Friday, April 2, 2010

আফ্রিদির চাওয়া

সাধারণ বিশ্বাসটা এমন যে, টি-টোয়েন্টি তরুণদেরই খেলা। কিন্তু জ্যাক ক্যালিস-শচীন টেন্ডুলকাররা প্রমাণ করে চলেছেন, বয়স কোনো ব্যাপার নয়। অভিজ্ঞতা দিয়েও টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য পাওয়া যায়। এবার শহীদ আফ্রিদি তাঁর দলের সিনিয়রদের কাছে সেই দাবিই তুলে ধরলেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ধরে রাখায় তাঁদের কাছ থেকেই মূল ভূমিকা আশা করছেন অধিনায়ক, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, মূল দায়িত্বটা সিনিয়র খেলোয়াড়দের। রাজ্জাক, মিসবাহ, মোহাম্মদ আসিফ, উমর গুল, কামরান আকমলের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের ওয়েস্ট ইন্ডিজে তাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। তারাই দলের তরুণ খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করে টুর্নামেন্টে ভালো ফল এনে দিতে পারে।’
ভালো ফলটা সমস্যা-জর্জরিত পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য জরুরি। জরুরি দেশটির সাধারণ মানুষের জন্যও। বোমা, গুলি আর সন্ত্রাসে কাঁপতে থাকা পাকিস্তানের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বিশ্বকাপটা নিয়ে আসতে চান আফ্রিদি, ‘আমরা সবাই জানি, ক্রিকেট মাঠ থেকে পাকিস্তানের কিছু সুসংবাদ প্রয়োজন। বিশ্বকাপটা আরেকবার জিততে পারলে পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। এ জন্যই আমি আমার সতীর্থদের অনুশীলনে এবং বিশ্বকাপে শতভাগ উজাড় করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তারা সবাই একটি দল হয়ে খেলবে, এটাই আমি চাই।’

আর চুপ করে থাকা যায় না by ফরিদা আখতার

বেশ কিছুদিন ধরে নারী নির্যাতনের একটি নতুন প্রবণতা দেখছি। এবং এর ভয়াবহতা দেখে যেমন উদ্বিগ্ন হচ্ছি, তেমনি অবাক হচ্ছি নির্যাতনকারীদের প্রতি প্রশাসনের সদয় ব্যবহার দেখে। এ ধরণের যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার বিচার হতে দেখিনি। কোনো উত্ত্যক্তকারী বখাটে ছেলে শাস্তি পায়নি। স্কুলগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছে পাড়ার বখাটে ছেলেরা, এই খবর এখন প্রায় শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে ভুক্তভোগী মেয়েরা। একটি নয়, দুটি নয়, গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি ঘটনা ধারাবাহিকভাবেই ঘটে গেছে। প্রতিবাদ যা একটু হয়েছে তাতে কোনো কাজ হয়নি। আজ পর্যন্ত এক বখাটে ছেলেকেও পুলিশ ধরতে পারেনি, কিংবা ধরেনি। মেয়েগুলোর কচি প্রাণ ঝরে পড়েছে অকালেই। যারা মরেনি, তারা গুমরে মরছে নিজেদের মধ্যেই।
২৪ মার্চ যে ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে তা কল্পনার অতীত, নির্মম। মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় দিনের আলোতে প্রকাশ্যে ঘরে এসে কমান্ডো স্টাইলে গুলি করে মা ও বাবাকে মেয়ের সামনে হত্যা করে ঘাতক রুবেল ও মিথুন গেট দিয়ে বের হয়ে চলে গেছে কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারেনি। পরে ঝালকাঠি থেকে পুলিশ এই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে সারা দেশে। এই দিনটি সবাই মন খুলে আনন্দের সঙ্গে পালন করেছে। কিন্তু সেদিনের পত্রিকায় প্রথম পাতায় শিরোনাম মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার চেয়েও বড় হয়ে এসেছে সেই ঘাতক রুবেল ও তার সহযোগী মিথুনের ছবি ও তাদের বুক ফুলিয়ে কথা বলার কথা। টেলিভিশনে মুক্তিযুদ্ধের নাটক যা দেখেছি, তাতে একাত্তরের যেসব ঘাতক নারী নির্যাতন করে অট্টহাসি হেসেছিল, এই চেহারা যেন তাদেরই। আমরা কি এখনো স্বাধীন হইনি? এ দেশের মেয়েরা কি নির্যাতিত হতেই থাকবে? মা-বাবাকে মেয়ের সামনে গুলি করে হত্যা করে হত্যাকারী রুবেল চিত্কার করে বলেছে ‘তোর বাপ-মায়েরে মাইরা ফেললাম। এবার একলা একলা থাক’ (প্রথম আলো ২৫ মার্চ, ২০১০)। শুধু তাই নয়, ইতি ও বীথির বড় ভাই শিহাবের মোবাইলে ফোন করে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দিয়েছে ঘাতকেরা (যুগান্তর ২৬ মার্চ, ২০১০)। স্বাধীনতা দিবসে পত্রিকা পড়তে গিয়ে এইসব খবর পড়তে হয়েছে আমাদের। এই লজ্জা আমরা কোথায় রাখব? এই স্বাধীন দেশে আমরা এই কচি বয়সের মেয়েদের স্বাধীনভাবে লেখাপড়া করার অধিকারটুকুও দিতে পারছি না?
বখাটেদের তাণ্ডব শুধু এখানেই নয়। সব জায়গায় হচ্ছে। কুমিল্লায় অতিথি পাখি শিকার ও স্কুলের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় পপি নামের একটি কিশোরী মেয়েকে এয়ার গান দিয়ে গুলি করে তার চোখ নষ্ট করে দিয়েছে বখাটে ছেলেরা। ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পপি পাখি শিকার করা এবং ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। পপির একটি চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। যায়যায়দিন এবং যুগান্তর পত্রিকায় (২৬ মার্চ) প্রথম পাতায় পপির চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় ছবিসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।
ঢাকার জোড়া খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত খুনিদের সঙ্গে সরকারি দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। তাই কি কিছু করা যাচ্ছে না? তাই কি তারা হুমকি দিয়ে বেড়াতে পারছে? স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, তিনি যদি একবার সেই বাড়িতে যেতেন এবং অসহায় পরিবারটিকে আশ্বাস দিতেন, তাদের পাশে থাকার কথা বলতেন তাহলে স্বাধীনতা দিবসের সার্থকতা হতো। কিন্তু সেটা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন নারী, বিষয়টি তাঁর মনে দাগ কেটেছে কিনা বুঝতে পারছি না। শুধু তাই নয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও বাদী হয়ে মামলা করতে পারে। নারী ও শিশুবিষয়ক সংসদীয় কমিটি এই ব্যাপারে চুপ করে আছে কেন? বাল্যবিবাহ বাড়ছে বলে এবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অনেক কথা বলা হয়েছে। কিন্তু স্কুলে পাঠাতে গিয়ে ছেলেদের উত্ত্যক্ত করা ঘটনা ঘটলেই মা-বাবা সহজ পথ হিসেবে মেয়েকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেন। অন্তত বিয়ের আগে কোনো কেলেংকারির ঘটনা না ঘটুক, তাহলে তো মেয়েটির আজীবন বিয়ে হবে না। কিংবা শুধু এই কারণেই তাকে বেশি যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিতে হবে। আমরা এমন মা-বাবাকে ‘অসচেতন’ মনে করি। কিন্তু যেখানে রাষ্ট্র তাঁদের মেয়েদের জীবনের এবং সম্মান রক্ষার দায়িত্ব নেয় না সেখানে তাঁদের কাছে আর তো কোনো পথ খোলা নেই। মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কেবিনেট ও জাতীয় সংসদে অধিকসংখ্যক নারীর কথা বলে গর্ব করেছি, কিন্তু তাঁরা আজ কোথায়? এ দেশের মেয়েদের রক্ষা করার জন্য তাঁরা এগিয়ে আসছেন না কেন? তাঁদের কি কোনোই দায়িত্ব নেই? সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যরা তাঁদের কোনো কাজ দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন। কই এই ব্যাপারে তাঁরা এগিয়ে আসছেন না কেন? এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ চলাকালীন অনেক ঘটনাই ঘটেছে। তাঁরা কোনো কথা বলেননি। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ছাড়া কাউকেই এই বিষয়ে কথা বলতে শুনিনি। তাহলে কি নারী নির্যাতনের ঘটনা শুধু বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণের বিষয় হয়ে থাকবে? বিরোধী দল এই ধরনের কথা বললেই সরকারের পক্ষ থেকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করা হয়। বলা হয় প্রমাণ করে দেখান। আর বিরোধী দলও তারপর আর কিছু বলে না। এই পাল্টাপাল্টিতে নারী নির্যাতন খেলার মতো উপভোগ করার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
এভাবে চলতে থাকলে বহু স্কুলগামী মেয়ে তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে যাবে। সমকাল-এর শিরোনাম (২৬ মার্চ) ‘পড়ালেখা বন্ধ করেও মা-বাবাকে বাঁচাতে পারেনি ইতি’। অর্থাৎ ইতির মা-বাবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটার কারণেই আমরা জানতে পেরেছি যে নিলুফার ইয়াসমিন ইতি এই ছেলেরা বিরক্ত করত বলে একা বাইরে যেতে পারত না। তাই তার স্কুলে যাওয়া প্রায় বন্ধই ছিল। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। শিক্ষামন্ত্রী কি জানেন, এসএসসি পরীক্ষা অনেক মেয়েই হয়তো শুধু উত্ত্যক্ত করার কারণে দিতে পারছে না। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব হওয়া কি উচিত নয়? একটি বড় ধরনের ঘটনা, যেমন আত্মহত্যা কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পরই সবাই কথা বলছি। কিন্তু সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে দেখুন মেয়েদের স্কুলে পড়াশোনা এখন খুবই কষ্টের হয়ে গেছে। একা স্কুলে যাওয়া-আসা করা সম্ভব হচ্ছে না অনেক মেয়েরই। দিনের পর দিন উত্ত্যক্ত করার কারণে মেয়েরা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত এদেরই কেউ কেউ নিজের জীবন নিজেই কেড়ে নিয়ে আমাদের সবাইকে জানান দিয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি কত খারাপ। আর সরকার এই ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে যেন কিছুই হচ্ছে না। পত্রিকা পড়ে লজ্জা পেয়েছি যে প্রভাবশালী মহলের ছাত্রীরা, যেমন ছাত্রলীগের মেয়েরা সরাসরি নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ইডেন গার্লস কলেজের লজ্জাজনক ঘটনার পর সাধারণ ছাত্রীর নিজেদের মান বাঁচাতে কলেজ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এটাও কি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেখার বিষয় ছিল না? যে কলেজে এমন ঘটনা ঘটে সেখানে অভিযুক্ত ছাত্রীদের বহিষ্কার করা হলো না কেন? কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন?
অর্থাৎ বর্তমানে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে পুরুষ ও নারী উভয়েই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আর কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে ঘটনাগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। মেয়েরা নিজের জীবন দিচ্ছে, কিংবা তাদের মা-বাবাকে হত্যা করা হচ্ছে, আত্মীয়স্বজনকে নিয়মিতভাবে হুমকির মধ্যে থাকতে হয়। লোকলজ্জা তো আছেই। কারণ সমাজও এমনই যে মেয়েদের নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটলে সেটা যেন কোনো না কোনোভাবে মেয়েদেরই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কই রুবেল-মিথুনের পরিবারকে তো কেউ ধিক্কার দিচ্ছে না। সংবাদ মাধ্যম তাদের পরিবারকে তুলে ধরছে না।
এখন একমাত্র ভরসা নারী আন্দোলন বেগবান করা। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং এই অল্প বয়সী মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সব পর্যায় থেকে সক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ক্রমাগত আন্দোলন করতে হবে।
ফরিদা আখতার: নারী আন্দোলনের নেত্রী।

