Tuesday, April 5, 2016

রাউলের ৭ চান রোনালদো

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে গিয়ে শুরুতে ৭ নম্বর জার্সিটা গায়েই তুলতে চাননি। পরে সম্ভাবনাময় তরুণ থেকে খ্যাতির চূড়ায় ওঠেন ওই জার্সি গায়েই। এবার বর্তমান ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদেও ৭ নম্বর জার্সিটা চাইছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১৪ বছর ধরেই রিয়ালের ৭ নম্বর জার্সিটা রাউল গঞ্জালেসের সম্পত্তি। কিন্তু রিয়ালের সঙ্গে রাউলের ১৬ বছরের বন্ধন শেষ হতে যাচ্ছে এ মৌসুমে। রিয়ালের হয়ে প্রথম মৌসুমেই যা পারফরম্যান্স, তাতে রোনালদোর চাওয়া পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
২০০৩ সালে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং থেকে রোনালদোকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিয়ে আসেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। ১৮ বছরের তরুণের গায়ে চাপিয়ে দেন জর্জ বেস্ট, এরিক ক্যান্টোনা, ডেভিড বেকহামদের ৭ নম্বর জার্সি। জার্সিটার ওজনের কথা ভেবেই রোনালদো চেয়েছিলেন ২৮ নম্বর জার্সি, ফার্গুসন একরকম জোর করেই জার্সিটা চাপিয়ে দেন তাঁর গায়ে। পরে এই জার্সি গায়েই জিতে নেন ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার। রিয়ালে এই জার্সি পাওয়ার সুযোগ ছিল না, ক্লাবের ঘরের ছেলে রাউলের সম্পত্তি ছিল সেটি। রোনালদোকে দেওয়া হয় ৯ নম্বর জার্সি, ‘সি আর ৯’ জার্সির লাখ লাখ কপিও বিক্রি করেছে রিয়াল।
তবে ঘরের ছেলের পর হয়ে যাওয়াটা এখন প্রায় নিশ্চিত। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও ৩৩ বছর বয়সী রাউলের সঙ্গে জার্মান ক্লাব সালকে জিরো ফোর-এর দুই বছরের চুক্তি নাকি নিশ্চিত হয়ে গেছে। ১৯৯৪ সালে ক্লাবের ‘সি’ দলে অভিষেক, এরপর ‘বি’ দল হয়ে ওই মৌসুমেই মূল দলে অভিষেক হয়ে যায় ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে। ধীরে ধীরে রাউল হয়ে উঠেছেন রিয়ালেরই সমার্থক। ক্লাবের হয়ে জিতেছেন ছয়টি লা লিগা ও তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। বছর সাতেক ধরে দলের অধিনায়কও তিনি। তবে বয়সের ভারে ধার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন, হারিয়ে ফেলেছেন সেরা একাদশে জায়গাটাও। গত মৌসুমে ৩০ ম্যাচে গোল করেছেন মোটে সাতটি।
ক্রীড়া পত্রিকা এএস জানিয়েছে, ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখার আয়োজন করছে রিয়াল। ২৪ আগস্ট বার্নাব্যুতে একটি প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হচ্ছে, যেটায় রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ হতে পারে রাউলের নতুন ক্লাব সালকে জিরো ফোর অথবা বিশ্ব একাদশ। দুই অর্ধে দুদলের হয়ে খেলবেন রাউল। ম্যাচটি খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে লিওনেল মেসি, ডিয়েগো ফোরলান, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার, আরিয়েন রোবেন, ওয়েসলি স্নাইডার, কার্লোস পুয়োল ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে।
স্পেনের আরেক ক্রীড়া দৈনিক মার্কা জানিয়েছে, এই ম্যাচেই আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হতে পারে ক্লাবের আরেক ঘরের ছেলে গুতিকেও। রাউলের সঙ্গেই রিয়াল ক্যারিয়ার শুরু করা গুতির ১৪ নম্বর জার্সিটা আবার পেতে চান জাবি আলোনসো। স্পেন জাতীয় দলে ১৪ নম্বরই পরেন আলোনসো, পরতেন সাবেক ক্লাব লিভারপুলেও। গুতির জন্য রিয়ালে তাঁকে পরতে হচ্ছে ২২ নম্বর।

এসপি হলেন বাবুল আক্তার, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দেশ সেবার প্রত্যয়

পুলিশ বিভাগের সাহসী ও মেধাবী হিসেবে সবমহলে প্রশংসিত কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বিপিএম, পিপিএম (বার) এবার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাবুল আক্তারসহ ৭০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেলেন।
সন্ত্রাস বিরোধী একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে চীনে রয়েছেন বাবুল আক্তার। সেখানে এই পদোন্নতির খবর পাওয়ার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বাংলানিউজকে বলেছেন, ‘শেষ নিঃশ্বাসটি পর্যন্ত দেশের সেবা করে যেতে চাই।’
বাবুল আক্তার সর্বশেষ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদে উত্তর-দক্ষিণ জোনে কর্মরত রয়েছেন।
সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আর সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন বলেই অল্প সময়ের এ চাকরিজীবনে একবার পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল-বিপিএম (সাহসিকতা), দু’বার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম), একবার আইজি ব্যাজ ও চারবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন বাবুল আক্তার।
২৪তম বিসিএস থেকে পুলিশ বিভাগে যোগ দিয়ে ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে সাহসী অফিসার হিসেবেই সুনাম কুড়ান বাবুল আক্তার।
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তি মিশনেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 
২০০৫ সালে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মোজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সিরিজ বোমা হামলায় কেঁপে উঠেছিল চট্টগ্রাম। এরপর চট্টগ্রাম আদালত ভবনেও দফায় দফায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছিল জেএমবি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি জঙ্গি আস্তানারও সেসময় সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ।  কিন্তু গত সাত-আট বছরে জেএমবির দৃশ্যমান কোন কর্মকাণ্ড না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়েছিল উগ্রপন্থী এ সংগঠনটি নির্মূল হয়ে গেছে। 
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে জেএমবি ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে আবারও নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছে।  চট্টগ্রামে ল্যাংটা ফকিরকে কুপিয়ে খুন, ছিনতাই করতে গিয়ে ব্যবসায়ীকে বোমা মেরে হত্যার মতো সহিংস ঘটনা জেএমবি ঘটিয়েছে। 
তবে জেএমবি শক্ত ঘাঁটি গড়ে বড় কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর আগেই তাদের সংগঠিত উত্থান ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর থেকে হাটহাজারীর আমানবাজার পর্যন্ত জেএমবির আস্তানা খুঁজে তাদের উত্থান ঠেকানোর নেপথ্যে ছিলেন একজন আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার। ‘অপরাধীদের আতংক’ হিসেবেই সারাদেশে যার পরিচিতি।
চট্টগ্রামে জেএমবির উত্থান এবং সেটা ঠেকানোর জন্য বাবুল আক্তারের ভূমিকা ২০১৫ সালের শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে গণমাধ্যমে স্থান পেয়েছিল।
বাবুল আক্তার এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে বলেছিলেন, সদরঘাটে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা অনুসন্ধান করতে নেমে জেএমবির সন্ধান পেয়েছি। এরপর তাদের দু’টি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে আট জঙ্গিকে।  জেএমবির অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য আমরা উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। 
২০১৪ সালের ১৪ জুলাই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দিয়ে দক্ষিণ সুদান গিয়েছিলেন চৌকস এই পুলিশ কর্মকর্তা।  ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন।  পুলিশ সদর দপ্তরে যোগদানের পর ২৭ আগস্ট বাবুল আক্তারকে পাঠানো হয় সিএমপিতে।  আবারও নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার পদেই বসানো হয় তাকে।
২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বাংলাবাজারে মাজারে ঢুকে ল্যাংটা ফকির ও আব্দুল কাদের নামে দু’জনকে নৃশংসভাবে জবাই করে খুন করা হয়। 
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাটে সত্যগোপাল ভৌমিক নামে এক ব্যবসায়ী ছিনতাইকারীদের বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।  নিজের ছোড়া বোমার আঘাতে দুই ছিনতাইকারীও মারা যায়।
দু’টি ঘটনা কোনো জঙ্গি সংগঠন ঘটাতে পারে এমন ধারণা পুলিশ কর্মকর্তাদের ছিল না। শুধু একজন বাবুল আক্তার শুরু থেকেই জঙ্গিদের টার্গেট করে অনুসন্ধানে নামেন।  একপর্যায়ে তিনি দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।  তাদের কাছ থেকেই বাবুল আক্তার তথ্য পান ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটিয়েছে জেএমবি।  জঙ্গি তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই জেএমবি এ ঘটনা ঘটায়।  আট বছর পর বাবুল আক্তারের অনুসন্ধানেই বেরিয়ে আসে, জেএমবি আবারও চট্টগ্রামে ঘাঁটি গেড়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন পর্যায়ে সোর্সদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বাবুল আক্তার ৫ অক্টোবর পৌঁছে যান নগরীর কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকায় জেএমবির একটি আস্তানায়।  সেখান থেকে আটটি হ্যান্ডগ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ জেএমবির সামরিক প্রধান জাবেদসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।  জাবেদ ৬ অক্টোবর ভোরে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে আরেকটি অভিযানে গিয়ে গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হয়।  আটক বাকি চারজন হলো বুলবুল আহমেদ ওরফে ফুয়াদ, সদস্য মো. সুজন ওরফে বাবু, মাহবুব এবং শাহজাহান কাজল।
চারজনকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।  বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে চলে জিজ্ঞাসাবাদ।  সুজন ওরফে বাবু স্বীকার করে, মাজারে ঢুকে ল্যাংটা ফকির ও আব্দুল কাদেরকে খুন করেছে সে।  কাফেরকে খুন করলে জান্নাতবাসী হওয়া যাবে এমন ধারণা থেকেই সুজন ল্যাংটা ফকিরকে খুন করে।  আর তাকে বাঁচাতে এসে খুন হয়েছে খাদেম আব্দুল কাদেরও।
দু’টি চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়ে যাওয়ায় হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা।  এরপর বাবুল আক্তার প্রশিক্ষণে চীনে চলে যান।  জেএমবিবিরোধী অভিযানে ভাটা পড়ে যায়। 
দেড় মাসেরও বেশি সময় পর ফিরে এসে আবারও তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাবুল আক্তার।  গভীর রাতে টিম নিয়ে চলে যান হাটহাজারী থানার আমানবাজারে। জেএমবির সামরিক কমান্ডার ফারদিনের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেন অত্যাধুনিক রাইফেল, বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর নথিপত্র।  এর আগেই অবশ্য গ্রেফতার করা হয় জেএমবির তিন সদস্যকে। 
তখন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বাংলানিউজকে বলেছিলেন, বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা নিয়েই জেএমবি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুদ করেছিল।  আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।  সময়মত অভিযানের কারণে তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে গেছে।
বাবুল আক্তার ২০০৮ সালে নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন।  এরপর তিনি জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার পদেও কর্মরত ছিলেন।  পরে পদোন্নতি পেয়ে বাবুল আক্তার দীর্ঘদিন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন।  ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর বদলি হয়ে সিএমপিতে যোগ দেন।
হাটহাজারী এবং কক্সবাজারে কর্মরত থাকার সময়ও বারবার গণমাধ্যমে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন বাবুল আক্তার।  কক্সবাজারে জলদস্যু দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।  ২০১৩ সালে বেশ কয়েকজন শীর্ষ জলদস্যুকে গ্রেফতারের পর কক্সবাজারের এলাকায় এলাকায় জেলেরা মিষ্টি বিতরণ করেছিল। 
কক্সবাজারে বৌদ্ধমন্দিরে হামলার ঘটনা তদন্ত এবং সেখানকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার অন্যতম অবলম্বন হয়ে উঠেছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।  হাটহাজারীতে দরিদ্র, অসহায় ‍মানুষ বিশেষ করে নারীদের আইনগত সহায়তা দিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বাবুল আক্তার।  অবস্থা এমন হয়েছিল, হাটহাজারী এবং কক্সবাজার থেকে বাবুল আক্তারের বদলি ঠেকাতে জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল।

