Sunday, May 18, 2025

গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে ইসরায়েলের বড় অভিযান

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে পরাজিত করে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্ত করতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল।

অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গিডিয়নের রথ’, যা বাইবেলের একজন যোদ্ধার নামে নামকরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৭ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের হিব্রু ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে জানায়, এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো গাজা উপত্যকার কৌশলগত এলাকাগুলো দখলে নেওয়া এবং সেগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে তাদের ইংরেজি ভাষার পোস্টে অভিযানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

আইডিএফ দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা গাজাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে এবং জানিয়েছে, যতক্ষণ না হামাস ধ্বংস হচ্ছে এবং সব জিম্মি মুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২৫০ জন নিহত হয়েছেন।

চলতি বছরের মার্চে দুই মাসের অস্ত্রবিরতি ভেঙে পড়ার পর গাজায় ত্রাণ সহায়তা কার্যত বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, গাজায় অনেক মানুষ অনাহারে ভুগছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ‘গিডিয়নের রথ’ অভিযানের লক্ষ্য গাজার নির্দিষ্ট এলাকাগুলো দখল করে সেগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক জনগণকে দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়া, হামাসকে নির্মূল করা এবং ত্রাণ সহায়তা যাতে তাদের হাতে না পড়ে তা নিশ্চিত করা।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগেই গাজায় প্রবেশ করে নির্দিষ্ট এলাকা দখল ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এই অভিযান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত ছিল। তিনি শুক্রবার ওই অঞ্চল ত্যাগ করেন।

এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফোলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জনগণকে জোরপূর্বক স্থানান্তর, বিস্তৃত এলাকায় বোমাবর্ষণ ও মানবিক সহায়তা বন্ধের মাধ্যমে গাজার জনসংখ্যার কাঠামো বদলে ফেলার ইঙ্গিত মিলছে- যা জাতিগত নিধনের শামিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গাজার খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে কর্মরত ব্রিটিশ সার্জন ভিক্টোরিয়া রোজ বলেন, আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। শিশুদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। অনেকে দাঁত হারাচ্ছে, সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে, আর অপুষ্টির কারণে সেরে ওঠার ক্ষমতা কমে গেছে।

এদিকে জাতিসংঘ-সমর্থিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার জনগণ এখন দুর্ভিক্ষের চূড়ান্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও ইসরায়েল বারবার গাজায় খাদ্য ঘাটতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক সীমান্ত হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। হামলার জবাবে ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত চলমান। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে হামাসের হাতে এখনও ৫৭ জিম্মি রয়েছে।

গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

গাজা উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। ছবি : সংগৃহীত
গাজা উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। ছবি : সংগৃহীত


পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রসায়নে যুদ্ধ, ইসকন এবং বাংলাদেশ by আলতাফ পারভেজ

২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক ধারা আরএসএসের (রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ) শত বছর পূর্তি হচ্ছে। মুহূর্তটি বর্ণিল কোনো কায়দায় উদ্‌যাপন করতে চান করপোরেট ধাঁচের এই সংগঠনের কর্তারা। ভারতের কেন্দ্রে তাঁদের দল বিজেপি ইতিমধ্যে ক্ষমতায় আছে। তাহলে উদ্‌যাপনের বিকল্প আর কী হতে পারে—সেটাই এখন ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের।

কারও কারও অনুমান, পশ্চিমবঙ্গের আগামী নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিজেপি ‘সংঘ’ পরিবারের শত বছর পূর্তি উৎসবের ‘তারাবাজিতে আগুনের ছোঁয়া’ দিতে চায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ কেন টিম আরএসএসের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ? কীভাবে এগোচ্ছে তারা পশ্চিমবঙ্গ জয়ের দিকে? যুদ্ধ কি তাতে বাড়তি জ্বালানি জোগাচ্ছে? বাংলাদেশ প্রসঙ্গই-বা আসছে কেন বারবার?

পশ্চিমবঙ্গ যে কারণে আরএসএসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ

ভারতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট সংখ্যা ৩৬। এর মধ্যে ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিজেপি ও তার মিত্ররা এখন ক্ষমতায় আছে। তার মধ্যে বিজেপি নিজ শক্তিতে ক্ষমতায় আছে ১৫ জায়গায়। সুতরাং জাতীয় ক্ষমতার গণিতে পশ্চিমবঙ্গ সংঘ পরিবারের জন্য জরুরি কিছু নয়। তবে ভাবাদর্শিক ও আবেগের জায়গা থেকে আরএসএস মনে করে, পশ্চিমবঙ্গ তাদের সেই ‘পবিত্র ভূমি’, যা আরও আগে তাদের পদানত হওয়া প্রয়োজন ছিল।

