Sunday, August 10, 2025

গাজায় যুদ্ধ সম্প্রসারণে ইসরাইল জুড়ে বিক্ষোভ, চাপে নেতানিয়াহু

গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘ করার পরিকল্পনার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে ইসরাইলের নাগরিকরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন জিম্মি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। এসব জিম্মির ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, গত শুক্রবার ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা যুদ্ধ শেষ করতে পাঁচটি নীতিমালা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে গাজা শহরের ওপর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। তবে বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ জিম্মিদের জীবনকে আরও বিপদের মুখে ফেলবে।

জেরুজালেমে বিক্ষোভরত এক নারী বিবিসিকে বলেন, আমরা যুদ্ধের অবসান চাই, কারণ আমাদের প্রিয় মানুষরা ওখানে মরছে। এখনই তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। যুদ্ধ থামাতে যা দরকার, তাই করতে হবে। একই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাবেক এক সেনা ম্যাক্স ক্রেশ বলেন, তিনি যুদ্ধের শুরুতে সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন, কিন্তু এখন আর এই রাজনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাজি নন। তিনি জানান, তার মতো অন্তত ৩৫০ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা সদস্য এখন যুদ্ধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

তেলআবিবে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জিম্মি পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অন্যান্য সেনাদেরও এই সম্প্রসারিত সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জিম্মিদের একজনের মা দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করেছেন, যদিও ইসরাইলের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন এটি সমর্থন করেনি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনার সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ আমাদের জিম্মিদের মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেছেন, পুরো গাজা দখল করা হবে একটি ফাঁদে পা দেওয়া এবং তা জীবিত জিম্মিদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গবেষণা জরিপ অনুযায়ী, বেশিরভাগ ইসরাইলি নাগরিক হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধের অবসান চায়।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা গাজা শহরের সম্পূর্ণ সামরিক দখলকে মানবিক বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে গাজায় খাদ্যের অভাবে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস-শাসিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গাজায় এখন পর্যন্ত অপুষ্টিতে ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০০ জনই শিশু। ইসরাইল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এর জন্য দায়ী হামাস। তবে জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জুলাই মাসে জানিয়েছেন, দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ইতিমধ্যেই গাজায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশে ইসরাইল নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, ফলে স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নিন্দা জোরালো হয়েছে। জার্মানি ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে। এদিকে রোববার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ইসরাইলের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

mzamin

গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন: তীব্র অপুষ্টিতে ১২ হাজার শিশু

ফিলিস্তিনের গাজায় খাদ্যসংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিশুরা। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে খাবার না পেয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, গাজায় এখন পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১২ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। আর চলতি বছরের শুরু থেকে অনাহারে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ ফিলিস্তিনির। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জনই শিশু।

শিশুদের দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি নিয়ে সতর্ক করে জাতিসংঘ বলেছে, গাজায় পাঁচ বছরের নিচের ২ লাখ ৯০ হাজার শিশুর মধ্যে মাত্র ৮ হাজার ৭০০ শিশুকে প্রয়োজনীয় খাবার ও পুষ্টি উপকরণ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, জুলাই মাসে গাজায় পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১২ হাজার শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, এটিই এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক শিশুর অনাহারে থাকার ঘটনা।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল—ইউনিসেফের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের চেয়ে জুলাই মাসে গাজায় অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি শিশুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জুনে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিল ৬ হাজার ৩৪৪ জন। আর জুলাইয়ে ভর্তি হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৭ জন। তাদের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল।

গাজার অপুষ্টির শিকার শিশুদের জন্য গড়ে তোলা চারটি চিকিৎসাকেন্দ্রে সহায়তা করছে ডব্লিউএইচও। তবে সেখানে শিশুদের জন্য ফর্মুলা দুধ ও পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহ খুবই কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সব পথ দিয়ে গাজায় আরও বড় পরিসরে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গেব্রেয়াসুস।

দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রিক পিপারকর্ন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, গাজায় বর্তমানে যে পরিমাণে পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহ করা হচ্ছে, তা অনাহার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানোর জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়। গাজায় যে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই তালিকায় বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