ভূমধ্যসাগরে বিমান অবতরণ!

জরুরি অবতরণ করতে গিয়ে হালকা একটি ছোট বিমান ভূমধ্যসাগরে নেমে গেছে। গতকাল রোববার বিকেলে ইসরায়েলের তেল-আবিব উপকূলের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। সৌভাগ্যক্রমে বিমানে থাকা দুই বৈমানিক বেঁচে আছেন। তাঁরা সামান্য আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার ছবি ও ভিডিওতে বিমানটিকে সাগরে ডুবে গেলেও পেছনের অংশ ভেসে থাকতে দেখা যায়।
চ্যানেল-টু-এর খবরে জানানো হয়, তেল-আবিরের এসডিই বিমানবন্দর থেকে উড়ার পরপরই বিমানের দুটি ইঞ্জিনের একটি বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় পাইলট বিমানটি ঘুড়িয়ে একই বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে চান। কিন্তু তিনি নিয়ন্ত্রণ হারালে বিমানটি বিমানবন্দরের কূল ঘেঁষে থাকা সাগরে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই তেল-আবিবের জনপ্রিয় মেতজিজিম সৈকত।
কোস্ট গার্ড সদস্যরা ডুবন্ত বিমান থেকে পাইলটদের উদ্ধার করে। বিমানটি কোথায় যাচ্ছিল, তা জানা যায়নি।

তনু হত্যার ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

সোহাগী জাহান তনু
সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ওই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জোটের আট সদস্যের প্রতিনিধি দল এই স্মারকলিপি দেয়। জোটের দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, তনুর নির্মম হত্যাকাণ্ডে সবাই ব্যথিত এবং ক্ষুব্ধ। ১৬ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তদন্তে এই ঘটনার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। উপরন্তু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বক্তব্য উপস্থাপিত হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দেশবাসীর মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তনু হত্যার জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দাবি জানানো হয়। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সেখানে বিকেল পাঁচটার আগে পয়লা বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা শেষের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মৌলবাদীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, সরকার অবিলম্বে এই বিষয়টি আরও বিবেচনা করবে।’ পরে টিএসসি থেকে তনু হত্যার বিচারের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন জোটের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি দোয়েল চত্বরের কাছে গেলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। পরে জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, জোটের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফসহ আট সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়।

মাথাপিছু আয় হবে ১৪৬৬ ডলার, জিডিপি ৭.০৫ শতাংশ

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে ১ হাজার ৪৬৬ ডলার, যা বিগত বছরের তুলনায় ১৫০ ডলার বেশি। এই অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হবে। মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলনে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বলা হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক প্রাক্কলনে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়েছে, এই অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জিডিপি ৭ শতাংশ হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। এনইসি মিলনায়তনে এই বৈঠক চলছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগের অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৬ ডলার। ওই অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আদিবাসী নেতার মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের আদি অধিবাসী বিষয়ক ইতিহাসবিদ, সাবেক যোদ্ধা ও মন্টানা অঙ্গরাজ্যের ক্রো আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা জোসেফ মেডিসিন ক্রো গত রোববার ১০২ বছর বয়সে মারা গেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বীরত্বপূর্ণ কীর্তির জন্য নিজ আদিবাসী গোষ্ঠীর কাছে তিনি ‘প্রধান সর্দার’ খেতাব পান। তাঁর গোষ্ঠীর মধ্যে জোসেফই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ১৯৩৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি তাঁর আদিবাসী গোষ্ঠীর প্রবীণ সদস্যদের মৌখিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাঁদের যাযাবর জীবন-এর ইতিহাস লিখে পরিণত হন ইতিহাসবেত্তায়। ২০০৯ সালে জোসেফ মেডিসিন ক্রো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমে ভূষিত হন।

আর বন্ড ছবির গান গাইবেন না অ্যাডেল

অ্যাডেল
২০১২ সালের ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ‘স্কাইফল’ ছবির গান গেয়ে অস্কার জিতেছিলেন সংগীতশিল্পী অ্যাডেল। অস্কার জিতে কোথায় আরও উৎসাহিত হবেন তা নয়, ২৭ বছর বয়সী এই গায়িকা বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি নাকি আর কোনো ‘জেমস বন্ড’ ছবির গানই (থিম সং) গাইবেন না। কিন্তু কেন? ‘আমি এটি আর করতে চাই না, কারণ শেষবার এ কাজটি আমি অত্যন্ত ভালোভাবে করেছিলাম। এটিকে অন্য রকম করে ফেলতে চাই না।’ এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন এই ব্রিটিশ গায়িকা। অ্যাডেল ২০১১ সালে তাঁর অ্যালবাম ‘২১’ দিয়ে আলোচনায় আসেন ‘জেমস বন্ড’ সিরিজে গান গাওয়া প্রসঙ্গে মজার একটি তথ্য জানিয়েছেন এই তারকা। প্রথমে নাকি ‘স্কাইফল’ ছবির গানটি করতেই চাননি তিনি। এরপর জানতে পারেন এটি ‘জেমস বন্ড’-এর ২৩তম সিক্যুয়েল আর সে বছর তিনিও ২৩ বছরে পা দিয়েছেন। কাকতালীয় এই মিল খুঁজে পাওয়াতেই কাজটি করতে রাজি হন অ্যাডেল। তাঁর বিশ্বাস, এই কাকতালই তাঁর জন্য সৌভাগ্য নিয়ে এসেছিল।

প্রেম করছেন অর্জুন কাপুর?

অর্জুন কাপুর ও আথিয়া শেঠি
বেশ কিছুদিন ধরেই বলিউডের বাতাসে গুঞ্জন, প্রেম করছেন অর্জুন কাপুর। আর যে অভিনেত্রীর নামটির সঙ্গে অর্জুনের নাম জড়িয়েছে, তিনি বলিউডে নবাগত আথিয়া শেঠি। অবশ্য এ প্রসঙ্গে অর্জুনের প্রতিক্রিয়া নেতিবাচকই বটে অর্জুন কাপুর জানিয়েছেন, এই গুজবের বিষয়টি নিয়ে তিনি খুবই বিরক্ত। আথিয়ার সঙ্গে তিনি প্রেম করছেন!—এ কথা শুনে খুবই বিব্রত হয়েছেন অর্জুন। অর্জুন বলেন, ‘আথিয়া আমার বোনের বন্ধু। মানুষ এ কথা ভুলে যায় যে বলিউডে, বিশেষ করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই বন্ধু হতে পারে।’ আথিয়া প্রসঙ্গে অর্জুন আরও বলেন, ‘আমি তাঁকে অনেক দিন ধরেই চিনি; কিন্তু হঠাৎ করে সবার কেন এই ধারণা হলো!অবশ্য এ ধরনের গুজবের সঙ্গে এরই মধ্যে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন জানিয়ে অর্জুন বলেন, ‘আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’আথিয়া প্রসঙ্গে অর্জুন আরও বলেছেন, ‘যার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন ধরে পরিচয়; এমন কারোর সঙ্গে জড়িয়ে খবর রটলে খুবই বিব্রত লাগে। সে খুব মিষ্টি একটা মেয়ে।’ তিনি এও বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম আমাকে আর আথিয়াকে একসঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে (পার্টি) দেখেছে। আর এরপর থেকেই এটা শুরু হয়েছে।’

‘মধ্যবিত্ত’ শিল্পা!

