Saturday, October 23, 2010

গল্প- 'বীথির ভাবনা' by হেলাল আরিফীন

আকাশে মেঘ ডাকছে। বিজলি চমকাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো ঝুপ ঝুপ করে বৃষ্টি নামবে।
বীথি জানালা খুলে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।

গল্প- 'স্বপ্ন' by তাওহীদুর রহমান

বাবা-মা খুব শখ করে ওর নাম রেখেছিল রাজা। একদিন সত্যিই ও রাজা হবে এমন স্বপ্নও হয়তো দেখতো তারা।
কিন্তু সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।

গল্প- 'আবিরের মাধবী লতা' by নিয়াজুল হাসান জুয়েল মোল্লা

আবির তার দাদুকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। কারণ, দাদু একজন উদ্ভিদপ্রেমিক।
দাদু গাছের প্রতি সদা নজর রাখেন। অল্প কয়েকদিন হলো, দাদু শ্রীমঙ্গল ঘুরে এসেছেন।

ফিচার- 'ঝাড়ুদার মাছ' by আরিফ হাসান

আমরা অনেকেই ঝাড়ুদার ভাইদের মানুষই মনে করি না। ভাবি ওরা খুব নীচু শ্রেণীর এক ধরনের প্রাণী।
অথচ তারা রোজ যে কাজটি করেন সেটা যে অনেক উঁচু মাপের কাজ এটা কেউ ভাবিই না।

গল্প- 'এগিয়ে যাবার স্বপ্ন' by মাহফুজা জাহান তাকিয়া

ঈদ। মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব। ঈদ মানবতা, সাম্য ও মৈত্রীর জয়গান সমাজের উঁচু-নীচু সকল স্তরে ছড়িয়ে দিতে আসে।
শিক্ষা দেয় ছোট-বড়, ধনী-গরিব সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবার এক সাথে আনন্দে শরিক হওয়ার।

গল্প- 'লাল ফ্রক' by আবু রায়হান মিকাঈল

কেয়া নাছোর বান্দা। সে হার মানতে চায় না কোন কাজে। আবার যেটার বায়না ধরে, সেটা তার পূরণ করতে হয় ধনী কোটিপতি বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের দুলালী কেয়া।
গত বছর ঈদে তার বাবা সেলিম সাহেব তাকে একটা কালো ফ্রক কিনে দিয়েছিল। কেয়ার সে ফ্রকটি মোটেও পছন্দ হয়নি। তাই সেই বার, সে ঈদে যায়নি।

প্রবন্ধ- ‘আর নয় শিশুশ্রম' by জাকারিয়া হাবিব পাইলট

একজন মোবারকের কথা
ঈদ এলেই আনন্দে ভরে ওঠে মোবারকের মন। কারণটা অবশ্য অন্য সবার থেকে একটু ব্যতিক্রম। সবার যখন আনন্দ নতুন পোশাক কেনার, পোলাও-মিষ্টি খাওয়ার,
ঈদগাহে নামাজে যাওয়ার, কুরবানি দেয়ার কিংবা একসাথে ঘুরে বেড়ানোর সেখানে মোবারকের আনন্দ কেবলই ‘ঈদ মুবারক’ লেখা পোস্টার, বিলবোর্ড আর রেডিও-টিভি ও সবার মুখে মুখে তার নাম শুনতে পাওয়ার আনন্দ।

টেস্টিমনি অব সিক্সটি by জাহীদ রেজা নূর

২১ অক্টোবর একটি বিশেষ দিন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই দিনটির অন্য রকম অর্থ আছে। যাঁরা ইতিহাস নিয়ে নাড়াচাড়া করেন, তাঁরা জানেন, এই দিনটিতে মাদার তেরেসা, সিনেটর এডোয়ার্ড কেনেডিসহ বিশ্বখ্যাত ৬০ জন মানুষের লেখা নিয়ে বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধের আবেদন জানিয়ে টেস্টিমনি অব সিক্সটি নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেছিল অক্সফাম। সংকলনটি এই দিনেই একযোগে বিশ্বের সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বলার অবকাশ রাখে না, বাংলাদেশের পক্ষে, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে সংকলনটি রেখেছিল বিশেষ সহায়ক ভূমিকা।
অক্সফামের তৎকালীন সংগঠক জুলিয়ান ফ্রান্সিস বিষয়টির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘একাত্তরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশের উদ্বাস্তুদের সাহায্যে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম। আমরা তখনো জানতাম না, এই সংকট কত দিন চলবে এবং আদৌ এই সংকটের কোনো রাজনৈতিক সমাধান হবে কি না। অক্সফাম তখন প্রায় পাঁচ লাখ উদ্বাস্তুর জন্য কাজ করে চলেছিল। আমি এক মাস আগে থেকেই পরবর্তী মাসের জন্য পরিকল্পনা করে রাখছিলাম। জানা ছিল, সামনে আসছে শীত, তখন সীমান্ত এলাকার কিছু কিছু স্থানে সংকটটি অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাবে। আরও অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল তখন। কোনো মানবিক সংকটের খবর যখন পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় চলে আসে, তখন মানুষের কাছ থেকেই টাকা তুলে অক্সফাম হতবিল গঠন করতে পারে, কিন্তু সংকটটি কত দিন চলবে, সে সম্পর্কে যদি কোনো ধারণাই না থাকে, তাহলে মানুষকে সে বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা খুবই কঠিন।’
এরপর তাঁরা ভাবতে থাকেন, কী করে বাংলাদেশের উদ্বাস্তু সমস্যাটি মানুষের দরবারে হাজির করা যায়। তখনই একটি ভাবনা তাঁদের মাথায় আসে। যাঁরা সরাসরি এই হূদয়বিদারক দৃশ্য দেখেছেন, তাঁদেরই যুক্ত করা হলো এই প্রচারণায়। উদ্বাস্তু সমস্যা কতটা অসহনীয় হয়ে উঠেছে, তা তাঁরা লিখলেন টেস্টিমনি অব সিক্সটি সংকলনে। জুলিয়ান নিজেই উদ্বাস্তুদের সঙ্গে যাঁরা কাজ করছিলেন, তাঁদের সাক্ষ্য নিয়েছেন কলকাতা থেকে। অক্সফামের প্রধান কার্যালয় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড থেকে এডোয়ার্ড কেনেডিসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এখানে বসেই সুবিখ্যাত সাংবাদিক জন পিলজারসহ অনেকের লেখা নেওয়া হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনেই সংকলনটি প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সারা পৃথিবীর রাষ্ট্রনায়কদের কাছেও এই দিনেই তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
কী ছিল সেই সংকলনে? অনেকেরই নিশ্চয়ই সে ব্যাপারে জানার আগ্রহ আছে।
বাংলাদেশের মৃক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত সৃষ্টির জন্য যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের কয়েকটি লেখা থেকে নেওয়া কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক। অনেকে নিশ্চয়ই এরই মধ্যে জেনে গেছেন, গত বছর আমাদের বিজয় দিবসে প্রথম আলো পত্রিকা সেই টেস্টিমনি অব সিক্সটির অনুসরণে তার বাংলা পাঠ প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ষাটজনের ভাষ্য। এডোয়ার্ড কেনেডি উদ্বাস্তুশিবির পরিদর্শন শেষে লিখেছিলেন, ‘শিশুদের দিকে দেখুন, তাদের ছোট্ট হাড় থেকে আলগা হয়ে ভাঁজে ভাঁজে ঝুলে থাকা ত্বক, এমনকি তাদের মাথা তোলার শক্তিও নেই। শিশুদের পায়ের দিকে দেখুন, পা ও পায়ের পাতায় পানি নেমে ও অপুষ্টিতে ফুলে আছে।...ক্যাম্পের পর ক্যাম্পের গল্প একই। এমনিতেই ঠাঁই হয় না, এমন হাসপাতালে অবিরাম বাড়তে থাকা বেসামরিক মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।...পূর্ব বাংলার ট্র্যাজেডি কেবল পাকিস্তানের জন্য ট্র্যাজেডি নয়, এটা কেবল ভারতের জন্য ট্র্যাজেডি নয়, এটা সমগ্র বিশ্বসম্পদের জন্য ট্র্যাজেডি এবং একই সংকট নিরসনের জন্য একত্রে কাজ করা এই সম্প্রদায়েরই দায়িত্ব। সাধারণ মানবতার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ সত্যকে কবুল করে নিক যে এই বিশাল বোঝা বহন করতে হবে সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে, কেবল ভারতকে নয়।’
মাদার তেরেসা বলছেন, ‘আসুন, আমরা স্মরণ রাখি: পাকিস্তানের মানুষ, ভারতের মানুষ, ভিয়েতনামের মানুষ, যেখানকারই হোক, সব মানুষই স্রষ্টার সন্তান, সবাই তৈরি হয়েছে একই হাতে। এ সমস্যা কেবল ভারতের নয়, গোটা পৃথিবীর। এ বোঝা পৃথিবীরই বহন করা উচিত।’
ডেইলি মিরর-এর জন পিলজার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের ধাপ্পা ধরে ফেলেছে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ—যারা ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ—গণতন্ত্রের জন্য ভোট দিয়েছিল, পরিচালিত হতে চেয়েছিল মধ্যপন্থী পাশ্চাত্য ধাঁচের মধ্যবিত্ত রাজনীতিবিদদের হাতে। সম্ভবত বোকার মতোই তারা তাদের মুক্তির অনুসন্ধান করেছিল, যদিও তাদের যেসব সমস্যা, সে রকম কিছুই আমাদের কখনো মোকাবিলা করতে হয়নি। কেবল এ কারণেই তাদের হত্যা করা হচ্ছে, এমনভাবে দাসত্ববন্ধনে আবদ্ধ করা হচ্ছে, যা এডলফ হিটলারের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যার জন্য গোটা পৃথিবীকে যুদ্ধে নামতে হয়েছিল।’
আমরা সানডে টাইমস-এর আলোচচিত্রী পিটার ডানের কথাও স্মরণ করতে পারি, যিনি বলছিলেন, ‘আমি মুহ্যমান। এই আমি, বহু বছর ধরে পৃথিবীর সব দুর্যোগকবলিত এলাকা সরজমিনে দেখে আসছি, এখানে আমি একেবারে মুহ্যমান। নিজের তোলা ছবি যত ভয়ঙ্করই হোক, একজন আলোকচিত্রী সাধারণত নিজেকে বলে থাকে, ভালো কিছু পেয়েছি। কিন্তু বাংলায় এই প্রবোধের মহৌষধ আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমি সম্পূর্ণভাবে, চূড়ান্তরূপে অসম্পূর্ণ বোধ করতে শুরু করেছি। আসলে যখনই আমার সময় হতো, ক্যামেরা পেলে আমি ওয়ার অন ওয়ান্ট দলের সঙ্গে বেরিয়ে মানুষকে কলেরার প্রতিষেধক ইনজেকশন দিতে সাহায্য করতাম।’
আজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এই দিনটিকে স্মরণ করা হবে। বিকেল চারটায় সেখানে মূল আলোচনায় অংশ নেবেন জুলিয়ান ফ্রান্সিস। তিনি বলবেন সেই দিনগুলোর কথা। টেস্টিমনি অব সিক্সটি নিয়ে যাঁদের আগ্রহ আছে, তাঁরা চলে আসতে পারেন বিকেল চারটায়। টেস্টিমনি অব সিক্সটি থেকে পাঠও থাকবে অনুষ্ঠানে।

