Monday, October 8, 2018

বাম হাত বেঁকে গেছে, বাম কাঁধ নাড়াতে পারছেন না খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাম হাত বেঁকে গেছে এবং তিনি বাম কাঁধ নাড়াতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ড. এম এ জলিল। খালেদা রিউমাটো আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে এ সমস্যায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
ড. জলিল সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ত্রিশ বছর ধরে রিউমাটো আর্থাইটিস নামক রোগে আক্রান্ত তিনি। এই রোগটি নিয়ন্ত্রন না রাখার কারণে তার শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বাম হাত বেঁকে যাওয়া, বাম কাঁধ নাড়াতে না পারা, হাত ঝিম ঝিম করাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে।
এছাড়া তার ঘাড়ে ও কোমরে ব্যথা আছে। তার বাম হিপজয়েন্টে আর্থাইটিস আছে। তার দুই হাঁটুর রিপ্লেসের স্থানে কিছুদিন আগে ফুলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ওষুধ দিয়ে তা ঠিক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া গত বিশ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
তার ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের জন্য ইনসুলিন দেয়া হলেও তিনি তা নেননি। তার ডায়াবেটিসের বর্তমান কী অবস্থা সেটি আমাদের পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখতে হবে। ইতোমধ্যে তার সুগার কমে হাইপো-ডায়াবেটিস হয়ে গিয়েছিল। তবে তিনি ব্লাডপ্রেসারের ওষুধ খাচ্ছেন। কিছুদিন আগে তার জ্বর হয়েছিল। সেটা এখন নাই। তার শরীরের সোডিয়াম কমে গিয়েছিল। ওষুধ দিয়ে সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-তে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। এসময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চারজন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। খালেদার জিয়ার অসুখের ব্যাপারে ব্যাখ্যা করে ড. জলিল বলেন, ‘এটি এক ধরণের বাত, গিঁটে গিঁটে ব্যথা। এর চিকিৎসা না হলে ঘাড়ে-মাজায়-কোমরে ব্যথা হয়।
এর চিকিৎসা একটি চলমান প্রক্রিয়া। খালেদা জিয়াকে ফিজিও থেরাপি দেয়া হচ্ছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার ফিজিওথেরাপি শুরু করে দেবো।’
উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশে ৬ অক্টোবর বিকালে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউ-এ ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি বিএসএমএমইউ-এর ৬১২ নম্বর কেবিনে ভর্তি আছেন।

আতঙ্কে আওয়া জাতিগোষ্ঠী

ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ জঙ্গলের নাম শুনলেই গা চমকে ওঠে। তারই  মাঝে বসবাস করে এক যাযাবর জাতি। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই বললেই চলে। বর্তমানে তাদের মাত্র ৮০ জন টিকে আছেন। বসবাস সেই অ্যামাজনের মারানহো ফরেস্টে। এরা আওয়া নামে পরিচিত। এদের মাত্র ৮০ জন টিকে থাকায় এই জাতিটি বিপন্ন হওয়ার পথে।
এখনও তারা তীর-ধনুক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে জঙ্গলে। শিকার ধরে। তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। এমনিভাবে তারা এই জঙ্গলে শতাব্দীর পর শতাব্দী বসবাস করে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তীর-ধনুক দিয়ে তারা শিকার ধরে আরমাডোলোস নামে একটি প্রাণি। এটি দেখতে অনেকটা খরগোশের মতো। ঘন জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে মধু। বাবাসু নামের এক রকম বাদাম। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিন তাদের ওপর অক্টোবর সংখ্যা প্রকাশ করেছে।
তার ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন দ্য সান। এতে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একজন আওয়া শিকারি পিঠে করে তার শিকার একটি ছোট্ট হরিণ নিয়ে যাচ্ছে। আর তার হাতে তীর আর ধনুক। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, রেইনফরেস্টের পরিষ্কার পানির এক প্রবাহে শিশুদের নিয়ে গোসল করছেন একদল নারী। জঙ্গলে যেমন বাইরে মানুষ এসে হানা দেয়। বন কেটে সাবাড় করে। মাদক পাচার করে বনের ভিতর দিয়ে। ঠিক একই ভাবে তারা মাঝে মাঝেই হানা দেয় আওয়াদের বাড়িঘরে। এই জাতিটি বেঁচে আছে শুধু বন আর সেখানকার পানির উৎসের ওপর নির্ভর করে। তবে বাইরে থেকে এখন বিপদজনক সব লোক গিয়ে তাদেরকে হুমকি দেয়। ওই আবাসন ছেড়ে চলে যেতে বলে। তারা যেখানে বসবাস করে তা সংরক্ষিত। তাদেরকে আইন দিয়ে নিরাপত্তা দেয়া হয়। কিন্তু তাদের ওপর হামলাকারী বা দুর্বৃত্তদের থামানোর কোনো ব্যবস্থা নেই।
এরই মধ্যে মারানহো জঙ্গলের মূল চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। শতকরা ৭৫ ভাগ বন সাফ হয়ে গেছে। সংরক্ষিত আরারিবোইয়া ইনডিজিনিয়াস ল্যান্ডের মূল্যবান সব গাছ হারিয়ে গেছে। সেখানে কাঠ সংগ্রহ বা গাছ কাটা বেআইনি হলেও অপরাধীরা প্রকাশ্যে এ কাজটিই করছে। বিশাল বিশাল গাছের গুঁড়ি বোঝাই ট্রাক পিছন দিকের রাস্তা দিয়ে সপাটে চলে যায়। সেখানে কোনো পুলিশ প্রহরা নেই। ব্যাস এভাবেই গোপন স’মিলে চলে যায় এসব কাঠ।

পুনরায় নির্বাচিত হলে প্রত্যেক বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার আগামী ভোটে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রত্যেক বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার উপজেলা পর্যায়ে বহুতল আবাসন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের সুবিধার জন্য এবং তাদের শহরমুখিতা প্রতিরোধেই এটা করা হচ্ছে। এসব ফ্ল্যাটে তারা (চিকিৎসকরা) ভাড়া থাকার সুযোগ পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ‘চিকিৎসক সম্মেলন-২০১৮’তে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবাটা নিশ্চিত করা সরকার হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্বও কর্তব্য বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, সেজন্য বিশেষায়িত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, নার্সিং থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে আমাদের প্রশিক্ষণ প্রদান একান্তভাবে প্রয়োজন। তার জন্য আমরা যেমন ইনস্টিটিউশনগুলোও করে দিয়েছি তেমনিভাবে চিকিৎসার সুযোগটাও আরো ব্যাপকভাবে সৃষ্টি করতে চাই। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যেমন প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে তেমনি বিদেশি প্রশিক্ষক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপরও আমরা জোর দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে চিকিৎসক ভাই বোনদের কাছে- মানুষের সেবা করাটা কিন্তু সর্বপ্রথম কর্তব্য।
কিন্তু এ প্রসঙ্গে একটা দুঃখের কথা আমি বলতে চাই। সেটা হলো, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে উন্নতমানের করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি, যেখানে আমাদের ৫০ বেডের একটি হাসপাতালে কমপক্ষে ১০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, সেখানে কোথাও একজন কোথাও কোথাও খুব বেশি হলে ৪ জন ডাক্তার রয়েছেন। সেখানে কিন্তু ডাক্তার থাকেন না। মানুষ তাহলে সেবা পাবে কিভাবে। এটা আমার পশ্ন। তিনি বলেন, পদ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি। কিন্তু এখানে আমরা ডাক্তার পাইনা, নিয়োগও আমরা দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু কেন এই অবহেলা, মানুষের প্রতি। এটা নিশ্চয়ই জনগণ প্রত্যাশা করে না।
সেটা আমি আপনাদের ভেবে দেখার অনুরোধ করবো। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালিক এবং কনফেডারেশন অব মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়া অ্যান্ড ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি ডা. রবীন্দ্রান আর নাইডু অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এবং বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করে চিকিৎসক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পরে তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা ওড়ান। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে স্মরণীকারও মোড়ক উন্মোচন করেন।

