Wednesday, September 30, 2026

আল-আকসা মসজিদে শত শত ইসরাইলি, চললো নাচ-গান

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে শত শত ইসরাইলি প্রবেশ করেছে। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কোট উপলক্ষে তারা সেখানে যায় বলে জানিয়েছেন জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফের এক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আনাদোলুকে বলেন, ইসরাইলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শত শত ইসরাইলি আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন, এ সময় সেখানে তালমুদিক ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা, নাচ ও গান করা হয়েছে। মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রচলিত ‘স্ট্যাটাস কুও’ বা ঐতিহাসিক ব্যবস্থার সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের বিরোধ রয়েছে।

১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখলের আগের ঐতিহাসিক ব্যবস্থায় আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ব্যবস্থাপনার একক দায়িত্ব জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফের। এটি জর্ডানের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন। ১৪৪ দুনাম বা প্রায় ৩৫ দশমিক ৬ একর আয়তনের এই প্রাঙ্গণ মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত একটি ইবাদতের স্থান।

সুক্কোট উপলক্ষে আল-আকসায় বড় ধরনের প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছিল ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী। গত শনিবার শুরু হওয়া সুক্কোট আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলবে।

জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ জানিয়েছে, রোববার ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি ইসরাইলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। সোমবার এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০০-এর বেশি এবং মঙ্গলবার প্রবেশ করে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি।

ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শুরু হওয়ার পর থেকে আল-আকসায় ইসরাইলিদের প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

ইহুদিদের উৎসব শুরু হয় ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ইহুদি নববর্ষের মধ্য দিয়ে। এরপর ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ইয়োম কিপুর। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সুক্কোট। এরপর ৩ অক্টোবর পালিত হবে সিমখাত তোরাহ।
২০০৩ সাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ একতরফাভাবে ইসরাইলিদের পশ্চিম দেয়ালের মুগরাবি গেট দিয়ে আল-আকসায় প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে। এ সময় তাদের সঙ্গে ইসরাইলি পুলিশ সদস্যরাও থাকে।

আল-আকসায় এসব প্রবেশ বন্ধের জন্য জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এসব আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন, কয়েক দশক ধরে ইসরাইল দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম, বিশেষ করে আল-আকসা মসজিদের ‘ইহুদিকরণ’ এবং এর আরব ও ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ জোরদার করেছে।

আল-আকসা মসজিদে শত শত ইসরাইলি, চললো নাচ-গান

ভারতে মুসলিমদের নিশানা করে গাড়ি-জমির ধর্মভিত্তিক তথ্য চাইছে কমিশন: ওয়াইসি

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত ডেমোগ্রাফি কমিশন থেকে গাড়ি নিবন্ধন ও সম্পত্তি কেনাবেচা সংক্রান্ত ধর্ম-ভিত্তিক তথ্য চেয়ে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ওয়াইসি বলেন, আমরা যখন মোদী সরকারের কাছে মুসলিমদের শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহের দাবি জানিয়েছিলাম, তখন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ অমিত শাহের ‘ডেমোগ্রাফি কমিশন’ এখন রাজ্যগুলোর কাছে জানতে চাইছে কোন ধর্মের মানুষ কতগুলো গাড়ি কিনেছে, কার কত জমি আছে—ইত্যাদি।

তার দাবি, তথ্যের ভিত্তিতে উন্নত নীতি প্রণয়ন করা এই কমিশনের উদ্দেশ্য নয়। বরং তথ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন ও বিকৃত করা হতে পারে, যাতে মুসলিমদের টার্গেট করা যায় এবং তাদের অবশিষ্ট অধিকারও কেড়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি (এইচএলসিডিসি) গত ১৫ বছরের ধর্মভিত্তিক জন্মনিবন্ধন, গাড়ি নিবন্ধন, স্কুলে ভর্তি ও সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য চেয়েছে। পাশাপাশি জেলা অনুযায়ী ধর্মীয় স্থাপনার সংখ্যা এবং আধার, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ড নিবন্ধনে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তফসিলি উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মান্তর নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন কমিশনের প্রতিবেদন এবং কার্যকর আটককেন্দ্রগুলোর তথ্যও কমিটি চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৬ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসনসহ অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে সৃষ্ট জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় সুপারিশের জন্য এইচএলসিডিসি গঠন করে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটেছে এমন এলাকায় এই কমিটি যাবে। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) শেষ হওয়া এলাকাগুলোতে গিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করা হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

