Monday, November 4, 2019

২০০ পুরুষের শয্যাসঙ্গী, অতঃপর...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কি যৌন আসক্তিকে বাড়িয়ে দিতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে লঁরা জেড উডরাফ মনে করেন, অবশ্যই পারে। অন্তত নিজের জীবন দিয়ে তিনি তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একাধিক পুুরুষের সঙ্গে তিনি যৌন আসক্তিতে পড়েছেন। তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এমন পুরুষের সংখ্যা হবে প্রায় ২০০। অবশেষে যখন হুঁশ ফিরেছে তখন এ পথ থেকে ফিরেছেন। এসব নিয়েই তিনি একটি বই লিখেছেন। তাতে সব স্বীকার করেছেন লঁরি।
এতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামকে বর্ণনা করেছেন ‘প্রলোভনের খেলার মাঠ’ বা প্লেগ্রাউন্ড অব টেম্পটেশন’ হিসেবে। বৃটেনের শেফিল্ডে বসবাসকারী এই যুবতী ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছেন। তারপর তাদের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে। এক রাতের জন্য তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। লঁরি স্বীকার করেন, এভাবে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করাটা অনেক সহজ। এ জন্যই এত বেশি মানুষ নিয়মিত যৌনতায় আসক্ত হচ্ছে।
সাবেক এই যৌন আসক্ত যুবতী লঁরি তার কুমারিত্ব হারান মাত্র ১২ বছর বয়সে। অর্থাৎ ওই সময়েই তিনি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। টিনেজ বয়সে তা তার মধ্যে আসক্তি সৃষ্টি করে। যৌনতার আগ্রহ বাড়তেই থাকে। বয়স যখন ২০ পেরিয়েছে তখন থেকে ২৯ বছর বয়সের মধ্যে তিনি ১০০ থেকে ২০০ পুরুষের সঙ্গে যৌনতায় মেতেছিলেন। এসব পুরুষের বেশির ভাগের সঙ্গে তার প্রেম বা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বর্তমানে তার বয়স ৩০ বছর। তিনি বৃটিশ একটি পত্রিকাকে বলেছেন, ইন্সটাগ্রাম হলো প্রলোভনের পূর্ণাঙ্গ এক ময়দান। আমার সবচেয়ে খারাপ বিষয়টি ছিল যে, যার সঙ্গে আমার পরিচয় হতো সেই নতুন নতুন পুরুষের সঙ্গে আমি শয্যাসঙ্গী হতে থ্রিল অনুভব করতাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাকে সেটা সহজ করে দিয়েছিল। এ জন্য আমার বার-এ যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। দামি ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের দরকার পড়তো না। আমি বাসায় বসে অনায়াসে ইন্সটাগ্রাম ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যে মনের রসদ যোগাড় করে নিতাম।

লঁরি নিজে যৌন সম্পর্ক না খুঁজলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অফারে সয়লাব হয়ে যেতেন তিনি। এর মধ্যে তিনি বেছে বেছে সঙ্গী নির্বাচন করতেন। তবে তাদের কেউ কেউ আবার তাকে বিপদজনক অবস্থায় নিয়ে যেতেন। এমনই একজন সুদর্শন যুবক তার হৃদয়ের স্পন্দনকে পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ পথ থেকে তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে যোগাযোগ করেন একটি ওয়েবসাইটের সঙ্গে। এটি হলো ‘সেক্স অ্যান্ড লাভ অ্যাডিক্টস অ্যানোনিমাস’ (এসএলএএ)। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন লঁরি। তারা তাকে ১২ ধাপের কর্মসূচি দিল। সেখানে গিয়ে একই রকম আরো আসক্তের এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পেলেন তিনি। নিয়মিত তাদের মিটিংয়ে উপস্থিত হতে লাগলেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লেখার সিদ্ধান্ত নিলেন। লিখেও ফেললেন বই। প্রকাশিত হয়েছে সেই বই। দাম ৯.৯৯ পাউন্ড।