দাবি আদায়ে এবারও সফল হবো -মানববন্ধনে ড. কামাল

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলনে প্রত্যেকবার  সফল হয়েছি। এবারো ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হব। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভোটের অধিকারের দাবিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার এক মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, আজকের এই মানববন্ধনে আপনাদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে জনগণ হারে হারে টের পাচ্ছে বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের কত প্রয়োজন। এই নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে। কারণ জনগণের মূল্যবান কোনো দাবি আদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হয়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হয়।
প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, আমরা কতগুলো ব্যাপারে পরীক্ষা করে দেখেছি।
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬ দফা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সব জায়গাতে আমরা সফল হয়েছি। যেটাকে অসম্ভব মনে করা হতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেটাকে সম্ভব করা হয়েছে। অতীতে প্রত্যেকবার আমরা আন্দোলনে সফল হয়েছি। এবারো ইনশাআল্লাহ সফল হব। সফল হয়ে আমরা দেশে সরকার গঠন করবো এবং তা হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণের মালিকানা এ দেশে প্রতিষ্ঠা হোক। এটা অসম্ভব কিছু না। আমাদের সংবিধানে লেখা আছে বাংলাদেশের মালিক জনগণ। সেই মালিকের ভূমিকা আপনাদের রাখতে হবে। মালিক হয়ে অসহায় বোধ করলে চলবে না। মালিকানা ভোগ করতে হলে মালিকের ভূমিকা রাখতে হবে। আর এই ভূমিকা রাখার জন্যই আজ আমাদের এই আন্দোলন। এই আন্দোলনে সফল হওয়ার জন্য নারী পুরুষ সবাই মিলে ঐক্য তৈরি করতে হবে। জনগণের ক্ষমতা যদি জনগণের হাতে না থাকে তাহলে পাইকারি হারে লুট হয়। আজকে দেশে সেই কাজটাই হচ্ছে। দেশে লুটপাট হচ্ছে।
এই লুটপাটের টাকা যাচ্ছে বিদেশে। এটা জনগণ ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। তাই আমরা যেখানে যাই, সাড়া পাই। আজকে আপনাদের উপস্থিতি আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তন আনবে। সেই পরবির্তনের কারণে আমরা সামনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখছি। কারণ বৈধভাবে সরকারে আসতে হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আমরা জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই আন্দোলন অব্যশই সফল হবে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭ দফা দাবির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের দাবিগুলো জানিয়েছি। রাজবন্দিদের মুক্ত করতে হবে। নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। নতুন কোনো মামলা করা যাবে না। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। হয়েছে উল্টোটা। কাউকে মুক্ত তো করা হয়নি বরং হাজার হাজার নতুন গায়েবি মামলা করা হয়েছে। এই কারণে আজকে আমাদের আন্দোলনকে আরো তীব্র করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রমাণ করতে হবে এই দেশটা আমাদের সবার। এই দেশ কোনো ব্যক্তি, দল বা কোনো পরিবারের নয়। আমরা যদি সবাই মিলে দাবি রাখি অতীতে যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সফল হয়েছি এবারো সফল হব।
তাহলে জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরে আসবে। তিনি বলেন, আমাদের যে সম্ভাবনা আছে সেটা কাজে লাগিয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করতে হবে। জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে আমরা তা প্রতিষ্ঠা করবো। কোনো স্বৈরাচার আমাদেরকে বঞ্চিত করতে পারবে না। আসুন, ঐক্যের শক্তি নিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি। জাতীয় ঐক্যের সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন বলেন, আমার দেশের সোনালী ব্যাংক, শেয়ার বাজারসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদদের চেতনা বাস্তবে রূপ দেই। এই সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করি।
ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, বর্তমানে দেশ চলছে একটি বিনা ভোটের সরকারের মাধ্যমে। ‘আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব’ এই নীতির মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় আসে তখন। কিন্তু এখন মানুষের সেই অধিকারটুকু তারা কেড়ে নিয়েছে। ১৫১ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। জনগণকে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়নি। সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে বাংলার মানুষ আপনাদেরকে চায় না।
মানববন্ধনে প্রায় হাজার খানেক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। বিকাল ৪টার আগে থেকেই ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন। বিকাল ৪টার পরে জাতীয় ঐক্যের সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে মানববন্ধন শুরু হয়। ৫টার পর ড. কামাল হোসেন মানববন্ধনে যোগ দেন। এরপর মোস্তাফা আমিন ড. কামাল হোসেনের ওপর মানববন্ধনে সভাপতিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
মনববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ন ম ফাহিম উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, ভাষানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি সিদ্দিকুর ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, লেবার পার্টি (একাংশ) এর সাধারণ সম্পাদক হামদুল্লাহ আল মেহেদী, গণতান্ত্রিক দল সভাপতি সামছুল আলম চৌধুরী, গণদল সভাপতি এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী প্রমুখ।

কথিত অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে কি করবে ভারত! by জি সীতারামন

আসামে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে বিতর্ক কিছুতেই দমছে না। নাগরিকপঞ্জি নির্ধারণের উদ্দেশ্যই হলো অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা। বলা হয়, এর বেশির ভাগই বাংলাদেশী। কিন্তু বহু সংখ্যক অভিবাসী আছেন, যারা নেপালি। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সম্প্রতি ভারতে অবস্থানরত কথিত বাংলাদেশীদেরকে উইপোকা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিজন অবৈধ অভিবাসীকে ভারত থেকে বের করে দেয়া হবে। এনআরসিতে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ। তার মধ্য থেকে ৪০ লাখের আবেদনপত্র খসড়া চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে হৃদয়ে প্রদাহের সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে এ নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। যারা এনআরসিতে ঠাঁই পান নি তারা নাগরিকত্ব দাবি করে আপত্তি উত্থাপন করার সুযোগ পাবেন। এ প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যাদের আপিল বাতিল হয়ে যাচ্ছে বা যাবে তাদের কি হবে? তাদেরকে কি ভারত থেকে বের করে দেয়া হবে?
এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে নি কেন্দ্রীয় সরকার। ওদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যাবর্তন চুক্তিও নেই। এমন চুক্তি নেপালের সঙ্গেও নেই ভারতে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে যারা বিবেচিত হবেন তাদের লড়াইটা হবে দীর্ঘ। এরই প্রেক্ষিতে ইকোনমিক টাইমস ম্যাগাজিন ওইসব ভারতের ওইসব কথিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছে। দেখার চেষ্টা করেছে বিশ্বের সঙ্গে ভারতের অবস্থানটা কি। শরণার্থীদের বিষয়ে ভারতের অবস্থান কি?
১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কনভেন অথবা ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় ভারত। এ দুটি কনভেনশন বা প্রটোকলে শরণার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বলেছে, শরণার্থীদের সুরক্ষা বিষয়ক কোনো জাতীয় ফ্রেমওয়ার্ক নেই ভারতের। তা সত্ত্বেও তারা প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া অব্যাহত রেখেছে। তারা আফগানিস্তান ও মিয়ানমার সহ অন্য দেশগুলোর জন্যও ইউএনএইচসিআরের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে।
শরণার্থীদের কিভাবে দেখা হবে সে বিষযে বেশ কিছু আইন আছে। এর মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন অব ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৩৯, ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৪৬ ও পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৭। কেন্দ্রীয় সরকার সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট ১৯৫৫ সংশোধনের চেষ্টা করছে। এই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কথিত অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। তবে সবাইকে নয়। যারা এ দেশগুলোর হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন ও পারসি সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু শুধু তাদেরকেই এমন সুবিধা দেয়া হবে। প্রস্তাবিত আইনটিতে মুসলিমদের মধ্যকার নির্যাতিতদের ধরা হয় নি।
বৌদ্ধ উপজাতি চাকমা এবং হিন্দু উপজাতি হাজংরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে অভিবাসী হয়েছেন ১৯৬৪-৬৯ সালের মধ্যে। তাদের মধ্য থেকে ১৪৮৮৮ জন বসতি গড়েছেন বর্তমানের অরুণাচল প্রদেশে। তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন তারা। কিন্তু বৈধ শরণার্থীদের নাগরিকত্বক দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০১২ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, অরুণাচল প্রদেশে ৫৪৫০০ চাকমা ও হাজং রয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ৬০০০ রয়েছেন অরুণাচলের। রাজ্য সরকার বলছে, চাকমা ও হাজংয়ের সংখ্যা ৬৫৮৫০। এরা ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে জন্মেছেন শরণার্থীদের ঔরসে। তারা ভারতীয় নাগরিক।
(অনলাইন দ্য ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

