Tuesday, October 13, 2009

চার দিন বন্ধ থাকার পর পঞ্চগড় জেম জুট আবার চালু

শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ পাটকল জেম জুট লিমিটেড বন্ধ ঘোষণার চার দিন পর গত শনিবার থেকে আবারও চালু হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে কারখানার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর কর্তৃপক্ষ মিল চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নজরুল ইসলাম।
রাতেই মাইকিং করে মিল চালুর সংবাদ জানানোর পর সকাল থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগদান করেন। ৬ অক্টোবর শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য মিল বন্ধ ঘোষণা করে।
জেম জুট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) বোরহান উদ্দিন শামীম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বেআইনি ধর্মঘটের কারণে বন্ধ ঘোষিত জেম জুট লিমিটেডের সাধারণ শ্রমিকদের সম্মিলিত দাবির মুখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে মিল চালু করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। এ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় বসে। বেআইনি ধর্মঘটে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা তাঁদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় শনিবার থেকে মিল চালু করা হয়। সকাল সাতটা থেকে মিলে স্বাভাবিক উত্পাদন শুরু হয়েছে।’
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের মুসলিমবাগে অবস্থিত এই পাটকল ২০০৩ সালে চালু হয়। শতভাগ রপ্তানিমুখী এই প্রতিষ্ঠানের দুটি ইউনিটে ২৯৬টি লুম রয়েছে। এতে বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার জুট ব্যাগ ও জুট ইয়ার্ন (সুতা) বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এই মিলে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানার চারজন কর্মকর্তা ক্ষমতার অবৈধ দাপট ও দৌরাত্ম্য দেখিয়ে পরিস্থিতি খারাপ করেছেন। তাঁরা হলেন সহব্যবস্থাপক (বিক্রয়) মো. মাহবুবুর রহমান শামীম, ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. শামীম বিন হক, ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মো. বোরহানউদ্দিন শামীম ও উপব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) মো. সাইফুল ইসলাম। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ আসছিল।
তবে শামীম বিন হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। আর কারখানার সিওও মেজর (অব.) সোহেল রানা এ প্রসঙ্গে বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই শ্রমিকেরা সকালে কাজ বন্ধ রেখে বেরিয়ে যান। পরে তাঁদের এক পক্ষ কাজ করতে চাইলেও অন্য পক্ষ বাধা দেয়। সংঘর্ষের আশঙ্কায় মিলের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

শুল্ক বিভাগ সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত পিএসআই রাখার পরামর্শ- রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ

শুল্ক বিভাগ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত প্রাক-জাহাজীকরণ পরিদর্শন (পিএসআই) ব্যবস্থা চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনসহ (এফবিসিসিআই) সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার পরও পিএসআই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর শুল্ক খাতে সরকারের রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। তাই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ছাড়া এ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হলে রাজস্ব সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে কেউ কেউ এও বলেছেন, দীর্ঘদিন পিএসআই ব্যবস্থা চালু থাকলে কাস্টমস ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই যত দ্রুত সম্ভব, পিএসআই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে পিএসআই ব্যবস্থা: পরিপ্রেক্ষিত ও ভবিষ্যত্ কর্মকৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে গতকাল রোববার এসব মন্তব্য উঠে আসে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘শুল্ক মূল্যায়নে সব সময় কিছুটা শঠতার আশ্রয় নেওয়া হয়। এ শঠতা কমানোর জন্যই প্রথমে পরীক্ষামূলক ও পরে বাধ্যতামূলকভাবে পিএসআই ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু গত ১০ বছরে পিএসআই ব্যবস্থা যেভাবে চলছে, তা ভালো নয়।’
এ জন্য চারটি কারণ চিহ্নিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথমত পিএসআই পদ্ধতি কত দিন চলবে, তার কোনো মেয়াদ ঠিক করা হয়নি। অস্থায়ী ভিত্তিতে চালু করা হলেও তা অর্নিদিষ্টকাল ধরে চলছে।
দ্বিতীয়ত, চালুর পর থেকে পিএসআই কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে কোনো নিরীক্ষা হয়নি। অবশ্য এর দায়িত্ব এনবিআরের ওপরই বর্তায়।
তৃতীয়ত, পিএসআই কোম্পানির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। আর সবশেষ কারণ হলো, দীর্ঘদিন ধরে পিএসআই কোম্পানি কাজ করার পরও শুল্ক বিভাগ দক্ষতা বাড়াতে পারেনি। তবে যেটুকু বেড়েছে তা দিয়ে পিএসআইয়ের প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব, পিএসআইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ব্যাপারে খুব বেশি দেরি করা যাবে না। কারণ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পিএসআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি শেষ হচ্ছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় হয় চুক্তি বাতিল করতে হবে, নতুবা নতুন চুক্তি করতে হবে। তবে যেটাই হোক, তা করতে হবে স্থায়ী ভিত্তিতে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় এনবিআরের সদস্য রফিকুল ইসলাম, ফরিদউদ্দিন, হোসেইন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে ব্যবসায়ীদের পক্ষে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবদুল হক। আর এনবিআরের পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিকদার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পিএসআই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে পিএসআইয়ের কাজগুলো যাতে এনবিআর করতে পারে, সে জন্য দক্ষতা বাড়ানোর কাজ চলছে। এ জন্য তথ্যভাণ্ডার উন্নত করা হচ্ছে।’
নাসিরউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, এ সেমিনারের খোলামেলা আলোচনা থেকে যেসব প্রস্তাব উঠে আসবে, সেগুলো সরকারের কাছে দেওয়া হবে। এর ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
পিএসআই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সময়সীমা বিষয়ে নাসিরউদ্দিন বলেন, ১ জানুয়ারি বা জুলাই থেকে পিএসআই ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এবার একটা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সীমাবদ্ধতা দূর করার কর্মসূচি তৈরি করবে এনবিআর। কারণ ১০ বছরে এনবিআর পিএসআইয়ের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
আবদুল হক বলেন, পিএসআই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো পণ্যের অপঘোষণা রোধের মাধ্যমে রাজস্বের সুরক্ষা দেওয়া। এ পদ্ধতি চালুর ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। কিন্তু পিএসআই পদ্ধতি অব্যাহত না থাকলে এফবিসিসিআই এবং এনবিআরের মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা কমিশনারেটের যৌথ উদ্যোগে পণ্যভিত্তিক মূল্য ডেটাবেইস তৈরি করা, শুল্ক আইনের অধীনে গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করাসহ এনবিআরের মাঠপর্যায়ে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, পিএসআই ব্যবস্থা চালুর ফলে আমদানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং বা মূল্য কম দেখানোর প্রবণতা প্রতিরোধ করা গেছে।

আজ শুরু এটিএফ অনূর্ধ্ব-১৪ টেনিস

রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রাইম ব্যাংক অনূর্ধ্ব-১৪ এটিএফ টেনিস টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ ছাড়াও টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪ জন খেলোয়াড়। টুর্নামেন্টের বালকের শীর্ষ বাছাই ভারতের প্রাজওয়াল দেব এবং বালিকা এককে একই দেশের দালাল সায়েশা। কাল এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানিয়েছেন টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি শাহরিয়ার আলম। উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র সহসভাপতি ফেরদৌসি সুলতানা।

ব্রাজিলের চোখে আরেক শিরোপা পঞ্চক

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচই পাদপ্রদীপের আলো কেড়ে নিয়েছিল পরশু। যুব বিশ্বকাপ যেন এর নিচে চাপাই পড়ে গিয়েছিল। তবে কায়রো আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনেকটা নীরবেই ফুটবল সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসল ছোটদের বিশ্বকাপ। ব্রাজিল-জার্মানি ও কোস্টারিকা-আরব আমিরাত—দুটি সেমিফাইনালেই ছিল শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ঠাসা ম্যাচে ৭৩ মিনিটে জার্মান যুবারা পেছনে ফেলেছিল চারবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ দলকে। এই গোলেই জয় দেখছিল জার্মানি। কিন্তু জার্মানি শিবিরকে স্তব্ধ করে ৮৮ মিনিটে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান সুপারসাব মাইকন। আর অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে জয়সূচক গোল করে মাইকনই ব্রাজিলকে তুলে দেন সেমিফাইনালে।
কায়রো আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামেই আরব আমিরাত-কোস্টারিকা ম্যাচে অসাধারণ ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত ১-২ গোলে হেরেছে আরব আমিরাতের যুবারা। আহমেদ আলীর গোলে ৩৩ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল আরব আমিরাত। ৪ মিনিট পর খেলার ধারার বিপরীতে হসু মার্টিনেজ গোল করে ম্যাচে ফেরান কোস্টারিকাকে। আর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলার ইনজুরি সময়ের ২ মিনিটে দলকে জয়সূচক গোলটি উপহার দেন মার্কোস ইউরেনা।
আগামী পরশু প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি ঘানা ও হাঙ্গেরি। পরের দিন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে ব্রাজিল আর কোস্টারিকা।

