Monday, October 7, 2024

আমেরিকার বোমায় মরছে ফিলিস্তিনিরা

গাজায় ইসরায়েলি হামলার বর্ষপূর্তি আজ। ২০২৩ সালের ৭ আক্টোবর থেকে উপত্যকায় হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। দেশটির এ হামলার পেছনে ব্যাপকভাবে সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে আসছে আমেরিকা। তাদের দেওয়া বোমায় প্রাণ হারাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা।

সোমবার (০৭ আক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্টের তথ্যানুসারে, গত বছরের সাত আক্টোবর থেকে ইসরায়েলকে ১৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গাজায় হামলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে আয়রন ডোম এবং ডেভিডের স্লিং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবস্থার জন্য চার বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া তারা অস্ত্র ও জেট ফুয়েলের জন্যও অর্থ সহায়তা দিয়েছে দেশটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য অতিরিক্ত চার দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে হুতিদের হামলা দমনে পরিচালিত অভিযানের খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গাজা অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী অব্যাহতভাবে দুই হাজার পাউন্ডের এমকে-৮৪ বোমা ব্যবহার করছে। মার্কিন এ বোমা নিমিষেই যেকোনো ভবনকে ধসিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া এ বোমার প্রভাবে শত শত শত মিটার এলাকাজুড়ে থাকা মানুষকেও হত্যা করা যায়।

আলজাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন এ বোমাগুলো এফ-১৫ বা এফ-১৬ সিরিজের যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়েছে। এটি মার্ক-৮০ সিরিজের বর্ধিত সংস্করণ।

দুই হাজার পাউন্ডের এ বোমা এক হাজার ফুট এলাকাজুড়ে ধ্বংসলীলার স্বাক্ষর রেখে যায়। এটির ফলে মাটির গভীরে ৩৩ থেকে ৫০ মিটার গভীর খাদের সৃষ্টি করে।

গত এক বছরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৪১ হাজার ৬৮৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৮০০ শিশু রয়েছেন। এ ছাড়া নারী রয়েছেন ১১ হাজার ৩৭৮ জন। এমনকি ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবে ১৫৮ জন গণমাধ্যমকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় এক বছর ধরে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এ জন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে।

জাতিসংঘের হিসাবমতে, গাজায় ভবন ধসে এ পর্যন্ত ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপগুলো যদি একসঙ্গে এক জায়গায় রাখা যায়, তাহলে তা মিসরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি)।

ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন পড়বে।

আমেরিকার বোমায় মরছে ফিলিস্তিনিরা
আমেরিকার বোমায় মরছে ফিলিস্তিনিরা

হামাস-ইসরাইল সংঘাতের এক বছর পূর্ণ আজ, ভালো নেই গাজাবাসী

৭ই অক্টোবর। হামাস-ইসরাইল সংঘাতের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছর এই দিনটি বিশ্ববাসীর কাছে ছিল এক উৎকণ্ঠার দিন। এখনও সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠায় সময় পার করছে গাজাবাসী। এ দিনটিতেই দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস। এর পর ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে ইসরাইল। তারা হামাস নির্মুলের নামে গাজা উপত্যকার হাজার হাজার নারী, শিশু, পুরুষকে হত্যা করেছে। এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুঁতেরা শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়েছেন। আহত-নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, আমি হতাহত পরিবারের সকলের প্রতি আমার সংহতি জানাই। এ খবর দিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

এতে বলা হয়, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুঁতেরা বলেছেন- ফিলিস্তিনের প্রতিরোধকারী সংগঠন হামাসের হামলায় সেদিন যে সকল আত্মা ‘ক্ষতবিক্ষত’ হয়েছিল তাদের সকলেকে স্মরণ করছি যারা সেদিন নিহত এবং ‘সহিংসতার’ শিকার হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আজ বিশ্ব ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য কণ্ঠস্বর জোরালো করার সময় এসেছে। এসময় তিনি হামাসের সমালোচনা করেন। এছাড়া জিম্মি আটকের ফলে হামাসের নিন্দাও জানিয়েছেন। জতিসংঘের প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, ৭ই অক্টোবর থেকে মর্মান্তিক সহিংসতা ও রক্তপাত শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, এক বছর আগে শুরু হওয়ার পর যে যুদ্ধ চলছে তা জীবনকে ছিন্নভিন্ন করে চলেছে। যাতে গাজার ফিলিস্তিনিদের এবং এখন লেবাননের জনগণের জন্য গভীর মানবিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন জিম্মিদের মুক্তির সময়। বন্দুক নামানোর সময়। এই অঞ্চলকে যে দুর্ভোগ গ্রাস করেছে তা শেষ করার সময়। শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের সময়।

তিনি ইসরাইল, ফিলিস্তিন এবং ওই অঞ্চলের সকল দেশকে শান্তি ও মর্যাদার সাথে এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার সাথে বসবাস করতে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রস্তাবকে লঙ্ঘন করে ইসরাইল গত ৭ই অক্টোবর থেকে গাজায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ হামলা অব্যাহত রেখেছে। তাদের হামলায় এ পর্যন্ত ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। যার বেশির ভাগই নারী এবং শিশু। এছাড়া ইসরাইলের হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৯৭ হাজার মানুষ। ইসরাইলের হামলার ফলে গাজার প্রায় সকল বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। খাদ্যহীন মানবেতর সময় পার করছে গাজার শিশু এবং নারীরা। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে মধ্যস্থতা করে আসছে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে একটি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য উভয়পক্ষকে রাজি করাতে বিস্তর চেষ্টাও করা হয়েছে। কিন্তু হামাস এবং ইসরাইলের কোনো পক্ষই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে চলতে সম্মত হয়নি।

mzamin

হাতে আগুন দিয়ে ইসরাইলি নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নিজের হাতে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন এক মার্কিন নাগরিক। রোববার হামাস-ইসরাইল সংঘাতের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগের দিন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে এভাবে প্রতিবাদ জানালেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা দেখেছেন বিক্ষোভের প্রায় দুই ঘন্টার মধ্যে এক ব্যক্তি বিক্ষোভস্থলের কাছে আসেন এবং নিজের শরীরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারী তার বাম হাতে আগুন দিতে সক্ষম হন। পরে অন্য বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় পুলিশ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। তারা অগ্নি জ্বলন্ত হাতে পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে দেয়।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, নিজ হাতে আগুন দেয়া ওই বিক্ষোভকারী নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলছিলেন- আমি একজন সাংবাদিক। চিৎকার করতে করতে তিনি আরও বলেছেন, আমরা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেই। তার হাতে আগুন জ্বলে উঠলে তিনি ব্যাথায় চিৎকার করতে থাকেন। বর্তমানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে রোববার বিক্ষোভে জড়ো হয় কয়েক হাজার মানুষ। দ্রুত সময়ের মধ্যে গাজায় নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে তারা। বিক্ষোভ সমাবেশে যুদ্ধ বন্ধ সহ ইসরাইলকে মার্কিন সমর্থনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায়। সম্প্রতি লেবাননে ইসরাইলি হামলা জোরদার করায় তার বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

৭ অক্টোবর বিশ্ববাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন। কেননা গত বছর এই দিনে মধ্যপ্রাচ্যে এক উত্তপ্ত সময়ের সূচনা হয়। যা এখনও চলছে। এক বছরে হামাস-ইসরাইলের উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। গত এক বছরে হামাস ধ্বংসের নামে ইসরাইল ৪২ হাজার নিরপরাধ বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। যাদের বেশির ভাগই শিশু এবং নারী।

ইসরাইলের এই নৃশংসতা বন্ধের দাবিতে রোববার লস এঞ্জেলেসের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসিতেও জড়ো হয়েছিল কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তারা হোয়াইট হাউসের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছে। এসময় ফিলিস্তিনপন্থীরা ইসরাইলের প্রতি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

mzamin

৭ অক্টোবর: নারকীয় হামলার দৃশ্যে থমকে গিয়েছিল বিশ্ব

আজ ৭ অক্টোবর। ২০২৩ সালের এ দিনে হঠাৎ একের পর এক নারকীয় হামলার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যে হামলার দৃশ্যে হতবাক হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। বেসমারিক নাগরিকদের ওপর হামলার জন্য যাদেরকে বিশ্ব মানবতার কাঠগড়ায় যুগ ‍যুগ ধরে দাড়াতে হচ্ছে তারাই হয়েছিল সেই হামলার শিকার। এরপরই শুরু হয় গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধ। এ যুদ্ধের প্রথম বর্ষপূর্তি আজ।

গাজায় ইসরায়েলি হামলার যে সূত্রপাত তা হয়েছিল এদিন। আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। নজিরবিহীন এ হামলায় গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা প্রায় ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা এবং আড়াই শতাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করে। এর জবাবে হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে তেল আবিব। তারা এমন প্রতিক্রিয়ার কথা জানায়, যাতে হামাস আর কোনো হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে এবং ইসরায়েল যেন তাদের সব জিম্মিকে মুক্ত করতে পারে।

ওই হামলার পর প্রতিক্রিয়ায় নির্বিচার বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে গাজা উপত্যকাকে যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। এ পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। অভিযান চালিয়ে হামাসের হাজারো যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে তারা। পাশাপাশি তাদের সুড়ঙ্গের বিশাল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন এক বছর পর বাস্তবে হামাসকে কতটা নির্মূল করা গেল?

কতজন হামাস নেতা নিহত হয়েছেন: ৭ অক্টোবেরর আগে গোষ্ঠীটির ৩০ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। এ এক বছরে বিভিন্ন হামলায় হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া, হামাসের কেন্দ্রীয় জাবালিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারি, কমান্ডার সালেহ আল-আরৌরি, হামাসের ডেপুটি কমান্ডার মারওয়ান ইসা, মাস্টারমাইন্ড মোহাম্মদ দায়েফ, হামাসের সশস্ত্র শাখার শীর্ষ নেতা সাইদ আতাল্লাহ, গাজা উপত্যকায় হামাস সরকারের প্রধানমন্ত্রী রাওহি মুশতাহা, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর নিরাপত্তা দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সামেহ আল-সিরাজ ও কমান্ডার সামি ওউদেহর নিহত হওয়া তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে সবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

ইসরায়েল এ পর্যন্ত ১১৩ জন হামাস নেতার নাম উল্লেখ করেছে, যাদের অধিকাংশই যুদ্ধের প্রথম তিন মাসে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

জিম্মিদের উদ্ধার: ২৫৩ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এর মধ্যে মৃতসহ দেড় শতাধিক ইসরায়েলিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এখনও ৪০ জনের বেশিকে হদিস পাওয়া যায়নি।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় এক বছর ধরে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এজন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, গাজায় ভবন ধসে এ পর্যন্ত ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপগুলো যদি একসঙ্গে এক জায়গায় রাখা যায়, তাহলে তা মিশরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি)।

ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন পড়বে

গাজাভিত্তিক জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘অবকাঠামোর যে পরিমাণ ক্ষতি করা হয়েছে, তা পাগলামির পর্যায়ে পড়ে... দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি ভবনও নেই যেখানে ইসরায়েল হামলা চালায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত অর্থেই এ অঞ্চলের ভৌগোলিক চিত্র পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যেখানে আগে পাহাড় ছিল না, এখন সেখানে পাহাড় হয়ে গেছে। দুই হাজার পাউন্ডের বোমাগুলো আক্ষরিক অর্থেই এ অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দিয়েছে।’

বিধ্বস্ত চিকিৎসাব্যবস্থা : ইসরায়েলি হামলায় গাজার ৬৩ শতাংশ ভবন বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। উপত্যাকার ৩৮টি হাসপাতালের মধ্যে ২৩টিতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। িএছাড়া বস্তচ্যুত হয়ে পড়েছেন ১৯ লাখ মানুষ।