দেশে নিয়ন্ত্রিত বিচারব্যবস্থা চলছে: সুপ্রিম কোর্ট বারের আলোচনা

‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, ‘রাষ্ট্র  এখন পুলিশ নিয়ন্ত্রিত।’ তারা আরো বলেছেন, ‘বর্তমান নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ভিন্নমতের কারও ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ গতকাল বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এতে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এই সরকার দুটি ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথমত-প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষাব্যবস্থা, বিচার বিভাগ সর্বত্র দলীয় আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। আর রাষ্ট্র এবং সরকারকে এক করে ফেলেছে। দল ও সরকারও এখন এক হয়ে গেছে। এই দুটির মধ্যে কোনো তফাৎ আর থাকেনি। তিনি বলেন, ‘এই দুটি পদক্ষেপে দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
মানুষ তার অধিকার হারিয়েছে। এমন একটি পরিবারও খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা গত দশ বছরে সরকারের দ্বারা নিপীড়ন ও উৎপীড়নের শিকার হয়নি। অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, এমন কোনো বিভাগ নেই যেখানে আনুগত্যের প্রভাব নেই। আনুগত্যের বাইরে গত দশ বছরে কোনো নিয়োগ হয়নি।
গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, দেশে এখন ন্যায়বিচারের কোনো পরিবেশ নেই। তিনি বলেন, বিচারকরাই যেখানে আতঙ্কিত, সেখানে খালেদা-তারেক বা বিরোধী দলের কারো ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা নেই। জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বিতাড়ন জাতিকে একটি সংকটে ফেলেছে। তিনি বলেন, যে দেশে প্রধান বিচারপতি বিচার পান না, সে দেশে খালেদা-তারেক বা আমরা কেউ বিচার পাবো না। আ স ম আব্দুর রব আরো বলেন, তিনটি স্তম্ভের একটি হলো প্রশাসন, যেটি এখন পুলিশ নিয়ন্ত্রিত এবং এই রাষ্ট্রটিও পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাকি দুটি স্তম্ভ আইন ও বিচার বিভাগ এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।
আইনজীবীদের অনৈক্যের কারণে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বের করে দেয়া সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি চার বিচারপতিকে ডেকে নিয়ে গেলেন। তারা এসে বললেন যে তোমার সঙ্গে (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) আমরা বিচারে বসবো না। অভিযোগের মামলা দায়েরের আগেই অভিযোগের বিচার হয়ে গেল।’ আলোচনায় অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আজ জেলে যেতে হতো না। তারেক রহমানের ওপর এধরনের নির্যাতন হতো না। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের জন্য আমাদের লড়াই করতে হবে।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে দেশে নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থা চলছে। ১৬ কোটি মানুষ আজ অবরুদ্ধ। দেশের মানুষ আজ কারাগারে। তিনি বলেন, এই সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু এখন এই সরকার একটি অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার।’ সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

শেষ বেলায় ‘সংরক্ষিত কোটায়’ প্লট বরাদ্দের হিড়িক by দীন ইসলাম

সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বেলায় ‘সংরক্ষিত কোটায়’ প্লট বরাদ্দের হিড়িক লেগেছে। গত কয়েক মাসে রাজউকের পূর্বাচল, উত্তরা তৃতীয় পর্যায় ও ঝিলমিল প্রকল্পে বিভিন্ন আয়তনের প্রায় দুই শতাধিক প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিছু অখ্যাত বা পরিচিত নন এমন ব্যক্তিকেও সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব প্লটের আয়তন নিয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রীতিমতো হতবাক। প্লট বরাদ্দ দিয়ে বলে দেয়া হয়, প্রাথমিক বরাদ্দপত্রসহ সব কাগজ আমাদের হাতে দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদে সংরক্ষিত কোটার জন্য নির্ধারিত প্লটগুলো বরাদ্দ দিয়ে গেছেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান। সে হিসাবে বরাদ্দ আর অবশিষ্ট নেই। এনিয়ে রাজউক থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালিও হয়।
ওই সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সংরক্ষিত কোটার প্লট বরাদ্দ দিতে চাপ দিলেই রাজউক থেকে বলা হতো এ কোটায় কোনো প্লট বরাদ্দ অবশিষ্ট নেই। এ নিয়ে সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ও রাজউক চেয়ারম্যানের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ ছিল। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দশম সংসদের ৯৯ জন এমপিকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৯৫ জনকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ও চার জনকে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এসব এমপিদের মধ্যে ৯৩ জনকে তিন কাঠা এবং ৬ জনকে ১০ ও ৫ কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ঠা এপ্রিল গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে দুইজন প্রতিমন্ত্রী ও ৯৭ জন সংসদ সদস্যকে সরকারের সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দ দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এ নির্দেশনায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৯৫টি ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে চারটি প্লট বরাদ্দ দিতে বলা হয়। এর ভিত্তিতে বিষয়টি রাজউকের বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হলে তাদের বিভিন্ন আয়তনের প্লট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্লটপ্রাপ্তদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জনের মধ্যে ৩৫ জন এমপি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। এ ছাড়া সরাসরি নির্বাচিত তিন জন এমপি প্লট বরাদ্দ পান। ওই সময় ১০ কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ পান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। এ ছাড়া ঝিলমিলে পাঁচ কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ পান সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল ও হেপী বড়াল, যশোর-২ আসনের এমপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং বরিশাল-৪ আসনের এমপি পংকজ নাথ। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় প্লট বরাদ্দপ্রাপ্ত এমপিরা কিস্তি পরিশোধ শেষে ধাপে ধাপে প্লটের লিজ দলিল করছেন। এদিকে দ্বিতীয় দফায় গত ৩০শে এপ্রিল তিন সচিবসহ ৩৭ ভিআইপি ব্যক্তিকে সংরক্ষিত কোটায় ৩০টি প্লট বরাদ্দ দিতে রাজউকে অনুশাসন পাঠায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
এর ভিত্তিতে ৩৭ জন আবেদনকারীর অনুকূলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর বরাদ্দ বিধি ১৩ এ বিধি মোতাবেক প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এ দফায় দুই এমপি, তিন সচিব এবং সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ছাড়া গত ৩০শে মে ১৮ জন এমপিকে প্লট বরাদ্দ দেয়ার অনুশাসন দিয়ে রাজউকে চিঠি পাঠায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ১৫ই জুলাই আরো ১২ এমপিকে প্লট বরাদ্দ দেয়ার অনুশাসন দেয়া হয়েছে। এ দুই দফায় ৩০ জন এমপিকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় শতাধিক এমপিকে প্লট বরাদ্দ দেয়ার অনুশাসন দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষে এসব এমপিরা প্লট বরাদ্দ পেয়ে কিস্তি পরিশোধ করেছেন। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ই সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২৪টি প্লট বরাদ্দের অনুশাসন দিয়ে রাজউকে চিঠি পাঠিয়েছে। এ তালিকায় দুই সচিবকে প্লট বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ ও মীর সাব্বির এবং চিত্রনায়িকা অঞ্জনা সুলতানাকে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সংরক্ষিত কোটা’য় প্লট বরাদ্দ দিতে গেলে নিয়ম মানা উচিত। কারণ প্রতি কোটার বিপরীতে প্লট রাখা আছে। তাই কোটার চেয়ে বেশি প্লট বরাদ্দ দিলে আগামীতে খারাপ দৃষ্টান্ত হতে পারে।

