Monday, December 31, 2018
যেসব কারণে পশ্চিম এশিয়ার জনগণ ক্রমেই মার্কিন বিরোধী হয়ে উঠছে

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বুধবার গোপনে ইরাকের আল আনবার প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি সফর করেন। বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে সোজা তিনি সেনা ঘাঁটিতে চলে যান। এ সফর এতটাই গোপনীয় ছিল যে ইরাকের কোনো কর্মকর্তা ট্রাম্পকে স্বাগত জানাননি এমনকি দেশটির প্রধানমন্ত্রীও তার সঙ্গে সাক্ষাত করেননি। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সফরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে ইরাকের জনগণের মধ্যে। দেশটির কোনো কোনো সংবাদ সূত্র জানিয়েছে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে আল খাজরা এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোপনে ইরাক সফরের কথা স্বীকার করে বলেছেন, "আমরা পশ্চিম এশিয়ায় সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছি কিন্তু এসব দেশে আমাদেরকে গোপনে সফর করতে হয় যা খুবই দুঃখজনক ও লজ্জার।"
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে পশ্চিম এশিয়া বিশেষ করে ইরাকের জনগণ কেন আমেরিকা বিরোধী হয়ে উঠেছে? ধারণা করা হচ্ছে, এই অঞ্চলের দেশগুলোতে সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য আমেরিকা দায়ী বলে মনে করছে পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ। আমেরিকা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে ইরাক, সিরিয়াসহ এ অঞ্চলের আরো অন্যান্য দেশে হামলা চালিয়ে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টিতে আমেরিকার হাত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।
আমেরিকা গত কয়েক বছরে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বললেও বাস্তবে তারা এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বরং নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আর এ বিষয়টা এ অঞ্চলের দেশগুলোর জনগণ ভালোভাবেই অবহিত আছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন বিরোধী ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের ব্যাপারে ট্রাম্পের পক্ষপাতমূলক আচরণ। ফিলিস্তিনকে ধ্বংস এবং দখলদার ইসরাইলকে আরো শক্তিশালী করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শতাব্দির সেরা চুক্তি নামক যে পরিকল্পনা বা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তাতে এ অঞ্চলের জনগণ খুবই ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প প্রশাসন ওই পরিকল্পনার আওতায় তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করেছে। অথচ বায়তুল মোকাদ্দাস সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অতী পবিত্র জায়গা এবং এর ওপর ইসরাইলের কোনো মালিকানা নেই।
পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মানুষের মার্কিন বিরোধী হয়ে ওঠার তৃতীয় কারণ হচ্ছে, এ অঞ্চলের দেশগুলোর ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। মার্কিন সরকার এ দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে শুধু যে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে তাই নয় একই সঙ্গে তাদের স্বাধীনতা ও টিকে থাকার বিষয়টি আমেরিকার সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে বলে প্রচার চালায়।
যাইহোক, পর্যবেক্ষকরা বলছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গোপন ইরাক সফর এবং তার সঙ্গে ওই দেশটির কোনো কর্মকর্তার সাক্ষাত না হওয়ার ঘটনা এবং সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা থেকে তাদের ব্যর্থতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Sunday, December 30, 2018
ব্যালট বাক্স ভর্তি, লম্বা নকল লাইন, নিহত-১৩

বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা ভোটবর্জন শুরু করেছেন।
বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের লালখান বাজারের একটি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে বিবিসি সংবাদদাতা অধিকাংশ ব্যালট বাক্স পূর্ণ দেখতে পান। এ বিষয়ে ঐ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ওদিকে, যশোর-৪ আসনে রাতেই ভোট শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা। তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। শত শত ভোটার কেন্দ্র থেকে ফিরে গেছেন। এ আসনের কোন কেন্দ্রেই বিএনপির এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।
প্রথম আলো’র এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, লক্ষীপুর-২ আসনের দক্ষিণ গাইয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, বাইরে নারী ও পুরুষের লম্বা লাইন থাকলেও কাউকে ভোট দিতে ভেতরে যেতে দেখা যাচ্ছে না। ভোটর না ঢুকলেও ভেতরে সিল মারা হচ্ছে। আজ রোববার লক্ষীপুরের এই কেন্দ্রে আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করেও ভোটারকে ভেতরে ভোট দিতে যেতে দেখা যায়নি। দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও কোন নারী ভোটার নেই। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কোনো নারীকে ভোট দিতে আসতে দেখা যায়নি। রাস্তা থেকে নারীদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আয়েশা আক্তার নামের এক নারী ভোট দিতে আসছিলেন। তাকে রাস্তায় আটকে দেয় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। তিনি খুবই ক্ষিপ্ত হন, তিনি গালমন্দ করে উত্তেজিত হয়ে চলে যান।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এবং রফিকুল ইসলাম ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট দেখতে না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
কুমিল্লা থেকে মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার জানিয়েছেন, কুমিল্লা-১০ আসনের এক ভোটারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সকালে নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের মুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। বাচ্চু মিয়া (৫০) নামে এক ভোটার ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় কেন্দ্রের ৫০০ গজ দূরে ছাত্রলীগের লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করেন, কই যান? জবাবে তিনি বলেন, ভোট দিতে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, ভোট হয়ে গেছে, আপনি চলে যান। তখন বাচ্চু বলেন, আমি আমার ভোট দিয়েই যাবো। তখন ছাত্রলীগ নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাচ্চুকে হকিস্টিক দিয়ে মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বাচ্চু ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম, তার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জেলার চান্দিনায় বেলাশ্বর সরকারি বিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে বিএনপি কর্মী মুজিবুর রহমান নিহত হন। সকাল সাড়ে ১০টায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা আরও দুই বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
কুমিল্লা-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ এরই মধ্যে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশ’ নিয়ে উদ্বেগ আনফ্রেলসহ ১৬ সংগঠনের

কিন্তু ভিসা বিলম্বিত করার কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়। তারপরও তারা বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর দৃষ্টি রাখছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সত্যিকার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতা ও ভীতির কোনো স্থান থাকতে পারে না। মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হয় ১০ই ডিসেম্বর। ওই সময় থেকে বিরোধী দলের গাড়িবহরে কমপক্ষে ৩০টি হামলা হয়েছে। ১৫৯টি সংসদীয় আসনে ২০৭টি সহিংসতা ঘটেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কমপক্ষে ৪৩ জন প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। মারাত্মক আহত হয়েছেন তাদের ১৩ জন প্রার্থী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিরোধী দলের ১৭ প্রার্থীকে। অন্যদিকে, ২৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন। উপরন্তু, রিপোর্টিং পিরিয়ডে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫ জন। আহত হয়েছেন ২৬৮২ জন। এ ছাড়াও বিরোধীদলীয় সদস্যদের প্রহার, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি আগুন দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া, নারী প্রার্থীদের ওপর হামলা, বিরোধী দলের নির্বাচনী সমাবেশে বাধা দেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য একটিই। তাহলো ভোটারদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে খাটো করা।
বিরোধী দলগুলোর মতে, নভেম্বরের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার পর পুলিশ তাদের ২১ হাজার নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ২০১৮ সালের শুরু থেকে ক্ষমতাসীন দলের বিরোধীদের বিরুদ্ধে কল্পিত মামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে বলে বলছে বেশ কিছু মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ। এর মধ্যে বিরোধীদলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন নেতারাও রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তার বিরুদ্ধে মানহানির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এমন মামলা বলে দেয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। এমন এক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সারা দেশ। এ অবস্থায় গণতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে হচ্ছে এ নির্বাচন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শুধু প্রতিযোগিতামূলক ও পদ্ধতি মানা দিয়েই একটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা সংজ্ঞায়িত করা হয় না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনী পরিবেশের গুণগত মান। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষিতে নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নাগরিক সমাজের সংগঠন ও মিডিয়া বিধিনিষেধের মুখে পড়ছে।
২০১৮ সালের নভেম্বরে সাংবাদিকদের ওপর ৭২টি হামলা হয়েছে। ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯ জনকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংক্রান্ত ইস্যুতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। বাংলাদেশ সরকার নিরপেক্ষ ও সমলোচকদের কণ্ঠের বিরুদ্ধে কতটা প্রতিকূল তার একটি উদাহরণ ফটোসাংবাদিক ও অধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার। স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ মিডিয়ার সঙ্গে নাগরিক সমাজের কর্মকাণ্ড মিলে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মেরুদণ্ড তৈরি হয়। এসব স্বাধীনতা খর্ব করা হলো এমন একটি সরকারের পরিচায়ক যা, জনগণের বিবেচনা ও জবাবদিহিতার ধার ধারে না। এতে বিশেষত, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রথম সারির মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংগঠন হলো অধিকার। রাষ্ট্র বিরোধী, সরকার বিরোধী ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে তারা মর্যাদাহানির মুখে পড়ে। নির্বাচন মনিটরিং ও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক মোতায়েনের ক্ষেত্রে অধিকার’কে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণকারী পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা এতে দ্রুত নেমে গেছে। এটা ওই বিধিনিষেধেরই প্রতিফলন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯শে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ দেখিয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৩৮ জন পর্যবেক্ষক। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এর মধ্য থেকে মাত্র ২৬ হাজারকে অনুমোদন দেয়া হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পেছনে রেখে এটা হবে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষক ছিলেন ৮ হাজার ৮৭৮ জন এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন মাত্র চারজন।
পক্ষান্তরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ছিলেন প্রায় একলাখ ৫৯ হাজার। ২০০১ সালে এ সংখ্যা ছিল দুইলাখ ১৮ হাজার। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এত কমে যাওয়া একটি অভিন্ন ইঙ্গিত দেয় যে, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে, প্রতিবন্ধকতার উপস্থিতিতে এবং নাগরিক সমাজের নির্বাচিত অংশকে এক্রিডিটেশন দেয়ার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে।
আইন প্রয়োগকারী বাহিনী দ্বারা সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করা, আইনকে হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা, বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় এজেন্সিগুলোর ব্যবহার, নাগরিক সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিকূলতা ও মিডিয়াকে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যকর একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে জনগণের মুক্ত বাসনাকে অবজ্ঞা করা হয় এবং তা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী নীতির বাইরে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দেশে নিয়ন্ত্রক এমন অবস্থায়, আমরা আসন্ন নির্বাচনের বিশুদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আমাদের সংশয় প্রকাশ করছি, এ নির্বাচনকে যেকোনো যুক্তিতেই সুষ্ঠু ও অবাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব ডমেস্টিক ইলেকশন মনিটরস, ইন্টান্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, সেন্টার ফর মনিটরিং ইলেকশন ভায়োলেন্স-শ্রীলঙ্কা, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনস নেটওয়ার্ক-পাকিস্তান, কোমিতে ইন্ডেপেন্ডেনে পেমানতাউ পেমিলু-ইন্দোনেশিয়া, মালাভি ইলেকটোরাল সাপোর্ট নেটওয়ার্ক-মালাবি, মারুয়াহ-সিঙ্গাপুর, ন্যাশনাল সিটিজিন্সে মুভমেন্ট ফর ফ্রি ইলেকশন-ফিলিপাইনস, পিপলস এলায়েন্স ফর ক্রেডিবল ইলেকশনস-মিয়ানমার, পিপলস একশন ফর ফ্রি অ্যান্ড ফেযার ইলেকশনস-শ্রীলঙ্কা, পেরকুমপুলান উনতুট পেমিলু ডান ডেমোক্রাসি-ইন্দোনেশিয়া, ট্রান্সপারেন্সি মালদ্বীপ-মালদ্বীপ, জিম্বাবুয়ে ইলেকশন সাপোর্ট নেটওয়াক-জিম্বাবুয়ে ও কমিটি ফর ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনস ইন কম্বোডিয়া।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পঞ্চাশ ভাগ জালভোট নাকি বাক্সে ভরে দেয়া হবে: ড. কামাল

নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দায়িত্বরত সব কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, আপনার ওপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা সততার সঙ্গে পালন করবেন। এটা করলে আপনাদের সম্মান বাড়বে। ভোটারের মুখের হাসির ওপরই নির্ভর করছে আপনার দায়িত্ব পালনে সফলতা ও তৃপ্তি। আপনি যদি কারও অধিকার হরণ করেন, তাহলে মনে রাখবেন অন্য কেউ আপনার মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তানের অধিকার হরণ করছে। এটা করলে জনগণ, ইতিহাস ও আইন আপনাদের ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, আপনারা কোনো দলের নয়, জনগণের সেবক।
জনগণ দেশের মালিক, দেশের মালিকদের তাদের ভোটের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করবেন না। কোনো অন্যায় নির্দেশ মানবেন না। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ সবার প্রতি অনুরোধ রেখে কামাল হোসেন বলেন, আপনারা অতীতের মতো গৌরবময় ভূমিকা পালন করুন। বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় আপনাদের ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে। সে প্রশংসার ফলে সারা বিশ্বে আপনাদের সুযোগ বেড়েছে। কোনো অবস্থাতেই তা যাতে ব্যাহত না হয়, সে ব্যাপারে আপনারা সতর্ক থাকবেন। প্রবাসীদের উদ্দেশ্য ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য যারা ভোট দিতে পারবেন না আপনারা আপনাদের স্বজনদের ফোন করে ভোট দিতে যেতে বলুন। তারা যদি ভোট দিতে পারেন সে আনন্দের অংশীদার আপনিও হবেন।
সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড় হামলা মামলার অভিযোগের পরও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, আমরা অবশ্যই আশা করি, আমরা জিতবো, সবাই এখন পরিবর্তন পরিবর্তন করে চিৎকার করছে। নির্বাচনে আমরাই জিতবো যদি কোনও দুই নম্বরি না হয়। বিএনপি’র অফিস রেখে ডিআরইউতে কেন সংবাদ সম্মেলন করলেন, আপনাদের (ঐক্যফ্রন্ট) মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি আছে কি না- এমন প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, এ হল নেয়াটা কোনোভাবে প্রমাণ করে না যে, আমাদের মধ্যে ঐক্য নেই। আমাদের অফিসে গতকাল আগুন লাগার কারণে বড় হল না পেয়ে এখানে এসেছি। আমাদের মধ্যে ঐক্য আরও সুসংহত হয়েছে। এজেন্টদের বের করে দেয়া, হামলা গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা আজও (নির্বাচনের দিন) হয়, তবে কি নির্বাচন থেকে সরে যাবেন? -এমন প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেন, আমরা সরে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসিনি। এর আগে বহুবার বলেছি, শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বাচনে থাকবো। আমরা আশা করি জনগণ সকল অপশক্তিকে রুখে দিবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐক্যফন্টের ভোট বর্জন করতে পারে- বিষয়টি নিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কামাল হোসেন বলেন, কোনোভাবেই নির্বাচন থেকে সরে যাবো না। বহুবার বলেছি।
আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবো। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো দ্বিধা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো দ্বিধা নেই। নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তো আমাদের নেত্রী না। উনি কি বললেন না বললেন সেটা আমাদের বিষয় না। নজরুল ইসলাম খান বলেন, হামলা-মামলার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, যদি হয় এর কোনো উত্তর দিতে চাই না। আমরা আশা করি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্র যাবে এবং ভোট ডাকাতদের প্রতিরোধ করবে।
এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মানুষ যখন ভয় পায় তখন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সরকার ভয় পেয়েছে। যে কারণে তারা বিরোধীদলের ওপর হামলা-নির্যাতন করছে, গুণ্ডামি করছে।
এ সময় বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ১১৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ৯৫৭টি নতুন মামলা হয়েছে। প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের ওপর ২৮৯৬টি হামলা হয়েছে এতে আহত হয়েছে ১৩ হাজার ২৫২ জন, নিহত হয়েছেন ৯ জন। ২৮শে ডিসেম্বর প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পরও সারা দেশে গ্রেপ্তার হয়েছে ১০২৭ জন শুধু ২৮ তারিখ নতুন করে মামলা হয়েছে ৫৯টি, নিহত হয়েছে ১ জন। ঐক্যফ্রন্টের মোট ১৭ জন প্রার্থী কারাগার থেকে নির্বাচন করছেন। এরমধ্যে তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচন কমিশনের বৈধতা পাওয়ার পর ৭ জন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের বৈধতা পাওয়ার পর ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এরমধ্যে শেষ সময়ে এসে তিনজন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে।
আর ঐক্যফ্রন্ট চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার পর ৩ জন প্রার্থীকে বদল করে অন্য প্রার্থী দিয়েছেন হাইকোর্ট। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা নানাভাবে খবর পাই সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার যা করেছে জাতীয় নির্বাচনেও সরকার সে রকম কিছু করার পরিকল্পনা করেছে। ভোটের আগে ভোটের বাক্স ভর্তি করা এবং জাল ভোট দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার। জনগণ ও নেতাকর্মীদের কাছে আহ্বান জানাই, আপনারা সজাগ ও সচেতন থাকবেন। যে কোনো ধরনের মন্দ পরিকল্পনা প্রতিহত করবেন। কেউ যেন আগেই বাক্স ভরতে না পারে। জাল ভোট দিতে না পারে। ফলাফল বদলে দিতে না পারে। মানুষ পরিবর্তন চায়, আমরাও পরিবর্তন চাই।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি ও ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫০ ভাগ জাল ভোট নাকি বাক্সে ভরে দেয়া হবে
কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, ভোটের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। ড. কামাল বলেন, নির্বাচনে সরকারি দলের তরফে যেভাবে ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করা হয়েছে স্বাধীন দেশে এটি অতীতে কখনই হয়নি। তার পরও মানুষ ভোট দিতে চায়। তারা পরিবর্তন চায়। দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে দাবি করে তিনি বলেন এক পারসেন্ট লোক পরিবর্তন চায় না। তারা কেন চায় না সেটা সবার জানান। তারা অন্যায়ভাবে সুবিধাভোগী। এরা সব সেক্টরেই রয়েছে। প্রশাসনেও এরা আছে। প্রশাসনের ওই সব সুবিধাভোগীদের দিয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রার্থী, সমর্থক-ভোটারদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে অভিযোগ করে বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন- যারা বিদেশ থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এসেছেন আপনারা ঘুরেন, দেখেন মানুষ কতটা উন্মুখ হয়ে আছে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য।
ভোটের দিনে তারা কতটা মুক্তভাবে ভোট দিতে পারছে সেটাও নিশ্চয় আপনারা দেখবেন। সেই চিত্রটাই তুলে ধরুন। এত বাধার পরও মানুষ ভোট দিতে যাবে- এ নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, সরকারি দল যেভাবে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করেছে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে তা সত্যিই হতাশাজনক এবং পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। ড. কামাল বলেন, প্রচারণাকালে অর্ধেকের বেশি আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর মিছিল-সভা সমাবেশ এমনকি বাড়ি ঘরে হামলা করেছে আওয়ামী লীগ ও সমর্থকরা। অনেক হামলায় পুলিশও জড়িত ছিল। প্রচারণা চালাতে গিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ৪৯ জন প্রার্থী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন অনেকে। যার মধ্যে সিরাজগঞ্জে একজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। ড. কামাল বলেন, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর কেবল হামলাই হয়নি, পুলিশ দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক-ভোটারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছাড়া।
আক্রমণ, পুলিশ কেস এবং গ্রেপ্তারের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ৮ই নভেম্বর থেকে ২৫শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী ১৫৭৪ পুলিশ কেস দেয়া হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ওই সব মামলায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৬শ জনকে। কিন্তু এত কিছুর পরও তারা ভোটের মাঠে আছেন, ফল নিয়ে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোধী ওই নেতা বলেন, আমি আশাবাদী। আমি এটাও আশা করবো, নির্বাচন কমিশন, সরকারি দল এবং প্রশাসনের কাছে তারা মানুষকে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দেবেন। কিন্তু সেখানে যদি তা না নয়, তখন তারা কী করবেন? এমন প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, ‘যদি এটি হয়, ‘যদি ওটি হয়’ এমন প্রশ্নে আসলে কোনো উত্তর দেয়া কঠিন।
কিন্তু তার পরও বলবো আমরা জানি এদেশের মানুষের শিকড়ে গণতন্ত্র। মানুষ ভোট দিতে পারলেই হয়। পাকিস্তানিরা তা কাড়তে পারেনি। এরশাদ জামানাও তা কেড়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। এরশাদ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। এক বৃটিশ মন্ত্রীকে তিনি তা-ই বলেছিলেন ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তিনি ১৫ সপ্তাহ থাকতে পারননি। ৬ই ডিসেম্বর তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ড. কামাল বলেন, আমাদের কাছে নানা রকম খবর আসছে। এমন নির্দেশনাও নাকি দেয়া হয়েছে ভোট যাই হোক ৫০ ভাগ ফেক ব্যালট বা জাল ভোট বক্সে ভরা দেয়া হবে। ফলও পরিবর্তন করা হতে পারে। আমরা জনরায়ের শেষ সময় পর্যন্ত দেখবো। এখানে অনেক কিছু করার আছে। সংবিধানেও এর নির্দেশনা আছে। আমরা ভোটের চিত্র দেখে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবো।
উল্লেখ্য, অর্ধশতাধিক বিদেশি সাংবাদিক এখন ঢাকায় নির্বাচন কাভার করছেন। তার মধ্যে অনেকে ঢাকার বাইরেও চলে গেছেন। বিদেশি গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মতে, এবার বিবিসি, ক্যাবল নিউজ ইন্টারন্যাশনাল, ডয়েচে ভেলে, এনএইচকে, ইউমোরি সিমবান, এএফপি, এপি, নিউজ এজেন্সি, আল জাজিরা, জার্মান টিভি, টিভি টুডে নেটওয়ার্ক, নিউ ইয়র্ক টাইমস, লে মন্ডে, দি ইকোনোমিস্ট, জি-নিউজ, কিয়োডো নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু, ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (যুক্তরাষ্ট্র), স্ট্যাটেজিক নিউজ, ফ্রন্টলাইন, দি উইকসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিরা নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট কভার করতে ঢাকায় এসেছেন। অনেকে প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধিও রয়েছেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Saturday, December 29, 2018
বাংলাদেশের ‘অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশ’ নিয়ে উদ্বেগ আনফ্রেল সহ ১৬ সংগঠনের

