Monday, August 25, 2014

ইমরানের দলে মতান্তর, ১৩ এমএনএর আলাদা ‘জোট’

ইমরান খান
পাকিস্তানে সরকার পতনের আন্দোলনে নামা ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফে (পিটিআই) তীব্র মতান্তরের ঘটনা ঘটেছে। প্রভাবশালী ডন পত্রিকায় গতকাল রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পিটিআইয়ের প্রার্থী হিসেবে খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশ থেকে নির্বাচিত ১৩ জন জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) আলাদা জোট গঠন করেছেন। খবর ডন, পিটিআই ও জিয়ো নিউজের। খবরে বলা হয়, জাতীয় পরিষদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে দলীয় প্রধান ইমরানের নির্দেশ না মেনে কেপির এমএনএরা এই জোট করেছেন। জাতীয় পরিষদে পিটিআইয়ের মোট আসন ৩৪টি। পিটিআইয়ের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা জানান, আলাদা জোট করা ১৩ জন মিলে পেশোয়ার থেকে নির্বাচিত এমএনএ গুলজার খানকে নেতা নির্বাচিত করেছেন।
গুলজার বর্তমানে পেশোয়ারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পদত্যাগ করতে রাজি না হওয়া পিটিআইয়ের একজন এমএনএ ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘একদিকে জাতীয় পরিষদের সদস্যদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে, অন্যদিকে কেপির সরকারে পিটিআইএর থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা ইমরানের সুবিধাবাদী আচরণ।’ তিনি বলেন, পিটিআইয়ের নেতারা কেপির সরকার থেকে পদত্যাগ না করলে তাঁরাও জাতীয় পরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। স্পিকারের কাছে দলীয় এমএনএদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন পিটিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মেহমুদ কোরেশি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কতটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তা গুনে দেখেননি। তবে দেশের বাইরে থাকায় দুই থেকে তিনজন এমএনএর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়নি। ‘নয়া পাকিস্তানের’ আগে বিয়েও নয়: এদিকে পিটিআই প্রধান ইমরান খান বলেছেন, ‘নয়া পাকিস্তানের’ আগে তিনি এমনকি বিয়ের কথাও চিন্তা করছেন না।
নওয়াজ সরকারের পতনের দাবিতে ইসলামাবাদে অবস্থান নেওয়া নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গতকাল দেওয়া বক্তৃতায় ইমরান এ কথা বলেন। এর আগে এক ভাষণে বিয়ে নিয়ে দেওয়া প্রশ্ন জাগানো বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এ কথা বলেন তিনি। ইমরান বলেন, পিটিআই নেতা-কর্মীদের আটকে রাখতে চারপাশে কনটেইনার জড়ো করে সরকার টিকে থাকতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নওয়াজ, আপনার সময় শেষ। আপনি নয়া পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করা আটকে রাখতে পারবেন না।’ পিটিআই প্রধানের গতকাল রাত সাড়ে আটটায় আবার বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, ওই বক্তৃতার পর সারা দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। ইমরান দাবি করেন, শিগগিরই দুজন রাজনীতিক তাঁর দলে যোগ দিচ্ছেন। শাহবাজের পদত্যাগের গুঞ্জন: প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের ভাই ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁর পদত্যাগের খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। গতকাল স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুই ভাইয়ের মধ্যে বৈঠকে শাহবাজের পদত্যাগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু এ খবর নাকচ করে দেন শাহবাজ।

ইরাকে অভিযানে ইরানি সেনা!

