Wednesday, November 12, 2014

‘আগামীতে জাপা চমক দেখাবে’ -এরশাদ

চট্টগ্রামে আয়োজিত সমাবেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জনগণ তার সঙ্গে থাকলে আগামীতে এককভাবে সরকার গঠনে জাপা চমক দেখাবে। এই মুর্হতে দেশে জাতীয়তাবাদী দল বলে কিছু নেই। যা আছে তার আদর্শ শতভাগ ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জাতীয় পার্টি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বটে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আর্দশ থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। দেশে খুন খারাবি বেড়ে গেছে। মানুষ শান্তিতে থাকতে আমাদেরকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। বুধবার বিকালে নগর জাতীয় পার্টি আয়োজিত মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেল দেশে জনদুর্ভোগ কমে আসবে। বিদ্যুতের সমাধান হবে। আইনশৃঙ্খলাপরিস্থির উন্নতি ঘটবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্টা হবে। বিএনপির প্রতি মানুষের কোন আস্থা নেই। খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তাদেরকে পতাকা দিয়ে স্বাধীনতাকে খর্ব করেছেন। সমাবেশে এরশাদ বলেন, দেশে এখন সু:শাসন নেই। আমার হাতে তথ্য আছে। প্রতিদিন কত মানুষ মারা যাচ্ছে তার সংখ্যা দেখে আতকে উঠি। আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন এমন হয়নি। এই চট্টগ্রামকে সত্যিকার বাণিজ্যিক রাজধানীর রুপ আমরাই দিয়েছিলাম। সামনে সরকারে আসলে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখানেই গড়ে তোলা হবে।

এরশাদ বলেন, দুই নেত্রী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। এখন বাংলাদেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ মুক্তি চায়। আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন সব দলের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ ছিলো। এখন তো কোন ব্যক্তিই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেনা। বললে গুম হচ্ছে।
জাপা চেয়ারম্যান আরো বলেন, দেশের মানুষ হরতালকারীদের সমর্থন করে না। বোমাবাজি কখনো শান্তির পথ হতে পারেনা। আগামীতে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর শাখার আহবায়ক মাহজাবীন মোরশেদ। বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

‘লিখিত পরীক্ষায় পাশ কর, ভাইভা আমরা দেখবো’ -ছাত্রলীগের উদ্দেশ্য এইচ টি ইমাম

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় পাশ কর। ভাইভা আমরা দেখবো। যারা ছাত্রলীগ করেছে তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমরা যখনই সুযোগ্য কারও বায়োডাটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাই, তিনি জিজ্ঞেস করেন- তারা কি ছাত্রলীগ করেছে? যেভাবেই হোক তাদের জন্য ব্যবস্থা কর। বুধবার সকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ছাত্রলীগের যারা প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের অন্য কোন কাজ নেই। অথচ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অনেক কিছুতেই ব্যস্ত থাকতে হয়। এ জন্য লিখিত পরীক্ষায় একটু ভাল করলেই ছাত্রলীগের ছেলেদের চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, যেহেতু তোমাদের পড়ার সময় কম তাই তোমরা রাত জেগে একটু পড়াশোনা করো। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে তোমাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের উচিত। তোমরা কি মনে কর তোমাদের প্রতি আমার চেয়ে নেত্রীর চেয়ে অন্য কারও দরদ বেশি আছে? আমরা তো জান পরাণ দিয়ে চেষ্টা করি। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা সিনিয়র তাদের বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের আগে যারা বেরিয়ে গেছে তাদের এখন প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তোমরাই দেশের ভবিষ্যত সরকারি চাকরি, ব্যবসাসহ সব ক্ষেত্রে সেরা হতে হবে। আমরা সব সময় তোমাদের পাশে আছি, ছিলাম, থাকব।

ধুমকেতুর বুকে অবতরণ করছে মহাকাশযান

পৃথিবী থেকে ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরে ধাবমান এক ধুমকেতুর বুকে আগামী সাত ঘন্টার মধ্যে মানুষের তৈরি একটি অবতরণযান নামতে যাচ্ছে। ইউরোপের মহাশূন্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের কৃত্রিম উপগ্রহ রসেটা থেকে ফিলি নামে এই ল্যান্ডার বা অবতরণযানটি ইতমধ্যেই ধুমকেতুর উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সফল হলে মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এট একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন ওই ধুমকেতুর বুকে যে বরফ আর ধুলোবালি রয়েছে তার বয়স ৪০০ কোটি বছর। এটির নমুনা থেকে সৌরজগত আর মহাবিশ্বের কাঠামো সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।

চালু হল গুগল বাস

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে কাজ শুরু করেছে গুগল। এজন্য চালু হয়েছে গুগল বাস। এটি দেশের ৩৫টি জেলায় আগামী এক বছর এ সেবা দিয়ে যাবে। আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুগল বাসের উদ্বোধন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় গুগল এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ে ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মশালার আয়োাজন করবে গুগল। বাসেই থাকবে সব আয়োজন। অনুষ্ঠানে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, গুগলের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমারজিং মার্কেটের কান্ট্রি ম্যানেজার জেনস ম্যাকক্লুর উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে উড়ালসড়কের কাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর-লালখান বাজার উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
>>চট্টগ্রাম নগরে আজ বুধবার দুপুরে মুরাদপুর-লালখান বাজার উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
এ উপলক্ষে নগরের মুরাদপুর মোড়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে সিডিএ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রয়াত আওয়ামী লীগের নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর নামে এই উড়ালসড়কের নামকরণ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ঢাকায় বাস করলেও চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম, দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়ন করব। তা করে যাচ্ছি। আজ আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলো। এই উড়ালসড়ক চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।’ তিনি নির্মাণকাজ চলাকালে চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করেছিলাম। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এটিকে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন করার জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চাই না। আমরা চাই উন্নয়ন, শান্তি ও গণতন্ত্র। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশে পরিণত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। এই সমুদ্র সম্পদ জনগণের কাজে লাগাতে চাই।’
দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘খাদ্যের অভাব দূর করেছি। বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানি করতে পারছে। দেশের একজন মানুষকেও না খেয়ে থাকতে দেব না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি আমলে মোবাইল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছিল একজনের হাতে। তিনি আপনাদের চট্টগ্রামের মানুষ। তিনি এক সময় মন্ত্রী ছিলেন। তখন কল করলেও ১০ টাকা, ধরলেও ১০ টাকা। আমরা ক্ষমতায় এসে তা সহজলভ্য করে দিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, সাংসদ আফছারুল আমীন, সাংসদ, হাছান মাহমুদ, আখতারুজ্জামান চৌধুরীর ছেলে ও সাংসদ সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রমুখ।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নগরের মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের উড়ালসড়কটি নির্মাণ করছে। উড়ালসড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৬২ কোটি টাকা। তবে ৪৫৪ কোটি টাকা দর দিয়ে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়েছে ম্যাক্স-র‌্যাঙ্কিন জেভি।

‘বেশি অত্যাচার হলে ঈশা খাঁর তরবারি প্রস্তুত রাখবেন’ -খালেদা জিয়া

২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, অবৈধ সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। সরকার আবারও যদি আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয় তাহলে আর কোন পথ থাকবে না। কিশোরগঞ্জবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের ঈশা খাঁর তরবারির কথা মনে আছে। বেশি অত্যাচার হলে ঢাল-তলোয়ার ও তরবারি প্রস্তুত রাখবেন। যখনই আন্দোলনের ডাক দেব অতীতের মতো সাড়া দিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। বিকালে কিশোরগঞ্জের সরকারি গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত  ২০ দলের বিশাল সমাবেশে তিনি  এসব কথা বলেন। উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা আমাকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই আমার প্রধানমন্ত্রীর লোভ নেই। আমি ক্ষমতা চাই না। আমি দেশের জনগণের পাশে থাকতে চাই। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা আমাকে বলেছিলÑ ছেলেদের সঙ্গে বিদেশে চলে যান। আমি তাদের বলেছিলাম- বিদেশে আমার কেউ নেই। আমি কোন অন্যায় করিনি। আমি কেন বিদেশে যাবো। আমি এদেশের জনগণের সঙ্গে থাকবো।  বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে এখন কোন নির্বাচিত সরকার নেই। এই সরকার অবৈধ। এখন যে সংসদ আছে তাও অবৈধ। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যায়নি। ভোটকেন্দ্রে মানুষ ছিল না। কুকুর ছিল। সেখানে প্রিসাইডিং অফিসাররা ঘুমিয়েছে। এই খবর মিডিয়ায় এসেছে। আর তাই এই অবৈধ সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, তারা দুর্নীতিবাজদের দায়মুক্তি দিচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠান নিজেই দুর্নীতির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এরা এতোই ক্ষমতাবান যে কাউকে পরোয়া করে না। এরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকেও মানে না। এরা বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে। হিন্দু বলার পরও সে রক্ষা পায়নি। বিশ্বজিতের পরিবার বিচার পায়নি।  খালেদা জিয়া বলেন, দেশে কোন উন্নয়ন হয়নি। বিনিয়োগ আসছে না। দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বিদেশীরা এখানে বিনিয়োগ করতে চায় না।

‘গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় আছি’ -বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ভীত নন বলে জানিয়েছেন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। বুধবার বিকালে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে আমার অবস্থানের কারণেই এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপেক্ষায় আছি কখন পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। এসময় কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমার বক্তব্যের জন্য পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল। একজন রাজাকারকে দেশের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আজকে আইনের নামে মারাত্মক তিরস্কারের মধ্যে পড়েছি। সরকার এ গ্রেপ্তারী পরোয়ানার নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লাঞ্ছিত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে ম্যাজিষ্ট্রেট এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। শুধু আমার বিরুদ্ধে না, সকল মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ২০১৩ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউটে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে রাজাকার হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। ওই বক্তব্যে তার পদবীটা বলতে ভুল করেছিলাম। তিনি ছিলেন রাজাকারের চেয়েও আরও উপরের স্তরের অপরাধী। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের দোসর, পাকিস্তানের সহযোগী, পাকিস্তানের সেবাদাস। সরকারের গেজেটে তার নাম আছে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী ফোর্সের সর্বনিম্ন স্তর ছিল রাজাকার। মহিউদ্দিন খান আলমগীর সেই রাজকার তৈরী করেছেন, আলবদর ও শান্তি কমিটি তৈরী করেছেন। তাদের দেখাশোনা করেছেন।

বিশুদ্ধ রাজাকারের মামলায় গ্রেফতারের অপেক্ষায় আছি : কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, এখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রং তামাশা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে ভূলণ্ঠিত করা হচ্ছে। একজন রাজাকারের করা মানহানির মামলায় মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা মুক্তিযুদ্ধের জন্য চরম অপমান। একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করেছেন। আমার মতো একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মহিউদ্দিন খান আলমগীরের মতো একজন বিশুদ্ধ রাজাকারের মামলায় আমি গ্রেফতার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। প্রয়োজনে আমি সারাজীবন জেলে থাকতে প্রস্তুত আছি, তবু রাজাকারকে রাজাকারই বলবো।

ঢাকা সিএমএম আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিক্রিয়ায় বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নিজ বাসভবনে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতিক, বঙ্গবীরের সহধর্মিনী সাবেক এমপি নাসরীন সিদ্দিকী, যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রহমান, ফরিদ আহমেদ, ছাত্রনেতা রিফাতুল ইসলাম দীপ, কাউসার আলম খান, সাইফুল ইসলাম শিমুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, একজন পাকিস্তানী অনুগত কর্মচারী, যার অপরাধ সাধারণ রাজাকারদের চেয়ে অনেক বেশি সেরকম একজন পাকিস্তানী সেবাদাসের মানহানির অভিযোগে একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা মানে সকল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা। ‘৭১-এ আমরা ছিলাম বাংলাদেশ এবং মহিউদ্দিন খান আলমগীররা ছিল পাকিস্তানের অনুগত। দেড়’শ টাকার রাজাকারদের যারা লালন-পালন করেছেন আমি সাহস করে এমন একজন রাজাকারের পরিচয় প্রকাশ করে ভেবেছিলাম, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার আমাকে পুরষ্কৃত করবে। অথচ আমার মতো একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষে যারা ডিসি, এসপি, ওসি দায়িত্ব পালন করেছে- তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবী জানিয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশের অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নে এ সরকার দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে পারেনি। পারলে বাহবা পাবে। তিনি বলেন, যে মামলায় বাদী অনুপস্থিত থাকলে এমনিতেই মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে বিচারক বাদীকে নোটিশ এবং আমার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে। এই মামলার সমন পেয়ে আমি আদালতে গিয়ে বলেছিলাম যে, আমি জামিন চাইতে আসিনি, আমাকে আদালতের হেফাজতে রাখা হোক। আদালত আমাকে আমার স্ত্রীর হেফাজতে থাকার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দলের বার্ষিক সম্মেলনে তৎকালীন স্বরাষ্টমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে রাজাকার বলায় আমার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মহিউদ্দিন খান আলমগীর পাকিস্তানের দোসর, সহযোগী এবং বিশুদ্ধ রাজাকার ছিলেন। তিনি তখন পাকিস্তান সরকারের এডিসি ছিলেন। তার পরিচয় তুলে ধরায় সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এভাবে লাঞ্ছিত করায় আমি বিস্মিত।
বঙ্গবীর বলেন, ৫শ ধারায় দায়ের করা এই মামলার বাদী রুহুল আমিন মজুমদার নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলেন। বর্তমানে তার বয়স ৫৭ বছর, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলো ১৩ বা ১৪ বছর। তাকে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দিয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী ও সচিব। ওটা ভূয়া। কোনো প্রতিমন্ত্রী বা সচিবের সার্টিফিকেটে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়না।
ওই সময় পাকিস্তান সরকারের সহযোগী কর্মকর্তা আর কারা কারা ছিলেন জানতে চাইলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৯৭৬/৭৭ সালের বাংলা সিভিল লিস্ট দেখে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, এসএম শফিউদ্দিন আজম, এসএম সানাউল হক, মফিজুর রহমান, তৎকালীন ডিসি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন আহমদ, আবুল ফজল চৌধুরী, শায়েখ লতিফ, শামসুল হুদা, আশিকুর রহমান, মোফাজ্জেল করিমসহ আরো অনেকে।
তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ডিসি, এসপি, পুলিশসহ পাকিস্তান সরকারের উচ্চ পদস্ত বঙ্গালি কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড় করানোর দাবি জানান।
নাসরীন কাদের সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবীর একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন রাজনীতিবিদ। তার বিরুদ্ধে অন্যায় করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তাকে গ্রেফতার করা নিয়ে আমি বা আমার পরিবারের কেউ ভীত নই।