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা। ছবি : সংগৃহীত



রায় দিয়ে ‘বাবার ট্রাস্টে’ টাকা নেন বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ২০২২ সালের শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর এই দায়িত্ব পালনকালে গাইবান্ধার ‘ফুলছড়ি হাজী সাত্তার’ ট্রাস্টকে তিনি ‘ডোনেশনের’ নামে কোটি কোটি টাকা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। এ ট্রাস্ট তার বাবা হাজী এম এ সাত্তারের নামে গঠিত। এ ছাড়া তার এলাকার বেশিরভাগ মসজিদ-মাদ্রাসা-মন্দিরে তিনি কোম্পানি কোর্ট থেকে আদেশের মাধ্যমে ডোনেশন (অনুদান) দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একটি মসজিদে চার দিনের ব্যবধানে ১১ লাখ টাকার ডোনেশন দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানি কোর্টের ডোনেশনের টাকা এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসায় দেওয়ার পেছনে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। কারণ, তার আসন গাইবান্ধা-৫ থেকে তার স্ত্রী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন। এলাকার মানুষের মন জোগাতে এবং নির্বাচনী মাঠে নিজেদের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে কোম্পানি কোর্টকে ব্যবহার করেছেন। তার এসব কর্মকাণ্ড উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের জন্য করা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বহুমাত্রিক দুর্নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার বাবার নাম আলহাজ এম এ সাত্তার সরকার এবং মা আসমা সাত্তার। বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ির কালিরবাজার। তিনি ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তিনি বেঞ্চের একজন জুনিয়র বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৭ সালের মে মাসের দিকে তাকে হাইকোর্টের একক কোম্পানি বেঞ্চের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকেই কোম্পানি কোর্ট থেকে ডোনেশনের নামে টাকা বাগিয়ে নিতে শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাজী ফার্মস লিমিটেড কোম্পানি আইনের ২২৮ ও ২২৯ ধারার অধীনে আত্রাই পোলট্রি লিমিটেডসহ ৪৯টি কোম্পানির হস্তান্তরগ্রহীতা হিসেবে হাইকোর্টে আবেদন করেন। কোম্পানি ম্যাটার নং-১১২/২০২০। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি খুরশীদ অলম সরকার একটি রায় দিয়েছেন। রায়ে আত্রাই পোলট্রি লিমিটেডসহ ৪৯টি কোম্পানির সব সম্পত্তি ও দায়-দেনা স্থানান্তরের আবেদনকারী কাজী ফার্মসের অধীনে দেওয়া হয়। আদেশদানের ১৪ দিনের মধ্যে রায়ের একটি সত্যায়িত অনুলিপি জয়েন স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়ে কাজী ফার্মসের নামে নিবন্ধন করতে বলা হয়। তবে এই রায় ও আদেশ কার্যকরে ডোনেশন দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ডোনেশন হিসেবে ট্রান্সফারি কোম্পানি কাজী ফার্মসকে ২০ লাখ টাকার পে-অর্ডার ‘ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্ট’, উপজেলা রোড, কালিরবাজার, ফুলছড়ি গাইবান্ধার অনুকূলে দিতে হবে। এ ট্রাস্ট বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ট্রাস্ট।

শুধু কাজী ফার্মসের ক্ষেত্রে দেওয়া রায়টিই নয়, এমন শত শত মামলার রায়ে ‘ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্ট’কে ডোনেশন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের কোম্পানি বেঞ্চ। এই বিচারপতির কোম্পানি কোর্টের দায়িত্ব পালনের শুরু থেকে দেওয়া সব রায় ও আদেশ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের আদিম দেওয়ানি শাখায় রক্ষিত ‘রেজিস্ট্রার খাতা’ থেকে ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালের প্রায় দুইশ মামলার রায় ও আদেশ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, অন্তত ৬৫টি মামলার রায় ও আদেশে ‘ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্ট’-এর নামে ডোনেশন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ডোনেশন দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এ ছাড়া বাকি মামলাগুলোতে দেওয়া ডোনেশনের টাকার বেশিরভাগই বিচারপতির নিজ এলাকা ফুলছড়ির বিভিন্ন মসজিদ-মন্দিরে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকা থেকেই তার স্ত্রী ফারজানা রাব্বী বুবলী গত জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। বিশ্লেষণ করা রায় ও আদেশগুলোর মধ্য থেকে অন্তত ৫টি মামলার রায় ও আদেশের কপি উত্তোলন করা হয়। রেজিস্টার খাতায় উল্লেখিত ডোনেশনের টাকার পরিমাণ সব রায় ও আদেশের কপিতে সঠিক আছে। সব রায় ও আদেশের কপিতে ডোনেশনের টাকা ট্রাস্টের নামে ফুলছড়ির কালিরবাজার জনতা ব্যাংক শাখার ১০২১০১২৭৯৯ নম্বর হিসাবে দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোম্পানি ম্যাটার নং-৪৬/২০ মামলায় ৫ লাখ টাকা ডোনেশন নেওয়া হয়েছে ‘ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্ট’-এর নামে। ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এমজেএল (মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টস) বাংলাদেশ লিমিটেডকে ৫ লাখ টাকা ডোনেশন দিতে নির্দেশ দেন। ওই আদেশ অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ সুপ্রিম কোর্টের আদিম দেওয়ানি শাখায় ‘ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র (চেক অথবা পে-অর্ডার) জমা দেওয়া হয়। একইভাবে কোম্পানি ম্যাটার নং-২৭৬২০/১৮ মামলায় ৫ লাখ টাকার ডোনেশন নেওয়া হয়েছে। ‘ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে এই টাকা দেওয়ার প্রমাণপত্র আদিম দেওয়ানি শাখার রেজিস্টার খাতায় ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল এন্ট্রি করা হয়। কোম্পানি ম্যাটার নং-১৪৭/২০১৬ মামলায় ৪ লাখ টাকার ডোনেশন নেওয়া হয়েছে ওই ট্রাস্টের নামে। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই আদিম দেওয়ানি শাখায় ট্রাস্টের অনুকূলে টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র দাখিল করা হয়েছে। একইভাবে কোম্পানি ম্যাটার নং-৩১২/২০১৮ মামলায় ৫ লাখ, ৩০৯/২০১৭ মামলায় ৩ লাখ, ৪১/২০১৯ মামলায় ৩ লাখ, ১৭৩/২০১৮ মামলায় ৫ লাখ, ৩০৭/২০১৮ মামলায় ৫ লাখ, ১৭২/২০১৮ মামলায় ৪ লাখ, ২২১/২০১৮ মামলায় আড়াই লাখ, ৩৭৫/২০১৫ মামলায় ২ লাখ, ২২৩/২০১৪ মামলায় ২ লাখ, ৩৪৩/২০১৮ মামলায় ২ লাখ টাকা ওই ট্রাস্টের অনুকূলে ডোনেশন হিসেবে নিয়েছেন। ২০১৭ সালে কোম্পানি কোর্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট কত টাকা ওই ট্রাস্টের অনুকূলে ডোনেশন হিসেবে নিয়েছেন তার বিস্তারিত বের করা সম্ভব হয়নি।

এই বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলছড়ি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ জামে মসজিদের নামে চার দিনে মোট ১১ লাখ টাকা বিভিন্ন কোম্পানিকে ডোনেশন হিসেবে দিতে আদেশ দিয়েছেন এ বিচারপতি। এর মধ্যে ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট এই মসজিদের নামে ১১৩/২০২০ মামলার পক্ষ থেকে ডোনেশন হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রমাণপত্র জমা দেওয়া হয়েছে আদিম দেওয়ানি শাখায়। একই বছরের ১৩ আগস্ট ৩৩/২০২০ মামলায় ১ লাখ, ১৮ আগস্ট ৬১/২০২০ মামলায় ২ লাখ, ১৯ আগস্ট ১৫২/২০২০ মামলায় ডোনেশন হিসেবে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার প্রমাণপত্র জমা দেওয়া হয়েছে আদিম দেওয়ানি শাখায়। এই একই মসজিদের নামে ৩৭৬/২০১৮ মামলায় ১০ লাখ টাকা ডোনেশন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যে টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আদিম দেওয়ানি শাখার রেজিস্টার খাতায় এন্ট্রি করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোম্পানি কোর্টের দায়িত্ব পালনকালে বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্ট ছাড়াও বেশিরভাগ ডোনেশনের টাকা ফুলছড়ি এলাকার বিভিন্ন মসজিদ-মন্দিরে দিয়েছেন।

ফুলছড়ির কালিরবাজারে সরেজমিন দেখা যায়, গাবগাছি হাউস নামে একটি বিশাল বাড়ির দ্বিতীয়তলায় জনতা ব্যাংক শাখা অফিস। এই শাখাতেই ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্টের নামে খোলা হিসাব নম্বরে ডোনেশনের টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আনুমানিক তিন একর জায়গাজুড়ে করা এই বাড়িটির মালিকও বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার। কালিরবাজারের কোথাও ফুলছড়ি হাজী সাত্তার ট্রাস্টের নামে দৃশ্যমান কোনো সাইনবোর্ড বা অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, এই ট্রাস্টে বাইরের তেমন কোনো লোকবল নিয়োগ করা হয়নি। বিচারপতির পরিবারের সদস্যরাই ট্রাস্টটি পরিচালনা করেন। এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা-মন্দিরে দান করা হয় এ ট্রাস্টের নামে। এ ট্রাস্ট থেকে একটি ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার পর মসজিদ-মিন্দিরে টাকা যায়। ওই টাকা সরাসরি কোম্পানি কোর্ট থেকে দেওয়া হয় নাকি ট্রাস্টের ফান্ডে যে টাকা ঢুকেছে, সেখান থেকে দেওয়া হয়, স্থানীয়রা সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।

‘যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা’ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন কালবেলাকে বলেন, ‘এটা সঠিক হয়নি। এভাবে বাবার নামে করা ট্রাস্টে টাকা দিলে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এটা কেন দিল? ব্যক্তিস্বার্থে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে বলে মনে করি।’

হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক এক বিচারপতি বলেন, ‘প্রভিশন আছে, কোম্পানি কোর্টের জরিমানার একটি অংশ মহৎ কাজে ব্যয় করা যাবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করবে। ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য কোনো রায়ের অংশ ব্যবহার করা যায় না। বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটা মিসকনডাক্টের মধ্যে পড়ে।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল কালবেলাকে বলেন, নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের। বিচারপতিরা শপথ নিয়ে থাকেন অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে তারা কিছুই করবেন না; কিন্তু কোনো বিচারপতি যদি নিজের বাবার নামে ট্রাস্ট খুলে টাকা নিয়ে থাকেন কিংবা তার স্ত্রীর নির্বাচনী কাজে সহযোগিতার জন্য আদালতকে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তা দুঃখজনক। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি তার অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার যে শপথ নিয়ে থাকেন, তা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ড সামাজিকভাবেও দৃষ্টিকটূ। ন্যায়দণ্ড যিনি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখবেন—এটাই সবার প্রত্যাশা থাকে; কিন্তু তিনি তার পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিচারিক সুবিধা দিয়ে ন্যায় বিচারের পরিপন্থি কাজ করেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, এটা একটি বহুমাত্রিক দুর্নীতি ও বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার। তিনি বলেন, বিচার বিভাগে দলীয়করণ হয়েছে। এ কারণে দুর্নীতিও হয়েছে। এগুলো সবারই জানা; কিন্তু এ ধরনের বহুমাত্রিক দুর্নীতির ঘটনা বিরল। একদিকে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে ওই বিচারপতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি করেছেন। আবার একই ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনীতিতে সুবিধা নেওয়ার আশায় বিচারিক আদেশের মাধ্যমে তার এলাকার বিভিন্ন মসজিদ-মন্দিরে দান করেছেন। আমি আশা করব, প্রধান বিচারপতি অনতিবিলম্বে এই বিচারপতিকে বিচারের আওতায় আনবেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে নজির স্থাপন করবেন। যাতে করে বিচার বিভাগে এ ধরনের বহুমাত্রিক দুর্নীতি আর না হয়। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া গেছে।

‘আচরণবিধিতে যা বলা আছে’ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের জন্য ৩৯ দফার আচরণবিধি চূড়ান্ত করে দেন আপিল বিভাগ। ২০১৭ সালের ২ আগস্ট তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির রায়ে এসব আচরণবিধি উল্লেখ করা হয়। এই আচরণবিধিতে বিচারকদের পেশাদারিত্ব ও নৈতিক মানদণ্ড কেমন হবে, কোন কোন বিষয়ে তারা সচেতন থাকবেন, কোন ধরনের আচরণ পরিহার তাদের করতে হবে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কোন কোন বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে—এসবের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই রায়ে। রায়টি এখনো বহাল রয়েছে।

ওই রায়ে দেওয়া আচরণবিধির ১৫ নম্বর ধারায় বলা হয়, দেশ-বিদেশের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো বিচারক জড়িত থাকতে পারবেন না। ২১ ধারায় বলা হয়, একজন বিচারক জনবিতর্কে অংশ নিতে পারবেন না। প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কেও অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বিচার বিভাগে মুলতবি রয়েছে, এমন কোনো বিষয়েও বিতর্কে জড়াতে পারবেন না। ২৫ নম্বর ধারায় বলা হয়, একজন বিচারককে তার আচরণ ও কাজ দিয়ে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

