Wednesday, August 19, 2026
কলকাতায় হোটেলে আগুন : স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুরসহ কুষ্টিয়ার সাংবাদিকের মৃত্যু
মৃত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ওই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ১৫ দিন আগে তাঁরা ভারতের কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। আজ বুধবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ওই চারজন ছিলেন।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯) কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে। আজ সকালে দিলীপ দত্ত ছেলে, পুত্রবধূ ও তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর খবর পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ছেলের (দেবাশীষ) লাশের ছবি দেখেছেন।
দিলীপ দত্ত আজ দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফাহিমাকে (৮) রেখে ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। দুই দিন পর তাঁর শ্বশুরও কলকাতায় যান। প্রথমে তাঁরা কলকাতায় দুই দিন ছিলেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। গত সোমবার রাত এগারোটায় উড়োজাহাজে করে কলকাতায় আসেন তাঁরা। সেখানে হোটেলে উঠেছিলেন। আজ সকালে দিলীপ দত্ত জানতে পারেন যে অগ্নিকাণ্ডে তাঁরা সবাই মারা গেছেন।
দেবাশীষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ সকাল থেকে তাঁর বাড়িতে বন্ধু, সাংবাদিক ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন। ছেলেকে হারিয়ে মা স্বপ্না দত্ত পাগলপ্রায়। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘আমার দেবা (দেবাশীষ) একটু পরই বাড়িতে আসবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশে।’
![]() |
| কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছেলে শর্ণশীষ দত্ত। ভারতে গিয়ে ৪ আগস্ট ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেন দেবাশীষ দত্ত। ছবি : দেবাশীষ দত্তের ফেসবুক থেকে |
Sunday, August 16, 2026
কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর
এ হামলার জন্য গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের অভিযুক্ত করছেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণ অধিকার পরিষদের লোকজন আক্রমণ করেছে। তাঁদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদল যোগ দিয়েছে। এমপি সাহেব (আমির হামজা) বাইরে থেকে আসছিলেন, ওরা ইটপাটকেল মেরে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙেছে। আমাদের লোকজন প্রতিহত করতে গেলে মারামারি হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে কেস (মামলা) করব।’
হামলায় আমির হামজা আঘাত পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে জেলা জামায়াতের আমির বলেন, ‘আঘাতপ্রাপ্ত হননি। এমপি সাহেব ওনার বাসায় আছেন। আমাদের লোকজন প্রটেকশন দিচ্ছে।’
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদ সম্পর্কে আমির হামজা একটি বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্যের জেরে গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে আজ বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে প্রতিবাদ সভা করা হয়। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আমির হামজা নিজ গাড়িতে করে মোড় হয়ে পাশেই তাঁর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় সমাবেশ থেকে স্লোগান দিতে থাকেন গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা। তখন আমির হামজার গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের একাধিক গাড়ি ছিল।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ছয় রাস্তার মোড় অতিক্রম করার সময় গণ অধিকার পরিষদ ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের (এমপির গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা) মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পাল্টাপাল্টি স্লোগানও চলতে থাকে। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমির হামজাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে নিয়ে যান। গাড়িটিও তাঁদের পেছন পেছন যেতে থাকে। দুই দলের নেতা-কর্মীদের ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে দুই পক্ষই ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। ইটের আঘাতে আমির হামজার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। গাড়ির আরও কয়েক জায়গায় ইটের আঘাত লাগে।
দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের সময় ছয় রাস্তার মোড় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। ঘটনার সময় পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সাথেই ছিলাম। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এমপি সাহেব বাড়িতে আছেন। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে।’
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আমির হামজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর গাড়িটি গ্যারেজে রাখা। তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। নেতা-কর্মীদেরও ভিড় ছিল। ওই সময় ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মীকে লাঠিসোঁটা বের হতে দেখা যায়।
আমির হামজার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একটা অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম। এমপি সাহেবের গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশ ও র্যাবের গাড়ি ছিল। এমপি সাহেব চলে যাওয়ার সময় গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা আক্রমণ করে। ইট দিয়ে গাড়িতে আঘাত করে। সদর থানার ওসির উপস্থিতি থাকা সত্বেও হত্যার উদ্দেশে এ আক্রমণ হয়। ইটের আঘাতে আমার পায়ে রক্ত ঝড়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন তাঁর ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, কুষ্টিয়ার এমপি আমির হামজা তাঁর এক বক্তব্যে গণ অধিকার পরিষদকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করলে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে গণ অধিকার পরিষদের ৪০-৫০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।
হাসান আল মামুন ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ‘প্রিয় জামাত, আপনারা ভুলে গেছেন গণ অধিকার পরিষদের অবদান? সমস্যা নেই, সময় বলে দিবে আপনারা কোন পথে যাবেন! শেখ হাসিনার পথ আপনাদের ডাকছে।’
গণ অধিকার কার্যালয়ে হামলা
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমির হামজার সর্মথকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ের পাশে হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে যায়। সেতুর নিচে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে গেলে তাঁদের ওপর চড়াও হয় ভাঙচুরকারীরা।