অবৈধ করাতকল-কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চার কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল বসানোর নিয়ম না থাকলেও টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর ৫১টি করাতকল গড়ে ওঠার খবরটি উদ্বেগজনক। বন বিভাগের নাকের ডগায় কীভাবে এসব করাতকল গড়ে উঠল, সেটাই প্রশ্ন। অন্যান্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চিত্রও ভিন্ন কিছু নয়। আর এসব অবৈধ করাতকলের বেশির ভাগের মালিক ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা। তাই বলে বিরোধী দলের নেতারাও পিছিয়ে নেই। সখীপুরের একাধিক অবৈধ করাতকলের মালিক বিএনপির নেতা।
আওয়ামী লীগের এক নেতা দাবি করেছেন, তাঁদের দলের কেউ অবৈধভাবে করাতকল প্রতিষ্ঠা করেননি। তাঁর এ অস্বীকৃতির মধ্যেই অন্যায় কাজের প্রশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতা অবৈধ করাতকল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত না থাকলে অন্যরাও সাহস পেত না। প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সখীপুরের বনাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এসব অবৈধ করাতকলে সংরক্ষিত বনের মূল্যবান কাঠ চেরাই হয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠানো হয় বিক্রির উদ্দেশ্যে। প্রশ্ন হলো, বন বিভাগের নাকের ডগায় এসব অবৈধ কাজ কীভাবে চলে? এর বিরুদ্ধে বন কর্মকর্তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? তাঁদের দায়িত্ব বন রক্ষা করা—বনের কাঠ পাচারে সহায়তা করা নয়। একজন কর্মকর্তা অবৈধ করাতকলের মালিকদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাহলে কি তাঁরা আরও বড় কোনো সুবিধার বিনিময়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ করাতকল প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়েছেন? যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে করাতকলগুলো চলছে কীভাবে?
দেশে এমনিতেই বনাঞ্চল কম। যেখানে দেশের মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকার কথা, সেখানে আমাদের এখানে আছে মাত্র সাত-আট শতাংশ। এ কারণেই সরকার বনের পরিধি বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষাও তার অন্যতম। সখীপুরের করাতকলের মালিকেরা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধ করে দিতে হবে সব অবৈধ করাতকল। পাশাপাশি বন বিভাগের কর্মকর্তাদেরও সজাগ থাকতে হবে, নতুন করে যাতে কেউ অবৈধ করাতকল প্রতিষ্ঠা তথা কাঠ পাচার করতে না পারে।

খাদ্যচক্রে আর্সেনিক by মুশফিকুর রহমান

সুপেয় পানির জন্য হাহাকারের মধ্যেই বিশ্ব পানি দিবস উদ্যাপিত হলো। খাওয়ার পানিতে ব্যাকটেরিয়া-দূষণের তীব্রতা বুঝতে ঢাকার মহাখালী কলেরা হাসপাতালে প্রতিদিন বেড়ে চলা রোগীর ভিড় লক্ষণীয়। খোদ রাজধানীতেই পরিষ্কার পানির জন্য হাহাকার। এবারের বিশ্ব পানি দিবসের আলোচনায় অনেকের নজর কেড়েছে খাওয়ার পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি-সম্পর্কিত তথ্য। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বেশ কিছুদিন ধরেই কৃষি ফসল বিশেষত ধান ও বিভিন্ন সবজিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি নিয়ে কাজ করছে। এ নিয়ে তাদের প্রকাশনাও রয়েছে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে আর্সেনিকের অনুপ্রবেশ তাই নতুন তথ্য নয়।
খাওয়ার পানির জন্য রাজধানী ঢাকাতেই ভুগর্ভের পানির ওপর আমাদের নির্ভরতা প্রায় ৮৩ শতাংশ। সারা দেশেই এখন খাওয়ার ও চাষাবাদের জন্য উত্তোলিত পানির সিংহভাগ আসে ভূগর্ভের পানির উৎস থেকে। যতই দিন যাচ্ছে, দুর্লভ হয়ে উঠছে পানি। বিশেষত ভূপৃষ্ঠের পানি এত বেশি অনিরাপদ ও দূষিত হয়ে পড়েছে যে মানুষকে ভূগর্ভের পানির জন্য অস্থির হতেই হচ্ছে।
পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের জীবাণুদূষণ থেকে নিষ্কৃতি পেতে আমরা যত বেশি ভূগর্ভের পানির সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি, তত বেশি সংকট স্পষ্ট হচ্ছে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে নতুন বিপদ ভূগর্ভের পানিতে আর্সেনিক বিষের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি স্পষ্ট হয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার অব্যাহত চেষ্টায় দেশের প্রায় ৫০ লাখ নলকূপের পানি পরীক্ষা করে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে যে কোন নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক-দূষণ বিদ্যমান। ‘লাল রং’ দিয়ে অতিরিক্ত দূষণের নলকূপ চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে মানুষ সেখান থেকে পানি পান বা রান্নার কাজে ব্যবহার না করে। তবু দেশে এখন প্রায় দুই কোটি মানুষ নলকূপের পানি থেকে আর্সেনিক-দূষণের ঝুঁকির মধ্যে। এর ফলে শুরুতে চামড়ায় কালো দাগ, হাত-পা ও শরীরের চামড়া খসখসে হয়ে যাওয়া, পায়ের চামড়া ফেটে যাওয়া, ঘা হওয়া, পা ফুলে যাওয়া ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, খাবারে অরুচি, শরীরে ঘা হওয়াসহ পচন রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রমাগত আর্সেনিক গ্রহণীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করায় ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও হার্টের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। মারাত্মক দূষণের ফলে ক্যানসার সৃষ্টি হচ্ছে চামড়া ও অন্যান্য অঙ্গে। শরীরে পুষ্টিমান ও ভিটামিনের অভাব হলে আর্সেনিক-দূষণে শরীরের ক্ষতি দ্রুত ও তীব্রতর হয়।
কেবল খাওয়ার পানির মাধ্যমে নয়, যেসব এলাকার মাটি ও পানিতে প্রচুর আর্সেনিকের উপস্থিত, সেখানে চাষ করা ধান, শাক-সবজিতেও আর্সেনিক সঞ্চিত হচ্ছে, যা খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষ ও গবাদিপশুর শরীরে গিয়ে জমা হচ্ছে। গবেষণায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আর্সেনিক-দূষণে আক্রান্ত এলাকায় মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে যে পরিমাণ আর্সেনিক বিষ শরীরে প্রবিষ্ট হচ্ছে, তার প্রায় ৪৬ শতাংশ খাওয়ার পানি, ৩৭ শতাংশ ভাত এবং ১৭ শতাংশ শাক-সবজি, ফলমূল ও মাছ-মাংসের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করছে। আর্সেনিক বিষ রান্না করলেও নষ্ট হয় না। পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের জন্য দিনে প্রায় ২০০ মাইক্রোগ্রাম মাত্রায় আর্সেনিক দূষণ গ্রহণীয়। অনেকেই পানীয় জল ও খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে এর চেয়ে বেশি মাত্রায় আর্সেনিক দৈনিক গ্রহণ করছে।
সৌভাগ্যের বিষয়, খাবার ও পানির সঙ্গে আমাদের শরীরে যে আর্সেনিক অনুপ্রবেশ করে, তার সিংহভাগ (৮০ শতাংশ) আর্সেনিকের জৈব যৌগ। শারীরিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় জৈব আর্সেনিক যৌগ অনেকটুকুই নিষ্কাশিত হয়। গবেষকেরা জৈব আর্সেনিকের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ এখনো পাননি। তবে অজৈব যৌগ হিসেবে শরীরে অনুপ্রবেশ করা আর্সেনিক নিষ্ক্রিয় হয় না এবং এর বিষক্রিয়া শরীরে স্পষ্ট হয়। পানীয় জলের মাধ্যমেই প্রধানত অজৈব আর্সেনিক যৌগ শরীরে অনুপ্রবেশ করে।
ভূগর্ভের পানির অতি উত্তোলনে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আর্সেনিক দ্রুত ও বর্ধিত হারে পানিতে মেশে বলে ব্যাপক ধারণা প্রচলিত হলেও ভূ-বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, পানিতে আর্সেনিক-দূষণের উৎস আমাদের দেশে এমন প্রক্রিয়ায় ঘটছে না। বরং এখন তাঁরা বিশ্বাস করেন যে প্রধানত ভূগর্ভস্থ পানির সন্নিহিত মাটিতে বিদ্যমান আর্সেনিক আয়রন হাইড্রো-অক্সাইড জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আর্সেনিক বিমুক্ত করে এবং তা ভূগর্ভের পানিতে এসে মেশে।
সেচ ও পানীয় জলের জন্য আমাদের নির্ভরতা এখনো প্রধানত গভীর, স্বল্প গভীর ও অগভীর নলকূপনির্ভর। শিগগিরই এই নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। তা ছাড়া ভূমি গঠন ও আর্সেনিকের উৎসসমৃদ্ধ এলাকায় জৈব রসায়নিক বিক্রিয়ায় যেহেতু ভূগর্ভের পানিতে আর্সেনিকদূষণ ঘটে; সে কারণে অল্প বা বেশি পানিদূষণ সম্ভাবনার ভূগর্ভের উৎস থেকে পানি তুললে তেমন হেরফের হবে না। বরং জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পানিতে আর্সেনিক মেশার সুযোগ থাকলে এবং সেই স্থান থেকে পানি উত্তোলন করলে তা আর্সেনিক-দূষণে আক্রান্ত হবে।
সে ক্ষেত্রে আর্সেনিক-দূষণমুক্ত পানির জন্য দূষণমুক্ত ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে পানি তুলতে হবে। এ ছাড়া ভূপৃষ্ঠের পানি, বৃষ্টির পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ জন্য একক কোনো ব্যবস্থা কেউই সুপারিশ করছে না। বরং যেখানে যেমন বাস্তবানুগ ও টেকসই, তেমন প্রযুক্তি বেছে নেওয়া দরকার। কোথাও গভীর নলকূপ, কোথাও পাতকুয়া, কোথাও বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার; আবার সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবস্থানির্ভর ফিল্টার দিয়ে দূষণাক্রান্ত পানি শোধন করে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই একাধিক সমাধান যৌথভাবে ব্যবহূত হতে পারে।
বিভিন্ন দাতা সংস্থা, সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল সংস্থাসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলো কাজ করছে মানুষের অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহব্যবস্থা গড়তে।
তা ছাড়া দেশে সেচের জন্যই ভূগর্ভের পানির অধিকাংশ ব্যবহূত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি পরিমিত মাত্রায় সেচ দেওয়ার জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এখন যেভাবে ধান, সবজি বা অন্যান্য কৃষি ফসলে সেচ দেওয়া হয়, তার চেয়ে অনেক কম পানি ব্যবহার করেও এর চেয়ে বেশি ফসল পাওয়ার প্রযুক্তি ইতিমধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে।
আর্সেনিক বিষে আক্রান্ত হলে তা নিরাময়ের কোনো ওষুধ এখনো নেই। তবে দূষণের কারণ যে পানি ও খাবার, তা থেকে রোগীকে সরিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন প্রত্যেকের জন্য তিন লিটার খাওয়ার পানি ছাড়াও অন্তত ২০ লিটার বিশুদ্ধ পানি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চত করাই আমাদের এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ।
ড. মুশফিকুর রহমান: পরিবেশ বিষয়ক লেখক।