ছোট খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ
চুক্তি ছাড়াই আলোচনাইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দেশটির দুই দিনব্যাপী আলোচনা কোনো চুক্তি সম্পাদন ছাড়াই শেষ হয়েছে। ওমানের রাজধানী মাসকাটে রবি ও সোমবার অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় কোনো চুক্তি না হওয়ায় ডেটলাইনের আগে সংকট নিরসনের তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ২৪ নভেম্বর অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে বলে কথা রয়েছে। ইরানের পরমাণু ইস্যুতে চূড়ান্ত চুক্তি করার পথে যেসব বাধা রয়েছে সেগুলো দূর করার জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং ইইউ পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টোন এ বৈঠকে বসেন। এএফপিকাবুল১০ পুলিশ নিহতআফগানিস্তানে সোমবার তালেবানদের দুটি পৃথক বোমা হামলায় অন্তত ১০ পুলিশ নিহত হয়েছে। অপর এক বোমা হামলায় দুই বেসামরিক লোক আহত হয়েছে। আফগান কর্মকর্তারা এ কথা জানান। কাবুলের দক্ষিণে অবস্থিত লোগার প্রদেশে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী একদল পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এএফপিনয়াদিল্লিবন্ধ্যাত্বকরণে মৃত ৮ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের বিলাসপুরে বন্ধ্যাত্বকরণের পর আট নারী মারা গেছেন এবং আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছেন ৩২ জন। ৮ নভেম্বর বিলাসপুরের এক সরকারি হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য একটি ক্যাম্প খোলা হয়। আশপাশের প্রায় ৪০ গ্রাম থেকে ৮৩ জন নারী বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য এই ক্যাম্পে আসেন। অস্ত্রোপচার শেষে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাথাপিছু এক হাজার চারশ’ করে টাকা দেয়।নয়াদিল্লি৬০ ভাগ পুরুষ বউ পেটায়ভারতে প্রতি ১০ জনে ৬ জন তথা ৬০ ভাগ পুরুষ তাদের স্ত্রী কিংবা পার্টনারের ওপর সহিংসতার কথা স্বীকার করেছেন। লিঙ্গগত বৈষম্য ও অর্থনৈতিক অবস্থা এসব সহিংসতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনস ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ফান্ড এবং ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া

ক্যাপ্টেনের ৩৬ বছর জেল

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরিডুবিতে তিন শতাধিক লোকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাপ্টেনের ৩৬ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। মঙ্গলবার সিউলের একটি আদালত এ রায় দেন। বার্তাসংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মর্মান্তিক ওই ঘটনায় দায়িত্বে ব্যাপক অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফেরির ক্যাপ্টেন লি জুন-সিওককে এ দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এপ্রিলে ৪৭৬ আরোহী নিয়ে সিওল নামক এ ফেরি দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে ডুবে যায়। এতে তিন শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়। তাদের বেশির ভাগই স্কুলের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় থেকে নৌভ্রমণে গিয়েছিল ওই শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম হয় এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠে। উদ্ধার অভিযানে ব্যর্থতার অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পার্ক গুয়েন হির সরকার।
এ ঘটনায় ফেরির ক্যাপ্টেন লি জুন-সিওক ও অন্য ১৪ জন ক্রুর বিরুদ্ধে বিচার চলছে।প্রসিকিউটররা ফেরির ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে নরহত্যার অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানান। তবে বিচারক তাকে এ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। লির বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং তার বাকি জীবনটা হয়তো কারাগারেই থাকতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপির খবরে বলা হয়েছে, আদালতে ঘুরে ফিরে যে প্রশ্নটি বারবার আসছে তা হল- তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ আছে কিনা। একটি ভিডিওতে লিকে ফেরিডুবির সময় আরোহীদের ফেলে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে দেখা গেছে।

ইরাকে আইএসের শীর্ষ কমান্ডার নিহত!

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার আবু হুদাইফা আল ইয়েমেনি নিহত হয়েছেন। সোমবার ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ফাল্লুজা শহরের কাছাকাছি একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। নিহত ইয়েমেনি আইএসের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ইয়েমেনি বাগদাদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিনা এবং তিনি নিহত হয়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারাও ইয়েমেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
ইরাকে প্রথম ব্রিটিশ ড্রোন হামলা : ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে ইরাকে প্রথমবারের মতো ড্রোন হামলা করল যুক্তরাজ্য। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আওতায় ইরাকে এর আগেই বিমান হামলা করেছে যুক্তরাজ্য। তবে ড্রোন হামলার ঘটনা এই প্রথম। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, সপ্তাহের শেষদিনে (রোববার) ইরাকের তেলসমৃদ্ধ শহর বেইজিতে ড্রোন হামলা চালায় রয়্যাল এয়ারফোর্স (আরএএফ)।

ছুটির দিনেও অফিস করুন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও অবকাশ যাপনের চিন্তা বাদ দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। নতুন ২১ সদস্যের শপথের একদিন পর তিনি মন্ত্রীদের আচরণবিধি বই সরবরাহ করেন। মঙ্গলবার এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশন নিয়ে মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই অধিবেশনকে অর্থবহ করা, যেসব বিল স্থগিত রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পাস করানো ও নতুন বিলের ব্যাপারে পরামর্শ দেন তিনি। মোদি বলেন, ঘন ঘন ছুটির চিন্তা ও বিদেশে অবকাশ যাপনের আকাক্সক্ষা ঝেড়ে ফেলতে হবে। এমনকি সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। জনগণের সেবার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থাকার আহ্বান করেন তিনি।
ক্ষমতায় আসার বিগত ছয় মাসে নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন উৎসব ও সরকারি ছুটির দিনেও অফিস করেছেন। সাপ্তাহিক ছুটি রোববারেও তিনি সরকারি কাজকর্ম সম্পাদন করেছেন। মন্ত্রীদের উদ্দেশে মোদি বলেন, শীতকালের মাসব্যাপী অধিবেশন যাতে ফলপ্রসূ হয় সে জন্য সবাই প্রস্তুতি নিন। অনেক বিল দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। এগুলো দ্রুত পাস করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নতুন কিছু বিল এই সেশনেই পাস করাতে হবে। পার্লামেন্টে বিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা ও জুনিয়র মন্ত্রী-কর্মকর্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সিনিয়রদের আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন মোদি।

১০ দিনের এশিয়া সফরে মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১০ দিনের বিদেশ সফরে বের হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে যাত্রা শুরু করে তার প্রথম গন্তব্যস্থল মিয়ানমার পৌঁছান। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি যাবেন তিনি। সম্প্রতি এক টুইট বার্তায় মোদি বলেন, আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গভীরে প্রোথিত এবং এর মধ্যদিয়ে এর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। এছাড়া বার্তায় মোদি জানান, মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় দুটি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয়া নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। আজ বুধবার মিয়ানমারে ১২তম আসিয়ান-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। ১৩ নভেম্বর পূর্ব এশিয়া সম্মেলনসহ সে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বিদেশ যাত্রার আগে মোদি বলেন, পূর্ব এশিয়া সম্মেলনে আমি অ্যাশিয়ান ও সাতজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে শান্তি, স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি রক্ষায় আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী ও আঞ্চলিক সমন্বয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করব। মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেইন ছাড়াও বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু কির সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।
আগামী ১৫ ও ১৬ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবনে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদি। এর পাশাপাশি চিনা প্রেমিয়ার লি কেকিয়াঙ্গ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কোয়েস ওলান্দে, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় ব্রের সঙ্গে একক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার।বৈঠক হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গেও।এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটের সঙ্গেও আলোচনায় বসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধীর ২৮ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছেন। এরপর ১৯ নভেম্বর ফিজি পৌঁছবেন মোদি। ১৯৮১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর পর আর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ফিজি সফরে যাননি। উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর মোদির এটি ষষ্ঠ বিদেশ সফর।

চীনের মুক্ত বাণিজ্য রোডম্যাপে এশীয় নেতাদের সমর্থন

চীনের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য রোডম্যাপে সমর্থন জানিয়েছেন এশীয় অঞ্চলের নেতারা। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২১ দেশের অর্থনৈতিক জোটের (অ্যাপেক) শীর্ষ সম্মেলনে এ ব্যাপারে একমত হন তারা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাপেক সম্মেলনে চীন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকার (এফটিএএপি) প্রস্তাব করেন। এতে সম্মতি দেন এশীয় অঞ্চলের নেতারা। চীনকে কেন্দ্র করে এ মুক্ত বাণিজ্য এলাকা প্রতিষ্ঠায় বিস্তারিত গবেষণা করার পক্ষে মত দেন তারা। আগামী দুবছরের মধ্যে এ ব্যাপারে গভীর অধ্যয়ন ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে। জিনপিং বলেন, এটা অবশ্যই একটা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। অ্যাপেক সদস্যদের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি আঞ্চলিক অর্থনীতিকে সুসংহত করবে।এশীয় অঞ্চলের নেতারা এফটিএএপি বাস্তবায়নের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন। এটিই হচ্ছে সামনে এগুনোর অফিসিয়াল পদক্ষেপ।এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, জাপান ও চীন আমরা পরস্পরের মুখাপেক্ষী। আমরা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও বিশ্ব শান্তির জন্য দুই দেশের সমান দায়িত্ব রয়েছে।এর আগে শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নানা ধরনের অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য এ অঞ্চলে মুক্ত বাণিজ্য প্রতিষ্ঠার কথা সবার ভেবে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে।যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে চীন ও রাশিয়াকে বাইরে রেখে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এশিয়ায় চীনের উত্থানে এ অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধি করতে এই আন্তঃপ্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশীদারিত্বমূলক মুক্ত বাণিজ্য ধারণার বাস্তবায়ন করতে ওয়াশিংটন। এতে থাকছে জাপান অস্ট্রেলিয়াসহ ১২টি দেশ। টিপিপি বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন বছরের পর বছর ধরে চাপ দিয়ে এলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনকে এর বাইরে রেখেছে। কিন্তু জাপানসহ কিছু সদস্য দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজার উš§ুক্ত করে দেয়ার বিরোধিতা করায় বিভিন্ন সময় এ নিয়ে অগ্রগতি আটকে গেছে।

এমপিদের হস্তক্ষেপে নাকাল ইউপি চেয়ারম্যানরা

সরকারদলীয় এমপিদের অযাচিত হস্তক্ষেপে নাকাল হয়ে পড়েছেন রাজশাহীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। এমপির হুকুমের তোয়াক্কা করা ছাড়া কোনো কাজই করতে পারছেন না তারা। ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা কৃষি ভর্তুকির মতো দরিদ্রদের খাতেও রয়েছে এমপিদের কর্তৃত্ব। ফলে চেয়ারম্যানরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন। পাশাপাশি মুখ থুবড়ে পড়েছে সুশাসনও। জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্যরা বলছেন হস্তক্ষেপ নয়, বরং চেয়ারম্যান-মেম্বারদের চুরি ঠেকাতে তাদের কার্যক্রম মনিটরিং করা হয়।
সংবিধানে তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য স্থানীয় সরকারকে প্রতিনিধিত্বমূলক এবং একই সঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সংবিধানে ৪টি অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা ও কার্যকারিতা বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় এমপিদের কর্তৃত্বের কাছে হার মানছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তারা বলছেন, এমপির অনুমতি ছাড়া কোনো কাজই করা যায় না। এতে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহ্জাহান আলী বলেন, এমপি সাহেব বা তার দলীয় লোকদের ভাগ দেয়া ছাড়া জনহিতকর কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ভাগ বসাতে দলীয় নেতাদের স্থানীয় কমিটিতে জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছেন এমপি। প্রকল্প থেকে তারা কমিশন নেন। ফলে কাক্সিক্ষত কাজ হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমপির এই নির্দেশ উপেক্ষা করলে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফারুক ইমাম সুমন বলেন, আমরা শুধু নামেই চেয়ারম্যান। সব কাজ পরিচালনা করেন এমপি সাহেবরা। তাদের মনোনীত দলীয় প্রতিনিধিদের কাছে আমরা জিম্মি। পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আর প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন কাজ করা কঠিন। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার, ইউএনও এবং পিআইওকে ভাগ না দিলে কাজ করা মুশকিল। সরকারি দলের লোকেরা বিভিন্ন গরিব মানুষের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বিভিন্ন ভাতার কার্ড দেয়ার জন্য আমাদের প্রেসার দেয়। কাজেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে আত্মতৃপ্তি থাকে না। দুস্থ মানুষের উপকারও হয় না। মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউপি চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন সরকার জানান, এমপি সাহেব অলিখিতভাবে আমাদের উপদেষ্টা সেজে বসে আছেন। তার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রকল্পে আমাদের ঘাড়ের ওপর চেপে বসে আছে। তাদের ৪০ ভাগ কমিশন না দিলে উপজেলা কমিটি থেকে কোনো প্রকল্প পাস হয় না। চেয়ারম্যানদের অবস্থা ঠিক এরকম- হাত পা বেঁধে সাঁতার দিতে বলা। বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান মাতু বলেন, এমপি সাহেবের সঙ্গে মানিয়ে চলা ছাড়া উপায় নেই।পবা উপজেলার হুজরীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্পে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি থাকার কথা। কিন্তু তারা এমপি সাহেবের কাছে ভালো থাকার জন্য তা করেন না। এমপিই তার মনোনীত দলীয় প্রতিনিধিকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। এতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, একজন চেয়ারম্যান হচ্ছেন সর্বদলীয়। সবার উন্নয়নে সমানভাবে কাজ করবেন। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা অন্য দল বলে কোনো পার্থক্য থাকার কথা নয়। আমরা এখানে ব্যবসা করতে আসিনি। জনগণের সেবা করতে এসেছি। এখানে এমপি ও তার দলের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাকে কাজ করতে হয়। মিলেমিশে কাজ করলে তো সমস্যা থাকে না। এছাড়া গোদাগাড়ী উপজেলার একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এডিপিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমপি সাহেবের লোকদের ৫০ ভাগ কমিশন না দিলে আমরা কাজ করতে পারি না। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের অন্যায় মেনে নিয়েই চলতে হচ্ছে। কিছু করার নেই আমাদের।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো চেয়ারম্যানদের দুষছেন সংসদ সদস্যরা। তারা বলছেন, চেয়ারম্যানদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সরকারদলীয় এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিডি, ভিজিএফ, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্প ও ভাতা বরাদ্দ দেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানরা তা সঠিকভাবে বিতরণ করেন না। টাকার বিনিময়ে দুস্থ মানুষকে কার্ড দেন। গরিবের বরাদ্দ তারা খেয়ে ফেলেন। এগুলো বন্ধ করে প্রতিটি ওয়ার্ডে দলীয় লোক দিয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বরং কাজের স্বচ্ছতা এসেছে। এ জন্যই চেয়ারম্যানরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি চেয়ারম্যান সাহেবরা নিজেদের যুধিষ্ঠির আর এমপিকে চোর মনে করেন তাহলে খোঁজ নিয়ে দেখা দরকার চেয়ারম্যান হওয়ার আগে কে কত বিঘা জমির মালিক ছিলেন আর চেয়ারম্যান হওয়ার পরে কত বিঘা জমি কিনেছেন। কোনো চেয়ারম্যানের সৎ সাহস নেই যে বলবেন, আমি তাদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করি। বরং তারাই গরিব মানুষের চাল ওজনে কম দেন। যা আমি ঈদের আগে সরেজমিন গিয়ে নিজেই ধরেছি।স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের স্বাভাবিক ক্ষেত্রগুলো বিকাশে সহায়তার বদলে পদে পদে বাধার সম্মুখীন করা হচ্ছে। জাতীয় সরকার বেশি মাত্রায় ও পরিমাণে স্থানীয়তে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। তাতে বাড়ছে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। সাংবিধানিকভাবে স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া জরুরি।এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর রাজশাহী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সুব্রত পাল বলেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী না হওয়ার পেছনে প্রধান বাধা হল সংসদ সদস্যদের বেআইনি হস্তক্ষেপ। উল্লেখ্য, রাজশাহীর নয়টি উপজেলায় ৭০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

