Sunday, August 30, 2015
জয় বাংলা শ্লোগানের অপমান করছে ছাত্রলীগ : জাফর ইকবাল
শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগের এমন ন্যাক্কারজনক হামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ড. জাফর ইকবাল বলেন, জয় বাংলা শ্লোগানের অপমান করছে ছাত্রলীগ। জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আর আজ জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগ শিক্ষকদের উপর হামলা করল। ড. জাফর ইকবাল বলেন, আজকে যারা আমাদের শিক্ষকদের উপর হামলা করল তারা যদি আমার ছাত্র হয় তাহলে আমার গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত। আমি তীব্র মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছি। যারা একটু একটু করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে তাদেরকেই পেটানোর দৃশ্য আমাকে দেখতে হল। আজ যা ঘটল আমি আমার জীবনে এমনটা কখনো কল্পনাও করতে পারি না।
উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ভিসি যদি মনে করেন এভাবে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে তাহলে তিনি ভুল করেছেন। এতে আন্দোলন বন্ধ হবে না।
আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা মিথ্যাবাদী উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করছেন আমি তা পূর্ণভাবে সমর্থন করি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবারই আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। আমি নিজেও এক সময় এই শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আন্দোলন করেছি।
উপাচার্য ভবনের সামনে বসেই তিনি শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগের হামলার দৃশ্য দেখেন। এরপর থেকেই প্রচন্ড বৃষ্টিতে ভিজে বসে ছিলেন ড. জাফর ইকবাল । পরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়দাতা দেশের সমালোচনায় কৃষিমন্ত্রী
রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে জাতীয় শোক দিবসের র্যালির প্রাক্কালে এক সমাবেশে এ কথা বলেন মতিয়া চৌধুরী। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ৪০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগ এই শোক সভাযাত্রার আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে শোভাযাত্রাটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের একজন এ এম রাশেদ চৌধুরীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরেক খুনি মোসলেম উদ্দিনও যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে পাননি। আর মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থানের কারণে নুর চৌধুরীকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেবে না কানাডা। আত্মস্বীকৃত ছয় খুনির অপর তিনজন খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও আবদুল মাজেদ কোথায় আছেন, তা সরকার জানে না।
সমাবেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবার জন্য ন্যায় বিচার চাই। এ ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। তবে সবাই ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলে নাই। আমাদের শপথ হচ্ছে সবাইকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো।’
মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন সাহারা খাতুন, মাহবুবুল আলম হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আহমেদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
গত ২৭ আগস্ট দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে শেখ রাসেল দাবা ক্লাব আয়োজিত শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়দাতা দেশগুলোর সমালোচনা করেছিলেন। সেখানে কৃষিমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেনেডির হত্যাকারী কেউ বাংলাদেশে থাকত, তাহলে তাঁরা কি বাংলাদেশকে ছেড়ে কথা বলত? কানাডাসহ যেসব দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা আছেন, সেসব দেশের জনগণ ও সরকারের উদ্দেশে প্রায় একই ধরনের প্রশ্ন রেখেছিলেন মন্ত্রী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুখোমুখি by উৎপল রায় ও সিরাজুস সালেকিন
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেখ সেলিমের ভূমিকার সমালোচনা করেন এস ফোর্সের অধিনায়ক। বলেন, তিনি (শেখ সেলিম) যে এত কথা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভূমিকাটা কী ছিল? তিনি ছিলেন একজন শরণার্থী। শরণার্থী হিসেবে যে যতটুকু করেছে তার আছে ততটুকুই।
দেশে ফিরে শুধু ওপরে উঠছেন তিনি, শুধু পারিবারিক সূত্র ধরে। বাট হি হিজ নট ক্যাপাবল অব গোয়িং দেয়ার। তার যে বড় ভাই শেখ মণি, সে যুদ্ধকালীন সময় থেকেই প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিল।
এভাবে ব্যক্তিস্বার্থের জন্য ইতিহাস বদলে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের সাহসী ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন সফিউল্লাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছি সম্মুখযুদ্ধে। শুধু সম্মুখযুদ্ধে না, হাতাহাতিও করেছি।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কজন মানুষ হাতাহাতি যুদ্ধ করেছে? আল্লাহ তায়ালা সহায় ছিলেন বলেই শত্রুর দুটি গুলি আমার কোমরে ঝোলানো পিস্তলে এসে লাগে। আর এর প্রমাণ আছে কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্টের মিউজিয়ামে। সেখানে আমার পিস্তলটা রাখা আছে। ওই পিস্তলের মধ্যে গুলি লেগেছিল।
আমাকে লক্ষ্য করে ওই গুলি করা হয়েছিল। মিডিয়ার মাধ্যমে এসব প্রচারে আগ্রহী না বলেও জানান তিনি। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট শেখ সেলিমের ভূমিকা তুলে ধরতে একটি জাতীয় দৈনিককে উদ্ধৃত করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এ সদস্য বলেন, এই যে শেখ সেলিমকে নিয়ে আমি একটা কথা বলেছি ২০০৫ সালে ‘প্রথম আলোতে’ লেখা হয়েছে। শেখ সেলিমকে ১৫ই আগস্ট আমেরিকান এম্বেসিতে সাহায্যের জন্য যেতে দেখা গেছে। আমেরিকান এম্বেসি বঙ্গবন্ধুর জন্য এতই নিরাপদ ছিল? সেই আমেরিকান এম্বেসিতে সে গেছে সাহায্যের জন্য। তারাই তো সবকিছুর মূলে ছিল। এখন যদি বলি সে তাদের হয়ে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি এটাই হয়েছে। ওই দিন সকালে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে যেটা এখন রূপসী বাংলা। সেদিন সকালে তৎকালীন আমেরিকান অ্যাম্বাসেডর ওই হোটেল থেকে বেরিয়ে বাসার দিকে গেছেন। সে রাত কাটাইছে ওখানে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসের অংশ। সেই ইতিহাসের সত্যপাঠ আমি তুলে ধরেছি। এতে অনেকেরই এখন গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। কিন্তু গাত্রদাহ হলেও কিছুই করার নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য খুঁজে বের করতে হবে। দেশবাসী ও নতুন প্রজন্মের সামনে সত্য ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। আর ইতিহাসের সত্য কথাটা আমি বলবোই। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ সেলিম জানিয়েছেন, ১৯৭৫ সালের ঘটনাবহুল ৩রা নভেম্বর থেকে ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহও সময়মতো জাতির সামনে তুলে ধরবেন তিনি। এছাড়া, জাসদকে নিয়ে তার দেয়া বক্তব্য ১৪ দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় কোনরকম প্রভাব পড়বে না দাবি করে শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের কোন সম্পর্ক নেই। এটি জোটের রাজনীতিতে কোন প্রভাব পড়বে না। একটি প্রশিক্ষিত বাহিনী হয়েও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সময়ে তখনকার রক্ষীবাহিনীর ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, রক্ষীবাহিনী কেন এগিয়ে আসলো না সেটি একান্তই রক্ষীবাহিনীর বিষয় ছিল। আর খন্দকার মোশ্তাকের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের যারা গিয়েছে, তারা গিয়েছে। সবাই তো আর যায়নি। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যারা গিয়েছিল, কেন গিয়েছিল তারাই ভাল বলতে পারবে।
‘জাসদই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল’ এমন মন্তব্যসহ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তখনকার সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা, মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর সেনাপ্রধান ও পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, কর্নেল তাহের, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ করে সমপ্রতি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কঠোর ভাষায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তার এই বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎই উত্তাপ ছড়ায়। আলোচনার ঝড় তুলে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাসদের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে বাহাসে লিপ্ত হন। এ নিয়ে বিতর্ক চলছে এখনও।
নিজের বক্তব্যে অনড় রয়েছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা বলেন, আমার বক্তব্যের পর জাসদ, সফিউল্লাহসহ অনেকেই অনেক কথা বলছেন। তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। নিজেদের বাঁচানোর জন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। আমি যা বলেছি তা ইতিহাসের সত্য ঘটনা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী পরিস্থিতি আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তখন কার কি ভূমিকা সেটিও প্রত্যক্ষ করেছি। দীর্ঘ দিন এই ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসকে কখনও মুছে ফেলা যায় না। একদিন না একদিন তা প্রকাশ হবেই।
সাবেক সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সফিউল্লাহ একজন ‘জ্যান্ত মিথ্যাবাদী’।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে নানা বক্তব্য দিয়েছেন। ইতিহাসের সত্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বলেই তিনি মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। একজন সেনাপ্রধান হয়েও ১৫ই আগস্ট তিনি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারেননি। এটি তার চরম ব্যর্থতাই শুধু নয়, শাস্তিযোগ্য, আমর্জনীয় অপরাধ। শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর এ নিয়ে তিনি নানা বক্তব্য দিয়েও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। যার ভেতরে ন্যূনতম দায়িত্ববোধ, অনুশোচনা আছে তিনি এভাবে মিথ্যাচার করতে পারেন না। তিনি হয়তো বাঁচার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাঁচতে পারবেন না। ইতিহাস ও নতুন প্রজন্ম তার বিচার ঠিকই করবে।
শেখ সেলিম বলেন, তিনি (কে এম সফিউল্লাহ) বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরেই আমি না-কি আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে গিয়েছিলাম। কত বড় মিথ্যাচার! আমি কেন সেদিন আমেরিকার অ্যাম্বাসিতে যাবো? ঘটনার পরে আমার ভাইসহ অন্যদের লাশ হাসপাতালে আমি নিয়ে গিয়েছিলাম না-কি উনি গিয়েছিলেন? মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা উচিত। তিনি বলেন, আমি আবারও বলছি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড কোন সেনা অভ্যুত্থান ছিল না। কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। মাত্র ১শ’ ৫০ জনের মতো সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক ছিল। ১৫ জন সেনা কর্মকর্তার পাশাপাশি ৫ জন ছিল অবসরপ্রাপ্ত। কিন্তু প্রায় দেড় লাখের মতো একটি সুসজ্জিত প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী নিয়ে মাত্র দেড়শ’ জনকে মোকাবিলা ও বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করার জন্য সফিউল্লাহ কিছুই করতে পারলেন না, এটা অবিশ্বাস্য! একদিকে সেনাপ্রধান হয়েও বঙ্গবন্ধুকে তিনি রক্ষা করতে পারেননি, তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। অন্যদিকে হত্যা মামলায় তিনি আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিলেন। যে নিজেই বড় অপরাধী সে নিজেই আদালতে সাক্ষ্য দেয় কিভাবে?
