Tuesday, November 17, 2015

বাংলাদেশের পাঁচ বিপদ by আনু মুহাম্মদ

প্রকাশক ফয়সল আরেফিন (দীপন) খুনের পর তাঁর বাবা লেখক শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক যখন বলেন ‘আমি কোনো বিচার চাই না’, তখন তা এই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ হয়ে ওঠে। বিচার ও বিচারহীনতা নিছক আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি রাজনীতি দ্বারাই নির্ধারিত। অবিরাম খুনের জনপদে খুনি-সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক মতাদর্শিক ও শারীরিক পৃষ্ঠপোষকতার বিষয় এই রাজনীতির সঙ্গেই জড়িত। তালেবান, আইএস, আনসারুল বা ভাড়াটে সন্ত্রাসী—যে–ই হোক না কেন, বড় শক্তির পৃষ্ঠপোষকতাই যে এগুলোর ক্ষমতার উৎস তার তথ্য-প্রমাণের কোনো অভাব নেই। দীপনের বন্ধু, আরেকজন শিক্ষক অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অভিজিৎ খুন হয়েছিলেন বইমেলায় পুলিশের সামনে। তাঁর স্ত্রী বন্যা গুরুতর জখম হয়েছিলেন। তিনি অধ্যাপক হকের এই বক্তব্য ধরে তাঁর ফেসবুক পাতায় ‘আমিও বিচার চাই না’ বলে আরও লিখেছেন, ‘এ সরকারের কাছ থেকেও কিছু চাওয়ার নেই আমাদের। একটাই অনুরোধ তাদের কাছে, দয়া করে দিনরাত আর “আমরা সেক্যুলার পার্টি” বলে গলা ফাটিয়ে নিজেদের এনার্জি নষ্ট করবেন না।’ সন্দেহ নেই, ক্ষমতার খেলায় সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা, শৈথিল্য আর তার সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন নেতার অসংলগ্ন কথা খুনিদের জন্য সুযোগ আর নিরাপত্তাই কেবল বাড়ায়।
বাংলাদেশ যে দ্রুতগতিতে অনিশ্চিত উল্টোযাত্রা শুরু করেছে, তার পেছনে যেসব উপাদান যুক্ত, তাকে স্থানীয় মৌলবাদ না বৈশ্বিক ফ্যাসিবাদ হিসেবে শনাক্ত করা যায় কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন (এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি সর্বজনকথা নভেম্বর সংখ্যায়)। ২০০১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নামে সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু হয় বিশ্বজুড়ে। ‘জঙ্গি’ ‘সন্ত্রাসী’ দমনের নামে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাস দমন’ মডেলে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশও। এই মডেলে প্রবেশের অর্থ যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীর বর্ধিত পুনরুৎপাদন ও সন্ত্রাসের চিরস্থায়ীকরণ, তা আমরা অভিজ্ঞতা থেকেই দেখছি।
বর্তমানে জঙ্গি, ইসলামি সন্ত্রাসী বলে যে প্রচার ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ মূল ভিত্তি, তাতে বিশ্বজুড়ে তিন ধরনের ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বা ‘সন্ত্রাসী’র দেখা পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমত, আসলেই কিছু কিছু ইসলামপন্থী গ্রুপ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যারা ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ ‘খেলাফত’ প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এদের কেউ কেউ সন্ত্রাসী পথই সঠিক মনে করে। পশ্চিমা ব্যবস্থার তারা বিরোধিতা করে; তবে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের জৈবিক বিন্যাস, তার মানুষ ও পরিবেশবিধ্বংসী ব্যবস্থা তাদের মনোযোগের বাইরে, ধর্মীয় গোষ্ঠী বিরোধিতাই তাদের মুখ্য। এ কারণে সাম্রাজ্যবাদের মূল শক্তি তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকে।
দ্বিতীয়ত, আরেকটি ইসলামপন্থী ধারার নাম আমরা প্রচারণায় পাই, যারা বিভিন্ন দেশে গোয়েন্দা সংস্থার পালিত গোষ্ঠী বলে ধারণা করা যায়। বিভিন্ন সময়ে তাদের ব্যবহার করা হয়। আইএসের উদ্ভব যেমন মার্কিন-সৌদি-ইসরায়েলি কৌশলগত কার্যক্রমের ফসল। দেশে দেশে অনেক সন্ত্রাসী ঘটনায় সরকারের রহস্যজনক ভূমিকা থেকে এই যোগাযোগ পরিষ্কার হয়। এসব সন্ত্রাসী ঘটনার কোনো কূল-কিনারা করা হয় না, কিন্তু সেগুলো দেখিয়েই দেশে দেশে নতুন নতুন নিপীড়ন ও নিয়ন্ত্রণমূলক চুক্তিবিধি নীতি তৈরি হতে থাকে।
তৃতীয়ত, মিডিয়ার মাধ্যমে নির্মিত। এসব প্রচারণার মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরি এবং নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা, সাময়িকীর, নিরাপত্তা বাণিজ্য—সবই বৈধতা পায়। আতঙ্ক এখন সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বরাজনীতি ও লুটেরা দেশীয় রাজনীতির অন্যতম অবলম্বন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সামনে এখন হাজির কমপক্ষে পাঁচ ধরনের বিপদ।
প্রথম বিপদ হলো সাম্রাজ্যবাদ। ৯০-পরবর্তী সাম্রাজ্যবাদের অস্তিত্বের জন্য বড় আশ্রয় বা যুক্তি কিংবা অছিলা হলো ইসলামি জঙ্গি বা সন্ত্রাসী। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পরে তার সামনে দৃশ্যমান এবং উপস্থাপন করার মতো শত্রু নেই, যাকে দেখিয়ে নিজের সব অপকর্ম সে জায়েজ করতে পারে। তাদের যে সামরিক অবকাঠামো ও বিনিয়োগ তার যৌক্তিকতা কী, যদি বড় কোনো শত্রু না থাকে? যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রেখে, বিভিন্ন বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থে, সমরাস্ত্র, যুদ্ধ, আগ্রাসনের পেছনে বিপুল ব্যয় কীভাবে যুক্তিযুক্ত হবে? সুতরাং ‘শত্রু’ বাঁচিয়ে রাখা, কোথাও না থাকলে সেখানে তৈরি করা সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য আবশ্যিক। তার হাত ধরেই তাদের অগ্রযাত্রা। বাংলাদেশ ভারতের মতো দেশগুলোর শাসকশ্রেণির এই মডেলেই অগ্রসর হচ্ছে। সে জন্য সামনে আরও বিপদের আশঙ্কা।
দ্বিতীয় বিপদ হলো, ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষ। বিশ্বজুড়ে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিশ্বের মুসলমান সমাজকে যেভাবে ঘা দেওয়া হচ্ছে, যেভাবে আহত করা হচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে সম্প্রদায়গতভাবেই। এর ফলে ধর্মীয় রাজনীতির ভূমি উর্বর হচ্ছে। খুবই পরিকল্পিত ও একচেটিয়া প্রচারণার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারতসহ মুসলিম সংখ্যালঘু দেশগুলোতে মুসলিম নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। এই প্রবণতা অন্যান্য দেশেও মুসলমান জনগোষ্ঠীকে তার ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্ব দেওয়ার দিকে নিয়ে দিচ্ছে। সম্প্রদায়গত জখমের অনুভূতি অনেককে ঠেলে দিচ্ছে উগ্রপন্থার দিকে। ধর্মবিশ্বাসী বা নিয়মিত ধর্ম পালনকারী নন এমন ব্যক্তিরাও হয়ে উঠছেন ধর্মীয় রাজনীতির সমর্থক। সে জন্য আমরা পশ্চিমা দেশগুলোতে, ইংলিশ মিডিয়াম প্রতিষ্ঠান বা সমাজের সচ্ছল অংশগুলোতেও ধর্মপন্থী রাজনীতির প্রভাব বাড়তে দেখছি।
তৃতীয় বিপদ, দেশের মূলধারার রাজনীতি। বাংলাদেশে বৃহৎ রাজনৈতিক দুটি দল এবং তাদের জোট রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা করে ধর্মপন্থী রাজনীতির ওপর ভর করেছে, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী, মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পীরদের ‘রিজার্ভ আর্মি’ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করতে গিয়ে দুই প্রধান ধারার রাজনীতি এখন এক কদর্য রূপ গ্রহণ করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে দেশের জনস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি ও তৎপরতা অনেক নিরাপদ হচ্ছে। ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামাবলি ব্যবহার করলেও এখন এটা স্পষ্ট যে বর্তমান সরকার বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবিলার কৌশল হিসেবে বিভিন্ন ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করছে। তার সহযোগী ওলামা লীগ মৌলবাদীদের ভাষাতেই বক্তব্য দিচ্ছে। শাসকশ্রেণির এই দুই অংশের প্রতিযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা, তাদের আসা-যাওয়ার দুষ্টচক্র, অন্য বিকল্পের অভাবে, ধর্মপন্থী উগ্র অসহিষ্ণু রাজনীতি ও তাদের এজেন্ডাকেই শক্তিশালী করছে। মুক্তচিন্তা, মত প্রকাশের অধিকার এখন আইন ও আতঙ্ক দ্বারা সংকুচিত।
চতুর্থ বিপদ, ভারতে সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী রাজনীতির শক্তি বৃদ্ধি। ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার প্রসার বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতাকে উসকানি দিচ্ছে, সহায়তা করছে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প তৈরি হয়েছিল, তার রেশ তো আছেই, তার সঙ্গে ভারতের আগ্রাসী রাজনীতি ও অর্থনীতিও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ গবেষক রোমিলা থাপার ১ নভেম্বর ভারতের প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবীদের এক সমাবেশে সঠিকভাবেই বলেছেন, ‘উগ্র ইসলামপন্থী আইএস এবং উগ্র হিন্দুপন্থী আরএসএসের মধ্যে কোনো তফাত নেই।’
পঞ্চম বিপদ, দেশে বিপ্লবী, বামপন্থী বা জনপন্থী রাজনীতির দৈন্যদশা; আর তার সঙ্গে বিদ্বৎসমাজের বৃহৎ অংশের ক্ষমতা ও অর্থের কাছে আত্মসমর্পণ। সমাজ অর্থনীতির গতি ও বৈপরীত্য অর্থাৎ প্রাচুর্য ও দারিদ্র্য, সমৃদ্ধি ও বঞ্চনা, সম্ভাবনা ও হতাশা, নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতা, চিকিৎসাবাণিজ্য ও চিকিৎসাহীনতা ইত্যাদির গোলকধাঁধার শিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। এর থেকে মুক্তির পথ খোঁজা মানুষের তাই অবিরাম তাগিদ। দেশে লুটেরা ও চোরাই কোটিপতিদের রাজনৈতিক আধিপত্যকে মোকাবিলা ও পরাজিত করার মতো রাজনৈতিক শক্তিই মানুষের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু তার অনুপস্থিতি সমাজে ভয়ংকর দিশাহীনতা, হতাশা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। পাঁচ নম্বরে উল্লেখ করলেও এটাই আসলে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। কেননা, এই বিপদ দূর হলে আগের চারটি বিপদ মোকাবিলা করা বাংলাদেশের জনগণের জন্য খুবই সম্ভব। শ্রমিক, নারী, শিক্ষার্থী, জাতীয় সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন ছোট-বড় জনপ্রতিরোধে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
দেশে-বিদেশে এখন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা সব ধরনের সক্রিয়তার পথ আগলে আছে। জনগণের মুক্তির লড়াই ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন। পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের বর্তমান গতি ও জাল, তার অন্তর্গত সংকটের কারণেই, কার্যত এক বৈশ্বিক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে গেছে বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষকে। পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার ফ্যাসিবাদী আবহাওয়ার মধ্যে, কোথাও তার সহযোগী হিসেবে, কোথাও তার বিরোধিতা করতে গিয়ে বিভিন্ন চরিত্রের ধর্মপন্থী রাজনীতির বিস্তার ঘটছে। কিন্তু ধর্মপন্থী রাজনীতি, তার কাঠামোগত ও পরিচয়গত সীমাবদ্ধতার কারণেই বর্তমান দানবীয় বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে সব মানুষের একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই এগিয়ে নিতে কোনোভাবেই সক্ষম নয়, বরং বর্তমান ধরনে এই রাজনীতির বিস্তার দেশে দেশে মানুষের মুক্তির লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করে বিশ্বের শোষক–নিপীড়ক যুদ্ধবাজ জালেমদের শক্তিকেই স্থায়িত্ব দিচ্ছে।
এই শৃঙ্খল থেকে দুনিয়া ও মানুষের মুক্তির জন্য দরকার ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত গণ্ডি অতিক্রম করে মানবিক নতুন পরিচয়ে নিজেদের সংহতি দাঁড় করানো, দরকার শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়নবিরোধী ঐক্যবদ্ধ চিন্তা ও লড়াইয়ের জমিন তৈরি। তা গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া এখনো নানা বাধার মুখে, তবে নতুনভাবে নির্মিত হওয়ার লক্ষণও বিশ্বজুড়ে মাঝেমধ্যে দেখা দিচ্ছে। প্রতিকূলতা ও সংকটেই নতুন সৃষ্টির সময় আসে। আরও বেশি বেশি চিন্তা ও সক্রিয়তাই আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একমাত্র পথ। বিদ্বৎসমাজের দায়িত্বই এখানে সবচেয়ে বেশি।
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
anujuniv@gmail.com