প্রকৃতির মাঝে সজীব নেপালের থারু গোষ্ঠী by বেনজীর আহমেদ সিদ্দিকী

বাংলা চলচ্চিত্রে প্রায়ই চৌধুরী সাহেবের ভয়ে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়! বাংলাদেশে চৌধুরী বংশের অর্থবিত্ত, সামাজিক অবস্থান, প্রভাব ও প্রতাপকে বোঝাতে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয় এটি। মজার ব্যাপার হলো, নেপালে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি বসবাস করা এবং পুরোপুরি কৃষিনির্ভর, নিরীহ ও সাধারণ একটি গোষ্ঠীর নাম ‘থারু’, যাদের প্রধান বংশের নাম ‘চৌধুরী’। থারু জনগোষ্ঠী প্রধানত পাঁচটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। এগুলো হলো– রানা, কাঠারিয়া, ডাংগাঊরা, কচিলা ও মেখ। তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগের বংশ পদবী ‘চৌধুরী’।
কৃষিকাজ, মৎস্য ও বন্যপ্রাণী শিকারের জন্য নানান উপকরণ
নেপালের আকাশছোঁয়া বিশাল বিশাল পাহাড়ে ঝিম ধরা নিস্তব্ধতা। এর সঙ্গে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর স্রোতের গুঞ্জরনের রেশ কাটতে না কাটতেই চোখ আটকে যায় সবুজ মাঠ ও উপত্যকায়, যা তরাই ও মধ্য তরাই অঞ্চল। এটিই নেপালের সবচেয়ে বড় সমতল ভূমি বা উপত্যকা। এখানেই প্রকৃতির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে মিশে থাকা থারু গোষ্ঠীর বসবাস। কৃষিপ্রধান এই মানুষদের রয়েছে মুগ্ধ করার মতো চমৎকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। নেপালের তরাই ও মধ্য তরাই অঞ্চল এবং ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে প্রায় ২১ লাখ থারুর বসবাস। তাদের প্রায় ৮০ ভাগের অধিক বসবাস করে নেপালে।
থারুদের প্রাচীন ও সবচেয়ে বড় বাসস্থান মধ্য তরাইয়ের দাং উপত্যকা তৈরি নিয়ে রয়েছে চমৎকার এক কিংবদন্তি। থারু বিশ্বাস অনুযায়ী, দাং উপত্যকা পানিতে প্লাবিত ছিল। থারুদের গুরু বাবা (ধর্মীয় নেতা) একটি পদ্মপাতা দাং উপত্যকার পানিতে ভাসিয়ে দেন। এরপর সেখান থেকে নতুন পদ্ম গাছ তৈরি হয় এবং গাছের শিকড়ে সৃষ্টি হয় কেঁচো। এই কেঁচো থেকে তৈরি হলো পবিত্র মাটি ও ভূমি। সেই ভূমিতে আস্তে আস্তে গাছপালা সৃষ্টি হলো এবং পশু-পাখি অবাধে বিচরণ শুরু করলো। এরপর গুরুবাবা তার অনুসারী থারুদের দাং উপত্যকায় বসবাসের জন্য পাঠিয়ে দিলেন।
কৃষিকাজ, মৎস্য ও বন্যপ্রাণী শিকারের জন্য নানান উপকরণ
থারুরা গুচ্ছ গুচ্ছভাবে গ্রামে বসবাস করে। প্রতিটি গ্রামে আছে একজন গ্রামপ্রধান, যিনি ‘মাহাটন’ নামে পরিচিত। একেকটি থারু পরিবারের গৃহপ্রধান (যাদের গারধুরিয়া বলে) একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে একজন জ্ঞানী, সাহসী ও দক্ষ গ্রামপ্রধান নির্বাচন করেন। নির্বাচনের দিন গ্রামে নাচ-গানের দারুণ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ঘরবাড়িগুলো নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি সবার মাঝে নতুন চালের ভাতের সঙ্গে নানান শাকসবজি, শামুক ও কাঁকড়া সিদ্ধ পরিবেশন করা হয়।
পায়ের খড়ম, থারু পোশাক পরা লেখক ও বিয়ের পালকী
গ্রামপ্রধান নির্বাচনের কিছুদিন পর প্রথা অনুযায়ী থারু পুরুষরা শিকারে বের হয়। শিকারের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর থারু পুরুষ ভাতের তৈরি বিয়ার (যা ‘আন্দিক জার’ নামে প্রচলিত) পান করে। এরপর থারু শৌর্য-বীর্যের প্রতীক হিসেবে মাথায় জড়িয়ে নেয় সাদা রঙের কাপড়। গাছ বা বুনো ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে এবং গাছে চড়ে থারুরা তীর-ধনুক, বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও বর্শা দিয়ে শিকার করে থাকে। সারাদিন বনে ঘুরে বনমোরগ, ইঁদুর, বেজী, গিরগিটি, বন্য শুঁকর ইত্যাদি শিকার করে বিকেলে বাড়ি ফেরা হয় তাদের। সন্ধ্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে পরিবারের সবাই মিলে শিকার করা পাখি বা প্রাণীর পেকওয়া বা ঝোল রান্না করে খায় তারা। থারুদের অত্যন্ত প্রিয় ভাতের বিয়ারও সঙ্গে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে ফসল উৎপাদন, মাছ ধরা, বণ্যপ্রাণী শিকার ও বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে থারুরা জীবিকা নির্বাহ করে।
কৃষিকাজ, মৎস্য ও বন্যপ্রাণী শিকারের জন্য নানান উপকরণ