২৯ নম্বর ধারায় বলা হয়, বিচারকের পরিবারের কোনো সদস্য যদি কোনো মামলার কোনো পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন, তা হলে ওই বিষয়ে বিচারক অংশ নিতে পারবেন না। ৩০ নম্বর ধারায় বলা হয়, আইন পেশায় জড়িত রয়েছেন এবং মক্কেলকে আইনি সহযোগিতা দেন, এমন কোনো ব্যক্তিকে বিচারক তার বাসস্থানে স্থান দেবেন না। ৩১ নম্বর ধারায় বলা হয়, একজন বিচারক তার পরিবারের কোনো সদস্যকে এমন কোনো সামাজিক বা অন্য কোনো সম্পর্কে জড়াতে দেবেন না, যা তার আদালতের কোনো বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে। ৩২ নম্বর ধারায় বলা হয়, একজন বিচারক কারও সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন না বা এমন কারও কাছ থেকে ঋণ নিতে পারবেন না, যার দ্বারা বিচারকাজে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিবারের সদস্যদেরও এমন কাজ থেকে বিরত রাখবেন। ৩৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, বিচারক বা বিচারকের পরিবারের সদস্যরা বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো উপহার চাইবেন না, কোনো উপহার বা ঋণ নেবেন না। 

গ্রাফিক্স : কালবেলা

দক্ষিণ ইসরায়েলে বন্দুক হামলায় এক নারী পুলিশ নিহত

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বেরশেবা শহরে আজ রোববার বন্দুকধারীর গুলিতে এক নারী পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। ইসরায়েলের পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত নারী পুলিশ সদস্যের নাম শিরা ছায়া সুসলিক। ১৯ বছর বয়সী সুসলিক ইসরায়েলের সীমান্ত পুলিশের সার্জেন্ট ছিলেন।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, বেরশেবা শহরের মধ্যাঞ্চলে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটাকে ‘সন্দেহজনক সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওই সন্ত্রাসীকে ঘটনাস্থলেই নিরস্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ জেলার বিপুলসংখ্যক পুলিশকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে তেল আবিবে বন্দুকধারীর গুলিতে আট ব্যক্তি নিহত হন। হামাস এ হামলার দায় স্বীকার করে। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এটা ছিল অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। তেল আবিবের হামলার দিনই ইসরায়েলে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান।

এদিকে আজ সকালে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আল–জাজিরা জানিয়েছে, গাজার দেইর-এল-বালাহ এলাকায় আল-আকসা মার্টিয়ার্স হাসপাতালের পাশে সাহদা আল-আকসা মসজিদে বিমান হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে স্থানচ্যুতরা আশ্রয় নিয়েছিল।

বন্দুক হামলার পর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বেরশেবা শহরের ঘটনাস্থলে পুলিশ। ৬ অক্টোবর ২০২৪
বন্দুক হামলার পর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বেরশেবা শহরের ঘটনাস্থলে পুলিশ। ৬ অক্টোবর ২০২৪ ছবি: রয়টার্স

গাজা যুদ্ধের এক বছর: রক্ত, লাশ আর বারুদের গন্ধের ভেতর বসবাস

চারদিকে রক্ত। লাশ আর লাশ। ছিন্নভিন্ন মানব-অঙ্গ। বাতাসে বারুদের গন্ধ। মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসছে লাশ। সন্তানের লাশ নিয়ে মায়ের আহাজারি। কে তাকে সান্ত্বনা দেবেন! সবার একই অবস্থা। কেউ হারিয়েছেন ভাই। কেউ স্বামী। কেউ বোন। কেউ মা-বাবা। আবার কোথাও পুরো পরিবার শেষ। যেসব মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা দাফন করার মতো স্থান নেই। চারদিকে কংক্রিটের বিধ্বস্ত ভবন। হাসপাতাল, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র- কোনো স্থানই নিরাপদ নয়। যারা বেঁচে আছেন, তারা শুধু প্রাণ হাতে নিয়ে এক স্থান থেকে ছুটছেন অন্য স্থানে। ইসরাইল গণহত্যা উল্লাসে এমনইভাবে মেতেছে। গাজাকে ‘নির্জন দ্বীপে’ পরিণত করার মিশন নিয়ে তারা সেখানকার মাটিকে তাঁতিয়ে দিয়েছে। মানুষ বেঁচে আছে মানবেতরভাবে। গাজার এ চিত্রকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করা হয়েছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে)। বিশ্ব মোড়লরা ইসরাইলকে বিরত হতে, যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে সচেষ্ট। জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, গত বছর ৭ই অক্টোবর ইসরাইল গাজায় যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে কমপক্ষে ৪১,৮৭০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এর বেশির ভাগই নারী ও শিশু। হাত-পা হারানো শিশুর দেহকে নিয়ে পিতা, অভিভাবকদের দৌড়াদৌড়ি বিশ্ববিবেককে কাঁদিয়েছে গত এক বছর। জাতিসংঘ বার বার যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সব আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অব্যাহতভাবে গাজায় নির্মমভাবে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই যুদ্ধে হামাসকে শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা মাঝে মাঝেই ইসরাইলে রকেট হামলা চালিয়েছে। তার জবাব দিতে গিয়ে এখন লেবাননে পুরো মাত্রায় যুদ্ধ করছে ইসরাইল। তারা বেপরোয়াভাবে বোমা ফেলছে সেখানে। লোকজনকে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে লোকালয়কে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে। হিজবুল্লাহও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। তারা হত্যা করেছে ইসরাইলি বেশ কিছু সেনাসদস্যকে। ধ্বংস করেছে ট্যাংক। কিন্তু পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় এসব খবর আসছে কম। তা সত্ত্বেও কোনো কোনো মিডিয়া লেবাননকে আরেকটি গাজা যুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসারুল্লাহকে হত্যার সময় সেখানে ইরানের একজন ডেপুটি কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এর বদলা নিতে ইসরাইলে এ সপ্তাহে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। তারা বলেছে, ইসরাইল পাল্টা হামলা না চালালে এখানেই ইতি। কিন্তু ইসরাইল অঙ্গীকার করেছে, তারা ইরানের হামলার জবাব দেবে। ফলে  মধ্যপ্রাচ্য একটি উত্তপ্ত কড়াইয়ের উপর বসে আছে। যেকোনো সময় সেখান থেকে উত্তেজনার আগুন পোড়াতে পারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে। এমন অবস্থায় গাজা যুদ্ধের এক বছরের প্রাক্কালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। লেবাননে ইসরাইলের সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনাকে অবশ্যই এড়িয়ে যেতে হবে। শনিবার তিনি ফ্রাঞ্চ ইন্টার টেলিভিশনকে বলেন, আমি মনে করি এখন আমাদের অগ্রাধিকার হলো রাজনৈতিক সমাধানে ফেরা। গাজা যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা। বর্তমানে ফ্রান্স কোনো অস্ত্র সরবরাহ দিচ্ছে না। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি স্থায়ী সদস্য এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ফ্রান্স এমন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা গাজা যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।  সেপ্টেম্বরে বৃটেন ঘোষণা দেয় যে, পরিষ্কার ঝুঁকি থাকায় ইসরাইলের কাছে কিছু অস্ত্র রপ্তানি সাময়িক স্থগিত করছে তারা। কারণ, এসব অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করে এমন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। এরই মধ্যে বার বার যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও গাজায় ধ্বংসলীলা ও গণহত্যা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোন। লেবাননে ইসরাইলের স্থল অভিযানে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তে তিনি নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, অগ্রাধিকার হওয়া উচিত উত্তেজনা এড়ানো। তিনি বলেন, লেবাননের মানুষকে জীবন উৎসর্গ করা উচিত নয়। আরেকটি গাজা হতে পারে না লেবানন। তার এ মন্তব্যে নেতানিয়াহু ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, বিরক্তিকর। তবে ইমানুয়েল ম্যাক্রোনের বিবৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ এবং যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ বলে মত দিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারী। তার মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে জর্ডান। তারা বলেছে, ইসরাইলের কাছে অস্ত্র রপ্তানি পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা যা করেছে তার জন্য এটা বাস্তবিক পরিণতি।

কিন্তু গাজায়, লেবাননে ইসরাইলের নৃশংসতা বন্ধ হয়নি। তারা আরও জোরালো করেছে হামলা। যুদ্ধ শুরুর প্রথম বার্ষিকীর আগে তারা মধ্য গাজায় একটি মসজিদে বোমা হামলা করেছে। সেখানে কমপক্ষে ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন। ইসরাইলি সেনারা সেখানকার সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এ রিপোর্ট লেখার সময় জাবালিয়া ছেড়ে পালাচ্ছিলেন হাজারো ফিলিস্তিনি। অন্যদিকে বৈরুতের দক্ষিণে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। তাতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী বৈরুত থেকে দেখা গেছে আকাশে উঠে গেছে অগ্নিশিখা। এরই মধ্যে লেবাননের নিরাপত্তা বিষয়ক একটি সূত্র আল জাজিরাকে বলেছে, হিজবুল্লাহ’র নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান হাশেম সাফিদ্দিনের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে তারা। নাসারুল্লাহ’র পর তাকেই হিজবুল্লাহ’র গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে মনে করা হয়। এসব হামলার প্রতিবাদে প্যারিস থেকে নিউ ইয়র্ক, কেপটাউন পর্যন্ত প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে, এবং এখনো হচ্ছে। 

mzamin

গণহত্যা মামলা: বিচার নিয়ে সমন্বয়হীনতা by শুভ্র দেব

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকার পতনের একদফার আন্দোলনে তৎকালীন সরকারের বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গণহত্যা চালানোর ঘটনায় ঢাকাসহ সারা দেশে হত্যা মামলা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, দল  বা পুলিশের তরফে এসব মামলা হচ্ছে। মামলায় আসামি করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দেশ ছেড়ে পালানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের। সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হচ্ছে বিভিন্ন মামলায়। গণহত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালয়ও কাজ শুরু করেছে। সেখানেও অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া মামলায় গণহারে আসামি করা, অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত আসামিদের নাম বাদ দেয়া বা আসামি করার ভয় দেখিয়ে অর্থ নেয়ার মতো অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীন দেশে এমন গণহত্যার ঘটনা আর ঘটেনি। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার এই মুহূর্তে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিচার নিশ্চিত করতে হলে সঠিক প্রক্রিয়ায় মামলা দায়ের এবং তার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এখন যেভাবে মামলা হচ্ছে এবং ক্ষেত্রেবিশেষে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে কাউকে আসামি করা হচ্ছে- এতে পুরো মামলার কার্যকারিতা বিঘ্নিত হতে পারে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা নিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্দোলনের সময় সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল এমন অপরাধীরা খুব একটা ধরা পড়ছে না। রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক আমলারা ধরা পড়ছেন। আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে তারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য সরাসরি গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে তাদেরও ধরা যাচ্ছে না। হত্যাকারীদের অনেকে ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

আদালত ও থানায় দায়ের করা বিভিন্ন মামলা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মামলা হওয়ার পরও অনেক  ক্ষেত্রে তদন্ত শুরু হয়নি। শুরু হলেও দায়সারাভাবে চলছে। এভাবে চললে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সহজ হবে না। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে দ্রুত ট্রাইব্যুনাল করে এসব মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এবং তদন্তে চৌকস ও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে।  
গত ৫ই আগস্ট সরকার পতন হলেও ১৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে প্রথম মামলা করা হয়। ৪ঠা অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ২২২টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব মামলা নিয়ে সমালোচনাও আছে। কারণ বেশির ভাগ মামলার এজাহার প্রায় হুবহু, ফরমেট একই। বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয় বেশির ভাগ আসামিও এক। শুধুমাত্র থানা পরিবর্তন করে মামলা করা হয়েছে। তবে কিছু মামলার শেষের সারিতে আসামির নামে ভিন্নতা আছে। অনেক মামলায় ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হননি। অতি উৎসাহী হয়ে কেউ কেউ বাদী হয়েছেন। অনেক ভুক্তভোগীর পরিবারকে জোর করে বাদী করা হয়েছে। কিছু কিছু বাদী এজাহারে আসামি করা, মামলার ধরন কি সেটাও জানেন না। অনেক মামলায় উল্লিখিত ঘটনাস্থলের সঙ্গে বাস্তবতা ও আসামিদের মিল নেই। গণহত্যার বেশ কিছু মামলার এজাহার বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে গণহত্যার ঘটনায় করা গণমামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে গণমামলা শুরু করে। হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ঘটনা ঘটেনি অযথা মৃত ব্যক্তি থেকে শুরু করে নামে- বেনামে, ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থান করা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। এ ছাড়া বিএনপি’র বিভিন্ন এলাকার নেতাদের কমিটি ধরে ধরে মামলার এজাহারভুক্ত করা হয়। এসব মামলা তখন গায়েবি মামলা হিসেবে পরিচিতি পায়। সব মামলার বাদী ছিলেন ওই পুলিশ বা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর বিভিন্ন সেক্টরে যেখানে সংস্কারের আলোচনা চলছে। সংস্কারের প্রক্রিয়াও চলমান। কিন্তু তারপরেও আওয়ামী লীগ সরকারের মতো এখনো ঢালাওভাবে গণহত্যা মামলা হচ্ছে। বিভিন্ন মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিকেও আসামি করা হচ্ছে। অভিযোগ আছে ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রেক্ষিতেও অনেককে হত্যা মামলার আসামি করা হচ্ছে।  