এ বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় আমির হামজার সমর্থকেরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন এসেছিলেন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাঁদের সামান্য কাটাছেঁড়া দেখা গেছে। ইটের আঘাত হতে পারে।
গণ অধিকারের বিষয়টা আমাদের ওপর চাপাচ্ছে
আমির হামজার ওপর হামলার বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের ছেলেরা গিয়ে দুই পক্ষকেই সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা কখনোই চাইনি মারামারি হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমির হামজা গণ অধিকার ও আমাদের নিয়ে কিছু আপত্তিকর কথা বলেছেন। এ জন্য গণ অধিকার ছয় রাস্তার মোড়ে সমাবেশ করছিল। জামায়াত যে অভিযোগ করছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। গণ অধিকারের বিষয়টা আমাদের ওপর চাপাচ্ছে।’
![]() |
| হামলায় আমির হামজার গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তোলা ছবি। প্রথম আলো |
Tuesday, December 16, 2025
কুষ্টিয়ায় আমির হামজা: জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ভারতের বিরুদ্ধে, এখন আমরা এটা জেনেছি
আজ মঙ্গলবার সকালে বিজয় দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় জামায়াত আয়োজিত বিজয় র্যালিতে অংশ নেওয়ার পর পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের এই প্রার্থী।
ইসলামি বক্তা হিসেবে পরিচিত আমির হামজা বলেন, ‘আজকের এই বিজয়ের র্যালি এই কারণে যে আমরা ১৯৭১ সালে এই দেশের স্বাধীনতার পক্ষে। ভারতের যে আগ্রাসন, এর বিরুদ্ধে ছিলাম। এ কারণে আমাদের এরা বিরোধী বানিয়ে রেখেছিল। আগামীর বাংলাদেশ আমরা ভারতের তাঁবেদারমুক্ত করে এ দেশে স্বাধীনচেতা হিসেবে আমরা চলতে চাই। আজকের এই র্যালির এটাই উদ্দেশ্য। আগামীতে দেশ ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ইনশা আল্লাহ।’
জামায়াতের প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমরা মনে হয়, দল–মত–জাতি–বর্ণ–ধর্মনির্বিশেষে এ দেশে যারাই জন্ম নেবে, তারাই যেহেতু সম্মানিত নাগরিক, সুতরাং সবাইকে নিয়ে আমরা আবার এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমার মনে হয়, পেছনের ইতিহাস পেছন দিকে টানা ঠিক না। পেছনের সব ইতিহাস ভুলে আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করব। এখানে কোনো দল-মত না থাকাই ভালো। সবাই আমরা এক।’
এ সময় বিজয় র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার, সহকারী সেক্রেটারি মাজহারুল হক, শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আমির হামজার বক্তব্যের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্য আমরা আমলে নিই না, আর এগুলো নিয়ে আমাদের সমালোচনা করারও প্রয়োজন পড়ে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চির সত্য, সেটা সবাই জানে। উনি নির্বাচনে জেতার জন্য অনেক কিছু বলেন, আবার ক্ষমাও চান।’
![]() |
| বিজয় দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় জামায়াত আয়োজিত বিজয় র্যালিতে অংশ নেওয়ার পর পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজা। ছবি: প্রথম আলো |
Monday, September 15, 2025
কুষ্টিয়ায় দাফন সম্পন্ন: আমরা আম্মার শেষ ইচ্ছাটাই পূরণ করেছি: ফরিদা পারভীনের ছেলে নাহিল by তৌহিদী হাসান
লালনসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের জানাজার আগে এসব কথা জানালেন তাঁর ছেলে ইমাম নাহিল। জানাজা শেষে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে মা–বাবার কবরে চিরশায়িত করা হয় ফরিদা পারভীনকে। এ সময় সেখানে তাঁর দুই ছেলে ইমাম নাহিল, ইমাম নিমেরী, এক মেয়ে জিহান ফারিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গত শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন (৭১)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। রাত ৮টা ২৩ মিনিটে ফরিদা পারভীনের মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং গাড়ি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে এসে পৌঁছায়।
সেখানে অনুষ্ঠিত জানাজায় লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন, চিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার অংশ নেন। ফরিদা পারভীনের জানাজা পড়ান কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোল্লা মো. রুহুল আমীন।
জানাজার আগে ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নাহিল তাঁর মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, ‘কুষ্টিয়াতেই আমার আম্মার বেড়ে ওঠা। এখানে থেকেই তাঁর জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন। তাঁর কোনো অন্যায় যদি হয়ে থাকে, সন্তান হিসেবে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কুষ্টিয়ার কথা আম্মা সব সময় বলতেন।’
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘কুষ্টিয়া হলো নদীয়া। এই নদীয়ার ভাবের কথা ফকির লালন জানে কি তা। বিশাল ভাবের জগৎ। সেই বিশাল ভাবের জগৎটা একেবারে অন্ধকারের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছিল। ফরিদা পারভীনের মাধ্যমে এটা সামনে এসেছে। ফরিদার গানের যে মাধুর্য, তার গলার যে মাধুর্য, তার যে বিশেষভাবে পরিবেশনার ভঙ্গি, সাধু জগতে অত্যন্ত পরিচিত। এখানকার যে ভাবসংগীত, সেটার দীর্ঘ ইতিহাস আছে, সেই দীর্ঘ ইতিহাসের যে সুতাটা ছিঁড়ে গিয়েছিল, সেই সুতাটা ফরিদা পারভীন বেঁধে দিয়েছেন।’
জানাজা শেষে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য আজকের সংগীতাঙ্গনে একটা শোকের ছায়া। তাঁকে শত শত বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ মনে রাখবে। আমরা শোকাহত। বাংলাদেশে সংগীতাঙ্গনে তাঁর যে অবদান, তা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। তিনি একজন গুনী মানুষ ছিলেন। কুষ্টিয়াবাসীর অন্তরে দীর্ঘদিন থাকবেন।’
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন গানে গানে কাটিয়েছেন ৫৫ বছর। বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়েছে তাঁকে। শৈশবে যখন মাগুরায় ছিলেন, তখন ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে সংগীতের হাতেখড়ি হয়। ১৯৫৭-৫৮ সালে চার-পাঁচ বছর বয়সে তাঁকে গানে হাতেখড়ি দিয়েছিলেন ওস্তাদ কমল চক্রবর্তী। এরপর যেখানেই থেকেছেন, সেখানেই বিভিন্নজনের কাছে গানের তালিম নিয়েছেন তিনি। স্বরলিপি দিয়ে নজরুলের গান হারমোনিয়ামে ও কণ্ঠে তোলার কাজটি তিনি ওস্তাদ মীর মোজাফফর আলীর কাছেই প্রথম শেখেন। ১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী নির্বাচিত হন।
স্বাধীনতার পর লালন সাঁইজির গানের সঙ্গে ফরিদা পারভীনের যোগাযোগ, তখন তিনি কুষ্টিয়ায় থাকতেন। সেখানে তাঁদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন মোকছেদ আলী সাঁই। ১৯৭৩ সালে ফরিদা পারভীন তাঁর কাছেই ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শেখার মাধ্যমে লালন সাঁইজির গানের তালিম নেন। মোকছেদ আলী সাঁইয়ের মৃত্যুর পর খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছে লালনগীতির তালিম নেন। লালন সাঁইজির গানের বাণী ও সুরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বদরবারেও তিনি লালন সাঁইয়ের বাণী ও সুরকে প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