এসি বন্ধ রাখার আদেশ, না অনুরোধ by এ কে এম জাকারিয়া

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পিক আওয়ারে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখতে বলেছে। টেলিভিশনে বিইআরসির সংবাদ সন্মেলন ও পত্রিকার খবর দেখে এই বিভ্রান্তি খুব স্বাভাবিক যে এটি আদেশ, না অনুরোধ। আদেশ হলে জনগণকে তা মানতে হবে এবং না মানলে তার জন্য কোনো শাস্তি বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। আর বিষয়টি যদি শীতাতপ যন্ত্র ব্যবহারকারী ‘সমাজের অপেক্ষাকৃত বিত্তবানদের’(কমিশনের চেয়ারম্যানের ভাষায়) প্রতি আবেদন বা অনুরোধ হয়ে থাকে, তবে তা রাখা-না রাখার বিষয়টি নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর ওপর।
একটি টিভি চ্যানেলে দেখেছি, বিইআরসির একজন সদস্য বলেছেন, কেউ এই সময়ে এসি ব্যবহার করলে তার বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ‘চলমান নাজুক বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দেশবাসীকে দুটি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এক. বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় (পিক আওয়ার) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত হাসপাতাল ও হোটেল-রেস্তোরাঁ ছাড়া সর্বত্র শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখা। দুই. অন্য সময়ে (অফ পিক আওয়ারে) ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এসি না চালানো।’ প্রতিবেদনে এর পরপরই বলা হয়েছে, ‘বিইআরসি আইন ২০০৩-এর ২২(ক) ও ২২(ড) ধারার ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ বিষয়টি যদি শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ বা আবেদন হতো, তবে এ ব্যাপারে ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে’ ব্যবস্থা নিতে ‘নির্দেশ’ দেওয়ার কোনো কারণ ছিল না। তাই ধরে নিতে হচ্ছে, বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র বন্ধ রাখা ও অন্য সময়ে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার বিষয়টি একটি নির্দেশ এবং এটা মেনে চলা সব নাগরিকের দায়িত্ব। আইন অনুযায়ী এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা বিইআরসির রয়েছে।
বিদ্যুতের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের ঘাটতি সরকারি হিসাবে প্রায় এক হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের মতো। এই ঘাটতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি চলতি বোরো মৌসুমে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এবং আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা সত্যিই এক কঠিন কাজ। বিইআরসি সে বিবেচনা থেকেই পিক আওয়ারে এসি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সবাই সেটা মেনে চললে ২০০, ৩০০ বা ৫০০—যত মেগাওয়াটই হোক না কেন, বিদ্যুতের যে সাশ্রয় হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই নির্দেশ কি জনগণ মেনে চলবে? যদি মেনে না চলে তবে বাস্তবিকভাবে কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব? যদি জনগণ মেনে না চলে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া না যায়, তবে এ ধরনের নির্দেশের যৌক্তিকতা কী?
বাস্তবতা হচ্ছে, এই শহরের কোথায় কে কার বাসায় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ১১টার মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র চালাচ্ছেন কি না তার তদারক করা কার্যত অসম্ভব, অবাস্তবও। সে ক্ষেত্রে নির্দেশ না দিয়ে এই সময় এসি বন্ধ রাখার জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ জানালেই সম্ভবত বিইআরসি বুদ্ধিমানের কাজ করত। কারণ, ফল আসলে একই পাওয়া যাবে। যাঁরা এ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র বন্ধ রাখবেন, তাঁরা তাদের নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই বন্ধ রাখবেন বা অন্য সময়ে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামাবেন না। আরও একটি বাস্তব সমস্যা হচ্ছে, এমন অনেক অফিস ও প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোর অভ্যন্তরীণ সজ্জা এমনভাবে করা যে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রনির্ভর। অনেক প্রতিষ্ঠানে ফ্যানের ব্যবস্থা নেই, বাতাস চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জানালাও নেই। কেন এ ধরনের অভ্যন্তরীণ সজ্জা করা হয়েছে সেটা ভিন্ন প্রশ্ন; কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এ ধরনের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সে অফিসগুলো বন্ধ রাখতে হবে।
বর্তমানে রাত আটটার পর বিপণিকেন্দ্র ও দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশ কার্যকর রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কিছু উল্লেখযোগ্য বিপণিকেন্দ্র ছাড়া অধিকাংশ দোকানপাট রাত ১১/১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অর্থাৎ নির্দেশ থাকার পরও অনেকে তা মানছেন না এবং এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের তরফ থেকে কোনো নির্দেশ দেওয়া হলে তা যদি যথাযথভাবে কার্যকর করা না যায় তবে সে ধরনের নির্দেশ না দেওয়াই ভালো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসি বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করার চেয়ে এটা বরং অনেক সহজ কাজ। সরকারের উচিত আগে রাত আটটার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশটি যথাযথভাবে কার্যকর করার চেষ্টা করা।
বিদ্যুৎ-সংকট এখন যে পর্যায়ে গেছে, তাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নানা পথ বের করার কোনো বিকল্প নেই। সন্দেহ নেই যে আমরা অনেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী নই। অপচয়ও করে থাকি অনেকে। আবার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অনেক সহজ উপায়ও আমাদের জানা নেই। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য জনগণকে সচেতন ও উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আমরা প্রায় সবাই রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে আমাদের টিভি চালাই। এর জন্য টিভিতে যে লাল বাতিটি জ্বলে, তাতেও বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয়। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে যদি সুইচটি পুরো বন্ধ করে বের হওয়া যায়, তাতেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। যাঁদের বাসায় চার থেকে ছয়টি বাতি জ্বলে, তাঁরা একটু সচেতন হলেই অন্তত দুটি বাতি কম জ্বালিয়ে তাঁদের কাজ সারতে পারেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় যেন আমরা কোনোভাবেই ভুলেও কোনো রুমের বাতি জ্বালিয়ে রেখে বা ফ্যান ছেড়ে বের না হই। এ ধরনের ছোট ছোট সচেতনতা ও প্রতি পরিবারের একটু একটু কম বিদ্যুৎ খরচ আমাদের সবাইকেই স্বস্তি দিতে পারে।
ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছি। অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। আমরা তবে কেন বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা আরও জোরের সঙ্গে করছি না? আমাদের দেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান সামাজিক দায়বদ্ধতার (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবলিটি) জায়গা থেকে নানা ধরনের সচেতনামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে জনগণকে উৎসাহিত ও উদ্দীপিত করতে প্রচার-প্রচারণা চালাতে তারা এগিয়ে আসছেন না কেন? বিদ্যুৎ সমস্যাতো এখন সবচেয়ে বড় জাতীয় সমস্যায় পরিনত হয়েছে।
>>>এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

হায়দরাবাদের আরও আট এলাকায় নতুন করে কারফিউ

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী হায়দরাবাদের আরও আটটি এলাকায় গতকাল বুধবার কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত নতুন করে কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
হায়দরাবাদে গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় এ পর্যন্ত দুজন নিহত ও ১০৬ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২৫০ জনকে আটক করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সাজসজ্জা নিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে বাদানুবাদ থেকে এই দাঙ্গা শুরু হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে আটটি এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এখন শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা কারফিউয়ের আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পুলিশকে সহায়তার জন্য আরও দুই হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার এ কে খান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করব। দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে দমনের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
অন্ধ্র প্রদেশের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা আর আর গিরিশ কুমার বলেন, হায়দরাবাদের বেশির ভাগ অঞ্চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত নতুন কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

ইরাকে সরকার গঠনে হস্তক্ষেপ করছে ইরান

ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবি অভিযোগ করেছেন, ইরাকের সরকার গঠন-প্রক্রিয়ায় প্রতিবেশী দেশ ইরান সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। তেহরান তাঁর (আলাবি) প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পথেও বাধার সৃষ্টি করছে। গত মঙ্গলবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ইরাকিয়া ব্লকের নেতা আলাবি বলেন, ইরানের এ ধরনের আচরণ দুঃখজনক। নির্বাচনের পর ইরাকের প্রধান সব দলকে তেহরানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু আমার ব্লকের কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ইরান কীভাবে হস্তক্ষেপ করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইয়াদ আলাবি বলেন, ‘আমার এমনটাই মনে হচ্ছে।’

সেব্রেনিৎসা গণহত্যার ঘটনায় সার্বিয়ার দুঃখ প্রকাশ

সেব্রেনিৎসা গণহত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়ে গতকাল বুধবার একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সার্বিয়ার পার্লামেন্ট। ১৯৯৫ সালে ওই হত্যাযজ্ঞে প্রায় আট হাজার বসনীয় মুসলিম নিহত হয়। তবে গতকালের ওই প্রস্তাবে হত্যাকাণ্ডটিকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকার করা হয়নি।
পার্লামেন্টে ১৭৩ জন সদস্যের মধ্যে ১২৭ জন সদস্য প্রস্তাবটি সমর্থন করেন। এর আগে সার্বিয়ার রাজনীতিকেরা মুসলমানদের হত্যার ঘটনা অস্বীকার করে আসছিলেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) শুনানি অনুযায়ী ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে সেব্রেনিৎসার মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে সার্বিয়ার পার্লামেন্ট।’
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সহানুভূতি ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইনপ্রণেতারা। কারণ ওই সময় হত্যাযজ্ঞ থামাতে সম্ভাব্য সব চেষ্টা করা হয়নি। সার্বিয়ার ক্ষমতাসীন জোট এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটির পর জোটের সদস্য নেনাদ ক্যানাক বলেন, ‘এই ঘোষণা একটি প্রক্রিয়ার সূচনা। (প্রস্তাবটি) ছিল সবচেয়ে কঠিন পদক্ষেপ; তবে আমি নিশ্চিত, সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করার একটি প্রক্রিয়া শুরু করতে পেরেছি আমরা।’
প্রস্তাবটিতে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিটিওয়াই) সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সার্বিয়ার আদালত। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক আসামি রাতকো ম্লাদিচকে খুঁজে বের করা এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ-বিষয়ক আদালতের তালিকার শীর্ষ পলাতক আসামি ম্লাদিচ। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সার্বিয়ায় পালিয়ে আছেন। গণহত্যার ১৫ বছর পরও ৭০টির বেশি গণকবর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে শনাক্তকরণ চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৬০০ মৃতের পরিচয় উদ্ধার করা গেছে।
সার্বিয়ার পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক এই ঘোষণার একটি বড় কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আগ্রহ। দেশটির সরকার আশা করছে, আগামী বছর তারা ইইউতে সদস্য পদপ্রার্থী দেশের মর্যাদা পাবে। ইইউতে যোগ দেওয়ার একটি পূর্বশর্ত আইসিটিওয়াইকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া।
এর আগে ২০০৫ সালে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ সেব্রেনিৎসা গণহত্যার ১০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ ও এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করায় দেশে তাঁকে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ১৯৯২-৯৫ সাল পর্যন্ত বসনিয়ায় রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে একমাত্র সেব্রেনিৎসার হত্যাকাণ্ডকেই গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে আইসিজে ও আইসিটিওয়াই।

খাবার পানির সংকটে চীন

চীন গতকাল বুধবার জানিয়েছে, দেশটিতে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক খরার কারণে দুই কোটি ৪০ লাখের বেশি লোক খাবার পানির সংকটে পড়েছে। খবর এএফপির।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমের আগে এই অবস্থার উন্নতি হবে না। মে মাসের ২০ তারিখের পর বর্ষা মৌসুম শুরু হবে। অবিলম্বে খরার বিরূপ প্রভাব হ্রাস ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাবার পানি সরবরাহে কর্তৃপক্ষ ৬৩০ কোটি ইউয়ান সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সরকার দীর্ঘ সময়ের জন্য পানি সংরক্ষণে নতুন নতুন জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

পুলিশের টহল দলে বিড়াল

চীনের চংকিং শহরের একটি থানায় এক বিড়ালকে অনানুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিড়ালটি নিয়মিত পুলিশের টহল দলে দায়িত্ব পালন করবে ।
হুয়ালং নেটওয়ার্কের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কালো বিড়ালটি দিনের বেশির ভাগ সময় চীনের চংকিং শহরের শাপিংবা এলাকায় ওই থানায় কাটায়। পুলিশ কর্মকর্তারা যখনই কোনো টহল অভিযানে যায়, বিড়ালটি তাদের অনুসরণ করে। হুবহু পুলিশ কর্মকর্তাদের মতো করে চলাচল করায় লোকজন বিড়ালটিকে ‘অফিসার’ বলে সম্বোধন করে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিড়ালটি খুবই দ্রুতগতিসম্পন্ন। এটা গাছে চরতে ও ইঁদুর ধাওয়া করতে পারে। এটা খুবই ভালো দিক।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, কেউ বিড়ালটির মালিকানা দাবি না করায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে লালন পালন করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা (পুলিশ সদস্যরা) শান্ত চেহারা এবং ইঁদুর ধরার দক্ষতা থাকায় বিড়ালটিকে তাঁরা অনানুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ কর্মকর্তা উপাধি দিয়েছেন।