শিল্পা শেঠি
বলিউডের অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি ২০০৯ সালে বিয়ে করেন শিল্পপতি রাজ কুন্দারকে। বিলাসবহুল জীবনযাপন তাঁদের। কিন্তু সম্প্রতি শিল্পা শেঠি জানিয়েছেন, তিনি নিতান্তই একজন মধ্যবিত্ত মানসিকতার মানুষ। বলিউডে এখন বিচ্ছেদ একটি সাধারণ ঘটনা। কারিশমা কাপুর-সঞ্জয় কাপুর, হৃতিক রোশন-সুজানা খান, আরবাজ খান-মালাইকা অরোরার মতো অনেকেরই ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। কিন্তু শিল্পা মনে করেন, বিয়ের মতো একটি সম্পর্ক এত সহজে ভেঙে ফেলা উচিত না। সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন শিল্পা। সে অনুষ্ঠানেই তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আলোচনা এবং কথা-কাটাকাটি সব সম্পর্কের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। কিন্তু আপনি কীভাবে সেগুলো কাটিয়ে উঠবেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পা শেঠির মতে, বৈবাহিক জীবনে যত ঝামেলাই আসুক না কেন, তা মিটিয়ে ফেলা উচিত। আর সম্পর্ককে টিকিয়ে রেখেই তা করা উচিত; তালাক দিয়ে নয়। এই ধ্যানধারণায় বিশ্বাস করেন বলেই শিল্পা নিজেকে একজন মধ্যবিত্ত মানসিকতার মানুষ বলেছেন। শিল্পা আরও বলেন, ‘সফল বিয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ খুব জরুরি বিষয়। বিয়ে বিষয়টাকে সহজ, স্বাভাবিক রাখা উচিত। কখনো যেন মনে না হয়, ঝামেলা এড়ানোর জন্যই বিয়ে করেছেন আপনি।’ শিল্পা শেঠি ও রাজ কুন্দারের সংসারে এক ছেলে। তার নাম ভিয়ান, বয়স প্রায় চার বছর।

ওবামার নৈশভোজের দাওয়াত পেলেন প্রিয়াঙ্কা

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
হোয়াইট হাউসে বার্ষিক নৈশভোজের আয়োজন। এ নৈশভোজের আয়োজক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাই এই নৈশভোজে দাওয়াত পান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এবারের বার্ষিক নৈশভোজে নিমন্ত্রণ পেয়েছেন বলিউডের অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। প্রিয়াঙ্কা এখন কানাডার মন্ট্রিয়েলে। আমেরিকান টিভি সিরিয়াল ‘কোয়ান্টিকো’-র শুটিংয়ে ব্যস্ত। তা ছাড়া হলিউডের ছবি ‘বেওয়াচ’-এর জন্যও শিডিউল দিয়ে রেখেছেন। আবার ওবামার দাওয়াতও ঠিক এ মাসেই। এত ব্যস্ততার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ওবামার দাওয়াতে তিনি যেতে পারবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি। অবশ্য প্রিয়াঙ্কার কাছের একটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের নিমন্ত্রণে প্রিয়াঙ্কা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জানা যাবে। এই নৈশভোজে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ছাড়াও ব্র্যাডলি কুপার, লুসি লিও, জেন ফন্ডা ও গ্লেডিস নাইটের মতো তারকারা আমন্ত্রিত। প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে বলিউডে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘জয় গঙ্গাজল’ ছবিতে। এ ছবির পরিচালক প্রকাশ ঝাঁ। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে এ বছরের মার্চ মাসে।

শরণার্থী ফেরত পাঠানো নিয়ে ক্ষোভ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে তুরস্কের করা চুক্তি অনুযায়ী শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। গ্রিসে আটকে পড়া শরণার্থীদের একটি ছোট দল গতকাল সোমবার তুরস্কে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গ্রিসের লেসবস দ্বীপ থেকে তুরস্কের দিকিলি বন্দরে পৌঁছে শরণার্থীবাহী জাহাজ নেজলি জেল। ইইউ-তুরস্কের চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিসে থাকা প্রায় এক লাখ শরণার্থীকে তুরস্কে পাঠানো হবে। আগামী বুধবার পর্যন্ত প্রথম দফায় তুরস্কে ৭৫০ জন শরণার্থীকে পাঠানোর কথা। শুরু থেকেই এ বিতর্কিত চুক্তি নিয়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাদের আপত্তি জানিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সাগর পাড়ি দিয়ে যে শরণার্থীরা ইইউর সদস্যদেশ গ্রিসে প্রবেশ করেছে, তাদের গ্রহণ করবে তুরস্ক। গ্রিস থেকে ফেরত নেওয়া প্রতিজন সিরিয়ার শরণার্থীর বিপরীতে ইতিমধ্যে তুরস্কে থাকা আরেকজন শরণার্থীকে ইইউভুক্ত দেশে পুনর্বাসিত করা হবে। ইইউর সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেস্ক জানায়, গতকাল প্রথম দফায় ১৩৬ জনকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হয়। এদের মধ্যে কোনো সিরিয়ার নাগরিক ছিল না। তবে এর বিপরীতে তুরস্ক থেকে ১৬ জন সিরিয়া নাগরিক জার্মানিতে যান। লেসবস দ্বীপের ফেরিঘাটে ফ্রন্টেস্কের মুখপাত্র এওয়া মনকিওর বলেন, এখানে পর্যাপ্ত পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকর্মীরা ছিলেন। তবে পরিস্থিতি ছিল খুব শান্ত। সবকিছু যথানিয়মে হয়েছে। লেসবসে কোনো বিক্ষোভ না হলেও কিওস দ্বীপে বিক্ষোভ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। গতকালই গ্রিসের কিওস দ্বীপ থেকে আরেকটি জাহাজ তুরস্কে যায়। তবে সেখানে কত শরণার্থী ছিল বা তারা কোন দেশের, এ বিষয়ে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। কিওস থেকে জাহাজ ছাড়ার আগে বেশ কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী এভাবে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোয় বিক্ষোভ জানায়। ‘এই নোংরা চুক্তি বাতিল করো’, ‘শরণার্থীদের পাঠানো বন্ধ করো’ বা ‘ইউরোপ জেগে ওঠো’—এমন স্লোগান লেখা ব্যানার বহন করে বিক্ষোভকারীরা। গ্রিস থেকে শরণার্থীদের পাঠানোর এই প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন। সংস্থাটির কর্মকর্তা পিটার সাদারল্যান্ড বলেন, ‘আসলে ফেরত পাঠানোর নামে কী হচ্ছে, আমরা জানি না। ইচ্ছার বিরুদ্ধে যদি কাউকে ফেরত পাঠানো হয়, তবে তা অন্যায়।’

রহস্যময় প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা

‘পানামা পেপার’ ফাঁসের কেন্দ্রে রয়েছে পানামার আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা কীভাবে কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদ গোপন রাখছেন, তার প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়েছে। মোসাক ফনসেকা মক্কেলদের পরামর্শ দেওয়ার বিনিময়ে বার্ষিক ফি নিয়ে থাকে। আইনি পরামর্শ প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন দশক আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা দুজন আইনজীবীর একজন জুর্গেন মোসাক। অপর প্রতিষ্ঠাতা রোমান ফসনেকা পানামা থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেওয়ার পর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করেন। মোসাকের সঙ্গে মিলে মোসাক ফনসেকা প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বের ৪২টির বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটির শাখা রয়েছে।

কাশ্মীরে প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির শপথ

মেহবুবা মুফতি
তিন মাসের টালবাহানার পর ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মেহবুবা মুফতি। তিনিই হলেন এই রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল সোমবার সকালে শ্রীনগরে তাঁর সঙ্গে মন্ত্রী পদে শপথ নেন আরও ২৩ জন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন জোটসঙ্গী বিজেপির সদস্যরাও। বিজেপির নির্মল সিং এবারও হবেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী। এত দিন পর এত চিন্তাভাবনা শেষে মেহবুবা মুফতি মুখ্যমন্ত্রীর পদ গ্রহণে সম্মত হলেও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বিতর্কহীন ছিল না। তাঁর দল পিডিপির প্রবীণ নেতা তারিক কারা এই অনুষ্ঠান বয়কট করেন। সংবাদমাধ্যমকে তারিক বলেছেন, মেহবুবাকে তিনি তিনজনকে মন্ত্রী না করতে বলেছিলেন। কারণ, তাঁরা নাকি মেহবুবাকে বাদ দিয়ে দল ভাঙিয়ে বিকল্প সরকার গড়তে উদ্যোগী হয়েছিলেন। মেহবুবা মাত্র একজনকে বাদ দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেও মেহবুবার সামনে কঠিন পরীক্ষা। বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানো বরাবরই ছিলেন তিনি বিরুদ্ধে। কিন্তু তাঁর বাবা মুফতি মুহম্মদ সাঈদের যুক্তি ছিল, রাজ্যের দুই প্রান্ত জম্মু ও কাশ্মীরকে তিনি মেলাবেন। মুফতি সাঈদের মতো ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা মেহবুবার নেই। বাবার অসমাপ্ত কাজ কতটা তিনি করতে পারবেন, তা নিয়ে দলেই রয়েছে সংশয়।

দ্বাদশ খেলোয়াড় মুস্তাফিজ

মুস্তাফিজ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ হাসি হেসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে একটা জায়গায় ইংল্যান্ডের জয়জয়কার। আইসিসি কাল টুর্নামেন্টের যে সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে, সেই দলে সবচেয়ে বেশি ৫ জন ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের। চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের আছেন ২ জন। ভারতেরও আছেন ২ জন, তবে তাদের গর্ব হতে পারে, টুর্নামেন্টের সেরা বিরাট কোহলিকে করা হয়েছে অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের আছেন ১ জন করে। একাদশে জায়গা হয়নি কোনো বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের। তবে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে এই দলে আছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। আইসিসি মিডিয়ার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে কাল ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছে। দল নির্বাচনের জন্য আইসিসি মনোনীত কমিটিতে ছিলেন সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার ইয়ান বিশপ, ইংল্যান্ডের নাসের হুসেইন, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক মহিলা ক্রিকেটার মেল জোন্স, ভারতের সঞ্জয় মাঞ্জরেকার এবং আরেক সাবেক অস্ট্রেলীয় মহিলা ক্রিকেটার লিসা স্টালেকার। সূত্র: আইসিসি ওয়েবসাইট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা দল জেসন রয় (ইংল্যান্ড), কুইন্টন ডি কক (দক্ষিণ আফ্রিকা), বিরাট কোহলি (ভারত), জো রুট (ইংল্যান্ড), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), শেন ওয়াটসন (অস্ট্রেলিয়া), আন্দ্রে রাসেল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মিচেল স্যান্টনার (নিউজিল্যান্ড), ডেভিড উইলি (ইংল্যান্ড), স্যামুয়েল বদ্রি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), আশিস নেহরা (ভারত)। দ্বাদশ খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ)।