হকির দলবদল নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ সভা

প্রিমিয়ার হকি লিগের দলবদল নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। মোহামেডান আপত্তি তুললেও ১৫ তারিখের মধ্যে তারা দলবদলে রাজি বলে জানা গেছে। তবে ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে দলবদল পেছানোর দাবি তুলেছে আবাহনী, মেরিনার ইয়াংস, বাংলাদেশ স্পোর্টিং। এই তিন দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ লিগ কমিটির জরুরি সভা বসছে। আশা করা হচ্ছে, এই সভার পর দলবদল নিয়ে জটিলতা কাটবে।
কাল পঞ্চম দিনে দলবদল করেছেন মাত্র চারজন—সোনালী ব্যাংক থেকে অ্যাজাক্সে আলমগীর হোসেন ও ওয়ারীতে নাম লিখিয়েছেন সেলিম লাকি। বাংলাদেশ স্পোর্টিং থেকে ওয়ারীতে খোরশেদ আলম এবং ওয়ারী থেকে সাধারণ বীমায় এসেছেন তরিকুল হোসেন।

অন্য কারণ খুঁজে পাচ্ছেন মাসুদুল

কয়েক দিন আগে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ট্রায়ালে ১০.৭৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন মাসুদুল করিম। গত মাসে জার্মানির বার্লিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও গিয়েছিলেন। কিন্তু আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড প্রতিযোগিতায় যেতে পারছেন না দেশের দ্রুততম মানব। তাঁকে বাদ দিয়ে চীনে পাঠানো হচ্ছে হাইজাম্পের সজীব হোসেন, লংজাম্পের ফিরোজ সরকার, হার্ডলসের আসাদুজ্জামান, ১০০ মিটার স্প্রিন্টের শামসুন্নাহার চুমকি ও সুমিতা রানীকে।
মাসুদুলের অভিযোগ, ‘আমি ১০০ মিটারে দেশসেরা হওয়ার পরও আমাকে ফেডারেশন চীনে পাঠাচ্ছে না। কোচ নিয়ে আন্দোলনের কারণেই আমাকে এভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ জার্মানি থেকে ফেরার পরপরই ফেডারেশনের সহসভাপতি আলী ইমাম আমাকে কথা দিয়েছিলেন চীনে একজনকে পাঠানো হলেও আমিই যাব।’ শুধু মাসুদুলই অবশ্য নন, ৪০০ মিটারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন আজহারুল ইসলাম ও ইসরাত জাহান ইভাকেও চীন সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মাসুদুলের অভিযোগ মানছেন না ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, ‘আমরা সবাইকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়েই বিদেশে পাঠাতে চাই। তবে এখানে পারফরম্যান্সটাই মুখ্য। সর্বশেষ ট্রায়ালে মাসুদুল খুব বেশি ভালো করতে পারেনি। এটা একটা বিষয়। এ ছাড়া আসন্ন এসএ গেমসের জন্য ক্যাম্পের সবাই যাতে ভালো প্রস্তুতি নিতে পারে সে জন্যও এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আর যদি আন্দোলনের জন্যই ওকে বাদ দিতাম তাহলে তো বার্লিনেই যেতে পারত না সে। আমরা চাইলে বিদেশ-যাত্রার এক সপ্তাহ আগেই সফরের জন্য নির্বাচিত তালিকা থেকে কাউকে বাদ দিতে পারি।’

প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি -কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন by এমাজউদ্দীন আহমদ

