ বছরের অ্যাডামও মায়ের সঙ্গে উচ্চস্বরে ন্যান্সি পেলোসির নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়েই দুই মুসলিম নারী মার্কিন কংগ্রেসের রেকর্ড ভঙ্গ করে ইতিহাস তৈরি করেন।

নির্বাচনী বিতর্কের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ -পাকিস্তান অবজার্ভারের সম্পাদকীয়

পুলিশ বলছে, ভোটে অনিয়মের ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রকাশের দায়ে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজন সাংবাদিককে। বুধবার থেকে আরেকজন সাংবাদিক পলাতক রয়েছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকায় কাজ করেন সাংবাদিক হেদায়েত হোসেন মোল্লা। তাকে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মঙ্গলবার দিনশেষে আটক করা হয়েছে। অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো বলছে, এই আইনটি ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে কর্তৃপক্ষকে। মোট ভোটারের চেয়ে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনায় একটি আসনে অতিরিক্ত ২২৪১৯টি ভোট পড়ার রিপোর্ট প্রকাশ করার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হেদায়েত হোসেন মোল্লাকে।
যে নতুন আইনের অধীনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা প্রস্তাব করার সময় থেকেই মিডিয়া হাউসগুলো এর বিরোধিতা করে আসছিল।
বিশেষ করে তারা এতে থাকা কঠোর কিছু বিধান বা প্রভিশনের কথা তুলে ধরেছিল। যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে যে, হেদায়েত হোসেন মোল্লার রিপোর্ট মিথ্যা ছিল, কিন্তু নির্বাচনের সময়ে ও পরে একই রকম মিডিয়া হয়রানির বেশ খবর পাওয়া গেছে। এতে বাংলাদেশে তুঙ্গে উঠেছে নতুন বিতর্ক। এটাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে, বিরোধী দল ও মিডিয়ার কণ্ঠকে রুদ্ধ করার উপায় হিসেবে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের দিনে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে নিহত হয়েছেন ১৭ জন। এ হত্যার ঘটনায় ওই গ্রেপ্তার ও ভীতি প্রদর্শনের কথা ঢাকা পড়ে গেছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী দল আর নিরপেক্ষ মিডিয়াই শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করছে এমন না। একই সঙ্গে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সভ্য দুনিয়াও। মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সহিংসতা ও ভোটদানে বাধা দেয়ার বিষয়। তারা বলেছে, এ ঘটনায় নির্বাচন কলঙ্কিত হয়েছে। নির্বাচনে হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। বিরোধীদের উদ্বেগ যুুক্তিসঙ্গত। কারণ, তারা আগের নির্বাচন বর্জন করেছিল। সর্বশেষ নির্বাচনে তারা অংশ নিয়েছে। কিন্তু এ দুটি ঘটনায় তারা কোনো পার্থক্য দেখতে পান নি। কারণ, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে যায় এমন সব ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে। বিরোধী দল ও মিডিয়া যেসব অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে তার সবটার বিষয়ে নজর দেয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের।
(অনলাইন পাকিস্তান অবজার্ভার থেকে অনুবাদ)

সরজমিন ঢামেক: পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দালালদের দৌরাত্ম্য by শুভ্র দেব

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের রাজত্ব। দালালরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরিব অসহায় রোগীর স্বজনদের পকেট কাটছে। নানা  অজুহাত ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতালে স্বল্প মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে রোগীদের। এতে করে স্বল্প মূল্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালের মতো ব্যয় হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে টেস্ট বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা হাসপাতালে আসা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েই দেদারসে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাদেরকে রোগীর টেস্ট পেতে সাহায্য করছে খোদ হাসপাতালের কিছু অসাধু চিকিৎসক, ল্যাব কর্মকর্তা, অন্য স্টাফরা। বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন মোটা অঙ্কের কমিশন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢামেক ঘিরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ধানমন্ডি ও শান্তিনগর শাখা, গ্রিন রোডের এসআরএল ও ল্যাব সায়েন্স, প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চানখারপুলের পিওর, দি প্যাথলজি, বকশি বাজারের মডার্ন হেলথ প্যাথলজি, লালবাগের পিপলস কেয়ার, ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন ছাড়াও নামে বেনামে আরো অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার সক্রিয় রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ১০/১৫ জন করে প্রতিনিধি রাত-দিন ঢামেকে অবস্থান করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের যখন চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন তখন তারা সেটি লুফে নেন। এ ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডেই চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম লিখে দেন। সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর দিয়ে  যোগাযোগ করার কথা বলা হয়। 
সরজমিন হাসপাতালের নতুন ও পুরাতন ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, কর্তব্যরত চিকিৎসকের পেছনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা তাদের নিজস্ব প্যাড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ভর্তি রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে তারা তাদের প্যাড বাড়িয়ে দেন। তখন চিকিৎসকরা বলে দেন পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো দ্রুত করিয়ে আনতে হবে। ঢামেকে করালে অনেক সময় লাগবে। আবার অনেক সময় রোগীর স্বজনরা স্বল্প মূল্যে করানোর জন্য ঢাকা মেডিকেলকেই বেছে নেন। স্লিপ নিয়ে ল্যাবে গেলে দেখানো হয় নানা অজুহাত। কখনও মেশিন নষ্ট, কখনও রিপোর্ট পেতে দেরি হবে। এরকম নানা অজুহাতে ঢামেক বিমুখ করা হয় রোগীর স্বজনদের। ভুক্তভোগী রোগীরা তখন বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ড ৭০১। এই ওয়ার্ডেই ভর্তি ফরিদপুরের আহসান মিয়া (৪৮)। ভর্তির পরপরই চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালের স্লিপে নাম লিখে স্লিপে থাকা মোবাইল নম্বরের ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আহসান মিয়ার ছেলে রাকিব ওই মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে এসে হাজির হন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি জিয়াদ। তিনি এসে পরীক্ষা করাতে কত টাকা লাগবে বলে দেন। এর কিছুক্ষণ পর এসে তিনি আহসান মিয়ার রক্ত টেনে নিয়ে যান।
রাকিব বলেন, একটি স্লিপে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম লিখে দিয়ে আমাকে একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ফোন করলে একজন এসে পপুলারের প্রতিনিধি হিসাবে পরিচয় দেন। সার্জারি ওয়ার্ডের রোগীর স্বজন জাহাঙ্গীর বলেন, ১৫ দিন ধরে আমার ভাইকে নিয়ে এখানে আছি। আসার পর থেকে চিকিৎসকরা অনেক পরীক্ষা দিয়েছেন। সব টেস্টই বাইরে থেকে করাতে হয়েছে। হাসপাতালের ল্যাবে নানা অজুহাত দেখানো হয়। সময়মত  রিপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হয় না। আবার অনেক সময় কিছু কিছু টেস্টের জন্য মেশিন নষ্ট আছে বলা হয়। মিনহাজ নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, আমরা কম টাকায় ঢামেকেই পরীক্ষা করাতে চাই। কিন্তু চিকিৎসকরা দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলেন। এখানে পরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত দেয়া হয় না। আবার বাইরে থেকে করাতে গেলে দ্রুত রিপোর্ট দেয়া হলেও প্রতিটি পরীক্ষায় সরকারি হাসপাতালের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা গুনতে হয়।
পপুলার ডায়াগনস্টিকের প্রতিনিধি জিয়াদ বলেন, তিনি পপুলারের ধানমন্ডি শাখায় কাজ করেন। তিনি ছাড়াও তাদের দুটি শাখার অন্তত ৩০ জন প্রতিনিধি ঢামেকে কাজ করে। ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হসপিটালের প্রতিনিধি মশিউর রহমান বলেন, তাদের অন্তত ১৫/১৬ জন এখানে রাত দিন কাজ করে। ল্যাব সায়েন্সের আরেক দালাল হারুন অর রশিদ জানায়, তাদের একটি ওয়ার্ডে একজন করে তাদের ২০/২২ জন কাজ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক দালাল জানায়, ওয়ার্ড মাস্টার, ওয়ার্ডবয় , সর্দার, আনসাররা কাজ ভাগিয়ে নিতে অনেক ঝামেলা করে। তাদেরকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে কাজ নিতে হয়। এ ছাড়া চিকিৎসকদেরও দিতে হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আব্দুল আজিজ খান বলেন, সরকারি মূল্যে ঢামেকের প্যাথলজিতে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা হয়। এখানে সব ধরনের পরীক্ষা অনেক ভালো হয়। সেহেতু বাইরে থেকে করানোর কোনো প্রয়োজন হয় না। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ঢামেকের প্যাথলজিতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি পরীক্ষা করা হয়। বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন হয় না। শুনেছি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা রোগীর পরীক্ষা তাদের প্রতিষ্ঠানে করছে। এ ধরনের দালালদের ঠেকানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তবে আগের থেকে এখন অনেক কমেছে। তিনি বলেন, যারা এখানে কাজ করছে তারা বহুদিন ধরে এই কাজ করছে। এদেরকে সরাতে সময় লাগবে। দালালদের নজরদারিতে হাসাপাতালে আনসার সদস্য বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আমরা অনেক দালালকে ধরে পুলিশে দিয়েছি। এজন্য রোগীর স্বজনদের সচেতন থাকতে হবে।

