Monday, January 17, 2011

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবাদিকের নৈতিকতা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা উন্মুক্ত করার অধিকার রাখে, তা নিয়ে সম্প্রতি ভারতে এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কের সূচনা করেছেন ভারতের প্রখ্যাত টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধার রতন টাটা। সম্প্রতি ভারতে টু জি মোবাইল ফোনের লাইসেন্স ও রেডিও এয়ারওয়েবের বরাদ্দ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের খবর উন্মোচিত হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পগোষ্ঠী ‘টাটার’ নাম জড়িয়ে গেছে। পরিণামে টেলিকমমন্ত্রী এ রাজাকে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। অভিযোগ: মন্ত্রী টাটা গ্রুপকে বিনা টেন্ডারে প্রায় পানির দামে টু জি মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দিয়েছেন। এতে ভারত সরকারের পৌনে দুই লাখ কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। এই কেলেঙ্কারির জন্য প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। লোকসভায় হয়েছে উত্তপ্ত বিতর্ক।
টু জি স্পেকট্রাম-বিষয়ক এই অভিযোগের সূত্র ধরে রতন টাটার সঙ্গে তাঁরই অফিসের ‘করপোরেট লবিস্ট’ নীরা রাডিয়ার সঙ্গে টেলিফোন আলাপের বিস্তারিত বিবরণ ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। রতন টাটা বলেছেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ। গত ২৯ নভেম্বর রতন টাটা এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। তিনি তাঁর আবেদনে বলেছেন: ‘ওই কথোপকথন ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ ঘটনাচক্রে কে বা কারা কিসের স্বার্থে ওই তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করেছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য ইনটেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডাইরেক্ট ট্যাক্সেসকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই।
রতন টাটার মতে, সরকার তদন্তের স্বার্থে তাঁর টেলিফোন কথোপকথন ব্যবহার করতেই পারে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে তা ফাঁস করে দেওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকেও এই মামলায় একটি পক্ষ হিসেবে তিনি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
মি. টাটা আরও বলেছেন, নীরা রাডিয়ার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে এমন কিছু ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে, যা কোনোভাবেই তদন্তের কাজে লাগার কথা নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর কথোপকথন রেকর্ড করলেও সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো মতানৈক্য নেই। কিন্তু একই সঙ্গে গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের ওপরেই বর্তায় বলে জানিয়েছেন তিনি। কথোপকথনের আর কোনো টেপ যাতে ফাঁস না হয়, সে জন্যও আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন রতন টাটা। পাশাপাশি, ফাঁস হওয়া টেপ উদ্ধারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও তার তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার জন্যও শীর্ষ আদালতকে অনুরোধ করেছেন টাটা। (দৈনিক বর্তমান, কলকাতা, ৩০ নভেম্বর ২০১০)
এই মামলার পরিণতি কী হয়, তা জানার অপেক্ষায় থাকলাম। কিন্তু তার আগে কিছু বিষয় আলোচনা করা যেতে পারে।
রতন টাটা খুব মূল্যবান দুটি কথা বলেছেন। ১. সরকার তদন্তের স্বার্থে তাঁর কথোপকথন ব্যবহার করতেই পারে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে তা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ২. গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়।
সাংবাদিকতা পেশার আলোকে আমরা এখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। ‘সাংবাদিকতা’ পেশা বাংলাদেশের কোনো একক পেশা নয়। এটা আন্তর্জাতিক পেশা। কাজেই সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক রীতিনীতি, নৈতিকতা আমাদেরও মেনে চলতে হয়। সব সাংবাদিকের জন্যই এটা প্রযোজ্য।
এই প্রসঙ্গে কলকাতার পাক্ষিক দেশ-এর কলামিস্ট জয়শ্রী রায় লিখেছেন: ‘দুর্নীতি প্রকাশের দায় থেকে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিসর, চিন্তাভাবনা, মৌখিক আলাপচারিতাকে প্রকাশ্যে বেআব্রু করা কতখানি যুক্তিযুক্ত, তা ভাবার বিষয় বৈকি! আমাদের দেশে (ভারত) রাইট টু প্রিভেসি (প্রাইভেসি) কোনো স্বতন্ত্র সাংবিধানিক অধিকার নয়, জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের মধ্যেই এটা অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু কোনো ব্যক্তিমানুষের রাইট টু প্রিভেসিতে হাত দেওয়া যাবে অ্যাকর্ডিং টু প্রসিডিউর এস্টাবলিস্ট বাই ল। অর্থাৎ এই অধিকার একমাত্র দেশের বিচার বিভাগের। সাংবাদিকের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণের। সাংবাদিকের সঙ্গে করপোরেট দুনিয়ার সংযোগ এখন সুবিদিত এবং কালের নিয়মে অপরিহার্যও বটে। কিন্তু একজন সাংবাদিক কেন খবর প্রকাশের সময় তাঁর এথিক্যাল গ্রাউন্ডের দিকটা উপেক্ষা করে যাবেন, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। স্বচ্ছ সাংবাদিকতার নিয়ম
হওয়া উচিত এই যে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বক্তব্যের প্রতিলিপি, মৌখিক আলাপচারিতা বা ব্যক্তিগত কোনো বিষয় জনসমক্ষে আনা যাবে না, যদি না দেশের বা দশের স্বার্থের সঙ্গে বিষয়টির কোনো প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকে।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, তেমনটি হয়নি। অভিযোগ প্রমাণের আগেই সরকারি তদন্তাধীন তথ্যপ্রমাণ সরকারের হেফাজত থেকে সংবাদমাধ্যমের নাগালে আসা যেমন এক প্রশ্ন, তেমনই সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা ভুলে গিয়ে অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়ে তাঁর গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারকে খর্ব করাও অনৈতিক।’ (দেশ, ১৭ ডিসেম্বর, ১০)
জয়শ্রী রায়ের এই বিশ্লেষণ খুবই চিন্তা উদ্দীপক। তিনি রতন টাটার মামলা এবং ভারতবর্ষের পটভূমিতে এই মন্তব্য করলেও তা বাংলাদেশের সমাজ ও সাংবাদিকতার জন্যও প্রযোজ্য। আমরা ঢাকার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের ‘খবরে’ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আদালতে নিয়ে যাওয়া ও আসার যে টানাহেঁচড়ার চিত্র দেখি, তা খুবই আপত্তিকর। আমাদের সুপ্রিম কোর্ট আজকাল নানা ব্যাপারে নির্দেশনা দিচ্ছেন। টিভি ক্যামেরার ব্যাপারেও একটা নির্দেশনা তাঁরা দিতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণ ও মামলার রায়ের আগে তারা যেন সচিত্র কোনো কিছু প্রচার না করে। মনে রাখতে হবে, আদালত একটি ভিন্ন জায়গা। এখানে ন্যায়-অন্যায় বিচার হয়। আদালতের পরিবেশকে অকৃত্রিম ও শান্তিপূর্ণ রাখা সবার দায়িত্ব। টিভি বা সংবাদপত্রের ক্যামেরা দিয়ে জনমত প্রভাবিত করা যায়। আদালত যদিও জনমতের ওপর নির্ভরশীল নয়, আদালত যুক্তি ও প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। ১/১১-এর সময়ে আদালত, জবানবন্দি, রিমান্ড, সিডি প্রকাশ, একতরফা বক্তব্য ইত্যাদি নিয়ে আদালত ও গণমাধ্যমজগৎ কলুষিত হয়েছিল। আমরা সাংবাদিকেরা প্রায় বিনা প্রতিবাদে তা মেনে নিয়েছিলাম। অনেকে উৎসাহের সঙ্গে এসব অনৈতিক কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। আর যেন এ ধরনের অনৈতিক কাজে এ দেশের মিডিয়া যুক্ত হতে বাধ্য না হয়, সে জন্য কিছু একটা কৌশল বের করা দরকার।
রতন টাটার মামলার সূত্র ধরে আমরা মিডিয়া জগতে একটা আলোচনার সূচনা করতে পারি। গণমাধ্যম ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ব্যাপারে কতটা দায়িত্বশীল, তা পর্যালোচনা করা দরকার। বাংলাদেশের সংবাদপত্র থেকে কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরে আলোচনা হলে সাংবাদিকেরা উপকৃত হবেন। রতন টাটা-নীরা রাডিয়ার টেলিফোন কথোপকথনের মতো সিডি পাওয়া গেলে আমরা সংবাদপত্রের পৃষ্ঠাজুড়ে তা কি প্রকাশ করব? এ ব্যাপারে সংবাদপত্রের অবস্থান কী? ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’ বলতে সাংবাদিকেরা কী বোঝেন, তা গভীরভাবে আলোচনা হওয়া দরকার।
অনেক সাংবাদিক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রসঙ্গে বলে থাকেন, ‘পাবলিক ফিগারের আবার প্রাইভেসি কী?’ এটাও একটা ভুল ধারণা। এই ধারণা নিয়েও আলোচনা করা দরকার। এ ধরনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা প্রশিক্ষণের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। কারণ, আজকের তরুণ সাংবাদিক একদিন সংবাদপত্র, টিভি বা বেতারে নীতিনির্ধারণী পদে যাবেন। তাঁকে বুঝতে হবে সাংবাদিকের নৈতিকতা কী।
ধনী লোক বা বড় শিল্পপতি, বিখ্যাত ব্যক্তি, বড় তারকা কোনো বিপদে পড়লে অনেক সাংবাদিক উল্লসিত হন। তাঁদের সেই উল্লাস প্রতিফলিত হয় তাঁদের লেখায়। এটা সাংবাদিকের বিকৃত মানসিকতা। অসুস্থ মানসিকতা। এ ধরনের মানসিকতা সাংবাদিকতা পেশার জন্য উপযুক্ত নয়। সাংবাদিকের দৃষ্টি হবে বস্তুনিষ্ঠ। তথ্য, প্রমাণ দিয়ে তিনি লিখবেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা তাঁর প্রধান শর্ত।
প্রত্যেক রিপোর্টারের একটি প্রিয় চরিত্র হলো: সোর্স। তাঁর সংবাদ সূত্র। সোর্স ছাড়া একজন রিপোর্টার অচল। নানা কারণে সোর্স রিপোর্টারকে সহায়তা করবেন, এটাই স্বাভাবিক। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেই সোর্স বেশি। কারণ, খবরের প্রধান উৎস সরকারি অফিস বা মন্ত্রণালয়। শোনা যায়, অনেক সময় সরকারি অফিসের কেউ কেউ টাকার বিনিময়েও খবরের উপাদান সরবরাহ করে থাকেন। এটা দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে।
আমি আবার রতন টাটার মামলা বিষয়ে ফিরে আসছি। এই মামলার রায় কী হবে, তা আমি জানি না। কেউই জানেন না। কিন্তু রতন টাটা ও নীরা রাডিয়ার ফোনালাপের বিষয়বস্তু যার মাধ্যমে সংবাদপত্রে বা টিভিতে এসেছে, আমি মনে করি তাকে শনাক্ত করে শাস্তি দেওয়া উচিত। তাকে শনাক্ত করা তো কঠিন কাজ নয়। টেপগুলো নিশ্চয় কোনো সরকারি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ছিল। তিনিই অপরাধী হবেন, সেটাই কি স্বাভাবিক নয়? কাজেই অন্য কোনো উপায়ে টেপগুলো সংবাদপত্রে পৌঁছালেও শাস্তি হওয়া উচিত, যাঁর তত্ত্বাবধানে ছিল, তাঁর। কারণ, তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। রতন টাটা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে এই মামলায় একটি অভিযুক্ত পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন সংগতভাবেই।
ভারতে কোনো সরকারি সংস্থা স্বরাষ্ট্রসচিবের ‘অনুমোদনক্রমে’ যেকোনো ব্যক্তির ফোন টেপ করতে পারে অনূর্ধ্ব দুই মাসের জন্য। কিন্তু সেই ফোনালাপ শুধু কোনো মামলার তদন্তের স্বার্থেই ব্যবহার করতে হবে। সংবাদমাধ্যমে বা অন্যত্র তা ব্যবহূত হতে পারে না। রতন টাটা এই পয়েন্টেই মামলা করেছেন।
আমাদের দেশে এখনো অনেক সংবাদপত্র ও টিভি সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে না। সাংবাদিকতা পেশায় তারা হয় মতলববাজ, নয় অদক্ষ। এদের হাত থেকে সাংবাদিকতা পেশাকে রক্ষা করতে হবে। ভারতে রতন টাটার প্রাইভেসি-বিষয়ক এই মামলা আমাদের সাংবাদিক সমাজের জন্য একটা শিক্ষণীয় বিষয় হতে পারে।
নতুনকে স্বাগত। ঢাকা থেকে ফার্স্ট নিউজ নামে ইংরেজি ভাষায় একটি সংবাদ ম্যাগাজিনের প্রকাশনা শুরু হয়েছে কয়েক মাস আগে। সম্পাদক: মোহাম্মদ বদরুল আহসান। ইংরেজি ভাষায় এর আগে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ছিল না, তা নয়। তবে সেগুলো তেমন মানসম্পন্ন ছিল না। পেশাদারির অভাবও ছিল। ফার্স্ট নিউজ সেই দিক থেকে আকর্ষণীয় ও মানসম্পন্ন। ভারত, পাকিস্তান বা থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সংবাদ ম্যাগাজিনগুলোর পাশে এটিকে রাখা যায়। এটা কম কৃতিত্ব নয়। বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে ইংরেজি পত্রিকার পাঠক কম। ফার্স্ট নিউজ কতটা পাঠক আকর্ষণ করতে পারবে, বলা মুশকিল। তবে পাঠক বৃদ্ধির জন্য এবং বাংলাদেশকে বিদেশে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এ রকম একটি মানসম্পন্ন ইংরেজিভাষী সংবাদ ম্যাগাজিনের খুব প্রয়োজন ছিল। প্রকাশক ও সম্পাদককে অভিনন্দন।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়নকর্মী।