আওয়ামী লীগের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা ও পরবর্তীতে তার ভূমিকা কি ছিল এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া দরকার। আদালতও বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে না পারার অপরাধে সফিউল্লাহর বিচার হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, শেখ ফজলুল হক মণি মারা যাওয়ার দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। কয়েক ঘণ্টা তার লাশ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ির সিঁড়িতে পড়েছিল। এই কয়েক ঘণ্টায় সফিউল্লাহ যাননি। তিনি খুনিদের সঙ্গে রেডিও স্টেশনে গেলেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের লাশ বাড়ির সিঁড়িতে পড়ে রয়েছে। অথচ সেনাপ্রধান তা দেখতেও যাননি। কেন তিনি এরকম করলেন এ বিষয়েও খোঁজ নেয়া দরকার। শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, খুনিরা খুন করে আবার ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যায় কি করে? পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম নজির কি আছে?
অথচ তারা (সেনাবাহিনী) সংখ্যায় ছিল খুবই অল্প। এদেরকে মোকাবিলা করা সেনাবাহিনীর পক্ষে কোন ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু সফিউল্লাহসহ কেউ তাদের আটকায়নি, গ্রেপ্তারতো দূরে থাক। জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফও কিছু করেননি। নির্বিঘ্নে তাদের ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে দেয়া হলো। সফিউল্লাহ মোশ্তাক সরকারের আনুগত্য স্বীকার করলো। কর্নেল তাহের মেজর ডালিমের সঙ্গে পরামর্শ করলো। এমনকি সফিউল্লাহকে দেশের বাইরে অ্যাম্বাসিতেও নিয়োগ করা হলো। তখন এদের সবার ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। কেন তাদের আচরণ রহস্যময় ছিল, সে সময়ে কার কি ভূমিকা ছিল তা জানতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত। জাতিকে এ বিষয়ে জানানো উচিত। পঁচাত্তরের ৩রা নভেম্বর থেকে ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত ঘটনাবহুল সময়ে সংগঠিত ইতিহাসও প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হয়েও কর্নেল তাহের সরকারের বিরুদ্ধে জাসদ গণবাহিনী গঠন করলেন। জিয়াকে উদ্ধার করলেও পরবর্তীতে জিয়ার সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তাকে প্রাণ হারাতে হলো। এরপরও তাকে বীরের উপাধি কিভাবে দেয়া হয়?
দীর্ঘ চার দশক আগের হত্যাকাণ্ড। জাসদ ও অন্যদের ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরতে এত দীর্ঘ সময় লাগলো কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কেন এত সময় লাগলো এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে চাই না। তবে, আমি বরাবরই এ নিয়ে সোচ্চার ছিলাম। ইতিহাসের জন্য বইপত্র পড়তে হবে না। আমি নিজেই এই ইতিহাসের সাক্ষী। চোখের সামনে তখনকার অনেক ঘটনাই দেখেছি। এ বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আমি কথা বলেছি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিজড়া বানানোর ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
জাহাঙ্গীর হোসেন একা নন। হিজড়া বানানোর ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে এমন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অনেকের জীবন। রাজধানী এবং এর আশপাশে বিভিন্ন ক্লিনিকে পুরুষের যৌনাঙ্গ কেটে বানানো হচ্ছে হিজড়া। এর মাধ্যমে হিজড়া সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সরকারি চাকরির প্রলোভন আর হিজড়া সরদারদের আয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা- এ দুইয়ের মারপ্যাচে দেশে বাড়ছে হিজড়াদের সংখ্যা। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে হিজড়া সরদারদের বা গুরুদের বিলাসী জীবনের চাঞ্চল্যকর তথ্য। হিজড়া সরদারদের কারও কারও মাসিক আয় দেড় থেকে তিন লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দালালের মাধ্যমে পুরুষদের ক্লিনিকে আনা হয়। অনেক সময় তাদের চাকরি দেয়ার কথা বলা হয়। হিজড়া সরদাররা তাদের নিয়ে যায় ক্লিনিকে। অপারেশনের মাধ্যমে তাদের পুরুষাঙ্গ কেটে নারী যৌনাঙ্গে রূপান্তরিত করে দেয়া হয়। পুরুষ থেকে হিজড়ায় রূপান্তরিত একাধিক হিজড়া জানিয়েছেন, এতে খরচ বাবদ ক্লিনিক প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার ও দালালরা ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়। ধামরাই, উত্তরা, খুলনার ফুলতলায় এই ধরনের ক্লিনিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। সরজমিনে দেখা যায়, ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ডে থেকে ৫০ গজ দূরে মানিকগঞ্জ-ঢাকা প্রধান সড়কের পাশেই রোম আমেরিকান হাসপাতাল। এ হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই হিজড়া বানানোর কাজ চলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে থানা রোডে এ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন ডা. গোলাম রহমান শাহজাহান। মূলত লিঙ্গ কেটে হিজড়া তৈরিই ওই হাসপাতালের মূল কাজ বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে রোম আমেরিকান হাসপাতালের কর্ণধার ডা. গোলাম রহমান শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, অনেক আগে এই কাজ করেছি। এখন করছি না। আমি তো জোর করে কারও পুংলিঙ্গ কাটিনি। ছেলেরা ইচ্ছাকৃতভাবেই এসে পুরুষাঙ্গ কাটাতো বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমাসে ৩-৪ জনকে অপারেশন করাতেন তিনি।
ওদিকে, হিজড়া নামের আড়ালে লিঙ্গ কর্তন করা হাজার হাজার পুরুষ ঢাকাসহ সারা দেশে চাঁদাবাজি, রাস্তায় মানুষকে ব্ল্যাক মেইল, মাদক ব্যবসা, খুন-খারাবিসহ বিভিন্ন পার্কে রাতের আঁধারে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু হিজড়াদের সঙ্গে অপরাধীদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচটের রশিদ মার্কেট এলাকায় এ ধরনের একটি চক্র জনতার হাতে ধরা পড়ে। হিজড়া সেজে চাঁদাবাজিকালে স্থানীয়রা তিন পুরুষকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এসময় তারা স্বীকার করে তারা পুরুষ। পরে নয়নতারা নামে হিজড়া সরদারের হস্তক্ষেপে তাদের পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এলাকাবাসী। ওই দিন আটক ভুয়া হিজড়ারা ছিলেন- আতিকুর রহমান (৩০) ওরফে সাজেদা, মমিন উদ্দিন (২৬) ওরফে মাহি এবং মো. অন্তর (২১) ওরফে অন্তরা।
ভুয়া হিজড়াদের একজন বলেছেন, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থেকে কাজের সন্ধানে তিনি আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার কাঁচাবাজারের আড়তে আসেন। এরপর থেকেই নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হিজড়া সরদার নয়নতারা তাকে এই পেশায় আসতে বাধ্য করেন। স্থানীয় এক হিজড়া জানান, গাজীরচটের বটতলা এলাকার হিজড়াদের সরদার আবদুল ওরফে রাশেদা ও নয়নতারা অনেক দিন আগে নিজেরাই পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে এই পেশায় ঢুকেছেন। রাশেদার দলে শতাধিক হিজড়া আর নয়নতারার দলে সাত জন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের ‘ছল্লাই’ বা ‘বাধাই’ তোলার (চাঁদা) টাকায় রাশেদা ও নয়নতারা ইতিমধ্যে নিজ এলাকায় ফ্ল্যাট বাড়ির মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে নয়নতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কেইস স্টাডি-১: ধামরাই পৌরসভার তালতলায় থাকেন নোলক হিজড়া। আট নম্বর ওয়ার্ডের ১০৩ হোল্ডিংয়ে তার বাসার অবস্থান। বাসার ওয়ালে বড় অক্ষরে লিখা হিজড়া বাড়ি। সুন্দর পরিপাটি বাড়িটি তার নিজেরই। বাবা-মার দেয়া তার নাম ছিল রাফি। রাফি থেকে নোলক। যাত্রাবাড়ীতে তাদের বাড়ি। সম্প্রতি তার বাসায় গেলে নোলক হিজড়া জানান, তার জীবনের কাহিনী। বলেন, ঢাকার বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছেন তিনি। তার দুই ভাই রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের পদে বাবা চাকরি করেন। ১০ বছর বয়সে বুঝতে পারি আমি হিজড়া। এরপর বাড়ি থেকে চলে আসি। ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে ধামরাই আসেন তিনি। একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এখন। সাতক্ষীরা, বগুড়া, দিনাজপুর ও মানিকগঞ্জের জেলার হিজড়া রয়েছে তার সঙ্গে। এই মুহূর্তে তার নেতৃত্বে দলটিতে ৩০ জন হিজড়া রয়েছে। প্রত্যেকই ‘মেয়ে’ হিজড়া বলে নোলক দাবি করেন। নোলক জানান, তিনি ভারতের দিল্লি ওলম্যাক প্লাস্টিক সার্জারি থেকে নিজের স্তনকে স্লিকন সার্জারি এবং যৌনাঙ্গকে থাই সার্জারি করেছেন। এতে বাংলাদেশী টাকায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার উপরে খরচ হয়েছে। মাঝে মধ্যে ভারতে যান তিনি। গত তিন-চার মাস আগেও চার মেয়েকে একই কায়দায় সার্জারি করে হিজড়া বানিয়ে এনেছেন নোলক। তারা হলেন- মোমেন, রিনা, বিশাখা ও বিপাশা।