২০০৯ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া হাতে এসেছে। ৯০ পৃষ্ঠার খসড়ায় চোখ বুলিয়েছি। খুশি হয়েছি এই দেখে যে, এতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে, যা সময়োপযোগী। প্রাথমিক শিক্ষার প্রারম্ভে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, আট বছর মেয়াদি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুষম অনুপাতের প্রস্তাব, বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক বিদ্যায়তনে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণের আগ্রহ, প্রাথমিক পর্যায়ে সব ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা, প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা ইতিবাচক। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতির ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতার প্রয়োজনীয়তা, উচ্চশিক্ষায় গবেষণাকে উত্সাহ দান, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার স্থাপন, জাতীয় শিক্ষানীতি মনিটরিং ও বাস্তবায়নের জন্য একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বেসরকারি কলেজে শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং প্রশিক্ষণের জন্য একটি স্বতন্ত্র শিক্ষক নির্বাচন ও উন্নয়ন কমিশন গঠনের প্রস্তাবও ইতিবাচক। অবশ্য এসব প্রস্তাবের অনেকগুলো অতীতের কমিটি/কমিশনের রিপোর্টে উপস্থাপিত হয়েছিল। তা যা-ই হোক, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার ধারা নির্বিশেষে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবস্তু হিসেবে যে ছয়টি বিষয়—বাংলা, ইংরেজি, নৈতিক শিক্ষা, গণিত, বাংলাদেশ পরিচিতি, সামাজিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিচিতি এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি—বাধ্যতামূলকভাবে পড়ার জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে, তা ভালো। বিদ্যালয়ের পরিবেশ যেন আনন্দময় ও আকর্ষণীয় হয়, তার প্রস্তাবও ভালো। মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনটি ধারায়—সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—এভাবে ছাত্রছাত্রীদের বিন্যাস ঘটানো হয়েছে, তাও ভালো। এসব ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্নবোধক চিহ্ন নেই।
প্রশ্ন রয়েছে কয়েকটি বিষয়ে। তা উত্থাপনের আগে এই অঞ্চলে সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসাশিক্ষার বিভিন্ন প্রকরণের মধ্যে যে প্রকৃতিগত বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, দীর্ঘকালীন পরিসরে সে সম্পর্কে কটি কথা বলা প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ায় যখন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকেই এই অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মক্তব-মাদ্রাসারূপে চিহ্নিত হয়। মক্তব শব্দের অর্থ শিক্ষাকেন্দ্র এবং মাদ্রাসার অর্থ শিক্ষানিকেতন। এসব প্রতিষ্ঠানে সবাই লেখাপড়া করত। বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এসব প্রতিষ্ঠানে সবকিছুই শেখানো হতো। কোরআন, হাদিস থেকে শুরু করে ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পাঠদান করা হতো মাদ্রাসায়। শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও বদান্যতায় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পরিচালনায় মাদ্রাসা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এই অঞ্চলের বহু জ্ঞানী-গুণী মাদ্রাসায় শিক্ষা লাভ করে রাজনীতি, ইতিহাস, সমাজসেবা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে যশস্বী হয়েছেন। ১৭৬৫ সালে মীর্জা এহতেসামউদ্দিন (Mirza I’tesamuddin) ইংল্যান্ড সফর করে তাঁর অভিজ্ঞতার বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছিলেন শিগুর্ফ নামা-এ-বিলাত (Shigurf Nama-e-Vilayet) গ্রন্থে। ফারসি ভাষায় লিখিত এ গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেছেন কায়সার হক। প্রকাশিত হয়েছে ২০০২ সালে। এই বিবরণীতে তিনি বলেছেন, অক্সফোর্ড মাদ্রাসা দেখে আমার মনে হয়েছে, আমাদের দেশের মাদ্রাসার মতোই এটি। অন্য কথায়, এ দেশের মাদ্রাসার মান তখন উন্নত ছিল। উন্নত শিক্ষাকেন্দ্ররূপেই তা খ্যাতি অর্জন করে।
এই মান এ অঞ্চলের মাদ্রাসা ধরে রাখতে পারেনি। এর একটা বড় কারণ হলো, ১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলে (Macauley) কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষানীতি। ফারসির পরিবর্তে ইংরেজি ও জ্ঞানবিজ্ঞানের অন্যান্য ধারা বর্জন করে সাধারণ শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি ছিল এই নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। ভারত শাসনে এই অঞ্চলে উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে তাদের সহায়ক ও সমর্থক গোষ্ঠীতে রূপান্তর করাই ছিল এই শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য। মেকলের নিজের কথায়: “এই মুহূর্তে এমন এক শ্রেণী সৃষ্টির ক্ষেত্রে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে যে শ্রেণী আমাদের এবং লাখ লাখ শাসিতের মধ্যে ব্যাখ্যাকারীর ভূমিকা পালন করবে। এ শ্রেণী এমন এক শ্রেণী হবে, যারা রক্তে ও বর্ণে হবে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, অভিমত, নীতিবোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিতে হবে ইংরেজি’ [‘We must at present do our best to form a class whom we govern, a class of persons, Indian in blood and colour but English in taste, in opinions, in morals and in intellect.’]। তখন থেকে এ দেশে আসে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি প্রভৃতি শব্দ। ইংরেজির মাধ্যমে লেখাপড়া শিখে সরকারি চাকরি লাভ, ব্যবসা-বাণিজ্যে অগ্রগতি অর্জন ইত্যাদি লোভনীয় ক্ষেত্রে আকৃষ্ট হয় সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা। ইংরেজি মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার প্রসার ঘটতে থাকে দ্রুত। এ ক্ষেত্রে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে অসংখ্য মিশনারি গ্রুপের ইংরেজিতে পাঠদান সহায়তা করে ভীষণভাবে। ব্রিটিশ শাসকদের প্রবর্তিত এই শিক্ষানীতির প্রেক্ষাপটও উল্লেখযোগ্য। ভারত শাসনের জন্য প্রয়োজন ছিল ভারতীয়দের আচার-আচরণ, নীতি-নৈতিকতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, নিয়ম-পদ্ধতি সম্পর্কে সজ্ঞাত হওয়া। এই লক্ষ্যে সরকার কলকাতায় ১৭৮১ সালে প্রতিষ্ঠা করে হিন্দু কলেজ ও কলকাতা মাদ্রাসা। প্রসঙ্গত, এই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো এ অঞ্চলে সর্বপ্রথম সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অন্যান্য ছাত্রের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরাও যেন এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এ দুটি প্রতিষ্ঠান। ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তা-ই ছিল। হিন্দু কলেজ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্বে প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর হয়, কিন্তু কলকাতা মাদ্রাসা অবহেলা, বঞ্চনা, উপেক্ষার কারণে স্থবির হয়ে থাকে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসারূপে। একদিকে মুসলমানদের দারিদ্র্য, অন্যদিকে কিছু নেতৃস্থানীয় মুসলিম নেতার ব্রিটিশ শাসনের প্রতি ঘৃণাজনিত সাধারণ শিক্ষার প্রতি অনীহা সরকারি মাদ্রাসা তথা দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মাদ্রাসাগুলোকে রক্ষণশীল, সংকীর্ণ এবং যুগের অনুপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করে ফেলে। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রটি ক্রমে ক্রমে উর্বর হতে থাকে। স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিকতার আলোয় জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারার চর্চা হতে শুরু করে। লর্ড মেকলের সেই লক্ষ্য অর্জিত হয় বটে, সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে ক্রমে জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা এবং গবেষণার কেন্দ্রে রূপায়িত হয়েছে। মাদ্রাসাগুলো কিন্তু সেই স্থবিরতা আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এই প্রেক্ষাপট মনে রাখলে বর্তমান শিক্ষা কমিশন আরও একটু সংবেদনশীল হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষা সম্পর্কে ভাবতে পারত। ভাবেনি তারা। ভাবেনি বলেই মাদ্রাসাশিক্ষার বিভিন্ন প্রকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রস্তাবটি অস্পষ্ট ও হেলাফেলার। ইবতেদায়ি পর্যায়ে নির্দিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়গুলোর পাঠদান বাধ্যতামূলক হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রস্তাবিত কারিকুলামের আওতায় আনার কোনো প্রস্তাব নেই এই শিক্ষানীতিতে। যদিও দেশের বহুসংখ্যক ছেলেমেয়ে, বিশেষ করে অতি দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের ছেলেমেয়েরা এসব প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে অথবা করতে বাধ্য হয়। কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কেও নেই কোনো প্রস্তাব, যদিও দেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা প্রচুর। বর্তমান শিক্ষানীতি এদিক থেকে অনেকটা অসম্পূর্ণ। মাধ্যমিক পর্যায়ে অর্থাত্ নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা বয়সের পরিপ্রেক্ষিতে কোমল প্রাণ, সহজপ্রবণ (impressionable)। এই বয়সের ছেলেমেয়েদের জন্য ধর্ম ও নীতিশাস্ত্র ঐচ্ছিক না হয়ে আবশ্যিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকে অর্থাত্ ১৯৭২ সাল থেকে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত কর্মসূচিতে সব ধর্মের শিশুদের ধর্মীয় জ্ঞান, অক্ষরজ্ঞানসহ আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিকতা শেখানোর যে প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়েছে, মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা এবং চার্চে উপস্থিত করিয়ে তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বিভিন্ন ধর্ম-জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়ের মোজায়েকে গড়া এই জনপদে এর ফল উল্টো হতে পারে। বড় হয়ে যারা নিজেদের ভিন্নতা এবং স্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে সচেতন হতো, শিশুকাল থেকেই তাদের মধ্যে সেই চেতনা জন্ম লাভ করতে পারে। জাতীয় পর্যায়ে ধর্মকেন্দ্রিক বিভেদ আরও দৃঢ় হতে পারে। এই প্রস্তাব প্রত্যাহারযোগ্য।
বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত হয়েছে, ‘রাষ্ট্র (১) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য... কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন’ (অনুচ্ছেদ ১৭(১)। এই কমিশনও সংবিধানের দোহাই দিয়ে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে লিখেছে, ‘এই শিক্ষা নীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে সেক্যুলার, গণমুখী, সুলভ, সুষম, সার্বজনীন, সুপরিকল্পিত এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করবে।’ সংবিধানের নির্দেশ ছাড়াও এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য যে ১০ দফা দাবিনামা রচনা করেছিল, তার একটি দফায় উল্লিখিত হয়েছিল, ‘সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শোষণ মুক্তির লক্ষ্যকে সামনে রেখে অবিলম্বে একটি সার্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।’ এই নীতি একমুখী শিক্ষানীতিরূপেই সমধিক পরিচিত। এ ক্ষেত্রে কমিশনের ব্যর্থতা প্রকট। এক, সংবিধানে লিখিত ‘গণমুখী’ শব্দের পূর্বে ‘সেক্যুলার’ শব্দটি ব্যবহার করে কমিশন তাদের শিক্ষানীতিকে অকারণে বিতর্কিত করেছে। বিতর্কিত করেছে বলছি এ জন্য যে, একদিকে শিক্ষাব্যবস্থাকে সেক্যুলার করার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে প্রাক-প্রাথমিক পর্বে শিশুদের মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডায় নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। রয়েছে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ক্যাটাগরিতে ইসলামধর্ম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থাও। আমার মনে হয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে সেক্যুলার শব্দটি প্রোভোকেটিভ (Provocative)। দুই, মাদ্রাসাশিক্ষার নিম্নস্তরের শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় সাধনের প্রস্তাব থাকলেও দেশের ক্যাডেট কলেজ, কিন্ডারগার্টেন, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল, প্রি-ক্যাডেট, টিউটোরিয়াল হোম এবং বিদেশের শিকড়যুক্ত ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলকে অব্যাহত রেখেছে। একমুখী শিক্ষার কনসেপ্টকে এভাবে কমিশন পরিত্যাগ করেছে। তিন, রিপোর্টে ‘জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারা বিকশিত করে প্রজন্মপরম্পরায় সঞ্চালনের ব্যবস্থা করার’ কথা বলা হলেও ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিতের অনুপস্থিতি পীড়াদায়ক। চার, মাধ্যমিক স্তরে চূড়ান্ত পাবলিক পরীক্ষা দ্বাদশ শ্রেণী শেষে হলে এ দেশের যেসব ছেলেমেয়ে বিদেশে লেখাপড়া করবে; তারা যে অশেষ দুর্গতির মধ্যে পড়বে, তাও এই কমিশনের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। মাধ্যমিক স্তরে দশম শ্রেণীর শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষা যে জরুরি, তা অনুধাবন করা প্রয়োজন ছিল। পাঁচ, আগেই বলা হয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ধর্ম ও নীতির পাঠদান বাধ্যতামূলক হওয়া প্রয়োজন; ঐচ্ছিক কোনো বিষয় হতে পারে না। সর্বস্থানে মৌলবাদের ভূত না দেখে উন্নত জীবনের সূত্রগুলো সামনে রাখা দরকার।
যেকোনো জনপদে শিক্ষানীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হওয়া উচিত সেই জনপদের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। যে বাংলাদেশে এখনো মোট জনসমষ্টির প্রায় অর্ধেক নিরক্ষরতার অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং যে দেশে মোট জনসমষ্টির প্রায় ৪৪-৪৫ ভাগ জনসমষ্টি এখনো দারিদ্র্য সীমারেখার নিচে বসবাস করে, যাদের অর্ধেকই মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছে, সে দেশে, কমিশনের কথায় ‘সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শহর ও গ্রাম পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ চিত্রকলা ও কারুশিল্পের প্রদর্শনী, সংগীত, নাটক ও নৃত্যানুষ্ঠানের ব্যবস্থা’ যে কত বড় প্রহসন, তা তাদের কে বলবে? গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর খবর তাঁরা রাখেন কি? কটা বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় ঘর-দরজা রয়েছে? রয়েছে কি প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক? আছে কি কিছু বইপত্র রাখার ব্যবস্থা? কটা বিদ্যালয়ে রয়েছে ছোট ছোট ছেলেমেয়ের খেলার মাঠ? খেলাধুলা শেখানোর শিক্ষক? ললিতকলা, সংগীত, নাটক বা চারুকলা, কারুশিল্পের পক্ষে আমি। কিন্তু আমি দেশের সর্বজনীন সাক্ষরতাকে সবার আগে স্থান দিয়ে থাকি। সাক্ষরতার মাটির প্রদীপটি জ্বলে উঠলেই শুধু ললিতকলা চারদিক আলোকিত করতে পারে। সবার আগে স্থান দিয়ে থাকি আমি দারিদ্র্য বিমোচনকে। যার পেটে ভাত নেই তার কাছে অর্থহীন স্বাধীনতা, অধিকার, কর্তব্যবোধ, রুচিশীলতা। এই প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলে শেষ করতে চাই। দেশে গার্লস গাইড, বয়স্কাউট, এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনসিসি চালু আছে। চলছেও হোঁচট খেতে খেতে। এর পরও সেই অতীতের, বর্তমানে অপ্রচলিত ব্রতচারী ব্যবস্থাকে টেনে আনার মানসিকতাকে কী বলবেন? অতীত স্মৃতির প্রতি তীব্র আকর্ষণ? না অন্য কিছু?
এর পরও যেটুকু রয়েছে তাকে মার্জিত করা প্রয়োজন। দলীয় স্লোগানগুলো মুছে ফেলে, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষানীতির বিভিন্ন সুপারিশ বিশ্লেষণ করে জাতীয় নীতির আদল দেওয়া প্রয়োজন। বহুবার নীতি প্রণীত হতে দেখেছি। বাস্তবায়ন ক্ষেত্রটি কিন্তু বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত। শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য, বিশেষ করে দীর্ঘকালীন পরিসরে এর স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে এ সম্পর্কে মতৈক্য। জোর করে শুরু করলে তা কোনো দিন শেষ হয় না। গন্তব্যে তা না-ও পৌঁছাতে পারে। বিজয়স্তম্ভ তা কোনো দিন স্পর্শ না-ও করতে পারে। এ সত্য অনুধাবন করতে হবে সরকারকে। গ্রামাঞ্চলে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে এবং প্রায় সবাই তা মেনেও চলে—আগে ঘর সাজাও, তারপর নববধূকে বরণ করো। অসুন্দরও তখন সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।
এমাজউদ্দীন আহমদ: সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বারাক ওবামার নোবেল -চমকিত বিজয়ে আশার বিনিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সব পুরস্কারের সেরা নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁকে অভিনন্দন। ২০০৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার যে পাত্রে দান করা হয়েছে, সেই পাত্রের উপযুক্ততা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র নয় মাসের মাথায় এত বড় স্বীকৃতি যতটা চমক সৃষ্টি করেছে, ততটা যথাযথ হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। ওবামা এমন একজন ব্যক্তি, যাঁকে তাঁর শত্রুরাও শ্রদ্ধা করে। তাই এই পুরস্কার অপ্রত্যাশিত হলেও অভিনন্দিত হয়েছে।
নরওয়ের নোবেল কমিটি ওবামাকে রেকর্ডসংখ্যক ২০৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্য থেকে বেছে নিয়েছে। নোবেল কমিটির সভাপতি অসলোয় এই ঘোষণা দেওয়ার সময় বলেন, ‘ওবামা পরমাণু অস্ত্রবিহীন পৃথিবীর জন্য কাজ করেছেন; আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতির মধ্যে নতুন পরিবেশ এনেছেন এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন।’ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের তুলনায় ওবামার এই প্রবণতা পৃথিবীর জন্য স্বস্তিদায়ক, সন্দেহ নেই। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর এই অল্প সময়ে ওবামা স্বদেশে বা বিদেশে এমন কোনো নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। ইরাক যুদ্ধের অবসান এবং গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওবামা বিশ্বজনমতকে আকর্ষিত করেছিলেন। ক্ষমতায় বসে ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিনিময়ে শান্তির প্রতিশ্রুতি আদায়ের জন্য সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু এর একটিও এখনো অর্জিত হয়নি, যুদ্ধের পথে মার্কিন ভূমিকার মৌলিক পরিবর্তন এখনো ঘটেনি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আশা জাগিয়েছেন কিন্তু কাজের প্রমাণ এখনো হাজির করতে পারেননি। আমরা একে বলতে পারি শান্তির লক্ষ্যে আগাম বিনিয়োগ। ওবামা নিজেও এই পুরস্কারকে ‘কর্মের ডাক’ বলে বিনীত জবাব দিয়েছেন।
নোবেল কমিটিও মনে করে, এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘তিনি যা অর্জন করার চেষ্টা করছেন, সেটার সাফল্যে সহায়তা করার জন্য।...পরিষ্কারভাবে ওবামা যা চান, আমরাও যে তা-ই চাই, এটা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।’ ওবামা যে আশাবাদ জাগিয়েছেন, এই পুরস্কার সেই আশাবাদকে সফল করার জন্য প্রেরণা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি যদি ব্যর্থ হন? জর্জ বুশের রেখে যাওয়া যুদ্ধ তাঁর কাঁধে। দায়িত্ব নিয়ে ওবামা আফগানিস্তানে ১৭ হাজার নতুন সেনা পাঠিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে আরও ৪০ হাজার সেনা রওনা হওয়ার জন্য তৈরি। এ রকম অবস্থায় নোবেল পুরস্কার কি স্বদেশের যুদ্ধবাদীদের বিপক্ষে তাঁর অবস্থান জোরদার করবে? তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষায় তাঁকে আরও উদ্যোগী করে তুলবে? নাকি একে তিনি যুদ্ধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবেন?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট শান্তির রাজপুত্র হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়লেন। তাঁর এই অর্জন বিনয়, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরই অর্জন। বর্তমানের অশান্ত বিশ্বে এসব গুণের বড়ই অভাব। আশাবাদীর এ সম্মাননা যেন আশার বাস্তবায়ন ঘটায় এবং নিপীড়িতের জন্য সান্ত্বনা আনতে পারে।

