Wednesday, April 8, 2026

বনে পাওয়া আহত ঈগলের বাচ্চা সুস্থ হয়ে উঠছে কিশোরের যত্নে

বরগুনায় আহত একটি ঈগলের বাচ্চাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভোগের তত্ত্বাবধানে সেবা–শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তুলেছে হৃদয় নামের এক কিশোর। এক সপ্তাহ আগে ঈগলের বাচ্চাটিকে সামাজিক বন থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈগলের বাচ্চাটি এখন অল্প অল্প উড়তে পারে। বাচ্চাটি এখন সুস্থ। আগামী সপ্তাহে বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা টুলুর চরে এটিকে অবমুক্ত করা হবে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বরগুনা সদর উপজেলা ঢলুয়া এলাকার কয়েকজন কিশোর সামাজিক বনের মধ্যে ঘুরতে যায়। এ সময় তারা ঈগলের বাচ্চাটিকে বনের মধ্যে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে হৃদয় নামের এক কিশোর ঈগলের বাচ্চাটিকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং এক সপ্তাহ ধরে খাবার ও চিকিৎসা দিয়ে সেটিকে সুস্থ করে তোলে। বিষয়টি হৃদয়ের পরিবার বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানায়।

ঈগলের বাচ্চাটি এখন অল্প অল্প করে উড়তে পারে। সারা দিন এটি বাড়ির আঙিনায় ছোটাছুটি করে। কখনো উড়ে গাছের ডালে গিয়ে বসে থাকে। যখন ক্ষুধা লাগে, তখন আবার ফিরে আসে। বন বিভাগের লোকজন ঈগলছানাটিকে হৃদয়ের কাছে রেখে সেবা দিচ্ছেন। এটিকে খাবার হিসেবে মাছ খেতে দেওয়া হয়। আরও একটু বড় হলে ঈগলছানাটিকে বনে অবমুক্ত করা হবে।

ঈগলের বাচ্চাকে সেবা দিয়ে সুস্থ করা হৃদয় বলে, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে জঙ্গলে ঘুরতে যাই। সেখানে ঈগলের বাচ্চাটিকে আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আমি এটিকে বাড়িতে নিয়ে আসি। সেবা দিয়ে পাখিটিকে সুস্থ করা হয়েছে। প্রতিদিন এটিকে বিভিন্ন জাতের মাছ খেতে দেওয়া হয়। পাখিটা বাড়িতে ছাড়া অবস্থায়ই থাকে। কখনো গাছের ডালে, কখনো ঘরের চালায় উড়ে গিয়ে বসে থাকে। ভালো করে উড়তে পারলেই এটিকে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হবে। এটি আমাদের পরিবারের সদস্য এখন। বাবাও পাখিটির সেবা করে, খাবার এনে দেয়।’

বন বিভাগের বরগুনার সদর উপজেলা রেঞ্জ কার্যালয়ের রেঞ্জ সহকারী এম এ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আহত অবস্থায় স্থানীয় জঙ্গল থেকে ঈগলের বাচ্চাটিকে এক কিশোর উদ্ধার করে বাড়িতে এনে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। পাখিটি এখন সুস্থ। ভালো করে উড়তে পারলে এটিকে বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা টুলুর চরে অবমুক্ত করা হবে। বরগুনায় কোনো রেসকিউ সেন্টার না থাকার কারণে আহত, অসুস্থ বন্য প্রাণী ও পোষা প্রাণীদের উদ্ধার করে আনা হলেও চিকিৎসা, শুশ্রূষা দেওয়া সম্ভব হয় না।’

ঈগল পাখির বাচ্চা হাতে বাড়ি আঙিনায় হৃদয়
ঈগল পাখির বাচ্চা হাতে বাড়ি আঙিনায় হৃদয়। ছবি: প্রথম আলো

যুদ্ধে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ অর্জনের দাবি ইরানের, শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনা

যুদ্ধে নিজেদের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ অর্জনের দাবি করেছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। আজ বুধবার এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগেই ১০ দফার একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে বাধ্য করেছে ইরান। এতে ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, অঞ্চলটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই আলোচনায় চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে অধিক মনোযোগ দেওয়া হবে। তবে ‘এর অর্থ এটা নয় যে, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে’।

তথ্যসূত্র: মিডলইস্ট আই

যুদ্ধের ৪০ দিনে কোন দেশে কত জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। শুরুর ৪০তম দিনে এসে আজ বুধবার প্রাণঘাতী এ যুদ্ধের লাগাম টানতে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান।