সিরিয়ায় ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন : কেরি

সিরিয়ায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে সরকার ও বিরোধীপক্ষ। চলতি বছরের শেষদিকে এ বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হবে। এছাড়া আগামী ১৮ মাসের মধ্যে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এক আলোচনা শেষে এ কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। শনিবার সিরিয়া সংকট নিয়ে ভিয়েনায় আলোচনায় মিলিত হন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা। আলোচনার মূল এজেন্ডা সিরিয়া হলেও বারবার ঘুরেফিরে এসেছে প্যারিসে শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি। খবর ওয়ার্ল্ড বুলেটিনের। ভিয়েনায় সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘আগামী ১৮ মাসের মধ্যে সিরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ছয় মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকবে।’ এ সময় কেরির পাশে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আজ জুবায়ের বলেছেন,
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় থাকলে বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখবে রিয়াদ। তিনি বলেছেন, সিরিয়ায় যেসব বিদ্রোহীগোষ্ঠী আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা যতক্ষণ সফল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সমর্থন দেয়া হবে। বৈঠকের আগে কেরি বলেন, সিরিয়া সংকটের ত্বরিত সমাধান কেন গুরুত্বপূর্ণ, প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা তা দেখিয়ে দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ বলেন, প্যারিসে হামলার ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে, ইসলামিক স্টেট, আল নুসরাসহ সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই। ভিয়েনায় বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রতিনিধি ফ্রেদেরিকা মগেরিনি লিখেছেন, সিরিয়াবিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগ দেশই সন্ত্রাসী হামলায় ভুগেছে। এখন ঐক্যই একমাত্র সমাধান। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ফাবিয়াস গতকালের প্রথম পর্বের আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের অবস্থানে হামলার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব থেকে ফ্রান্স পিছপা হবে না।