বেনজির হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ পিছিয়েছে জাতিসংঘ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সূচি মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে এক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন বেনজির। পরে পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে গত বছরের জুলাইয়ে এ হত্যার তদন্ত শুরু করে জাতিসংঘের একটি প্যানেল।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন নেসিরকি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জারদারির একটি জরুরি অনুরোধ গ্রহণ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ সময়সূচি পেছানো হয়েছে।’ তবে জারদারি কেন এ ধরনের অনুরোধ জানালেন, সে ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা দেননি নেসিরকি

সিআইএর সঙ্গে কাজ করছেন ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী

ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানী স্বপক্ষ ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সঙ্গে কাজ করছেন। গত মঙ্গলবার এবিসি নিউজ এ কথা জানায়।
হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার পর ২০০৯ সালের জুনে নিখোঁজ হন ইরানের পরমাণু পদার্থবিদ শাহরাম আমিরি। এবিসি বলেছে, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ স্বপক্ষ ত্যাগকে ‘গোয়েন্দা অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গত ৭ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহের মোত্তাকি অভিযোগ তোলেন, আমিরির নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত। মোত্তাকি ইঙ্গিত দেন, শাহরাম আমিরিকে সৌদি আরবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর সঙ্গে জড়িত।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোত্তাকিকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘শাহরাম আমিরিকে গ্রেপ্তারের জন্য সৌদি আরব দায়ী বলে আমরা মনে করছি। এ গ্রেপ্তারের সঙ্গে আমেরিকানরা জড়িত বলেও আমরা মনে করছি।

পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত হচ্ছে

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের স্থানীয় সরকার-শাসনের মূলস্তম্ভ হচ্ছে ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েতব্যবস্থা। অর্থাৎ গ্রাম-পর্যায়ে গ্রাম পঞ্চায়েত, থানা-পর্যায়ে পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা-পর্যায়ে জেলা পরিষদ। এই ত্রি-স্তরীয়ব্যবস্থায় এখন পশ্চিমবঙ্গে ৩৩ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার স্থানীয় সরকারে নারীদের আরও অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভায় রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী আনিসুর রহমান জানান, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এ লক্ষ্যে আগামীতে ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত আইন ও পঞ্চায়েত নির্বাচন সম্পর্কীয় আইনের সংশোধন-সংক্রান্ত বিল আনা হবে বিধান সভায়। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনও হবে ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ভিত্তিতে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ ত্রিপুরা সরকারও পঞ্চায়েতের ৫০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ রাখার ঘোষণা দেয়। এর আগে অবশ্য বিহার, উত্তরাখন্ড, হিমাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড় রাজ্যেও পঞ্চায়েতে নারীদের ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের আইন চালু হয়েছে। কেরালা ও রাজস্থানেও নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আরও বলেছে, পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনেও ৫০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত শিগগিরই নিচ্ছে রাজ্য সরকার।

প্রেসিডেন্ট জারদারির মামলা সচল করতে সুইজারল্যান্ডকে পাকিস্তানের চিঠি

পাকিস্তানের দুর্নীতি দমন বিভাগ ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো (ন্যাব) সে দেশের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির অর্থ পাচারের মামলা সচল করতে সুইজারল্যান্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল বুধবার ন্যাবের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মামলা সচল করার বিষয়ে তাঁরা জেনেভার অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জারদারির থমকে থাকা ঘুষের মামলা সচল করতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়ার পর গতকাল বুধবার ন্যাবের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই দিন প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মাদ চৌধুরী এক রুল জারি করে ঘোষণা দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্নীতির মামলাগুলো সচল না করলে ন্যাব-প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার ন্যাব-প্রধান নাভিদ আহসান আদালতে হাজির হন। এর পরপরই সুইস সরকারকে ওই আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। তবে জেনেভার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ড্যানিয়েল জ্যাপেল্লি বলেছেন, তাঁদের হাতে এখনো এ ধরনের কোনো চিঠি আসেনি। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।
ন্যাবের মুখপাত্র আবিদ জুবেরি বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে থমকে থাকা মামলা সচল করতে ন্যাব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্ট জারদারিসহ অন্য অভিযুক্তদের মামলার তদন্তে সহায়তা করার জন্য তাঁরা সুইস কর্তৃপক্ষের কাছে গতকালই চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, মামলাগুলো সচল হলেও সাংবিধানিক ক্ষমতার কারণে প্রেসিডেন্ট পদে থাকায় জারদারিকে এখনই জেলহাজতের মুখোমুখি হতে হবে না। কিন্তু তাঁর বহু রাজনৈতিক সহচর মামলাগুলোতে ফেঁসে যাবেন, যা তাঁর সরকারকে প্রচণ্ড চাপের মুখে ফেলে দিতে পারে।
২০০৩ সালে সুইজারল্যান্ডের একটি আদালত দেড় কোটি ডলার পাচারের মামলায় প্রেসিডেন্ট জারদারি ও তাঁর স্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
২০০৭ সালে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সরকার ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিন্যান্স (এনআরও) নামের একটি অধ্যাদেশ জারি করে। এর মাধ্যমে জারদারিসহ প্রায় আট হাজার রাজনীতিক ও আমলাকে দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আসিফ জারদারি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকারের অনুরোধে ২০০৮ সালে সুইস সরকার তাঁর মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু গত ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট এনআরও বাতিল করেন। এর মাধ্যমে মামলাগুলো আবার সচল করার পথ তৈরি হয়।
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মাদ চৌধুরী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ন্যাব-প্রধানকে মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, এ ক্ষেত্রে ন্যাব ব্যর্থ হলে এর প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কারাগারে পাঠানো হবে।

২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করেছে ৭৫টি দেশ

বিশ্বে ৮০ শতাংশের বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী ৭৫টি দেশ ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানো বা নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার করেছে। গতকাল বুধবার জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) এ কথা জানিয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু-বিষয়ক সম্মেলন নিয়ে তৈরি করা আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে ইউএনএফসিসিসি বলেছে, কোপেনহেগেন ঘোষণার আওতায় এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশগুলো। বিশ্বের ১১১টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোপেনহেগেন ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোপেনহেগেন ঘোষণায় বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ জন্য কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওই ঘোষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তার জন্য ২০১২ সালের মধ্যে তিন হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে, যা ২০২০ সাল নাগাদ বাড়িয়ে বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের তহবিলে উন্নীত করা হবে।
কোপেনহেগেন ঘোষণার সমর্থকেরা বলছেন, এটাই প্রথম ঘোষণা, যেখানে উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করতে রাজি হয়েছে।
ইউএনএফসিসিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘোষণাকে রাজনৈতিক আশীর্বাদ দিয়েছে চীন, ভারত, ব্রাজিলের মতো শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো। ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সচিব ইভো ডি বোর বলেন, অঙ্গীকারগুলো তাৎপর্যপূর্ণ, কিন্তু চূড়ান্ত জবাব নয়। চলতি বছরের শেষে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক সম্মেলনে নিঃসরণ কমানোর জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বিশ্ব সম্প্রদায়কে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতিও নিতে হবে।
গত ৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর বিশ্বের ১২০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা কোপেনহেগেনে জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেন। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে কোপেনহেগেন ঘোষণা গ্রহণ করা হয়।

ইরানের ওপর অবরোধ চান ওবামা ও সারকোজি

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে জাতিসংঘ যাতে নতুন করে দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ করে, সে ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি জানান যে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের সময় হয়েছে।
পশ্চিমা শক্তিগুলোর অভিযোগ, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। কিন্তু তেহরান অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ওবামা বলেন, নতুন করে অবরোধ আরোপ করার জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে আগ্রহী নন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই বসন্তের মধ্যেই আমরা কাজটি করতে পারব। আমি চাই, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করা হোক।’
প্রেসিডেন্ট সারকোজি বলেন, সন্দেহভাজন পরমাণু কর্মসূচি সম্পন্ন করতে ইরান যে পাগলের মতো দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু করেছে, তা চলতে দেওয়া যাবে না। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়।
সারকোজি বলেন, অবরোধ আরোপে ইউরোপের সমর্থন পেতে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সঙ্গে কাজ করছেন।
এর আগে আঙ্গেলা মেরকেল প্রস্তাব দেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যদি অবরোধ আরোপের ব্যাপারে একমত না হয়, তবে জার্মানি ও অন্য সমমনা দেশ তাদের নিজেদের অবরোধ আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
ইরানের ওপর জাতিসংঘের তিন দফা অবরোধ আরোপ করেছে। এগুলো হলো স্পর্শকাতর পরমাণু উপকরণের বাণিজ্য বন্ধ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ এবং ইরানের সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি নিষিদ্ধ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা ইরানের তেল-বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে চতুর্থ দফা অবরোধ দিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ওপর চাপ দিচ্ছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও ভেটো-ক্ষমতার অধিকারী চীন ও রাশিয়া ইরানের ওপর জাতিসংঘের অবরোধ আরোপে তেমন আগ্রহী নয়। চীন মনে করে, নতুন অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং এতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ওবামা ও সারকোজি জানান, অবরোধের ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও প্যারিস চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার কানাডার কুইবেকে জি-৮ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বৈঠক শেষে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারটি কূটনীতিরই একটি অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ১৫ মাস ধরে বারবার তার আন্তর্জাতিক দায়দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চাইছে। এটা সে দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কাসাবের বিচার শেষ, রায় ৩ মে

ভারতের মুম্বাইয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত পাকিস্তানি জঙ্গি মোহাম্মদ আজমল কাসাবের বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। আগামী ৩ মে মামলার রায় দেওয়া হবে। মুম্বাইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক এ ঘোষণা দেন।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাই হামলার ঘটনায় জড়িত ১০ বন্দুকধারীর মধ্যে একমাত্র জীবিত ব্যক্তি কাসাব গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের ফরিদকোর্টের বাসিন্দা ২৫ বছরের কাসাব গ্রেপ্তার হওয়ার প্রথম দিনের মতো গতকালও ছিলেন নির্বিকার। চোখে-মুখে উদ্বেগের কোনো ছাপ ছিল না। শুধু এদিক-সেদিক তাকিয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা মুম্বাইয়ের রেলস্টেশনে কাসাবের একে-৪৭ বহন করা ছবিসহ সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিক্কম গতকাল আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমি খুব খুশি যে অবশেষে আমরা পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আজমল কাসাবের বিচারকাজ শেষ করতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ৬৫০ জনের বেশি প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নিয়েছি। এখন আদালত আগামী ৩ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।’
৫৬ বছর বয়সী কৌঁসুলি উজ্জ্বল বলেন, কাসাব ছাড়াও তাদের সহযোগিতা করেছিল দুই ভারতীয় ফাহিম ও শাবুদ্দিন। কীভাবে কাসাব, ইসমাইলসহ মোট ১০ জঙ্গি করাচি থেকে জলপথে মুম্বাই আসে, কীভাবে মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলির নির্দেশে তারা তাজ হোটেল, ট্রাইডেন্ট হোটেল, ভিটি স্টেশন ও কোলাবার নারিম্যান হাউসে হামলার ছক কষেছিল, তা কাসাব আদালতকে জানিয়েছেন।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ৬০ ঘণ্টার সন্ত্রাসী হামলায় মোট ১৭৪ জন ভারতীয় ও বিদেশি মারা যায়। এর মধ্যে মুম্বাই পুলিশের ১৭ জন সদস্য নিহত হন। আহত হয় শতাধিক মানুষ। ক্ষয়ক্ষতি হয় কয়েক শ কোটি রুপি।
গত বছরের এপ্রিল মাসে যখন কাসাবের মামলার শুনানি শুরু হয়, তখন তিনি দোষ স্বীকার করেননি। কিন্তু দুই মাস পর জুলাই মাসে হঠাৎ করে কাসাব মুম্বাই হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