ওয়াইসি আরো বলেন, অমিত শাহ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তার আশঙ্কা, এসআইআরের মাধ্যমে প্রস্তুত করা ভোটার তালিকার ভিত্তিতেও এনআরসি করা হতে পারে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

ভারতে মুসলিমদের নিশানা করে গাড়ি-জমির ধর্মভিত্তিক তথ্য চাইছে কমিশন: ওয়াইসি
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

ইরানে হামলার আধা ঘণ্টা আগে সতর্কবার্তা পান কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউস থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কতা পেয়েও যুদ্ধ ঠেকাতে কিছু করার সুযোগ প্রায় ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘এটি ঠেকাতে কিছু করা সম্ভব কি না।’ তবে ততক্ষণে হামলা কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছিল।

পিয়ার্স মরগান জানতে চান, আরও আগে সতর্ক করা হলে কাতার আরও কিছু করতে পারত কি না। জবাবে আল-থানি বলেন, আগে জানানো হলে যুদ্ধ ঠেকাতে তারা সম্ভাব্য সবকিছুই করতেন। কারণ কাতার সবসময় কূটনীতিকেই সামনে এগোনোর একমাত্র পথ এবং যে কোনো সংঘাতের সমাধান হিসেবে দেখে।

তবে এবারের পরিস্থিতি তাদের জন্য ‘বিস্ময়কর’ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। হামলা শুরুর ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই কাতারও ইরানের হামলার শিকার হয় বলে জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

আল-থানি বলেন, তিনি দোহায় নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখানেই হোয়াইট হাউস থেকে ফোন পেয়ে জানতে পারেন, প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। হামলা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কাতারেও হামলা হয়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী এ স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঠেকাতে কাতারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দোহায় ইরানের হামলার নিন্দা জানান তিনি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধকে ‘ভূমিকম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন আল-থানি। তার মতে, এই সংঘাত যুদ্ধের ধরন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নতুনভাবে বদলে দিচ্ছে।

তবে সরাসরি সংঘাতের পরও কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরান সবসময় কাতারের প্রতিবেশী হিসেবে থাকবে। দুই দেশের মধ্যে সিরিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। সিরিয়া ইস্যুতে ইরান বাশার আল-আসাদকে সমর্থন করলেও কাতার তার বিরোধিতা করেছিল।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তার বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সরাসরি যোগাযোগ নেই বলেও জানান আল-থানি। মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন বলে মন্তব্য করেন।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে যোগাযোগ কার্যকরভাবে অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠান তেহরানের বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিনিধিত্ব করে।

যুদ্ধের কারণে কাতারের অর্থনীতিতে নজিরবিহীন চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান আল-থানি। তার দেওয়া হিসাবে, দেশটির অর্থনীতি ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, পর্যটন কমেছে ৮০ শতাংশ এবং হোটেলগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে আছে। এতে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে কাতার।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানিও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে কিছু ক্রেতা হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনের দায়িত্ব নিতে রাজি হওয়ায় সীমিত পরিসরে রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক অথবা আইনি সমাধানের আহ্বান জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালেও কাতার প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছিল। তখন সরকারি কর্মীদের বেতন দিতে দেশটিকে সম্পদ বিক্রি করতে ও ঋণ নিতে হয়েছিল।

তবে গত কয়েক দশকে গড়ে তোলা সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার কারণে বর্তমান সংকটও কাতার সামলে উঠতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আল-থানি। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে সাময়িক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।

সূত্র : পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড ও ওয়াইনেট

সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। ছবি: ইউটিউব
সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। ছবি: ইউটিউব

মধ্যপ্রাচ্যকে বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করল ইরান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এই অঞ্চলে দখলদার ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসরাইলের ইরানে সামরিক আগ্রাসন এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও লেবাননে দখলদারত্ব ও সংঘাত আরো বাড়ার কারণে পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক ও স্পর্শকাতর সময়গুলোর একটি পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘শত শত হাজার নিরপরাধ মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত এবং আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি’ একজন ব্যক্তির এই অঞ্চলে উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক।