মারাঠি ব্রাহ্মণ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা হলেও তাঁর জীবনের বড় সময় কেটেছে কলকাতায়। এখানেই ডাক্তারি পড়েছেন তিনি। এখানেই রাজনৈতিক সংগঠনের কলাকৌশল শিখেছেন তিনি তখনকার স্থানীয় বিপ্লবীদের কাছে। আবার বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিরও প্রদেশ। শ্যামাপ্রসাদই আরএসএসের রাজনৈতিক শাখা জনসংঘ গড়ে তুলেছিলেন। যে জনসংঘ ১৯৭৭ সালে বিজেপিতে রূপান্তরিত হয়।

আরএসএস তাত্ত্বিকেরা এটাও বলেন, ‘ভারতমাতা’ কিংবা ‘হিন্দুত্বভা’র মতো এখনকার অতি চালু রাজনৈতিক ধারণাগুলো বাংলাভাষীদেরই উদ্ভাবন। হুগলির গবেষক চন্দ্রনাথ বসু ইতিহাসে প্রথম ‘হিন্দুত্বভা’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এ রকম জনপদে যে আরএসএস বিজেপিকে ক্ষমতায় বসাতে পারল না আজও—সেটা তাদের জন্য আফসোসের ব্যাপার।

বলা বাহুল্য শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দলীয় এই অবস্থা বদলাতে চাইছে হিন্দুত্ববাদীরা। মর্যাদার পুরোনো লড়াইয়ে তারা এবার পশ্চিমবঙ্গে জিততে চায়। সে জন্য মরণপণ করে কাজে নেমেছে। সীমান্তের অপর দিকের বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকেও তারা আসন্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোর কাজে ব্যবহার করতে পারবে মনে করছে। বাড়তি হিসেবে আছে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ-উন্মাদনা।

আরএসএস যেভাবে ‘মিশন বাংলা’য় এগোচ্ছে

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে পায় ১২টি। এটা এখানকার মোট আসনসংখ্যার ৩০ শতাংশও নয়। আগের লোকসভা নির্বাচনে পেয়েছিল ১৮টি।

সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে তারা এখানে ভোট পেয়েছিল ৩৯ শতাংশ। তার আগে যে বিধানসভা নির্বাচন হয়, সেখানে তারা ২৯৪টির মধ্যে ৭৭টি আসন পায়। ওই নির্বাচনে ভোট পেয়েছিল ৩৮ শতাংশ।

গত এক বছর আরএসএস-বিশ্লেষকেরা ভোট ও আসনের এসব হিসাব খতিয়ে দেখেছেন। তাঁদের বিশ্লেষণে দলের ৩৮-৩৯ শতাংশ ভোটের অল্প অংশ আছে ভাসমান ভোট। রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী স্থায়ী ভোট আছে এখন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। এটা যদি ৫ শতাংশ কমে কিংবা ৫ শতাংশ বাড়ে, তাহলে আসনের হিসাবে কী ঘটতে পারে, সেসব হিসাব কষা হয়ে গেছে। তারপরই কেবল বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে আরএসএস পশ্চিমবঙ্গে অনেকগুলো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিল।

এর মধ্যে আছে ‘শাখা’র সংখ্যা বর্তমান থেকে দ্বিগুণ করা। অতি উচ্চাভিলাষী এক টার্গেট। মোহন ভাগবত তা-ই চান। গত ফেব্রুয়ারি এ রাজ্য সফর করে গেলেন তিনি। উচ্চাভিলাষী হলেও দুরূহ কোনো লক্ষ্য নয় এটা। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘের ৫০০ নতুন শাখা হলো এই রাজ্যে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালে দেশব্যাপী এটা বেড়েছে ৬২ শতাংশ। ‘শাখা’ হলো মাঠপর্যায়ে হিন্দুত্ববাদী সর্বনিম্ন ইউনিট।

পশ্চিমবঙ্গে শাখাসংখ্যা বাড়ানো নিয়ে মোহন ভাগবতদের বড় লক্ষ্য এবং বড় আশার ভিন্ন কারণও আছে। এখানে হিন্দুত্ববাদের সামাজিক উত্থান ঘটছে রকেটগতিতে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন বেড়েছিল আগের নির্বাচনের ৩টি থেকে ৭৭টিতে, আর ভোট বেড়েছিল ১০ শতাংশ থেকে ৩৮ শতাংশ। এ রকম অগ্রগতি সামান্য বাড়তি গতি পেলেই মমতার প্রায় ১৫ বছরের সাজানো-গোছানো ছক উপড়ে ফেলা যাবে বলে ভাবছেন পদ্ম প্রতীকপ্রেমীরা।

