Sunday, April 3, 2016

নির্বাচনে বিএনপির থাকা না থাকা সিদ্ধান্ত রাতে

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির থাকা না থাকা নিয়ে আজ রোববার সিদ্ধান্ত হতে পারে। রাতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত জানাবেন। আজ সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপি ইউপি নির্বাচনে থাকবে কি না, সেটি দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আজ রাতে বৈঠক হবে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঝপথে ইউপি নির্বাচন বর্জনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। মোটা দাগে দুটি কারণে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইউপি নির্বাচনের পরের তিনটি ধাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, নির্বাচনী মাঠে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী-সমর্থকদের ত্রাস সৃষ্টি, কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপি। দ্বিতীয়টি হলো, মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নানামুখী ঝুঁকি এড়ানো। দলের কেউ কেউ তৃতীয় দফার ভোটে না যাওয়া পক্ষে। যদিও ইতিমধ্যে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

নির্বাচনী সহিংসতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যুতে অবরোধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যুতে অবরোধ
নির্বাচনী সহিংসতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন মৃধা নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার বেলা একটার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা দুইটার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলছে। ‘সুজনের রক্ত বৃথা যেতে দেব না,’ ‘সুজনের নামে মিথ্যা অভিযোগ মানি না, মানব না’—শিরোনামের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অবরোধে অংশ নেন। ‘এ সময় পুলিশের অত্যাচার মানি না মানব না’ স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের একপর্যায়ে এক পাশের রাস্তার যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ সমাবেশটি ঘিরে রাখে। গত ৩১ মার্চ মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নে ভোট গণনার সময় নির্বাচনী সহিংসতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সুজন মৃধা মারা যান। সুজন দক্ষিণ বিরাঙ্গল গ্রামের বাচ্চু মৃধার ছেলে। তাঁর দাদা মোতালেব মৃধা ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে নির্বাচন করায় ভোট দিতে এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। ভোট গণনা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে সুজন মারা যান বলে সুজনের পরিবার ও বন্ধুদের অভিযোগ।

ভারতের কোচ হচ্ছেন রাহুল দ্রাবিড়?

ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হতে যাচ্ছেন রাহুল দ্রাবিড়?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান সাঙ্গ হতেই ভারতের ‘টিম ডিরেক্টর’ পদে রবি শাস্ত্রীর মেয়াদ শেষ। ভারতীয় পত্র-পত্রিকা জানাচ্ছে, শাস্ত্রীর মেয়াদ আর না বাড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) চিন্তাভাবনা নতুন কাউকে আনা। সৌরভ গাঙ্গুলী, শচীন টেন্ডুলকার ও ভিভিএস লক্ষণের সমন্বয়ে গঠিত বিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা পরিষদ সেরকমই ভাবছে বলে খবর। তাঁরা ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে এক সময়ের সতীর্থ রাহুল দ্রাবিড়কে ভাবছেন। ভারতীয় ‘এ’ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে সাফল্য দেখিয়েছেন দ্রাবিড়। সেটিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দ্রাবিড়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে নাকি কথাও বলে রেখেছেন সৌরভ, টেন্ডুলকাররা। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, টিম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বটা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নাকি শাস্ত্রী যথেষ্ট আগ্রহী। তবে বিসিসিআইয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের খবর দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, শাস্ত্রীকে আর না রাখার পক্ষেই সৌরভ-শচীন-লক্ষণের উপদেষ্টা কমিটির মত। দ্রাবিড় চূড়ান্ত কিছু না জানালেও ব্যাপারটা নিয়ে ভাবার সময় চেয়েছেন। যথেষ্ট স্বাধীনতাসহ তিনি চান দীর্ঘ মেয়াদে দলের দায়িত্ব। নিজের মতো করে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা পেলে তবেই ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিতে পারেন বলে জানা গেছে ভারতের হয়ে ১৬৪ টেস্ট ও ৩৪৪ ওয়ানডে খেলা সাবেক অধিনায়ক দ্রাবিড়কে দলের কোচ করার মূল কারণ টেস্ট ক্রিকেট। ২০১৬-২০১৭ সালে ১৮টি টেস্ট খেলার সূচি আছে ভারতীয় দলের। খেলোয়াড়ি জীবনে ব্যাটসম্যান দ্রাবিড়ের সুনাম ও ব্যক্তিত্ব ছিল, সেটিকে কাজে লাগাতে চায় বিসিসিআই।

গ্রিস শরণার্থীদের ফেরত পাঠাচ্ছে কাল থেকে

গ্রিসের আইডোমেনি গ্রামে এসে পৌঁছানো অভিবাসনপ্রার্থী ও শরণার্থীদের অনেকে অবস্থান
নিয়েছেন সেখানকার মাঠঘাট প্রান্তরে। কৃষিজমিতেও তাঁবু গেঁড়ে বসেছেন অনেকে। এ কারণে
ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকেরা গতকাল রাস্তা আটকে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের পাশ
কাটিয়ে কয়েকজন শরণার্থীকে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ও তুরস্কের চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিস থেকে তুরস্কে শরণার্থীদের পাঠানো শুরু হচ্ছে কাল সোমবার থেকে। কিন্তু এ বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়েও এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পাশাপাশি খোদ জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, হয়তো এসব শরণার্থীদের আবার সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। শরণার্থীদের গ্রহণ করতে তুরস্ক দুটি কেন্দ্র তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। বিতর্কিত এই চুক্তি অনুযায়ী, ইজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে যে শরণার্থীরা ইইউয়ের সদস্য দেশ গ্রিসে প্রবেশ করেছেন তাঁদের গ্রহণ করবে তুরস্ক। এসব শরণার্থী তাঁরাই যাঁরা আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেননি বা যাঁদের আশ্রয় পাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গ্রিস থেকে যাওয়া এক সিরীয় শরণার্থীর বিনিময়ে তুরস্ক থেকে আরেকজন শরণার্থীকে ইইউভুক্ত দেশে পুনর্বাসিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে যাঁরা ইউরোপে অবৈধভাবে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। ইইউয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা আশা করছেন আগামীকাল কয়েকশ শরণার্থী ফেরত যাবে। আর জার্মানি ঘোষণা দিয়েছে, তারা প্রথম আসা শরণার্থীকে গ্রহণ করতে চায়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তোবিয়াস প্লেট বলেন, বাচ্চাকাচ্চা আছে এমন পরিবারকে নিতে তাঁরা বেশি আগ্রহী। গত বছর ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থী তুরস্ক থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস হয়ে ইইউভুক্ত নানা দেশে ঢুকে পড়ে। এখন উত্তর ইউরোপের দেশগুলো তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় এক লাখেরও বেশি শরণার্থী আটকা পড়েছে গ্রিসে। বার্তা সংস্থা এপি গ্রিসের এক সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, গ্রিসের দ্বীপ লেসবস থেকেই শরণার্থীদের পাঠানো শুরু হবে। শরণার্থীদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বাসে করে নিয়ে যাওয়া হবে বড় নৌযানে।তবে বিবিসির খবরে তুরস্কের পশ্চিমের সীমান্ত শহর দিকিলির কাছের একটি শরণার্থী নিবন্ধন কেন্দ্রের অবস্থা জানিয়ে বলা হয়, গতকালও এ কেন্দ্র ছিল জনশূন্য। লেসবসের ঠিক উল্টো দিকের শহর দিকিলি। তবে গ্রিস থেকে শরণার্থী পাঠানোর এই প্রস্তুতির মধ্যে অবৈধভাবে তুরস্ক থেকে গ্রিসে ঢোকার প্রবণতা বন্ধ হয়নি। ১৬০ জন শরণার্থীকে গত শুক্রবারই দিকিলিতে আটক করে তুরস্কের উপকূল রক্ষী বাহিনী। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন লেসবসে পৌঁছে গেছে বলে জানানো হয় ওই প্রতিবেদনে। শরণার্থী বিনিময়ে ইইউয়ের এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে ইতিমধ্যেই ঘোরতর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, তুরস্ক জোর করে শরণার্থীদের সিরিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করছে। তবে তুরস্ক কারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত শুক্রবার গ্রিসের পার্লামেন্ট দেশে থাকা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর জন্য একটি আইন ১৬৯-১০৭ ভোটে পাশ করেছে। তবে নতুন এই আইনের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ জানিয়েছে শরণার্থীরা। গ্রিসের কিওস দ্বীপে কয়েকশ শরণার্থী তাদের আশ্রয় শিবিরের বেড়া ভেঙে ফেলে। তাদের উত্তর ইউরোপে যেতে দেওয়ারও দাবি জানায়। এক শরণার্থী বলেন, ‘এভাবে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিরাট ভুল। প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে আমরা তুরস্ক থেকে এখানে এসেছি। আমাদের পাচার করা হয়েছে। আমরা ফিরে যেতে পারি না।’ ওই শরণার্থী বলেন, ‘আমরা আবার ফিরে আসব। কেননা জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা ছুটছি।’এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর আগে তাদের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে গ্রিস ও তুরস্কের প্রতি। দুটি কেন্দ্র স্থাপন: গ্রিস থেকে আসা শরণার্থীদের গ্রহণ করতে এ পর্যন্ত তুরস্ক দুটি আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করেছে। তুরস্কের ইজমির প্রদেশে তৈরি করা দুটি কেন্দ্রে পানির পাইপ এবং বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তুরস্ক সরকার অবশ্য বলছে, এগুলো আশ্রয় কেন্দ্র না। এখানে এসে সাময়িকভাবে শরণার্থীরা থাকবেন। এরপর তাদের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হবে।

শেষ হলো স্বরকল্পনের দুই দশক পূর্তি উৎসব by মাসুম আলী

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়তনে
অনুষ্ঠিত হয় স্বরকল্পনের শ্রুতি প্রযোজনা ‘মাংসভুক পাখি’
‘তিমির বিনাশী মিছিলে আমরা চলেছি নিশিদিন’ স্লোগান নিয়ে স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্র প্রতিষ্ঠার দুই দশক উদযাপন অনুষ্ঠান আজ শনিবার শেষ হয়েছে। তিন দিনের এ অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বি
স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্র প্রতিষ্ঠার দুই দশক উদযাপন উপলক্ষে শোভাযাত্রা
শ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সেমিনার কক্ষে শুরু হয়। ওই দিন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সংগঠনের সভাপতি শাহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শিপলুর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের সুপরিচিত আবৃত্তিকারেরা অংশ নেন। গতকাল দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন আবৃত্তিকার মাহিদুল ইসলাম। এতে স্বরকল্পনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন ঘুরে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে দিয়ে ঘুরে টিএসসি এসে শেষ হয়। এদিন  সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় স্বরকল্পন’র শ্রুতি প্রযোজনা ‘মাংসভুক পাখি’। প্রযোজনাটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন জাহিদুর রহমান। পরে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় স্বরকল্পনের পঞ্চ দম্পতির আবৃত্তি ‘দ্বৈত জীবন’। তিন দিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিন শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়তনে উৎসবের সমাপনী হয়। সমাপনী পর্বে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মাসকুর-এ-সাত্তার। এতে ‘প্রান্তরে হাঁক কবিতার ডাক’ শীর্ষক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন স্বরকল্পন’র সদস্যরা। সন্ধ্যা ছয়টায় আমন্ত্রিত শিল্পীদের একক ও দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হলো তিন দিনের জমকালো উৎসব।

সালমানের জাদুঘরে যা যা থাকবে!