গাজায় যখন অনাহার ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, না খেতে পেয়ে শিশুরা মারা যাচ্ছে এবং সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশ করছে, তখন উপত্যকাটিতে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে গাজার বাসিন্দাদের খাদ্য গ্রহণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উপত্যকাটির ৮১ শতাংশ পরিবারের সদস্যরা খুবই কম পরিমাণে খাবার খেয়ে বেঁচে আছেন। গত এপ্রিলে এই হার ছিল অর্ধেকেরও কম, ৩৩ শতাংশ। গাজার মোট বাসিন্দা প্রায় ২২ লাখ।

চলতি বছরে অনাহারে ৯৯ মৃত্যু

গাজায় অনাহারে মৃত্যুর একটি চিত্রও তুলে ধরেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত গাজায় অনাহারে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৩৫ জন শিশু। এই শিশুদের মধ্যে ২৯ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম। তবে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, গাজার বাসিন্দারা মৌলিক সেবাগুলো সীমিত পরিমাণে পাচ্ছেন। ইসরায়েলের হামলার মুখে তাঁরা বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। এ ছাড়া ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে উপত্যকাটিতে অনাহার ছড়িয়ে পড়ছে। না খেতে পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ২২ মাস ধরে চলমান সংঘাতে অনাহারে ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯৬ জনই শিশু। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টির কারণে গাজা উপত্যকার হাসপাতালগুলোতে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।

এ ছাড়া ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদেরও হত্যা করছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল শুক্রবার মধ্য গাজার নেতজারিম করিডোরের কাছে ত্রাণ নিতে গিয়ে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত মে মাস থেকে নিহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। ইসরায়েল থেকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসা হয় প্রায় আড়াই শ জনকে। সেদিন থেকে থেকে গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষ।

ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। সেখান থেকে মাথায় করে একটি স্ট্রলার নিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি এক শিশু। এই স্ট্রলারে করে নবজাতক বা ছোট শিশুদের বহন করা হয়। গতকাল গাজা নগরীতে
ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। সেখান থেকে মাথায় করে একটি স্ট্রলার নিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি এক শিশু। এই স্ট্রলারে করে নবজাতক বা ছোট শিশুদের বহন করা হয়। গত ৮ আগস্ট ২০২৫ গাজা নগরীতে ছবি: রয়টার্স

গাজা সিটি ‘ছেড়ে যাব না’, ইসরায়েলি হুমকির মুখে বলছেন বাসিন্দারা

ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা গতকাল শুক্রবার ফিলিস্তিনের গাজা সিটির পুরোটা সামরিক উপায়ে ‘দখল করে’ নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদনের পর স্থানীয়দের মনে ভয় দানা বেঁধেছে। কেউ কেউ প্রতিবাদীও হয়ে উঠেছেন। উপত্যকাটির সবচেয়ে বড় এ শহরে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়ে আছেন।

ইসরায়েলের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, এরই মধ্যে কয়েকবার বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনিদের গাজা সিটি থেকে জোর করে আরও দক্ষিণে ‘কেন্দ্রীভূত অঞ্চলে’ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া।

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা শুরুর পর থেকে পরিবার নিয়ে অন্তত আটবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আহমেদ হিরজ। এখন তাঁর ঠাঁই হয়েছে গাজা সিটিতে। তিনি বলেন, ‘খোদার নামে শপথ করে বলছি, আমি ১০০ বারের মতো মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। এখন আমার জন্য এখানেই মারা যাওয়া ভালো।’

আল–জাজিরাকে আহমেদ হিরজ বলেন, ‘আমি কখনোই এ জায়গা ছেড়ে যাব না। এরই মধ্যে আমরা অনাহার, দুর্ভোগ, নির্যাতন ও করুণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, এখানেই মারা যাওয়া।’

আল–জাজিরা স্থানীয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। সবাই মোটাদাগে একই কথা বলেন, মরলে এখানেই মরব। রজব খাদের সাফ জানান, তিনি কখনোই ‘কুকুর আর অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে রাস্তায় থাকার জন্য’ গাজার দক্ষিণাঞ্চলে যাবেন না।

রজব খাদের বলেন, ‘আমরা পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে গাজা সিটিতেই থাকব। ইসরায়েলিরা এখানে আমাদের শরীর ও আত্মা ছাড়া আর কিছুই পাবে না।’