তিনি জানান, যারা পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া হয় তারা রাতে ছিনতাই করে। মানুষকে ব্ল্যাক মেইল করে টাকা আয় করে। আর পৃথিবীতে যারা হিড়জা হয়ে এসেছেন তারা এসব করতে পারে না। ধামরাইয়ের রোম আমেরিকান হাসপাতালে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া বানানো হয়। গত ৫-৬ মাস আগেও ভুয়া হিজড়াদের লিঙ্গ কেটে হিজড়া বানানোর খবর পেয়ে তারা হাসপাতালটিতে গিয়ে ভুয়াদের ধরে মারধর দিয়ে পুলিশকে দিয়েছেন। তার দলের একজন ছোট (নতুন) হিজড়া দৈনিক কমপক্ষে ৫০০ টাকা এবং মোটামুটি সিনিয়র পর্যায়ের হিজড়া ২০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। সরকার আপনাদের পুলিশে নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবছে। এমন বক্তব্যের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারের চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্তে তারা রাজি নন। কারণ রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কত টাকা বেতন দেবে সরকার। আড়াই লাখ দেবে? আমরা খেয়ে পরে অনেক ভাল আছি। সিনিয়র পর্যায়ে যারা রয়েছেন তাদের ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানান নোলক। অনেকের বাড়ি ও প্লট রয়েছে। যারা চাকরির কথা বলছেন তারা সামাজিকতা ঠিক রাখার জন্য বলেন। আসলে তারা মনে-প্রাণে চান না বলে তিনি মন্তব্য করেন। নোলক জানান, বাইর থেকে তাদের নামে ফান্ড আসলেও তাতে তেমন লাভ হয় না। বছরে ৪০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকার ফান্ডও আমেরিকা থেকে আসে। ‘সুস্থ জীবন’ ও ‘বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামের সংগঠনের নামে এসব টাকা আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাড়ি যান কিনা জানতে চাইলে তিনি নেতিবাচক উত্তর দেন। আশপাশের কেউ বিপদে পড়লে টাকাপয়সা দিয়ে তার দল ও নিজে সাহায্য করেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোন গরিব মেয়ে বিয়ে দিতে পারছে না, আমাদের কাছে আসলে সহযোগিতা করি। পাড়া-মহল্লার মসজিদ-মাদরাসায় সাহায্য-সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কেইস স্টাডি-২: জাহাঙ্গীর হোসেনকে যখন ফুলতলার একটি ক্লিনিকে ঢোকানো হয় তখন চিকিৎসকের হাতে অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি। জাহাঙ্গীর আঁতকে ওঠেন। তাকে উলঙ্গ করে অস্ত্রোপচার বেডে চিৎ করে শোয়ানো হয়। জাহাঙ্গীর বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ডাক্তারের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করেন। কিন্তু হিজড়া বাহিনী পিছু ছাড়ছে না। তারা চাপ দেয় ডাক্তারকে। তাকে অচেতন অবস্থায় করে লিঙ্গ কেটে ফেলে। জ্ঞান ফেরার পর তাকে কিছুদিন চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর তার নামকরণ করা হয় রত্না। সেই থেকে সে রত্না হিজড়া নামে পরিচিত। জাহাঙ্গীরসহ তারা ছয় ভাই। চার ভাই ঢাকার ফকিরাপুলে নিজস্ব প্রিন্টিং প্রেসে কাজ করেন। সমপ্রতি ফকিরাপুলের ছাপাখানায় জাহাঙ্গীরের বড় ভাই আসলাম মিয়ার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরের বয়স যখন ১৮ থেকে ১৯ বছর তখন সে একটি চক্রের খপ্পরে পড়ে হিজড়াদের খাতায় নাম লেখায়। চার-পাঁচ বছর আগেই তার গোপন অঙ্গ কাটা হয় বলে তিনি জানান। আসলাম বলেন, তারা যখন বুঝতে পারেন তারা ভাই হিজড়া তখন ঢাকায় চিকিৎসাও করিয়েছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। আমাদের ভাইদের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। সবার আদরের। কিন্তু তার লিঙ্গ কেটে হিজড়া হওয়ার পর হিজড়াদের সঙ্গেই থাকে। তার বয়স এখন ২৫ থেকে ২৬ হবে। সে নাগরপুরে সুমি হিজড়াদের দলে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আসলাম মিয়া আরও জানান, সে সুন্দর নাচতে পারতো। ফলে দ্রুত অন্য হিজড়াদের নজরে আসে তার ভাই। মাঝে মাঝে বাড়িতে আসে। বাবা নেই। মাকে এক নজর দেখে আবার চলে যায়। মন চাইলে কয়দিন থাকেও। এ বিষয়ে রত্নার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মানবজমিনকে জানান, খুলনায় নিয়ে হিজড়ারা তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এ কারণে আমার এই জীবনের আর কোন মূল্য নেই। জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। গডফাদার হিজড়াদের বিচার চান তিনি। নাম উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ঢাকায় মুন্না হিজড়া, আবুল হিজড়া, আবদুল হিজড়া কোটি কোটি টাকার মালিক। গাড়িতে চড়ে চলাচল করেন। অসহায় হিজড়াদের এভাবে লিঙ্গ কেটে তাদের দলে নিয়ে আসে। সরকারি চাকরিতে যেতে রাজি আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাজবিজ্ঞানীরা যা বলেন: পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া বানানোর তৎপরতা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, হিজড়াদের সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। সমাজ ধ্বংসের পথে চলছে। সমাজের অবক্ষয় হয়েছে এবং মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। গরিব অসহায় মানুষকে ধোকায় ফেলে এই কাজ করছে কিছু অসাধু লোক। চাকরি বা টাকার লোভে হিজড়া হলে পরবর্তীকালে পুরুষের কী হবে তা ভাবতে হবে? পুরুষের অস্তিত্ব নষ্ট করা উচিত নয়। প্রশাসনকেও এদিকে নজর দিতে হবে।
হিজড়াদের সংখ্যা: বাংলাদেশে সরকারিভাবে হিজড়াদের কোনো পরিসংখ্যান নেই। আদম শুমারির সময় তৃতীয় লিঙ্গের অপশন না থাকায় হিজড়াদের গণনা করা হয়নি। সর্বশেষ ২০১৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে হিজড়ার সংখ্যা ১০ হাজার। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী এ সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার। শুধু ঢাকা শহরে হিজড়ার সংখ্যা ১০ হাজারের ওপর বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বড় বিক্ষোভের মুখে মালয়েশিয়া
![]() |
| মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিহতরা ‘সিরীয়’ শরণার্থী
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে খুঁজে বের করার তাগিদ জাতিসংঘের
ওদিকে এএফএডি এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এএফএডি। জাতিসংঘ ২০১১ সালে আজকের এ দিনকে আন্তর্জাতিক গুম দিবস ঘোষণা করে। এশিয়া ও বিশ্বজুড়ে এখন কয়েক হাজার মানুষ গুমের শিকার। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এএফএডি। গুম হওয়া ব্যক্তি, তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এএফএডি বিভিন্নভাবে তাদের প্রতি দৃঢ়তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। এক্ষেত্রে আলোচিত নামগুলোর কথা সামনে চলে আসে। যেমন, বাংলাদেশে নূরুল আমিন, নেপালে সুবর্ণ পাউডেল, জমমু-কাশ্মীরে মুসতাক আহমেদ খান, থাইল্যান্ডে সোমচাই নীলাফাইজিট, ইন্দোনেশিয়ায় উইজি থুকুল, দক্ষিণ কোরিয়ায় হোয়াং ওন, শ্রীলঙ্কায় প্রগীত একনালিগোড়া। বলা হয়েছে এমন নাম অসংখ্য। প্রতিটি গুমের শিকার ব্যক্তির রয়েছে একটি নাম, একটি জীবন ও একটি পরিবার। গুম হওয়া ব্যক্তিরা নীরব হয়ে যান নি। তাদেরকে জোর করে গুম করে দেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের নাম হলো জোর করে গুম করে দেয়া। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবার উভয়েই নানা ভাবে অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্ডস অর ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস ১০৬তম অধিবেশনে ৩০টি দেশের ৪০০ গুমের ঘটনা পরীক্ষা করেছে। এতে বলা হয়েছে, এশিয়ায় গুমের ঘটনা বিপুল পরিমাণে হলেও মাত্র চারটি দেশ জাপান, কাজাখস্তান, ইরাক ও কম্বোডিয়া অনুমোদন করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস (কনভেনশন) অনুমোদন করেছে। পুনরায় তাই এএফএডি এশিয়ার সব দেশের প্রতি কনভেনশন অন এনফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস অনুমোদন দিতে ও গুমকে অভ্যন্তরীণ আইনে অপরাধ হিসেবে পরিগণিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ফিরছে না গুম হওয়া মানুষেরা
স্টাফ রিপোর্টার জানায়, দিনের পর দিন, মাস পেরিয়ে বছর কেটে যাচ্ছে। তবু ফিরছে না গুমের শিকার হওয়া মানুষেরা। প্রিয় স্বজনকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন অনেকেই। কিন্তু কোন আশার আলো দেখতে পাননি তারা। তবু গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের কেউ কেউ এখনও আশায় বুক বেঁধে আছেন। এখনও ভাবছেন গুম হওয়া স্বজন একদিন ঠিকই ফিরে আসবেন। যদিও গুম হওয়া মানুষদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোন তৎপরতা নেই। গুমের ঘটনায় যেসব সাধারণ ডায়েরি বা মামলা দায়ের হয়েছে সেগুলোর তদন্ত চাপা পড়ে আছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব মতে, ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত অন্তত ৪ শতাধিক মানুষ গুম হয়েছেন। এদের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। গুমের শিকার হওয়া এসব মানুষের মধ্যে অল্প কয়েকজন ফিরে এসেছেন। আর লাশ উদ্ধার হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তির। বাকি প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তি এখনও গুম হয়ে আছেন। পরিবারের সদস্যরা জানতে পারছেন না, তাদের স্বজনেরা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছেন। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়ার কারণে গুম হওয়া এসব মানুষের বিষয়ে কোন খোঁজ করছে না পুলিশ-র্যাব।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশে কোন গুমের ঘটনা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন গুমের সঙ্গে জড়িতও নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে ধরলে তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক, ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিক কারণে অনেকেই আত্মগোপন করে থাকেন। এগুলো কোনভাবেই গুম বলা যাবে না।’ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে গুম করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (মানবাধিকার সংগঠন) তো কত কিছুই বলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুমের সঙ্গে জড়িত নয়। কেউ গুম বা অপহরণ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করে।’