টাঙ্গাইলে ফিলিং স্টেশনে আগুন ৩ গাড়ি ভস্মীভূত

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুল্লা এলাকায় নাহিদ ফিলিং স্টেশনে আগুন লেগে ৩টি গাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। আংশিক পুড়ে গেছে সেখানে থাকা আরও ৪টি ট্রাক। মঙ্গলবার সকালে আগুন লাগার পর মহাসড়কের যান চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট ৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অসতর্কতাবশত আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। এতে ফিলিং স্টেশনের ৯ হাজার লিটার জ্বালানি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, সকাল ৭টার দিকে নাহিদ ফিলিং স্টেশনে একটি তেলভর্তি লরি দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী দিনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস লরিটিকে ধাক্কা দিলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন লেগে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পাম্পে থাকা একটি তেলের লরি, একটি কাভার্ড ভ্যান ও যাত্রীবাহী বাস পুড়ে যায় এবং আরও চারটি ট্রাকের আংশিক ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট প্রায় ৫ ঘণ্টা কাজ করার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী গুল্লা এলাকার সাব্বির জানান, সকাল ৭টার দিকে নাহিদ ফিলিং স্টেশনে একটি কাভার্ড ভ্যানে হঠাৎ আগুন দেখতে পান। এ সময় সবাই চিৎকার শুরু করে। ফিলিং স্টেশনে আগুন নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবু জাফর জানান, আগুনে ফিলিং স্টেশনের ৯ হাজার লিটার পেট্রল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে তিনি ধারণা করেন অসর্তকতার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে তদন্তের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঘাতক সন্দেহে গাড়িসহ তিনজন গ্রেফতার

রাজধানীর সোবহানবাগে ছিনতাইকারীদের হাতে মর্মান্তিকভাবে নিহত আয়েশা আক্তার রিপার ঘাতক সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হল : আবুল কালাম, হেমায়েত হোসেন হিমু ও আলমগীর হোসেন রতন। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, ৪টি ভ্যানিটি ব্যাগ, একটি ল্যাপটপ ব্যাগ ও ২টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
গত ২৮ অক্টোবর ভোরে রিকশাযোগে লালমাটিয়ার বাসায় যাওয়ার সময় ধানমণ্ডির সোবহানবাগ মসজিদের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন আয়েশা আক্তার রিপা। ছিনতাইকারীরা মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে রিপার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিলে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে পড়েন। ছিনতাইকারীরা ভ্যানিটি ব্যাগের সঙ্গে গৃহবধূ রিপাকেও প্রায় দুশ গজ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে রক্তাক্ত রিপা ব্যাগ ছেড়ে দিলে ছিনতাইকারীরা তা নিয়ে মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়।ওই সময় সঙ্গে থাকা রিপার এক বন্ধু মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ধানমণ্ডি থানায় একটি মামলা হলে পুলিশ ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে মাঠে নামে।ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ধানমণ্ডি থানা পুলিশের একটি টিম মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশন থেকে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত ছিনতাই করে বলে জানিয়েছে। ছিনতাইয়ের জন্য তারা ভোরবেলাকেই বেছে নেয়। গত ২৮ অক্টোবর সোবহানবাগে ছিনতাইয়ের ঘটনাও তারা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন মাইক্রোবাসে তিনজন ছিল। এর মধ্যে হেমায়েত হোসেন হিমু মাইক্রোবাসের চালকের আসনে ছিল। আর আবুল কালাম চলন্ত গাড়ি থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেয়। আলমগীর হোসেন রতন ওই মাইক্রোবাসটির মালিক। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি ওই চক্রটিকে প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার টাকায় মাইক্রোবাসটি ভাড়া দিয়ে থাকেন।

চট্টগ্রামে লক্ষাধিক অবৈধ যানবাহন

চট্টগ্রামে ৬৫ শতাংশ যানবাহনের নেই বৈধ কাগজপত্র। তারপরও এসব যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক-মহাসড়ক। বিআরটিএর হিসাবে চট্টগ্রামে বৈধ যানবাহন আছে দেড় লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজারের ফিটনেস নেই। এর বাইরেও লক্ষাধিক যানবাহন নগরীতে চলাচল করছে। যেগুলোর বিআরটিএর অনুমোদন নেই। ট্রাফিক ও থানা পুলিশকে মাসিক হারে মাসোয়ারা দিয়ে ওইসব যানবাহন সড়কে চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে বিআরটিএ। প্রথম দিনে ৭৬টি ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযানের ফলে মঙ্গলবার বিআরটিএতে গাড়ির লাইসেন্স নবায়ন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেয়ার জন্য শত শত যানবাহন হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। চালকদের অভিযোগ, বিআরটিএতে দালাল ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন করা অনেকটাই অসম্ভব। কাগজপত্র নবায়ন বাবদ নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।
বিআরটিএর সহকারী পরিচালক শেখ মো. রোকন উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম জেলা এবং মহানগরীতে ১ লাখ ৬১ হাজার ৯০৪টি যানবাহন বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ৫৬ হাজার ৯৯৫টি, অটোরিকশা ৪৪ হাজার ৬৬টি, অটোটেম্পো ২ হাজার ৩১৯টি, মোটরকার ২৫ হাজার ২৭২টি, মোটরজিপ ২ হাজার ২০টি, মাইক্রোবাস ১০ হাজার ৮৭৯টি, পিকআপ ৪ হাজার ৬৭৪টি, বাস/মিনিবাস ২ হাজার ৮৫৫টি, হিউম্যানহলার ১ হাজার ৫০৩টি, ট্রাক ও অন্যান্য ১১ হাজার ৩২১টি। নিবন্ধিত এসব গাড়ির মধ্যে ৩৭ হাজার ৮১০টির বর্তমানে ফিটনেস নেই। তার মধ্যে মহানগরীতে ২৯ হাজার ৩১৪টি এবং জেলায় রয়েছে ৮ হাজার ৪৯৬টি। চট্টগ্রামে ৮৪ হাজার ৬৬৭ জন চালককে লাইসেন্স দিয়েছে বিআরটিএ। এর মধ্যে মহানগরীতে ৫০ হাজার ৯২৭ ও জেলায় রয়েছে ৩৩ হাজার ৭৪০ জন চালকের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বৈধ ও অবৈধ মিলে আড়াই লাখ যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ যানবাহনের বিআরটিএ কর্তৃক কোনো অনুমোদন নেই। এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত টমটম, টুকটুকি টেম্পো, ২০ হাজার নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা। অপর ৬০ শতাংশ যানবাহনের মধ্যে ২৫ শতাংশ যানবাহনের রুট পারমিট, ফিটনেস, বীমাসহ অন্যান্য কাগজপত্রে কোনো না কোনো ক্রটি রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাসহ সামান্য কিছু গণপরিবহন রয়েছে যেগুলোর কাগজপত্র সময়মতো নবায়ন করা হয়। এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা মাত্র ৩৫ শতাংশ।
সোমবার থেকে শুরু হয়েছে অবৈধ যানবাহন ও চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান। প্রথম দিনে চট্টগ্রামে ৭৬টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। এসব গাড়ি থেকে জরিমানা বাবদ আদায় করা হয় ১ লাখ ১৫ হাজার ৩০০ টাকা। এ সময় আটক করা হয়েছে ৬টি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিআরটিএর বিশেষ অভিযানের কারণে অবৈধ চালক-মালিকের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত গাড়ির লাইন। কাগজপত্র নবায়নের জন্য এসব যানবাহন আনা হয়েছে। এখানে আসা কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, বিআরটিএতে কাগজপত্র নবায়নে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ছাড়া এখানে কোনো কাজই ঠিকভাবে করা যায় না। তাই প্রতিটি কাগজপত্র নবায়নে হাজার হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।
নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে নৈরাজ্য : এদিকে নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে নগরীতে চলছে চরম নৈরাজ্য। ওইসব সিএনজি অটোরিকশা বিভিন্ন শ্রমিক মালিক সংগঠন, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এবং সার্জেন্টের টোকেন নিয়ে সড়কে চলাচল করছে। নগরীর নম্বরবিহীন অটোরিকশাগুলোকে ট্রাফিক পুলিশ যাতে হয়রানি না করে সেজন্য উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যার রিট মামলা নং-১১৫৯৪। আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে পুঁজি করে চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন ও ট্রাফিক পুলিশ প্রতি মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য করছে। নামসর্বস্ব কিছু পত্রিকার স্টিকার ব্যবহার করে নম্বরবিহীন ৪০০ সিএনজি অটোরিকশা নগরীতে চলাচল করছে বলে ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বেবিট্যাক্সি ড্রাইভার সহকারী শ্রমিক ইউনিয়নের নামেও চলছে শতাধিক সিএনজি।
চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন চালক চানিয়েছেন, শুধু নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা চালানোর জন্য তারা এ সমিতিতে ভর্তি হয়েছেন। এজন্য তাদের ভর্তি ফি বাবদ দিতে হয়েছে এককালীন ৫ হাজার টাকা, প্রতি মাসে দিতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা করে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম অটোটেম্পো অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুন জানান, সমিতির নামে ১৭শ গাড়ি সড়কে চলাচল করছে। এসব গাড়িকে রেজিস্ট্রেশন না দেয়া পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ যাতে হয়রানি না করে সেজন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ডিসি ট্রাফিক (বন্দর) মো. সুজায়েত ইসলাম জানান, বিআরটিএর বিশেষ অভিযান ছাড়াও প্রতিদিন ট্রাফিক পুলিশ অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, মামলা দিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তবে ট্রাফিকের কোনো টিআই কিংবা সার্জেন্ট টোকেন দিয়ে অবৈধভাবে টাকা আদায় করার অভিযোগ আসেনি।

ভুয়া অভিযানে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বিসিসি কর্মচারীরা

লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা আটকের নামে ভুয়া অভিযান চালিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) কতিপয় কর্মচারী। কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার নির্দেশনা ছাড়াই নগরীর বিভিন্ন স্পটে এসব কর্মচারী আকস্মিকভাবে দাঁড়িয়ে অটোরিকশা আটক করছে। আটক রিকশা ছাড়াতে দিতে হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। সুযোগ বুঝে আরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে ২ হাজার ৬০০টি অটোরিকশার লাইসেন্স আছে। গত সরকারের আমলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন কারণে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের আবেদন করা হয়। যার ফলে ওই সময় থেকে অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে অটোরিকশা নগরীর রাস্তায় নামানো হচ্ছে। নগরীতে বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা চলাচল করছে।
অভিযোগ আছে পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ওইসব অটোরিকশা চালানো হচ্ছে। খোদ কর্পোরেশনের যানবাহন শাখার কর্মকর্তারাই অভিযোগ করেন, পুলিশ মাসোয়ারা নিয়ে অবৈধ অটো চলাচলে সহায়তা করে। এ অবস্থায় বর্তমান মেয়র দায়িত্ব পাওয়ার পর লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা আটকের নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন শাখার কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় সময়ই অনুমোদনবিহীন ও লাইসেন্স নবায়ন ছাড়া অটোরিকশা আটক করা হয়। এর আগে এই অভিযানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক দফা আন্দোলন-সংগ্রামও চালিয়েছে অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকরা। তারা প্রায়োজনে নতুন নীতিমালা করে লাইসেন্স প্রদানের আহ্বান জানান সিটি মেয়র ও সরকারের প্রতি। কিন্তু সরকার থেকে নতুন কোনো নীতিমালা প্রণয়ন না করায় কর্পোরেশন থেকে তাদের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না। যার ফলে প্রতিদিনই নগরীতে অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে অবৈধ অটোরিকশাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্পোরেশনের এক শ্রেণীর কর্মচারী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অটোরিকশা আটকের ভুয়া অভিযান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা। সিঅ্যান্ডবি রোড এলাকার অটোরিকশা চালক জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, তিনি লঞ্চ ঘাট থেকে পোর্টরোড যাচ্ছিলেন। এ সময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক তার গাড়ি আটক করে। জরিমানা বাবদ তার কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন তারা। তিনি দেড় হাজার টাকা দিয়ে কোনো রকমে রক্ষা পায়।
সাগরদীর অটোচালক সালাম জানান, তার গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে আড়াই হাজার টাকা লেগেছে। অথচ এই টাকার বিনিময়ে তাদের কোনো রশিদ দেয়া হয়নি। উচ্চবাচ্য করলে গাড়ি আটকের হুমকি দেয়া হয়। যার ফলে ভয়ে দরিদ্র অটোচালকরা টাকা দিয়েই রফাদফা করছে।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন শাখায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, অভিযানের আগে নগরজুড়ে মাইকিং করা হয়। অভিযান ছাড়া কারও কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশনের পরিচয় দিয়ে কোনো কর্মচারী অটো চালকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলে তাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহীতে এসআই স্বপনের মাদক বাণিজ্য