এক সময় গাজা উপত্যকার উত্তর–পূর্বাঞ্চলের বেইত হানুনে থাকতেন মাঘজৌজা সাদা। ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত হয়ে এখন তাঁর ঠাঁই হয়েছে গাজা সিটিতে। ইসরায়েলিদের পক্ষ থেকে নতুন করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হুমকির মুখে এ নারী বলেন, ‘দক্ষিণ আর নিরাপদ নয়। গাজা সিটিও নিরাপদ নয়। উত্তরাঞ্চলও নিরাপদ নয়। আমরা কোথায় যাব?’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা কি নিজেদের সাগরে ছুঁড়ে ফেলব?’

আতঙ্কের জনপদ

গাজা সিটি থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন, সেখানকার বাসিন্দারা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গতকাল দিনের শুরুতে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা গাজা সিটি খালি করে ফেলার অনুমোদন দেওয়ার পর থেকে বাসিন্দাদের মনে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অবশিষ্ট যা কিছু মালপত্র আছে, অনেকেই সেগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে মাহমুদ বলেন, ‘কোথায় যাচ্ছেন, সেটা তাঁরা জানেন না। শেষ মুহূর্তে তাঁরা ধরা পড়তে চান না। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যখন জোর করে বের করে দেবে, তখন তাঁরা প্রস্তুত থাকতে চান।’

মাহমুদ আরও বলেন, গাজা সিটিতে ভয়, উদ্বেগ ও হতাশা—সবই বাড়ছে।

ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ শাওয়া বলেন, স্থানীয় মানুষজন বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে হতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তবে এবার বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা আরও বড় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল নেই, সুপেয় পানির সুবিধা নেই, অন্যান্য অবকাঠামোও ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিপদ আগের চেয়ে বেড়েছে।

‘যাঁরা হাঁটতে পারেন না, এমন বয়স্কদের সরিয়ে নিতে হবে। হাঁটাচলা করতে পারেন না এমন রোগীরা আছেন, আহত মানুষজন আছেন। আমরা তাঁদের ফেলে চলে যেতে পারি না’—বলেন আমজাদ।

ঝুঁকিতে প্রায় ৯ লাখ ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলের ‘বিতর্কিত’ বাস্তুচ্যুতির পরিকল্পনার খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির সেনারা ফিলিস্তিনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের ওপর হামলা জোরালো করেছে। গতকাল হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৩৬ জনকে। গাজার চিকিৎসা সূত্রগুলো বলছে, হামলার সময় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে অন্তত ২১ জন ত্রাণ নিতে গিয়েছিলেন।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলের বানি সুহেইলা এলাকার পৌর হাসপাতালে গতকাল ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। খান ইউনিস শহরের পূর্বে এই হাসপাতালের অবস্থান। হামলায় অন্তত দুজন নিহত হওয়ার খবর আল–জাজিরাকে জানিয়েছে নাসের হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ।

জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে প্রতিবেদন করতে গিয়ে আল–জাজিরার সাংবাদিক হুদা আবদেল–হামিদ জানান, গাজা উপত্যকায় কার্যক্রম চালানো একটি ‘বিতর্কিত ফাউন্ডেশনের’ অন্তত চারটি কেন্দ্রে ত্রাণের খাবার নিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। গাজাজুড়ে এমন আরও ১২টি কেন্দ্র চলছে।

কবে নাগাদ গাজা সিটি পুরোপুরি দখলে নেওয়া হবে, তার ‘সুনির্দিষ্ট সময়সীমা’ জানায়নি ইসরায়েলি বাহিনী—বলেন আবদেল–হামিদ। তিনি জানান, গাজার সঙ্গে ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্তে ‘সেনা স্থানান্তর’ দেখে নতুন স্থল অভিযানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজা সিটি থেকে জোর করে ৯ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নিতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

‘যুদ্ধাপরাধ’ বলছে হামাস

গাজা সিটি পুরোপুরি দখলে নিতে ইসরায়েলি পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধান সামরিক সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি নিয়ে কী ভাবছে, সেটা স্পষ্ট নয়।