সেই লক্ষ্যে সাংগঠনিক নানা উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নানা ইস্যুকেও প্রচারের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে চায় আরএসএস। এটা নতুন অগ্রাধিকার হিসেবে নিচ্ছে তারা। গত মার্চে বেঙ্গালুরুতে আরএসএসের যে প্রতিনিধিসভা হয়, যাকে তারা ‘বৈঠক’ বলে, সেখানে বাংলাদেশ বিষয়ে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়ে আরএসএসের কর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

সংঘ পরিবারের ৩২টি সহযোগী সংগঠনের নীতিনির্ধারকেরা ওই বৈঠকে যোগ দেন এবং তাতে বাংলাদেশ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আলোচনা হয়। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে আগে এসব আলোচনার পদ্ধতিগত কিছু ছাপ পড়বে, যা পদ্ম মার্কায় ‘বাড়তি হিন্দু ভোটের’ সিল পড়তে সহায়তা করবে বলে তারা মনে করছে।

তবে আরএসএস জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরের সামাজিক-অর্থনৈতিক নানা কর্মসূচির মাধ্যমেও তাদের সংগঠন এবং ভোট বাড়ানোর চেষ্টা করে। যেমন বিদ্যাভারতী নামে তাদের যে শিক্ষা বিভাগ রয়েছে, তাতে কেবল পশ্চিমবঙ্গের ৯০ হাজার শিক্ষার্থী পড়ছেন। এ রকম প্রায় ৩০০ বিদ্যাপীঠ আছে এখানে। আট বছর আগে এটা ছিল এক শর মতো। এসব তথ্য জানাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে কী গতিতে সামাজিক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

মমতার সরকার একবার এ রকম কিছু স্কুল বন্ধ করতে গিয়ে আদালতের বাধায় পড়ে। তাতে এটাও বোঝা যায়, সমাজের অন্যান্য স্তরেও হিন্দুত্ববাদী প্রভাব বাড়ছে। আইন অঙ্গন থেকে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক পর্যন্ত সমাজের সব পর্যায়ে তাদের সংগঠন আছে। যেমন আইন অঙ্গনে কাজ করে আদিভক্ত পরিষদ, সাবেক সেনাদের মধ্যে কাজ করছে পূর্ব সৈনিক পরিষদ। কাজের গুণগত ধরনও বেশ ভালো।

যেমন পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলগুলো থেকে আরএসএসের স্কুলগুলো দরিদ্র সমাজের জন্য বেশি সুবিধাজনক। এ রকম স্কুলগুলো কীভাবে ভোট বাড়ায়, তার একটা নজির হতে পারে মেদিনীপুরের ট্রাইবাল এলাকা। এখানকার জেলাগুলোয় (পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া) ২০১৫ সালে বিজেপি বিধানসভায় আসন পেয়েছিল ১টি। ২০২১ সালে পায় ২২টি। মমতার জন্য এ রকম আয়োজন ঠেকিয়ে রাখা সহজ নয়।

মমতার ‘খেলা’র ছকে নতুনত্ব এল

স্কুল ও অন্যান্য সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে আরএসএস মূলত বোঝাতে চায়, শুধু ভোট এবং বিধানসভাই তাদের লক্ষ্য নয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মমতা অবশ্যই প্রধান এক লক্ষ্যবস্তু। তৃণমূল নেত্রীও সে অনুযায়ী লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মমতা মূলত তাঁর মাঠে গতবারের আসন (২১৫) ধরে রাখতে চান। ইতিমধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে কলকাতায় দলের এক বড় সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছেন ‘খেলা আবার হবে’। অর্থাৎ যুদ্ধের জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেই জানিয়ে দিলেন। তবে এ রকম হুংকার সত্ত্বেও মমতা সামাজিক ইমেজে বেশ পিছিয়ে আছেন।

কলকাতায় আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা শহুরে ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলবৈরিতা বাড়িয়েছে। তাঁর প্রশাসনের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসবের চেয়ে তাঁর জন্য উদ্বেগের জায়গা হলো বাংলাদেশ নিয়ে শহুরে দরিদ্র হিন্দু ভোটারদের মেরুকরণ। বিজেপি এখানে মমতার পুরোনো ভোটব্যাংকে ঘা দিচ্ছে। তারা মুসলমান সম্প্রদায়ের সঙ্গে মমতার পুরোনো সখ্যকে বাংলাদেশের সঙ্গে মিলিয়ে হাজির করার কৌশল নিয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ তাতে খেলার ভারসাম্য তাদের দিকে রেখেছে।

এ রকম অবস্থার চাপে পড়েই ইতিমধ্যে মমতাকে জোর গলায় জানাতে হচ্ছে তিনি হিন্দু ব্রাহ্মণ। তবে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের মধ্যে ‘উঁচু জাত’ ব্রাহ্মণ-বৈদ্য-কায়স্থরা সংখ্যায় এত নয় যে শুধু এটা দিয়ে ভোটের দিন দাপট দেখানো যাবে; বরং এখানে অন্য পিছিয়ে থাকা জাতই বেশি। বাংলাদেশে চিন্ময়ের আটকের ঘটনায় নিচুতলার ওই হিন্দুদের আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল স্থানীয় ইসকন ও তার সংগঠক রাধারমণ দাস।

হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কলকাতা ও ভারতে বাংলাদেশকেন্দ্রিক প্রচারণার বড় এক ‘প্রযোজক’ রাধারমণ ও ইসকন। বিজেপি তা থেকে শুরুতে লাভবান হলেও বুদ্ধিমতী-ব্রাহ্মণ মমতা এই উভয়কে হাত করে নিয়েছেন। উপরন্তু রাধারমণকে দিঘা মন্দিরের দায়িত্ব দিয়ে হিন্দু ভোট ব্যাংকে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছেন তিনি। কিছুটা সফলও হয়েছেন।

দিঘায় প্রথম তিন দিনে ১০ লাখ দর্শনার্থী গেছেন বলে আনন্দবাজার ও মমতা উভয়ে উচ্ছ্বসিত। মুখ্যমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ পাটিগণিত হলো: ২৮ শতাংশ মুসলমান ভোটের ২৫ শতাংশ তিনি আবার পেতে চান এবং বাকি ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটের ২৫ শতাংশ পেলেই চলবে।

বিজেপির হিসাবও কম স্পষ্ট নয়। তারা আগের ৩০-৩৫ শতাংশ থেকে ভোটের অঙ্ক ৪০-এর ওপরে তুলতে চায়। ৪০ ছুঁতে পারলেও চলবে। এ জন্য তাদের বড় ভরসা বাংলাদেশের আগামী মাসগুলোর ‘ঘটনা-দুর্ঘটনা’। মমতার ভরসা রাধারমণ ও ইসকনমণ্ডলী।

বাংলাদেশ যেভাবে ২৬-এর পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্ববহ

পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের জন্য ৯৯তম বছরটি বেশ পয়া। প্রায়ই মেঘ না চাইতে জল মিলছে। বাংলাদেশে ৩ মের বহুল আলোচিত জনসভায় নেতাদের মুখে ও ছবিতে নারীর লাঞ্ছনা বিজেপি প্রচারকদের তুমুল খোরাক জোগাল। তারা একে ‘তালেবান-জুজু’ হিসেবে ব্যবহার করছে। বিজেপি মনে করছে, আগামী মাসগুলোয় বাংলাদেশে এ রকম যা কিছু ঘটবে, সেটাই তাদের ভোটের প্রচারে এগিয়ে রাখবে।

আবার এই প্রশ্নও আছে, মমতা যেভাবে দিঘার জগন্নাথ ধাম নিয়ে রাজনীতিতে মেতেছেন, ইসকনকে যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাতে আগের মতো তাঁকে মুসলমান সমাজ ভোট দেবে তো? বিশেষ করে সিপিএম ও কংগ্রেসের মতো ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলো থাকার পরও মমতার সঙ্গে মুসলমানদের লেপটে থাকার নিশ্চয়ই গূঢ় অন্য কারণও আছে।

বিজেপির সঙ্গে মমতার পুরোনো সখ্যের কাহিনি তুলে ধরে বামরা অনেক সময় বিজেপিপন্থী সাংবাদিক বলবীর পুঞ্জকে উদ্ধৃত করে বলে, ‘মমতা হলেন আরএসএসের দুর্গা’মাত্র। প্রয়াত জ্যোতি বসুও বলতেন, মমতাই বাংলায় বিজেপিকে টেনে এনেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সিপিএম এখনো জোরের সঙ্গে বলে মমতার হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুক্তি দরকার। কিন্তু মুসলমান-সমাজ কি এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে?

সংখ্যালঘু সমাজ থেকে এ প্রশ্নের যে ব্যাখ্যা মেলে, তার সারকথা হলো নিরাপত্তার জন্য তাঁরা মমতার সঙ্গে থাকতে চাইছেন; যদিও এই রাজ্যেও মুসলমানরা উন্নয়নবঞ্চনার শিকার নানাভাবে। কিন্তু টুপি পরে নির্বিঘ্নে এখানে চলাফেরা করা যায়। যুদ্ধ-উন্মাদনার মধ্যে যে ভরসা মেলে না উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলোয়।