কিরকুক শহরের আশপাশের পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছেন
ইরাকের কুর্দিদের পেশমের্গা বাহিনীর এক সদস্য। গতকাল উত্তর
ইরাকের এ শহরে প্রায় পরপর তিনটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ
ঘটেছে। এতে ২১ জন নিহত হয়। এএফপি
ইরাকের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে ইরানি সেনারা। ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের কাছ থেকে একটি শহর দখলমুক্ত করতে কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এক অভিযানে অংশ নিয়েছে তারা। নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে আল-জাজিরা টেলিভিশন এ খবর দিয়েছে। তবে এ খবরের সত্যতা অস্বীকার করেছে ইরান। এদিকে ইরাকের পার্লামেন্টের দুটি সুন্নি জোট আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা আগের তুলনায় বেড়েছে। খবর আল-জাজিরা,
সিএনএন ও বিবিসির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কুর্দি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার কয়েক শ ইরানি সেনা সীমান্ত অতিক্রম করে ইরাকে ঢোকে। ওই দিনই দিয়ালা প্রদেশের জালাওয়ালা শহর পুনরুদ্ধারে তারা কুর্দি পেশমের্গা বাহিনীর সঙ্গে আইএসবিরোধী অভিযানে যোগ দেয়। পরদিন শনিবার তারা ইরানে ফিরে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রথম সুন্নি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে ইরানি বাহিনী। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিহ আফখাম ইরাকে তাঁর দেশের কোনো সেনার উপস্থিতির কথা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগতি রেখে তেহরান ইরাক পরিস্থিতির ওপর ‘ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে’। এদিকে শনিবার সরকার গঠনের আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সুন্নি বড় দুটি জোট। এটি প্রধানমন্ত্রী মনোনীত ইবাদির সরকার গঠন-প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলল। সুন্নি নেতা আল-জাবুরি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সুন্নি মসজিদে ভয়াবহ হামলার প্রতিবাদে তাঁরা সরকার গঠনের আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে চায়, তারাই এই হামলার জন্য দায়ী। সরকার গঠনের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পাবেন ইবাদি। তিনি ব্যর্থ হলে নতুন সংকটে পড়বে ইরাক। শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে ইবাদি নতুন সরকার গঠনের জন্য মন্ত্রী পদে মনোনয়ন দিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান।
ইরাকে গত এপ্রিলে পার্লামেন্ট নির্বাচন হলেও এখনো নতুন সরকার গঠিত হয়নি। নানা নাটকীয়তার পর প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম নতুন সরকার গঠন করতে হায়দার আল-ইবাদির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। শিয়া নেতা ইবাদি সরকার গঠন প্রশ্নে পার্লামেন্টের সুন্নি জোটগুলোসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে এই জটিলতার প্রেক্ষাপটে ইরাকে বোমা হামলা বাড়ছে। শুক্রবার দিয়ালা প্রদেশে সুন্নি মসজিদে হামলায় অন্তত ৭৩ জন নিহত হন। গতকাল রোববার রাজধানী বাগদাদ ও উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুকে বোমা হামলায় নিহত হন আরও অন্তত ৪২ জন। এদিকে মার্কিন বিমান হামলার মাধ্যমে সহায়তা সত্ত্বেও ইরাকের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আইএসকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারছে না ইরাকি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধারা। কুর্দিদের রাজধানী ইরবিল ও কিরকুকের কাছের শহর আমেরলিতে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে আইএস জঙ্গিরা। তারা দুই মাস ধরে আমেরলি অবরোধ করে রেখেছে। এখানে শিয়া জনগোষ্ঠীর বাস। ইতিমধ্যে আমেরলির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বিশ্বসংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা আমেরলি শহরে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্যের অভিযোগ: যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড বলেছেন, আইএসের এক ব্রিটিশ জঙ্গি সদস্যের মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফলিকে হত্যা করার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। সানডে টাইমস-এ লেখা এক নিবন্ধে হ্যামন্ড বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার ‘বর্বর এই মতবাদ’ মোকাবিলায় ‘গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ’ বিনিয়োগ করেছে। আইএসের ওই জঙ্গিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভিডিওতে শোনা ইংরেজি উচ্চারণ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই জঙ্গি লন্ডন বা তাঁর আশপাশের অধিবাসী।

