Saturday, April 11, 2026

রাতে নিয়মিত ৮টার পর খাবার খেলে শরীরে যা ঘটে

আমাদের মধ্যে অনেকেই কাজের কারণে দেরি করে বাড়ি ফেরেন বা রাত জেগে থাকেন। তখন রাত ৮টার পরেই ডিনার সারতে হয়। কিন্তু নিয়মিত দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার প্রভাব শুধু ঘুমের ওপরই নয়, এটি শরীরের হজম, মেটাবলিজম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। রাতে দেরিতে খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক খাদ্যপ্রক্রিয়াকে বদলে দেয়। শোয়ার সময়ের কাছাকাছি খাবার খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, চর্বি সঞ্চয় ও দেহঘড়ি বিঘ্নিত হয়। এর ফলে ওজন বেড়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা ও বিভিন্ন মেটাবলিক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এতে বলা হয়, এই অভ্যাস ছয় মাস ধরে চললে এর প্রভাব জমতে থাকে এবং ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। ফিটনেস ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিদ আশলেশা জোশি জানান, রাতে দেরিতে খেলে শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিক রিদম নষ্ট হয়। সূর্যাস্তের পর হজমক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসে এবং গ্লুকোজ টলারেন্সও কমে যায়। ফলে কেউ যদি কয়েক মাস ধরে রাত ৮টার পর খাবার খান, তাহলে সেই খাবারের শক্তির বড় অংশ শরীরে চর্বি হিসেবে জমে যায়, ক্ষয় হয় না। তিনি আরও বলেন, এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চললে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ওঠানামা, খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বৃদ্ধি, গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ইত্যাদি দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেহঘড়ির ভারসাম্যও নষ্ট হয়, যা মেটাবলিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। জোশির মতে, হ্যাঁ, রাতে দেরিতে খাওয়ার ফলে শরীরে উল্লেখযোগ্য হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। রাতের বেলায় ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমে যায়, ফলে শরীর তখন রক্তে শর্করা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পাশাপাশি লেপটিন, যা তৃপ্তির সংকেত দেয়, সেটির কার্যকারিতাও কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। অন্যদিকে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন)-এর মাত্রা তখনও উঁচু থাকে, যা চর্বি জমাতে, ক্ষুধা বাড়াতে এবং মেটাবলিক সমস্যা তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। এই হরমোনীয় ভারসাম্যহীনতা কয়েক মাস ধরে চললে একটি চক্র তৈরি হয়- অতিরিক্ত ক্ষুধা, খারাপ ঘুম এবং ওজন কমার পরিবর্তে বাড়তে থাকা।

যদি কাজের বা জীবনযাত্রার কারণে দেরিতে খাওয়া এড়ানো না যায়, তবে কিছু কৌশল মেনে চললে এর ক্ষতি কমানো সম্ভব। হালকা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন- যেমন চর্বিহীন প্রোটিন, সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার। তেল, মাখন, চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কম রাখুন খাবার তালিকায়। কারণ এগুলো রাতে হজম হতে সময় লাগে। খাওয়া ও ঘুমের মধ্যে কমপক্ষে দুই ঘণ্টার বিরতি রাখুন, যাতে হজম সম্পূর্ণ হয়। খাবারের সময় নিয়মিত করুন। যদিও দেরি হয়, প্রতিদিন একই সময়ে খেলে দেহঘড়ি কিছুটা মানিয়ে নেয়। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত পানি পান, ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ এবং পরদিন সকালে সুষম ব্রেকফাস্টের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এসব অভ্যাস হরমোন ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। জোশি বলেন, দেরিতে খাওয়া একান্তই প্রয়োজন হলে, খাবারের গুণগত মান ও সময়ের ব্যবধানের দিকে নজর দিন। এতে শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণ, ঘুমের মান এবং শক্তির ভারসাম্য অনেক ভালো থাকবে।

mzamin

টমাহক কত দূরে আঘাত হানতে পারে, রাডারে কেন ধরা পড়ে না

দ্য গার্ডিয়ান ও সিএনএনঃ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দীর্ঘ পাল্লার ক্রুজ মিসাইল, যা যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে ছোড়া হয়।

নৌবাহিনীর ব্যবহৃত এ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপৃষ্ঠে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। নিচু উচ্চতায় ওড়ে বলে এটি রাডারে ধরা পড়ে না। এতে আছে উন্নত জিপিএস ও নেভিগেশন ব্যবস্থা, ফলে ত্রুটির সীমা মাত্র ১০ মিটার।

টমাহক প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে। এরপর সিরিয়াসহ একাধিক অভিযানে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ক্ষেপণাস্ত্র দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে পারে। সম্প্রতি ইরানে হামলায় এ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিটি টমাহকের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ফুট, ওজন তিন হাজার পাউন্ডের বেশি এবং দাম প্রায় ২০ লাখ ডলার। এতে এক হাজার পাউন্ড ওজনের বিস্ফোরক বসানো থাকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রশংসা করে একে ‘চমৎকার অস্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ইউক্রেন ও রাশিয়া সাধারণত আগেভাগে তাদের কৌশলগত পরিকল্পনা প্রকাশ্যে জানায় না। তবে ইউক্রেন টমাহক ব্যবহার করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

পেন্টাগন মনে করছে, ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক মজুতের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে এমন তিন মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-02%2Fp7yewkiw%2Ftomahawk.avif?rect=1%2C0%2C621%2C414&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স