ইরান বলেছে, ইসরাইলের সঙ্গে ইরান ও অঞ্চলটির অন্যান্য দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বারবার দেওয়া হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সফরের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে অঞ্চলটির সব দেশের সচেতন থাকা উচিত। এ ধরনের উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়। এমন কোনো পদক্ষেপ, যা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তিকে অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, শেষ পর্যন্ত সব আঞ্চলিক দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বিভাজন, অনিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

এ কারণে অঞ্চলটির সরকারগুলোর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ‘ইসরাইলি সরকারের ধ্বংসাত্মক উপস্থিতির’ জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার এবং কোনো আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যকে বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করল ইরান

ইসরাইলে আরো উগ্র নতুন প্রজন্মের উত্থান

অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলে আদর্শগতভাবে উগ্র একটি নতুন প্রজন্মের উত্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

কঠোরপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি শিথিলভাবে সংগঠিত আন্দোলন ফিলিস্তিনিদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে। ‘হিলটপ ইয়ুথ’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীর অধিকাংশ সদস্যই তরুণ। তাদের মধ্যে পশ্চিম তীরের বাইরের এলাকার কিছু স্কুলছুট তরুণও রয়েছে।

ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত এই আন্দোলনের লক্ষ্য ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করা। এ জন্য তারা প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলি বসতিগুলোর বাইরে পাহাড়ের চূড়ায় অনুমোদনহীন নতুন বসতি বা ‘আউটপোস্ট’ গড়ে তোলে। এসব স্থাপনা সাধারণত অস্থায়ী তাঁবু দিয়ে তৈরি করা হয়।

১৯৯০-এর দশক থেকেই পশ্চিম তীরে মূলধারার বাইরে বসবাসকারী ইসরাইলিদের বিভিন্ন গোষ্ঠী রয়েছে। তবে নতুন প্রজন্মের এই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের সমর্থনকারী ইহুদি কর্মীদের সংগঠন ‘চিলড্রেন অব আব্রাহাম’-এর ডভির ওয়ারশাভস্কি।

মঙ্গলবার ভোরে ১০০-এর বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি গ্রাম জালুদে হামলা চালায়। এতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন।

ঘটনার সময় ইসরাইলি সেনারা একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে সহায়তা করছিল। বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পরিবারটি আগে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মসজিদ ও গির্জায় হামলার ঘটনাও বেড়েছে। এর জেরে ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছে।

সম্প্রতি ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, গত ১২ মাসে এই গোষ্ঠী ১৫৮টি ফিলিস্তিনি গ্রামে ৬৩৫টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৪০৯ জন ফিলিস্তিনি আহত এবং ৪৩৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়। তবে এএফপি এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের খুব কম ক্ষেত্রেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হাতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে ‘প্রায় ১৫০ জন কিশোর অপরাধীর’ কাজ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ফিলিস্তিনিদের সহিংসতা উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন।

ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখলে রেখেছে। এই ভূখণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।

ইসরাইলি সরকার প্রায় ১৪০টি বসতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব বসতি অবৈধ। ইসরাইলি পর্যবেক্ষক সংগঠন পিস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি আইনেও অবৈধ এমন খামার ও ছোট বসতির সংখ্যা এখন প্রায় ৪০০।

বহু বছর ধরে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা ইসরাইলি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৫ সালে ইসরাইল গাজা উপত্যকার ২১টি এবং পশ্চিম তীরের চারটি বসতি ভেঙে দেওয়ার পর এই আন্দোলন নতুন গতি পায়।

একতরফাভাবে ওই বসতিগুলো থেকে ইসরাইলিদের সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে বসতি আন্দোলনের পুরোনো নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়। হাজার হাজার ইসরাইলিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ আন্দোলনে নতুন একটি পর্যায়ের সূচনা করে।