প্লাতিনির সঙ্গে মেসিও

 মেসি
কর ফাঁকি-সংক্রান্ত মামলায় ভুগছেন অনেক দিন ধরেই। এবার স্পেনের বাইরেও সেই হ্যাপা বোধ হয় পোহাতে হচ্ছে লিওনেল মেসিকে। ‘পানামা পেপারস’ কেলেঙ্কারিতে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে মেসির বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, মেসি ও তাঁর বাবা বেলিজ ও উরুগুয়েতে নামসর্বস্ব কোম্পানি গড়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়েছেন, যে অর্থ আয় করেছেন স্পেনে বিভিন্ন স্পনসরের সঙ্গে চুক্তি করে। শুধু মেসি নন, নিষিদ্ধ সাবেক উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি ও আরও কিছু ফুটবলারের বিরুদ্ধেও এসেছে এই অভিযোগ। তবে মেসি ব্যাপারটিকে সহজভাবে নিচ্ছেন না। প্রায় এক বছর লেগে থেকে মূল খবরটা ফাঁস করেছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি জোট, ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)। তবে স্পেনে খবরটি প্রকাশ করেছে যে পত্রিকা, সেই দৈনিক এল কনফিডেনশিয়াল-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেসি। খবরের উৎস পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার কিছু নথি। এই প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো তাদের গ্রাহকদের অর্থ পাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো ও কর ফাঁকির ব্যাপারে আইনি সহায়তা দেওয়া। কিন্তু মেসি সেখানে জড়ালেন কীভাবে? ফনসেকার দলিল দেখাচ্ছে হুয়ান পেদ্রো দামিয়ানি নামের একজনের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান মেসিসহ ২০ জন ফুটবলারের জন্য কাজ করেছে। এই দামিয়ানি আবার ফিফার নৈতিকতা কমিটির সদস্য। তিনি কাজ করেছেন ফিফার নিষিদ্ধ সাবেক সহসভাপতি ইউজেনিও ফিগেরেদোর সঙ্গে। জুরিখে যে সাত ফিফা কর্তা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফিগেরেদোও। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে মেসির বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ইমেজ স্বত্বসংক্রান্ত ব্যাপারে মেসি ও তাঁর বাবা হোর্হে প্রায় ৪৭ লাখ ডলার কর পরিশোধ করেননি—এই অভিযোগে স্প্যানিশ আদালতে মামলাও হয়েছে। সেই আমলা এখনো চলছে। প্লাতিনির বিরুদ্ধে অভিযোগটা আবার একটু অন্য রকম। পানামা পেপার কেলেঙ্কারি ফাঁস করা সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজি জানিয়েছে, ২০০৭ সালে দেশের বাইরে গঠিত একটি কোম্পানি পরিচালনার জন্য সহায়তা চেয়ে মোসাক ফনসেকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন প্লাতিনি। সেপ ব্ল্যাটারের সঙ্গে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের জন্য এরই মধ্যে ফিফা সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে ছয় বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে প্লাতিনিকে। ফ্রান্সের এই ফুটবল কিংবদন্তি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাকিব-মুস্তাফিজ যাচ্ছেন আজ

সাকিব-মুস্তাফিজ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ফিরে আপাতত বিশ্রামে আছেন ক্রিকেটাররা। তবে সাকিব আল হাসান আর মুস্তাফিজুর রহমানের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যাচ্ছে আজ থেকেই। আইপিএলে খেলতে আজ বিকেলে ভারতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটার। সাকিব খেলবেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আইপিএলে যাওয়ার আগে কাল মুঠোফোন কোম্পানি বাংলালিংকের পণ্যদূত হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সাকিব ও তাঁর স্ত্রী উম্মে আহমেদ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাকিব কথা বলেছেন আইপিএল নিয়েও, ‘আমার লক্ষ্য সব সময়ই এক। যখন যে দলে খেলি, সাধ্যমতো চেষ্টা করি দলের জন্য কিছু করতে। সব সময় সফল না হলেও দলের জয়ের জন্য নিজের সেরাটাই দিতে চেষ্টা করি।’ সাকিব ২০১১ সাল থেকে আইপিএলে খেললেও মুস্তাফিজ যাচ্ছেন এই প্রথম। সে জন্য বেশ রোমাঞ্চিতও তিনি, ‘এত বড় একটা টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, ভালো তো লাগছেই।’ আইপিএলে প্রথমবার হলেও বাঁহাতি এই পেসারকে কোনো পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না সাকিব, ‘পরামর্শ দেওয়ার কিছু নেই। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। দলের সঙ্গে অনুশীলন করার পাশাপাশি তাকে শুধু ফিটনেসটাই ধরে রাখতে হবে।’ গত জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাঁ হাতের পেশিতে চোট পেয়েছিলেন, সেটি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এশিয়া কাপে পাঁজরের চোটে পড়েন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুস্তাফিজ তাই খেলতে পেরেছেন শুধু শেষ তিনটি ম্যাচ। তবে আইপিএলে পুরো ফিট হয়েই যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম, ‘পাঁজরের চোটের কারণে কিছুদিন বিশ্রামে থাকায় তার হাতের সমস্যাটারও উপকার হয়েছে। এ মুহূর্তে মুস্তাফিজের কোনো সমস্যা নেই।’ তারপরও নিয়মিত ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি অন্য কিছু ট্রেনিংও করতে হবে মুস্তাফিজকে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ফিজিও থিও কাপাকে ই-মেইলে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ফিজিও। আইপিএলে সেভাবেই দেখভাল হওয়ার কথা তাঁর।

টেস্টে কবে ভালো করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ড্যারেন স্যামির মুখ থেকে টুর্নামেন্টজুড়েই অনেকবার শোনা গেছে কথাটা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্য এই লড়াই ‘আমরা বনাম বাকি সবাই’। বাইরের কয়েকজন ক্রিকেট বিশ্লেষকের সমালোচনা ছিল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডব্লুআইসিবি) সঙ্গেও বেতন নিয়ে মতভেদ হয়েছিল স্যামিদের। সব সমালোচনা, ঝামেলা পেছনে ফেলে ২০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বসেরা হয়ে ফিরছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। সুখস্মৃতির সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে আরও একটি সুখবরও সঙ্গী হলো স্যামি-গেইলদের, বেতন নিয়ে নতুন করে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। নিজেদের সুখবরের পাশে ক্যারিবীয় ক্রিকেট-ভক্তদের একটা প্রতিশ্রুতি দিলেন স্যামি—টি-টোয়েন্টির সাফল্য থেকে প্রেরণা নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটেও এমন দাপট ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে পরশু ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে জয়ের পর বোর্ডের কাছ থেকে কোনো অভিনন্দনসূচক ফোন না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন স্যামি। পর্দার আড়ালে যা-ই হোক, স্বাভাবিকভাবেই ডব্লুআইসিবির কর্তাদের বিষয়টি সহজে মেনে নেওয়ার কথা নয়। ক্যারিবীয় বোর্ডটির সভাপতি ডেভ ক্যামেরনের কাছেও স্যামির মন্তব্যটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’। পরশু নিজের বিবৃতিতে অবশ্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্যামেরন, ‘এই বছরের মে মাসে খেলোয়াড়, ডব্লুআইপিএ (খেলোয়াড়দের অ্যাসোসিয়েশন), নির্বাচন ও টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে বার্ষিক পর্যালোচনায় বসবে বোর্ড। আমরা এমন একটা উপায় বের করে নিতে চাই, যাতে প্রতিটি অঞ্চলের সেরা খেলোয়াড়েরাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্য নির্বাচিত হয়।’ মাঠের বাইরের ঝামেলাটা হয়তো মিটে যাবে। তবে একটা প্রশ্ন এই রঙিন সময়টাতেও তেতো স্বাদ দিয়ে যাচ্ছে ক্যারিবীয় খেলোয়াড়দের—সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বিশ্বজয়ী দলটিই টেস্টে নামলে মিইয়ে যায় কেন? আশির দশকে টেস্ট ক্রিকেটে ছড়ি ঘোরানো ক্যারিবীয়রা এখন টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ে ১০ দলের মধ্যে অষ্টম! স্যামির চোখে সমস্যাটা নিজেদের খেলার ধরনে, ‘টেস্ট ক্রিকেটটা আমরা যেভাবে খেলি, যেখানেই যাই, আমরা সমালোচনার মুখে পড়ি। ব্যাপারটা হচ্ছে, জেতার মতো ব্র্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট আমরা এখনো খেলতে পারিনি।’ আরেকটা কারণ হতে পারে, টি-টোয়েন্টির এই দলের অনেক খেলোয়াড়কেই টেস্টে, এমনকি ওয়ানডেতেও দেখা যায় না। তবে স্যামির আশা, টি-টোয়েন্টির সাফল্য টেস্ট দলকেও ভালো করতে উদ্বুদ্ধ করবে, ‘আমরা যেভাবে টি-টোয়েন্টি খেললাম, ওরা (টেস্ট দল) সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হবে। আশা করি, এই জয় আমাদের টেস্ট ক্রিকেটারদের আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করবে।’

পদত্যাগ করলেন ওয়াকার

ওয়াকার
আভাস আগেই দিয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষেই জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে পাকিস্তানের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। কাল সেটাই হলো, লাহোরে কাল পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন পাকিস্তানের ক্রিকেট কোচ ওয়াকার ইউনিস। এই মে মাসেই পিসিবির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে ওয়াকারের। সাবেক এই ফাস্ট বোলার তত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন না, তার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দিলেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়েই আমি আজ বিদায়ের ঘোষণা দিচ্ছি।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ফিরেছে পাকিস্তান। ওয়াকার এর পর দলে কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করেছিলেন, শহীদ আফ্রিদির অধিনায়কত্ব নিয়েও চাঁছাছোলা সমালোচনা করেছেন। দল নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভও জানিয়েছেন। সেসব আবার ফাঁস হয়ে গেছে পাকিস্তানি গণমাধ্যমে। বিদায়ের সময় সেসবও মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমি চাই, আমার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হোক। ২০১৫ সালে যখন প্রথম প্রস্তাব করেছিলাম তখনো অনেক কিছু আমলে নেওয়া হয়নি।’ ২০১০ সালে প্রথমবার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছর কোচ ছিলেন। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় দফায় কোচ হন। এ সময়েই পাকিস্তান উঠে আসে টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ের দুইয়ে। যদিও দলকে কোনো বড় শিরোপা তিনি এনে দিতে পারেননি।