খাল দখলের কালভার্ট-কৌশল

কালভার্ট নির্মাণকে বলা যায় খাল দখলের সরকারি প্রকল্প। টাকা দিয়েছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর, কাজ করেছে ঠিকাদার আর দখল পেয়েছে সরকারি দলের লোকজন এবং আবাসন কোম্পানিসহ বড় ব্যবসায়ীরা। গত শনিবারের প্রথম আলোর ‘হারিয়ে যাচ্ছে খাল’ শীর্ষক সংবাদে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা ও সংলগ্ন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত কালভার্ট তৈরির প্রধান উদ্দেশ্য খাল, জলাশয় বা নদী দখল।’ খাল কেটে কুমির আনার প্রবাদের বদলে এখন তাই বলা যায়, ‘বানাও কালভার্ট, আনো খাল দখলের কুমির।’ সত্যি, কী বিচিত্র এই দেশ!
আবাসনব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে, তাদের জমি প্রয়োজন। শিল্পোদ্যোক্তাদের জমি প্রয়োজন। মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্তের নিজস্ব আবাসনের জন্য জমি প্রয়োজন। সরকারি দলের নেতা হিসেবেও অনেকের জমি প্রয়োজন। দলীয় অফিস বানাতে জমি প্রয়োজন। এত জমি নেই, তাই খাল-বিল-জলাশয়-পুকুর, এমনকি নদী পর্যন্ত দখল হয়ে যাচ্ছে। দেখার জন্য সরকার ছিল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরকারি প্রকল্প এবং সরকারি দলের লোকজনই দখল কর্মসূচির হোতা। একশ্রেণীর সরকারি আমলা-কর্মচারী উপরির লোভে দিনকানা হয়ে আছেন। উচ্চ আদালত নিয়মিতভাবে নিষেধাজ্ঞা জানাচ্ছেন, উদ্ধারের নির্দেশ দিচ্ছেন, নীতিমালা তৈরি করতে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন, গণমাধ্যমে খবর ছাপা হচ্ছে, অথচ ‘সকলই গরল ভেল’ হয়ে যাচ্ছে। ‘খেলারামরা’ খেলে যাচ্ছেন, দখল হয়ে উঠছে অপ্রতিরোধ্য।
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৪৩টি খালের ২৬টিই মুমূর্ষু। বাকিগুলোর অস্তিত্ব স্যাটেলাইট দিয়েও পাওয়া যাবে না। আরেক হিসাবে ঢাকার ৫২টি খালই বেদখল। ঢাকার খালগুলো না বাঁচালে জলাবদ্ধতা, অস্বাস্থ্যকর আবহাওয়া ও পানিহীনতায় বিপর্যস্ত এ শহর বাসোপযোগী থাকবে না।
দেশের ১৬৫টি নদ-নদী রক্ষার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। অজস্র নদী ও জলদেহ বিপন্ন। অথচ অঢেল টাকা বাংলার নদ-নদী-জলাশয়ে ঢালা হলেও সবই বিফল হয়েছে। কিংবা খাল দখলের কালভার্ট-কৌশলের মতো সেগুলোও ছিল লাভবান হওয়ার ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত কৌশল? এসবেরই ফলে যে জলদেহ আগে কৃষি, মৎস্য ও স্বাস্থ্যকর জলবায়ু নিশ্চিত করায় ভূমিকা রাখত, তা আজ বিপন্ন।
কী করতে হবে তা সবাই জানে। বিশেষজ্ঞরা জানেন, আমলারা জানেন, মন্ত্রীরা জানেন। যাঁরা দখলের সরকারি টাকায় কালভার্টের নামে দখলের প্রকল্প প্রণয়ন করতে পারেন, খাল উদ্ধারের কলাকৌশল তাঁদেরই ভালো জানার কথা। রাজধানীর খাল ও নদীর সীমানা সুস্পষ্ট করে, দুই পাড় বাঁধিয়ে উদ্যান করে দিতে হবে। স্থায়ীভাবে পানি-পুলিশ গঠন করে নিয়মিতভাবে খাল-নদীগুলোকে উপদ্রবমুক্ত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এসব কাজ হওয়া কঠিন।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে বড় বাধা ফি by ফরিদা আখতার

স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে যেন মানুষের কষ্ট না হয় এবং সব মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে, তার জন্য ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব সদস্যদেশ অঙ্গীকার করেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ রেজুলেশনের নম্বর হচ্ছে ৫৮ দশমিক ৩৩। এই রেজুলেশনের মূল কথা হচ্ছে, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা করতে গিয়ে রোগীর কাছ থেকেই অর্থ নিয়ে চিকিৎসা করা অমানবিক হয়ে দাঁড়ায়। তাই স্বাস্থ্য অর্থায়নের নতুন পথ খুঁজতে হবে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবা পেতে গিয়ে রোগীর কষ্ট না হওয়া এবং সবাই স্বাস্থ্যসেবা পাবে কি না, তা এখনো অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন। চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও হাসপাতাল—সবকিছুতেই টাকার প্রয়োজন আছে। এভাবে খরচের একটি হিসাব করে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী এই খরচের পরিমাণ বছরে ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ যেভাবে বেড়ে যাচ্ছে, এই খরচের পরিমাণ ভবিষ্যতে বাড়বে বৈ কমবে না। অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য নিত্যনতুন ওষুধ ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বলা বাহুল্য, উন্নত দেশগুলো স্বাস্থ্য খাতে মাথাপিছু খরচ বেশি করতে পারে, আর গরিব দেশ তা পারে না। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক অ্যান্ড কো-অপারেশনভুক্ত (ওইসিডি) ধনী দেশের মাথাপিছু স্বাস্থ্যসেবা খরচ বছরে চার হাজার ডলার (দুই লাখ ৮৪ হাজার টাকা) ও থাইল্যান্ডে মাত্র ১৩৬ ডলার (নয় লাখ ৬৫৬ টাকা)। ধনী ও উন্নয়নশীল দেশের পার্থক্য এত বিশাল। বাংলাদেশের কথা এখন না-ই তুললাম।
প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাস্থ্য অর্থায়ন আসলে কী? এটা কি শুধু স্বাস্থ্যসেবার জন্য অর্থ বরাদ্দের ব্যাপার, নাকি কে এই অর্থ দেবে, কেমন করে দেবে ইত্যাদি বিষয় ঠিক করা? সাধারণত রাজস্ব খাত থেকে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা সব সময় পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, এই নীতিতে বিশ্বাস করলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা বাঞ্ছনীয়। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি পদে সেবার বিনিময়ে মূল্য ধার্য করা হচ্ছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ইউজার ফি। অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহারকারী সরাসরি নির্ধারিত খরচ বহন করবে। এক হিসেবে স্বাস্থ্য পণ্য হিসেবে বিক্রয় করার মতো ব্যাপার। টাকা দিয়ে কিনতে পারলে সেবা পাবে, নইলে পাবে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে, ইউজার ফি বা সরাসরি দাম (ডিরেক্ট পেমেন্ট) দিয়ে সেবা কেনা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যখন কোনো রোগী অসুস্থতায় ভুগছে, তখন তাকে প্রতিটি সেবা পাওয়ার জন্য যদি দাম দিতে হয়, তাহলে সে যতটুকু দাম দিতে সক্ষম, শুধু ততটুকুই নেবে। ফলে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থাকতে পারে এবং সেবা নেওয়া বিলম্বিত হতে পারে। সরাসরি দাম দেওয়ার নিয়মটি সরকার করতে পারে, কিংবা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও করতে পারে। বাংলাদেশে উভয় ঘটনাই ঘটছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন (১৩০ কোটি) মানুষ কোনো প্রকার স্বাস্থ্য গ্রহণ করছে না, কারণ তাদের সেবা কেনার সামর্থ্য নেই। অর্থাৎ বিনা চিকিৎসায় রয়েছে, একসময় হয়তো মারাও যাচ্ছে। আবার চিকিৎসা না নিতে পারার কারণে অসুস্থতা বেড়ে যাচ্ছে এবং তারা কাজও করতে পারছে না, আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের দরিদ্রতা আরও বাড়ছে।
বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, খাদ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও অন্যান্য জরুরি খরচ মেটানোর পর মোট আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবায় খরচ হয়ে যায়। কিছু কিছু দেশে মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ প্রতিবছর চিকিৎসাসেবার খরচ বহন করার কারণে মারাত্মক আর্থিক সংকটের শিকার হয় এবং ৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের খাতায় নতুন করে যুক্ত হয়। কেনিয়া ও সেনেগালের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এক বছরে এক লাখ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে চিকিৎসার খরচ মেটানোর কারণে। দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই লাখ ৯০ হাজার পরিবার একই কারণে এ অবস্থার শিকার হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১৫ কোটি মানুষ মারাত্মক আর্থিক সংকটের অবস্থায় পড়ে যায়, আর প্রায় ১০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায় শুধু স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অর্থায়নের নিয়মের কারণে। এমন অবস্থার সৃষ্টি হওয়া কোনোমতেই কাম্য নয়।
স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য সরাসরি মূল্য দেওয়া বা ইউজার ফির বিষয়টি শুধু দামি চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে তা ঘটছে এমন নয়, বরং অল্প অল্প করে বারবার খরচ করতে গিয়েও মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি, কোনো পরিবারে শুধু ১০০ টাকার জন্য বিরাট সমস্যা হতে পারে, কারও বেলায় ১০ হাজার টাকা, কিংবা আরও বেশি টাকা দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই চিকিৎসা খরচ তার অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০১০ সালে ইউজার ফির যে হার নির্ধারণ করেছে, সে অনুযায়ী রোগী ভর্তির টিকিট থেকে শুরু করে রোগ অনুযায়ী নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে প্রথমেই হাজার টাকা খসে পড়বে। কোনো গরিব মানুষের পক্ষে একবারে চিকিৎসার জন্য এত টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় থেকে অর্ধেক চিকিৎসা করে প্রায় আট-দশ হাজার টাকা খরচ করে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে, কারণ ইউজার ফির নিয়ম অনুযায়ী তাদের পক্ষে চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এই অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে তারা এরই মধ্যে গরু কিংবা ছাগল বিক্রি করে ফেলেছে।
এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে যারা চিকিৎসা খরচ বহন করতে আর্থিকভাবে সক্ষম, তাদের কোনো সমস্যা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা দিতে পারে, তাদের অহেতুক নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে খরচ করানো হয়, অন্যদিকে যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের চিকিৎসাই হয় না। এটা চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করছে।
বিশ্বের অনেক দেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য অর্থায়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। চীন সরকার ১৯৭৮ সালে বাণিজ্যিক স্বাস্থ্যসেবার ঘোষণা দিয়েছিল, যাতে সরাসরি মূল্য দেওয়ার পরিমাণ ১৯৮০ সালে ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০০০ সালে ৬০ শতাংশ হয়ে গিয়েছিল, যার কারণে জনগণের একটি বড় অংশ আর্থিক সংকটের শিকার হয়েছিল। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁদের খরচ তুলতে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে ওষুধ লিখে দেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দিতেন, যার কারণে স্বাস্থ্যসেবার মান খুব কমে গিয়েছিল। চীন সরকার ২০০৯ সালে ইউজার ফি নেওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্য বিমার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে চীনের শতভাগ মানুষকে স্বাস্থ্য বিমার আওতায় এনে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তেমনি যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালের মধ্যে বিমাবিহীন তিন কোটি ২০ লাখ মানুষকে বিমার আওতায় আনা হবে। বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলো গরিব ও নিম্নবিত্তদের বিমার সেবা দিতে আস্বীকার করতে পারবে না।
স্বাস্থ্যসেবার জন্য অর্থায়নের চিন্তাভাবনা জরুরি বিষয়, কিন্তু এর দায় কার ওপর চাপানো হচ্ছে, সেটাই আসল প্রশ্ন। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৫ সালে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের জন্য সব মানুষকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে কোনো মানুষ যেন আর্থিক সংকটে না পড়ে, তার দিকে নজর রাখতে হবে। বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অর্থায়ন করতে গিয়ে ইউজার ফি নেওয়ার মতো ব্যবস্থা করলে এ দুই উদ্দেশ্যের একটিও সফল হবে না।
স্বাস্থ্য অর্থায়নের জন্য সরকারকে রাজস্ব খাতের পাশাপাশি ট্যাক্স, বিমা কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে।
ফরিদা আখতার: নারীনেত্রী, উন্নয়নকর্মী।