এ যুদ্ধে কোন দেশে কতজন নিহত হয়েছেন, আসুন দেখে নেই—

ইরান: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক রেডক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯০০ জন।

লেবানন: লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে দুটি পৃথক ঘটনায় জাতিসংঘের তিনজন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। তাঁরা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। লেবাননে নিহতের তালিকার আরও আছেন সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মী।

ইরাক: সংকট শুরুর পর থেকে ইরাকে অন্তত ১১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েল: ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটিতে মোট ২৩ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১১ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ১৩ জন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুজন সেনাসহ মোট ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কাতার: কাতারের জলসীমায় গত ২২ মার্চ ‘নিয়মিত দায়িত্ব পালনের’ সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন।

কুয়েত: সাতজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম তীর (ফিলিস্তিন): ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে চারজন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।

সিরিয়া: দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর সুয়েইদায় একটি ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।

বাহরাইন: ইরানের দুটি পৃথক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

ওমান: দেশটির সোহর প্রদেশের একটি শিল্পাঞ্চলে গত ১৩ মার্চ ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

সৌদি আরব: রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় নিক্ষিপ্ত গোলার আঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন।

ফ্রান্স: উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

এটা ইসরায়েলের জন্য রাজনৈতিক বিপর্যয়, নেতানিয়াহু ব্যর্থ হয়েছেন: ইয়ার লাপিদ

ইসরায়েলের বিরোধী দলের নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, ইরানে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জন্য একটি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’। এক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন। খবর বিবিসির।

ইরানে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন নেতানিয়াহু। এর প্রতিক্রিয়ায় আজ বুধবার ইয়ার লাপিদ এমন মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম মূল ইস্যু ইরান। অথচ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল আলোচনার টেবিলেই ছিল না।’

সেনাদের গুলি বন্ধের নির্দেশ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীকে গুলি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়; শত্রুপক্ষ একটু ভুল করলেই জোরালো জবাব দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ে (আইআরআইবি) প্রচারিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, এটি যুদ্ধের শেষ নয়, তবে সব সামরিক শাখাকে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে গুলি বন্ধ করতে হবে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আলাদা বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধ থেমে গেলেও ইরানের অবস্থান বদলায়নি। তাদের ভাষায়, ‘আমাদের হাত এখনো ট্রিগারের ওপর আছে। শত্রুপক্ষের সামান্যতম ভুলও পূর্ণ শক্তিতে মোকাবিলা করা হবে।’

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে: রাশিয়া

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ‘বিনা উসকানিতে একপাক্ষিক ও আগ্রাসী হামলা’ চালিয়েছে। এ যুদ্ধে দেশ দুটি ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে।

স্পুতনিক রেডিওকে আজ বুধবার মারিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশ একেবারে শুরু থেকে, প্রথম বিবৃতিতেই বলেছিল, এ আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। এ পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই।’

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবরে রাজপথে নেমে উল্লাস করেন ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা। আজ বুধবার। ছবি: রয়টার্স


ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

রয়টার্স ও আল–জাজিরাঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বেসামরিক সেতু, রেল, কারখানা, এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ও। এরই মধ্যে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস’ করা হবে।

ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটায়। বাংলাদেশের হিসাবে তা আজ বুধবার সকাল ছয়টা। এর আগেও একাধিকবার হুমকি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, সময়সীমার মধ্যে ইরান চুক্তি না করলে এবং হরমুজ খুলে না দিলে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র তথা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। ইরানে ‘নরক নামিয়ে’ আনা হবে।

যে চুক্তি কথা বলে ট্রাম্প সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, তা নিয়ে কম কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে না। সবশেষ গত রোববার ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। তবে কোনো পক্ষই তাতে সায় দেয়নি। এর কারণ হিসেবে গতকাল পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, দুই পক্ষই আলোচনায় বসার পর্যায়ে ছিল, তখনই তেহরানে হামলা চালায় ইসরায়েল।

চুক্তি না হওয়া এবং সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির মুখে বিনিয়োগকারীরাও যে শঙ্কিত, তা গতকাল বিশ্ববাজারের চিত্রে উঠে এসেছে। এদিন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠেছে। দিনের শুরুতে কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকার পর অস্থিরতা দেখা গেছে জাপানের শেয়ারবাজারের নিক্কেই-২২৫ সূচকে। সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস সূচকেও দশমিক ২২ শতাংশ পতন হয়েছে।