স্পিনারদের নতুন চ্যালেঞ্জ

আবদুর রাজ্জাক ,তাইজুল,জুবায়ের
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার স্পিনারদেরই ছিল জয়জয়কার। মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি, সাকিব আল হাসান—শীর্ষ ছয় বোলারের পাঁচজনই স্পিনার। ভারতের স্পিনস্বর্গে স্পিনারদের এই সাফল্য অপ্রত্যাশিত নয়। কিন্তু বিশ্বকাপ স্পিনবান্ধব কন্ডিশনে হবে জেনেও মাশরাফি বিন মুর্তজার বাংলাদেশ ভারতে গিয়েছিল পেস আক্রমণে আস্থা রেখে। পেসারদের সাম্প্রতিক সাফল্যই হয়তো নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে উদ্বুদ্ধ করেছিল বিশ্বকাপেও বোলিংটাকে পেসনির্ভর করতে। বিশ্বকাপের সেরা ১০ বোলারের তালিকায় বাংলাদেশ দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতি নিশ্চয়ই বলে যে, বাংলাদেশের পরিকল্পনা সফল। তাই বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্পিনারদের প্রভাব ভুলে গেলে চলবে না। পেসারদের সাফল্য যতই থাকুক, স্পিন আক্রমণকেও ধারালো না করে তুললে চলবে না। আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশের সামনের কাজটা একটু কঠিন তো হয়ে পড়লই। সাকিব ছাড়া যে আর কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনারই নেই এখন দলে! আবদুর রাজ্জাকের জন্য বাংলাদেশ দলের দরজা বন্ধ অনেক দিন ধরেই। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এই বাঁহাতি স্পিনার এখনো অবশ্য ফেরার অপেক্ষায় আছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে তাইজুল ইসলামও কম বিস্ময়ের জন্ম দেননি। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এই বাঁহাতি স্পিনারের। ওয়ানডে অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের প্রথম কৃতিত্বও তাঁর। অনেক দিন ধরেই দৃশ্যপটে নেই তাইজুল। লেগ স্পিনের রোমাঞ্চ ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখা জুবায়ের হোসেনও আড়ালে। একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়া সোহাগ গাজীর পথ বেঁকে গেছে ২০১৪ সালে বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং কীর্তির মালিক ইলিয়াস সানির ক্যারিয়ারও এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ। দলে ফেরার লড়াইয়ে এই স্পিনাররা এখন শুধু নিজেদের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না, লড়াইটা তাঁদের পেসারদের সঙ্গেও। ইলিয়াস সানি স্বীকার করলেন, ‘একটা সময়ে আমি, রাজ ভাই (রাজ্জাক) ও সাকিব, একসঙ্গে তিন বাঁহাতি স্পিনার বাংলাদেশ দলে খেলেছি। তবে এখন চ্যালেঞ্জটা অন্য রকম।’ তবে জুবায়েরকে আশাবাদী করছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লেগ স্পিনারদের পারফরম্যান্স, ‘বিশ্বকাপে প্রায় সব দলেই লেগ স্পিনার ছিল। তার মানে উপমহাদেশের কন্ডিশনে লেগ স্পিনারের চাহিদা আছে। শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, অন্য সংস্করণেও লেগ স্পিনাররা কার্যকর। এটা আমার কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক।’ স্বপ্ন দেখছেন অফ স্পিনার সোহাগও, ‘দলে পেসার না স্পিনারদের প্রাধান্য দেওয়া হবে, এটা নির্বাচক ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে এখনো শীর্ষ পাঁচ বোলারের চারজনই স্পিনার। আমি মনে করি, সুযোগ পেলে স্পিনাররাও ভালো করবে।’ তাইজুলের ভাবনাটা একটু অন্য রকম। পেসারদের দাপটের মধ্যে স্পিনারদের চ্যালেঞ্জটাকে ইতিবাচকই দেখছেন তিনি, ‘আমাদের বোলিংটা পেসনির্ভর হয়ে ভালোই হয়েছে। এখন স্পিনারদের আরও ভালো করতে হবে। আরও অনেক কিছু যোগ করতে হবে বোলিংয়ে।’ পেসারদের আধিপত্যের সময়ে তাইজুলের কথাটা প্রেরণার উৎস হতে পারে সব স্পিনারের জন্যই।

চেলসিতে আসছেন কন্তে

আন্তোনিও কন্তে
আগামী মৌসুমে পেপ গার্দিওলা আসছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে, লিভারপুল এই মৌসুমেই ইয়ুর্গেন ক্লপকে নিয়ে এসেছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও হোসে মরিনহো আসবেন বলে শোনা যাচ্ছে। চেলসি হাত গুটিয়ে বসে থাকে কী করে? লন্ডনের ক্লাবটিও তিন বছরের চুক্তিতে নিয়ে এসেছে বর্তমান ইতালি দলের কোচ আন্তোনিও কন্তেকে। চুক্তি হয়ে গেলেও কন্তে চেলসির দায়িত্ব নেবেন আগামী মৌসুমের শুরুতে। ইতালি জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর চুক্তি শেষ হবে জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোয়। জিয়ানলুকা ভিয়াল্লি, ক্লদিও রানিয়েরি, কার্লো আনচেলত্তি ও রবার্তো ডি মাত্তেওর পর চেলসির পঞ্চম ইতালিয়ান কোচ হতে যাচ্ছেন কন্তে। কন্তে চেলসির কোচ হচ্ছেন, সেটি অনুমিতই ছিল। গতকাল চুক্তির ‘আনুষ্ঠানিকতা’ শেষে ৪৬ বছর বয়সী ইতালিয়ান কোচের উচ্ছ্বাস, ‘চেলসির হয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি উচ্ছ্বসিত। ক্লাবের সবার সঙ্গে কাজ করতে, প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জের বিষয়েও রোমাঞ্চিত।’ চেলসিও খুশি কন্তের ‘সিভি’ দেখে। ইতালির দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিন মৌসুম জুভেন্টাসের কোচ ছিলেন, তিন মৌসুমেই ইতালিয়ান লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জুভ।

খেলার সময়টা এগিয়ে আনা উচিত

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। এক দশকে খেলাটি এত এগিয়েছে যে দেখে অবাক হয়ে যাই। ক্রিকেট এখন অনেক পরিণত, দক্ষতাও অনেক বেড়েছে। প্রতি ধাপে দক্ষতার পরীক্ষা হয়, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ারও। বিশেষ করে এই সংস্করণ বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, এখন এত দুর্দান্ত সব ব্যাটসম্যান খেলছে। এই সংস্করণে ব্যাটসম্যানদের রোমাঞ্চকর ব্যাটিংয়ের কারণও আছে, এখানে দ্রুত রান নিতে হয়। টি-টোয়েন্টিতে বোলারদের জন্য কিছু নেই। খেলার পরিবেশ-উইকেট সবকিছুই তাদের বিপক্ষে থাকে। শিশির যেভাবে খেলায় প্রভাব ফেলছে তা বিরক্তিকর। বিষয়টি পরে বোলিং করা দলের জন্য হতাশাজনক। এমন একটি টুর্নামেন্টে ম্যাচের ফল কেন টসের ওপর নির্ভর করবে? এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠার উপায় বের করা দরকার। আইসিসির উচিত খেলার সময়টা এগিয়ে আনা, এমনভাবে খেলা শুরু করা যাতে ৯টার মধ্যেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কয়েকটি দল সম্পর্কে কিছু বলা যাক: আফগানিস্তান প্রসঙ্গে: ক্রিকেটে যে নতুন অনেক দল উঠে আসছে, সেটির বড় প্রমাণ আফগানিস্তান। দলটি নিজস্ব ক্রিকেটার নিয়েই পরিপূর্ণ, আফগানিস্তান ধাঁচে আরও কিছু দল এলেই খেলায় প্রাণ ফিরে আসবে। দলটি উত্তেজনাকর ক্রিকেট খেলছে। পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর উচিত এ দলটিকে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানানো। এটা দাবি করতেই পারে আফগানিস্তান। বাংলাদেশ: বাংলাদেশ সম্পর্কে বলতে গেলে, তাদের মধ্যে বড় দলগুলোকে ধাক্কা দেওয়ার, উন্নতি করার আগুন আছে। আশা করি, ভারতের বিপক্ষে ওই হারের দুঃখ কাটিয়ে উঠেছে তারা। তবে দুই বোলারের নিষেধাজ্ঞাও বাংলাদেশকে সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল। আইসিসি যদি প্রতিযোগিতার মাঝপথে না এসে তার আগেই এই ব্যবস্থা নিত তাহলে আর এ সমস্যা হতো না। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক মনোভাব আমার ভালো লেগেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা: আমাকে সবচেয়ে হতাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই দলকে আর কখনো সমর্থন জানাব না। দক্ষিণ আফ্রিকা বারবার তাদের সমর্থকদের হতাশা উপহার দিয়েছে, প্রমাণ করেছে বড় উপলক্ষ সামনে এলেই স্নায়ুচাপে ভোগে তারা। ইংল্যান্ড: এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় চমক ছিল ইংল্যান্ড। তারা সঠিক ক্রিকেট খেলেছে। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো উপমহাদেশের দলগুলোর চেয়ে ভালো করেছে ওরা। অবশ্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় চলে গেলে এটি স্বাভাবিক। শ্রীলঙ্কা দলে এটির প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সময় এসেছে দলে বড় ধরনের রদবদল করার। ভারত: ভারত প্রতিভাবান কিছু খেলোয়াড় পেয়ে গেছে। চাপ সহ্য করার দারুণ ক্ষমতা আছে বিরাট কোহলির, দেখিয়েছে দলকে সে এগিয়ে নিতে পারবে। উচ্চাভিলাষী কোনো শট নেই, সুইচ হিট কিংবা স্কুপও করতে দেখা যায় না। পরিপূর্ণ এক টেস্ট ক্রিকেটারের ব্যাটিং দিয়েই সে দুর্দান্ত এক টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান। আশা করি বিরাট, রোহিত শর্মা ও অজিঙ্কা রাহানে সব সংস্করণেই ভারতের ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে উঠবে। (পিচ সলিউশন আর)