আমাকে শিক্ষিত হতে হবে: মালালা

মালালা ইউসুফজাই
‘আমি লেখাপড়াটা শেষ করতে চাই। চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে। নিজের সক্ষমতা বাড়াতেই আমাকে শিক্ষিত হতে হবে। শিক্ষাই হাতিয়ার।’ কথাগুলো মালালা ইউসুফজাইয়ের। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বসবাসরত পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের এই অদম্য কর্মী সম্প্রতি অবজারভার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলে। এতে নিজের লেখাপড়া, ভবিষ্যৎ ভাবনাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলে সে। ২০১২ সালের অক্টোবরে দেশে তালেবান হামলায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যে থাকছে মালালা। সেখানে সে মানবিক বিভাগে মাধ্যমিকে পড়ছে। দূর প্রবাসে ছোটবেলার সঙ্গীদের কথা মালালার খুব মনে পড়ে। স্কাইপে কথা বলে অনেকের সঙ্গে। তার বন্ধু মেয়েদের বেশির ভাগেরই বিয়ে হয়ে গেছে। মালালার কথা, ‘আমি ওদের বলি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে। সমস্যা হচ্ছে, বিয়ে হওয়া বান্ধবীদের স্বামীর পরিবার ওদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়,
কিন্তু পরে আর কথা রাখে না।’ পশ্চিমা সংস্কৃতির অনেক কিছুই এখনো সহজভাবে নিতে পারে না মালালা। সে বলে, ‘এখানে নারীকে যেভাবে তুলে ধরা হয়, তাতে আমি কিছুটা বিরক্ত; বিশেষ করে যখন পপ গান শুনি। গানের সব কথা বুঝতে পারি না সব সময়। কিন্তু কেউ যখন আমাকে গানের অর্থ বুঝিয়ে দেয়, তখন মনে হয়, এতে কী আছে? অনেক গানে নারীদের স্রেফ বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।’ রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মালালার বক্তব্য, এখন প্রতিটি দেশেই তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি করাকে সময়ের অপচয় বলে মনে করে। তবে দেশে যদি মানবাধিকারবিরোধী আইন হয়, তবে এর বিরুদ্ধে তরুণেরা কথা বলবেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা মালালার। তার কাছে পাকিস্তানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো একজন হিরো। তবে যে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে সে আগ্রহী, সেই পাকিস্তানে যেতে মালালা কি ভয় পায়? মালালা বলে, ‘আমি এখনই যেতে পারি। একদিন আমাদের সবাইকে মরতে হবে। মৃত্যুকে ঠেকানো যায় না।’

ছোট পাখির বড় নীড়ে ভেঙে পড়ে গাছ

পাখির বাসার ভারে ভেঙে পড়ল গাছ! পাখি ছোট হলেও তার নীড় বড়। আর সেই ভারেই এই মহাকীর্তি! গালগল্প নয়, এটাই বাস্তব। গাছে ডালে বাসা বাঁধতে গিয়ে ধীরে ধীরে গোটা গাছটাই দখল করে নেয় এই পাখি। অতিরিক্ত ভার সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙেও পড়ে সেই গাছ। এই দৃশ্য স্বচক্ষে দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। কারণ সেখানেই নামিবিয়া ও বৎসোয়ানা প্রদেশে বাস এই পাখির বাসা।
প্রচলিত নাম সোশ্যাল উইভার। চড়ুই যেখানে বাড়ির কার্নিশ বা ঘুলঘুলিতেও বাসা বেঁধে খুশি, সেখানে সোশ্যাল উইভারের বাসা ২০ ফুট লম্বা, ১৩ ফুট চওড়া এবং ৭ ফুট মোটা হয়। বাসার ওজন হয় ২০০০ পাউন্ডেরও বেশি। পাখির পালক, মোটা ঘাস, হাওয়ায় ভেসে আসা তুলোর টুকরো, সব দিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হয় বাসা।শুধু তাই নয়, এতটাই আঁটোসাঁটোভাবে তৈরি হয় যে প্রায় ১০০ বছর টিকতে পারে এক-একটি বাসা। উত্তরাধিকার সূত্রে বাসার মালিকানা বদল হতে থাকে। এদের বাসাই বিশ্বে বৃহত্তম পাখির বাসা। জিনিউজ।