থারুদের খাদ্য সংস্কৃতিতে রয়েছে চমৎকার বৈচিত্র্য। আঠালো ভাতের নাম আন্দিক। আর ঢীক্রি হলো চালের আটার ডোকে বাষ্পের সাহায্যে সেদ্ধ করে বানানো সসেজ। এর সঙ্গে ধনিয়ার গুঁড়ো, টক চাটনি, ডাল ও তরকারির ঝোল দিয়ে খেতে বেশ ভালো লাগে তাদের। আর সঙ্গে যদি থাকে চিকন সুগন্ধি চালের ভাতের বিয়ার, তাহলে তো কথাই নেই! থারুরা এই বিয়ার পানের মাধ্যমে সারাদিনের শক্তি সঞ্চয় করে। চাটনি ও জিরা-ধনিয়া গুঁড়োসহ পাহাড়ি নদীর আসালা মাছ ভাজি ও মোরগ বা মুরগি আর কবুতরের পেকওয়া তাদের ভীষণ পছন্দের খাবার। এর পাশাপাশি থারুরা শামুক ও কাঁকড়া সেদ্ধ খেতে ভীষণ ভালোবাসে।
ঢীক্রি ও আসালা মাছ ভাজা (ধনিয়া গুঁড়োসহ পরিবেশনা)
থারু সম্প্রদায়ের বাড়িগুলো সাধারণত মাটি, গোবর, বাঁশ, কাঠ, ছন ও পোড়া মাটির টালী দিয়ে তৈরি হয়। সোনালি বা মাটি রঙের বাড়িগুলো দেখতে খুব সুন্দর। থারুদের পোশাক পরিচ্ছদ ও গয়না খুবই সাধারণ। তারা সাদা রঙের কাপড় পরতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ঐতিহাসিকভাবে থারুরা কাঠের তৈরি জুতা ব্যবহার করতো। প্রথা টিকিয়ে রাখতে এখনও অনেক থারু কাঠের তৈরি জুতা ব্যবহার করে।
থারুরা প্রথাগত নিয়মে বিয়ের বন্ধনে জড়ায়। বেশ কয়েকদিন ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে চলতে থাকে আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় বর-কনে সাদা রঙের ঐতিহ্যবাহী থারু পোশাক পরে। বিয়ের পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বর ও কনেকে গলায় ঘাসের মালা রাখতে হয়। ঘরগুরুয়া বা পুরোহিতের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। যে চুলায় বর ও কনের জন্য সরিষার তেল দিয়ে বিভিন্ন রান্না হবে, তাতে আগুন জ্বালিয়ে সরিষার তেল ও ঘাসে মন্তর পড়ে পবিত্র করে বিয়ের কাজ শুরু করেন পুরোহিত। বিয়ের পর কনে পালকিতে চড়ে বরের বাড়িতে যায়।
পাহাড়ি মোরগের পেকওয়া (রন্ধন প্রস্তুতি ও ধনিয়া, জিরা গুঁড়োসহ পরিবেশনা)
নেপালের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬ দশমিক ৬ ভাগ হচ্ছে থারু জনগোষ্ঠী। তাদের আছে প্রবঞ্চনা ও কষ্টের এক দীর্ঘ আখ্যান, যেখানে পাওয়া যাবে সহজ সরল থারুদের প্রতারিত হওয়া আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
তরাই ও মধ্য তরাইয়ের বিশাল বনাঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রচণ্ড প্রকোপ ছিল। সেখানে অন্য কোনও জনগোষ্ঠী বাস করতে চাইতো না। তৎকালীন শাসকেরা সহজ-সরল, দরিদ্র থারুদের ওই অঞ্চলে বসবাসের জন্য পাঠিয়ে দিতো। একপর্যায়ে থারুরা কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে বন থেকে ঝোপঝাড় কমিয়ে চাষযোগ্য সমতল ভূমি তৈরি করতে সক্ষম হয়। ফলে পর্যায়ক্রমে ম্যালেরিয়াবাহী মশার পরিমাণও কমে আসে। তখন শাসকেরা ওই জমিগুলো থারুদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নেপালের রাজপরিবারের সদস্যদের, সরকারি ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উপহার হিসেবে দেওয়া শুরু করে। ফলে থারুদের বসবাসের জায়গা ক্রমে সংকুচিত হয়ে আসে।
থারুদের বাদ্যযন্ত্র
পাশাপাশি থারুদের ওপর চলে ‘কামাইয়া নামে’ একধরনের পদ্ধতির প্রয়োগ। এর মাধ্যমে দরিদ্র থারুরা ভূমির মালিকদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে একবছর কাজ করার সুযোগ পেতো। এরপর প্রতিবছর মাঘি উৎসবে নতুন করে চুক্তি করতে হতো। এভাবে প্রতিবছর মূলধনের (থারু ভাষায় বলে সংকি) ওপর সুদের পরিমাণ বাড়তেই থাকতো, যা কখনও দরিদ্র থারুরা শোধ করতে পারতো না। ফলে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম ঋণের বোঝা কাঁধে বয়ে নিয়ে বেড়াতো।
দীর্ঘদিন কষ্টভোগের পর একপর্যায়ে থারুরা কামাইয়া পদ্ধতির বিরুদ্ধে জোরালো দাবি তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে নেপালি সংবিধানে কামাইয়া পদ্ধতি বন্ধের বিষয়ে ধারা সংযুক্ত করা হয়। অবশেষে ২০০২ সালে নেপালি রাজার অধীন সংসদ থারু জনগোষ্ঠীকে ‘কামাইয়া মুক্ত’ হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রকৃতির সঙ্গে বৈচিত্র্য নিয়ে মিশে থাকা সহজ-সরল মনের থারুরা তাদের সারল্য ও ঐতিহ্য ধরে রেখে এগিয়ে চলুক।
>>>লেখক: ফার্মাসিস্ট ও সমাজকর্মী
থারু সম্প্রদায়ের বাড়ি