লালনগীতিতে অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। এর বাইরে ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন।
ফরিদা পারভীনের দাফনের সিদ্ধান্তে স্বামী-সন্তানদের মতবিরোধ,অতঃপর... by মনজুর কাদের
তখন রাত ১১টা পেরিয়েছে। কর্মব্যস্ত হাসপাতালেও তখন সুনসান। আইসিইউ করিডরও নিস্তব্ধ। লিফটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে যেতেই মানুষের আনাগোনা। আগত মানুষদের কেউ এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করছেন। আছে টেলিভিশনের ক্যামেরা। লালনসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুসংবাদ শুনে ছুটে এসেছেন সাংবাদিকেরাও। আছেন শিল্পীর পরিবার, স্বজনেরাও। ততক্ষণে সবাই জেনে গেছেন, গতকাল শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন ফরিদা পারভীন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
হাসপাতালের বিছানায় প্রাণহীন ফরিদা পারভীনের নিথর দেহ। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বাইরে তখন পরিবারের সদস্যরা। এক পাশে চেয়ারে বসে কাঁদছিলেন স্বামী বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম, অন্যপাশে ফরিদা পারভীনের দুই সন্তান—এম আই নাহিল ও জিহান ফারিয়া। স্বামীর চাওয়া, ফরিদা পারভীনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানো শেষে ঢাকার মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা। কিন্তু ছেলে-মেয়ের চাওয়া মাকে নিয়ে যাবেন কুষ্টিয়ার পৌর শহরে, সেখানে বাবা-মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। স্বামী–সন্তানেরা আলাদা করে এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতিও দেন।
৭১ বছর বয়সী শিল্পী ফরিদা পারভীন জীবনের শেষ কয়েক বছর কিডনি রোগের জটিলতায় ভুগছিলেন। ডায়ালাইসিসের পরও তাঁর শিল্পীসত্তা কখনো ক্লান্ত হয়নি। হাসপাতালের বিছানায় থেকেও তাঁর মনে ছিল গান। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না–ফেরার দেশে চলে গেলেন। সেই সঙ্গে বাংলার সংগীতের আকাশের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র অস্ত গেল। নিভে গেল এক কণ্ঠস্বর, যে কণ্ঠ শুনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লালনকে নতুনভাবে চিনেছে।
চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেছিলেন শেষ পর্যন্ত—ডায়ালাইসিস, ভেন্টিলেশনে ফেরানো যায় কি না ফরিদা পারভীনকে। কিন্তু আর ফেরানো যায়নি। এর মধ্য দিয়ে ১৪ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ফরিদা পারভীনের জীবনাবসন হয়। মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আলোচনায় আসে, কোথায় সমাহিত করা হবে বরেণ্য এই শিল্পীকে? ঢাকায় দাফন হলে শিল্পীজীবনের সহকর্মী, তাঁর অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী সহজে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন—এমনটাই মত দিয়েছেন গাজী আবদুল হাকিম। আবার কুষ্টিয়া তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিভরা জায়গা, যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন মা-বাবা, শিল্পীরও চাওয়া তাঁকে যেন মা–বাবার কবরে সমাহিত করা হয়—এমনটাই মত দিয়েছেন নাহিল ও জিহান। হাসপাতালে এ নিয়ে ঘণ্টাখানেক ধরে চলে আলোচনা। অবশেষে সিদ্ধান্ত হয়, ফরিদা পারভীনের শেষ ঠিকানা হবে কুষ্টিয়া।
ফরিদা পারভীনের ছেলে এম আই নাহিল গতকাল রাতে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা আজ রোববার সকাল সকাল মাকে কুষ্টিয়ায় নিয়ে যেতে চান। ঢাকায় কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা করতে চান না। যত দ্রুত মাকে দাফন করা হবে, ততই মঙ্গল। তবে গাজী আবদুল হাকিমের বক্তব্য ছিল এ রকম, ‘শিল্পী ফরিদা পারভীন রাষ্ট্রের সম্পদ। তাই আমার চাওয়া, তাঁকে যেন সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ফরিদা পারভীনের হাতে গড়া গানের স্কুল “অচিন পাখি”তে শেষবারের মতো ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।’
গাজী আবদুল হাকিম ও ফরিদা পারভীনের আগের সংসারের সন্তানদের চাওয়া যখন বিপরীতমুখী, তখন এ নিয়ে অভিভাবক পর্যায়ের কয়েকজন হাসপাতালের ভেতরই আলোচনায় বসেন। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকায় যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা হবে, কিন্তু চিরনিদ্রায় শায়িত হবে কুষ্টিয়ার পৌর কবরস্থানে, যেখানে শিল্পীর বাবা দেলোয়ার হোসাইন ও মা রওফা বেগমকে সমাহিত করা হয়েছে। ছেলে নাহিল বললেন, ‘আমার মায়ের অসিয়ত ছিল, তাঁকে যেন তাঁর বাবা-মায়ের কবরে দাফন করা হয়। এটা তিনি লিখেও দিয়ে গেছেন।’ ছেলের কথা শুনে একপর্যায়ে মেনে নেন গাজী আবদুল হাকিমও।
সন্তানদের চোখে তখন জল, মুখে একধরনের শান্তি—মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের তৃপ্তি। আবদুল হাকিমও যেন সন্তানদের চাওয়া পূরণ করতে পেরে স্বস্তি পেলেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি একসময়ের জনপ্রিয় গীতিকার ও সুরকার আবু জাফরের স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের সংসারে এক মেয়ে ও তিন ছেলে। আবু জাফরের লেখা-সুর করা অনেক গানই তাঁর কণ্ঠে অমর হয়ে আছে। যেমন ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’, ‘তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা’। তবে দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটলেও গানই ছিল তাঁর চিরসঙ্গী। এরপর ২০০৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে জড়ান ফরিদা পারভীন। তাঁদের দুজনের সংসারে কোনো সন্তান ছিল না।
হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফরিদা পারভীনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর তেজকুনীপাড়ার বাসায়। সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয় মরদেহ, যাতে সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বেলা একটায় ফরিদা পারভীনের মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা রওনা হয়েছেন কুষ্টিয়ায়। বাদ মাগরিব তাঁকে সেখানে সমাহিত করা হবে।
![]() |
| এক আসরে লালনের গান গাইছেন ফরিদা পারভীন, পাশে বাঁশি বাজাচ্ছেন স্বামী গাজী আবদুল হাকিম। ফাইল ছবি |
Wednesday, May 28, 2025