নয়া পাকিস্তান গড়ার পর ইমরানের বিয়ে

শুধু পাকিস্তান নয়, নিজের জীবনও নতুনভাবে সাজাতে চান ইমরান খান। ‘নয়া পাকিস্তান’ সৃষ্টি হলে আবার বিয়ে করতে চান সাবেক এই ক্রিকেট তারকা ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। শনিবার মধ্যরাতে ইমরান খান তার হাজার হাজার সমর্থকের সামনে তার বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ইমরান বলেন, ‘আমি নয়া পাকিস্তান সৃষ্টি করতে চাই। আর তা শুধু আপনাদের জন্য নয়, আমার জন্যও। নতুন পাকিস্তানের স্বপ্ন পূরণ হলে আমি আবার বিয়ে করব।’ ৬২ বছর বয়সী ইমরান খানের নতুন বিয়ের ঘোষণায় সমর্থকদের মধ্যে হর্ষরোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় তুমুল করতালিতে আনন্দে মেতে ওঠে হাজার হাজার মানুষ। গত ৯ বছর ধরে ইমরান খান পাকিস্তানের আকাক্সিক্ষত সিঙ্গেল পুরুষ।
পাকিস্তানের অনেক নারীই তাকে এই বয়সে বিয়ে করতে উৎসুক। ২০০৪ সালের জুন মাসে ইমরানের ব্রিটিশ স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায়। ১৯৯৫ সালের ১৬ মে ফ্রান্সের প্যারিসে তাদের বিয়ে হয়েছিল। ইমরান খানকে পাওয়ার জন্য জেমিমা ২০০০ সালের ২২ জুন ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। কিন্তু ৯ বছর পর পাকিস্তানি জীবন ধারায় মানিয়ে ওঠা কঠিন হওয়ায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইমরান খানের ওই বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন বিরূপ সমালোচনা থাকায় পারিবারিকভাবে বিয়ের চাপে আছেন সাবেক এই ক্রিকেট তারকা।

অপূর্বর থাপ্পড় থেরাপী

থাপ্পড় অভিযানে নেমেছেন অভিনেতা অপূর্ব। প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে থাপ্পড় দিয়ে বেড়াচ্ছেন। অফিসে প্রবেশ করে শুরুতেই পিয়নকে থাপ্পড় দিয়ে বসেন। এরপর অন্যদের দিকেও তেড়ে আসেন। তবে তার এ থাপ্পড় দেয়ার পেছনে অবশ্য কারণও রয়েছে। তিনি মনে করেন, থাপ্পড় দিলে দাঁত ব্যথা সেরে যায়। কারও ব্যথা থাক বা না থাক থাপ্পড় দিলেই হল। এ নিয়ে একদিন অফিসের বসের মুখোমুখি হতে হয়েছে অপূর্বকে। অনেক জবাবদিহিতাও করতে হয়েছে। নানাভাবে অপূর্ব বোঝাতে চেষ্টা করেছেন এটা এক ধরনের থেরাপি।
যার নাম ‘থাপ্পড় থেরাপী’। সম্প্রতি শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনা ও সুব্রত মিত্রের পরিচালনায় ‘থাপ্পড় থেরাপী’ শিরোনামের একটি নাটকে এমনই চরিত্রে অভিনয় করেন অপূর্ব। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি একটি কমেডি নাটক। হাসির নাটক তো তেমনটা করা হয় না। অনেকদিন পর করে বেশ আনন্দ পেয়েছি। আশা করছি দর্শককেও নাটকটি আনন্দ দেবে।’ এ নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম। আসছে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নির্মাণ করা হয়েছে বলে নির্মাতা জানান।

কাশ্মীর ভাঙার পরিণাম হবে ভয়াবহ by কুলদীপ নায়ার

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে অনুচ্ছেদটি ভারতীয় সংবিধানের ঔদার্যের প্রতীক। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ মর্যাদা তারা এমনি এমনি পায়নি, দীর্ঘদিনের কঠিন সংগ্রামের মাধ্যমে তারা ব্রিটিশ ও মহারাজার কাছ থেকে এ মর্যাদা আদায় করে নিয়েছে। এর নেতৃত্বে ছিলেন শেখ আবদুল্লাহ। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ ও সার্বভৌম ভারতের কাঠামোর মধ্যে এই স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা একসময় অসম্ভব মনে হয়েছে। তিনটি বিষয় ছাড়া ভারতীয় সংসদ কাশ্মীরের কোনো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না: প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ। এর বাইরে কাশ্মীরে কোনো কিছু করতে গেলে রাজ্য সংসদের সম্মতি নিয়ে তা করতে হতো। রাজ্যটি পাকিস্তানের সঙ্গেও যোগ দিতে পারত, কিন্তু সেটা না করে তারা ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের সঙ্গে থেকে যায়। কারণ, কাশ্মীরিদের সংগ্রামের ধরনটা ছিল সেক্যুলার। সে সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, চরিত্রগত দিকে দিয়ে তা পবিত্র। ভিন্নমনা ব্যক্তিরা তা নাকচও করতে পারবে না। কাশ্মীরের নিজস্ব একটি সংবিধানও রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, রাজ্য কোনোভাবেই তার স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে আপস করতে পারবে না।