আমেরিকার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা

পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার জন্য সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিশ্বের অন্য দেশকেও এই নিষেধাজ্ঞায় শামিল করার চেষ্টা করছে আমেরিকা। কিন্তু ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমেরিকা কতটুকু সফল হয়েছে সেটাই এখন প্রশ্ন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় দুই দফায় ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে জানায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধ প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবে সই করেন। এরপর আগামী নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফায় ইরানের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। কিন্তু ইরানের ওপর ট্রাম্পের এসব নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দখলদার ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশ ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেনি।
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লু মেয়ার গত শুক্রবার শ্লোভাকিয়ায় এক বৈঠকে বলেছেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারব কিনা সে সিদ্ধান্ত আর আমেরিকাকে নিতে দেয়া হবে না।" তিনি বলেন, " ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ফলে ইউরোপের সামনে আমেরিকার কাছ থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।"
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লু মেয়ার
অস্ট্রিয়ায় ইউরোপীয় নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ওয়ার্নার ফাসলাব্যান্ড গতকাল (শনিবার) তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক পরিষদের প্রধান কামাল খাররাজির সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপের অবস্থান ও মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করেছেন। তিনি আরো বলেন, "আমেরিকার প্রভাব মুক্ত হয়ে ইউরোপের স্বাধীন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অভিন্ন মুদ্রা ইউরোকে শক্তিশালী করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"
এসব বক্তব্য ও মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইউরোপ অন্তত এটা বুঝতে পেরেছে আমেরিকার প্রভাব বলয় থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই কেবল ইউরোপের স্বাধীনতা ও ভবিষ্যত নির্ভর করছে। চীনও বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে এবং দেশটি আমেরিকার প্রভাবমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। খ্যাতনামা মার্কিন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক ডেভিড ইগনাতিউস ইরানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণের নেতিবাচক পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সব দেশের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে ট্রাম্প প্রথমে মোড়লিপনা এবং  এরপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নিজের ইচ্ছেমত সমঝোতা করার চেষ্টা করেন যা অন্যায্য। মার্কিন এ সাংবাদিক আরো বলেছেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কৌশল হচ্ছে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে দুর্বল করে দেয়া এবং এরপর পরমাণু ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এমন এক সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা যাতে ট্রাম্প এটাকে তার বিরাট সাফল্য হিসাবে সবাইকে দেখাতে পারেন।"
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবকে অতিরিক্ত তেল উত্তোলনে উৎসাহিত করেছেন যাতে ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা যায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "আমেরিকা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং মিথ্যাচার করে ইরান সম্পর্কে ভুল ধারণা তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু ইরানি জনগণ সকল ষড়যন্ত্র ও নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ করে দিয়ে আমেরিকার ‘গালে আরেকবার চপেটাঘাত করবে।"

আসাদের প্রতি সমর্থন ঘোষণায় ইসরায়েলি দ্রুজদের আনুষ্ঠানিক আয়োজন

ইসরায়েলের গোলান মালভূমিতে বসবাসরত দ্রুজ জনগোষ্ঠী এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। সিরিয়া সীমান্তের কাছে জড়ো হয়ে তারা সিরীয় গৃহযুদ্ধে বাসার আল আসাদের সফলতা কামনায় দিয়েছেন নানান স্লোগান। এসময় তারা সিরিয়ার পতাকাও ওড়ান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, গোলান মালভূমি এক সময় সিরিয়ার অংশ ছিল, সেই সঙ্গে এই দ্রুজরাও।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দ্রুজরা ঐতিহ্যবাহী কালো পোশাক ও সাদা টুপি পরিহিত ছিলেন। যে স্থানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তার তা একদম সিরীয় সীমান্তের কাছে। দ্রুজরা শিয়াদের ইসমাইলি সম্প্রদায় দ্বারা প্রভাবিত, যদিও মুসলমানদের অনেকেই তাদেরকে মুসলমান হিসেবে স্বীকার করেন না। তাদের যে অংশ সিরিয়ায় বসবাস করছেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে বাসার আল আসাদের পরিবারের প্রতি অনুগত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দ্রুজরা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত গোলান মালভূমিতে বসবাস করেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারে দ্রুজদের প্রভাব রয়েছে। এরা ইসরায়েলকে অনুরোধও করেছিলেন, সীমান্ত পার হয়ে যুদ্ধে জড়াতে।
গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের আগ পর্যন্ত সিরিয়ার অংশ ছিল। ১৯৮১ সালে তা ইসরায়েলের সাথে যুক্ত করা হয়। ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়নি। ইসরায়েল এক সময় গোলান মালভূমি সিরিয়াকে ফিরিয়ে দিতে ইচ্ছুক ছিল। কিন্তু সিরিয়ায় ইরানি সেনা বহরের উপস্থিতির কারণ দেখিয়ে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে দেশটি।