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হত্যা মামলা নেয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হয়। কিন্তু গণহত্যার ঘটনায় যেসব মামলা হচ্ছে সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নাই। নির্দেশদাতা-হুকুমদাতা হিসেবে আসামিদের উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিচারের জন্য আদালতে গেলে এসব মামলা টিকবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ আছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার প্রমাণের কোনো অভাব নেই। দিনের আলোতে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। কারা গুলি করেছে, হামলা করেছে- তার ছবি ও ভিডিও আছে। এ ছাড়া যেসব স্থানে হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার কি ভূমিকা ছিল তাও পরিষ্কার। আগে এসব তথ্য সংগ্রহ করে সুর্নিদিষ্ট সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মানবজমিনকে বলেন, আমার মনে হয় তারা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছে। তারাও চেষ্টা করছে মামলাগুলো যাতে সঠিকভাবে ফাইল করা হয়। আমি যতটুকু শুনেছি গণহারে যাতে মামলা না হয় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। একদল অভিজ্ঞ আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হবে। একটা লিগ্যাল সেল তৈরি করা হবে যাতে ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পায়। বিচার নিয়ে শঙ্কা তৈরি নিয়ে তিনি বলেন, শঙ্কা তো তৈরি হবেই। এজন্য আমরাও বলেছি। সামনে এসব মামলার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর অধিকাংশ মামলার আইনিভিত্তি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। একটা মামলার  ভিত্তি নিয়ে যখন বিতর্ক থাকে তখন শেষ পর্যন্ত কি ধরনের  বিচার হতে পারে সেটি শুরু থেকেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বিগত ১৫ বছরে বা জুলাই বিপ্লবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা আহত ও নিহত হয়েছেন তাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু একটা ব্যক্তিগত ক্ষোভকে সমন্বিতভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটি যদি সরকার ভাবে তবে সেটি অধিকতর ফল দিবে। বিচ্ছিন্নভাবে ভাবলে বিচ্ছিন্নই থেকে যাবে। সেটির ফলাফল সৃষ্টি করা কঠিন হয়ে যাবে।

mzamin


বিবিসির বিশ্লেষণ: সর্বাত্মক যুদ্ধের কিনারায় মধ্যপ্রাচ্য

সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য। গত এক বছরে বিশ্বে অনেক বিপদের মুহূর্ত এসেছে। তবে এবারেরটি সব চেয়ে ভয়াবহ। গত সাত দিনের মধ্যে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরুল্লাহ খুন হয়েছেন। লেবাননে স্থল হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইরান প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইসরায়েলে। তেহরানে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো উত্তেজনা কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭–এর পক্ষ থেকে সব পক্ষকে ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার কারণে মূলত এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা: নাসরুল্লাহকে হত্যা লেবাননের বৈরুতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইসরায়েল বোমা হামলা চালায়। সেখানে ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অনেক আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। মাটিতে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। আকাশ ধুলাবালি ও ধোঁয়ায় ভরে ওঠে। পুরো লেবানন থেকে ওই দৃশ্য দেখা যায়। এ হামলা হয় মাটির নিচে থাকা হিজবুল্লাহর বাংকার লক্ষ্য করে। এ হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। ইসরায়েলের এক সপ্তাহ ধরে চালানো হামলায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর আসে।

হাসান নাসরাল্লাহ ইসরায়েলের হাতে খুন হতে পারেন এমন আশঙ্কায় বহু বছর ধরে জনসমক্ষে আসেননি। তাই তাকে নিশানা করে হত্যার এই ঘটনাকে ‘প্রাইজ টার্গেট’ বলা হচ্ছে। নাসরাল্লাহকে হত্যার পরও হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাতে থাকে ইসরায়েল। এক সপ্তাহ জুড়ে চলতে থাকা লাগাতার হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

তারও এক সপ্তাহ আগে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে লক্ষ্য করে পর পর অসংখ্য ওয়াকি-টকি এবং পেজার বিস্ফোরণ ঘটনো হয়। এতে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত এবং তিন হাজার জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।

নাসরাল্লাহর মৃত্যু ওই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের সমস্ত আশা ও সম্ভাবনা নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যা হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও সম্ভব বলে মনে হয়েছিল। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২১ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে হামলার পর কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যা সমাধানের যেটুকু আশা ভরসা ছিল সেটাও ম্লান হয়ে পড়ে।

সোমবার রাত: লেবাননে ঢুকে পড়ে ইসরায়েল নাসরুল্লাহকে হত্যার তিন দিন যেতে না যেতেই ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা শুরু করেন। একে তারা প্রথমে সীমিত আকারে স্থল অভিযান হিসেবে ঘোষণা দেয়। তারা দাবি করে, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা বন্ধে তারা এ অভিযান চালাচ্ছে।

বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা একই সঙ্গে দুই স্থানে স্থল হামলা করছে। এর মধ্যে আগে থেকেই গাজায় হামলা চালিয়ে আসছিল। নতুন করে এবার লেবাননে হামলা শুরু হলো। কয়েক দশকের মধ্যে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই করেছিল ইসরায়েল; কিন্তু ওই লড়াইয়ে কোনো মীমাংসা হয়নি। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করে হিজবুল্লাহ। এরপর ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ আরও শক্তি সঞ্চয় করে।

গাজা থেকে হামাসকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও লেবানন থেকে হিজবুল্লাহকে সরানো নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। এর পরিবর্তে তারা সীমিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা বলেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা:
ইসরায়েলে ইরানের হামলা লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরুর পরের দিনই স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরান। ইরান ইসরায়েলে প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এ অবস্থায় এক কোটি ইসরায়েলিকে বোমা থেকে বাঁচানোর জন্য সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আশ্রয়কেন্দ্রে দ্রুত পাঠানো হয়।

ইরানের সবচেয়ে বড় প্রক্সি গ্রুপ হিসেবে পরিচিত হিজবুল্লাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় প্রতিরোধ হিসেবে ইরানকে কিছু করে দেখাতে হতো। এ উদ্দেশ্য থেকেই হামলা চালায় তেহরান। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও ইসরায়েলে ৩০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছিল ইরান। তবে এবারের হামলা ছিল আগের চেয়েও শক্তিশালী।

এবার আগেভাগে তথ্য জানায়নি ইরান। এ ছাড়া দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে হামলার বিষয়টি ক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই এটি সর্বাত্মক লড়াইয়ের জন্য ইরানের আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইরান জানে, সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে তারা কুলিয়ে উঠতে পারবে না। ইসরায়েলের পাশে রয়েছে পশ্চিমা মিত্ররা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ পশ্চিমাদের সমর্থন দেবে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হবে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শুক্রবার অনমনীয় থাকার কথা বলেছেন। তবে ইরান জানে, তারা উত্তেজনা বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারবে না।

এরপর কী? হিজবুল্লাহর অনেক ক্ষতি সত্ত্বেও তারা লেবাননে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিহাস বলে, লেবাননে ইসরায়েলের জন্য ঢোকা সহজ; কিন্তু বেরিয়ে আসা কঠিন।

এদিকে ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু কীভাবে এর জবাব দেবেন, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ও তেল স্থাপনাগুলোয় হামলা নিরুৎসাহিত করেছেন তিনি। তবে ইসরায়েল বলেছে, তারা এসব স্থানে হামলা হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

ইরান নিয়ে যেকোনো সময় প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে ইসরায়েল। তবে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন। ইসরায়েলের অন্য নেতারা বলছেন, তারা বহুমুখী যুদ্ধ জড়িয়ে গেছেন। নেতানিয়াহু বলছেন, তারা সাতটি স্থানে যুদ্ধ চালাচ্ছেন। এগুলো হলো গাজা, লেবানন, পশ্চিম তীর, ইয়েমেন, ইরান, ইরাক ও সিরিয়া।

ইসরায়েলের জন্য এটা সত্য যে সব দিক থেকেই তাদের ওপর হামলা আসছে। তবে ইরাক ও সিরিয়া থেকে আসা ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি এখনো ততটা মারাত্মক নয়।

এখনই হয়তো কোনও সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধ দেখা যাবে না, কিন্তু অনেক অংশীদাররা মনে করে যে তাদের কিছু করার রয়েছে। ফলে গাজা যুদ্ধ এখন বেশ নাটকীয়তার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অনেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

ছবি : সংগৃহীত

সেনাসদরে প্রধান উপদেষ্টা: দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সিক্ত নতুন বাংলাদেশে সবাইকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সবাইকে স্মরণ করেন। তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহীদসহ বীর সেনানীদের, যাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। প্রধান উপদেষ্টা পদোন্নতির জন্য কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া সৎ, নীতিবান ও নেতৃত্বের অন্যান্য গুণাবলিসম্পন্ন কর্মকর্তারাই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাছাড়া রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যেসব কর্মকর্তা সামরিক জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন, সেই কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার নির্দেশনা দেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারো দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী, চিফ অব জেনারেল স্টাফ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেনাপ্রধান। সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লেখেন।
mzamin

রাসেলের মৃত্যুতে স্তব্ধ পরিবার by ফাহিমা আক্তার সুমি

রাসেল মিয়া (২২)। ভ্যানগাড়িতে মালামাল বিক্রি করতেন। রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বোনের সঙ্গে বসবাস করতেন। রাসেলের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি। গত ১৯শে জুলাই শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চালাকালীন জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এলোপাতাড়ি গুলির মুখে পড়েন। এ সময় একটি গুলি রাসেলের গলার এক পাশে বিদ্ধ হয়ে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। রাসেলের মৃত্যুতে তার বাবা আবুল কাশেম এখন শয্যাশায়ী। রাসেলকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পুরো পরিবারটি।

কাঁদতে কাঁদতে রাসেলের মা মাকসুদা বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমার সন্তান তো নেই আর, তাকে তো গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমি তো শেষ হয়ে গেছি। আমার ছেলেটা জুমার নামাজ পড়তে গেল আর ফিরে আসলো না। আমার কোল থেকে সন্তানকে কেড়ে নিয়ে গেছে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। রাসেল ছিল সবার ছোট। সে তার বোনের কাছে থাকতো। কাছে হওয়ায় সেখানেই থেকে কাজ করতো। রাসেল যখন সময় পেতো আমাদের কাছে আসতো। মৃত্যুর চারদিন আগেও আমি গিয়ে রান্না করে নিজ হাতে বেড়ে খাইয়ে এসেছি। তিনি বলেন, ওইদিন রাসেল আমাকে বললো, ‘মা রাত দশটা বেজে গেছে আপনি বাসায় যান, দেরি হয়ে যাচ্ছে।’ শুক্রবারও মেয়ের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু যাইনি বাইরের পরিস্থিতি খারাপ দেখে। পরে তো ওর মৃত্যুর কথা শুনে যেতে হয়েছে। সোমবার কথা বলে এসেছি আর কথা হয়নি। আমরা ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকি। গ্রামে কোনো সম্পদ নেই। মোহাম্মদবাগে বাসা ভাড়া কম হওয়ায় বড় ছেলের সঙ্গে থাকি। ওর বাবা কয়েকবার  স্ট্রোক করেছে। ছেলে মারা যাওয়ার পর আবার  স্ট্রোক করেছে। আগে হাঁটতে চলতে পারতো এখন কথাই বলতে পারে না, বিছানায় শুয়ে থাকে। আমার রাসেল মাসে কিছু টাকা দিতো আমাদের ও নিজে চলতো। মারা যাওয়ার আগে আমাকে চশমা কিনতে এক হাজার টাকা দিয়েছিল আমি সেই টাকা দিয়ে চশমা কিনেছি। পরে বলেছিল, ‘মা আবার কিছুদিন পর তোমাকে টাকা দিবো।’ ওর বাবাকেও মেডিসিন কেনার টাকা দিতো। যখন যেটা আমাদের প্রয়োজন হয় সেটি দিতো। এখন আমাদের দেখবে কে? আমার সন্তানের মুখটা তো কিছুতেই ভুলতে পারছি না।
ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাসেলের ভাই হাছান বলেন, ১৯শে জুলাই শুক্রবার রাসেল যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়। প্রত্যেক জুমায় সে এখানের বড় মসজিদে নামাজ পড়তে যেতো। নামাজ শেষে বের হলে তখন এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পুলিশ। এ সময় রাসেলের গলায় এসে একটি গুলি লেগে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাসেলের ফোন থেকে আমার বোনকে কল করে ঘটনাটি জানায়। পরে বোন আমাকে জানালে বিকাল চারটার দিকে একসঙ্গে হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি তিনটা লাশের সঙ্গে আমার ভাইকে মর্গে রেখে দিয়েছে।