সিরাজগঞ্জে বিপন্ন খয়রা কাস্তেচরা পাখি উদ্ধার

প্রকাশ ২৩ মার্চ ২০২৬ঃ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিপন্ন প্রজাতির একটি খয়রা কাস্তেচরা পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। পাখিটি সুস্থ হওয়ার পর অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চান্দাইকোনা বাজার এলাকা থেকে পাখিটি উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যার দিকে চান্দাইকোনা বাজার এলাকায় কয়েকজন কিশোর পাখিটিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। এটা দেখে স্থানীয় পরিবেশকর্মী মো. ফেরদৌস হোসেন পাখিটি উদ্ধার করে তাঁর ভাড়া বাসা বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রামে নিয়ে যান।

মো. ফেরদৌস হোসেন আজ সোমবার সকালে বিষয়টি জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কাজে স্বেচ্ছায় নিয়োজিত বেসরকারি সংগঠন ‘স্বাধীন জীবন’–এর নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাককে মুঠোফোনে জানান। সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পাখিটি স্বাধীন জীবন–এর হেফাজতে নেন তিনি।

মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, শারীরিকভাবে পাখিটি অসুস্থ ও দুর্বল। কৃষিকাজে ছিটানো কীটনাশকযুক্ত খাবার খেয়ে পাখিটির এমন অবস্থা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উদ্ধার করা বিপন্ন প্রজাতির খয়রা কাস্তেচরা পাখি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উদ্ধার করা বিপন্ন প্রজাতির খয়রা কাস্তেচরা পাখি। ছবি: প্রথম আলো

দাঁত স্কেলিং কী, কেন করা হয়, না করালেই–বা কী হয়

সহজভাবে বলতে গেলে স্কেলিং হলো গভীরভাবে দাঁত পরিষ্কার করার পদ্ধতি। দাঁতের গোড়ার কাছে যে পাথর ও ব্যাকটেরিয়া জমা হয়, তা পরিষ্কার করা হয় স্কেলিংয়ের মাধ্যমে। দন্তচিকিৎসকেরা মাড়ির কিছু রোগে স্কেলিংয়ের পরামর্শ দেন। আদতে স্কেলিং করালে কী হয়, আর না করালেই–বা কী হয়?

স্কেলিং কোনো শল্যচিকিৎসা নয়। এখানে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে দাঁত পরিষ্কার করার কাজটা করা হয়। মাড়ির মৃদু ও মাঝারি তীব্রতার বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা হিসেবেও করা হয় স্কেলিং।
সুন্দরভাবে স্কেলিং করাতে একটু সময় লাগতে পারে। বিশেষত দাঁতে জমা ময়লা বা পাথরের পরিমাণ বেশি হলে সময়টা বেশি লেগে যেতে পারে। তাই কিছুটা বাড়তি সময় হাতে নিয়েই যাওয়া উচিত এ কাজে।
স্কেলিং করালে বেশ কিছু সমস্যা মিটে যায়। তবে স্কেলিং করানোর পরও কিন্তু দাঁত ও মাড়ির প্রতি যত্নশীল থাকা প্রয়োজন, যাতে দ্রুতই আবার স্কেলিং করানোর প্রয়োজন না পড়ে। একবার স্কেলিং করানোর কত দিন পর পুনরায় স্কেলিং করানোর প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়টি দন্তবিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নেবেন।
যেসব সমস্যা মিটবে

- স্কেলিং করালে দাঁতে জমা হওয়া ময়লা ও পাথর পরিষ্কার হয়ে যায়।

- মাড়ি ব্যথা ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়া নিরাময় হয়।

- মাড়ির ক্ষয় এড়ানো সম্ভব হয়।

- মুখের কোথাও ময়লা জমা হওয়ার অর্থই হলো তা বহু ব্যাকটেরিয়ার আস্তানা হয়ে ওঠা। ব্যাকটেরিয়ার কারণে স্বাস্থ্যের অন্যান্য ক্ষতি তো হয়ই, সবচেয়ে বিব্রতকর ব্যাপার যেটা ঘটে, তা হলো মুখে বেশ দুর্গন্ধ হয়। স্কেলিং করালে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় কমে যায়, দুর্গন্ধও কমে আসে। দাঁত দেখায়ও সুন্দর।

যেসব পরিবর্তন দেখা দিতে পারে

স্কেলিং করানোর পর মাড়ি থেকে কিছুটা রক্ত পড়তে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই। দিন দুয়েক একটু ব্যথাও থাকতে পারে। কয়েকটা দিন একটু অস্বস্তিকর অনুভূতি হতে পারে।

স্কেলিং করানোর আগে মাড়ি ফোলা থাকলে এই ফোলা ভাবটা কমে যায়। তাই হঠাৎ আপনার মনে হতে পারে, দাঁতের গোড়াটা একটু বেশি দেখা যাচ্ছে।
কারও কারও ক্ষেত্রে স্কেলিং করানোর পর ঠান্ডা বা গরম খাবার খাওয়ার সময় কিছুটা সমস্যা হতে পারে, যাকে বলা হয় অতিসংবেদনশীলতা। সর্বোচ্চ মাস দুয়েকের মধ্যে তা সেরে যায়।

স্কেলিং না করালে যা হবে

আপনার স্কেলিং করানো প্রয়োজন কি না, সে নির্দেশনা দেবেন একজন দন্তবিশেষজ্ঞ। যে সমস্যার জন্য আপনার স্কেলিং করানো প্রয়োজন, স্কেলিং না করালে তা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। বাড়তে পারে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি। ব্যথা ও দুর্গন্ধ তো হতেই পারে। এমনকি দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

আপনার স্কেলিং করানো প্রয়োজন কি না, সে নির্দেশনা দেবেন একজন দন্তবিশেষজ্ঞ
আপনার স্কেলিং করানো প্রয়োজন কি না, সে নির্দেশনা দেবেন একজন দন্তবিশেষজ্ঞ। ছবি: পেক্সেলস