Sunday, July 8, 2018

বুরহান ওয়ানির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে কাশ্মিরে সর্বাত্মক বনধ পালিত

বুরহান ওয়ানি
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে হিজবুল মুজাহিদীনের কমান্ডার বুরহান ওয়ানির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে উপত্যকাজুড়ে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে। ২০১৬ সালের ৮ জুলাই দক্ষিণ কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হন।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আজ (রোববার) কাশ্মির উপত্যকাজুড়ে বনধের ডাক দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সব ধরণের বিক্ষোভ সমাবেশ প্রতিরোধ করতে গোটা কাশ্মির উপত্যকাজুড়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারিসহ ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করেছে। 
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে নৌহাট্টা, খানইয়ার, রায়নাওয়াড়ি, এম আর গঞ্জ এবং সাফাকদল থানা এলাকায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও ক্রালখুদ ও মৈসুমা থানা এলাকায় আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আজ বনধকে কেন্দ্র করে উপত্যকার সমস্ত দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বুরহান ওয়ানির  কবরস্থান ও তার বাসভবন ‘সিল’ করে দেয়া হয়েছে। 
বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর থেকে কাশ্মির উপত্যকায় কমপক্ষে ছয় মাস ধরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও বনধ পালনকে কেন্দ্র প্রায় ১০০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও দশ হাজার মানুষ আহত হয়েছিলেন।
আজ বনধকে কেন্দ্র করে হুররিয়াত কনফারেন্সের প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুককে গৃহবন্দি ও জেকেএলএফ প্রধান মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে  সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি আগে থেকেই গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন।
এদিকে, গতকাল (শনিবার) কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক তরুণীসহ তিনি বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ায় গভর্নর এন এন ভোরা রাজভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। ওই  বৈঠকে সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর  সিং-সহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজভবনের এক মুখপাত্র বলেন, সেনাবাহিনীসহ সমস্ত নিরাপত্তাবাহিনীকে গভর্নর এসময় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সময় যাতে কোনো  বেসামরিক ব্যক্তির প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরেও গভর্নর জোর দিয়েছেন।
বনধে স্থবির কাশ্মির

রোহিঙ্গা স্রোতে ডিপথেরিয়া ফিরেছে দেশে: ৪৪ জনের মৃত্যু ৭০ বাংলাদেশি আক্রান্ত by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