সু চির দলের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মিয়ানমারে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনের অনেক বাসিন্দা গতকাল মঙ্গলবার এএনএলডিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে অনেকে বলছে, এনএলডি নির্বাচন বর্জন করে তাদের সংকটের মুখে ফেলেছে। কেননা, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মতো আর কোনো পছন্দের প্রার্থী নেই তাদের।
এনএলডির নেতারা গত সোমবার আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দেন। দলটির নেত্রী শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী অং সান সু চি সম্প্রতি জান্তা সরকারের তৈরি করা নির্বাচনী আইনকে অগণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় এনএলডি।
৮ মার্চ জান্তা সরকার ১৯৯০ সালের নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে নতুন নির্বাচনী আইন পাস করে। এতে বলা হয়েছে, যেকোনো অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের সাজাপ্রাপ্ত সদস্য থাকলে ওই দলের নিবন্ধনও বাতিল বলে গণ্য হবে।
এনএলডির নেতারা বলেছেন, নতুন আইন অনুযায়ী তাঁদের দলকে নিবন্ধিত করতে হলে সু চিসহ কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বহু নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে এটা মেনে দল নিবন্ধন করলে নতুন আইনকে স্বীকার করে নেওয়া হবে, যা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোমবার এনএলডির নির্বাহী কমিটির ১১৩ সদস্য সর্বসম্মত হয়ে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে ১৯৯০ সালের নির্বাচনে সু চির দল ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করলেও তাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়নি সামরিক জান্তা।
মিয়ানমারের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ বছর বয়সী শিক্ষক মিয়িন্ত মিয়িন্ত থেইন বলেন, ‘এনএলডি নির্বাচন বর্জনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বিধ্বংসী। যখন নির্বাচন হবে তখন আমি কাকে ভোট দেব?’
গয়নার দোকানের মালিক মিয়ে মিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে অন্ধের মতো অনিশ্চিত পথে চলছে এনএলডি। আমরা সবাই ঠিক করেছিলাম এনএলডির প্রার্থীদের ভোট দেব। এখন আর আমাদের কোনো পছন্দের প্রার্থী নেই।’
তবে ৫৫ বছর বয়সী নার্স খিন জ এনএলডির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘সু চি আমাদের নেত্রী। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কি না জনগণের অনুভূতিকে প্রতিফলিত করতে পারেন। আমরা তাঁর সঙ্গে আছি এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি।’
অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ থাকিন চান তুন বলেন, ‘সু চির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কারণে বেশির ভাগ মানুষ সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনের বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে।’
নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাকে সাহসিক সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মীরা। ইউএস ক্যাম্পেইন ফর বার্মা সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অং ডিন বলেন, তাঁরা সবাই অং সান সু চি ও সব রাজনৈতিক বন্দীর পাশে থাকার সিদ্ধান্ত অব্যাহত রেখেছেন। মিয়ানমারের জনগণ সামরিক জান্তার ভুয়া নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।

জিতেছে ডেয়ারডেভিলস

গৌতম গম্ভীরের কাছে হেরে গেলেন শেন ওয়ার্ন। আইপিএলে কাল ওয়ার্নের রাজস্থান রয়্যালসকে ৬৭ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল গম্ভীরের দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।
নিজেদের মাঠ দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করে ডেয়ারডেভিলস। ৬৭ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর পঞ্চম উইকেটে গম্ভীর-দীনেশ কার্তিক মিলে যোগ করেন ৭৯ রান। গম্ভীর করেন ৩৭ বলে ৪৩, কার্তিক ৩৮ বলে ৬৯। জবাবে ১৭.৪ ওভারে ১২১ রানে অলআউট হয়ে যায় রাজস্থান। সর্বোচ্চ ২৭ রান ওপেনার নমন ওঝার। দিল্লির অমিত মিশ্র ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৮ ম্যাচে দিল্লির এটা পঞ্চম জয়, রাজস্থানের চতুর্থ পরাজয়। সাত ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, ১০ পয়েন্ট নিয়ে এরপরই দিল্লি

যেখানে শুরু সেখানেই শেষ হাবিবুলের

সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণাটা আগেই দিয়েছিলেন। তবু পিসিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হাবিবুল বাশারের খেলতে আসার কারণ তার প্রথম ক্লাব বিমানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা। বাংলাদেশ বিমান গতকাল রাতে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে পাইরেটস অব চিটাগাংয়ের। দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা স্পোর্টস ক্লাব বেঙ্গল টাইগার্স ইন্ডিয়ার কাছে হেরে যাওয়ায় পিসিএল থেকে বিমানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
পিসিএলে বিমানের শেষ ম্যাচ ও সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক হাবিবুলের বিদায়ী ম্যাচ একই সূত্রে গাঁথা হয়ে গেল। হাবিবুলের ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের শুরুটাও ছিল এই শারজা মাঠেই, ১৯৯৫ সালের ৬ এপ্রিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না হলেও কাল সেই মাঠেই শেষ ম্যাচ খেলে গুছিয়ে রাখলেন কফিন। বিদায়ের অনুভূতি সব সময়ই বেদনার। হাবিবুলও ব্যতিক্রম নন, বললেন, ‘প্রিয় ক্রিকেট, সতীর্থ খেলোয়াড় আর মাঠ ছেড়ে যেতে কষ্ট লাগছে। সবার সঙ্গে কত স্মৃতি...!’
বিদায়বেলায় চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট জয়ের কথা তাঁর খুব মনে পড়ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই টেস্টে তিনিই ছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। ‘এ মুহূর্তে আমার কাছে স্মরণীয় অর্জন প্রথম টেস্ট জয়’—আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বললেন হাবিবুল।
ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেও বাকি জীবন ক্রিকেটের সঙ্গে থাকার আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের সফল অধিনায়কের, ‘আমার ইচ্ছা ক্রিকেট নিয়ে থাকা। কোচিং নয়তো ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে। তবে এখনো সেভাবে কিছু ঠিক করিনি।’ পরে মাঠে নেমে জীবনের শেষ ম্যাচটায় করেছেন ৮ রান। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে দুদলের খেলোয়াড়েরা ব্যাট উঁচিয়ে তাঁকে দিয়েছেন ‘গার্ড অব অনার।’ এ ম্যাচে হাবিবুলের দল বিমান ৬ উইকেটে হেরে গেছে পাইরেটস অব চিটাগাংয়ের কাছে। বিমানের ১৩৩ রান ৪ উইকেট হারিয়েই টপকে যায় পাইরেটস।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা বেঙ্গল টাইগার্স অব ইন্ডিয়া ঢাকা স্পোর্টসকে ৪৩ রানে হারায়। টসে জিতে বেঙ্গল টাইগার্স ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন পিনিস জয়াচন্দ্র। ঢাকার পক্ষে শরিফ তিনটি এবং মোশারফ ও মেহরাব জুনিয়র ২টি করে উইকেট নেন।
রাজেশ শর্মার বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি ঢাকা স্পোর্টস। দুই বল বাকি থাকতে তাদের ইনিংস থেমে যায় ১২২ রানে। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন রাজেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর বেঙ্গল টাইগার্স: ২০ ওভারে ১৬৫/৯ (জয়াচন্দ্রা ৪৯, উইনডেকা বান্ডেলা ৩৩, রেশমি রঞ্জন ২৪; শরিফ ৩/২৫, মোশারফ ২/২২, মেহরাব ২/৪০)। ঢাকা স্পোর্টস: ১৯.৪ ওভারে ১২২ (ফয়সাল ইকবাল ৪১, মেহরাব ১৭; রাজেশ শর্মা ৪/১৮, রনদিভ ১/২০)। ফল: বেঙ্গল ৪৩ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রাজেশ।
বিমান: ১৩৩/৭ (ইমরান ৪৪, জাহিদ ৩২, সাজ্জাদ ২০, হাবিবুল ৮, রাশেদ ২/২১, কাপালি ২/২৮)। পাইরেটস অব চিটাগাং: ১৩৪/৪ (রনি ৪৫, ইয়াসির ৩৫; সজিব ১/১৮, মাহবুবুল ১/২২)। ফল: পাইরেটস অব চিটাগাং ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রনি।

মহানগর স্কুল ফুটবল

বাবা রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির একসময় মাঠ মাতিয়েছেন। মেয়ে ইউনিসা ওয়ালীও বাবার মতোই মাঠ মাতাচ্ছে। কাল মেয়েদের মহানগর স্কুল ফুটবলে গ্রীন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের হয়ে একটি গোল করেছে সে। সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে কাল তাদের স্কুল ৪-০ গোলে হারিয়েছে সামারফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলকে। গ্রীন হেরাল্ডের বাকি গোল তিনটি শ্রাবন্তী (২) ও রাইসার দেওয়া।
একই ভেন্যুতে দিনের অন্য ম্যাচে স্কলাস্টিকা স্কুল ২-০ গোলে হারিয়েছে মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে। স্কলাস্টিকার অনুশা ও আরুশা করেছে গোল দুটি। রাজধানী হাইস্কুল ও ডন গ্রামারের ম্যাচটি গেছে গোলশূন্য। আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল ২-০ গোলে জিতেছে রহমতউল্লাহ মডেল হাইস্কুলের বিপক্ষে। দুটি গোলই করেছে অ্যানি। গোলশূন্য শেষ হয়েছে অগ্রণী স্কুল ও ইসলামবাগ আশরাফ আলী হাইস্কুলের ম্যাচটি।

নয় শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ জঙ্গিদের বড় ধরনের একটি নাশকতার পরিকল্পনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। সোমবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ওই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত নয়জন শ্বেতাঙ্গ জঙ্গিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। খ্রিষ্টান মিলিশিয়া দলের এ চরমপন্থীদের গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়।
মিশিগান, ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে এ জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি দলটি খ্রিষ্টান মৌলবাদী হুটারি গ্রুপের একটি শাখা। মিশিগানভিত্তিক এ জঙ্গি দলটি দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনা করছিল। ডেভিড ব্রায়ান স্টোন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি জঙ্গি দলটির প্রধান।
ক্যাপেন হুটারি ছদ্মনামে ডেভিড গোপনে জঙ্গি দলটিকে সংগঠিত ও এর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন। খ্রিষ্টধর্মের নামে মৌলবাদী ও জঙ্গি প্রচারণা চালিয়ে শক্তি সঞ্চয় করছিল এ দলটি। এটির পরিকল্পনা ছিল নাশকতার জন্য প্রথমে কোনো পুলিশের কর্মকর্তাকে হত্যা করা এবং এর পর নিহত সেই পুলিশ কর্মকর্তার শেষকৃত্য উপলক্ষে যে পুলিশ সমাবেশ হবে তার ওপর হামলা চালানো।
ই-মেইল আদান-প্রদানের সূত্র ধরে এবং আগাম গোয়েন্দা নজরদারির ফলেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগেই দলটির নয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া শ্বেতাঙ্গ জঙ্গিরা হচ্ছেন ডেভিড ব্রায়ান স্টোন, তাঁর স্ত্রী টিনা স্টোন (৪৪), ছেলে জাসুয়া (২১), ব্রায়ান জুনিয়র (১৯), এড্রিন ক্লগ (২৮), মাইকেল মিক (৪০), টমাস পিয়াটেক (৪৬), ক্রিস্টোফার (২৭) ও জ্যাকব ওয়ার্ড (৩৩)।
আদালতে সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিরা মনে করেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ধর্মের শত্রু। সশস্ত্র সংঘাতের মাধ্যমে দলটি ধর্মের এসব শত্রুকে নির্মূল করতে চায়।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ভয়ংকর জঙ্গিগোষ্ঠীদের দমনে এ গ্রেপ্তার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ চরমপন্থীদের উত্থান ঘটছে। ১৯৯৫ সালে শ্বেতাঙ্গ জঙ্গিদের হামলায় ওকলাহোমা নগরে ১৬৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগগুলো নতুন করে শ্বেতাঙ্গ জঙ্গিদের উত্থানে সতর্ক হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে হতাশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাপা ক্ষোভকে উসকে দেওয়ার জন্য কাজ করছে বিচ্ছিন্ন সব জঙ্গিগোষ্ঠী। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্মের নামে চরমপন্থী মানসিকতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব জঙ্গিগোষ্ঠী প্রায়ই সদস্য সংগ্রহে সফল হচ্ছে বলে মার্কিন গোয়েন্দাদের অভিমত। গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘আমরা তরবারি দিয়ে আত্মরক্ষা করব এবং অস্ত্র ব্যবহার করে বেঁচে থাকব।’
বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