এ পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েল সরকার কি মার্কিন প্রশাসনকে আগেভাগেই জানিয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাব দেননি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোটি কোটি ডলারের সহায়তা ছাড়া ফিলিস্তিনের গাজা সিটি সামরিক উপায়ে পুরোপুরি দখলে নেওয়ার ইসরায়েলি পরিকল্পনা বেশিদূর এগিয়ে নেওয়া যাবে না।

গতকাল হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজা সিটি দখলে নেওয়ার ইসরায়েলি পরিকল্পনা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এই পরিকল্পনা ঘোষণার ফলে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ইসরায়েল কেন হঠাৎ করে শেষ দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনা থেকে সরে এসেছে।

ফিলিস্তিন–ইসরায়েল ইস্যুতে আলোচনার জন্য এ সপ্তাহান্তে জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

ইসরায়েলের দখলদারিত্বের হুমকির মুখে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন ফিলিস্তিনের গাজা সিটির বাসিন্দারা
ইসরায়েলের দখলদারিত্বের হুমকির মুখে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন ফিলিস্তিনের গাজা সিটির বাসিন্দারা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ফের ভাঙলো জাতীয় পার্টি

আরেকবার ভাঙলো জাতীয় পার্টি। এনিয়ে আটবার ভাগ হলো দলটি। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে গতকাল নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয় কাউন্সিল। যাতে সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার হয়েছেন মহাসচিব। বহুল চর্চিত গঠনতন্ত্রের ২০ (১) ক ধারাটি বাতিল হয়েছে কাউন্সিলে। দেয়া হয়েছে ঐক্যের ডাক। কাউন্সিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হলেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ বিভ্রান্ত না হওয়ার বার্তা দিয়েছে। কাদের বিরোধীদের এই কাউন্সিল এবং কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলটি দৃশ্যত আরও দু’টি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

১৯৮৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে দলটি। নির্বাচন কমিশনে যুক্ত নামের সঙ্গে সবথেকে বেশি নাম জাতীয় পার্টি। এর সঙ্গে ব্রাকেটবন্দি রয়েছে নেতাদের নাম। এরশাদের জীবদ্দশায় পাঁচবার এবং তার মৃত্যুর পর তিনবার এভাবে ভাগ হয় জাতীয় পার্টি।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পরে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আলাদা হয়ে যান। তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) গঠন করেন। দলটির মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন শেখ শহীদুল ইসলাম, প্রতীক বাইসাইকেল। ২০০১ সালের নির্বাচনে আগে নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নামে দল গঠন করে। এই অংশটির নেতৃত্বে এখন রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ। প্রতীক গরুর গাড়ি। আবার এই বিজেপি দুই ভাগ হয়ে যায়। ব্রাকেটবন্দি হয় ডা. এম এ মতিনের নামে। প্রতীক কাঁঠাল। ২০১৩ সালে এরশাদের পুরোনো রাজনৈতিক সহকর্মী কাজী জাফর আহমেদ দল ভেঙে আলাদা হন। দলটির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বর্তমানে ফজলে রাব্বি চৌধুরী ও মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রতীক মোটরগাড়ি।

কাজী জাফরের দল ভেঙে জাতীয় পার্টি পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। যদিও তা আলোর মুখ দেখেনি। ২৪-এর নির্বাচনে এরশাদপত্নী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলটিতে ভাঙন হয়। রওশনের নেতৃত্বে আয়োজিত কাউন্সিলে তিনি চেয়ারম্যান ও কাজী মামুনুর রশীদ মাহসচিবের দায়িত্ব পান। এ ছাড়াও রয়েছে তৃণমূল জাতীয় পার্টি। পার্টির চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের ও মহাসচিব শামীম ইশতিয়াক চৌধুরী। এদিকে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন এরশাদের ভাই জিএম কাদের ও মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। প্রতীক লাঙ্গল।
গতকাল রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে জিএম কাদের বিরোধীদের ‘দশম জাতীয় কাউন্সিল’ অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে কাজী ফিরোজ রশিদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এতে ৩ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম, অন্য দুই সদস্য আল মাহমুদ, মো. আরিফুর রহমান খান। এ সময় কণ্ঠভোটে গঠনতন্ত্রের ২০ (১) ক ধারা বাতিল করা হয়। যে ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান যেকোনো নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বহিষ্কার করতে পারতেন। নির্বাচিত কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। সকালে জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জাতীয় পার্টির ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন মুজিবুল হক চুন্নু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে এই দেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আমাদের দেশকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছিলাম। আজকে সবাই সব কথা বলে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতার কথা কেউ বলে না। এখন সরকার বলছে, সংস্কার করতে হবে। সংস্কার কি আমরা করিনি। শিক্ষানীতি, ঔষধনীতি, উপজেলা পদ্ধতি এসবই সংস্কারের অংশ ছিল। এখন সংস্কারের জন্য বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করে আনতে হয়। তারা কীভাবে সংস্কার করবেন? তারা সংস্কারের প্রস্তাবনা দিতে পারে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচিত সংসদ লাগবে।