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আনফ্রেলের পর্যবেক্ষক আসার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা বিলম্বিত করার কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়। তারপরও তারা বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর দৃষ্টি রাখছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সত্যিকার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতা ও ভীতির কোনো স্থান থাকতে পারে না। মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হয় ১০ই ডিসেম্বর। ওই সময় থেকে বিরোধী দলের গাড়িবহরে কমপক্ষে ৩০টি হামলা হয়েছে। ১৫৯টি সংসদীয় আসনে ২০৭টি সহিংসতা ঘটেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কমপক্ষে ৪৩ জন প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। মারাত্মক আহত হয়েছেন তাদের ১৩ জন প্রার্থী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিরোধী দলের ১৭ প্রার্থীকে। অন্যদিকে ২৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদেরকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন। উপরন্তু, রিপোর্টিং পিরিয়ডে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫ জন। আহত হয়েছেন ২৬৮২ জন। এ ছাড়াও বিরোধী দলীয় সদস্যদের প্রহার, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি আগুন দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া, নারী প্রার্থীদের ওপর হামলা, বিরোধী দলের নির্বাচনী র্যালিতে বাধা দেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য একটিই। তাহলো বাংলাদেশি ভোটারদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে খাটো করা।
বিরোধী দলগুলোর মতে, নভেম্বরের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার পর পুলিশ তাদের ২১ হাজার নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ২০১৮ সালের শুরু থেকে ক্ষমতাসীন দলের বিরোধীদের বিরুদ্ধে কল্পিত মামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে বলে বলছে বেশ কিছু মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ। এর মধ্যে বিরোধী দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন নেতারাও রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তার বিরুদ্ধে মানহানির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এমন মামলা বলে দেয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। এমন এক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সারা দেশ। এ অবস্থায় গণতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে হচ্ছে এ নির্বাচন।
ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শুধু প্রতিযোগিতামূলক ও পদ্ধতির মানা দিয়েই একটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা সংজ্ঞায়িত করা হয় না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনী পরিবেশের গুণগত মান। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষিতে নিজেদের কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নাগরিক সমাজের সংগঠন ও মিডিয়া বিধিনিষেধের মুখে পড়ছে।
২০১৮ সালের নভেম্বরে সাংবাদিকদের ওপর ৭২টি হামলা হয়েছে। ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯ জনকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংক্রান্ত ইস্যুতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। বাংলাদেশ সরকার নিরপেক্ষ ও সমলোচকদের কণ্ঠের বিরুদ্ধে কতটা প্রতিকূল তার একটি উদাহরণ ফটোসাংবাদিক ও অধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার। স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ মিডিয়ার সঙ্গে নাগরিক সমাজের কর্মকান্ড মিলে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মেরুদন্ড তৈরি হয়। এসব স্বাধীনতা খর্ব করা হলো এমন একটি সরকারের পরিচায়ক যা, জনগণের বিবেচনা ও জবাবদিহিতার ধার ধারে না। এতে বিশেষত, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করে।
ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে প্রথম সারির মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংগঠন হলো অধিকার। রাষ্ট্র বিরোধী, সরকার বিরোধী ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে তারা মর্যাদাহানির মুখে পড়ে। নির্বাচন মনিটরিং ও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক মোতায়েনের ক্ষেত্রে অধিকার’কে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে এনজিও বিষয়ক বুরো সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণকারী পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা এতে দ্রুত নেমে গেছে। এটা ওই বিধিনিষেধেরই প্রতিফলন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯শে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ দেখিয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৩৮ জন পযবেক্ষক। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এর মধ্য থেকে মাত্র ২৬ হাজারকে অনুমোদন দেয়া হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পিছনে রেখে এটা হবে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষক ছিলেন ৮ হাজার ৮৭৮ জন এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন মাত্র চার জন। পক্ষান্তরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ছিলেন প্রায় এক লাখ ৫৯ হাজার। ২০০১ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এত কমে যাওয়া একটি অভিন্ন ইঙ্গিত দেয় যে, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে, প্রতিবন্ধকতার উপস্থিতিতে এবং নাগরিক সমাজের নির্বাচিত অংশকে এক্রিডিটেশন দেয়ার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে।
আইন প্রয়োগকারী বাহিনী দ্বারা সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করা, আইনকে হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা, বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় এজেন্সিগুলোর ব্যবহার, নাগরিক সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিকূলতা ও মিডিয়াকে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যকর একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে জনগণের মুক্ত বাসনাকে অবজ্ঞা করা হয় এবং তা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী নীতির বাইরে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দেশে নিয়ন্ত্রক এমন অবস্থায়, আমরা আসন্ন নির্বাচনের বিশুদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আমাদের সংশয় প্রকাশ করছি, এ নির্বাচনকে যেকোনো যুক্তিতেই সুষ্ঠু ও অবাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব ডমেস্টিক ইলেকশন মনিটরস, ইন্টান্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, সেন্টার ফর মনিটরিং ইলেকশন ভায়োলেন্স- শ্রীলঙ্কা, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনস নেটওয়ার্ক-পাকিস্তান, কোমিতে ইন্ডেপেন্ডেনে পেমানতাউ পেমিলু-ইন্দোনেশিয়া, মালাভি ইলেকটোরাল সাপোর্ট নেটওয়ার্ক-মালাবি, মারুয়াহ-সিঙ্গাপুর, ন্যাশনাল সিটিজিন্সে মুভমেন্ট ফর ফ্রি ইলেকশন-ফিলিপাইনস, পিপলস এলায়েন্স ফর ক্রেডিবল ইলেকশনস-মিয়ানমার, পিপলস একশন ফর ফ্রি অ্যান্ড ফেযার ইলেকশনস-শ্রীলঙ্কা, পেরকুমপুলান উনতুট পেমিলু ডান ডেমোক্রাসি-ইন্দোনেশিয়া, ট্রান্সপারেন্সি মালদ্বীপ-মালদ্বীপ, জিম্বাবুয়ে ইলেকশন সাপোর্ট নেটওয়াক-জিম্বাবুয়ে ও কমিটি ফর ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনস ইন কম্বোডিয়া।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের নির্বাচনে উত্তেজনা তুঙ্গে -সিএনএনের প্রতিবেদন by মানভিনা সুরি

সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে যে সহিংসতা দেখা গেছে তেমনটা প্রতিরোধ করতে দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক ওইসব নির্বাচনে কম সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে এবং সবচেয়ে বড় বিরোধীদলীয় জোট ও তাদের মিত্রদের বর্জনের কারণে কলঙ্কিত হয়েছে।
৭১ বছর বয়সী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছে। বিরোধীদের বর্জনের কারণে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। কিন্তু তিনি শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পরিচালনা করা সত্ত্বেও ওই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠার অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে, মিডিয়া ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হয়রান করা হচ্ছে।
স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ
কর্তৃপক্ষ স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো ও বিরোধীদলীয় নেতারা।
লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিক ও ‘দ্য কর্নেল হু উড নট রিপেন্ট: দ্য বাংলাদেশ ওয়ার অ্যান্ড ইটস আনকোয়াইট লিগ্যাসি’ বইয়ের লেখক সলিল ত্রিপাঠি বলেন, অকপটতা বা খোলোমেলা থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল)-এর মতো নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ভিসা বিলম্বিত করেছে বাংলাদেশ সরকার। সিএনএনকে সলিল ত্রিপাঠি বলেছেন, ‘প্রশ্নটা হলো নির্বাচন চলার সময়ে সেখানে কি ঘটছে তা দেখার জন্য কোনো পর্যবেক্ষক থাকবে কিনা তা নিয়ে। আপনি চান একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু একটি সুযোগ হিসেবে সেটা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। যদি আপনি পর্যবেক্ষকদের আসতে না দেন, তাহলে কিভাবে আপনি এটা (সুষ্ঠুতা ও অবাধ) প্রমাণ করবেন?’
গত সপ্তাহে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক রিপোর্টে বলেছে, বাংলাদেশে দমনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মুক্ত মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক নজরদারি ও দমনপীড়নসহ কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ আতঙ্কের পরিবেশে ভূমিকা রেখেছে। এতে আরো বলা হয়েছে, পুলিশ পক্ষপাতিত্বহীনভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে তারা বিরোধীদলীয় নেতাদের ওপর হামলার বিষয়কে এড়িয়ে গেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের এমন আচরণ করা উচিত হবে না যা দেখে বোঝা যায় তারা ক্ষমতাসীন দলের সম্প্রসারিত অংশ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে সহিংসতা হয়েছে তাতে প্রধান টার্গেট করা হয়েছে বিরোধীদের। তারা যে অন্যায্য আচরণ করছে তা এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। প্রচারণা সংশ্লিষ্ট যেসব সহিংসতা হয়েছে তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই টার্গেট করা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে।
মুক্ত মতপ্রকাশ দমিয়ে রাখা
এ চাপ শুধু যে বিরোধীদলীয় নেতারা অনুভব করছেন তা নয়। রোববারের নির্বাচনকে সামনে রেখে মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক গ্রুগুলো হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেছে। অক্টোবরে সরকার একটি বিতর্কিত নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুমোদন করে। মানবাধিকার বিষযক গ্রুপগুলো আশঙ্কা করেন, এতে মিডিয়ার স্বাধীনতা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অনলাইনে ভিন্ন মতাবলম্বীদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া হবে।
আন্তর্জাতিক আরেক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এ আইন স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর ভয়াবহ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তারা আরো বলেছে, বিরোধীদলীয় কণ্ঠকে দমিয়ে রাখতে এ আইন জোরালোভাবে ব্যবহার করা হবে। ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ অধিকার ভয়াবহ দিকের কিছুটা তুলে ধরেছে, যাকে বলা হয় বিরোধীদলীয় নেতা, ছাত্র ও অধিকারকর্মীদের জোরপূর্বক গুম।
অধিকার বিষয়ক এ গ্রুপটি বলেছে, শুধু সেপ্টেম্বরেই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আইন প্রযোগকারী সংস্থাগুলোর লোকজন তুলে নিয়ে গেছে ৩০ জনকে। এ বছরের প্রথম আট মাসে এ সংখ্যা মোট ২৮। কিন্তু তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ওই সংখ্যা অনেক বেশি।
২০১৮ সালে যাদেরকে আটক করা হয় তার মধ্যে সুপরিচিত ফটোসাংবাদিক ড. শহিদুল আলম অন্যতম। আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমলোচনা করার কারণে তাকে কয়েক মাস জেলে রাখা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষোভের মুখে নভেম্বরে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট এবং মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ২৫টি মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ একটি যৌথ বিবৃতিতে শহিদুল আলমকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করা হয়।
দুর্বল বিরোধী পক্ষ
শেখ হাসিনা তৃতীয় মেয়াদে জিতে যাবেন এটা ব্যাপকভাবে ধরে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বর্তমানে জেলে বন্দি। দুর্নীতির অভিযোগে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষিদ্ধ হয়েছেন। তবে বিএনপির সমর্থকরা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সলিল ত্রিপাঠি বলেছেন, যদি শেখ হাসিনা না জেতেন তাহলে আমি বিস্মিত হবো। বিরোধী দলের প্রার্থীরা রয়েছে আটকা অবস্থায় এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ অবস্থায় বিরোধীদের রয়েছে বহুবিধ সমস্যা। অন্যদিকে ক্ষমতায় থাকার সুবিধা আছে শেখ হাসিনার।
নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, সলিল ত্রিপাঠি বলেন, মূল ফোকাস হওয়া উচিত বাংলাদেশিদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেয়ার অধিকার। ভোটার ও প্রার্থীদের এ ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা পাওয়ার অধিকার আছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচন নিয়ে যা লিখেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