রোহিঙ্গা স্রোতে আবারো দেশে ডিপথেরিয়া ফিরেছে। ডিপথেরিয়ার লক্ষণ আছে এমন ৭ হাজার ৮৮৮ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাণঘাতী এ ব্যাধিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৪৪ জন। তাদের সবাই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ ৩০শে জুন (চলতি বছরের ২৬তম সপ্তাহ পর্যন্ত) হিসাবে এই তথ্য উঠে এসেছে। ডিপথেরিয়া আক্রান্তের তুলনামূলক চিত্র  তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে, সর্বশেষ সপ্তাহে (২৬তম) মোট ৬৫ জনের ডিপথেরিয়ার লক্ষণ আছে বলে উল্লেখ করা হয়। যা গত সপ্তাহগুলোর  তুলায় সবচেয়ে বেশি। এই সংখ্যা যথাক্রমে ২৫তম সপ্তাহে ছিল ৪৯ জন, ২৪তম সপ্তাহে ২৬ জন এবং ২৩তম সপ্তাহে আক্রান্ত ৩৮ জন। জুন শেষ সপ্তাহে মারা গেছেন একজন। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে সর্বশেষ ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। সমপ্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির ফলে গত ৩৫ বছরে রোগটি ছিল এক প্রকার অজানা। তবে নতুন করে ফিরে এসেছে গত বছর। কক্সবাজারের এমএসএফ ক্লিনিকে গত বছরের ১০ই নভেম্বর প্রথম ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এরপর বিস্তার বেড়েছে। রোগটি ছড়িয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরের বাইরেও। ডিপথেরিয়া অত্যন্ত ছোঁয়াচে প্রকৃতির রোগ। সেই সঙ্গে সংক্রামকও। আক্রান্ত ব্যক্তির সান্নিধ্য এমনকি রোগীর জামাকাপড় বা ব্যবহৃত অন্যান্য বস্তুর সংস্পর্শে এলেও ডিপথেরিয়া ছড়াতে পারে। ব্যাধিটি প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করতে পারে শিশুদের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশে ডিপথেরিয়া ফিরে এসেছে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে। হাম, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়ার মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির টিকা তারা পায়নি। এসব রোগের জীবাণু সঙ্গে করেই বাংলাদেশে এসেছে তারা। রোহিঙ্গারাই যে শুধু ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত তা নয়, তাদের মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ডিপথেরিয়ার লক্ষণসহ ৭০ জন স্থানীয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। জুনের শেষ সপ্তাহেও আক্রান্ত হয়েছে তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে স্থানীয়দের মধ্যে রোগটিতে মৃত্যুর ঘটনা এখন পর্যন্ত নেই। স্বল্প জায়গায় গাদাগাদি করে থাকার কারণেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বর্ষা মৌসুমে তাদের মধ্যে রোগ-ব্যাধি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মো. আবদুস সালাম বলেন, শুরুতে ডিপথেরিয়া মহামারী আকার ধারণ করেছিল। দ্রুত এবং সঠিক কার্যক্রম হাতে নেয়ার ফলে রোহিঙ্গা শিবিরে ডিপথেরিয়ার প্রকোপ কমেছে। রোহিঙ্গারা আগে কোনো ধরনের টিকা না নেয়ায় তাদের মধ্যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন রোহিঙ্গারা নিয়মিত টিকার আওতায় আসায় ডিপথেরিয়া মহামারী আকার ধারণ করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিপথেরিয়া আক্রান্ত এমন ১০০ জন লোককে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হলেও ৮ থেকে ১০ জন মারা যেতে পারে। স্থানীয়দের মধ্যেও ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হলেও তারা টিকার আওতায় থাকায় কেউ মারা যায়নি। কারণ তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। টিকা দেয়ার পর স্থানীয়রা কেন আক্রান্ত হচ্ছেন জানতে চাইলে চিকিৎসক বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছর পার হওয়ায় এই রোগ হতে পারে। আর এসব স্থানীয়রা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশাপাশে থাকেন। তারাও মাঝে মাঝে ক্যাম্পে প্রবেশ করেন। এই পর্যন্ত স্থানীয় ৭০ জন ডিপথেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ মানবজমিনকে বলেন, গত বছরের দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিপথেরিয়া দেখা দিয়েছিল। এখন কমে গেছে। এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিন দেশে ডিপথেরিয়া না থাকায় এ রোগের ভ্যাকসিন ছিল না, ল্যাবরেটরিও ছিল না। সে কারণে প্রথমদিকে অধিকসংখ্যক রোহিঙ্গা এতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এখন রোহিঙ্গাদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে। সে কারণে রোহিঙ্গা কিংবা স্থানীয়দের মধ্যে আর এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে সন্দেহভাজন যত ডিপথেরিয়া রোগী তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সংখ্যাটা ততটা হবে না। স্থানীয় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আবার টিকা দেয়া হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারে টিকাদান কর্মসূচি ভালো থাকলেও রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয়নি দেশটি। রাখাইন রাজ্য ছাড়া অন্যান্য জায়গায় টিকাদান কর্মসূচি ছিল।
দেশের বিশিষ্ট রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, গত বছর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিপথেরিয়া দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশ থেকে ১৯৮৩ সালের দিকে এটা নির্মূল করা হয়। ভ্যাকসিন দেয়া আছে। ফলে এখানে ছড়ানোর কেন সম্ভাবনা নেই। তবে যাদের এখনও টিকা নেয়া হয়নি এবং ক্যাম্পের আশে পাশে আছেন তাদের হতে পারে। ব্যাপক আকারে ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই। এই টিকা তিন ডোজে দেয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিপথেরিয়ার বাইরে অন্যান্য রোগেও মারাত্মকভাবে ভুগছে রোহিঙ্গারা। ডব্লিউএইচও’র হিসাবে, ৩০শে জুন পর্যন্ত অজ্ঞাত জ্বরে ভোগা রোহিঙ্গার সংখ্যা ২ লাখ ৫২ হাজার ৬২০ জন, ডায়রিয়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার ২৩১ জন। তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছে ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৯, ২ হাজার ৫২৬ জন জন্ডিসসহ নানা রোগে ভুগছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছলের শুরুর দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ব্যাপক হারে ডিপথেরিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ায় কক্সবাজারে মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন ১২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে চার লাখ ৭৫ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেয়া হয়। এ জন্য ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্য খাতের সহযোগীরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করে। ছয় সপ্তাহব্যাপী এক কর্মসূচিতে ছয় সপ্তাহ থেকে সাত বছর বয়সী প্রায় দেড় লাখ শিশুকে পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেয়া হয়। এ টিকা তাদের ডিপথেরিয়া, পারটুসিস, টিটেনাস, হেমোফিলিস ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হেপাটাইটিস-বি থেকে রক্ষা করবে। এছাড়া গত ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হওয়া তিন সপ্তাহব্যাপী এক কর্মসূচিতে ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সী এক লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে টিডি (টিটেনাস অ্যান্ড ডিপথেরিয়া) টিকা দেয়া হয়।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর



বাংলাদেশে এবারের সংকট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন এবং আরো গভীর মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ। অতীতে বাংলাদেশ যত ধরনের রাজনৈতিক সংকট বা অনিশ্চয়তার মোকাবিলা করেছে এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির আপাতত মিল থাকলেও এবারের সংকট আরও গভীর। গত ৬ জুলাই শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি’- শীর্ষক গণবক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ বক্তৃতার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তা আসলে হাইব্রিড রেজিম বা দো-আঁশলা ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় দৃশ্যত গণতন্ত্রের কিছু কিছু উপাদান থাকলেও সেগুলো প্রধানত শক্তি প্রয়োগের ওপরে নির্ভর করে। ফলে রাষ্ট্রের নিপীড়ক যন্ত্রগুলো আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং তাঁদেরকে একধরনের দায়মুক্তি দেয়া হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর ১৬৭টি দেশের মধ্যে ৩৭টি দেশের অবস্থাই এই রকম। ১৯৯০-এর দশকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে কিছু দেশ এই ধরনের ব্যবস্থায় উপনীত হলে অনেকেই মনে করেছিলেন যে এই ধরনের দেশগুলো সম্ভবত আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের দিকেই অগ্রসর হবে। কিন্তু গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, হাইব্রিড রেজিমের পরিবর্তনের পথরেখা গণতন্ত্র অভিমুখী নয়, বরঞ্চ কর্তৃত্ববাদের দিকেই। তিনি আরো বলেন, যে কোনো হাইব্রিড রেজিমকে টিকে থাকার জন্যে নির্বাচন, নির্বাহী ও আইন সভা এবং বিচার ব্যবস্থার ওপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দরকার হয়। শেষ তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র তৈরি হয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের উপস্থিতি এবং ক্ষমতার হাত বদলের মধ্য দিয়ে নির্বাচন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কারণে যে ক্ষমতাসীনদের কাজের বৈধতা তৈরি হয় একমাত্র নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়েই, সেই নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হলো কিনা সেটা আর বিবেচ্য থাকে না। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যেহেতু নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেহেতু আর সব ধরনের জবাবদিহির ব্যবস্থা চূর্ণ করে ফেলাই হচ্ছে ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উপায়। বাংলাদেশের সমাজে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি, সহিংসতার ব্যাপক বিস্তারের যে সব ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি এখানেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের কারণ এবং রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা চিহ্নিত করতে গিয়ে বক্তা বিরাজমান শাসনের ধরন নিরূপণের পাশাপাশি সমাজ-রাজনীতিতে নতুন শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিক্রিয়া, ইসলামপন্থিদের প্রভাব এবং ভারতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে যে সব দেশে এই ধরণের হাইব্রিড রেজিম তৈরি হয়েছে সেখানে এক ধরনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই ‘উন্নয়নে’র ফলে নতুন এক মধ্যবিত্ত শ্রেণির সৃষ্টি হয়েছে যাদের মধ্যে অতীতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মতো গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং অংশগ্রহণমূলক সমাজের স্বপ্ন অনুপস্থিত। এই শ্রেণিী যে বিরাজমান হাইব্রিড রেজিমের রাজনৈতিক এজেন্ডার পক্ষে থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক, কারণ তাঁদের অস্তিত্ব কার্যত নির্ভর করছে এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকার সঙ্গে। এ নতুন শ্রেণি দেশের অর্থনীতিতে বিরাজমান দুর্নীতি এবং লুণ্ঠনের প্রক্রিয়াকে ভবিষ্যতে বৈধতা প্রদানের হাতিয়ার হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের অভাব। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়নি এবং তা ব্যক্তিনির্ভর। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক না হয়ে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতা, অধিকারহীনতায় ভুগছেন। এ সমস্যার প্রতিকারের উপায় অনুসন্ধান করা জরুরি এবং তা করতে হবে তরুণদের।