অ্যাটলেটিকোর সামনে অন্য বার্সা

ক্লাসিকোর হতাশা ঝেড়েই নেমে পড়তে
হচ্ছে মাঠে, আজ প্রতিপক্ষ অ্যাটলেটিকো।
দুর্দান্ত গতিতেই ছুটছিল এক্সপ্রেস ট্রেনটা। হঠাৎ করেই ‘বেরসিক’ রিয়াল মাদ্রিদ বাগড়া দিয়ে একটু ছন্দপতন ঘটিয়েছে। এখন সেটিকে আবার জোরে ছোটাতে হবে। না ছুটিয়ে অবশ্য উপায় নেই বার্সেলোনার, আজই যে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ! টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর দুই দিন আগে রিয়ালের কাছে হেরেছে বার্সা। তা-ও নিজেদের মাঠে। আজ ন্যু ক্যাম্পেই আবার নামার আগে ওই স্মৃতিটা যেভাবেই হোক মাথা থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে মেসিদের। বার্সা কোচ লুইস এনরিকে তো এল ক্লাসিকো শেষের পরই বলে দেন, ৯০ মিনিট শেষের পর পরেই ওই ম্যাচের স্মৃতিটা ভুলে গেছেন। কিন্তু চাইলেই কি সবকিছু ভুলে থাকা যায়? অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে নিশ্চয়ই ওই ম্যাচের ভিডিওটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। জিনেদিন জিদানের কৌশল থেকে হয়তো কিছু দীক্ষাও নিয়েছেন। অবশ্য বার্সার সঙ্গে গত কিছুদিনে অ্যাটলেটিকো যেমন খেলেছে, তাতে রিয়ালের কীর্তিটা করে দেখানো সহজ নয়। বার্সেলোনার কাছে গত ছয়টি ম্যাচই হেরেছে অ্যাটলেটিকো। তারপরও সিমিওনের একটা প্রেরণা তো আছেই। গত আট বছরে মাত্র একবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি বার্সা, সেই ২০১৩-১৪ মৌসুমে। সেবার শেষ আটে অ্যাটলেটিকোই বিদায় করে দিয়েছিল বার্সাকে। সিমিওনে ওই ম্যাচের স্মৃতিটাও নিশ্চয় মনে করিয়ে দেবেন। তার ওপর এই সপ্তাহেই বেটিসকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আত্মবিশ্বাসের পাল্লাটা ভারীই থাকার কথা। সেই আত্মবিশ্বাসটা যাতে টাল না খায়, বার্সা কোচ লুইস এনরিকে এখন সেই চেষ্টাই করছেন। তবে বার্সার সাবেক স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি ভয় পাচ্ছেন, সেই কাজটা খুব একটা সহজ হবে না, ‘আমি তো বার্সেলোনাকে চিনি, একটু হলেও দ্বিধা থাকবে। একটা হার অনেক সময় আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়ে দিতে পারে, সেটা আমরা সামনের ম্যাচগুলোতেই দেখব। আমার মনে হয় লিগ বার্সা জিতে গেছে, কিন্তু অন্য ম্যাচগুলোয় কেমন করে সেটাই দেখার বিষয়।’ বার্সা-অ্যাটলেটিকোর ম্যাচের দিকেই সবার চোখ, তবে আজ আরেকটা ম্যাচও আছে। পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাকে নিজেদের মাঠে আতিথ্য দেবে বায়ার্ন মিউনিখ। এই সপ্তাহে ফ্রাঙ্কফুর্টকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। তবে জিতলেও ওই দিন বায়ার্নের খেলা মন ভরাতে পারেনি। অধিনায়ক ফিলিপ লাম তাই সতীর্থদের একটা বার্তাই দিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক বিরতির পর এ রকম খেলা হতেই পারে। সেটা স্বাভাবিক। তবে আমার মনে হয় মঙ্গলবার আমরা অন্য একটা দল দেখব। আমাদের আরও ভালো করতে হবে, তবে সেটি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই।’
বেনফিকার বিপক্ষে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অন্তত উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা নয় বায়ার্নের! এএফপি। আজ মুখোমুখি
বার্সেলোনা : অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
বায়ার্ন মিউনিখ : বেনফিকা
* স্বাগতিক দল প্রথমে
* অ্যাটলেটিকো ছাড়া আর দুটি দলই বার্সাকে শেষ আট থেকে বিদায় করতে পেরেছে—১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে পিএসজি ও ২০০২-০৩ মৌসুমে জুভেন্টাস
* এই মৌসুমে দুবারের দেখাতেই বার্সার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে অ্যাটলেটিকো
* এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে যে তিনবার বায়ার্ন বেনফিকাকে হারিয়েছে, প্রতিবারই ফাইনালে উঠেছে
অ্যাটলেটিকোর সামনে অন্য বার্সা দুর্দান্ত গতিতেই ছুটছিল এক্সপ্রেস ট্রেনটা। হঠাৎ করেই ‘বেরসিক’ রিয়াল মাদ্রিদ বাগড়া দিয়ে একটু ছন্দপতন ঘটিয়েছে। এখন সেটিকে আবার জোরে ছোটাতে হবে। না ছুটিয়ে অবশ্য উপায় নেই বার্সেলোনার, আজই যে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ! টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর দুই দিন আগে রিয়ালের কাছে হেরেছে বার্সা। তা-ও নিজেদের মাঠে। আজ ন্যু ক্যাম্পেই আবার নামার আগে ওই স্মৃতিটা যেভাবেই হোক মাথা থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে মেসিদের। বার্সা কোচ লুইস এনরিকে তো এল ক্লাসিকো শেষের পরই বলে দেন, ৯০ মিনিট শেষের পর পরেই ওই ম্যাচের স্মৃতিটা ভুলে গেছেন। কিন্তু চাইলেই কি সবকিছু ভুলে থাকা যায়? অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে নিশ্চয়ই ওই ম্যাচের ভিডিওটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। জিনেদিন জিদানের কৌশল থেকে হয়তো কিছু দীক্ষাও নিয়েছেন। অবশ্য বার্সার সঙ্গে গত কিছুদিনে অ্যাটলেটিকো যেমন খেলেছে, তাতে রিয়ালের কীর্তিটা করে দেখানো সহজ নয়। বার্সেলোনার কাছে গত ছয়টি ম্যাচই হেরেছে অ্যাটলেটিকো। তারপরও সিমিওনের একটা প্রেরণা তো আছেই। গত আট বছরে মাত্র একবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি বার্সা, সেই ২০১৩-১৪ মৌসুমে। সেবার শেষ আটে অ্যাটলেটিকোই বিদায় করে দিয়েছিল বার্সাকে। সিমিওনে ওই ম্যাচের স্মৃতিটাও নিশ্চয় মনে করিয়ে দেবেন। তার ওপর এই সপ্তাহেই বেটিসকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আত্মবিশ্বাসের পাল্লাটা ভারীই থাকার কথা। সেই আত্মবিশ্বাসটা যাতে টাল না খায়, বার্সা কোচ লুইস এনরিকে এখন সেই চেষ্টাই করছেন। তবে বার্সার সাবেক স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি ভয় পাচ্ছেন, সেই কাজটা খুব একটা সহজ হবে না, ‘আমি তো বার্সেলোনাকে চিনি, একটু হলেও দ্বিধা থাকবে। একটা হার অনেক সময় আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়ে দিতে পারে, সেটা আমরা সামনের ম্যাচগুলোতেই দেখব। আমার মনে হয় লিগ বার্সা জিতে গেছে, কিন্তু অন্য ম্যাচগুলোয় কেমন করে সেটাই দেখার বিষয়।’ বার্সা-অ্যাটলেটিকোর ম্যাচের দিকেই সবার চোখ, তবে আজ আরেকটা ম্যাচও আছে। পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাকে নিজেদের মাঠে আতিথ্য দেবে বায়ার্ন মিউনিখ। এই সপ্তাহে ফ্রাঙ্কফুর্টকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। তবে জিতলেও ওই দিন বায়ার্নের খেলা মন ভরাতে পারেনি। অধিনায়ক ফিলিপ লাম তাই সতীর্থদের একটা বার্তাই দিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক বিরতির পর এ রকম খেলা হতেই পারে। সেটা স্বাভাবিক। তবে আমার মনে হয় মঙ্গলবার আমরা অন্য একটা দল দেখব। আমাদের আরও ভালো করতে হবে, তবে সেটি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই।’ বেনফিকার বিপক্ষে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অন্তত উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা নয় বায়ার্নের! এএফপি। আজ মুখোমুখি   বার্সেলোনা :       অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
বায়ার্ন মিউনিখ :       বেনফিকা
* স্বাগতিক দল প্রথমে
n  অ্যাটলেটিকো ছাড়া আর দুটি দলই বার্সাকে শেষ আট থেকে বিদায় করতে পেরেছে—১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে পিএসজি ও ২০০২-০৩ মৌসুমে জুভেন্টাস
n  এই মৌসুমে দুবারের দেখাতেই বার্সার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে অ্যাটলেটিকো
n  এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে যে তিনবার বায়ার্ন বেনফিকাকে হারিয়েছে, প্রতিবারই ফাইনালে উঠেছে 