এরপর আরো বেশি আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারী সামনে আসে। তারা বসতি আন্দোলনের পুরোনো কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করে। পুরোনো কৌশলের মূলনীতি ছিল—আরও বেশি মানুষ নিয়ে আরও বেশি বসতি গড়ে তোলা।

এর বিপরীতে নতুন প্রজন্ম ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ছোট ছোট অবৈধ বসতি ও কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়। এই কৌশলকে বলা হয় ‘সর্বোচ্চ জমিতে সর্বনিম্ন মানুষ’।

ভেড়া ও ছাগলের পাল চরানোর মাধ্যমে ‘হিলটপ ইয়ুথ’ ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের মতো আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এসব সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব অর্থের কিছু অংশ অবৈধ খামার ও বসতিতে ব্যয় করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, অবৈধ হওয়ার কারণে সরকার সরাসরি এসব স্থাপনায় অর্থ দিতে পারে না। তবে ‘বাকি সবকিছুর জন্য তারা অর্থ দেয়’—অর্থাৎ সড়ক, টহল গাড়ি, নিরাপত্তা ক্যামেরা, সৌর প্যানেল ও ড্রোনের মতো অবকাঠামোতে অর্থ ব্যয় করা হয়। এসব বসতিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত অনুদান ও অনলাইন গণ-অর্থসংগ্রহের মাধ্যমেও কিছু অর্থ আসে।

সেনাবাহিনীর সুরক্ষার অভিযোগ

ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের কয়েকজন নেতা ‘হিলটপ ইয়ুথ’ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। গত বছরের শেষ দিকে পশ্চিম তীরের তিনটি ইসরাইলি স্থানীয় পরিষদের প্রধান যৌথ বিবৃতি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, এই গোষ্ঠী বৃহত্তর বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে না।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলা এবং এরপর গাজা ও অন্যান্য ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি নিয়মিত সেনাদের একটি অংশ পশ্চিম তীর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে বর্তমানে ইসরাইলি বসতিগুলোর আশপাশে টহল দেওয়া সেনাদের মধ্যে অনেকেই রিজার্ভ সেনা, যারা নিজেরাও বসতি স্থাপনকারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সেনাদের তুলনায় এসব রিজার্ভ সেনা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ বা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কম আগ্রহী।

‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, ‘সেনাবাহিনী আসলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না। তারা তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে চায় না।’

ইসরাইলে আরো উগ্র নতুন প্রজন্মের উত্থান

নির্বাচনের আগে ফের হামলার শঙ্কা প্রকাশ নেতানিয়াহুর, মতলব কী?

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের ‘শত্রুরা’ হামলার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ না করায় বিরোধী নেতারা তাকে নিরাপত্তা হুমকিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তেল নফ বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে নির্বাচনের আগে আমাদের শত্রুরা আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই এখান থেকে, বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে, ইসরায়েলের দীর্ঘ হাতের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের একটি বার্তা দিচ্ছি; আমাদের সঙ্গে খেলবেন না, এখন নয়, কখনো নয়। আমাদের দীর্ঘ হাত যে কোনো জায়গায়, যেকোনো সময় আপনাদের কাছে পৌঁছাবে।’

তবে সম্ভাব্য হামলার ধরন বা তার কাছে থাকা ‘ইঙ্গিত’ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানাননি নেতানিয়াহু।

তার বক্তব্যের পর প্রধান নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের দল ইয়াশার এক বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে অবহিত করার দাবি জানায়। দলটি বলেছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য সঠিক হলে লাপিদকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি, নাকি নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার রাজনৈতিক কৌশল; তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

লাপিদও নেতানিয়াহুর কাছে জরুরি নিরাপত্তা ব্রিফিং দাবি করেন। এক্সে তিনি লেখেন, হুমকিগুলো বাস্তব কি না এবং নির্বাচন যাতে কোনো বাধা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন; তা জানতে চান তিনি।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলানও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা হুমকি থাকলে তা বিরোধীদলীয় নেতাকে জানানো এবং জনগণের কাছে এর ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