রাজশাহীর শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী রাকিব। নগরজুড়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা তার। পুলিশের সঙ্গে বিশেষ করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার সরকারের সঙ্গে তার গভীর সখ্য। সম্প্রতি স্বপন কুমারকে দামি মোটরসাইকেলও উপহার দিয়েছেন রাকিব। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে বা মাস শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থও উপঢৌকন হিসেবে চলে যায় এ দারোগার কাছে।
অভিযোগে জানা গেছে, এসআই স্বপনই চালাচ্ছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে স্বপন কায়েম করেছেন আপন রাজত্ব। মাদক আটক করে বিক্রি করা, মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া, কলগার্ল দিয়ে টোপ ফেলে লোকজনকে ব্ল্যাকমেইলিং করা এবং নগরজুড়ে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল ইয়াবা ব্যবসায়ী রাকিব নগরীর সাকুরা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি সাদা রংয়ের এ্যাপাচে মোটরসাইকেল কিনেন। সনজু ও শরিফুল নামে আরও দুই মাদক ব্যবসায়ী দেন ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা। রাকিব এই মোটরসাইকেলটি উপহার দেন এসআই স্বপনকে। বর্তমানে এই মোটরসাইকেলেই চড়ে বেড়াচ্ছেন স্বপন।জানা গেছে, মোটরসাইকেলের ক্রয় সংক্রান্ত শোরুমের কাগজ এসআই স্বপনের নামে। তবে দোকানের পেমেন্ট স্লিপে দেখা গেছে মোটরসাইকেলের ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন রাকিব ও অপর দুই মাদক ব্যবসায়ী সনজু ও শরিফুল। কিছুদিন আগে রাকিবকে ২০০ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার মামলাটি বোয়ালিয়া মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।এসআই স্বপনের বিরুদ্ধে মাদক আটক করে পরে তা বিক্রি করে দেয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে। ৪ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টায় মতিহার থানার কাজলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০ বোতল ফেনসিডিলসহ বসুয়া মধ্যপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাসুদ ওরফে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। মিলনের সাদা ভেসপাসহ আটক ফেনসিডিল নিয়ে স্বপন গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যায় বলে এলাকার লোকজন জানান। পরদিন ৫ জুলাই ২০০ বোতলের মধ্যে মাত্র ৫০ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে মিলনকে আদালতে চালান করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ডিবির দারোগা স্বপন ১৫০ বোতল ফেনসিডিল বাইরে বিক্রি করে দেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই স্বপন বলেন, এলাকার লোকজন মিথ্যা কথা বলছেন। অন্যদিকে ১ জুলাই গভীর রাতে বিহারি কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপনের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ভারতীয় ১ হাজার ৮০০টি বেটনোভেট ক্রিমসহ সহিদার নামে এক চোরাকারবারিকে আটক করে। ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মালসহ সহিদারকে ছেড়ে দেয়া হয়। ডিবির ওই সময়ের ওসি নূর হোসেন খন্দকার ছুটিতে থাকায় স্বপন এই আটক বাণিজ্য করেন।আরও জানা যায়, নগরীর গুড়িপাড়ার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ফারুকের সঙ্গে এসআই স্বপনের প্রকাশ্য দহরম-মহরম পুলিশের মধ্যে একটি আলোচিত বিষয়। অভিযোগ রয়েছে, স্বপনের বাসার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ সবকিছুই সরবরাহ করে ফারুক। ফারুক তার এলাকার অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের মালামালের গোপন তথ্য দিয়ে থাকে এসআই স্বপনকে। স্বপন সে অনুযায়ী অভিযান চালান। আটক করেন। পরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। উদ্ধার মালামাল স্বপনের কাছ থেকে কিনে নেয় ফারুক। এভাবে গত ৬ মাসে লাখ লাখ টাকার আটক বাণিজ্য করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।এসআই স্বপন কলগার্ল দিয়ে টোপ ফেলে বিভিন্ন জনকে আটক করে মোটা অংকের টাকাও আদায় করে আসছেন। ৯ নভেম্বর কাজলার একটি বাড়ি থেকে সাদিয়া নামের এক কলগার্লকে কয়েকজন খদ্দেরসহ আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। সাদিয়া ডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এসআই স্বপন কলগার্ল দিয়ে টোপ ফেলে বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালায়। ছবি তুলে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আদায় করে মোটা অংকের টাকা। স্বপনের এই চক্রে পুলিশের আরও কয়েকজন জড়িত বলে তিনি জানান।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই স্বপন কুমার সরকার যুগান্তরকে বলেন, আমি এসব কাজের সঙ্গে জড়িত নই। রাকিবের দেয়া মোটরসাইকেল প্রসঙ্গে বলেন, রাকিব কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তার কাছ থেকে মোটরসাইকেল নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি দাবি করেন, তিনি স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রামে আজ এরশাদের মহাসমাবেশ

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ আজ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্টি চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রায় ১৬ বছর পর লালদীঘি মাঠে এরশাদের এ মহাসমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
ইতিমধ্যে মহাসমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন চট্টগ্রামের জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা। মহাসমাবেশ নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণসহ সর্বত্রই চলছে ব্যাপক প্রচারণা। পোস্টার আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রথম মহাসমাবেশ এটি।মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এ মহাসমাবেশে আরও উপস্থিত থাকবেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপিসহ শীর্ষ নেতারা। সভাপতিত্ব করবেন মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মাহজাবীন মোরশেদ এমপি। মহাসমাবেশে চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক জেলা ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকেও নেতাকর্মীরা আসবেন বলে জানা গেছে।জানা যায়, সারা দেশে জাতীয় পার্টির অবস্থান তুলে ধরতে পর্যায়ক্রমে সাতটি বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রথম মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপরীতে এখন অন্য কাউকে চায়। জাতীয় পার্টি অচিরেই তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাবে। চট্টগ্রামের এ মহাসমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত থাকবেন। কোনো ধরনের প্রতিকূলতায় এ জনসমুদ্রে ভাটা পড়বে না। মহাসমাবেশে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতির উদ্দেশে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন।জানা যায়, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৯৭ সালে জেল থেকে বের হওয়ার পর ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে লালদীঘি মাঠে মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে বক্তৃতা করেন এরশাদ। ওই মহাসমাবেশে লাখো জনতার সমাগম ঘটেছিল। লালদীঘির মাঠ পূর্ণ হয়ে কোতোয়ালি থানার মোড়, সিনেমা প্যালেস, বক্সিরহাট মোড়, আমানত শাহ মাজার গেট পর্যন্ত জনতার ঢল নেমেছিল। আজকের মহাসমাবেশও ৯৮ সালের মতো লাখো জনতার সমাবেশে পরিণত করতে চান জাতীয় পার্টির নেতারা।মহাসমাবেশে লোকসমাগম করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও নগর কমিটির আহ্বায়ক মাহজাবীন মোরশেদ। মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মাহজাবীন মোরশেদ এমপি জানান, লালদীঘির মহাসমাবেশকে ঘিরে জাতীয় পার্টির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। পার্টি চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছে। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে খালেদা জিয়ার জনসভা আজ

প্রায় ১১ বছর পর আজ বুধবার কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সকাল ১০টায় গুলশানের বাসা থেকে সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। সেখানে সার্কিট হাউসে দুপুরের খাবার শেষে বিকালে শহরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক প্রচার ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
কিশোরগঞ্জ শহরের প্রবেশ পথের স্থানে স্থানে নেতাকর্মীদের ছবি সংবলিত তোরণ নির্মাণ, পোস্টার, ব্যানার প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তোরণ, পোস্টার আর ব্যানারে জনসভার প্রবেশপথগুলো ছেয়ে গেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালে কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট উদ্বোধন উপলক্ষে করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদে এক জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।২০ দলের নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার এ জনসভাকে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাবেশে পরিণত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা কাজ করে যাচ্ছে। জনসভার প্রস্তুতি কমিটির সমন্বয়কারী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নেতৃত্বে উপ ও লিয়াজোঁ কমিটিগুলো করতে কাজ করছে।ড. এম ওসমান ফারুক বলেন, আশা করছি, খালেদা জিয়ার এ জনসভা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ শহর জনসমুদ্রে পরিণত হবে।তবে জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির নেতৃত্বের বিরোধ আবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একে অপরকে দোষারোপ করছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সচিব ভিপি ওয়ালীউল্লাহ রাব্বানী যুগান্তরকে বলেন, ওয়ান ইলেভেনের হোতারা অগ্রহণযোগ্য পকেট কমিটির মাধ্যমে যে সভাবেশের আয়োজন করেছে তা হাস্যকর। আজকের সমাবেশে মূল বিএনপি বলতে যাদের বোঝায়, তাদের বেশিরভাগ নেতাকেই সম্পৃক্ত করা হয়নি।ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, হাইব্রিডরা দল ও মঞ্চ অবরুদ্ধ রেখেছে। দলের প্রয়োজনে ওদের পরাজিত করেছিলাম; তারাই আজ আমাদের বুকে পেরেক মারছে।সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন সঙ্গে বলেন, ম্যাডাম কিশোরগঞ্জ আসছেন এ বিষয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে জানানোই হয়নি। তারপরও আমি আমার এলাকার লোকজনকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক পথের পুলেরঘাট বাজার এলাকায় তাকে স্বাগত জানাব।

বিশ্বের গভীরতম সুইমিং পুল

বিশ্বের গভীরতম সুইমিং পুল ইতালি ইউগানিয়ান হিলসের সুইমিং পুল। একে বলা হয় ওয়াই-৪০। কারণ পুলটি মাটির ৪০ ফুট গভীরে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ এটিকে বিশ্বের গভীরতম পুল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্কুবা ডাইভারস ও নির্ভীক সাঁতারুদের জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা।
স্থপতি ইমানুয়েল বোয়ারেত্তোর নকশা এবং বোয়ারেত্তো গ্রুপ হোটেল ও রিসোর্টের সহযোগিতায় এটি নির্মিত হয়েছে। ওয়াই-৪০’র দৈর্ঘ্য ২১ মিটার, প্রস্থ ১৮ মিটার। পুলটির পানির তাপমাত্রা সব সময় ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রির মধ্যে রাখা হয়। সুইমিং কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে চার তারকা হোটেলের মতো চমৎকার পরিবেশ। ওয়াই-৪০’র গভীরতা প্রশিক্ষণার্থী স্কুবা ডাইভার, আন্ডার ওয়াটার ফটোগ্রাফির জন্য ভালো। তবে যারা সাঁতার কাটতে চান না বা জানেন না, তাদের জন্য রয়েছে একটি স্বচ্ছ টানেল। যেখানে সহজেই তারা পুলটি উপভোগ করতে পারেন। ওয়েবসাইট।

চাকরির জন্য লোক ধরাধরি অবমাননাকর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলনে তিনি চাকরির জন্য দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষা শেষে চাকরির জন্য এখানে সেখানে লোক ধরাধরি করা শিক্ষিত লোকের জন্য অবমাননাকর। আমরা চাই না যুবসমাজ চাকরির জন্য এখানে সেখানে ঘুরাফেরা করুক। আমরা চাই তরুণ সমাজ নিজের পায়ে দাঁড়াবে। নিজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অন্য ১০ জনের আয়-উপার্জনের ব্যবস্থা করবে।
প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা না করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হুশিয়ার করেন। উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা কারো কাছে মাথানত করে চলি না। অনেকের অভ্যাস পাস করার পর চাকরির জন্য ঘুরে বেড়ানো। চাকরির জন্য কারো কাছে ধরনা না দিয়ে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এ ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সারা দেশ থেকে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের ১১ হাজার উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়। বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার সচিব মঞ্জুর হোসেন। অসুস্থতার (জ্বর) কারণে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের একদম শেষ পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান। এ সময় অনুষ্ঠানের সভাপতি সিনিয়র সচিব মঞ্জুর হোসেন বক্তৃতা করছিলেন। তিনি (সচিব) বক্তৃতা সংক্ষেপ করে তা শেষ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতা শুরু করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও ইউএনডিপির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেকটর পাওলিন টেমেসিস। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদার, সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং এটুআই প্রকল্পের পরিচালক কবির বিন আনোয়ার বক্তৃতা করেন। অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন রাঙ্গামাটির বিকাশ চাকমা ও রংপুরের আরিফুজ্জামান মুন। বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তার উপস্থিতিতে প্যারেড স্কয়ারে গোটা প্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনুষ্ঠানের কার্যক্রম প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থিত সবার জন্য দেখার ব্যবস্থা করা হয়। সম্মেলন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারসহ আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সম্মেলন। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে এখন ৪ হাজার ৫৪৭টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে। এছাড়াও ৩২১টি পৌরসভা ও ১১ সিটি কর্পোরেশনের ৪০৭টি ওয়ার্ডে রয়েছে ডিজিটাল সেন্টার।
শেখ হাসিনা বলেন, অন্য দেশগুলোর চেয়ে আমাদের দেশে তরুণের সংখ্যা অনেক বেশি। ভাত-মাছ খেয়ে বড় হওয়া আমাদের তরুণরা অনেক মেধাবী। তরুণদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা নিয়ে নিজেদের কর্মদক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ডিজিটাল সেন্টারের এত দ্রুত বিকাশ ও এর মাধ্যমে সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া প্রমাণ করে আমাদের তরুণরা মেধাবী। উন্নত দেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার প্রশংসা করে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার দৃঢ়প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের মনে রাখতে হবে আমরা পারি, আমরা পারব। তোমরাই পারবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে অনেক এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না’। প্রধানমন্ত্রী জানান, আউট সোর্সিংয়ের জন্য সরকার প্রশিক্ষণ দেবে। তার দাবি, এখন ঘরে বসে শুধু দেশেই নয়, বিদেশ থেকেও অর্থ উপার্জন করা যায়। এজন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা নিতে হবে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে বসে বিদেশের কাজ করে যাতে অর্থ উপার্জন করা যায় সে প্রশিক্ষণও আমরা দেব।
তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সরকার পরিচালনা সহজ হয়েছে উল্লেখ করে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গোটা পৃথিবীটা আপনাদের হাতের মুঠোয়। তিনি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যুর হিসাব রাখতে বলেন। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের কখনও কখনও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরিয়ে দেন। উদ্যোক্তাদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, কোনো কিছু যখন ভালোভাবে চলে তখন অনেকে আসে সেখানে তাদের মামা, শালা, ভাই বা আত্মীয়দের বসানোর জন্য। আমি সতর্ক করে দিতে চাই, কেউ যেন শিং দিয়ে গুঁতোগুঁতি করে ঢোকার চেষ্টা না করে। প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এই বলে যে, এ উদ্যোক্তাদের কেউ সরাতে পারবে না। পারলে কেউ আলাদা করে এটা করুক। যারাই ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা তারাই থাকবে।
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে ইন্টারনেটের গতি কম জানানো হলে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু সেবা বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, সে জন্য ইন্টারনেটের এখনকার স্পিড সময়োপযোগী নয়। এর গতি আরও বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাইস্পিডের ইন্টারনেট চালুর জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা নতুন করে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের পদক্ষেপ নিয়েছি। আরেকটা পদক্ষেপ হচ্ছে নিজেরাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করব। এটা একনেকে পাস হয়েছে। ইন্টারনেটের গতি বাড়লে প্রযুক্তির আরও বিকাশ হবে, আরও সেবা বাড়বে। অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ইন্টারনেটের গতির বিষয়ে কথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের আগামীতে এলজিইডির বেশকিছু কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। জন্ম নিবন্ধন উদ্যোক্তারাই করবেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ডিজিটাল যুগ শুরু হয় মন্তব্য করে আশরাফ বলেন, তার আগে আমি লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পর ভালোভাবে এসেছি সে খবর স্ত্রীকে জানানোর জন্য লন্ডনে একটা ফোন করতে টিএন্ডটি অফিসে দু’দিন ঘুরতে হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে বাংলাদেশ সেই তিমিরেই থেকে যেত।
রংপুরের উদ্যোক্তা আরিফুজ্জামান মুন ইন্টারনেটের ধীরগতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের বাদ দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এর প্রতিকার চান। রাঙ্গামাটির বিকাশ চাকমা বলেন, তিনি এ সেন্টারের মাধ্যমে এখন পরিবার ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারছেন।