হাসপাতাল থেকে ভাইয়ের লাশ বের করতেও বাধা দেয়া হয় আমাদের। রাত দশটা বেজে গেলেও মরদেহ বের করতে দেইনি। একপর্যায়ে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে নিতে গেলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা মারধর করে আমাদের। কান্নাকাটি করে মানুষের হাত-পা ধরেছি ভাইয়ের লাশটি যেন দেয়। কোনোমতে পেছনের দরজা দিয়ে রাস্তায় ভাইকে বের করে আনলে আনসার সদস্যরা আবার ভেতরে নিয়ে যায়। পরে অনেক হাতজোড় করে ভাইয়ের লাশ নিয়ে আসি। কোনোমতে রাতে গোসল দিয়ে জুরাইন কবরস্থানে এগারোটার দিকে দাফন করা হয়। তিনি বলেন, আমরা জন্মের আগে থেকেই ঢাকায় থাকি। গ্রামে কোনো জমি-জায়গা নেই। চট্টগ্রাম থেকে আমার পরিবার অনেক আগে ঢাকায় এসেছে। বাবা-ভাইয়ের মৃত্যুর পর বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কথা বলতে পারে না। রাসেল আমাদের সবার ছোট ছিল। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সব ছোট ভাইটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। রাসেল আজ বেঁচে থাকলে তো চোখের সামনে ঘুরতো, দেখতে পেতাম। রাসেল যা আয় করতো পরিবারকে মোটামুটি খরচ দিতো। আমি গাড়ি মেরামতের কাজ করি। ভাইয়ের এমন মৃত্যু কোনো ভাই চায় না। এ পর্যন্ত অনেকে নাম-ঠিকানা নিয়ে গেছে কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। কেউ খোঁজখবর রাখছে না। সবসময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো, অনেক ভদ্র ছিল। এত অল্প বয়সে আমার ভাইকে হারাতে হলো।

বোন শিরীন আক্তার বলেন, বাইরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সে সময় মালামাল বিক্রি করতে যেতে পারতো না। সেদিনও রাসেল বাসায় ছিল। খাবার খেয়ে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিল। ১৮ই জুলাই যাত্রাবাড়ী বড় মসজিদের সামনে একটি ছেলের গায়ে গুলি লাগে। রাসেল তাকে রিকশায় তুলে তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেই ছেলেটা সুস্থ হয়েছে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় কিন্তু আজ আমার ভাইটা বেঁচে নেই। এর আগে রাসেল না বলে আন্দোলনে চলে যেতো। আমার ঘর থেকে প্রায়ই গুলির শব্দ শোনা যেতো। রাসেল যেদিন মারা যাবে সেদিন বাইরে যাওয়ার আগে আমাকে বলেছিল, ‘আপু নামাজ পড়তে যাই।’ আমি ওকে সাবধানে যেতে বলেছিলাম। এটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমার নাম্বারে কল করে একজন মৃত্যুর খবর জানায়। পরে আমরা হাসপাতালে গিয়ে মৃত পাই। আমার মা হার্টের রোগী। আর বাবা তো আগে থেকেই অসুস্থ। এখন রাসেলের মৃত্যুর পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি রাতে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় আমার ভাই পাশে শুয়ে আছে। এখন সবসময় মনে হয় আমার ভাই আমাকে এসে আপু বলে ডাকছে। আমার ভাইয়ের নামটা এখন পর্যন্ত শদীদদের তালিকায় উঠেনি। সরকার যেন আমার ভাইকে শহীদি মর্যাদাটুকু দেন।

mzamin

১৩ বছরে শিল্পকলায় লাকীর থাবা by মারুফ কিবরিয়া

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে একটানা ১৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও সংগীতজ্ঞ লিয়াকত আলী লাকী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজি পদে নিয়োগ পেয়েই শিল্পকলাকে অনিয়মের কারখানায় পরিণত করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ লেনদেন, ভুয়া বিল-ভাউচারের নামে টাকা আত্মসাৎ, নিয়োগে অনিয়মসহ এন্তার অভিযোগ লাকীর বিরুদ্ধে। সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন তিনি। দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পচর্চার জায়গাটিকে নিজের খেয়ালখুশিমতো পরিচালনা করা ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)ও। এরইমধ্যে দীর্ঘ আড়াই বছর অনুসন্ধান শেষে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে একটি মামলা করে সংস্থাটি।

উত্তীর্ণ না হওয়া প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে ১০টি পদে নিয়োগ দিয়ে সরকারের ৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ ক্ষতিসাধনের মামলায় লাকীকে আসামি করা হয়। মামলায় তিনি ছাড়াও আসামি করা হয়েছে আরও ২৩ জনকে। গতকাল দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-পরিচালক সুমিত্রা সেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।  বিকালে সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, কালচারাল অফিসার আল মামুন, মো. হামিদুর রহমান, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, হাসান মাহমুদ, বেগম রুনা লায়লা মাহমুদ, সহকারী পরিচালক (বাজেট ও প্ল্যানিং) বেগম সামিরা আহমেদ, স্টেজ ম্যানেজার বেগম রহিমা খাতুন, গাইড লেকচারার মো. মাহাবুবুর রহমান, ইনস্ট্রাকটর (সংগীত ও যন্ত্র) বেগম মীন আরা পারভীন, ইনস্ট্রাকটর (নৃত্য) প্রিয়াংকা সাহা, যন্ত্রশিল্পী (গ্রেড-৩) নারায়ণ দেব লিটন, যন্ত্রশিল্পী (গ্রেড-৩) মোহাম্মদ জিয়াউল আবেদীন, নৃত্যশিল্পী (গ্রেড-৩) বেগম লায়লা ইয়াসমিন, বেগম মিফতাহল বিনতে মাসুক ও বেগম সুমাইতাহ তাবাসসুম ধানম, কণ্ঠশিল্পী বেগম রোকসানা আক্তার রূপসা, আবদুল্লাহেল রাফি তালুকদার, মো. সোহানুর রহমান, বেগম আবিদা রহমান সেতু, বেগম মোহনা খাস এবং  ক্যামেরাম্যান (জনসংযোগ) মো. রুবেল মিয়া।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শিল্পকলা একাডেমির নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার নম্বরপত্রে অসৎ উদ্দেশ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার উদ্দেশ্যে অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার নম্বরপত্রে নম্বর বাড়িয়ে অবৈধভাবে ১০টি পদে ২৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করেছেন। পরে লিখিত পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের উত্তীর্ণ করে বিভিন্ন পদে যোগদান করে তাদের বেতনভাতা বাবদ সরকারি তহবিল থেকে ৮ কোটি ২৮ লাখ ৪৯৫ টাকা উত্তোলন করে সরকারকে আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুয়া বিলে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ: লিয়াকত আলী লাকীর বিরুদ্ধে শুধু নিয়োগ দুর্নীতিরই অভিযোগ নয়, দুদকের টেবিলে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বিভিন্ন বিল-ভাউচারের নামে টাকা আত্মসাতের তথ্যও। সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০শে জুন ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন তিনি। ২০২০-২১ অর্থবছরের ৩০শে জুন বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখিয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তাকে এ কাজে সহায়তা করেন তার সিন্ডিকেটের সদস্য কালচারাল অফিসার সহকারী পরিচালক (হিসাব) আল হেলাল ও উপপরিচালক (অর্থ) শফিকুল ইসলাম। ২০২১ সালে ৩০শে জুন আটজন কালচার অফিসারকে জেলায় বদলি করেছিল মন্ত্রণালয়। শিল্পকল্পার ডিজি প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ করে তাদের বদলির আদেশ বাতিল করান। এরপর এসব কর্মকর্তাকে নিয়ে মিটিং করে অনুষ্ঠান দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি বিভিন্ন জেলার কালচার অফিসারদের ঢাকায় এনে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে টাকা আত্মসাতের পথ সুগম করেন।
সূত্র আরও জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী হয়নি। কিন্তু ১২-১৫ কোটি বাজেট আত্মসাতের জন্য ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠান করে কাগজপত্র বানানো হয়। যারা চারুকলার কাজ বোঝেন, তাদের এ কাজের সঙ্গে রাখা হয়নি। তিনি নিজের পছন্দের লোক দিয়ে চারুকলা প্রদর্শনীর জোট করেন। ২০২০-২১ অর্থবছরের শিল্পকলা একাডেমির ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের ব্যবস্থা করেন। তিনি একাডেমির সচিবকে ২০২১ সালের জুন মাসে সরিয়ে দিয়ে অন্য একজনকে সচিবের দায়িত্ব দেন। পরে প্রতি বছর জুন মাসে ২৫-৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব টাকার ভাগ তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা পেয়ে থাকতেন।
সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৩০শে জুন শিল্পকলা একাডেমির আগের সচিব নওশাদ হোসেন বদলি হলে ওইদিনই নতুন আদেশ জারি করে একাডেমির চুক্তিভিত্তিক পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিমকে সচিবের দায়িত্ব দেন লাকী। এরপর ৩০শে জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ২৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া লাকীর বিরুদ্ধে সংগীত বিভাগের কক্ষে ব্যবহারের জন্য পর্দা, ক্রোকারিজ ও আসবাবপত্র না কিনে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ, ডান্স অ্যাগেইনস্ট করোনা কর্মসূচির আওতায় নৃত্যদলের সম্মানী, হার্ডডিস্ক ক্রয়, ডকুমেন্টেশন, প্রপস-কস্টিউম, প্রচার ও বিবিধ খরচ দেখিয়ে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, শিল্পকলার সাবেক ডিজি লিয়াকত আলী লাকীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। এগুলো অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তিনি ডিজি থাকাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ছিল। সে কারণে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনুসন্ধানের গতিও থেমে থাকে। তবে ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর এই অনুসন্ধান নিয়ে কেউ আর বাধা দেয়নি।
সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ৫ই জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে শিল্পকলার ঢাকা কার্যালয়ে বরাদ্দকৃত বাজেট ও ব্যয়সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংবলিত নথিপত্রের ফটোকপি এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে অব্যয়িত ৩৫ কোটি টাকা ২০২১ সালের ৩০ জুনে ব্যয়করণসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র তলব করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজন সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রের ফটোকপি, ২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত ব্যয়সংক্রান্ত বিভিন্ন ভাউচার-ক্যাশ বই এবং শিল্পকলা একাডেমি নামীয় সোনালী ব্যাংক (সেগুনবাগিচা শাখা) অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্টের কপি চাওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একইভাবে নথিপত্র তলব করা হয়। তবে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ধীরে ধীরে তথ্য আসা শুরু হয়েছে। ফলে একটি মামলা খুব দ্রুতই করতে পেরেছে দুদক।
অনুসন্ধান চলছে পাচারেরও: শিল্পকলার ডিজি থাকাকালীন সময়ে নানা অনিয়মের মাধ্যমে শতকোটি টাকার অবৈধভাবে মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে লাকীর বিরুদ্ধে। এসব টাকার বেশির ভাগই বিদেশে পাচার করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধান সূত্র জানিয়েছে।  সূত্র জানায়, সাবেক ডিজি লাকীর অর্থ পাচারের বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া দুদকও এসব নিজস্ব কৌশলে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় লাকীর সঙ্গে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
লিয়াকত আলী লাকী ২০১১ সালের ৭ই এপ্রিল শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালের ২৯শে মার্চ সপ্তমবারের মতো তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতে টানা একযুগেরও বেশি সময় শিল্পকলার ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৯ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শিল্পকলার ডিজির পদ থেকে সরে দাঁড়ান লাকী। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ।

mzamin

খাস্তগীরের নিয়োগ বাতিল, মেরিটাইম সচিবের পদত্যাগ

পোল্যান্ডে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত কূটনীতিক খোরশেদ আলম খাস্তগীরের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে  সমর্থনকারী মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দমনে কুয়ালালামপুরের কাজাং থানায় রিপোর্ট (মামলা) এবং আন্দোলনকারীদের পাসপোর্ট বাতিলের সুপারিশ করার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে রোববার এ সিদ্ধান্ত আসে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রচারিত অভিন্ন বার্র্তায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে খাস্তগীরের নিয়োগ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ নিয়ে গতকাল মানবজমিন বিস্তারিত রিপোর্ট করে। এদিকে নাটকীয়ভাবে রোববার পদত্যাগ করেছেন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান হিসেবে (সচিব পদমর্যাদা) কর্মরত অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরাল মো. খুরশেদ আলম। ২০০৯ সাল থেকে চুক্তিতে ছিলেন তিনি। বিদায়ী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের সব চুক্তি বাতিলে বর্তমান সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও খুরশেদ আলম ছিলেন বহাল তবিয়তে। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সেগুনবাগিচায়। ওদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র  জানায়, কাঠমাণ্ডুস্থ সার্ক ও ঢাকাস্থ বিমসটেক সচিবালয়ে পরিচালক পদে বাংলাদেশের দু’জন কূটনীতিককের নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। বিদায়ী সরকারের শেষ সময়ে নিয়োগ দু’টি হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুরুত্বপূর্ণ ওই দু’টি নিয়োগ পুনর্বিবেচনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রোববার সন্ধ্যায় নিশ্চিত হয়েছে মানবজমিন। বলা হয়েছে, যে দুই কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছিলেন তারাসহ পরিচালক পদমর্যাদার আগ্রহী অন্য কর্মকর্তাদের পরীক্ষা দিতে হবে। সে পর্যন্ত নিয়োগ দু’টি স্থগিত থাকবে। পরীক্ষায় যারা যোগ্য বিবেচিত হবেন তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত। সেখানে ওই দুই কর্মকর্তাও আসতে পারেন।