কিডনি চিরকাল ভালো রাখবে যে ৭টি খাবার

কিডনি মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি শরীরের পানি সরবরাহ ঠিক রেখে দূষিত রক্ত দূর করে থাকে। একটু অসতর্কতা হলে এই অঙ্গটির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যা পরবর্তীতে কিডনি ড্যামেজের মত সমস্যাও হতে পারে। তবে কিছুটা সচেতন হলে কিডনির সমস্যা অনেকেটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিছু খাবার আছে যা কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে। এই খাবারগুলো নিয়মিত খেলে কিডনি রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমে যার।
১। আপেলঃ
প্রচলিত আছে ‘প্রতিদিন একটা আপেল খান আর ডাক্তারকে দূরে রাখুন’। কথাটা কিডনির ক্ষেত্রেও সত্য। আপেল উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, এতে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি আছে যা বাজে কোলেস্টেরল দূর করে হৃদ রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। এছাড়া এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। আপেল কাঁচা বা রান্না করে অথবা প্রতিদিন এক গ্লাস আপেলের জুস খাওয়ার চেষ্টা করুন।
২। রসূনঃ
রসূন ইনফ্লেমেটোরি এবং কোলেস্টেরল কমাতে অনেক বেশি কার্যকরী। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আছে যা দেহের প্রদাহ দূর করে থাকে। তবে রান্না করে খেলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় না। ভাল হয় সকালে খালি পেটে কাঁচা রসূন খাওয়া, এটি হার্ট ভাল রাখার পাশাপাশি কিডনিকেও ভাল রাখে।
৩। পেঁয়াজঃ
কিডনি সুস্থ রাখার আরেকটি অন্যতম উপাদান হল পেঁয়াজ। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনোয়েড রয়েছে। যা রক্তের চর্বি দূর করে থাকে। এছাড়া এতে কুয়ারসেটিন আছে যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে থাকে। পেঁয়াজে পটাশিয়াম,প্রোটিন আছে যা কিডনির জন্য অনেক বেশি উপকারী।
৪। লাল ক্যাপসিকামঃ
লাল ক্যাপসিকামে কম পরিমাণে পটাশিয়াম আছে যা কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন সি, এ, ভিটামিন বি সিক্স, ফলিক এসিড, ও ফাইবার রয়েছে। এছাড়া লাইকোপেন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। রান্না বা সালাদ হিসেবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লাল ক্যাপসিকাম খেতে পারেন।
৫। ডিমের সাদা অংশঃ
ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস এবং অ্যামিনো এসিড আছে যা কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে কিডনিকে সুস্থ রাখে। ডিম সিদ্ধ করে বা অমলেট করে খেতে পারেন। তবে হ্যাঁ ডিমের সাদা অংশ শুধু।
৬। মাছঃ
কিডনিকে সুস্থ রাখার অন্যতম খাবার হল মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ওমেগা থ্রি এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটোরি ফ্যাট আছে যা কিডনিকে সুস্থ রাখে। আমেরিকান ডায়াবেটিকস এসোসিয়েশনের মতে দিনের খাদ্যতালিকায় দুই থেকে তিন বেলা মাছ রাখুন। এটি আপনার হৃদযন্ত্র ঠিক রাখার পাশপাশি ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে থাকে।
৭। অলিভ অয়েলঃ
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রতিদিনের রান্নায় অন্যান্য তেলের চেয়ে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে অলিক এসিড, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ফ্যাটি এসিড আছে যা কিডনি সুস্থ রাখার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।

