Thursday, April 28, 2011

পুঁজিবাজারে ভারসাম্যহীনতা উসকে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়

দেশের পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক স্ফীতি পরবর্তী সময়ে এর ধসকে অনিবার্য করে তুলেছিল। কিন্তু এই স্ফীতি ঘটেছিল বাজারে ভারসাম্যহীনতার কারণে। মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ই উসকে দিয়েছিল এই ভারসাম্যহীনতা।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফোরামের শেয়ারবাজারবিষয়ক কার্য-অধিবেশনে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এই ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির বিষয়টি তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে নীতিনির্ধারকেরা, বিশেষত, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার ও সম্পদের বাজারের ক্ষেত্রে চাহিদা-জোগানের প্রভাবটি সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। তারা দুই বাজারকে একইভাবে দেখতে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের সভাপতিত্বে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী। নির্ধারিত আলোচক ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মুজিবউদ্দিন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে মোহাম্মদ হেলাল বলেন, সম্পদের বাজারে চাহিদা বাড়লে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জোগান বাড়ানো যায় না। এটা চাল-চিনির বাজার না যে, ১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যে প্রচুর আমদানি করে বাজারে ছেড়ে দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
মোহাম্মদ হেলাল প্রশ্ন রাখেন, শেয়ারের জোগান বাড়ানোর জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২৫০টি থেকে রাতারাতি বাড়িয়ে ৫০০ করা কি সম্ভব? বাস্তবে এটি সম্ভব নয়। মোহাম্মদ হেলাল ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জমি কেনায় ঋণ বিতরণে কঠোরতা আরোপ করায় ঋণযোগ্য অর্থ পুঁজিবাজারে ধাবিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে ও মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে করে অর্থ শেয়ারবাজারের দিকেই গেছে।
মোহাম্মদ হেলাল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থপ্রবাহের বাঁধ খুলে দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় তা সঠিক দিকে ধাবিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে করে ‘ফসলের ভালো ফলন হওয়ার বদলে বন্যা’ দেখা দিয়েছে।
হেলালের মতে, সবাই যখন শেয়ারবাজারের দিকে ছুটে যায়, তখন এই বাজারের ধস অনিবার্য হয়ে পড়ে। আর সবাইকে ছুটে যেতে এভাবেই তাড়না তৈরি করা হয়, যা আর্থিকবাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।
এম এ বাকী খলিলী বলেন, দেশে প্রকৃত আমানতের সুদের হার অনেক নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে, বেড়ে গেছে মূল্যস্ফীতি। এতে অনিবার্যভাবে ব্যাংকে আমানত রাখার আগ্রহ কমেছে। ফলে মানুষ ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজারে ছুটে গেছে।
খলিলী আরও বলেন, শেয়ারবাজার আসলে কোনো নিয়মকানুনেই চলেনি। বরং বাজার হয়ে পড়েছে কিছু বড় সুবিধাভোগীর ক্লাব। কিন্তু ২০ লাখের বেশি ছোট-বড় বিনিয়োগকারী যখন এই বাজারে যুক্ত হয়ে পড়ে, তখন স্টক এক্সচেঞ্জ কোনোভাবেই মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী কিছু লোকের হাতে কুক্ষিগত থাকতে পারে না। সে জন্যই দরকার অর্থবহ ডিমিউচুয়ালাইজেশন। অর্থাৎ স্টক এক্সচেঞ্জের কারবার কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আলাদা করা।
বাকী খলিলী নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ব্যাপকভিত্তিক সংস্কারের প্রস্তাব করেন। উপদেষ্টা কমিটির বদলে একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে কমিশন বিশেষত, চেয়ারম্যানকে পর্ষদের কাছে জবাবদিহি করার বিধান চালুর সুপারিশ করেন।
খলিলী বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে এই বলে সতর্কতা দেন, ঋণের অর্থের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য তিনি ঋণসীমা আরোপেরও প্রস্তাব দেন।
নির্ধারিত আলোচক মুজিবুদ্দিন বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেদের অবস্থান নিজেরাই ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে এসইসির এত দহরম-মহরম কেন?
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, প্রতিটি কোম্পানির বার্ষিক আর্থিক হিসাব বিবরণী ও উদ্বৃত্তপত্র যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের অধিদপ্তরে (আরজেএসসি) দাখিল করার কথা। প্রতিষ্ঠানগুলো তা যথাযথভাবে পরিপালন করছে কি না, এসইসি যদি তা দেখে না থাকে, তাহলে তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে বিনিয়োগকারীদেরও প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য-উপাত্ত দেখে সাবধানে বিনিয়োগ করা উচিত।
আইনমন্ত্রী আলোচনায় উঠে আসা বিভিন্ন সুপারিশ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে বিদ্যমান আইনকানুন সংশোধন করা হবে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে কাজে লাগাতে হলে সুন্দর ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, শিল্পঋণ ও এসএমই ঋণের নামে নেওয়া টাকা শেয়ারবাজার গেছে। গেছে মূলত সেকেন্ডারি মার্কেটে, যেখানে চাহিদার স্ফীতি ঘটেছে কিন্তু সেভাবে পুঁজি তৈরি হয়নি।
ফরাসউদ্দিন বলেন, ব্যাংকের ঋণ আমানতের অনুপাতসীমা অনেক ক্ষেত্রেই রক্ষিত হয়নি। শেয়ারবাজারে টাকা খাটিয়ে ব্যাংকগুলো উচ্চ মুনাফা করেছে। এই সুযোগে অনেক ঋণখেলাপি তাদের হিসাব পরিষ্কার করে নিয়েছে।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করার জন্য সরকারের সমালোচনা করেন। এটি করাকে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে কি না, এমন প্রশ্নও তোলেন।