পোশাক নয়, কৌপীনটাই আসল by অসীম সাহা

কবি-সাংবাদিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ ‘কৌপীন নয়, পোশাকটাই আসল’ শিরোনামে একটি চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। তিনি তাঁর লেখাটি শুরু করেছেন একজন সিদ্ধপুরুষের প্রতারণার কাহিনি দিয়ে এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সময়ের রাজনীতি, সরকার, সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিরোধী দলের নেত্রী ও তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কেও কিছু কথা বলেছেন।
তিনি প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার কাজটি আধ্যাত্মিক সাধনার চেয়ে কিছুমাত্র কম কষ্টসাধ্য নয়। রাষ্ট্র যেহেতু কোটি কোটি লোকের কারবার, তাই তা ঠিকঠাকভাবে চালানো অসাধারণ দক্ষতা ছাড়া সম্ভব নয়। আমাদের সেই সিদ্ধপুরুষের মতো (আসলে প্রতারক) হলে শেষরক্ষা হওয়া তো দূরে কথা—কোনো রকমে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় উপায় থাকে না। টাইট করে কৌপীন পরা নিয়ে কসরত করতেই যাঁদের সময় পার হয়, তাঁরা লক্ষ্যে পৌঁছার সময় পেতেই পারেন না।’
সত্যিই তাই। আমাদের কিছু নেতা, পাতিনেতা, মন্ত্রী, উপদেষ্টা সব সময় আত্মপ্রচার, স্তাবকতা এবং ভারসাম্যহীন কথাবার্তা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে তাঁদের পক্ষে সাধনা করা তো দূরের কথা, কারও কারও পক্ষে এই সাধনা করেও এসব পদে অধিষ্ঠিত থাকার অধিকার আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠলে তাকে অস্বাভাবিক বলা যাবে না। ছোটখাটো মন্ত্রীদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাঁদের উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন, তাঁরা কী সাধনা করেন এবং কী ধরনের উপদেশ দেন, তা মোদাচ্ছের আলীর মতো লোকদের কথাবার্তা শুনলেই সহজে বোঝা যায়। মুশকিলটা হলো, যাঁর কাজ প্রধানমন্ত্রীকে যথার্থ উপদেশ দেওয়া, তিনিই যখন বালখিল্য উক্তি করে নিজেদের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকেই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দেন, তখন সন্দেহ জাগে মোদাচ্ছের আলীর মতো লোকেরা প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দেওয়া তো দূরের কথা, রাজনীতি কিংবা কূটনীতির সামান্যতম কিছু বোঝেন কি না। তিনি প্রকাশ্যে, সাংবাদিকদের সামনে স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাড়ে ১৩ হাজার জনকে কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে যে নিয়োগ দেওয়া হবে, তার মধ্যে ‘১৩ হাজার ৫০০ পোস্টের একটাও (আল্লাহর ইচ্ছায় দু-একটা যেতে পারে) যাতে আমাদের দলের বাইরে না হয়, পরীক্ষিত কর্মীরা পায়, সেই জন্য আমি মোটামুটি একটা সিস্টেম করছি। আমি তো আমার অফিসারকে বলে দেব, আমার লোককে চাকরি দিতে হবে।’ এই কথা বলে যে অর্বাচীনতার পরিচয় দিয়েছেন, তা এই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য যথেষ্ট।
উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পরে সৈয়দ আবুল মকসুদ যতই বলুন, ‘কৌপীন নয়, পোশাকটাই আসল’, ততই আমার মনে হচ্ছে, আসলে ‘পোশাক নয়, কৌপীনটাই আসল’।
আবুল মকসুদ যে খুব মৃদু ও ভদ্র ভাষায় নাপাক শরীরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ না করার কথা বলেছেন, আমার তো মনে হয়, সে কথা বলারও কোনো সুযোগ নেই। কেননা, এই কথার পর শরীর নাপাক হলো না পাক হলো, তাতেই বা কী এসে যায়! যারা মেধাসম্পন্ন, যারা রাজনীতি করে না, যারা রাজনীতিবিদদের কূটকচাল বোঝে না, সেসব মেধাসম্পন্ন প্রার্থীর তা হলে কী হবে? দেশে যে সংবিধান আছে, যে নিয়মকানুন, বিধিবিধান আছে, তার কোনো রকম তোয়াক্কা না করে প্রধানমন্ত্রীর কোনো একজন উপদেষ্টা এ ধরনের কথা বলতে পারেন, এটা ভাবতেই অবাক লাগে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারকে ডোবানোর জন্য তাঁরা যে ধরনের লাগামহীন ‘সার্ভিস’ দিয়ে যাচ্ছেন, তাতে সরকারের ভরাডুবির পথ উন্মুক্ত হওয়া ছাড়া আর কিছুই হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে যাঁদের মনে সংশয়ের উদয় হয়েছে, তাঁদের অবগতির জন্য জানাই, আমার ধারণা, তিনি চুপ করে বসে নেই। সময়মতো তিনি তাঁর সঠিক ভূমিকাই পালন করবেন, এটা আমার স্থির বিশ্বাস। কেন, ঢাকার সাবেক পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক আওয়ামী লীগের নেতা ইব্রাহিমের হত্যাকাণ্ডে সাংসদ শাওনের জড়িত থাকা না-থাকার ব্যাপারে বেফাঁস মন্তব্য করে কী পরিণতি বরণ করেছেন, তা থেকেই কি প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা স্পষ্ট হয় না? যাঁরা এ ব্যাপারে সমালোচনা করেন, তাঁদেরও আয়নায় নিজেদের মুখটা একটু ভালো করে দেখে নিতে বলি। আর যাঁদের নিয়ে সমালোচকদের চিন্তা, তাঁরা তো জ্ঞানপাপী। জেনে-শুনেই তাঁরা নিজেরা বিষ পান না করে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গলায় তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর বিএনপি তো সুযোগের অপেক্ষায় তীর্থের কাকের মতো হাঁ করে বসেই আছে। প্রতি মুহূর্তেই বিরোধী দলের নেত্রী, মহাসচিব (তাঁরা সভানেত্রী কিংবা সাধারণ সম্পাদক বলেন না, বলেন চেয়ারপারসন, মহাসচিব। কারণ শব্দ দুটি বাংলা নয়, বাংলার প্রতি যে তাঁদের যমের চেয়েও বেশি অরুচি) এবং তাঁদের নেতা-নেত্রীরা এই সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আর সেই হুমকির আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছেন মোদাচ্ছের আলীরা। কিন্তু এই উপদেষ্টাকে সমালোচনা করতে গিয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদ সব দায়টা চাপিয়ে দিয়েছেন বর্তমান সরকারের কাঁধে। তিনি যে বলেছেন, ‘এভাবে যারা (এখানে তাঁর বহুবচন ব্যবহার করা উচিত হয়নি) নিজেদের লোকদের চাকরি দেয়, তাদের যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক, তাকে (হবে তাদের) গণতান্ত্রিক সরকার বলে না—তা (হবে তারা) গণতন্ত্রের কলঙ্ক।’
আসলে ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ প্রবচনটা এই সরকারের ওপর প্রয়োগ করে আবুল মকসুদের মতো লেখকেরা খুব একটা বাহাদুরির কাজ করেন বলে মনে করেন। দল বা সরকারের দু-চারজন অর্বাচীন লোকের জন্য সব দোষ সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কি যুক্তিসংগত? তিনি তাঁর লেখায় যখন বললেন, ‘স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বাজিমাতের পরই বাজি (শ্রদ্ধেয় বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান) ফাটালেন। তার মানে অনেকক্ষণ ধরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সমালোচনা করে তাঁকে ‘বাজিমাত’ করার সুযোগ দিয়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে তাঁর প্রশংসাই করে বসলেন।
আমি বলি কি, সরকার অন্যায় কাজ করে থাকলে তাদের সমালোচনা করুন, কিন্তু সত্যি যদি এই দেশের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকেন, তা হলে এমন কথা বলবেন না, যা নিজের জ্ঞানের বহর এবং রাজনীতির যথার্থতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং মৌলবাদীরা তার সুযোগ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, বর্তমান সরকারকে কোনো বেকায়দায় ফেলতে পারে।
অবশ্য একটা ব্যাপারে আমি সৈয়দ আবুল মকসুদকে ধন্যবাদ দিতে চাই, তিনি অন্তত অন্যদিকেরও একটি সত্য কথা বলেছেন, ‘সবার কথাই বললাম, একটি পদের কথা বাদ পড়েছে। সেটি হলো পার্লামেন্টে বিরোধী দলের নেতা। আমাদের দেশে এই পদটি তুলে দিলেই ভালো ছিল। আমাদের গণতন্ত্রে এই একটি মাত্র পদ, যার কোনো কাজ নেই। রাষ্ট্র তাঁকে অফিস ও লোকজন সবই দিয়েছে কিন্তু রাষ্ট্রকে দেওয়ার মতো কোনো কাজ তাঁর নেই। তিনি দলের কাজ করেন মধ্যরাত পর্যন্ত, দলীয় নেতাদের উপদলীয় কোন্দল মেটান, কিন্তু ঘণ্টা দুই দেশের কাজ করার ফুরসত পান না। অথচ সংসদীয় গণতন্ত্রে গুরুত্বের দিক থেকে বিরোধী দলের নেতার স্থান প্রধানমন্ত্রীর পরেই।’
সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখার মধ্যে অনেক সত্য লুকিয়ে আছে, যাকে আমি পরিপূর্ণভাবে সমর্থন করি। কিন্তু লেখাটি লিখতে গিয়ে তিনি এক রান্নায় সব মসলা ব্যবহারের যে চেষ্টা করেছেন, তাতে লেখাটি অনেকটাই বিস্বাদ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে।
তা হোক, তবু কতগুলো অনিবার্য সত্যের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে তিনি সরকার এবং বিরোধী দল উভয়কে সতর্ক করার যে চেষ্টা করেছেন, তাকে সাধুবাদ জানাই। তবে এ প্রসঙ্গে আমি তাঁকে একটা অনুরোধ করি, একটু ধৈর্য ধরুন না, দেখুন প্রধানমন্ত্রী কী করেন? তা না করে আগেই যদি ধনুকের সব তীর একবারেই ফুরিয়ে ফেলেন, তা হলে ভবিষ্যতে তো কোনো আক্রমণই শাণাতে পারবেন না। সেটা কি একজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন লোকের কাজ হতে পারে?
অবশ্য আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই, আবুল মকসুদ কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এ কথাগুলো বলার চেষ্টা করেননি। যদি তা-ই হতো, তা হলে তিনি কিছুতেই বলতে পারতেন না, ‘রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য মন্ত্রী, উপমন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রীর কথা তিনি ভুলে গেছেন), উপদেষ্টা, সচিব, রাষ্ট্রদূত ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ পাঁচ-ছয় শ মানুষ দায়ী। সব দায়দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে যে যা খুশি তা-ই করবেন, জনগণ তা মেনে নেবেন না।’
না, আবুল মকসুদ শুধু জনগণই নয়, আমি যতটুকু বুঝেছি, তাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এটা মেনে নেবেন না। এই জাতীয় লোকদের যে তিনি অচিরেই শায়েস্তা করবেন, এ বিশ্বাস আমার আছে। অতএব দেখুন, পড়ুন এবং তারপর লিখুন। দেখবেন, সবকিছু পরিপূর্ণভাবে না হোক, অন্তত অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে চলছে।
লেখাটি শুরু করেছিলাম সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখার চমৎকার শিরোনামটির উল্লেখ করে এবং তাঁর শিরোনামটিকে একটু ঘুরিয়ে দিয়ে। কেন বলেছিলাম, একটু খোলাসা করেই বলি। আবুল মকসুদ যে বলেছেন, ‘কৌপীন নয়, পোশাকটাই আসল’, তা-ই যদি সত্যি হয়, তা হলে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পরনেও তো পোশাকই ছিল, তার পরও একজন পোশাকহীন মানুষের মতো তিনি ওই ধরনের কথাগুলো বলতে গেলেন কেন? আসলে শরীরে পোশাক থাকলেই হয় না, আপাতদৃষ্টিতে তাঁকে অনেক সুন্দর মনে হলেও তাঁর পেছনে যে কুৎসিত চেহারাটা ঢাকা পড়ে থাকে, কৌপীনঅলাদের কিন্তু তা থাকে না। তাঁর উজ্জ্বল উদাহরণ গান্ধীজি, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, এমনকি হাল আমলের সৈয়দ আবুল মকসুদও। তা হলে?
অসীম সাহা: কবি ও সাংবাদিক
asimsaha1949@gmail.com

ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ by মামুন রশীদ



বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে বর্তমানে শতকরা দুই অঙ্কের বেশি মুনাফা অর্জিত হচ্ছে। বহু বছরের কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় বিকশিত হওয়ার সুবাদে দেশের ব্যাংক খাত বর্তমান পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের আকর্ষণীয় লভ্যাংশ প্রদান করে দেশের ব্যাংক খাত এখন অনেকটা টেকসই প্রবৃদ্ধির প্রবণতায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিন্তু যৌক্তিক ও মৌলিক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করতে না পারার ব্যর্থতা এবং মুনাফা অর্জনের ‘লোভ’-এর কারণে দেশের ব্যাংক খাতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে এবং এ নিয়ে জনগণের মনেও নানা প্রশ্ন আছে। বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের কেউ কেউ নিজ নিজ ব্যাংকের সুনাম ব্যবহার করে অনাকাঙ্ক্ষিত কীর্তিকলাপ চালানোর পাশাপাশি গোপন লেনদেনেও জড়িত থাকেন বলে পত্রপত্রিকায় সচরাচর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ও পরিচালকেরা দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করায় ব্যাংক খাতের স্বাধীনভাবে পরিচালনা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত সব তথ্য ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাগজপত্রগুলো কতটা সত্য বা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এমনও প্রশ্ন আছে যে অতিরিক্ত রেগুলেশনস বা বিধিবিধানই কি বিভিন্ন ব্যাংকের দৃশ্যত ভালো করার নেপথ্য রহস্য, নাকি বিধিবিধানের দুর্বলতা ও পরিবেশ-পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এসব ব্যাংক উতরে যাচ্ছে?
দেশের ব্যাংক খাতের ভাবমূর্তি প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সাম্প্রতিক কতিপয় ব্যাংক-মালিক সম্পর্কে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় এ আশঙ্কা যেন আরও জোরালো হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, এ কথা ঠিক। তা সত্ত্বেও অনেকের কাছে আমাদের ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রম এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিকতায় রূপলাভ করার পথে শুধু ভাবমূর্তির সংকটই দায়ী নয়, বরং এ ক্ষেত্রে ‘টু পি’ (পিপল ও প্রডাক্ট বা মানবসম্পদ ও পণ্য), ‘থ্রি সি’ (কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড এথিকস, কমপিটিশন ও চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট বা পরিপালনীয় শর্তাবলি মেনে চলা, প্রতিযোগিতা ও ব্যবসা মডেলের নিয়ত পরিবর্তন) এবং ‘ওয়ান টি’র (টেকনোলজি বা প্রযুক্তি) সমস্যাও কিন্তু রয়ে গেছে।
বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিযোগিতার প্রবণতা অবশ্যই ভালো এবং সেটা যদি সুস্থ হয়, তাহলে তাকে স্বাগতও জানাই। কিন্তু এ কথাও মনে রাখতে হবে যে তীব্র প্রতিযোগিতা সব সময় অর্থাৎ অব্যাহতভাবে ইতিবাচক হয় না বা থাকে না, কখনো কখনো নেতিবাচক প্রভাবও ফেলে। অর্থাৎ অনেক সময়ই তা মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার লোভে অসুস্থ ও অনৈতিক চর্চাকেও উৎসাহিত করে। শুধু ব্যাংকগুলোর মধ্যেই নয়, বরং ব্যাংক বনাম অন্যান্য অব্যাংিকং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (নন-ব্যাংক ফিন্যানসিয়াল ইনস্টিটিউশনস—এনবিএফআই) ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) মধ্যেও এমন প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিষয়টি কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কারণ, ব্যাংক ও অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার অনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কোনো নীতি, খবরদারি বা হস্তক্ষেপ এবং গ্রাহকদের প্রচলিত বিধিবিধানের কথা না ভেবে মাত্রাতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। মানে তারাও ব্যাংকগুলোকে অনৈতিক প্রতিযোগিতার পথে ঠেলে দেয়। ব্যাংকগুলোও কখনো কখনো বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকদের মাত্রাতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করে তাদের ধরে রাখতে আইনকানুনকে পাশ কাটিয়ে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কারণ, অন্য কোনো ব্যাংক যদি বেশি সুবিধা দেয় এবং তা প্রচলিত নিয়মকানুনবহির্ভূত হলেও গ্রাহকেরা সচরাচর সেদিকেই চলে যেতে চায়। এভাবে এক ব্যাংককে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গ্রাহককে ধরে রাখতে বা আকৃষ্ট করতে দেখে আরেক ব্যাংকও একই পথে হাঁটতে শুরু করে এবং সেটাই যেন এক ধরনের ‘নিয়মে’ পর্যবসিত হয়। আর চূড়ান্ত পরিণতিতে এটি গোটা ব্যাংক-ব্যবস্থায়ই এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তবে দেশের পুঁজিবাজারের দিক থেকেও ব্যাংক খাতের ওপর প্রভাব বা আঘাত আসে এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও তহবিল সংগ্রহের জন্য দিন দিন ইকুইটি মার্কেটে বা পুঁজিবাজারে আসার হার বাড়ছে। এতে ব্যাংকগুলোর ‘কোর বিজনেস’ বা মৌলিক ব্যবসার ওপরই শুধু প্রভাব পড়ে না, বরং এর পাশাপাশি তাদের বাজার মূলধনের হার কমিয়ে দেয়। দেশের পুঁজিবাজারে ২০০৭ সালে যেখানে ব্যাংক খাতের বাজার মূলধনের হার ছিল ৫৯ শতাংশ, সেখানে চলতি সালের অক্টোবরে তা কমে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে।
আমরা সবাই অনুভব করি যে দেশের ব্যাংক খাতে এখন নিদারুণভাবেই দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে। কারণ, ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের শুধু পুরোনো বা প্রচলিত সেবা দিলেই চলে না, নিত্যনতুন পণ্যসেবাও প্রবর্তন করতে হয়। সে জন্য ব্যাংক খাতে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে, যাতে নিত্যনতুন পণ্যসেবা উদ্ভাবন ও প্রচলনে সহায়ক হয়। তবে দক্ষ মানবসম্পদ ও নতুন পণ্যসেবা প্রবর্তনের পাশাপাশি ব্যাংক খাতকে অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রচলিত আইনকানুন এবং বিধিবিধান পরিপালনের বিষয়েও অবধারিতভাবে সতর্ক ও যত্নশীল হতে হবে। দেশের সব ব্যাংকের জন্য বর্তমানে ব্যাসেল-২ এবং অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস বা স্বয়ংক্রিয় নিকাশঘর চালুর নিয়ম মেনে কাজ করতে হচ্ছে। তবে আইনকানুনের পরিবর্তনও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জবিশেষ। কারণ, অনেক সময়ই সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অধস্তন ব্যাংকগুলোর পরিপালনীয় সক্ষমতা সম্পর্কে যথাযথ গবেষণা না করেই হঠাৎ হঠাৎ কোনো নিয়ম পরিবর্তন কিংবা নতুন নিয়ম প্রবর্তন করে বসে। এতে পরিবর্তিত বা প্রবর্তিত নিয়ম বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে, সংশয় দেখা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট অনেকেই নতুন উপায়ে ‘ম্যানেজ করে’ নতুন নিয়মকানুন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে যারা নিয়মকানুন মেনে কাজ করে, তাদের সঙ্গে এক ধরনের অন্যায্য ও অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়; যে কারণে পরিবর্তিত বা নতুন নিয়মকানুন প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা সম্পর্কে যেমন সংশয়-সন্দেহ দেখা দেয়, তেমনি এ নিয়ে অনেক হইচই হয় এবং কাজও হয় কম।
একজন আইন মান্যকারী হিসেবে আপনি হয়তো এই ভেবে অবাক হবেন যে বিধিবিধান পরিপালনের চেয়ে ‘ম্যানেজ করে চলাটা’ কেন সহজ? আরও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, বিধিবিধান পরিপালনের চেয়ে ‘ম্যানেজ করে চলার’ কারণে কার ক্ষতিটা হয় বেশি? এর চূড়ান্ত জবাব হলো, দেশের প্রত্যেক নাগরিকেরই ক্ষতি হয়। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার মাধ্যমে ব্যাংক খাত আমাদের একটি অহংকার হয়ে উঠতে পারে। সে জন্য অবশ্য নিয়ন্ত্রকদেরও সঠিক সময়ে সঠিক বিধিবিধান বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর একটি যথোপযুক্ত উদাহরণ হলো, দেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন তাদের মূল ব্যবসায় নিম্নহারের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পুঁজিবাজারের ব্যবসায় যোগ দিল, তখন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ওইসব প্রতিষ্ঠানকে তাদের মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আলাদা করে সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ জারি করেছে। যেহেতু সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা ও তদারকির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সেহেতু তাদের সৎ সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং আনন্দের বিষয় যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দেরিতে হলেও তা উপলব্ধি করেছে। নিয়ন্ত্রকেরা, আইনি ব্যবস্থা সৎ হলে অতীতে যেসব অসৎ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এই খাতে ভাবমূর্তির সংকট দেখা দিয়েছিল তা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। প্রচলিত আইনকানুন ও বিধিবিধান পরিপালনের মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেও দেশের ব্যাংক খাতকে টেকসই, লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী করে তোলাটা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ ধরনের গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে আরও অনেক কিছু করতে হবে। দেশে সার্বিক সুশাসন ও জবাবদিহি-পরিস্থিতির উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই পথে এগোতে হবে আমাদের।
মামুন রশীদ: ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক।

বিত্তবানের ভোগসংকোচন আর ঋণগ্রস্তের ভোগবিলাস by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