আইএসের বিরুদ্ধে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ

প্যারিসে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হামলায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গোটা বিশ্ব। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই-ই প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে জি-২০ সম্মেলনে। আইএস ও শরণার্থী সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের ঘুম হারাম। রোববার তুরস্কে শুরু হওয়া ওই সম্মেলনে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনসহ বিশ্বনেতারা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ সম্মেলনে যোগ দেননি। প্যারিস হামলার জাতীয় শোক পালন করছেন তিনি। শুক্রবার রাতের ওই সিরিজ হামলায় ১২৯ জন নিহত ও ৩৫২ জন আহত হয়েছে। ৯৯ জন গুরুতর আহত। খবর এএফপি ও গার্ডিয়ানের। প্যারিস হামলাসহ গত মাসে তুরস্কের আÍঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়ে বারাক ওবামা একে ‘বিশ্বসভ্যতার ওপর হামলা’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় তিনি আইএসবিরোধী অভিযান দ্বিগুণ করার আহ্বান জানান। ওবামা বলেন, ‘আমরা ফ্রান্সের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি। হামলাকারীদের আমরা বিচারের মুখোমুখি করবোই।’ এবারের জি-২০ সম্মেলনের আয়োজক তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে আলোচনা শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এরদোগান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের অবস্থান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। জি-২০ সম্মেলনে আমরা সন্ত্রাসীদের কঠিন বার্তা দেব।’ তুরস্কের আটলান্টিয়ায় জি-২০ সম্মেলন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে তুরস্কতেও এদিন আÍঘাতী বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চার পুলিশ কর্মী।
তারপর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আটলান্টিয়া রিসর্টে জি-২০ সম্মেলন শুরু হয়। এদিকে ইরাক-সিরিয়ায় শরণার্থী স্রোত ইউরোপের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে শরণার্থী গ্রহণে এখন দোটানায় পড়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে শরণার্থী নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। তবে ইইউ প্রধান জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার সতর্ক করে বলেন, প্যারিসে হামলাকারীর সঙ্গে শরণার্থীদের গুলিয়ে ফেললে হবে না। শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী ওই হামলায় জড়িত নয়। দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর দাবি তোলার পাশাপাশি শরণার্থী সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জি-২০ সম্মেলন। সেই সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর পুনর্বিবেচনা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নতি ও বিশ্ব জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে আলোচনাই ছিল এবারের সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য। সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়েও আলোচনা ছিল সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে। কিন্তু ফ্রান্সের রাজধানী শহরে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার কারণে ২০১৫ সালের জি-২০ সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ‘সন্ত্রাসবাদ দমন’ বা ‘আইএস’ দমন। এদিকে প্যারিসের ভয়াবহ হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মনে করছেন, জঙ্গি হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তার দেশও। যেসব ব্রিটিশ নাগরিক অবকাশ যাপনে প্যারিসে গেছেন তাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ব্রিটেনের বিমানবন্দর এবং ফেরি টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শও দিয়েছেন ক্যামেরন। শনিবার এই বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্যারিসে ভয়াবহ এই হামলা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি। সেই সঙ্গে যুক্তরাজ্যও হামলার ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। ক্যামেরন তার দেশের নাগরিকদের ‘সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সেই সঙ্গে এটিও স্পষ্ট করেছেন, সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, আতংকিত বা হুমকি দেয়া হয়নি। সেই সঙ্গে কথিত ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং এর মতাদর্শকে ধ্বংস করা হবে বলে ঘোষণা দেন। আজ (সোমবার) তুরস্কে জি২০ সামিট সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের সঙ্গে সারাবিশ্বে জঙ্গি কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, প্যারিস হামলা সত্ত্বেও সিরিয়াতে আইএসবিরোধী অভিযান থেকে পিছু হটবে না ব্রিটেন। উল্লেখ্য, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা থেকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জঙ্গি হামলায় শতাধিক লোক প্রাণ হারায়। হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ হামলায় ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তবে আইএস ফ্রান্সের বাইরে থেকে হামলা চালিয়েছে, নাকি ভেতর থেকে করা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। এ হামলায় কমপক্ষে আটজন হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি প্যারিস পুলিশের। জঙ্গিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বিনোদন কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ এবং জনবহুল স্থানগুলো। জার্মানি-ফ্রান্স ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের খুব কাছেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

শোকে মুহ্যমান ফ্রান্স- আইএস ঠেকাতে চাই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

প্যারিসে শুক্রবার রাতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর
গত রোববার শহরটির সবচেয়ে বড় গির্জা নটর ডেম
ক্যাথেড্রালে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে প্রার্থনার
আয়োজন করা হয়। সেই প্রার্থনা অনুষ্ঠানে
অংশ নেয় হাজারো মানুষ l ছবি: সুমন ইউসুফ
প্যারিসে হামলায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘নির্দয় যুদ্ধ’ শুরুর কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। তাঁর এই কথার পর দেশটির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রাস্তায় নেমেছে সেনাবাহিনী।
তবে গত শুক্রবারের বোমা হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা পশ্চিমা দেশের একটি আধুনিক ও উন্মুক্ত রাজধানীকে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার নানা জটিলতাকেই আবারও সামনে এনেছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্যারিসের নিরাপত্তায় কোন মাত্রার ঘাটতি ছিল? এ প্রশ্নও উঠতে পারে, ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই হামলা কি ঠেকাতে পারত বা তাদের কী পারা উচিত ছিল?
ঘরের বাইরে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ফ্রান্সের বৃহত্তর অভিযানের প্রচারণার অবস্থাই বা কী? প্যারিসে প্রকাশ্যে প্রাণঘাতী হামলার পর দেশটিতে কি কোনো পরিবর্তন ঘটতে চলেছে?—উদয় হতে পারে এ রকম আরও প্রশ্ন।
এ বছরই গত জানুয়ারি মাসে ফ্রান্সে ব্যঙ্গ পত্রিকা শার্লি এবদো এবং ইহুদিদের একটি বিপণিবিতানে হামলা হয়। এসব হামলা যত মন্দই হোক না কেন, সেগুলো ছিল অত্যাসন্ন আরও ভয়াবহ হামলারই সতর্কসংকেত। ওই সব হামলার পরও নিরাপত্তা জোরালো করা হয়েছিল। বিভিন্ন ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছিল শত শত নতুন পদও। সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময় বাড়াতে যোগ করা হয়েছিল নতুন নতুন সরঞ্জাম-উপকরণ।
এটা অনস্বীকার্য যে এগুলোর কার্যকারিতার জন্য সময়ের প্রয়োজন এবং সৃষ্ট নতুন পদগুলো সবে মূলধারায় যুক্ত হতে শুরু করেছে। তবু এসব পদক্ষেপ একার হাতে আইএসকে মোকাবিলা করার কাজে যথেষ্ট না হতে পারে। জানুয়ারির মতো গত শুক্রবারের হামলার ক্ষেত্রেও ধারণা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্রকারীদের অন্তত একজন ফরাসি গোয়েন্দাদের পূর্বপরিচিত। বাতাক্লঁ কনসার্ট হলে আত্মঘাতী হামলাকারীদের একজন ইসমাইল ওমর মোস্তফে ছিলেন ফরাসি নাগরিক ও ছোটখাটো অপরাধী।
উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডের ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে ২০১০ সাল থেকে এই ফরাসি ব্যক্তি গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ছিলেন। লো মঁদ পত্রিকার খবর অনুযায়ী, তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সিরিয়ায় থাকতে পারেন। যে কারণেই হোক, তিনি যদি দেশে ফিরে থাকেন বা যখনই ফিরে থাকেন, তা নিয়ে কোনো সতর্কঘণ্টা বেজে ওঠেনি। প্যারিসে শুক্রবারের হামলার বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত না জানালেও তাদের স্পষ্ট বিশ্বাস, এ হামলার পেছনে বাইরের হাত আছে। তারা মনে করে, আইএসের যে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে, তাদের সঙ্গে বেলজিয়ামের সংশ্লিষ্টতা আছে।
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করার কথা জানা গেছে। এঁরা তিনজনই ফরাসি নাগরিক। তবে দুজন ব্রাসেলসে থাকতেন। প্যারিসে থাকতেন একজন। তিনি ওই ইসমাইল মোস্তফে। ব্রাসেলসে যে দুজন থাকতেন, তাঁদের মধ্যে আবদেসালেম সালেহ নামের একজন হামলায় অংশ নিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মিসরে যাত্রীবাহী রুশ বিমান বিধ্বস্ত হওয়া, তুরস্কে সমাবেশে ও লেবাননে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বোমা হামলা এবং এখন প্যারিসে এ হামলার ঘটনা—এ সবই নিজেদের ঘাঁটি সিরিয়া ও ইরাকের বাইরে শত্রুর বিরুদ্ধে আইএসের হামলা চালানোর সক্ষমতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
তাই, নিজেদের ঘরের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ইউরোপজুড়ে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই করা ছাড়াও প্যারিসের ঘটনা আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক শান্তি পরিকল্পনার অধীন বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হতে পারে এই পন্থার একটি।