বিজিআইসির লভ্যাংশ ঘোষণা

বিজিআইসির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৮ জুন বেলা ১১টায় ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেন রোডে ঢাকা লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৮ মে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ২.৪৬ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ২১.৬০ টাকা ও নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১.০৮ টাকা।

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। আগের দিনের বড় দরপতনের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবারও তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতে বাজারে যে ধস নেমেছিল, সরকারের নানা পদক্ষেপে তা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। মূলত সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণেই বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করে। কিন্তু ধসের কারণ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনটি ঘিরে আবার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
তাঁদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে কারসাজির জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে এমন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনো ধরনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্দেশনাহীন অবস্থায় নিষ্ক্রিয় থাকাকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন। আর যাঁদের নাম ছাপা হয়েছে তাঁরা তো প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগে থেকেই নিষ্ক্রিয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তদন্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম খালেদ বিভিন্ন সময় বলেছেন যে প্রতিবেদনে যাঁদের নাম এসেছে তাঁরা সবাই দোষী নন। তাই বাজারের স্বার্থে সরকারের উচিত এ বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে নিশ্চিত করা যে, কারা দোষী, কারা দোষ করেনি। হয়তো দোষ না করেও কেবল প্রতিবেদনে নাম থাকার কারণে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগে অংশ নিচ্ছেন না। যদি বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়, তাহলে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনেকে আবার লেনদেনে অংশ নেবে। এতে বাজারে একধরনের গতি সঞ্চার হবে। কাজটি যত শিগগির করা যাবে ততই বাজারের জন্য মঙ্গল। তবে যারা দোষী, তাদের শাস্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাধারণ বিনিয়োগকারীর অর্থ ও ভাগ্য নিয়ে কারসাজি করতে না পারে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ১০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু এর পর থেকে সূচক নিম্নগামী হতে থাকে, যা সারা দিনই ছিল অব্যাহত। দিন শেষে তা ৫৮ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৮০৬ পয়েন্টে নেমে আসে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১২৯ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৩০৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসইতে গতকাল ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ১৩০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৬৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৮ কোটি টাকা কম।