এদিকে কান, হারেৎজ ও আর্মি রেডিওর উদ্ধৃত নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের কোনো শত্রুপক্ষ হামলার পরিকল্পনা করছে; এমন নির্দিষ্ট কোনো হুমকি সেনাবাহিনীর কাছে নেই। এ কারণে সেনাবাহিনী সতর্কতার মাত্রা বাড়ায়নি বা কোনো এলাকায় অতিরিক্ত সেনাও মোতায়েন করেনি বলে জানানো হয়েছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর তার দপ্তর জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব লাপিদকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। দপ্তরটি আরও জানায়, নেতানিয়াহু নিয়মিত বিরোধীদলীয় নেতা লাপিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক করেন এবং সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর।

তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে লাপিদ চার পক্ষের বৈঠকের দাবি জানান। সেখানে নেতানিয়াহু ও তিনি ছাড়াও শিন বেতের প্রধান এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানকে রাখার দাবি করেন তিনি।

পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় নেতানিয়াহু ও লাপিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্ভাব্য হামলার হুমকি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল গাই মার্কিজেনো এবং সামরিক সচিবালয়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিং শেষে লাপিদ বলেন, ‘জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর কোনো কারণ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা হুমকির বিষয়গুলো পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আইডিএফের ঘাঁটিগুলো নির্বাচনি ভিডিও তৈরির জায়গা নয়।’

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করে লাপিদ বলেন, আইডিএফের প্রধান এয়াল জামির যুদ্ধের সেনাসংকট ও সেনাবাহিনীর দুর্বলতা নিয়ে ১০টি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নিরাপত্তা নিয়ে নেতানিয়াহু যদি এতটাই উদ্বিগ্ন হন, তাহলে আইডিএফের প্রয়োজনীয় ১৫ হাজার অতি-অর্থডক্স ইহুদি তরুণকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লাপিদ বলেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং কেউ তা বাধাগ্রস্ত করার অজুহাত দেখাতে পারবে না।’

তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দিক থেকে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর বেশি কিছু জানানো হয়নি।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি অবশ্য লাপিদের সমালোচনা করে বলেছে, তিনি রাত ১১টা ৩৯ মিনিটে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান এবং মাত্র দুই মিনিট পর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্যসংবলিত দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন। দলটির দাবি, হয় লাপিদ ‘আলোর গতিতে’ লিখেছেন, নয়তো ব্রিফিংয়ের আগেই বিবৃতিটি প্রস্তুত করা হয়েছিল।

নেতানিয়াহুর সতর্কবার্তার সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বি’ইয়াখাদ পার্টির নেতা নাফতালি বেনেটও। তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু একই সঙ্গে ব্যাপক সেনাসেবা এড়ানোর সুযোগ এবং আইডিএফের দুর্বলতার দিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন।

তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বেনেট বলেন, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করছেন, অথচ তার নিজের সরকারই ‘সবচেয়ে বড় ঝুঁকি’ তৈরি করছে। তার অভিযোগ, অতি-অর্থডক্স ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দিতে বর্তমান সরকার আইন করার চেষ্টা করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে যারা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন, তাদের ব্যর্থতার জন্য পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বেনেট।

এদিকে মুক্ত জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তাকে দায়মুক্ত করার উদ্দেশ্যে জঘন্য প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেন। তার দাবি, হামলার আগে বিশ্বজুড়ে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছিলেন।

হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার হুমকি নিয়ে শীর্ষ মন্ত্রী ও সহযোগীদের অবহিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকও ডাকার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে বৈঠকটি অস্বাভাবিক একটি স্থানে আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহু-সমর্থক ও বিরোধী দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে সমতা দেখা যাচ্ছে। টাইমস অব ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, এখন নির্বাচন হলে দুই জোটই ৫৩টি করে আসন পেতে পারে। বাকি আসনগুলোর ক্ষেত্রে দুটি আরব দলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : আইডিএফ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : আইডিএফ