যৌনদাসী থেকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নাদিয়া

নাদিয়া মুরাদ। পুরো নাম নাদিয়া মুরাদ বাসি তাহা। ইরাকের এক ইয়াজিদি কৃষক পিতামাতার সন্তান তিনি। তাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বন্দি করেছিল। ওই সময়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সেখান থেকে রক্ষা পেয়েছেন নাদিয়া মুরাদ। তারপর যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। আর তার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়ে গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী পুরস্কার শান্তিতে নোবেল।
তিনিই প্রথম ইরাকি এমন বিরল সম্মানে ভূষিত হলেন। বর্তমানে তিনি জার্মানিতে অবস্থান করছেন। ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের এই যুবতী এখন একজন মানবাধিকার কর্মী। তিন মাসের জন্য ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা তাকে অপহরণ করে আটকে রেখেছিল। এবার ডেনিস মুকওয়েজের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিনি। তারা যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধের জন্য এবং সশস্ত্র লড়াইয়ে যৌন সহিংসতা বন্ধের জন্য কাজ করছেন।
নাদিয়া মুরাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন নাদিয়া’স ইনিশিয়েটিভ। গণহত্যা, গণহারে নৃশংসতা, মানব পাচারের মতো অপরাধে নারী ও যেসব বালিকা বা শিশু শিকারে পরিণত হয় তার এ সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়ায়। তাদের মানসিক ক্ষতকে সারিয়ে জীবন পুনর্গঠনের জন্য কাজ করে।
ইরাকের সিনজারে কোজো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন নাদিয়া মুরাদ। ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের সন্তান তিনি। আর তার পরিবার হলো কৃষক। ১৯ বছর বয়সে ইরাকের সিনজারে অবস্থিত কোজো গ্রামে বসবাস করছিলেন নাদিয়া। তখন তিনি শিক্ষার্থী। ওই সময় তাদের গ্রাম ঘিরে ফেলে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা। ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের কেউ যাতে গ্রাম থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন তা নিশ্চিত করে তারা। ওই ঘেরাও দিয়ে তারা হত্যা করে ৬০০ মানুষকে। এর মধ্যে নাদিয়ার ৬টি ভাই ও সৎভাই ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি আইএস। তারা ওই গ্রামের যুবতীদেরকে দাস বানিয়ে নিয়ে যায়। ইরাকে ওই সময় আইএসের কাছে জেলে বন্দি ছিলেন ৬ হাজার ৭ শতাধিক ইয়াজিদি যুবতী। তাদের একজন ছিলেন নাদিয়া মুরাদ। তাকে মসুল শহরে দাসী বানিয়ে রাখা হয়েছিল। নিয়মিত প্রহার করা হতো তাকে। সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হতো শরীরের বিভিন্ন স্থান। যখনই তিনি পালানোর চেষ্টা করতেন তখনই তাকে ধর্ষণ করা হতো। তাকে আটকে রাখার দায়িত্বে ছিল যে ব্যক্তি, একদিন তিনি তার বন্দিশালা তালা না দিয়েই চলে যান। এ সময় নাদিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে আশ্রয় দেন প্রতিবেশী একটি পরিবার। তারা আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। উত্তর ইরাকের দুহোকে অবস্থতি একটি শরণার্থী শিবিরে গিয়ে ওঠেন তারা।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি। এ সময়ই প্রথম একটি বেলজিয়ান দৈনিক পত্রিকা লা লিব্রে বেলজিক’কে সাক্ষাৎকার দেন নাদিয়া মুরাদ। তখন তিনি রোয়ান্ডায় একটি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছিলেন একটি কন্টেইনারের ভেতর। ২০১৫ সালে তিনি সহ ১০০০ নারী ও শিশুকে জার্মানির বাদেন-উরতেমবার্গ সরকার শরণার্থী কর্মসূচির অধীনে সুবিধা দেয়। তারা সেখানে চলে যান। সেটাই হয়ে ওঠে নাদিয়া মুরাদের নতুন ঠিকানা।
মানব পাচার ও যুদ্ধ ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনি বক্তব্য রাখেন ২০১৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। মানব পাচারের বিষয়ে এ যাবত এটাই প্রথমবার নিরাপত্তা পরিষদকে ব্রিফ করা হয়। এ ইস্যুতে তিনি একজন এম্বাসেডরের ভূমিকা পালন করছেন। তিনি মানব পাচার ও শরণার্থী বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্যোগগুলোর সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি এরই মধ্যে বিভিন্ন শরণার্থী ও বেঁচে থাকা মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের নির্যাতিত হওয়া, গণহত্যার কাহিনী শুনেছেন নিজ কানে।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক বিভাগে বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি আমাল ক্লুনি। তিনি সেখানে বলেন, আইসিস কমান্ডারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি একজন মক্কেল হিসেবে নাদিয়া মুরাদকে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছেন ২০১৬ সালের জুনে।
ওদিকে কাজ করতে গিয়ে মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন নাদিয়া মুরাদ। তারপরও নিউ ইয়র্ক সিটিতে নিজের প্রতিষ্ঠান নাদিয়াস ইনিশিয়েটিভ উদ্বোধন করেন তিনি। এতে যোগ দিয়েছিলেন টিনা ব্রাউন। গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের আইনগত ও অন্যান্য সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে এখান থেকে। ওই বছরেই তাকে প্রথমবারের জন্য জাতিসংঘের অধীনে ডিগনিটি অব সারভাইভারস অব হিউম্যান ট্রাফিকিংয়ের শুভেচ্ছা দূত বানানো হয়।
ভ্যাটিকান সিটিতে পোপ ফ্রাঁসিস ও আর্চবিশপ গ্যালাঘারের সঙ্গে ২০১৭ সালের ৩রা মে সাক্ষাৎ করেন নাদিয়া মুরাদ। ওই সাক্ষাতের সময় তিনি আইসিসের হাতে আটক ইয়াজিদিদের জন্য সহায়তা প্রার্থনা করেন। নাদিয়া মুরাদ তার জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী নিয়ে লিখেছেন স্মৃতিকথা। এর নাম ‘দ্য লাস্ট গার্ল: মাই স্টোরি অব ক্যাপটিভিটি, অ্যান্ড মাই ফাইট এগেইনস্ট দ্য ইসলামিক স্টেট’। এটি প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ৭ই নভেম্বর। প্রকাশক ক্রাউন পাবলিশিং গ্রুপ।