জুন মাসে কান্দাহারে অভিযান শুরু করবে ন্যাটো বাহি

চলতি বছরের জুন মাসে আফগানিস্তানের কান্দাহারে তালেবান জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান শুরু করবে ন্যাটো বাহিনী। এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, আফগানিস্তানে অভিযান ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কান্দাহারে শুরু হবে জুন মাসে।
চলতি বছরের গোড়ার দিকে কান্দাহারের কাছে হেলমান্দ প্রদেশে তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করে ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনী। চলতি গ্রীষ্মে তালেবানদের শক্ত ঘাঁটিতে তারা ‘অপারেশন ওমেইড’ নামে এক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে। তবে অভিযান শুরুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কৌশলের পরবর্তী ধাপের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং তালেবানের আধ্যাত্মিক রাজধানী কান্দাহারে এই সামরিক অভিযান শুরু করা হচ্ছে। আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর এই যুদ্ধের এখন নবম বছর চলছে।
আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাক ক্রিস্টাল চলতি মাসের গোড়ার দিকে ওয়াশিংটনে এক টেলিকনফারেন্সে সাংবাদিকদের বলেন, কান্দাহারে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে প্রাথমিক অভিযান ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অভিযানকালে প্রধান সড়ক ও জেলাগুলোর নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হবে।
কান্দাহারে ‘অপারেশন ওমেইড’ পরিচালিত হবে হেলমান্দ প্রদেশে চলমান ‘অপারেশন মুশতারাক’-এর আদলে। হেলমান্দের অভিযানে বিপুলসংখ্যক তালেবানকে পুশব্যাক করা হয়েছে এবং সরকারকে ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
হেলমান্দে তালেবানদের শক্ত ঘাঁটি নির্মূলে অভিযান এবং সহিংসতাকবলিত দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গৃহীত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন আদায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চলতি সপ্তাহে আফগানিস্তানে আকস্মিক সফর করেন। কাবুলের বাইরে বাগরাম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ও ন্যাটো সেনাদের এক সমাবেশে ওবামা বলেন, ‘আফগানদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুত করে তোলার লক্ষ্যেই আমরা তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করছি।’
তালেবান জঙ্গিদের সমূলে উৎপাটন করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো আগামী মাসে তাদের সেনা বাড়িয়ে দেড় লাখ করবে। ২০০৯ সালের গ্রীষ্মকালে কান্দাহারে মার্কিন সেনাদের একটি ব্রিগেড মোতায়েন করা হয়।

শেষ হলো দল ঘোষণা পর্ব

আগামী ৩০ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্টে জন্য শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড দল ঘোষিত হয়েছে কাল। এএফপি।
শ্রীলঙ্কা: কুমার সাঙ্গাকারা (অধিনায়ক), মুত্তিয়া মুরালিধরন (সহ-অধিনায়ক), তিলকরত্নে দিলশান, মাহেলা জয়াবর্ধনে, দীনেশ চান্ডিমাল, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, থিসারা পেরেরা, নুয়ান কুলাসেকারা, সুরাজ রনদিভ, অজন্তা মেন্ডিস, লাসিথ মালিঙ্গা, চাণক্য ওয়েলাগেদারা, চামারা কাপুগেদারা, সনাত্ জয়াসুরিয়া ও চিন্তাকা জয়াসিংহে।
দক্ষিণ আফ্রিকা: গ্রায়েম স্মিথ (অধিনায়ক), জ্যাক ক্যালিস (সহ-অধিনায়ক), লাঞ্জিল বসম্যান, ইয়োহান বোথা, মার্ক বাউচার, এবি ডি ভিলিয়ার্স, জেপি ডুমিনি, হার্শেল গিবস, ররি লিনভেল্ট, কার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট, অ্যালবি মরকেল, মরনে মরকেল, ডেল স্টেইন, হুয়ান থেরন, রোয়েলফ ফন ডার মারউই।
ইংল্যান্ড: পল কলিংউড (অধিনায়ক), জেমস অ্যান্ডারসন, রবি বোপারা, টিম ব্রেসনান, স্টুয়ার্ট ব্রড, ক্রেইগ কিসওয়েটার, মাইকেল লাম্ব, এউইন মরগান, কেভিন পিটারসেন, আজমল শেহজাদ, রায়ান সাইডবটম, গ্রায়েম সোয়ান, জেমস ট্রেডওয়েল, লুক রাইট, মাইকেল ইয়ার্ডি।
নিউজিল্যান্ড: ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (অধিনায়ক), শেন বন্ড, ইয়ান বাটলার, গ্যারেথ হপকিন্স, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, নাথান ম্যাককালাম, কাইল মিলস, রব নিকোল, জ্যাকব ওরাম, অ্যারন রেডমন্ড, জেসি রাইডার, টিম সাউদি, স্কট স্টাইরিস ও রস টেলর।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যানেজার তানজীব

আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যানেজার হিসেবে ফিরছেন তানজীব আহসান (সাদ)। সর্বশেষ জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় আসন্ন বিশ্বকাপেও তাঁকেই দেওয়া হয়েছে এই দায়িত্ব। বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ড সফরেও ম্যানেজার থাকবেন তানজীব। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, দলের সঙ্গে হেড অব ডেলিগেশন যাওয়ার রীতিটা বজায় থাকছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। এ পদে বিসিবির এবারের ‘সৌভাগ্যবান’ পরিচালক সম্ভবত সহসভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু।

ইতালি টানছে না মরিনহোকে

রেফারির দিকে ‘হাতকড়া পরা’ হাত দেখানোর পর সিরি ‘আ’তে তিন ম্যাচের জন্য পার্শ্বরেখায় নিষিদ্ধ ছিলেন। সেই থেকেই ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আড়ি হোসে মরিনহোর। এক মাসেরও বেশি লম্বা মিডিয়া-বয়কট শেষ হলো গত পরশু। চ্যাম্পিয়নস লিগের নিয়মানুযায়ী কথা বলতেই হতো। সিএসকেএ মস্কোর সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনাল প্রথম লেগের ম্যাচ নিয়ে কথা বললেন। এর বাইরে যা বললেন, চেলসির সাবেক কোচ, তা ইতালিয়ানদের ভালো লাগতে পারে না। ওয়েবসাইট।
ইন্টারে তাঁর ভালো সময় কাটছে জানালেও পুরো ইতালিয়ান ফুটবলের প্রতি বিরক্ত মরিনহো, ‘আমি ইন্টারে খুব ভালো আছি, কিন্তু ইতালিয়ান ফুটবলে ভালো নেই।’ সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন ছুটে গেছে মরিনহোর দিকে, ‘কেন?’ তাঁর উত্তর, ‘কারণ আমি এটি (ইতালিয়ান) ফুটবল পছন্দ করি না, ওটাও আমাকে পছন্দ করে না।’
কোন দেশের ফুটবল ভালো লাগে তাঁর কাছে? ওই প্রশ্ন ওঠার আগেই মরিনহো সেটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ‘আমি প্রিমিয়ারশিপ (ইংলিশ) খুব মিস করি, প্রিমিয়ারশিপও আমাকে মিস করে।’ আগেও গুঞ্জন উঠেছে মরিনহো আবারও ইংলিশ ফুটবলে ফিরে যেতে পারেন। আগামী গ্রীষ্মেই কি তাহলে কোনো ইংলিশ ক্লাবের প্রস্তাব আশা করছেন বিশ্ব ক্লাব ফুটবলের অতি আলোচিত-সমালোচিত এই কোচ? কৌশলে যে উত্তর দিয়েছেন, তাতে গ্রীষ্মে সেই আশা তাঁর নেই, ‘ইন্টারে আমি চ্যাম্পিয়নশিপ, ইতালিয়ান কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। এটাই তো আমার সব সময় নিয়ে নেবে।’

চীনের সমালোচনায় অ্যামনেস্টি

প্রতিবছর কতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তার সঠিক সংখ্যা জানাতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থার একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশ্বের বাকি দেশগুলোতে যতগুলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, শুধু চীনে তার চেয়ে বেশি মানুষ মৃত্যুদণ্ডে মারা যায়। কিন্তু চীনা সরকার প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম সংখ্যা প্রকাশ করে।
লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে চীনে বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা হাজারের ওপর। সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীন ছাড়া ইরান, ইরাক, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার অনেক বেশি।
অ্যামনেস্টির অন্তর্বর্তী মহাসচিব ক্লদিও কর্দোন বলেন, ‘চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি তারা কমসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। কিন্তু তাদের বক্তব্য সত্য হলে, কেন তারা বিশ্বকে নির্দিষ্ট করে জানাচ্ছে না, কতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়? মৃত্যুদণ্ড একটি নিষ্ঠুর কাজ। এটা মানুষের জন্য মর্যাদাহানিকর। চীনে যাঁরাই মৃত্যুদণ্ড পান, তাঁরা কেউই আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানে সুবিচার পান না।’
সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর বিশ্বে ১৮টি দেশে ৭১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৬টি দেশে ২০০১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চীন ছাড়া ইরানে কমপক্ষে ৩৮৮ জন, ইরাকে ১২০ জন, সৌদি আরবে কমপক্ষে ৬৯ জন ও যুক্তরাষ্ট্রে ৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি জানায়, চীন, ইরান ও সুদানে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া, বিরোধীদের মুখ বন্ধ করা বা রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারের জন্য গত বছর এ সাজা অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। গত বছর ইরানে ১১২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
সব ধরনের অপরাধের সাজার তালিকা থেকে মৃত্যুদণ্ডকে তুলে দিয়েছে বুরুন্ডি ও টোগো। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ নিয়ে বিশ্বের ৯৫টি দেশ থেকে মৃত্যুদণ্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। আরও নয়টি দেশ সাধারণ অপরাধের সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড তুলে দিয়েছে।

নাইজেরিয়ার কয়েকটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হওয়া উচিত: গাদ্দাফি

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বলেছেন, নাইজেরিয়ার কয়েকটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হওয়া উচিত। দেশটির উচিত যুগোশ্লাভিয়াকে অনুসরণ করা। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গাদ্দাফি এ কথা বলেন।
এর আগে গাদ্দাফি বলেছিলেন, দেশটির গোষ্ঠীগত সংঘাতের অবসান ঘটাতে ভারত ও পাকিস্তানের মতো ভাগ হয়ে যাওয়া উচিত। গাদ্দাফির ওই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে নাইজেরিয়া ত্রিপোলি থেকে তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাদ্দাফির ওই মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেছে। দেশটির একজন সিনেটর গাদ্দাফিকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছেন।
নাইজেরিয়ার নিন্দার জবাবে একটি বার্তা সংস্থা বিবৃতি পাঠান গাদ্দাফি। তাতে তিনি লেখেন, নাইজেরিয়ার উচিত সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার পথ অনুসরণ করা। যুগোশ্লাভিয়া ভেঙে সাতটি পৃথক রাষ্ট্র হয়েছে। নাইজেরিয়ারও কয়েকটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হওয়া উচিত। তা না হলে সেখানে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের কখনো অবসান হবে না।
গাদ্দাফির সর্বশেষ এ মন্তব্য সম্পর্কে নাইজেরিয়ার সরকার অবশ্য এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