স্থগিত কেন্দ্রে শতভাগ ভোট কেটে নিলেও জয়ী হবো -সংবাদ সম্মেলনে উকিল আবদুস সাত্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বলেছেন, স্থগিত ৩ কেন্দ্রে শতভাগ ভোট প্রতিপক্ষ সিল মেরে নিয়ে নিলেও আমিই বিজয়ী হবো। কারণ স্থগিত ৩ কেন্দ্রে মৃত ও প্রবাসী ভোটার রয়েছে ৫৬৩ জন। এ ভোট বাদ দিলে সেখানে ভোটগ্রহণ ছাড়াই জয়ী ঘোষণা করা যায় আমাকে। হিসাব করে দেখা গেছে তারপরও আমি ১৪৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এ হিসাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তারপরও প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার যোগসাজশে রাতেই সকল ভোট কাস্ট করে বিএনপিকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্র করছে। যা নির্বাচনী এলাকায় সবার মুখে মুখে। আগামী ৯ই জানুয়ারির পুনঃভোট গ্রহণের দিন নিরাপত্তা জোরদার না করলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সাত্তার।
বলেন, স্থগিত ৩টি কেন্দ্র অনেক দিন আগে থেকেই বিএনপির ঘাঁটি। তাই সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট ছাপাতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা কৌশলে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দিয়েছেন। ৫৬৩ ভোট বাদে অনিয়ম করে শতভাগ ভোট কাস্ট করলেও আমিই বিজয়ী। এরপরও এ নাটকের অর্থ বোধগম্য হচ্ছে না। গতকাল সকালে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া এসব কথা বলেন। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম খোকন, সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন। বলেন, গত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সরকারের সকল সংস্থাকে ব্যবহার করে দেশের অতীতের সকল ইতিহাসকে মাটিচাপা দিয়েছে। সরাইল ও আশুগঞ্জ দুটো উপজেলায় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিএনপির এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া ও কেন্দ্র দখল করে ইচ্ছেমতো সিল দেয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন। তারপরও দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরলস প্রচেষ্টায় মোট ৮২,৭২৩ ভোট পেয়েছে বিএনপি। অপরদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মঈন উদ্দিন পেয়েছে ৭২,৫৬৪ ভোট। প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্যায় কর্মকাণ্ডের কারণে আশুগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির দুর্গখ্যাত তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেয়া হয়। ধানের শীষের প্রার্থী ১০১৫৯ ভোটে এখনো এগিয়ে আছে। স্থগিত কেন্দ্র হচ্ছে- ৯৪ নং যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০৯ নং বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১০ নং সোহাগপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগামী ৯ই জানুয়ারি স্থগিত ৩ কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। ওই তিনটি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১০৫৭৪ জন। দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মী ও অনলাইনের মাধ্যমে সংগৃহীত ৩ কেন্দ্রের মৃত ও প্রবাসী ৫৬৩ জন ভোটার বাদ দিলে বাকি থাকে ১০০১১ ভোট। যা আবদুস সাত্তারের এগিয়ে থাকা ১০১৫৯ ভোট থেকে ১৪৮ ভোট কম। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার দেয়া হিসাব মতে আগামী ৯ই জানুয়ারির পুনঃনির্বাচন ছাড়াই তিনি জয়লাভ করে আছেন। ভোটের এমন সমীকরণ জেনেও প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীর কিছু দুষ্কৃতকারী আমার কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এজেন্ট দেয়া থেকে বিরত থেকে ভোটের দিন কেন্দ্রে না যাওয়ারও হুমকি দিচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের জানমালের ক্ষতি ও মামলা মোকদ্দমার ভয়ও দেখানো হচ্ছে। তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণেরও সমালোচনা করেছেন। ৯ই জানুয়ারির ভোটের দিনে ৩ কেন্দ্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য ভাবে জোরদার করে প্রার্থী-সমর্থক সহ সেখানকার সকল জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও সুষ্ঠু পরিবেশে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ভোট প্রদানে মিডিয়া এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন সাত্তার ভুঁইয়াসহ উপস্থিত বিএনপি নেতারা।

বাংলাদেশের নির্বাচনে বিশ্বের সমর্থন ও উদ্বেগ -দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদন by জুলহাস আলম