ভিক্ষার টাকায় চলছে মুক্তিযোদ্ধা হাসেমের সংসার by মাহামুদুন নবী

দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পার হলেও  মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকায় আমার নাম উঠেনি। সংসার চালাতে হয় স্ত্রীর ভিক্ষা করা টাকায়। মরার আগে হলেও অন্তত মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকায় নিজের নামটা উঠেছে সেটি যেন দেখে মরতে পারি। আবেগে আপ্লুত হয়ে এমনটিই বললেন মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামের ৯২ বছরের প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাসেম। 
দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাসেম শেখ উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৮ নম্বর সেক্টর বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন হাসেম শেখ। মুক্তিযুদ্ধকালীন আঞ্চলিক বাহিনীর অধিনায়ক মো. গোলাম ইয়াকুব (বীর প্রতীক) এর নেতৃত্বে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তিনি।
আবুল হাসেম শেখ মহম্মদপুরের আহম্মদ-মহম্মদ বাহিনীতে কাজ করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের নৌকায় করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আনা-নেয়া তাদের গোলাবারুদ বহনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের পাহারা দিয়ে রেখেছেন। যার মুক্তি বার্তা নম্বর (০৩)। স্বধীনতার পরবর্তীতে ২০০৪ সালের আগস্ট মাসের ৯ তারিখে তিনি আবেদন করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃৃতি পাওয়ার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মো. আবুল হাসেম শেখের নাম আজো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পায়নি।
সরজমিন মো. আবুল হাসেম শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধকালীন আঞ্চলিক বাহিনীর অধিনায়ক মো. গোলাম ইয়াকুব (বীর প্রতীক), মাগুরা জেলা ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোল্যা নবুয়ত আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আলী রেজা খোকন ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল গফুর মোল্যাসহ তার সহযোদ্ধাদের প্রত্যয়ন পত্র থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেনি আবুল হাসেম শেখ। তিনি পরম মমতায় এগুলো বুকে আকড়ে রেখেছেন। তাই তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন যেন মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম দেখে যেতে পারেন।
আবুল হাসেম শেখ বলেন, জায়গা জমি নাই। মাত্র দুই শতক জমির উপর একটি দো’চালা টিনের ঘর। চলাফেরা করতে পারি না। জীবন বাঁচানোর তাগিদে তার স্ত্রী মহিরন নেছা অন্যের দুয়ারে হাত পেতে ভিক্ষে করে যা কিছু আনে তা দিয়ে চলে সংসার। মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কথা বলে আমাদের ইউনিয়ন কমান্ডার আব্দুল গফুর মোল্যা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু আজো পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা বানায়নি এবং টাকাও ফেরত দেয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরো জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাবেক চেয়ারম্যান আমার চেক বই নিয়ে আমার নামে আসা অনুদানের ৩৬ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে আমাকে মাত্র ৮ হাজার টাকা দিয়েছে।  
এ বিষয়ে ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল গফুর মোল্যার সঙ্গে তার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মহম্মদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) মো. আলী রেজা খোকন বলেন, আবুল হাসেম একজন মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু কেন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম উঠেনি সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানে না বলে জানান।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে সেই অসহায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখের বাড়িতে যান। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দেখে তিনি অত্যন্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কথাসহ বর্তমান সময়ের অস্বচ্ছল সংসারের কথা বলেন নির্বাহী অফিসারকে। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই যেহেতু স্থগিত তাই এ ক্ষেত্রে কিছু করার নেই বলে জানান ইউএনও। তবে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বানানোর যে বরাদ্দ দিচ্ছে তার থেকে একটা ঘর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেবেন বলেন কথা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান।

মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী এখন টোকাই by ওমর ফারুক সুমন