ইরানের সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে ট্রাম্পের হুমকি ‘নিন্দনীয় ও বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের অধ্যাপক মাইকেল বেকার। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, নির্বিচার ধ্বংসের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প এমন কথাবার্তা বলছেন, যা বড় মাত্রার যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বেসামরিক জনগণের ওপর এমন হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

‘ইরানিরা নিজেদের উৎসর্গ করতে প্রস্তুত’

এর আগে চুক্তি করতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা একাধিকবার বাড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে গতকাল রাত আটটার সর্বশেষ সময়সীমা শেষ হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা আগেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা আসেনি। এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, মঙ্গলবার রাতে ইরানের সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো পুনরুদ্ধার করা যাবে না। ইরানে ৪৭ বছরের শোষণ, দুর্নীতি ও মৃত্যুর অবশেষে অবসান হবে।

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর একটি একটি ইরান বা পারস্য সভ্যতা। এ অঞ্চলে মানুষের বসবাস শুরু প্রায় আট হাজার বছর আগে। আখেমেনীয়, পার্থীয় ও সাসানীয় সাম্রাজ্যের মাধ্যমে পারস্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। পারস্যে মুসলিম শাসনের অধীনে আসে সাত শতকে। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইরান। সেই শাসনব্যবস্থা এখনো চলমান।

ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সর্বশেষ সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেই পুরো সভ্যতা ধ্বংস করতে ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মধ্যে দেশটির কাশান শহরে একটি রেলসেতুতে হামলায় দুজন নিহত হন। ইসরায়েল জানিয়েছে, গতকাল ইরানের আটটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে তারা। সেগুলো কাশানসহ তেহরান, কারাজ, তাবরিজ ও কোম শহরে অবস্থিত।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ইরানের খোররামবাদ বিমানবন্দরে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পশ্চিম ইরানের শিরাজ শহরে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালায় ইরানের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে। রাজধানী তেহরানের আকাশে যুদ্ধবিমান থেকে দফায় দফায় ফেলা হয় বোমা।

এমনই এক বোমার আঘাতে তেহরানে ধ্বংস হয়ে যায় ইহুদিদের উপাসনালয় রাফিনিয়া সিনাগগ। ইরানের পার্লামেন্টে দেশটির ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন হোমায়ুন সামেহ। সিনাগগ ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘জায়নবাদীরা উৎসবের সময়ও আমাদের রেহাই দেয়নি। সিনাগগটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও ২৬ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এরপরও ইরানিরা মাথা নোয়াবে না বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গতকাল তিনি লেখেন, ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ইরানি দেশকে রক্ষার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কালো দাগ’

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, তার আঁচ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও। গতকালও দেশটিতে গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। ইরানের সরকার পতন থেকে শুরু করে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস, হরমুজ প্রণালি চালুসহ যেসব লক্ষ্যের কথা ওয়াশিংটন বলেছিল, তার একটিও পূরণ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে জোর দিচ্ছিলেন ট্রাম্প নিজেই।

তবে কূটনীতির পথে না হেঁটে ইরানের বেসামরিক স্থাপনার দিকে নজর দেওয়ায় চটেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকেরাই। যেমন অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি বলেছেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কালো দাগ’ হয়ে থাকবে। আর কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মার্ফি সরাসরি বলেছেন, ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ।

যুদ্ধের রীতিনীতি নিয়ে জাতিসংঘের একটি সনদ রয়েছে। এটি জেনেভা সনদ নামে পরিচিত। এই সনদ অনুযায়ী যুদ্ধের সময় কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালালে যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হবে। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, এদিন ইরানে ১৭টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি যুদ্ধাপরাধ।

তবে কোনো সমালোচনা যেন কানে তুলতে রাজি নন ট্রাম্প। গত সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা যদি যুদ্ধাপরাধ হয়, তা নিয়ে চিন্তিত নন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে হামলার হুমকি ইরানের

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পর থেকে পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তবে ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলা চালাতে পিছপা হবে না তারা।

এ হুমকির আগে গতকাল যুদ্ধের ৩৯তম দিনে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। ইসরায়েলের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এদিন ইরানের হামলায় মধ্য ইসরায়েলের রশ হাইন, রামাত হাশারনসহ কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। এদিন হামলায় নতুন করে ১৩৩ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে নিহত হয়েছেন ২৬ জন।

গতকাল মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশেও হামলা হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের জুবাইল অঞ্চলে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। জর্ডানের আকাবা শহরে বিস্ফোরণ হয়েছে। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। ইরানের কিশ দ্বীপের কাছে একটি জাহাজেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