কয়েক জনের অবরোধে ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

সকাল ৭টা। ব্যস্ত শাহবাগ মোড়ের সড়কে শুয়ে ছিলেন ৫ যুবক। সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে তাদের অবস্থান। পাঁচ জনের অবস্থানে চারপাশের সব রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে আসা হাজারো যানবাহনকে ডাইভারসন করে দেয় পুলিশ। এতে আশপাশের সড়কে দেখা দেয় যানজট। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বারডেম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনদের পড়তে হয় দুর্ভোগে। সকাল ১০টা পর্যন্ত এই পাঁচ যুবক সড়কে ছিলেন।
যানবাহনও চলেনি সড়কে। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের যানবাহনকে ডাইভারসন করতে দেখা গেলেও যুবকদের সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দশটার দিকে অবস্থানকারীরা সরে গেলে যানবাহন চলাচল শুরু করে। বেলা একটার পর আন্দোলনকারীদের ২০ থেকে ২৫ জন ফের সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরো ২০ থেকে ২৫ জন।
এরপর থেকে শাহবাগ মোড় হয়ে আর যানবাহন চলেনি রাত পর্যন্ত। এতে পুরো এলাকায় যানজট দেখা দেয়। ব্যস্ততম এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী লাখ লাখ মানুষকে পড়তে হয় দুর্ভোগে। গতকালের অবরোধে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদও যোগ দেয়। সকাল থেকে সড়ক অবরোধ থাকায় সায়েন্সল্যাব, বাটা সিগন্যাল থেকে আসা যানবাহনগুলো সবই বন্ধ ছিল। তবে মাঝে ১০টা থেকে কিছু সময় যানচলাচল শুরু হলেও দুপুরের দিকে আবারো আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও রাস্তা না ছাড়ায় ওই সড়কটির কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। অন্যদিকে কাওরান বাজার থেকে গুলিস্তান যাওয়ার সড়কও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে ডাইভারসন করে দেয় পুলিশ। ফলে এদিক থেকে যাওয়া যানবাহনগুলোর দীর্ঘ জটলা সৃষ্টি হয়। শাহবাগের এ রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে সড়কটিতে তিনটি হাসপাতাল থাকায় এখানে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে এসে বিপাকে পড়েন অনেকে। আবার কাউকে ফার্মগেট পর্যন্ত এসে ফিরে যেতে দেখা গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পায়ের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা জাহানারা বেগম জানান, গাজীপুর থেকে ডাক্তার দেখাতে আসছি। কিন্তু এখন বাসায় যাইতে পারতেসি না। ওইদিক থেকে সব গাড়ি বন্ধ।
ঢাকায়ও থাকার মতো জায়গা নেই। সুব্রত নামের একজন কচুক্ষেত থেকে এসেছেন। তিনি হাঁপানিসহ বেশ কিছু রোগে ভুগছেন। সুব্রত বলেন, সকাল বেলায় অনেক কষ্ট করে আসছি। এদিকে রাস্তা বন্ধ থাকায় তেজগাঁও পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। সেখান থেকে কয়েকবার রাস্তা বদল করে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসছি। এখন বাসায় ফিরবো, কিন্তু কোনো যানবাহন নেই। এই শরীর নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েও থাকতে পারছি না। অপারেশন শেষে খিলগাঁওয়ে বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে ফিরবেন নাজিম উদ্দিন নামের একজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা কেমন কথা! যখন তখন এ দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। মানুষ মরলেও কারও কোনো খবর থাকবে না। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাবো? ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসা নিতে এসে বিপাকে পড়েন শামসুজ্জামান নামের আরেক ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমি হার্টের রোগী। বাসা যাত্রাবাড়ীতে। শরীরের কি অবস্থা যাচ্ছে আমি বুঝছি। কিন্তু কোনো সিএনজি বা বাস পাচ্ছি না এক ঘণ্টা ধরে। এ অবস্থায় কি করবো বুঝতে পারছি না। আমার স্ত্রী সঙ্গে এসেছে। সে অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু কোনো কিছু ম্যানেজ করতে পারছে না। শুধু হাসপাতালের রোগী নন, ব্যস্ততম সড়ক হয়ে যাওয়া আসা করেন ঢাকার কর্মজীবী মানুষের একটি বড় অংশ। ঢাকার উত্তর দক্ষিণ ও পূর্ব পশ্চিমের সবচেয়ে বড় সংযোগস্থল শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ থাকায় কর্মজীবী মানুষদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আশপাশের সড়কে যানজট তৈরি হওয়ায় তা ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে অনেক রাস্তায়।
এদিকে শনিবার লাগাতার অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও গতকাল আন্দোলনকারীরা কর্মসূচির পরিবর্তন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, আজ থেকে বিকাল তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন জানান, আমাদের ছয় দফা দাবি। দাবিগুলো হলো- ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের কটূক্তির বিচার, মুক্তিযোদ্ধা পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে হামলার বিচার, প্রশাসনে রাজাকার ও রাজাকারদের সন্তানদের তালিকা করে বরখাস্ত করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান। তিনি জানান, যত দিন পর্যন্ত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা না হবে, তত দিন পর্যন্ত শাহবাগে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি ও সারা বাংলাদেশে একই কর্মসূচি পালিত হবে।

‘আইনি প্রতিকার না পেয়ে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছি’ -নাজমুল হুদা

এক/এগারোর সময় দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালতে আইনি প্রতিকার না পেয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা’র বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল এলায়েন্সের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এস কে সিনহা তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো সচল করেছিলেন। নিছক আইনি প্রতিকার ছাড়া মামলা দায়েরের পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।
মানবজমিনের সঙ্গে একান্তে আলাপকালে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এস কে সিনহা’র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জোট রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে কথা বলেন। 
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা’র বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে তার মাধ্যমে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তার আক্রোশের শিকার হয়েছি। এক/এগারোর সময় দায়ের করা মামলাগুলো হাইকোর্টে শুনানির পর আমি অব্যাহতি পাই। কিন্তু এস কে সিনহা আপিল বিভাগে আসার পর সেই মামলাগুলো সচল করেন।
সংবিধান অনুযায়ী লিভ (লিভ টু আপিল) গ্রহণ হলে শুনানি হবে।
কিন্তু তিনি এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। যে প্রধান বিচারপতি সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে কাজ করবেন তিনি কীভাবে সংবিধানের লঙ্ঘন করেন? এর প্রতিকার চেয়ে আমি হাইকোর্টে রিট করেছিলাম। গত আগস্টে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেই রিট খারিজ করে দিয়ে বলেন যে, বিষয়টির একমাত্র এখতিয়ার আপিল বিভাগের। যে কারণে আমি কোনো প্রতিকার পেলাম না। আর প্রতিকার না পেয়েই আমি এস কে সিনহা’র বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, আমার প্রতি তার আক্রোশের আরো কারণ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে  বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের প্রতি আমার বিশেষ আস্থা ছিল। এটি তিনি পছন্দ করেন নি। তার আক্রোশটা এক সময় ঘুষ চাওয়ায় রূপ পায়।
কারও পরামর্শে মামলা করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পরামর্শে বা সরকারের আরো কাছাকাছি যাওয়ার জন্য আমি সিনহা’র বিরুদ্ধে এ মামলা করিনি। সরকারের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আগে থেকেই আছে। সিনহা’র বিরুদ্ধে মামলা করে নতুন করে সুসম্পর্কের কিছু নেই।
মামলা করার পর আমার প্রতি হুমকিও আসছে। একটি পক্ষ আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে।
সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠনের সম্ভাবনা একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নির্বাচনী তৎপরতায় রাজনীতি চাঙ্গা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনের পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন তিনি।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, আমরা বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে কাজ করছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে ধরনের জোটই হোক না কেন সেই জোটেই বিএনএ থাকবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বৃহত্তর জোটের মিত্র শক্তি হিসেবে থাকতে চাই আমরা। সরকারের প্রতিপক্ষ হয়ে থাকার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। কারণ আমি মনে করি আমি দেশের জন্য যে কাজটা করতে চাই সেটি আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে করা সম্ভব নয়। সর্বোপরি আমার দল বা জোটের স্লোগান হচ্ছে- ‘সুস্থ রাজনীতির মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা’। সুস্থ রাজনীতি বলতে এটিই বলতে চাচ্ছি যেখানে কোনো মুখোমুখি, সংঘাতময় ও সাংঘর্ষিক রাজনীতি থাকবে না। যেখানে প্রতিহিংসাপরায়ণ কোনো রাজনীতি হবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকেই নির্বাচন করতে চাই।
তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে আমার নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে ৫৭টি আসন দাবি করেছি। তবে, এত আসন হয়তো পাবো না। কারণ আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের ওপরও চাপ রয়েছে। যদি দাবিকৃত আসন না পাই কিছুটা কমিয়ে ২৫টি আসন দাবি করবো আমরা। এর মধ্যে ১০/১৫টি আসনে আমাদের অতি গ্রহণযোগ্য প্রার্থী রয়েছেন যারা নির্বাচনে জিতে আসতে সক্ষম।
নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলের অংশ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসবে। গত নির্বাচনে তারা যে ভুল করেছে আমার মনে হয় না তারা সেই ভুল এবারো করবে। সংসদে একটি আসন থাকলে আন্তর্জাতিকভাবেও কিছুটা ভাবমূর্তি থাকে। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস তারা নির্বাচনে আসবে। তিনি বলেন, এখন যে বিষয়গুলো তাদের দাবি বা শর্ত যেমন বেগম খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্তি, ইসি পুনর্গঠন, সহায়ক সরকার- এগুলো পরবর্তীতে তাদের ইস্যু হয়ে যাবে। এই ইস্যুগুলোর মাধ্যমেই তারা জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে। এই ইস্যুগুলোর ওপর নির্ভর করেই তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি নেবে এবং তার ভিত্তিতেই তারা নির্বাচনে আসবে।
তিনি বলেন, এটি নিশ্চিত করে বলতে পারি ৫ই জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না। যদি ধরেও নেই যে, নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি তারপর তো  উপযুক্ত আসন পাওয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা বিএনপি’র আছে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার মতো অবস্থান তো তাদের থাকছে। আর ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতারা জামায়াতের ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছেন। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত অবৈধ হলেও তাদের ভোট তো থাকছে। সেই ভোট তো বিএনপিরই  পাবার কথা।
বিএনপি হয়তো এই সুযোগটি কাজে লাগাবে। নাজমুল হুদা বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতৃত্বে দুটি বড় জোট নির্বাচনে নামলে যত কারচুপিই হোক না কেন এতে করে আমি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ দেখছি। তবে, আমি বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগই আবার ক্ষমতায় আসবে। কারণ কিছু বিষয়ে সমালোচনা থাকলেও আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
নাজমুল হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বারই বলে আসছেন যে, জনগণ ভোট দিলে তিনি থাকবেন, না হলে নয়। এর অর্থ হলো তিনি ভোটের ফলাফল মেনে নেবেন। তার একথার প্রেক্ষিতেই বোঝা যায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে তার আন্তরিকতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তিনি দায়িত্ব নিয়েই বলছেন। তার কথা বিশ্বাস করবো না কেন? তার কথার ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে।