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারকৃতদের নামে বিভিন্ন থানায় হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, সুব্রত বাইন এবং মোল্লা মাসুদ সেভেন স্টার সন্ত্রাসী দলের নেতা এবং ‘তালিকাভুক্ত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের’ অন্যতম। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযান দলের দক্ষতায় কোনো রূপ ক্ষয়ক্ষতি এবং নাশকতা ছাড়াই অভিযানটি সম্পন্ন হয় এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। উক্ত সফল অভিযান বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বাংলাদেশ পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর এলাকার সোনার বাংলা সড়কের পুরাতন তিনতলা একটি ভবন ঘিরে ফেলেন সেনা সদস্যরা। ওই সড়কে সেনাবাহিনীর ৬টি গাড়ি দেখতে পান তারা। পরে সকাল ৭টার দিকে সেনা সদস্যরা বাড়ির ভেতরে অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় কয়েকজন জানান, যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, সেটির সামনে পৌরসভার সাইনবোর্ডে বাড়ির মালিকের নাম লেখা মীর মহিউদ্দিন। তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলার মেসে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ১৮ জন ছাত্র থাকেন।
মেসের কয়েকজন ছাত্রের ভাষ্যমতে, নিচতলায় এই বাড়ির পেছনের বাড়ির এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রায় ৫ মাস আগে ভাড়া নেন। ১২-১৫ দিন আগে অতিথি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তিকে রেখে যান। নিচতলায় কী হয় বা কারা থাকেন, তা কখনো দেখেননি তারা। তবে একজনকে দিনে দু’একবার শুধু খাবার খাওয়ার সময় বের হতে দেখেন। ছাত্ররা জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টার পর বাড়ির সামনে সেনাবাহিনীর ৫-৬টি গাড়ি আসে। গাড়ির বহরে একটি কালো মাইক্রোবাসও ছিল। ২০-৩০ জন সেনা সদস্য বাড়ির তালা খুলতে বলেন। তালা খোলার পর তারা দোতলা ও তিনতলায় ওঠেন। এরপর মেসের সব বাসিন্দাকে দ্বিতীয়তলার একটি ও তৃতীয়তলার একটি কক্ষে রাখেন। পরে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে সুব্রত বাইনকে ধরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম এই সুব্রত বাইন।
নব্বইয়ের দশকে ঢাকায় সুব্রত বাইনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের উত্থান ঘটে। চলে দখলবাজিও। তখন থাকতেন নয়াটোলা আমবাগানে। একপর্যায়ে তিনি হয়ে ওঠেন মূর্তিমান এক আতঙ্ক। ঢাকার মগবাজার এলাকায় সুব্রত বাইন ছাড়াও মোল্লা মাসুদের পৃথক বাহিনী তৎপর ছিল। সুব্রতর নামে ৩০টিরও অধিক খুনের মামলা রয়েছে। যার প্রায় সবগুলোতেই সাজাপ্রাপ্ত। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিসহ প্রায় ১০০ মামলার আসামি সে। ২০০১ সালে ঢাকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করা হলে সুব্রত ও মাসুদ ভারতে পালিয়ে যায়।
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের হাত ধরেই মোল্লা মাসুদ অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। তবে চারদলীয় জোট সরকারের আমলেই সে ভারতে পালিয়ে যায়। ২০০৩ সালের পরে তাকে আর বাংলাদেশে দেখা যায়নি। ভারতে সে আবু রাসেল মো. মাসুদ নামে পরিচিত হয়। ভারতীয় নাগরিক রিজিয়া সুলতানাকে বিয়ে করে সেখানে বসবাস করছিল।

Thursday, September 19, 2024
ব্যারিস্টার না হয়েও লিখতেন ব্যারিস্টার
সূত্র মতে, ২০১৮’র নির্বাচনে সাধারণ মানুষের কাছে জর্জ একেবারেই অচেনা একজন মানুষ। অনেকে আগে তার নাম কখনো শোনেননি। নিজেকে ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয় দিলেও আদতে তিনি তা নন। জানা গেছে, সেলিম আলতাফ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। এরপর কিছুদিন ছিলেন লন্ডনে। তবে সূত্র বলছে, তিনি বার অ্যাট ’ল শেষ করেননি। যদিও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টার-ব্যানারসহ সর্বত্র তিনি তার নামের আগে ব্যারিস্টার ব্যবহার করেছেন। তারপর প্রশ্ন উঠলে ২০২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টার-ব্যানারে তার নামের আগে আর ব্যারিস্টার ব্যবহার দেখা যায়নি। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি বার অ্যাট ’ল এর সনদ জমা দেননি।
এদিকে নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দাখিল করা সেলিম আলতাফের হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএলবি (অনার্স), এলএলএম’ উল্লেখ করেছেন। এর সঙ্গে মূল সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্তির কথাও বলা হয়েছে। পোস্টারে হলফনামার ব্যতিক্রম শিক্ষা ডিগ্রি যোগ করায় তখন থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এছাড়াও দলীয় কার্যালয় থেকে তার নামে পঠানো সাংগঠনিক চিঠিগুলোতেও দেখা যায় সেলিম আলতাফ জর্জ ব্যবহার হতো, সেগুলোতে ব্যারিস্টার ব্যবহার হতো না। তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী হলফনামায় তিনি বার অ্যাট ’ল-এর সনদ জমা দেননি, ইংল্যান্ডের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স করায়। তাদের যে কোনো একটি হতে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স শেষ করার পর ইংল্যান্ডের ৪টি ইনসের যে কোনো একটি থেকে বার অ্যাট ’ল-র সনদ প্রদান করে। অর্থাৎ লিঙ্কনস ইন, গ্রেস ইন, ইনার টেম্পল ও মিডল টেম্পল এই চারটি ইনস রয়েছে। তবে যে কোনো ইনস থেকে ডিগ্রি পেলেও লন্ডনের বার কাউন্সিলের ব্যারিস্টার রেকর্ডসে তথ্য এবং পরিচয় সংরক্ষিত থাকে। কর্তৃপক্ষ জানান, এই রেকর্ডসের বাইরে কারও নামের সঙ্গে ব্যারিস্টার ব্যবহার করার সুযোগ নেই, আইনগতভাবে তা বৈধ নয়। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় লন্ডনের বার কাউন্সিলের ব্যারিস্টার রেকর্ডসে। মেইলের মাধ্যমে সেলিম আলতাফ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফিরতি মেইলে ব্যারিস্টার রেকর্ডস জানায়, সেলিম আলতাফ জর্জ নামের কোনো ব্যারিস্টার তাদের তালিকায় নেই।
সেলিম আলতাফ আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়ার দৌহিত্র তিনি। তার চাচা আবুল হোসেন ও চাচি সুলতানা তরুণও এমপি ছিলেন। আরেক চাচা সামছুজ্জামান অরুণ কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র ছিলেন। তার বাবা প্রয়াত আলতাফ হোসেন কিরণ মুক্তিযোদ্ধা ও স্কুলশিক্ষক ছিলেন। মা মমতাজ বেগম অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকা থেকে সেলিম আলতাফকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেলিমের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া ও ঢাকায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সেলিম আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়ে কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকার মনোনয়ন পেলেও সতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

Thursday, December 19, 2019
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মীর মশাররফের স্মৃতি চিহ্ন by কুদরতে খোদা সবুজ
![]() |
| মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়াম |
![]() |
| মশাররফ হোসেনের ব্যবহৃত পালকি |
![]() |
| মশাররফ হোসেনের ব্যবহৃত বেঞ্চ |
স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়ামের তত্ত্বাবধায়ক মীর মাহবুব উল আরিফ বলেন, ‘মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগারটি আসলে অডিটোরিয়াম হিসেবে তৈরি হয়েছে। এটি জাদুঘরের আদলে তৈরি হাওয়া দরকার। না হলে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে তার স্মৃতি চিহ্ন। সামগ্রীগুলো খোলা স্থানে রাখার ফলে দিন দিন এর স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে।’