জেএমবির সাত জঙ্গি গ্রেপ্তার -নিরাপত্তা প্রশাসনে জঙ্গিবিষয়ক সেল দরকার

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিসংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তথাকথিত রাজশাহী বিভাগীয় প্রধানসহ সাত জঙ্গির গ্রেপ্তার হওয়াটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কৃতিত্বের পরিচায়ক। কিন্তু একই সঙ্গে জেএমবির কৌশলগত পরিবর্তনের দিকটি খুবই উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রক্ষমতায় মিত্র ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের অনুপস্থিতির কারণে তারা সামরিক দিকটি নিষ্ক্রিয় রেখে দাওয়াতি কার্যক্রমের দিকে ঝুঁকেছে। বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে নিরন্ন জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে আকৃষ্ট করতে তারা যে সফল হতে পারে, তার ধারণাও আমরা পাচ্ছি। কিন্তু মুশকিল হলো, রাজশাহীর পুলিশ প্রশাসনের কাছে এমন কোনো রক্ষাকবচ নেই, যার সাহায্যে তারা অব্যাহত ও কার্যকরভাবে জেএমবির ‘দাওয়াতি’ কৌশল মোকাবিলা করতে পারে।
আসল কথা হচ্ছে, সশস্ত্র জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক পুলিশ প্রশাসনে উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠামোগত কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য, পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগসহ নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা স্তরে ‘কমিউনিজম’ প্রতিরোধ বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বামপন্থীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে মান্ধাতার আমলের সাংগঠনিক অবকাঠামো এখনো বিদ্যমান। জাতীয় নিরাপত্তা প্রশাসন থেকে উত্তরাধিকারের এ ভূত অবিলম্বে তাড়াতে হবে। আমাদের জাতীয় জীবনে জঙ্গিবাদের হুমকি এখনো প্রবল। হয়তো এ কথা সত্য, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমানে খুব বেশি সংগঠিত পর্যায়ে নেই। কিন্তু তাই বলে কোনোক্রমেই অসতর্ক বা শিথিল মনোভাব পোষণের সুযোগ নেই। ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র জঙ্গিবাদ এমন এক দুরারোগ্য ব্যাধি, যার পুনরুত্থানের আশঙ্কাকে খাটো করে দেখা যায় না। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারে আমাদের অনেকেরই ক্লান্তি নেই। সে কারণে জেএমবির কথিত সামরিক শাখার কার্যক্রম সীমিত করে দাওয়াতি কাজ বাড়ানোর বিষয়টি প্রতিহত করতে নিরাপত্তা প্রশাসনকে উপযুক্তরূপে ঢেলে সাজাতে হবে।
বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলটির দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। বাংলা ভাই, শায়খ রহমানদের আবির্ভাব যে এলাকায়, সেখানে গত ১০ মাসে একটি ডাকাতিও হয়নি, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে কেউ কাউকে খুন করেনি—এ তথ্য গতকাল প্রথম আলোকে জানালেন রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার এ এফ এম মাসুম রব্বানী। রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং তাদের অনগ্রসর অংশকে আকৃষ্ট করতে জঙ্গিরা সহজে সফল হতে পারে। এ দিকটি উপযুক্তরূপে মোকাবিলা করতে এখনই জুতসই কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি আমাদের সঙ্গে একমত হন, জাতীয় নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে অনতিবিলম্বে বিশেষ সেল গঠন করতে হবে। আঞ্চলিক পুলিশেও তা থাকতে হবে এবং এর একটা সমন্বিত রূপ অবশ্যই থাকা দরকার। দীর্ঘদিন চরমপন্থী দমনকাজে অভিজ্ঞ ওই পুলিশ সুপারের কথায়, এ ধরনের উদ্যোগের দ্রুত বাস্তবায়ন অপরিহার্য। জঙ্গি দমনসংক্রান্ত ওই প্রস্তাবিত সেল স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে এবং জঙ্গিবিষয়ক গবেষণা ও তথ্যের আদান-প্রদান নিশ্চিত করবে। মনে রাখতে হবে, জঙ্গিবাদ এমন এক ব্যাধি, তা কেবল ধরপাকড় ও আস্তানা গুঁড়িয়ে নিঃশেষ করা যাবে না। বর্তমানের নিস্তেজ জেএমবিকে খাটো করে দেখা ঠিক

ইরাকে তিনটি বিস্ফোরণ, নিহত ২২

ইরাকের আনবার প্রদেশের রাজধানী রামাদি শহরে গতকাল রোববার তিনটি বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬১ জন। ওই দেশের পুলিশ বিবিসিকে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিস্ফোরক দ্রব্য বোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দেয়ালের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এর পরপরই ওই বিস্ফোরণে ফলে সৃষ্ট ভিড়ের মধ্যে বিস্ফোরক বোঝাই আরেকটি মোটরসাইকেল ঢুকে পড়ে এবং বিস্ফোরিত হয়। আর তৃতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে শহরের প্রধান হাসপাতালের সামনে।
সুন্নি বিদ্রোহীদের এক সময়কার কেন্দ্রস্থল রামাদিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রথম বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও দমকলবাহিনীর সদস্যরা আহতদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে। এর পরপরই পুলিশ তৃতীয় বিস্ফোরণের আশঙ্কায় বাতাসে ফাঁকা গুলি করতে থাকে এবং সাধারণ লোকজনকে সেখান থেকে সরে যেতে বলে।
সুন্নী যোদ্ধারা আল-কায়েদার সঙ্গ ত্যাগ করে মার্কিন ও ইরাকি বাহিনীর সঙ্গে হাত মেলানোয় রামাদি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আনবারে ইরাকি সেনা ও পুলিশের তল্লাশি চৌকির ওপর হামলা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ জয়

শ্রীলঙ্কায় গত শনিবার অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। কর্তৃপক্ষ গতকাল জানায়, ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স পার্টি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রাদেশিক পরিষদের ৫৫টি আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে ৩৮টি আসন। প্রধান বিরোধী ইউনাইটেড পার্টি পেয়েছে ১৪টি ও মার্কসিস্ট পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট পেয়েছে তিনটি আসন।
প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে এবার প্রায় ১৭ লাখ ভোটার ছিলেন। দেশটিতে আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

কাবুলের দূতাবাসে হামলার জন্য পাকিস্তানকে সন্দেহ করছে ভারত

ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে জঙ্গি হামলার পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, যারা হামিদ কারজাই সরকারের বিরোধী, সেসব পাকিস্তানি জঙ্গিরাই এ হামলা চালিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও কাবুলে হামলার স্থল পরিদর্শন শেষে গত শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের বাইরের কেউ এই হামলা চালিয়েছে।’ ভারতের পররাষ্ট্রসচিব যদিও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেননি, কিন্তু তাঁর মন্তব্যে চিরবৈরী প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে হামলায় ১৭ জন মারা যায়। এতে দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা হতাহত না হলেও কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী মারা যান।
নিরুপমা রাও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আফগানিস্তানের মানুষ এখন প্রায়ই এ রকম সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে। আর সন্ত্রাসীদের যারা উসকানি দিচ্ছে, তারা সীমান্ত এলাকাতেই বাস করছে। যারা ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বন্ধুত্ব এবং কাবুলে গণতন্ত্র মেনে নিতে পারছে না, এটা তাদেরই কাজ।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত সাইদ জাওয়াদ পিবিএস রেডিওকে বলেছেন, ‘আমরা এ হামলার জন্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে সন্দেহ করছি।’
২০০৮ সালের জুলাইয়ে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে একই ধরনের হামলা চালানো হয়। এতে ৬০ জন নিহত হয়েছিল।