গত রোববারে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করবেন এমন আহ্বানসহ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অভিনন্দন বার্তা আসছে। ওই নির্বাচনে প্রাধান্য বিস্তার করেছে তার জোট। তিনি টানা তৃতীয় মেয়াদে এবং সব মিলিয়ে চতুর্থবার সরকার গঠন করছেন। বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান, প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ তাকে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানা। এদিনই পার্লামেন্টের নতুন সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়, যদিও বিরোধী দলগুলোর নির্বাচিত ৭ জন প্রতিনিধি এ অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। নতুন মন্ত্রিপরিষদ সোমবার শপথ নেয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া শুরুতেই পরিষ্কার নয়। কিন্তু বড় ধরনের বিজয়ের কারণে শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমে অভিনন্দন জানান।
তারপর অভিনন্দন জানায় চীন। এরপরই দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। এতে বিরোধী দল নেতৃত্বাধীন জোট পায় মাত্র ৭টি ভোট।  সৌদি আরব, রাশিয়া, কাতার, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভুটান ও পাকিস্তান অভিনন্দন জানিয়েছে শেখ হাসিনাকে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়।
২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভারত, চীন, রাশিয়া ও সৌদি আরবের সঙ্গে হাসিনা কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা শুরু করেন। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় ফেরার পরও তিনি এই ধারা অব্যাহত রাখেন। সন্ত্রাস বিরোধী সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ৩৪ জাতির ইসলামিক মিলিটারি কোয়ালিশনে যোগ দেয় বাংলাদেশ। এ ছাড়া দেশটি রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে নির্মাণ করছে তাদের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। চীন থেকে দুটি সাবমেরিন কিনেছেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অবকাঠামো খাতে বিবিনয়োগ করতে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাপানকে।
চীনের নেতৃত্বাধীন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকটার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-এর একটি সদস্য দেশ বাংলাদেশ। এ ব্যাংটিকে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশ সাধারণত তার সামরিক অস্ত্রশস্ত্র কিনে থাকে চীনের কাছ থেকে।
সস্তায় তৈরি পোশাক রপ্তানি করে এ দেশটি বছরে প্রায় ৩০০০ কোটি ডলার আয় করে। এর বেশির ভাগ যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে চীনের পরেই বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী।
চীন হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানির উৎস। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক এম হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা আমদানি করি তাদের (চীন ও ভারত) কাছ থেকে এবং রপ্তানি করি পশ্চিমা বাজারে।
বাণিজ্যের বাইরেও পশ্চিমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্য খাতে সম্পর্ক আছে। হুমায়ুন কবির বলেন, গণতন্ত্রে মূল্যবোধে আমরা বিশ্বাসী। তাই আমরা তাদের সঙ্গে মূল্যবোধের ভিত্তিতে সম্পর্কযুক্ত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। হুমায়ুন কবির বলেন, এসব মানুষ ওই দেশগুলোতে বসবাস করে সেখানকার সমাজের অংশ হয়ে উঠছেন অথবা সমাজে অবদান রাখছেন। এভাবেই আমরা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে যুক্ত হয়ে আছি।
রোববারের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নে গভীরভাবে নিজেদের যুক্ত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। হুমায়ুন করিব বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা প্রভাবশালী ও কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এমন দেশগুলোর সঙ্গে সফলতার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে নিজের ভাবমূর্তি সমুন্নত করেছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের চমৎকার কাহিনী রয়েছে। তিনি নির্বাচনে যেভাবে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন তা বলে দেয় যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভোটারদের রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে। এই কাহিনীই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অনুরণন তুলছে। আর এ জন্যই এত বেশি সংখ্যক দেশ প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনে অসাধারণ বিজয়ের কারণে অভিনন্দন জানাচ্ছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল দেশ হিসেবে দেখতে চায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদেরকে আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। আমাদের শ্রম খাতে আরো বেশি সংস্কার প্রয়োজন। আমাদের অবকাঠামোকে আরো উন্নত করতে হবে। আমাদের রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ককে আরো আধুনিকায়ন করতে হবে। কারণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সব সময় এসব ইস্যুর দিকে তাকান। তাই তারা এখন বাংলাদেশের দিকে তাকাচ্ছেন একটি ইতিবাচক দিক থেকে।
তবে হুমায়ুন কবির বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া উচিত।
রোববারের নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতায় এক ডজনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বিরোধীদের গ্রেপ্তার ও কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে জেলে দেওয়ার মাধ্যমে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার কারণে। তবে তার সমর্থকরা বলেন, এ অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য বিভাগের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আগে একটি নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর করা হয়, যাতে মুক্ত মত ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ ওঠে।
শুক্রবার জেনেভায় এক ব্রিফিং করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি। এতে তিনি বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে, নির্বাচন চলাকালীন ও নির্বাচনের পরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বিবৃতিতে বলেন, শুধু নির্বাচনের দিনে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট আছে। এখনও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত আছে বলে উদ্বেগজনক ইঙ্গিত রয়েছে।
এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে শারীরিক হামলা, অশোভন আচরণ, ইচ্ছেমতো গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম এবং ফৌজদারি মামলা করার মতো ঘটনা রয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেছে যে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর সহিংস আক্রমণ করছে। ভীতি প্রদর্শন করছে। বৈষম্যহীনভাবে তা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে জড়িত।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ সবাই এ নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর স্মরণ রাখা উচিত, নির্বাচন হলো ভোটারের অধিকার, যারা ক্ষমতায় তাদের অধিকার নয়।
খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিরোধী দলগুলো বিখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি জোট গঠন করেছে। ড. কামাল হোসেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে তার পিতা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের অধীনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ড. কামালের ছোট্ট দল গণফোরামের তেমন জনপ্রিয় সমর্থন নেই। অন্যদিকে হাসিনা ও খালেদা জিয়ার রয়েছে ব্যাপক সমর্থন। তাদের র‌্যালিতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।
নির্বাচনের পরের দিন বিদেশি সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সামনে ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনা কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদের। তিনি বিরোধীদের ‘অলিভ ব্রাঞ্চ’ প্রস্তাব করার কথা প্রত্যাখ্যান করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা যে বিরোধী দলকে দেখছেন, তারা কারা? প্রধান দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক, যিনি দেশে সামরিক আইন জারি করেছিলেন। তখন জনগণের কোনো সাংবিধানিক অধিকার ছিল না।
নির্বাচনে ভোটের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন প্রত্যাখ্যান করেন। বলেন, এটা ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
(অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

নববর্ষে সেক্স পার্টি

পশ্চিম লন্ডনের পোর্টল্যান্ড প্যালেস। সেখানে ২ কোটি পাউন্ডের বাড়িতে ইংরেজি নতুন বছরে রগরগে এক যৌনতার পার্টি আয়োজন করেছিলেন লর্ড ফ্রাউড এডি ডেভেনপোর্ট। তাতে যোগ দিয়েছিলেন তিন যুবতী। আর সেই সঙ্গ ভোগ করেছেন কয়েক ডজন পুরুষ। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ায় চারদিকে হইচই পড়ে গেছে। প্রকাশ হয়ে পড়েছে ওই পার্টির রগরগে সব দৃশ্য। সব দোষ ওই দ্বাররক্ষীর। বেচারাকে কেউ একজন হত্যা করেছে।
আর তা তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এসব কাহিনী। আর তাতে ধরা পড়ে গেছেন লর্ড ফ্রাউড। তাকে ইংল্যান্ডের প্রতারক, উচু দরের মানুষ ও প্রপার্টি ডেভেলপার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তার পুরো নাম এডওয়ার্ড ওরমাস শেরিংটন ডেভেনপোর্ট। তিনি স্বঘোষিত লর্ড। তাকে ডাকা হয় ফাস্ট এডি হিসেবে। সম্পদশালী টিনেজারদের নিয়ে বিতর্কিত গ্যাটেক্রাশার বল আয়োজনের কারণে তিনি ১৯৮০র দশকে ব্যাপক সুখ্যাতি পান। কিন্তু সেই ব্যক্তি এবার নিজের বাসভবনে আয়োজন করে বসলেন নতুন বছরের সেক্স পার্টি। সেখানে একজন দ্বাররক্ষী নিহত হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। তাতে দ্য সানের তদন্তে দেখা যায়, পশ্চিম লন্ডনের পোর্টল্যান্ড প্যালেসে তিনি আয়োজন করেছিলেন ওই পার্টি। তবে তার আগে পাশেই পার্ক লেনে ছুরিকাঘাতে নিহত হন তার দ্বাররক্ষী তুদোর সিমিওনোভ। এরপরই দ্রুততার সঙ্গে তিনি ওই পার্টি আয়োজন করে বসেন। এখনও হত্যাকান্ডের ওই স্থানটি ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ। কিন্তু এর থেকে অল্প দূরেই শুরু হয়ে যায় আলোআধারির ওই খেলা। সেখানে তিন ঘন্টার জন্য বসে সেক্স পার্টি। প্রতিজন যুবতীকে দেয়া হয় ১০০ পাউন্ড করে। সেখানে যে ভিডিও পাওয়া যায় তাতে দেখা যায়, একজন যুবতী রতিক্রিয়ায় রত। একজন নগ্ন অবস্থায় হেঁটে যাচ্ছেন। এমন ভিডিও প্রকাশ হয়ে পড়েছে মিডিয়ায়।