রাস্তায়-রাস্তায় টোকাইগিরি করে নিজের পেটের খাবার জোগাচ্ছেন রমিজা খাতুন (৬২) নামে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। আট বছর পূর্বে রমিজার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন মারা যান। বাতেন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও ভাতা পাননি কখনো। বাতেনের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৪ই আগস্ট। সূত্রে জানা যায়, বাতেন ৩নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেক্টর কমান্ডার আতাউল গণি ওসমানী নিজেই বাতেনকে সনদপত্র প্রদান করেছেন। বাতেনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পড়শিপাড়া গ্রামে। পরে বাতেন হালুয়াঘাট চলে আসেন এবং হালুয়াঘাট অবস্থানকালেই তিনি মারা যান। মারা গেলে তার একমাত্র স্ত্রী রমিজা হালুয়াঘাটের মনিকুড়া গ্রামে তার মেয়ে শিউলির আশ্রয়ে থাকেন। পরে অভাবের তাড়নায় ঢাকা গিয়ে টোকাইগিরি করে নিজের পেটের খাবার জোগাড় করেন। গত বৃহস্পতিবার রাস্তায় বোতল টুকানোর সময় রমিজার সাক্ষাৎ মেলে। কথা বলে জানা যায় বিচিত্র রকমের তথ্য। রমিজা বলেন, আমি আমার স্বামীর বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও গিয়েছি। একজনে কাগজপত্র জমা রাইখা আমাকে পাঠাইয়া দেয়। ভাতা অইবো কইল। পরে ভাতা আর অইল না। এ ছাড়া আরো কত মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের কাছে গিয়েছি। সকলে শুধু আশাই দেয়। ভাতা আর অই না। কি আর করমু। অবশেষে ঢাকার বিশ্বরোড চৌরাস্তায় বোতল টুকাইয়া খাই। পেটতো চালান লাগবো। স্বামী আমার আট বছর অসুখে পইরা আছিলো। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি নাই। আমার পাঁচ ছেলে দুই মেয়ে। তিন ছেলে আরো মারা গেছে। ১৫ জন নাতি-পুতিও আছে। কেডা কারে দেহে। সবারই অভাব। জানা যায়, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং এমপি তিনি নিজেও ২রা জুলাই তারিখে রমিজার ভাতার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত সুপারিশ করেছেন।

ইরান নিয়ে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে আমেরিকা: রন পল

আমেরিকার সাবেক কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রন পল বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে নিয়ে তার দেশ একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। তিনি বলেন, ১৯৫৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভ্যুত্থান ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মুজাহিদিনে খাল্‌ক সংস্থা বা এমকেও-কে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা ছিল আমেরিকার জন্য বড় রকমের ভুল।
রন পল বলেন, “এমকেও ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে তার অর্থ হচ্ছে ইসরাইল, আমরিকা ও সৌদি আরব সেখানে কাজ করছে।” গতকাল লিবার্টি রিপোর্ট শো নামে একটি অনুষ্ঠানে রন পল এসব কথা বলেন। তিনি সুস্পষ্ট করে বলেন, সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠী বিভিন্ন দেশের সরকারের সমর্থন পাচ্ছে।
এমকেও সন্ত্রাসীদের ফাইল ফটো; এই গোষ্ঠীর হাতে শহীদ হয়েছেন ইরানের হাজার হাজার মানুষ
রন পল জানান, এমকেও সন্ত্রাসীরা প্রায়ই তার ওয়েবসাইট হ্যাক করার চেষ্টা করে এবং পাঠকদের তারা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইরাকের সাবেক স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেইনের বাথপার্টির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল।
অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে রন পল বলেন, ১৯৮৮ সালে পারস্য উপসাগরের ওপর মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ইরানের যে বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করেছিল ইরানি জনগণ তা কখনো ভুলে যাবে না।