আমার এক বন্ধুবর চলমান ক্ষুদ্র-বৃহৎ নানা ঘটনার মাধ্যমে আমাদের ও সমাজের বৈষম্য আর অসুস্থ উন্নয়ন প্রতিকূল সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে আমার সঙ্গে দূরালাপনিতে দীর্ঘক্ষণ ধরে মাঝেমধ্যেই হূদয়গ্রাহী আলাপ করেন। একসময় লিখতেনও ভালো। সম্ভবত লেখার অকার্যকারিতা ব্যাখ্যা উপলব্ধি করে লেখা ছেড়ে দিয়েছেন, তবে নিজের চিন্তা, অনুভূতি, চলমান ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে আলাপ করা এখনো ছাড়েননি। তাঁর আলাপ-আলোচনা থেকে পাওয়া তথ্য নিয়েই এই লেখা।
ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আর রাষ্ট্রদূতদের একটি সভায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে এটা বলতেও ভোলেননি, যেহেতু ব্রিটেনের বর্তমান অর্থনীতি ভালো নয়, নিশ্চয়ই আপনারা ফার্স্ট ক্লাস কিংবা বিজনেস ক্লাসে নয়, ইকোনমি ক্লাসেই যাতায়াত করবেন। দেশের নাজুক অর্থনীতির সমাজপালেরা কীভাবে সামাল দেবেন, কীভাবে ব্যয়সংকোচন করবেন, সাধারণ মানুষকে মিতব্যয়ী হতে শেখাবেন, তা নিয়ে নিশ্চয়ই বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমরা সাধারণত সভা-সমিতির বক্তব্য, উপদেশ, নির্দেশ, আদেশ সভায়ই রেখে আসি, যা উন্নত দেশের কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের লোকজনও পালনে সচেষ্ট থাকে।
এরপর কোনো একটি ব্রিটিশ সংস্থার সভায় জানানো হলো, তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ বিধায় তাঁরা শুধু গরম পানি সরবরাহ করবেন, চা খাওয়ার জন্য টি-ব্যাগ প্রত্যেককে নিয়ে আসতে হবে। ফার্স্ট ক্লাস থেকে ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াতের পরামর্শ সর্বপর্যায়ে ব্যয়সংকোচনে কীভাবে কার্যকরভাবে অনুশীলন করা হয়, এর চেয়ে তার অভিনব উদাহরণ আর কী হতে পারে? আরও জানা গেল যে ওই সংস্থাটির মাধ্যমে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সাহায্য পেয়ে থাকে। শুধু তা-ই নয়, সাহায্যকারী এই সংস্থাটির প্রধান নির্বাহীর ব্যবহারের জন্য সার্বক্ষণিক কোনো গাড়িও নেই।
পক্ষান্তরে আমরা নানা দেশ থেকে ঋণ আর সাহায্য নিয়ে বছরের পর বছর ঋণের বোঝা ভারী করছি। অনাগত শিশুরা জন্মই নেবে হাজার হাজার টাকার বোঝা নিয়ে, যা সে কখনো ভোগ করেনি। এই ঋণ ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে কি না, তাও জানা নেই। তবে দারিদ্র্য বিমোচনের নামে যে টাকা আনা হয়, এর একটি বিশাল অংশ ব্যয় হয় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে, বিদেশভ্রমণে এবং অনুৎপাদনশীল খাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্য অপরিবর্তিত রেখে কিংবা অধিকতর দারিদ্র্যে ঠেলে দিয়ে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনীদের তালিকায় একাধিক ভারতীয়র নাম থাকলেও ভারতের রাস্তায় বাংলাদেশের মতো এত দামি গাড়ি নজরে পড়ে না।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের জাতীয় সংসদের স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জিকে গাড়ি বরাদ্দ করতে হিমশিম খেতে হয় সরকারকে। কোনো দামি গাড়িই তিনি ব্যবহার করবেন না, এমনকি ১৩ লাখ রুপি দামি গাড়িও। যদিও প্রায় একই সময়ে পত্রিকান্তরে প্রকাশ সাত গুণ ছোট বাংলাদেশ, বহুগুণ ছোট অর্থনীতির দেশের স্পিকারদের জন্য ৫০ কোটি টাকার গাড়ি কেনা হলো। একদিন সংসদ অধিবেশনে আমাদের মাননীয় সাংসদেরা বললেনও, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা ১৯৮৮ সাল থেকে এ সুবিধা পেয়ে আসছেন, তা চালিয়ে যেতে অসুবিধা কী? ব্রিটেনে অর্থনীতির অবস্থা খারাপ, তাঁরা ইকোনমি ক্লাসে আকাশভ্রমণ করবেন, সভায় টি-ব্যাগ দিতে পারবেন না, কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা তো ভালো, যদিও তাঁদের চেয়ে বছরে ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সাহায্য নিয়ে থাকি।
আমাদের সাংসদেরা যাদের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের গড় উপার্জন বিশ্বের গড়ের হয়তো বা এক-দশমাংশ। দরিদ্র জনগণের প্রতিনিধিরা ত্যাগে অসাধারণ হতে পারেন, তাই বলে ভোগে অসাধারণ হবেন কেন? তাহলে কীভাবে তাঁরা এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে দেশ গড়ার কাজে লাগাবেন। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা অনুভব করার জন্য, উপলব্ধি করার জন্য তাদের কাছে আসতে হবে, তাদের দুঃখের সাথি হতে হবে। যিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন না, তাঁর টাকা থাকলে ইচ্ছামতো ভোগ করলেও বলার কিছু নেই, কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি এমন অবিবেচনার কাজ থেকে বিরত থাকবেন, তা সবাই প্রত্যাশা করেন। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি প্রায় ৮০ বছর বয়সে তাঁর হাঁটুর অস্ত্রোপচারের জন্য ভারতীয় মাটিকেই বেছে নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় নিশ্চয়ই ভারতীয় ধনকুবেরেরাও দেশের মাটিতে এমনকি জটিল চিকিৎসসেবা গ্রহণে উৎসাহিত হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, দেশের চিকিৎসাসেবার মানও নিশ্চয়ই উন্নত হয়েছে।
অতিসম্প্রতি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সফল হওয়ায় দেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের এমডিজি পুরস্কার গ্রহণ করে আমাদের কিছুটা হলেও অনুপ্রাণিত করেছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা নাকি ছিল ১০৩। ভারত আমাদের চেয়ে সাত গুণ বড় দেশ, তার অর্থনীতি নিশ্চয়ই আরও অনেক বড়। তাদের প্রতিনিধিদলের আকার কত বড় ছিল কিংবা পাকিস্তানের, মালয়েশিয়ার, কোরিয়ার? ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ বলে রাষ্ট্রদূতেরা ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াত করেছেন, আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা কি তার চেয়েও ভালো?
বিগত চারটি নির্বাচনের ফলাফল হলো, জনগণ সরকারি দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে (বিরোধী দলকে গ্রহণ করেছে বলাটা নিশ্চয়ই অতিরিক্ত বলা হয়ে যাবে)। দরিদ্র দেশ, অনেক চাহিদা, সম্পদ অপ্রতুল, সব চাহিদা মেটানো যাবে না। সুতরাং সরকারি দলের পুনর্নির্বাচন মোটেও সহজ নয়। বর্তমান সরকার দিনবদলের অঙ্গীকার করেছে। এই অঙ্গীকার সামনে রেখে ব্যয়সংকোচনে নেতাদের অগ্রে থেকে নেতৃত্ব দান করতে হবে। পত্রপত্রিকান্তরে প্রকাশ, নানা স্থানে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সরকারি দলের ব্যানারে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সমস্যা। সাংসদেরা কিছু সুবিধা ভোগ করলে তাঁর জয়ের পেছনে যারা শ্রম দিয়েছে, তাদেরও তো কিছু প্রত্যাশা জাগ্রত হয়। এমনটি যদি মনে হয়, দুর্বল অর্থনীতির দেশের পক্ষে এ চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়, তাহলে এমন প্রত্যাশা যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে—জনপ্রতিনিধিদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা থেকে বিরত থাকতে হবে।
একবার হংকংয়ের এক সদাশয় অধ্যাপক আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ব্যস্ত নগর, প্রত্যেক মানুষ শুধু কাজের পেছনে দৌড়াচ্ছে। চায়নিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের অতিথি ভবন থেকে লক্ষ করলাম, তিন মিনিট অন্তর একটি করে ট্রেন আসছে। হংকংয়ে আবার কেসিআর, এমটিআর এসব নামে একাধিক সাবওয়ে রেল সার্ভিস চালু আছে। আমাকে একজন অধ্যাপক বললেন, একটি সাবওয়ের কিছুটা অংশ সরাসরি না হয়ে একটি আয়তক্ষেত্রের অপর তিন বাহু বরাবর হয়েছে, কারণ লাইনটি সরাসরি করতে হলে পাথরের পাহাড় ভেদ করে টানেল তৈরি করতে হয়। পরে অর্থনীতিবিদেরা হিসাব করে বের করেছেন, প্রতি যাত্রায় ৩০ সেকেন্ড করে বেশি সময়, দিনে প্রতি যাত্রী কবার যাতায়াত করে গুণ ৩৬৫ গুণ প্রতিদিনের যাত্রীসংখ্যা গুণ বছরের সংখ্যা। এভাবে দেখানো হলে প্রতি ভ্রমণে ৩০ সেকেন্ড সময় হারানোর মাধ্যমে হংকং কী বিশাল ক্ষতি বহন করছে। সরকার টানেল করতে বাধ্য হলো। জনগণও বুঝল, তাদের ৩০ সেকেন্ড সময় দেশের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে কিন্তু সদাশয় সরকার প্রতি মুহূর্তেই বোঝাচ্ছে, সাধারণ জনগণের সময়ের কোনো দাম নেই। যেকোনো উপলক্ষেই যানজট সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী অনেকবারই উচ্চারণ করেছেন, বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নই তাঁর লক্ষ্য। সুতরাং দিনবদলের অঙ্গীকার সামনে রেখে বর্তমান সরকারকে নানা সমস্যার মধ্যে রাজধানীতে যানজটেরও একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এ ছাড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাতায়াতজনিত কারণে যানজটের বাড়তি দুর্ভোগ কারও জন্য কাম্য হতে পারে না। উন্নত দেশগুলোর নেতাদের যাতায়াত কিন্তু কখনো জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করে না। আমাদের দুর্বল অর্থনীতির দেশের নেতারা আমাদের চাহিদা মেটাতে পারবেন না, এটা সহজেই অনুমেয়। তবে তাঁদের যাতায়াতকে নিষ্কণ্টক করতে মানুষ অসীম যানজটের স্বীকার হবে, তা-ও কাম্য নয়।
সাধারণ মানুষকে শেখাতে হবে, তার সময় দেশের জন্য কত মূল্যবান, যা হংকংয়ের জনগণকে দেখানো হয়েছে। আমাদের দেশের অর্থনীতি যদি দুর্বল হয়, তাহলে আমাদের নেতাদের ব্যয়সংকোচন অনুশীলন করে সাধারণ মানুষকেও ব্যয়সংকোচনে উৎসাহিত করতে হবে। ব্রিটিশরা যদি ব্যয়সংকোচনের জন্য সভায় চা সরবরাহ বাদ দিতে পারে, তাহলে ঋণগ্রস্ত দেশ হিসেবে আমাদের অনেক কিছুই করার আছে। সুখের বিষয়, আমাদের বর্তমান নেতৃত্বেও এমন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রয়েছে।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

উপাচার্য আমি আর আমরা!

পারিবারিক ব্যবসা প্রচলিত, পারিবারিক রাজনীতিও কম প্রচলিত নয়। তাই একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার ঘটনাও বিচিত্র কিছু নয়। সব সম্ভবের দেশে এটাও সম্ভব যে একজন উপাচার্য তাঁর ভাই, ভায়রা, কন্যা, ভাগনি, দূরসম্পর্কের শ্যালক আর ভাইঝির দেবরসহ কাছে-দূরের আত্মীয়স্বজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চালাচ্ছেন! এ রকম দায়িত্বশীল অভিভাবক কজন আছেন? কতজন পারেন বাসার পাচক-ড্রাইভার ইত্যাদিকে সরকারি অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি জুটিয়ে দিতে? দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের ৪৩টি পদের ২২টিই যিনি এলাকাবাসীকে দিয়ে ভরাতে পারেন, তাঁর মতো জনদরদি আর কে আছেন? ধন্য রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ধন্য তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়। দুর্ভাগ্য কেবল শিক্ষার্থীদের আর উচ্চশিক্ষার।
গত বুধবারের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘একটি পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত না হলে দেশবাসী এ রকম এক স্বজনপ্রিয়, বন্ধুবৎসল, এলাকা-অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারত না। তাঁর কৃতিত্ব তুলনাহীন, মহাজোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর নিয়োগ পাওয়ামাত্রই অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পরিবার-পরিজন দিয়ে ভরিয়ে ফেলতে পারা কম কথা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রারও কম যান না, অনিয়মের পাহাড়ে বসে থেকেও এসব তাঁর চোখে ‘চাঁদের কলঙ্ক’ মাত্র। চাঁদের কলঙ্ক চাঁদের সৌন্দর্য বাড়ায়, উপাচার্যের কলঙ্ক নিশ্চয়ই তাঁর ‘যোগ্যতা ও সুনামের’ প্রমাণ। এমন তুখোড় যিনি, শিক্ষক নিয়োগের বেলায়ও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁকে কেবল চাঁদ বলে খাটো না করে নক্ষত্রই বলা উচিত।
কান টানলে মাথা আসে, দুর্নীতির ব্যাপারে অর্থকড়ির বিষয় থাকবেই। এতসব নিয়োগের বিনিময়ে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কি না, কেউ তার ভাগ পেয়েছেন কি না তা জানা দরকার। জানা দরকার এই অনিয়মের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কোনো ব্যাপার জড়িত ছিল কি না? সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কি এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল? জানলে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?
ঘটনাটি চরম হলেও বিরল নয়। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানেই এ রকম আত্মীয়করণ, দলীয়করণ, অনুগতকরণের ঘটনা গণমাধ্যমে আসে। অবস্থা এমন, যে যেভাবে পারেন পদ, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা খাটিয়ে এ রকম স্বেচ্ছাচার চালান। এ ধারা আর কতকাল চলবে?

সচিব পদে রদবদল

জনপ্রশাসনের ২১ সচিব পদের রদবদল এবং চারজনের ওএসডি হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। এ সরকারের ২২ মাসের শাসনামলে জনপ্রশাসনে একসঙ্গে এত বড় রদবদল আর ঘটেনি। সাধারণভাবে মনে করা হয়, এ ধরনের রদবদলের পেছনে সরকারের দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করে থাকে। অবশ্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে ওএসডি করা, কিংবা এক পদ থেকে অন্য পদে দেওয়া হয়নি।
সরকারের মোট ৪৭টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২১টির সচিব পদে একসঙ্গে রদবদলের অর্থ বলা চলে, গোটা সরকারের প্রায় অর্ধাংশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে পরিবর্তন। একসঙ্গে এত বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সরকার বোধ করেছে—এটা স্বস্তিকর নয়। যেমন স্বস্তিকর ছিল না খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগ যে জনপ্রশাসনে গতিশীলতার পথে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনযন্ত্রের ভেতরেই যদি নিজস্ব গতিশীলতার প্রতিবন্ধকতা কাজ করে, তবে তা ভালো কথা নয়। এই প্রতিবন্ধকতার স্বরূপ যদি রাজনৈতিক হয়, তবে তা প্রজাতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। সহজ কথায়, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গুরুত্বপ্রাপ্ত বা সমাদৃত কর্মকর্তারা যদি পরবর্তী সরকারের আমলে অবহেলিত বা ওএসডি হন এবং তার কারণ যদি হয় সম্পূর্ণভাবে ওই কর্মকর্তার দলীয় রাজনৈতিক আনুগত্য, তবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও গতিশীলতা অনিশ্চিত ও ভঙ্গুর হয়ে পড়তে বাধ্য। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সচিবসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার ৪৬ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল, ১৫ সচিব পদে রদবদল করেছিল এবং সাতজন সচিবকে ওএসডি করেছিল। আর বর্তমান মহাজোট সরকার গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে ১০ সচিবকে ওএসডি করেছে। সর্বশেষ চার সচিবের ওএসডি হওয়ার পর সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ওএসডির সংখ্যা দাঁড়াল ৪৭৩। এটা স্পষ্টতই জনপ্রশাসনের গতিশীলতা নির্দেশ করে না, বরং জনবল ও অর্থের বিপুল অপচয়েরই দৃষ্টান্ত।
মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ঘন ঘন রদবদল কাজের ধারাবাহিকতা ও গতিশীলতা ক্ষুণ্ন করে। কিন্তু দলীয় রাজনৈতিক ধারায় জনপ্রশাসনে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রদবদল অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে বলেই সম্ভবত আমরা গত কয়েক মেয়াদে এ ধরনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করে আসছি। এমনকি ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগ করা সব জেলা প্রশাসককে একসঙ্গে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ কাজটি করেছিল সম্ভবত এই ধারণা থেকে যে ওই জেলা প্রশাসকেরা নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে কাজ না-ও করতে পারেন। অর্থাৎ জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ বা ধারণা যা-ই বলা হোক না কেন, এক জটিল বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
সচিবদের এই রদবদল জনপ্রশাসনের গতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে—এই প্রত্যাশা পূরণ হোক। তবে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান যেমনটি বলেছেন, রদবদলের পরও যদি জনপ্রশাসনের কাজে গতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে বুঝতে হবে, খোদ পদ্ধতির মধ্যেই ত্রুটি আছে। আমাদের মনে হয়, জনপ্রশাসন পরিচালনা, তথা পদায়ন-পদোন্নতি-বদলির পুরো ব্যবস্থাটি নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করার সময় এসেছে।