রাজশাহীতে খেজুর গুড়ে চাঙ্গা গ্রামীণ অর্থনীতি

শীত মৌসুমের শুরুতেই বদলে গেছে রাজশাহীর তিনটি উপজেলার চিত্র। গ্রামগুলোতে চলছে খেজুর রস থেকে গুড় তৈরির ধুম। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২০ হাজার গাছির। জীবিকা চলছে লক্ষাধিক মানুষের। জেলার পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার গাছিদের উৎপাদিত খেজুর গুড় দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। এতে ভালোভাবে ঘুরে যাচ্ছে এই তিন উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাজশাহীতে খেজুর গাছের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। এসব গাছ থেকে প্রতি শীত মৌসুমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ৮ হাজার টন গুড় উৎপাদন হয়। এর মধ্যে জেলায় সবচেয়ে বেশি গাছ আছে চারঘাট উপজেলায়।
এখানে গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৬ হাজার। বাঘা উপজেলায় খেজুরগাছ রয়েছে দুই লাখ ৯৯ হাজার। আর পুঠিয়া উপজেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা ৮৫ হাজার।
শীত এলেই এসব গাছ হয়ে ওঠে গাছিদের কর্মসংস্থানের উৎস। গুড় তৈরিতে এ অঞ্চলের পুরুষদের সঙ্গে কাজ করেন নারীরাও। গুড় তৈরির পর পুঠিয়ার বানেশ্বর, ঝলমলিয়া আর বাঘা সদরে নিয়ে পাইকারীতে বিক্রি করেন গাছিরা। এই গুড় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বরিশাল, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। ঢাকা থেকে গুড় বিদেশেও পাঠানো হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহী অঞ্চলের পর পরই যশোর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর এলাকায় গুড় উৎপাদন হয়। তবে রাজশাহীর গুড়ের স্বাদ অত্যন্ত সুমিষ্ট। গন্ধও ভালো। গুড় উৎপাদনে  কেমিক্যালের ব্যবহারও কম। তাই চাহিদাও বেশি। এজন্য রাজশাহী থেকেই বেশি গুড় কেনার চেষ্টা করেন তারা।
আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী হাটে গুড় কিনতে এসেছিলেন বরিশাল থেকে। তিনি বলেন, প্রতিকেজি ৬০ টাকা দরে তিনি ৪০ মণ গুড় কিনেছেন। বরিশালে এই গুড় ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গুড় বিক্রেতা মহসিন আলী বলেন, সপ্তাহখানেক আগেও তিনি ৬৫ টাকা দরে গুড় বিক্রি করেছেন। এখন উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় দাম একটু কমেছে।
বাঘা, চারঘাট আর পুঠিয়ার গাছিরা ভোরের কুয়াশা ঠেলে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। আর নারীরা বাড়িতে রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন লোভনীয় মিষ্টি গুড়। পুরুষরা আবার দুপুর থেকে শুরু করেন গাছের নির্দিষ্ট অংশ চেঁছে রস বের করার কাজ। সন্ধ্যায় গাছে হাঁড়ি পাতেন তারাই। বাড়িতে গুড়ের চাকি তৈরি হলে তা বাজারে নেন গাছিরাই। হাটের দিন গুড় বিক্রি করে মাছ-মাংস কিনে হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন। সব গাছির বাড়িতেই হাটবার ভালো রান্না হয়।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের খেজুর গুড় খুবই সুস্বাদু। শীতের নানা খাবার তৈরিতে এর জুড়ি নেই। এ জন্য বর্তমানে রাজশাহীর গুড় দেশ-বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এবার গুড়ের ভালো দাম পাচ্ছেন গাছিরা। ফলে জেলার পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এখন চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে।

স্টিকার সংকটে ঝুলে আছে ২০,০০০ ভারতীয় নাগরিকের ভিসা আবেদন by মিজানুর রহমান

ভিসা স্টিকার সংকটে ত্রাহী অবস্থা বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোতে। কেবল ভারতেই দেশটির নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ এবং জরুরি প্রয়োজনে আসার জন্য ২০ হাজার ভিসার আবেদন ঝুলে আছে! দিল্লি ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে তারা এখন ‘একান্ত জরুরি’ ছাড়া কোনো ভিসাই ইস্যু করতে পারছেন না। অবশ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- মেশিন রিডেবল ভিসা স্টিকার স্টকে না থাকায় দিল্লি, কলকাতাসহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর কনস্যুলার সেবায় যে সমস্যা  তৈরি হয়েছে তার বিস্তারিত জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার জানানো হয়েছে। সংকট সমাধানে বিকল্প হিসাবে সাময়িক বা আপাতত স্ট্যাম্পিং পদ্ধতি (হাতে লেখা ভিসা) চালু করা যায় কি-না? তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে।
পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তরফেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিন্ন সুপারিশ গেছে। কিন্তু পদ্ধতিগত জটিলতা, নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠনের (ট্রানজিশন বা রূপান্তর) ওই সময়ের কারণে এ বিষয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত পেতে বিলম্ব হচ্ছে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্টিকার স্টক ফুরিয়ে আসার আগেই তারা টেন্ডার আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু এতে ত্রুটি ধরা পড়ায় তা বাতিল হয়ে যায়।
নতুন করে তারা টেন্ডার আহ্বান করেছেন এবং ওয়ার্ক অর্ডারও দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নতুন স্টিকার হাতে পেতে আরো কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। তারা বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, এটি হলে হয়তো সাময়িকভাবে সংকট কাটবে। প্রতিবেশী ভারতেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি ভিসা ইস্যু হয় জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন- কলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশন থেকে গড়ে প্রতি মাসে দু’হাজার ভিসা ইস্যু করা হয়। দিল্লিতে ১২-১৫শ’। অন্যান্য মিশনেও কয়েকশ’ ভিসার আবেদন পড়ে। স্টিকার সংকটের কারণে ওই দুটি মিশনে আবেদনের স্তূপ জমা হয়ে আছে মন্তব্য করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ফের হাতে লেখা বা স্ট্যাম্পিং ভিসা দেয়া যেতে পারে। এতে অন্তত প্রতিবেশী দেশটির আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা যাবে।
অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, সাময়িকভাবে স্ট্যাম্পিং ভিসা ব্যবস্থা ফেরাতে খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ল্যান্ড পোর্টগুলোতে একটি নোটিশ জারি করতে হবে, এবং সেটা অ্যালাও করলেই হয়। এ নিয়ে ফাইল চালাচালি হচ্ছে দাবি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায় তারা আশা করছেন নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে। অন্তত স্টিকার জটিলতার সাময়িক অবসান ঘটবে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপে বলেন, ভিসা আবেদনকারীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন আবেদন জমা পড়ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতা মিশনে প্রায় ১২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, গোটা ভারতে এটি ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ নিয়ে জরুরি আলোচনায় কলকাতার উপ-হাই কমিশনার এখন ঢাকায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর গত এপ্রিল মাসে ৫০ লাখ মেশিন রিডেবল ভিসা স্টিকার সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুসরণ না করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বাতিল করে দেয়। নভেম্বরে দ্বিতীয় দফায় তারা দরপত্র আহ্বান করেছে। এর কারিগরি ও আর্থিক বিষয় বিবেচনা করে কার্যাদেশও দেয়া হয়েছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ৩ দফায় ওই ৫০ লাখ স্টিকার হাতে বুঝে পাওয়ার কথা রয়েছে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে আন্দোলন -ড. কামাল