গণভোটেই ভাগ্য নির্ধারিত by কাজী জহিরুল ইসলাম

আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশের সম্মান আর থাকছে না সুদানের ললাটে। সুদানের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং দক্ষিণ সুদানের রাজনৈতিক দল সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্টের নেতা সালভা কির মায়ারদিতের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন দেশ দক্ষিণ সুদান। সুদান ভাঙবে না অখণ্ড থাকবে—এই প্রশ্নে দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ২০০৫ সালে দুই পক্ষ একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল অংশই ছিল আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার প্রশ্নে দক্ষিণ সুদানিদের গণভোট। অবশেষে সুদান সরকার আয়োজন করেছে গণভোট। সাত দিনব্যাপী আয়োজিত গণভোট শুরু হয়েছে ৯ জানুয়ারি, চলে ১৫ তারিখ পর্যন্ত। তিন দিনের মাথায় গণভোটের বৈধতার শর্ত ৬০ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে। লৌহমানবখ্যাত ২৬ বছর ধরে সুদানের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির বলেছেন, ‘গণভোটের ফলাফল যা-ই হোক, আমি তা মেনে নেব।’ বিশ্বনেতৃত্ব তাঁর এই উদার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। যদিও নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে হঠাৎ করে প্রেসিডেন্ট বশির দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা পরিদর্শনে যান এবং ফিরে এসে প্রেসকে জানান, একটি দেশ পরিচালনার জন্য যে ধরনের একতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং যোগ্যতা থাকা দরকার, তা দক্ষিণ সুদানের নেই। দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হলে ওখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেবে, যার প্রভাব উত্তরাংশে এসে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। দেশবাসীকে একতার আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির অখণ্ডতার পক্ষে ভোট দিতে অনুরোধ করেন।
সারা সুদানেই একযোগে ভোট গ্রহণ চলছে। দক্ষিণ সুদানের অধিবাসী যিনি যেখানেই অবস্থান করুন না কেন, এই গণভোটে অংশ নিতে পারছেন। এমনকি সুদানের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, মিসর, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী দক্ষিণ সুদানিরা এই গণভোটে অংশ নিতে পারছেন। গতকাল ভোটাভুটি শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এটা এখন শতভাগ নিশ্চিত যে ‘দক্ষিণ সুদান’ অথবা ‘নতুন সুদান’ নামের এটি নতুন দেশ আর মাত্র দুই দিন পরই জন্ম নিতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ২৫ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে ছয় লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড।
সম্প্রতি সুদানে তেল আবিষ্কারের ফলে দেশটির অর্থনীতি কিছুটা চাঙা হয়ে ওঠে। ৮৩ লাখ মানুষের দেশ সুদানের গড় মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪০০ ডলার এবং জিডিপির গ্রোথ রেট ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশটির প্রধান খনিজ সম্পদ এখন জ্বালানি তেল, যার ৭৫ শতাংশই দক্ষিণ সুদানে অবস্থিত, যদিও শোধনাগারগুলো অবস্থিত উত্তর সুদানে। সুদান প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। গণভোটের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ সুদান আলাদা রাষ্ট্র হয়ে গেলেও তেলসমৃদ্ধ একটি প্রভিন্স ‘আবিই’র বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ফয়সালা হয়নি। দক্ষিণ সুদানের নেতৃত্ব মনে করছেন, উত্তরের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে একটি সন্তোষজনক সমাধানে আসা যাবে।
উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ শাসক দক্ষিণ সুদানকে উত্তর সুদানের হাতে তুলে দেয়; যার পেছনে ছিল মিসরীয়দের সমর্থন। মুসলিম-অধ্যুষিত উত্তর সুদানের অধিবাসীরা মূলত সেমেটিক। কয়েক জেনারেশন আগে মিসর থেকে আসা আরব্য অধিবাসীদের সঙ্গে নেটিভ সুদানিদের মিলনের ফলে মিশ্র বর্ণের মানুষ সৃষ্টি হয়। এই মিশ্র বর্ণের মানুষজনও নিজেদের আরব গোত্রভুক্ত মনে করে। সারা সুদানে এই সম্প্রদায়ের লোকজনই প্রভাবশালী। দক্ষিণীরা কালো আফ্রিকান। এনিমিস্ট এবং পরে এক বৃহৎ অংশ ধর্মান্তরিত ক্যাথলিক। আরব শাসকেরা দক্ষিণের উন্নয়নে মোটেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে তারা বারবার আলাদা হওয়ার প্রশ্নে আন্দোলনে নেমেছে।
খ্রিষ্টান ও এনিমিস্ট-অধ্যুষিত দক্ষিণ সুদানে নানা ট্রাইবের বসবাস। ডিস্কা, নুয়ের ও শিলুক উল্লেখযোগ্য ট্রাইব হলেও ডিস্কারাই সংখ্যাধিক্য ও প্রভাবশালী। পুরো সুদানের ৫ শতাংশ খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী মানুষের প্রায় সবারই বাস দক্ষিণ সুদানে। দক্ষিণ সুদানে তেমন কোনো অবকাঠামো ও ইনস্টিটিউশন নেই। ৪০ কিলোমিটারও পাকা রাস্তা নেই সেখানে। জনসংখ্যার প্রায় সবাই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। যদিও উত্তরের চেয়ে দক্ষিণের ভূমি উর্বর, জলবায়ু অপেক্ষাকৃত আর্দ্র ও শীতল। এ রকম অবস্থা থেকে দক্ষিণ সুদানকে একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দরকার যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং প্রচুর অর্থের জোগান। সালভা কির কি পারবেন সেই কঠিন কাজটি করতে? যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সমর্থন রয়েছে সালভা কিরের প্রতি। সুদানকে আমেরিকার স্যাংশন দেওয়ার পর হুড়মুড় করে চায়নিজ কোম্পানিগুলো সুদানে ঢুকে পড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের দখল নিয়ে নেয়। এমন একটি পরিস্থিতিতে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ সুদানকে বিভক্ত করে সেখানে ঢোকা মার্কিনদের জন্য খুব দরকার ছিল।
গণভোট ১৫ জানুয়ারি শেষ হলেও ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর মুদ্রাসহ অন্য বিষয়গুলো ফয়সালা করে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দক্ষিণ সুদানকে পরিপূর্ণভাবে আত্মপ্রকাশ করতে প্রায় ছয় মাস লেগে যাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
দারফুর, সুদান থেকে
কাজী জহিরুল ইসলাম: কবি ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা।

প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় রিগ্যান আলঝেইমারে আক্রান্ত হয়েছিলেন