কাজান যেন শোকের বাড়ি by সামন হোসেন কাজান

আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসছে বিশ্বকাপের পরিধি। ৩২ দলের টুর্নামেন্টে দিন শেষে পরিণত হয়ে যাচ্ছে চার দলের। ১২ ভেন্যু থেকে কমে দাঁড়িয়েছে দুটিতে-সেন্ট  পিটার্সবার্গ ও মস্কোর লুঝনিকি। এই দুটি স্টেডিয়ামে দুটি সেমিফাইনাল, ফাইনাল ও স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্ত হাতে থাকা লাতিন আমেরিকার পতাকাটাও অভিশপ্ত কাজানে নেমে গেছে। নামিয়ে দিয়েছে ইউরোপের দল বেলজিয়াম। দুই আসর পর আবার লাতিন ছাড়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার কোনো দল উঠতে পারেনি সেমিফাইনালে। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগালের মধ্যে হয়েছিল সেমির লড়াই। শেষ পর্যন্ত ইতালির ঘরে যায় ট্রফি, রানার্সআপ ফ্রান্স। বিশ্বকাপের ৮৮ বছরের ইতিহাসে লাতিন আমেরিকার কোনো দেশ ছাড়া সেমিফাইনাল হতে যাচ্ছে পঞ্চমবারের মতো। প্রতিবারই আয়োজক ছিল ইউরোপের দেশ। পঞ্চমবারের মতো ইউরোপের ধাক্কায়ই শেষ চারের আগে বিশ্বকাপ শেষ হলো পেলে, ম্যারাডোনাদের অঞ্চলের দেশগুলোর।
লাতিনদের অন্যতম শক্তি ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরু করেছিল শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল শেষ আটে এসেই। এমনটা হওয়ার কি কথা ছিল? হয়তো রাশিয়াতেই নেইমাররা তাদের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন ছুঁতে পারতেন। সেটা পারলেন না। প্রিয় দলকে, প্রিয় খেলোয়াড়কে সমর্থন দিতে গ্যালারিতে গলা ফাটিয়েছেন হাজারো দর্শক। তিতের শিষ্যরা তাদের হতাশই করলেন। প্রিয় দলের হার মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। দর্শকদের কেউ ডুকরে কেঁদেছেন, কেউ বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। অনেকের কাছে ফাইনাল সেমিফাইনালের টিকিট থাকার পরও গতকালই রাশিয়া ছেড়েছেন। কাজানকে অভিশপ্ত ভেন্যু আখ্যা দিয়ে রবার্তো নামে এক ব্রাজিলিয়ান সমর্থক বলেন, কাজানে আসতে আমার অনেক ঝুঁক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। প্রথমে বিমানের টিকিট পাননি। ট্রেনের টিকিটও জোটেনি। আসতে হয়েছে ট্যাক্সি ভাড়া করে। তখনই আমার মনে সন্দেহ জেগেছিল, না জানি কী হয়। ম্যাচ শেষে এই দর্শক বলেন, দল ভালো খেলেছে। কিন্তু বড় দলগুলোর কাছে ‘অপয়া’ ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া কাজান স্টেডিয়াম বলেই হয়তো বিধাতা আমাদের ভাগ্যে হার লিখেছেন। হয়েছেও তাই, কাজানে এরিনা স্টেডিয়ামেই একের পর এক জায়ান্টরা হোঁচট খেয়েছে। প্রথমে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, এরপর বিশ্বকাপে সবচেয়ে দর্শক নন্দিত এবং বিশ্ব সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং সর্বশেষ নেইমারের ব্রাজিলকে বিদায় করলো এই কাজান এরেনা।
রাশিয়া বিশ্বকাপ ‘অঘটনে’র শুরু থেকেই। বড় দলগুলো যেভাবে একের পর এক হোঁচট খেতে শুরু করেছিল, তাতে এই বিশ্বকাপের ভাগ্যে কী লেখা, সেটা কেউ বলতে পারছিল না। গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে কোনো না কোনোভাবে ফেভারিটরা উঠে আসছিল। যে কারণে, প্রথম ম্যাচ হারলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির আশা ছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে তারা। কিন্তু কাজান এরেনায় সব উল্টে গেলো। জার্মানি গোল বের করা তো দূরে থাক, দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে উল্টো দুটো গোল খেয়ে গেল। ৮০ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো জার্মানদের। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচটিই কাজান এরেনায়। মুখোমুখি আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স। দুটিই ফেবারিট দল। নিশ্চিতভাবেই একটি দলকে বিদায় নিতে হবে। দুটিকে তো আর বিদায় করা যায় না। যে কারণে সবচেয়ে ফেভারিট আর সমর্থকপুষ্ট দল আর্জেন্টিনাকে বেছে নিল কাজান। হারিয়ে দিলো ৪-৩ গোলের ব্যবধানে।
কাজান এরেনার আশপাশে প্রতিটি বাড়ির দেয়ালে ম্যুরাল বা প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল বিখ্যাত ফুটবলারদের। সেখানে সবচেয়ে বেশি শোভা পাচ্ছিল জার্মানি আর আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ছবি। ছিলেন ব্রাজিলের নেইমার ও পর্তুগালের রোনালদোও। রোনালদোর পর্তুগালে খেলা কাজানে না পারলেও, তারাও বিদায় নিয়েছে নকআউপ পর্ব থেকে। বিশ্বসেরা তারকাদের মধ্যে মেসি-রোনালদো ব্যর্থ। বাকি ছিলেন নেইমার। তিনি ব্রাজিলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। জিতবেন শিরোপা। ব্রাজিলকে উপহার দেবেন হেক্সা। কিন্তু ভেন্যু কাজান বলেই নাকি মনে খটকা লেগেছিল ব্রাজিলের সমর্থকদের। কাজানের রেল টার্মিনালে এমন আলোচনাই করতে শোনা গেছে দুই ব্রাজেলিয়ান সমর্থককে। তা না হলে কেন এত এত সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হবে ব্রাজিল। শুরুতেই বলবারে লেগে ফিরে আসা, পওলিনহো ফাঁকা পোস্ট পেয়েও শট করতে না পারা, কৌতিনহো, ফিরমিনো, হেসুসরা ফাঁকা পেয়েও সঠিকভাবে শট নিতে না পারা, এগুলো সবই দুর্ভাগ্যের ফসল। হয়তো বা অভিশপ্ত কাজান এরেনারও কোনো কারসাজি! শেষ পর্যন্ত জার্মানি, আর্জেন্টিনার মতো ট্র্যাজেডির শিকার হয়েই হেক্সা মিশনের সমাপ্তি টেনে দিতে হলো তিতের ব্রাজিলকে। নেইমারকেও পথ ধরতে হলো মেসি-মুলার-আগুয়েরোদের মত। অভিশপ্ত কাজান এরেনায় এবারের বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ নেই। না হয়, এরপর কোনো জায়ান্টকে বধ করতো, সেটাই ছিল দেখার।
মস্কো থেকে ৮২৫ কিলোমিটার দূরত্বের কাজান স্টেডিয়ামে ব্রাজিল বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনালসহ মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিস্তা এখন আর তেমন কোনও বড় সমস্যা নয়, কৌশলে হেফাজতের সঙ্গে ডিল করছি