স্থানীয় মুসলমানদের এই বোধ বাড়তি জোর পাচ্ছে চলতি সময়ে গুজরাট-ওডিশা-মহারাষ্ট্রে বাংলাভাষী মুসলমানদের হেনস্তায়। তবে মুসলমানদের এ রকম এককাট্টার বিরুদ্ধে হিন্দু যৌথতাও বাড়তে দেখা গেল মুর্শিদাবাদসহ আশপাশে। ওদিকের জেলাগুলোয় যদিও হিন্দু ভোট বেশি নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক দাঙ্গায় সেখানে তাঁরা খানিক কোণঠাসা হয়ে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ফেলে ধর্মীয় মেরুকরণে সমবেত হচ্ছেন মানসিকভাবে। বিজেপি এ রকমটায় ভবিষ্যতের ‘শুভবার্তা’ দেখছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেখাদেখির পর বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণার উগ্রতা খানিক কমলেও পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধায় সেটা নতুন ধর্মীয় ঘৃণার চেহারায় ফিরে আসছে। ফলে গত অক্টোবরে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পরপর অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে এসে বিজেপিকে এক কোটি নতুন সদস্য তৈরির যে লক্ষ্য দিলেন, তা সংঘ পরিবার বেশ সহজে পূরণ করতে পারবে বলেই এখন মনে হচ্ছে।

ছয় বছরের ব্যবধানে বঙ্গের গেরুয়া শিবির আবার সদস্য সংগ্রহে নামল। সংগঠন ও ভোট একসঙ্গে ঘুচিয়ে এভাবেই শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের পথে হাঁটছে সংঘ। সামনে শুধু আট-নয় মাসের অপেক্ষা। বলা বাহুল্য, পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে চোখ রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষদেরও। আরএসএসের দিল্লিজয়ের চেয়েও কলকাতাজয় সীমান্তের এদিকে বেশি তাৎপর্যবহ।

* আলতাফ পারভেজ ইতিহাস বিষয়ে গবেষক
(মতামত লেখকের নিজস্ব)

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। গ্রাফিক্স: প্রথম আলো

আফগানিস্তানের দিকে ভারত কেন বাড়াচ্ছে বন্ধুত্বের হাত?

দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও মতাদর্শগত বিরোধ ভুলে তালিবানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেছে ভারত। প্রশ্ন উঠেছে- কেন এখন? উত্তরটা ভূরাজনীতির এক জটিল খেলায়, যেখানে শত্রুর শত্রু হয়ে ওঠে বন্ধু।

২০২১ সালের আগস্টে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এটিই প্রথমবার, যখন নয়াদিল্লি ও কাবুলের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রকাশ্য যোগাযোগ হলো। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সম্প্রতি আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে কথা বলেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানানোর জন্য জয়শঙ্কর তাকে ধন্যবাদ জানান- যে হামলায় ২৬ জন নিহত হয়।

এই ফোনালাপের একদিন পর ভারতের কর্মকর্তারা জানান, তারা আফগানিস্তান নিয়ে সাহসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এবং তালিবান-শাসিত রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে। এর মধ্যে মানবিক সহায়তা থেকে শুরু করে আফগান শরণার্থীদের সাহায্য করাও অন্তর্ভুক্ত।

এখানেই প্রশ্ন ওঠে- যে তালিবান একসময় ভারতের চরম বিরোধী ছিল, তাদের দিকেই এখন বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি কেন?

এর উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ইতিহাসের পাতায়। আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু পুরোনো- ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির স্তরে স্তরে এই সম্পর্কের ছাপ রয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য ‘মহাভারতে’ দেখা যায় গান্ধার রাজ্য, যা বর্তমান আফগানিস্তানের কান্দাহারের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। শকুনি, যিনি ছিলেন মহাভারতের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী, তিনি গান্ধারের রাজপুত্র ছিলেন।

ঐতিহাসিকভাবে, মৌর্য সাম্রাজ্যের সময় থেকে শুরু করে ব্রিটিশ উপনিবেশ যুগ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের ছিল জটিল কিন্তু নিবিড় সম্পর্ক। ১৮ শতকে দুররানি সাম্রাজ্যের সময় দুই অঞ্চলের চূড়ান্ত বিভাজন হয়। পরে ব্রিটিশরা আফগানিস্তানকে রাশিয়ার সঙ্গে ‘গ্রেট গেম’-এর অংশ হিসেবে বাফার স্টেট হিসেবে ব্যবহার করে।

ভারত ১৯৭৩ সালে আফগানিস্তানকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তালিবানের উত্থানের পর ভারতের অবস্থান পুরোপুরি বদলে যায়। কারণ, তালিবানকে পাকিস্তানের ছত্রছায়ায় গড়া একটি চরমপন্থি গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করত নয়াদিল্লি।

১৯৯৯ সালের কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের অন্যতম নিম্নতম স্তর। কাঠমান্ডু থেকে ছিনতাই হওয়া বিমানটি তালিবানের নিয়ন্ত্রিত কান্দাহারে নামানো হয় এবং ভারতকে অপহরণকারীদের দাবি মেনে জঙ্গি মুক্তি দিতে বাধ্য করা হয়।