প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে সে সময় রোগটি ছিল প্রাথমিক অবস্থায়। রিগ্যানের ছোট ছেলে রন রিগ্যান বাবাকে নিয়ে লেখা তাঁর বইয়ে এ কথা উল্লেখ করেছেন।
মাই ফাদার অ্যাট হানড্রেট, এ মেমোইর নামের বইয়ে রিগ্যানের ছেলে লিখেছেন, তিনি মনে করেন, ওই সময় রোগটি ধরা পড়লে ১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হতো।
বাবাকে নিয়ে লেখা রন রিগ্যানের বইটি আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে।
রন রিগ্যান লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় বাবা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সচেতন ছিলেন, এমন প্রমাণ তিনি কখনো পাননি। ১৯৮৭ সালে ওই রোগ ধরা পড়লে রিগ্যান কি পদত্যাগ করতেন? এ ব্যাপারে রন লিখেছেন, তাঁর বিশ্বাস, তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিতেন।
ক্ষমতা ছাড়ার পাঁচ বছর পর ১৯৯৪ সালে রিগ্যানের আলঝেইমার রোগ ধরা পড়ে। এ থেকে তাঁর স্মৃতি ও বাকশক্তি লোপ পেতে থাকে। ২০০৪ সালে ৯৩ বছর বয়সে তিনি ওই রোগেই মারা যান। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রিগ্যানের ১০০তম জন্মদিন। এ দিনটি সামনে রেখেই বইটি প্রকাশ করা হচ্ছে।

মমতাকে মোবাইল বার্তা পাঠাল সিপিআইএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মোবাইল বার্তা পাঠিয়েছে সিপিআইএম। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও কংগ্রেস-নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মমতাকে এক টেবিলে আনতে দলের পক্ষ থেকে এই বার্তা পাঠানো হয়।
রাজ্যের আবাসনমন্ত্রী গৌতম দেব কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যে মমতাকে আলোচনায় বসার আবেদন জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি মমতার মোবাইল ফোন নম্বর জোগাড় করে আলোচনায় বসতে সরাসরি বার্তা পাঠান।
এ ব্যাপারে তৃণমূল নেত্রীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এটিকে চমক বলে অভিহিত করেছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, ত্রিপক্ষীয় আলোচনার কথা বলে সিপিআইএম আসলে ফায়দা লুটতে চাইছে। গৌতম দেব বলেন, ‘মমতাকে বার্তা পাঠানো কোনো চমক নয়।

মার্কিন নাগরিকদের কিউবা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত শুক্রবার কিউবায় মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা শিথিল করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ধর্মীয় গোষ্ঠী ও ছাত্রছাত্রীদের কিউবায় ভ্রমণের অনুমতি দিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ওবামা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে সে দেশে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানো যাবে। এই রেমিট্যান্স কিউবার সুশীল সমাজের জন্য সহায়ক হবে। তবে এর ফলে কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, নিষেধাজ্ঞার এই শিথিলতার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে মতবিনিময় বাড়ানো।
উল্লেখ্য, ওবামা ক্ষমতায় আসার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা অনেকটা কমেছে।

নেপালে জাতিসংঘ মিশনের কাজ শেষ

নেপালে জাতিসংঘ মিশন গতকাল শনিবার সেখানে তাদের কার্যক্রম শেষ করেছে। চার বছর আগে দেশটির যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে এ মিশন গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু দেশটিতে বর্তমানে শান্তির পরিবর্তে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
নেপালে মাওবাদীদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ এক দশকের সহিংসতা শেষে শান্তি স্থাপন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে ইউএন মিশন ইন নেপাল (ইউএনএমআইএন) গঠন করা হয়। কিন্তু ২০০৬ সালের শান্তি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে মিশনের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হয়।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শেষ বারের মতো মেয়াদ চার মাস সময় বাড়িয়ে এটি বন্ধের পক্ষে ভোট দেয়। মিশন বন্ধের কারণ হিসেবে শান্তি-প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির অভাবের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে ইউএনএমআইএনের চলে যাওয়ার পরও নেপালের শান্তি-প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার অঙ্গীকার করেছে জাতিসংঘ। কিন্তু ইউএনএমআইএন এমন এক সময় দেশটি ত্যাগ করছে, যখন সেখানে কার্যত কোনো সরকার নেই এবং বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্রমাগত দূরত্ব বাড়ছে।

রেইনস প্রিবাউস রিপাবলিকান পার্টির নতুন প্রেসিডেন্ট

উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের রেইনস প্রিবাউস যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গত শুক্রবার দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাইকেল স্টিলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য ৮৫ ভোটের প্রয়োজন হলেও প্রিবাউস পেয়েছেন ৯৭ ভোট।
রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ৩৮ বছর বয়সী প্রিবাউস দলের তহবিল জোগানদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নসহ আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রিবাউস বলেন, ‘স্বীকার করতে হবে, আমাদের সামনে পাহাড়। দলের ঐক্যের মধ্য দিয়েই এ পাহাড়কে মোকাবিলা করা সম্ভব।’
জাতীয় পর্যায়ে রেইনস প্রিবাউস তেমনভাবে পরিচিত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও নির্বাচকমণ্ডলীর সর্বোচ্চ ভোটে তিনি দলটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের অক্সোন হিল শহরে দলের নির্বাচকমণ্ডলীর কয়েক দফা ভোটযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। রুদ্ধদ্বার এ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান দলটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাইকেল স্টিল।
দুই বছর আগে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে মাইকেল স্টিল রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

দক্ষিণ সুদানে গণভোট শেষ

দক্ষিণ সুদানে গতকাল শনিবার সপ্তাহব্যাপী গণভোট শেষ হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার এতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ গণভোটের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র এ অঞ্চলটি একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত দক্ষিণ সুদান ও মুসলমান-অধ্যুষিত উত্তর সুদানের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে যে সংঘাত চলে আসছে, তা নিরসনে এ গণভোটের আয়োজন করা হয়।
নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ লোক ভোট দিয়ে ফেলায় গতকাল শেষ দিনে ভোট প্রয়োগের হার ছিল খুব কম। প্রথম চার দিনেই ভোট পড়ে ৬০ শতাংশ।
প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ম্যানইয়াং মালুক আকোত জানিয়েছেন, গত শুক্রবার পর্যন্ত ১২ হাজার ২৫৮টি কেন্দ্রে প্রায় ৮৮ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সুদানের রাজধানী খার্তুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বলেছেন, দক্ষিণ সুদানের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার এ গণভোটে ভোট দিয়েছেন। সব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ক্রান্তিলগ্নে’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বর্তমানে একটি ক্রান্তিলগ্নে পৌঁছেছে। এখন দুই পক্ষকে অবশ্যই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের বৈঠকের আগে গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে এ কথা বলেন হিলারি। আগামী বুধবার হোয়াইট হোউসে বৈঠক করবেন ওবামা-জিনতাও।
হিলারি বলেন, শীর্ষ বৈঠকে দুই পক্ষকে অবশ্যই সঠিক বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও চীনের সম্পর্ক একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এ সময় আমরা ছোট-বড় যে সিদ্ধান্তই নিই না কেন, দুই দেশের আগামী দিনের সম্পর্কে তা প্রভাব ফেলবে।’
চীনকে তাদের মুদ্রার সঠিক মূল্য নির্ধারণের আহ্বান জানান হিলারি। ইয়েনের অবমূল্যায়নের মাধ্যমে চীন বিশ্ববাজারে অযৌক্তিক সুবিধা পাচ্ছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তবে চীনের দ্রুত প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি এবং তা রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে—এমন কথা অস্বীকার করেন হিলারি।
এ সপ্তাহে ঐতিহাসিক সফরে বেইজিংয়ে যান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার চীন ঘোষণা দিয়েছে, তারা প্রথমবারের মতো রাডার ফাঁকি দিতে পারে, এমন জঙ্গি বিমানের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।
চীনা প্রেসিডেন্টের আসন্ন ওয়াশিংটন সফরকে তিন দশকের মধ্যে দুই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর হিসেবে দেখছেন মার্কিন বিশ্লেষকেরা।

পাকিস্তানে ন্যাটোর ১৬টি তেল ট্যাংকারে বন্দুকধারীদের আগুন

গতকাল শনিবার ভোরে পাকিস্তানে বন্দুকধারীরা আফগানিস্তানে অবস্থানরত ন্যাটোর সেনাদের জন্য জ্বালানি সরবরাহকারী ১৬টি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দেরা মুরাদ জামিলি শহরের বাইরে গতকাল ভোরে বন্দুকধারীরা ওই ট্যাংকারগুলোর ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান আবদুল ফাতাহ খাজ্জাক এ কথা জানান।
খাজ্জাক বলেন, হামলার সময় জ্বালানি বহনকারী এই তেলের ট্যাংকারগুলো একটি পেট্রলপাম্পে পার্ক করা ছিল। বন্দুকধারীরা একটি গাড়িতে এসে ওই তেলের ট্যাংকারগুলোর ওপর সরাসরি গুলি চালায়। এ সময় ১৬টি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে বন্দুকধারীদের গুলিতে তেলের ট্যাংকারের একজন স্টাফ আহত হয়েছেন।
গত বছরের অক্টোবরেও বন্দুকধারীরা ২৯টি তেলের ট্যাংকারে আগুন দিয়েছিল। আফগানিস্তানে অবস্থানরত বিদেশি সেনাদের জন্য অধিকাংশ মালামাল ও সরঞ্জাম পাকিস্তানের ভেতরে দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়। যদিও মার্কিন সেনারা অন্য পথ হিসেবে এশিয়ার মধ্য অঞ্চলকে ব্যবহার করছে।
পাকিস্তান গত ৩০ সেপ্টেম্বর ন্যাটো সেনাদের জন্য রসদ সরবরাহের প্রধান পথ বন্ধ করে দেয়। ন্যাটোর হেলিকপ্টার হামলায় পাকিস্তানের দুজন সেনা মারা যাওয়ার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ১১ দিন পর তা আবার স্বাভাবিক হয়।
করাচিতে মৃত ২৭: করাচিতে গত দুই দিনে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সে দেশের বহুল প্রচারিত ডন নিউজের খবরে এ কথা বলা হয়। এমকিউএমের নেতা সৈয়দ বাদশা খান বলেন, সরকার এই শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পিএমএল-কিউ বলছে, করাচিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সেনা অভিযান প্রয়োজন।

সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই নিয়ে আলোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই নেতা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তাঁরা পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়েও কথাবার্তা বলেন।
দুই নেতার বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস থেকে শুক্রবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, দুই নেতা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারির ওপর গুরত্ব আরোপ করেন। তাঁরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বিশেষ করে আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ওবামা পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি দেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা এ বছরের শেষ দিকে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকের সময় জারদারির সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হোসাইন হাক্বানি। ওবামার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম ডনিলন, সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়ক জন ব্রেনার ও সহকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল ডগলাস লুটি।
প্রায় আধঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠকে মূলত নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বৈঠকের পর হোসাইন হাক্কানি সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় পাকিস্তান যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে না, এমন কথা বৈঠকে কেউ বলেননি। দুই দেশের পক্ষ থেকে নেতিবাচক কোনো কথাবার্তা বলা হয়নি। তিনি বলেন, অনেকেই অনুমান করছেন, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরেক দফা অর্থনৈতিক বা সামরিক সাহায্য আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু ওই ধারণা ঠিক নয়। পাকিস্তান শুধু সাহায্য গ্রহণ করে যাওয়ার পক্ষপাতী নয়। তারা স্বাবলম্বী হতে চায়। এ জন্য তাদের অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন।
বৈঠকের ব্যাপারে ডনিলন বলেন, দুই নেতা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল করার জন্য কী করা ইচিত, তাও তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পায়।