বাহরাইনে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন খাস্তগীর, যা জানা গেল: ওদিকে দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে মানবজমিন-এ প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা এক সমাবেশ থেকে দেশে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সমর্থন ও সহমর্মিতা জানান। ১৯শে জুলাইয়ের ওই সমাবেশ থেকে মালয়েশিয়ান নাগরিক এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়। এই যখন অবস্থা তখন কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন ছাত্র-শিক্ষকদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে কাজাং থানায় রিপোর্ট করে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকরা নানামুখি হেনস্তার শিকার হন। মামলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর। শুধু তাই নয়, খোরশেদ আলম খাস্তগীর দেশের আন্দোলনকারীদেরও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস এসোসিয়েশনের (বিএফএসএ) হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে (ফাঁস হওয়া চ্যাটে দেখা যায়) তিনি আন্দোলনে সমর্থনকারী মালয়েশিয়া প্রবাসীদের পাসপোর্ট বাতিলের সুপারিশ করেন। ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে আর পতিত স্বৈরশাসনের পক্ষে নগ্নভাবে অবস্থান গ্রহণকারী সেই খাস্তগীরকে ১০ দিন আগে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয় ছাত্র-জনতার  রক্তের উত্তরাধিকার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিতর্কিত ওই কূটনীতিককে পদায়নের ঘোষণায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয় মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মধ্যে। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি উঠে। স্মরণ করা যায়, বিদায়ী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে খোরশেদ আলম খাস্তগীরকে বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তার অতীত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় মানামা। সেগুনবাগিচায় আলোচনা আছে, মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর থাকা অবস্থায় একটি দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন খোরশেদ আলম খাস্তগীর। তিনি গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ড্রাইভারকে সব দায় নিতে হয়েছে। যদিও ড্রাইভিং সিট ছেড়ে দেয়া ছাড়া পেশাদার সেই ড্রাইভারের দায় ছিল সামান্যই!

পোল্যান্ডে ৫ মাস ধরে ঝুলে ছিল খাস্তগীরের এগ্রিমো: বাহরাইনে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর পোল্যান্ডে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে খোরশেদ আলম খান্তগীরকে প্রস্তাব করে শেখ হাসিনা সরকার, যা শেষ পর্যন্ত বহাল রাখে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার! সেগুনবাগিচা এটা নিশ্চিত করেছে যে, পোল্যান্ডে প্রায় ৫ মাস ধরে ঝুলে ছিল বিতর্কিত ওই কূটনীতিকের এগ্রিমো। পরবর্তীতে অবশ্য খোরশেদ আলম খাস্তগীরকে গ্রহণে অনাপত্তি জ্ঞাপন করে পোল্যান্ড। যার প্রেক্ষিতে ২৫শে সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। মিস্টার আলম বিসিএস (ফরেন অ্যাফেয়ার্স) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০০১ সালে তিনি ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউরোপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাছাড়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, নিউ ইয়ের্কে প্রথম সচিব ও মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

mzamin

আশুলিয়ায় শ্রমিক ছাঁটাই করে কারখানা বন্ধ

আশুলিয়ায় বিনা নোটিশে ফ্যাশনইট কোম্পানি লিমিটেড কারখানার ৬৩ শ্রমিককে ছাঁটাই করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার হামীদুল্যাহ ম্যানশনে অবস্থিত ‘ফ্যাশনইট কোম্পানী লিমিটেড’ কারখানার দেয়ালে ছবিসহ শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের তালিকা টাঙিয়ে দেয়া হয়। এ সময় কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণারও একটি নোটিশ টানানো হয়।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, শনিবার রাতেও সোয়েটার কারখানাটিতে প্রায় ১২শ’ শ্রমিক কাজ করেছে। তখনো কেউ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানতো না। সকালে কারখানায় এসে ৬৩ শ্রমিকের ছবিসহ ছাঁটাই এবং কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের বন্ধের নোটিশ দেখতে পাই। বরখাস্তকৃত শ্রমিক শাকিল হোসেন বলেন, আমরা কখনো কোনো শ্রমিক আন্দোলনে যাইনি। তারপরও কর্তৃপক্ষ আমাদের অন্যায়ভাবে ছাঁটাইসহ কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে ৬৩ জন শ্রমিকের ছবিসহ তালিকা টানিয়ে দিয়েছে। অপর এক নোটিশে কারখানার সকল শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে চলমান সহিংসতা, বেআইনি ধর্মঘট ও বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ থাকবে। শ্রমিকদের বেতন ভাতাদি রকেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সোমবার পরিষোধ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে কারখানার প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত কারখানাটিতে কাজ চলেছে। কিন্তু তখনো কোনো শ্রমিক কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানতো না। সকালে কারখানায় কাজে যোগদান করতে এসে মূল ফটকে বন্ধের নোটিশ দেখে অবাক হয়ে যায়। তবে ৬৩ জন শ্রমিককে কী কারণে ছাঁটাই করা হয়েছে তা নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে কারাখানা ভাঙচুরসহ এক কর্মকর্তাকে মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় কাজে যোগ দেয় শ্রমিকরা। প্রায় একঘণ্টা পর বহিরাগতদের হামলায় নাজমুল হোসেন নামে এক শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পেয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন শুরু করে শ্রমিকরা। এ সময় কর্মকর্তারা শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত শ্রমিকরা এক কর্মকর্তাকে মারধর করে এবং কারখানায় ভাঙচুর করে। এর আগে টানা শ্রমিক অসন্তোষের পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। শ্রমিকরা সকালে স্বতস্ফূর্তভাবে কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগদান করায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, বর্তমানে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছে। সকালে কয়েকটি দাবিতে আল-মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এক কর্মকর্তাকে মারধরসহ কারখানায় ভাঙচুর চালালে কারাখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া জামগড়া এলাকার ফ্যাশনইট কোম্পানি লিমিটেড কারখানার ৬৩ শ্রমিককে ছাঁটাই করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে শ্রম আইন-২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী ৫টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যদের টহল  অব্যাহত রয়েছে।

mzamin

‘ইন্ডাস্ট্রি থেকে ভালো লোকজন সরে গেছে’ -বাপ্পারাজ

নায়করাজ রাজ্জাকের পর বাংলা সিনেমায় সফলতা অর্জন করেছেন তার ছেলে বাপ্পারাজও। আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় নায়ক তিনি। ১৯৮৬ সালে রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘চাঁপাডাঙার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে পর্দায় আসেন বাপ্পারাজ। এরপর অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। বর্তমানে ক্যামেরা থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মাঝেই নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে অভিনেতা লিখেন, কতোদিন ফুলের তোড়া হাতে গ্রুপ ছবি তোলার দৃশ্য দেখা হয় না। এ বিষয়ে বাপ্পারাজ বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রি থেকে ভালো লোকজন সরে গেছে, বাজে লোক বেশি হয়ে গেছে। তারা সিনেমা বানাতে চায় না, পলিটিক্স করে, দলাদলি করে, সরকারের চামচামি করে। মাঝে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এ রকম হয়ে গিয়েছিল। আমাদের জোর করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতো। কোনো মন্ত্রী বা পুলিশ অফিসারকে শিল্পী সমিতিতে নিয়ে এসে ফুল দিয়ে তার সঙ্গে ছবি তোলা হতো। সেই ছবি আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতে বলা হতো! বাপ্পারাজ বলেন, আমরা শিল্পী, আমাদের সঙ্গে মানুষ ছবি তুলবে। আমরা তো কারও পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলবো না।  কাজের থেকে তোষামোদিই এখানে বেশি করা হয়। অভিনেতা বলেন, আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমাদের সিনেমা বানানোর লোক দরকার। এখানে ধান্দাবাজ লোক বেশি। এখনো কিছু লোক আছে, তারা কোণঠাসা হয়ে আছে। দলাদলির জন্য অনেকেই অনেক জায়গায় যেতে পারছে না, কথা বলতে পারছে না।
mzamin

ভাসছে শেরপুর

টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সদর ও নকলা উপজেলা। তলিয়ে গেছে উপজেলা দু’টির ৬ ইউনিয়ন। একের পর এক ডুবছে নতুন নতুন গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। পানির তোড়ে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীসহ বিভিন্ন উপজেলার আমন ধান-সবজি আবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ভেসে গেছে ২ হাজারেরও বেশি পুকুর ও মৎস্য খামার। এদিকে গত তিন দিনে বন্যার পানিতে ডুবে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ীতে ২ সহোদর ভাইসহ ৫ জন ও ঝিনাইগাতীতে একজন পানিতে ডুবে এবং নকলায় প্লাবিত এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কৃষক মারা গেছেন।

জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের পানি কিছুটা নেমে গেলেও সদর ও নকলা উপজেলাসহ নিম্নাঞ্চলের অন্তত ২শ’ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন আবাদ, মাছের ঘের ও সবজি আবাদ। এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলায় বৃদ্ধ-নারীসহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাসহ জেলার অন্তত ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ২ হাজারেরও বেশি।
অন্যদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর বাঁধ ভেঙে ও নদীর পাড় উপচে পানি যাওয়ায় রামচন্দ্রকুড়া, কাকরকান্দি, নন্নী, পোড়াগাঁও, নয়াবিল, বাঘবেড়, কলসপাড়, মরিচপুরান, যোগানিয়া, রাজনগরসহ ১০টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরের তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে শেরপুর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. সুকল্প দাস বলেন, পাহাড়ি ঢলে ৩ উপজেলার আমন ধান ও সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি কমবেশি নির্ভর করবে পানি নেমে যাওয়ার উপর। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হবে।
জেলার বন্যাকবলিত এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বন্যাকবলিত বেশ কিছু এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রাতভর পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।
ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মহারশি নদীর বাঁধ উঁচু করার সুযোগ নেই। তবে ভাঙনকবলিত স্থান দ্রুত মেরামত করে দেয়া হবে।
বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারি ত্রাণ বিতরণ সম্পর্কে শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান  রোববার দুপুরে বলেন, অবিরাম বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। ৩টি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। আমাদের সংগ্রহে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে। আরও ২৫ হাজার প্যাকেট ত্রাণের চাহিদা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরবর্তীতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি: ঝিনাইগাতী উপজেলার উজানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভাটি এলাকায় বন্যার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভারী বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে মহারশি নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নই বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। মহারশি নদীর কুশাইকুড়া, রামেরকুড়া, খৈলকুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে মহারশি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে উপজেলা সদর কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলা পরিষদ সহ বিভিন্ন অফিসে কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজার হাজার একর আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বহু কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম জানান বন্যার্তদের মাঝে ১২শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে গতকাল বিকালে শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