![]() |
| মশাররফ হোসেনের ব্যবহৃত চেয়ার |
![]() |
| মশাররফ হোসনের ব্যবহৃত আয়না |
Saturday, October 12, 2019
রেখে এসেছিলাম সন্তান আর ভিসি ফেরত দিলেন লাশ: -আবরার ফাহাদের মা by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের স্থায়ী ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এমন জানলে আমার ছেলেকে আমি বুয়েটে দিতাম না। যে বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কি করে সন্তান দেই আমার ছোট ছেলেকে তো আমি সেখানে দিবো না।
রোববার রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পিটুনিতে নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বুয়েটের ভিসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তার পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। বলেন, আমার সন্তান যখন মারা গেছে ওখানে সংবাদ পাওয়ার পরও ভিসি তার কাছে ছুটে যান নাই। যখন জানাজা হয়েছে তখনও তিনি যান নাই। আমার ছেলেটা মরে গেল এই কথা শোনার পর একবারও তিনি দেখতে আসলেন না। তার কি সন্তান নেই তার সন্তানের প্রতিও কি তিনি এমনই নির্দয়। যে ভিসি ক্যাম্পাসে আমার ছেলেকে দেখতে গেলেন না তিনি ২৫৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে চলে গেলেন, আমার সঙ্গে দেখাও করলেন না। তিনি যখন সুদূর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় আসছিলেন তখন আমি বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, হয়তো তিনি আমার কাছে আসবেন। আমি তাকে বলতে চেয়েছিলাম, আপনার কাছে সন্তান রেখে এসেছি, আর আপনি আমাকে দিলেন লাশ। তিনি এখানে এসেছেন নাটক করতে। আমি তার পদত্যাগ চাই।
এমন নির্দয় ভিসির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই। তিনি কিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হন বুয়েটে যারা দশ দফা দাবি করছে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। আবরারের মা বলেন, আমার ছেলে খুব সহজ-সরল ছিল। কারো সঙ্গে কোনো দিন তার বাধেনি। সারাদিন পড়াশোনা করতো। পড়াশোনা নিয়ে থাকতো। একজন মানুষকে কি করে এতগুলো মানুষ পেটালো তাদের কি স্বজন নেই তারা আমার বুকটা খালি করে দিলো ‘স্কুল কলেজের গণ্ডি শেষ করে আমার ছেলেকে যখন বুয়েটে ভর্তি করে হলে উঠিয়ে দিয়ে আসি তখন ছেলেকে বলেছিলাম, বাপগো, এখন থেকে তুমি তোমার নিজের বুদ্ধি দিয়ে চলবা। রোকেয়া খাতুন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট সেখানে কোনো কলহ নাই, কোনো মারামারি নাই, রাজনীতি নাই। সে কারণে ছেলের ইচ্ছে-ই তাকে ভর্তি করিয়ে দিলাম। অথচ আজ আমার ছেলে লাশ হয়ে ফিরলো। আমি তো সন্তান হারিয়ে ফেলেছি। যারা আমার ছেলের জন্য ঢাকায় আন্দোলন করছে তারা সবাই আমার সন্তান। যারা আমার ছেলের মতো বুয়েটে পড়ছে তাদের নিরাপত্তার জন্য হলেও এই ভিসির পদত্যাগ দরকার। তিনি বলেন, আমি তাকে সামনে পেলে হয়তো তার কাছে বলতাম, আমি চাই আমার সন্তান যেভাবে বুয়েট থেকে লাশ হয়ে আমার কাছে ফিরে আসছে, আর যেন কোনো মায়ের সন্তান তার বুকে লাশ না হয়ে ফিরে যায়। আবরারের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঢাকায় আসার জন্য রোববার সকালে আবরারকে ঘুম থেকে তুলে দেই আমি।
ঢাকায় আসার পথে কয়েকবার ফাহাদের সঙ্গেও কথাও হয়। পরে বিকাল ৫টার দিকে ক্যাম্পাসে পৌঁছে আমাকে ফোন করে সে খবরও জানান। কিন্তু এরপর মা রোকেয়া খাতুন ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। ছেলের খবর নিতে রাতে বারবার ফোন করেছেন তিনি। কিন্তু ছেলের মোবাইল ফোনটি একবারও রিসিভ হয়নি। আবরারের মা বলেন, আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি আর পারছি না। আমি কিভাবে আমার সন্তানকে ভুলবো। একটু বলে দেন না। আমার চোখের সামনে এখনো ফাহাদ ঘুরছে। রোববার রাতে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম, ও আর ফোন ধরেনি। আমার ছোট ছেলে ফায়াজ ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ফাহাদকে নক করে। সে সময়ও ফেসবুকে অ্যাকটিভ ছিল, তবে সাড়া দেয়নি। আমার ছেলের কি কষ্টটা মনে হয়েছিল। কিভাবে যে আমার ছেলের প্রাণটা গেছে মা হয়ে আর ভাবতে পারছি না। আমার এই ছেলেটা খুব মেধাবী ছিল, দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো তার, তাই চার থেকে পাঁচটি ভাষা শিখেছে, বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমার ছেলেটার আর বিদেশ যাওয়া হলো না। কিন্তু এমন জায়গায় চলে গেল আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।
আবরার ফাহাদের মা বলেন, আমার বড় ছেলেকে মেরেছে এখন ছোট ছেলেটাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তার ফেসবুক আইডিটা কে যেন নষ্ট করে দিয়েছে। তার নামে বেশ কয়েকটি আইডিতে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এই স্ট্যাটাসের দায় আমার সন্তান বা পরিবার কেউ নিবে না। আমাকে বেশ কয়েকজন ফোন দিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে, ছোট ছেলেকে যেন বাড়ির বাইরে না পাঠাই। অনেক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। গত বুধবার প্রশাসনের লোকজন আমার ছেলেটাকে ধরে মারলো। এসব আর সহ্য হচ্ছে না। আমার ছোট ছেলের নিরাপত্তা এখন কে দিবে আমি চাই না আমার ছোট ছেলেটাকেও হারিয়ে ফেলি।
Tuesday, February 5, 2019
দৌলতপুরে দৈনিক পুড়ছে ৩০ হাজার মণ জ্বালানি কাঠ, হুমকির মুখে পরিবেশ

শুধু তাই নয়, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ছোট-বড় ৯টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার চুল্লিগুলোতে ১২০ ফুট উঁচু স্থায়ী চিমনির পরিবর্তে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ ফুট উচু ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের সবুজ বৃক্ষ। দৌলতপুর উপজেলার সদরে স্বরূপপুর, মানিকদিয়াড় ও সাদীপুর এলাকার ইটভাটাসহ সব ইটভাটাতে অবাঁধে কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন লতিবমোড়ে প্রতিদিন প্রকাশ্যেই ট্রাকভর্তি জ্বালানি কাঠ ওজন দেয়া হচ্ছে। আর এসব নিষিদ্ধ ইটভাটায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে সেই মাটি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে ইট। প্রতিটি ভাটায় এক রাউন্ড ইট পোড়াতে সময় লাগে ১২-১৫ দিন। সে হিসেবে একটি মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড ইট পোড়ানো সম্ভব। এক রাউন্ড ইট পোড়াতে ১০ থেকে ১২ হাজার মণ জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ইটভাটায় এক মৌসুমে এক লাখ মণ জ্বালানি হিসেবে সবুজ বৃক্ষ বা কাঠ পোড়ানো হলে ৩০টি ভাটায় ৩০ লাখ মণেরও বেশি প্রয়োজন। এছাড়াও ইটভাটাগুলো সরকারি নিয়ম নীতি না মেনে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো উর্বর ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকায় গড়ে উঠায় ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও স্বাস্থ্যহানি ঘটছে, পরিবেশ হচ্ছে বিপর্যস্ত। সেই সঙ্গে আবাদি জমি ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বরাশক্তি হারাচ্ছে। তবে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বেশ কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর দায়ে অর্থদণ্ড ও ভাটা মালিকদের সতর্ক করলেও ভাটা মালিকরা তা না মেনে অবাধ পূর্বের ধারাবাহিকতায় কাঠ পুড়িয়ে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের নজরে নেয়া প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। একই সঙ্গে পরিবেশ ও আবাদি জমি রক্ষায় এসব অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী চিমনির ভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে সচেতন মহলের দাবি।