প্যারিসে হামলার কী পরিণাম -এএফপির বিশ্লেষণ

ফরাসির রাজধানী প্যারিসে শুক্রবার রাতে দফায় দফায় ভয়াবহ ও নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলার পরিণাম বহুমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা, দেশটিতে পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপ, ইউরোপে শরণার্থী-সংকট, ইউরোপের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ‘সীমানাবিহীন’ ইউরোপ—প্রতিটি ক্ষেত্রে ওই হামলার প্রভাব পড়বে।
শুক্রবারের হামলায় সিরীয় যোগসূত্র থাকার ইঙ্গিত মিলছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর আলোচনায় বাড়তি গতি আসতে পারে। আর ইসলামি জঙ্গিবাদ দমনে করণীয় নির্ধারণের ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের মতভেদ দূর করতে চাপ দেবে ফ্রান্স। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত শনিবার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় বলেছেন, ‘সংকট নিরসনে অগ্রগতির জন্য আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সন্ত্রাসীরা প্যারিসে হামলার মাধ্যমে এ রকম বার্তাই আমাদের দিয়েছে।’
প্যারিসে হামলাকারী বন্দুকধারীদের কথাবার্তা কেউ কেউ শুনেছেন। ওই সন্ত্রাসীরা ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলায় ফ্রান্সের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে বলছিল। তা ছাড়া শুক্রবারের হামলার দায় স্বীকার করে আইএস যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতেও ওই বিমান হামলার প্রসঙ্গ রয়েছে। তাই সব মিলিয়ে আইএসবিরোধী লড়াইয়ে এখন পশ্চিমা কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ফরাসির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ অবশ্য প্যারিসে ওই ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘নির্দয়’ জবাব দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় শরণার্থী-সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ। সেখানে অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে জনমত বাড়ছে। এ অবস্থায় প্যারিসে হামলার প্রভাবে শরণার্থী-সংকট মোকাবিলার কাজটা ইউরোপীয় সরকারগুলোর জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। চলতি বছর এ পর্যন্ত আট লাখ শরণার্থী গ্রিস ও ইতালি উপকূল দিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে আইএসের জঙ্গি থাকার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। প্যারিসে হামলার পর শরণার্থী-সংকটের সঙ্গে ‘ইউরোপে ইসলামিকরণের’ আশঙ্কা নিয়ে কট্টর ডানপন্থীদের অনেকে বক্তব্য দিচ্ছেন।
এএফপির বিশ্লেষণ :দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় শরণার্থী-সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ। সেখানে অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে জনমত বাড়ছে। এ অবস্থায় প্যারিসে হামলার প্রভাবে শরণার্থী-সংকট মোকাবিলার কাজটা ইউরোপীয় সরকারগুলোর জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে শার্লি এবদো সাময়িকীর কার্যালয়ে গত জানুয়ারিতে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে প্যারিসে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শুক্রবারের হামলার পর শহরটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে। তা ছাড়া ইউরোপের ২২টি দেশের শেনগেন অঞ্চলে পাসপোর্ট-ভিসামুক্ত ভ্রমণসুবিধার ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। শরণার্থী-সংকট এবং সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে ইইউর কর্তাব্যক্তিরা এ ধরনের আশঙ্কার কথা ইতিমধ্যে উচ্চারণও করেছেন। ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জার্মানি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। পাশাপাশি শেনগেন অঞ্চলের প্রতিটি দেশের সীমান্তে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহনের সময় আরও বেশি তল্লাশি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্যারিসে সর্বশেষ হামলার পর জনপ্রিয় কট্টর ডানপন্থী দলগুলো আরও বেশি ঘৃণা ছড়ানোর উসকানি দিতে পারে। শার্লি এবদোয় হামলার পর থেকেই ফ্রান্সে নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেল স্টেশন ইত্যাদি জায়গায় হাজারো সেনা মোতায়েন করা হয়। এখন নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা স্পষ্টত আরও জোরালো হবে।
শুক্রবারের হামলার পর ফ্রান্সসহ গোটা ইউরোপের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যেমন: পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বড়দিনকে সামনে রেখে বিভিন্ন পণ্যের বাজারে মন্দাভাব শুরু হতে পারে। আর আইএসের মতো সন্ত্রাস মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব তো অর্থনীতিতে অবশ্যই পড়বে।
জিহাদিদের দমন এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের মতো লক্ষ্য অর্জনে পশ্চিমা দেশগুলো এখন আরও বেশি সক্রিয়তা দেখাবে। সিরিয়ার যাবতীয় সমস্যার জন্য যাঁরা প্রেসিডেন্ট বাশারকেই দায়ী করেন, তাঁদের মধ্যে ফরাসি সরকারও রয়েছে। আর সেই অবস্থান ধরে রেখেই ফ্রান্স নিজের ওপর আঘাতের জবাব দেবে আগামী দিনগুলোয়।