বৃটেনের বিখ্যাত গার্ডিয়ান পত্রিকার শিরোনাম ‘শেখ হাসিনা হেডস ফর টেইন্টেড ভিক্টরি’ অর্থাৎ ‘কলঙ্কিত বিজয়ের পথে শেখ হাসিনা।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পুনঃনির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিরোধী শিবির বলছে, রক্তক্ষয়ী এই নির্বাচনী প্রচারণা ছিল গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রিত। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও, সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিস্তর।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকার প্রকাশক কাজি আনিস আহমেদের মতামত নিবন্ধ। ‘বাংলাদেশের বিকল্প: কর্তৃত্ববাদ কিংবা চরমপন্থা’ শিরোনামের এই নিবন্ধে বলা হয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে চায় দলটির উন্নয়নের রেকর্ড ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করে।
তবে টানা দুইবার ক্ষমতায় থাকায় দলটির বিপক্ষে যাবে মানুষের মধ্যে বিরাজ করা ক্ষমতাসীন-বিরোধী প্রভাব। গত বছর হওয়া ছাত্র আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন ও বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়নের ফলে এই মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতাসীন সরকার রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও গ্রেপ্তার, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মাধ্যমে বিরোধী দলকে ধ্বংস করেছে। তবে আনিস আহমেদ, যার বড় ভাই শাসক দলের আইনপ্রণেতা ও নির্বাচনে লড়ছেন বলে তিনি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগই হবে ভোটারদের জন্য মন্দের ভালো।
বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সরকার টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পথে। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমর্থন বাড়িয়েছেন হাসিনা। কিন্তু তার সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, এই গণতন্ত্রের বিনিময়ে এই উন্নয়ন কিনা।
এতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ড. কামাল হোসেন এখন হাসিনার প্রধান চ্যালেঞ্জার। তিনি বাংলাদেশের বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া পশ্চিমা কূটনীতিকরা পুরোপুরি নিশ্চিত নন যে, হাসিনার আমলে হওয়া উন্নয়ন তার কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনের নায্যতা প্রতিপাদন করে কিনা। এতে আরও বলা হয়, প্রশাসনের ওপর হাসিনার স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ থাকায়, সন্দেহ জাগছে যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা। প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, হাসিনার সাহসিকতার যে প্রতিচ্ছবি তাতে কলঙ্ক লেগেছে ঘরোয়া সমালোচকদের প্রতি তার অসহিষ্ণুতা থেকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন ছেপেছে। একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের শিরোনাম: ‘নির্বাচনের আগে বিরোধী দল বলছে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ চলছে’। এতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে বিএনপির হিমশিম খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরতে বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খানের উদাহরণ দেওয়া হয়। তিনি এখন পর্যন্ত নিজের নির্বাচনী এলাকায় একটি জনসভাও করতে পারেন নি। এতে বলা হয়, এই পরমাণু বিজ্ঞানীর হাজার হাজার পোস্টার তার নির্বাচনী দপ্তরেই পড়ে আছে। কারণ তার নেতাকর্মীরা এসব লাগাতে ভয় পাচ্ছেন। অপরদিকে দেশজুড়ে অসংখ্য স্থানে শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত পোস্টার।
তবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম রয়টার্স প্রতিবেদককে কিছু ছবি দেখিয়ে বলেন, বিএনপির গুন্ডারা বিভিন্ন দোকানপাট ভাঙছে। প্রতিবেদনে নির্দলীয় থিংকট্যাঙ্ক সেন্টার ফর গর্ভনমেন্ট স্টাডিজের করা ফেসবুক জরিপের কথা তুলে ধরা হয় যেখানে ৮০ ভাগের মতো অংশগ্রহণকারী বিরোধী দলকে সমর্থনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে সেপ্টেম্বরে করা মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের একটি জরিপে বলা হয়েছে, ৬২ শতাংশ মানুষই মনে করেন দেশ সঠিক পথে রয়েছে।
রয়টার্সের জরিপে নোয়াখালিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদের লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরা হয়। এছাড়া সাধারণ মানুষের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। মানুষ বলছেন, বিরোধী দল প্রচারণা চালাচ্ছে না বা চালাতে পারছে না। ফলে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কাকে ভোট দেবেন। এছাড়া প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টিকেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
রয়টার্সের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংস ও রক্তক্ষয়ী প্রচারণা শেষে ভোটের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ।
মার্কিন আরেক প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে ভারতীয় কলামিস্ট সদানন্দ ধুমের লেখা মতামত নিবন্ধের শিরোনাম: ‘বাংলাদেশের সামনে বিকল্প বেশ বাজে’। এতে ড. কামাল হোসেনের ইমেইল সাক্ষাৎকারে নেওয়া মন্তব্য ছিল। তিনি বলেছেন, ‘এই নির্বাচন গণতন্ত্রের শেষ প্রতিরক্ষা ব্যুহ।’ তিনি আরও বলেন, এই সরকার দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে ও দেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। অপরদিকে ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এই সরকারের উন্নয়নকে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। নিবন্ধে সরকারের উন্নয়নের পরিসংখ্যান যেমন দেওয়া হয়েছে, তেমনি সরকারের হাতে দমনপীড়নের ফিরিস্তিও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে প্রথিতযশা কিছু নাগরিক, যেমন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও ফটোসাংবাদিক ড. শহীদুল আলম সরকারের রোষে পড়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফোর্বসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামে বাংলাদেশের নির্বাচনী লড়াইকে চার্লস ডারউইনের বিখ্যাত তত্ত্ব ‘সার্ভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই চলছে। প্রত্যুষ রায়ের লেখা নিবন্ধে বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হয়েছে। ভারতের তুলনায় বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিই এই ইতিবাচক গতিধারার প্রতি প্রতিবন্ধক।
আল জাজিরার প্রতিবেদনের শিরোনাম: ‘হাসিনার দশ বছর: গণতন্ত্র বাদ দিয়ে উন্নয়ন’ (টেন ইয়ার্স অব হাসিনা: ডেভেলপমেন্ট মাইনাস ডেমোক্রেসি)। এতে অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মন্তব্য ছিল। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং সেক্টরের ভয়াবহ অবস্থা সঠিকভাবে মোকাবিলা করা হয়নি। বেসিক ব্যাংকে ৮০ শতাংশ বাজে ঋণ থাকার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখনও রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক ব্যাংকে বাজে ঋণ আছে। এটা ছিল স্রেফ লুট।’ তবে দেশের আইটি খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বেসিক-এর প্রধান সৈয়দ আলমাস কবির বলছেন, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি নজর ছিল সরকারের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘দেশের জিডিপি বেড়েছে, এটি সত্য। কিন্তু আপনি যদি আয় ও সম্পদ বৈষম্যের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা ও উপাত্ত বলছে, তা খুবই বেড়েছে।’ তার মতে, শাসক দল যার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা হলো গণতন্ত্র বাদে উন্নয়ন। তার ভাষ্য, ‘আপনি যদি আমাদের সংবিধান ও স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস পড়েন, কোথাও কি বলা আছে যে, আপনি উন্নয়নের ফল পাবেন যদি আপনি আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার পরিত্যাগ করেন! সরকারকে এ কথা বলার অধিকার কে দিয়েছে যে, আমরা আপনাদেরকে উন্নয়ন দিয়েছি, সুতরাং গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তা করবেন না’?
জাপান-ভিত্তিক ম্যাগাজিন ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত নিবন্ধের বিষয়বস্তু ও শিরোনাম বেশ চমকপ্রদ। এই নিবন্ধ মূলত হিরো আলমকে নিয়ে। শিরোনাম করা হয়েছে: ‘বাংলাদেশের প্রাপ্য যেই হিরো।’এতে হিরো আলমকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ‘ট্রল ক্যান্ডিডেট’ হিসেবে। সেখানে হিরো আলমের সঙ্গে হওয়া লেখকের কথোপকথনের অংশবিশেষও তুলে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার শিক্ষক ফাহমিদুল হক যুক্তি দেখান, হিরো আলমের এই রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জাতীয় ঐক্যাফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। এছাড়া বিবিসি নিউজ ও রেডিও থেকে শেখ হাসিনা ও ড. কামাল হোসেন উভয়েরই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। বিবিসির সাংবাদিক মাহফুজ সাদিকের টুইট থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনা দাবি করেছেন যে, তিনি দেশে উন্নয়ন এনেছেন। তবে কামাল হোসেন বলেছেন, এই উন্নয়ন এসেছে গণতন্ত্র বিকিয়ে দিয়ে।
এছাড়া কথিত অপপ্রচার রোধ করতে সরকারের ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার সংবাদও গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোট গ্রহণের সময় কারচুপির সুযোগ কতটা রয়েছে -বিবিসি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ তুলেছে কারচুপি করে নির্বাচনে জয়লাভের ছক কেটেছে আওয়ামী লীগ। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ভোট কারচুপি করে নির্বাচনে জেতার কোন অভিপ্রায় তার সরকারের নেই।
কিন্তু ভোটে কারচুপির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেই কারচুপির সুযোগ কতটা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্বাচনের অনেক ধাপেই এই কারচুপির আশঙ্কা থাকে।
তিনি বলেন, "এ পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে হুমকি ধমকি থেকে শুরু করে ব্যালট কারচুপি বিশেষ করে ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এসেছে সবচেয়ে বেশি।"
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা:
এক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ভূমিকাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি।
তার মতে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে অনেক ক্ষমতা দেয়া হয়।
এখন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা যদি সেই ক্ষমতা প্রয়োগ না করেন, বা তাকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে সেই সুযোগ দেয়া না হয়, তাহলে তাকে যে উদ্দেশ্যে রাখা সেটা সফল হয়না।
কিন্তু নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রগুলোকে কড়া পাহাড়ার মধ্যে রাখার কথা জানালেও এমনটা কেন হয়।
বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, মূলত পোলিং কর্মকর্তা এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাত-মূলত দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এমনটা হয়ে থাকে।
ব্যালট বাক্স নিয়ে কারচুপি:
এছাড়া ব্যালট বাক্স নিয়ে কারচুপির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আগে যেসব অভিযোগ আসতো তারমধ্যে একটি হল ভোট গ্রহণের আগের রাতে ব্যালট বাক্সগুলো পূর্ণ করে দেয়া।
তবে এখন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স আসায় সেটা সম্ভব হয়না।
বর্তমানে দেশের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একটি করে বাড়তি ব্যালট বাক্স যুক্ত করা হয়। যেন দুর্ঘটনায় কোন ব্যালট বাক্স ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটাকে পাল্টানো যায়।
এই বাড়তি ব্যালট বাক্সটি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকে।
তবে ইদানীং যে অভিযোগ ওঠে সেটা হল যে, আগের রাতেই এই বাড়তি ব্যালট বাক্সটি দখলে নিয়ে ব্যালট পেপারে পূর্ণ করা হয়।
এজেন্ট ইস্যুতে কারচুপি:
এজেন্ট ইস্যুতেও ভোট কারচুপির সুযোগ থাকে বলে জানান এম সাখাওয়াত হোসেন।
মি. হোসেন বলেন, "আমি এমনও শুনেছি যে প্রতিপক্ষের এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়া হয়নি।"
এই এজেন্ট না থাকলে, বুথের ভেতরে ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং সেগুলোয় সিল দিয়ে রেখে দেয়ার সুযোগ থাকে।
মূলত পোলিং কর্মকর্তা এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কারসাজিতে এটা করা হয় বলে জানান তিনি।
যদিও এ ধরণের ঘটনাগুলো হাতে গোনা কয়েকটি কেন্দ্রেই ঘটে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইভিএমে কারচুপির সুযোগ রয়েছে?
এবারের নির্বাচনে দেশের ছয়টি আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে শুরু থেকেই বিরোধীদের অভিযোগ, এই ইভিএমের মাধ্যমে ডিজিটাল কারচুপির সুযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এম সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী জানান, ইভিএমে কারচুপির কোন সুযোগ আছে কিনা সেটা তিনি নিশ্চিত নন। কেননা এই প্রযুক্তির প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে অনেক বড় একটি পক্ষ জড়িত থাকে।
তবে এবারের ফলাফল থেকেই আসলে আন্দাজ করা যাবে যে, ইভিএমের ওপর পরবর্তীতে কতোটা নির্ভর করা যায়।
মিস্টার হোসেন বলেন, "প্রত্যেকটি কেন্দ্রের ইভিএম মেশিনের আলাদা করে চিপ থাকে। সব চিপগুলোতে যখন প্রোগ্রামিং করা হয় বা প্রোগ্রামিংয়ের পর কপি করা হয়। তখন প্রোগ্রামটি স্বচ্ছ হতে পারে আবার করাপ্টেডও হতে পারে।"
তবে কেন্দ্রীয়ভাবে এই প্রোগ্রাম করাপ্টেড করা অনেক কঠিন বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, এবারের ইভিএম পরিচালনায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কয়েকজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকায়, কারচুপির সুযোগ তেমনটা নেই।ইভিএম-এর যন্ত্রগুলো একটি অপরটির সঙ্গে যুক্ত নয়।
অর্থাৎ এগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সার্ভারের সাথে যুক্ত নয়। তাই এগুলোকে হ্যাক করারও কোন সুযোগ নেই। এছাড়া এর গণনাও আলাদাভাবে হয়।
তাই বিএনপির অভিযোগ কতোটা যুক্তিযুক্ত সেটা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
মিস্টার হোসেন বলেন, " এই অভিযোগটি যখন উঠেছিল তখন আমরা বলেছিলাম আপনারা আসেন, ব্লু টুথ দিয়ে করে দেখান। যদি আপনাদের আশঙ্কা সঠিক হয়, তাহলে আমরা ইভিএম রাখবোই না। কিন্তু তারা আসেও নাই, দেখেও নাই, দেখায়ও নাই, যে ব্লুটুথ দিয়ে আদৌ কারচুপি সম্ভব কিনা। তারা শুধু বলছে, কিন্তু তাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই।"
তাছাড়া এখনকার ইভিএমগুলো দুইভাবে ভেরিফিকেশন করে, প্রথমত ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করে, দ্বিতীয়ত ভোট গ্রহণ ও গণনা করে। এই পদ্ধতিতে ভোট কারচুপি প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার।
সূত্রঃ বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব জানালেন সিইসিকে -ইসিতে মার্কিন দূত

তারা যেন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে।
সেই সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা তিনি শুনেছেন উল্লেখ করে এবং স্বল্প সময়ের নোটিশে সিইসি হুদার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পাওয়ার জন্য তাকে সাধুবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেখতে চায়। তারা চায় সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিক। ভোটারদের নির্বিঘ্নে-নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোটে জনমতের সত্যিকারের প্রতিফলন দেখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের যে আকাঙ্ক্ষা সেটি পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে থাকে, যার ফলে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়ে বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে। যেকোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ এবং সমাবেশের সুযোগ থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচনী সংবাদ প্রকাশে আপনারা (গণমাধ্যম) যেন স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পান সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনের অংশীজন সবাইকে অবাধে তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। সকলে যাতে হয়রানি, উস্কানি ও সহিংসতা মুক্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। সবাই ভোটকেন্দ্র গিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দেবে। সে যে দল বা মতের পক্ষেরই হোক। শান্তিপূর্ণভাবে সবাই সবার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যেকোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় মার্কিন দূত বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সর্বশেষ যে বার্তা দিয়েছেন সেটি পড়ে শোনান। জানান, এ নিয়েও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সোনম সমকামী!