তিস্তা নদীর পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হওয়া না-হওয়ার বিষয়টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য কোনও সমস্যা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। শনিবার দুপুরে দিল্লির গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে বিরোধীরা নিশ্চয় বলার চেষ্টা করবে শেখ হাসিনার সরকার তো তিস্তা চুক্তিও করাতে পারলো না, ভারত কিছুই দিলো না ইত্যাদি। আমরা কিন্তু পরিষ্কার বলতে চাই, তিস্তা এখন আর তেমন কোনও বড় সমস্যা নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা কথা খুব বলেন, আমরা হলাম নদীর ভাঁটির দেশ। পানি এখানে ঠিকই আসবে, আসতে বাধ্য। একটা নদীকে কেউ মুছে দিতে পারবে না, আর তাই আজ হোক, কাল হোক, পানির ভাগাভাগি নিয়েও চুক্তি ঠিকই হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আসলে দুটো প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সদিচ্ছা আর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি (অ্যাটিচিউড) থাকলে যেকোনও বড় সমস্যাই মিটিয়ে ফেলা যায়। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশিদে মৃত্যু কিংবা ফেন্সিডিল পাচারের রমরমা নিয়ে একসময় হইচই কম হয়নি। কিন্তু এখন সীমান্তে মৃত্যুও প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে, ভারতের দিকে ফেন্সিডিল বানানোর করাখানাগুলো বন্ধ হওয়াতে পাচারও থেমে গেছে। তাই আমাদের কোনও সন্দেহ নেই তিস্তারও একদিন সুরাহা হবে।’ রীতিমতো আত্মবিশ্বাসের সুরে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘ফলে তিস্তা নিয়ে বিরোধীদের যা খুশি বলতে দিন, ওতে নির্বাচনে আমাদেও কোনও সমস্যা হবে না।’
কট্টর ইসলামপন্থী হেফাজতে ইসলামের চাপের কাছে আওয়ামী লীগ সরকার নতি স্বীকার করেছে এই অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েচ্ছে এইচ টি ইমামকে। তবে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেননি। এইচ টি ইমাম বলেন, ‘দেখুন, হেফাজতের সমর্থকের সংখ্যা কত বেশি! দেশজুড়ে লাখ লাখ কওমি মাদরাসার অগণিত ছাত্র এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, কাজেই বলপ্রয়োগ করে তাদের সঙ্গে ডিল করা যাবে না, তাতে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। আমরা তাই ‘ফোর্স’ দিয়ে নয়, বরং কৌশলের সঙ্গে (ট্যাক্টফুলি) হেফাজতের সঙ্গে ডিল করছি।’ তিনি দাবি করেন, এখন তার সুফলও মিলতে শুরু করেছে। কওমি মাদরাসার বহু ছাত্রও এখন আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতে শুরু করেছে।