ইন্দোনেশিয়ায় কমোডো ড্রাগনদের বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছে গ্রামবাসীরা by রেবেকা হেনশ্কে এবং ক্যালিস্টাসিয়া উইজায়া

ইন্দোনেশিয়ার যে দ্বীপগুলিতে কমোডো ড্রাগন নামে পরিচিত বিশাল আকৃতির সরীসৃপের বসবাস, সে দেশের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সেখানে আর কোন মানুষকে যেতে দেয়া হবে না। তারা বলছে, ঐ দ্বীপগুলিতে এখন থেকে গণহারে টুরিস্টদের আনাগোনা বন্ধ করা হবে। দ্বীপগুলিতে যেসব মানুষ বসত করেছে, তাদেরও সেখান থেকে সরে যেতে হবে।
বহু বছর ধরে মানুষ কমোডো ড্রাগন দেখে মুগ্ধ। এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গিরগিটি জাতীয় প্রাণী। এদের দাঁত ধারালো, লম্বা লেজ এবং এর কামড়ে বিষ রয়েছে। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার এক কোণায় কতগুলি বিশেষ দ্বীপে এদের বসবাস। এদের দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার টুরিস্ট ঐ দ্বীপগুলিতে ভিড় করেন। এদের নিয়ে নানা ধরনের ভৌতিক ছায়াছবিও তৈরি হয়েছে। দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, তাদের দেহ-মনের সাথে কমোডো ড্রাগনের গভীর সংযোগ রয়েছে।
কিন্তু মানুষের সাথে এই প্রাণীর সম্পর্ক এখন বদলে যাচ্ছে।
"এই দ্বীপের নাম কমোডো দ্বীপ, তাই এটা শুধু কমোডো ড্রাগনের জন্য। মানুষের জন্য নয়। সেজন্যেই এখানে কোন মানবাধিকার কাজ করবে না। কাজ করবে শুধু প্রাণী অধিকার," বলছেন ঐ অঞ্চলের গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট।
কমোডো দ্বীপের কাছে টুরিস্টবাহী জাহাজ।
মি. লাইসকোডাট বলছেন, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই দ্বীপ ২০২০ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা হবে। এবং এরপর এটি শুধু অল্প কিছু ধনী দর্শনার্থীর জন্য খুলে দেয়া হবে। দ্বীপের বাসিন্দাদেরও সেখান থেকে চলে যেতে হবে।
ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখন প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছে।
বিশ শতকের গোড়ায় ইউরোপ থেকে আসা অভিযাত্রীদের প্রথম দলের তুলনায় কমোডো দ্বীপে এখন অনেক বেশি দর্শনার্থী আসেন।
আমরা যখন প্রথমবার কমোডো দ্বীপে যাই, তখন দেখলাম একটি বহুতল প্রমোদ তরী লোহ্ লিয়াং বে'তে নোঙর করে আছে। সকাল সাতটায় পার্কের গেট খোলার সাথে সাথে হাজার হাজার টুরিস্ট পার্কে ঢুকতে শুরু করেন।
অরণ্যের মধ্যে টুরিস্টদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পাশের একটি খালের কাছে শুয়ে বসে থাকা কমোডো ড্রাগন দেখার জন্য টুরিস্ট দলকে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেয়া হয়। তাদের দেখা শেষ হওয়ার সাথে সাথে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। এবং পরবর্তী টুরিস্ট দলকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।
টুরিস্ট নেরমিন আটামান এসেছেন তুরস্ক থেকে। কমোডো ড্রাগন দেখে তিনি মুগ্ধ। "এগুলো এত সুন্দর! কিন্তু দেখলে ভয় লাগে," বলছেন তিনি, "আমি ড্রাগনে বিশ্বাস করি না। কিন্তু এদের দেখলে তাদের মতোই মনে হয়।"
সাগর সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছে কমোডো ড্রাগন।
জাকার্তার সরকার চেষ্টা করছে এই অপূর্ব সুন্দর জায়গাটিকে টুরিস্টদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে। তারা সেখানে নানা ধরনের ভবন তৈরি করছে। কমোডো ন্যাশনাল পার্কের প্রবেশপথ লাবুয়ান বাজো এলাকায়। নানা ধরনের বিনিয়োগকারী এবং হোটেল চেইন সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
ইন্দোনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে দরিদ্র জায়গাগুলোর একটিতে এই কমোডো ন্যাশনাল পার্ক। টুরিস্টরা সেখানে যে অর্থব্যয় করেন তা দিয়ে ঐ এলাকার উন্নতি সম্ভব।
টুরিস্ট গাইড টিসা সেপ্টিয়ানি ইন্ড্রা বলছেন, "এটা নিয়ে সবাই বেশ উত্তেজিত। কাজের সন্ধানে বহু মানুষ এখানে আসছেন। এখন এই এলাকার উন্নতি হচ্ছে। প্রচুর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। "
তবে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে খুশি নয় স্থানীয় সরকার।
"কমোডো ড্রাগনকে রক্ষা করা যাচ্ছে না," বলছেন গভর্নর লাইসকোডাট, "অনেক বেশি মানুষ এখানে আসছে। পার্কে ঢোকার জন্য তারা যে টাকা দিচ্ছে তা খুবই সামান্য।"
তারা হিসেব করছেন পার্কের আয় কীভাবে আরও বাড়ানো যায়।
"প্রথমে পার্কের সদস্য হতে হবে। এবং প্রতি বছর পার্কে ঢোকার জন্য ১০০০ ডলার দিতে হবে। এটা খুব বেশি অর্থ না। এভাবে আমরা যদি ৫০,০০০ মানুষকে ঢুকতে দেই, তাহলে আমাদের আয় দাঁড়াবে বছরে পাঁচ কোটি ডলার।"
অস্ট্রেলিয়ার ড. টিম জেসপ বহু বছর ধরে কমোডো ড্রাগন নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। তিনি গভর্নরের সাথে একমত যে ট্যুরিজম ঐ এলাকার জন্য 'কিছুটা হলেও' সুফল বয়ে আনবে।
কমোডো অঞ্চলের গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট।
তিনি জানালেন, দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে এবং সেখান থেকে ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের কারণে দ্বীপের পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