‘অনড় ইরানে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প’

ট্রাম্পের মাথাব্যথার কারণ যে হরমুজ প্রণালি, সে-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর গতকাল রাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো দেশ যদি বল প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলতে চায়, তাহলে জাতিসংঘের স্পষ্ট অনুমতি পাবে। তবে এ প্রস্তাব চীন ও রাশিয়ার ভেটোয় বাতিল হয়ে যায়। প্রস্তাবের পক্ষে ছিল ১১টি দেশ। ভোট দেয়নি ২টি দেশ।

এই প্রস্তাব বাতিল ইরানের পক্ষেই যায়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। যুদ্ধেও ইরানের ‘জয় হয়েছে’ বলে গতকাল এক্সে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি।

এদিকে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট আল-জাজিরাকে বলেছেন, তেহরান নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়, তবে প্রেসিডেন্ট কী পদক্ষেপ নেবেন, তা একমাত্র তিনিই জানেন।

ইরানের অনড় অবস্থান ট্রাম্পকে মূলত ক্ষুব্ধ করছে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ট্রাম্প চান ইরানিরা তাঁর হুমকি আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিক এবং নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করুক। কিন্তু যুদ্ধের শুরু থেকেই এমন কিছু হচ্ছে না। ফলে নিজের লক্ষ্যও পূরণ করতে পারছেন না ট্রাম্প। এটি তাঁকে আরও ক্ষুব্ধ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না উপাসনালয়ও। হামলায় বিধ্বস্ত ইহুদিদের একটি সিনাগগের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না উপাসনালয়ও। হামলায় বিধ্বস্ত ইহুদিদের একটি সিনাগগের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানে। ছবি: রয়টার্স


সাইকেলে চালিয়ে কসোভো ঘুরেছেন তিন বাংলাদেশি, কেমন অভিজ্ঞতা হলো তাঁদের

কসোভোয় গিয়েছিলেন বাংলাদেশি তিন সাইক্লিস্ট। বলকান অঞ্চলের ছোট দেশটিতে সাইকেলে ঘুরতে ঘুরতে দারুণ দারুণ সব অভিজ্ঞতা তাঁদের হয়েছে। তারই কিছুটা ভাগ করে নিচ্ছেন মুনতাসির মামুন

ঢাকা থেকে প্রিস্টিনা পৌঁছানোর পর দুদিন কেটেছে বিশ্রামে। পথে নামার আগের দিনই সব রেডি করে ফেললাম। দলে আমি ছাড়াও আছেন শামিমা আখতার ও মোরশেদ আলম। তিনজনের জন্য দুটি সাইকেল, এর মধ্যে একটি ট্যান্ডেম।

২০ সেপ্টেম্বর সাতসকালে রাজধানী শহর প্রিস্টিনা থেকে মিত্রোভিৎচার পথ ধরি। শুরুতে রাস্তা বেশ মসৃণ। তবে ছোট ছোট চড়াই আছে। প্রথম প্যাডেল মারার পরই বুঝে ছিলাম হ্যান্ডেলবারটা নড়বড়ে। শক্ত করার জন্য দরকার একটা সাধারণ রেঞ্জ, আমাদের কাছে তা নেই। ছুটির সকালে দোকানপাটও বন্ধ। আমাদের দরকার একটা ওয়ার্কশপ। কিন্তু গত দুই দিনে কফিশপ আর গাড়ির শোরুম ছাড়া আর কিছু চোখে পড়েনি।

শহরতলির কোলাহল কমতেই একটা মেকানিকের দোকান চোখে পড়ল। সেখানে থামলাম। রেঞ্জ হাতে নিয়ে সাইকেলের হ্যান্ডেলবারটা টাইট করে নিলাম। যাক আর চিন্তা নেই। এবার চলা শুরু হলো—কখনো দুই পাশে পড়ল দোকানপাট, কখনো অবারিত ধূসর-সবুজ প্রান্তর। বাড়িঘরগুলো মাঝেমধ্যে পাহাড়ের ব্যাকড্রপে যেন কম্পিউটারের ডেস্কটপ ওয়ালপেপার!