৬৩–তে এসেও তরুণ! জাভেদ জাফরির বয়স–ভাঙা ফিট থাকার রহস্য

প্রকাশ ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ ৬০ পেরোলে শরীর–স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত যত্ন প্রয়োজন—এ কথা অনেকে বলেন। পেশির জন্য প্রোটিন, হাড়ের জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, হৃদ্‌যন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য ওমেগা থ্রি আর হজম ও কোষ–স্বাস্থ্যের জন্য ফাইবার, ভিটামিন বি–১২ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট—সবই জরুরি। কিন্তু এই হিসাবের বাইরে গিয়ে যাঁর নামে আজও ‘অবিশ্বাস্যভাবে ফিট’ অভিধা জুড়ে যায়, তিনি বলিউড অভিনেতা–নৃত্যশিল্পী–কমেডিয়ান জাভেদ জাফরি। ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তাঁর ৬৩তম জন্মদিন। উপলক্ষটা তাই একেবারেই আলাদা।

বয়স নয়, অভ্যাসই আসল
কার্লি টেলসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ জাফরি খোলাখুলি বলেছেন—নিয়মিত ব্যায়াম, ঘরোয়া খাবার আর স্বল্প–প্রক্রিয়াজাত খাদ্যই তাঁর ‘এজ–রিভার্সিং’ রুটিনের মূলে। দিন শুরু করেন এক লিটার গরম পানি দিয়ে। এরপর ফল—পেঁপে, আপেল, অ্যাভোকাডো, কলা। প্রাতঃরাশে থাকে চারটি ডিম, সঙ্গে বাদাম–আখরোট, ব্লুবেরি, কখনো রাগির রুটি। দুপুরে সালাদ, রাতে সাধারণ ঘরোয়া খাবার। ধূমপান–মদ একেবারেই নয়। আর নাচ—যেটা তাঁর জীবনেরই অংশ।

পুষ্টিবিদের চোখে এই ডায়েট
পুষ্টিবিদ সঞ্জনা মালহোত্রা ও এডউইনা রাজের বিশ্লেষণে জানা যায়, প্রতিদিন চারটি ডিমের সঙ্গে বাদাম–আখরোট মিলিয়ে জাভেদ পাচ্ছেন পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন বি–১২, যা বয়সের সঙ্গে পেশিশক্তি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ফল দিচ্ছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি, যা ত্বক, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ও কোষ মেরামতে সহায়ক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের সংখ্যার চেয়ে বড় বিষয় পুরো জীবনযাপন—যেহেতু জাভেদ নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং ধূমপান–মদ্যপান নেই, তাই এই ডায়েট তাঁর ক্ষেত্রে সমস্যার নয়।

বাবার ছায়া নয়, নিজস্ব আলো
বিখ্যাত অভিনেতা জগদীপের পুত্র হওয়া সত্ত্বেও বাবার নাম ভাঙিয়ে চলেননি জাভেদ। মা ছিলেন বেগম জাফরি, ভাই নাভেদ জাফরি—যাঁর সঙ্গে ‘বুগি উগি’ শো–তে বিচারকের ভূমিকায় জাভেদ টেলিভিশনের ইতিহাসে আলাদা ছাপ রেখেছেন। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা মধুর ছিল না। সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্বে সেতু তৈরি হয়েছে, গড়ে উঠেছে সুসম্পর্ক।

কমেডি, অভিনয় আর নাচ—এক শরীরে বহু প্রতিভা
তুখোড় কমিক টাইমিং, কিন্তু অভিনয়েও সমান দক্ষ। প্রধান চরিত্র খুব একটা না পেলেও ছোট ছোট চরিত্রে নিজের আলাদা জায়গা বানিয়ে নিয়েছেন জাভেদ। টেলিভিশন, সিনেমা, ওয়েব সিরিজ—সব ফরম্যাটেই সাবলীল। নৃত্যশিল্পী হিসেবেও তিনি অনন্য। ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে চেনে ‘মাল্টি–ট্যালেন্টেড’ তারকা হিসেবেই।
১৯৮৫ সালে অনিল কাপুর অভিনীত ‘মেরি জং’ ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে তাঁর যাত্রা। সেখানেই নাচে তাঁর পারদর্শিতা চোখে পড়ে। এরপর ‘জ জন্তরম ম মন্তরম’, ‘ম্যায় প্রেম কি দিয়ানি হুঁ’, ‘সলাম নামস্তে’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘ধমাল’—একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তিনি নিজের মতো করে দাগ কেটেছেন।