ইরানে তিন মার্কিন পরিব্রাজকের বিচার আগামী মাসে

ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক তিন মার্কিন পরিব্রাজকের বিচারকাজ আগামী ৬ নভেম্বর শুরু হচ্ছে। এই তিন পরিব্রাজকের দুজন বর্তমানে ইরানের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। অপর একজন গত মাসে জামিনে মুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। এদিকে, গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আটক দুই পরিব্রাজককে মুক্তি দেওয়ার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার অভিযুক্তদের কৌঁসুলি মাসুদ শাফি জানান, ৬ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বিচারকাজ শুরু হবে। বিচারকাজ পরিচালনা করবেন আবুল কাশেম সালাভাতি। ইতিমধ্যে তিন পরিব্রাজকের পরিবারকে বিচার শুরুর তারিখের ব্যাপারে জানানো হয়েছে।
গত বছর অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে জশ ফ্যাটাল, শেন বয়ার ও সারাহ শোর্ড নামের তিন মার্কিন পরিব্রাজককে আটক করে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। এঁদের মধ্যে গত মাসে শোর্ডকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ আজ শুরু

ভারতের বিহার রাজ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভার ২৪৩টি আসনে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে। ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ছয় দফায় এই নির্বাচন চলবে। ২৪ নভেম্বর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
প্রথম দফায় ৪৭টি আসনে নির্বাচন হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৬৮০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ১৫০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে শাসকজোট বিজেপি-জনতা দলের (সংযুক্ত) অন্যতম শরিক বিজেপি। তাদের এমন প্রার্থী ৪১ জন। অপর প্রধান শরিক মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের জনতা দলে (সংযুক্ত) রয়েছেন ৩১ জন প্রার্থী। লালুপ্রসাদ যাদবের রাস্ট্রীয় জনতা দলে ২২ জন, রামবিলাশ পাশোয়ানের লোকজনশক্তি পার্টিতে ১০ জন ও কংগ্রেসে ২০ জন প্রার্থী রয়েছেন।
এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগ। ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ সমীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য দিয়েছে।

সদস্যপদ ফিরে পেলেন পাকিস্তানের ১৬ সাংসদ

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) গত মঙ্গলবার দেশটির ১৬ জন সাংসদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দিয়েছে। এই সাংসদেরা তাঁদের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার পরপরই নির্বাচন কমিশন এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশন যে ১৬ সাংসদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১০ জন পাকিস্তান পিপলস পার্টির সদস্য। এর মধ্যে দুজন মন্ত্রীও রয়েছেন। এর আগে গত সোমবার সম্পদের হিসাব বিস্তারিতভাবে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) দেশটির ১৪১ জন সাংসদের সদস্যপদ স্থগিত করে। একই সঙ্গে এই সাংসদেরা যত দিন তাঁদের সম্পদের হিসাব বিস্তারিতভাবে কমিশনে জমা না দেবেন, তত দিন তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত থাকবে বলে নির্বাচন কমিশন একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেঘারির জীবনাবসান

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদ খান লেঘারি আর নেই। গতকাল বুধবার রাওয়ালপিন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
লেঘারির ছেলে জামাল লেঘারি জানান, তাঁর বাবা হূদরোগে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে রাওয়ালপিন্ডির সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়।
ফারুক আহমেদ খান লেঘারি বর্তমান প্রধান ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্টের মধ্যে তিনি ছিলেন অষ্টম।
১৯৯৬ সালে পিপিপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তিনি সরকার ভেঙে দেন। এরপর বেনজির ভুট্টোর পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিরোধ দেখা দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট পদে মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই লেঘারি পদত্যাগ করেন।

তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের আলোচনা শুরু

আফগানিস্তান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সে দেশের সরকার ও তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা শান্তি আলোচনা শুরু করেছেন। এ আলোচনায় সহযোগিতা করছে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সম্প্রচার গণমাধ্যম এবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসও একই ধরনের তথ্য দিয়েছে।
এবিসি নিউজ জানায়, তালেবানের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা কাবুলে গিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এ ছাড়া তালেবানের অন্য নেতারা আঞ্চলিক পর্যায়ে দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তালেবান নেতাদের নিরাপদে দেখা করার সুযোগ করে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক বাহিনী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তালেবান নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটো বাহিনীর হেলিকপ্টার পর্যন্ত ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গতকাল বুধবার কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে দেওয়া এক ভাষণে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আশা পোষণ করেছেন। তবে সরকারের সঙ্গে তালেবানের শান্তি আলোচনার কথা উল্লেখ করেননি তিনি।
তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার কথা এড়িয়ে গেলেও প্রেসিডেন্ট কারজাই বলেছেন, সরকার ও তার মিত্ররা একটা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে। এক অথবা দুই বছরের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কারজাই বলেন, ‘আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আশা ত্বরান্বিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, প্রতিবেশী বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আমাদের জনগণ সে পথেই এগোচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়টিতে তারা সায় দিয়েছে।’
আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস গত সপ্তাহে বলেন, আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবান নেতাদের আলোচনায় সহযোগিতা করছে ন্যাটো বাহিনী। তবে এ আলোচনা হচ্ছে খুবই প্রাথমিক পর্যায়ের। এটাকে এ মুহূর্তেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা বলা যাবে না।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রিচার্ড হলব্রুকও প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করে বলেছেন, তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের গোপন বৈঠকের খবর অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। পাকিস্তানভিত্তিক আফগানবিরোধীরা এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের আলোচনা হচ্ছে ঠিকই, তবে তা এখনো আনুষ্ঠানিক পর্যায়ের নয়।

আফগানিস্তানে এক-চতুর্থাংশ ভোট বাতিল

আফগানিস্তানে গত মাসে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে পড়া ভোটের এক-চতুর্থাংশ বাতিল করেছে দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। ৫৬ লাখ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে থেকে ১৩ লাখ ভোট বাতিল করা হয়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইলেকশন কমিশনের (আইইসি) প্রধান ফজিল আহমদ মানাবি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ভোট গণনায় জালিয়াতি ও অন্যান্য অনিয়মের কারণে এসব ভোট বাতিল করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে তালেবান শাসন পতনের পর এটা দ্বিতীয় নির্বাচন। বাতিল হওয়া ভোটগুলো মোট ভোটের ২৩ শতাংশের বেশি।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ওলেসি জিরগার ২৪৯টি আসনের জন্য নির্বাচনে আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আইইসি-প্রধান ফজিল আহমদ মানাবি বলেন, নির্বাচনে প্রতারণা ও জালিয়াতি করেছেন এমন ২২৪ জন প্রার্থীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোসহ আগের আরও কয়েক হাজার অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না।

রাহাজানির শহরে নারী পুলিশপ্রধান

মেক্সিকোর অন্যতম সহিংসতাপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত গুয়াদালুপ ডিসত্রিতো ব্রাভোর পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে গত সোমবার দায়িত্ব নিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তাঁর নাম মারিলোস ভ্যালেস গার্সিয়া।
কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার নগরবাসীর ওই শহরে পুলিশপ্রধানের পদে নিয়োগের দরখাস্ত আহ্বান করলে শুধু মারিলোসের দরখাস্ত জমা পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সমকামীদের নেওয়া হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সমকামীদের সেনাসদস্য হিসেবে নিয়োগ শুরু করতে যাচ্ছে। ১২ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সমকামীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয় সেনা কর্তৃপক্ষ। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতে ঝুলে থাকা আবেদনের রায় ঘোষণা হলে এই নীতি বদলে যেতে পারে।
সমকামীদের অধিকার নিয়ে কর্মরত সংগঠন লগ কেবিন রিপাবলিকান সামরিক বাহিনীতে সমকামীদের অধিকার নিয়ে মামলা করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ভার্জিনিয়া ফিলিপস এই রায় দেন। প্রতিরক্ষা দপ্তর আদালতের নির্দেশ মানছে কি না, তা পরীক্ষা করতে বেশ কয়েকটি সমকামী সংগঠন সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের জন্য তাদের সদস্যদের পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।
কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট নক্সে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নিয়োগ শাখার মুখপাত্র ডগলাস স্মিথ বলেন, ‘তাঁরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের সমকামী দাবি করে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হতে চাইলে, আমরা তাঁদের নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করব। তবে আমরা এটাও জানিয়ে দেব, বিষয়টি এখনো আদালতে রয়েছে, যেকোনো সময় আইন বদলে যেতে পারে।’
আদালতের এই নির্দেশনার আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সমকামীদের জন্য ‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ নামের নীতি মেনে চলা হতো। এই নীতি অনুযায়ী সমকামীরা সামরিক বাহিনীতে প্রকাশ্যে নিজেদের সমকামী হিসেবে পরিচয় দিতে পারত না।
এর আগে মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সামরিক বাহিনীর এই নীতিতে পরিবর্তন আনতে আইন করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সমর্থনের অভাবে সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

তেলের ডিপো থেকে অবরোধকারীদের হটিয়ে দিয়েছে পুলিশ

ফ্রান্সে বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেলের ডিপো থেকে অবরোধকারীদের গতকাল বুধবার হটিয়ে দিয়েছে পুলিশ। প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির সংস্কার কর্মসূচির প্রতিবাদে সে দেশে গত সপ্তাহ থেকে তেল ডিপোগুলোতে ধর্মঘট ডেকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছেন সেখানকার শ্রমিক-কর্মচারীরা। দেশটির সরকার সতর্ক করে বলেছে, ধর্মঘট-অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতি দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু তাতে অব্যাহত এই বিক্ষোভ বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সংস্কারের ব্যাপারে গতকাল পর্যন্ত সরকারেরও অবস্থান বদলানোর কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।
প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির সরকারের নেওয়া পেনশন সংস্কার কার্যক্রমে সরকারি কর্মীদের অবসর নেওয়ার বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মূলত এর বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানাতে ফ্রান্সজুড়ে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ধর্মঘট ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন শ্রমিক সংঘ।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল ডিপোতে ধর্মঘটের কারণে তেল সরবরাহ-ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। এতে গত মঙ্গলবার দেশটির এক-তৃতীয়াংশ ফিলিং স্টেশন জ্বালানি তেলশূন্য হয়ে পড়ে। তেল ডিপো থেকে অবরোধকারীদের হটিয়ে দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক লাখ আন্দোলনকারী রাজপথে নেমে আসে। গতকাল সকালেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকচালক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা ‘ধীরে চলো’ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
এর আগে এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের অবরোধ ভেঙে তেল ডিপোগুলো মুক্ত করার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট সারকোজি। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ দ্রুত বন্ধ করা না হলে দেশের অর্থনীতির ওপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং চাকরিসহ স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাইস হোর্তেফ্যুঁ বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনটি তেলের ডিপো শান্তিপূর্ণভাবে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে আরও বেশ কয়েকটি ডিপো অবরোধ করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এসব তেল ডিপো অবরোধমুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব আমরা। আমরা দেশকে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে দিতে পারি না।’ ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে মোট ১২টি জ্বালানি তেলের ডিপো রয়েছে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি এসএনসিএফ জানিয়েছে, শ্রমিক-কর্মচারীদের অব্যাহত ধর্মঘট ও বিক্ষোভে ট্রেন চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচলও মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। ফ্রান্সের প্রধান বিমানবন্দর শার্ল দ্য গলের শ্রমিকেরা বিমানবন্দরের প্রবেশপথ অবরোধ করে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর ওরলিতে চার ভাগের এক ভাগ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সারকোজির সরকারের সংস্কার প্রস্তাবে অবসর নেওয়ার পর পূর্ণ অবসর ভাতা পাওয়ার বয়সসীমাও ৬৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করার কথা বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই সংস্কার প্রস্তাব ফ্রান্সের সিনেটে তোলার কথা। শ্রমিক সংঘগুলো জানিয়েছে, সরকারের বাণিজ্য-ঘাটতি কাটাতে তারা বিকল্প প্রস্তাব দিলেও সরকার তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা আলোচনায় বসতে চাইছে না। গত এক সপ্তাহের বিক্ষোভে পুলিশ এক হাজার ৪২৩ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।