পুঁজিবাজারে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন

দেশের পুঁজিবাজারে আজ বুধবার সাধারণ সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন। তবে লেনদেন শুরু হয় নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়ে ২০ মিনিটের মাথায়ই সূচক ৫৫ পয়েন্ট নেমে যায়। তবে আধা ঘণ্টা পর ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১৭.৫০ পয়েন্ট কমে ৫৭৮৮.৮০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এরপর বেশ কয়েকবার ওঠানামা করে সূচক। তবে বেলা একটার পর থেকে সূচক বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
বিকেল তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ২৭৬.৯৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৮৩.২৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২৩৯টির, কমেছে চারটির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দাম।
এ ছাড়া ডিএসইতে আজ লেনদেনের পরিমাণ ৫০৭ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে ৬১ কোটি টাকার বেশি।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, বেক্সটেক্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ফু-ওয়াং সিরামিকস, আফতাব অটো, মালেক স্পিনিং, বিএসআরএম স্টিল, তিতাস গ্যাস, লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স ও এনবিএল।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ফু-ওয়াং ফুডস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, কাশেম ড্রাই সেল, লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স, দেশবন্ধু পলিমার, এশিয়া ইনস্যুরেন্স, বিডি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রডস, প্রাইম ইনস্যুরেন্স ও বিচ হ্যাচারিজ দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক চার দশমিক ১০ শতাংশ বা ৬৬৯.৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৬৯৭৩.৭৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৮৩টির, কমেছে সাতটির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৭৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা বেশি।

মার্কিন নাগরিকদের সিরিয়া ত্যাগের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের সিরিয়া ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সিরিয়ার মার্কিন দূতাবাস থেকে কিছু কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সেনাদের গুলিতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এসব সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এদিকে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে গণতন্ত্রকামীদের প্রতি সহানুভূতিশীল অন্তত ৫০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির মানবাধিকার সংগঠন সয়াসিহা গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানায়। এদিকে সিরিয়ার সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্রোহ দমন করে ‘স্বাভাবিক পরিবেশ’ ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দারায় সেনা পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার দারায় সেনাদের গুলিতে ২০ জন নিহত হয়।

উপহার দিয়ে মানবকল্যাণ!

ব্রিটিশ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম। কাজেই তাঁর বিয়ে যেমন জাঁকালো হবে, অতিথিদের উপহারগুলোও থাকবে নজরকাড়া। কিন্তু উইলিয়াম ও তাঁর ভাবী বধূ কেট মিডলটন চান না বিয়ের উপহার হিসেবে কেউ কোনো জিনিস দিক। কারণ, কোনো জিনিসের অভাব তো নেই তাঁদের। তাঁরা চান নগদ অর্থ। তবে এ অর্থ নিজেদের জন্য নয়। সবই তাঁরা দান করবেন দাতব্য খাতে, যা মানবকল্যাণে ব্যয় হবে।
উইলিয়াম ও কেট উভয়েই তাঁদের বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি এবং শুভানুধ্যায়ীদের উপহার হিসেবে কোনো জিনিস না দিয়ে নগদ অর্থ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এসব অর্থ ২৬টি দাতব্য সংস্থার সহায়তা তহবিলে দেওয়া হবে। এসব দাতব্য খাত সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, কানাডার কোস্ট গার্ড অক্সিলারি ও অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল ফ্লাইং ডক্টর সার্ভিস এসব অর্থ থেকে সহায়তা পাবে বলে জানা গেছে।
এসব দাতব্য সংস্থার বেশির ভাগই রয়েছে যুক্তরাজ্যে। কিছু দাতব্য সংস্থার সঙ্গে উইলিয়ামের সামরিক পটভূমি জড়িত।

পাকিস্তানে ড্রোন হামলা বন্ধে জারদারির আহ্বান

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দেশটির উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকায় ড্রোন (মনুষ্যবিহীন বিমান) হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত সোমবার কেন্দ্রশাসিত উপজাতি এলাকার আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধিদল জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি এই আহ্বান জানান। এদিকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচিতে গতকাল নৌবাহিনীর দুটি বাসে বোমা হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফারহাতুল্লাহ বাবর জানান, এফএটিএর প্রতিনিধিরা ড্রোন হামলার ঘটনায় মানুষের অসন্তোষের বিষয়ে জারদারিকে অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ড্রোন হামলায় হতাহতের বিষয়টিও জারদারির কাছে তুলে ধরেন।
নৌবাহিনীর বাসে বোমায় নিহত ৪: পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় করাচি শহরের দুটি স্থানে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের বহনকারী দুটি বাসে একই সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন নিহত ও ৫৬ জন আহত হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর গত সাত বছরে এটাই প্রথম বড় হামলা। কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
পুলিশ জানায়, গতকাল দূরনিয়ন্ত্রিত ডিভাইসের মাধ্যমে শহরের দুটি ভিন্ন স্থান থেকে একই সময়ে এই বোমা হামলা চালানো হয়। হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘বোমাগুলো রাস্তার ওপর লুকিয়ে রাখা ছিল। কর্মকর্তাদের বহনকারী বাসটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। দুটি বাসেই নৌ-কর্মকর্তারা ছিলেন।’