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৭৫ জন মানুষ গুমের শিকার হন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ৬৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আসকের তথ্য মতে, ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সালের গুমের শিকার হন ২১ জন। ২০১০ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪৭-এ। এরপর বছর বছর ধরে গুমের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। আসকের তথ্য বলছে, ২০১১ সালে গুমের শিকার হয়েছেন ৫৯ জন, ২০১২ সালে ৫৬ জন, ২০১৩ সালে ৬৮ জন ও ২০১৪ সালে ৮৮ জন। আর চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গুমের শিকার হয়েছেন ৩৬ জন। এর মধ্যে ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গুম হওয়ার পর দুজন ছাড়া পেয়েছেন আর ৩ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তথ্য মতে, ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ২১০ জন গুমের শিকার হয়েছেন। যাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ২০০৯ সালে গুমের শিকার হয়েছেন ৩ জন, ২০১০ সালে ১৮ জন, ২০১১ সালে ৩১ জন, ২০১২ সালে ২৬ জন, ২০১৩ সালে ৫৩ জন, ২০১৪ সালে ৩৯ জন ও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে ৪০ জন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও বরাবরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা অস্বীকার করে আসছেন। কিন্তু গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোন উদ্যোগও দেখা যায় না। ভুক্তভোগীরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় গেলে পুলিশ মামলা বা জিডি নিতেই অনীহা প্রকাশ করতো। আবার কোনভাবে জিডি দায়ের করা গেলেও সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় শব্দ বাদ দিতে হতো। কিন্তু এভাবে জিডি নেয়ার পরও গুম হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল রাতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি ইলিয়াছ আলীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বনানী এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয়। এ ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ইলিয়াছ আলীর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন তাও জানতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা। ইলিয়াছ আলীর নিখোঁজের বিষয়টি দেখভাল করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। কিন্তু ডিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বলার মতো কোন তথ্য নেই।
চলতি বছরের ১০ই মার্চ উত্তরার বাসা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরিবারের সদস্যরা জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একদল লোক তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর প্রায় ২ মাস নিখোঁজ থাকার পর গত ১১ই মে ভারতের শিলং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সালাহউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, চোখ বাঁধা অবস্থায় কে বা কারা তাকে শিলংয়ে ফেলে গেছে তা তিনি বুঝতে পারেননি। এ ঘটনায়ও সালাহউদ্দিন কিভাবে শিলংয়ে গেলেন বা প্রকৃতই তাকে কেউ অপহরণ করেছিলো কিনা সেই রহস্যও উদ্ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, এখনও প্রায় ৩শ মানুষ নিখোঁজ হয়ে আছেন। এদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা তো করছেই না; বরং এসব নিয়ে যারা কথা বলছে বা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি, সমালোচনা বা ক্ষতি করার চেষ্টা চলছে। নূর খান বলেন, গুমের ঘটনায় থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে চাইলে থানা অভিযোগই নিতে চায় না। এটা আসলে সামগ্রিকভাবে সরকারের ব্যর্থতা বা গুম হওয়া লোকজনকে খুঁজে বের করতে এক ধরনের অনীহা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এ মানবাধিকারকর্মী বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে গুমের ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ জানা হোক। কিন্তু এত বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও রাষ্ট্রের কোন গুরুত্ব নেই যা দুঃখজনক।
‘স্বজনদের আশা তারা ফিরে আসবেন’
রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে গুম হওয়া ৮ পরিবারের সদস্যরা আশায় বুক বেঁধে আছেন। তারা আবার পরিবারের মাঝে ফিরে এসে সংসারের হাল ধরে পরিবারের সচ্ছলতা আনবেন। তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া ৮ জনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা। এতে আশান্বিত হয়েছে ওই ৮ পরিবার।
গুম হওয়া তেজগাঁও থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি জানান, প্রায় ১৯ মাস আগে শাহিনবাগের ৫৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে র্যাব-১ পরিচয়ে তার ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিএনপির রাজনীতি করা ছাড়া তার কোন অপরাধ ছিল না। র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আটকের বিষয়টি তো স্বীকার করেনি। বরং উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়েছে। কোন জিডি ও মামলা নেয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, গুম হওয়ার পর থেকে হতাশা নেমে এসেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এলেও ওই আবেদনে তাদের কোন টনক নড়েনি। বরং বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বিভিন্ন সময় ওই সংস্থা সমন্ধে কটূক্তি করেছে। তার ভাই এ দেশের নাগরিক ছিল। অপরাধ করে থাকলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার করা হোক।
গুম হওয়া মাজহারুল ইসলাম রাসেলের বোন লাবনি জানান, ২০১৩ সালে ৪ঠা ডিসেম্বর বারিধারা এলাকা থেকে তার ভাইকে র্যাব পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে নিখোঁজ আছে রাসেল। এই বুঝি রাসেল পরিবারের মাঝে ফিরে আসলো। ভাইয়ের দুশ্চিন্তায় আমার বাবা ও মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দুদিন আগে জাতিসংঘ তার ভাইকে উদ্ধার করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। রাসেল উত্তর নাখালপাড়ার ১০ নম্বর রোডের ৪৯৯ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। গুম হওয়ার আসাদুজ্জামান রানার বোন মিনারা বেগম জানান, প্রায় ১৯ মাস আগে তার ভাইকে র্যাব পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার কোন অপরাধ ছিল না। নিখোঁজের পর থেকে আমরা সরকারের কাছে দাবি করে আসছি তাকে ফিরিয়ে দেয়া হোক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্ট্রিয়ায় ট্রাকে ৭১ লাশ- নিহতরা ‘সিরীয়’ শরণার্থী
পুলিশের মুখপাত্র হ্যানস পিটার ডসকোজিল গতকাল শুক্রবার বলেন, ট্রাকটি হাঙ্গেরি থেকে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। এটির ভেতরে আগেই ৫৯ পুরুষ, ৮ নারী ও চারটি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁরা সিরিয়ার শরণার্থী বলে ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে। বুলগেরিয়া-হাঙ্গেরির মানব পাচার চক্র এ ঘটনায় জড়িত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তিনজনের মধ্যে একজন বুলগেরিয়ার ও আরেকজন হাঙ্গেরির নাগরিক। তাঁরাই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
ট্রাকটিতে হাঙ্গেরির নম্বরপ্লেট যুক্ত রয়েছে। লেবানিজ বংশোদ্ভূত একজন বুলগেরীয় নাগরিক এটির মালিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োনুশ লাজার গতকাল বলেন, রুমানিয়ার একজন নাগরিককে গাড়িটি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। হাঙ্গেরির মধ্যাঞ্চলীয় একটি শহরে গাড়িটি চলাচল করত।
আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে: মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে দলে দলে মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে ইউরোপের দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র মেলিসা ফ্লেমিং গতকাল বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে চলতি বছর তিন লাখেরও বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছে। আর বিপজ্জনক এ যাত্রার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ মানুষ গ্রিসের উপকূলে পৌঁছায়। ইতালিতে গেছে আরও ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। আর গত বছর সব মিলিয়ে ওই পথে ইউরোপে গিয়েছিল ২ লাখ ১৯ হাজার আশ্রয়প্রার্থী।
বিবিসির খবরে বলা হয়, প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার অভিবাসী গত মাসে প্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্ত অতিক্রম করেছে। তাদের কেউ কেউ অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পেরোনোর জন্য মানব পাচারকারীদের বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভূমধ্যসাগর এখন লাশের সাগর