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আদৌ নির্বাচন হবে কিনা জানি না। তাছাড়া দেশে এখন যে পরিবেশ বিরাজ করছে তাতে নির্বাচনের কি দরকার? বড় দুই দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে  নিলে নির্বাচনের খরচবাবদ দুই হাজার কোটি টাকা বেঁচে যায়। সারা দেশে দখলবাজি চলছে, বাড়ি দখল-দোকান দখল, হাট-বাজার দখল, সব জায়গায় দখলবাজি হচ্ছে। কোনো কিছুতেই নিয়ম কানুনের বালাই নেই। এই সব বন্ধ করতে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, জিএম কাদের কাউন্সিল করলেন না, কারণ পদ হারানোর ভয়। ৪০ বছর রাজনীতি করার পর আমার সদস্যপদ বাতিল করা হলো। এক ব্যক্তির বিজনেস, আমরা দলকে হতে দেবো না। আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কোনো অন্যায় করি নাই। সরকারকে প্রতিহত করতেও হলে সংসদে যেতে হয়। এরপরও বলবো যদি জনগণ মনে করে অন্যায় হয়েছে আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাই।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া নির্বাচনকে বৈধতা দিতে আন্দোলন করেছেন। চট্টগ্রামে বৈধতা দিয়েও দিয়েছেন। স্ববিরোধী অবস্থান ত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি। স্বাগত বক্তব্যে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টিকে আমরা নিয়ে যাবো সাধারণ মানুষের কাছে। ফিরিয়ে দিবো তৃণমূলের মর্যাদা। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টি কারও একক সম্পত্তি নয়, এই পার্টি জনগণের আশা ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রাজপথে থাকবে। আজ থেকে জাতীয় পার্টি কোনো একক নেতৃত্বে চলবে না।

আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, আমরা দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো বেআইনি কাজ করিনি। যদি নৈতিকভাবে কোনো ভুল হয়ে থাকে, কোনো ভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে এই কাউন্সিলে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাই।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ২৪ সালে নির্বাচনের আগে জিএম কাদেরকে বললাম, নির্বাচনে যাবেন না, গেলে জাতীয় বেইমান হবেন। তিনি বললেন, আমি যাবো না। পরে দেখি উনি গেলেন। আমরা ক্ষমা চাই। ছাত্ররা বিপ্লব করেছে। তারা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। এই আন্দোলন সবাই করেছে সব দল। এখন নির্বাচন হলে দিনের ভোট দিনেই হবে। কিন্তু ভোট সব এক বাক্সে যাবে। তারেক রহমানকে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের ভুলগুলো করবেন না। মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। আগামীতে প্রধানমন্ত্রী হবেন কিন্তু আপনার কথা দলের নেতারা শোনেন না। শুধু বহিষ্কার করলে হবে না। দলকে আপনার কমান্ডের মধ্যে আনতে হবে।

আরও বক্তব্য রাখেন কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, এটিইউ তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, নাসরিন জাহান রতনা, নাজমা আকতার, লিয়াকত হোসেন খোকা, মোস্তফা আল মাহমুদ, মাসরুর মওলা, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান, নুরুল ইসলাম মিলন, জিয়াউল হক মৃধা, খান ইসরাফিল খোকনসহ বিভিন্ন জেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা। কাউন্সিলে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য দিদারুল আলম দিদার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (মতিন) মহাসচিব জাফর আহমেদ জয় প্রমুখ।