স্টোকসের ব্যথাটা বুঝছেন মাশরাফি by তারেক মাহমুদ

হতাশায় উইকেটের ওপরেই বসে পড়লেন ইংলিশ অলরাউন্ডার
বেন স্টোকস। ব্রাফেটের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং-তাণ্ডব তাঁর ওপর
দিয়ে যাবে, এটি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না
যেন টাইম মেশিনে চড়ে বসলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা! এক মুহূর্তে ফিরে গেলেন ২০০৬-এর ২ আগস্টে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠের সেই অভিশপ্ত ওভারে। জেতার জন্য ১ ওভারে ১৭ রান প্রয়োজন জিম্বাবুয়ের। বোলার মাশরাফি...। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ঘটনাটা আপনারও মনে পড়ে গেছে। ব্রেন্ডন টেলরের ঝোড়ো ব্যাট সেদিন হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের এই পেসারকে। শেষ বলে দরকার ছিল ৫ রান। টেলরের ছক্কা শুধু সেই দূরত্বটুকুই পার করায়নি জিম্বাবুয়েকে, মাশরাফির বুকে এঁকে দেয় নির্দয় এক ক্ষতচিহ্ন। এখনো শেষ ওভারে কোনো বোলারকে ও রকম অসহায় অবস্থায় পড়তে দেখলে যন্ত্রণাটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মাশরাফি অবচেতনে উঠে বসেন টাইম মেশিনে। পরশু রাতে ইডেন গার্ডেন ইংলিশ পেসার বেন স্টোকস তাঁকে আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন হারারের দুঃস্মৃতি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে কথা বলার সময় কাল মাশরাফি নিজেই টেনে আনলেন সে প্রসঙ্গ, ‘আমার মনে হয় আমিই সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পেরেছি ওই সময় স্টোকসের কেমন লেগেছে। হয়তো আমার জীবনেও এ রকম ঘটেছে বলেই...।’ ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে ১৯ রান নিতে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথম বলেই কার্লোস ব্রাফেটের ছক্কা। ওই ছক্কা দেখেই মাশরাফি বুঝে গিয়েছিলেন, স্টোকসের পক্ষে আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব নয়, ‘শেষ ওভারের আগে বলছিলাম, প্রথম বলটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রথম বলে যদি এক বা দুই হতো, বোলারের আত্মবিশ্বাস অন্য পর্যায়ে চলে যেত। কিন্তু প্রথম বলে ছয় হয়ে গেলে যেকোনো বোলারের আত্মবিশ্বাস নড়ে যেতে বাধ্য।’ স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে শেষ ওভারের প্রথম বলে ছয় খাওয়ার মানসিক ধাক্কা সামলাতে সক্ষম, বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এমন মাত্র দুজন পেসারই দেখেন বিশ্ব ক্রিকেটে। একজন তাঁর দলেরই মুস্তাফিজুর রহমান। অন্যজন শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা, ‘আমার মনে হয়, এই দুজন ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো পেসারই প্রথম বলে ছয় খাওয়ার চাপ সামলাতে পারত না।’ ২০০৬-এর ধাক্কা অবশ্য পরে মাশরাফিও ভালোভাবেই সামলে ওঠেন। তবে স্টোকসকে সাহস দিতে নিজের কথা না বলে উদাহরণ টেনেছেন আরেক ইংলিশ বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডের। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার ১ ওভারে যুবরাজ সিংয়ের ছয় ছক্কার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুতে স্টুয়ার্ট ব্রডের এর চেয়েও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। পরে তো সে টেস্টে তিন শর বেশি উইকেট নিল। ইংলিশদের যে সংস্কৃতি তাতে স্টোকসও দ্রুতই এই ধাক্কা সামলে উঠবে বলে আশা করি।’ অবশ্য স্টোকস ইংলিশ না হয়ে বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের খেলোয়াড় হলে কাজটা কঠিন হতো বলেই তার অনুমান, ‘শ্রীলঙ্কা ছাড়া উপমহাদেশের অন্য যেকোনো দেশের ক্রিকেটার হলে স্টোকসের জন্য এই ম্যাচের পর ফিরে আসা অনেক কঠিন হতো। ও যদি পারত, মানুষ তাকে তা করতে দিত না। প্রচণ্ড মানসিক চাপে পড়ে যেত।’ ফাইনালের এক পিঠে যখন বেন স্টোকসের জন্য শোকগাথা, অন্য পিঠেই তখন ক্যালিপসোর মাদকতা। চতুর্থ বলেও ছক্কা খেয়ে স্টোকসের ইডেনের উইকেটের ওপর বসে পড়ার দৃশ্য থেকে মাশরাফির চোখও চকিতে সরে যায় সেদিকে, ‘ফাইনালে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই চেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতুক। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল তাদের উদ্যাপন এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, সবাই ওটা দেখেই মজা পাচ্ছে। অনেকে ওটা দেখার জন্যও চেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতুক।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতায় পরশু রাতেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল, অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহিলা দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাশরাফি। স্টোকসের জন্য সমবেদনাও সেখানে আছে। আর আছে ব্রাফেট-স্যামুয়েলসের প্রশংসা। স্যামুয়েলস তো এখন মাহেলা জয়াবর্ধনের মতোই ‘ফাইনালের খেলোয়াড়ে’র মর্যাদা পাচ্ছেন তাঁর চোখে। এ নিয়ে মাশরাফি গর্বও করতে পারেন ড্যারেন স্যামির মতো। গত বিপিএলে স্যামুয়েলস খেলেছেন চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে। স্যামুয়েলসের অধিনায়ক তো তিনিও!

জরিমানাও হলো স্যামুয়েলসের

সবাইকে হতবাক করে পরশু সংবাদ সম্মেলনে এভাবে
টেবিলে পা তুলে দিলেন মারলন স্যামুয়েলস
ফাইনালে ৬৬ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮৫ রানের হার না-মানা ইনিংস খেলেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাতে মারলন স্যামুয়েলসের ওই ইনিংসের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান এই ব্যাটসম্যান তাই হয়েছেন ম্যাচসেরাও। তবে একই ম্যাচে আইসিসির আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগেও অভিযুক্ত হয়েছেন স্যামুয়েলস। আর সে কারণে ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ জরিমানা হয়েছে তাঁর। ঘটনাটি ম্যাচের শেষ ওভারে, ব্যাট করছিলেন কার্লোস ব্রাফেট, বোলিং করছিলেন বেন স্টোকস। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা স্যামুয়েলস এ সময় ইংল্যান্ডের পেসার স্টোকসকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেন। পরে ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালের আনা অভিযোগ ও শাস্তি মেনে নেন স্যামুয়েলস, তাই আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। আইসিসি এলিট প্যানেল তাঁকে ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ জরিমানা করেছে। যে প্যানেলে ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে ছাড়াও রয়েছেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ও রড টাকার, তৃতীয় আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস ও চতুর্থ আম্পায়ার ব্রুস অক্সেনফোর্ড।

বিশ্বকাপ যখন জুবায়েরের আক্ষেপ

জুবায়ের হোসেন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মারলন স্যামুয়েলস-কার্লোস ব্রাফেটের বীরত্মগাথার আড়ালে চলে গেছে স্যামুয়েল বদ্রির লেগস্পিন। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা যে পাওয়ার প্লেতে খাবি খেল, সেটি বদ্রির বোলিংয়ের সৌজন্যেই। ক্যারিবীয় লেগস্পিনারে গুগলির সামনেই অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগান। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিয়মিতই বোলিং-জাদু দেখিয়েছেন লেগ স্পিনাররা। বদ্রির সঙ্গে সে তালিকায় আছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান, নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি, দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জাম্পা, ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ। টুর্নামেন্টের সেরা চার বোলারের দুজনই লেগস্পিনার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লেগ স্পিনারদের এই আধিপত্য আক্ষেপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের জুবায়ের হোসেনের, ‘বিশ্বকাপে লেগ স্পিনারদের দারুণ বোলিং দেখে মনে হয়েছে, খেললে হয়তো আমিও ভালো করতে পারতাম।’ ব্যাখ্যা করেছেন এই আত্মবিশ্বাসের কারণটাও, ‘লেগ স্পিনারদের হাতে গুগলি, ফ্লিপার নানা বিকল্প থাকে। টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানরা রান তুলতে অনেক তাড়াহুড়া করে। এতে লেগ স্পিনারদের উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’ গত নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছেন জুবায়ের। আসলেই প্রথম, ঘরোয়া ক্রিকেটেও যে কখনো টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি তাঁর! সেই ম্যাচে প্রথম ওভারে ১৭ রান দিলেও পরের ওভারে ৩ রানে পান ২ উইকেট। এরপর থেকে কীভাবে যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অদৃশ্যই হয়ে গেলেন ২০ বছরের এই তরুণ! এর আগে ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন জুবায়ের। ৬ টেস্টে ১৬ উইকেট, ইনিংসে ৫ উইকেট একবার। তবে পরিসংখ্যান তাঁর প্রতিভা পুরোপুরি মেলে ধরতে পারবে না। সে জন্য ফিরে যেতে হবে গত জুনে ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্টে। তাঁর গুগলি রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল ভারতের সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইনআপকে। সবচেয়ে বেশি খাবি খেয়েছিলেন কে জানেন? বিরাট কোহলি, বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। জুবায়েরের গুগলিতেই আউট হয়েছিলেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। লেগ স্পিনের ঘূর্ণিতে উইকেট দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ঋদ্ধিমান সাহাও। অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের একমাত্র জয়ের নায়কও ছিলেন তিনি। মাত্র ৮ বলে স্থানীয় দল গুটেংয়ের ৪ উইকেট নিয়েছিলেন জুবায়ের। গত তিন মাসে বাংলাদেশ দল ব্যস্ত সময় কাটালেও জুবায়েরের কেটেছে অলস সময়। তবে সময়টা কাজে লাগিয়েছেন বলেই জানালেন তিনি, ‘কিছুদিন রুয়ানের (কালপাগে) সঙ্গে অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছি। অ্যাকুরেসি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। ঘাটতিগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি।’ দিনের পর দিন দলের বাইরে থাকলেও হতাশ নন জুবায়ের। সম্প্রতি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার একটি কথা তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত, ‘মাশরাফি ভাই বলেছেন, সামনে আরও সময় আছে। যেখানেই খেলিস, ভালো করার চেষ্টা করবি। আমি তো মনে করি, আমাদের দলে মুস্তাফিজের পর তোরই সবচেয়ে ভালো বোলার হওয়ার সম্ভাবনা। কথাটা শুনে ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছি।’ সম্ভাবনা জাগিয়েও লেগ স্পিনারদের পথ হারিয়ে ফেলার নজির ক্রিকেটে কম নেই। মাশরাফির কথায় প্রেরণা খুঁজে নেওয়া জুবায়ের নিশ্চয়ই পথ হারাবেন না।

ওয়ার্নকে এভাবে জবাব!