Wednesday, January 23, 2019
কুষ্টিয়ায় জামায়াত কর্মীদের জাসদে যোগদানের খবরে তোলপাড় by দেলোয়ার মানিক
যদিও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ও উপজেলা জাসদের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, স্থানীয় জাসদের এক নেতা উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত নেতাকর্মীদের দলে ভিড়িয়ে নিজে লাভবান হতে চাইছেন।
গত শনিবার বিকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাজিহাট এলাকার প্রায় ৫০ জন জামায়াত নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জাসদে যোগ দেন। জামায়াত নেতা নুর ইসলামের নেতৃত্বে শের আলী, আবুছদ্দীন, রেজন আলী, রাশিদুল ইসলাম, মোহর আলী, সামছুল আলম, সোলাইমানসহ প্রায় ৫০ জন জামায়াতের কর্মী কুর্শা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি জামিরুল ইসলাম ও ওয়ার্ড জাসদের সভাপতি আরব আলীর হাতে হাত রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ নেতা ইকতার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য জাহার আলী, সামছুম আলী, তাইজাল আলী শেখ, ইদবার আলী, ওয়ারেশ মল্লিক, যুব জোটের নেতা হুমায়ুন কবির। জামায়াত থেকে সদ্য যোগদানকৃতরা জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এর প্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও মামলা আতঙ্কে ভুগেছি। আমরা আর নাশকতার মামলায় জড়াতে চাই না। আর জাসদের কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা জাসদে যোগদান করেছি। যাতে ভবিষ্যতে আর মামলা না হয়।
স্থানীয় জাসদের ওয়ার্ড সভাপতি ও ইউপি সদস্য আরব আলী জানান, তারা আগে জামায়াত করতেন। এখন তারা জাসদে যোগদান করেছেন। কুর্শা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জানান, জাসদের সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদকমুক্ত সমাজ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কাদামুক্ত পাকা রাস্তাসহ মিরপুর উপজেলা অভূতপূর্বক উন্নয়ন দেখে জামায়াতের ৫০ জন নেতাকর্মী স্ব-উদ্যোগে জাসদে যোগদান করেছেন।
কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান, স্থানীয় জাসদের নেতাকর্মীরা তাদের সমর্থন দিন দিন হারিয়ে ফেলে এখন জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে তারা জামায়াতের নেতাকর্মীকে দলে নিচ্ছে। আর যাদের নিয়েছে তারা সকলেই একাধিক নাশকতার মামলার আসামি। এলাকায় সরকারবিরোধী কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। তারা এখন জাসদের আশ্রয়ে মাথা উঁচু করতে চাইছে। আর জাসদের নেতাকর্মীরা তাদের পুনর্বাসন করছে।
এদিকে জামায়াত নেতাকর্মীদের জাসদে যোগদানের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ জাসদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গ্রাম্য সালিশের ঘটনার ছবি জামায়াত কর্মীদের জাসদে যোগদান ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করছে তারা।
জেলা জাসদের সভাপতি আলহাজ গোলাম মহসীন জানান, জাসদ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। জামায়াত, যুদ্ধাপরাধীদের দলে নেবে না। যদি আত্মীয়তার খাতিরে জামায়াতদের দলে নিয়ে থাকে তাহলে আমরা তার অনুমোদন দেবো না। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা জাসদের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের অপপ্রচার মাত্র।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাসেমের মোবাইলে একাধিক বার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। পরে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম জানান, স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত। এরা চায় বিভিন্ন সময়ে তাদের মুখোশ পাল্টিয়ে জনসাধারণের ক্ষতি করতে। এরা এখন জাসদের সঙ্গে যোগ দিয়ে মাথা তুলতে চায়। জাসদ কেনো তাদের নিচ্ছে- সেটা তারাই বলতে পারে।
Wednesday, October 3, 2018
কলেজছাত্রীকে নির্যাতনের পর চুল কর্তন ফেসবুকে নগ্ন ছবি

ওই ছাত্রীর দেয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে কলেজে যাওয়া-আসার পথে জুগিয়া হাট পাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হোসেন তাকে উত্ত্যক্ত করত। নাজমুল সে সময় ওই ছাত্রীর কাছে সংখ্যালঘু হিসেবে নিজের পরিচয় দেয়। এক পর্যায়ে নাজমুলের সাথে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ২৪শে নভেম্বর নাজমুল ওই কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে উপজেলার বটতৈল এলাকার স্থানীয় এক কাজীর কাছে নিয়ে যায়। এ সময় নাজমুল তাকে বলে আমি মুসলমান তোমাকেও মুসলমান হতে হবে। মুসলমান পরিচয় জানতে পেরে ওই কলেজছাত্রী নাজমুলকে বিয়ে করতে এবং ধর্মান্তরিত হতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় নাজমুল এবং তার সাথে থাকা অজ্ঞাত নামা ৩-৪ জন তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আগে থেকে সম্পন্ন করে রাখা দুইটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং নোটারি পাবলিক দিয়ে মুসলমান হিসেবে হলফনামা করে এবং তাকে বিয়ে করে। বিয়ের কাবিননামায় ওই ছাত্রীর বাবার প্রকৃত নাম পাল্টে লেখা হয় শেখ ইমতিয়াজ আলী এবং মায়ের নাম লেখা হয় আফরোজা বেগম মালা। যা ওই মেয়ের বাবা ও মা কিছুই জানে না।
এক পর্যায়ে ওই কলেজ ছাত্রী এবং তার দরিদ্র পরিবার বিয়ে মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং নাজমুলের সাথেই সংসার করা শুরু করে। বিয়ের এক-দেড় বছর পর কলেজ ছাত্রী জানতে পারে নাজমুল বিবাহিত, তার দুইটি সন্তান রয়েছে এবং সে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এ সব বিষয়ে নাজমুলকে জিজ্ঞাসা করলে ওই ছাত্রীর উপর চরম শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা চরমে পৌছালে সে রাগ করে বাবার বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হয়। গত ২৬শে জুন নাজমুল ওই ছাত্রীর বাড়িতে এসে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চায়। ক্ষমা করার পর মন ভালো করার নাম করে নাজমুল বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে করে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া সাতবাড়ীয়া মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীকে এলাপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় শুরু করে। এক পর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেয় নাজমুল। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করে। আত্মীয়-স্বজনসহ পরিচিতদের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে দেয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তপূর্বক দোষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