বিবাহবিচ্ছেদ এড়াতে ভ্রমণ

বিবাহবিচ্ছেদ এড়াতে ভ্রমণ—ভাবতে অবাক লাগলেও এমনই একটি ধারণা নিয়ে এসেছে ভারতের কয়েকটি পর্যটনপ্রতিষ্ঠান। ভারতের মতো সনাতন সমাজে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা একসময় ছিল প্রায় অচিন্তনীয়। তবে হালে হাওয়া বদলেছে। ভারতের বড় বড় শহরে বিবাহবিচ্ছেদ এখন হরহামেশাই ঘটছে। নয়াদিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ে বিবাহবিচ্ছেদের খবর প্রায়ই শোনা যায়।
নয়াদিল্লির একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এএনজেড’। প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার হাসান আনজার বলেন, নারীর ক্ষমতায়নই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা ও চাকরির কারণে নারীর জীবনধারা পাল্টে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে অনেক নারীই এখন স্বাধীন। আর এর প্রভাব পড়েছে তাদের ব্যক্তিজীবনে। পরিবর্তন এসেছে চিন্তা-চেতনায়ও। এ কারণে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাও বাড়ছে।
ভারতে বিবাহবিচ্ছেদ এড়াতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। এদেরই একটি মুম্বাইয়ের পর্যটনপ্রতিষ্ঠান ‘কেভি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’। প্রতিষ্ঠানটি বিবাহবিচ্ছেদ বন্ধে অভিনব ধারণা নিয়ে এসেছে। স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ ছাড়াছাড়ির পর্যায়ে চলে গেলে তারা ওই দম্পতিকে ভ্রমণে যেতে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাদের বিশ্বাস, বেড়াতে গেলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই মনের অবস্থা ভালো হয়ে যাবে। এতে করে সম্পর্ক আর বিচ্ছেদের পর্যায়ে গড়াবে না।
কেভি টুরসের প্রধান কর্মকর্তা ভিযেশ থাক্কার বলেন, ‘বিচ্ছেদ এড়াতে আমরা ডিভোর্স ট্যুরিজম চালু করেছি। এর মাধ্যমে আমরা দম্পতিদের ছাড়াছাড়ির হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছি।’
ভারতে বিয়ের প্রথাকে সমাজের প্রধান ‘মেরুদণ্ড’ ভাবা হয়। বিশ্বের যেসব দেশে বিবাহবিচ্ছেদ খুবই কম, ভার সেগুলোর অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে অর্ধেক বিয়েই ভেঙে যায়, ভারতে সেখানে এ ধরনের ঘটনা শতকরা মাত্র একটি।
হাসান আনজার বলেন, ‘দিল্লি, মুম্বাইয়ের মতো বড় বড় শহরে উচ্চবিত্ত লোকের বাস। সেখানে বিচ্ছেদ এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে নারী এগিয়ে গেছে। তাই স্বামীর সঙ্গে কলহে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের ভাবনাও বেড়েছে।’
মনোরোগ চিকিত্সক রিয়া প্রভিন তেম্বেকার বলেন, ডিভোর্স ট্যুরিজমের ধারণায় তিনি উচ্ছ্বসিত। তাঁর ভাষায়, ভ্রমণে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের সমাধান সম্ভব।
ভিযেশ থাক্কার বলেন, স্বামী-স্ত্রী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে গেলে তাঁরা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এর পেছনে কোনো অর্থ ঢালতে চান না; কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা এটা চান। তাঁরা চান যেকোনো মূল্যে স্বজনের বিয়ে টিকিয়ে রাখতে। তাঁরা মনে করেন, বিয়ে ভেঙে যাওয়া মানে পরিবারের সম্মানহানি।
থাক্কার জানান, স্বামী-স্ত্রীর ভুল-বোঝাবুঝি ভাঙতে এক সপ্তাহের ভ্রমণই যথেষ্ট। পাহাড়ি এলাকায় এক সপ্তাহের ভ্রমণের জন্য গড়ে ৩৫ হাজার রুপি লাগে। আর বিদেশে গেলে খরচ হয় আরেকটু বেশি।
থাক্কার বলেন, ‘দম্পতিদের আমরা এমন স্থানে পাঠিয়ে থাকি, যেখানে এর আগে তাঁরা কখনো যাননি। জায়গাটা হয় কোলাহলমুক্ত। ভ্রমণকালে বিজ্ঞ পরামর্শকেরা দম্পতিদের সঙ্গেই থাকেন। তাঁরা সুযোগ পেলেই স্বামী-স্ত্রীকে কলহ মিটিয়ে নতুন করে জীবন শুরুর পরামর্শ দেন।’ থাক্কার আরও বলেন, ‘এতে আমরা ভালো ফল পেয়েছি। অনেক ভাঙন ঠেকাতে পেরেছি।’
ডিভোর্স ট্যুরিজম নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। আর এতে শুধু স্বামী-স্ত্রীর ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি পর্যটনব্যবসাও এগিয়ে যাবে।

পাকিস্তানে ২৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস জিম্মি নাটকের অবসান- জঙ্গিদের হাত থেকে ৩৯ জনকে উদ্ধার

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদর দপ্তরে জঙ্গিদের হাতে জিম্মি ৩৯ জনকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার ভোরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ২৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস ওই জিম্মি নাটকের অবসান হয়। এতে তিন জিম্মিসহ দুই কমান্ডো ও চার বন্দুকধারী নিহত হয়েছে। আহত একজন বন্দুকধারী ধরা পড়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস গতকাল এ কথা বলেন।
শনিবার বন্দুকধারী ওই জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর পোশাক পরে সোনা সদর দপ্তরে হামলা চালায় এবং লোকজনকে জিম্মি করে। এ সময় জঙ্গিদের গুলিতে ছয় সেনাসদস্য নিহত হন। অবশ্য তাঁদের পাল্টা গুলিতে প্রাণ হারায় চার বন্দুকধারী।
মেজর জেনারেল আব্বাস বলেন, গতকাল ভোর ছয়টায় কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরা জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন। ওই সময় আত্মঘাতী পোশাক (জ্যাকেট) পরা এক জঙ্গি ৪২ জনকে একটি ভবনে জিম্মি করে রেখেছিল। অবশ্য ওই জঙ্গি কিছু বুঝে ওঠার আগেই কমান্ডোরা তার ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এখন ওই অভিযানের অবসান ঘটেছে। সেখানে কোনো সন্ত্রাসী নেই। আহত এক জঙ্গি আটক হয়েছে। সে নিজেকে আকিল ওরফে ডা. ওসমান নামে পরিচয় দিয়েছে। তার নেতৃত্বেই ওই হামলা হয়েছিল। সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে শনিবারের বন্দুকযুদ্ধে নিহত চার জঙ্গির ছবি প্রকাশ করেছে।
সেনাবাহিনী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় তালেবান জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই রাওয়ালপিন্ডির অত্যন্ত সুরক্ষিত ওই সেনা সদরে হামলার এ ঘটনা ঘটল। এর আগে শুক্রবার পেশোয়ারে একটি বিপণিবিতানে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় নিহত হয় ৫০ জন। ৫ অক্টোবর ইসলামাবাদে জাতিসংঘ খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কার্যালয়ে অপর আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারান পাঁচজন।
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযান এবং আগস্টে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তালেবান নেতা বায়তুল্লাহ মেহসুদ নিহত হওয়ার পর এ হামলা প্রমাণ করেছে, জঙ্গিরা এখনো পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর একেবারে খাস অন্দরে গিয়েও হামলা চালাতে সক্ষম। চলতি বছরের গোড়ার দিকে জঙ্গিরা ইসলামাবাদের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ঢুকে পড়লে পরামাণু অস্ত্রধর পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়।
এর মধ্যে ৫ আগস্ট দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তানি তালেবান নেতা বায়তুল্লাহ মেহসুদ নিহত হওয়ার ঘটনা ছিল জঙ্গিদের জন্য এক বড় ধাক্কা। এর পরই তারা প্রতিশোধ নিতে মরিয়া ওঠে। এক সপ্তাহ আগে বায়তুল্লাহ মেহসুদের উত্তরসূরি হাকিমুল্লাহ মেহসুদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বায়তুল্লাহর হত্যার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, সরকারি অফিস ও অন্যান্য স্থাপনায় শিগগিরই হামলা চালানো হবে।
লন্ডন সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, জঙ্গিদের এ হামলা এটাই প্রমাণ করল যে পাকিস্তানে চরমপন্থীদের হুমকি এখন আরও বেড়ে গেছে। পাকিস্তানের রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেছেন, সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যেই দাবি করে থাকে যে তারা তালেবানের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু শনিবারের ওই হামলা প্রমাণ করেছে, তাদের দাবি সঠিক নয়। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, এসব ঘটনার পর দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিবিরোধী অভিযান এখন আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ এমপিদের কাছে অর্থ ফেরত চেয়ে সরকারের চিঠি

