Sunday, March 16, 2014
বিশেষ সাক্ষাত্কার : অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ- ‘লিটল পিপল’রাই রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি by এ কে এম জাকারিয়া
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হলফনামা- কেন এই স্ববিরোধিতা? by বদিউল আলম মজুমদার
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মমতার জয়ের অভিলাষ! by অমর সাহা
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চৌদ্দগ্রামে মন্ত্রীর পিএ- সাংবাদিক মারলে কি হয়? by নিয়াজ মাহমুদ
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছুটছে খেলনা গাড়ি, পিছন পিছন পুলিশ
About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিস্তায় পানি প্রত্যাহার
বাংলাদেশ সরকার বারবার ভারতকে ‘ন্যায়সংগত’ পরিমাণ পানি ছাড়ার জন্য অনুরোধ করে আসছে। তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদনের জন্য তাগাদারও শেষ নেই। কিন্তু ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে জরুরি চুক্তি সম্পাদন থেকে বিরত রয়েছে। সম্প্রতি মিয়ানমারে বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ‘তিস্তা চুক্তি কঠিন বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। কূটনৈতিক ভাষায় করা তাঁর মন্তব্যের সারমর্ম হলো এখন তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না। ভারতের নীতিনির্ধারকেরা এত দিন বলতেন, চুক্তি না হলেও বাংলাদেশ পানি তো পাচ্ছে। এখন কী বলবেন তাঁরা? তিস্তা নদীনির্ভর সেচ প্রকল্পের ওপর উত্তরবঙ্গের তিস্তা অববাহিকার ৬৩ শতাংশ আবাদি জমি নির্ভরশীল। এ বছর কৃষকেরা বোরো রোপণ করে যেখানে পানির জন্য হাহাকার করছেন, সেখানে ভারতে এই পানি প্রত্যাহার নির্দয় আচরণ ছাড়া কিছু নয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবমুক্ত থাকুক জাতীয় সংসদ ভবন
![]() |
| সংসদ ভবন |
সংসদ ভবনের চারদিকে লোহার শিক দিয়ে বেষ্টনী নির্মাণে সংসদ সচিবালয়ের সিদ্ধান্তে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’র বিষয়টিই অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। লোহার বেষ্টনী কি সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে? নকশা অমান্য করে লোহার খাঁচা না বানিয়ে অন্য কোনো উপায়ে কি এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত না? ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি বাড়ানোসহ উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কি করা যেত না এই নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান? এটা স্পষ্ট যে সংসদ সচিবালয় নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। কিন্তু একটি স্থাপত্য, যা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের গণতন্ত্রের তাৎপর্যকে ধারণ করে, তার স্থাপত্যমানকে দেখভাল করার কি কেউ নেই? দেশে নিরাপত্তাঝুঁকি যদি বেড়ে গিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে খাঁচাই কি সমাধান? নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়লে সরকারের তো প্রধান দায়িত্ব সেই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা। নয়তো মানুষ এবং স্থাপত্য রক্ষায় লাখ লাখ খাঁচাই কেবল বানাতে হবে। লুই কানের নকশা অক্ষুণ্ন রেখে অন্য সব উপায়েই সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো যেত। সেসব উপায়ের ক্ষেত্রে তো কোনো বাধা ছিল না।
বিশ শতকে নির্মিত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যগুলোর একটি আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন। এটিকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই দেখে মানুষ। এই স্থাপত্য যাতে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পায়, সে ব্যাপারে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নানা উদ্যোগও নিয়েছে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি, সংসদ ভবনের স্থাপত্যমান রক্ষায় কোনো সরকারেরই সুদৃষ্টি নেই। আশির দশকে এরশাদ যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তখন প্রথমবারের মতো বেষ্টনী নির্মাণের পরিকল্পনা হয়। কিন্তু প্রতিরোধের মুখে বাতিল হয় সেই সিদ্ধান্ত। বিগত সংসদও সংসদ ভবন এলাকার চারপাশে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করেছিল। পরিবেশ ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের আপত্তির মুখে বাতিল হয়েছিল সেই পরিকল্পনা। তবে নতুন করে যে এই লোহার বেষ্টনী নির্মিত হচ্ছে, পরিবেশ ও স্থাপত্য অধিদপ্তর তাতে কী করে অনুমতি প্রদান করল? নাকি এবার স্থাপত্য অধিদপ্তরের পরামর্শ ছাড়াই নির্মিত হচ্ছে এই স্থাপনা?
সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে লুই কানের মূল নকশাবহির্ভূত অনেক স্থাপনাই নির্মাণ করা হয়েছে। আর এসবই এই স্থাপত্যের স্থাপত্যমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গণপূর্ত বিভাগের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সংসদ ভবনের ভেতরে কক্ষের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক, অথচ লুই কানের নকশা অনুযায়ী মোট কক্ষ ছিল ৪০০। ভবনের ভেতর অনেক কক্ষ বানানো হয়েছে কাচ ও কাঠের বেড়া দিয়ে। লুই কান ভবনের ভেতর আলো-বাতাস প্রবেশের এমন ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে দিনের বেলায় বৈদ্যুতিক আলো ছাড়াই কাজ করা সম্ভব হয়। কিন্তু নতুন নতুন স্থাপনা সেসব আলো-হাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। নকশা অমান্য করে সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাড়ি বানানো হয়েছে। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছিল এবং স্থাপনা নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ অবধি বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। হাইকোর্ট সে সময়ে, ২০০৪ সালে, সংসদ ভবন এলাকায় লুই আই কানের নকশার বাইরে যেকোনো রকম স্থাপনা নির্মাণকেই বে-আইনি ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এ সময় হাইকোর্ট জাতীয় সংসদ ভবনকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণারও নির্দেশনা দেন। (সূত্র: প্রথম আলো, ২৩ জুন ২০১৩)
আমরা স্মরণ করতে পারি, সংসদ ভবনের উত্তর ফটক বন্ধ করে যখন একটি টেলিভিশন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয় তখন নকশাবহির্ভূত এই স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছিল। তখন সংসদ সচিবালয়ের কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, লুই আই কানের নকশাবহির্ভূত কোনো স্থাপনা নির্মিত হয়ে থাকলে তা ভেঙে ফেলা হবে। সে সময়ে, ২ জুন ২০১৩ ওই কমিশনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন। এর স্থাপত্যমান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। লুই কানের মূল নকশার বাইরে কোনো ধরনের পরিবর্তন করা যাবে না। (সূত্র: প্রথম আলো, ২৩ জুন ২০১৩) কিন্তু আমরা এখন লুই কানের নকশার বিপরীতে লোহার বেষ্টনী নির্মিত হতে দেখছি।
প্রধানমন্ত্রী গত সংসদে বলেছিলেন, লুই কানের নকশা বদলানো যাবে না। এর স্থাপত্যমান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তিনিই বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করছি, অবিলম্বে সংসদ ভবন এলাকার চারপাশে লোহার বেষ্টনী নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তিনি তাঁর নিজের বক্তব্যের সত্যতা রক্ষা করবেন। একই সঙ্গে সংসদ ভবনের স্থাপত্যমান রক্ষার অনুকূলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করবেন। আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত এই স্থাপত্যের শিল্পমান অক্ষুণ্ন থাকুক।
লেখকেরা: শিক্ষক, শিল্পী ও স্থপতি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার খোঁজে
১৩ মার্চ মিয়ানমারের বন্দরনগর ইয়াঙ্গুনে ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টার আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সংলাপে এই অঞ্চলের সরকারগুলোর নানা দুর্বলতা ও হঠকারিতার পাশাপাশি গণবিরোধী ভূমিকার কথা উঠে আসে। উঠে আসে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, আন্তরাষ্ট্রীয় ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ, পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, আন্তসীমান্ত বিরোধ ও সন্ত্রাসবাদের ভেতর-বাইর। আলোচিত হয় বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে গণমাধ্যমের দ্বন্দ্বময় সম্পর্কের বিষয়টি। আলোচনায় অংশ নেন নাজিবা আইউবি (আফগানিস্তান); সাইফুল্লাহ গুল, ওমর চিমা (পাকিস্তান); কুণ্ডা দীক্ষিত (নেপাল); দিলনাজ বোগা, ত্রিদিবেশ মাইনি, সৈয়দ নাজাকাত, জয়দেব মিশ্র ও রামকৃষ্ণ শ্রীনাথারান (ভারত); আমন্ত পেরেরা (শ্রীলঙ্কা), শ্যামল দত্ত ও সোহরাব হাসান (বাংলাদেশ)। এ ছাড়া ইস্টওয়েস্ট সেন্টারের পক্ষে ছিলেন ড. সাব্বির চিমা ও সুজান ক্রিফেলস।