Saturday, September 8, 2018
ক্ষুব্ধ প্রেমিকার কামড়ে পুরুষাঙ্গ হারিয়ে প্রেমিকের মৃত্যু

ঘটনায় প্রেমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত প্রেমিকের নাম হাবিবুর রহমান (৩৫)। বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকার গাড়া দাইড়পাড়া গ্রামের মঙ্গলবার বিকেলের ঘটনা। এদিন রহমান মাছুরা নামে এক মহিলার সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত ছিলেন প্রেমিক হাবিবুর রহমান। প্রেমিকের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতেই প্রেমিকের পুরুষাঙ্গে কামড় বসিয়ে দেন মাছুরা। যন্ত্রণায় চিত্কার শুরু করলে পাড়া প্রতিবেশীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কথায়, আল্লারদর্গার মৃত সাইদ মাস্টারের ছেলে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ওই এলাকার গাড়া দাইড়পাড়ার স্বামী পরিত্যক্তা মাছুরা খাতুনের (৩২) বেশ কয়েকবছর ধরেই সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করবেন বলে মাছুরাকে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ালে রহমান প্রতিশোধের সুযোগ খোঁজে। বোনের বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রেমিককে উচিত শিক্ষা দেয় ক্ষুব্ধ প্রেমিকা। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার শাহ দারা খান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মাছুরা খাতুনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল হাবিবুরের। মাছুরাকে বিয়ে করতে অনিচ্ছার কথা জানালে ক্ষুব্ধ প্রেমিকা এই নিষ্ঠুর আচরণ করে বসেন। ঘটনায় অভিযুক্ত মাছুরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সূত্র: এই সময়
Sunday, March 18, 2018
পদ্মা এখন মরা খাল

শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর পানি ভাগাভাগির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি পানিচুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী ১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে মে পর্যন্ত সময়কে শুষ্ক মৌসুম হিসেবে অভিহিত করে প্রতিটি মাসকে তিনটি সাইকেলে ভাগ করা হয়েছে। কোনো চক্রে বাংলাদেশ কী পরিমাণ পানি পাবে তাও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কখনই ন্যায্য হিস্যা পায়নি বাংলাদেশ।
যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সূত্র জানায়, পানিবণ্টন চুক্তির সংলগ্নি-২ এর ইন্ডিকেটিভ অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে ১০ই মার্চ পর্যন্ত সাতটি সাইকেলে বাংলাদেশের পানি পাওয়ার কথা ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩১ কিউসেক। এসময়ে পানি পাওয়া গেছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৫ কিউসেক। বাংলাদেশ কম পেয়েছে ৪২ হাজার ১৯৬ কিউসেক পানি। এরমধ্যে জানুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনের ১ম সাইকেলে বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল ৬৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক পানি। এ সময় পাওয়া গেছে ৫৬ হাজার ৫৪ কিউসেক পানি। এ হিসেবে ভারত বাংলাদেশ কে প্রথম চক্রেই কম দিয়েছে ১১ হজার ৪৬২ কিউসেক পানি। চুক্তির ধারা অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্টে ভারতকে ৪০ বছরের গড় পানিপ্রবাহ অর্থাৎ ১ লাখ ৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু তা না করে পানির প্রবাহ দেখিয়েছে ৮৮ হাজার ৭৮৩ কিউসেক। ভারতের হিস্যা অনুযায়ী ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভারত ঠিকই বুঝে নিয়েছে। ১১ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি ২য় সাইকেলে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৫৭ হাজার ৬৭৩ কিউসেক পানি। এসময় পাওয়া গেছে ৪৭ হাজার ৫৩৩ কিউসেক পানি। ২১শে জানুয়ারি থেকে ৩১শে জানুয়ারি ৩য় সাইকেলে ৫০ হাজার ১৫৪ কিউসেক পানি দেয়ার কথা থাকলেও দিয়েছে ৪৩ হাজার ৬১০ কিউসেক। ফেব্রুয়ারি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ৪র্থ সাইকেলে ৪৬ হাজার ৩২৩ কিউসেকের স্থলে ভারত দিয়েছে ৪১ হাজার ৮৫৫ কিউসেক পানি। ৫ম সাইকেলে ১১-২০ ফেব্রুয়ারি ৪২ হাজার ৮৫৯ কিউসেক পাওয়ার কথা থাকলেও ভারত কম দিয়েছে ৪ হাজার ৬১৩ কিউসেক। এসময় পাওয়া গেছে ৩৮ হাজার ২৪৬ কিউসেক পানি। ২১-২৮শে ফেব্রুয়ারির ৬ষ্ঠ সাইকেলে ৩৯ হাজার ১০৬ কিউসেকের স্থলে পেয়েছে ৩৫ হাজার ৮৫১ কিউসেক। মার্চ মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের ৭ম সাইকেলে ৩৫ হাজার কিউসেকের স্থলে পাওয়া গেছে ৩৩ হাজার ২৮৬ কিউসেক।
জানুয়ারি থেকে ৩১মে পর্যন্ত ১৫টি সাইকেলের সাতটি সাইকেলেই ৪২ হাজার ১৯৬ কিউসেক পানি কম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে পদ্মা নদী। পানি নেই হার্ডিজ্ঞ ব্রিজের নিচে। ব্রিজের নিচে এখন ফসলের মাঠ। ব্রিজের ১৫টি গার্ডের মধ্যে মাত্র ৭টি গার্ডার কার্যত পানির ভেতর দাঁড়িয়ে আছে। বাকি ৮টি এখন বালুচরে। দিন যতই যাচ্ছে পদ্মা নদীতে ততই জেগে উঠেছে বালুচর। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে করুণ পদ্মা নদীর চিত্র।
ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ ব্রিজের যুগল সৌর্ন্দয দেখতে আসা ভেড়ামারা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিহা আহমেদ মেঘলা জানিয়েছেন, পাঠ্য বই এ পড়েছি প্রমত্ত পদ্মা নদীর কথা। যার উত্তাল গর্জন শোনা যেত দূর থেকেই। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কোনো মিল নেই। পানির অভাবে পদ্মা এখন মরা খাল। জলরাশির পরিবর্তে চারদিকে শুধু ধু-ধু বালুচর। পদ্মার বুক এখন ফসলি জমির মাঠ। পানি হ্রাসের এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের কোনো কারণ খুঁজে পাবে না।
Monday, April 24, 2017
কুষ্টিয়ায় পার্টিকেল বোর্ড কারখানায় দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১০

Thursday, April 13, 2017
শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে গুলির হুমকি তদন্তের নির্দেশ

Wednesday, March 29, 2017
পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

Monday, March 20, 2017
কলেজছাত্রী হত্যায় ইবি ছাত্রের ফাঁসির আদেশ

Saturday, November 5, 2016
কুষ্টিয়ায় দুই তরুণের লাশ উদ্ধার
Thursday, December 24, 2015
আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছেই: কুষ্টিয়ায় থানার সামনে নারীদের ওপর হামলা