এক হামলাকারী গ্রেপ্তার পরিকল্পনাকারীর ছবি প্রকাশ

প্যারিস হামলার মূল হোতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার নাম আবদেল হামিদ আবুদ। পলাতক এক সন্ত্রাসী সালাহ আবদেসলামকে বেলজিয়ামে আটক করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল, দ্য সান। তবে সরকারের তরফ থেকে এ খবরের সত্যতা সম্পর্কে জানানো হয় নি। ফলে এ আটকের খবর নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পলাতকদের ধরতে ফরাসি পুলিশ সারা দেশে রোববার ও গতকাল কমপক্ষে দেড়শ’ স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় আটক করা হয়েছে ২৩ জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র। ওদিকে এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সিরিয়ার আবদেল হামিদ আবুদ বলে মনে করা হচ্ছে। তার বয়স ২৭ বছর। জন্ম বেলজিয়ামে। সে এখন সিরিয়ায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার প্যারিসে ভয়াবহ হামলার পর এর প্রতিশোধ নিতে আইএসের শক্তিশালী ঘাঁটি সিরিয়ার রাকায় আকাশ থেকে বিমান হামলা করেছে ফ্রান্স। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান থেকে পরিচালিত ওই শক্তিশালী অভিযানে অংশ নেয় ফ্রান্সের ১০টি যুদ্ধবিমান। একের পর এক হামলা পরিচালনা করেছে তারা। কমপক্ষে ২০টি বোমা ফেলা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা হামলা চালিয়েছে আইএসের অস্ত্রের মজুদাগার ও প্রশিক্ষণ শিবিরে। জবাবে আইএস-এর মিডিয়া উইং বলেছে, ফ্রান্স যেখানে হামলা চালিয়েছে আইএস অনেক আগেই তা ত্যাগ করে এসেছে। ফলে তাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, রোববার সিরিয়ায় দায়েশ (আইএসের আরেক নাম) অবস্থানে ফরাসি যুদ্ধবিমান ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে প্যারিস হামলায় জড়িতদের ধরতে ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ। ফরাসি পুলিশ বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক অভিযান শুরু করে। ওই ব্যক্তিই সালাহ আবদেসলাম। পুলিশ মনে করছে সে তার দুই ভাইকে নিয়ে প্যারিস মিশনে অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে এক ভাই ইব্রাহিম প্যারিস হামলার সময় নিহত হয়েছে। তার অন্য ভাই মুহাম্মদ আবদেসলাম রয়েছে নিরাপত্তা হেফাজতে। ওদিকে প্যারিস হামলায় সন্দেহভাজনদের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে যাদের নাম রয়েছে তারা হলো- সালাহ আবদেসলাম। তাকে ধরতে মরিয়া হয়ে পড়ে পুলিশ। কারণ, হামলার দিনই পালিয়ে সে বেলজিয়ামে যাওয়ার সময় সীমান্তে পুলিশ তার নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। কিন্তু পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সে বেলজিয়ামে পালাতে সক্ষম হয়। গতকাল তাকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। তালিকায় রয়েছে তার ভাই মুহাম্মদ আবদেসলামের নাম। তাকেও বেলজিয়ামে আটক করা হয়েছে। তার অন্য ভাই ইব্রাহিম আবদেসলাম। বাটাক্লাঁ কনসার্ট হলে হামলার সময় এর পাশেই নিহত হয় সে। আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলো- ওমর ইসমাইল মোস্তেফাই। সে একজন ফরাসি। বাটাক্লাঁ কনসার্ট হলে হামলার সময় নিহত হয় সে। এছাড়া রয়েছে বিলাল হাদফি। সে স্টেডি ডি ফ্রান্স স্টেডিয়ামে হামলায় অংশ নিয়ে নিহত হয়। আহমেদ আল মোহাম্মদ (২৫)। সিরিয়ার ইদলিবে তার বাড়ি। সেও ওই স্টেডিয়ামে নিহত হয়। সামি আমিমর (২৮)। সে ফরাসি। বাটাক্লাঁ কনসার্ট হলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয় সে। শহরে হামলার সময় আরও দু’জন হামলাকারী নিহত হয়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মানুয়েল ভালস বলেছেন, গতকাল সকালের দিকে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায়ও কমপক্ষে ১৫০টি জঙ্গি অবস্থানে ঘেরাও অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, আমরা জরুরি অবস্থার অধীনে বৈধভাবে জনগণকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এর মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, ওই জিহাদি আন্দোলনে আসলে কারা জড়িত।
মূল হোতা সিরিয়ায়
পুলিশ যখন দেখতে পায় প্যারিস হামলায় দুটি গাড়ি ব্যবহৃত হয়েছিল বেলজিয়ামের, তারপর থেকেই শুরু হয় বেলজিয়ামে অভিযান। এরপর থেকে সেখানে কমপক্ষে সাত জনকে আটক করা হয়েছে। ওই দুটি গাড়ির একটি ভাড়া করেছিলেন এক ব্যক্তি। সে পুলিশকে বোকা বানিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে সক্ষম হয়। প্রথমে তাকে ফ্রান্স-বেলজিয়াম সীমান্তে ধরা হয়। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সালাহ আবদেসলাম। তার জন্ম ব্রাসেলসে। তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বলছে, সে একজন ফরাসি নাগরিক। ফরাসি সরকার এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণকারী আবদেল হামিদ আবুদ। সে এখন সিরিয়ায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সে একজন কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত। ইব্রাহিম আবদেসলামের সঙ্গে তার নামও রয়েছে পুলিশের বেশকিছু ফাইলে। আগস্টে থালিস ট্রেনে হামলা চালানোর সঙ্গেও সে জড়িত। আমস্টারডাম থেকে প্যারিসে প্রচণ্ড গতিতে একটি ট্রেন যাওয়ার সময় তাতে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। এ সময় সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী আয়ুব আল খাজানি গুলি করেছিল। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কেজনেভ বলেন, আমাদের ওপর শুক্রবার যে হামলা হয়েছে তার পরিকল্পনা করা হয়েছে ও পরিচালিত হয়েছে বিদেশে বসে। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এখন। ফ্রান্স রোববার রাতের হামলায় সিরিয়ার রাকায় জিহাদিদের একটি প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করে দিয়েছে। রক্তপাতের প্রতিবাদে, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় হামলার চারটি ঘটনাস্থলে সমবেত হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। তাদের চোখে অশ্রু। হাতে ফুল। প্রজ্বলিত মোমবাতি। তাদেরই একজন ক্যারোলিন পলাট বলেন, আমরা এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছি।
হামলার আগের দিন ফ্রান্সকে সতর্ক করেছিল ইরাক
প্যারিস হামলার একদিন আগে ফ্রান্সকে সতর্ক করেছিল ইরাক। দেশটির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আইসিস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি ইরাক ও সিরিয়াতে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত জোট রাষ্ট্রগুলোর ওপর হামলার নির্দেশ দেন। সামনের দিনগুলোতে বোমা হামলা, হত্যা বা মানুষকে জিম্মি করে হামলা চালানোর কথা বলা হয়। সম্ভাব্য হামলাগুলোর নির্দিষ্ট স্থান ও গোয়েন্দা তথ্যে না থাকলেও ইরাক ফ্রান্সকে সতর্ক করেছিল বলে দাবি করছেন দেশটির চারজন কর্মকর্তা। এদিকে, সিনিয়র একজন ফরাসি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলছেন, তারা এ ধরনের সতর্কবার্তা প্রতিদিনই পেয়ে থাকেন। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের মিরর। দুজন ইরাকি কর্মকর্তা বলছেন, হামলা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ফ্রান্সকে তারা সতর্ক করেছিলেন, যা ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ করে নি। এসব তথ্য অনুযায়ী, প্যারিস হামলার পরিকল্পনা করা হয় সিরিয়ার রাকাতে। সেখানে বিশেষ করে ওই অভিযানের জন্য হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পরে তাদের ফ্রান্সে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। ইরাকি কর্মকর্তারা আরও বলেন, ফ্রান্সের একটি স্লিপার সেল হামলাকারীদের প্রশিক্ষণের পর তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ও তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করে। ওই অভিযানে জড়িত ছিল মোট ২৪ জন। এর মধ্যে ১৯ জন হামলাকারী এবং ৫ জনের দায়িত্ব ছিল লজিস্টিকস ও পরিকল্পনার। রোববার ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম আল জাফারি ভিয়েনাতে সাংবাদিকদের বলেন, ইরাকি গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন যে, কয়েকটি দেশ টার্গেট হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আর তারা এ দেশগুলোকে এসব গোয়েন্দা তথ্য জানিয়ে দিয়েছেন।
‘প্যারিস হামলার নেপথ্য নায়ক ইসরাইল’
প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, প্যারিস হামলার নেপথ্য নায়ক ইসরাইল। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর আগে পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়নি। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যেও নয়। মাহাথির বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের হামলা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মদ পশ্চিমা বিশ্বের একজন কট্টোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। গত শুক্রবার রাতে প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১৩২ জন নিহত হন। ফ্রান্স এ হামলার জন্য আইএসকে দায়ী করেছে। এক বার্তায় আইএসও এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে বলা হচ্ছে।

গোলকধাঁধায় নির্বাচন কমিশন

বিধিমালা হাতে না পাওয়ায় আসন্ন পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত স্থানীয় সরকার আইনেই দলীয়ভাবে এ নির্বাচন করতে চায় ইসি। এজন্য তড়িঘড়ি করে সংশোধিত আইনের আলোকে বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন করে তা মন্ত্রণালয়ে  ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে এড়িয়ে ইসির তৈরি এ বিধিমালা থেকে বেশ কিছু জিনিস বাদ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। পরে স্থানীয় সরকার আইনটির অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে আইন হিসেবে পাস করতে চায় সরকার। ফলে ইসির সংশোধিত বিধিমালা ফের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে ডিসেম্বরের মধ্যে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে পরিকল্পনা তা ভেস্তে যেতে বসেছেন। আগামী জানুয়ারিতে চলতি বছরে হালনাগাদ করা খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। হালনাগাদ তালিকার ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও জটিলতায় পড়তে হতে পারে ইসিকে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনযোগ্য পৌরসভাগুলোতে ভোট শেষ করতে হবে বিষয়টি এমন নয়। যেসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে সেগুলো মূলত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোট করলেই চলবে। কিন্তু জানুয়ারিতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে তাদের পৌর নির্বাচনে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ফেব্রুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনুষ্ঠানের কথাও ভাবছে ইসি। ফলে প্রথম ধাপে পৌর নির্বাচন বিলম্ব হলে তা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকেও পিছিয়ে দিতে পারে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ১৮ই নভেম্বর স্থানীয় সরকার আইনের সংশোধনী সংসদে পাস হবে। ফলে এ আইন অনুযায়ী বিধিমালা ও আচরণবিধি তৈরি করতে ইসির আরও সময়ের প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী বিধি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং করে আনতে হয়। ফলে চলতি সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার যে পরিকল্পনা করেছিল তা বাস্তবায়ন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে গতকাল কথা বলতে রাজি হননি কোন নির্বাচন কমিশনার। এতদিন ধরে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও সম্প্রতি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর ফলে রাজনৈতিক নেতাদের সংসদ নির্বাচনের মতোই নৌকা, ধানের শীষ, লাঙলের মতো প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এ ক্ষেত্রে সংসদ বসার জন্য অপেক্ষা না করে অধ্যাদেশ জারি করে আইন কার্যকর হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে অংশ নেবেন। দলের বাইরে কেউ ভোট করতে চাইলে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে। ইসি ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ আকার জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই অধ্যাদেশটি বাতিল করে আইন আকারে সংশোধনী পাস করতে চায় সরকার। সংশোধনী আইন আকারে পাস হলে স্থানীয় সরকারের সব স্তরে (সিটি, পৌর, উপজেলা, ইউপি) মেয়র বা চেয়ারম্যান পদে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে। কাউন্সিলর, সদস্য, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগের মতো নির্দলীয়ভাবে প্রার্থিতার সুযোগ থাকবে। সামনে ডিসেম্বরে নির্বাচন উপযোগী ২৪৫ পৌরসভায় মোট পদ থাকবে প্রায় ৩৭৬০। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদ ২ হাজার ৬৪০টি ও সংরক্ষিত ৮৮০টি। সব পদ দলীয় হলে প্রতিটি পদে নাম, প্রতীকসহ ব্যালট ছাপাতে হবে। কাউন্সিলর বাদ পড়লে শুধু মেয়রদের ২৪০টি পদে দলীয় প্রতীক থাকবে। নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কেন্দ্র ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে মাঠপর্যায়ে চিঠি দিয়েছে ইসি।