দলের দুই এমপি’র শপথ নেয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট আলোচনা করে ইতিবাচকভাবে সিদ্ধান্ত নেবো বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল বিকালে জাতীয় শিশুকল্যাণ পরিষদে গণফোরামের বর্ধিতসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ  কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, আমাদের দুইজন প্রার্থী বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় ফোরামে আমরা বলেছি এটা তাদের অর্জন। তারা অনেক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গণফোরামের পক্ষ থেকে আমরা তাদের অভিনন্দনও জানিয়েছি। তারা সেটাকে ধরে রেখে আগামীতে অর্থপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবেন। তারা যদি দেখেন ভালো কাজ সম্ভব হচ্ছে না তাহলে  তারা সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
আমি মনে করি এই দুইজনের শপথ নেয়ার বিষয়ে ইতিবাচকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার দিকেই আমরা অগ্রসর হবো। আমার ব্যক্তিগত মত হলো ইতিবাচকভাবেই আমরা চিন্তা করবো। গতকাল দলের বর্ধিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে বলেন, অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা করা হবে।
ড. কামাল বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম যাতে একটা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করতে পারি। আমরা যেহেতু ঐক্যের পক্ষে সব সময় রাজনীতি করে এসেছি। আমি মনে করি ঐক্যকে রাখার পক্ষেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। ঙ্গে শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট রাখার ব্যাপারে আমরা ইতিবাচক থাকবো। ড. কামাল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আগামীতেও যদি ঐক্যফ্রন্ট কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে তাহলে নির্বাচনসহ অন্যান্য ব্যাপারে সরকারের উপরে চাপ থাকবে। তারা আইন মেনে দায়িত্ব পালন করবে। আমরা লক্ষ্য করেছি নির্বাচনের সময় অনেক ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে আইন অমান্য করার চেষ্টা করা হয়, সেখানে আমরা নির্বাচন থেকে সরে না যাওয়ায় অনেক চাপ তৈরি হয়েছে। এই চাপ রাখার ব্যাপারে আমাদের ঐক্য কিছুটা কাজে লেগেছে। আশা করি আগামীতেও কাজে লাগবে। তিনি বলেন, বিএনপি’র সঙ্গে আমাদের কোনও দ্বন্দ্ব নেই। জনমত গঠন করাও একটা আন্দোলন। এর জন্য আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি। সেই আন্দোলন চলছে। আলোচনা করে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। এগুলোও আন্দোলনের অংশ। এটা অব্যাহত আছে। এই আন্দোলন করে যাচ্ছি, করে যাব। ভবিষ্যতে এই আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে। নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে ট্রাইব্যুনালের মামলা করা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের দলিলপত্র অবশ্যই আছে। গুরুতর অভিযোগ গুলো নিয়ে আইনানুগ ব্যস্থা নেয়া যেতে পারে। সেটা আমরা বিবেচনা করছি।
সাধারণত রাজনৈতিক ব্যাপারে ঘন ঘন মামলা করা হয় না। মামলা করা উচিতও না। কিন্তু গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেটা নিয়ে অবশ্যই আমরা বিবেচনা করবো। তিনি বলেন, বছরের প্রথম দিকে আমরা যে উদ্বেগ তুলে ধরছি আশা করছি গণমাধ্যম কর্মীরা আপনাদের লেখার মাধ্যমে সেই উদ্বেগ তুলে ধরবেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র হয় না। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের উপর যে আঘাত দেয়া হয়েছে আশা করি আপনারা সেটা তুলে ধরবেন। জনগণ ক্ষমতার মালিক। তাদের মালিকানা ভোগ করতে পারে যদি নিরপেক্ষভাবে তারা ভোট দিতে পারে। ভোট দেয়ার অধিকারে যদি আঘাত দেয়া হয়, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিধানগুলো যদি অমান্য করা হয়। তখন কিন্তু সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়। ড. কামাল বলেন, বর্তমান সরকার একের পর এক সংবিধানের বিধানগুলো ভঙ্গ করে যাচ্ছে। একে তো তারা নির্বাচিত সরকার না সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তারপর তারা দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে সংবিধান অমান্য করে। এসব কারণে গুরুতর সংকট তৈরি হওয়ার ব্যাপারে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
জামায়াতকে ধানের শীষের প্রতীক দেয়া হবে জানলে আপনি ঐক্যফ্রন্টে যেতেন না বিদেশি গণমাধ্যমকে আপনি একথা বলেছেন। তাহলে এখন কি আপনি ঐক্যফ্রন্টে থাকবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, জামায়াত ঐক্যফ্রন্টে নেই। তারা ২০ দলীয় জোটে আছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কারণ দু’টি আলাদা জোট। আপনারা একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। তাহলে নির্বাচনে কেন গিয়েছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে গিয়েছি শেষ পর্যন্ত দেখা এবং প্রমাণ করার জন্য যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে না এবং এই নির্বাচনেও সেটা নেই। রাতে ব্যালটে সিল মারা প্রসঙ্গ টেনে ড. কামাল বলেন, অনেকে আমাকে বলেছেন- সকাল থেকে ড. কামাল ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু ব্যালটে সিল মারার কাজ তো রাতেই হয়ে গেছে। নবনির্বাচিত সরকারকে বিভিন্ন দেশ সমর্থন দিচ্ছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. কামাল হোসেন বলেন, একেকটা সরকার হয়তো সমর্থন দিচ্ছে। কিন্তু তাদের বক্তব্য যদি পড়েন তাহলে দেখবেন তাদের সমর্থনের মধ্যেও কিন্তু রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু বলেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, ক্ষমতাসীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আদালত কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। নির্বাচন কমিশন ৩০শে ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে যাদের নির্বাচিত বলে ঘোষণা করেছে তারা কেউই নির্বাচিত নন। যাদের গেজেট প্রকাশ করেছে তারা জনগণের প্রতিনিধি নন। আমরা ইতিপূর্বেই এই নির্বাচনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। আমরা অনতিবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের  জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, ঐক্যবদ্ধ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের হারানো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবোই। তিনি বলেন, জনগণ ঐকবদ্ধ হয়েছিল বলেই ১৯৭১ সালে আমরা প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক হয়েছি। ৯০-এর স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছি। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে অচিরেই বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন, কার্যকর গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুনিশ্চিত হবে। লিখিত বক্তব্যে তিনি নির্বাচনের দিন সারা দেশে ভোটের অনিয়মসহ বিভিন্ন তথ্যের সারাংশ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মুকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মফিজুল ইসলাম কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ রাঙ্গা: শক্তিশালী বিরোধী দল হতে চায় জাপা -জিএম কাদের