চেরনোবিল বিপর্যয়ের ২৫তম বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণ

ইউক্রেনের চেরনোবিল শহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি গতকাল মঙ্গলবার শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁদের স্বজনেরা। গতকাল ছিল সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ২৫তম বার্ষিকী। ওই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশ্বের কাছে আরও সাহায্য চেয়েছে ইউক্রেন।
চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেই বিস্ফোরণ ও পরে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ায় বহু লোকের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া যাঁরা জীবিত ছিলেন তাঁদের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল রাত একটা ২৩ মিনিটে চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থলে নিহত হয় ৩১ জন। সে সময় ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চেরনোবিল দুর্ঘটনাকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় বলে বিবেচনা করা হয়। ২৫ বছর আগের এই দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইউক্রেন।
চেরনোবিল দুর্ঘটনার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় গতকাল রাজধানী কিয়েভে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী মাইকোলা আজারভ বলেন, চেরনোবিল বিপর্যয়ে ইউক্রেনের মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১৮০ বিলিয়ন ডলার এবং বিগত বছরগুলোতে দেশটির মোট বাজেটের ১০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে পরমাণু বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে।

জনগণের কাছে মহাকাশ স্টেশনের নাম চেয়েছে চীন

ভবিষ্যৎ মহাকাশ স্টেশনের জন্য নাম ও লোগো দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। গতকাল মঙ্গলবার এই আহ্বান জানানো হয়।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথে মানুষ পাঠিয়েছে চীন। এরপর চীনের দুটি মনুষ্যবাহী যান কক্ষপথে যায়। ২০০৮ সালে প্রথম মহাশূন্যে হাঁটেন চীনা নভোচারীরা।
চলতি বছরের আরও পরের দিকে মহাকাশ স্টেশনের প্রথম মডিউল চালু করার আশা করছে তারা। এরপর একটি মনুষ্যবাহী যান মহাকাশ স্টেশনে গিয়ে ভিড়বে।
জনগণের কাছে মহাকাশ স্টেশন, স্টেশনের কমান্ড মডিউল, দুটি ল্যাবরেটরি মডিউল এবং সরবরাহ যানের নাম চাওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানে ন্যাটোর হামলায় আল-কায়েদার শীর্ষনেতা নিহত

আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা আল-কায়েদার এক শীর্ষনেতাকে হত্যা করেছে। সৌদি বংশোদ্ভূত এ নেতা আফগানিস্তানের পলাতক দুই শীর্ষনেতার অন্যতম।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিসটেন্স ফোর্স (আইএসএএফ) জানিয়েছে, নিহত আল-কায়েদা নেতার নাম আবু হাফস আল-নাজদি। তিনি আবদুল ঘানি নামেও পরিচিত ছিলেন। আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে গত ১৩ এপ্রিল এক বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
আইএসএএফ জানায়, বেশ কয়েকটি বড় জঙ্গি হামলায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন আবু হাফস। এ জন্য চার বছর ধরে তাঁকে খোঁজা হচ্ছিল। তবে সংস্থাটির মুখপাত্র মেজর মাইকেল জনসন জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ওই হামলাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাচ্ছেন না।
আইএসএএফ জানায়, আবু হাফস পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী কুনারেই মূলত তাঁর কার্যক্রম চালনা করতেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কুনারে আল-কায়েদার সদস্য নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধা মোতায়েন, ক্ষেপণাস্ত্র চালনা, সংগঠনের অর্থ জোগাড়সহ আফগান ও ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।