দেশে এমএলএম নীতিমালা হচ্ছে

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালিত হওয়ার এক যুগ পার হওয়ার পর এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে প্রথমবারের মতো এমন নীতিমালা হতে যাচ্ছে।
আগেরবারের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জিজিএন এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় নিউওয়ে ইত্যাদি নামের এমএলএম কোম্পানির ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছিল বহু লোক। এর পর থেকে এমএলএম ব্যবসা বন্ধ তো হয়ইনি, বরং নীতিমালা ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিল।
কিন্তু গত বছর ইউনিপেটুইউ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি এমএলএম কোম্পানি রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে এক বছরে বিনিয়োগের অর্থ দ্বিগুণ করে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে।
গত বছরের মাঝামাঝি ইউনিপেটুইউর বিষয়ে পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এমএলএম নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, এমএলএম নীতিমালার ওপর খসড়া তৈরির কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত কোনো আকার পায়নি। নীতিমালার ব্যাপারে যেসব মতামত এসেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। খসড়া তৈরির পর আরও মতামত নেওয়া হবে এবং আরও যাচাই-বাছাই হবে। তাই এটি এখনো মন্ত্রী পরিষদে উপস্থাপন করার পর্যায় আসেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এমএলএম কোম্পানিগুলোর অন্যতম ব্যবসা কৌশল হচ্ছে—কোনো না কোনোভাবে সরকারের মন্ত্রী, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, এমনকি সাংসদদের জড়িয়ে ফেলা। কিছু এমএলএম কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) অতিথি বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও সাংসদদেরও দেখা গেছে। আর তাই নীতিমালায় এ ব্যাপারেও শর্তারোপ করার চিন্তা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নীতিমালায় এমন শর্ত রাখা হতে পারে যে, এমএলএম কোম্পানির কোনো অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, সাংসদেরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
কারণ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এমএলএম কোম্পানিগুলো মন্ত্রীদের ব্যবহার করেন এবং বিক্রি করেন। কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তোলা মন্ত্রী-সাংসদদের ছবি জনগণের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, তাঁরা যেন এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আছেন বা এই কোম্পানির কোনো কর্মকাণ্ড অবৈধ নয়। অর্থাৎ নিজেদের অজান্তেই প্রতারণার কাজে ব্যবহূত হয়ে পড়েন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত নীতিমালায় এমএলএম কোম্পানিগুলো যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) কাছে তাদের বিপণন পরিকল্পনা দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে। আর সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন নেওয়ার সময় এমএলএম কোম্পানি কী পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করবে, বিশদ বিবরণসহ তা উল্লেখ করতে হবে।
নিবন্ধন নেওয়ার সময় কোম্পানিটির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ জানাতে হবে। কোম্পানির ফোন, ফ্যাক্স নম্বর এবং পরিচালক ও কর্মকর্তাদের ভোটার পরিচয়পত্রসহ পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জানানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে ক্রেতা ও পরিবেশকদের দায়িত্ব-কর্তব্য।
তবে নীতিমালা হওয়ার আগে পর্যন্ত নতুন কোনো কোম্পানিকে এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
কাল্পনিক, অলীক বা অবস্তুগত বিষয় নিয়ে এমএলএম ব্যবসায়ের ব্যাপারে খসড়া নীতিমালায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে, বস্তুগত পণ্য নিয়ে যারা ব্যবসা করবে, তাদেরও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। ‘সেবা’র বিষয়ে থাকবে সুস্পষ্ট সংজ্ঞা। কী কী সেবা এমএলএম কোম্পানিগুলো বিপণন করতে পারবে, তার নির্দেশনা থাকবে নীতিমালায়।
সূত্র জানায়, এমএলএম কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, এমএলএম নীতিমালা প্রণয়ন তাঁদেরই দাবি। বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে এলেও সরকার তাঁদের কথায় কর্ণপাত করছিল না। তাঁদের মতে, নীতিমালা এমএলএম ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে, আবার যেসব কোম্পানি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও সহায়তা করবে।
এমএলএম নীতিমালা প্রণয়নের জন্য অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব এম মর্তুজা রেজা চৌধুরীকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), আরজেএসসি, ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং এমএলএম কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে।
এমএলএম কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসব বৈঠকে বলেছেন, যেসব পণ্যের বাস্তব অবস্থান নেই, সেগুলোও এমএলএম পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। অনেকে দেশে বসে বিদেশে বাড়ির ব্যবসা করছেন বা কাল্পনিক সেবায় অর্থ বিনিয়োগ করছেন। এমনকি বাংলাদেশে কোনো কার্যালয়ও নেই তাঁদের। অথচ কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন বিদেশে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান সম্প্রতি এমএলএম নীতিমালা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটি এমনভাবে করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত না হয়।’ তিনি কিছু এমএলএম কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথাও স্বীকার করেন।
গত ৯ জানুয়ারি কিছু এমএলএম প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সতর্ক বার্তা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে তারা জনগণের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এক লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করবে সরকার

সরকার এক লাখ টন খাদ্য আমদানি করতে যাচ্ছে। আজ সোমবার সচিবালয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক বৈঠকে ৫০ হাজার টন চাল ও ৫০ হাজার টন গম আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই খাদ্যশস্য আমদানিতে মোট ব্যয় হবে বাংলাদেশি টাকায় ২৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। চাল আমদানিতে টন প্রতি ব্যয় হবে ৪৫৯ দশমিক ২২ ডলার ও গম আমদানিতে টন প্রতি ব্যয় হবে ৩৬৮ দশমিক ৫১ ডলার।
চাল সরবরাহ করবে ইন্দো-সিনো ট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড ও গম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স এম সন্স লিমিটেড।
বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব নূরুল করিম। বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী ছাড়াও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক ও বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান উপস্থিত ছিলেন।

কাল বাজারে আসছে দেশবন্ধু পলিমার

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেড। আগামীকাল সোমবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন শুরু হবে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর দেশবন্ধু পলিমারের আইপিও লটারির ড্র বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার পেতে ১৮ লাখ বিনিয়োগকারী আইপিওর জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ৩২ হাজার বিনিয়োগকারী লটারিতে বিজয়ী হন।
এদিকে গত ১৫ ডিসেম্বর সিডিবিএল থেকে বিজয়ী বিনিয়োগকারীদের একাউন্টে শেয়ার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে এক বিনিয়োগকারী লটারি জিতলেও তাঁর একাউন্টে শেয়ার জমা না হওয়ায় ওই বিনিয়োগকারী এসইসিতে অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ ডিসেম্বর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির গত ১৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এসইসির পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদনসংক্রান্ত কিছুই জানা যায়নি।
অন্যদিকে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, এসইসির কাছ থেকে লেনদেন বিষয়ে কোনো প্রকার আপত্তি না থাকায় কাল দেশবন্ধু পলিমারের লেনদেন শুরু হবে।
প্রকৌশল খাতে নতুন তালিকাভুক্ত দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি বাজারে চার কোটি শেয়ার ছাড়বে।

ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে আসছে ১০টি কোম্পানি

অভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে থাকা ১০টি কোম্পানিকে মূল মার্কেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ রোববার কমিশনের বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।
কোম্পানিগুলো হলো, বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড, সমতা লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড, অনলিমা ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেড, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং লিমিটেড, ঝিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড, শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড, নর্দার্ন জুট মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ও ওরিয়ন ইনফিউশ লিমিটেড।
আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে এই নির্দেশনাটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল মৌল ভিত্তির কোম্পানিকে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটে পাঠানো হয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

সবার ওপরে সিটি

হোক না শুধু ২৪ ঘণ্টার জন্য, হোক না ৩ ম্যাচ বেশি খেলে; তবু তো পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেল ম্যানচেস্টার সিটি। উলভারহাম্পটনকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে টপকে গেছে তারা। আজ টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে ম্যানইউ জিতলেই আবার শীর্ষস্থানটা হারাবে সিটি। আপাতত শীর্ষে থাকা সিটির ২৩ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট। ম্যানইউর ২০ ম্যাচে ৪৪।
সিটির মাঠে কাল অবশ্য প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল উলভসই। ১২ মিনিটে করা মিলিজাসের গোলটি ৪০ মিনিটে শোধ করেন কোলো তোরে। এর পর তোরে ভাইদের আরেকজন ইয়াইয়া ও কার্লোস তেভেজের জোড়া গোলে ব্যবধান বাড়ায় সিটি (৪-১)। সিটির ২৬ মিনিটের মধ্যে (৪০ থেকে ৬৬ মিনিট) করা ৪ গোলে একটু থমকে গেলেও ভালোই জবাব দিয়েছিল উলভসরা। ডয়েলের পেনাল্টি (৬৮ মিনিট) ও টেলর-ফ্লেচারের (৮০) গোলে ব্যবধান কমায় তারা।

ভারতের কোচ হবেন ফ্লেমিং

গ্যারি কারস্টেনের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপের পর। কারস্টেনের দিক থেকেও চুক্তি বাড়ানোর বিশেষ কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বকাপের পর তাহলে ভারতের কোচ হবেন কে? স্টিভেন ফ্লেমিং—অনেকেরই মুখে ঘুরছে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কের নাম।
ফ্লেমিং আপাতত ভারতেই আছেন। আইপিএলের দল চেন্নাই সুপার কিংসের কোচ তিনি। এ কারণেই নিউজিল্যান্ডের সাবেক ওপেনারের নামটা বেশি আসছে। চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) অধিনায়ক ভারতেরই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। এ দলটির সহমালিক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সম্পাদক শ্রীনিবাসন। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে গুঞ্জন—ভারতের পরবর্তী কোচ হচ্ছেন ফ্লেমিং।
ভারতীয় দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ তো লিখেই দিয়েছে, ‘সিএসকে অধিনায়ক ধোনির সঙ্গে ফ্লেমিংয়ের সম্পর্কটা দারুণ। শ্রীনিবাসনের সঙ্গেও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। সেপ্টেম্বরে হয়তো শ্রীনিবাসনই বিসিসিআইয়ের সভাপতি হয়ে যাবেন। এ কারণেই কারস্টেনের উত্তরসূরি ফ্লেমিং হয়ে গেলে বিস্ময়ের কিছু নেই।’

নেপালকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

পশ্চিম বাংলার হলদিয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডশিপ হ্যান্ডবলে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নেপাল। কাল নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মহিলা দল জিতেছে ২৮-৫ পয়েন্টে। প্রথমার্ধে ব্যবধান ছিল ১৫-৩। সাহিদা করেছেন সর্বোচ্চ ৮টি গোল। আজ বাংলাদেশ পুরুষ দল প্রথম ম্যাচ খেলবে নেপালের বিপক্ষে। বাংলাদেশ মহিলা দলের আজকের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত।