মাত্র ১০ মিনিট, নইলে বিপত্তি

বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে পারলে নিঃসন্দেহে অর্থ অপচয় কমবে। এটা সত্য, কিন্তু বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোটা যায় কীভাবে? ব্রিটেনের সরকারি নীতিনির্ধারকেরা এ জন্য একটা অভিনব উপায় বাতলেছেন। তো সে উপায়টা কী? তা হলো টয়লেটের বিদ্যুৎ সাশ্রয়। টয়লেটে ঢোকার ১০ মিনিটের মধ্যে সেখানকার বাতি নিভিয়ে দেওয়া। এ ১০ মিনিটের মধ্যে টয়লেটের কাজ সারতে হবে। দেরি করলেই বিপত্তি। অন্ধকার নেমে আসবে চারদিকে; সৃষ্টি হবে বিব্রতকর পরিস্থিতির। তবে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ পদ্ধতি কিছুটা বিব্রতকর হলেও এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বাবদ বছরে লাখ লাখ পাউন্ড বাঁচানো সম্ভব।
যুক্তরাজ্যের বিভন্ন সরকারি কার্যালয়ে ইতিমধ্যে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ডেইলি টেলিগ্রাফ তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, সরকারি কার্যালয়ের টয়লেটগুলোতে বিশেষ ধরনের গোপন সুইচ সংযুক্ত করা হয়েছে। কেউ টয়লেটে ১০ মিনিট কাটানোর পর আপনা-আপনি টয়লেটের বাতি নিভে যাবে। নতুন এ নিয়মের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে ওয়েস্ট মিন্ডল্যান্ডের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে টয়লেটে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।
বার্মিংহামের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এ রকম একটা পদ্ধতি চালু করার আগে সবার সঙ্গে কথা বলার দরকার ছিল। কিন্তু বাস্তবে আমাদের কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এটা আমাদের জন্য রীতিমতো বিব্রতকর ও অবমাননাকর।’ তিনি বলেন, ‘ভাবুন তো, আপনি টয়লেটে বসে আছেন, এমন সময় হঠাৎ টয়লেটের বাতি নিভে গেল—এটা কেমন ধরনের কাজ। এটা স্রেফ অপমান। বাতি নিভে গেলে আপনাকে পয়পরিষ্কারের জন্য অন্ধকারে হাতড়াতে হবে। টয়লেটের দরজায় গিয়ে সুইচ টিপে আবার বাতি জ্বালাতে আপনাকে কী ভীষণ বেগই না পোহাতে হবে!’
সরকারি ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘হঠাৎ টয়লেটের বাতি নিভে গেলে আপনি মনে মনে প্রার্থনা করবেন, হে ঈশ্বর! এখন যেন কেউ চলে না আসে। আপনি প্রাণপণে এও চাইবেন, আপনি যে প্যান্ট নিয়ে তাড়াহুড়া করছেন তা যেন কেউ না দেখে।’
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এ অভিনব পদ্ধতি ধীরে ধীরে ব্রিটেনের সব অঞ্চলের সরকারি কার্যালয়ে চালু করার চিন্তাভাবনা চলছে। এতে বছরে এক হাজার ১০০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে ব্রিটেনের অর্থ বিভাগের এক হিসাবে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুতের অপচয় রোধে নতুন এ পদ্ধতির পক্ষে সরকারের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, এতে একদিকে যেমন বিদ্যুতের খরচ কমবে, তেমনি অর্থ সাশ্রয়ও হবে। তিনি বলেন, ‘সরকারি কার্যালয়ের যেসব ক্ষেত্রে একটু ইচ্ছে করলেই বিদ্যুতের খরচ কমানো সম্ভব, কেবল সেসব ক্ষেত্রেই আমরা এ পদ্ধতি চালু করেছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

বড়রা হারাল ছোটদের

নিলয়, লাবু, রুবেলদের সঙ্গে বিকেএসপিতে একই ডাইনিংয়ে বসে সকালের নাশতা সেরেছেন মাইনুল, রিপনরা। পরে এক বাসে উঠেছেন আবাহনীর নিলয়রা। অন্য বাসে উঠে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে এসেছেন মেরিনার্সের মাইনুলরা। ঢাকা ব্যাংক ক্লাব কাপ হকিতে আবাহনী ও মেরিনার্সের আড়ালে আসলে কাল খেলল বিকেএসপিরই দুটি দল। সিনিয়রদের নিয়ে গড়া আবাহনীর দলটির কাছে ৫-২ গোলে হেরে গেল জুনিয়রদের মেরিনার্স।
আবাহনী দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই আজ বসবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়। বিকেএসপির সাত তরুণের একজন নিলয় কাল জানালেন, ‘এসব আমাদের কাছে কোনো ব্যাপারই না। আমরা এভাবে খেলে ও পরীক্ষা দিয়ে অভ্যস্ত, কোনো সমস্যা হয় না।’ পরীক্ষা পরীক্ষার জায়গায়, খেলা খেলার জায়গায়। ম্যাচে নেমে ২টি গোল করে সেটাই দেখালেন নিলয়। ম্যাচের তৃতীয় ও তাঁর দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ। মাঝমাঠে দুজন খেলোয়াড়কে কাটানোর পর দারুণ দক্ষতায় গোলকিপারকেও পরাস্ত করেছেন নিলয়। জামিলও ২টি গোল। অন্যটি লাবুর। মেরিনার্সের গোল দুটি মাইনুলের।
আবাহনী প্রথম ম্যাচে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল পুলিশকে। কিন্তু পুলিশের মতো মেরিনার্স যে দুধভাত নয়, সেটা আবাহনী ভালোই বুঝল। দুটি দলের খেলায়ই গতি ছিল। কাল সবগুলো গোলই এসেছে ফিল্ড স্ট্রোক থেকে। মাত্র ২টি পেনাল্টি কর্নার পেয়েছে আবাহনী। কাল অবশ্য কোনো গোল করতে পারেননি আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিকম্যান আসাদুজ্জামান (চন্দন)।
আবাহনী কোচ কাওসার আলী কাল পড়েছিলেন মধুর সমস্যায়। বিকেএসপির এই কোচের ছাত্ররাই যে খেলল দুই দলে। এবার আবাহনীর দায়িত্ব নেওয়া কোচ জানান, ‘আমি আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে সিনিয়রদের ওরা হারাতে পারবে না। সেটাই হয়েছে। কাদের সমর্থন করব, ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। খেলায় অবশ্য সিনিয়রদেরই আধিপত্য ছিল। আর মেরিনার্সের ওরা অভিজ্ঞতার কাছে মার খেয়েছে।’
দিনের প্রথম ম্যাচে অ্যাজাক্স ২-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ পুলিশকে। দুটি গোলই করেছেন ইমতিয়াজ। খেলা শুরুর আগে ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার খোদা বক্স মৃধার মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সবার আগে বার্নস

৩৪তম টেস্টে দেড় শ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল জনসন। বাঁহাতি ফাস্ট বোলারদের মধ্যে এটি দ্রুততম। তবে সব ধরনের বোলারদের হিসাবে নিলে জনসনের আগে আছেন অনেকে। সব মিলে রেকর্ডটা ইংল্যান্ডের সিডনি বার্নসের (২৪ টেস্ট)। পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনুস ও অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার ক্ল্যারি গ্রিমেটের ২০০তম উইকেট ২৭ ও ২৮তম টেস্টে। ২৯তম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার হিউ টেফিল্ড ডেল স্টেইন ও ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম। ৩১তম টেস্টে তিন অস্ট্রেলিয়ান—ডেনিস লিলি, শেন ওয়ার্ন ও স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল। ৩৩তম টেস্টে দুজন—ওয়েস্ট ইন্ডিজের অ্যান্ডি রবার্টস ও দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যালান ডোনাল্ড।

আন্তজেলা ক্রিকেট

রংপুরে কায়সারের বোলিং নৈপুণ্যে (৫/১৭) আন্তজেলা ক্রিকেটে গাইবান্ধা জেলা দল (১৫৫/২) ৮ উইকেটে হারিয়েছে লালমনিরহাটকে (১৫৪)। অন্য ম্যাচে পাবনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ (১৫২/৪) ৬ উইকেটে বগুড়াকে (১৪৯), পিরোজপুরে পিরোজপুর (১৬৫/৫) ৫ উইকেটে ঝালকাঠিকে (১৬৩), হবিগঞ্জে হবিগঞ্জ (১০৬/২) ৮ উইকেটে সুনামগঞ্জকে (১০২), কুষ্টিয়ায় যশোর (১৬৭/৩) ৭ উইকেটে মাগুরাকে (১৬৪), কুমিল্লায় নোয়াখালী (১৭৮) ৭ রানে ফেনীকে (১৭১), ফরিদপুরে রাজবাড়ী (১৮৮) ১ রানে মাদারীপুরকে (১৮৭) ও জামালপুরে স্বাগতিক জামালপুর (২১৬/৯) ৮৩ রানে নরসিংদীকে (১৪৩/৯) হারিয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লি
কাল ঘোষিত হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অস্ট্রেলিয়া দল। এই বিশ্বকাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ব্রেট লি। ওয়েবসাইট।
অস্ট্রেলিয়া দল: মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, শেন ওয়াটসন, ক্যামেরন হোয়াইট, ডেভিড হাসি, মাইক হাসি, টিম পেইন, স্টিভেন স্মিথ, ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান, ব্র্যাড হাডিন, ব্রেট লি, ডার্ক ন্যানেস, মিচেল জনসন, নাথান হরিজ ও শন টেইট

পিসিএলে মালিক-ঝড়

সানিয়া মির্জার সঙ্গে শোয়েব মালিকের বিয়ে—পিসিএলে কাল সবচেয়ে বড় খবর ছিল এটাই। শোনা যাচ্ছে সানিয়াও এখন দুবাইয়ে এবং বিয়েটাও নাকি হবে পিসিএলের পর এখানেই! মালিক অবশ্য বিয়ের উৎসবের আগেই কাল আরেকটা উৎসব করে ফেললেন শারজা স্টেডিয়ামে। এই উৎসবটা ব্যাটিংয়ের।
সানিয়া মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েই কি না চিটাগাং টাইগার্সের বিপক্ষে চট্টগ্রাম মোহামেডানের শোয়েব মালিক মাত্র ২৫ বলে করলেন ৯২ রান! টর্নেডো ইনিংসে ছক্কাই ১১টি, বাউন্ডারি পাঁচটি। তিন ছক্কা-তিন চারে ফিফটি মাত্র ১৬ বলে। সেঞ্চুরিটাও হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। ১৯তম ওভার শেষে তাঁর রান ছিল ৮০। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে কামরুলকে মারা দুই ছক্কায় পৌঁছে যান ৯২-এ। পরের বলেই বাউন্ডারিতে ক্যাচ! এর আগে মোহামেডানের দুই ওপেনার হান্নান সরকার (৬৪) আর অস্ট্রেলিয়ান ব্লিজার্ডও (৮৬*) ফিফটি করেন। তিন ফিফটিতে মাত্র ২ উইকেটে মোহামেডানের সংগ্রহ পিসিএলের রেকর্ড রান ২৬১। টি-টোয়েন্টিতেই এর আগে এক ইনিংসে এত রান কেউ দেখেছে কি না কে জানে!
১১৬ রানে হারা চিটাগাং টাইগার্সের জন্য ম্যাচটা ওখানেই শেষ। ১৫.৩ ওভারে ১৪৫ রানে অলআউট হয়ে হারের আনুষ্ঠানিকতাটাই খালি সারল তারা। মোহামেডানের নূর হোসেন ও ফয়সাল হোসেন ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন।
সেমিতে ঢাকা স্পোর্টস: টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল বিমান বাংলাদেশ। গতকাল ঢাকা স্পোর্টস ক্লাবের কাছে পাঁচ উইকেটে হেরেছে তারা। এই জয়ে সেমিতে চলে গেল ঢাকা স্পোর্টস। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বিমান। টস হেরে ব্যাট করতে নামা ঢাকা স্পোর্টস ৬ উইকেট তোলে ১৭১ রান। ৫৪ বলে ৭৭ রান করেন জাহিদ নিয়াজ। এর মধ্যে ছিল ৭টি চার ও দুটি ছক্কা। ১৭২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা স্পোর্টস ক্লাব ১৭.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ৩৭ বলে ৬৮ রান করেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার ফয়সাল ইকবাল। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান: ২০ ওভারে ২৬১/২ (মালিক ৯২, ব্লিজার্ড ৮৬*, হান্নান ৬৪; কামরুল ১/৫৬, আরিফুল ১/৩৬)। চিটাগাং টাইগার্স: ১৫.৩ ওভারে ১৪৫/১০ (খুররম ৫৬; নূর হোসেন ৪/৭, ফয়সাল ৪/১৪)।
বিমান ১৭১/৬ (নিয়াজ ৭৭, হুমায়ুন ৪০, হাসানুজ্জামান ২৩, হাবিবুল বাশার ১৬; মোশারফ রুবেল ২/২০, নাজমুল ২/৪৭, শরীফ ১/১৮, সৈয়দ রাসেল ১/২৫)। ঢাকা স্পোর্টস: ১৭.১ ওভারে ১৭২/৫ (ফয়সাল ইকবাল ৬৮, মেহরাব ৩৫, ইমরান ফারহাত ২১; রবিন ২/৪৩, জাহিদ ২/২৯)। ফল: ঢাকা স্পোর্টস ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: ফয়সাল ইকবাল।