অন্যদিকে, শনিবার এক অনুষ্ঠানে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ইতিহাস বলে, মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে যারা জাতীয় পার্টিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েছে, তারাই নিশ্চিহ্ন হয়েছেন। জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও জিএম কাদেরের অনুসারীরা। কোনো ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

গাজা দখলের পরিকল্পনা: ইসরাইলের ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ

গাজা দখল করে নেয়ার ইসরাইলি পরিকল্পনায় ক্ষোভে ফুঁসছে খোদ ইসরাইলের জনগণ। জিম্মি ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের একটি ফোরাম ইসরাইলের এমন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইসরাইলের ভেতরে তারা প্রতিবাদ বিক্ষোভও করছেন।

জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবারের একটি ফোরাম শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার গাজা সিটি দখলের প্রস্তুতি নেয়ার সিদ্ধান্ত কার্যত ‘জীবিত জিম্মিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড এবং নিহত জিম্মিদের জন্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার একটি রায়। মুক্তি পাওয়া জিম্মিরাও এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, জিম্মিদের হাতে আর সময় নেই।

প্রায় ছয় মাস আগে হামাসের বন্দিদশা থেকে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়া ওহাদ বেন লিখেছেন, আমরা জানতে পেরেছি, মন্ত্রিসভা গাজা দখলের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আমাদের প্রিয়জনদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে। তিনি জানান, তিনি এবং অপর এক সাবেক জিম্মি ইয়াইর হর্ন শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাট্জের কফার আহিম বসতিতে অবস্থিত বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। ফোরামের বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে জিম্মিদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করার ঘোষণা বলা হয়েছে। যা সামরিক নেতৃত্বের সতর্কবার্তা এবং ইসরাইলি জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের স্পষ্ট ইচ্ছাকেও সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের ইতিহাসে এমন কোনো সরকার ছিল না, যারা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে এত দৃঢ়ভাবে কাজ করেছে। এই সরকারের আমলে হলোকাস্টের পর থেকে ইহুদি জনগণের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে আরেকটি বিপর্যয়ের সূচনা করেছে তারা। তবে এখনো দেরি হয়ে যায়নি।

তাদের মতে, জিম্মিদের ফেরানোর একমাত্র উপায় হলো একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি। আর কোনো অর্থহীন যুদ্ধ নয়। আর কোনো সচেতনভাবে ত্যাগ নয়। ইসরাইলের জনগণ এই বিপজ্জনক পথ বন্ধ করতে পারে এবং অবশ্যই করা উচিত।

বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত একটি বিপর্যয়, যা আরও বহু বিপর্যয়ের জন্ম দেবে। তার মতে, অতি-ডানপন্থী মন্ত্রী ইতমার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচ নেতানিয়াহুকে এমন এক পথে টেনে নিয়েছে, যা জিম্মিদের মৃত্যু, বহু সৈন্যের প্রাণহানি, ইসরাইলি করদাতাদের কয়েক দশক বিলিয়ন শেকেল খরচ এবং রাজনৈতিক পতন ডেকে আনবে। লাপিদ আরও বলেন, এটাই হামাস চেয়েছিল- উদ্দেশ্যহীনভাবে ইসরাইলকে এক দখলকৃত ভূখণ্ডে ফাঁদে ফেলে রাখা, যেখানে অবস্থানের অর্থ কেউই বোঝে না। ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান বলেছেন, মন্ত্রিসভার বৃহস্পতিবার রাতের সিদ্ধান্ত, যা সেনাবাহিনীর প্রধানের মতামতের বিপরীতে গৃহীত হয়েছে, প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য এক মহাবিপর্যয়। এটি জিম্মিদের জন্য এবং অন্যান্য শোকাহত পরিবারের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সমান। তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিরা এখনো গাজার গলিতে টহল দেবে এবং আমরা বছরের পর বছর শত শত বিলিয়ন শেকেল খরচ করব- সবই রাজনৈতিক টিকে থাকা ও মেসিয়ানিক কল্পনার কারণে। গোলান সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ সরকারকে পতন ঘটানোই জীবন বাঁচাবে।

mzamin