১৯০ রান করেও জিতল ভারত

অসাধারণ, দারুণ এক জয় ভারতের—টিভি চ্যানেল টেন স্পোর্টসের বিশ্লেষক চারুশর্মার কথা এটা। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর ধারাভাষ্যকার বললেন—দক্ষিণ আফ্রিকার আরেকটি অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বিপর্যয়! কাল দক্ষিণ আফ্রিকার নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১ রানের মহানাটকীয় এক জয়ই পেল ভারত। সেই জয় এল মুনাফ প্যাটেলের হাত ধরে। ভারতকে জেতাতে ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সেরা (৪/২৯) বোলিং করেছেন এই ভারতীয় পেসার।
আরও পরিণত হয়ে ওঠার প্রমাণ দিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা (৪/২২) বোলিং করেছেন লনওয়াবো সতসোবে। যুবরাজ, ধোনি, রায়না—ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের চার থেকে ছয় তাঁরই শিকার। এভাবে যে মেরুদণ্ডটা ভাঙলেন, এরপর ভারত আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। অলআউট হয়েছে ১৯০ রানে।
সতসোবের জবাব দিলেন ভারতের মুনাফ। ৫ ম্যাচের সিরিজে ভারতকে সমতায় ফেরালেন ১-১-এ। শুরু করেছিলেন ওপেনার আমলাকে ফিরিয়ে দিয়ে। এরপর ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা স্মিথকে ফিরিয়ে দলকে ফিরিয়েছিলেন লড়াইয়ে। আর শেষ দুটি উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উপহার দিয়েছেন অপ্রত্যাশিত পরাজয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ৪৭.২ ওভারে ১৯০/১০ (বিজয় ১৬, টেন্ডুলকার ২৪, কোহলি ২২, যুবরাজ ৫৩, ধোনি ৩৮, রায়না ১১, রোহিত ৯, হরভজন ৩, জহির ০, নেহরা ১, মুনাফ ৬*; সতসোবে ৪/২২, মরকেল ২/২৭, স্টেইন ২/৩৫, বোথা ১/৩৫)। দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৩ ওভারে ১৮৯ (স্মিথ ৭৭, আমলা ৪, ইনগ্রাম ২৫, ডি ভিলিয়ার্স ৮, দুমিনি ১৩, মিলার ২৭, বোথা ৪, পারনেল ১২, স্টেইন ৬, মর্কেল ৬, সতসোবে ১*; জহির ২/৩৭, মুনাফ ৪/২৯, নেহরা ১/৪০, হরভজন ১/৩২, রায়না ০/২৭, রোহিত ১/১২, যুবরাজ ০/৩)।

ব্র্যাডম্যানের মাথা থেকেই এক দিনের ম্যাচ

এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এল কীভাবে? কে-ই বা এর জনক? স্যার ডন ব্র্যাডম্যান—অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক বিল লরি বলে দিয়েছেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেট ব্র্যাডম্যানের মস্তিষ্কপ্রসূত।’
জীবনে কখনো ওয়ানডে খেলেননি। ওয়ানডে ক্রিকেট প্রথম অফিশিয়াল মর্যাদা পেয়েছে ১৯৭১ সালে। ব্র্যাডম্যান ক্রিকেট ছেড়েছেন এরও ২৩ বছর আগে। ব্র্যাডম্যান কীভাবে ওয়ানডে ক্রিকেটের উদ্ভাবক হলেন?
১৯৭১ সালে অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টটা অর্থ উপার্জনের উপলক্ষ হিসেবেই নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল তিনটি দিন। হতাশ হয়ে পড়েন অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তারা। কীভাবে কিছু টাকা বানিয়ে নেওয়া যায়? চিন্তা ছিল এটাই। ঠিক তখনই টাকা বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসেন ব্র্যাডম্যান।
অস্ট্রেলিয়ার তখনকার অধিনায়ক বিল লরি স্মৃতিচারণা করেন, ‘আমার স্মৃতি বলছে, স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান টাকা বানানোর একটা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন তখন। আর তিনি এটা ভালোই পারতেন।’ ব্র্যাডম্যান তখন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন।
অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টের পরিবর্তে ৫ জানুয়ারি, ১৯৭১ এক দিনের ক্রিকেটের ব্যবস্থা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের তখনকার সভাপতি। আর সেটা ফলদায়কও হয়, ‘তখন প্রায় ৪৬ হাজার টিকিট বিক্রি হয় আর তা থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার আয়ও হয়। তখনকার হিসাবে ভালোই বলতে হবে। আমার যদ্দুর মনে পড়ে, আগে কোনো টিকিটই বিক্রি হয়নি। টেস্ট ম্যাচ বাতিল করে এক দিনের ম্যাচের আয়োজন করার ঘোষণা দেওয়ার পরই মানুষ মাঠে এসেছিল।’
ওই ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলার হয়ে গেছে ৮ বছর। তবে অস্ট্রেলিয়ানরা এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলেইনি। তবু সেই ম্যাচে জয়ের হাসি হেসেছিল অস্ট্রেলিয়াই। লরির স্মৃতিচারণা, ‘ওয়ানডে ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয়, তা জানতামই না আমরা। তিনটি স্লিপ নিয়ে ফিল্ডিং সাজিয়েছিলাম। পরে অবশ্য সব ঠিকঠাক করে নিয়েছি।

জমজমাট আবহেও অনিশ্চিত ম্যাচ

‘ওহ্...ভুলেই তো গিয়েছিলাম কালকে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ’—আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আগের দিন কেন এক দলের অধিনায়ক বলছেন এমন কথা!
একাডেমি ভবন থেকে বের হয়ে সাকিব আল হাসান কথাটা বললেন মজা করেই। তবে মোহামেডান অধিনায়কের এই কৌতুকেই ফুটে উঠছে সময়ের বাস্তবতা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ নিয়ে সারা দেশ দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার দিন পেরিয়েছে অনেক আগেই। তবু পয়েন্ট টেবিলে দুই দলের পিঠোপিঠি অবস্থানের কারণে এবার যেটুকু উত্তেজনা, সেটুকুও মিলিয়ে গেছে বিশ্বকাপের উত্তেজনায়। প্রিয় ক্লাবের জয়ের চেয়ে বিশ্বকাপ দলটা কেমন হচ্ছে, মাশরাফি বিন মুর্তজা থাকছেন কি না, এগুলো নিয়ে মানুষের চিন্তা অনেক বেশি। মোহামেডানের অধিনায়ক জাতীয় দলেরও অধিনায়ক, বিশ্বকাপটা নিশ্চয়ই তাঁর ভাবনার বেশির ভাগ জুড়ে।
সাকিবের কথায় বিস্মিত না হওয়ার আরেকটা কারণ, তাঁর ধরনটাই এমন। চাপ ব্যাপারটা তাঁর কাছে অনাহূত। প্রতিপক্ষ আবাহনী হোক বা ওরিয়েন্ট-বিকেএসপি, ভাবনায় পরিবর্তন খুব বেশি হবে না। সাকিবের মুখেই শুনুন, ‘আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের উত্তেজনার কথা শুনেছি, কিন্তু নিজের কাছে কখনো আলাদা কিছু মনে হয়নি।’ সাকিবকে চিনে থাকলে বুঝতে পারবেন, বলার জন্য বলা নয়, এগুলো তাঁর মনের কথাই।
মনের কথা বলে ফেলায় বিশ্বাসী সাকিব আজকের ম্যাচের সম্ভাবনা নিয়ে বললেন, ‘আমরা পুরোপুরি সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আবাহনীর জেতার কোনো চান্স নাই। আমরা খারাপ খেললেই কেবল ওরা জিততে পারে।’ দুই দলের খেলোয়াড় তালিকা দেখলে মোহামেডানকে এগিয়ে রাখবেন যে কেউ। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে প্রতিপক্ষকে এভাবে উড়িয়ে দেওয়া, এই দুই দলের কোন অধিনায়ক কবে এমনটা করতে পেরেছেন! এই হলেন সাকিব।
তবে কাগজে-কলমের হিসাবকে আবার পাত্তাই দিলেন না খালেদ মাহমুদ। আবাহনীর কোচ তাকাতে বললেন পয়েন্ট টেবিলের দিকে, ‘মাঠের পারফরম্যান্সে আমরাই এখনো লিগের সেরা দল। আর কাগজে-কলমে আমরা পিছিয়ে এটাও মানতে রাজি নই। ওদের তামিম হয়তো বেশি বিপজ্জনক, কিন্তু আমাদের কায়েসও (ইমরুল) দারুণ ধারাবাহিক। গত বছর ওয়ানডেতে ৫ জন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের একজন ও। ওদের সাকিব ম্যাচ উইনার, আমাদের মাহমুদউল্লাহও অসাধারণ ফর্মে আছে। স্পিনে ওদের এনামুল আছে, আমাদের আছে রফিক। পেস বোলিংয়ে তো আমরাই এগিয়ে। তো শক্তিতে খুব পার্থক্য নেই, যে দল চাপ বেশি সামলাতে পারবে তারাই জিতবে।’
মাহমুদের দাবির সাক্ষ্য দেয় পয়েন্ট টেবিলেও। মোহামেডানের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে আবাহনী। গাজী ট্যাংকের কাছে হারের পাশাপাশি মোহামেডান টাই করেছে প্রাইম দোলেশ্বরের সঙ্গে। ৯ ম্যাচে আবাহনীর একমাত্র পরাজয় কলাবাগানের বিপক্ষে। আজ জিতলে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে যাবে আবাহনী, শিরোপা জয়ে যে ব্যবধানটা শেষ পর্যন্ত হতে পারে অমূল্য। মোহামেডান জিতলে তো শীর্ষেই উঠে যাবে। সুপার লিগে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা না থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়তো মোহামেডানরই হবে। তামিম-সাকিবরা থাকতে থাকতেই তাই লিগের বাকি দুই ম্যাচ জিততে চাইবে মোহামেডান।
উত্তেজনা আগের মতো নেই। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হারা যাবে না, এই মানসিকতা ঠিকই আছে। সঙ্গে বিদেশি খেলোয়াড় কোটা নিয়ে গতকালের দ্বন্দ্বও যোগ করেছে নতুন উত্তেজনা। জমজমাট এক ম্যাচের রসদ প্রস্তুত, কিন্তু ম্যাচটা হবে কি না, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

শুরু হয়ে যাচ্ছে ‘রাফা স্লাম’