মুম্বাই হামলার আরও চার ষড়যন্ত্রকারীর নাম প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার আরও চার ষড়যন্ত্রকারীর নাম প্রকাশ করেছেন। মুম্বাইয়ে হামলা ছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে ভারত ও ডেনমার্কে আরও কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন আইনজীবীরা গত সোমবার শিকাগোর একটি আদালতে পাকিস্তানের নাগরিক ওই চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে। তাঁরা হলেন সাজিদ মীর, মাজহার ইকবাল, আবু কাহাফার ও মেজর ইকবাল। এরা সবাই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
২০০৯ সালে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করে আসছে। হেডলি হামলার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের কথা স্বীকার করেছেন। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়।
দোষ স্বীকার করায় হেডলিকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তাঁর কাছ থেকে এই স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দুই দেশের তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবেন।

তৃতীয় দফা ভোট গ্রহণ আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আজ তৃতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। কলকাতাসহ উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ৭৫টি আসনে এ ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে কলকাতা মহানগরে ১১টি, পার্শ্ববর্তী উত্তর চব্বিশ পরগনায় ৩৩টি ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ৩১টি আসন রয়েছে। নির্বাচনে ৪৭৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৪৬ জন। সব কটি আসনেই বামফ্রন্ট, কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ও বিজেপির মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ দফায় ১৭ হাজার ৭৯২টি বুথে এক কোটি ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৬ জন ভোটার ভোট দিচ্ছেন।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ৬১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যসহ ১২ জন মন্ত্রীর ভাগ্য আজকের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। পক্ষান্তরে রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, সাবেক মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ফিকি) মহাসচিব অমিত মিত্র, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য সচিব মনীষ গুপ্তের সাফল্যের ওপর তৃণমূল কংগ্রেসের ভাগ্য নির্ভর করছে। মনীষ গুপ্ত লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে। আর অমিত মিত্র লড়ছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য মন্ত্রীরা হলেন: গৌতম দেব, অসীম দাসগুপ্ত, আ. রেজ্জাক মোল্লা, রণজিৎ কুন্ডু, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, রেখা গোস্বামী, দেবেশ দাস, সুভাষ নস্কর, অনাদি সাহু, আবদুস সাত্তার, মোর্তজা হোসেন প্রমুখ।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ছয় দফার নির্বাচনে গত ১৮ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট নেওয়া হয়। ওই দিন ছয়টি জেলার ৫৪টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। এরপর ২৩ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে রাজ্যের ৫০টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। পরবর্তী দফায় আগামী ৩, ৭ ও ১০ মে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে ১৩ মে।
নিরাপত্তা জোরদার: আজকের নির্বাচনকে ঘিরে কলকাতা মহানগরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কলকাতায় ৮০১টি নির্বাচনী কেন্দ্রে দু্ই হাজার ৭৭৯টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কেন্দ্রকে অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো: এন্টালি, বেলেঘাটা, মানিকতলা, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো ও কলকাতা বন্দর। এই ছয়টি কেন্দ্রের ৩৪৫টি বুথকে অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করায় সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার ৪৮টি থানাকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কলকাতায় পুলিশের ১৬ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সঙ্গে থাকছে ৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানেরা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকেও। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করতে কলকাতার পুলিশ সদর দপ্তর লালবাজারে বসানো হয়েছে তিনটি স্যাটেলাইট কন্ট্রোল রুম।
প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা: ’ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে আজকের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪৭৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯ জন, বিজেপির ১৩ জন, সিপিএমের ১০ জন, কংগ্রেসের একজন ও আরএসপির একজন প্রার্থী রয়েছেন।

আল-কায়েদা নেতা ব্রিটিশ গোয়েন্দাসংস্থার হয়ে কাজ করতেন!