সালমান খান
যদি হয়েই যায় একটা সালমান জাদুঘর! তাহলে তখন সেই জাদুঘরে এই খানের কোন জিনিসগুলো থাকবে! তালিকাটি অবশ্য বেশ দীর্ঘই হওয়ার কথা। নিজের ফ্যাশন আর স্টাইলের কারণেও তো কম আলোচিত নন এই বলিউডের অভিনেতা। বিভিন্ন ছবিতে ব্যবহার্য সালমানের নিজস্ব স্টাইল হয়ে ওঠা বিভিন্ন জিনিস নিয়ে সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি ফটো স্টোরি করেছে। আর খুঁজে বের করেছে জাদুঘরে রাখার মতো সালমানের সেরা ‘পাঁচ’ স্মৃতি-বস্তু বা মেমোরেবিলিয়া। ‘ও জানে জানা’–এর সেই নীল জিনস প্যান্ট! ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’ ছবিটি যাঁরাই দেখেছেন ‘ও জানে জানা’ গানটির দৃশ্য নিশ্চয় মনে আছে। গিটার হাতে একটা ছেঁড়া জিনস প্যান্ট পরা খোলা শার্টের সালমানের সেই অভিনয় সে সময় সবারই নজর কেড়েছিল। তাই ‘সাল্লু’–এর কিছু যদি জাদুঘরে রাখতেই হয় তবে প্রথমেই যে ওই নীল ছেঁড়া জিনস প্যান্টটির নামই আসে! সেই তোয়ালে! আর যা–ই ভুলুন না কেন, হিন্দি ছবির সমঝদার হলে ‘জানে কি হ্যায় ছোড় দিন’ গানটির কথা তো আর ভোলার নয়। যাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন ২০১৪ সালে ‘আপ কি আদালত’-এর ২১ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে গানটির সঙ্গে তিন খান—শাহরুখ, আমির ও সালমানের পারফরম্যান্স নিশ্চয় আবার মনে করিয়ে দিয়েছে সে কথা। সাগরসৈকতে তোয়ালে পরে সালমানের সেই নাচ, তাঁর সেরা ‘এন্টারটেইনিং’ গানগুলোর একটি। কালো একটি চশমা পরে সাগরসৈকতে সালমানের সেই গান কি আর কম আবেদনময় ছিল! তাই তোয়ালেটাকেও যে রাখতে হচ্ছে জাদুঘরে! ‘তেরে নাম’-এর করুণ মুখের ছবি! ‘তেরে নাম’ ছবিতে সালমানের সেই করুণ মুখের চাহনি তো লাখো ভক্তের হৃদয় ভেঙে চুরমারই করে দিয়েছিল। মুখে কালো ভাঁজ পড়া সে অভিনয় দেখে কতজন যে অঝোরে চোখের জল বিসর্জন দিয়েছিলেন কিংবা এখনো দিচ্ছেন, তার কি কোনো হিসাব আছে? এ দৃশ্য যে সালমানের অভিনয় শক্তিমত্তারও প্রমাণ! সেই সঙ্গে তাঁর ‘তেরে নাম হেয়ার স্টাইল’তো লাখো তরুণের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল রাতারাতি। সেই করুণ মুখের একখানা স্থিরচিত্রকেও জাদুঘরের বাসিন্দা করতে হচ্ছে। ব্রেসলেট রহস্য! বারবার নিজের বক্স অফিসের রেকর্ড ভাঙায় সালমানের জুড়ি মেলা ভার। একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে এই খান নিজেকে প্রতিনিয়ত নিয়ে গেছেন উঁচু থেকে আরও উঁচুতে। একজন দক্ষ অভিনেতা, চেহারার গ্ল্যামার—সব মিলিয়ে সালমান তো সালমানই! কিন্তু রহস্যটা কী! সেই ব্রেসলেট! পর্দা কিংবা পর্দার বাইরে ফিরোজা পাথর বসানো সেই ব্রেসলেটটা যে তাঁর নিত্যসঙ্গী! ! এটাকেও নিতে হলো জাদুঘরে। চুলবুল চশমা! চুলবুল পান্ডেকে কি আর চশমা ছাড়া মানায়? অনেকেই ‘দাবাং’ ছবিটির বক্স অফিস মাতানোর পেছনে স্টাইলিশ ওই চশমাটাকেও কৃতিত্ব দেন! তাই সালমান জাদুঘরে অনিবার্যভাবেই নিতে হচ্ছে এই চশমাটাকেও।

‘বালিকা বধূ’ প্রত্যুষার মৃত্যু ও ৫টি তথ্য!

প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’র পরিচিত মুখ বাঙালি অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার মুম্বাইয়ের বাড়ি থেকে প্রত্যুষার গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আন্ধেরির কোকিলাবেন হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, প্রত্যুষা আত্মহত্যা করেছেন। কলকাতার জামশেদপুরের মেয়ে প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত শেষ সম্প্রচারিত ধারাবাহিক ‘শ্বশুরাল সিমার কি’। রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস৭’-এও দেখা গিয়েছে তাঁকে। জি নিউজ ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তোলপাড় শুরু হয়েছে বলিউডে। বালিকা বধূর ‘আনন্দী’ কি আত্মঘাতী হলেন? নাকি তাঁকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে? এমনই বহু প্রশ্ন উঠে আসছে এই ঘটনাকে ঘিরে। এই মৃত্যু নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন সালমন খান। ‘বিগ বস সিজন সেভেন’ থেকেই প্রত্যুষাকে চিনতেন তিনি। এই রিয়্যালিটি শো-তে প্রত্যুষা প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। গতকাল শুক্রবার নায়িকার অকালমৃত্যুর পর সল্লু জানিয়েছেন, ‘বিগ বস’-এ যখন প্রত্যুষা এসেছিল, ওর বয়স মাত্র ২০। সালমন জানিয়েছেন, মৃত্যুর খবর শুনে তিনি মানসিকভাবে খুবই আঘাত পেয়েছেন। দিনভর শুটিংয়ের ফাঁকে চোখ রেখেছেন প্রত্যুষার মৃত্যু সংক্রান্ত নানা খবরে। প্রত্যুষা সম্পর্কে ৫টি অজানা তথ্য
. বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল বিয়ে করতে চলেছেন প্রত্যুষা আর রাহুল। বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু শুক্রবার যখন উদ্ধার হলো মৃতদেহ তখন প্রত্যুষার মাথায় ছিল সিঁদুর। এখন প্রশ্ন, তবে কী কাউকে না জানিয়ে আগেই বিয়ে করে ফেলেছিলেন প্রত্যুষা?
২. দুটি সম্পর্কে ইতি টানার পর অভিনেতা-প্রোডিউসার রাহুল রাজ ছিলেন প্রত্যুষার তৃতীয় প্রেমিক। আপাতদৃষ্টিতে তাদের সম্পর্ক ভালো বলে মনে হলেও শোনা যাচ্ছে ইদানীং রাহুলের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। এর কারণ অর্থ সংক্রান্ত। রাহুলের কাছে প্রত্যুষার বাবা-মা ৪ কোটি টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই অর্থ ফেরত চাইতেই শুরু হয় অশান্তি।
৩. মিষ্টি চেহারার প্রত্যুষাকে বাইরে থেকে খুব হাসিখুশি দেখালেও ভেতরে-ভেতরে খুব একা হয়ে পড়েছিলেন। শোনা যায় সেই একাকিত্ব কাটাতে নাকি বেছে নিয়েছিলেন মাদকের আশ্রয়। মাদকের নেশা এতটাই বেশি প্রত্যুষাকে গ্রাস করেছিল যে, তাঁকে তিনটি ধারাবাহিক থেকে বাদ পড়েছিলেন।
৪. সেলিব্রিটি মানেই অ্যাকটিভ টুইটারে। প্রত্যুষাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। নিয়মিত দেখা যেত তাঁর টুইট। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতেন ছবি। কিন্তু হঠাৎ নভেম্বর মাস থেকে আর টুইটারে দেখা যায় না ‘আনন্দীকে’। অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেট করেন। প্যারিসে হামলার পর মৃতদের জন্য সমবেদনা জানিয়ে টুইটারে প্রত্যুষা শেষ টুইট করেন।
৫. শুক্রবার শেষ প্রত্যুষার সঙ্গে দেখা হয়েছিল প্রতিবেশী অনুজের। কাঁদতে কাঁদতে অনুজকে বলেছিলেন, রাহুল ওকে ঠকিয়েছে। শোনা যাচ্ছে সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে রাহুলের ফের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকায় তা মেনে নিতে পারেননি প্রত্যুষা।

জাদুঘরে চৈত্রে বই উৎসব শুরু

জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী হলে আজ শনিবার বিকেলে
চৈত্রের বইমেলার উদ্বোধন করা হয়। প্রথমাসহ দেশের ১০টি
প্রকাশনা সংস্থা এতে অংশগ্রহণ করে।
দশ প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণে জাতীয় জাদুঘরে শুরু হলো চৈত্রে বই উৎসব। নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে বসেছে রকমারি বইয়ের পসরা। সেখানে রয়েছে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ভ্রমণ, আত্মজীবনী, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু বিচিত্র গ্রন্থের সম্ভার। আজ শনিবার বিকেলে ১১ দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন প্রকাশকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে অ্যাডর্ন প্রকাশনীর প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, প্রকৃত অর্থে বইয়ের পাঠক কমেনি। শুধুমাত্র অমর একুশে গ্রন্থমেলার বিক্রির পরিমাপ দিয়ে পাঠকের সংখ্যা নির্ধারিত হয় না। ক্রমশই জাতির মধ্যে বইয়ের প্রতি একটা মমত্ববোধ তৈরি হচ্ছে। তবে পাঠক বাড়াতে হলে শুধু ঢাকায় বইমেলা করলেই চলবে না—এটাকে ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায়। সব জেলা ও উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় বইমেলার আয়োজন করতে হবে। তাহলেই বাড়বে বই পাঠকের সংখ্যা। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সেলিনা হোসেন বলেন, অনলাইনের দাপটে যেন বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ না হারায়, সে বিষয়টির প্রতিও নজর দিতে হবে। কারণ, আমরা বইয়ের সঙ্গে সরাসরি সখ্য গড়তে চাই। এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা বইয়ের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছে, এটা আশার কথা। সারা বছরের জন্য স্থায়ীভাবে একটি বইমেলা করা প্রয়োজন। এই দুই অতিথি ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন কবি আজিজুর রহমান আজিজ, জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আলম তালুকদার। অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন রেজাউর রহমান, লেখক সুব্রত বড়ুয়া, মোরশেদ শফিউল হাসান, মুহম্মদ লুৎফুল হক, কথাসাহিত্যিক আতা সরকার, কাকলী প্রকাশনীর প্রকাশক এ কে নাছির আহমদ সেলিম, অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলনকান্তি নাথ, সময় প্রকাশনের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ, বেঙ্গল পাবলিকেশনসের পক্ষে কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসনাতসহ নবীন-প্রবীণ লেখকবৃন্দ। মেলায় অংশগ্রহণকারী দশটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হলো প্রথমা, অনন্যা, সময়, অ্যাডর্ন, অনুপম, কাকলী, অবসর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বেঙ্গল পাবলিকেশনস ও ডেইলি স্টার বুকস। বই ভেদে ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ ছাড়ে পাঠকেরা বই সংগ্রহ করতে পারবেন এই উৎসবে। আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