নরসিংদীতে আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১১টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং বিএনপির প্রার্থীরা।
কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলাউদ্দীন ও আল মাছুম মোর্শেদ এবং কাউন্সিলর প্রার্থী নাফিজ আহম্মেদের স্বজনদের চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার কয়েক শ নারী থানা ঘেরাও করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলামের ৫০-৬০ জন সমর্থক লাঠিসোঁটা নিয়ে নারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। তবে প্রার্থী তারিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাঁদের স্বজনদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা হওয়ায় তাঁদের নির্বাচনী প্রচার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে খুন হন। একই রাতে দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আজাদুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।
শাহজাদপুর: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হালিমুল হকের বিরুদ্ধে প্রচারের মাইক ভাঙচুর, পোস্টার ছেঁড়া, নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর, কর্মী-সমর্থকদের মারপিট ও অস্ত্র দেখিয়ে হুমকির অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মো. আবদুর রহিম।
যশোর: যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আবদুস সামাদ অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অরুচিকর প্রচারণা চালানো এবং কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করেছেন, মেয়রের ভাগনে বুলবুল আহম্মেদ তাঁর কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। নওয়াপাড়া পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ফারুক হোসেন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সুশান্ত দাসের কর্মীরা তাঁর কর্মীদের মারপিট করেছে এবং নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন করতে দিচ্ছে না।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি নির্বাচনী কার্যালয় করার এবং কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এনেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অলিউর রহমান। এ নিয়ে অলিউর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ময়েন খান ও তাঁর লোকজন তাঁকে হুমকি এবং তাঁর কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন।
নাটোর: নাটোরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শেখ এমদাদুল হক আল মামুন অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় সাংসদ মো. শফিকুল ইসলামের ছোট ভাই সাগর ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তবে সাংসদ বলেছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
কলাপাড়া: পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক গাড়িবহর নিয়ে কলাপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল চন্দ্র হাওলাদারের পক্ষে গণসংযোগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
লাকসাম: কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের পক্ষে গতকাল পুলিশি পাহারায় প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদীন ফারুক।
বরগুনা: বরগুনা সদরে ২১ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশে সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর উপস্থিতিতে ভোট চাওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল আহসানকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বরগুনার বেতাগীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাঁচ মেয়র ও সাত কাউন্সিলর প্রার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড়: গত মঙ্গলবার রাত আটটার পর শব্দবর্ধনকারী যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে জনসভা করায় পঞ্চগড় পৌরসভার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকিয়া খাতুনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
Friday, December 18, 2015
পর্ণোগ্রাফি: পান্না মাস্টারের ৫ বছর জেল by দেলোয়ার মানিক
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ভিডিও ধারণ ও তা প্রচার করার মামলায় পুলিশ পর্নোগ্রাফি মামলায় ২০১৩ সালে ১৫ ও ১৬ই জুন আসামিদের আটক করে কারাগারে পাঠায়। পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা এ মামলায় আসামি করা হয় চারজনকে। তিনজন আসামি বিচার চলাকালে উপস্থিত থাকলেও একজন আসামি পলাতক ছিল। এদিকে এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি সরকারি পক্ষের আইনজীবীরা। কুষ্টিয়া জজকোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান মামুন জানান, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমরা মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শিক্ষক হেলাল উদ্দিন পান্নার সঙ্গে একাধিক স্কুলছাত্রীর যৌন সম্পর্কের আড়াই ঘণ্টার ৬টি নগ্ন ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ে জেলাজুড়ে। ভিডিওচিত্রে থাকা ১২/১৬ বছরের একাধিক ভুক্তভোগী কিশোরীর সকলেই স্কুলছাত্রী। সে সময় মান-সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মামলা না করা পুলিশ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা করে। দণ্ডপ্রাপ্ত গণিতের শিক্ষক হেলাল উদ্দিন পান্না কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের তসলিম উদ্দিনের পুত্র। সে কুষ্টিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০০৩ সালে গণিতের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে। যোগদানের পর থেকেই সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিদ্যালয়ের ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে তাদের ব্ল্যাক মেইল করে অবাধে অনৈতিক কাজে মিলিত হতে বাধ্য করতো। পান্না তার বন্ধুর সঙ্গেও ছাত্রীদের সেক্স করতে বাধ্য করতো। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে পান্না মেলামেশার চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পায় ওই ছাত্রীর আত্মীয়স্বজন। পরে ওই ছাত্রীর ফুপাতো ভাই হেলাল উদ্দিন পান্নার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ কেড়ে নেয়। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ থেকে উদ্ধার করা হয় ওই শিক্ষকের ধারণ করা বিভিন্ন ছাত্রীর সঙ্গে মেলামেশার ছবি ও ৬টি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা সেক্স ভিডিও। এরপর স্থানীয়রা গণধোলাই দিতে শুরু করলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করে জেলার প্রভাবশালী একটি পক্ষ। কিন্তু মানবজমিন-এ বিস্তারিত প্রকাশে তোলপাড় সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2153)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...