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের সদস্যদের দুর্নীতির বিষয়টি ছেড়ে দিচ্ছে না সে দেশের সরকার। সরকারি ভাতার অতিরিক্ত খরচের অভিযোগে অভিযুক্ত ৩২৫ জন সদস্যকে অর্থ ফিরিয়ে দিতে অথবা তাঁদের অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুকূলে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
হাউস অব কমন্সের সদস্যদের দুর্নীতি তদন্তে গঠন করা কমিটির প্রধান স্যার টমাস লেগ তদন্তের কাজ শেষ করে তাঁদের চিঠি দেওয়া শুরু করেছেন। গত শনিবার তদন্তের ফল উল্লেখ করার পাশাপাশি শতাধিক চিঠি বিলি করেছেন তিনি।
গ্রীষ্মকালীন অধিবেশন মুলতবির পর শিগগিরই হাউস অব কমন্সের সভা বসছে। ওই সময় সরকারি ভাতার অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি উল্লেখ করে সাংসদদের ই-মেইলও করা হবে।
স্যার টমাস লেগ সাংসদদের তিন ধরনের চিঠি দেবেন। তাঁদের একটি অংশকে অতিরিক্ত খরচের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। আরেকটি অংশের কাছে তাদের খরচের দাবির পক্ষে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। আর তৃতীয় পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে, তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
হোয়াইট হলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য সানডে টেলিগ্রাফকে বলেছেন, হাউস অব কমন্সের ৬৪৬ জন সদস্যের বেশির ভাগকেই অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া অথবা তাঁদের খরচের অনুকূলে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সাবেক শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা স্যার টমাস ও তাঁর দলের সদস্যরা তদন্তে দেখেছেন, আসবাবপত্রের জন্য সাংসদেরা অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছেন।
এদিকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি তাদের সাংসদদের ডেকে দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দলের কোষাধ্যক্ষের মুখপাত্র লর্ড ওয়াকশট বলেছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি ভাতা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের দ্রুত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাউস অব কমন্সের ১৭৫ জন সাংসদ এরই মধ্যে অতিরিক্ত খরচের অর্থ ফেরত দিয়েছেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী রোসি উইনটারটন আট হাজার ইউরো ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর টোরি দলের কয়েকজন সদস্যও অর্থ ফেরত দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে স্যার অ্যালান হ্যাসেলহার্স্টও রয়েছেন। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যাঁরা অর্থ ফেরত দিয়েছেন, তাঁদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
স্যার টমাসের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তের ব্যাপারে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তাঁরা তিন সপ্তাহের মধ্যে সংসদীয় কমিটির কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।
২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে সাংসদদের বিরুদ্ধে সরকারি ভাতার ব্যয়সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের এই খবর প্রথম টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত হয়। এরপর সরকার এই দুর্নীতি তদন্তের ভার তুলে দেয় স্যার টমাসের হাতে। টমাস বলেছেন, ব্যয়ের ব্যাপারে সাংসদেরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ঠিক যুক্তিযুক্ত নয়।
সাংসদদের দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরও একটি দল কাজ করছে। এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্যার ক্রিস্টোফার কেলি।
স্যার টমাস চিঠি বিলি শুরু করার পর গত শনিবার রাতেই কনজারভেটিভ পার্টির অভিযুক্ত সদস্যদের দুর্নীতির প্রায় ৫৫ হাজার ইউরো ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। এর আগে লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, দুর্নীতির বিষয়টি তাঁরা হয়তো এড়াতে পারবেন।

মাজেদুর রহমান এবি ব্যাংকের নতুন ডিএমডি

কে এ এম মাজেদুর রহমান ১ অক্টোবর এবি ব্যাংক লিমিটেডে নতুন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
২৭ বছরের কর্মজীবনে সাজেদুর রহমান দেশে এবং বিদেশে গ্রিন্ডলেজ, মাশরেক, স্ট্যান্ডার্ড ও ঢাকা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ব্যাংক আল-ফালাহ্ লিমিটেডের বাংলাদেশ অপারেশন শাখার কান্ট্রি হেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কনজুমার ব্যাংকিংয়ের উন্নয়ন এবং ব্যাংকিং সেবার অটোমেশনের ক্ষেত্রে মাজেদুর রহমানের রয়েছে বিশেষ কৃতিত্ব।

আগোরার ‘লক্ষ্য এবার লক্ষ টাকা’ কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণ

চেইন সুপারস্টোরস আগোরা আয়োজিত ‘লক্ষ্য এবার লক্ষ টাকা’ শীর্ষক বিক্রয় কার্যক্রমের বিজয়ীদের মধ্যে সম্প্রতি পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
আগোরার এই কার্যক্রমের আওতায় বাজার করে নগদ লাখ টাকা জিতেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী তানভীর ইসলাম। দ্বিতীয় পুরস্কার এলসিডি টিভি জিতেছেন আফরোজা হোসেন তানি। তৃতীয় পুরস্কার ক্যাজিয়া ওলসেন একটি হোম থিয়েটার, চতুর্থ পুরস্কার বিউটি তালুকদার একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ও পঞ্চম পুরস্কার ওবায়দুল হক একটি স্বর্ণের আংটি জিতেছেন। এ ছাড়া বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন হামিদা সরদার, মালিহা, বর্ণা রাজ রহমান, রিতা ও জেসমিন খান।
অনুষ্ঠানে আগোরার বিপণন ব্যবস্থাপক রুহেল আবেদিন, অপারেশন ম্যানেজার এনামুল কবির, ব্যবসায় উন্নয়ন ব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান, স্টোর ব্যবস্থাপক ফয়জুল হক রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পূর্বাভাস ও লেনদেন নিয়ে কর্মশালা

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) ও থমসন রয়টার্স যৌথভাবে গতকাল রোববার ‘বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পূর্বাভাস ও লেনদেন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে।
রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এ কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী প্রধান অতিথি ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে ইবিএলের চেয়ারম্যান মীর নাসির হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার, থমসন রয়টার্সের সেলস ম্যানেজার বিজয় চাঁদ, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ইউরোপে লেবুজাতীয় পণ্য রপ্তানিতে বাধা দূরের দাবি- সিলেটে কৃষিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান

ভাইরাস থাকার অভিযোগে ইউরোপের বাজারে লেবুজাতীয় কৃষিপণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানের দাবিতে গতকাল রোববার সিলেটে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
সিলেট সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় ‘সাইট্রাস ক্যাংকার’ নামে ভাইরাসের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গঠিত টাস্কফোর্স এই স্মারকলিপি দিয়েছে।
এক বছর ধরে সাইট্রাস ক্যাংকারস ভাইরাসের কারণে রপ্তানিকারকেরা যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তা সমাধানের ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
২০০৮ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে ব্রিটিশ সরকারের খাদ্য এবং পরিবেশ অধিদপ্তর বাংলাদেশ থেকে যাওয়া লেবুজাতীয় পণ্যে সাইট্রাস ক্যাংকারস নামের এক ধরনের ভাইরাস আছে—এ অভিযোগে এক কোটি টাকার সমপরিমাণ পণ্য পুড়িয়ে ফেলে। এরপর কার্যত বাংলাদেশ থেকে লেবুজাতীয় সব ধরনের পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বলবত্ আছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিলেটের রপ্তানিকারকেরা সাধারণত এলাচি লেবু, আদা লেবু, কাগজি লেবু, সাতকড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জারা লেবু এবং তৈয়কর ইত্যাদি লেবুজাতীয় পণ্য ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আসছেন।
বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছর ছয় হাজার ৩১২ হেক্টর জমিতে লেবুজাতীয় এসব পণ্যের চাষাবাদ হয়। বার্ষিক উত্পাদনের পরিমাণ ১৮ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে কৃষিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদানকালে সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে টাস্কফোর্সের সদস্য ও সবজি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহ, সাধারণ সম্পাদক হিজকিল গুলজার, টাস্কফোর্সের সদস্য ও রপ্তানিকারক মনজুর আহমেদ, এনাম আহমেদ, হেলাল উদ্দীন, এশিয়া ফাউন্ডেশনের শেখ ইকবাল হোসেন, জাফর ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যাট-কর অব্যাহতি চায় টিসিবি- এবার স্থানীয় বাজার থেকে তিন হাজার টন চিনি ক্রয়