২০২১ সালে তালিবান আবারও কাবুলের ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত প্রথমে সতর্ক অবস্থান নেয়। কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত রেখে তারা আফগানিস্তানে সীমিত মানবিক সহায়তা প্রদান করে। তবে সেই ‘ধীরে চলো’ নীতির ছায়া এখন কেটে যাচ্ছে।

২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি দুবাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর জয়শঙ্করের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়- ভারত এখন আর পেছনের দরজায় নয়, প্রকাশ্যে তালিবানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে হাঁটছে।

এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক কারণ হলো পাকিস্তান ও তালিবান সরকারের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা। একসময় তালিবানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু এখন তালিবান-শাসিত আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা, শরণার্থী ইস্যু, ও টিটিপি-র হামলা নিয়ে দ্বন্দ্ব তুঙ্গে।

পাকিস্তান অভিযোগ করছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যরা আফগান ভূমি ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এমনই এক হামলার জেরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়।

এই প্রেক্ষাপটে তালিবান-ভারত সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিচ্ছে। কূটনীতিতে একটা পুরোনো প্রবাদ আছে- কোনো দেশের স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই, আছে শুধু স্থায়ী স্বার্থ।

তালিবানের সঙ্গে পাকিস্তানের টানাপোড়েনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৌশলগতভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ভারত। তালিবানও পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্বের কারণে ভারতের মতো বিকল্প শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।

তালিবানের ইতিহাস বলছে, তারা দীর্ঘমেয়াদে কারও সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে পারে না। একসময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্র ছিল, পরে সেই যুক্তরাষ্ট্রই তাদের সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হয়। এখন পাকিস্তানের সঙ্গেও সেই একই পথেই হাঁটছে তারা।

তালিবান সরকারের অস্থির ভবিষ্যৎ ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তা জটিলতা সত্ত্বেও ভারত কৌশলগত দিক থেকে এখন তালিবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাকেই ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে। এই ঘনিষ্ঠতা শুধু কাবুল নয়, ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের দিকেও একটি বার্তা- দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে নয়াদিল্লিও এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।

আফগানিস্তানের দিকে ভারতের বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, বর্তমান কূটনৈতিক সুযোগ এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত স্বার্থ। তালিবান যদিও বিশ্ব রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার প্রতীক, তবুও ভূরাজনৈতিক দাবা খেলায় কখনো কখনো আশ্চর্য চালও দিতে হয়- এটি তেমনই এক পদক্ষেপ।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

যে তালিবান গোষ্ঠী একসময় ভারতের চরম বিরোধী ছিল, তাদের দিকেই এখন বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি কেন? ছবি : সংগৃহীত
যে তালিবান গোষ্ঠী একসময় ভারতের চরম বিরোধী ছিল, তাদের দিকেই এখন বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লি কেন? ছবি : সংগৃহীত