পাকিস্তানে ২০০২ সালে দুটি গির্জা ও একটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলা চালানোর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক আল-কায়েদার নেতা আদিল হাদী আল জাজাইরি বিন হামলিলি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর হয়ে কাজ করতেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ধারণা। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন নথির উদ্ধৃতি দিয়ে গার্ডিয়ান ও নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।
নথিতে বলা হয়, আলজেরিয়ার নাগরিক হামলিলি দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে মুজাহিদদের হয়ে তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০২ সালে পাকিস্তানের দুটি গির্জা ও একটি হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
নথিতে দাবি করা হয়েছে, আল-কায়েদার হয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি একই সঙ্গে তিনি এমআইসিক্স ও কানাডার একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করতেন। ২০০৩ সালের জুনে পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইএর হাতে তুলে দেয়। আফগানিস্তানে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাঁকে কিউবার গুয়ানতানামো বে বন্দী শিবিরে নেওয়া হয়।
নথিতে বলা হয়, সিআইএ জানতে পারে হামলিলি পাকিস্তানে কার্পেটের ব্যবসা করতেন। তিনি পেশোয়ার থেকে দুবাইয়ে কার্পেট সরবরাহ করতেন। তবে এটা তাঁর মূল কাজ ছিল না। মূলত তিনি এমআইসিক্স ও কানাডার একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করছিলেন। আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে হামলিলির ভালো সম্পর্ক ছিল জেনে তাঁকে তারা ২০০০ সালে তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তবে তিনি ওই দুই গোয়েন্দা সংস্থাকে কী ধরনের তথ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নথিতে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রকাশিত আরেকটি নথিতে বলা হয়েছে, টুইন টাওয়ার হামলার পর আল-কায়েদার একটি ছোট উপদল আবার যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হামলা চালাতে চেয়েছিল। ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মাদ গণবিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোরও ‘স্বপ্ন’ দেখেছিলেন। এ ছাড়া গুয়ানতানামো বে শিবিরে আটক আল-কায়েদার নেতা সাইফুল্লাহ পারাচা যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি জাহাজে পোশাকবোঝাই কনটেইনারে বিস্ফোরক ভরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
উইকিলিকসে ফাঁস করা কিছু নথির অংশবিশেষ কয়েক দিন ধরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট উইকিলিকসের বরাত দিয়ে জানায়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর সুস্থির ছিলেন না ওসামা বিন লাদেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার এই শীর্ষ নেতা এবং তাঁর সহকারী আয়মান আল-জাওয়াহিরি হামলার পর অন্তত তিন মাস আফগানিস্তানের নানা প্রান্তে পালিয়ে বেড়িয়েছেন।
পত্রিকাটি বলেছে, গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক বন্দীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উইকিলিকস এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হামলার চার দিন পর লাদেন আফগানিস্তানে তাঁর অনুসারীদের ‘নাস্তিক হামলাকারী’দের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলার নির্দেশ দেন।
গোপন নথিতে দেখা গেছে, ২০০১ সালের মধ্য ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তোরাবোরা পর্বতের গুহা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়ে যান লাদেন। এই সময়ে তিনি নগদ অর্থের জন্য এতটাই মরিয়া ছিলেন যে একজন আশ্রয়দাতার কাছ থেকে সাত হাজার মার্কিন ডলার ধার নেন।।
নথিতে আরও দেখা গেছে, তোরাবোরা গুহা থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে লাদেন ও জাওয়াহিরি কাবুলের ভেতরে অথবা এর পাশেই সংগঠনের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপন করে সেখান থেকে অনুসারীদের পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। পরে লাদেন তাঁর যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ত্যাগ করেন এবং স্ত্রী-সন্তানদের পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