দেখুন কীভাবে টুরিস্টের সংখ্যা বেড়েছে

গ্যালাপাগোস দ্বীপের উদাহরণ তুলে ধরে ড. জেসপ জানান, সেখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একইভাবে কমোডো দ্বীপের পর্যটন শিল্পকেও এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরে তা কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে তিনি বলেন, কমোডো ড্রাগন যে এলাকায় চলাচল করে তার ওপর এর প্রভাব সীমিত।
"নব্বই শতাংশ টুরিস্ট মূলত দ্বীপের নিচু এলাকা দিয়ে চলাফেরা করেন। সেটা জাতীয় উদ্যানের ৩%-৪% এলাকা।"
কমোডো ড্রাগন সবচেয়ে বেশি রয়েছে কমোডো দ্বীপে। কিন্তু কমোডো ন্যাশনাল পার্ক এলাকার মধ্যে ২০টিরও বেশি দ্বীপ রয়েছে। এদেরই একটি দ্বীপ রিনচা-তেও প্রচুর কমোডো ড্রাগন রয়েছে।
ড. জেসপ বলেন, কমোডো ড্রাগনের প্রধান খাদ্য হরিণের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে গভর্নর যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা ভিত্তিহীন।
"পার্ক রেঞ্জাররা যখন বলেন যে এটা বিশাল একটা এলাকা এবং এখানকার কিছু জায়গা সুরক্ষিত, কিন্তু অন্য জায়গাগুলো নয়- সেটা হয়তো ঠিক। কিন্তু এখানে অবৈধ হরিণ শিকার চলছে বলে মনে হচ্ছে না। ফলে কমোডো ড্রাগনের খাদ্য সঙ্কট হবে বলেও মনে হয় না।"
যেসব দ্বীপে কমোডো ড্রাগনের বাস।
পার্ক রেঞ্জার স্টেফানাস জালাকও একমত যে সেখানকার হরিণ আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত।
তিনি বলেন, "হরিণ শিকার অনেক কমে গেছে। দ্বীপের বাসিন্দারাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।"
কমোডো দ্বীপে যে গ্রাম রয়েছে তাতে সমুদ্রতীরে ছোট ছোট কুঁড়েঘরে প্রায় ২০০০ লোকের বাস।
এখানে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের গেস্ট হাউস। রাতে জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। আর দোকান থেকে ফেলে দেয়া বর্জ্য প্লাস্টিক ছড়িয়ে রয়েছে সমুদ্র সৈকতে।
দ্বীপের বাসিন্দাদের ৭০% পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
এখানে একটি স্টলের মালিক নুর। তিনি সুভ্যেনির বিক্রি করেন। তিনি বলছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন।
তিনি জানান, দ্বীপের মানুষজন এক সময় শিকার করে, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এখন আর তা করে না।
কমোডো ড্রাগন গড়পরতা ১০ ফুট লম্বা হয়।
"আমরা এখন আর শিকার করতে পারি না। সমুদ্রে মাছ ধরতে পারি না। এবং আমাদের কোন চাষের জমি নেই।"
স্থানীয় গাইড আব্দুল গফুর কাশিমের আশঙ্কা, যদি গ্রামের লোকজনকে এখন তাদের আগের পেশায় ফিরে যেতে হয়, তাহলে পরিবেশের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
"গ্রামবাসীকে যদি সাগরে ফিরতে হয় তাহলে তারা মাছ ধরার জন্য এমন সব পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে যা কাম্য নয়। যেমন, তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মাছ ধরতে পারে। এটা করলে পার্কের জলজীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। আবার তারা যদি জঙ্গলে ঢুকতে পারে, তাহলে তারা অবৈধভাবে কাঠ কাটা শুরু করতে পারে," তিনি বলছেন।
গভর্নর লাইসকোডাট কমোডো দ্বীপ নিয়ে যে পরিকল্পনা করছেন, তাতে দ্বীপের বাসিন্দারা আতঙ্কিত।
সতের বছর বয়সী রোসা সাফিরা বলছেন, "কোনভাবেই আমার দ্বীপ ছেড়ে যাব না। আর আমরা কমোডো ড্রাগনের কোন ক্ষতি করি না।"
"কমোডো ড্রাগন এবং গ্রামবাসীরা এখানে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করে। কমোডো ড্রাগনকে আরও ভালভাবে দেখাশোনার জন্য আমরা গভর্নরের সাথে মিলে কাজ করতে পারি। কিন্তু দ্বীপ ছেড়ে যেতে পারি না।"
"আমি কমোডো ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেছি। বহু বছর ধরে আমি সেখানে গেছি। কিন্তু কোথাও আমি দেখিনি যে মানুষ জঙ্গলে ঢুকে হরিণ শিকার করছে, কিংবা গাছ কাটছে অথবা জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। আমার ধারণা এখানকার মানুষ পরিবেশকে সম্মান করেই চলে।"
হাজী আমিন, কমোডো দ্বীপের পুরাতন বাসিন্দা।
কমোডো দ্বীপের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তাদের সাথে কমোডো ড্রাগনের শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থানীয় ড্রাগন কন্যার উপকথা।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আমিন বলছেন, তিনি নিজে মুসলমান হলেও এই উপকথাকে বিশ্বাস করেন।
এই উপকথায় বলা হয়েছে: কমোডো দ্বীপের এক রাজকন্যা যার নাম ছিল পুত্রী নাগা। তিনি একজন মানুষকে বিয়ে করার পর তার দুটি বাচ্চা হয়। একটা মানব শিশু এবং একটি শিশু কমোডো ড্রাগন।
হাজী আমিন বলছেন, "বয়স বাড়ার সাথে কমোডো ড্রাগন শুধু তাজা মাংস খেতে চাইতো। প্রতিদিন প্রতিবেশীদের হাঁসমুরগি খেয়ে ফেলার পর সবাই তার ওপর রেগে যায়। তাই মনের দু:খে সে বনে চলে যায়।"
"তারপর থেকে সে বনেই থাকে। মাঝেমধ্যে সে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে মা এবং ছোট ভাইয়ের খোঁজখবর করে।"
আর এই সম্পর্কের জন্য গ্রামবাসীরা কমোডো ড্রাগনকে ভয় করে না- যদিও একেকটা কমোডো ড্রাগন গড়ে ১০ ফুট লম্বা হয়। তাদের দাঁত খুবই ধারালো এবং দাঁতে বিষ রয়েছে।
হাজী আমিনের স্ত্রী ইন্দার ওয়াতি বলছেন, তার বাড়ির পেছনে জঙ্গলে যখন তার নাতিনাতনিরা খেলাধুলো করে, তখন তিনি মোটেও দুশ্চিন্তা করেন না।
কমোডো ড্রাগনের আক্রমণে দ্বীপে কত মানুষ হতাহত হয়েছে তার কোন সরকারি হিসেব নেই। তবে একটি হিসেব বলছে, গত ১০ বছরে ১৫টি আক্রমণের কথা জানা যায়, এর মধ্যে একটিতে এক জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
কমোডো ন্যাশনাল পার্কের সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের, যেটি ১,৪১৬ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু সে দেশের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন আইন অনুযায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এখন অনেক ক্ষমতা হাতে পাচ্ছেন।
পরিবারের সাথে হাজী আমিন।
গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট জানান, টুরিস্ট নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো তার পরিকল্পনার সাথে একমত পোষণ করেন এবং সম্প্রতি তিনি নিজেও এবিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
"টুরিস্টের সংখ্যা সীমিত করে, কোটা প্রথা চালু করে এবং প্রবেশমূল্য বাড়িয়ে আমরা চাই কমোডো দ্বীপকে সত্যিকারভাবে একটি অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে," এমাসের গোড়াতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনাটি ভালভাবে তৈরি করতে হবে "কারণ সঠিকভাবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য আমরা এখানে বড় অংকের অর্থ ঢালতে যাচ্ছি।"
পরিবেশ মন্ত্রণালয় বলছে, তারা পরিকল্পনাটি এখন পর্যালোচনা করে দেখছে, এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
গভর্নর লাইসকোডাট জানান, চূড়ান্ত হওয়ার পর তারা কমোডোর বাসিন্দাদের জন্য অন্য কোন দ্বীপে নতুন ঘরবাড়ি তৈরি করে দেবেন।
কিন্তু দ্বীপবাসীরা তা মানতে নারাজ। এবং তারা লড়াই করতে প্রস্তুত।
"আমাদের যদি এই জায়গা ছাড়তে হয় তবে কমোডো ড্রাগনরাও আমাদের সাথে যাবে," বলছেন ইন্দার ওয়াতি।
হাজী আমিন বলছেন, "এটা আমাদের পিতৃপুরুষের জমি। এটা ছাড়ার চাইতে মরে যাওয়াও ভাল।"
তিনি দাবি করছেন, ১৯৭০-র দশকেও একবার তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সে সময় তাদের সাথে যাওয়ার জন্য কমোডো ড্রাগনরাও সাগরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতে শুরু করেছিল।
"কমোডো ড্রাগন আর আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুবই জোরালো। এখানে থাকার জন্য আমরা একসাথেই লড়বো।"
পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি দ্বীপে কমোডো ড্রাগনের বাস।

ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল: একটি বাজে চিন্তা by জাও লিয়াঙ