গাজা দখলে ইসরাইলের ভয়াবহ অভিযান

গাজার বিভিন্ন অঞ্চল দখল ও নিয়ন্ত্রণ করতে বড় আকারে অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসকে পরাজিত করে বাকি জিম্মিদের উদ্ধার করতে এমন অভিযান চালানো হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) হিব্রু ভাষায় এক্সে লিখেছে, গাজা উপত্যকার কৌশলগত এলাকাগুলো দখল করতে ‘অপারেশন গিডিওনস চ্যারিয়টস’ চালাতে সেনাদের সচল করা হয়েছে। হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স দাবি করেছে বৃহস্পতিবার থেকে ইসরাইলিরা কমপক্ষে আড়াইশ’ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই মাস আগে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে গাজায় নতুন করে হামলা চালায় ইসরাইল। মার্চে সেখানে সব ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় জাতিসংঘ বারবার বলছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ অবস্থা চলছে। শিশুরা না খেয়ে মরতে বসেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, গাজায় অসংখ্য মানুষ অনাহারে। কিন্তু তিনি অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানাননি অথবা ইসরাইলকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানাননি। উল্টো ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি গাজাকে দখল করে নিয়ে সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরি বানানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইসরাইল বলেছে, হামাস যতক্ষণ আর কোনো হুমকি হবে না এবং ইসরাইলের সব জিম্মি দেশে ফিরে না আসবে ততক্ষণ বন্ধ হবে না ‘অপারেশন গিডিওনস চ্যারিয়টস’। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রিপোর্টে জানানো হয় ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকা জুড়ে কমপক্ষে ১৫০টি স্থানকে টার্গেট করেছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করা এবং অবরোধ তুলে নেয়ার ক্রমবর্ধমান আহ্বান থাকা সত্ত্বেও বোমা হামলা ও সীমান্তের দিকে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি তীব্র থেকে তীব্রতর করেছে ইসরাইল। টাইমস অব ইসরাইল বলেছে, অপারেশন গিডিওনস চ্যারিয়টস নামকরণ করা হয়েছে বাইবেলে উল্লিখিত একজন যোদ্ধার নাম থেকে। এই অভিযানে আইডিএফ গাজার ভূখণ্ড দখলে নিয়ে তার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। এর ফলে সেখানকার বেসামরিক লোকজনকে তাড়িয়ে দেয়া হবে দক্ষিণে। হামলা চালানো হবে হামাসের ওপর। ত্রাণ সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণ নিতে দেবে না হামাসকে। সামনের দিনগুলোতে এই অপারেশন আরও তীব্র হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ে ইসরাইলের হাজার হাজার সেনা ও রিজাভিস্ট গাজায় প্রবেশ করবে। এরই মধ্যে গাজার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বহু অংশের অধিবাসীকে তাদের বাড়িঘর অথবা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যেতে বলেছে। ত্রাণবিষয়ক কর্মীরা বলছেন, ইসরাইলের এই নির্দেশ একেবারেই অসম্ভব। কারণ, যুদ্ধের কারণে বার বার বহু মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। তারা এখনও আশাবাদী যে, কাতারে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি হবে। এ মাসের শুরুর দিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজার ভূখণ্ড দখল ও তা ধরে রাখার জন্য সেখানে প্রবেশের জন্য জোরালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা শুরু করবে না তার দেশ। এ অবস্থায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করেছেন। বলেছেন, ইসরাইল সম্প্রতি যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে তাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এই ভয়াবহ বোমা হামলা, জনগণকে ভয়াবহ হামলার ভয় দেখিয়ে বাস্তচ্যুত করতে জোর প্রয়োগ, পুরো অঞ্চলকে ধ্বংস করে দেয়া, মানবিক সহায়তা পাঠানো প্রত্যাখ্যান করা এটাই জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলে যে, গাজায় জনসংখ্যাতত্ত্ব স্থায়ীভাবে পাল্টে যেতে পারে। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং জাতিনিধন হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। এ পরিস্থিতিকে হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালের সার্জন ভিক্টোরিয়া রোজ বলেছেন, আমার টিম নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।  সেখানে বাচ্চারা একেবারে পাতলা হয়ে গেছে। অসংখ্য শিশুকে পাচ্ছি তাদের দাঁত পড়ে গেছে। তাদের অনেকে মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। বহু শিশু আছে অপুষ্টিতে ভুগছে। এতে তারা সহজেই সংক্রমিত হচ্ছে। সোমবার জাতিসংঘ সমর্থিত এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গাজার জনগণ দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছে। এ সব অভিযোগ বার বার প্রত্যাখ্যান করছে ইসরাইলি সরকার। 

mzamin


সিন্ধুর পানি চুক্তি: দ্বন্দ্ব, বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সিন্ধু পানি চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রতিবেশী পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে পানি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের মধ্যেও একটি স্থিতিশীল মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলায় সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর পর ভারত এ চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ খবর দিয়ে অনলাইন জিও নিউজ বলছে, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি  সিন্ধু নদের অববাহিকায় পানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। এটি ছয়টি নদীর পানি বণ্টন নির্ধারণ করে দেয়।

ভারতের জন্য নির্ধারিত তিনটি পূর্বাঞ্চলের নদী- সুতলজ, বিয়াস এবং রাভি এবং পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত তিনটি পশ্চিমাঞ্চলের নদী- সিন্ধু, ঝেলম ও চেনাব। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি ব্যবহার করতে পারে এবং পাকিস্তান পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর প্রধান অধিকারভুক্ত ব্যবহারকারী। চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের হস্তক্ষেপ।

সম্প্রতি ভারতের দিক থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে এবং সিন্ধু অববাহিকায় পাকিস্তানে প্রবাহিত পানি স্থগিত রাখা হবে, যতক্ষণ না পাকিস্তান ‘বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদ থেকে সরে আসে।’ ভারতের এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তি আপাতত স্থগিত থাকবে এবং পাকিস্তানের প্রতি কোনও পূর্ব নির্ধারিত পানি প্রবাহ বা তথ্য প্রদান করা হবে না। এর আওতায় ভারতের পক্ষে সেচ প্রকল্প বা বাঁধের তথ্যও পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। পাকিস্তান একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