১৯৯৬ সালে ভাই নাভেদ ও রবি বহেলের সঙ্গে শুরু করেন নাচের রিয়েলিটি শো ‘বুগি উগি’—যা সে সময় টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে। অভিনয়ের বাইরে কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও তাঁর সুনাম আছে—হিন্দি ডাবিংয়ে ‘মিকি মাউস’ থেকে শুরু করে ‘ডন কারনেজ’, এমনকি ‘সপনে’ ছবিতে প্রভু দেবার কণ্ঠও ছিলেন জাভেদ।

কাজই জীবন
৩৫০টির বেশি ছবিতে কাজ করেছেন জাভেদ। রাজনীতিতেও নাম লিখিয়েছিলেন—২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির প্রার্থী হিসেবে। তবে প্রচারের আলো থেকে পরিবারকে দূরেই রাখতে চান। স্ত্রী হবিবা, তিন সন্তান—ছেলে মিজান বলিউডে পা রেখেছেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে না বললেও সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত জাভেদ। অবসরে বিশ্বাস নেই তাঁর। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান।

৬৩–তে দাঁড়িয়েও যিনি প্রমাণ করছেন—বয়স কেবল সংখ্যা, আসল পরিচয়টা গড়ে ওঠে অভ্যাসে, শৃঙ্খলায় আর কাজের প্রতি ভালোবাসায়—তাঁর ৬৩তম জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-04%2Fcqdkr9d4%2FWhatsApp-Image-2025-12-05-at-00.10.21a6221d68.jpg?rect=31%2C0%2C482%2C321&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
অভিনেতা–নৃত্যশিল্পী–জাভেদ জাফরি। ফেসবুক থেকে

হাসিনের সুর ও সংগীতে কনার ‘নীরবে’

প্রকাশ পেয়েছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনার নতুন গান ‘নীরবে’। এটি নতুন প্রজন্মের সংগীত পরিচালক হৃদয় হাসিনের পরিকল্পনায় শুরু হওয়া বিশেষ সংগীত প্রজেক্ট ‘হৃদয় হাসিন ফিচারিং ভ্যারিয়াস আর্টিস্টস’-এর প্রথম গান। গানের কথা লিখেছেন সৈয়দা হেমা এবং সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন হৃদয় হাসিন।

গানটি নিয়ে কনা বলেন, ‘গানটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। অনেকটা নব্বই দশকের ব্যান্ড সংগীতের আমেজ পাওয়া যায় এতে, যা আমার বিশেষভাবে পছন্দের। কথাগুলোও সুন্দরভাবে লেখা হয়েছে। আর হাসিনের কাজ আমার বরাবরই ভালো লাগে। সবমিলিয়ে আমি আশাবাদী গানটি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।’

অন্যদিকে হৃদয় হাসিন জানান, কনাকে মাথায় রেখেই এই গানটি তৈরি করেছেন তিনি। গানটি নিয়ে হাসিন বলেন, ‘কনা আপু আমার প্রিয় একজন শিল্পী ও মানুষ। রেট্রো ক্লাসিক ধাঁচের এই গানটা ওনাকে ভেবেই করা হয়েছে। আশা করছি শ্রোতারা আমাদের এই প্রচেষ্টা ভালোভাবে গ্রহণ করবেন।’

হৃদয় হাসিন আরও জানান, হৃদয় হাসিন ফিচারিং ভ্যারিয়াস আর্টিস্টস’ তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রজেক্ট। বহু পরিকল্পনার পর অবশেষে প্রথম সিজন শুরু হলো। প্রথম সিজনে কনার পাশাপাশি আরও গান গেয়েছেন সংগীতশিল্পী লিজা ও নদী। প্রতিটি গানেই ভিন্নতা আনার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে শ্রোতারা নতুন ধরনের স্বাদ পান।

কনার গাওয়া ‘নীরবে’ গানটি ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে হৃদয় হাসিনের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে। পর্যায়ক্রমে প্রথম সিজনের অন্যান্য গানও একই চ্যানেল থেকে প্রকাশ করা হবে। 

হৃদয় হাসিন ও দিলশাদ নাহার কনা। ছবি : সংগৃহীত
হৃদয় হাসিন ও দিলশাদ নাহার কনা। ছবি : সংগৃহীত