উন্মাতাল ইংলিশ ভক্তরা

অস্থির উন্মাদনায় মেতেছে ইংলিশরা। কি ছেলে, কি মেয়ে সবাই যেন দিশাহারা। শনিবার দিবাগত রাতে তারা সেমি ফাইনালে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে ইংল্যান্ড। রাস্তায় রাস্তায় গাড়ির জ্যাম লেগে যায়। ভক্ত সমর্থকরা। গাড়ির ওপর উঠে উন্মাতাল নাচ শুরু করেন। বাস স্ট্যান্ডগুলোতে মাতোয়ারা সবাই। অ্যাম্বুলেন্সের ওপর উঠে নাচছেন কেউ। তাতে অ্যাম্বুলেন্সের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেদিকে কারো নজর নেই। থাকবেই বা কেন! তারা যেন বিশ্বকাপটা ছুঁই ছুঁই করছেন। এমন উত্তেজনায় কার মাথা ঠিক থাকে! তাই সুইডেনের গতির চাকা থামিয়ে দেয়ার পর ইংল্যান্ডজুড়ে এক অন্য রকম উন্মাতাল পরিস্থিতি। লন্ডনে একটি এমবুলেন্স মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, বেশ কয়েকজন মানুষ তার ওপর উঠে নাট শুরু করেন। ওই এম্বুলেন্সটি একটি কলে যাচ্ছিল। লন্ডন এম্বুলেন্স সার্ভিস বলেছে, তাদের গাড়িটি রোগি আনতে যাচ্ছিল। এ সময়ে যে ক্ষতি হয়েছে তার কোনো অজুহাত চলে না। এম্বুলেন্সের উইন্ডস্ক্রিন এবং বনেটে বেশ ক্ষতি হয়েছে। ফলে ওই এম্বুলেন্সটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এতে করে এখন আর কোনো রোগি আনার মতো পরিস্থিতি নেই। মেট্রোপলিটান পুলিশ বলেছে, তারা এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করে নি। ফুটেজে দেখা গেছে পূর্ব লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ডে সুইজারল্যান্ডের আসবাবপত্রের স্টোর আইকিয়ার একটি শাখায় অনুপ্রবেশ করেছে ইংলিশ ভক্তরা। সেখানে তারা বিছানার ওপর লাফালাফি করেছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে ক্লাপহ্যাম জংশনে একটি বাসের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ছেন একজন ভক্ত। তিনি লাফ দিয়ে অন্য ভক্তদের আশ্রয়শিবির বানানো হয়েছে এমন একটি তাঁবুর ওপর পড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই তাঁবুটি সহ তিনি নিজে এসে মাটিতে পড়েন। তাতে বেশ রক্তপাত হয় তার। নটিংহ্যামে একজন পুরুষকে একটি ভাঙাচোরা গাড়ির ওপর লাফাচ্ছেন এমন ছবি ধারণ করা হয়েছে। নটিংহ্যাম পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় সিটি সেন্টার থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৮ বছরের মধ্যে প্রথম বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। শনিবার এই ম্যাচ উপভোগ করেছে কয়েক লাখ মানুষ। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতের পেনাল্টি শুটআউট প্রত্যক্ষ করেছেন কমপক্ষে এক কোটি ৬৫ লাখ সমর্থক। সুইডেনের সঙ্গে যে ম্যাচ হয়েছে তাতে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। ডিউক অব কেমব্রিজ ইংল্যান্ডের এই বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বিস্ময়কর এক বিশ্বকাপ যাত্রা ইংল্যান্ডের। আমরা এর প্রতিটি মিনিট উপভোগ করছি। এটা আমরা এখন প্রত্যাশা করি। ফুটবল আমাদের ঘরেই আসছে। ইংল্যান্ড দলের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যামও অভিনন্দন জানিয়েছেন।