১৬ এপ্রিল : লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে ৪১ জনের সলিল সমাধি ঘটে।
১৯ এপ্রিল : লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির জুয়ারাহ শহর থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে দক্ষিণ ইতালির লামপেদুসার কাছাকাছি নৌকা ডুবে ৮৫০ জন অভিবাসী মারা যান। এটা এ যাবৎকালের নৌকা ডুবে সবচেয়ে বড় মৃত্যুর ঘটনা।
২০ এপ্রিল : রোডস আইল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে একটি প্রবাল প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে অভিবাসীদের বহন করা একটি নৌকা ডুবে গেলে অনেকে নিখোঁজ হয়। পরের দিন কোস্টগার্ড জানায়, ৪৫০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
৫ মে : সিসিলি ও কালাব্রিয়া উপকূলে তিনজনের মৃত্যু ঘটে। নিখোঁজ থাকে আরও অসংখ্য অভিবাসী। কালাব্রিয়া থেকে তিনশ’ জনকে উদ্ধার করা হয়।
২৯ মে : ইতালির নৌবাহিনী ২১৭ অভিবাসীকে উদ্ধার করে। ১৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
১৫ আগস্ট : লিবিয়া উপকূলে একটি পাচারকারীরা অবৈধ অভিবাসীদের একটি ডেকে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিলে ইঞ্জিনের ধোঁয়ায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়।
আলজাজিরা ও উইকিপিডিয়া।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানের একমাত্র হুমকি ভারত
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের রাজনীতি পাল্টে দেয়ার হুমকি প্যাটেলের
কোনো বিশেষ বর্ণ বা গোত্রের জন্য নির্ধারিত কোটা বাকি জনসমষ্টির বোঝাস্বরূপ। তিনি বলেন, ‘চাকরির পরীক্ষায় প্যাটেল সম্প্রদায়ের মানুষ ৮০-৯০ ভাগ নম্বর পেয়েও চাকরির দরজায় কড়া নারতে ব্যর্থ হয়। অথচ সামান্য পাস মার্ক পেয়ে সবজান্তা শমসের সেজে সরকারি অফিসের গদিতে বসে চোখ পাকড়ায় মেধাহীন গণ্ডমূর্খরা।’ এত বড় বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলে তিনি জোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। এ অনাচার অচিরেই দূর না করলে রাজনীতির পট পাল্টে দেয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘৭০ লাখ প্যাটেল আমার দলে। নির্দেশ দিলে গুজরাটের নগদ অর্থের বড় একটি অংশের মালিক প্যাটেলরা ব্যাংকের সব টাকা তুলে নেবে। বন্ধ করে দিবে দুধ ও সবজি সরবরাহ। এছাড়া ১২ সদস্যের সামাজিক গণমাধ্যম টিম গঠন করেছেন হারদিক। যারা মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ ক্ষুদে বার্তা ছড়িয়ে দেন টুইটার, হটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকে। যার মাধ্যমে শক্তিশালী আন্দোলনের ঝড় তুলে যে কোনো সময় টালমাটাল করে দিতে পারে প্রদেশ সরকারকে। তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের জন্য কথা বলে তারাই আমাদের শাসন করবে।’ মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেলের ব্যাপারে বলেন, ‘তিনি হলেন ক্ষমতার আসনে বসা এক তাঁবেদারি কাঠের পুতুল। নিজের কোনো ক্ষমতা নেই। ক্ষমতার কলকাঠি অন্যদের হাতে। তাই বলছি, যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমধানে এগিয়ে আসুন, নয়তো পরিমাণ হবে ভয়াবহ।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেসি ৪৯ সুয়ারেজ ৩ রোনাল্ডো ২!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুঞ্জন শুনি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সন্ধ্যার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশে কড়াকড়ি: দ্বিধাদ্বন্দে থাকলেও স্বস্তি প্রকাশ ঢাবি শিক্ষার্থীদের by এম তৌহিদ
আর এই অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না বলে নোটিশ দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে প্রক্টর স্বাক্ষরিত নোটিশে লেখা রয়েছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পরে কেউ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান করলে ও কোনো ধরণের সমস্যার মধ্যে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরণের দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবে না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে এমন কিছু অভিযোগ আসে যেগুলো মোটেও ভালো নয়। আমাদের কিছু ছাত্র বহিরাগতদের সাথে নিয়ে সেখানে অপরাধ কর্ম করে। যার মধ্যে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক বিক্রি সবকিছুই রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এমন পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। গত কয়েকদিনে ক্যাম্পাসে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। তবে টিএসসিকেন্দ্রিক কিছু অভিযোগ আসছে। সেগুলো পুলিশের সাথে কথা বলে অচিরেই সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
সন্ধ্যার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের বিষয়ে নোটিশ জারির পর কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দে থাকলেও আপাতত স্বস্তি ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উদ্যানে যেকোনো ধরণের অপরাধকর্ম সংঘটিত হলেই তার দায় এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর। গুটিকয়েক পথহারা শিক্ষার্থী এসবের সাথে জড়িত থাকলেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। নিজ বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থান থেকে নানান নেতিবাচক কথা শুনতে হয়।
তবে তাদের সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা মাদকদ্রব্য বিক্রি বন্ধের সুযোগ তৈরি হওয়ায়। তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত তার অধিকাংশই উদ্যানের মাদক ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল। আর এই মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে ওইসব গুটিকয়েক শিক্ষার্থী অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এখন সন্ধ্যার পরে এই কড়াকড়ি আরোপের ফলে মাদকের করাল গ্রাস এবং অপরাধ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেহাই পাবে বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য মাস্টার্স শেষ করা আবু রায়হান নয়া দিগন্তকে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে যে অভিযোগ আসে তা নিয়ে নানা ধরণের কথা শুনতে হয়। এটা আমাদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এউ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এটি অব্যাহত রাখারও আহবান জানান তিনি।
অপর ছাত্র সোহরাব নাজমুল নয়া দিগন্তকে বলেন, ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন আলোচনা হলেও আমি এটা ভালো উদ্যোগ বলে মনে করি। এতে অপরাধ অনেক কমে আসবে। যারা অপরাধী তারা শাস্তি পাবে।
তবে কিছু শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে রয়েছেন। উদ্যানে প্রবেশের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের সরাসরি বিরোধিতাও করেছেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাস্টার্সের একজন শিক্ষার্থী নয়া দিগন্তকে বলেন, সিদ্ধান্তটা আসলে কি ধরণের বুঝতে পারছি না। অপরাধ ঘটলে তা দমন করতে হবে। প্রবেশে কড়াকড়ি কেন ? এটা তার ভাল লাগেনি বলে জানান।
ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি লিটন নন্দী নয়া দিগন্তকে বলেন, যতদূর শুনেছি উদ্যানে ছিনতাই চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই উদ্যোগ। সিদ্ধান্তটা অবশ্যই ভালো। তবে সাধারণ মানুষ যাতে রক্ষণশীলতার শিকার না হয় সে দিকে সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত কয়েকদিনে রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যার আগে থেকেই সোহরাওযার্দী উদ্যানের সবগুলো গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই তারা উদ্যানের গেট দিয়ে জনসাধারণের প্রবেশে বাঁধা দিচ্ছেন। এসময়ে ভিতরে অবস্থান করা সকলকে বের করে দিতেও দেখা গেছে। উঠিয়ে দেয়া হয়ে সব ধরণের অস্থায়ী দোকান। যেগুলো অপরাধের প্রাণকেন্দ্র বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করতেন। ছুটির দিন হওয়া সত্বেও শনিবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অনেকটাই ফাঁকা পাওয়া যায়। বিভিন্ন গেটে মোতায়েন ছিল পুলিশ। অন্যান্য সময়ের মতো অস্থায়ী দোকানগুলো আর দেখা যাচ্ছে না। তবে উদ্যানের কয়েকটি গেটে বেশ কিছু দোকান শনিবারও চোখে পড়ে।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই নয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাগামহীন অপরাধ কর্ম নিয়ে মাথাব্যাথা ছিল পুলিশ প্রশাসনেরও। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো: জাফর আলী নয়া দিগন্তকে বলেন, যারা অপরাধী তাদেরকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে দেয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে মামলাও করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ অভিযান শুরুর পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অপরাধ কমে এসেছে বলে তিনি জানান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গরমে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে সাবধান হোন, সুস্থ থাকুন