এবার সময় এসেছে নিজের সত্যিটা সকলের সামনে বলার। কথা হচ্ছে সোনমের নতুন ছবি ‘এক লাড়কি কো দখা তো এইসা লাগা’। পয়লা ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। ফিল্মটির ট্যাগলাইন ছিল, দি মোস্ট আনএক্সপেক্টেড রোমান্স অব দ্য ইয়্যার। সত্যিই অপ্রত্যাশিত। সোনমের এই ছবিতে লেজবিয়ানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সুইটির সত্যি এতদিন চাপা থাকলেও একটা সময় এলো যখন তার বিয়ের জন্য পরিবারের সকলে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করল। সেই সময় সে নিজের সমকামীতার ব্যাপারে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেয়। ফিল্মটির ট্রেলার মুক্তি পেতেই ছবির স্ক্রিপ্টের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শক। তাদের মতে, অনেকদিন পর বলিউডে অন্য ধরণের ছবি হচ্ছে। ছবিতে সোনমের বাবার ভূমিকায় রয়েছেন খোদ অনিল কাপুর।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শান্তির শহরে শঙ্কা কেন্দ্রে যেতে চান ভোটাররা by রুদ্র মিজান

নির্বাচন শব্দটি উচ্চারণ হলেই সবার চোখে-মুখে ফুটে উঠে এক অজানা আতঙ্ক। আশপাশে তাকিয়ে ফিসফিস করে তবেই নির্বাচন নিয়ে কয়েক শব্দ উচ্চারণ করছেন সিলেটের মানুষ। আতঙ্কের নাম গ্রেপ্তার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সিলেট জেলায় চার সহস্রাধিক ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখানে রাত নেমে এলেই বাড়ে আতঙ্ক। নিজ বাসা ছেড়ে বিভিন্নস্থানে থাকছেন নেতাকর্মীরা। গ্রেপ্তার থেকে বাদ পড়ছেন না ধানের শীষের সমর্থকরাও। তবে বেশির ভাগ মানুষ জানিয়েছেন, যতোই আতঙ্ক সৃষ্টি করা হোক। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন তারা।
শুক্রবার দিনভর মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। নগরজুড়ে নিঃস্তব্ধতা। শহরের বাসিন্দারা প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে বের হচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, নেতাকর্মী ছাড়াও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বিএনপি’র সমর্থকদের। পুরনো বিভিন্ন মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।
সকালে কিনব্রিজ এলাকায় ফিসফিস করে কথা বলছিলেন পাঁচজন সিএনজি অটোরিকশা চালক। পরিচয় গোপন করে নির্বাচনী পরিবেশের কথা জিজ্ঞাসা করতেই দুইজন সমস্বরে বলেন, ‘ইনো খালি নৌকা আর নৌকা, নৌকা ছাড়া মাত (কথা) নাই।’
বেশকিছুক্ষণ কথা বলার পর চালকদের একজন জানান, গত বুধবারে একজন সিএনজি অটোরিকশা চালককে ধরে নিয়ে গেছে পুুলিশ। আখালিয়া এলাকার গ্যারেজে অটোরিকশা রেখে বের হতেই তাকে আটক করা হয়। ওই চালকের নাম আবদুর রকিব। রকিবের সহকর্মীরা দাবি করেন, রকিব রাজনীতি করেন না। তবে নির্বাচন নিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলতেন। সুষ্ঠু ভোটের পক্ষে কথা বলতেন বলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে অনেকে রয়েছেন যারা নির্বাচনের প্রতি আগ্রহী না। তাদের একজন জিন্দাবাজারের সেবা হেয়ার কাটিংয়ের রতন দাস। রতন আশা করেন, সিলেটে শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। সিলেট-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী একে আবদুল মোমেন ও বিএনপি মনোনীত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দু’জনেই ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত। রতন আশা করেন তারা কোনো সংিসতাকে প্রশ্রয় দিবেন না।
দুপুরে বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে কথা হয় রিকশাচালক রমজান আলীর সঙ্গে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের কেশবপুরের রমজান সিলেট নগরীর কাজলশাহ্ এলাকার ভোটার। রমজান বলেন, নির্বাচনের যে অবস্থা। ভোট দিতে পারবো কি-না জানি না। তবে সকালে কেন্দ্রে যাব। ভোট দিতে চেষ্টা করবো। একইভাবে সিলেটের উপ-শহরের বাসিন্দা লুৎফুননাহার সিমা জানান, কি রকম নির্বাচন হবে জানি না। তবে আমি ভোট দিতে চাই। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেন্দ্রে নিরাপত্তা দিতে হবে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রায় ৪০টি মামলায় সিলেটে জেলায় বিএনপি’র চার সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী জানান, গতকাল বিএনপি’র নেতা আক্তার বকসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । তার আগে বৃহস্পতিবার বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী অফিস থেকে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে বিএনপি নেতা চৌধুরী মোহাম্মদ সোহেল ছাড়া সবাই সাধারণ সমর্থক। একই ভাবে কোর্ট পয়েন্ট থেকে ধানের শীষের মিছিল শেষে রাস্তার পাশ থেকে জাকির আহমদ ও আবদুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা কেউ রাজনীতি সঙ্গে সম্পৃক্ত না বলে জানান তিনি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, বৃহস্পতিবার যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ৪৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, দুইজনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ও দুইজনকে এসএমপি অ্যাক্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী অফিস থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী আমাদের শত্রু না, তাদের কাছে মানুষ নিরপেক্ষ আচরণ আশা করে। তবে যতোই আতঙ্ক সৃষ্টি করা হোক সিলেটের মানুষ ভোট বিপ্লব ঘটাবে বলে আশা করেন বিএনপি’র এই নেতা।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগরের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, বিএনপি’র অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাউকে গ্রেপ্তার করাচ্ছে না। পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করছে তা পুলিশই ভালো বলতে পারবে। সিলেট রাজনৈতিক সম্প্রীতির এলাকা। আমরা নেতাকর্মীদের বলেছি প্রতিহিংসার রাজনীতি আমরা করবো না। বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাদের প্রচার গাড়ি, মাইক ভাঙচুর করেছে আমরা কোনো মামলা দেইনি। এখানে ভোটের দিনও সম্প্রীতি বজায় থাকবে বলে আশা করেন কামরান।
সিলেট-১ আসনে মোট ভোটার ৫,৪৩,৫৩০। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৮৬,২৬৭, নারী ভোটার ২,৫৭,২৬৩। বিভিন্ন দল থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন ১০ জন। তারা হচ্ছেন, বিএনপি’র ধানের শীষের প্রতীকের খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ড. একে আবদুল মোমেন, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মই প্রতীকের প্রণব জ্যোতি পাল, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের রেজুওয়ানুল হক চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকের উজ্জ্বল রায়, মুসলিম লীগের হারিকেন প্রতীকের আনোয়ার উদ্দিন বুরহানবাদী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকের নাসির উদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতীকের ফয়জুল হক, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির আম প্রতীকের ইউসুফ আহমদ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ধনী-গরিব-রাজা-প্রজা সবারই এক ভোট। কী অদ্ভুত সাম্য! অনেকদিন ধরেই ভোট এখানে রীতিমতো উৎসব। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রচারণার রক্তাক্ত অধ্যায় শেষ হয়েছে । এখন চারদিকে নীরবতা, নিস্তব্ধতা। ঢাকা এরই মধ্যে ফাঁকা। মানুষ ছুটছেন গ্রামে। যেন ঈদের ছুটি। তারা যোগ দিতে চান উৎসবে।
একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা ছিলো। বছরের সবচেয়ে আলোচিত শব্দটি ছিল সম্ভবত ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’। অনেকটা নাটকীয়ভাবেই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে ড. কামাল হোসেনের। যদিও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি পুরনো চরিত্র। তারপরও বিএনপির সঙ্গে তার জোট বাধা কম বিস্ময়ের তৈরি করেনি। খালেদা জিয়ার সাজা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ। দৃশ্যত কোনো দাবি মেনে না নেয়ার পরও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়। প্রচারণায় বাধা, হামলা, রক্তাক্ত প্রার্থী। সংশয় ছিলো শেষ পর্যন্ত বিরোধীজোট নির্বাচনে থাকে কি-না? কিন্তু তারা এখনো বলছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা নির্বাচনে থাকবেন।
এমনিতে ইতিহাসের এক ব্যতিক্রম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলছে। সরকার বহাল। সংসদ বহাল। সব দলের অংশগ্রহণ। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কিছুদিন অনেক কথা হয়েছে। এখন আর সে কথা কেউ মুখে তুলছেন না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ একেবারেই সীমিত। একতরফা প্রচারণা। বিরোধীরা মাঠ ছাড়া। কী হবে আগামীকাল। বাংলাদেশের মতো সারা দুনিয়াতেও এ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পর এখন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ধরনের নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেছেন।
আগেই বলা হয়েছে, ভোট এখানে উৎসব। সকাল সকাল দীর্ঘ লাইন। অনেক পশ্চিমা দেশেও এমনটা দেখা যায় না। তবে কেন্দ্র দখল, গায়েবি ভোটের নজিরও এখানে আছে। ভালো, মন্দ। কালো, সাদা। আমাদের রেকর্ডে সবই আছে। কাল কী হবে? ভোটাররা কী একদিনের বাদশাহী ফিরে পাবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা কৌতুক দেখা যাচ্ছে। নিরাপদে ভোট দিয়ে ফেরার জন্য দোয়া চেয়ে ফেসবুকে অনেকে পোস্টারও আপলোড করছেন। জীবিত, প্রাপ্তবয়স্করা যেন একটি করে ভোট দিয়ে নিরাপদে, নির্ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, বাকি জীবনটাও শান্তিতে কাটাতে পারেন এমন ভোটই চায় সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতান্ত্রিক জনতা।
রোববার সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবার নির্বাচনে ১৮৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৩৯ দলের ১৭৩৩ জন ও স্বতন্ত্র ১৮২ জন রয়েছে। ভোটগ্রহণ কার্যক্রমকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছে। আসনওয়ারি সর্বশেষ সামগ্রী ব্যালট পেপার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এর আগেই ভোটের অন্যান্য সরঞ্জামাদি মনোহরী দ্রব্য যেমন, অমোচনীয় কালির কলম, সিলগালা, মার্কিং ও ব্রাসসিল আসনওয়ারি পৌঁছে দেয় ইসি। আজ শনিবার ভোটের সমাগ্রী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পুলিশ পাহারায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন কেন্দ্রের মনোনীত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ শুক্রবার বিকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, ভোট নিয়ে কোন শঙ্কা নেই। আশা করছি, নির্বিঘ্নে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তিনি বলেন, সরকারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১৫ লাখ লোক এ ভোট পর্যবেক্ষণ করছে।
ভোটগ্রহণ উপলক্ষে রোববার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাংকও বন্ধ রাখা হয়েছে ২৮ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ হয়েছে শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে, এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে ৩০শে ডিসেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে কালো টাকার দৌরাত্ম্য বন্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ উপলক্ষে জনগণের ভোগান্তি কমাতে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। যানবাহন চলাচলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীর বাইরে কোন যান-চলাচল করবে না।
এবারের নির্বাচনটি গত দশম জাতীয় সংসদের থেকে একটু আলাদা আমেজ বিরাজ করছে। কারণ নিবন্ধিত সব দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর পাশাপাশি অনিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দল প্রধান দুই জোটের জোটবদ্ধ সঙ্গী হয়ে এ নির্বাচনে লড়ছেন। এর বাইরে বাম মোর্চা ও ইসলামী কয়েকটি দলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে চষে বেড়িয়েছেন।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের সাধারণ কেন্দ্রে ১৪ থেকে ১৫ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। মেট্রোপলিটন এলাকার কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ওই সংখ্যা থেকে ১ জন করে বেশি রাখা হবে। পার্বত্য এলাকা, দ্বীপাঞ্চল, হাওড় এলাকার কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরও বেশি থাকবে। এবার নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালনে মাঠ পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ জন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। তবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও পুলিশের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের সঙ্গে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দেয়ার জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ৯৩৭ জনের চাহিদা দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ইসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬৭৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়েছে মন্ত্রণালয়। শুধু ভোটকেন্দ্র পাহারায় পুলিশসহ ৬ লাখ ৮ হাজার জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।
এর মধ্যে পুলিশ ১ লাখ ২১ হাজার, আনসার ৪ লাখ ৪৬ হাজার ও গ্রামপুলিশ ৪১ হাজার। এছাড়া ৪১৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৪৮ প্লাটুন নৌ-বাহিনী, কোস্টাগার্ড ৪২ প্লাটুন, বিজিবি ৯৮৩ প্লাটুন ও র্যাব ৬০০ প্লাটুন। এছাড়া স্টাইকিং ও রিজার্ভ র্ফোস হিসেবে ২ হাজার প্লাটুন র্যাব ও বিজিবিসহ ৬৬ হাজার সদস্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছে। সব সংসদীয় আসনের নির্বাচন শেষ করতে ৬৬ জন রিটানিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ জেলায় সমসংখ্যক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুই বিভাগীয় কমিশনার এ দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সহায়তা করতে ৫৮২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছে এ নির্বাচনে। নির্বাচনে শুধু ভোটারদের ভোটদানে সহায়তা করার জন্য ৬ লাখ ৬২ হাজার ১১৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪০১৮৩ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৬২৪ জন। প্রথমবারের মতো এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ করা হবে। আসনগুলো হচ্ছে-ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ এবং সাতক্ষীরা-২ আসন। এসব আসনের ৮৪৫টি কেন্দ্রের ৫ হাজার ৩৮ ভোটকক্ষে এ মেশিন ব্যবহার করা হবে। এ ছয়টি আসনে ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২২ হাজার। এবার ১ কোটি ২৩ লাখ নতুন ভোটার। নতুন ভোটারসহ মোট ভোটার ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন। তবে, মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটার বেশি; যার মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ৯ লাখ। এবার পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন এবং মহিলা ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২ জন।
নির্বাচনে ৮১টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থার ২৫ হাজার ৯শ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া বিদেশিদের মধ্যে ফেমবোসা, ওআইসি, কমনওয়েলথস ও অন্যান্য সংস্থার ৩৮ জন, কুটনীতিক ও বিদেশি মিশনের ৬৪ কর্মকর্তা এবং ঢাকাস্থ দূতাবাস/হাইকমিশন বা বিদেশি সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি ৬১ জন ভোট পর্যবেক্ষক করবেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ই নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবির মুখে গত ১২ই নভেম্বর পুনঃতফসিল ঘোষণা করে ৩০শে ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট স্থগিত করে ২৭ জানুয়ারি পুনঃভোট দেয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ানের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের নির্বাচন
শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে রেকর্ড গড়বেন কি না তা নির্ধারণ করতে আগামী রোববার বাংলাদেশিরা ভোট দেবে। তার অধীনে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। তবে, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বেপরোয়া মানবাধিকার অবমাননার অভিযোগ রয়েছে। বিরোধীদের মতে, চলমান পরিস্থিতি গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ‘দমনমূলক’। রক্তক্ষয়ী নির্বাচনী প্রচারণার পরও ধারণা করা হচ্ছে ৭১ বছর বয়সী শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। নির্বাচন-পূর্ব মাসগুলোতে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াসহ বিপুল সংখ্যক বিরোধী নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে অথবা গুম করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বাংলাদেশের ভিসা প্রাপ্তিতে অহেতুক বিলম্ব করার অভিযোগ তুলেছেন।
বিরোধী জোটের প্রধান ও আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হয়রানি নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে। ৮২ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ আরো বলেন, বিরোধী জোটের প্রায় ৭০ জন প্রার্থী তাদের পার্টি অফিস ও সমাবেশে সশস্ত্র গুণ্ডাদের ব্যাপক হামলার পর আতঙ্কিত হয়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারছেন না। এমনকি বিরোধী জোটের এই নেতার গাড়িও হামলার শিকার হয়েছে। এ মাসের শুরুতে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে তিনি আক্রান্ত হন। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থকরাই এই হামলা চালিয়েছে। বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের এক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথমদিকে আওয়ামী লীগের দুই কর্মী সংঘর্ষে নিহত হয়। এ ছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় উভয় জোটের কয়েক ডজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যাশা, ১০ কোটি ভোটার এসব সহিংসতা অগ্রাহ্য করে দেশের অসাধারণ অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেবে। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে গত এক দশকে দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৬ শতাংশ। এই হার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ প্রবৃদ্ধির বেশিরভাগই আসে ২০ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস শিল্প ও এই খাত সংশ্লিষ্ট সাড়ে চার মিলয়ন মানুষের কল্যাণে। শ্রম খাতে নারীদের যে অংশগ্রহণ ছিল, গার্মেন্টস শিল্পের কারণে তা দ্বিগুণ হয়েছে। যা মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করেছে। ফলে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছরে পৌঁছেছে। এই হার প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও বেশি।
এত উন্নয়নের ফিরিস্তির পরেও রাজধানী ঢাকা এ বছরেই দুই দফা বিক্ষোভে অচল হয়েছে। বিশ্লেষকরা এ বিক্ষোভকে জনঅসন্তোষের প্রমাণ বলে অভিহিত করেছেন। আগামী রোববারের নির্বাচন অবাধ হলে ব্যালটের মাধ্যমে এই জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে বলেও মনে করেন তারা। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক সাহাব ইনাম খান বলেন, আমাদের দেশে অতি-ধনী বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। তার মানে এই না যে, নিম্নস্তরের মানুষরাও এতে লাভবান হচ্ছে।
বেপরোয়া ড্রাইভিং ও ড্রাইভারদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির প্রতি ক্ষোভ থেকে গত আগস্টে জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সাহাব খান বলেন, এমন ‘অদৃশ্য’ বিষয়গুলোও নির্বাচনে নিষ্পত্তিমূলক হয়ে উঠতে পারে। জন-নিরাপত্তার বিষয়গুলো, কিভাবে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে, বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আছে কি না, এগুলো নির্ধারণী ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার অবমাননার অভিযোগ রয়েছে। পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার দমন-পীড়ন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তথ্য অনুসারে, শত শত মানুষকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বা গোপন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক মাদক-বিরোধী অভিযানের সময় পুলিশ প্রায় সাড়ে ৪শ’ মানুষকে গুলি করে মেরেছে।
এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রপাগান্ডা ছড়ানো রোধ করতে সরকার দেশজুড়ে কঠোরভাবে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করছে। বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশনস রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টার জন্য থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। নাম গোপন রাখার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমরা মোবাইল কোম্পানিগুলোকে তাদের থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা সাময়িক বন্ধ রাখতে বলেছি। ইন্টারনেটে প্রপাগান্ডা ও উস্কানিমূলক তথ্য ছড়ানো রোধ করতে আমরা এটা করেছি। ১০ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে উচ্চ-গতির ইন্টারনেট আবারো চালু করা হয়। তবে, পরে আবারো এটা বন্ধ করা হতে পারে।
দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নজিরবিহীন দুঃসময়ে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক শাসন ছাড়া বংলাদেশে রক্ষণশীল বিএনপি ও দৃশ্যত সেক্যুলার-বামপন্থি আওয়ামী লীগের মধ্যেই ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। কারচুপির আশঙ্কায় বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে। তাই এখন দলটি পার্লামেন্টের বাইরে। দুর্নীতির দায়ে সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টায় যুক্ত থাকার দায়ে তার ছেলে তারেক রহমানকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি লন্ডনে নির্বাসনে রয়েছেন।
যা হোক, বিএনপির দুর্বলতার পরেও ক্ষমতাসীন দল কোনো ছাড় দেয়নি। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান বিরোধী দলের বিরুদ্ধে প্রায় তিনলাখ মামলা দায়ের করা হয়েছে। দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ওদিকে, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারের পক্ষে ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর দায়ে ফেসবুক সম্প্রতি ১৫টি পেজ বন্ধ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান নাথানিয়েল গ্লেইচার বলেন, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স কোম্পানির মাধ্যমে ফেসবুক এসব পেজ যাচাই করেছে। দেখা গেছে, এসব পেজ তৈরি ও পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। পরে টুইটার বলেছে, তারা বাংলাদেশের ১৫টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। এদের বেশিরভাগেরই ফলোয়ার সংখ্যা ৫০ এরও কম। টুইটারের দাবি, রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে এসব অ্যাকাউন্টের সম্পর্ক আছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে নির্বাচন হবে না -আবুল কাসেম ফজলুল হক

তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি অস্বাভাবিক। এর মধ্যেই এখন নির্বাচন হচ্ছে।
এখানে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত প্রবল এবং তাদের কাজকর্ম খুব প্রবল। ফলে ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি মাঠে প্রচারণায় অংশ নিতে পারছে না। মামলা- মোকদ্দমাসহ নানাভাবে তাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। জুলুম জবরদস্তির অন্ত নেই। এই অবস্থার মধ্যদিয়ে নির্বাচনে প্রার্থীরা অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি দুর্বল বলেই বিদেশি পর্যবেক্ষক এদেশে আসেন এবং কোনো কোনো রাজনৈতিক দল আহ্বান করেন। সরকারও বাধ্য হয় তাদের অনুমোদন দিতে। এ বছর সরকার বিদেশিদের অনুমোদনে নানা বাধা-বাধ্যকতা সৃষ্টি করলেও তারপরও অনুমোদন দিচ্ছেন। যখন বিদেশি মতামত প্রাধান্য বিস্তার করে তখন পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ভেতরে ভেতরে শক্তি প্রয়োগ তো আছেই।
নির্বাচন কেমন দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নানা অভিযোগে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেয়া ও গ্রেপ্তার করে জেলে বন্দি রাখা এখন পর্যন্ত কমে নি। অনেক লোক নির্বাচনের ফলাফলও মনে করে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষেই যাবে। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। আর তার ব্যত্যয় ঘটলে জাতীয় নির্বাচনে যেমন ক্ষতি হবে। আবার যারা জিতবে তারাও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সেনাবাহিনী মাঠে- অবস্থার কোনো উন্নতি হবে কী? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী সিভিল অথরিটির পরিচালনায় নির্দিষ্ট কাজ করবে। কাজেই মিলিটারি আসাতে খুব একটা পরিবর্তন হবে- সেটা মনে হয় না। বিশেষ করে পুলিশের ওপর লোকের আস্থা কমে গেছে। পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে মানুষের অভিযোগ অনেক বেশি। তাদেরকে আমরা মর্যাদার এবং জনগণের সহযোগীর স্থানে দেখতে চাই।
এই নির্বাচন রাজনীতিতে কতটা স্থিতি আনতে পারবে? এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির অবনতি হয়েছে। উন্নতি হচ্ছে না। আমরা রাজনীতির উন্নতি চাই। সারা দুনিয়াজুড়ে অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশেও হচ্ছে- এটা সত্যি। কিন্তু এক সরকারই সবটা উন্নতি করেছে- এটা সম্পূর্ণ অসত্য। সব মিলিয়ে এটাকে নির্বাচনতন্ত্র বলা যায়। গণতন্ত্র নয়। জনগণের গণতন্ত্রের কথা চিন্তা করে এমন রাজনৈতিক দল চাই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট by কাফি কামাল