পৃথিবীর সব অঞ্চলেই রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও আন্তরাষ্ট্রীয় বিরোধ আছে। কিন্তু সেই বিরোধ জিইয়ে রেখে কেউ অমঙ্গলকে আলিঙ্গন করেননি, যেমনটি করেছেন দক্ষিণ এশীয় নেতারা। বিভিন্ন অঞ্চলের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিরোধ মেটাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো যে পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়; তারই সফল পরিণতি আজকের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তারা একটি কার্যকর অর্থনৈতিক জোটই করেনি, অভিন্ন মুদ্রা ও ভিসাও চালু করেছে। এ ছাড়া কার্যকর আঞ্চলিক জোট গঠিত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (আসিয়ান), আফ্রিকায় (আফ্রিকান ঐক্য সংস্থা), ল্যাটিন আমেরিকায় (ল্যাটিন আমেরিকান ইকোনমিক কো-অপারেশন)। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা সে রকম কার্যকর আঞ্চলিক সংগঠন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা মুখে ঐক্যের কথা বললেও কাজ করেন ঐক্যের বিপক্ষে। তিন দশক আগে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এখন একটি প্রায় ভঙ্গুর ও অকার্যকর জোটে পরিণত হয়েছে। সার্ক কার্যকর না হওয়ার কারণ কী? অনেকে বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধ। খানিকটা সত্য। আরও সত্য আছে। এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কও সৌহার্দ্যপূর্ণ নয়। যে প্রতিদান তারা প্রতিবেশীর কাছে আশা করে, সেই প্রতিদান দিতে প্রস্তুত নয়।
স্মরণ করতে পারি যে, সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি না করেই আসিয়ান দেশগুলো চীনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ সার্বিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। আমরা পারিনি। এখনো বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে ঘুরেফিরে পুরোনো বিষয়গুলোই স্থান পাচ্ছে। সড়কের গতিবিধি কী হবে, পানিবণ্টন চুক্তি হবে কি না, সীমান্ত বিরোধ মিটবে কবে, ভিসাব্যবস্থা আরও সহজ করা যাবে কি না ইত্যাদি। এসব সমস্যা জিইয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক খুব বেশি এগিয়ে নেওয়া যায় না। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ২৬ শতাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য হলেও সার্ক দেশগুলোর মধ্যে হচ্ছে মাত্র ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি মৈত্রী নয়, বৈরিতার লক্ষণ।
সম্ভবত দুটি কারণে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা সংকটের সমাধান না করে জিইয়ে রাখেন। প্রথমত, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের মধ্যে একধরনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব জাগিয়ে রাখা। দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশীর কাছ থেকে হুমকি আসতে পারে—এই অজুহাতে জনগণকে মৌলিক ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা। তবে অনেক দেশের সেই ক্ষমতাও নেই। ১৯৪৭ সালে এই অঞ্চলের হিন্দু-মুসলমান নেতারা সাম্প্রদায়িকতার যে বীজ বপন করেছিলেন, সেটাই এখন বিষবৃক্ষে রূপ নিয়েছে। সমূলে এই বিষবৃক্ষের উৎপাটন ছাড়া এ অঞ্চলে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি আনা যাবে না। তখন আমাদের নেতারা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন যে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করা গেলেও কোনো দেশ থেকে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষকে একেবারে উচ্ছেদ করা যায় না। সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত ও উৎপীড়িত রেখে দেশকেও খুব বেশি এগিয়ে নেওয়া যায় না। পূর্ব ও পশ্চিমের যেসব দেশ এসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে সচেষ্ট হয়েছে, তারা কিছুটা হলেও এগিয়ে গেছে। আর যেসব দেশ গায়ের জোরে ভিন্ন মতকে স্তব্ধ করে দিতে চাইছে, সেসব দেশে ঘোষিত-অঘোষিত গৃহযুদ্ধ চলছে।
আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যই হলো সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ। দুর্ভাগ্য, দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ রাষ্ট্রের অধিপতিরা সেটি বুঝতে চান না। তাঁদের কাছে রাষ্ট্র মানে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ। তাঁদের কাছে রাষ্ট্রীয় বিরোধ জিইয়ে রাখা। তাঁরা প্রতিবেশীকে শত্রুজ্ঞান করে নিজের নীতি ও কৌশল ঠিক করেন। সবকিছু দেখেন সংকীর্ণ জাতীয়তা কিংবা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। তাঁরা সীমান্তের ওপার দূরে থাক, নিজ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা-অনিচ্ছাও বুঝতে চান না।