শেষ হলো উদীচীর সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসংগীত উৎসবের একটি পরিবেশনা।
শেষ হলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত ‘সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা-২০১৬’। শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ হয় দুদিনব্যাপী এ উৎসব। শুরুতেই গণসংগীত পরিবেশন করেন ঝুটন চন্দ্র, জান্নাত তাসনোভা চৌধুরী স্মিতা এবং ঝুমা দত্ত। এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সভাপতি কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এ পর্বের শুরুতে বক্তব্য দেন উদীচীর সহসভাপতি ও উৎসব আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শংকর সাওজাল। এরপর বর্ষীয়ান সাংবাদিক শুভ রহমান ও এ প্রজন্মের গণসংগীত শিল্পী সায়ানকে ফুল, উত্তরীয় ও শুভেচ্ছা স্মারক দিয়ে বরণ করে নেন উদীচীর নেতা-কর্মীরা। আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন শিল্পী সায়ান, উদীচীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম, অধ্যাপক বদিউর রহমান এবং বর্ষীয়ান সাংবাদিক শুভ রহমান। এ পর্বে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আসন্ন পয়লা বৈশাখে বিদেশ থেকে আমদানি করা ভুভুজেলা বাঁশি নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়। আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যায় ছিল নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমামের সঞ্চালনায় এ পর্বে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের শিল্পী-কর্মীরা। এ ছাড়া দলীয় সংগীত নিয়ে মঞ্চে আসে বিবর্তন, বহ্নিশিখা, চারণ এবং সংস্কৃতি মঞ্চ। একক সংগীত পরিবেশন করেন সায়ান, মাহমুদ সেলিম, হাবিবুল আলম, তানভীর আলম, নবনীতা সাহা, হামিদুল ইসলাম, বিপ্লব রায়হান এবং ঐশিকা নদী। ছিল ভারত থেকে আগত আমন্ত্রিত অতিথি বিপুল চক্রবর্তী ও অনুশ্রী চক্রবর্তীর দ্বৈত সংগীত পরিবেশনা।

ঘুরে আসুন

* বাংলা চলচ্চিত্রের গান ও আলোচনা
সময়: সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা
স্থান: জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমি, সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
* এক্সিসটেন্স
মো. সোহেল রানার একক চিত্র প্রদর্শনী
চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত
সময়: দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা
স্থান: শিল্পাঙ্গন গ্যালারি, বাড়ি–৭, সড়ক–১৩, ধানমন্ডি, ঢাকা।

মাহির কাছে নির্মাতাই গুরুত্বপূর্ণ

মাহিয়া মাহি
নায়ক নয়, নির্মাতাই মাহির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে বিপরীতে নায়ক কে থাকছেন, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা থাকলেও এখন সেখান থেকে নাকি তিনি সরে এসেছেন। তাঁর কাছে এখন নির্মাতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে আজ শনিবার দুপুরে এমনটাই জানালেন মাহি। ঢাকাই চলচ্চিত্রে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনায় এসেছেন মাহি। উপহার দিয়েছেন বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল ছবি। এসব ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন শাকিব খান, আরিফিন শুভ, বাপ্পি, সাইমন প্রমুখের সঙ্গে। চার বছরের অভিনয়জীবনে হঠাৎ ভাবনাজগতে এমন পরিবর্তন আসা প্রসঙ্গে মাহি বললেন, ‘যতই দিন পার করছি, আশপাশ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছি। বাড়ছে অভিজ্ঞতাও। সব মিলিয়ে তাই মনে হয়েছে, ছবির ক্ষেত্রে নায়ক খুব একটা “ম্যাটার” করবে না। ডিরেক্টরই বড় ফ্যাক্টর।’  মাহি বলেন, ‘তাই আমার মনে হয়, নায়িকার বিপরীতে নায়ক কে থাকবেন তা পরিচালক যাঁকে যোগ্য মনে করবেন তাঁকেই নির্বাচন করবেন। গল্পের সঙ্গে মানানসই কে হতে পারেন, সে ব্যাপারে নির্মাতাই সবচেয়ে ভালো বুঝবেন। অযথা এসব নিয়ে নায়িকার চিন্তা করার কিছু নেই।’ এদিকে মাস দুয়েকের বিরতিতে আবারও প্রেক্ষাগৃহে আসছে মাহি অভিনীত নতুন ছবি। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত এই ছবিতে মাহির সহশিল্পী বাপ্পি।

কাটাপ্পা কেন মেরেছিলেন বাহুবলীকে?

বাহুবলী
গত বছর মুক্তির পরপরই বলিউডে সাড়া ফেলে দিয়েছিল মহাকাব্যিক গল্পের ছবি ‘বাহুবলী’। প্রথম পর্বটিতে এই কাহিনি যেন শেষ হয়েও হয়নি শেষ। আর এ ছবির দর্শকদের অপেক্ষার পালাও যেন শেষ হচ্ছে না। কী হবে পরের পর্বে? বাহুবলীকে আগের জন্মে কেনইবা মেরেছিলেন কাটাপ্পা? এমন সব প্রশ্নের উত্তরে এ ছবির নির্মাতা রাজামৌলি সম্প্রতি জানিয়েছেন বেশ কিছু তথ্য। ‘বাহুবলী’ ছবির শেষ পর্ব ‘বাহুবলী-দ্য কনক্লুশন’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল। অপেক্ষার পালা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। আর অনেক কৌতূহল উদ্দীপক প্রশ্নের মতো একটি প্রশ্ন হলো, কাটাপ্পা কেনো মেরেছিল বাহুবলিকে? উত্তরটা জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে আর বছরখানেক। তবে, বাহুবলীর পেছনে যিনি, সেই নির্মাতা এসএস রাজামৌলির কাছ থেকেই অবশেষে এ সব প্রশ্নের কিছু সদুত্তর পাওয়া গেছে। ইউটিউবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাজামৌলি জানিয়েছেন, কাটাপ্পা আসলে বাহুবলীর মনের ইচ্ছাই পূরণ করেছেন। বাহুবলীই নাকি কাটাপ্পাকে বলেছিলেন তাঁকে (বাহুবলীকে) মারতে! যা হোক এ কাহিনিতে আসলেই কী ঘটেছিল, আর কেনই বা এমনটি বলেছিলেন বাহুবলী— তা জানতে হলে অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও এক বছর। ‘বাহুবলী-দ্য কনক্লুশন’ ছবিটির মুক্তির পরেই মিলবে এর যথার্থ উত্তর।

লা গ্যালারিতে শিল্পের তিন ছায়া

ছবি দেখছেন দর্শকেরা
দ্বৈতবাদী চিত্রকলা, ভাস্কর্য ও অনুচিত্র নিয়ে ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী। প্রতিষ্ঠানটির লা গ্যালারিতে মো. রাশেদ আলমের প্রথম এই একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘থ্রি শ্যাডোস অব আর্ট’ উদ্বোধন করা হয় গতকাল শুক্রবার বিকেলে। রাশেদ আলমের এই শিল্পকর্মগুলো ভিন্ন কোন থেকে ভিন্ন স্বাদ ও অনুভূতির স্বাদ জোগাবে। ভাস্কর্যের বিষয়টিও অনেকটা তেমন। এছাড়া তাঁর সূচাগ্রশিল্পগুলো আরও বিস্ময়কর। শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, শিল্প সমালোচক মঈনুদ্দিন খালেদ ও ঢাকা আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ গোবিন্দ রায়। প্রতি সোম থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯ টা, শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ও বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গ্যালারি ঘুরে আসা যাবে। সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনী চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

abc আজকের আয়োজন

রয়েল টাইগার ড্রিংক প্রেজেন্টস
যাহা বলিব সত্য বলিব
আরজে কিবরিয়ার সঙ্গে
রাত ১২টা থেকে ২টা
গুড মর্নিং বাংলাদেশ
আরজে কায়নাত ও নাভিদ মাহবুবের সঙ্গে
সকাল ৮টা থেকে
বেলা ১১টা

তারিক আনাম ও অপি করিমের ‘গ্রহ আর না’

গ্রহ আর না নাটকের দৃশ্যে তারিক আনাম,
শিশুশিল্পী সামির ও অপি করিম
শিশুটি বাসায় একা একা কারও সঙ্গে কথা বলে। মা টের পান। বোঝেন, অদৃশ্য কেউ শিশুকে সঙ্গ দেয়। গল্প করে ওর সঙ্গে। শিশুর কাছে জানতে চাইলে উত্তর দেয়, সে ওর বন্ধু। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন মা। শরণাপন্ন হন মনোরোগ চিকিৎসক। কথা, আলোচনা ও ঘটনায় প্রমাণ হয়ে যায়, শিশুটির সঙ্গে অদৃশ্য কেউ থাকে। কিন্তু কে সে? প্রশ্নটির উত্তর দিতে চাইলেন না নির্মাতা সাগর জাহান। প্রেমের নাটকের বাইরে এসে এমন নাটক বানাতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাকি রহস্যটুকু রেখে দিলেন দর্শকদের জন্য। আরমান ভাই, সিকান্দার বক্স-এর পর এবার হাত দিয়েছেন অন্য রকম গল্প নিয়ে নাটক বানাতে। নাটকের নাম গ্রহ আর না। রচনাও তাঁরই। গতকাল শনিবার উত্তরায় শুরু হয়েছে নাটকটির শুটিং। এতে শিশুটির মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন অপি করিম। মনোরোগ চিকিৎসক চরিত্রে তারিক আনাম খান। আর সেই শিশুশিল্পীর চরিত্রে সামির। অবশ্য দুই বছর আগে বাংলাদেশ নামে একটি নাটকে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন এই দুই তারকা। গ্রহ আর না নাটক প্রসঙ্গে সাগর জাহান বললেন, ‘ঈদ উপলক্ষে একটু অন্য রকম নাটক বানাতে চেয়েছি। আর আমাদের দেশে এ ধরনের নাটকের দর্শকও আছে। এ কারণেই নির্মাণ করা।’ তারিক আনাম খান বললেন, ‘দর্শকেরা বৈচিত্র্য চায়। সব গল্পের দর্শকও এক রকম না। আমার কাছে এই গল্পটি মনে হয়েছে অন্য রকম।’ পরিচালক জানালেন, নাটকটি নির্মাণ করা হচ্ছে আসছে ঈদুল ফিতরে প্রদর্শনের জন্য। তবে কোন চ্যানেলে প্রচারিত হবে, এখনো তা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিচ্ছেদের পর সন্তানকে কাছে চান মালাইকা