আমদানির পথ বাদ দিয়ে এবার স্থানীয় বাজার থেকে চিনি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
ডিলারদের জন্য পরিশোধনকারী মিলগুলো থেকে সংস্থাটি তিন হাজার টন চিনি ক্রয় করতে চায়। তবে রমজান উপলক্ষে চিনির ওপর অস্থায়ীভাবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, টিসিবির চাওয়া হচ্ছে—সেই অব্যাহতি যেন স্থায়ীভাবে দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, গতকাল রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের কাছে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন।
আবেদন মঞ্জুর না হলে স্থানীয় বাজার থেকে চিনি সংগ্রহ করলেও ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ করতে হবে টিসিবিকে।
টিসিবি বলেছে, দেশব্যাপী এক হাজার ২০০ ডিলার এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২১৮ জন ডিলারের মাধ্যমে টিসিবির চিনি বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিশোধনকারী মিলগুলো থেকে রমজানে টিসিবিকে দুই হাজার ৪০০ টন চিনি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এস. আলম রিফাইনারি ৫০০ টন চিনি সরবরাহ করতে পারেনি বলে টিসিবি সংগ্রহ করেছিল এক হাজার ৯০০ টন চিনি। মিলগেট থেকে ৩৯ টাকা কেজি দরে এই চিনি কেনা হয়েছিল।
জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে এক হাজার ৯০০ টন চিনি কিনলেও রমজান উপলক্ষে টিসিবিকে পাঁচ হাজার টন চিনি কিনতে বলা হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী চিনির ওপর ২ দশমিক ২৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। টিসিবিকে পাঁচ হাজার টন চিনির ওপরই ভ্যাট কর্তনের বাধ্যবাধকতা থেকে তখন অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে টিসিবি বলেছে, চিনির ওপর ভ্যাট অব্যাহতির পাশাপাশি চার শতাংশ আয়কর কর্তন থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল টিসিবিকে। উভয় অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর।
টিসিবির শীর্ষপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, টিসিবির কাছে চিনির যে সরবরাহ ছিল এর মধ্যে তা শেষ। দেশব্যাপী টিসিবির যে বিক্রয় কার্যক্রম রয়েছে, তা চালু রাখতে ভ্যাট ও কর থেকে অব্যাহতি জরুরি। সে কারণেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন হওয়া।
গত ১৯ আগস্ট থেকে ডিলারদের কাছে টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। মিলগেট থেকে ৩৯ টাকা কেজি দরে কেনা চিনি টিসিবির ডিলারদের দেওয়া হয়েছিল ৩৭ টাকা কেজি হিসেবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়ার কথা বলে সম্প্রতি মিলগেটে চিনির দর ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। টিসিবিকেও মিলগেট থেকে এই দরেই কিনতে হবে।
আগের বার মিলগেটের দর থেকে ডিলারদের কেজিতে দুই টাকা কম রাখা হলেও ভ্যাট-কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া না হলে ডিলারদের ৪৫ টাকা কেজি হিসেবেই টিসিবি থেকে চিনি কিনতে হবে বলে জানা যায়।
তবে টিসিবি চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ ব্যাপারে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

চার দিন বন্ধ থাকার পর পঞ্চগড় জেম জুট আবার চালু

শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ পাটকল জেম জুট লিমিটেড বন্ধ ঘোষণার চার দিন পর গত শনিবার থেকে আবারও চালু হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে কারখানার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর কর্তৃপক্ষ মিল চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নজরুল ইসলাম।
রাতেই মাইকিং করে মিল চালুর সংবাদ জানানোর পর সকাল থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগদান করেন। ৬ অক্টোবর শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য মিল বন্ধ ঘোষণা করে।
জেম জুট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) বোরহান উদ্দিন শামীম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বেআইনি ধর্মঘটের কারণে বন্ধ ঘোষিত জেম জুট লিমিটেডের সাধারণ শ্রমিকদের সম্মিলিত দাবির মুখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে মিল চালু করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। এ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় বসে। বেআইনি ধর্মঘটে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা তাঁদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় শনিবার থেকে মিল চালু করা হয়। সকাল সাতটা থেকে মিলে স্বাভাবিক উত্পাদন শুরু হয়েছে।’
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের মুসলিমবাগে অবস্থিত এই পাটকল ২০০৩ সালে চালু হয়। শতভাগ রপ্তানিমুখী এই প্রতিষ্ঠানের দুটি ইউনিটে ২৯৬টি লুম রয়েছে। এতে বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার জুট ব্যাগ ও জুট ইয়ার্ন (সুতা) বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এই মিলে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানার চারজন কর্মকর্তা ক্ষমতার অবৈধ দাপট ও দৌরাত্ম্য দেখিয়ে পরিস্থিতি খারাপ করেছেন। তাঁরা হলেন সহব্যবস্থাপক (বিক্রয়) মো. মাহবুবুর রহমান শামীম, ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. শামীম বিন হক, ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মো. বোরহানউদ্দিন শামীম ও উপব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) মো. সাইফুল ইসলাম। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ আসছিল।
তবে শামীম বিন হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। আর কারখানার সিওও মেজর (অব.) সোহেল রানা এ প্রসঙ্গে বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই শ্রমিকেরা সকালে কাজ বন্ধ রেখে বেরিয়ে যান। পরে তাঁদের এক পক্ষ কাজ করতে চাইলেও অন্য পক্ষ বাধা দেয়। সংঘর্ষের আশঙ্কায় মিলের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

শুল্ক বিভাগ সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত পিএসআই রাখার পরামর্শ- রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ

শুল্ক বিভাগ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত প্রাক-জাহাজীকরণ পরিদর্শন (পিএসআই) ব্যবস্থা চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনসহ (এফবিসিসিআই) সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার পরও পিএসআই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর শুল্ক খাতে সরকারের রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। তাই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ছাড়া এ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হলে রাজস্ব সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে কেউ কেউ এও বলেছেন, দীর্ঘদিন পিএসআই ব্যবস্থা চালু থাকলে কাস্টমস ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই যত দ্রুত সম্ভব, পিএসআই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে পিএসআই ব্যবস্থা: পরিপ্রেক্ষিত ও ভবিষ্যত্ কর্মকৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে গতকাল রোববার এসব মন্তব্য উঠে আসে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘শুল্ক মূল্যায়নে সব সময় কিছুটা শঠতার আশ্রয় নেওয়া হয়। এ শঠতা কমানোর জন্যই প্রথমে পরীক্ষামূলক ও পরে বাধ্যতামূলকভাবে পিএসআই ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু গত ১০ বছরে পিএসআই ব্যবস্থা যেভাবে চলছে, তা ভালো নয়।’
এ জন্য চারটি কারণ চিহ্নিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথমত পিএসআই পদ্ধতি কত দিন চলবে, তার কোনো মেয়াদ ঠিক করা হয়নি। অস্থায়ী ভিত্তিতে চালু করা হলেও তা অর্নিদিষ্টকাল ধরে চলছে।
দ্বিতীয়ত, চালুর পর থেকে পিএসআই কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে কোনো নিরীক্ষা হয়নি। অবশ্য এর দায়িত্ব এনবিআরের ওপরই বর্তায়।
তৃতীয়ত, পিএসআই কোম্পানির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। আর সবশেষ কারণ হলো, দীর্ঘদিন ধরে পিএসআই কোম্পানি কাজ করার পরও শুল্ক বিভাগ দক্ষতা বাড়াতে পারেনি। তবে যেটুকু বেড়েছে তা দিয়ে পিএসআইয়ের প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব, পিএসআইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ব্যাপারে খুব বেশি দেরি করা যাবে না। কারণ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পিএসআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি শেষ হচ্ছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় হয় চুক্তি বাতিল করতে হবে, নতুবা নতুন চুক্তি করতে হবে। তবে যেটাই হোক, তা করতে হবে স্থায়ী ভিত্তিতে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় এনবিআরের সদস্য রফিকুল ইসলাম, ফরিদউদ্দিন, হোসেইন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে ব্যবসায়ীদের পক্ষে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবদুল হক। আর এনবিআরের পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিকদার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পিএসআই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে পিএসআইয়ের কাজগুলো যাতে এনবিআর করতে পারে, সে জন্য দক্ষতা বাড়ানোর কাজ চলছে। এ জন্য তথ্যভাণ্ডার উন্নত করা হচ্ছে।’
নাসিরউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, এ সেমিনারের খোলামেলা আলোচনা থেকে যেসব প্রস্তাব উঠে আসবে, সেগুলো সরকারের কাছে দেওয়া হবে। এর ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
পিএসআই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সময়সীমা বিষয়ে নাসিরউদ্দিন বলেন, ১ জানুয়ারি বা জুলাই থেকে পিএসআই ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এবার একটা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সীমাবদ্ধতা দূর করার কর্মসূচি তৈরি করবে এনবিআর। কারণ ১০ বছরে এনবিআর পিএসআইয়ের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
আবদুল হক বলেন, পিএসআই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো পণ্যের অপঘোষণা রোধের মাধ্যমে রাজস্বের সুরক্ষা দেওয়া। এ পদ্ধতি চালুর ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। কিন্তু পিএসআই পদ্ধতি অব্যাহত না থাকলে এফবিসিসিআই এবং এনবিআরের মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা কমিশনারেটের যৌথ উদ্যোগে পণ্যভিত্তিক মূল্য ডেটাবেইস তৈরি করা, শুল্ক আইনের অধীনে গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করাসহ এনবিআরের মাঠপর্যায়ে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, পিএসআই ব্যবস্থা চালুর ফলে আমদানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং বা মূল্য কম দেখানোর প্রবণতা প্রতিরোধ করা গেছে। এতে রাজস্বও বেড়েছে।