সার্বিয়ার সাবেক প্রদেশ কসোভো ২০০৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। বলকান অঞ্চলের ছোট দেশ। এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার পথও তা-ই সংক্ষিপ্ত। এই যেমন আজকের গন্তব্য মাত্র ৫০ কিলোমিটার। এই পথে বারকয়েক বিশ্রাম আর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম হোটেলে। তবে বিপদে পড়লাম হোটেলে প্রবেশ করে। সাইকেল রাখার আলাদা জায়গা নেই। এখন কী হবে? ব্যবস্থা করলেন হোটেলের কর্মচারীরাই। তাঁদের এই সামান্য সৌজন্যই যেন আতিথেয়তার জানান দিল।

মিত্রোভিৎচা এলাকাটা সার্বিয়ার সীমান্তের কাছে। সার্ব আর আলবেনিয়ান গোষ্ঠীর বিভক্তি আর রাজনৈতিক টানাপোড়েন মাঝেমধ্যেই চরমে পৌঁছে যায়। তবে আমাদের স্বাগত জানাল খাবার, আতিথেয়তা আর অদ্ভুত আন্তরিকতায়। কারণ, দুপুরে খেতে গিয়ে অনুভব করলাম এখানে খাবার যতটা সুস্বাদু, তার চেয়ে বেশি মুগ্ধ করে মানুষের ব্যবহার। দাম নিয়ে অদ্ভুত সততায় বারবার জিজ্ঞাসা করেন, ‘দাম ঠিক হয়েছে তো?’

এ শহরে কোনো হোটেল নেই

মিত্রোভিৎচায় রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে প্রখর রোদের মধ্যেই দক্ষিণমুখী যাত্রা শুরু হলো। রাস্তাজুড়ে যানবাহনের অবিরাম শব্দ। দুপুর নাগাদ ক্লিনায় পৌঁছে গেলাম। ক্যাফে আর রেস্তোরাঁগুলোয় উপচে পড়ছে মানুষে, টেবিল ছড়িয়ে গেছে ফুটপাত পর্যন্ত। ক্লিনা আমাদের কাছে তৎক্ষণাৎ এক প্রাণবন্ত জায়গা বলে মনে হলো, গতি আর জীবনের ছন্দে ভরপুর। প্রথমে ভেবেছিলাম এখানেই রাত কাটাব। ক্যাফে আর কথোপকথনের ঘেরাটোপে বিশ্রাম নেওয়ার আইডিয়াটা লোভনীয় লাগছিল। কিন্তু হায়, হোটেল খুঁজতে গিয়ে হতাশ হলো, ক্লিনা শহরের ভেতরে কোনো হোটেল নেই! গুগল ম্যাপ বলছে, একমাত্র অপশন কয়েক কিলোমিটার দূরে এক হাইওয়ে হোটেলে। কিন্তু সেখানে কোন পথে গেলে ভালো হবে?

আমাদের দ্বিধাগ্রস্ত দেখে ঠিক তখনই এক তরুণী এগিয়ে এল। একমুহূর্ত না ভেবে হাসিমুখে সাহায্যের প্রস্তাব দিল। শুধু দিকনির্দেশনা নয়, ব্যস্ত রাস্তা ধরে আমাদের হেঁটে নিয়ে গেল একটা মোড় পর্যন্ত। তারপর একটা সড়ক দেখিয়ে বলল, এই পথেই যেতে হবে।

১৮ শতকের এক ঘরে

কসোভোর পাহাড়ি পথে রোদ বড় যন্ত্রণা দেয়। দুপুর গড়াতেই অসহনীয় হয়ে ওঠে তাপ। তৃতীয় দিন তাই প্রথম আলোয় ভোরের ঠান্ডা বাতাস গায়ে মেখে শুরু করলাম। আজকের পথ তুলনায় ছোট। তবে অবিরাম চড়াই। একটানা উঠতে হচ্ছে।

আমরা ধীরে ধীরে উঠছিলাম। পথ কঠিন হলেও একধরনের প্রশান্তি অনুভব করছিলাম। প্রতিটি বাঁক আমাদের মনোযোগকে আরও গভীর করছিল।