স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা খাটো করা মানে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ নয়াদিল্লির ওপর যে আস্থা স্থাপন করেছিল, তার সঙ্গে বেইমানি করা। কোনো পরিবর্তন আনতে গেলে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষকেই তা আনতে হবে। রাজ্যটি ভারতীয় ইউনিয়নে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছিল। সুতরাং এ রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তন করতে হলে রাজ্যের মানুষের সম্মতি নিয়েই তা করতে হবে। দিল্লির হাতে আরও ক্ষমতা তুলে দিয়ে শ্রীনগর কিছু সুবিধা লাভ করতে চায়। শেখ আবদুল্লাহ এ বুঝ থেকেই ইউনিয়নে যোগ দিয়েছিলেন। যারা এই বোঝাপড়ায় সমস্যা সৃষ্টি করতে চায়, তারা আসলে ভারত বা কাশ্মীর কারও স্বার্থই দেখছে না। বাস্তবে কাশ্মীরে যা হচ্ছে, তা অপ্রাসঙ্গিক ও বিভ্রান্তিকর।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাসিত আলীর সঙ্গে দিল্লিতে হুরিয়ত নেতাদের বৈঠকের প্রসঙ্গটিতে নজর দিন। অতীতেও এরূপ বৈঠক হয়েছে। ভারত সরকার আগে এরূপ বৈঠক নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি। কারণ, ভারত এগুলোকে সাইডলাইনে বসে মতবিনিময় হিসেবে গণ্য করেছে। জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর ডেমোক্রেটিক ফ্রিডম পার্টির (জেকেডিএফপি) সভাপতি সাব্বির শাহ শুধু তাঁর পূর্বসূরিদের অনুসরণ করেছেন। তাঁর প্রতি সদয় হতে অনেকে বলতে পারেন, তাঁর আগের কাশ্মীরি নেতারা যা করতেন, তিনিও তা-ই করেছেন। মানে, পাকিস্তানি হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছেন, কোনো নেতা ছাড়াই। পাকিস্তানের হাইকমিশনারেরও কিছু দোষ আছে; তিনি জানেন যে নরেন্দ্র মোদির সরকার এ অভ্যাস ত্যাগ করেছে। তাঁর ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি অনুরোধ করেছিল, যেন হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে তিনি দেখা না করেন। অধিকাংশ ভারতীয় হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের মাখামাখি পছন্দ করেন না। তার পরও তিনি এ বৈঠক করেছেন। এতে ভারতজুড়ে কী প্রতিক্রিয়া হবে, সেটা তাঁর বোঝা উচিত ছিল।
কিছু বাহাদুরি ছাড়া এ বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। নয়াদিল্লির কাশ্মীরনীতি হচ্ছে রাজ্যটির ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ও এর বিশেষ মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা। শেখ আবদুল্লাহর কিছু কর্তৃত্বশীল চিন্তা ছিল, এর মাধ্যমে তিনি ইস্যুটিকে জিইয়ে রেখেছিলেন। তিনি নয়াদিল্লির প্রতি চ্যালেঞ্জ জানালে তাঁকে ১২ বছর তামিলনাড়ুর একটি বিশেষ কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল। সন্দেহ নেই, জওহরলাল নেহরুর গায়ে ক্ষমতালিপ্সুর কলঙ্ক লেগেছিল। সেটা মোচনের লক্ষ্যে তিনি ১২ বছর পর শেখ আবদুল্লাহকে গৃহে অন্তরীণ করে রাখেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, নেহরু একজন নির্মম শাসক ছিলেন, যিনি তাঁর ঘনিষ্ঠতম বন্ধুকেও ছাড় দেননি। স্বাধীনতাকামীদের যখন আজও বিচ্ছিন্নতাপন্থী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়, তখন সেই চিন্তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই। এ প্রক্রিয়ায় সেক্যুলার শেখের অবদানও মানুষ ভুলতে বসেছে।