মহানগর নাট্যমঞ্চের সে নাগরিক সমাবেশে ১লা অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণাও আসে।
কিন্তু পরের দুই সপ্তাহে নানা ঝঞ্ঝার মুখে পড়ে এ উদ্যোগ। বিএনপি’র নেতৃত্বে জামায়াতসহ ২০টি দলের সমন্বয়ে একটি বিরোধী রাজনৈতিক জোট একদশক ধরে রাজনীতি করে আসছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে ২০দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। তবে ২০দলীয় জোটকে আলাদা রেখে ঐক্যফ্রন্ট গঠনে সায় দেয় শরিকদলগুলো।
গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য কৌশলটি মেনে নিলে কেটে যায় জটিলতা। কিন্তু এ ঘনঘটার মধ্যে জোট ছেড়ে যায় দুইটি রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে জামায়াত প্রশ্নে ‘বিকল্পধারা’ বেঁকে বসলে তাদের ছাড়াই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৩ই অক্টোবর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণায় ‘সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির’ মুক্তির দাবি করা হয়।
সেদিন ড. কামাল হোসেন পরিষ্কার ঘোষণা দেন- ‘এই ঐক্য কোনো দলের স্বার্থে নয়, জাতীয় স্বার্থে।’ অক্টোবরের প্রথমদিন থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালনের প্রাথমিক ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত সংলাপের পথেই হাঁটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংলাপের তাগিদ দিয়ে ২৮শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে দুইটি চিঠি দেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। এ চিঠির দ্রুত সাড়া মেলে। নভেম্বরের প্রথমদিন গণভবনে সংলাপের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ফ্রন্টের ২০ নেতা সাড়ে তিনঘণ্টাব্যাপী সে সংলাপে অংশ নেন।
সংলাপেও ৭ দফা দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন ফ্রন্টের নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দেয়া। বাক্-ব্যক্তি ও গণমাধ্যম এবং সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন, সামাজিক গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মৃক্তি দিতে হবে। নির্বাচনের ১০দিন আগে থেকে সরকার গঠন পর্যন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেয়া। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা এবং তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো মামলা দায়ের না করার নিশ্চয়তা।
সংলাপের পরিবেশ আন্তরিক থাকলেও অর্জন ছিল শূন্যের কোঠায়। বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির সবক’টি নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে গায়েবি মামলা দায়ের ও গণগ্রেপ্তার বন্ধ এবং সভা-সমাবেশ করা ও নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন তিনি। সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন- ‘তারা সংলাপে সন্তুষ্ট নন।’ পরে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘সংলাপের আলোচনায় বিশেষ কোনো সমাধান আসেনি।’ সংলাপের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মেঘে ঢেকে যায় তখনও হাল ছাড়েননি ফ্রন্টের নেতারা। সরকারপক্ষ যখন সংবিধানের বাইরে যেতে চূড়ান্ত অনীহা প্রকাশ করে তখন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানের ভেতর থেকেই সমাধানের পথ বের করেন ফ্রন্টের নেতারা। ৭ই নভেম্বর সে সমাধান সূত্রের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসেন তারা। কিন্তু এবারও সরকারের অনড় অবস্থানের মধ্যদিয়ে শেষ হয় সংলাপ পর্ব।
পরিস্থিতি যখন অনিশ্চয়তার ঘূর্ণাবর্তে মধ্যে তখনই ২৩শে ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের দিনধার্য্য করে ৮ই নভেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে একটি বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি দাঁড়ায়- যে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি, আন্দোলন করেছিল বছরব্যাপী সে দাবি আদায় ছাড়াই পাঁচবছর পর দলটি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না? সিদ্ধান্তগ্রহণে ১০ই নভেম্বর দলের শীর্ষ নেতা ও জোটের শরিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব।
কিন্তু সব হিসাবনিকাশ এড়িয়ে পরদিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি’র তরফে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়া হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ বলে জানিয়ে দেয় বিএনপি। ১২ই নভেম্বর দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা। এভাবেই নির্বাচনী ট্রেনে চড়ে বিএনপি। এদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ার পর দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমাদান, প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পর্বে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেই সঙ্গে নির্বাচন পেছানোর দাবিতেও তারা ছিলেন সোচ্চার। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবির মুখে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও ন্যূনতম স্বস্তি পায়নি বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
হামলা, গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানি ছিল অব্যাহত। বিশেষ করে ৯ই ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর নতুন করে হিড়িক পড়ে গায়েবি মামলা দায়ের ও গণগ্রেপ্তারের। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৮দিনে সারা দেশে গ্রেপ্তার হয়েছে ১০ হাজার ৩২৯ জন নেতাকর্মী। কেবল বিরোধী নেতাকর্মীই নয়, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮ জন প্রার্থী। এ সময়ে গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে ৮৪৪টি। নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে ২ হাজার ৮৯৬টি। ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের হামলা ও পুলিশের লাঠিচার্জ-ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন ১৩ হাজার ২৫২ জন। হত্যার শিকার হয়েছেন ৯ জন। হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি, আইনি জটিলতার পাশাপাশি প্রচারণার সুযোগও পায়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। যেখানেই গণসংযোগে নেমেছেন সেখানেই পড়েছেন হামলার মুখে। হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতা ও প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, হাবিবুর রহমান হাবিব, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও রুমানা মাহমুদ।
সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটে ২৩শে ডিসেম্বর সেনা মোতায়েনের পর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলার মুখে পড়েছেন ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, সুব্রত চৌধুরী, আফরোজা আব্বাস, হাসিনা আহমেদ, হাফিজ ইব্রাহিম ও ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা অনেকেই। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ চাইতে গিয়ে উল্টো সিইসি’র দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। ফলে ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রচারমাধ্যম ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউব। একদিকে হামলা ও গ্রেপ্তার-হয়রানিতে নাভিশ্বাস উঠেছে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের, অন্যদিকে খুলতে খুলতে ক্লান্ত হয়েছেন আইনের ঘেরো। উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের পরও সে পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি মর্মে বাতিল হয় অন্তত ৩০ প্রার্থীর মনোনয়ন। ঋণখেলাপিসহ অন্যান্য অভিযোগেও বাতিল হয় অনেকের।
কোনো কোনো প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তার পর নির্বাচন কমিশন ও পরে উচ্চ আদালতের সহায়তা নিয়ে টিকাতে হয়েছে তাদের প্রার্থিতা। নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপিলের কারণে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়েছে অনেকের প্রার্থিতা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়ে যে, আগের দিন যে প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক পান, পরের দিন তা বদলে যায়, এক-দুইদিন পর ফের প্রথম প্রার্থীই প্রতীক পান। উচ্চ আদালতে চক্কর কাটার এ পর্বটি চলে বুধবার ২৫শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে একদিকে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের বিলম্বের কারণে ১৮টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়ে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট। এক্ষেত্রে নতুন এক জটিলতা হয়ে সামনে আসে আরপিওর নতুন বিধি।
যার কারণে বিকল্প প্রার্থী রাখার সুযোগও পাননি বিএনপি। অন্যদিকে যারা শেষ বেলায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তারাও সময় পাননি প্রস্তুতি নেয়ার। কোনো দাবি আদায় ছাড়া এবং নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা শেষ পর্যন্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনে। কারণ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনাকেই এই নির্বাচনের লক্ষ্য ঠিক করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তারা আস্থা রাখতে চান জনগণের উপর। তাদের বিশ্বাস ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে। গণসংযোগ, মাইকিং, পোস্টারিংয়ের সুযোগ পাননি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। নির্বাচনের প্রাক-মুহূর্তে এসে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা পড়েছেন প্রতিবন্ধতকার নতুন এক পর্বে।
বিগত তিনদিন ধরে বগুড়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকায় মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বরিশালে জহিরউদ্দিন স্বপন, চাঁদপুরে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পুলিশ, র্যাব’র উপস্থিতিতে তাদের বাড়িঘর ঘিরে রেখেছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকরা। ধানের শীষের প্রার্থীদের বাড়িতে কেউ গেলে বা বাড়ি থেকে কেউ বেরুলেই তাদের গ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ ও ফোনে সহায়তা চাওয়ার পরও ন্যূনতম সহায়তা পাচ্ছেন না। সবমিলিয়ে নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হতে চান এই অসম প্রতিযোগিতায়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Friday, December 28, 2018
সবাই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে : বৃটিশ হাইকমিশনার

ডিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যালিসন ব্লেইক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতেই আসলে আমি এখানে এসেছিলাম। আমার পরস্পরের মাঝে নিজেদের ভাবনা-চিন্তাগুলো আদান-প্রদান করেছি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে তার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা চাই, ভোটের দিন সবাই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে।
অ্যালিসন ব্লেইক আরো বলেন, জেলা প্রশাসক ছাড়াও মৌলভীবাজারে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গেও আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। ভোটের দিন বাংলাদেশের মানুষ যেন নিজেদের ইচ্ছামতো যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে, এটাই আমাদের চাওয়া।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংসদ নির্বাচন: বাংলাদেশের লিটমাস টেস্ট

নতুন গড়ে উঠা একটি বিরোধী দলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলে নির্বাচন করছে বিএনপি। ওই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ধর্মনিরপেক্ষ আইকন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। সুষ্ঠু নয়, এমন অভিযোগে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আর ওই নির্বাচনকে একটি জালিয়াতির নির্বাচন আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পর্যবেক্ষণ থেকে বিরত থাকেন। অর্ধেকেরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এতে তারা একটি ওয়াকওভার পায়। এবার নিজেদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনে এসেছে বিএনপি। তবে এর নেতারা অভিযোগ করছেন, তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ভীতি প্রদর্শন করতে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করছে সরকার।
বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা একটি সাধারণ বিষয়। এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
একনজরে ১৯৭১ থেকে বর্তমানের বাংলাদেশ:
১৯৭১: নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগের ওই বিজয়কে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় পশ্চিম পাকিস্তান। এর ফলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
১৯৭২: পাকিস্তানের আটক অবস্থা থেকে দেশে ফেরেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
১৯৭৫: সামরিক অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন শেখ মুজিবুর রহমান। জারি করা হয় সামরিক শাসন।
১৯৭৯: সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়। বিজয়ী হন জিয়াউর রহমান।
১৯৮১: জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয় সামরিক অভ্যুত্থানে।
১৯৮২: সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। স্থগিত করেন সংবিধান।
১৯৮৬: জাতীয় নির্বাচনে ৫ বছর মেয়াদে নির্বাচিত হন এরশাদ।
১৯৮৭: বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের পরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
১৯৯০: পদত্যাগ করেন এইচএম এরশাদ। দুর্নীতির অভিযোগে পরে জেলে যান।
১৯৯১: খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। প্রেসিডেন্টের পদমর্যাদার বিষয়ে সংবিধান সংশোধন করা হয়।
১৯৯৬: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।
২০০১: খালেদা জিয়ার কাছে পরাজিত হন শেখ হাসিনা।
২০০৪: নারীদের জন্য ৪৫টি আসন সংরক্ষিত রেখে সংবিধান সংশোধন করে পার্লামেন্ট। গ্রেনেড হামলায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এতে নিহত হন কমপক্ষে ২২ জন।
২০০৭: সহিংসতার পর জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট।
২০০৮: ডিসেম্বরের নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে আড়াই শতাধিক আসনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ।
২০০৯: জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা নেন শেখ হাসিনা।
২০১২: জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গঠন হয়। তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছিল বলে অভিযোগ।
২০১৩: নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে হাইকোর্ট।
২০১৪: জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরেন শেখ হাসিনা।
২০১৭: আগস্টে মিয়ানমার থেকে ঢলের পানির মতো আসতে থাকে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। জাতিসংঘ বলে, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে।
২০১৮: খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের জেল দেয়া হয়। নির্বাচনে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কর্তৃত্ববাদ নাকি উগ্রবাদ- কোনটি বেছে নেবে বাংলাদেশ by কে. আনিস আহমেদ