মালাইকা অরোরা খান
শেষ পর্যন্ত আরবাজ খান ও মালাইকা অরোরার সংসার যে আর টিকছে না—তা উল্লেখ করে এক প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শিগগিরই বিচ্ছেদের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হবেন মালাইকা অরোরা খান। শুধু তা-ই নয়, একমাত্র সন্তান আরহানকেও নিজের কাছে (কাস্টডি) রাখতে চাইছেন মালাইকা। আর এ নিয়ে সম্প্রতি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনাও করেছেন মালাইকা। স্পটবয়ই ডটকমের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। এদিকে আরবাজ-মালাইকার বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে বলিউডের সংবাদমাধ্যমগুলোতে যখন জোর আলোচনা। ঠিক সেই সময়ে মালাইকা-আরবাজের মধ্যে যাতে বিচ্ছেদ না ঘটে, তার পক্ষে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন আরবাজের ভাই বলিউডের ‘দাবাং’ তারকা সালমান খান। কিন্তু অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এ নিয়ে আপস-মীমাংসার আর কোনো সম্ভাবনাই আর নেই। মালাইকা তাঁদের দুজনের বিচ্ছেদের কারণ প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বিয়ে তাঁকে কখনোই অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হতে দেয়নি। মালাইকা এও জানান, আরবাজের পরিবার সব সময়ই চেয়েছে, তিনি যেন খুব সাধারণ একজন গৃহবধূ হিসেবেই জীবনযাপন করেন; যা তিনি কোনোমতেই মেনে নিতে পারেননি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিচ্ছেদের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টা মালাইকার জন্য এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আপাতত সানির জুটি হচ্ছেন না আমির

আমির খান ও সানি লিওন
গুজবের ডানায় অনেক শক্তি। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে যায়। ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান জুটি হচ্ছেন সানি লিওনের!—এমন গুজব ছড়ানোর অবশ্য কারণও আছে। দিন কয়েক আগে সানি লিওনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন আমির খান। আর এর পরপরই আমির খানের বাড়িতে এক নৈশভোজের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন সানি। ঘটনা হচ্ছে, গত মঙ্গলবার আমির খানের বাড়িতে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে বলিউডের মাত্র হাতে গোনা কয়েকজনই আমন্ত্রিত ছিলেন। সানি লিওন ছিলেন সেই স্বল্পসংখ্যক আমন্ত্রিতদের একজন। আর এর পর থেকেই কানাঘুষা চলছে, এবার একই ছবিতে জুটি বাঁধছেন আমির আর সানি। অবশ্য ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আমির বলেছেন, ‘আমি সানির সঙ্গে কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হইনি।’ তবে আমির বলেন, ‘সামনে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারলে ভালো লাগবে।’ এই মুহূর্তে সানির সঙ্গে কাজ না করলেও অদূর ভবিষ্যতে এ দুজনকে একসঙ্গে দেখা যেতেও পারে। অন্তত আমিরের কথার ধরন তো তেমনটাই বলছে।

বাহুবলী-দুইয়ে থাকছেন না দীপিকা

দীপিকা পাড়ুকোন
বলিউডপাড়ায় জোর গুঞ্জন ছিল, দীপিকা পাড়ুকোনকে নাকি দেখা যাবে বাহুবলীর নতুন ছবিতে। দীপিকা এখন হলিউডের ছবি ‘এক্স এক্স এক্স: দ্য রিটার্ন অব জেন্ডার কেইজ’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত। যদিও এ বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গতকাল ছবিসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি একেবারেই গুজব, বাহুবলীর সিক্যুয়েলে কাজ করছেন না এই ‘পিকু’ তারকা। বাহুবলী-দুই ছবিসংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলেছে, ‘এ ছবিতে দীপিকার কাজ করার খবর আমাদেরও বিস্মিত করেছে। এটা শুধুই একটি গুজব, আর কিছু নয়। এই গুজবের উৎস কী আর কীভাবে বা এটি ছড়াল; তাও আমরা জানি না।’ ‘বাহুবলী-দুই’ ছবির পরিচালক এস এস রাজা মৌলি এখন এ ছবির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশের শুটিং করছেন। হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে চলছে সেই দৃশ্য ধারণের কাজ। এ ছবির প্রথম কিস্তি ‘বাহুবলী: দ্য বিগেনিং’ মুক্তি পেয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। দারুণ ব্যবসাসফল এই ছবির সিক্যুয়েলটি মুক্তি পাবে ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল।

জ্যাকি চ্যানকে নাচাতে...

জ্যাকি চ্যান, ফারাহ খান ও গীতা কাপুর
বলিউডের জনপ্রিয় দুই কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান ও গীতা কাপুর। অনেক বড় বড় শিল্পীকেই নাচিয়েছেন তাঁরা। অর্থাৎ তাঁদের নির্দেশনায় অনেক বিখ্যাত তারকাই নেচেছেন। তবে খুব সম্ভবত এবারই প্রথম তাঁরা কোনো আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্টিস্ট ও অভিনয়শিল্পীকে নাচাতে যাচ্ছেন। ‘কুংফু ইয়োগা’ ছবির জন্য হলিউডের অভিনেতা ও মার্শাল আর্টিস্ট জ্যাকি চ্যানকে এবার নাচতে দেখা যাবে বড়পর্দায়। তাও আবার পুরোপুরি বলিউডের ঢঙে। চীন-ভারতের যৌথ প্রযোজনার এই ছবিতে একটি গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করবেন জ্যাকি চ্যান। এখন এ ছবির শুটিং চলছে ভারতের যোধপুরে। শনিবার ফারাহ খান আর গীতা কাপুর পৌঁছে গেছেন সেখানে। এ প্রসঙ্গে ফারাহ বলেছেন, ‘এবার আমাদের যোধপুরে আসাটা এক বিশেষ কারণে। এ ছবিতে চমৎকার একটি বলিউড ঘরানার নাচের নির্দেশনা দেব আমি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গীতা আর আমি—এই দুজনেই জ্যাকি চ্যানের সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি।’ এদিকে সূত্রটি জানিয়েছে, এই গানের শুটিং হবে দুই দিনব্যাপী। এখানে জ্যাকি চ্যানের সঙ্গে আর থাকবেন প্রায় ৫০ জন নৃত্যশিল্পী। স্ট্যানলে টং পরিচালিত এই ছবিটি অ্যাকশন-রোমাঞ্চনির্ভর কাহিনির। এ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন বলিউডের অভিনেতা সনু সুদ।

শুটিং মুহূর্ত

শুটিং মুহূর্ত
খাবার টেবিলে বসে কথা বলছেন বাবা ও মেয়ে। দৃশ্যটি ভোর ও অসময়ের গল্প নাটকের। এই নাটকে বাবার চরিত্রে আবুল হায়াত ও তাঁর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌটুসি বিশ্বাস। উত্তরার একটি শুটিংবাড়িতে হয়েছে নাটকটির শুটিং। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন পারভেজ আমিন

শাহরুখের সঙ্গে এত মিল! by ইকবাল হোসাইন চৌধুরী

বীর জারা ছবিতে শাহরুখ খান
জমে উঠেছে ব্যাটম্যান আর সুপারম্যানের দ্বৈরথ। এক সুপার হিরো আরেক সুপার হিরোকে এই মারে তো সেই মারে। দর্শকও তুমুল উৎকণ্ঠায়। এর মধ্যে আচমকা এক খটকা। বারবার ছবির ভিলেন লেক্স লুথরকে (জেসি আইজেনবার্গ) দেখছি আর ভাবছি। কার সঙ্গে মিল তাঁর অভিনয়ে? সেই বাচনভঙ্গি। সেই কাঁধ ঝাঁকানো। সেই হাত নাড়ানো! গত শুক্রবার ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার হল। এ সময়ের আলোচিত হলিউডি ছবি ব্যাটম্যান ভার্সাস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস-এর রাত ১০টার শো চলছে। কথাটা পাশে বসা কাউকে বলব কি না, উসখুস করছি। এর মধ্যেই সামনের একজন দর্শক মনের কথাটাই যেন বলে ফেললেন, ‘আরে এ যে শাহরুখ খান!’ সঙ্গে সঙ্গে হলে ছোটখাটো হাসির একটা রোল উঠল। ব্যাপারটা তা হলে মিথ্যা নয়। মনে হলো, জেসি আইজেনবার্গ লেক্স লুথরের চরিত্রে শুরু থেকে শেষ বলিউড বাদশা শাহরুখকে অনুকরণ করে গেলেন। বাজিগর, দেবদাস, কিংবা বীর জারা। কত না ছবিতে এই ভঙ্গিতেই দেখেছি শাহরুখ খানকে। শাহরুখ কি দেখেছেন ব্যাটম্যান ভার্সাস সুপারম্যান ছবিতে আইজেনবার্গের অভিনয়? ব্যাপারটা নিয়ে শাহরুখ খানের একটা মতামত নিতে পারলে বেশ জমত। এই ভাবতে ভাবতে ছবি শেষে গভীর রাতে ব্লকবাস্টার হল থেকে বেরিয়েছি। গতকাল শনিবার সকালে টুইটার ঘাঁটতে গিয়ে আরেক মজার ঘটনা। শাহরুখ খানও এরই মধ্যে জেনে গেছেন এই মিলের বিষয়টি। প্রমাণ, গত ২৫ মার্চ শাহরুখের টুইট। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এখন দেখছি লেক্সের (লেক্স লুথর) জন্যও ছবিটা দেখতে হবে। হুমম?? বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করতে হবে।
ব্যাটম্যান ভার্সাস সুপারম্যান ছবিতে জেসি আইজেনবার্গ
ওরা আজ রাতে ছবিটা দেখবে।’

নানা আয়োজন এফডিসিতে

আজ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। এবারের স্লোগান ‘ডিজিটাল চলচ্চিত্র সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত’। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) তত্ত্বাবধানে এই দিনকে ঘিরে থাকছে নানা আয়োজন। শোভাযাত্রা ছাড়াও রয়েছে সেমিনার, স্মরণিকা প্রকাশ, লাইভ টক শো, রেড কার্পেট সংবর্ধনা, মেলা, স্থিরচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, পুতুলনাচ, নাগরদোলা ও বায়োস্কোপ। সকাল ১০টায় বর্ণিল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের আয়োজন। উদ্বোধন করবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অতিথি থাকবেন সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ও তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ। বিকেল পাঁচটায় ২ নম্বর শুটিং ফ্লোরে বাংলাদেশের তারকাদের নিয়ে রয়েছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পুরো আয়োজন এফডিসি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে একুশে টেলিভিশন।

সেরা অভিনয়শিল্পী আজাদ আবুল কালাম ও তিশা

আজাদ আবুল কালাম,নুসরাত ইমরোজ তিশা
২০১৫ সালে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত এক ঘণ্টার নাটকের জন্য এবার চারুনীড়ম পুরস্কার পেয়েছেন ১২ জন নাট্যশিল্পী ও কলাকুশলী। শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন আজাদ আবুল কালাম ও সেরা অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। শ্রেষ্ঠ কাহিনিকারের পুরস্কার পেয়েছেন তবারক হোসেন ভূঞা, নবীন অভিনেতা সুজাত শিমুল, পরিচালক গোলাম সোহরাব ও নবীন পরিচালক ইমরাউল রাফাত। এ ছাড়া চিত্রনাট্যে মেজবাহ উদ্দিন, চিত্রগ্রহণে নিয়াজ মাহবুব, রূপসজ্জায় রহমান, চিত্র সম্পাদনায় ময়ূখ বারী ও আবহসংগীতে নীল কামরুল পুরস্কার জিতেছেন। শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র নির্বাচিত হয়েছে আঁধারের ঋণ। এ ছাড়া আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেত্রী দিলারা জামান ও অভিনেতা ইনামুল হক। গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকা পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে ছিল এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। ৩০টি এক ঘণ্টার নাটক নিয়ে গত ৩ মার্চ শুরু হয় আট দিনের টেলিভিশন কাহিনিচিত্র উৎসব। এতে ১২টি বিভাগে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন ৬০ জন শিল্পী ও কলাকুশলী। ২০০৯ সাল থেকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে চারুনীড়ম
চিত্রকুসুম পুরস্কার পেয়েছেন
। এক ঘণ্টার নাটক বাঁচাতে উৎসব ও পুরস্কার প্রবর্তন করেছে নাটকের দল চারুনীড়ম।

এবার হলো ছাড়াছাড়ি?