তুরস্কে সাংবাদিক খাসোগিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে সৌদি আরব!

ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটের ভিতর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমনটা মনে করছেন এ ঘটনার তদন্তকারীরা। তারা আরো বলছেন, এই হত্যাকান্ড পরিচালনার জন্য সৌদি আরব থেকে ইস্তাম্বুলে গিয়েছিল ১৫ সদস্যের একটি দল। তারাই এই হত্যাকা- পরিচালনা করেছে। শনিবার একই রকম কথা বলেছেন তুরস্কের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পুলিশ পেয়েছে তা হলো, ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটের ভিতরে হত্যা করা হয়েছে জামাল খাসোগিকে। তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এটা পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তাকে হত্যা করে ঘটনার পরপরই তার মৃতদেহ কনসুলেট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। তুরস্কের দু’জন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে শনিবার এ কথা লিখেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। সৌদি আরবের শাসকগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচক এই সাংবাদিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টেরও একজন প্রদায়ক। গত বছর সৌদি আরবের শাসকগোষ্ঠী যখন ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালোনো শুরু করে তখন তিনি দেশ ছেড়ে যান। তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তুরস্কের এক যুবতীর সঙ্গে। তাকে বিয়ে করার জন্য গত মঙ্গলবার জামাল খাসোগি ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটে প্রবেশ করেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। কিন্তু ওই কনসুলেটের ভিতরে প্রবেশের পর তার আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তারপর থেকে কনসুলেটের বাইরে অপেক্ষমাণ তার প্রেমিকা। তিনি বা অন্য কোনো প্রত্যক্ষদর্শী জামাল খাসোগিকে বেরিয়ে আসতে দেখেন নি। তবে সৌদি আরবের ওই কনসুলেট থেকে বলা হচ্ছে, জামাল খাসোগি তার কাজ শেষ করে বেরিয়ে গেছেন। এ নিয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। তুরস্ক তদন্ত শুরু করেছে। সেই তদন্তে জড়িতরা মনে করছেন, জামাল খাসোগিকে আগে থেকে পরিকল্পনামতো হত্যা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
জামাল খাসোগির রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা সৌদি আরব এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের স¤পর্কে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। কারণ, কাসোগি তার লেখাতে প্রিন্স সালমানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয় পেজের এডিটর ফ্রেড হিয়াত বলেন, জামালের হত্যার খবর যদি সত্য হয়, তাহলে বিষয়টি ভয়ঙ্কর এবং রহস্যময়। জামাল একজন প্রতিশ্রুতিশীল এবং সাহসী সাংবাদিক ছিলেন। তিনি দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে লিখতেন। পাশাপাশি তিনি মানুষের প্রতি সম্মান এবং বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, খাসোগি তার বাগদত্তাকে বিয়ে করার জন্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে দূতাবাসে গিয়েছিলেন। তবে খাসোগি কনসুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন বলে তাদের দাবি। তবে খাসোগির বাগদত্তা হেটিস টুইট বার্তায় জানান, জামাল মারা যান নি। তাকে খুন করা হয়েছে এমনটাও আমি বিশ্বাস করি না।  
তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাডোলু শনিবার জানিয়েছে, মঙ্গলবার নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। এর পর পরই ইস্তাম্বুলের পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিস থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। খাসোগি নিখোঁজের ঘটনাকে তারা আটক বলে আখ্যায়িত করে একে ভয়াবহ বলে অভিহিত করেন। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয় নি। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাউদি প্রেস এজেন্সি রোববার সকালে ইস্তাম্বুল কনসুলেটের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ভিত্তিহীন এসব অভিযোগের জন্য কড়াভাবে নিন্দা জানায় কনসুলেট। জামাল খাসোগিকে হত্যা করার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা তুরস্কের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এসেছে কিনা তা নিয়েও এতে সংশয় প্রকাশ করা হয়। ঘটনা তদন্তে তুরস্কে একটি টিম পাঠিয়েছে সৌদি আরবও।