রাজনৈতিক বাস্তববাদিতা সাধারণভাবে বিশ্বাস করে যে থুসিদিদেস ট্র্যাপ (এটি এমন আইডিয়া যাতে বলা হয়, উদীয়মান শক্তি অনিবার্যভাবেই বিদ্যমান শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং বিদ্যমান শক্তিগুলো উদীয়মানের এ ধরনের চ্যালেঞ্জের যে জবাব দেবে তাতে করে যুদ্ধ অনিবার্য করে তুলবে) এড়ানো যাবে না। এখন যদিও চীন বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে সে শান্তিপূর্ণভাবে উত্থানের চেষ্টা করছে, কিন্তু মনে হচ্ছে যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুদ্ধ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী হুয়াওয়ের পেছনে ছুটতে মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করা ও চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক যুদ্ধ লিপ্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এখন তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির মধ্যে নেপাল ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকেও সামিল করার কঠোর প্রয়াস চালাচ্ছে।
রাজনৈতিক সংস্কার
১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বে সামরিক জোট হিসেবে নর্থ আটলান্টিক ট্রি অর্গ্যানাইজেশন (ন্যাটো) প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭০ বছর পর প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষিণ এশিয়ায় তার উপস্থিতি আরো জোরদার করার হাতিয়ার হিসেবে সামরিক সহযোগিতা কামনা করছে। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্ব উদ্বিগ্ন।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কার কাছ থেকে মুক্ত ও কী থেকে মুক্ত। সহজেই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে না বলা হুমকিটি হলো চীন। চীনকে মোকাবিলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোর মতো করে ইন্দো-প্যাসিপিক সংস্করণ তৈরি করতে চায়, তবে তাতে হয়তো সে সফল হবে না। সামরিকবাদী সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপরীতে চীন কোনো ধরনের সামরিক প্রতিযোগিতা একেবারেই পছন্দ করে না। ইতিহাস ও বাস্তবতা চীনকে ঘরোয়া স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের গুরুত্ব বেশি করে বুঝিয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। আর এর ভিত্তি হলো পারস্পরিক কল্যাণ ও অভিন্ন উন্নয়ন। এই অঞ্চলে বসবাসরত লোকজনের অভিন্ন সমৃদ্ধি ও জীবনযানের উন্নতি নিশ্চিত করাটা একটি বিরাট অর্জন। যুক্তরাষ্ট্র যদি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের অস্তিত্বকে উন্মুক্ততা ও স্বাধীনতার প্রতি হুমকি বিবেচনা করে, তাহলে এ ধরনের বৈষম্যের ভিত্তি হবে কেবলই আদর্শগত ও রাজনৈতিক বদ্ধমূল ধারনা, যা সক্রিয় বিরোধিতার কারণে পরিণত হবে। চীন কখনো যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করেনি, করবেও না। মার্কিন প্রাধান্যবিশিষ্ট বিশ্বব্যবস্থাতেই চীন বিকশিত হয়েছে। খুবই সম্ভাবনা রয়েছে যে চীন এই বিশ্বব্যবস্থা ভাঙবে না, নিজদের জন্য কোনো কিছু তৈরি করবে না।
আরেকটি বাধার সৃষ্টি
সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অংশগ্রহণকারী হিসেবে নেপালকে তালিকাভুক্ত করেছে এবং এই ভিত্তিতে তাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে চাইছে। নেপাল সবসময় তার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে গতিশীল ভারসাম্যবজায় রেখে তার জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চভাবে পূরণ করার আশা করে। সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের ঘরোয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অগ্রগতি ও চীনের সাথে সমন্বয় সাধন ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কৌশলকে কেন্দ্র করে ভারসাম্য বজায় রাখার কাজটি করা হয়েছে। এখন নেপাল যদি চীনকে সংযত করার জন্য মার্কিন কৌশলে যোগ দেয়, তবে তা কঠোর শ্রমে অর্জিত ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আনবে, পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিবেশকে বদলে দেবে।
নেপালের নীতিনির্ধারকেরা এই ইস্যুতে বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিলিনিয়াম চ্যালেঞ্জ করপোরেশন কমপ্যাক্ট প্রোগ্রাম গ্রহণ করা সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে ভূমিকা পালন করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নেপাল এই কৌশলে যোগ দিতে প্রস্তুত নয়। এখন নেপালের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি, আর যা করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো কোনো বড় শক্তির খেলায় যোগ না দেয়া। ওই স্ট্র্যাটেজিতে যোগদান ও চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধে সামনের দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়া হবে চীন ও নেপালের জন্য দুঃস্বপ্ন।
আন্দোলিত করা
ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির ফোকাস হবে ভারত মহাসাগর অঞ্চল। এই অঞ্চলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান শক্তি আছে। সে হলো ভারত। এই দেশেরও উচ্চ প্রত্যাশা ও উচ্চাভিলাষ আছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ঐতিহ্যবাহী কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে এবং তা রক্ষার জন্য সে কখনো ইতস্তত করে না। বড় দেশ হিসেবে ভারতের পক্ষে কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ইচ্ছা পুরোপুরি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতীয়রা স্পষ্টভাবেই দেখছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে থুসিদিদেস ট্র্যাপ ঘটে গেলে তাতে যেই জয়ী হোক না কেন, আগে হোক বা পরে হোক, ভারতই হবে পরবর্তী শক্তি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ়প্রত্যয় ও সক্ষমতা। আমেরিকা ফার্স্ট স্ট্র্যাটেজি বিকাশকারী ট্রাম্প প্রশাসন বারবার অন্যান্য দেশের সাথে করা প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি লঙ্ঘন করছে। এটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির বিশ্বাসযোগ্যতা ব্যাপকভাবে দুর্বল করেছে। তাছাড়া অবাধ্য রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেয়তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান প্রয়োগ করার ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ভীত হয়ে পড়ে। ব্যবসায়িক মানসিকতাসম্পন্ন লোকদের প্রাধান্যপূর্ণ বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আসলে পানিতে ঢেউ তুলে সেটাই করার চেষ্টা করছে।
>>>লেখক: ডক্টরাল স্টুডেন্ট, সিচুয়ান ইউনিভার্সিটি, চীন