হ্যাঁ, হুরিয়ত খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে গেছে। সৈয়দ শাহ জিলানির নেতৃত্বাধীন অংশটি চায় পাকিস্তানে ‘যোগ’ দিতে। ইয়াসিন মালিকের নেতৃত্বাধীন অংশটি আজাদি চায়। অনেকে বিভ্রান্তও বটে। এই কিছুদিন আগেও অধিকাংশ কাশ্মীরি ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষপাতী ছিল, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিতে ইচ্ছুক। কোনো গণভোটের আয়োজন হলে কাশ্মীরিরা পাকিস্তানের সঙ্গেই যোগ দেওয়ার রায় দিত। আজ অধিকাংশ কাশ্মীরি জনগণ আজাদি চায়। তবে ইয়াসিন মালিক কাশ্মীরিদের চাওয়ার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে তাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবির দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তবে হুরিয়ত বুঝতে পারছে না যে আজাদি এখনো একটি আদর্শিক দাবি, এর বাস্তবতা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালে ভারত ত্যাগের সময় এই মহারাজশাসিত রাজ্যটিকে স্বাধীন থাকার সুযোগ দিয়েছিল; তারা তখন ভারত বা পাকিস্তান কারও সঙ্গেই যোগ দিতে ইচ্ছুক ছিল না। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রাজ্যটির ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই সহায়তা দরকার ছিল; তারা এককভাবে কারও ওপর নির্ভরশীল হতে চায়নি।
জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিম-অধ্যুষিত হওয়ায় পাকিস্তান ভেবেছিল, রাজ্যটি তাদের সঙ্গে আসবে। সেটা না হলে পাকিস্তান সেখানে প্রথমে অনিয়মিত সেনা পাঠায়, পরে তাদের সহায়তায় নিয়মিত সেনাদের পাঠায়। তখন মহারাজা ভারতের সহায়তা চাইলে ভারত শর্ত দেয় যে রাজ্যটিকে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে হবে। ফলে মহারাজা যোগদানের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। মহারাজার চেয়ে হুরিয়তের কাজ কঠিন। রাজ্যের দুটি অংশ আজাদির বিপক্ষে। হিন্দু-অধ্যুষিত জম্মু ভারতের সঙ্গে যোগ দিতে চায় আর বৌদ্ধ-অধ্যুষিত লাদাখ ভারতের ইউনিয়ন টেরিটরি হিসেবে থাকতে চায়। ফলে আজাদির দাবিটি মূলত সেই উপত্যকার, যেখানকার ৯৮ শতাংশ মানুষ মুসলমান।
ভারতে এখন বিভাজনের রাজনীতি চলছে। ক্ষমতাসীন দল হিন্দুত্বের তাস বাঁটছে। এ অবস্থায় কংগ্রেস বা কমিউনিস্ট পার্টি হুরিয়তকে সমর্থন দেওয়ার মতো জায়গায় নেই। আসলে সব দলই জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবির বিপক্ষে, এমনকি কেউ কেউ রাজ্যটির ক্ষমতায়নের কথাও বলতে পারে।
আজ ৬৭ বছর পরও দেশভাগের ক্ষত আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি, এ ক্ষতের উপশম কারও জানা নেই। হুরিয়ত কীভাবে আশা করে, ভারতীয়রা আরেকটি বিভক্তি মেনে নেবে, তা কাশ্মীরিদের দাবি যতই যৌক্তিক হোক না কেন? আর সেটা যদি আবারও ধর্মের ভিত্তিতে হয়, তাহলে এই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়ে যাবে। এটা সত্য, ভারতের ১৫ কোটি মুসলমানও দেশটির নাগরিক, তাদের জিম্মি হিসেবে গণ্য করার কোনো অধিকার কারও নেই। কাশ্মীর ভেঙে গেলে এর ফল কী হবে, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে। হুরিয়তকে ভেবে দেখতে হবে, কৌশল পাল্টাতে হবে। তাদের কথা লোককে শোনাতে হবে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
কুলদীপ নায়ার: ভারতের সাংবাদিক।