পেয়া শহরে ঢুকতেই গাড়ির ভিড়ে গতি কমে গেল। অনেক সাইকেল আরোহীর পক্ষে হয়তো ভিড়ের ফাঁক গলে যাওয়া সহজ, কিন্তু ট্যান্ডেম সাইকেল নিয়ে সেটা করা কঠিন। দীর্ঘ ফ্রেমে বাঁক নেওয়া যায় না সহজে। শেষমেশ নামতে হলো, সাইকেল ঠেলে হাঁটতে লাগলাম ফুটপাত ধরে। পেয়ার ফুটপাতও বহুমুখী—কোথাও সাইকেল লেন, কোথাও পথচারীর রাস্তা আর কোথাও আবার গাড়ির পার্কিং স্পট! তবু এই ভিড় ঢাকার মতো নয়। এখানে চিৎকার নেই, হর্নের হাহাকার নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের হোটেল খুঁজে পেলাম। শহরের মাঝখানে, সুবিধাজনক জায়গায়। সূর্য তখনো নিচু, আর আমরা বিস্মিত যে এত তাড়াতাড়ি পৌঁছে গেছি। প্রতিদিনের মতো আজও থামলাম এক কাপ কফি আর প্যাস্ট্রির জন্য। কসোভোর প্রতিদিনের জীবন যদি কোনো একটা জিনিসে সংজ্ঞায়িত হয়, তবে তা হলো ক্যাফে–সংস্কৃতি। প্রতিটি ছোট্ট পেস্ট্রিশপে তাজা রুটি, মিষ্টি আর কফি। সবই সহজলভ্য, সস্তা আর স্বাদের।

হোটেলে জিনিসপত্র রেখে বেরিয়ে পড়লাম পেয়ার পুরোনো বাজার ঘুরতে। বাজারের গলি, কাঠের দোকানপাট আর বাতাসে ভেসে থাকা কফি ও কাবাবের গন্ধ। সোনা-রুপা-তামার কাজের সারি সারি দোকান চোখে পড়ল। হাতে খোদাই করা কাঠের অলংকারও বিক্রি হয়। একটু হেঁটে পৌঁছে গেলাম তাহির বে ইন নামে ১৮ শতকের এক ঘরে। এটি এখন একটি জাদুঘর। ঘরটিতে কড়িকাঠের ছাদ, আঙিনাজুড়ে ঝুলে থাকা লতাপাতা। সর্বত্র ছড়িয়ে আছে এক নিঃশব্দ সৌন্দর্য। আমরাই ছিলাম সেদিনের দর্শক। গাইড তরুণী হাসিমুখে এগিয়ে এলেন। ঘর থেকে ঘরে নিয়ে গেলেন। বর্ণনা করলেন আলবেনীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, জুতা, গয়না, উলের তাঁত, তামার কফি পাত্রসহ নানা কিছুর। অন্য এক ঘরে দেখলাম রোমান আর বাইজেন্টাইন যুগের নিদর্শন—খোদাই করা পাথর, মৃৎপাত্রের টুকরা, পুরোনো মুদ্রা।

চতুর্থ দিনের যাত্রা শুরু করতে হবে ভোরেই। সেই প্রস্তুতি নিতেই দ্রুত ফিরে এলাম হোটেলে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-01%2Fdiw1gi92%2FDSF1926.jpg?rect=0%2C0%2C2048%2C1365&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
পথ বাতলে দিচ্ছেন কসোভো এক তরুণী। ছবি: মুনতাসির মামুন

আস্ত ছাগল গিলে খেয়ে নদীর চরে পড়ে ছিল অজগর, উদ্ধার করল বন বিভাগ

সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার একটি গ্রামে গৃহপালিত একটি ছাগল আস্ত গিলে ফেলেছে একটি অজগর। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ভোলা নদীর চর থেকে অজগরটিকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

ছোট হয়ে আসা ভোলা নদীর পশ্চিম পাড়ে সুন্দরবন আর পূর্ব পাড়ে রসুলপুর গ্রাম। ওই গ্রামের সোহরাব ফরাজীর একটি ছাগল অন্যদিনের মতো সকালে ঘাস খেতে ভোলা নদীর চরে যায়। দীর্ঘ সময় পরেও ছাগলটিকে আর না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পাশের ঝোপঝাড়ের মাঝে বিশাল আকৃতির অজগরটি দেখতে পান স্থানীয়রা। অজগরটির পেট অস্বাভাবিক ফোলা ছিল। তা দেখেই সবাই ধারণা করছে, অজগরটি ওই ছাগলটিকে গিলে খেয়েছে। সেখানে অজগরটি ভালোভাবে নড়াচড়াও করতে পারছিল না।

খবর পেয়ে কমিউনিটি প্যাট্রল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য সেখানে যান। খবর দেওয়া হয় বন বিভাগকে। বন বিভাগ জানায়, অজগরটি লম্বায় প্রায় ১৫ ফুট এবং ওজন ছিল ৩৫ কেজি।

সিপিজি সদস্য সগির সওদাগর বলেন, ছাগল গিলে খাওয়ার পর সাপটি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অজগরটি দেখতে আশপাশে শত শত মানুষ জড়ো হয়।