যখন সুখের দিন:ড্রিউ ব্যারিমোর ও উইল কোপালমান
খবরটা আর গুজবের মধ্যে নেই, মোটামুটি নিশ্চিত। ছাড়াছাড়ি হয়ে যাচ্ছে ড্রিউ ব্যারিমোর আর উইল কোপালমানের। প্রায় চার বছরের সংসারজীবনের ইতি টানতে চলেছেন তাঁরা। বেশ কিছুদিন ধরেই এই দম্পতির সংসারে বেশ ঝামেলা যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে দুজনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। এ কথাও শোনা যাচ্ছে, দুজনের মধ্যে অনেক দিন ধরেই দূরত্ব সৃষ্টি হলেও সন্তানদের কথা ভেবেই এত দিন একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। তিন ও এক বছর বয়সী দুটি সন্তান আছে এই দম্পতির। হলিউড অভিনেত্রী ড্রিউ ব্যারিমোর ১৯৯৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেছিলেন। ২০০১ সালে তিনি বিয়ে করেন কৌতুকাভিনেতা টম গ্রিনকে। সেই বিয়ে টিকে ছিল মাত্র পাঁচ মাস। ২০১২ সালে আর্ট কনসালট্যান্ট উইল কোপালমানের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় ফিফটি ফার্স্ট ডেটস ছবির এই তারকার।

বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ নিয়ে কিছু ভ্রান্তির উত্তর by শামসুল আলম

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস-২০১৬ উপলক্ষে গত ১৩ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন’ (বাপা) ও ‘জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন’ বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বিষয়ে কিছু কথা বলেছে, যার খবর ১৪ মার্চ দৈনিক প্রথম আলোয় ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা নদীর জন্য অশনিসংকেত’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় ‘… দেশের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত না করে শুধু বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা দেশের নদীগুলোর জন্য নতুন অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দেবে। …ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের নামে ভুল পরিকল্পনায় দেশে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর দেশের বেশির ভাগ উপকূলীয় নদী আজ মৃত্যুর প্রহর গুনছে। এখন আবারও বিদেশি বিশেষজ্ঞনির্ভর বদ্বীপ পরিকল্পনা (ডেল্টা প্ল্যান) নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। নেদারল্যান্ডসের বদ্বীপের আদলে করা ওই পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য কখনোই বাস্তবসম্মত হবে না। বরং দেশের যে নদীগুলো কোনোমতে টিকে আছে, তা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।’ সংবাদ পর্যালোচনায় একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বিষয়ে সংস্থা দুটির তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, যে কারণে বক্তব্য অনুমাননির্ভর হয়েছে প্রতীয়মান হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, জনমানসের ভ্রান্তি দূর করতে বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার: বাংলাদেশ দ্রুত বর্ধনশীল বদ্বীপপ্রধান (ডেল্টাইক) দেশ, যা প্রধানত পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীবাহিত পলিমাটি দিয়ে গঠিত পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। এ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। এ দেশে শতকরা ৮০ ভাগ এলাকা এই নদীগুলোর প্লাবনভূমিতে অবস্থিত। এ দেশের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির চালিকাশক্তি এ নদী ও তার প্লাবনভূমিসমূহ। বাংলাদেশের জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ, একদিকে বর্ষাকালে প্রচুর পানি ও পলি নদীগুলো দিয়ে বঙ্গোপসাগরে ধাবিত হয়, যার ফলে অসংখ্য চর গড়ে ওঠে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করায় অর্থাৎ পানিসম্পদ ব্যবস্থায় মানবসৃষ্ট পরিবর্তন সংঘটিত হওয়ায় প্রাকৃতিক পানিচক্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পানির গুণগত মান ও প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। মিঠা পানির স্বল্পতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সে কারণে বাংলাদেশের জন্য সার্বিকভাবে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এই বদ্বীপ রূপকল্প (ডেল্টা ভিশন)। এই রূপকল্প অর্জনে কৃষি, মৎস্য, শিল্প, বনায়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশন—সব খাতকে বিবেচনায় রেখে একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সামগ্রিক বদ্বীপ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যই হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব হ্রাস করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে কৃষি, পানিসম্পদ, ভূমি, শিল্প, বনায়ন, মৎস্য সম্পদ প্রভৃতিকে গুরুত্ব প্রদানপূর্বক সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি (৫০ থেকে ১০০ বছর) মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা। এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম মার্চ ২০১৪ থেকে শুরু হয়েছে এবং ডিসেম্বর ২০১৬-তে তা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ উদ্যোগের আওতায় ইতিমধ্যে সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলো হচ্ছে: (ক) সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের অবদান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ডেল্টা ভিশন ও লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে; (খ) বদ্বীপ পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্ট ১৯টি সহায়ক গবেষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে, যার আলোকে একটি জ্ঞানভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে; (গ) পৃথকভাবে পানিসম্পদ খাতে গত ৬০ বছরে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে অর্জিত জ্ঞান থেকে ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করা হচ্ছে; (ঘ) জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নগরায়ণ বিবেচনা করে ভবিষ্যতের বিভিন্ন রূপকল্প প্রক্ষেপণ করা হয়েছে; (ঙ) দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সম্ভাব্য পরিবর্তিত পটভূমিগুলো কী হতে পারে, বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তা প্রণয়ন করা হচ্ছে। (চ) সংশ্লিষ্ট ভিত্তিস্তর জ্ঞান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন রূপকল্প বিবেচনায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বর্ষা মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি ও ভূমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণসহ পানিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে; (ছ) চিহ্নিত চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণের কাজ চলছে; (জ) দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ডেল্টা কমিশন অ্যান্ড ডেল্টা ফান্ড বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে; (ঝ) বদ্বীপ পরিকল্পনার আওতায় বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ প্রকল্প তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে; এবং বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে গত ১৬ জুন, ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) ও ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং ২০৩০ পানিসম্পদ গ্রুপের (ডব্লিউআরজি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কর্মপরিকল্পনা মোতাবেক আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ যে পরিকল্পনার খসড়াই এখনো তৈরি হয়নি, তাকে কি দেশের নদীর জন্য অশনিসংকেত হিসেবে মন্তব্য করা যায়? এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পরামর্শকসমূহের মধ্যে দেশীয় পরামর্শকের সংখ্যাই বেশি। মহাপরিকল্পনা দলিল প্রণয়নের কাজটি দেশের প্রথিতযশা পরামর্শক দলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে, এরা সবাই বাংলাদেশি। যাঁরা এ দেশের পরিবর্তনশীল বদ্বীপ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিতে অভিজ্ঞ। নেদারল্যান্ডস বিশ্বে বদ্বীপ ব্যবস্থাপনায় সর্বজনস্বীকৃত একটি দেশ। তাদের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল বদ্বীপ প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ দেশীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিবেচনায় এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, অ্যাকাডেমিক, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যেমন সিইজিআইএস, ডব্লিউএআরপিও, বুয়েট ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের এতে কাজে লাগানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কর্মশালা, আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি, মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটি এবং সর্বোপরি দেশের প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ২৫ জনের একটি দেশীয় বিশেষজ্ঞ প্যানেল রয়েছে। বদ্বীপ পরিকল্পনার প্রতিটি বিষয় উল্লিখিত তিনটি কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার সঙ্গে যদি সরকারের ‘রূপকল্প ২০৪০’ অর্জিত হয়, তাহলে তা আমাদের উন্নত দেশের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। ফলে এতে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ নেই, এ কথা একদমই ঠিক নয়।