শিশুর বেপরোয়া আচরণের কারণ

শিশুর বেপরোয়া আচরণের কারণ হতে পারে বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা।
গবেষকরা বলছেন, “নয় থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুম আর বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার সময়সীমা সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারলে শিশুকে বেপরোয়া আচরণের কবল থেকে বাঁচানো সম্ভব।”
কানাডার অটোয়া’তে অবস্থিত সিএইচইও রিসার্চ ইনস্টিটিউট’য়ের ‘হেলদি অ্যাক্টিভ লিভিং অ্যান্ড ওবিসিটি’র গবেষক দল (এইচএএলও)-এর করা এই গবেষণায় দেখা যায়, বেপরোয়া আচরণের সঙ্গে ঘুম এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষণার প্রধান, সিএইচইও রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ইউনিভার্সিটি অফ অটোয়া’র ডা. মিশেল গুয়েরেরো বলেন, “বিভিন্ন মানসিক রোগ এবং মাদকাসক্তিজনীত সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেপরোয়া আচরণ। এদের মধ্যে খাওয়াজনীত আচরণগত সমস্যা, আচরণগত বিভিন্ন বদভ্যাস বা আসক্তি এবং মাদকদ্রব্য সেবন অন্যতম।”
‘পেডিয়াট্রিকস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার জন্য পর্যবেক্ষণ করা হয় ৪,৫২৪ জন শিশুকে। ঘুম ও বৈদ্যুতিক পর্দায় সামনে সময় কাটানো পরিমাণের পাশাপাশি গবেষকরা শিশুদের শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রাও পর্যবেক্ষণ করেন, যা হওয়া উচিত প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টার সামান্য থেকে ভারী পরিশ্রম।
‘দ্য এবিসিডি স্টাডি’ নামক আরেকটি গবেষণা গুয়েরেরো ও তার দলকে সাহায্য করে তথ্য সংগ্রহ করতে। বেপরোয়া আচরণের মাত্রা পরিমাপের আটটি মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ‘মুভমেন্ট গাইডলাইন’য়ের তিনটি স্তম্ভ সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করেন তারা।
এই আট মানদণ্ডের মধ্যে আছে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নেওয়ার তাড়না, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য স্থির করা, পুরষ্কৃত কিংবা নেতিকবাচক অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীলভাবে সাড়া দেওয়া এবং ইতিবাচক ও নেতিবাচক অনুভূতির প্রতি বাজেভাবে সাড়া দেওয়া।
গবেষণার ফলাফল বলে, “মুভমেন্ট গাইডলাইন’য়ের তিনটি স্তম্ভ পরিপূর্ণ করতে পারলেই মানদণ্ডের আটটির থেকে পাঁচটির ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া মেলে।”

ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার কি নিরাপদ? by ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা

ননস্টিক পাত্র
এখনকার সময়ে রান্নাবান্নার কাজে ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার সর্বত্র।
এ পাত্রগুলো ব্যবহারে সুবিধা থাকার ফলে এতো বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয় ননস্টিক পাত্র। এতে খাবার পোড়ার সম্ভবনা থাকে না বললেই চলে, খাবার খুব সহজে ও দ্রুত রান্না করে নেওয়া যায় বলে ঘরে ঘরে ননস্টিক পাত্রের চল।
কিন্তু সহজলভ্য ও সহজে ব্যবহারযোগ্য ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা আছে কি? এ ঘরানার পাত্র ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে ফেলে দিচ্ছে কি না, সেটা জানা প্রয়োজন নিজের ও পরিবারের মানুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে।
সাম্প্রতিক সময়ের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ননস্টিক পাত্র থেকে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ নামক এক ধরনের পদার্থ এ সকল পাত্রে রাঁধা খাবারের সাথে মিশে যায়। যা আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের খাবারের সাথে গ্রহণ করে থাকি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এর পরীক্ষা মতে ননস্টিক পাত্র থেকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল উপাদান নির্গত হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

গবেষণা থেকে কী পাওয়া গিয়েছে?
FDA এর গবেষণালব্ধ ফল থেকে জানা যায়, ননস্টিক পাত্র থেকে পাওয়া যায় PFAs। যা ৫,০০০ সিনথেটিক গ্রুপের একটি কেমিক্যাল। এই কেমিক্যালটি ফরএভার কেমিক্যাল নামেও পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, ৯৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের রক্তেই এই কেমিক্যালটির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।
দেশটির এনভারমেন্টাল প্রটেকশন অ্যাজেন্সি দাবি করছে, প্রাকৃতিক কোন খাদ্য উপাদান থেকেই এই ক্ষতিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করার কোন সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ননস্টিক পাত্রের ব্যবহারের ফলেই ক্ষতিকর এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এতে ক্ষতির সম্ভাবনা কতটুকু?
FDA জানাচ্ছে রক্তে PFAs এর মাত্রা কম থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তবে অতি উচ্চ তাপমাত্রায় ননস্টিকি পাত্রে খাবার রান্না করা হলে PFAs খাবারের সাথে বিপদজনক মাত্রায় মিশে যেতে পারে। যার ফলে ক্যানসার, বন্ধ্যাত্ব, কিডনি ও লিভার ড্যামেজের মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

সমাধান কী?
প্রায় সকল ধরনের ননস্টিক পাত্রেই PFAs এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই অ্যালুমিনিয়াম ও টেনফয়েল জাতীয় ননস্টিক পাত্র ব্যবহার ও ক্রয় করা থেকে বিরত থেকে সিরামিক, স্টেইনলেস স্টিল কিংবা টেমপারড গ্লাসের পাত্রের ব্যবহারে অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ সকল পাত্র ব্যবহারে অভ্যাস্ততা গড়ে তুলতে হবে।