এসব ক্ষেত্রে গণমাধ্যম বা সাংবাদিকদের ভূমিকা কী হবে? তাঁরা কি রাষ্ট্রের চালকদের নীতিকে সমর্থন করবেন? তাঁরা কি অন্য দেশের মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকবেন, আর নিজ দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাবলি উপেক্ষা করবেন? তাঁরা কি সরকারের ভাষায় কথা বলবেন, নাকি উৎপীড়িত ও দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়াবেন? তাঁদের লেখার ও বলার কেন্দ্রে কী থাকবে—সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ, না মানুষ? কার কণ্ঠস্বর হবেন তাঁরা—ক্ষমতান্ধ রাজনীতি, নাকি মানুষের কল্যাণে পরিচালিত অর্থনীতি? দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বললেন, পীড়িত ও বঞ্চিত মানুষই হবে গণমাধ্যমের কেন্দ্র। সীমান্তের এপারের মতো ওপারের সমস্যাটিও তাঁরা দেখবেন নির্মোহ দৃষ্টিতে। কীভাবে? সেটি সম্ভব পরস্পরকে জানা, শোনা ও বোঝার মাধ্যমে। সেটি সম্ভব পেশাগত সততা ও একাগ্রতার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা যেভাবে ভিন্ন রাষ্ট্রকে দেখতে চান, সাংবাদিকেরা নিশ্চয়ই সেভাবে দেখবেন না। তাঁরা দেখবেন তাঁদের নিজেদের সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে। তাই দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে; নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবেশী দেশের খবর সংগ্রহের জন্য যতটা সম্ভব পশ্চিমা তথ্যমাধ্যমের নির্ভরতা কমাতে হবে। দিনভর এই আলোচনায় আফগানিস্তানে তালেবান হানার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা, পাকিস্তানে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার প্রাণঘাতী লড়াইসহ তালেবানের সঙ্গে সরকারের আলোচনা-প্রক্রিয়া, শ্রীলঙ্কার তামিল বিদ্রোহী দমন থেকে মানবাধিকার হরণ, ভারতে সমরাস্ত্র তৈরির সাফল্য থেকে দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর কশাঘাত, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা ও নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা গুরুত্ব পায়। ভুটান এই অঞ্চলের সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত।
সব বিষয়ে যে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন, তা নয়, বরং তালেবান উত্থান, কাশ্মীর সমস্যা, আফগানিস্তানে মাদক ব্যবসার উৎস ইত্যাদি নিয়ে প্রবল মতভেদ লক্ষ করা গেছে। কিন্তু একটি বিষয়ে প্রায় সব দেশের সাংবাদিক প্রতিনিধিরাই একমত হন যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আন্তরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ বিরোধই উন্নয়নের প্রধান বাধা। এই বাধা অবশ্যই দূর করতে হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে, মানবাধিকারের স্বার্থে এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে পরস্পরকে মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রশ্ন হলো, দক্ষিণ এশীয় নেতারা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবেন? তাঁরা কি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবেন, নাকি এই অঞ্চলকে চিরতরে গরিব করে রাখবেন? তাঁরা কি এ অঞ্চলের পৌনে দুই শ কোটি মানুষকে নিজেদের ভাগ্য গড়ার সুযোগ দেবেন, নাকি তাঁদের দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করবেন?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1347)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
March
(350)
-
▼
Mar 16
(8)
- বিশেষ সাক্ষাত্কার : অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ- ‘লিটল প...
- হলফনামা- কেন এই স্ববিরোধিতা? by বদিউল আলম মজুমদার
- মমতার জয়ের অভিলাষ! by অমর সাহা
- চৌদ্দগ্রামে মন্ত্রীর পিএ- সাংবাদিক মারলে কি হয়? by...
- ছুটছে খেলনা গাড়ি, পিছন পিছন পুলিশ
- তিস্তায় পানি প্রত্যাহার
- অবমুক্ত থাকুক জাতীয় সংসদ ভবন
- সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার খোঁজে
-
▼
Mar 16
(8)
-
▼
March
(350)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