ফেদেরার বলছেন, ‘নাদাল।’ নাদাল বলছেন, ‘না!’
গত বছরের শেষ তিনটি গ্র্যান্ড স্লামই জিতেছেন বলে রাফায়েল নাদালের দরজায় কড়া নাড়ছে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বছর শুরুর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলে চারটি শীর্ষ টুর্নামেন্টের শিরোপাই থাকবে তাঁর নামের পাশে। সর্বশেষ যে কীর্তি গড়েছিলেন রড লেভার, ১৯৬৯ সালে।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোরে শুরু হয়ে যাচ্ছে ‘রাফা স্লাম’। এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনকে এখন এই নামেই ডাকছে কেউ কেউ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রজার ফেদেরারও বলছেন, এবার নাদালই ফেবারিট, ‘গ্র্যান্ড স্লামে এখন ওরই আধিপত্য। গত তিনটি গ্র্যান্ড স্লামের দিকে তাকান, খুব একটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেও ওকে পড়তে হয়নি। এ কারণেই ওই ফেবারিট। আমি যে এবার ফেবারিট নই, এ নিয়ে আমার কোনো আপত্তিও নেই।’
নাদালকে ফেবারিটের তকমা দিয়ে চাপটা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন না তো ফেদেরার? নাদালের কথা শুনে সে রকম ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। ২৪ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড যেমন ফেবারিট বলছেন ফেদেরারকেই, ‘আমি নিজের সেরাটাও খেললে বড়জোর দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত যেতে পারব। তার পরও কী হয় সেটা তখন দেখা যাবে। তবে আমি নিশ্চিত, ফেদেরার আমার চেয়ে বেশি ফেবারিট। জোকোভিচ, মারে, সোদারলিংয়ের চেয়েও আমি বেশি এগিয়ে নেই।’
ফেবারিটের চাপ সরানোর পাশাপাশি নাদাল এও বলে রাখলেন, টানা চারটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও নাকি তিনি ভাবছেন না, ‘আমার মনে হয় এটা প্রায় অসম্ভব। এটা খুব, খুবই কঠিন। টেনিসে এখন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যবধান খুব একটা নেই। ম্যাচের কয়েকটি মুহূর্তই ফল পাল্টে দিতে পারে। একজন খেলোয়াড়ই সব জিতবে—এমনটা এখন খুবই কঠিন।’
কিন্তু নাদাল তো জিতেছেন। ২০১০-ই তার প্রমাণ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চোটের কারণে কোয়ার্টার ফাইনালটি শেষ করতে পারেননি। এরপর মাস দুই কোর্টের বাইরেই ছিলেন। ফিরে আসার পর নাদাল-রথ ছুটছেই। সর্বশেষ কাতার ওপেনের সেমিফাইনালে অবশ্য হেরে গেছেন যাচ্ছেতাইভাবে। যদিও নাদাল খেলেছিলেন জ্বর নিয়ে।
আসলে নাদালও ঠিক বলছেন, ফেদেরারও। নাদালও ফেবারিট, ফেদেরারও! গত ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টের ১৮টি শিরোপা উঠেছে এই দুজনের হাতেই। এই দ্বৈরথ অবশ্য বেশি দিন আর চলবে না বলেও মনে করছেন নাদাল। তবে এটির শেষ অন্তত এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যাতে না হয়, টেনিস-প্রেমীরা সেই প্রার্থনাই করবে।
মেয়েদের কোর্টে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সেরেনা উইলিয়ামস না থাকায় এবারের টুর্নামেন্টটি নাকি আক্ষরিক অর্থেই ‘ওপেন’ হয়ে গেছে। এক নম্বর বাছাই ক্যারোলিন ওজনিয়াকি তাই স্বপ্ন দেখতেই পারেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের। সেই স্বপ্ন দেখছেন ভেরা জনারেভাও। গত বছর উইম্বলডন আর ইউএস ওপেনের ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েও একটুর জন্য ট্রফি ছোঁয়া হয়নি এই রুশ নন্দিনীর। এই দুই তরুণের মতো চমকে দিতে পারেন দুই ‘বুড়ো’ কিম ক্লাইস্টার্স ও জাস্টিন হেনিন। আর উইলিয়ামস পরিবারের পতাকা নিয়ে হাজির ভেনাসও চাইবেন ছোট বোনের জন্য কিছু একটা করতে।

আবারও সেই নিউজিল্যান্ড

দিনের প্রথম ওভারের শেষ বল ছিল সেটি। অফ স্টাম্পের একটু বাইরে পিচ করা বলটি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কিন্তু তাঁকে চমকে দিয়ে বল ঢুকল ভেতরে। প্যাডে আঘাত। পাকিস্তানিদের আবেদনে সাড়া দিয়ে উঠে গেল ড্যারিল হার্পারের তর্জনী। শূন্য রানে নিজেদের মূল ব্যাটসম্যানটিকে হারাল নিউজিল্যান্ড। সকালেই পাওয়া গেল দিনের পূর্বাভাস!
লোয়ার-মিডল অর্ডার ঘুরে দাঁড়ানোয় রক্ষা। ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দিনে নিউজিল্যান্ডের স্কোরটা যা একটু ভদ্রস্থ দেখাচ্ছে ছয়-সাত-আট নম্বর ব্যাটসম্যানের তিনটি ক্যামিও ইনিংসের সৌজন্যে। এক থেকে পাঁচের মধ্যে রান করেছেন কেবল একজনই—রস টেলর। টপ-অর্ডারের আরেকটি ব্যর্থতার কারণে নিউজিল্যান্ড তখন ১০০ থেকে ২ রানের দূরত্বে থাকতেই হারিয়ে ফেলেছে ৪ উইকেট। টেলরের ৭৮, প্রায় দুই বছর পর টেস্ট খেলতে নামা জেমস ফ্রাঙ্কলিনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে তাঁর ৬৮ রানের জুটি মান বাঁচিয়েছে স্বাগতিকদের।
নিউজিল্যান্ড আজ কোথায় গিয়ে থামবে সেটি নির্ভর করছে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি আর রিস ইয়াংয়ের ওপর। এরই মধ্যে এই জুটি ৬৬ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন আছে। অনেক দিন পর ভেট্টোরিকেও বেশ সাবলীল দেখাচ্ছে উইকেটে।
দিনের নায়ক পাকিস্তানি পেসাররাই, যাঁরা শুরু থেকে সহজ সূত্র মেনে বল করে গেছেন। বেশি কারিকুরি নয়, নিয়ন্ত্রিত বোলিং, সঙ্গে কন্ডিশনের সদ্ব্যবহার। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা গত টেস্টের শেষ সেশনে অলআউট হওয়া থেকেও কিছু শেখেননি বলেই মনে হচ্ছে। এই ম্যাচের আগে ভেট্টোরি আর কোচ জন রাইট যে ধৈর্যটা দেখতে চেয়েছিলেন দলের মধ্যে, অন্তত টপ-অর্ডার সেটি দেখাতে ব্যর্থ। পাঁচ ব্যাটসম্যানেরই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়া সে কথাই বলছে। শুধু ম্যাককালাম হয়েছেন এলবিডব্লু।
ম্যাককালাম অবশ্য দাবি করতে পারেন, তিনি দুর্ভাগ্যের শিকার। রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে, বল অনেক ওপরে ছিল। নিউজিল্যান্ড কিন্তু এ নিয়ে বেশি ট্যাঁ-ফোঁ করার সুযোগ পাবে না। কারণ গুলের পরের ওভারেই মার্টিন গাপটিলের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল জমা পড়েছিল উইকেটরক্ষকের হাতে। হার্পার এবার দিয়েছেন নটআউট!
দিনের প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টাটাই গুল এভাবে ত্রস্ত করে রাখলেন কিউই ব্যাটসম্যানদের। ধারাবাহিকতার পুরস্কার হিসেবে ব্যাটিং-অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে তিনে নামা কেন উইলিয়ামসনও তাঁর শিকার হলে ৮০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায় নিউজিল্যান্ড।
পরের সেশনের প্রথম ঘণ্টাটি ছিল তানভির আহমেদের। পরপর দুই বলে মার্টিন গাপটিল আর জেসি রাইডারকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সামনেও গিয়েছিলেন এই পেসার। রাইডার টানা দ্বিতীয় ইনিংসে পেলেন ‘গোল্ডেন ডাক’।
এর পরই টেলর আর ফ্রাঙ্কলিনের প্রতিরোধ। কিন্তু সেট হয়ে যাওয়ার পর মাত্র ১৪ রানের ব্যবধানে দুজন ফিরে গেলে নিউজিল্যান্ড পরিণত হয় ৬ উইকেটে ১৮০ রানে। ভেট্টোরি-ইয়াংয়ের প্রতিরোধে শেষ বিকেলে আর কোনো বিপদের মুখে পড়েনি নিউজিল্যান্ড। আজ পাকিস্তান দ্রুত লেজটা ছেঁটে ফেলতে চাইবে। আর আদনান আকমল চাইবেন, শেষ চার উইকেট পতনের অন্তত তিনটিতে যেন তাঁর ভূমিকা থাকে। কাল পাঁচটি ক্যাচ ধরা এই উইকেটরক্ষক যে তাহলে গড়বেন ডিসমিসালের নতুন বিশ্ব রেকর্ড।

‘বিশ্বকাপের’ ম্যাচ মেলবোর্নে

সেই জানুয়ারি, সেই মাঠ, সেই দুই দল। ওয়ানডে ক্রিকেট যখন চার দশক পূর্তি করছে, সেই সময় মেলবোর্নে মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড। যে চার দশকের পালাবদলে এক দিনের ক্রিকেট দেখেছে রঙিন পোশাক, সাদা বল, রঙিন টিভি। যুক্ত হয়েছে পাওয়ার প্লে, এসেছে হক আই, সুইচ হিট...আরও কত কী! একটা জিনিস অবশ্য পাল্টায়নি—জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার উদগ্র আকাঙ্ক্ষা। যে ‘জয়’ কিছুদিন হলো অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় মরীচিকার নাম। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলে গত ২৭ ম্যাচে যারা জিতেছে মাত্র সাতটি!
আজ শুরু সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে অত্যন্ত জরুরি আত্মবিশ্বাসটুকুর কিছুটা অস্ট্রেলিয়া অবশ্য পেয়েছে গত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। যদিও মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিজেদের সাম্প্রতিক রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার জন্য হতে পারে ভয়ের কারণ। এ মাঠের সর্বশেষ নয় ওয়ানডের ছয়টিতেই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। এরই মধ্যে আবার অস্ট্রেলিয়া ঘন ঘন নেতৃত্ব বদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পন্টিং, এর পর ক্লার্ক, ক্যামেরন হোয়াইট; আজ আবার ক্লার্ক। চোটের কারণে এই সিরিজে খেলা হচ্ছে না পন্টিংয়ের।
অবশ্য ক্লার্কের জন্য দলকে উজ্জীবিত করাটা খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। ১৯ জানুয়ারি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার শেষ দিন। এর আগে এই একটিই ম্যাচ। বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার বিকল্প কী! দলে ফিরে এসেই অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস যেমন এরই মধ্যে সতীর্থদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, ‘পরিস্থিতি একটু নাজুক। কারণ সাত ম্যাচ সিরিজের প্রথমটির পরই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করতে হবে। এটা তাই সবার জন্যই কঠিন পরিস্থিতি।’
তবে এমন তো নয়, এই ম্যাচের ওপরই নির্ভর করছে সবার ভাগ্য। দুই দেশের নির্বাচকই বিশ্বকাপের ১৫ জনের বেশির ভাগ ক্রিকেটারকে এরই মধ্যে ঠিক করে ফেলেছেন। দু-একটা জায়গা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা। এই ম্যাচ ঠিক করে দেবে সেটাই। অনেকের জন্যই তাই আজকের ম্যাচটি বিশ্বকাপের ম্যাচ!