ফুলপুর ও তারাকান্দায় পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ
ফুলপুর ও তারাকান্দা প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলার ছনধরা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামে পানিবন্দি অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। তাদের উদ্ধারে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বন্যার পানির কারণে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলায় ৪ হাজার ২৬০ হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত নিমজ্জিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে মালিঝি নদী হয়ে ফুলপুরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে চলা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি জমতে শুরু করে। গতকাল শনিবার রাতভর বৃষ্টিতে মানুষ পানিবন্দি হতে শুরু করে।
ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম আরিফুল ইসলাম জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে পানি নেমে উপজেলার ছন্দরা ইউনিয়ন পুরোটা প্লাবিত হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম সকাল থেকে চলছে। স্থানীয় নৌকা ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকশ’ মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে। ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নেও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও জলাবদ্ধতা রয়েছে। তবে ছনধরায় সবচেয়ে বেশি। রোববার সকালের হিসাবে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে, তবে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
এদিকে তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা, কাকনী, তারাকান্দা, ঢাকুয়া ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি। তারাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুনিমা কাঞ্চি সুপ্রভা শাওন বলেন, জলাবদ্ধতায় ৬০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৫৬০ হেক্টর ধান ও ৪০ হেক্টর শীতকালীন আগাম সবজি। দু-তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে কৃষকের তেমন ক্ষতি হবে না। তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত মোটামুটি ভালো রয়েছি। বৃষ্টি বাড়লে এখানকার পরিস্থিতিও খারাপের আশঙ্কা রয়েছে।

mzamin

আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়েও আসামি

ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও মামলার আসামি হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাজিদ সিয়াম (২৬)। গ্রেপ্তারের পর সহপাঠীদের থানা ও আদালতে ধরনা দিয়ে সিয়াম ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসামি হয়েছে। আদালত বিষয়টি অনুধাবন করে পরদিনই তাকে জামিন দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী মাসুদুর রহমান।

সিয়াম সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া গ্রামের খুরশিদের ছেলে। তিনি ফেনী ইউনিভার্সিটির বিবিএ ডিপার্টমেন্টের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। সিয়ামের আইনজীবী মাসুদুর রহমান বলেন, সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন। কিন্তু গত ১৮ই সেপ্টেম্বর ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা জনৈক মো. আবদুল হান্নান (৩২) বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে সিয়ামকে ৭৭ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ওই মামলায় ৪ঠা অক্টোবর শুক্রবার ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করে র?্যাব-৭। পরে রাতভর ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শনিবার বিকালের দিকে তাকে আদালতে নিলে সেখানেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ফটকে অবস্থান নিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ সময় আদালতে সিয়ামের জামিন চায় আইনজীবী। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা লোকমান সিয়ামের ৭ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন। সন্ধ্যায় সিয়ামের জামিন আদেশের পরে তাকে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে নিয়ে আদালত চত্বর ত্যাগ করেন সহপাঠীরা।
আইনজীবী বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সিয়ামকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সিয়ামের মেডিকেল সার্টিফিকেটের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে আদেশ দিয়েছেন বিচারক। জামিন শুনানিকালে আদালত প্রাঙ্গণে ফেনী ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক কাজী মনিরুল ইসলাম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আলি আকবর সিয়ামসহ ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মামলার বাদী আবদুল হান্নান বলেন, এ মামলার ব্যাপারে আমি তেমন কিছু জানি না। মামলায় কারা আসামি হয়েছে তাও জানি না। এজাহারে শুধু স্বাক্ষর দিয়েছি। আমি সিয়াম নামে কাউকে কখনো দেখিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেনীর সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম সোহাগ বলেন, সিয়াম আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেও ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলার আসামি হয়েছেন। এভাবে যেন আর কাউকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা না হয় সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে।

mzamin

অক্টোবরে তিন পার্বত্য জেলায় পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

আগামী ৮ই অক্টোবর থেকে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রোববার বিকালে জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি সময়ে সংগঠিত সহিংসতার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দাবি একাধিক সূত্রের।

এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের এনডিসি জানিয়েছেন, অনিবার্য কারণবশত সম্মানিত পর্যটকগণকে আগামী ৮ অক্টোবর  হতে ৩১ অক্টোবর  পর্যন্ত সমগ্র রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এই অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানিয়েছেন, তিন পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রেই এই নির্দেশনা জারি হয়েছে। তিনি জানান, পাহাড়ে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এরআগে, রাঙামাটির সাজেকে পর্যটক প্রবেশে পর্যটকদের নিরুৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে নতুন সিদ্ধান্তের আলোকে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে আদেশ জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

এদিকে, পাহাড়ের চলমান সার্বিক পরিস্থিতিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
উল্লেখ্য,  দুর্গাপূজাকে ঘিরে বান্দরবানে হোটেল মোটেলগুলোতে অনেক বুকিং পেয়েছিল ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে বুকিং বাতিল হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

mzamin

অদ্ভুত এক চোর!

একজন নারী আকস্মিকভাবে দেখলেন তার বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে চোর ঢুকেছে। তার কেনাকাটা করে রাখা জিনিসপত্র সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে। খাবার রান্না  করে স্টোভের ওপর সাজানো। ১৬ই জুলাই মনমাউথশায়ারে অস্বাভাবিক এই চুরির জন্য কার্ডিফ কাউন কোর্ট বৃহস্পতিবার ২২ মাসের জেল দিয়েছে দামিয়েন উওজনিলোউইজ (৩৬)কে। ওই বাড়ির মালিক বলেছেন, তিনি কাজ থেকে ফেরার পর বাড়ির এমন অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। দেখতে পেয়েছেন কাপড়চোপড় সব বাগানে ঝুলছে। তার রিসাইক্লিং বিন একেবারে ফাঁকা। চোরে তার উদ্দেশে একটি নোট লিখে গেছে। তাতে লিখেছে- উদ্বিগ্ন হবেন না। খুশি থাকুন। খাবার খান।

আদালতের শুনানিতে বলা হয়েছে, পাখির খাবারের পাত্র পরিপূর্ণ করা হয়েছে। গাছের টব সরিয়ে রাখা হয়েছিল। প্যাকেট থেকে একজোড়া জুতা খুলে রাখা হয়েছিল। প্যাকেটটি রেখে দেয়া হয়েছিল রিসাইক্লিং বিনে। প্রসিকিউটর অ্যালিস সিকেস বলেছেন, ওই নারীর ঘরে থাকা জিনিসপত্র দিয়ে খাবার রান্না করে রেখেছিল। কেনাকাটা করা জিনিসপত্র একটি ব্যাগ থেকে বের করে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। কিছু ফ্রিজে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা হয়েছিল।  রান্নাঘর থেকে বাসনপত্র বিনে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। শপিং ব্যাগ থেকে নতুনগুলো বের করে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। নতুন টুথব্রাশ রাখা হয়েছিল। ওয়াইনের একটি খালি বোতল রাখা হয়েছিল খালি বোতল রাখার একটি র‌্যাকে। মেঝে ঝাড়ু দিয়ে রাখা হয়েছিল। বাড়ির মালিক দেখতে পেয়েছেন একটি ওয়াইনের লাল বোতল রাখা হয়েছে একটি গ্লাস ও বোতল ওপেনারের কাছে। লিভিংরুমের টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এক গামলা মিষ্টি। 

mzamin


বিরক্ত অনন্যা

তারকা খ্যাতির যে বিড়ম্বনা রয়েছে, তা কিন্তু নতুন না। বিশেষ করে পাপারাজ্জিদের ‘অত্যাচারে’ ভীষণ বিরক্ত অনেক তারকাই। তাদের মধ্যে একজন বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে। তার আরেক পরিচয় তিনি অভিনেতা চাংকি পান্ডের কন্যা। তারকা সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সবার নজরে ছিলেন। তবে বলিউডে নাম লেখানোর পর মিডিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এই অভিনেত্রী। আর তাই পাপারাজ্জিরাও তার পিছু ছাড়েন না। কিন্তু তাদের কিছু আচরণ মোটেও পছন্দ নয় এই নায়িকার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন অনন্যা। ছবি তোলার সময়ে বিশেষ কিছু পোজ দেয়ার জন্য বারবার বলতে থাকেন পাপারাজ্জিরা। তিনি বলেন, তারা আমাকে পেছন ফিরে ক্যামেরায় পোজ দিতে বলেন, এ আচরণকে ঘৃণা করি। পাপারাজ্জিরা অনন্যার চেহারা দেখে কল্পিত গল্প রচনা করেন বলেও অভিযোগ তার।

কেবল তাই নয়, গুঞ্জন চাউর করেছিলেন তার প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, সম্প্রতি জিম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম, তারা আমাকে দেখে বলেন, ওহ! তাকে দেখতে দুঃখী লাগছে। অবশ্যই তার জীবনে কিছু ঘটেছে। তার ব্রেকআপ হয়েছে। জিমে সবাইকেই ক্লান্ত দেখায়। কিন্তু পাপারাজ্জিরা সে বিষয়টি নিয়ে গল্প তৈরি করেন, যা অনন্যার অপছন্দ। এ বিষয়ে অনন্যা পান্ডে বলেন, পাপারাজ্জিরা ক্লান্তিকে মানসিক যন্ত্রণা বলে ভুল করছেন। তারা আমার মুড পড়ার চেষ্টা করছেন, এটাকে আমি অপছন্দ করি। রীতিমতো বিরক্ত আমি।

mzamin

গাজার মসজিদে ইসরাইলের বিমান হামলা, নিহত ১৮

গাজার একটি মসজিদে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের গাজায় দেইর আল-বালাহ এলাকায় শুহাদা আল-আকসা মসজিদে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মসজিদটি আল-আকসা মার্টিয়ার্স হাসপাতালের পাশে অবস্থিত।

বছরখানেক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হওয়া বহু ফিলিস্তিনি ওই মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামাস-ইসরাইল সংঘাতের প্রথম বার্ষিকীর একদিন আগে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত মসজিদে এমন নৃশংস হামলা চালালো তেল আবিব। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মসজিদটি বাস্তুচ্যুত লোকদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ওই মসজিদে হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। হামাস শুহাদা আল-আকসা মসজিদটিকে তাদের কমান্ড পরিচালনার কাজে ব্যবহার করছিল বলে সেখানে একটি সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনাতাকামী সংগঠন হামাস। এর পর প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরাইল। তাদের হামলার বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ফিলিস্তিনের বেসামরিক মানুষ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি। এছাড়া ২৩ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। হতাহতের মধ্যে বেশির ভাগই নারী এবং শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তথ্যমতে, এখনও গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

mzamin

৭ বছর বন্ধ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম: আ'লীগ নেতাদের দখলের দ্বন্দ্ব by আমিনুল ইসলাম লিটন

সাবেক স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগ নেতাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ঝিনাইদহের ক্রীড়াঙ্গন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘ ৭ বছর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ। নেই খেলার কোনো প্রতিযোগিতাও। ফুটবল, ভলিবল এমনকি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সবই দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের পদ দখলের মামলা দিয়ে ঝিনাইদহ ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন ঝুলে আছে ২০১৮ সাল থেকে। মামলা জটিলতায় নির্বাচন না হওয়ায় ক্রীড়া সংস্থা চলছিল জেলা প্রশাসকের পরিচালনায়। পেশাদার খেলোয়াড়দের যাতায়াত না থাকায় জেলার একমাত্র বৃহৎ খেলার মাঠ ঝিনাইদহ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামটি খাঁ খাঁ করছে। জনমানবহীন স্টেডিয়ামের কোনো সংস্কার কাজ করা হয় না। মাঠের গ্যালারি, ড্রেসিং রুম আর ক্রীড়া সংস্থার অবকাঠামোগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। স্টেডিয়ামের মেইন গেটের সামনে এখন হাঁটু পানি। সেখানে জলকেলি করে হাঁসের দল। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, পেশাদার খেলোয়াড়দের নিয়ে বেশ ভালোই চলছি ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থা। কিন্তু ১৪ বছর আগে আওয়ামী লীগ নেতারা ক্রীড়া সংস্থা দখলে নেয়ায় ধীরে ধীরে কমতে থাকে খেলার মান। এক সময় ক্লাব ভিত্তিক সব ধরনের খেলার প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালে ক্রীড়া সংস্থায় কাউন্সিলর বানানো নিয়ে যুবলীগ নেতা রাশিদুর রহমান রাসেল ও আওয়ামী লীগ নেতা জীবন কুমার বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধে চরমে। সেই দ্বন্দ্ব গড়ায় উচ্চ আদালতে। মামলা হওয়ায় স্টেডিয়ামে সব ধরনের প্রতিযোগিতাসহ খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায়। খেলোয়াড়দের পরিবর্তে আমলাদের নিয়ে গঠিত হয় ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটি।

এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে খেলোয়াড়দের মাঝে। এদিকে খেলাধুলা বা বড় ধরনের কোন প্রতিযোগিতার আয়োজন না থাকলেও ক্রীড়া সংস্থার খরচ থেমে নেই। ২০১৪ সালের ১০ই মে থেকে ২০২৪ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্রীড়া সংস্থার জনতা ব্যাংকে জমা হয় মোট ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ২২শে সেপ্টম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকে ক্রীড়া সংস্থার আরেকটা অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ১০ই জুন একটিতে ২ লাখ ও আর একটিতে ৪ লাখ দু’টি চেকের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই টাকা কোন খাতে ব্যয় দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে তার হিসাব জেলা ক্রীড়া সংস্থায় নেই। দীর্ঘদিন আভ্যন্তরীণ অডিট না হওয়ায় ক্রীড়া খাতে বেশুমার লুটপাট হয়েছে এমন অভিযোগও তুলেছেন এলাকার খেলোয়াড়রা। ঝিমিয়ে পড়া ঝিনাইদহের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে জেলার সাবেক ফুটবলার ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আহসান উদ্দীন আফাঙ্গীর জানান, ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্ব পেশাদার খেলোয়াড়দের হাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই মাঠে প্রাণবন্ত পরিবেশ আর ফিরে আসবে না। ঝিনাইদহবাসীর প্রাণের দাবি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন দিয়ে খেলার পরিবেশ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া আক্তার চৌধুরী বলেন, ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটি গঠন হলে কেবল জেলা ক্রীড়ায় প্রাণ ফিরতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম চলে গেলে আশা করা যায় ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম আবারো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। আবারো এই মাঠে খেলোয়াড়দের পদচারণা শুরু হবে।

mzamin

আমেরিকার গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে ট্রাম্পকে জেতানো জরুরি: মাস্ক

আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন টেসলার কর্ণধার তথা  মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক।  পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে এই জনসভায় অংশ নেন তিনি। গত জুলাইয়ে ট্রাম্পকে এখানেই হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।সমাবেশে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন মাস্ক। তিনি বলেন, 'এবার ট্রাম্পকে ভোটে জেতাতে না পারলে; ভবিষ্যতে আর ভোট দেওয়ার পরিস্থিতি থাকবে না মার্কিন রাজনীতিতে।' মাস্ককে বলতে শোনা গিয়েছে, ”আমি মনে করি এই নির্বাচন আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এটা কোনও সাধারণ নির্বাচন নয়। সংবিধানকে রক্ষা করতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিততে হবে। আমেরিকার গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে ওঁকে জিততেই হবে।  জিততেই হবে।” উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মাস্কের বার্তা ছিল - 'এবার ট্রাম্প না জিতলে এটা হবে আমেরিকার শেষ নির্বাচন'। সাত মিনিটের ভাষণ শেষে তিনি স্লোগান দেন, ”ফাইট ফাইট ফাইট! ভোট ভোট ভোট!”

গত ১৩ জুলাই বেথেল পার্কের ফেয়ার গ্রাউন্ডের সভায় ট্রাম্পের উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। অভিযুক্ত টমাস ক্রুকের ছোড়া গুলি কান ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে দু’টি গুলি পর পর ছুটে আসার পরই তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের এক স্নাইপারের ছোড়া গুলিতে নিহত হন হামলাকারী। সেই সময় ট্রাম্পকে দেখা যায় মুষ্ঠিবদ্ধ হাত তুলে ‘ফাইট, ফাইট’ বলে গর্জন করতে।  ট্রাম্পের উপরে হওয়া হামলার পরে মাস্ক  এক্স হ্যান্ডেলে ট্রাম্পের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার নেন। সেই সাক্ষাৎকার সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।  অনেকেই বলছেন, হোয়াইট হাউজের মসনদ নিশ্চিতে ইলন মাস্কের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। গত আগস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন , নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ইলন মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের একজন উপদেষ্টা বা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য করার প্রস্তাব দিতে চান যদি তিনি এ ধরনের দায়িত্ব পালনে ইচ্ছুক হন। ট্রাম্পের ভাইস-প্রেসিডেন্সিয়াল রানিং মেট জেডি ভ্যান্সও এদিন সমাবেশে বক্তৃতা রাখেন। তিনি  ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রার্থী কমালা হ্যারিসের উদ্দেশে বলেন, ' ডনাল্ড ট্রাম্প গণতন্ত্রের জন্য বুলেটবিদ্ধ হয়েছেন।  আপনি কী করেছেন?"

সূত্র:  এনডিটিভি

mzamin

খাইবার পাখতুনখোয়ায় সেনা-জঙ্গি লড়াই, উভয়পক্ষের নিহত ১৪

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কিছুতেই বাগে আনতে পারছে না সে দেশের সরকার। অশান্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি সংঘর্ষে ছয় পাকিস্তানি সেনা এবং অন্তত আটজন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে সেনাসূত্রে খবর। সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং শনিবার বলেছে যে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় রাতভর লড়াইয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ আলী শওকাতসহ ছয় সেনা নিহত হয়েছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ বলছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবাদের হুমকিকে নিশ্চিহ্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং সাহসী সৈন্যদের এই ধরনের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করে।

সেনাবাহিনী বলেছে যে, একটি পৃথক অভিযানে তারা খাইবার পাখতুনখোয়ার আরেকটি জেলা সোয়াতে দুই বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে একজন চলতি মাসে ওই এলাকায় বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের একটি কনভয়ের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই  ৯৩০ জন প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তাকর্মী এই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ২০০০ জন আহত হয়েছে।

মার্চ মাসে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি সামরিক চৌকিতে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি ব্যবহার করে আত্মঘাতী  হামলা চালায়। এতে সাতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়।উত্তর ওয়াজিরিস্তান দীর্ঘদিন ধরে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে আসছে, যা পাকিস্তান তালেবান নামেও পরিচিত।

সেনাবাহিনী কয়েক বছর আগে বলেছিল যে, তারা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে সেখান থেকে সরানোর প্রচেষ্টা জারি রেখেছে। তবে মাঝেমধ্যে হামলা অব্যাহত রয়েছে, উদ্বেগ জাগিয়েছে যে, পাকিস্তান তালেবানরা এই এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। পাকিস্তান তালেবান আফগানিস্তানের তালেবান থেকে একটি পৃথক দল, তবে একে অপরের মিত্র। আফগান তালেবানরা ২০২১ সালে আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা দখল করে কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ন্যাটো বাহিনী দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। তারপর থেকে, পাকিস্তান তালেবানরা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর আক্রমণ জোরদার করেছে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে।

সূত্র : আলজাজিরা

mzamin

সীমান্তে বিএসএফ’র টার্গেট বাংলাদেশের মানুষ- রিজভী

মৌলভীবাজারে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত স্বর্ণা দাসের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ পরবর্তী পথসভায় বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সীমান্তে হত্যার সময় ভারত দেখেনি তারা হিন্দু না মুসলমান। তাদের টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশি, তাদের টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। শুধুমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া যারাই যখন ক্ষমতায় এসেছে তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে নিরাপদ সীমান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। ভারত তা শুনেনি, তারা সীমান্তকে পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তাক্ত সীমান্ত, সহিংস সীমান্ত এবং মৃত্যু ও লাশের মিছিলে পরিণত সীমান্ত করেছে।

রোববার (৬ই অক্টোবর) জুড়ী উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের খাকটেখা কালনীগড় বাজারে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত স্বর্ণা দাসের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন রুহুল কবির রিজভী। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে স্বর্ণা দাসের পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন তিনি।

সেখানে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সীমান্তে লাশের সংখ্যা বেড়েই চলছে। ভারতের হাতে বানানো তাদের গোলাম শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তাই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আরও আক্রমণাত্মক। ৫ই আগস্ট জনগণের যে বিপ্লব হয়েছে তার ধারাবাহিকতায় জনগণের আস্থা নিয়ে ড. ইউনূস সরকারে আসে। আমাদেরও এই সরকারের প্রতি আস্থা আছে। তবে গণতন্ত্রের চর্চাকে সামনে রেখে দ্রুত নির্বাচন দেয়া উচিত। নির্বাচন দিতে কেন বিলম্ব করছেন? অতি দ্রুত গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন দিন।

রিজভী বলেন, বর্তমানে যিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব তিনি কাতারের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তখন যারা বিএনপি করতো তিনি তাদের পাসপোর্ট রিনিউ করতেন না। এ বিতর্কিত রাষ্ট্রদূতের কারণেই অনেক বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হয়েছে। সে তো স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার এজেন্ট। সে কীভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হলো? এরা কখনোই চাইবে না আপনি সফল হোন। এদের মতো স্বৈরাচারী সরকারের এজেন্টরা আপনাকে প্রতিনিয়ত বিতর্কিত করবে। কাতার বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা শরিফুল হক সাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আলমগীর কবীর, আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু।

mzamin


ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ্‌ আল মামুন ৭ দিনের রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ্‌ আল মামুনের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথির আদালতে আসামিকে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল্লাহ্‌ আল মামুন বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার আব্দুল রহিমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। গত ১লা অক্টোবর ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে শিমরাইল এলাকায় একটি বাস থেকে রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১১।

এদিকে গত ২২ দিনে ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক মো. জামশেদসহ ৬ ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে আজমেরী ওসমানের সহযোগী কাজল হাওলাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য দুই আসামি শাফায়েত হোসেন (শিপন) ও মামুন মিয়াকে দুই দফায় ৯ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গাড়িচালক জামশেদকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ইয়ার মোহাম্মদ কারাগারে আছেন। র‌্যাব জানায়, আগে ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার র‌্যাব-১১ এর কাছে অর্পণ করা হয়। ২০১৩ সালের ৬ই মার্চ বিকালে শহরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী।
৮ই মার্চ শহরের কালিরবাজার চারারগোপ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তার লাশ পাওয়া যায়।

mzamin

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৯৩ যুদ্ধবন্দি হত্যার অভিযোগ ইউক্রেনের

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধবন্দি হত্যার অভিযোগ এনেছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি তাদের ৯৩ জন যুদ্ধবন্দিকে হত্যা করেছে মস্কো। এ বিষয়ে যথাযথ তথ্য প্রমাণও রয়েছে কিয়েভের হাতে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাপরাধ তদন্তে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা।

এতে বলা হয়, প্রধান কৌসুলির কার্যালয়ের যে দপ্তর সশস্ত্র সংগ্রাম সংশ্লিষ্ট অপরাধের তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে, সে দপ্তরের প্রধান ইউরিই বেলৌসভ ৪ অক্টোবর টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক ওই সংখ্যাটি জানিয়েছেন। ইউক্রেনের একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলকে একীভূত করেছে এমন একটি নেটওয়ার্ক হলো ইয়েদাইনাই নোভাইনি। এই নেটওয়ার্ককে বেলস বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করা হয়েছে এমন ৯৩ জন যুদ্ধবন্দির বিষয়ে এখন আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।’

বেলৌসভ জানান, এসব হত্যার ৮০ শতাংশই এ বছরের ঘটনা। তবে গত বছরের নভেম্বর থেকে এ ধরনের হত্যার সংখ্যা বাড়তে শুরু করে, যখন আমাদের দেশের যুদ্ধবন্দিদের প্রতি রুশ সেনাসদস্যদের মনোভাবে নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেয়।

দপ্তরের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত একটি সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী ডনেটস্ক অঞ্চলের পোকরোভস্ক জেলার মাইকোলায়িভকা ও সুখিই ইয়ার গ্রামের কাছাকাছি জায়গায় রুশ বাহিনী সম্প্রতি ১৬ জন ‘যুদ্ধবন্দিকে’ হত্যা করেছে।

বেশ কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় একটি জায়গা থেকে রুশ সেনাদের হাতে সদ্য আটক ইউক্রেনীয় সেনারা বের হয়ে আসছেন। ভিডিওর পরের অংশটি দেখে মনে হয়েছে, বন্দিদেরকে সারিবদ্ধ করে দাঁড়া করানোর পর রাশিয়ার সেনারা তাদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছে। তারপর ভিডিওতে দেখা যায় রুশ সেনারা এগিয়ে এসে যারা শুধু আহত হয়েছিলেন, তাদেরকে আবারও কাছে থেকে মেশিনগান দিয়ে গুলি করছে। তবে এই ভিডিওগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, আত্মসমর্পণ করা সেনাদের হত্যা করা যুদ্ধাপরাধের শামিল। ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার দ্যমিত্রো লুবিনেৎস জানান, তিনি জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি, উভয়ের সঙ্গে এই মৃত্যুর বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন। এসব ঘটনায় জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের সময় বন্দিদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যাবে ও যাবে না, তা নির্ধারণ করা হয়।

mzamin