ডেমোক্র্যাটদের ভরাডুবির আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভরাডুবির আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তত ৯৯টি আসনে দলটির প্রার্থীরা ঝুঁকির মুখে। কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য রিপাবলিকান পার্টির প্রয়োজন ৩৯টি আসন। দল নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কমপক্ষে ৪০টি আসনে বিরোধী শিবির রিপাবলিকানদের বিজয় নিশ্চিত। এ ছাড়া আরও ৯১টি আসনে দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণায় জোয়ার সৃষ্টির জন্য খোদ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মাঠে নেমেছেন। ফার্স্ব লেডি মিশেল ওবামাও প্রচারণার জন্য তহবিল সংগ্রহ অভিযানে বক্তব্য রাখছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ব্যস্ত রয়েছেন বিরামহীন প্রচারণায়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরিবেশ রিপাবলিকানদের জন্য অনুকূলই মনে করা হচ্ছে। রক্ষণশীলদের অঢেল অর্থ প্রবাহ, মন্দা অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার মন্থরতা, রেকর্ড পরিমাণ লোকজনের বেকারত্ব ডেমোক্র্যাটদের জন্য নির্বাচনী মাঠ প্রতিকূল করে তুলেছে। পাশাপাশি প্রচণ্ড জনপ্রত্যাশা নিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ওবামার জনপ্রিয়তাও এখন নিচের দিকে। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘টি-পার্টি’ নামের অরাজনৈতিক রক্ষণশীল আন্দোলন এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। বণিক সমিতিসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলগুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের পেছনেই অর্থ ব্যয় করছে।
‘রথেন বার্ন রিপোর্ট’ নামের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোষ্ঠীর মতে, কমপক্ষে ৯১টি আসনে দুই দলের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এসব বিশ্লেষণের সূত্র ধরে পলিটিকো পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ৪০ থেকে ৫০টি আসনে রিপাবলিকানরা জয়ী হতে পারে। সংখ্যাটি ৬০টি আসনেও উন্নীত হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
নিউইয়র্কের মতো ডেমোক্র্যাট-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যে অর্ধডজন আসন দলটির হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্কের নগরকেন্দ্রে ডেমোক্র্যাট সমর্থক বেশি হলেও প্রান্তিক এলাকায় রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা নয়টি আসন বাগিয়ে আনতে কাজ করছে রিপাবলিকানরা। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি আসনে প্রাক্-নির্বাচনী জরিপে রিপাবলিকানরা সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন নবীন আইনপ্রণেতারা। ২৯ জন নবীন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার পুনর্নির্বাচিত হয়ে আসাটা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে পলিটিকো উল্লেখ করেছে। নবীনদের মতো অনেক ঝানু ও প্রবীণ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাও সংকটের মুখোমুখি। এর মধ্যে কংগ্রেসে আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান আইক স্কেলটন (মিসৌরি) ও বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান জন স্পার্টের (সাউথ ক্যারোলাইনা) পুনর্নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিউইয়র্ক ছাড়াও উইসকনসিন, ইলিনয় ও আইওয়া অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৩১টি আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ঝুঁকির মুখে। রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের অঙ্গরাজ্যগুলোতে আরও অন্তত ২৪টি আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কংগ্রেসের নির্বাচনী আসন ছাড়াও রিপাবলিকানরা রাজ্য গভর্নর পদে ব্যাপকভাবে জয়ী হয়ে আসার চেষ্টা করছে। ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে ভোট হচ্ছে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে। ফ্লোরিডা, ওহাইয়ো, ভারমন্ট ও অরেগনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীরা জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।
প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট ও এনবিসি কর্তৃক প্রাক-নির্বাচনী সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের ৫০ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে। আর ৪৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে। জরিপে গত এক মাসে রিপাবলিকানদের পক্ষে তিন শতাংশ ভোটার বেড়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট-এর জরিপ-প্রণেতা পিটার হার্ট বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে সক্ষম হবে।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট ওবামার একটি বেতার ভাষণ ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনী এ ভাষ্যে প্রেসিডেন্ট ওবামা পশ্চাৎপদতা থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জনমত জরিপে ৬৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁদের ভোট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য একটি সতর্ক বার্তা।

সীমান্ত হাট চুক্তি হবে দিল্লিতে

সীমান্ত হাট এবং বাংলাদেশি ভূখণ্ডে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশের বিরাজমান কড়াকড়ি শিথিল করার জন্য দুটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করবে দুই দেশ। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের নেতৃত্বে ২১ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলে ভারত সফরকালে এ দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
তবে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশের বিষয়ে কতখানি ছাড় দেওয়া হবে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কত দূর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। বর্তমানে পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক সীমান্তে বাংলাদেশি শুল্ক স্টেশন বা স্থলবন্দর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে পণ্য খালাস করতে পারে। এর বাইরে যেতে পারে না।
বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলটি চার দিনের সফরে আজ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বহু প্রতীক্ষিত সীমান্ত হাট চালু করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হবে নয়াদিল্লিতে। তবে সঠিক দিনক্ষণ জানাতে পারেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, এই হাটে একজন ব্যবসায়ী দিনে ৫০ মার্কিন ডলারের বেশি পণ্য কেনাবেচা করতে পারবেন না। বাংলাদেশি ও ভারতীয় মুদ্রায় কেনাবেচা করা যাবে। দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি সীমান্ত হাটের দেড় কিলোমিটার এলাকা তদারক করবে। পণ্য কেনাবেচা হবে শুল্কমুক্তভাবে। এতে স্থায়ী কোনো অবকাঠামো থাকবে না। হাটের বাংলাদেশ অংশে যতটুকু জায়গায় বাজার থাকবে, ভারতের অংশেও থাকবে ঠিক ততটুকুই।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তসংলগ্ন তিনটি স্থানে সীমান্ত হাট চালুর কথা থাকলেও আপাতত বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম জেলার ভারতীয় সীমান্তে দুটি হাট বসবে।
প্রথম পর্যায়ে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউয়ারঘর ও ভারতের কালিয়াচর এবং কুড়িগ্রাম জেলার বাজিতপুর উপজেলার বালিয়াবাড়ী ও ভারতের নলিকাতা সীমান্তে এই হাট বসবে।
বাণিজ্য প্রতিনিধিদলে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা।
এই সফরকালে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা সে দেশের বাজারে প্রবেশের জন্য সাফটার আওতায় ভারতীয় স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা আরও ছোট করার জন্য অনুরোধ জানাবেন।
ভারতে বাংলাদেশি পাটের ব্যাগ রপ্তানির ক্ষেত্রে বর্তমানে ‘বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত’ লেখাসংবলিত চিহ্ন প্রতিটি ব্যাগের গায়ে সেঁটে দেওয়ার জন্য যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য।
সর্বোপরি অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা অপসারণের বিষয়টি বাংলাদেশের দিক থেকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ঘাটতি মোকাবিলা করছে। এফবিসিসিআইর সংকলিত পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ভারত থেকে ৩২১ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে সে দেশে ৩০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

উত্তরা ফাইন্যান্সের রাইট শেয়ার অনুমোদন পেল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
সংস্থাটির নিয়মিত সভায় গতকাল বুধবার কোম্পানিটির এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এ ছাড়া বৈঠকে অপর আরেকটি অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের অবিতরণকৃত রাইট শেয়ার অবলেখনকারী প্রতিষ্ঠানকে (আন্ডারটাইটার) বরাদ্দ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উত্তরা ফাইন্যান্সের রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
ইসলামী ফাইন্যান্সের ব্যাপারে তিনি বলেন, সম্প্রতি এ কোম্পানিটির বেশ কিছু শেয়ারধারী কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছেন যে তাঁরা রাইট শেয়ার বিতরণসংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি। ফলে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে রাইট শেয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জমা দিতে পারেননি। এ কারণে রাইট শেয়ার থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তাঁরা। বিনিয়োগকারীদের এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এসইসি এরই মধ্যে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই অবিক্রীত শেয়ার কী করা হবে সে ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে।
উত্তরা ফাইন্যান্স বিদ্যমান শেয়ারধারীদের তিনটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ারের প্রস্তাব করবে। অর্থাৎ কোনো শেয়ারধারীর কাছে রেকর্ড ডেট বা শেয়ারের মালিকানা নির্ধারণের দিনের আগ পর্যন্ত তিন হাজার শেয়ার থাকলে তিনি এক হাজারটি রাইট শেয়ার পাবেন।
কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের তিন কোটি ৯৬ লাখ শেয়ারে বিভক্ত। রাইট হিসেবে কোম্পানিটি নতুন করে আরও এক কোটি ৩২ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে।
এর বাইরে গতকালের বৈঠকে বিভাগীয় শহরের বাইরে আর কোনো ব্রোকারেজ হাউসের শাখা খোলা হবে না বলে ৪ অক্টোবর যে নির্দেশনা দিয়েছিল, তা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
এসইসি বলছে, ওই নির্দেশনার আগে যেসব ব্রোকারেজ হাউস শাখা খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন করেছিল, তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে। এ জন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে তাদের কাছে জমা থাকা আবেদন গতকাল বিকেল পাঁচটার মধ্যেই এসইসিতে পাঠানোর কথা বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে যেসব ব্রোকারেজের নাম পাওয়া যাবে কেবল সেসব প্রতিষ্ঠানই শাখা খোলার অনুমোদন পাবে। এরপর আর কোনো হাউসের শাখা খোলার বিষয়টি অনুমোদন করা হবে না।
তবে ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান কার্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে কোনো কার্যালয় থাকলে তা মূল কার্যালয়ের বর্ধিতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।

উদ্বোধনীতে আবদুল্লাহ, সমাপনীতে আশারফুল

আগামী ১২ নভেম্বর চীনের গুয়াংজুতে এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকির হাতে। ২৭ নভেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানে পতাকা বহনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে। এ ছাড়া গেমস উদ্বোধনের আগের দিন গুয়াংজুতে মশাল শোভাযাত্রায় অংশ নেবে বাংলাদেশ। তাতে উপস্থিত থাকবেন দাবাড়ু নিয়াজ মোরশেদ, শ্যুটার শারমিন আক্তার (রত্না) ও গলফার দুলাল হোসেন।
গেমসে বাংলাদেশের পতাকা বহন করার জন্য যে নামগুলো প্রথমেই আসে তাঁরা এখন আর আগ্রহ দেখান না। তাই এ নিয়ে চলে নানা দরবার। তবে শেষ পর্যন্ত একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সিইও কর্নেল (অব.) ওয়ালিউল্লাহর দেওয়া তথ্য আলোচনা করে কাল বিওএর কর্মকর্তারা এই নামগুলো বেছে নিয়েছেন।

হাওয়ার্ডকে ক্ষমা করেননি মুরালি

অস্ট্রেলিয়ায় দুজন ‘চরম শত্রু’ আছে তাঁর। একজন ড্যারেল হেয়ার। ১৯৯৫ সালের বক্সিং ডে টেস্টে হেয়ার ‘অবৈধ অ্যাকশনের’ জন্য সাতবার ‘নো’ ডেকেছিলেন তাঁর বিপক্ষে। আরেকজন জন হাওয়ার্ড। ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাওয়ার্ড তাঁকে বলেছিলেন ‘চাকার’।
প্রথমজনের ওপরই মুত্তিয়া মুরালিধরনের বেশি রাগ থাকার কথা। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, আরেকটি এবং সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে পৌঁছে মুরালি বলছেন, হেয়ারকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমা করতে পারেননি হাওয়ার্ডকে!
৮০০ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো এই অফ স্পিনার বলছেন, হেয়ারের কাজটি তাঁর কাছে মানবিক ভুল বলেই মনে হয়, ‘তাঁকে (হেয়ারকে) আমি ক্ষমা করে দিয়েছি, ভুলেও গেছি। আমি তাঁর আচরণে খুবই হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু ঘটনাটা ভুলে গেছি। কারণ লোকে ভুল করতেই পারে। আমার ধারণা, তিনি ভুল করেছিলেন। আমার অ্যাকশন তো পরে বৈধ প্রমাণিত হয়েছে।’
কিন্তু হাওয়ার্ডের মতো একজন মানুষ, যিনি একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কী করে ওই কথাটি বলতে পারলেন, সেটা মাথায় ঢোকে না মুরালির, ‘হাওয়ার্ড যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটা আমি কখনোই মেনে নিতে পারিনি। আমি ওই মন্তব্যের জন্যই পরের সফরে যাইনি। ও রকম একটা অবস্থানে থেকে তিনি যা বলেছিলেন রাস্তার লোকেও তা বলে না।’
শুধু ‘শত্রু’দের কথা বললে তো চলবে না। অস্ট্রেলিয়ায় এসে ‘মিত্র’ ও ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’ শেন ওয়ার্নের কথা না বললে কী করে হয়! মুরালি তাঁকে নিয়ে বলেছেন, আসলে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনারকে, ‘আমি শেনের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলাটা সব সময় উপভোগ করি। কারণ ও অনেক জানে। শেনের মতো আরেকটা স্পিনার আসতে ২০০ বছর সময় লাগবে। আমি ওর চেয়ে উইকেট বেশি পেয়েছি, কারণ আমি আগে আগে খেলা শুরু করেছিলাম।’