ঐতিহাসিক রায়, ভাঙবে গোপনীয়তার সংস্কৃতি by বদিউল আলম মজুমদার

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৮ ধারা ৯ (খ) অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হিসাব প্রতিবছর নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধানবলেই বিধিমালায় এ বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হলো এমন বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির পেছনের যৌক্তিকতা। দেড় বছর ধরে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে এবং নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করেও কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হিসাব পেতে আমি ব্যর্থ হই। এমনকি তথ্য কমিশনে দুই-দুবার আপিল করেও আমি সফল হতে পারিনি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে নির্বাচন কমিশন ও তথ্য কমিশনের রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হিসাব আমাকে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়টি ঐতিহাসিক, কারণ এটিই তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর অধীনে, আমাদের জানা মতে, উচ্চ আদালতের প্রথম রায়। আর এই রায়ের মাধ্যমে আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করছি। তবে আদালতের রুল ‘অ্যাবসলিউট’ করা থেকে এরই মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে ‘কর্তৃপক্ষ’ বা যেকোনো সরকারি দপ্তরে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বেসরকারি সংস্থায় রক্ষিত যেকোনো তথ্য, তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকা সত্ত্বেও, জনগণের প্রাপ্য এবং তারা এগুলো পেতে পারেন। অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষ থেকে সংগৃহীত হওয়া সত্ত্বেও এসব আইনানুযায়ী ‘তথ্য’ বা ‘পাবলিক ইনফরমেশন’ এবং এগুলো প্রাপ্তির অধিকার থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত করা যাবে না। তথ্য অধিকার আইনে অবশ্য এসব তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যতিক্রমের কথা বলা আছে, যেমন: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি; তৃতীয় পক্ষের বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত; কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতে পারে ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য। বস্তুত, উপরিউক্ত ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে কোনো দপ্তরে সংরক্ষিত নথিসমূহের নোট-শিট ব্যতীত অন্য যেকোনো ধরনের তথ্যসংবলিত বস্তু বা এর প্রতিলিপি তথ্য হিসেবে গণ্য হবে। আদালতের এ যুগান্তকারী রায়টি পাওয়ার পেছনে অবশ্য একটি দীর্ঘ দুঃখজনক ইতিহাস রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে আইনানুযায়ী জমা দেওয়া রাজনৈতিক দলের অডিট করা আয়-ব্যয়ের হিসাব পেতে অনেক দিন থেকেই ব্যক্তিগতভাবে অনানুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছি। এতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৩ সালের ১২ জুন তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর অধীনে এগুলো পেতে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে আমি আবেদন করি। তিন-তিনবার কমিশনে আবেদন করেও এ তথ্য পেতে আমি ব্যর্থ হই। কমিশন যুক্তি দেয় যে এগুলো রাজনৈতিক দলের গোপনীয় হিসাব এবং এগুলো আমাদের হয় দলগুলো থেকে সরাসরি পেতে হবে অথবা কমিশনের এগুলো দিতে হলে দলগুলোর অনুমতি লাগবে। কমিশন অবশ্য লিখিতভাবে অনুমতি চেয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পায়নি। এই দীর্ঘ সময়ে তথ্য কমিশনে দু-দুবার আপিল করেও আমি ব্যর্থ হই। তথ্য কমিশন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একমত হয়ে আমার প্রথম আপিলটি খারিজ করে দেয়। তথ্য তথা পাবলিক ইনফরমেশন-সম্পর্কিত আইনের ব্যাখ্যা সঠিক নয় বলে দাবিকরে আমি তথ্য কমিশনে আবার আপিল করি। এবারও প্রায় একই যুক্তিতে কমিশন আমার আপিল নাকচ করে দেয়। তথ্য ও নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে আমরা ছয়জন নাগরিক—এম হাফিজউদ্দিন খান, এএসএম শাহজাহান, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. তোফায়েল আহমেদ, আলী ইমাম মজুমদার ও আমি—হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি মামলা দায়ের করি। চূড়ান্ত শুনানির পর মাননীয় বিচারপতি ফারাহ্ মাহবুব ও কাজী ইজারুল হক সমন্বয়ে ঘটিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নির্বাচন ও তথ্য কমিশনের রাজনৈতিক দলের তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি যুগান্তকারী রায় দেন। মামলাটি পরিচালনা করেন ড. শরিফ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন। এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন ড. শামসুল বারী। অনেকগুলো কারণে হাইকোর্টের দেওয়া রায়টি যুগান্তকারী। প্রথমত, এর মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ বহুলাংশে উন্মুক্ত হলো এবং গোপনীয়তার সংস্কৃতির অবসান ঘটার পথ প্রশস্ত হলো। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে যেকোনো কর্তৃপক্ষ বা সরকারি দপ্তরে সংগৃহীত তথ্য—সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া—যেকোনো নাগরিক বা গণমাধ্যমের পাওয়ার পথের প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হলো। কারণ, এগুলো এখন থেকে আর গোপনীয় তথ্য নয়, বরং পাবলিক ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে নাগরিকের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার তার বাক্ বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, তথা মৌলিক অধিকার হিসেবে আবারও স্বীকৃতি পেল। কারণ, নাগরিকের মত প্রকাশের জন্য তার মত গঠন আবশ্যক, যার জন্য তথ্য অপরিহার্য। তৃতীয়ত, এ প্রগতিশীল রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা-জবাবদিহির পথ প্রশস্ত হলো। রাষ্ট্রে সুশাসন কায়েম করার জন্য আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের আখড়ায় পরিণত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ পরিচালিত খানা জরিপে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বস্তুত রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দেশে অনেক অন্যায়-অনিয়ম হয়ে থাকে। তাই রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এগুলোকে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা আবশ্যক ও যৌক্তিক। এ ছাড়া রাজনৈতিক দল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয় এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মতো এগুলো মালিকদের স্বার্থে কাজ করে না। এগুলো জনস্বার্থে কাজ করে। জনগণের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে এগুলো সংগঠিত হয়, নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে এবং নির্বাচনে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে ক্ষমতায় যায়। যেসব প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে কাজ করে, জনস্বার্থেই তাদের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা আবশ্যক। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো তথ্য অধিকার আইনের অধীনে কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই। আরেকটি যুক্তিতেও রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা আবশ্যক। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের চাঁদা নিয়ে চলে—ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মতো মালিকদের অর্থে নয়—তাই জনগণের কাছে এগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। সুতরাং রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঘোষণা এবং তাদের জনস্বার্থে নাগরিকদের তথ্য প্রদানে কোনোরূপ বাধা থাকা অনুচিত। প্রসঙ্গত, আইনে নির্ধারিত করা না থাকলেও ভারতীয় তথ্য কমিশন ইতিমধ্যেই ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। উপরন্তু, রাজনৈতিক দল কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পেয়ে থাকে। যেমন আয়কর অধ্যাদেশের এসআরও-২০১১ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দলকে আয়কর প্রদান করতে হয় না। যে প্রতিষ্ঠানে সরকারি তথা জনগণের অর্থ ব্যয় হয়, সেই প্রতিষ্ঠানকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হতে হয়। আর জনগণের কাছে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা তাদের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।সর্বোপরি আমাদের সংবিধান জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের মুখবন্ধ অনুযায়ী জনগণকে তথ্য দিয়ে ক্ষমতায়িত করাই এই আইনের উদ্দেশ্য। আর ভোটার হিসেবে এ ক্ষমতায়নের জন্যই রাজনৈতিক দল-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জনগণকে দেওয়া আবশ্যক, যা সম্ভব রাজনৈতিক দলকে কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমেই। তাই আশা করি, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে অদূর ভবিষ্যতে জনস্বার্থে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা হবে।