ছাগলের মালিক সোহরাব ফরাজী বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে আসা অজগরটি আমার ছাগলটি আস্ত গিলে খেয়েছে। আমার খুবই ক্ষতি হলো।’

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে অজগরটি উদ্ধারের পর সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

অজগরের ছাগল গিলে খাওয়ার খবরে অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ভোলা নদীর চরে
অজগরের ছাগল গিলে খাওয়ার খবরে অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ভোলা নদীর চরে। ছবি: স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে সংগৃহীত

ইরানে সভ্যতা ধ্বংসের হামলা হবে ট্রাম্পের যুদ্ধাপরাধ

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ভাষ্যঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা চালিয়ে ইরানে সভ্যতা ধ্বংসের যে হুমকি দিয়েছেন, সেটা কার্যকর করলে তিনি যুদ্ধাপরাধ করবেন বলে শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে। জাতিসংঘের পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনবিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় বেপরোয়া হামলা চালানো হলে সেটা জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএন গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এক সম্পাদকীয়তে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে স্বনামধন্য ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিটি লেখাতেই ট্রাম্পের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

বেঁধে দেওয়া সময় মঙ্গলবার রাত আটটার (ওয়াশিংটনের সময়) মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে সেখানে ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে, সে বিষয়ে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সোমবার ট্রাম্প বলেন, তিনি সেসব নিয়ে ‘চিন্তিত’ নন। তাঁর এমন বেপরোয়া হুমকির প্রতিবাদ জানিয়েছেন মার্কিন রাজনীতিকেরা। তাঁকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলেছেন কয়েকজন ডেমোক্র্যাট। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার তাঁকে ‘গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি’ বলেছেন। ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও ট্রাম্পের এই হুমকির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেটর রন জনসন গতকাল বলেছেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা তিনি সমর্থন করেন না। এটা অনেক বড় ভুল হবে।

ট্রাম্পের হুমকির সমালোচনা করে দ্য গার্ডিয়ান গতকাল এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, জেনেভা কনভেনশনের প্রথম অতিরিক্ত প্রটোকলের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ প্রটোকলের ভিত্তিতেই ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জন্য দায়ী রুশ সামরিক কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। ইউক্রেনের শহর ও জনপদে আতঙ্ক ছড়াতে এবং মনোবল ভেঙে দিতে যে ধরনের হামলা ও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, তা যুদ্ধাপরাধের শামিল। একইভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এ সপ্তাহে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, তা যদি কার্যকর করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও ঠিক একই আইন প্রযোজ্য হবে।

বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলার এমন লাগামহীন হুমকি আইনবিশেষজ্ঞ ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের শঙ্কিত করে তুলেছে। ২০০৪-০৫ সালে ইরাকে মার্কিন সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিষয়ক শীর্ষ আইনবিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জিওফ্রে কর্ন। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন যে প্রেসিডেন্টের এই আস্ফালন অপারেশনাল কমান্ডারদের খুব কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলছে। তাঁরা জানেন যে আপনি চাইলেই একটি দেশের ওপর একটি বৃত্ত এঁকে বলতে পারেন না যে বিদ্যুৎ গ্রিডের প্রতিটি অংশ এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু।’

আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বেসামরিক নাগরিকদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য বস্তুগুলোকে হামলা থেকে সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। সে কারণে ট্রাম্প যে ধরনের হামলার হুমকি দিচ্ছেন, তা বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের আইন উপদেষ্টা হ্যারল্ড হংজু কোহ।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বিশুদ্ধ পানি শোধনাগারসহ জনগণের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য বস্তুগুলোকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

মার্কিন সেনাবাহিনীর আইন শাখার সাবেক আইনজীবী মার্গারিট ডোনোভান বলেন, ‘আমরা এমন একটি সরাসরি হুমকি দেখছি, যা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বিপর্যয়কর হতে যাচ্ছে।’

ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক খোলাচিঠিতে শতাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞ বলেন, এমন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। ওই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হার্ভার্ড, ইয়েল, স্টানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও রয়েছেন। ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলো যেটা করছে এবং দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ‘উসকানিমূলক বাগাড়ম্বরের’ নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার টুর্ক। গতকাল এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ইরান—কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা যুদ্ধাপরাধ। আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ী যে কাউকেই উপযুক্ত আদালতে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি : এএফপি