একাদশ সংসদে প্রধান বিরোধী দলের নেতা, উপ-নেতার পর এবার চিফ হুইপের নাম ঘোষণা করলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জাপা মহাসচিব ও দশম সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করলেন এরশাদ। শুক্রবার রাতে ‘বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মনোনয়ন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে সংসদের স্পিকার বরাবর লেখা চিঠিতে এরশাদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। পদাধিকার বলে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি দলের সভাপতি হিসেবে আমি প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এবং পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ও পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টির বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করা হলো।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্পিকারকে অনুরোধ করা হয় ওই চিঠিতে। অপরদিকে স্পিকার বরাবর পৃথক এক চিঠিতে এরশাদ নিজেকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং উপনেতা হিসেবে জাপা কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।
জাপা কো-চেয়ারম্যান সংসদে বিরোধী দলের উপ-নেতা জিএম কাদের বলেছেন, বিরোধী দলের সহিংসতা নয়, দেশ ও জনগণের কথা বলতেই সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হতে চায়। সংসদ পরিচালনায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে কথা বিবেচনা করেই জাপা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা রাখবে। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদে জাপার কোনো সদস্য থাকবে না।
দেশের স্বার্থে যেকোনো সংস্কার ও সংশোধনে জাপা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভালো আছেন, স্পিকারের সঙ্গে সময় নির্ধারণ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শিগগির সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভরায়, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, সোলায়মান সামি, রেজাউল করিম, আবু নাসের বাদল, জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, আবদুস সাত্তার প্রমুখ।
সংসদ নেতা ও স্পিকারকে এরশাদের অভিনন্দন: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো সংসদনেতা এবং একাদশ সংসদে বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোদীদলীয় নেতা ও জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গতকাল পৃথক অভিনন্দনবার্তায় এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে লিখেন, দেশের একাদশ জাতীয় সংসদ তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো সংসদনেতা নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনার এই অসাধারণ কৃতিত্ব শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, গণতান্ত্রিক বিশ্বে বিরল। আপনার এই সম্মান বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সম্মানিত করছে।
আমি আশা করি, আপনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের ধারা আরো বেগবান হবে। আমরা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিগত সময়ের মতো এবারও দেশ ও জাতির কল্যাণে আপনাকে সহযোগিতা করে যাবো। সর্বশেষে লিখেন, আপনার সর্বাঙ্গীন সমৃদ্ধি, উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর উদ্দেশ্যে এরশাদ লিখেন, একাদশ জাতীয় সংসদে আপনি মাননীয় স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করায় আমি আপনাকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি আশা করি, বিগত আমলে আপনি যে অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে এবং নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করে এসেছেন তার ধারাবাহিকতা এবারও রক্ষা করবেন। আমরা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবো। পরিশেষে আপনার সর্বাঙ্গীন সাফল্য, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
রসিক মেয়র মোস্তফাকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য নিয়োগ
রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জাপার ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শুক্রবারে রসিক মেয়রের উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে এরশাদ বলেন, আপনাকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। আপনার এই নিয়োগ জানুয়ারি-২০১৯ থেকে কার্যকর হবে। পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সুবর্ণচরে নির্যাতিতার পাশে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা by শাহনেওয়াজ বাবলু ও নাসির উদ্দিন বাদল

ভোটের দিন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গতকাল নোয়াখালী যান। জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিত নারীর পাশে তারা কিছু সময় অবস্থান করেন এবং তার ও পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। এ সময় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা নির্যাতিতাকে আর্থিক সহযোগিতাও দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই নারীর মাথায় হাত বুলিয়ে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, বোন আমরা তোমার পাশে আছি। তোমার কোনো ভয় নেই। এই নির্মমতার অবশ্যই একদিন বিচার হবে। আল্লাহ বিচার করবেন।
ধর্ষিত নারীকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিবকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন ওই নারীর অটোচালক স্বামীও। এ সময়ে তার পাশে থাকা ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানসহ অন্য নেতারাও ছিলেন অশ্রুসজল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকীও ওই নারীকে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। গত ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর রাতে নিজের বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন বাগ্যা গ্রামের এই নারী। স্বামী সন্তানকে বেঁধে রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার সহযোগীরা দল বেঁধে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এদিকে নির্যাতিতা নারীকে দেখে এসে বিকালে নোয়াখালী জেলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে এখানে তরুণদের মাঝে যে ক্ষোভ দেখলাম, যে উচ্ছ্বাস দেখলাম এই ক্ষোভকে শক্তিতে পরিণত  করতে হবে। এরা (সরকার) চোরাবালির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এখন আমাদের প্রয়োজন শুধু ঐক্য, ঐক্য, ঐক্য। জনগণের ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা তাদেরকে পরাজিত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাত্তর সালের ২৫শে ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের মানুষের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ২০১৮ সালে ৩০শে ডিসেম্বর এই বাংলাদেশে একটি সরকার তার সমস্ত প্রশাসনকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ওপর ঠিক একই কায়দায় হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং আমাদের যে অধিকার সেই অধিকার তারা কেড়ে নিলো। আমরা বাধা দিতে পারিনি।
কেন ভোটের দিন জনগন জেগে ওঠেনি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘যে কথা আমরা বার বার বলেছি, বার বার বিভিন্ন জায়গায় ছুটে গিয়ে বলেছি- জেগে উঠুন, আপনাদের অধিকার রক্ষা করুন। আমরা মরার আগেই মরে যাচ্ছি? কেন মরে যাচ্ছি? কেন উঠে দাঁড়াচ্ছি না। এটা আমার দেশ, এই মাটি আমার। আমি এর মালিক, জনগণ এদেশের মালিক। যারা চাকরি করবে, সমস্ত সুখ ভোগ করবে, জনগণের পয়সায় তারা সরকার চালাবে তারা আমাদের খাবে, আমাদের পরবে আর আমাদের ওপরে গুলি চালাবে?’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষোভ হয় না? রাগ হয় না,? উত্তেজনা হয় না? রুখে দাঁড়াতে পারি না আমরা?
সেই রুখে দাঁড়াতে হবে। এই একটা সুযোগ আমরা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলাম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আন্দোলন তৈরি করে আমরা তাদেরকে পরাজিত করতে। কিন্তু আমরা পারিনি। তাই বলে কি সব শেষ হয়ে গেছে। হয়নি। কিছুই শেষ হয়নি। আমরা আবার রুখে দাঁড়াবো, আমরা আবার উঠে দাঁড়াবো শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে আমার যে বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে এর প্রতিশোধ নেবো, আমার যে ভাইয়ের ঘর পোড়ানো হয়েছে তার প্রতিশোধ আমরা নেবো। শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে সকলে উঠে দাঁড়ান বিজয় হবো ইনশাআল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার মিটিংয়ে বলেছেন যে, দানবীয় আচরণ করবেন না, দানবে পরিণত হবেন না।
আপনি তো দানব হয়ে গেছেন। আমি বলি না, এসকে সিনহা সাহেব (সাবেক প্রধান বিচারপতি) বলেছেন একটা দানব তৈরি হয়েছে। সেই দানব থেকে মুক্তি পেতে হবে, পাথর বুক থেকে সরাতে হবে। আমাদের স্বাধীনতার আলো নিয়ে আসতে হবে, আমাদেরকে মুক্তির সংগ্রামে যেতে হবে।
জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় এর আগে জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, প্রশ্ন এসেছে ভোট। ভোট তো হয় নাই। ভোটের তারিখ ছিলো ৩০শে ডিসেম্বরে। ২৯ তারিখে ব্যালট শেষ। আমি ১৯৫৪ সালে ভোট দিতে গেছি, সেই থেকে এই পর্যন্ত সব ভোট দেখেছি, ভোটে অংশগ্রহণ করেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভোটের ইতিহাস আমি পড়েছি এই ধরনের কলঙ্কিত উলঙ্গ ভোট ডাকাতি নয়, মহাডাকাতি। এরকম ভোট কোথাও হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এটা ঘৃণা করার ভাষা নেই।
সারা বাংলাদেশ সুবর্ণচর হয়ে যাবে। মা-বোন-মেয়ে নিয়ে মান ইজ্জতের সঙ্গে বেঁচে থাকবেন কিভাবে? এদের খপ্পরে আক্রমণে সুবর্ণচরের এক মহিলার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে, তার শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে। আমার সেই বোনকে আমরা দেখতে এসেছি। একাত্তরে যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, এদের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে মান ইজ্জত নিয়ে কেউ বাঁচতে পারবে না। এদের রুখতে হবে, এই জালেমদের রুখতে হবে। একাদশ নির্বাচনের সংসদ সদস্যদের শপখ গ্রহণ অবৈধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উনি (শেখ হাসিনা) তড়িঘড়ি করে শপথ নিয়েছেন। আপনি তো ভোটে জিতেন নাই। আপনার শপথ নেয়া বেআইনি। এই সংসদ (দশম) এর মেয়াদ আছে ২৮শে জানুয়ারি পর্যন্ত। সেই সংসদ বাতিল করেছে এটা আমি কোনো পত্রিকায় দেখি নাই।
বাংলাদেশে ২৮শে জানুয়ারি পর্যন্ত সংসদ সদস্য হলো ৬শ’। আপনি শপথ নিলেন কিভাবে। ওই সংসদ বাতিল না করে কিভাবে শপথ নিলেন আপনারা। এই শপথ বেআইনি ও অবৈধ। আপনি শপথ সংবিধানবিরোধী ও নীতি নৈতিকতা বিরোধী। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলন করবে বলে জানান রব। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচন হয়নি, প্রহসন হয়েছে। আজকে আইন নেই, বিচার নাই, প্রশাসন নেই, পুলিশ নাই। সব দলীয় হয়ে গেছে। এদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে হলে প্রথম নিজেকে তৈরি করতে হবে।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নির্যাতিতা নারীকে দেখতে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও জেএসডি সভাপতি আ.স.ম. আবদুর রব, বিএনপির আবদুল আওয়াল মিন্টু, সৈয়দা আশরাফ পাপিয়া, মো. শাহজাহান, বরকতউল্লাহ্‌ বুলু, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল আবদিন ফারুক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শামীমা বরকত লাকীসহ বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমার বোন নোয়াখালীতে ধর্ষিতা হয়েছেন তিনি ৪ সন্তানের মা। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি, তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জনগণের কাছে এর বিচার দিচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।