সমস্যা হচ্ছে, গরমকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার না-করেও উপায় থাকে না। সেক্ষেত্রে কী করা যেতে পারে? হ্যা, গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার নিয়েই আমরা আজকের স্বাস্থ্য ও জীবন অনুষ্ঠানে আলোচনা করবো।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাইরের গরম থেকে বাসায় বা অফিসকক্ষে ঢুকেই এসি ছাড়া উচিত নয়। প্রথমে ঘরের স্বাভাববিক তাপমাত্রায় কিছুক্ষণ অতিবাহিত করুন, ঘেমে গিয়ে থাকলে তা মুছে নিন। প্রয়োজনে পানি দিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিতে পারেন। তারপর এসি ছাড়ুন।
একইভাবে এসি থেকে বাইরে বের হবার প্রয়োজন হলে, বের হবার কিছুক্ষণ আগে এসি বন্ধ করে দিন। ঘরের তাপমাত্র বাইরের কাছাকাছি চলে আসবে। তখন বের হলে বাইরের গরম খুব একটা অস্বস্তিতে ফেলবে না আপনাকে।
লম্বা সময় ধরে এসির মধ্যে থাকলে ঘন ঘন পানি খাওয়া উচিত। ঘর মোছার সময় বেশি পানি ব্যবহার করুন। এতে ঘরের আর্দ্রতা ঠিক থাকবে। ঘরের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর আশেপাশে রাখার চেষ্টা করুন।
আরেকটি কথা, রাত দু'টোর পর সাধারণত তাপমাত্রা হঠাত কমে যায়। তখন এসি বন্ধ রাখতে পারেন।
অনেকে রাতে এসির ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে কম্বল বা লেপ গায়ে দেন। মনে রাখতে হবে, ঘর বেশি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে কম্বল হয়তো আমাদের শরীরকে বাঁচাবে, কিন্তু শ্বাসযন্ত্রকে বাঁচাবে না। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় আপনার শ্বাসযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মাথায়ও ঠাণ্ডা লাগতে পারে।
আরেকটি কথা, শুষ্ক পরিবেশে ভাইরাস সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তাই ঘরের আর্দ্রতার মাত্রা ঠিক রাখা জরুরি।
এসি রুমে মাঝেমাঝে বাইরের বাতাস সরাসরি প্রবেশ করতে দেয়াও জরুরি। মাঝেমাঝে জানলা খুলে দিয়ে বাইরের বাতাস ঘরে ঢুকতে দিন।
অনেকে বাইরের গরম পরিবেশ থেকে ঘরে ঢুকেই এসি ছেড়ে দিয়ে সরাসরি এসির বাতাস গায়ে লাগান। এতে সাময়িক আরামবোধ হতে পারে, কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। এতে আপনার মাথা ঘোরাতে পারে, মাথা ব্যথাও হতে পারে। গরম থেকে হঠাত এসির ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে এলে আপনার লোমকূপ হঠাৎ সঙ্কুচিত হয়ে আপনার ক্ষতি করতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ এসির অতিরিক্ত ঠাণ্ডার মধ্যে থাকলে আপনি জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় থাকলে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ঘরের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখুন। মনে রাখবেন, গরমকালে ঘরের তাপমাত্রার সাথে বাইরের তাপমাত্রার পার্থক্য ৭ ডিগ্রির বেশি থাকা উচিত নয়।
মাঝেমাঝে এসি বন্ধও রাখতে পারেন। এসি বন্ধ করে জানালা খুলে দেয়া যেতে পারে।
এসি রুমে গরম কাপড় রাখা জরুরি। গরমের দিনে সাধারণতভাবে আমরা কম কাপড় পরে থাকি, হালকা-পাতলা কাপড় পড়ে থাকি। কিন্তু এসি রুমে, বিশেষ করে আপনার অফিস রুমে ঢোকার পর কিন্তু ওই কাপড় অপর্যাপ্ত মনে হতে পারে। তাই অফিসকক্ষে গরমকালেও একটি গরমকাপড় রেখে দিন। যাতে প্রয়োজনে গায়ে চড়াতে পারেন। নিম্ন তাপমাত্রায় সাধারণত আমাদের শরীরে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে অস্থিসন্ধি ও মেরুদণ্ডে ব্যথা হতে পারে এবং হাত ও পায়ে ঝি ঝি ধরতে পারে। তাই গায়ে ঠাণ্ডা অনুভূত হলে গরম কাপড়টি গায়ে চাপিয়ে নিন।
তাহলে এসি রুমে আমাদের কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত? এখন আমি আরো একবার এসি ব্যবহারের নিয়মগুলো সংক্ষেপে বলছি
১: এসি রুমের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখাই উত্তম।
২: এসি রুমে অবস্থানকালে বেশি পানি পান করা উচিত। প্রয়োজনে চা পান করা যেতে পারে। বিশেষ করে সবুজ চা এক্ষেত্রে উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।
৩: খুব গরমেও একটানা এসির মধ্যে থাকা উচিত নয়। মাঝেমাঝে এসি বন্ধ রাখুন। আর কখনও সরাসরি এসির বাতাস গায়ে লাগাবেন না।
৪: এসি রুমে বাইরের বাতাস ঢুকতে দিন। সকাল ও সন্ধ্যায় একবার করে ১০ থেকে ২০ মিনিটের জন্য জানালা খুলে রাখুন। আরেকটি বিষয়, এসি রুমে ধূমপান করা উচিত নয়।
৫: এসি রুমে একটি গরম কাপড় রাখা উচিত। প্রয়োজনে যাতে তা গায়ে চাপানো যায়। রাতে ঘুমের সময় এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
চায়না রেডিও বাংলা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিজড়াদের অন্যরূপ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
শুধু সোহ্রাওয়ার্দী নয়, ঢাকার বিভিন্ন পার্ক এবং ওভারব্রিজ সংলগ্ন সরু জায়গায় রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে তাদের এমন কর্মকাণ্ডের চিত্র চোখে পড়বে সকলের। আর এভাবে দিন দিন হিজড়াদের বেপরোয়া কুরুচিপূর্ণ আচরণ বেড়েই চলছে। ফলে এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আগের মতো তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে পারছে না। প্রকাশ্যে দিবালোকে হিজড়াদের অঙ্গভঙ্গির আচরণে চলে নগরজীবনে অশ্লীলতা। দোকানপাট অফিস, ব্যবসায়ী, পথচারী এমনকি বিভিন্ন বাসস্টপে জনসমকক্ষে চলে তাদের উলঙ্গ অঙ্গভঙ্গি। কর্মদিবসের শুরুতে, কর্মদিবসের মাঝখানে তাদের এসব অশ্লীলতা ভদ্র নগরবাসীর কাছে যেন প্রকশ্যে যৌন ছবির মহড়ার সামিল।
এই চিত্র শুধু শহরে নয়, এখন তারা লোকালয়েও তাদের এ ধরনের নেতিবাচক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রাবাড়ীর এক বাসিন্দা। ফলে মানুষ আগের মতো তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে পারছে না। তবে, হিজড়া গুরুরা এ ধরনের আচরণের জন্য লিঙ্গ কাটা হিজড়াদের দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, পৃথিবীতে যারা হিজড়া হয়ে এসেছেন তারা এ রকম কাজ করতে পারেন না। এদিকে হিজড়ার দল এখন নগরের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা, দেহব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বা তাদের জড়িত করে অপরাধী গডফাদাররা ফায়দা হাসিল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আজকাল তাদের অপরাধের ব্যাপকতার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ক্ষেত্রবিশেষে অসহায়। কিছু হলে বাহিনীর লোককেও প্রকাশ্যে ঘিরে ধরে। বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি আর হাততালি এ যেন প্রকাশ্যে খোলা আকাশের নিচে নিষিদ্ধ ছবির মহড়া। রাস্তায় জ্যামে বা ট্রাফিক মোড়ে গাড়ি আটকা পড়লেই তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে টাকা তুলতে। অনেকের গাড়ির গ্লাস না খুললে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে। সমপ্রতি রূপসী বাংলা হোটেলর সামনে সিগন্যালে এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু হিজড়া পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে। কতিপয় হিজড়া দেদারছে রাতের আঁধারে বিভিন্ন পার্কে এবং ঢাকার ওভারব্রিজসহ সংলগ্ন সরু জায়গায় পতিতাবৃত্তির কাজ চালাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে গিয়ে কখনও বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়ছেন। গুলশান এক নম্বরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন বাপ্পি (ছদ্মনাম নাম)। একদিন তিনি হিজড়াদের খপ্পরে পড়েন। তিনি জানান, গুলশান এক নম্বর ও মহাখালী লিঙ্করোডে রাতে তার এই ঘটনা ঘটে। এক হিজড়া বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাকে গুলশান লেকপাড়ে নিয়ে যান। প্রথমে একজন। এরপর অল্পকিছুক্ষণের মধ্যে আরও তিনজন এসে তাকে জাপটে ধরে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা জোরপূর্বক তার প্যান্টের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দেয়। মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। মানিব্যাগে আনুমানিক পাঁচ হাজার টাকা ছিল। এই অভিজ্ঞতার পর থেকে রাতে হিজড়াদের দেখলে তিনি আর সেখানে অবস্থান করেন না।
এদিকে ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে ব্যবসা, অফিস-পাড়া, পথচারী এমনকি বাসা-বাড়িতে এসে জোর করে চাঁদা দাবি করছে কতিপয় হিজড়া। তারা বিভিন্ন দিবস বা উপলক্ষকে সামনে রেখে ‘ছল্লাই’ তোলার নামে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেন ‘শ’ আদ্যাক্ষরের এক যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা। ওই বাসিন্দা জানান, নবজাত শিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষে তার পরিবার বা আত্মীয়স্বজন, বিয়ের বরযাত্রীদের থেকে তারা জোরপূর্বকভাবে এসব চাঁদা তোলে। হিজড়ারা কখনও নবজাত শিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষে দুই হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা, পরিবার ভেদে চাঁদা দাবি করে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের পরিবার ও আশপাশের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি প্রতিবেদককে এই বর্ণনা দেন। এমন বক্তব্যের সততা পাওয়া যায় ধামরাইর নোলক হিজড়ার সঙ্গে আলাপকালে। তিনি (নোলক) জানান, তারা নবজাত শিশুর জন্মগ্রহণ বা বিয়েবাড়িতে গিয়ে এভাবে ‘ছল্লাই’ তোলার মাধ্যমে টাকা আয় করে। তিনি জানান, তাদের (হিজড়াদের) দেখে অনেকে স্বেচ্ছায় টাকা দিয়ে দেন। অনেকে বিয়েবাড়িতে নাচ-গান করে টাকা আনে। নোলক বলেন, যারা পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া হয় তারা রাতে ছিনতাই করে। মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আয় করে। আর পৃথিবীতে যারা হিড়জা হয়ে এসেছে তারা এসব করতে পারে না। তবে, জোরপূর্বক টাকা আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের নদী নামের এক হিজড়া মানবজমিনকে বলেন, হিজড়ারা শুধু ‘ছল্লাই’ (চাঁদা) তোলে টাকা খেয়ে ফেলে এমন নয়। সমাজের অকেকের উপকারও করে। আশপাশের কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়। পাড়া-মহল্লার মসজিদ-মাদ্রাসায় সাহায্য-সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