ঝুলে থাকল মাশরাফির ভাগ্য

একের পর এক শট খেলে নেট বোলারদের মাঠের চারপাশে আছড়ে ফেলছেন, অনুশীলন দেখতে আসা দর্শকের তুমুল করতালি। জাতীয় দলের অনুুশীলন কাল মাতিয়ে রাখলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু দেশ তো তাঁকে এভাবে দেখতে চায় বিশ্বকাপ মাতাতে।
রানিং-ব্যাটিং তো শুরু করেছেন। কিন্তু যেটা আসল, সেই বোলিং-ই যে এখনো শুরু করতে পারেননি! বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার বাকি আরও তিন দিন। তবে এই কদিনে যেহেতু অবস্থান নাটকীয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তা ছাড়া দল অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা আছে, কালই বিসিবির কাছে মাশরাফির মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিয়েছেন ফিজিও মাইকেল হেনরি। রিপোর্টে কী আছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে শর্ট রানআপে বোলিং করতে পারবেন মাশরাফি, পুরো রানআপে বোলিং করতে পারবেন ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। তার পরও মাশরাফিকে রাখা হবে কি না, চূড়ান্ত হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটির সভায়।
কোচ জেমি সিডন্স কিন্তু মনেপ্রাণেই মাশরাফিকে চাইছেন। তবে সে হতে হবে কেবল পুরো ফিট মাশরাফি, ‘মাশরাফির কোনো বিকল্প হয় না। গত সিরিজে বা গত ১০ বছর সে যেভাবে খেলেছে, তাতে ওর কোনো বিকল্প নেই। তা ছাড়া আমাদের সম্ভাব্য ফাস্ট বোলারদের মধ্যে কেবল ওরই বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ও-ই আমাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সেরা বোলার। কিন্তু সমস্যা হলো ও ফিটের কাছাকাছিও নয়। যদিও পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ায় আছে, কিন্তু হাতে সময় বেশি নেই। নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দ্রুত। দলের জন্য ও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলেই আমরা এত অপেক্ষা করছি, অন্য কেউ হলে হয়তো অপেক্ষাই করতাম না। কিন্তু ফিট না থাকলে আর কী-ই বা করা যাবে।’
মাশরাফি কিন্তু হাল ছাড়ছেন না। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে মরিয়া বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি পেসার, ‘আজকে ৮০ ভাগ রানিং করেছি, আগের চেয়ে অবস্থা অনেক ভালো। ব্যথাটা ও রকম নাই। সময় লাগবে, তবে সবকিছু ভালোমতোই এগোচ্ছে। ফিজিও যেসব কাজ দিচ্ছে, সেসব করতে সমস্যা হচ্ছে না বলেই আশা করছি তাড়াতাড়িই বোলিং করতে পারব। আমি বিশ্বকাপ খেলতে চাই, এ জন্য শতভাগ ঝুঁকি নিতে হলেও আমি রাজি।’
কিন্তু বিশ্বকাপই কি সবকিছু, এত ঝুঁকি নিয়ে খেলে কি ক্যারিয়াটাকেও ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন না? চোটের সঙ্গে লড়াইয়ে অভিজ্ঞ মাশরাফি প্রশ্নটিকে হেসেই উড়িয়ে দিলেন, ‘আমার যে চোট, এতে ক্যারিয়ার ঝুঁকির কিছু নেই। যদি আমার লিগামেন্ট ছিঁড়েও যায় তাহলেও গ্রাফটিং পুরোটাই করতে হবে। অপারেশন একই। যেটা হতে পারে, এটা আগেও হয়েছে। ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।’
শেষ পর্যন্ত মাশরাফি যদি ফিট হয়েও ওঠেন, তাহলেও তো ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি থেকে যাবে। সেটিও আবার ভোগাতে পারে বাংলাদেশকে। তবে আবারও অতীত অভিজ্ঞতাই সাহস দিচ্ছে বিশ্বকাপে ১০ উইকেটের মালিককে, ‘এর আগের চোটের সময়ও দুই মাস বসে ছিলাম। ছয় সপ্তাহ পর খেলতে নেমেছি। দুই ম্যাচ পরই সব ঠিক হয়ে গেছে। তা ছাড়া আমাদের এখানে যে অনুশীলনটা হয়, সেটা ম্যাচের মতোই। বিশ্বকাপের আগে আমাদের প্রস্তুতি ম্যাচও আছে। মনে হয় না তাই সমস্যা হবে।’
কিন্তু মাশরাফির এ কথায় কতটা আস্থা পাবেন নির্বাচকেরা? উত্তর মিলবে হয়তো ১৭ ফেব্রুয়ারি।

অস্ট্রেলিয়াকে ২৯৫ রানের টার্গেট দিল ইংল্যান্ড

চব্বিশ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের পর এবার সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও শুভসূচনা করেছে ইংল্যান্ড। কেভিন পিটারসেনের ৭৮ ও অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ৬৩ রানের উপর ভর করে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছুঁড়ে দিয়েছে ২৯৫ রানের টার্গেট।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। শুরুটাও করেছিলেন দুর্দান্তভাবে। উদ্বোধনী জুটিতে স্টিভ ডেভিসকে নিয়ে মাত্র ১২ ওভারেই যোগ করেন ৯০ রান। কিন্তু এরপর ৪২ রান করা ডেভিসকে বোল্ড করে ইংলিশ শিবিরে প্রথম আঘাতটা হানেন ডেভিড হাসি। বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেন নি অ্যাশেজ হিরো জনাথন ট্রট। দুই ওভার পরেই ফিরে গেছেন মাত্র ৬ রান করে। দলীয় ১৩১ রানের মাথায় স্ট্রাউসের ৬৫ বলে ৬৩ রানের অসাধারণ ইনিংসটির ইতি টানেন ব্রেট লি। স্ট্রাউসের বিদায়ের পর কিছুটা আশার আলো দেখতে পেয়েছিলেন অসি সমর্থকরা। কিন্তু ততক্ষণে উইকেটে জাঁকিয়ে বসেছেন কেভিন পিটারসেন। বড় কোন পার্টনারশিপ না গড়তে পারলেও ইয়ান বেল, টিম ব্রেসনানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বেশ ভালোমতোই সচল রেখেছিলেন রানের চাকা। ৪৩ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছিল ২৫৬ রান। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের সুবিধাটা তখনো না নেওয়ায় সবাই অনুমান করেছিলেন যে, অনায়াসেই তিন শতাধিক রান ছাড়িয়ে যাবে ইংলিশরা। কিন্তু পিটারসেন ৭৮ রান করে দুর্ভাগ্যবশত রানআউটের শিকার হওয়ায় ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ফায়দাটা ঠিকমতো তুলতে পারে নি ইংল্যান্ড। শেষপর্যন্ত ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ২৯৪ রানে।

ভেট্টোরির সেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে নিউজিল্যান্ড

ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দিনে ১৮০ রানেই ছয় উইকেট হারিয়ে বেশ ভালো রকম চাপের মুখে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। গতকালই সপ্তম উইকেট জুটিতে ৬৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে সেই বিপর্যয় কিছুটা সামলে নিয়েছিলেন অধিনায়ক ডেনিয়েল ভেট্টোরি ও রিস ইয়ং। আজ দ্বিতীয় দিনে তাঁরা এই জুটিটাকে টেনে নিয়ে গেছেন ১৩৮ রান পর্যন্ত। ১১০ রানের অসাধারণ অধিনায়কোচিত এক ইনিংস খেলেছেন ভেট্টোরি। ভেট্টোরির এই সেঞ্চুরির সুবাদে প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ রান। গতকালের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান ইয়ং আউট হয়েছেন ৫৭ রান করে। জবাবে ব্যট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে পাকিস্তান।
আজ দ্বিতীয় দিনে নিশ্চিতভাবেই খুব তাড়াতাড়ি নিউজিল্যান্ডকে গুটিয়ে দেওয়ার আশা করেছিলেন পাকিস্তানি বোলাররা। কিন্তু দিনের শুরুতে অনেকটা সময় তাঁদের হতাশ করেছেন ভেট্টোরি আর ইয়ং। ব্যাট করেছেন প্রায় ২৪ ওভার। স্কোরবোর্ডে তিন শতাধিক রান জমা করে ধরে রেখেছেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিতে সক্ষম হয়েছেন তানভির আহমেদ। ৩১৮ রানের মাথায় ইয়ংকে বাধ্য করেছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে। ইয়ং আউট হয়ে গেলেও একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন ভেট্টোরি। টেম সোউদি ও ব্রেন্ট আর্নেল খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি উইকেটে। স্কোরবোর্ডে ৩৫৬ রান জমা করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি আউট হয়েছেন আবদুর রেহমানের বলে।
নিউজিল্যান্ডের ৩৫৬ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানও লড়ছে সমানে সমানে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ হাফিজ মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে গেলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৩২ রানের জুটি গড়ে সেই বিপর্যয় সামলে নিয়েছেন তৌফিক উমর ও আজহার আলী। তবে দিনের শেষ বলে ৭০ রান করা উমরকে আউট করে কিউই শিবিরে আশা জাগিয়ে রেখেছেন ভেট্টরি। আজহার ৬২ রান করে অপরাজিত আছেন।

শচীনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষ

প্রায় নয় মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটের আঙ্গিনায় ফিরে এসেছিলেন লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। ফিরে এসেই নতুন এক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন ভারতের এই ব্যাটিং আইকন। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেটি খেলার পর তিনি ভাগ বসিয়েছেন জয়সুরিয়ার সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে (৪৪৪) খেলার রেকর্ডে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটি ১৩৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১ রানের অসাধারণ এক জয় পেয়েছে তাঁর দল। কিন্তু এতকিছুর পরও দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে জগতে এই প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হলো না টেন্ডুলকারের। গতকাল নতুন করে হাঁটুর ইনজুরির কবলে পড়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে ৪৪ বলে ২৪ রানের সংক্ষিপ্ত একটা ইনিংস খেলতে পারলেও ফিল্ডিংয়ের সময় আর মাঠেই নামতে পারেন নি। আর এ ইনজুরিতেই শেষ হয়ে গেছে শচীনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে তাঁকে। শচীনের বদলী হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান পার্থিব প্যাটেলকে।
টেন্ডুলকারের এই ইনজুরিতে ভয়ানক দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে ভারতীয় শিবির। তাদের দুশ্চিন্তা যতোটা না দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই ওয়ানডে সিরিজটাকে ঘিরে, তারচেয়েও অনেকগুন বেশি বিশ্বকাপ নিয়ে। উপমহাদেশে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেতে হলে এ সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান টেন্ডুলকারের উপরই যে অনেকখানি নির্ভর করতে হবে তাদের।

বিকল্প ভাবনা বিকল্প সংস্কৃতি by বিশ্বজিৎ ঘোষ

নাতন ভাবনা আর প্রচল সংস্কৃতির ঘেরাটোপে বন্দি আমরা। যা চলছে, যেভাবে চলছে, তা মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে থাকে সাধারণ মানুষ। মধ্যস্তরের মানুষও মূলত প্রচল সংস্কৃতির উপাসক। ব্যতিক্রম যে নেই, তা বলা যাবে না। তবে সাধারণ অর্থে উপযুক্ত ভাষ্যই সহজাত প্রবণতা। কিন্তু সনাতন ভাবনা আর প্রচল সংস্কৃতি থেকে কি নতুন ভাবনা বিকল্প সংস্কৃতির