শেষবারের মতো প্রিয় শহরে সৈয়দ আশরাফ by আশরাফুল ইসলাম

প্রিয় শহর কিশোরগঞ্জে তার আসার কথা ছিল বিজয়ীর বেশে । থাইল্যান্ডের হাসপাতাল থেকে নিজের শহরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আসছেন ঠিকই, তবে নিথর দেহটাকে কফিনবন্দি করে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সৈয়দ আশরাফের মরদেহ দেশে আনার পর রোববার হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জে আনা হবে। দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লাশ ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কাঁদছে কিশোরগঞ্জ, কাঁদছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের চরম বিরুদ্ধবাদীরাও বলছেন, এ এক অপূরণীয় মৃত্যু। রাজনীতির এই মহানায়কের প্রস্থানে কিশোরগঞ্জজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেবলই শোকগাথা আর অতল শ্রদ্ধা। মৃত্যুঞ্জয়ী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাস যে বাংলাদেশের হৃদয়ে!
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জে তার বিরোধী দলের লোকজনও অশ্রুসজল হচ্ছেন।
দলমত নির্বিশেষে কিশোরগঞ্জবাসী তাদের শোকগাথা প্রকাশ করছেন প্রিয় এই নেতার জন্য। এমন কেউ কিশোরগঞ্জে নেই যিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে বেদনাহত হননি। প্রিয় নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে করা হচ্ছে দোয়া। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ব্যাকুল হয়ে প্রতীক্ষায় আছেন অশ্রুসজল সর্বস্তরের জনতা।
কিশোরগঞ্জের অনেকের মতে, তিনি রাজনীতির এক অনন্য কবি। তার কবিতার কারুকার্যে মোহিত কিশোরগঞ্জবাসী।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। প্রেসিডেন্টের ছেলে হয়েও রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্টের ছেলে হয়েও শুকনো রুটি খেয়েছেন, স্টেনগান হাতে মাটিতে বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করেছেন। ভারতীয় জেনারেল উবান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তার বইয়ে যে সাদামাটা, শান্ত আর বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ যোদ্ধা আশরাফের কথা বলেছিলেন, তিনিই বাংলাদেশের সৈয়দ আশরাফ।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের পহেলা জানুয়ারি ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে এবার নিয়ে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন থাকায় এবারের নির্বাচনে তিনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন নি। তার পক্ষে পরিবারের সদস্যরা এবং জেলা আওয়ামী লীগ ও দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এ ছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। সৈয়দ আশরাফ নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন।
স্থানীয়রা বলছেন, মানুষের কাছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একটি পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে। তার উদ্যোগে কিশোরগঞ্জে সরকারি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শতকোটি টাকা ব্যয়ে নরসুন্দা নদী খনন, সংস্কারসহ নরসুন্দাকে ঘিরে লেকসিটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, মৎস্য ইনস্টিটিউট ও নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, গাইটালস্থ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন, কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর সড়কসহ বেশকিছু বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা যাই থাকুক না কেন, প্রিয় নেতার প্রতি আস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মানুষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নির্বাচনে বিজয়ী করেছেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী সৈয়দা শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের ২৩শে অক্টোবর লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর থেকেই অন্তরালে চলে যান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত বছরের ৩রা জুলাই তাকে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩রা জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একমাত্র সন্তান সৈয়দা রিমা ইসলাম লন্ডনের এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ দেশে আনতে ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম ওই রাতেই থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে আগে থেকেই সৈয়দ আশরাফের মরদেহের পাশে ছিলেন ছোট দুই বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি ও সৈয়দা রাফিয়া নূর রুপা এবং কন্যা সৈয়দা রিমা ইসলাম। থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শনিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পৌঁছায়।
বিমানবন্দর থেকে লাশ নেয়া হয় বেইলী রোডের সরকারি বাসায়। সেখান থেকে রাতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয় সৈয়দ আশরাফের মরদেহ। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে প্রথম জানাজা। এরপর লাশ নিয়ে যাওয়া হবে কিশোরগঞ্জে। সেখানে দুই দফা জানাজা শেষে বিকালে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে সবার প্রিয় এ নেতার মরদেহ। গতকাল সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে তার লাশ গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতারা।

ঝিনাইদহে গাছে ঝুলিয়ে যুবককে নির্যাতন: দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