হিজড়াদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ‘বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফয়ার সোসাইটি’। সমাজের মধ্যে এই জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, আত্ম-নির্ভরশীলতা ও ইতিবাচক মনোভাব আনয়নের জন্য কাজ করে এই সংগঠনটি। এজন্য তারা এডভোকেসি প্রোগ্রামও করে থাকে। সংগঠনটি সূত্রে জানা যায়, এই জনগোষ্ঠীকে সরকার ২০১৩ সালের নভেম্বরে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু এখন তাদের অধিকার নিয়ে তারা বেঁচে থাকতে পারেন।
হিজড়াদের ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের ২১শে মে এক বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সভায় আরও আলোচনা হয় যে, শুধু লিঙ্গ পরিচয়েই নয়, নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে হিজড়াদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকেও আমলে নেয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশদ বিবরণ পরবর্তীতে সরকার কর্তৃক আরও বিশ্লেষণের পর সংশোধন করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০১৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে একটি পৃথক লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে তারা। এরপর থেকে তারা শিক্ষা এবং অন্যান্য অধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে শুরু করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে তারা মনে করেন। এর মাধ্যমে শুধু পৃথক লিঙ্গ হিসেবে তাদেরকে নামেমাত্র স্বীকৃতি দেয়াই নয়; বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সমাজে তাদেরকে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার সুযোগও হয়েছে তাদের।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাজী জাফরের দাফনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পরিবার by হাবিবুর রহমান চৌধুরী
শুক্রবার বিকালে ঢাকা সেল ফোনে এসব তথ্য জানান, কাজী জাফরের একান্ত সহকারী গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, ‘দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতীয় কবরস্থানে কাজী জাফরকে দাফনের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে শিগগিরই আমাদেরকে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশা করছি’। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলের আলাপ-আলোচনা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তবে শুক্রবার বিকাল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মিলেনি বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে টঙ্গীর মিল গেইট, বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদ এবং বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গনে ৪র্থ জানাজা শেষে কাজী জাফরের মরদেহ তার গুলশানের বাসায় রাখা হয়।
আরো ৪টি জানাজা
এদিকে কাজী জাফরের দাফনের স্থান যেখানে হউক না কেন তাঁর রাজনৈতিক জেলা কুমিল্লায় শনিবার আরো ৪টি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম জানাজা শনিবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে, বেলা ১২ টায় ২য় জানাজা সদর দক্ষিণণ উপজেলার সুয়াগাজী, বাদ জোহর ৩য় জানাজা তাঁর নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে এবং সর্বশেষ ৪র্থ জানাজা গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া সরকারী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার জাতীয় কবরস্থানে দাফনে সরকারী অনমুতি না পেলে চিওড়া গ্রামে শনিবার বাদ আছর বাবা -মায়ের কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করা হবে। শুক্রবার বিকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন কাজী জাফরের একান্ত সহকারী গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, ‘আমরা আশাবাদী সংসদ ভবনের পাশে স্যারের (কাজী জাফরের) দাফনের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবে।’
কাজী জাফরের মেয়ে রুনা আহমেদ অস্ট্রেলিয়া থেকে শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় গুলশানের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হসপিটালে ভর্তির পর সকাল সাড়ে ৭টায় ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক : বিএনপি
আজ শনিবার দুপুরে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে এ বিষয়ে আমাদের দলের নীতি-নির্ধারকরা আলোচনা করে কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
গ্যস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার প্রতিবাদে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এএসএম আবদুল হালিম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এ বছরের শুরুতে অস্থির রাজনৈতিক সময়ে ‘বিনা ভোটের নির্বাচিত সরকারের’ মত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তথাকথিত লোক দেখানো শুনানির নামে পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির যে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি তার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ করছে।
তিনি বলেন, যখন সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় তাপে অস্থির এবং আয়ের সাথে ব্যয়ের অসামঞ্জস্য থাকায় মানুষের এমনিতেই নাভিশ্বাস-তখন গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে সংসার চালাতে তাদের আরো হিমসিম খেতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও কমে যাওয়ারই কথা। কিন্তু তা না করে সরকার উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে আর গ্যাসখাত লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এটা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, আর্ন্তজাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত এক বছরের তুলনায় এক তৃতীয়াংশে নেমেছে এবং অব্যাহতভাবে তেলের দাম কমছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ায় দেশের জনগণ কোনো সুফল পাচ্ছেনা। আমরা সরকারের এই গণবিরোধী নীতির তীব্র সমালোচনা করছি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, সরকারের আজ্ঞাবাহী বিইআরসি দাম বাড়ানোর জন্য দেশের অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে তিন দিনব্যাপী গণশুনানি করেছে সেই গণশুনানির রায় ছিল দাম না বাড়ানোর। কিন্তু লোক দেখানো শুনানির নামে নিজেদের ইচ্ছামতো তারা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছেন।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আমাদের দল বিইআরসির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণাকে বাতিলের দাবি জানাচ্ছে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নতুন করে গণশুনানির আয়োজন করে বিএনপি সহ দেশের সকল স্টেক হোল্ডারদের মতামত নেয়ারও আহবান জানাচ্ছে।
গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য পর্যালোচনার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিতের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি এখন প্রমাণিত যে, বিএনপি সরকারের শুধু বিরোধীতার নীতি থেকে এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রতিবাদ করছেনা বরং জণগনের স্বার্থে কথা বলছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বিইআরসি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির স্বপক্ষে যে যুক্তি তুলে ধরেছেন আমাদের দলের সারবত্তা না থাকায় তা প্রত্যাখান করছে।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, গ্যাস খাতে যেখানে সরকারের ভর্তুকি দিতে হয়না এবং লোকসানও নেই। বরং পাঁচ বছরে যেখানে পেট্রোবাংলা ২০ হাজার ৮০ কোটি টাকা লাভ করেছে সেখানে গৃহস্থালি কাজে এক বার্নার ও দুই বার্নার চুলায় এক লাফে ২ শত টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতি নিদারুণ অবিচার।
তিনি বলেন, জনগণের প্রকৃত ভোটে নির্বাচিত হলে সরকার নিজেদের জবাবদিহী করার কথা ভাবতেন। কিন্তু ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় আসা যায় বা ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখা যায় বলে তারা দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা যেমন ভাবেননি, তেমনি কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-রফতানিতে এই দাম বৃদ্ধি কিভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে-সে বিষয়টিও আমলে নেননি।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি চা রফতানি খাতকে আরো হুমকির মধ্যে ফেলবে।
বেসরকারি খাতে কল-কারখানায় বিদ্যুতের লোডশেডিং মোকাবিলায় যে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হতো তার মূল্য দ্বিগুণ করা শিল্পোৎপাদনে বড় ধরনের আঘাতের সৃষ্টি হবে। এটা কি সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি? নাকি শিল্প ধ্বংস করা?