টাকার জন্য টেস্ট ছাড়িনি: মালিঙ্গা

দিন দুয়েক আগে ভারতের একটি পত্রিকায় যা লিখেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে, কলম্বোয় কাল সেটাই উঠে এল লাসিথ মালিঙ্গার কণ্ঠে। ইনজুরির সময় বোর্ডের সহায়তা না পাওয়া, চুক্তি থেকে বাদ পড়া—দুঃসহ সেই দিনগুলোর কথা মনে করে ধন্যবাদ জানালেন আইপিএলকে, তাঁর ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্য! জানিয়ে দিলেন, হাঁটুটা না ভোগালে টেস্ট ক্রিকেট ছাড়তেন না মোটেও।
মালিঙ্গার অবসরের পর এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতেই গত পরশু হঠাৎ কলম্বোয় উড়ে গিয়েছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের মালিঙ্গা। দেশের মানুষের কাছে নিজের যুক্তিগুলো পরিষ্কার করার ব্যাপারটাও হয়তো মাথায় ছিল। এমনিতে শ্রীলঙ্কায় তুমুল জনপ্রিয় মালিঙ্গা, কিন্তু এখন যে ‘অর্থের কাছে দেশপ্রেম বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ!’
কাল সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করলেন টেস্ট ছাড়ার কারণ, ‘অর্থলোভে টেস্ট ছেড়েছি, বলাটা খুব অন্যায়। আমি কখনোই ধারাভাষ্যকার, কোচ বা আম্পায়ার হতে পারব না। আমি যা পারি, তা হলো বোলিং করা ও উইকেট নেওয়া। আমার হাঁটু প্রতিদিনই আরও দুর্বল হচ্ছে। এখন টেস্ট খেললে সেটির ধকল সামলানো খুব কঠিন হবে।’
২০০৮ সালের শুরুর দিকে হাঁটুর সমস্যায় পড়ার পর ২০০৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রিকেটেই শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলতে পারেননি। ২০০৯ আইপিএলে ১৮ উইকেট নেওয়ার পরই আবার জাতীয় দলে ফেরেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম টেস্ট খেলেছেন গত জুলাইতে। ১০০ টেস্ট উইকেট নেওয়া তৃতীয় শ্রীলঙ্কান কাল ফিরে গেলেন ওই দিনগুলোতেও, ‘ইনজুরির পর কেউ আমার কোনো খোঁজ রাখেনি, বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আইপিএলের জন্যই আমাকে কিছু হারাতে হয়নি, বরং আমার খেলায় উন্নতি হয়েছে। আইপিএলের কারণেই আবার জাতীয় দলে ফিরতে পেরেছি।’
কাল সন্ধ্যায়ই আবার ভারতে ফেরার কথা ছিল মালিঙ্গার।

উইন্ডিজে ভারতীয় তারকাদের দেখতে চায় আইসিসি

আইসিসির সূচি নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত সবাই। খেলোয়াড়েরা চায় টানা ক্রিকেট থেকে বিশ্রাম। আইসিসি চায় প্রতিটি সিরিজেই তারকা খেলোয়াড়েরা নিজেদের উজাড় করে দিক, খেলার আকর্ষণ বাড়াক। কিন্তু এই খেলোয়াড়েরা তো আর যন্ত্র নন, মানুষ। তাঁদেরও বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। রয়েছে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর অধিকার। ইংলিশ ক্রিকেটাররা তো তাঁদের বোর্ডকে হুমকি দিয়েই রেখেছে—যদি কঠিন সূচি থেকে তাঁরা বেরিয়ে না আসে, তাহলে নাকি ধর্মঘটে যেতেও বাধ্য হবেন তাঁরা। এমন একটি পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই তালিকায় রয়েছে, শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ ও মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো তারকারা। টানা ক্রিকেট থেকে একটু ছুটির প্রত্যাশায় এই বিশ্রাম যে তাঁদের প্রার্থিত—সেটা আর বলে দিতে হয় না। বিশ্বকাপের পর পরই শুরু হওয়া আইপিএলের কারণে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দটাও ঠিকমতো উপভোগ করতে পারেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আইপিএলের পর কয়েকদিন একান্তে কাটানোর প্রত্যাশাটা তাই তাঁদের তরফ থেকে বাড়াবাড়ি কিছু নয়।
তবে পুরো ব্যাপারটিতে সায় নেই খোদ আইসিসিরই। সংস্থার প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত মনে করছেন, তারকা ক্রিকেটারদের রেখে ভারতীয় দল যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায়, তাহলে নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
২৮ মে আইপিএল শেষ হওয়ার পর মাত্র ছয় দিনের বিরতি দিয়ে ৪ জুন থেকে শুরু হবে ভারতের উইন্ডিজ সফর। সেখানে একটি টি-টোয়েন্টি, পাঁচটি ওয়ানডে ও তিনটি টেস্ট খেলবে বিশ্বকাপজয়ীরা। একটানা আড়াই মাস বিরতিহীনভাবে খেলার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড শচীন টেন্ডুলকার, অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, বীরেন্দর শেবাগ, হরভজন সিং, জহির খান ও গৌতম গম্ভীরকে বিশ্রামে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে ইতিমধ্যেই জানা গেছে। তবে আইসিসি প্রধান হারুন লরগাত বলেছেন, ‘একজন বা দুইজন তারকা ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেওয়াটা ঠিক আছে। কিন্তু উইন্ডিজ সফরের জন্য একসঙ্গে পাঁচ-ছয়জন তারকাকে বিশ্রাম দেওয়াটা আমার কাছে ভালো লাগছে না। এটার মধ্য দিয়ে আইসিসি নির্ধারিত সফরসূচির প্রতি সুবিচার করা হয় না। সবাই কিন্তু পূর্ণ শক্তিসম্পন্ন দুই দলকেই মাঠে দেখতে চায়।’