হরিণাকুন্ডু উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে টেলিভিশন চুরির অপবাদ দিয়ে রানা (২৭) নামে এক যুবককে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল  হওয়ার পর শাহীনুর রহমান তুহিন নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাতে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তাহেরহুদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীপুর গ্রামের শামছুল ইসলাম বাদলের ছেলে শাহীনুর রহমান তুহিন ও ধুলিয়া গ্রামের আতিয়ার কাজীর ছেলে বাবুল কাজীকে শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রামবাসী জানায়, গত ২৭শে ডিসেম্বর শ্রপুর বাজারে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে একটি টেলিভিশন চুরি হয়। পরদিন সকালে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান তুহিন নিজ গ্রামের ছেলে রানাকে চোর সন্দেহে মাঠ থেকে ধরে আনে। পরে শ্রীপুর বাজারের একটি কাঁঠাল গাছে হাত পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেদম মারধর করেন।
নির্যাতনের ভিডিওটি কে বা কারা ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। শুক্রবার রাতেই হরিণাকুণ্ডুতে ছুটে যান ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দেন। শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার হন দুই আওয়ামী লীগ নেতা তুহিন ও বাবুল কাজী। তাহেরহুদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজের আলী জানান, গত ২৮শে ডিসেম্বর দুপুরে মাঠে কাজ করছিল রানা। এ সময় শাহীনুর রহমান তুহিন টেলিভিশন চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে নিয়ে আসে। এরপর গ্রামের একটি গাছে ঝুলিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করে। নির্যাতনের পর পরিবারের সদস্যরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। রানার পিতা ওমর আলী জানান, আমার ছেলে কোন চুরির সঙ্গে জড়িত না। তাকে অন্যায় ভাবে মারা হয়েছে।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুর রহমান তুহিন বলেন, ভোটের ৫ দিন আগে নির্বাচনী অফিস থেকে রানাই টিভি চুরি করে। আমি তাকে সামান্য মেরেছিলাম। তাকে আমি চিকিৎসাও করিয়েছিলাম। কিন্তু দলীয় কোন্দল থাকায় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ বিষয়টা ভিন্নভাবে তুলে ধরে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে জানান, চুরির অপবাদ দিয়ে এভাবে নির্যাতন করা অন্যায় ও অমানবিক। তিনি বলেন পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ৪ জনের নামে মামলা হয়েছে, যার নং ৩। প্রধান অভিযুক্ত তুহিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরিণাকুণ্ডু থানার এসআই গোলাম সারোয়ার জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছি। আশা করা যায় সব আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

প্রেমিক খুঁজছেন স্লাভিন

ভারি এক যন্ত্রণায় পড়েছেন বৃটেনের সাবেক অ্যাথলেট জেড স্লাভিন। তিনি প্রেম করার জন্য পুরুষ খুঁজছেন। মন মতো পাচ্ছেন না। বিয়ে করবেন সে অবস্থাও নেই। তার উপযুক্ত কাউকে না পেয়ে ভীষণ মনোকষ্টে ভুগছেন তিনি। কারণ কী? কারণ আর কিছুই নয়, তার উচ্চতা। স্লাভিনের দিকে তাকালে যে কাউকে মাথা উচু করে তাকাতে হবে। কারণ আকাশচুম্বী টাওয়ারের মতো তার উচ্চতা।
সাধারণ কোনো মানুষকে তার চোখমুখের দিকে তাকাতে হলে আকাশের চাঁদ দেখার মতো করে তাকাতে হয়। স্লাভিনের উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি। কাউন্টি ডারহামের এই যুবতী অ্যাথলেটিক্সে স্বর্ণপদক বিজয়ী। শুধু স্পোর্টসের মধ্যে ডুবে থাকলে তো আর জীবন চলে না। এর বাইরেও মানুষের জীবন আছে। প্রতিটি মানুষ সংসার করার স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে স্বামী, সন্তান নিয়ে একটি স্বর্গ রচনার। সেই স্বপ্ন স্লাভিনের মনে উঁকি দিচ্ছে খুব বেশি। অন্তত এমন একজনের প্রয়োজন তার যার সঙ্গে তিনি চুটিয়ে প্রেম করতে পারেন। কিন্তু তার উচ্চতার কাছাকাছি উচ্চতা সম্পন্ন কাউকে পাচ্ছেন না তিনি। জেড স্লাভিনের বয়স এখন ২৬ বছর। কিন্তু এমন কোনো পুরুষ না পেয়ে তিনি এখন নিজের শারীরিক গঠনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়া শুরু করেছেন। বিশেষ করে কেউ কেউ তাকে ‘আগলি’ আবার ‘এ ফ্রেক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এসব নিয়ে মনোকষ্টের শেষ নেই তার। জেড স্লাভিন এখন তাইকন্ডো বিষয়ক কোচ ও মধ্যস্থতাকারী। তাতে ২১ বছর বয়সে টিম জিবি-এর তাইকন্ডোতে স্থান করে দেয়া হয়। এতে তিনি কিছুটা স্বস্তি পান। ২০১৪ সালে অংশ নেন গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েথ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানে তিনি বিজয়ী হন। দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। সহসাই তিনি বুঝতে পারেন, এসব সফলতার জন্য তার উচ্চতাই দায়ী। এত বেশি উচ্চতা তাকে খেলায় বেশি সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমি যখন স্কুলে পড়াশোনা করতাম তখন আমার উচ্চতার জন্য সবাই আমাকে ঘৃণা করতো। আমার চেহারা নিয়ে সবাই আজেবাজে কথা বলতো। তাতে আমি খুব বেদনাহত হতাম। বিশেষ করে যখন কিছু কেনাকাটা করতে যেতাম তখন মানুষ যেসব মন্তব্য করতো তার বিরুদ্ধে আমার মনকে যুদ্ধ করতে হতো। আমাকে নিয়ে তারা ফিসফাস করতো। আমার অনুমতি ছাড়াই তারা আমার ছবি তুলতো। এতে আমার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যেতে থাকে।

ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন রাশিদা তিলাইব

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের দু’ঘণ্টার মাথায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর তীর্যক ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রাশিদা তিলাইব। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা কংগ্রেসের ইতিহাসে প্রথম দুই মুসলিম নারী সদস্যের একজন। বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণের পরই এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসনের মুখোমুখি করার হুমকি দেন। এই হুমকি দিতে গিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টকে ‘অসভ্য’ আখ্যা দেন। বলেন, ‘ডেমোক্রেটরা অবশ্যই ওই অসভ্য ব্যক্তিকে অভিশংসনের মুখোমুখি করবে।’ আর এ নিয়ে বেজায় চটেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন মুল্লুকে। রাশিদার আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিজের স্বভাবের বাইরে গিয়ে ট্রাম্প বেশ ঠাণ্ডা মাথায় জবাব দেন। শুক্রবার এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, রাশিদার মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই অবমাননাকর।
ট্রাম্প বলেন- ‘আমি মনে করি তার বক্তব্য অবমাননাকর। আমি তাকে চিনি না। মনে হয় সে নতুন। নিজের ছেলে ও উপস্থিত অন্যদের সামনে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে সে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে অপমান করেছে।’ অভিশংসনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি এমন কাউকে অভিশংসন করতে পারেন না যে ভালো কাজ করছে। আমি এভাবেই দেখছি।’ এর আগে শুক্রবার সকালে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে চায়। কেননা তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সফল প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, রাশিদা তিলাইবের মন্তব্যের সমালোচনা কৌশলে এড়িয়ে গেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। রাশিদার মন্তব্য নিয়ে স্পিকার বলেন, তিনি এ ধরনের ভাষা ব্যবহার না করলেও পারতেন। তবে ট্রাম্প যেসব কথা বলেন, এটা তার চেয়ে খারাপ না। অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে তিনি রাশিদা তালাইবের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। তবে, রাশিদার বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন রিপাবলিকান  রাজনীতিবিদরা। তারা প্রতিনিধি পরিষদের মতো জায়গায় এ ধরনের শব্দচয়নের তীব্র বিরোধিতা করেন। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাককার্থি ন্যান্সি পেলোসিকে একহাত নিয়েছেন। রাশিদার বক্তব্যের অমার্জিত শব্দ প্রত্যাখ্যান না করার কারণে স্পিকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। কিন্তু রাশিদা তার অবস্থানে অনড়। ক্ষমাপ্রার্থনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি টুইটারে লেখেন, ‘আমি সবসময় সত্য বলে যাবো। এটা শুধু ডনাল্ড ট্রাম্পের বিষয় না। আমাদের সবার বিষয়। সাংবিধানিক সংকটের মুখে আমাদের সবাইকে  সোচ্চার হতে হবে।’ তবে, সাংবিধানিক সংকট বলতে কী বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট করেন নি রাশিদা।