হার্ডডিস্কে ১৫ নারীর নগ্ন ভিডিও: প্রেমিককে খুন করলেন প্রেমিকা

একটি হার্ড ডিস্ক। তার ভেতরে প্রেমিকা সহ আরও ১৫ নারীর নগ্ন ভিডিও। এ কথা জানতে পেরে প্রেমিক রামকেশ মিনারকে হত্যা করে তার প্রেমিকা। রামকেশ ৩২ বছর বয়সী একজন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী। তাকে নৃশংস হত্যা করা হয়েছে। দিল্লির উত্তরাঞ্চলের টিমারপুরে একটি ফ্ল্যাটে গত ৬ই অক্টোবর ২০২৫ তার পোড়া দেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাটিকে প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের গল্প। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, প্রেমিকা অমৃতা চৌহানের সঙ্গে লিভ টুগেদার করতেন রামকেশ। খুনের তিন সপ্তাহ পর পুলিশ গ্রেফতার করে রামকেশের প্রেমিকা অমৃতা চৌহান, তার সাবেক প্রেমিক সুমিত কাশ্যপ এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সন্দীপ কুমারকে। অভিযোগ করা হয়, তারা রামকেশকে খুন করে আগুন লাগিয়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেছিল। অমৃতা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, রামকেশ তার সঙ্গে সম্পর্কের সময় গোপনে কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও রেকর্ড করেছিল। তা একটি হার্ড ডিস্কে সংরক্ষণ করে রাখেন। অমৃতা বারবার অনুরোধ করলেও রামকেশ ভিডিওগুলো মুছতে রাজি হননি। সেই হার্ড ডিস্ক উদ্ধার করাই ছিল হত্যার অন্যতম উদ্দেশ্য। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হার্ড ডিস্কটিতে আরও কমপক্ষে ১৫ জন নারীর ব্যক্তিগত গোপন ভিডিও আছে। এসব নগ্ন ভিডিওর বেশির ভাগই ওইসব নারীর অজান্তে ধারণ করেছিলেন রামকেশ।

তদন্ত অনুযায়ী, রামকেশকে মারধরের পর ৫ই অক্টোবর রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সুমিত ও সন্দীপ। এরপর তারা মৃতদেহে তেল, ঘি ও মদ ঢেলে আগুন ধরানোর প্রস্তুতি নেয়। সুমিত রান্নাঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এনে মৃতদেহের পাশে রাখে, গ্যাসের ভাল্ভ খুলে দেয়। সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। এরপর একটি লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল এটি হয়তো গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণ। কিন্তু ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ঘটনার অসামঞ্জস্যতা দেখে তদন্ত আরও গভীরভাবে চালানো হয়। পুলিশ ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে পায়, আগুন লাগার আগের রাতে দুই মুখোশধারী পুরুষ ভবনে প্রবেশ করে। কিছু সময় পরে একজন বেরিয়ে যায়। পরে একজন নারী ও একজন পুরুষকে বের হতে দেখা যায়। সেই নারী ছিলেন অমৃতা, রামকেশের সহবাসী প্রেমিকা।

এরপর থেকেই সন্দেহ গাঢ় হয়। অমৃতার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে সুমিত (২১ অক্টোবর) ও সন্দীপ (২৩ অক্টোবর)কেও পুলিশ ধরে ফেলে। অমৃতা ফরেনসিক বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্রী। পুলিশের ভাষায় অপরাধবিজ্ঞানে তার প্রবল আগ্রহ ছিল। এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, অবশ্যই সে তার ফরেনসিক জ্ঞান ব্যবহার করেছে। সে ও সুমিত আলোচনা করেছিল, কীভাবে ঘটনাস্থলে কোনো প্রমাণ না রেখে খুনটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো যায়। সুমিত এলপিজি সিলিন্ডার বিতরণ কোম্পানিতে কাজ করত। সে জানত সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটতে কতক্ষণ লাগে। তারা ভেবেছিল পুলিশ কখনোই তাদের ধরতে পারবে না।

তদন্তে উদ্ধার হওয়া হার্ড ডিস্কে কমপক্ষে ১৫ জন নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার রবীন্দ্র যাদব। যদিও তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাই না। কারণ এখনো অন্য কোনো নারী অভিযোগ করেননি। তাছাড়া এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আনলে তাদের সম্মানহানি হতে পারে। নারীর সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ বা প্রচার করা ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র ৭৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অপরাধ। প্রথমবার দোষী প্রমাণিত হলে এক বছরের কারাদণ্ড। পুনরায় একই অপরাধ করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

mzamin