সড়কে অভিযান চলছে ভোগান্তি চরমে

বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা ছাড়াই ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। আটকের ভয়ে অবৈধ গাড়ি গ্যারেজ ও রাস্তার পাশে রেখে দিয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এতে অভিযান শুরুর পর থেকে নগরীতে পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। বাস স্টপেজগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বাসে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী বাদুরঝোলা হয়ে যেতে দেখা গেছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের অভিযানে এ দৃশ্য দেখা গেছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিআরটিএ ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
পরিবহন সংকটে ক্ষোভ প্রকাশ করে যাত্রীরা বলেন, রাখঢাক করে কয়েকটি পয়েন্টে অভিযান শুরু করা হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা আগভাগ থেকে জেনে যাচ্ছেন কোথায় কখন মোবাইল কোর্ট বসবে। তারা ওই রুট এড়িয়ে অন্য রুটে চলে যাচ্ছেন। এছাড়া পাড়া-মহল্লায় ভাঙাচোরা লেগুনা, হিউম্যান হলারসহ ঝুঁকিপূর্ণ ছোট ছোট গাড়ি চলছে। ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা আরও বলেন, এসবই ‘আইওয়াশ’ ছাড়া কিছুই নয়। কয়েকদিন পর আবারও সেই পুরনো গাড়ি রাস্তায় দেখা যাবে।এদিকে পরিবহন সংকটের সুযোগে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেছে গণপরিবহনগুলো। বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা বেপরোয়া ভাড়া আদায় করেছে। যাত্রী জিম্মি করে ভাড়া আদায় করলেও পুলিশ সদস্যদের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।বিআরটিএ সূত্র জানায়, রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজ, শ্যামলী এবং বিমানবন্দর রোডের শ্যাওড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন বিআরটিএ’র ভ্র্যাম্যমাণ আদালত। অভিযানে গাড়ির ফিটনেসের পাশাপাশি গাড়ির রুট পারমিট, চালকের লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন, চালকের হেলমেট আছে কি না এসব দেখা হয়। তিন পয়েন্টে বিআরটিএর মেজিস্ট্র্রেটরা ৮৬টি মামলা, ৯২ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬টি গাড়ি ডাম্পিং করেছে। রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসিরুল্লাহ খান। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ২৯টি মামলা, ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করে জমা দিলে ডাম্পিংয়ে পাঠানো গাড়ি ফেরত পাওয়া যায় বলে জানান তিনি। শ্যাওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল বাশারের নেতৃত্বে বেলা ৩টা পর্যন্ত অভিযান চলে। বাশার জানান, তার কোর্টে ৩৫টি মামলা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ২৬ হাজার ২০০ টাকা। আর ডাম্পিং করা হয়েছে একটি গাড়ি। বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ নাগ জানান, মোট ২২টি মামলা করেছেন, জরিমানা করেছেন ২৯ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া একটি গাড়ির কাগজ জব্দ এবং দুটি ডাম্পিং করা হয়েছে।এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আনফিট যানবাহন উচ্ছেদ করতে এবার আটঘাট বেঁধে নেমেছি। এজন্য রাজধানীতে যানবাহন সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হতে পারে এ বিবেচনায় রাজধানীতে বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস নামানো হয়েছে। দুর্ভোগ এড়াতে বিকল্প গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি পেতে হলে সাময়িক কষ্ট স্বীকার করতে হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পর এখন বলা হচ্ছে জনদুর্ভোগ। পরিবহন সংকট দূর করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য ধৈর্য ধরতে হবে সবাইকে। বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে পরিবহন সংকট দীর্ঘদিনের। ঢাকায় সরকারি সংস্থা বিআরটিসি ৬৩টি রুটে ২৬৩টি বাস চলাচল করে। এর পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে ৮ হাজার। আর ট্যাক্সিক্যাব রয়েছে সাড়ে ৪শ’। আর ১৬৮টি রুটে চলাচলরত বাসের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে মিনিবাস ৩ হাজার ১২৬টি, আর বড় বাসের সংখ্যা ২ হাজার ২৮১টি। এসব বাস-মিনিবাসের একটা বড় অংশ ফিটনেসবিহীন। অভিযানের কারণে এগুলো উধাও হয়ে যাওয়ায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।

সিআইডিকে ইনকোয়ারি থেকে অব্যাহতি

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার ইনকোয়ারি থেকেও বাদ পড়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই সংস্থাটিকে ইনকয়ারি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
হাইকোর্টের সুয়োমটো (স্বতঃপ্রণোদিত) আদেশে চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করে ডিটেক্টটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) ও সিআইডি। তদন্তের শুরু থেকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাইকোর্টে দাখিল করে আসছিল সিআইডি, যা দেখে হাইকোর্ট এই সংস্থার প্রশংসাও করেছিলেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের ঘটনার তদন্ত থেকে সিআইডিকে বাদ দেয়ার দাবি ওঠে। যুক্তি দেখানো হয়, ফৌজদারি মামলার তদন্ত দুটি সংস্থার মাধ্যমে করা আইনগতভাবে সঠিক নয় এবং এতে বিচার ভণ্ডুল হয়ে যাবে।এ অবস্থায় গত ১০ জুলাই হাইকোর্ট সিআইডিকে তদন্ত থেকে বাদ দিতে রাষ্ট্রপক্ষের লিখিত আবেদন খারিজ করে আগের আদেশ কিছুটা সংশোধন করে দেন। নতুন আদেশে সিআইডিকে ইনভেস্টিগেশন (তদন্তের) এর পরিবর্তে ইনকোয়ারি (অনুসন্ধান) করতে বলা হয়। এই ঘটনায় অনুসন্ধান প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার কথা ছিল সংস্থাটির। কিন্তু সিআইডির ইনকোয়ারি নিয়েও আপত্তি তোলে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ঘটনা থেকে পুরোপুরি দূরে রাখতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। দুদিন শুনানি নিয়ে সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের ওই আবেদন মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম নাজমুল হক তার সঙ্গে ছিলেন। জানতে চাওয়া হলে নাজমুল হক বলেন, এর আগে সিআইডিকে বাদ দিতে রাষ্ট্র পক্ষের করা আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করেছিলেন। আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাই। আপিল বিভাগ আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে সাত খুনের ইনকোয়ারি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির একটি প্রতিবেদন সোমবার এবং র‌্যাবের একটি প্রতিবেদন মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের মহাপরিদর্শকের অপর একটি প্রতিবেদন এখনও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছেনি। আগামী বৃহস্পতিবার এসব অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার কথা রয়েছে।জানা গেছে, সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরির জন্য আরও চার সপ্তাহ প্রয়োজন। এছাড়া র‌্যাবও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরির জন্য এক সপ্তাহ সময় চেয়েছে।গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহরণের শিকার হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে ছিল। পরে এক স্বতঃপ্রণোদিত আদেশে ৫ মে হাইকোর্টের উপরোক্ত বেঞ্চ সিআইডিকেও এই তদন্তের দায়িত্ব দেয়। বলা হয়, মূল তদন্ত ডিবিই করবে, সিআইডি করবে ছায়া তদন্ত। এছাড়া র‌্যাবের কোনো সদস্য জড়িত ছিল কিনা তার বিভাগীয় তদন্তের জন্য র‌্যাবকে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঘটনার সার্বিক তদন্ত করতে বলা হয়।সেই থেকে তদন্ত করে আসছিল সিআইডি। এ অবস্থায় ৪ জুন শুনানিকালে এই সংস্থাটিকে তদন্ত থেকে বাদ দেয়ার জন্য আদালতের কাছে বারবার মৌখিক আবেদন জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

যুবলীগ নেতা খুন রংপুরে তাণ্ডব

রংপুর মহানগরীর সাতমাথা এলাকার এক যুবলীগ নেতা সোমবার মধ্য রাতে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন। একে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার নগরীতে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে তার সমর্থকরা। সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক ভাংচুর ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে তারা। হামলা চালায় শ্রমিক ইউনিয়ন ও ভ্যান মালিক সমিতির কার্যালয় এবং প্যানেল মেয়র ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতার বাড়িতে। খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশ সদস্যরাও তাদের হামলার শিকার হন।
হত্যার শিকার যুবলীগ নেতার নাম ইমরান হোসেন (২৮)। সিটি কর্পোরেশনের পরিবহন টোল আদায়কারী ইজারাদার ছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ইমরানের সহযোগীরা জানান, রাত দেড়টার দিকে ইমরান হোসেন কয়েক সহযোগীসহ মাহিগঞ্জ সাতমাথা এলাকায় একটি হোটেলে খাবার খেয়ে বের হন। গোলচত্বরের কাছাকাছি পৌঁছলে অজ্ঞাত পরিচয় ১০-১২ সশস্ত্র সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। তিনি লুটিয়ে পড়লে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে টহল পুলিশ গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রাত সাড়ে ৩টায় তার মৃত্যু হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ইমরানের সহযোগী ও রাজনৈতিক বন্ধু-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা সকাল ৭টায় সাতমাথা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ঢাকা-রংপুর ও লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধা জেলার সঙ্গে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও পিকআপ ভ্যান মালিক সমিতির সাতমাথা অফিসে হামলা চালায়। এখানে দুটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মিনিবাসে আগুন দেয় তারা।
৮টায় সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে তাজহাটে রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ফরিদা কালামের বাসায় সশস্ত্র হামলা চালায় ইমরানের সমর্থক ও রাজনৈতিক বন্ধুরা। বাড়ির আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ব্যাপক ভাংচুর ও তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তারা নারী ও শিশুদেরও লাঞ্ছিত করে। তবে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান ফরিদা কালাম ও আবদুল মজিদ। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে থাকার ও খাবার মতো কোনো জিনিসপত্র বাসায় অক্ষত রাখা হয়নি।
ঘণ্টাব্যাপী ওই হামলার খবর সংগ্রহ করতে গেলে চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরাপারসন এহসানুল হক সুমন হামলার শিকার হন। তাকে মারধর করে মারাত্মক জখম করে তারা। ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। তাকে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। একই সময় পুলিশের মাহিগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহীনুর রহমান ও কনস্টেবল হাফিজও আহত হন। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর পুলিশ মাহিগঞ্জ সাতমাথা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এ হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বিভাগীয় কমিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য রংপুর বিভাগে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় সকালে। এতে বিভাগের ৬৫টি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকাল ৫টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়।
কে এই ইমরান? : ইমরান হোসেন রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ বীরভদ্র বালাটারী গ্রামের পরিবহন শ্রমিক দুলাল মিয়ার ছেলে। মা নুরজাহান বেগম। ইমরান বর্তমানে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সিটি কর্পোরেশনের পরিবহন টোল আদায়কারী ইজারাদার হিসেবে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় টোল আদায় করে আসছেন। এ ছাড়াও এলাকার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা করে উপকারভোগীদের কাছ থেকে কমিশন নিতেন তিনি। কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, ইমরানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১২টি মামলা রয়েছে।
খুনের কারণ কী? : পুলিশ ও কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। পরিবারের লোকজনও স্পষ্ট করে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। ছয় বন্ধু মিলে ইমরান গত বছর সিটি কর্পোরেশনের টোল আদায়ের ইজারা নেন। এবার এদের মধ্যে দুই বন্ধুকে বাদ দিয়ে ৪ জন মিলে ৪৪ লাখ টাকায় ইজারা নেন তিনি। এ নিয়ে তার ব্যবসায়ী বন্ধুদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়াও চাঁদাবাজি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, একটি সমবায় সমিতির জমি দখল-পাল্টাদখল, পরিবহন থেকে নিয়মবহির্ভূত টোল আদায় নিয়ে তার সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রতিপক্ষ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও রয়েছে বিভিন্নজনের সঙ্গে।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব ঘটনাকে সামনে রেখে তদন্ত করলেই খুনের রহস্য বেরিয়ে আসবে। তাদের মতে, খুনের দেড় ঘণ্টা আগে কোতোয়ালি থানার ওসির কাছে জমিজমা বিষয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন ইমরান। খুনের সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে কিনা সেটিও দেখা উচিত।
কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী জানান, মামলা পাওয়ার পর অভিযোগের সূত্র ধরে এবং তাদের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত শুরু করা হবে।