ওয়াশিংটনেও হামলার হুমকি আইএস’র

প্যারিসে যেভাবে হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, একই ধরনের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতেও চালানোর হুমকি দিয়েছে আইএস। প্যারিসে হামলার পর সিরিয়ায় আইএসের ঘাঁটিতে পশ্চিমা দেশগুলোর বিমান হামলার জোরদারের মধ্যে সোমবার একটি ভিডিও বার্তায় এই হুমকি দেয় গোষ্ঠীটি।
ভিডিও বার্তাটি এসেছে ইরাকি ওয়ালিওয়াত কিরকুক নামে আইএসের একটি উপদলের কাছ থেকে। অবশ্য এটির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটির শুরুতে গত শুক্রবার প্যারিসে চালানো হামলার পর টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন ভিডিও দেখানো হয়। দেখানো হয় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের বক্তৃতা এবং পুলিশি অভিযানের চিত্র।
হামলায় নিহতদের লাশ ব্যাগে করে সরিয়ে নেয়ার টেলিভিশন চিত্র দেখানোর পর আসেন এক ব্যক্তি, যিনি আইএসের নামে আরো হামলা চালানোর হুমকি দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সে রাষ্ট্রগুলোকে বলে দিতে চাই, যারা ক্রুসেডে অংশ নিচ্ছে, আল্লাহর নামে বলছি, আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের জন্যও সেদিন আসছে, যেমনটি আমরা ফ্রান্সের কেন্দ্রস্থল প্যারিসে ঘটিয়েছি। শপথ করে বলছি, আমরা আমেরিকায়ও হামলা চালাব এবং তা হবে দেশটির কেন্দ্রস্থল ওয়াশিংটনে।’
এদিকে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্যারিসে হামলার দিনেই তুরস্কের ইস্তাম্বুলেও হামলার পরিকল্পনা ছিল আইএসের। তবে তা ব্যর্থ হয়। তিনি হামলায় ব্যর্থ হলেও পরবর্তী হামলার আশংকা একবারে উড়িয়ে দেননি।
তিনি বলেন, আইএসের ব্রিটিশ যোদ্ধারা আবারও প্যারিসের মতো তুরস্কের ইস্তাম্বুলে হামলার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তুরস্কের এক সিনিয়র কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, গত সপ্তাহে অন্যদের সাথে আইএসের ‘সহযোগী’ ডেভিসকে আটক করা হয়। এরাই ইস্তাম্বুলে প্যারিসের মতো হামলা চালাতে পারে। ডেভিস একদল আইএসের ব্রিটিশ যোদ্ধাদের একজন।
ইস্তাম্বুল বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন স্থানের মধ্যে একটি। রোববার আংকারায় আইএসের সাথে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে সাতজনকে আটক করা হয় বলেও জানায় আরেকটি সূত্র। তবে আটককৃতদের নাগরিক পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ইরাক ও সিরিয়ার কিছু অংশ দখল করে খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক স্টেটবা আইএস। তাদের দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিমান হামলা চালাচ্ছে বিভিন্ন দেশ। রাশিয়াও আলাদাভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
এই অভিযানের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্যারিসের কেন্দ্রস্থলের ছয়টি স্থানে অস্ত্র ও বোমা নিয়ে হামলা চালায় আইএস। এতে ১২৯ জন নিহত হয়েছেন, যার ৮৭ জনেই মারা যান একটি কনসার্ট হলে।
এ ঘটনার পর গোটা দেশে জরুরি অবস্থা চলছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ শুক্রবার রাত থেকে আরোপিত ওই জরুরি অবস্থা একটানা তিন মাস বলবৎ রাখতে চাইছেন। আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন বলে এক গোপন সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রাজনৈতিক সূত্রটি বলেছে, ‘তিনি রোববার আমাদের কাছে দেশে আরোপিত জরুরি অবস্থা একটানা তিন মাস বলবৎ রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’
তবে ফ্রান্সে ১২ দিনের বেশি জরুরি অবস্থা বহাল রাখার নিয়ম নেই। দেশে এর বেশি দিন ধরে জরুরি অবস্থা চাইলে ওলাঁদকে পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে প্যারিসে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। ১২ দিন ব্যাপী ওই সম্মেলনে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলোর অংশ নেবে।
তাছাড়া প্যারিসের ভয়াবহ হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মনে করছেন, সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তার দেশও। যেসব ব্রিটিশ নাগরিক অবকাশ যাপনে প্যারিসে গেছেন তাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসাথে ব্রিটেনের বিমানবন্দর এবং ফেরি টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শও দিয়েছেন ক্যামেরন।
শনিবার এই বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্যারিসে ভয়াবহ এই হামলা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি। সেই সাথে যুক্তরাজ্যও হামলার ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। ক্যামেরন তার দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সাথে এটিও স্পষ্ট করেছেন, সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, আতংকিত হতে বলা হয়নি বা হুমকি দেয়া হয়নি। সূত্র : রয়টার্স ও এএফপি।

দাতারা সাবধান করেছে, আশ্বাস দিয়েছে: অর্থমন্ত্রী

সহযোগিতার আশ্বাস ও কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দাতাগোষ্ঠী। এমন আশ্বাসের মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনীতে গতকাল ব্রিফিং করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ওই ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৬ বছর পর অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। ২ দিনে ৮টি সেশন হয়েছে। এতে দাতা সংস্থারা অনেক সাবধান করেছেন। তবে সাবধানের ধরন স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। শুধু জানান শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাজেট বরাদ্দের অপর্যাপ্ততার কথা। সে সঙ্গে বিভিন্ন মন্তব্য, সমালোচনা, সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ভালো, তবে যথেষ্ট নয়। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় উন্নয়নে কোন বাধার সৃষ্টি করবে কি-না এমন প্রশ্নে মুহিত বলেন, উন্নয়ন ফোরামে এ ধরনের কোন আলোচনা হয়নি। বক্তব্য রাখেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন ও ইউএসএইড বাংলাদেশের মিশন প্রধান ও স্থানীয় পরামর্শক গোষ্ঠীর সহসভাপতি মিজ জেনানা জেরুজেলস্কি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এশিয়া অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সভাপতি মি. জিন লিকুইন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহসভাপতি ওয়েংকাই ঝাং, জাপান পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মি. কিংগো টয়োডা। সম্মেলনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও টেকসই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব তৈরির অঙ্গীকার করা হয়। এ ছাড়া  সম্মেলনে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অবকাঠামো, সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নের মূলধারায় জেন্ডারের অংশগ্রহণসহ বেশ কিছু অগ্রাধিকার খাতে সুনির্দিষ্ট মতামত ও যৌথ ইস্তেহার ঘোষণা করা হয়। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অনেক লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী হলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য। এর জন্য দরকার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানো। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে নতুন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তা করতে পারলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) মতো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যেও (এসডিজি) সাফল্য পাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ) বৈঠকের উভয় অধিবেশনে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং দেশের বেশ কিছু প্রতিনিধি মতামত ব্যক্ত করেন। দুই দিনের সেশন ও প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পর্যায় থেকে অকৃষি কার্যক্রম গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ সরকার আগেই গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছে। গত ছয় বছরে কৃষিবহির্ভূত কাজে বেশি গুরুত্ব দেয়ার জন্য বিশেষ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য গত কয়েক বছরের মধ্যে রপ্তানি অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, শিল্পায়নের পথে জমির সংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে শিল্পায়ন হবে না। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে।
নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজি বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১১ লাখ লোক কর দেয়। করদাতার সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করতে রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে কর জাল বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
মার্টিন রামা বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে প্রায় ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ১ কোটি ২৯ লাখ মানুষের। এসব লক্ষ্য অর্জন করা কিছুটা কঠিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। জ্বালানি ও অবকাঠামোর উন্নতির মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন। এসব দিকে নজর দিলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, এমডিজির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করেছে। এসডিজি অর্জনেও সাফল্য আসবে। এসডিজির অনেক সূচক রয়েছে। এ কারণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, টেকসই উন্নয়নে আর্থিক খাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায়। উচ্চ মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরে সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এটি বাস্তবায়নে উন্নয়ন অংশীদারদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তা রডরিগো কিউবেরা বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে বাংলাদেশকে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। করযোগ্য ব্যক্তিদের কাছ কর আদায় করতে হবে। নতুন পরিকল্পনা নিয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রতি বছর বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় কয়েকটি খাতে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সে অর্থের যথাযথ ব্যবহারের সক্ষমতা একই গতিতে বাড়ছে না। এ জায়গায় আরও উন্নতি করতে পারলে সাফল্য পাবে বাংলাদেশ। এ সময় দারিদ্র্যবিমোচন এবং এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন তারা।
মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) বাস্তবায়ন করতে ৩১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে বছরে অবকাঠামো খাতে অতিরিক্ত ৯০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। এডিপির মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে যোগাযোগ এবং বিদ্যুতে ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি ডলার ব্যয় করতে সক্ষম। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের বৃত্তে আটকে গেছে। এর পাশাপাশি প্রযুক্তির উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের জন্য অর্থ প্রয়োজন। অর্থের ঘাটতি মেটাতে না পারলে এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এতে বলা হয়েছে, জিডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার অনুপাত কমছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বৈদেশিক সাহায্যের যথার্থ ব্যবহার করতে হবে। সুশাসন বাড়াতে হবে।