ট্রফি জয়ের পর শহরের কোনো দর্শনীয় স্থানে সেটি নিয়ে ফটোসেশন
এখন প্রায় রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্যারেন স্যামি কাল গেলেন কলকাতার
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে। সেখানে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
সেই পরম আরাধ্য ট্রফিতে এভাবেই চুমো খেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক
অনেক দিনের হিসাব-নিকাশ বুঝি বাকি রয়ে গিয়েছিল। ৬৬ বলে ৯ চার আর ২ ছক্কায় অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংস খেলে পরশু রাতের ইডেনে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে মারলন স্যামুয়েলসের মনে হলো, শেন ওয়ার্নের সঙ্গে পুরোনো হিসাব এবার একটু চুকিয়ে নেওয়া যাক। প্রথমে ক্ষোভ ঝাড়লেন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে একেবারে ধুয়েই দিলেন ওয়ার্নকে। ক্ষোভের আগুনে ওয়ার্নকে পোড়াতে গিয়ে কিছুটা পোড়ালেন ইংলিশ বোলার বেন স্টোকসকেও। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে গিয়েছিলেন প্যাড পরেই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের উদ্যাপনে এতটাই মত্ত ছিলেন, হয়তো সেগুলো খুলে রাখারও সময় পাননি স্যামুয়েলস। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও ম্যাচসেরা হয়েছিলেন, এবারও তা-ই। চোখ-মুখ থেকে যেন ঠিকরে বেরোচ্ছিল একধরনের ঔদ্ধত্য। আর সেটা প্রকাশ করতে স্যামুয়েলস বেছে নিলেন সংবাদ সম্মেলনটা। ইংল্যান্ড অধিনায়ক এউইন মরগানের ব্রিফিং তখনো চলছিল, একটু আগেভাগেই চলে এসেছিলেন স্যামুয়েলস। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। মরগানের ব্রিফিং শেষে তিনি যখন চেয়ারে বসলেন তখন সবার চক্ষু চড়কগাছ! একি, স্যামুয়েলস যে প্যাড পরা পা দুখানা তুলে দিয়েছেন সামনের টেবিলে! পরে বোঝা গেল, প্যাড পরা থাকায় টেবিলের নিচে পা রাখতে অসুবিধা হচ্ছিল তাঁর। কিন্তু তাই বলে টেবিলে পা তুলে দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব কবে কোন খেলোয়াড় দিয়েছেন! আইসিসির মিডিয়া কর্তাও যেন তখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট। হজম করে গেলেন পুরো বিষয়টা! ‘আর ইউ কমফর্টেবল?’—সাংবাদিকদের প্রশ্ন করলেন স্যামুয়েলস। পরের ১০ মিনিট যেন ঝড়ই বয়ে গেল ইডেনের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে। ক্যারিবীয় এই তারকার মুখ যেন আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ, আর তা থেকে বেরিয়ে এল লাভা। সেই লাভায় পুড়লেন শেন ওয়ার্ন, বেন স্টোকসরা। মাঠেই স্যামুয়েলসের সঙ্গে একচোট হয়ে গিয়েছিল বেন স্টোকসের। শেষ ওভারে দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়েছে। পরে ইংলিশ অলরাউন্ডার কার্লোস ব্রাফেটের কাছে পরপর চারটি ছয় খাওয়ার পর স্টোকসকে ভীষণ খেপিয়েছেন স্যামুয়েলস। ম্যাচ শেষে প্রায় ছুটেই যাচ্ছিলেন ইংলিশ ডাগ-আউটের দিকে। ভাগ্যিস, সতীর্থরা টেনে ধরেছিলেন তাঁকে। সংবাদ সম্মেলনেও স্টোকসকে ফালি ফালি করলেন স্যামুয়েলস, ‘ওর শিক্ষা হয় না কখনো। সব সময় বেশি কথা বলে। আরে, কতবার সবাই বলেছে, আমার বিপক্ষে খেলার সময় বেশি কথা না বলতে। কারণ আমি পারফর্ম করবই। কিন্তু আমি ব্যাট করার আগেই বকবক করতে শুরু করল। এখন বোঝো, শেষ পর্যন্ত কী হলো!’ ওয়ার্নের সঙ্গে তাঁর শত্রুতা অবশ্য আরও পুরোনো। বছর তিনেক আগে বিগ ব্যাশে সেই ঝগড়ার পর থেকে সম্পর্কটা খুবই তিক্ত। তার ওপর কয়েক দিন আগে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আউট হওয়ার পর ধারাভাষ্যকক্ষে বসে থাকা ওয়ার্নের মন্তব্য আরও তাতিয়ে দেয় স্যামুয়েলসকে। পরশু ম্যাচসেরা হওয়ার পরই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নাসের হুসেইনের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় হঠাৎ করেই সেই ওয়ার্নের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন, ‘আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর একটি ব্যাপারই আমার মাথায় ছিল। শেন ওয়ার্ন খুব বেশি বকবক করছে। এই ম্যাচসেরার ট্রফি তার জন্য। আমি ব্যাট হাতে জবাব দিই, মাইক্রোফোনে নয়।’ পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে সরাসরিই বললেন, ‘আমি যখনই খেলতে নামি, ওয়ার্নের যেন কোনো একটা সমস্যা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলার সময়ও ওয়ার্ন আমাকে নিয়ে অনেক কিছু বলেছে। আমি তাকে কখনোই অশ্রদ্ধা করিনি। কিন্তু মনে হয়, তার ভেতরে অনেক কিছু জমা হয়ে আছে যেগুলো সে বারবার বের করে দিতে চাইছে। জানি না সে কেন এসব করছে। হয়তো আমার চেহারাটা আসল, ওরটা আসল নয়—এ কারণেই!’ এসব মন্তব্য ওয়ার্নের কানেও গেছে হয়তো। তবে পাল্টা ঝাল ঝেড়ে তিনি কিছু বলেছেন কি না, সেটি এখনো জানা যায়নি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেই কিন্তু ওয়ার্ন টুইট করেছিলেন, ‘দুই দলকেই অভিনন্দন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দারুণ খেলেছে। মারলন ও ব্রাফেট দুর্দান্ত। এবার তাহলে একটু নাচ দেখা যাক।’ স্যামুয়েলসরা নেচেছেন ঠিকই। কিন্তু নাচের পর যে ওয়ার্নকে এভাবে ধুয়ে দেবেন স্যামুয়েলস, সেটা কে ভাবতে পেরেছিল! ক্রিকইনফো।

‘এমএসএন’ রক্ত–মাংসেই গড়া

আজ অ্যাটলেটিকোর সঙ্গে এই এমএসএনকেই দেখতে চায় বার্সেলোনা।
মাত্র একটা ম্যাচে গোল পাননি তাঁরা তিনজন। তাতেই উঠে গেল শোরগোল। বাধ্য হয়ে বার্সেলোনা কোচ লুইস এনরিকেকে মনে করিয়ে দিতে হলো, মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ তো যন্ত্র নন, তিনজনই রক্তমাংসের মানুষ। এল ক্লাসিকোতে মেসি, নেইমার, সুয়ারেজ নিজেদের হারিয়েই খুঁজেছেন। তিনজনের কেউই গোল পাননি, ৩৯ ম্যাচ পর বার্সেলোনাকেও নিতে হয়েছে পরাজয়ের স্বাদ। ১৭ ম্যাচ পর এমএসএন ত্রয়ীর একজনও গোল পেলেন না, আর লিগে এই মৌসুমে এই ঘটনা মাত্র তৃতীয়বার হলো। আজই আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তার আগে কথা উঠল, এমএসএন কি ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে? এখন পর্যন্ত এই মৌসুমে এই তিনজন মিলে ১০৭ গোল করে ফেলেছেন। এনরিকে তাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘মেসি, নেইমার, সুয়ারেজ বিশ্বের সেরা, কিন্তু তারা কেউই যন্ত্র নয়। ওরা নিজেদের অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে, কিন্তু তার মানে এই নয় বার্সেলোনাকে হারানো সম্ভব নয়। বার্সার এখন পর্যন্ত যা অর্জন, সেটার সবটুকু ওদের জন্য নয়। আবার বার্সার হারের জন্যও শুধু ওরাই দায়ী নয়।’ এনরিকে জানিয়ে দিলেন, অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে আগের ম্যাচের স্মৃতিটা ঝেড়ে ফেলেই মাঠে নামবেন ওই তিনজন, ‘ওরা খুব ভালো অবস্থায় আছে।’ এল ক্লাসিকোর ম্যাচে আরদা তুরানকে নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। তুরান মাঠে নামার পরেই বার্সা খেই হারিয়ে ফেলেছে, এমন কথাও উঠেছে। এনরিকে ওই অভিযোগও উড়িয়ে দিলেন, ‘একজনের ওপর দোষ চাপানোটা খুবই অযৌক্তিক একটা ব্যাপার। আরদা খুব কঠিন একটা সময়ে এসেছিল। ও না নামলেও মাদ্রিদ গোল করতে পারত। আর আরদা খুবই ভালো একজন খেলোয়াড়, সহজে সে বল হারায় না। এটা সত্যি সবাই একই গতিতে খেলে না। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, আমাদের ধরনটা বুঝে ফেলেছে।’

‘দামি’বলেই বাদ গাভাস্কার?

বিসিসিআইয়ের চুক্তি থেকে বাদ যাচ্ছেন সুনীল গাভাস্কার।
অনেক দিন ধরেই কাজ করছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআইয়ের) সঙ্গে। সেই সম্পর্কটা বোধ হয় এবার ভেস্তে যেতে বসেছে। সুনীল গাভাস্কারের সঙ্গে ধারাভাষ্যকার হিসেবে নতুন করে বিসিসিআই চুক্তি করছে না বলেই জানাচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এপ্রিল-মেতে এবারের চুক্তি যখন শেষ হবে, তার পর আর সেটি নবায়ন করা হবে না বলেই জোর গুঞ্জন। কিন্তু এতদিনের সম্পর্কটা বিসিসিআই আর রাখতে চাচ্ছে না কেন? বোর্ডের একটা সূত্র জানাচ্ছে, গাভাস্কারের পারিশ্রমিক অতিরিক্ত বেশি হওয়ার কারণেই বিসিসিআই আর নতুন চুক্তি করছে না। এমনিতে বিসিসিআই ধারাভাষ্যকারদের সঙ্গে দুই ভাবে চুক্তি করে। একটা দীর্ঘ মেয়াদের জন্য, আরেকটি আলাদা করে প্রতিটি সিরিজে। গাভাস্কার সিরিজ প্রতিই কাজ করেছেন এত দিন। কিন্তু অন্য ধারাভাষ্যকারদের চেয়ে প্রায় আটগুণ বেশি টাকা নেন বলে জানা গেছে। অন্যরা যখন দিনপ্রতি ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ রুপি নেন, গাভাস্কারের জন্য সেটি ৮ লাখ রুপির কাছাকাছি। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সিরিজে দিন প্রতি ১০ লাখ রুপি নিয়েছেন। অবশ্য শুধু বেতন ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা নয়, গাভাস্কারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়াও একটা কারণ বলছে বোর্ডের একটি সূত্র। বিসিসিআইয়ের অনেক নীতির সঙ্গে গাভাস্কারের নাকি প্রায়ই মতবিরোধ হতো, সেটাও একটা কারণ হতে পারে। তবে কোন বিষয়ে এই মতবিরোধ, সেটি জানা যায়নি। এখন শোনা যাচ্ছে, দুই ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার ও হর্ষ ভোগলের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তি করতে যাচ্ছে বিসিসিআই। রবি শাস্ত্রীর সঙ্গেও হতে পারে লম্বা সময়ের চুক্তি। এই মুহূর্তে ভারতের টিম ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন শাস্ত্রী। কিন্তু সেই চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে সহসাই। শাস্ত্রীও আর এই পদে থাকতে আগ্রহী নন, পুরোনো পেশায় ফিরে যেতে চান বলেই গুঞ্জন।