দুই ‘ভাইয়ের’ এই ম্যাচও ড্র

‘বড়’ ভাই শেখ কামালের আবাহনী আর ‘মেজো’ ভাইয়ের নামে শেখ জামাল ধানমন্ডি ড্র করেছিল ১-১। ‘মেজো’ আর ‘ছোট’ ভাই শেখ রাসেল খেলল কাল। এই লড়াইটাও দেখল না জয়-পরাজয় (০-০)।
‘ভাইদের’ এই অমীমাংসিত লড়াইয়ে সমঝোতার গন্ধ খুঁজতে যাওয়া ভুল। লড়াইটা যখন ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে ওঠার, কে কাকে ছাড় দেয়! জাতীয় দলের ১৪ জন খেলোয়াড়সমৃদ্ধ শেখ জামালের ওপর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একটা তাগিদ আছেই। তা ছাড়া শক্তির বিচারে রাসেল তো কম যায় না। ম্যাচটা তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বারুদই ছড়ায়।
তবে মাঠে দুই দল সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলেই কেবল এটা হতে পারে। তবে শেখ জামাল লড়াইয়ের মঞ্চে বীরত্ব দেখাতে এখনো সেরা একাদশই ঠিক করতে পারেনি। একেক দিন একেক একাদশ খেলানো হচ্ছে। আমিনুল ও এনামুলই শুধু এ পর্যন্ত চার ম্যাচেই একাদশে ছিলেন। আগের ম্যাচের একাদশে থাকা ৫ জন ছিলেন না কালকের একাদশে। দলে এত তারকার ভিড় যে, কাকে রেখে কাকে খেলাবেন কোচ!
আবাহনীর সঙ্গে সুবিধা করতে পারেনি নবাগত দলটি, তবে কাল রাসেলের বিপক্ষে সুস্পষ্ট প্রাধান্য নিয়েই খেলেছে। বল পজেশন, আক্রমণ তৈরি, সবই ঠিকঠাক করেছে। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি লক্ষ্যভেদের ব্যর্থতায়। খানিকটা ভাগ্যের দোষ দিতে পারে শেখ জামাল। শাহেদ, শাকিলের শট ক্রসপিচে আর জাহিদের শট লেগেছে পোস্টে।
শেখ জামালের কোচ জোরান কার্লেভিচের আক্ষেপ, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য। অনেক সুযোগ পেয়েও গোল এল না।’ কোচ যেভাবেই দেখুন, দেশের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে টানা দুটি ম্যাচ ড্র করা শেখ জামালের জন্য ব্যর্থতা নয়? সার্বিয়ান কোচের উত্তর, ‘আট দিনে চার ম্যাচ খেলে আমরা ক্লান্ত।’
লড়াইয়ের মঞ্চে এই অজুহাত টিকবে না—এটা শেখ জামাল ভালো করেই জানে। তবে শেষ গ্রুপ ম্যাচে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে মৌসুম সূচক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে যাওয়ার দরজাটা তাদের খোলাই আছে। দুই ম্যাচে এক পয়েন্ট পাওয়া শেখ রাসেলকে অবশ্য শেষ ম্যাচে জিততেই হবে আবাহনীর বিপক্ষে, নইলে বিদায়!
প্রতিদিনই কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে রেফারিং। কাল দুই দলই সমালোচনা করেছে রেফারি আজাদ রহমানের। কিছু অফসাইডের সিদ্ধান্ত ছিল বিতর্কিত, গোল না হওয়ার অন্যতম বড় কারণও ওটাই।
শেখ জামাল: আমিনুল, সুজন (রেজাউল), আরিফ, মিন্টু শেখ, আতিকুর, মামুনুল, শাহেদ (শাকিল), বাতেন, এনামুল, এমিলি (জাহিদ), তৌহিদুর।
শেখ রাসেল: আল আমিন, আমিনুল, প্রদীপ (উত্তম), বাপ্পি (মাহফুজ), আবাস ইনুসাহ, মরো মোহাম্মদ, মেজবাউল (শাহেদ), মোনায়েম, ইউসুফ, সামির ওমারি, ইউসেফ।

ফাইনালে মানিকনগর ও জেল

প্রথম বিভাগ কাবাডির ফাইনালে উঠেছে মানিকনগর ও বাংলাদেশ জেল। কাল সেমিফাইনালে মানিকনগর উন্নয়ন সমিতি ২টি লোনাসহ ৪৮-৪১ পয়েন্টে অর্বাচীন ক্রীড়াচক্রকে হারিয়েছে। দিনের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ধলপুর ক্রীড়াচক্রের বিপক্ষে ওয়াকওভার পেয়েছে বাংলাদেশ জেল।

রাজশাহী দলে ফিরলেন মুশফিকুর রহিম

জাতীয় লিগে তিন মৌসুম খেলা হয়ে গেছে। এর মধ্যে শুধু প্রথম মৌসুমেই নিজের আসল বিভাগের হয়ে খেলতে পেরেছিলেন মুশফিকুর রহিম। গত দুই মৌসুম তিনি খেলেছেন সিলেট বিভাগের হয়ে। এবারের জাতীয় লিগে জাতীয় দলের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান আবারও ফিরেছেন নিজ বিভাগ রাজশাহীর দলে।
রাজশাহী দলে আছেন আরও এক উইকেটকিপার—খালেদ মাসুদ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবারও অধিনায়ক রাজশাহীর। জাতীয় লিগের ওয়ানডের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে সহ-অধিনায়ক জহুরুল ইসলাম। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ২৩ অক্টোবর খুলনার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলবে রাজশাহী।
রাজশাহী দল: খালেদ মাসুদ (অধিনায়ক), জহুরুল ইসলাম (সহ-অধিনায়ক), জুনায়েদ সিদ্দিক, ফরহাদ হোসেন, নাঈম ইসলাম, নাসির হোসেন, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী, দেলোয়ার হোসেন, শফিউল ইসলাম, সাকলাইন সজীব, শুভাশিস রায়, মুক্তার আলী ও ফরহাদ রেজা। কোচ: শাহনেওয়াজ শহীদ (শানু)। ম্যানেজার: শেখ মামুন।

নতুন রাইফেল নতুন স্বপ্ন

মঞ্চে তখন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন শ্যুটিং ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। কিন্তু সামনের সারিতে বসা সিরাজগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের কিশোরী মিমের সেদিকে মনোযোগ ছিল বলে মনে হয়নি। তাঁর মনোযোগের পুরোটাই সম্ভবত কেড়ে নিয়েছিল পাশে রাখা চকচকে নতুন রাইফেলের কেসটা। ওর মধ্যেই একটি দশমিক ১৭৭ কমপ্রেসড এয়ার রাইফেল। নতুন রাইফেল কখন হাতে তুলে নেবে সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল মেয়েটি। শুধু মিমই নয়, আরও অনেক কিশোর-কিশোরী কাল এসেছিল নতুন রাইফেল বুঝে নিতে।
সারা দেশের ৬০টি ক্লাবকে ২টি করে নতুন রাইফেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত কয়েক মাস আগেই নিয়েছিল শ্যুটিং ফেডারেশন। ওই রাইফেলই কাল তুলে দেওয়া হলো ক্লাব কর্মকর্তাদের হাতে। তৃণমূল থেকে শ্যুটার তুলে আনতেই এই উদ্যোগ ফেডারেশনের।
এর আগে নতুন শ্যুটাররা ব্যবহার করত ওপেন সাইট এয়ার রাইফেল। সস্তা ওই রাইফেলগুলো আন্তর্জাতিক মানের ছিল না। নতুন এই রাইফেলগুলো আধুনিক। তুরস্ক থেকে মাস তিনেক আগে আনা এই রাইফেল নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে শ্যুটাররা। বাংলাদেশে এর আগে জুনিয়র শ্যুটারদের এত উন্নতমানের রাইফেল দেওয়া হয়নি। কমনওয়েলথ গেমসের সোনাজয়ী আসিফ হোসেনের চোখে এরা তাই ভাগ্যবান, ‘এরা অনেক ভাগ্যবান। আমরা এই মানের রাইফেল হাতে পেয়েছি অনেক পরে। কিন্তু এরা শুরুটাই করছে এই রাইফেল দিয়ে।’ চট্টগ্রাম থেকে আসা আনসার ও ভিডিপি রাইফেল ক্লাবের আফসার নতুন রাইফেল পেয়ে দারুণ খুশি, ‘খুব ভালো লাগছে। পুরোনো রাইফেলের ত্রুটির কারণে নিশানায় গুলি লাগাতে সমস্যা হতো। আশা করি, নতুন রাইফেলে ভালো করব। এই রাইফেল দিয়েই একদিন আসিফ ভাইয়ের মতো এসএ গেমসে সোনা জিততে চাই।’

ছয়টি খেলা বাড়ল বিকেএসপিতে

হকিতে তাদের চিরকালই দাপট ছিল। ফুটবলেও অনেক অবদান বিকেএসপির। তবে ইদানীং লোকেরা এই প্রতিষ্ঠানটির নাম বেশি জানে জাতীয় ক্রিকেট দলে তাদের একঝাঁক তারকা ছাত্রের উপস্থিতির কারণে।
হকি, ফুটবল, ক্রিকেটসহ সব মিলিয়ে এত দিন ১০টি খেলার ওপর পড়াশোনা করার সুযোগ ছিল বিকেএসপিতে। এবার যোগ হলো আরও ৬টি খেলা। গতকাল যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিকেএসপির ২৩তম বোর্ড অব গভর্নরসের সভায় আরও অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে ছয়টি খেলা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খেলা ৬টি চালু করা হবে বিকেএসপির তিনটি শাখায়। চট্টগ্রামে যুক্ত হচ্ছে উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দো। খুলনায় টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টন এবং বরিশালে ভলিবল।
খেলাগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে তার ব্যাখ্যা দিলেন বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম সালেহীন, ‘এই খেলাগুলো নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে আগ্রহ আছে। আমরা অনেক দিন ধরেই এগুলো চালু করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু সংকট ছিল, ঢাকায় আমাদের জায়গার সংকুলান হচ্ছিল না। আবার আমাদের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো কার্যত পড়েই ছিল। সে জন্য ইভেন্ট ছয়টি ঢাকার বাইরে চালু করা হচ্ছে।’
শুধু এই ছয়টি খেলা যুক্ত করাই নয়, বিকেএসপি আরও কিছু নতুন খেলা যোগ করতে চাইছে পাঠক্রমে। তবে সেগুলো হতে পারে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ কয়েকটি খেলাধুলা। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকেএসপিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে সম্মান কোর্স চালু করা হচ্ছে।
সভায় বিকেএসপির সিলেট কার্যালয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। এখানে বাফুফে একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল একাডেমি গড়ে তুলবে।

কাকা-লুসিওদের বাতিল করেননি মেনেজেস

দুঙ্গার স্থলাভিষিক্ত হয়েই তারুণ্যনির্ভর দল গড়েন মেনেজেস। সেই থেকেই দলের বাইরে লুসিও, হুলিও সিজার, মাইকন, কাকারা। এঁদের বাইরে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইউক্রেনের বিপক্ষে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলে সবগুলোয় জিতেছে ব্রাজিল। যা আভাস, তাতে কোচের সঙ্গে ব্রাজিলের এই সিনিয়র সদস্যদের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ২০১৪ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজানো কোচ মেনেজেস চান না এই ভুল বোঝাবুঝিটা স্থায়ী হোক। তিনি বোঝাতে চান এঁদের কাউকেই তিনি বাতিল করে দেননি। ‘এই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলাটা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্যের কারণে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতেই এটি দরকার। এটা থেকে তাদের ফেরাতে হবে’—বলেছেন ব্রাজিল কোচ।
পাতো, রবিনহো, থিয়াগো সিলভাদের সঙ্গে কথা হয়েছে আগেই। মেনেজেসের নেতৃত্বে তাঁরা খেলছেনও। ইতালিতে পৌঁছে লুসিও, সিজার, মাইকনদের সঙ্গে আজই তাঁর কথা বলার কথা। এই সফরে তিনি কথা বলবেন চোটের সঙ্গে সংগ্রাম করতে থাকা কাকা ও মার্সেলোর সঙ্গেও।
কাতারের দোহায় ১৭ নভেম্বরের প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ চিরশত্রু আর্জেন্টিনা। আরও দুটি প্রীতি ম্যাচের বন্দোবস্ত করে ফেলেছে ২০১৪ বিশ্বকাপের স্বাগতিকেরা। ফ্রান্স ও জার্মানির বিপক্ষে ব্রাজিলের এই দুটি প্রীতি ম্যাচ হবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ও ১০ আগস্ট।