ডা. মিথিলার সুইসাইডাল নোট: তোমাকে অসুখী হওয়ার দরকার নেই

‘মিজানূর রহমান ও তানজিলা জাহান মিথিলা। চিকিৎসক দম্পতি। তাদের দুই জনেরই কর্মস্থল ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর তাদের সংসারে কলহ লেগেই থাকতো। সদ্য অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নির্বাচন নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলেন মিজানূর রহমান। মিথিলা তার স্বামীকে বিভিন্ন কারণে রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিকবার ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একাধিকবার মোবাইল ক্ষুদে বার্তা পাঠান। তবুও তিনি কলব্যাক করেননি। পরে অভিমানে ‘তোমাকে অসুখী হওয়ার দরকার নেই’ বলে একটি চিরকুট লিখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এমনটাই দাবি করেছেন মিথিলার পরিবারের সদস্যরা। চিরকুটটি বিছানার ওপরে পড়ে ছিল। স্ত্রীর মৃত্যুতে মিজানূর রহমান অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। রোববার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পেছনে আবাসিক কোয়ার্টারে ছয়তলা ভবনের নিচতলার এ/৪ নম্বর কক্ষে আত্মহত্যা করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক মিথিলা (২৭)। পরে পুলিশ ওই বাসার দরজা ভেঙ্গে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সূত্র জানায়, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ গ্রহণ করেন নিহতের মামা খন্দকার আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় নিহতের আরেক মামা খন্দকার শরীফ উদ্দীন শাহবাগ থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।
গতকাল দুপুরে ওই ছয়তলা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ওই ভবনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা থাকেন। কেউ পরিবার নিয়ে থাকেন। আবার কেউ ব্যাচেলর থাকেন। নিচতলার দুই রুমের বাসায় ওই চিকিৎসক দম্পতি থাকতেন। নিচতলার বাসিন্দা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন ধরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে টানাপড়েন চলে আসছিল। মিথিলা মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। নিহতের মা রোকেয়া বেগম সাংবাদিকদের জানান, মিথিলা বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেছিলেন। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নি করছিলেন। আর মিথিলার স্বামী মিজানূর রহমান ওই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্টার ছিলেন। বিয়ের পর থেকে তারা ওই আবাসিক ভবনে থাকতেন। বিয়ের পরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। মিথিলার বাবার নাম মো. ফিরোজ মিয়া। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার সদর থানার মনোহর এলাকায়। নিহতের মামা খন্দকার আমিনুল হক জানান, ছোট থেকে মিথিলা  মেধাবী ছিল। স্বপ্ন দেখতো চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবে। তা-ই হয়েছিল মিথিলা। স্বামীর মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অকালে মারা গেলো সে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী মো. আবু শ্যামা জানান, নিহতের শরীরের কোনস্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গলায় দাগ ছিল। প্রাথমিকভাকে ধারণা করা হচ্ছে ওই চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু, পরিবারের অভিযোগ ছিল ভিন্ন। তাই তার ভিসেরা পরীক্ষা করার জন্য মহাখালীর পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। শাহবাগ থানার এসআই জামশেদ আহমেদ জানান, নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের মামা খন্দকার শরীফ উদ্দীন বাদী হয়ে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে ওই নারী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর তার স্বামী মিজানূর রহমান গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওয়াদুদ চৌধুরী জানান, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মিজানূর রহমানের হার্টে (পেইন) বেদনা হচ্ছে। তাকে পর্যপেক্ষণে রাখা হয়েছে।

'লাভ জিহাদে'র শিকার হিন্দু নারী ফিরে যেতে চান মুসলিম স্বামীর কাছে

গত বছরের জুলাই মাসে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শাহারানপুরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর সারা ভারতে 'লাভ জিহাদের' প্রবল প্রচারণা শুরু হয়েছিল। বলা হচ্ছিল, ২২ বছরের এক হিন্দু শিক্ষিকাকে অপহরণ করে মাদ্রাসায় নিয়ে ১০ জনে ধর্ষণ করে। পরে ওই নারীকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হয। গোরক্ষপুরের এমপি যোগী অদিত্যনাথের মতো বিজেপি নেতারা জোর গলায় বলতে থাকেন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অন্তত একটি উদাহরণ আমাদের হাতের কাছেই আছে। তারা বলতে থাকেন, মুসলিম তরুণরা হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করছে।
কিন্তু ঘটনার এক বছরেরও বেশি সময় পর শনিবার ওই তরুণী পুলিশের কাছে গিয়ে বলেন, তিনি তার মুসলিম প্রেমিকের বাড়ি ফিরতে চান। তিনি আরো বলেন, হিন্দু রাজনীতিবিদের তাকে বাধ্য করেছিল মিথ্যা কথা বলতে।
তিনি বলেন, বিজেপি নেতা বিনীত আগারওয়াল তার 'ধর্ষক'দের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে তার পরিবারকে অর্থ দিয়েছিল। ওই অর্থ পেয়ে তার পরিবার তার স্বামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিয়েছিল।
জেলা পুলিশ কর্মকর্তা পুস্পন্দ্রে সিং বলেন, ১৫ অক্টোবর কথিত গণধর্ষকদের এলাহাবাদ হাইকোর্টে হাজির করা হয়েছিল। তখন ওই তরুণী বলেন, তিনি কালিম নামের তার মুসলিম প্রেমিকের সাথে থাকতে চান।
ওই তরুণী বলেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্কা, কাজেই তিনি তার পছন্দ করার স্বাধীনতার প্রয়োগ করতেই পারেন।
ওই তরুণীর আইনজীবী কৃষ্ণ কুমার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, যে ১০ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তারা জামিনে রয়েছে। তারা সবাই নির্দোষ খালাপ পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজেপির এমপি যোগী অদিত্যনাথ টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, তিনি মামলাটির সর্বশেষ অবস্থা জানেন না। তিনি সব তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করবেন না বলেও জানান।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

মোসাদের পরিকল্পনায় আইএস সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র : ক্যাস্ত্রো

কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উগ্র গোষ্ঠী আইএস সৃষ্টির পেছনে রয়েছে আমেরিকা ও ইসরাইল। কিউবার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি মিডিয়া এ খবর দিয়েছে।
ক্যাস্ত্রো বলেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস সৃষ্টির জন্য ইসরাইলের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ও আমেরিকার যুদ্ধবাজ সিনেটর জন ম্যাককেইন ষড়যন্ত্র পাকিয়েছেন। ক্যাস্ত্রো তার নিবন্ধে পরিষ্কার করে বলেছেন, জন ম্যাককেইন হচ্ছেন ইসরাইলের নিঃশর্ত মিত্র এবং মোসাদের সঙ্গে গোপন পরিকল্পনায় আইএস সৃষ্টি করা হয়। সেই অনিষ্ট শক্তি এখন ইরাকের বিরাট অংশ এবং সিরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
ক্যাস্ত্রো তার বক্তব্যে ন্যাটো সামরিক জোটকেও এক হাত নিয়েছেন। তিনি এ জোটকে জার্মানির নাজি বাহিনীর এসএস কোরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটোর কিছু নেতার বক্তব্য শুনলে মনে হবে যেন তারা অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি বাহিনীর কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েছেন।
ক্যাস্ত্রোর এ অভিযোগ সম্পর্কে একজন পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, প্রতিদিনের রাজনীতিতে ক্যাস্ত্রোর সেই আগের প্রভাব নেই কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তার বক্তব্যের গুরুত্ব নেই।
সূত্র : রেডিও তেহরান