তিনি সরকারের সমালোচনা করে আরো বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের কথায় কথায় কৃষক ও কৃষিবান্ধব বলে প্রচার করে। কিন্তু এরআগে প্রমাণ করেছি কি করে সরকার ধান-গম-ক্রয়ের সময় নিজ দলীয় দালালদের মাধ্যমে কৃষকদের নির্মমভাবে ঠকিয়েছেন, যার ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য তথা সরকার ঘোষিত মূল্যে তার উৎপাদিত ধান-গম বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার বিদ্যুৎ মূল্য বৃদ্ধিতেও সরকারের কৃষক ও কৃষিবান্ধব নীতির পরিহাসের চিত্র ফুটে উঠেছে। এবার সেচ খরচ বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং এর চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উপসানালয় ও সামাজিক সংঘেও বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়েছে। সরকার ‘সামাজিক দায়বদ্ধতার’ সবক দেয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারের ধর্মীয়-সামাজিক দায়বদ্ধতা কোথায়? এ প্রশ্ন ওঠা কি স্বাভাবিক নয়?
সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও সিষ্টেম লস কমাতে পারলে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা জনগণের ওপর চাপাতে হতোনা। বিইআরসি চেয়ারম্যান ‘পে-স্কেল আসিতেছে’ শুনিয়ে আগাম মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা জিজ্ঞেস করতে চাই গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সরকারী পে-স্কেলের আওতায় কতজন? জনগণের প্রতি মায়া-শ্রদ্ধা না থাকার কারণেই এসব উদ্ভট যুক্তি তারা তুলে ধরেছেন! তার অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ আরো বেশি হাস্যকর। বাংলাদেশের মানুষের আয় কি অস্ট্রেলিয়ার মতো?
তাই আমরা সরকারের প্রতি আহবান জানাবো- আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দামের সাথে সমন্বয় করে দেশে তেলের দাম পুননির্ধারণ, বিইআরসি ঘোষিত তেল-গ্যাসের বর্ধিত মূল্য বাতিল করে মানুষের দুর্ভোগ-কষ্টের প্রতি মানবিক হতে হবে। কারণ, এই দুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক চাপ ঘরে ঘরে চুলা থেকে শুরু করে পরিবহনে যাত্রীভাড়া, ঘর-বাড়িতে বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল-মানুষের সহ্য সীমাকে ছাড়িয়ে যাবে। কৃষি-শিল্প-ব্যবসা-রফতানিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বরং জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম কম থাকলে বেসরকারী বিনিয়োগ বাড়তো, কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হতো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কিডনি পাচার চক্রের হত্যা মিশন
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, জলিল কিডনি কেটে নেয়ার জন্য জয়পুরহাট থেকে আবু হাসান নামের এক যুবককে ঢাকায় নিয়ে আসে। একটি কিডনির বিনিময়ে হাসানকে একটি সিএনজি দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। অপর ভিকটিম মাহবুবুর রহমানকে রক্ত দেয়ার নাম করে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজা আক্তার লাকী বলেন, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে কিছু ক্লিনিকে কিডনি ম্যাচিং পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের ভারতের কলকাতায় নিয়ে বা বাংলাদেশের কোন হাসপাতালে নিয়ে কিডনি বের করে নেয়। প্রতিটি কিডনি চার থেকে ছয় লাখ টাকায় বিক্রি হয়। বিক্রেতা পায় এক থেকে দুই লাখ টাকা। বাকি টাকা মধ্যস্বত্বভোগীরা নিয়ে যায়। এসব ঘটনায় বাংলাদেশে কোন কোন হাসপাতাল জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে কিডনি বেচাকেনা বেআইনি। তবে কারও যদি কিডনির প্রয়োজন হয়, তাহলে তার রক্তের সম্পর্কের লোকজন স্বেচ্ছায় দিতে পারবেন। তবে এ বিষয়ে কেউ তাকে জোর করতে পারবে না। সূত্র জানায়, কিডনি পাচার চক্রের সদস্যদের কয়েকজন আগে ঢাকায় অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে কাজ করতো। তাদের পরিকল্পনা ছিল কিডনি কেটে নেয়ার পর অবস্থা খারাপ হলে তাদের মেরে ফেলা হবে। এমনকি লাশ বস্তায় ভরে আগে থেকে অন্য নামে বুকিং দেয়া লঞ্চের কেবিনে করে পাঠিয়ে দেয়া বা নদীতে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃহত্তম পরমাণু বোমার প্রদর্শনী
সরকার নিয়ন্ত্রিত রুশ অস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা রোজাটম স্টেট অ্যাটোমিক এনার্জি কর্পোরেশন মস্কোয় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করবে বলে সূত্রের খবর। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, আসন্ন এ প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ হবে এএন-৬০২ পরমাণু বোমাটি৷ যা ‘টিসার বোম্বা’ নামে সেদেশে পরিচিত।
প্রসঙ্গত, ১৯৬১ সালে রাশিয়া আর্কটিক মহাসাগরে বিশাল আকারের পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালায় এবং এর বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল ৫৭ থেকে ৫৮.৬ মেগাটন। বিস্ফোরণের পর বিশাল আকারের আগুনের কুণ্ডলি ওঠে যা ১,০০০ কিলোমিটার দূর থেকে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া, আকাশে ৬৭ কিলোমিটার উচ্চতায় মাশরুমের মতো মেঘের সৃষ্টি হয়। রুশ পরমাণু বোমার পরীক্ষার পর ৮০০ কিলোমিটার দূরের ঘরবাড়ির জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছিল।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
August
(765)
-
▼
Aug 30
(21)
- জয় বাংলা শ্লোগানের অপমান করছে ছাত্রলীগ : জাফর ইকবাল
- বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়দাতা দেশের সমালোচনায় কৃষ...
- মুখোমুখি by উৎপল রায় ও সিরাজুস সালেকিন
- হিজড়া বানানোর ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
- বড় বিক্ষোভের মুখে মালয়েশিয়া
- নিহতরা ‘সিরীয়’ শরণার্থী
- গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে খুঁজে বের করার তাগিদ ...
- অস্ট্রিয়ায় ট্রাকে ৭১ লাশ- নিহতরা ‘সিরীয়’ শরণার্থী
- ভূমধ্যসাগর এখন লাশের সাগর
- পাকিস্তানের একমাত্র হুমকি ভারত
- ভারতের রাজনীতি পাল্টে দেয়ার হুমকি প্যাটেলের
- মেসি ৪৯ সুয়ারেজ ৩ রোনাল্ডো ২!
- গুঞ্জন শুনি
- সন্ধ্যার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশে কড়াকড়ি: দ...
- গরমে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে সাবধান হোন, সুস্থ থাকুন
- হিজড়াদের অন্যরূপ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
- কাজী জাফরের দাফনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্...
- গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক : বিএনপি
- কিডনি পাচার চক্রের হত্যা মিশন
- বৃহত্তম পরমাণু বোমার প্রদর্শনী
- রাশিয়ার মোকাবিলায় ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২
-
▼
Aug 30
(21)
-
▼
August
(765)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



