আগামী রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা দেখা দিয়েছে। অতীতের তুলনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও খুব কম। কিন্তু এই নির্বাচনী লড়াইয়ের উত্তাপ কোনো অংশেই কম নয়। বস্তুতপক্ষে এই নির্বাচন হচ্ছে কর্তৃত্বপরায়ণ দুটি আদর্শের লড়াই। তার মধ্যে একপক্ষের চেয়ে অন্যপক্ষ অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।
বিশ্বে সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বড় বড় খাতে দেশটি ভাল করেছে। কয়েক বছর ধরে এখানে অর্থনৈতিক গড় প্রবৃদ্ধি শতকরা প্রায় ৭ ভাগ। লিঙ্গ সমতা ও শিশুদের স্কুলে পাঠানোর মতো উন্নয়নসূচকে বৃহত্তর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভাল করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে ক্রমাগত মৌলিক অধিকার ক্ষয়ের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের আবির্ভাবের পর থেকে দেশ শাসনে পর্যায়ক্রমে এসেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। উন্নয়নের রেকর্ড ও ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানকে ব্যবহার করে আবার ক্ষমতায় ফেরার আশা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। (ঘোষণা: আমার এক ভাই জাতীয় সংসদের সদস্য এবং দলীয় টিকেটে নির্বাচনে লড়াই করছে)। কিন্তু দলটি এক দশক এবং পরপর দু’বার ক্ষমতায় থাকার পরও ক্ষমতাসীন-বিরোধী মারাত্মক ভাবাবেগের মুখে পড়েছে তারা। এ বছরের শুরুতে কড়া হাতে ছাত্রবিক্ষোভ দমন করেছে দলটি। ভিন্নমতকে দমন করেছে। আর এসবই ওই উদ্বেগকে তীব্র থেকে তীব্র করেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, গ্রেপ্তার এমন কি বিচারবহির্ভূত গুম ও হত্যাকা-ের মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে বিরোধীদের ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। আওয়ামী লীগকে যদি টানা তৃতীয় মেয়াদে অনুমোদন দেয়া হয়, তাহলে তাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভয়াবহভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে কেউ কেউ বিস্মিত হতে পারেন। তবে কি বিএনপিকে আরেকটি সুযোগ দেয়ার সময় এখন?
ধর্মীয় উগ্রতাকে পুঁজি করার অন্ধকার রেকর্ড আছে বিএনপির। দীর্ঘদিন তারা সহিংসতায় লিপ্ত ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিত্রতায় রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শেষ মেয়াদে ইসলামপন্থিদের বোমাবাজি বহুগুন বেড়ে যায়। ২০০৪ সালে দলটির সঙ্গে যোগসূত্র থাকা উগ্রবাদীরা আওয়ামী লীগের এক র্যালিতে হামলা চালায় গ্রেনেড দিয়ে। উদ্দেশ্য ছিল তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। (এতে কমপক্ষে ২০ জন মানুষ নিহত হন। আহত হন কয়েক শত)। পরের বছরেই আওয়ামী লীগের সাবেক এক অর্থমন্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ এবং হরকাতুল জিহাদ আল বাংলাদেশের মতো সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিস্তার ঘটে।
এ কথা সত্য যে, রাজপথের আন্দোলন ও হরতালের (শাটডাউন) আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগও, বিশেষ করে যখন বিএনপি ক্ষমতা থেকে সরে যেতে অস্বীকার করছিল। ওই সব কর্মসূচির অনেকটা সহিংস সংঘাতে রূপ নিয়েছে অনেক সময়। তবে তাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সাধারণ নাগরিককে টার্গেট করা হয় নি। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। আহত করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তারা ২০১৩ ও ২০১৫ সালে বাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়েছে। তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও বিশৃংখলার মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিল।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বিরোধী দলীয় জোট- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন ৮২ বছর বয়সী বিখ্যাত আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। ওই জোটে যোগ দেয়ার পর বিএনপি দৃশ্যত সম্প্রতি দায়িত্বশীলের মতো কথা বলছে। এ দলটির জন্য একটি অসম্ভাব্য অংশীদার ড. কামাল হোসেন। কারণ, তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের খসড়া করেছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি যদি বিএনপির সঙ্গে যোগ দেন তাতে হয়তো দলটির মেজাজ বা মর্যাদা বাড়তে পারে। কিন্তু এতে তিনি নিজে বিজয়ী নাও হতে পারেন। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ২৫ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। তাই এটা বিশ্বাস করার সামান্যই কারণ আছে যে, বিএনপির ন্যক্কারজনক প্রবণতা পরিবর্তন হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট অর্থনীতিতে সুবিধা করতে পারবে এমনটা বিশ্বাস করারও কোন কারণ নেই বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে শুধু একটি উদাহরণ: বিগত মেয়াদে বিএনপি দেশের বিদ্যুত উৎপাদন একেবারে নগন্য মাত্রায় নামিয়ে আনে। গত এক দশকে আওয়ামী লীগ তা তিনগুন বৃদ্ধি করেছে। এ সপ্তাহের শেষে ভোটারদেরকে অবশ্যই যে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তাহলো, শুধুই কি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন গণতন্ত্রের জন্য শুভ হবে? রোববার বাংলাদেশের ভোটারদেরকে দুটি অত্যন্ত অসম্পূর্ণ অপশনের মুখে একটিকে বেছে নিতে হবে। যদিও সেই পছন্দ কি হবে তা পরিস্কার।
(কে আনিস আহমেদ বাংলাদেশী লেখক ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রকাশক। তার এ লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসে)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে ভারত: বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. কামাল by চন্দন নন্দী

গৃহবন্দি হতে পারেন- এমন গুজব উড়িয়ে দিয়ে ড. কামাল ভারতীয় সিদ্ধান্ত-প্রণয়নকারদের স্মরণ করিয়ে দেন যে এমনকি শেখ হাসিনা ‘তিনিই বাংলাদেশ মর্মে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে থাকায়’ নয়া দিল্লি যদি নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে একটি রাজনৈতিক দল ও এর নেতার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখে, তবে তা ‘ভারত প্রশ্নে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি’ করবে।
গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা, অশীতিপর এই ব্যারিস্টার বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সমঝদার লোক ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। আওয়ামী লীগ নিজকে ভুলভাবে উস্থাপনের প্রেক্ষাপটে ভারতকে অবশ্যই এই দেশের জনগণকে সমর্থন দিতে হবে। অতীতের আওয়ামী লীগের কিছুই এই আওয়ামী লীগে নেই। আমি আশা করছি, বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
হোসেন বলেন, ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কূটনীতিক তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ না রাখলেও [ঐক্যফ্রন্টের] অন্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি অবশ্য বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও ভারত এখনো চূড়ান্ত কোনো অবস্থান গ্রহণ করেনি। তারা এখনো ‘দুর্নীতিতে’ নিমজ্জিত ‘অগণতান্ত্রিক’ সরকারকে সমর্থন প্রদান থেকে বিরত থাকতে পারে।
দুর্নীতির কারণেই এই সরকার ‘নির্বাচনের ব্যাপারে ভীত।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবাইকে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, আমরা নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারি না, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে সন্ত্রস্ত্র করতে থাকায় আমাদেরকে অবশ্যই একেবারে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে।
তিনি শেখ হাসিনা ও ক্ষমতাসীন দলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমার ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন মাত্রায় সন্ত্রাস দেখিনি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থানে শহর-গ্রামের প্রতিটি রাস্তায় পোশাকধারী পুলিশ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। গণগ্রেপ্তার চলছে। এটিই আসল লজ্জা।
ড. কামাল বলেন, লোকজন যাতে ভোট দিতে না আসে সেজন্য তাদেরকে সন্ত্রস্ত্র করাই তাদের উদ্দেশ্য। এ কারণে আমাদের দরকার অটল থাকা, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রচারকাজ দুইদিনের মধ্যেই শেষ হবে।
ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতারা বলছেন যে ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপ ভোটারদেরকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, সেটা অনেকাংশে নির্ভর করবে সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাস লোকজনকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে কি না তার ওপর। পুলিশ সন্ত্রাসীদের অংশ হওয়া সত্ত্বেও নির্ভীকভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণকে উৎসাহিত করছে। জনগণের ভাবাবেগ অবশ্যই প্রতিফলিত হতে হবে, সরকারকে ভোটের মাধ্যমে বিদায় করার এটিই সময়।
দুইদিন আগে বিপুল সংখ্যায় মোতায়েন হওয়া সত্ত্বেও সেনাবাহিনী কেন সহিংসতা দমনে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়নি- এ প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, সামরিক বাহিনী পরিবর্তীত হয়নি। বাকি আছে মাত্র দুইদিন। আমরা আশা করছি আগামীকাল (২৭শে ডিসেম্বর) সেনাবাহিনী তার দায়িত্ব পালন শুরু করবে।
ড. কামাল মনে করেন, পুলিশ যখন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারে না, তখন ঐতিহাসিকভাবেই সেনাবাহিনী তা রক্ষা করে চলে। তারা কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এবার সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট ডিসিদের কাছে রিপোর্ট করছে। তিনি আশা করেন, সামরিক বাহিনীর পোশাক পরিহিত সদস্যরা তাদের স্বাভাবিক ভূমিকা পালন করবে, তারা পরিস্থিতি আয়ত্তে নিয়ে আসবে।
পাকিস্তানি ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই) ও বিএনপির মধ্য কথিত সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ার একটি অংশের উৎসাহী ভূমিকা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (র) সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নিয়ে খবর প্রকাশে অনীহা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, বিএনপির সঙ্গে আইএসআইয়ের কথিত সম্পর্ক থাকা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল সম্পূর্ণ মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপ এবং সেইসঙ্গে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রদান করতে হাসিনা সরকারের অস্বীকারের ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্ট আইনগতভাবে কী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় সন্ত্রাসের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করার জন্য ঐক্যফ্রন্টের সব প্রার্থীকে পরামর্শ দিয়েছেন। হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে পিটিশন দায়েরের সময় এগুলো দাখিল করা হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যাটল ফর ঢাকা -দ্য হিন্দুর সম্পাদকীয়

২২শে ডিসেম্বর প্রকাশিত এক রিপোর্টে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গ্রেপ্তার ও অন্যান্য নিস্পেষণমূলক পদক্ষেপ আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯০-৯১ সময়কালে যখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় তখন থেকেই নির্বাচনী মৌসুম হয়ে উঠছে উত্তেজনাপূর্ণ। অতীতে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা ক্ষমতার মেয়াদ শেষেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনের জন্য গণ-আন্দোলন শুরু হয়। ২০০৬ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবাধায়ক সরকার নির্বাচন স্থগিত করে। ওই নির্বাচন চূড়ান্ত দফায় অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে। তারপর থেকেই ক্ষমতা ধরে আছেন শেখ হাসিনা।
এবার তিনি সরকারে দুর্দান্ত এক রেকর্ড গড়ে পুনঃনির্বাচিত হতে চাইছেন। গত ১০ বছরে অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত অর্থবছরে তা ৭.৮ ভাগে পৌঁছেছে। এ ছাড়া গত এক দশকে সামাজিক সূচকেও উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। এসবের জন্য শেখ হাসিনার সরকার কৃতিত্ব দেখানোর পাশাপাশি ইসলামপন্থি উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও তার সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছে বলে সমালোচিত হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস ও ঢাকায় ছাত্রদের বিক্ষোভে দমনপীড়নের ফলে সমালোচনা এসেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের থেকেও। অন্যদিকে এই আন্দোলনকে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চ্যানেল খুঁজছে বিরোধীরা। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছে বিএনপির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এ অভিযোগে তিনি বর্তমানে কারাবন্দি। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন বিখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। বিরোধীদলীয় একটি ঐক্যে তাকে নেতৃত্বে এনেছে বিরোধীরা। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিরোধীদের মৌন জোট উদ্বেগের বিষয়। জামায়াতে ইসলামী ইসলামপন্থি দল এবং ২০১৩ সালে আদালতের একটি রায়ের পর তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। সহিংসতায় বিএনপির নেতাকর্মীরাও জড়িত। আওয়ামী লীগের জন্য এই নির্বাচন হওয়া উচিত সহিংসতার ইতিহাস ভাঙার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা এবং তাদের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে ম্যান্ডেট খোঁজা উচিত। কিন্তু বিরোধীদের বিরুদ্ধে তাদের ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা ও তাদের নেতাকর্মীদের সহিংসতা এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
December
(211)
-
►
Dec 29
(10)
- বাংলাদেশের ‘অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশ’ নিয়ে উদ...
- বাংলাদেশের নির্বাচনে উত্তেজনা তুঙ্গে -সিএনএনের প্র...
- নির্বাচন নিয়ে যা লিখেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
- ভোট গ্রহণের সময় কারচুপির সুযোগ কতটা রয়েছে -বিবিসি
- যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব জানালেন সিইসিকে -ইসিতে মার্ক...
- সোনম সমকামী!
- শান্তির শহরে শঙ্কা কেন্দ্রে যেতে চান ভোটাররা by রু...
- ভোটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
- পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে নির্বাচন হবে না -আবুল কাসে...
- যেভাবে নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট by কাফি কামাল
-
►
Dec 29
(10)
-
▼
December
(211)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...