ইউনুস আবার জাতীয় দলে

পাকিস্তানের ক্রিকেটে ক্ষণে ক্ষণে রং বদলানোর ধারা অটুট রইল। কদিন আগে ব্রাত্য ইউনুস খান ফিরলেন জাতীয় দলে। কাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সভাপতি ইজাজ বাটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সাবেক অধিনায়ক। এর পরই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগামী ওয়ানডে সিরিজের দলে তাঁকে নেওয়া হয়েছে। ইউনুস এরই মধ্যে লাহোরে দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মহসিন খান।
গত অস্ট্রেলিয়া সফরের পর থেকে ইউনুসের সঙ্গে একরকম ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে যায় পিসিবির। আদালতে মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে। ইউনুস কখনোই পিসিবির কাছে মাথা নত করেননি। পিসিবিও ছিল অনড়। অবশেষে টালমাটাল ইংল্যান্ড সফরের ঝড়ের পর ইউনুসকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান বাট। সেই বৈঠকটাই হলো গতকাল। এরই মধ্যে মোহাম্মদ ইউসুফ ইনজুরিতে পড়ায় ইউনুসকে ফেরানো জরুরি হয়ে পড়ে পাকিস্তানের জন্য। অবশ্য তাঁকে শুধু ওয়ানডে দলে রাখা হবে নাকি টেস্টেও, এটা নিয়ে একটা বিভ্রান্তিও দেখা দিয়েছে।

রুনির বিবৃতি

অ্যালেক্স ফার্গুসনের কথাটা বাসি হতে না হতেই সত্যতা মিলে গেল। গতকাল এক বিবৃতি দিয়ে ওয়েইন রুনি নিজেই জানিয়েছেন, তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়তে চান। কারণ হিসেবে রুনি বলেছেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোয় ক্লাবের অসামর্থ্যের কথা। ইংলিশ এই স্ট্রাইকার বলছেন, ‘আমি গত সপ্তাহেও ডেভিড গিলের (ম্যানইউর প্রধান নির্বাহী) সঙ্গে দেখা করেছি। কিন্তু আমি ভবিষ্যৎ স্কোয়াড সম্পর্কে যে নিশ্চয়তা চেয়েছিলাম, তা তিনি দিতে পারেননি।’ তবে রুনি বলছেন, ক্লাবের প্রতি কখনোই তাঁর শ্রদ্ধার কোনো অভাব ঘটেনি।

কারণ খুঁজছে নিউজিল্যান্ড

জিওফ অ্যালটের কথা শুনে তাঁকে মনে হচ্ছে ঝড়ে পড়া উটপাখি। বালুর ঢিবিতে মুখ লুকিয়ে খুঁজছেন আশ্রয়। বাংলাদেশের কাছে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ হারটাকেও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের (এনজেডসি) মহাব্যবস্থাপক কিনা বলছেন সামান্য ‘হোঁচট’ মাত্র! এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই! মুখে অ্যালট যতই নির্ভারতার বারতা দিতে চান, ভেতরে ভেতরে কিন্তু ঠিকই তোলপাড় চলছে। না হলে কি আগামীকাল জরুরি বৈঠক ডাকে এনজেডসি!
সেই সভাতেই কি বিদায় বলে দেওয়া হবে কোচ মার্ক গ্রেটব্যাচকে? অ্যালট অবশ্য কোনো ‘বলির পাঁঠা’ না খুঁজে সবাই মিলে দায় নেওয়ার পক্ষে, ‘যা হয়েছে এর জন্য আমরা সবাই দায়ী। তার পরও আমরা মনে করি, বিশ্বকাপের জন্য আমাদের এই মুহূর্তে সেরা খেলোয়াড় আর সেরা কাঠামোটিই আছে। মানছি বিশ্বকাপ লক্ষ্যের দিকে এগোতে গিয়ে সামান্য হোঁচট খেয়েছি আমরা। এখন এই সমস্যাটিরই সমাধান করতে হবে।’
বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিউজিল্যান্ড ভারতীয় উপমহাদেশে একের পর সফর করছে। আগস্টে শ্রীলঙ্কায় খেলেছে ত্রিদেশীয় সিরিজ। এরপর বাংলাদেশ সফর। কদিন পরই আবার যাচ্ছে ভারত সফরে। অ্যালটের দৃঢ়বিশ্বাস, আগামী ভারত সফরেই ঘুরে দাঁড়াবে দল, ‘অতীতেও এমন পরিস্থিতির মধ্যে আমরা পড়েছিলাম, কিন্তু দ্রুত সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এখনকার পরিস্থিতি অতটা ভয়াবহ কিছু নয়। তার পরও এখান থেকেই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’
অ্যালটের কথা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সাবেক ক্রিকেটার ও সংবাদমাধ্যম যতই সমালোচনামুখর হোক, বোর্ড অন্তত প্রকাশ্যে দলের পাশেই দাঁড়াচ্ছে। তবে আগামীকাল ওয়েলিংটনের জরুরি বৈঠকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখিই হওয়ার কথা ভেট্টোরিদের। কিউই অধিনায়ক ছাড়াও ওই বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয়েছে কোচ মার্ক গ্রেটব্যাচ ও হাই পারফরম্যান্স পরিচালক রজার মোরটাইমারকে। বাংলাদেশের পর দেশে ফিরেও ভেট্টোরি যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তাতে তিনি কী বলবেন সেটি অনুমান করাই যায়। বোর্ডকে আশ্বস্ত করবেন খেলোয়াড়েরা তাঁদের সবটুকু নিংড়ে দিয়েই পরিশ্রম করেছেন। জাতীয় দলের বর্তমান কাঠামোতেও কোনো গলদ নেই। বাংলাদেশে এই বিপর্যয়ের মূল কারণ ব্যাটিং-ব্যর্থতা।
বাংলাদেশ সফরে বোলিংকে দশের মধ্যে সাত দিয়েছেন ভেট্টোরি। ব্যাটিং যে বলতে গেলে নম্বরই পায়নি, সেটি বোঝা যাচ্ছে দেশে ফিরে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলা কথায়, ‘আমরা ভুল থেকে শিখিনি, কন্ডিশনের সঙ্গেও খাপ খাইয়ে নিতে পারিনি। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনের বিপক্ষে আমাদের খেলা ছিল প্রত্যাশা থেকে অনেক দূরে। এ কারণেই প্রায় সময়ই ৬০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট নেই—এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।’
কথা উঠছে ভেট্টোরিকে নিয়েও। সমালোচনার চেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবশ্য সহানুভূতিই তিনি পাচ্ছেন বেশি। দলের নির্বাচক, অধিনায়ক, মূল বোলার তো বটেই, ইদানীং ব্যাটিংয়েও ভেট্টোরির ওপর দল নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে অনেক বেশি। তার ওপর থেকে চাপ কমানোর কথা উঠেছে। ভেট্টোরি অবশ্য বলেছেন, একটা সিরিজে দল ব্যর্থ হয়েছে বলেই এই কথাগুলো উঠছে। বর্তমান কাঠামোর কোনো সমস্যাও তিনি দেখছেন না। ‘সিস্টেম’ নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের জেগে ওঠাটাকেই এই বিপর্যয় থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে দেখছেন ভেট্টোরি।

কিশোর ফিচার- 'আমার ঘুড়ি আকাশ জুড়ি' by মাসুম কবির

পাখিরা ডানা মেলে উড়াল দেয় আকাশে। আর উড়াল দেয় ঘুড়ি। পাখির মতো ইচ্ছা স্বাধীন দূরে যেতে পারে না ঘুড়িরা। কারণ নাটাই তো থাকে মানুষের হাতে।
তুমি শহর কিংবা গ্রামে যেখানেই থাকো ঘুড়ি ওড়ানোর মজা একবার পেলেই হলো। পাখির মতো হাওয়ায় ডানা মেলবে বলে তোমাকে টেনে নিয়ে যায় ঘরের বাইরে। ঘুড়ির দিকে তাকিয়ে কখনো কখনো আনমনা হয়ে যাবেই তুমি ইস্!

কিশোর ফিচার- 'চাই চীনাবাদাম' by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

বাদামজাতীয় খাবারের নাম উঠলে চীনাবাদাম একলাফে চলে আসে এক নম্বরে। অনেক দেশেই ছেলে-বুড়ো সবার অতি প্রিয় খাবার ভাজা চীনাবাদাম।
স্টেডিয়ামে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা চলছে, উত্তেজনা তুঙ্গে, এমন সময় মজে থাকা দর্শক নিজের অজান্তে যে খাবারটি সাবড়ে ফাঁকা ঠোঙা হাতড়ে বেড়ায়, তা ওই চীনাবাদাম।

আলোচনা- 'ধর্মীয় আবেগের আচ্ছাদনে রাজনীতি' by এবিএম মূসা

সাম্প্রতিককালে বিশেষ করে, সংবিধানের সংশোধন-সম্পর্কীয় উচ্চতর আদালতের দুটি রায়ের পর ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি।
ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের নামকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ, গত মঙ্গলবার বিভিন্ন পত্রিকার একটি সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে না’।

অদ্ভুত ফিচার- 'সাপের সঙ্গে বসবাস'

খেলনার টাট্টুঘোড়ার মতো জ্যান্ত অজগরের পিঠে বসে আছে একটি শিশু। আর অজগরটি ঘুরে বেড়াচ্ছে রাস্তায়। এমনটা হয়তো অনেকে কল্পনাতেও আনেন না।
কিন্তু ফিলিস্তিনের রামাল্লার জামাল আমওয়াসির দুই বছরের মেয়েটি ঠিক সেই কাজটিই করছে।

কিশোর আলোচনা- 'দুর্ভাগা হিরোশিমা-নাগাসাকি' by মীর আমজাদ আলী

তোমরা বোধ হয় হিরোশিমা-নাগাসাকির নাম কম-বেশি শুনে থাকবে। আবার কেউ কেউ হয়ত এ নাম শোনেইনি।
আর শুনলেও কেন এবং কী জন্য এ দুটো নাম মনে রাখার মতো তা বিশ্বের ইতিহাস-ভূগোল অন্যান্য ‘বিশ্ব দিবস’ পালনের পাশাপাশি এ দিনটিকেও পালনের জন্য তাগিদ দেয়। দিনটি হলো ৬ আগস্ট। এ দিনে জাপানে যে ঘটনা ঘটেছিল ইতঃপূর্বে বিশ্বে তেমন নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটেনি। সেই নিষ্ঠুর, ভয়ঙ্কর ও লোমহর্ষক ঘটনা তোমাদেরকে এখন বলব।

কল্পিত বিজ্ঞান কাহিনী- 'আবিষ্কার কাজী' by মাসুম বিল্লাহ

বুঝলি রাব্বি! বিজ্ঞানের নিত্য নতুন আবিষ্কার আমার কাছে ভীষণ ভাল লাগে। ধর আমি যদি আরো ৫০ বছর পরে জন্মাতাম তবে তখন বিজ্ঞানের নজরকাড়া অনেক বেশি কিছু আমি দেখতে পেতাম।
ইশ্! আমি যদি বিজ্ঞানী হতে পারতাম- জীবনটা ধন্য মনে হতো।

কল্পিত বিজ্ঞান কাহিনী- 'ছায়াহীন আগন্তুক' by আমিনুল ইসলাম আকন্দ

কারো সাথে কথাও বলে না তেমন। প্রয়োজনে হ্যাঁ-না। কিছু দিন হলো তার এ অবস্থা। আনমনা হয়ে থাকে সারাক্ষণ। কী ভাবছে সে? নাকি কোন অসুখ বিসুখ? তাহলে তো খুবই বিপদ।
একটি মাত্র ছেলে, ক্লাস এইটে পড়ে, এখনই মানসিক সমস্যা! ভেবে আঁতকে ওঠেন মঈনের বাবা রওশন।

কল্পিত বিজ্ঞান কাহিনী- 'জায়ান্ট হান্টার' by মহিউদ্দিন আকবর

শাটাপ্। আর একটা কথাও বলবেন না। একটা সপ্তাহ যাবৎ কম্বিং অপারেশন চালিয়েও আপনারা বুনো ভাল্লুকটাকে ধরতে অথবা মারতেও পারলেন না।
অথচ জানোয়ারটা আমাদের গ্যাসফিল্ডে একের পর এক হত্যা আর ইউনিটের পর ইউনিট পাইপ লাইনের ট্রান্সফরমার ধ্বংস করে চলেছে। ফরেস্ট রেঞ্জার কমান্ডের এই ব্যর্থতাকে আমি কিছুতেই সহ্য করবো না।