১০ বছরে ৯০ হাজার মামলা ২৫ লাখ আসামি

২০০৯ সাল থেকে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার ৩৪০টি মামলায় ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এর মধ্যে গত পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ৪ হাজার ১৪৯টি মামলায় নামোউল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে আসামি করা হয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৭ জনকে। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। এসব মামলাকে ভুতুড়ে ও গায়েবি দাবি করে দলের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জনকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিএনপি নেতাকর্মীর হত্যার সংখ্যা ৭৮২ জন। এছাড়া দশ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্যান্য মিলিয়ে মোট গুমের শিকার হয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় ৭৮১ জনকে।
বিএনপির নেতাকর্মী গুম ছিল ৪২৩ জন। বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুমের সংখ্যা ৭২ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুরুতর জখম ও আহত হয়েছে  ১০ হাজার ১২৬ জন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সম্ভাব্য সব ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আরো একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য কূটকৌশল হাতে নিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমরা বহুবার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু সরকার কোনো কর্ণপাত করছে না। তাদের উদ্দেশ্য একটাই আবারও ভোটারহীন নির্বাচন করা। যার কারণে তারা এখন গায়েবি মামলার পথ বেছে নিয়েছে। আজকে সারা দেশে গায়েবি মামলার ছড়াছড়ি। যে মামলা থেকে মৃত ব্যক্তি পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। এই মামলাগুলো দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। মির্জা আলমগীর বলেন, গায়েবি মামলাগুলো হাস্যকর ব্যাপার। অদ্ভুত কাণ্ড। সরকারের একবারও বোধোদয় হচ্ছে না যে, এটা করে তারা সবাইকে বিপদে ফেলছেন। এই কাজগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত, যারা এই মামলাগুলো করছেন ভবিষ্যতে যদি এটাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয় তাহলে তারা সবাই বিপদে পড়বেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ‘সরকারের এসব ষড়যন্ত্রের’ মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেয়া একটি বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি সারাদিন বলেন সুষ্ঠু ভোট হবে। কি চমৎকার তাদের গণতন্ত্র! তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে সারা দেশে নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলাসহ যত ধরনের কূটকৌশল আছে সরকার তা প্রয়োগ করছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নামে যেসব মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে তা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে। যাতে তাদেরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যায়। দলীয় প্রধানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। এগুলো করে সরকার পুরো নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্পষ্ট করে বলতে চাই- নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বিএনপি যে ৭ দফা দিয়েছে সেই দাবিগুলো মেনে নিলে তাহলেই কেবল নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে, তার আগে নয়। এক প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন, দেশের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সরকারের এই সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করবো।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যা যা করা দরকার সরকার তাই করছে, পৃথিবীর কোথাও এমন নজীর নেই। কিন্তু আমাদের দেশে সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এই কর্মকাণ্ডগুলো করছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা এসব গায়েবি মামলাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। এর জন্য যেকোনো একটা মামলাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে নিয়ে হাইকোর্টের রিট পিটিশন করার চিন্তা করছি। যে অফিসার বাদী হয়ে এই গায়েবি মামলা দায়ের করেছেন তার বিরুদ্ধে সরকার কেন বিভাগীয় পদক্ষেপ নেবে না। তার বিরুদ্ধে কেন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে না।
এই আলোকে একটা রিট পিটিশন করার চিন্তা করছি। এসব মামলার মধ্যে হাতিরঝিল মামলাও থাকতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মঘটে বন্ধ পণ্যপরিবহন, ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধনসহ সাত দফা দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন ধর্মঘট চলছে। ‘পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র ডাকে গতকাল সকাল থেকে এ পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। এসময় রাজধানীর ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন (নিসচা)’র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। পরিবহন  মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা এ ঘোষণা দেন।
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহতের ঘটনায় দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের পাশে ছিলেন চলচ্চিত্রের নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন তিনি।  এর প্রেক্ষিতে ‘পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র ওই সমাবেশ থেকে চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরুর সভাপতিত্বে সমাবেশে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবি মেনে নিতে সরকারকে আগামী ১২ই অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। অন্যথায় ১৩ই অক্টোবর  থেকে সারা দেশে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
‘পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র আহ্বায়ক মকবুল আহমদ বলেন, মৃত্যুপরোয়ানা মাথায় নিয়ে শ্রমিকরা রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি চালাবে না। কোনো শ্রমিক ইচ্ছা করে রাস্তায় মানুষ মারে না। অনেক কারণে সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে। এ জন্য শুধু শ্রমিককে ফাঁসি বা জেল দেয়ার বিধান মানা হবে না।
সমাবেশে সাত দফা দাবি জানানো হয়। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন করাসহ তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ না করা, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল ও জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য হাসমত আলীসহ মালিক ও শ্রমিক মুক্তি, পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা, গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ট্রাক টার্মিনাল বা স্ট্যান্ড নির্মাণ করা, গাড়ির মডেল বাতিল করতে হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া, সহজ শর্তে ভারী যানবাহন চালককে ভারী লাইসেন্স দেয়া ও এর আগ পর্যন্ত হালকা বা মধ্যম লাইসেন্স দিয়ে ভারী যানবাহন চালানোর সুযোগ দেয়া, সারা দেশে গাড়ির ওভারলোডিং বন্ধ করা এবং ফুটপাথ, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা। এসব দাবি মেনে নেয়া হলে আগামীতে যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করা হবে পরিবহন মালিকরা জানান।
তার আগে শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালে এক সমাবেশে পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগঠনটি। ওই সমাবেশে ‘পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র নেতৃবৃন্দ বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি চলবে না। আর দাবি মেনে নেয়া হলে আগামীতে যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করা হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।

শপথ নিলেন কাভানা

তীব্র বিতর্ক, সমালোচনার পর সেই ব্রেত কাভানাই যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেলেন। শনিবার তাকে শপথ বাক্য পড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদের অধিকারী হলেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখনও তোলপাড় চলছে। তার মধ্য দিয়ে তার নিয়োগ নিয়ে সিনেটে ভোট হয়। তাতে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি বিচারক হিসেবে নির্বাচিত হন। সিনেটে তার পক্ষে ৫০টি ও বিপক্ষে ৪৮টি ভোট পড়ে। অর্থাৎ মাত্র দুটি ভোট বেশি পেয়ে তার কপাল খুলে গেল। তার এ বিজয়কে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় বিজয় বলে দেখা হচ্ছে।
তিনিই বেত কাভানাকে এই পদে নমিনি করেছিলেন। আর তার পরই তার বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠতে থাকে। কিন্তু তাকে একা ফেলে সরে যান নি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সমর্থন দিয়ে তার পাশে থেকেছেন। শনিবার যখন ব্রেত কাভানা শপথ নিয়ে বিচারপতি হলেন, তখন নিশ্চয় অনেকটা স্বস্তি পেয়েছেন ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
সিনেটে যখন ৫০-৪৮ ভোটে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে তাকে নিশ্চিত করা হয় তখন পাবলিক গ্যালারি থেকে প্রতিধ্বনি উঠছিল ‘শেম, শেম, শেম’ বলে। আর তার নিয়োগ নিয়ে জাতি মারাত্মকভাবে বিভক্ত। সিনেট ভোটেই সে দৃশ্য উঠে এসেছে। কারণ, মাত্র দুটি ভোট বেশি পেয়েছেন কাভানা।  এই নিয়োগ নানা দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশে অনেক বিতর্কিত ইস্যুতে কাজ করতে হবে প্রেসিডেন্টকে। আর এ সময় জাতীয় স্বার্থে কতটুকু দেশকে দিতে পারবেন কাভানা তা দেখার বিষয়। কারণ, সেখানে গর্ভপাত, সমকামীদের অধিকার, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, সমাজে ধর্মের ভূমিকা কি তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক আছে। এসব বিষয়ে কাভানাকে ভূমিকা রাখতে হবে।
সিনেট ভোটের কয়েক ঘন্টা পরে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সুপ্রিম কোর্টে ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। বেত কাভানা এখন বিচারপতি অ্যান্থনি কেনেডির স্থলাভিষিক্ত হবেন। তবে কাভানাকে যখন শপথ পড়ানো হচ্ছিল তখন বাইরে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। তবে তাদেরকে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করে পিছু হটিয়ে দেয়।
তবে কাভানার নিয়োগ ও শপথ সম্পন্ন হলেও নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যে মধ্যবর্তী নির্বাচন তার প্রচারণার কেন্দ্রে থাকবে কাভানাকে নিয়ে বিতর্ক। রিপাবলিকানরা এটা ধরেই নিয়েছেন, যেসব স্থানে তাদের অবস্থান নড়বড়ে সেখানে এ ঘটনা তাদেরকে আরো নাড়া দেবে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা মনে করছেন, রিপাবলিকান নারী ভোটাররা এ কারণে নিজেদের দলীয় প্রার্থীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। ফলে প্রতিনিধি পরিষধে তারা ভাল অবস্থানে চলে আসবেন।