হেরেই চলেছে পাঞ্জাব

শাহরুখ খান মাঠে আসা প্রায় বাদই দিয়েছেন। এখন প্রীতি জিনতাও সেই পথ ধরতে পারেন। প্রবল উৎসাহ নিয়ে মাঠে এসে একের পর এক পরাজয় নিয়ে ফিরে যাওয়া—কাহাতক আর সহ্য হয়! কাল সাত ম্যাচে ষষ্ঠ পরাজয় কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ৪ উইকেটের এই পরাজয়ের পর কথা উঠেছে, নামের শুরুতে ‘কিং’টা পাঞ্জাব বাদ দিলেই ভালো!
তৃতীয়বারের মতো অধিনায়ক পাল্টাতে হলো প্রীতির দলকে। যুবরাজ সিং থেকে কুমার সাঙ্গাকারা। সাঙ্গাকারা এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায় কাল দলের নেতৃত্ব দিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। প্রথমে ব্যাট করে ১৬৩ রান তুলেছিল তারা। কিন্তু শিখর ধাওয়ানের ফিফটি, পোলার্ড-তিওয়ারির ‘ক্যামিও’ দুটো ইনিংস আর সাতে নেমে রাজগোপাল সতীশের ৯ বলে ১৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৩ বল বাকি থাকতেই জিতে যায় মুম্বাই। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শচীন টেন্ডুলকার এদিন ১১ রান করে আউট হলেও তাঁর দল কিন্তু ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানটা মজবুত করল।

ইউসুফকে ফিরে চায় পাকিস্তান

বাড়ির আদুরে ছেলেটা যেমন মাঝেমধ্যেই রাগ করে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেয়, মোহাম্মদ ইউসুফের অবস্থাটা হয়েছে সে রকম। পার্থক্য কেবল, ইউসুফ মাঝেমধ্যেই অভিমানে নিয়ে নেন অবসর! আর তাই তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণার পর সত্যি বলতে কি, পাকিস্তানজুড়ে তেমন একটা হাহাকার ওঠেনি। পাকিস্তানের এই প্রজন্মের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানটির ‘অবসর-বাতিক’ যে সবার জানা!
ইউসুফ তাই ‘বিদায়’ বলে দেওয়ার পরও এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি না, এই ধন্দে আছেন অনেকেই। ‘আমি এখনকার মতো বিদায় নিলাম’ মন্তব্য করে সেই সংশয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন এই ৩৫ বছর বয়সী। সংশয়টাই আবার পাকিস্তানের জন্য সুখবর। কারণ সিদ্ধান্তটা অভিমান থেকেই যে তিনি নিয়েছেন—এটা পরিষ্কার। অভিমান ভাঙালেই ফিরিয়ে আনা যাবে তাঁকে। অন্তত টেস্টে ইউসুফকে আরও কিছুদিন দলে চায় পাকিস্তান।
‘অনির্দিষ্টকালের’ নিষেধাজ্ঞার খড়্গ তাঁর ওপর ঝোলানো আছে ঠিকই, কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলেই পিসিবির একটি অংশ মনে করে। আগামী জুলাই-আগস্টে ইংল্যান্ডে ৬টি টেস্ট খেলবে পাকিস্তান। দুটো অস্ট্রেলিয়া আর চারটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই ৬ টেস্টের জন্য ইউসুফ তো বটেই ইউনুস খানকেও দলে নেওয়া হতে পারে।
খোদ পিসিবির প্রধান নির্বাচক মহসিন খান ইউসুফকে আভাস দিয়েছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ওকে আমাদের দলে অবশ্যই দরকার। আগামী ইংল্যান্ড সফরে আমাদের পরিকল্পনায় ও আছে।’ জাতীয় দলের কোচ ওয়াকার ইউনুসও সিদ্ধান্তটা পাল্টানোর অনুরোধ জানিয়েছেন ইউসুফকে, ‘ইউসুফ এখনো অনেক দিন খেলে যেতে পারে। পাকিস্তানের ক্রিকেটের মঙ্গলের কথা ভেবে হলেও ওর সিদ্ধান্ত বদলানো উচিত।’
এদিকে সবাই যখন ইউসুফকে ফিরে পেতে ব্যাকুল, ঠিক উল্টো অবস্থা শোয়েব আখতারের বেলায়। শোয়েব আবার ফিরে আসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ সাবেক নির্বাচক এহতেশামউদ্দিন তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন মানে মানে সরে যাওয়ার।

তেভেজ-জাদুতে জিতল সিটি

কার্লোস তেভেজের ১২ মিনিটের হ্যাটট্রিকে উইগান অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ৭১ মিনিট পর্যন্ত গোলের দেখা না পাওয়া সিটিকে তেভেজ প্রথম গোল এনে দেন ৭২ মিনিটে। ২ মিনিট পর করেন দ্বিতীয় গোল। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ৮৪ মিনিটে। এই জয়ে ৩১ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে গেছে সিটি। ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে টটেনহাম। ৩২ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে এর পর আছে লিভারপুল।

ঊষার ১০ গোল

ক্লাব কাপ হকিতে বড় দলগুলোর গোল-উৎসব চলছে। এবং প্রতিদিনই গোলসংখ্যা বাড়ছে। আবাহনী ৭-১ গোলে হারিয়েছিল পুলিশকে। মোহামেডান ৯-০ গোলে অ্যাজাক্সকে। কাল ওয়ারীকে ১০-০ গোলে হারিয়েছে আরেক বড় দল ঊষা।
এই ম্যাচে কোনো হ্যাটট্রিক হয়নি। আগের দুই দিন পেনাল্টি কর্নার থেকে এসেছিল বেশির ভাগ গোল। কাল এল ৪টি। প্রথমার্ধেই হয়ে গিয়েছিল ৮-০ গোল। মাকসুদুল আলম (হাবুল), কৃষ্ণকুমার ও মোস্তাফিজুর রহমান (দিনার) ২টি করে গোল করেছেন। মাজহারুল, ইয়ামিন, শেখ নান্নু, মওদুদুর রহমানের (শুভ) গোল একটি করে।
বড় জয়ে মৌসুম শুরু। তার পরও খুশি হতে পারলেন না ঊষার কোচ জামাল হায়দার, ‘শেষ দিকে ছেলেরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারেনি।’
দিনের প্রথম ম্যাচে সোনালী ব্যাংক ৩-১ গোলে হারিয়েছে সাধারণ বীমাকে। জয়ী দলের মাসুম, প্রিন্স ও রিয়াদ গোল করেছেন। বীমার গোলদাতা তূর্য।

জনসনের দিন, অস্ট্রেলিয়ারও

ওয়াসিম আকরামের দারুণ ভক্ত মিচেল জনসন। আকরাম বাঁহাতি, তিনিও। জনসন বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি তাঁর খেলা দেখতাম। তিনি যা যা করতেন, একদিন আমিও সেটা করব—এই বাসনা নিয়ে বড় হয়েছি।’
হুট করে জনসনের আকরাম-স্মরণের কারণ কী? তাঁরই এক সময়ের ‘হিরো’কে যে একটা ক্ষেত্রে অন্তত পেছনে ফেলে দিলেন জনসন! টেস্টে ১৫০ উইকেট ছুঁতে আকরামকে খেলতে হয়েছিল ৪১ টেস্ট। আর কাল টিম ম্যাকিন্টোশের স্টাম্প উপড়ে ফেলে এই মাইলফলক ছুঁলেন জনসন, ৩৪তম টেস্টেই! বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ে এই মাইলফলক ছোঁয়ার রেকর্ড এখন তাঁরই।
হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে জনসনের এই রেকর্ডের দিনে জয় মোটামুটি নিশ্চিত করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। আজ শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৫ উইকেট, নিউজিল্যান্ডের ২৯৪ রান। ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্যের পিছে ছুটতে গিয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ তুলেছে নিউজিল্যান্ড।
তৃতীয় দিনের ৩৩৩-এর সঙ্গে আরও ১৮৭ রান যোগ করে ৮ উইকেটে ৫১১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। সারা দিনে অতৃপ্তি একটাই—মাত্র ১০ রানের জন্য মার্কাস নর্থের সেঞ্চুরি হারানো।
জিততে হলে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করার নতুন রেকর্ড গড়তে হবে নিউজিল্যান্ডকে। অথচ ভালো শুরুটা হুট করেই খারাপ হয়ে গেল ৫৩ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলায়। দুজনই জনসনের শিকার। এর পর রস টেলরকেও তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাথাটাই মুড়ে ফেললেন। ম্যাচে এখন পর্যন্ত ৭ উইকেট তুলে নেওয়া জনসনের সামনে ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়ার সুযোগ।
১৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড আপাতত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে মার্টিন গাপটিল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ৩৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে। জনসনের ১০ উইকেট নেওয়ার ক্ষুধার সামনে আজ কতক্ষণ তাঁরা টিকতে পারেন, কে জানে!

দ্রগবার শাস্তি

ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হলেন দিদিয়ের দ্রগবা। অপরাধ, চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ইন্টার মিলানের থিয়াগো মোত্তার সঙ্গে অক্রীড়াসুলভ আচরণ করেছিলেন। ওই ঘটনায় মাঠ থেকে বহিষ্কৃতও হতে হয়েছিল চেলসি স্ট্রাইকারকে।

আরামবাগকে হারাল চট্ট. মোহামেডান

বাংলাদেশ লিগে এবার বড় তিনটি দল ছাড়া অবনমনের শঙ্কায় আছে বাকি সবাই। তাই একটি জয় বা ড্র দলগুলোর কাছে রীতিমতো মহার্ঘ। কাল সেই প্রার্থিত জয়টাই পেল চট্টগ্রাম মোহামেডান। প্রথম পর্বে যে আরামবাগের কাছে ১-৬ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফিরতি পর্বে তাদেরকেই হারাল ১-০ গোলে।
৬৬ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে দলকে ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছেন লিংকন। তিন জয় আর তিন ড্রয়ে চট্ট. মোহামেডানের পয়েন্ট ১৩ ম্যাচে ১২। আরামবাগের দুর্দশা কাটছে না। ১৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট সেই ১৪-ই থাকল।
চট্টগ্রামে স্থানীয় আবাহনী-ফরাশগঞ্জ ম্যাচে ছিল নাটকীয়তা। ১১ মিনিটে লাকির গোলে এগিয়ে যাওয়া ফরাশগঞ্জের সঙ্গে চট্টগ্রাম আবাহনী ড্র (১-১) করেছে শেষ পর্যন্ত। শেষ মিনিটে গোল করেছেন পিটার। ১৩ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট চট্টগ্রাম আবাহনীর, সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট ফরাশগঞ্জের।