লাহোরে অবস্থিত জাতীয় কৃষক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন বাত্ বলেন, এটি প্রকৃত অর্থে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের পানি সংকট আগে থেকেই রয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্ত আমাদের কৃষির ভিত্তিকে ধ্বংস করতে পারে। পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ঘাশারিব শাওকত বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি আমাদের কৃষির মেরুদণ্ড। যদি পানির প্রবাহে অনিয়ম হয়, তাহলে গম, ধান, আখের মতো সেচ-নির্ভর ফসলের উৎপাদনে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। খাদ্যের দাম বাড়বে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সিন্ধু অববাহিকায় ভারতের তৈরি কিশানগঙ্গা ও রাটল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তান বহু বছর ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে যে ভারত এগুলোর মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পানি নিজের দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। যদিও ভারত এ অভিযোগ অস্বীকার করে এবং দাবি করে এসব প্রকল্প চুক্তির আওতায় বৈধ। ভারত বলছে, পাকিস্তান বারবার বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করছে এবং এই কারণেই চুক্তির কাঠামোতে পরিবর্তন আনার দরকার রয়েছে। ভারতের সীমিত জলাধার ক্ষমতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পানির প্রবাহ বন্ধ না হলেও, ইতিমধ্যে পাকিস্তানের একটি প্রধান জলপ্রবাহ স্থানে পানির প্রবাহ মে মাসের শুরুতে হঠাৎ ৯০ ভাগ কমে গিয়েছিল।  সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে পাকিস্তানের কৃষিতে। কৃষিজ উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র কৃষকদের দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দেওয়া- এসবই বাস্তব আশঙ্কা।

mzamin

গাজাবাসীর আর্তি: আমার ছেলেমেয়ে অনাহারে ঘুমায়

গাজায় অবরোধের দশ সপ্তাহ পর এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। খাবার ও ওষুধের সঙ্কটের পাশাপাশি শিশুদের অনাহারে ঘুমাতে হচ্ছে। এমনই করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন গাজাবাসী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ছয় বছরের ইসমাইল আবু ওদেহ একটি বাটি নিয়ে ফিরছিল। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে পড়ে তা হাতছাড়া হয়ে যায়। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এক মুরব্বি কিছুটা খাবার ভাগ করে তাকে খাওয়ান। পরদিন আর কোনো খাবার বা পানি পৌঁছায়নি তার ক্যাম্পে- একটি স্কুল ভবনে গড়া শরণার্থী শিবিরে থাকে সে। সেদিনও ইসমাইলকে কাটাতে হয়েছে অনাহারে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, গাজা এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে।

অন্যদিকে ইসরাইলি সরকার দাবি করছে- গাজায় খাদ্যের অভাব নেই, বরং হামাস ত্রাণ লুট করছে এবং বিক্রি করছে। তবে গাজায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ বলছেন ভিন্ন কথা। বিবিসির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনে যোগাযোগে তারা জানান, দিনে একটি খাবার জোটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। বহু রান্নাঘর বন্ধ হয়ে গেছে। বাজারে যা আছে, তার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, আমার রান্নাঘর ১০ দিন আগে বন্ধ হয়ে গেছে। এই অসহায়ত্ব ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। গাজার মধ্যাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত আদহাম আল-বাৎরাউই জানান, তিনি পাস্তা সিদ্ধ করে তা মাখিয়ে রুটি সদৃশ কিছু তৈরি করেন। তিনি বলেন, আমরা এমনভাবে খাওয়ার কৌশল আবিষ্কার করছি, যা আগে কল্পনাও করিনি। দেইর আল-বালাহ শহরে ২৩ বছর বয়সী নার্স রাওয়া মোহসেন জানান, তার তিন ও দেড় বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে বেঁচে থাকাই এখন চ্যালেঞ্জ। তার ভাষায়- আমার মেয়েরা এখন বোমার শব্দে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে আমি ওদের চেয়ে বেশি ভয় পাই। শুক্রবার এক বোমা হামলায় তাদের ভবনের দরজা-জানালা উড়ে যায়। আল্লাহর শোকর, আমি আর আমার মেয়েরা বেঁচে আছি। কিন্তু এখন যাব কোথায়? ইসরাইলি হামলায় ইউরোপিয়ান হাসপাতাল আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় নার্স রান্ডা সাঈদ বলেন, এটা ছিল এক নিখাদ আতঙ্কের মুহূর্ত। হাসপাতালটি এখন আর চালু নেই। রোগীদের স্থানান্তর করা হয়েছে নাসের হাসপাতালে, যেখানে ওষুধ, ব্যান্ডেজ এমনকি ব্যথানাশক পর্যন্ত কমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে ইসরাইলি বাহিনী নিরাপত্তা দেবে। জাতিসংঘ এ পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছে- ত্রাণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গাজা শহরে ইসমাইলের পিতা বলেন, আমার ছেলেমেয়েরা না খেয়ে ঘুমায়। আমি সন্তানদের জন্য কিছু করতে না পেরে একা বসে কাঁদি। নিজেকে একটা ছোট বাচ্চার মতো মনে হয়।
mzamin