ভারত বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট করেনি:মুচকুন্দ দুবে

মুচকুন্দ দুবে
মুচকুন্দ দুবের জন্ম ভারতের ঝাড়খণ্ডে, ১৯৩৩ সালে। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর এক বছর সেখানে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৭ সালে যোগ দেন ভারতীয় পররাষ্ট্র বিভাগে; কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তেহরান, জেনেভা, বার্ন, নিউইয়র্ক ও ঢাকায়। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত ছিলেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। ১৯৯১ সালে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে অবসর গ্রহণের পর ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন। এখন তিনি দিল্লির কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মশিউল আলম প্রথম আলো: বাংলাদেশের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ এ দেশের স্বাধীনতার সময় থেকে। আশির দশকের শুরুতে আপনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে তিন বছর ছিলেন। তার আগে ও পরে আপনি অজস্রবার এ দেশে এসেছেন। আপনার এবারের আসার উপলক্ষটা কী? মুচকুন্দ দুবে: আমি লালনের কবিতা বা গানের বাণী বাংলা থেকে হিন্দিতে অনুবাদ করার একটা কাজ হাতে নিয়েছি। দিল্লির সাহিত্য আকাদেমি তাঁর ১০০ কবিতার হিন্দি অনুবাদ নিয়ে একটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। আমার এবারের বাংলাদেশে আসা সেই কাজের উপলক্ষে। লালন অনুবাদ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, তিনি অনেক আরবি, ফারসি ও সংস্কৃত শব্দ ও শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন, যেগুলোর স্থানীয় ব্যঞ্জনা সঠিকভাবে অনুধাবন করা খুব প্রয়োজন। লালনের বিপুল পুনরুজ্জীবন ঘটেছে বাংলাদেশে, পশ্চিমবঙ্গে নয়; বাংলাদেশে অনেক গবেষক আছেন, যাঁদের অনেকে সারা জীবন ধরে এ নিয়ে গবেষণা করছেন। আমি এসেছি তাঁদের সম্পর্কে জানতে, তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ করে আমার কাছে অস্পষ্ট বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নিতে। এটাই আমার এবারের আসার একমাত্র লক্ষ্য। প্রথম আলো: আপনি কীভাবে বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে লালনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন? মুচকুন্দ দুবে: একদম ছেলেবেলা থেকে কাব্যসাহিত্যের প্রতি আমার আকর্ষণ। তুলসী দাসের অনেক কবিতা আমার মুখস্থ, গীতার অনেক অংশ আমার মুখস্থ...কাব্যসাহিত্যের আরও অনেক কিছুই আমার মনে আছে। এটা বেশ লক্ষ করার মতো একটা ব্যাপার যে পৃথিবীর অধিকাংশ ধর্মগ্রন্থ একই সঙ্গে মহৎ কাব্যগুণও ধারণ করে, গীতাও তা-ই। আমি অর্থনীতির ছাত্র ছিলাম, অর্থনীতি পড়িয়েছি, অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছি এবং পরে কূটনীতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আবার এসবের মধ্যেই সারা জীবন ধরে কাব্যসাহিত্যের প্রতি আমার আগ্রহ বজায় থেকেছে। মনে আছে, আমি যখন পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র, তখন গীতাঞ্জলির কবিতাগুলো অনুবাদ করেছিলাম হিন্দিতে। এটা ১৯৫৩ সালের ঘটনা। প্রথম আলো: সমকালীন পৃথিবী, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার জন্য লালন কতটা প্রাসঙ্গিক?  মুচকুন্দ দুবে: লালন পৃথিবীর এই অংশের মহত্তম সন্ত কবিদের একজন। আমি মনে করি উত্তর ভারতের সন্ত কবিদের ওপরে তাঁর স্থান। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের অবশিষ্ট অংশে তাঁকে পরিচিত করানো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গেও লালনের গান ও কবিতা নিয়ে সেই মাত্রায় কাজ হয়নি, যতটা করা হয়েছে বাংলাদেশে। আমার মনে হয়, আজকের বিভক্ত, সংঘাতময়, ঘৃণা-বিদ্বেষপূর্ণ পৃথিবীতে, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, যেখানে শুধু এক ধর্মের মানুষের বিরুদ্ধে অন্য ধর্মের মানুষের ঘৃণা নয়, বরং একই ধর্মের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যেও ঘৃণা-বিদ্বেষ ও সংঘাত চলছে, সেখানে লালন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ, এই মানুষটি মানবজাতির ঐক্যের কথা ভেবেছিলেন, যা উৎসারিত হয়েছে তাঁর আধ্যাত্মিকতা থেকে এবং যা তাঁর গানে ও কবিতায় বারবার প্রতিফলিত হয়েছে। আমি মনে করি, লালন বাংলাদেশের জন্য যতটা প্রাসঙ্গিক, তার চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক ভারতের জন্য। কারণ বাংলাদেশের সুবিধা হলো, এ দেশের মানুষ মোটের ওপর হোমোজেনাস বা সমরূপ; বেশির ভাগ মানুষ একই ধর্মের, একই ভাষার, কম-বেশি একই সংস্কৃতির। কিন্তু ভারতের ভাবাদর্শগত ও ধর্মবিশ্বাসগত পার্থক্য ও মতভেদগুলো অনেক অনেক বেশি প্রকট। জাতপ্রথার অবশেষ ভারতে এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী, অনেক মানুষ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ঐতিহ্যগতভাবে, বংশপরম্পরায়। তাই লালনের বাণী ভারতের জন্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমি লালনের প্রায় ১০০টি কবিতা অনুবাদ করতে উৎসাহিত হয়েছি। প্রথম আলো: আপনি কবে প্রথম বাংলাদেশে আসেন? মুচকুন্দ দুবে: ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক পরেই। আমি তখন জাতিসংঘে কর্মরত ছিলাম, এসেছিলাম জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, তা নিরূপণ করাই ছিল ওই সফরের উদ্দেশ্য। মনে আছে, আমি তখন ঢাকার পূর্বাণী হোটেলে উঠেছিলাম। কারণ অন্য যে একমাত্র হোটেলটি ছিল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। আমি দুই সপ্তাহ ছিলাম, সংসদ সদস্যরাসহ যেসব ব্যক্তি উন্নয়ন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে আমার আলাপ-আলোচনা হয়েছিল, আমি একটা প্রতিবেদন তৈরি করেছিলাম। প্রথম আলো: পরে আপনি ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে তিন বছর ঢাকায় ছিলেন, কূটনীতিক হিসেবে আপনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এ বিষয়ে আপনি দৃষ্টি রেখে আসছেন। দুই দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? মুচকুন্দ দুবে: আমার ধারণা, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। এর প্রধান কারণ, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস অনেক দৃঢ় হয়েছে। আস্থা সৃষ্টি হলেই সাহসী উদ্যোগ নেওয়া যায়, বড় কাজ করা যায়। আস্থার সম্পর্কটা গড়ে উঠেছে বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে। সেই আস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের কিছু বড় উদ্বেগের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথম আলো: যেমন? মুচকুন্দ দুবে: আপনি জানেন, যেকোনো দেশের সবচেয়ে বড় ভাবনার বিষয় তার নিরাপত্তা। এ ক্ষেত্রে ভারত সরকারের উদ্বেগ নিরসনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার যথাযথভাবে কাজ করেছে। আমার মতে, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের এটাই প্রধান ভিত্তি। প্রথম আলো: আমাদের এখানে এমন একটা অনুভূতি আছে যে বাংলাদেশ ভারতের জন্য সব করেছে, কিন্তু ভারত তার প্রতিদান দেয়নি। কেউ কেউ বলেন, ভারত শুধু নিয়েছে, কিছুই দেয়নি। আপনি কী বলেন? মুচকুন্দ দুবে: এ বিষয়ে আমার মত, ভারত বাংলাদেশকে প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু যথেষ্ট করেনি এবং কার্যকরভাবে করেনি। তা যদি যথেষ্ট মাত্রায় ও কার্যকরভাবে করা না হয়, তাহলে আমার মনে হয় সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হবে। অনেক বিষয়ে অতীতে আমি অনেক কথা বলেছি, যেগুলো এখন সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। যেমন, আশির দশকের শুরুতে আমি যখন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করছিলাম, তখন বলেছিলাম, ভারতের উচিত বাংলাদেশকে একতরফা মুক্তবাণিজ্যের সুবিধা দেওয়া। বাংলাদেশের পণ্যের জন্য ভারতের বাজার সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া উচিত। দরকার সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা তুলে নেওয়া। আমাদের বাজারকে বাংলাদেশের বাজার করে তোলা। ভারতকে এটা করতে হবে বাংলাদেশের কাছ থেকে এর কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের কথা বলে আবার যদি শুল্কযুক্ত পণ্যের আলাদা তালিকা রাখা হয়, সেই ‘নেগেটিভ লিস্টে’ যদি হাজার খানেক পণ্য থাকে, তাহলে সেটা কোনো কাজের কথা নয়। কোনো নেগেটিভ লিস্ট থাকা উচিত নয়। এসব কথা আমি অজস্রবার অনেক জায়গায় বলেছি এবং লিখেছিল। আমি খুশি যে সম্প্রতি ভারত নেগেটিভ লিস্ট তুলে নিয়েছে। মনমোহন সিংয়ের সময় থেকেই এ তালিকা ধীরে ধীরে ছোট করা হয়েছে, এখন নেগেটিভ লিস্টে প্রায় কিছুই নেই। প্রথম আলো: বাণিজ্য ছাড়া আর কোনো ভারতের করণীয় নেই? মুচকুন্দ দুবে: আমি বহু বছর ধরে বলে আসছি, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সমতাপূর্ণ ও টেকসই হতে পারবে না, যদি আমরা বাংলাদেশকে আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করার জন্য সক্ষম করে না তুলি। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের শিল্প খাত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলে আসছি যে ভারতের উচিত বাংলাদেশের রপ্তানিশিল্প, অন্যান্য শিল্প ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করা। অতীতে আমি বলেছিলাম, চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা উচিত। এটা আমি বলেছিলাম ১০-১৫ বছর আগে। এখন এটা বাস্তবায়িত হতে চলেছে, এখন দু-তিন বিলিয়ন বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, এটাও যথেষ্ট নয়। এখনো এটা খুবই ক্ষুদ্র বিনিয়োগ। আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হলে, অব্যাহত রাখতে হলে বিনিয়োগ এর তিন-চার গুণ বাড়াতে হবে। প্রথম আলো: আমাদের সুন্দরবনের কাছে রামপালে ভারতীয় বিনিয়োগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের বিরুদ্ধে এ দেশে প্রবল আপত্তি আছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের এক বিশাল অংশ বলছে, এর ফলে সুন্দরবনের পরিবেশ বিপন্ন হবে। সুন্দরবনের পশ্চিমবঙ্গ অংশ থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরেও এ ধরনের প্রকল্প অনুমতি পায়নি, অথচ বাংলাদেশের রামপালে এটা করা হচ্ছে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে। এটা ভারতের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মুচকুন্দ দুবে:এ বিষয়ে আমারবক্তব্য হলো, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কোথায় স্থাপন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত একান্তভাবেই বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের বিষয়। বাংলাদেশ সরকারের ওপর ভারত সরকারের বা ভারতের এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। যদি বাংলাদেশ সরকার মনে করে প্রকল্পটি অন্য কোনো জায়গায় স্থাপন করা যায়, তাহলে সেটা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আমি অবশ্য এ বিষয়ে অবগত নই। তবে একটি বিষয়ে আমি নিশ্চিত যে প্রকল্পের জায়গা নির্বাচন করা এবং সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করতে বলার একক এখতিয়ার বিনিয়োগে আমন্ত্রণকারী দেশেরই। প্রকল্পের জায়গা নির্বাচন করা একটা বিষয়, আরেকটা বিষয় খোদ প্রকল্পটিই। যদি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েই বাংলাদেশে আপত্তি থাকে, তাহলে এটা বেশ সমস্যাপূর্ণ ব্যাপার, কারণ এ বিষয়ে দ্ব্যর্থকতা আছে। খোদ ভারতেই বিরাট বড় বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। আমার মনে হয়, প্রকট জ্বালানি সংকটে ভুগছে এমন যেকোনো দেশের জন্য সঠিক জ্বালানিনীতি হবে মিশ্র উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতি। প্রথম আলো: যাঁরা রামপালের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করছেন না। তাঁরা শুধু বলছেন, রামপালে করলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে, এই প্রকল্প অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হোক। মুচকুন্দ দুবে: আমি আবারও বলছি, এইসিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়ার বিষয়। প্রথম আলো: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যদেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, বিশেষত পাকিস্তান ও অতি সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলুন। মুচকুন্দ দুবে: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অবস্থা সার্ক গঠনের সময় যেমন ছিল, এখন তার থেকে বেশি পরিবর্তিত হয়নি। আঞ্চলিক সংহতি জোরদার করার ক্ষেত্রে সার্কের মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো অগ্রগতি ঘটেনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক। পৃথিবীতে কোনো আঞ্চলিক ঐক্যের আন্দোলন সফল হয়নি দুটি জিনিস ছাড়া। একটা হলো, অঞ্চলের সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলোকে বাণিজ্য উদারীকরণের সুযোগ নেওয়ায় সক্ষম করে তোলা, তাদের উৎপাদনক্ষমতা বাড়নোর মধ্য দিয়ে। এটা ঘটছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট কাজ করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টির জন্য একটা ইঞ্জিন বা ড্রাইভিং ফোর্স থাকতে হয়। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো এ ভূমিকা নেয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এ ভূমিকা নিতে পারত ভারত ও পাকিস্তান, সর্বোপরি ভারত। কিন্তু ভারত এ ভূমিকা নেয়নি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় উদ্যোগের পরিবেশ এখন বিরাজ করছে না। এ অঞ্চলের অনেক দেশ নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত, আঞ্চলিক ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়গুলো তাদের অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। পাকিস্তানে তালেবান, সন্ত্রাসবাদ, জাতিগোষ্ঠীগত হানাহানি ইত্যাদি। ভারতে দুই ভাবাদর্শের লড়াই; দেশপ্রেমের দুই ধরনের সংজ্ঞা, জাতীয়তাবাদের দুই ধরনের সংজ্ঞা। এগুলো মোটেই ভালো নয়। আমি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংহতি-সহযোগিতার বিষয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না। কিন্তু আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। প্রথম আলো: আঞ্চলিক শক্তিহিসেবে ভারত যে ভূমিকা পালন করছে, তা আপনি কীভাবে দেখেন? নেপালের দৃষ্টান্ত বিবেচনায় নিয়ে? মুচকুন্দ দুবে: নেপালের সঙ্গেআমাদের যে সমস্যা হলো, তা থেকে যে তিক্ততা ও অনাস্থা সৃষ্টি হলো, সেটা আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুকূল নয়। বিষয়টি এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও লক্ষ করবে এবং তাদের এটা ভাবার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ থাকবে যে আজকে নেপালের সঙ্গে ভারতের যা ঘটল, আগামীকাল সেটা আমাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। এটা কোনো সঠিক পথ নয়। আমি মনে করি, আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে কিছু দূরদৃষ্টি থাকা উচিত, কিছু নীতি থাকা উচিত, কিছু আদর্শ থাকা উচিত। এমন হওয়া একেবারেই উচিত নয় যে আজকে আমরা দেখলাম, আমাদের জাতীয় স্বার্থের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে মিলমিশ দরকার, তাই আমরা সেসব দেশ সফর করতে লাগলাম, তাদের দাওয়াত দিতে লাগলাম। আবার দুই দিন পর আমরা দেখলাম আমাদের জাতীয় স্বার্থ অন্য রকম, তখন আমরা এসব বন্ধ করে দিলাম। এ রকম হওয়া উচিত নয়। যেমন, ভারতে আজও আমি শুনি, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলমানরা অবৈধ আর হিন্দুরা বৈধ। এ ধরনের বক্তব্য একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটা আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিকূল। প্রথম আলো: আপনি সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে বই লিখেছেন। সাম্প্রদায়িক দল বিজেপি এখন ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায়। এর প্রভাব কিন্তু বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও পড়েছে। মুচকুন্দ দুবে: অবশ্যই। সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে আমি যে বই লিখেছি, সেটাতে এবং ভারতের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আমি যে বই লিখেছি, সেটাতে খুব পরিষ্কারভাবে আমি বলেছি, আমাদের, ভারতের বহুত্ববাদী সমাজের সংহতি ধরে রাখার সামর্থ্য অনেকাংশে নির্ভর করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বহুত্ববাদী সমাজের কী ঘটছে তার ওপরে। আমরা যদি আমাদের নিজের দেশে বহুত্ববাদী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে না পারি, তাহলে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও বহুত্ববাদ ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হবে। আরেকটি বিষয় হলো, আমি মনে করি, ভারতে গত দু-তিন বছরে সাম্প্রদায়িকতার পুনরুত্থান ঘটেছে। এটা শুধু আমাদের অভ্যন্তরীণ সংহতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এর বিরূপ প্রভাব অবশ্যই পড়বে। ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘন ঘন আক্রমণ, গরু খাওয়া, ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিয়ে ইত্যাদি ভুয়া অজুহাতে হত্যা করা—এসব ঘটনায় আমি ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। ভারতে অতীতেও এ ধরনের ঘটনা যে একেবারেই ঘটত না তা নয়, কিন্তু যখনই এ রকম কোনো ঘটনা ঘটত, তখন সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সরকার তৎপর হতো। কিন্তু এখনকার সরকার তা করছে না। গতানুগতিক ধারায় হয়তো পুলিশকে তদন্ত করতে বলা হচ্ছে, কিন্তু দশ মাস পরে আমরা জানতে পারছি না পুলিশ তদন্ত করে কী পেয়েছে, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমি ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। আমি আমার শিক্ষাদীক্ষায়, নীতি-নৈতিকতায়, বিশ্বাসে, ভাবাদর্শে অসাম্প্রদায়িকতা ধারণ করি এবং দ্বিধাহীনভাবে সোচ্চার কণ্ঠে কথা বলি, যখন দেখি যে অসাম্প্রদায়িকতার নীতি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রথম আলো: গণতন্ত্র, টেকসই উন্নয়ন,বৈষম্যহীন সমতাপূর্ণ সমাজ—এসব আপনার আগ্রহের বিষয় এবং এসব নিয়েও আপনি অনেক লিখেছেন। আপনি কি মনে করেন, বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায়, যেখানে মুনাফাই প্রধান প্রণোদনাশক্তি, সেখানে ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করা, একটা সমতাপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলা আদৌ সম্ভব? মুচকুন্দ দুবে: এ বিষয়ে আমার আশাবাদের কিছুবাস্তব কারণ আছে। পশ্চিমা দুনিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর অধিকাংশের ধীর প্রবৃদ্ধি বা স্লো গ্রোথ সিনড্রোম অনেকাংশেই তাদের সমাজে অসাম্য বৃদ্ধির ফল। তাদের এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার, প্রবৃদ্ধির হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে সমৃদ্ধির ভাগ সমাজের সব অংশের জন্য নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। গবেষণা-সমীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণ করেছেন টমাস পিকেটি তাঁর ইকোনমিকস অব ইনইকুয়ালিটি গ্রন্থে। তিনি শ খানেক দেশের প্রায় এক শ বছরের তথ্য-উপাত্ত জড়ো করে এটা দেখিয়েছেন। কিছুকাল আগ পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে শুধু আয়ের অসমতা নিয়ে। কিন্তু করপোরেট সেক্টরের উত্থান ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ফিন্যান্স-সর্বস্বতার ফলে সম্পদের অসমতাও সৃষ্টি হয়েছে। কারণ করপোরেশনগুলোর নির্বাহীদের এত উচ্চহারে বেতন দেওয়া হয় যে তাঁদের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে। ফলে আয়-বৈষম্যের মাধ্যমে সম্পদের বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে। এটার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। প্রথম আলো: এই দেশগুলোকে কী করতেহবে? মুচকুন্দ দুবে: আমার মনে হয়, ওই দেশগুলোরবিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার প্রয়োজন হবে। কারণ একটা অর্থনৈতিক সংকট থেকে আরেকটা অর্থনৈতিক সংকটে গিয়ে পড়া দিনের পর দিন তো চলতে পারে না। এ বিষয়ে বৈশ্বিক পরিসরে আলাপ-আলোচনা প্রয়োজন, যেটার জন্য সর্বোত্তম ফোরাম হতে পারে জাতিসংঘ। আমি মনে করি না যে এটার জন্য উপযোগী ফোরাম জি-২০। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতিসংঘের অবস্থা ভালো নয়, জাতিসংঘ ক্ষয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘকে এমনই দুর্বল করে ফেলা হয়েছে যে তাকে যেন আর চেনা যায় না। অসাম্যের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পরিসরে কোনো উদ্যোগ যদি নিতে হয়, তাহলে প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হবে জাতিসংঘকে পুনরুজ্জীবিত করা। প্রথম আলো: আপনার কি মনে হয় যে জাতিসংঘ যুদ্ধ, অবরোধ আরোপ ইত্যাদি রাজনৈতিক বিষয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে? মুচকুন্দ দুবে: ঠিক। তবে এটা জাতিসংঘের একদম শুরুথেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ ছিল: কীভাবে আগ্রাসন বন্ধ করা যায়, যুদ্ধ থামানো যায় ইত্যাদি। সেটা এখনো আছে এবং থাকা উচিত। কারণ যুদ্ধ ও আগ্রাসন ঠেকানো জাতিসংঘের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব। আর যত দিন পর্যন্ত দেশে দেশে সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থবোধ কাজ করছে, তত দিন এগুলোর অবসান ঘটবে না, তাই জাতিসংঘের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতেই হবে। কিন্তু এসব বিরোধ-সংঘাতের মূল কারণগুলো দূর করার একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সে জন্য কাজ করতে হবে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে। ইউনেসকো, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, আঙ্কটাড—এই সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ-সহিংসতা ইত্যাদির মূল কারণগুলো দূর করার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু এই সংস্থাগুলোকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে; এদের সব কর্মকাণ্ড চলে গেছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফএর হাতে। বিশ বছর ধরে আমি লিখে চলেছি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য যেসব কাজ জাতিসংঘের করার কথা, সেগুলো তার হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হোক। প্রথম আলো: ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য কমানোর জন্য আপনার কি কোনো সুনির্দিষ্ট পরামর্শ আছে? কী প্রক্রিয়ায় এটা করা যায়? মুচকুন্দ দুবে: আপনি প্রশ্ন করেছিলেন, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করা আদৌ সম্ভব কি না। আমি সেই প্রশ্নে ফিরতে চাই। সাম্প্রতিক বিশ্বে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সমৃদ্ধি আনতে গিয়ে বাজারের শক্তিগুলোর ওপর অতিমাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছে। সন্দেহ নেই, এর মাধ্যমে চীন, ভারতসহ কিছু দেশে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। কিন্তু আবার একই সঙ্গে এর ফলে বৈষম্যও বেড়েছে। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারের ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত এত ঘন ঘন দেখা গেছে এবং সেগুলো এতটাই বিপজ্জনক যে এ ব্যাপারে উদাসীন থাকা যায় না। তাই অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন আছে। বাজারের শক্তিগুলোর পরিমিতি আনতে হবে, রাশ টানতে হবে। প্রথম আলো: এত দিন বলা হয়েছে, বাজারের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ন্যূনতম পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। আপনি বলছেন সেটা ভুল ছিল? মুচকুন্দ দুবে: ঠিক তাই। কারণ অনিয়ন্ত্রিতবাজার অর্থনীতির কারণে আমাদের ভুগতে হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিরাট বিরাট আর্থিক বিপর্যয় ঘটেছে। যেমন ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দা। এই বিশ্বমন্দার কারণ, অনিয়ন্ত্রিত আর্থিক খাত রিয়াল এস্টেট খাতকে গ্রাস করেছিল, অল্প কিছু মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়ার জন্য সেটাকে ব্যবহার করছিল, আর সরকার সেটাকে উপেক্ষা করে যাচ্ছিল। তার ফলে যে মন্দা সৃষ্টি হয়েছিল, সেখান থেকে বিশ্ব গত আট-নয় বছরেও পুরোপুরি উঠে দাঁড়াতে পারেনি। এটা সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত। প্রথম আলো: আপনার আরেকটি কাজের ক্ষেত্রশিক্ষা,এবং আপনি বলেন যে উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেন এবং কীভাবে? মুচকুন্দ দুবে: উন্নয়নের জন্যও যে শিক্ষাখুবগুরুত্বপূর্ণ, তা বহু বছর আগেই দেখিয়েছেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ থিওডর শুলজ। ১৯৬০ দশকের মাঝামাঝি তিনি দেখিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জিএনপির একটা বিরাট অংশের কৃতিত্ব হিউম্যান ফ্যাক্টরের। প্রবৃদ্ধির ৬০-৬৫ শতাংশের পেছনে কাজ করেছে বিনিয়োগকৃত পুঁজি। বাকি ৩৫-৪০ শতাংশ তাহলে কোত্থেকে এল? শুলজ প্রায় গাণিতিকভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে সেটা এসেছে শিক্ষা থেকে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত লোকবল থেকে। তারপর থেকে গোটা বিশ্ব শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হয়েছে। আমি তো পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ দেখি না, যেখানে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত পাবলিক স্কুল এডুকেশন সিস্টেম ছাড়া উন্নয়ন ঘটেছে। একটি উদাহরণও নেই। আমরা ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান তো এর ব্যতিক্রম হতে পারি না। আমরা যদি উন্নত হতে চাই, বিশ্বসভায় নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ জায়গা করে নিতে চাই, জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ বা একটা বড় অংশকে অশিক্ষিত রেখে সেটা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় কথা হলো, পৃথিবীর উৎপাদন প্রক্রিয়া এখন এমন হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে প্রতিটি ধাপেই শিক্ষিত কর্মী দরকার। আজকের পৃথিবীতে পুঁজি শুধু সেই সব দেশেই যাচ্ছে, যেখানে শিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক আছে। তৃতীয়ত, শিক্ষা একটা মৌলিক অধিকার। আমাদের সংবিধান এটা বলে দিয়েছে। প্রত্যেক নাগরিক তাঁর মানবিক মর্যাদার স্বার্থে শিক্ষা লাভের অধিকার ভোগ করেন। প্রথম আলো: ভারতের সংবিধানেই বলা হয়েছে শিক্ষাএকটা মৌলিক অধিকার। আবার শুনছি, রাইট টু এডুকেশন নামে একটা আইন করা হয়েছে। আইনের প্রয়োজন হলো কেন? মুচকুন্দ দুবে: ভারতের সংবিধানে আগে শিক্ষা মৌলিক অধিকারছিল না। সংবিধান শুধু বলেছিল, রাজ্যসমূহ তাদের নাগরিকের শিক্ষা প্রদানের প্রয়াস নেবে। ২০০২ সালে সংবিধানে এটাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, সংবিধানে বলে দেওয়া হয়, এই অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে একটা আইনের মাধ্যমে। সাত বছর পর ২০০৯ সালে আইনটা পাস হয় ‘রাইট টু এডুকেশন’ নামে। আইনের কথা সংবিধানে না থাকলেই ভালো হতো, মানুষ সরাসরি আদালতে গিয়ে শিক্ষার অধিকার দাবি করতে পারত। প্রথম আলো: আপনি ভারতে শিক্ষাবিস্তারের জন্যকী করছেন? মুচকুন্দ দুবে: আমি ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন কমিটি ফর কমন স্কুল সিস্টেম-এর সভাপতি ছিলাম। ২০০৫ বা ২০০৬ সালে নীতিশ কুমার যখন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হলেন, তখন তিনি আমাকে একটা কমিশনের নেতৃত্ব নিতে বললেন, যে কমিশন পরামর্শ দেবে কীভাবে বিহার রাজ্যে কমন স্কুল সিস্টেম গড়ে তোলা যায়। আমি সেই দায়িত্ব নিয়ে পাটনায় চলে যাই, সেখানে আট-নয় মাস থেকে একটা প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিই। কিন্তু এর মধ্যে রাজনীতি ঢুকে যায়, কায়েমি স্বার্থবাদী কিছু গোষ্ঠী তৎপর হয়ে ওঠে, নীতিশ কুমার আমার প্রতিবেদনটি এড়িয়ে যান। কিন্তু আমি কমন স্কুল সিস্টেমের পক্ষে কথা বলেই যাচ্ছি। আমার প্রতিবেদনটি ভারতের অ্যাকাডেমিক মহলে বেশ পরিচিত। এ ছাড়া আমাদের একটা ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন কমিটি ফর রাইট টু এডুকেশন ইন ইন্ডিয়া আছে, আমরা কাজ করছি রাইট টু এডুকেশন আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে। এ কমিটিতে এক হাজার বেসরকারি সংস্থা অংশ নিচ্ছে এবং এর কাজ পরিচালিত হয় আমার অফিস থেকে। আমি এ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।