ফাইনালে এক পা ম্যানইউয়ের

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গতকাল সেমিফাইনালের প্রথম লেগে শালকে ০৪ কে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার কাজটা অনেকখানিই এগিয়ে রেখেছে ফার্গুসন শিষ্যরা।
প্রতিপক্ষের মাঠে গতকাল আরও বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারত দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ম্যান ইউ। কিন্তু প্রথমার্ধে শালকে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়েরের অসাধারণ প্রচেষ্টায় বেশ কয়েকবার গোল বঞ্চিত হতে হয়েছে তাদের। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে ওয়েইন রুনির অসাধারণ এক পাস থেকে ম্যান ইউকে প্রথম গোলটি এনে দেন ইংলিশ স্ট্রাইকার রায়ান গিগস। দুই মিনিট পরে নিজেই আরেকটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন রুনি।
পরবর্তী সপ্তাহে দ্বিতীয় লেগের খেলায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে আবার মুখোমুখি হবে এই দুই দল। এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলতে আসা শালকের জন্য এখন ফাইনালের টিকিট পাওয়াটা বেশ কঠিনই হয়ে দাঁড়াল। তবে গতকালের খেলায় ম্যানইউই যে সব ক্ষেত্রে ভালো খেলেছে, এটা একবাক্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন সবাই। শালকে ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার মেটজেলডার বলেছেন, ‘ম্যান ইউ সব দিক দিয়েই আমাদের থেকে অনেক ভালো খেলেছে। এটা স্বীকার করতেই হবে। প্রথম ১৫ মিনিট ছাড়া, আমরা বাকি সময়টা খেলায় ভালোমতো ঢুকতেই পারিনি। কিন্তু দ্বিতীয় লেগের খেলায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে আমরা নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলার চেষ্টা করব।’

পুনেকে হারিয়ে চেন্নাই দ্বিতীয় স্থানে

হার না-মানা হাফ সেঞ্চুরি করলেন যুবরাজ সিং। অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি করলেন বাদ্রিনাথও। তবে শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হয়েছে যুবরাজকে। চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে যে ৮ উইকেটে হেরে গেছে তাঁর দল পুনে ওয়ারিয়র্স!
যুবরাজের অপরাজিত ৬২ রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ১৪১ রান তুলে পুনে। জবাবে বাদ্রিনাথ আর রায়নার ব্যাটে ৩ বল বাকি থাকতে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে চেন্নাই। দলের হয়ে বাদ্রিনাথ ৬৩ ও রায়না ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
পুনের বিপক্ষে জয়ের সুবাদে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে চেন্নাই। ৭ ম্যাচে ৪ জয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের অর্জন ৮ পয়েন্ট। অন্যদিকে ৬ ম্যাচে ২ জয়ে যুবরাজের দল পুনের অর্জন ৪ পয়েন্ট।

ভারতের কোচ হলেন ডানকান ফ্লেচার

সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার গ্যারি কারস্টেনের অধীনে পুরোপুরি সফল একটা সময় কাটানোর পর এবার ডানকান ফ্লেচারকে নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাঁর সঙ্গে দুই বছরমেয়াদি একটা চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি এন শ্রীনিবাসন।
কারস্টেনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরই নতুন কোচের সন্ধানে ছিল ভারত। কারস্টেনের উত্তরসূরি হিসেবে সাবেক কিউই অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নাম শোনা গিয়েছিল বেশ জোরেশোরেই। তবে শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার ডানকান ফ্লেচারের হাতেই দেওয়া হয়েছে ধোনি-শেবাগ-যুবরাজদের কোচিংয়ের দায়িত্ব। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, কারস্টেনের পরামর্শ মতোই এই কোচ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে অনুমান করছেন অনেকে।
এর আগে ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য এরিক সিমন্সকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা চিন্তা করেছিল ভারত। এখন হয়তো উইন্ডিজ সফরের আগেই কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ফ্লেচার।
আগামী ৪ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সফরে তিনটি টেস্ট ও পাঁচটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে ভারত।