সাক্ষী রেজিস্টার নেই ২৬ আদালতে

আইনের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও সাক্ষী উপস্থিতির রেজিস্টার রাখে না ঢাকা মহানগরের ২৬ আদালত। অন্য ৩৫টি আদালতে এটি থাকলেও হালনাগাদ হয় না নিয়মিত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাক্ষীদের একরকম জিম্মি করে ফেলেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারি আইন কর্মকর্তা) ও পেশকার। যার কারণে সাক্ষ্য দিতে এসে নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাক্ষীদের। এতে মামলা নিষ্পত্তিতেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। যথাসময়ে বিচারের রায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা।
ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডার (সিআরও) অনুযায়ী, প্রত্যেকটি নিম্ন আদালতে সাক্ষী উপস্থিতির রেজিস্টার বুক থাকা বাধ্যতামূলক। রেজিস্টারে সাক্ষীর নাম ও মামলার নম্বরসহ সতেরটি বিষয় লিপিবদ্ধ থাকার কথা। আর যেসব সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হল না, তাদের নামও লিপিবদ্ধ করতে হবে, যা লিখবেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার। আর সত্যায়িত করবেন বিচারক।এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যেক সাক্ষীকে যাতায়াত ও খাওয়া বাবদ ২০০ টাকা দেয়ার বিধান রয়েছে সিআরওতে, যা রেজিস্টার বুকে উল্লেখ থাকবে। সাক্ষীকে টাকা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আদালতের তহবিলে পাঠানো হয় না কোনো টাকা। এই রেজিস্টার বুক সংরক্ষণ করে সাক্ষীদের প্রাপ্য অর্থ দেয়া হলে, সাক্ষ্য দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠতেন সাক্ষীরা। পাশাপাশি হয়রানি থেকেও মুক্তি পেতেন তারা। কিন্তু উল্টো পেশকার ও পিপিদের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গত এক বছরে ঢাকা মহানগরের ২৬টি আদালত থেকে ১১০৫ জন সাক্ষী ফেরত দিয়েছেন পিপি ও পেশকাররা। আদালতের সমন পেয়ে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন তারা। যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য।জানতে চাইলে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেশকার কাজী নূরে আলম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের আদালতে সাক্ষী উপস্থিতির কোনো রেজিস্টার নেই। আমার জানা মতে, অধিকাংশ আদালতের এটি নেই। তবে এখন থেকে সাক্ষী রেজিস্টার তৈরি করব। তিনি অভিযোগ করেন, সাক্ষী রেজিস্টার ফরম বিজি প্রেসের সরবরাহ করার কথা থাকলেও সেটি তারা করে না।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের নিয়ন্ত্রণাধীন ১৫টি আদালত, ঢাকার ১০টি বিশেষ জজ আদালত এবং ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে সাক্ষী উপস্থিতির কোনো রেজিস্টার নেই। তবে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নিয়ন্ত্রণাধীন ৩৫ আদালতের সাক্ষীর রেজিস্টার রয়েছে, যা নিয়মিতভাবে হালনাগাদ হয় না। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন ও তথ্য বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ১১০৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিতে এলেও তাদের ফেরত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ও পিপি। এদের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্য রয়েছেন ৯৩৯ জন আর সাধারণ সাক্ষী ১৬৬ জন। যাদের নাম সাক্ষী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম কুদ্দুস জামান সোমবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোর সাক্ষী রেজিস্টার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতসহ ২৫টি আদালত সাক্ষী রেজিস্টার ব্যবহার না করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে অবশ্যই আনব। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।সাক্ষীকে ভাতা দেয়া বাবদ আদালতের তহবিল না থাকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সোমবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, যদি প্রস্তাবনা আকারে আদালত আমার মন্ত্রণালয়ে পাঠায় তাহলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সাক্ষী রেজিস্টার প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক রোববার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, সিআরও অনুযায়ী, প্রত্যেকটি আদালতে অবশ্যই সাক্ষী রেজিস্টার থাকতে হবে। কিন্তু আদালতগুলো তা বাস্তবায়ন না করে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা কখনোই কাম্য নয়।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন আনসার সদস্য মো. আব্বাস। তিনি ওই আদালতের দায়রা নম্বর ১১/২০০৯ মামলার সাক্ষী। কিন্তু আদালতের পেশকার ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর তাকে ফিরিয়ে দেন। জানতে চাইলে মো. আব্বাস যুগান্তরকে বলেন, সারাদিন ছিলাম সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। কিন্তু বিকাল বেলায় এপিপি সাহেব আমাকে ফিরিয়ে দেন। একইভাবে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের দায়রা মামলা নম্বর ৫৮০১/২০০৮ মামলায় বংশাল থানার এসআই মতিউর রহমানকে ৩০ সেপ্টেম্বর এবং একই আদালতের দায়রা নম্বর ১৯২০/২০০১ মামলায় পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হায়দারকে ২১ সেপ্টেম্বর ফেরত দিয়েছেন পিপি ও পেশকার।আরও জানা গেছে, ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ৫২/১২ মামলায় ২৭ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দিতে আসেন কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম। কিন্তু তাকে ফেরত দেন পেশকার ও পিপি। আর বিশেষ জজ-২ আদালতের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৮/১১ মামলায় কনস্টেবল আবদুস সাত্তারকে ফেরত দেয়া হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর। ঢাকার চার নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে ৯ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দিতে আসেন কনস্টেবল মফিজ উদ্দিন। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৬৪/১৩ নম্বর মামলার সাক্ষী তিনি। ফেরত দেয়া প্রসঙ্গে এই মামলার সাক্ষী মফিজ যুগান্তরকে বলেন, পিপি সাহেব আমাকে বলেছেন, তার সময় নেই। তাই আমাকে ফেরত দিয়েছেন।জানতে চাইলে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু যুগান্তরকে বলেন, আমাদের পিপিরা তো কোনো সাক্ষী ফেরত দেন না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপিদের বরখাস্ত করা হবে। আদালতগুলোতে সাক্ষী উপস্থিতির কোনো রেজিস্টার ব্যবহৃত হয় না।

চট্টগ্রামে বাংলাদেশের লক্ষ্য ঐতিহাসিক ধবলধোলাই

১৪ পেরিয়ে ১৫-তে পা রাখা এক দস্যি-দামাল কিশোর। তার দস্যিপনায় পর্যুদস্ত (পড়ুন পরাজিত) প্রতিপক্ষ। ঢাকায়, খুলনায় নিরঙ্কুশ জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে, টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে এক ধাপ উপরে উঠে বন্দর নগরীতে এবার জয়ের নোঙর ফেলার অপেক্ষায়। হ্যাঁ, বাংলাদেশ দলের কথাই বলা হচ্ছে। ১০ নভেম্বর টেস্ট ক্রিকেটে ১৪ বছর পূর্ণ হল বাংলাদেশের। ১৪ বছরে গায়েগতরে বাড়-বাড়ন্ত হয়েছে ২০০০ সালের নবজাতক। ৮৭ টেস্ট খেলে আজ চট্টগ্রামে ৮৮তম সাদা পোশাকের ম্যাচ শুরু করতে যাচ্ছে। সামনে নড়বড়ে জিম্বাবুয়ে। সেই প্রতিপক্ষ, নয় বছর আগে যাদের হারিয়ে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নয় বছরে যেভাবে জয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। ২০১৪-র শেষে এসে সেই কিশোর ফিরে পেল তার স্বভাবজাত দস্যিপনা। ২-০-তে তিন ম্যাচের সিরিজ জিতে নির্ভার মুশফিকুররা। চট্টগ্রামে লক্ষ্য ৩-০। জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করা। এখন ‘মিশন পসিবল’। নিজেদের আঙিনায় এই প্রথম তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। ৩-০-তে তা জিতলে সেটি হবে ঐতিহাসিক এক বিজয়। যদিও বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, প্রথম দুটি টেস্টে যতটা সহজে জিতেছেন, চট্টগ্রামে তা হবে না। ভালো খেলার প্রতিশ্র“তি দিয়ে মুশফিকুর চট্টগ্রামেও জেতার ব্যাকুলতা প্রকাশে পিছপা হননি। ব্যক্তিগত অর্জনের দিক দিয়েও আজ তার মুকুটে যোগ হবে আরেকটি পালক। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস করতে নামার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দেয়ার নজির গড়বেন মুশফিকুর। হাবিবুল বাশার ১৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশকে। মুশফিকুরের এটি অধিনায়ক হিসেবে ১৯তম টেস্ট। খেলা শুরু হবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। সরাসরি দেখা যাবে গাজী টিভিতে।
জিম্বাবুয়ে সিরিজ হেরে বসে আছে। চট্টগ্রামে তারা যেকোনো মূল্যে চাইবে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা এড়াতে। কিন্তু চাইলেই তো আর হবে না। সাকিব আল হাসান তাদের সামনে সাক্ষাৎ যমদূত হিসেবে অবির্ভূত হয়েছেন। চাঁটিগার ছেলে তামিম ইকবাল ফিরেছেন ফর্মে।তাইজুল ও জুবায়েরের তেজোদ্দীপ্ত তারুণ্যে আরও শাণিত হয়েছে স্বাগতিকরা। প্রশ্ন শুধু একটাই, আত্মতুষ্টি বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে না তো? চলতি ফর্ম ও ধারাবাহিকতার ট্রেন চট্টগ্রামেও ঠিকমতো চলবে তো? প্রথম দুটি টেস্টে জিম্বাবুয়ের অশেষ দুর্গতির কারণ হয়েছে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ। হ্যামিলটন মাসাকাদজাই একমাত্র স্পিন দেখেশেুনে সামলাতে অভ্যস্ত। বাকিদের অবস্থা তথৈবচ! অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর ঢাকা ও খুলনায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ টেস্টে সফরকারীরা তার কাছ থেকেও প্রতিরোধ প্রত্যাশা করবে। তেমনিভাবে দলে ফেরা ক্রেগ আরভিনের কাছেও সাহায্য প্রত্যাশী কোণঠাসা জিম্বাবুয়ে। ঢাকা ও খুলনায় স্পিনবান্ধব উইকেটে নাভিশ্বাস উঠেছিল টেলরদের। চট্টগ্রামের পিচ পেসার ও স্পিনারদের সমান দৃষ্টিতে দেখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবুও স্বাগতিকরা স্পিন-অস্ত্রেই মেজবানদের শহরে আফ্রিকার দেশটিকে আতিথ্য দেয়ার পক্ষে।বাংলাদেশ দলে শামসুর রহমানের জায়গায় এসেছেন ইমরুল কায়েস। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করবেন ইমরুল। বিশ্রাম দেয়া হতে পারে শাহাদাত হোসেনকে। শফিউল ইসলাম সিরিজে প্রথম একাদশে সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। এনামুল হকের ভাগ্যে এবারও খেলার সুযোগ নেই। খুলনা টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে শুভাগত হোম হাফ সেঞ্চুরি পাওয়ায় সাতে এই ব্যাটিং অলরাউন্ডারের অবস্থানের কোনো হেরফের হচ্ছে না।জিম্বাবুয়ের জন্য ভরসার জায়গা একটাই। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পিচ রানপ্রসবা। এই ভেন্যুতে শেষ দুটি টেস্ট ড্র হয়েছে। গত জানুয়ারিতে সমুদ্র-ঘেঁষা এই ভেন্যুতে ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩১৯) করেছেন কুমার সাঙ্গাকার ড্র হওয়া ম্যাচে। কিন্তু স্বাগতিকদের বয়েই গেছে পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবতে। আÍবিশ্বাস যখন তুঙ্গস্পর্শী, শরীরী ভাষা যখন শাণিত, তখন জয় ছাড়া আর কোনো ভাবনাই কাছে ঘেঁষতে দিতে নেই। ‘টেস্ট সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে থাকার পর খেলতে নামার অনুভূতি দুর্লভ। তবে বাস্তবতায় সিরিজে এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ’, মুশফিকুর রহিমের মন্তব্য সতীর্থদের এই বার্তাই দিচ্ছে যে, পেশাদারি যুগে আত্মতুষ্টির কোনো অবকাশ নেই।

মামলা নেয় না, ঘুষও ছাড়ে না

দোহার উপজেলার ধীৎপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ বোরহান উদ্দিন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা ষাট বছরের এই বৃদ্ধের চার হাত-পা ও মাথায় ব্যান্ডেজ। এক্স-রে রিপোর্টে দেখা গেল তার চারটি হাত-পা-ই ভাঙা। মাথার জখমও গুরুতর। সন্ত্রাসী হামলায় টেঁটা ও লাঠির নির্মম আঘাতে গুরুতর আহত শেখ বোরহানের মুখে কথা নেই ১২ দিন। কিন্তু এ ঘটনায় আজও মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবারটি। বড় ছেলে মো. জালাল মামলা দায়েরের জন্য দোহার থানায় এজাহার নিয়ে গেলেও মামলা নেয়া হয়নি। মামলা রেকর্ড করার জন্য ওসি মাহমুদুল হক তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিমের মাধ্যমে ওসিকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। ঘুষের পরিমাণ বাড়িয়ে এখন আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।
এই হল রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী উপজেলা দোহারের ওসি মাহমুদুল হকের ঘুষ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র। আর এ রকম ঘটনা শুধু এই একটি নয়, প্রতিদিন অহরহ ঘটছে। তার থানায় ঘুষ ছাড়া কিছুই হয় না। আবার রিমান্ডের নামে মারধর বন্ধ করতে তাকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়। ভুক্তভোগীরাসহ এলাকার অনেকে জানিয়েছেন, এই ওসি এখানকার অঘোষিত সরকার। বলা যায়, তার নির্দেশের বাইরে কিছুই হয় না। তিনি কাউকে পাত্তা দেন না। কথায় কথায় নিজেকে সরকারের উপর মহলের খাস লোক বলে পরিচয় দেন। অথচ তার নানামুখী ঘুষ আদায়ের ফাঁদ আর অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। যেখানে মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সন্ত্রাস দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথা, সেখানে দোহারের ওসির অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মোটা অংকের ঘুষ আদায়ের জন্য তিনি এলাকাজুড়ে বিরাট এক মাদক ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট লালন-পালন করেন। জনমনে এসব অভিযোগ ক্রমেই চাউর হচ্ছে। কিন্তু এই ওসি নাকি অধরা, যে কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে পারে না। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষের অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি। ওসির ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগী মুখ খুলতে চান না। দোহার থানা এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কেস স্টাডি ১ : শেখ বোরহানের ছেলে মো. জালালের প্রস্তুতকৃত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর উত্তর মৌড়া গ্রামের আলাউদ্দিন মাঝি, কালু মোড়ল ও মরিচপট্টি গ্রামের কফু মাঝিসহ বেশ কয়েকজন তার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠি, টেঁটা, হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় শেখ বোরহানকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। চিকিৎসরা জানান, বোরহান শেখের মাথায় গুরুতর জখম হওয়ায় তিনি কথা বলতে পারছেন না। আশংকা করা হচ্ছে, তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। এছাড়া তার দুই হাত ও দুই পা ভাঙা, যা সেরে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এমনকি প্রাণহানির আশংকাও রয়েছে এই বৃদ্ধের।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বৃদ্ধ বোরহানের ছেলে মো. জালাল যুগান্তরকে জানান, ঘটনার দিনই তার বাবাকে তিনি নিয়ে থানায় যান। পুলিশ তার বাবাকে দেখে ছবি তুলে রাখে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু মামলা নিতে চায়নি। এরপর সেখান থেকে বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। ১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আবদুল হালিমকে সঙ্গে নিয়ে থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ঘুষ দিয়েও ১১ দিনে তারা মামলা করতে পারেনি। এখন মোটা অংকের টাকা চাওয়া হচ্ছে। সবশেষে মামলা না করার জন্য হুমকি দিচ্ছে। তাদের ধারণা, বড় অংকের ঘুষ পেয়ে পুলিশ এখন আসামি পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মামলার জন্য দোহার থানার ওসিকে ঘুষ দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ৬নং মুকসুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হালিম যুগান্তরকে বলেন, তিনি ২০০৩ সাল থেকে চেয়ারম্যান। তার জীবদ্দশায় বহু ওসি দেখেছেন। কিন্তু মাহমুদুল হকের মতো এত খারাপ পুলিশ অফিসার কখনও দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আমি নিজ হাতে গুনে গুনে ওসিকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছি। অনুরোধ করেছি শেখ বোরহানের ওপর হামলার বিষয়ে মামলা নেয়ার জন্য। কিন্তু ওসি মামলা নেননি। উল্টো বলেছেন, কেস করার ইচ্ছা থাকলে আরও ২ লাখ টাকা নিয়ে আসেন। এক লাখ আমার (ওসির) এক লাখ সেকেন্ড অফিসারের।’ চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমি ওসিকে বলেছি স্যার আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব করেছি। মামলাটা নেন। কিন্তু তিনি মামলা নিচ্ছেন না।’ আবদুল হালিম বলেন, মামলা না নেয়ায় বিষয়টি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমানকে জানিয়েছেন। তিনিও মামলাটি নেয়ার জন্য ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে ওসি জানিয়েছেন কাগজ ও টাকা পাঠান।’ আবদুল হালিম চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘ওসি ঘুষের টাকা হাতে নিয়েই নামাজ পড়তে যান। নিরীহ লোকদের হয়রানি করেন। মাদকের গডফাদারদের ছেড়ে দেন। তার বাণিজ্যের কোনো শেষ নেই।’
কেস স্টাডি ২ : দোহারঘাটা গ্রামের ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর জানান, ২ নভেম্বর তার ছেলে কুয়েত প্রবাসী আরিফ মাহমুদকে সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তার ব্রেসলেট ও দামি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর মামলা করতে গেলে ওসি টাকা দাবি করেন। এ সময় তিনি ওসিকে চার হাজার টাকা ঘুষ দেন। কিন্তু ৮ দিনেও মামলা নেয়নি। এই ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে যুগান্তরকে বলেন, একবারের জন্যও ওসি এলাকায় পুলিশও পাঠায়নি। এতে পুরো পরিবার নিয়ে তিনি আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, এমনও হতে পারে, ওসির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে আমাকে ইয়াবা অথবা গাঁজা দিয়ে উল্টো মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আর না, এলাকার সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’
কেস স্টাডি ৩ : মালিকান্দা বাজারের ফল ব্যবসায়ী আরব আলীর ওপর ২০ সেপ্টেম্বর হামলা করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। আরব আলী মামলা করতে গেলে পুলিশ তার মামলাও নেয়নি। পরে মামলা নেয়ার কথা বলে ওসি ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। এরপর কৌশলে ওসি স্থানীয় লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মীমাংসার কথা বলে বিবাদীর কাছ থেকেও মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন। কিন্তু দেড় মাসে মামলা আর রুজু হয়নি। আরব আলীর টাকাও ফেরত দেননি ওসি।
এদিকে বিলাসপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, বিলাসপুরের বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের বাদীর কাছ থেকে চার্জশিট দেয়ার কথা বলে ৬০ হাজার টাকা নেন ওসি। এখন পর্যন্ত ওই মামলার চার্জশিট দেননি।
স্থানীয় লোকজন যুগান্তরের প্রতিবেদককে জানান, শুধু মামলা দায়ের নয়, কেউ থানায় জিডি করতে গেলেও টাকা চাওয়া হয়। আবার জিডি নেয়ার আগে ওসি প্রতিপক্ষকে থানায় ডেকে আনেন। তার কাছ থেকেও আদায় করেন মোট অংকের টাকা। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে পেন্ডিং ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক বা চুরির মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে দোহার থানায় সাব-ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসেবে যোগ দেন মাহমুদুল হক। ঊর্ধ্বতন একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ১৬ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ৩০ জুন ওসি হিসেবে এখানে পদোন্নতি পান। আর যোগ দিয়েই তিনি নেমে পড়েন বাধাহীন ঘুষ বাণিজ্যে। তার এই ঘুষ বাণিজ্যের দৌড়ে থানার অধীনস্ত এসআই, এএসআই, ফাঁড়ির পুলিশ ও সোর্সরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। যে এসআই বেশি টাকা দেন তাকেই পছন্দ ওসির। গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ওই এসআইকে দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার একজন এসআই যুগান্তরকে বলেন, ‘ওসি সাহেবের চাহিদা মেটানো অসম্ভব। প্রতিদিনই তাকে টাকা দিতে হয়। ফলে এসআইরা বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে টাকা আদায় করেন।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসি মাহমুদুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে মঙ্গলবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘যাদের মামলা নেয়া হয়নি তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিন আমি মামলা নিয়ে নেব।’

ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষ অস্ত্রের মহড়া

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিতরণকালে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের ডিগ্রি শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ অস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়। এতে ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকায় আতংক
ছড়িয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ভিক্টোরিয়া কলেজের ডিগ্রি শাখায় ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিতরণের সময় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় ক্যাম্পাসে ৮-৯ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। হামলার সময় কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে।কুমিল্লা কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, ভিক্টোরিয়া কলেজে দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ আহত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।

২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও

গ্রাহকদের ২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে এহসান এস সংস্থা নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এতে তৃণমূলের ১২ হাজার গ্রাহক তাদের ১৪ বছরের সঞ্চয় হারিয়ে পথে বসেছেন। প্রতারকরা সটকে পড়ার আগে তাদের সব অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। যশোরে প্রতিষ্ঠিত এহসান এসসহ তিনটি কোম্পানি বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই বিপুল অংকের টাকা সংগ্রহ করেছিল।
দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা একটি গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তদন্ত শেষে গত ৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যুবক ও ডেসটিনির মতো স্থানীয় প্রশাসকের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য তারা সুপারিশ করেন। এছাড়া, এহসান সোসাইটি, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লি. এবং এহসান ইসলামী মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করে সংস্থাটি।
এ প্রসঙ্গে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি সমবায় অধিদফতরের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। তাদের আর্থিক হিসাব আমাদের কাছে আছে। তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটির বাইরে যদি কর্মকর্তারা আর্থিক লেনদেন করে থাকেন সেটির হিসাব আমাদের কাছে নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের বিপুল অংকের টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত এহসান সোসাইটি লি., এহসান রিয়েল এস্টেট কোং লি. ও এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. নামের এই তিনটি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাওলানা আইয়ুব হোসেন, মুফতি ইউনুস আহমেদ, মাওলানা জুনায়েত আলী, মাওলানা আতাউল্লাহ, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা মো. হালিম, মাওলানা শামছুজ্জামান টিটু ও মনিরুল ইসলাম। গত কয়েক মাস ধরে এদের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না, তারা আত্মগোপন করেছেন। গ্রাহকদের ২ হাজার কোটি টাকা সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুফতি ইউনুস আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুনায়েত আলী ও নির্বাহী সদস্য মাওলানা আতাউল্লাহসহ যশোর শাখার চিফ জোনাল ম্যানেজার খবিরুজ্জামান ভাগাভাগি শেষে আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এহসান সোসাইটির সর্বসাকুল্যে ৫১ কোটির টাকার সম্পদ আছে। এই সম্পদ বিক্রি করেও গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। যশোর জেলা সমবায় অফিস সূত্র জানায়, এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড সমবায় অধিদফতরের একটি নিবন্ধিত সমিতি। ২০১৩ সালের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ২৯ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে জমি প্রকল্পে ২১ কোটি ২৩ লাখ, ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান ৩১ লাখ টাকা, ধার পাওনা ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। গ্রাহকদের বিনিয়োগকৃত টাকা ২৬ কোটি ৯৩ লাখ ও শেয়ার মূলধন বাবদ ৬৯ লাখ টাকা এবং বাকি টাকা অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই কোম্পানির গ্রাহকের সংখ্যা ১ হাজার ৮৪ জন। এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা সমবায় অধিদফতরে নিবন্ধিত। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু এহসান এস জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে নিবন্ধন নেয়া। অপর প্রতিষ্ঠানটির কোনো নিবন্ধন নেই বলে জানা গেছে। সমবায় অধিদফতর শুধু তাদের কাছে নিবন্ধিত সংস্থার দায়িত্ব নেবে, অন্য দুটির নয়। কাজেই ওই দুই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের টাকা ফেরত পাওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০১ সালে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা কৃষি ব্যাংকের সাবেক এজিএম কাজী রবিউল ইসলাম এহসান এস সংস্থা নামের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এটি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও ফার্মগুলো থেকে নিবন্ধন নেয়া হয়েছে। নিবন্ধন নম্বর হচ্ছে এস-৩২১১ (জে-৭৬) ২০০৩। এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলেন এহসান রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, ইসলামিক শরিয়া ভিত্তিক এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি।
জানা গেছে, মাওলানা জুনায়েত আলী ও মাওলানা রবিউল ইসলামিক শরিয়া ভিত্তিক এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি পরিচালনা করেন। তারা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কোরআন ও হাদিসের নানা আয়াত তুলে প্রচার চালান। এভাবে কোরআন-হাদিসের ব্যাখ্যা দিয়ে তারা টার্গেট গ্র“পকে আয়ত্তে নিয়ে আসেন। তাদের প্রচারণায় বলা হয় দেশের প্রচলিত ব্যাংক ও বীমা সুদের ব্যবসা করে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থলগ্নি করে মুনাফা ভোগ করা সুদ খাওয়ার মতোই হারাম। শরিয়া মোতাবেক জীবনযাপন করতে তাদের প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এভাবে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক বছর মেয়াদি প্রতি লাখের জন্য এক মাসে ১৪শ’ টাকা, ২ বছর মেয়াদে প্রতি লাখে মাসে ১৫শ’ টাকা এবং তিন বছর মেয়াদে আমানতকারীকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকায় ১৬শ’ টাকা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে সঞ্চয় সংগ্রহ করে। গ্রাহকের এই অর্থ দিয়ে ১৫ শতাংশ নগদ ঋণ সহায়তার মাধ্যমে জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হয়।
এহসান সোসাইটির মাধ্যমে ৮ থেকে ১০ বছর মেয়াদি ডিপিএস প্রকল্পের নামে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে একজন গ্রাহকের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত কিস্তি সংগ্রহ করা হয়। আবার এই কিস্তির অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের কাছে ১৫ শতাংশ সুদে পুনরায় ঋণ দেয়া হয়। এভাবে ১০ হাজার গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে এহসান সোসাইটি (যশোর জেলা) প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা মো. আয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহারের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এই কোম্পানির তৃতীয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। গ্রাহকদের বইয়ে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা দেয়া হয়েছে ঢাকার উত্তরার ৯-সেক্টর, বাড়ি ৩৯, রোড-৭/ডি। এই কোম্পানির মাধ্যমে গ্রাহকরা শুধু প্লট, ফ্ল্যাট ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করেছে। এক বছর মেয়াদি প্রতি লাখের জন্য এক মাসে ১৪শ’ টাকা, ২ বছর মেয়াদে ১৫শ’ টাকা এবং তিন বছর মেয়াদে আমানতকারীকে ১৬শ’ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সঞ্চয় সংগ্রহ করে। এর গ্রাহক সংখ্যা এ পর্যন্ত ৯শ’ দাঁড়িয়েছে। কোম্পানি গ্রাহকদের বইয়ে তিনটি মোবাইল ফোনের মধ্যে একটি খোলা পাওয়া গেছে। এই ০১৭১১১৪ক্স৭ মোবাইল নম্বরধারী ফোনে নাম প্রকাশ না করে প্রতিষ্ঠানের শাখা নিয়ন্ত্রক ছিলেন বলে নিজেকে দাবি করেন। তিনি জানান, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় দুই বছর আগে রিয়েল এস্টেট ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি একজন শেয়ার সদস্য ছিলেন। বর্তমানে এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। তিনি আরও বলেন, যশোরে এহসান রিয়েল এস্টেটের ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার সম্পদ আছে। হাজার কোটি টাকার হিসাব সঠিক নয়।
যশোরের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রতিনিধি মফিজুল ইসলাম ইমন বলেন, তার লগ্নিকৃত টাকার পরিমাণ এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে ৫ লাখ টাকা, এহসান রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি অভিযোগ করে বলেন প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তারা অফিস ও মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিয়েছে। তিনি ঢাকায় গিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তারা ইমনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যশোর ব্যুরো : এহসান সোসাইটির প্রতারণায় ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে কয়েক হাজার গ্রাহক। তাদের লগ্নি করা টাকা ফেরত দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহকদের দাবি প্রতিষ্ঠানগুলো এ অঞ্চলের অন্তত দশ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছে। তারা অফিস খুলছে না। আত্মগোপনে থেকে গ্রাহকদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এহসান সোসাইটির একাধিক প্রতিষ্ঠানের সর্বসাকুল্যে একান্ন কোটির টাকার সম্পদ আছে। বাকি টাকা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেছে। টাকা ফেরতের দাবিতে বুধবার যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা।
খোলাডাঙ্গা এলাকার কোহিনুর বেগম জানান, এলাকার মসজিদের ইমাম আজাহারুলের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দিয়েছি। এখন আর ফেরত দিচ্ছে না। আশ্রম রোডের সেলিনা পারভীন বলেন, আতাউল্লাহসহ কর্মকর্তারা তাবলীগ চিল্লায় গিয়ে মানুষকে নানা কথা বলে টাকা নিয়েছে। এখন আর ফেরত দিচ্ছে না। তিনিও দশ লাখ ত্রিশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে জানান। বারান্দীপাড়ার বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, এক লাখ টাকায় মাসে ১৬শ’ টাকা মুনাফা দেয়ার কথা। প্রথম ক’মাস দেয়ার পর কোম্পানির লোকজন টাকা দেয় না। চাইতে গেলে নানা টালবাহানা করে। জমি বিক্রি করে টাকা দিয়ে এখন পথে বসেছি। তারা গ্রাহকের টাকায় ৭০-৮০ হাজার টাকা দরে প্রতি কাঠা জমি ক্রয় করেন। এখন সেই গ্রাহককে তিন থেকে চার লাখ টাকা দরে জমি দেবে বলে জানায়। এতে আপত্তি করলে অফিস থেকে জানানো হয় বেশি বাড়াবাড়ি করলে টাকা জমি কোনোটাই দেয়া হবে না।

সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশের তালিকায় ৭৩ মাদক ব্যবসায়ী by বিল্লাল হোসেন রবিন

সিদ্ধিরগঞ্জের মাদকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ২ শতাধিক ছোট-বড় মাদক ব্যবসায়ী। তবে পুলিশের খাতায় নাম রয়েছে মাত্র ৭৩ জনের। এসব মাদক ব্যবসায়ী কেউ ইয়াবা, কেউ হেরোইন, কেউ ফেনসিডিল, কেউ গাঁজা ও মদ বিক্রি করছে। এমনিতে পুলিশ তাদের কিছু বলে না, তবে মাসোহারায় হেরফের হলেই মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালায়। এ অভিযোগ খোদ মাদক বিক্রেতাদের। একাধিক মাদক ব্যবসায়ী জানায়, সাংবাদিকরা লেখলে কি হবে, বিক্রি তো আর বন্ধ হবে না। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের মাসোহারার ‘রেট’ বরং বৃদ্ধি পাবে। তবে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মাদকের আস্তানায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এক দারোগার তৎপরতা মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে তুলেছে। ওই দারোগা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে প্রিয় লোক হিসেবে ইতিমধ্যে জায়গা করে নিলেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের পর সিদ্ধিরগঞ্জের মাদকের স্বর্গরাজ্য শিমরাইল ট্রাক টার্মিনাল এলাকা থেকে নুর হোসেনের মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। ওই আস্তানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মাদক ব্যবসায়ীরা। এদিকে মাদকের ভয়াবহতায় নিজেদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়।  ১০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে সংরক্ষিত ৩ জন নারী কাউন্সিলরও রয়েছেন। কিন্তু মাদকের থাবায় এলাকার যুব সমাজ আক্রান্ত হলেও এই ১৩ জন জনপ্রতিনিধির যেন কিছুই করার নেই।