প্যারিসে হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হামিদ

আবেদল হামিদ। ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সের প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার সন্দেহভাজন ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে ফ্রান্সের পুলিশ দাবি করেছে।
এ হামলার তদন্তে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সন্দেহভাজন ‘মূল পরিকল্পনাকারী’র নাম আবেদল হামিদ আবাউদ। তাঁর বয়স ২৭। তিনি সিরিয়ায় অবস্থানরত বেলজিয়ামের একজন নাগরিক।
গত শুক্রবার রাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৬২ জন। হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, ‘ইউরোপে আগের কয়েকটি পরিকল্পিত হামলার হোতা হিসেবে আবদেল হামিদ আবাউদকে সন্দেহ করা হচ্ছে।’ হামিদ আবাউদের বাড়ি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের উপকণ্ঠে মোলেনবিক এলাকায়।
খবরে বলা হয়, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইএসের অনলাইন সাময়িকী ‘দাবিক’-এ আবেদল হামিদ নামের এক ইসলামি জঙ্গির একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। এতে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে হামলা চালাতে ও অস্ত্র কিনতে পুরো ইউরোপ ঘুরে বেড়িয়েছেন হামিদ। গত বছর ১৩ বছর বয়সী এক বালক জিহাদে অংশ নিতে বেলজিয়াম ছেড়ে সিরিয়ায় যায়। ওই বালকের ভাই হিসেবে গণমাধ্যমে হামিদ আবাউদের নাম আসে।

গণগ্রেফতারের আড়ালে গ্রেফতার-বাণিজ্য চলছে -সুপ্রিম কোর্ট বারের সংবাদ সম্মেলন

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতারের নামে পুলিশ গ্রেফতার-বাণিজ্য চালাচ্ছে। কোনো ধরনের মামলা এবং ওয়ারেন্ট ছাড়াই বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ ধরনের গণগ্রেফতারের ভয়ে সাধারণ মানুষও ঘরছাড়া হচ্ছে। এই ঘরছাড়া মানুষ দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
আজ সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটরিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহসম্পাদক মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী, কোষাধ্যক্ষ শওকত আরা বেগম দুলালি, কার্যনির্বাহি সদস্য শামীমা সুলতানা ও মির্জা আল মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানের নামে কোনো মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই হাজার-হাজার মানুষ গ্রেফতার করে এক বিভীষিকাময় অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে। এ অবস্থায় দেশ চলতে পারে না। অবিলম্বে গণগ্রেফতার বন্ধ করুন। মামলা ছাড়া গণগ্রেফতার কোনো দেশের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না। এই গণগ্রেফতারের আড়ালে গ্রেফতার-বাণিজ্য চলছে।
তিনি আরো বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুসরণ না করে ঢালাওভাবে গ্রেফতার করায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি আরো বলেন, বিচারিক আদালতের রায় ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে জঙ্গি হিসেবে টিভি ক্যামেরার সামনে হাজির করা হচ্ছে ও অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এটা মৌলিক ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করি। ক্রসফায়ার নয়, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে হলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই সরকার গণগ্রেফতার চালাচ্ছে। অথচ আমাদের সংবিধান আছে, দেশের আইন আছে। এভাবে সংবিধান ও আইনকে পাশ কাটিয়ে একটা দেশ চলতে পারে না।

মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদেরের রিভিউ শুনানি কাল

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। আজ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেত্বত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
গত ২ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ থাকলেও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীদের সময় চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
ওই দিন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরকে হয়রানি না করতে এবং ডিফেন্স আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা না দেয়া হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়ে দায়ের করা আবেদনও খারিজ করেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, কাউকে হয়রানি করা হলে হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করা যেতে পারে। এছাড়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজের পক্ষে আটজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার যে আবেদন করেছিলেন তা খারিজ করে দেন আদালত।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে শুনানি করেন তাদের প্রধান আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করবেন।
শুনানিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পক্ষে আটজন সাক্ষীর সমন চেয়ে দায়ের করা আবেদন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কাগজ (সার্টিফিকেট) আনেননি। আপনাদের বক্তব্য সঠিক এটা কিভাবে বুঝব? আপনি ঘটনার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই সময়ের সংবাদপত্রে তা প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী রয়েছে। এরপর আমরা কিভাবে গ্রহণ করব যে আপনি পাকিস্তানে ছিলেন।
এসময় খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমি (সালাহউদ্দিন কাদের) ঘটনাস্থলে ছিলাম না, এটা বিবেচনা করেন।
এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন, লন্ডনে গেছেন, লিঙ্কন ইনে (ব্যারিস্টার) ভর্তির কথা বলেছেন। কিন্তু সার্টিফিকেট কই। এত কাগজ দিলেন পাকিস্তান থেকে সার্টিফিকেট আনতে পারলেন না।
এসময় খন্দকার মাহবুব বলেন, এটাই শেষ সুযোগ। এফিডেভিট পরীক্ষা করে দেখুন। যারা এ ফিডেভিট দিয়েছে তারা সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি তাদের আসতে দিন।
এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধন্ত দিয়ে দিয়েছি।
এরপর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তাহলে তাদের (আট সাক্ষী) অডিও রেকর্ড নেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, সরি। এরপর আদালত রিভিউ শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
আদেশের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতকে বলেছি এই মামলার আইনজীবী অ্যাভোকেট শিশির মনিরের বাসায় গত ২৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুরের বাসায় সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশী করে কম্পিউটার, মনিটর, মডেম ও পেনড্রাইভ নিয়ে গেছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। এছাড়া গত ২২ অক্টোবর তার বাসায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া ডিফেন্স কাউন্সেলদের যাতে হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রার্থনা করি। আদালত বলেছেন, হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন কি না। আমাদের পক্ষে এ বিষয়ে আদেশ দেয়া সম্ভব নয়।
অপরদিকে সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ঘটনার সময় দেশে ছিলেন না। এ বিষয়ে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দিতে চেয়েছেন যে তারা যে এফিডেভিট দিয়েছিলেন তা সঠিক। আমরা আসা নিয়ে এসেছি, তাদের আসতে দিন। আদালত বলেছেন তারা এফিডেভিটের উপর নির্ভর করেননি, সাক্ষ্য প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েছেন। আদালত বলেছেন রিভিউতে সাক্ষী আনার নজির নেই। এরপর আমাদের আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
অপরদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ঘটনার সময় দেশে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ অকাট্য ডকুমেন্ট দিয়ে তা প্রমাণ করেছে। আদালত তার পক্ষে নতুন সাক্ষী আনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা বললেও সার্টিফিকেট দেননি।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার আদালতের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ আবেদন ২ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন।
গত ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে সম্প্রতি ডিফেন্স সাক্ষী হিসেবে পাকিস্তানের পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিকসহ আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুনীর পক্ষে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এতে পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অন্তবর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মিঞা সুমরো এবং বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি শামীম হাসনাইন এর নাম রয়েছে।
এর আগের গত ১৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রথমে মুজাহিদের পক্ষে আবেদনটি দায়ের করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। ৩৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ৩২টি গ্রাউন্ডে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা করে মুজাহিদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়।
অপরদিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পক্ষে একই দিন মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি চেয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন। ১০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে মোট ১০টি যুক্তি তুলে ধরে মোট ৩৫৭টি নথিপত্র যুক্ত করা হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর ১ অক্টোবর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
গত ১৬ জুন আলী আহসান মুজাহিদ এবং ২৯ জুলাই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল মামলার সংক্ষিপ্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদেরের এ রায় প্রদান করেন।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুাল-১ ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।