পুলিশের তালিকায় ৭৩ জন যারা-
সূত্রমতে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীর ৭৩ জন। তাদের মধ্যে সেভেন মার্ডারের প্রধান আসামি নুর হোসেন ও তার ভাই নুরু মিয়া পালিয়ে যায়। বাকিরা হচ্ছে- তাসলিমা, সলিমা, শমসেরের ছেলে আলী নূর, আলী আহম্মদ, আলমগীর, আফানুর, তকলিক, মজিবুর, কাজল ভা-ারী, শাফি, কামাল, জাকির হোসেন, সারেং, জুলহাস, মতিন, সালমা, জয়নব, রাজীব, জলিল, ডাকাত সরল, বাক্কু, আমির হোসেন মেঙ্গা, রিয়াজ ভূঁইয়া, ইসলাম, নজরুল, আনু, খোকন, আলী, আয়েশা, সাধু, সাজু, জায়েদুল, মজিবুর, শরীফ, ফারুক, জহুরা আক্তার কালী, শাহাবুদ্দিন, সাহাবুদ্দিন, আলমগীর, মিজান, বাশার, হাবিব, আলম, নাজমা আক্তার নাজু, রোস্তম আলী, সাবেদ আলী, জেসমিন, মর্জিনা, আবদুর রহমান, দিলি, সালাউদ্দিন, সেলিম, আরিফ, শিপন, লিটন, নূর শিপন (গ্রেপ্তার), বানেছা, ইসমাইল, সোহেল, সৈয়দ মিয়া, মোস্তফা, আলমগীর, স্ত্রী, শাহীন মোল্লা  (গ্রেপ্তার), সামসিন মোল্লা, আলীম, কিলার জসিম, আলমগীর, নাসু, হাজুরী, রুবেল, পারভেজ, রূপচান, রুবেল, আব্বাস, লাকী আক্তার, রাজিব, আলাউদ্দিন প্রমুখ। তালিকাভুক্ত এসব মাদক ব্যবসায়ী ফেনসিডিল,  হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসা চালাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা এলাকার অসংখ্য মাদক সম্রাট ও পরিচিত মাদক বিক্রেতাদের নাম পুলিশের তালিকাভুক্ত হয়নি। বড় বড় মাদক সম্রাটের নাম তালিকায় স্থান না পাওয়া রহস্যজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
 যে সব মাদক সম্রাট ও ব্যবসায়ীদের নাম পুলিশের তালিকায় ওঠেনি স্থানীয়দের সূত্রমতে তারা হলো- কালা নাসির, মখলেছ, বাবুল, সাইদুল, ইমু, হেলেনা, সালমা, সাহিদা, নুরুন্নাহার, নুরজাহান, বক্কা, মোস্তফা, জাহাঙ্গীর, ল্যাংড়া মোক্তার, কামাল, খলিল, রূপা, চান মিয়া, সুমী, নাজমা, নাসিমা, সুমন, রুবেল, সেলিম, মহিন, বাবু, ছোটন, রিয়াজ, হাসনাত, তরিকুল, আবুল, মুন্না, শাহ আলম, মোস্তফা, মিলন, ফয়সাল, আসলাম, মঞ্জু, কবির, মোক্তার, নুরা, গিয়াস উদ্দিন, টুন্ডা রুস্তম, পরশ, খুনি মোস্তফা, ডাকাত সামছু, ফারুক, মাসুদ রানা, কাঁচপুর সেতু এলাকার রুবেল, নুরু মোল্লা, আনোয়ার, হিরা, মজনু, মনির, আলামিন,  কুট্টি, কুদ্দুছ, কানা শাহিন, বদরউদ্দিন, মাজেদা, সোহেল, ফিরোজ, শরীফ, সক্কু, চুইল্লা সেলিম, মনু, রহমান, কাদির, ডলার, কনক, বাবু, আব্দুল মান্নান, শামীম, শাজাহান, জিল্লুর রহমান, কাইল্লা লুৎফর, শহিদুল্লাহ, আবুল হোসেন, মাসুদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, টুন্ডা সেলিম, আমির হোসেন, তমু মুন্সীর হানিফ, মোটা আলমগীর, শিউলি, মনজু মিয়া, দীপালি, সহযোগী শাহানাজ, ইতি আক্তার, আসলাম, কুট্টি, শাহিদা, শাহাদাত, খোকনী, শহীদুল্লাহ, নবী, খোকন মোল্লা, কালা মানিক, কেটু সুমন, আরিফ, দেলোয়ার হোসেন দেলু, মাসুম, রাজন, হাজেরা, টেগরা মতি, ভোলি, কালো, ডলি, আসগর, দুখিনী, বাবু, জোসনা, মুন্না, আরমান, রাবেয়া, রহমত, আজগর, আবুল কাশেম, আরিফ, মোহাম্মদ আলী, শুভ, আল আমিন, রাজু, আবদুল জব্বার, দেলু, জালাল, আল আমিন প্রমুখ। অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো রোড ও বাগানবাড়ি এলাকার মাদক স্পটসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় মাদক স্পটে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই দারগার। তার সঙ্গে আরও কয়েক জন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন মাদক স্পটে যাতায়াত করে। ফলে ওই সব স্পটের মাদক ব্যবসায়ীরা দম্ভের সহিত বলে বেড়ায় পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই ব্যবসা করছি। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে  রোববার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই মনসুর আলী আরিফের মোবাইলে ফোন করলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।

অভূতপূর্ব মানবিকতা

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় বিদেশ পাড়ি দিতে যাওয়া অভিবাসীদের জীবন বাঁচাতে অনন্য এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এক দম্পতি। লাখ লাখ ইউরো খরচ করে তারা বাঁচিয়েছেন তিন হাজার মানুষের জীবন। বিবিসির ম্যাগাজিন ‘মনিটর’-এ এ নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দম্পতির ৬০ দিনের মিশন কিভাবে শেষ হয়েছিল, আর এর মধ্য দিয়ে তারা কি অর্জন করেছেন, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন বিবিসি’র অ্যালিসন গি। আলাপচারিতায় উঠে এসেছে অসাধারণ এক মানবতার গল্প। বিপদগামী অভিবাসীদের সহায়তার জন্য মাইগ্রান্ট অফশোর এইড স্টেশন (মোয়াস) স্থাপন করেছেন ক্রিস্টোফার কাত্রাম্বোনে। এতে তাকে সহায়তা করেছেন তার স্ত্রী রেজিনা এবং কন্যা মারিয়া লুইসা। ক্রিস্টোফার বলেন, আমরা কমপক্ষে ৩ হাজার নারী-পুরুষ, শিশুকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পেরেছি। আর তা না হলে হয়তো তাদের জীবন বিপন্ন হতো। তিনি আরও বলেন, একেকটি নৌকায় যাত্রীর সংখ্যাতেই তিনি হতবিহ্বল। অনেককে নৌকার নিচের ডেকে ঠেলে পাঠানো হয় যেখানে ডুবে যাওয়া এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার সবথেকে বেশি ঝুঁকি থাকে। আপনি যদি কাছ থেকে না দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন তা এ নৌকাযাত্রা কতটা ভয়াবহ। ফিলিস্তিনি এক বয়স্ক নারীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, নৌকাযাত্রার খরচ যোগাতে সে তার যাবতীয় সহায়-সম্বল মাত্র ১৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। সিরিয়ার অপর এক বয়স্ক দম্পতিকে তাদের জীবনের সন্ধিক্ষণে প্রিয় শহর আলেপ্পো ছাড়তে হয়। ক্রিস্টোফার বলেন, কেমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে তারা নিজেদের পরিবারকে এমন বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দিয়েছে তা অনুধাবন করাটাও কঠিন। এক অর্থে তারা সৌভাগ্যবানদের দলে। এ যাত্রার খরচ যোগানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের ছিল। এদের অনেকে পেশাদার জীবনে ছিলেন- শিক্ষক, প্রকৌশলি এবং আইনজীবী। মোয়াস কিছুসংখ্যক অভিবাসীকে ইতালির নৌবাহিনী এবং কার্গো জাহাজে হস্তান্তর করতে সহায়তা করেছে। বাকিদের সংস্থাটির নিজস্ব জাহাজ ফিনিক্সে স্থান দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইতালি। ক্রিস্টোফারের সহধর্মিণী রেজিনা জানালেন তার সবথেকে বেশি মনে থাকবে শিশুদের কথা। তিনি বলেন, আমরা কিছু খেলনা পেয়েছিলাম অনুদানে। সেগুলো বাচ্চাদের হাতে তুলে দেয়ার পর তাদের চেহারায় যে হাসি ফুটেছিল তা অমূল্য। রেজিনা আরও বলেন, বাচ্চারা কিন্তু জানে না এ যাত্রায় কি ঘটছে। যখন আপনার চারপাশে এতগুলো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চেহারায় দুর্দশার স্পষ্ট ছাপ তখন তিন বছরের একটি বাচ্চার হেসেখেলে বেড়ানোর দৃশ্য দেখতে অনেক ভাল লাগে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দেয়া অভিবাসীদের সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার। জুলাই ও সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে কমপক্ষে ২২০০ মানুষ মারা গেছেন। বিপদগামী এসব অভিবাসীর পাশে দাঁড়ানোর মহৎ মিশনে মাল্টার কাত্রাম্বোনে দম্পতি নিজেদের পকেট থেকে খরচ করেছেন প্রায় ১৬ লাখ ইউরো। আগামী বছর আবারও সাগরে তাদের জাহাজ ভাসানোর জন্য এ দম্পতি এখন পর্যাপ্ত তহবিল গঠনের চেষ্টা করছেন।

সিলেট ও রংপুরে যাত্রীদুর্ভোগ চরমে -দিনভর ধর্মঘট, সন্ধ্যায় প্রত্যাহার

সিলেট ও রংপুরে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাত দফা দাবিতে সিলেট বিভাগ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্যপরিষদ ধর্মঘটের ডাক দেয়। অপরদিকে রংপুরে একজনের মৃত্যু ও এর জের ধরে পরিবহন নেতার বাসায় হামলার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছিল।

>> দিনভর পরিবহন ধর্মঘটে অচল সিলেটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন -নিজস্ব ছবি
সিলেট অফিস জানায়, ১২ ঘণ্টা পর সিলেট বিভাগে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক সমঝোতা বৈঠকে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়। বৈঠক শেষে সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলে ধর্মঘট স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি জানান, আজ থেকে ঘোষিত দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এ কারণে ধর্মঘটী শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সাত দফা দাবিতে সিলেটে আন্দোলন চালিয়ে আসছে সিলেট বিভাগ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্যপরিষদ। একই দাবিতে ১৫ দিন আগে তারা সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করেছিল। ওই সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছিল। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের পর সেটি কার্যকর করার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ কারণে ফের ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছিল। ওদিকে, শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণার পর সোমবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু মালিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, ওই বৈঠক সম্পর্কে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে কোন চিঠি চালাচালি করা হয়নি। এ কারণে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে যোগ দেননি। এর প্রেক্ষিতে গতকাল সকাল থেকে সিলেট বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করা হয়েছিলো। ধর্মঘট চলাকালে সকাল ১০টায়  শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সিলেট থেকে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ কারণে লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নগরীতে যথারীতি সিএনজি অটোরিকশা চলছে। সিলেট বিভাগীয় মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জমির মিয়া জানিয়েছেন, সিলেট জেলায় শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। শ্রমিকরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করছে। তিনি বলেন, ৭ দফা আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। এদিকে পরিবহন ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছিল সিলেট বিভাগ। এতে যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। আগে থেকে বুকিং করে রাখা গ্রিনলাইন সহ বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক বাস সার্ভিসের টিকিট ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সিলেট থেকে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ছেড়ে গেছে। সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ  ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢালাওভাবে সিএনজি অটোরিকশা ও হিউম্যান হলারের রোড পারমিট বন্ধ, অটোরিকশার সামনের সিটে যাত্রী পরিবহন বন্ধ, অটোরিকশার চালকের উভয়ের পাশে গ্রিলের বেষ্টনীর ব্যবস্থা, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চলাচল বন্ধ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও গাড়ি রিক্যুইজেশনের নামে হয়রানি বন্ধ করা। সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জানিয়েছেন, গতকালের বৈঠকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসান, ডিসি শহিদুল ইসলাম ছাড়াও অপর তিন জেলার জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মালিক- শ্রমিক ঐক্যপরিষদের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব ক’টি দাবি পূরণে তারা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এদিকে, সিলেট জেলা অটোটেম্পো ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি  মো. জাকারিয়া জানান, ধর্মঘটে সিএনজি অটোরিকশা যথারীতি চলাচল করছে। কেউ এতে বাধা দিলে তাদের প্রতিহত করা হবে। তিনি জানান, যাত্রীদের জিম্মি করে অযৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, সিলেটে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও যথারীতি সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অটোটেম্পো চলাচল করছে।  যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, টোল আদায়কারী ইমরান মোটর শ্রমিকদের হামলায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর উত্তপ্ত রংপুরের পরিস্থিতি। আধিপত্য বিস্তার এবং টোল আদায়কে কেন্দ্র করে মোটর মালিক ও মোটর শ্রমিকদের বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকা- হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মাহিগঞ্জ সাতমাথায় মোটর মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের দু’পক্ষের লাঠি, ছোরা, রামদা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিক, পথচারী, পুলিশসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় রংপুর নগরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সহিংসতা এড়াতে মোড়ে মোড়ে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। তবে সন্ধ্যায় তা আবার প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান মিয়াকে সোমবার রাত ৩টার দিকে সাতমাথা এলাকায় ৮-১০ জন সন্ত্রাসী হামলা করে। এ সময় চাপাতির কোপে ইমরানের দু’হাত অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিক্ষুব্ধরা মিছিল নিয়ে সাতমাথা থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে তাজহাট এলাকায় অবস্থিত পরিবহন শ্রমিক ফেড়ারেশনের রংপুর বিভাগীয় এবং মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। মজিদের ভাবি রংপুর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ফরিদা কালামের বাড়িও ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ইমরান হত্যার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকরা সকাল ৭টায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় ১০টি বাস, ৫টি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সংবাদ পেয়ে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পদক এমএ মজিদের সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালায়। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যবসা, বাণিজ্য, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে মানুষজন। দফায় দফায় চলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিস ছুটে আসে। এসব দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করার সময় চ্যানেল আই’র ক্যামেরাম্যান এহসানুল হক সুমনের ওপর শ্রমিক নেতা মজিদের সমর্থক একদল সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এ সময় তার কাছ থেকে ক্যামেরা, লাইট, মোবাইল ফোন এবং টাকা নিয়ে যায় তারা। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে নেয়া হয়। মালিক-শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রমিকরা রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করে।
এদিকে সংঘর্ষের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করার সময় চ্যানেল আই’র ক্যামেরাম্যান এহসানুল হক সুমন ও যুগান্তরের ক্যামেরাম্যান সাঈদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, ক্যামেরা ও ছিনিয়ে নেয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। এ সময়ের মধ্যে প্রশাসন সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারসহ ক্যামেরা ও ছিনিয়ে নেয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানানো হয়।