Thursday, May 16, 2019

ইরান-আমেরিকা সামরিক উত্তেজনা: উদ্বিগ্ন মার্কিন কংগ্রেসম্যানেরা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনায় দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে মার্কিন কংগ্রেসের সরকারি ও বিরোধীদলের আইন প্রণেতাদের মধ্যে। এ বিষয়ে অন্ধকারে না রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ইরানের বিরুদ্ধে যখন সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা নানা আলাপ আলোচনা করছেন তখন এ উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস সদস্যরা। ইরানের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের জন্য কূটনৈতিক চ্যানেল চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যরা। একইসঙ্গে তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে যুদ্ধের বাগাড়ম্বর বন্ধ করারও পরামর্শ দিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, কংগ্রেসের সম্মতি না নিয়ে যুদ্ধ করার এখতিয়ার তাদের নেই।
অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনি করি আমাদের সবাইকে তারা অন্ধকারে রেখেছেন।” এছাড়া, সিনেটে সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সমগ্র পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান ও সেনাপ্রধান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে নানা রকমের ঘটাতি রয়েছে। এক লাখ ২০ হাজার সেনা পাঠানো সাধারণ কোনো বিষয় নয়। এ নিয়ে অবশ্যই কংগ্রেসে আলাচনা করতে হবে এবং কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে।
মার্কিন আইন প্রণেতাদের এই হতাশা দূর করতে ট্রাম্প প্রশাসন আজ আরো পরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদলের সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের নেতাদেরকে ব্রিফ করবে।

‘আমেরিকার জনগণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না’ -ই. মাইকেল জোন্স

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না আমেরিকার জনগণ। ইরানের ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গতকাল একথা বলেছেন আমেরিকার প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ই. মাইকেল জোন্স।
তিনি বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলি লবি আমেরিকাকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে দিতে চায় কিন্তু আমেরিকার জনগণ তা চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলি লবি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ বাধাতে চাইছে।
আমেরিকা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের কথিত হুমকি মোকাবেলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। শুধু তাই নয় ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও কন্স্যুলেট ভবন থেকে জরুরি নয় -এমন লোকজনক দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এসবই আমেরিকার পক্ষ থেকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ; তারা ইরানের সঙ্গে সরসারি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনা আছে তবে যুদ্ধ হবে না। যুদ্ধ হলে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা হবে না; তারা পরাজিত হবে।

প্রচারের শেষ বেলায় মোদি-দিদি জোর তরজা

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রচারের সময়সীমা বৃহষ্পতিবার রাত ১০টায় কমিয়ে আনা হয়েছে। তার আগে শেষ বেলায় রাজ্যে বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বিদ্যাসাগর কলেজের বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে দিন ভর তরজা চলেছে। গত মঙ্গলবার বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর রোড শো চলাকালীন স্থানীয় একটি কলেজের মধ্যে থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তি কে বা কারা ভেঙে দিয়েছে। এদিন উত্তরপ্রদেশ থেকেই মোদি মূর্তি ভাঙার সব দায় চাপিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে। উত্তরপ্রদেশের মউয়ের সভায় মোদি বলেছেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি তৈরি করে দেবেন তাঁরা, তেমনই মথুরাপুরের সভা থেকে মমতা পত্রপাঠ ফিরিয়ে দিয়েছেন সেই প্রস্তাব। মোদি বলেছেন, ‘তৃণমূলের গুন্ডারা’ মূর্তি ভেঙেছে। পাল্টা অমিত শাহকেই গুন্ডা বলেছেন মমতা। এই তপ্ত রাজনৈতিক বাক্য বিনিময়ের মধ্যেই বৃহষ্পতিবার বিকেলে মথুরাপুরে মোদি ফের বলেছেন, তৃণমূলের গুন্ডারাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে। এই মূর্তি যারা ভেঙেছে, তাদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি হওয়া দরকার। রাজ্যে প্রচারে এসে মমতা এবং তাঁর দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সারদা-নারদা নিয়ে বরাবরই সরব হয়েছেন মোদি-অমিত শাহরা। এ দিন মথুরাপুরের সভা থেকে সেই চিট ফান্ড এবং ঘুষকান্ডের সঙ্গে যোগ করেছেন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা কান্ডকেও।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তৃণমূলের গুন্ডারা মূর্তি ভেঙেছে। সিসিটিভি ফুটেজেও সেটা রয়েছে। কিন্তু মমতার সরকার সারদা-নারদার মতোই সেই প্রমাণ লোপাট করছে। তবে মমতা এদিন দাবি করেছেন, বিদ্যাসাগর কলেজে মূর্তি ভাঙার প্রমাণ তাঁর কাছে আছে। বিজেপি অপপ্রচার চালাচ্ছে। যদি মোদি প্রমাণ করতে পারেন মূর্তি তৃণমূল ভেঙেছে তাহলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। আর যদি মিথ্যে হয় তাহলে কান ধরে ওঠবোস করতে হবে মোদিকে। মমতা আরও বলেছেন, মোদি যতই মূর্তি গড়ে দেওয়ার কথা বলুন, তাঁর কাছ থেকে ভিক্ষে নেবে না বাংলা। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙাই থাকবে, এটা ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতীক হয়ে থাকবে বলে মোদির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা।
এদিনই মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেছেন, ভোটের পরে স্ট্রং রুমে ইভিএম বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। সেজন্য রাজ্যবাসীকে স্ট্রং রুমে কড়া নজর রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন,  কেন্দ্রীয় বাহিনী মারতে এলে ভয় পাবেন না। মা বোনেরা সামনে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাবেন। মা-বোনেদের নিয়ে মহিলা বাহিনী গড়ে দেবার কথাও তিনি ঘোষণা করেছেন। এদিকে মোদি এদিন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে ‘স্পিডব্রেকার দিদি’র পর এবার ‘স্টিকার দিদি’ বলে আক্রমণ করেছেন মমতাকে। মোদীর অভিযোগ, কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি নিজের বলে চালাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ কেন্দ্রের প্রকল্পে রাজ্যের স্টিকার সাঁটিয়ে দিচ্ছেন। সেই কারণেই মমতাকে ‘স্টিকার দিদি’ সম্বোধনে বিঁেধছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন রাতে দমদমের সভা থেকে মোদি মমতার সরকারকে আক্রমণ করে বলেছেন, রাজ্যে গণতন্ত্রকে খতম করেছে তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের রাজনীতি করারও অভিযোগ করেছেন মোদি। সেই সঙ্গে মোদি এদিন বলেছেন, রাজ্যের মানুষ যেভাবে বিজেপির প্রতি ভালবাসা দেখিয়েছে তাতে বাংলাই বিজেপিকে তিনশো আসনের লক্ষ্য মাত্রায় পৌঁছে দেবেন। এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিটিক্যাল টেররিস্ট বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতা পলিটিক্যাল টেররিজম চালাচ্ছেন।

ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি: দুই নৌকায় জোর করে তোলা হয় ১৩০ বাংলাদেশিকে

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকাডুবির ঘটনায় লোমহর্ষক তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। সেখানে ১৩০ জন বাংলাদেশি ছিলেন। ইতালি নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়া উপকূল থেকে দালালরা তাদের ট্রলারে করে নিলেও মাঝ দরিয়ায় ছোট্ট দুটি নৌকায়  জবরদস্তি করে তাদের তুলে ছেড়ে দেয়। দালাল চক্রের বন্দি শিবিরে মাসের পর মাস বর্বর নির্যাতন সহ্যকারী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১৫০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে ওই দুটি নৌকায় চড়তে বাধ্য করা হয়। প্রথম নৌকাটি নিরাপদে ইতালী পৌঁছালেও দ্বিতীয় নৌকাটিতে ৭০-৮০ জনকে গাদাগাদি করে তুলে দেয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই তা উল্টে যায়। ডুবে যাওয়া নৌকায় ঠিক কতজন বাংলাদেশি ছিলেন সেটি কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি জানিয়ে ত্রিপলির বাংলাদেশ দূতাবাস ঢাকায় রিপোর্ট পাঠিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত শেখ সেকান্দার আলী স্বাক্ষরিত ওই রিপোর্টে বলা হয়- এটা নিশ্চিত যে ডুবে যাওয়া নৌকার বেশীর ভাগই ছিলেন বাংলাদেশি। তারা জীবন বাঁচাতে প্রায় সকলেই সাঁতার কেঁটে, হাতের কাছে যে যা পেয়েছেন তা ধরেই ভেসে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কেউ তেলের ড্রাম, কেউবা ডুবন্ত নৌকার কিনারা ধরে ভেসে ছিলেন। রাত থেকে পরদিন ভোর অবধি ৭-৮ঘন্টা পর্যন্ত যারা টিকতে পেরেছেন তাদেরকে তিউনিসিয়ার জেলেরা উদ্ধার করেছেন। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন ১৬ জন, যার ১৪ জনই বাংলাদেশি। জেলেরা একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন, তিনিও বাংলাদেশি। রাষ্ট্রদূতের রিপোর্ট পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমন জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৯ বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। তারা মারা গেছেন এবং সাগর বুকেই তাদের সলিল সমাধি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জীবিতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে নিহত ওই ৩৯ বাংলাদেশির তালিকা তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে দূতাবাস ওই তালিকা ভেরিফাই করতে পারেনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির মধ্যে চার জনের অবস্থা গুরুতর। তারা তিউনিসিয়ার জার্জিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি ১০ জন তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট ক্যাম্পে রয়েছেন।
দালাল চক্রের বিষয়ে জীবিতদের কাছ থেকে দূতাবাস যে তথ্য পেয়েছে তার সূত্র ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটি চক্র এবং সিলেটের বিভিন্ন ফ্রড (প্রতারক) ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর প্রতারণার তথ্য পেয়েছেন তারা। ওই দালাল প্রতারক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটে ২৩টি প্রতারক ট্রাভেল এজেন্টকে চিহ্নিত করা গেছে। পুলিশ অনেকটাই সিলগালা করে দিয়েছে। প্রতারকদের ধরতে অভিযান চলছে। মন্ত্রী বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে, ওই ভিকটিমদের চার থেকে ছয় মাস আগে দুবাই হয়ে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। এতে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয় দালালরা। একেক জনের কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা করে নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লিবিয়ায় দালালদের  বন্দি শিবিরে রেখেও বর্বর নির্যাতন চালিয়ে অনেকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকে প্রদেয় অর্থের মায়া ছেড়ে দেশে ফিরতে চাইতো। কিন্তু দালালরা সেই পথও বন্ধ করে দিয়েছিল। পালাক্রমে ওই বন্দি শিবির পাহারা দিতো। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দালাল এবং ট্রাভেল এজেন্টদের প্রতারণার বিষয়টি তিনি আগেও শুনেছেন। কিন্তু বিমান কোম্পানী এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তার কাছে নতুন লাগছে। ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে থাকেন। কত লোক আসা যাওয়া করেন। ইমিগ্রেশন পুলিশকেই সব সামলাতে হয়। ফলে এতে তাদের দায় কতটা সেটি বিশ্লেষণের বিষয়-এমনটাই মনে করেন মন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, দায় সবার। তিনি নিজেও এ দায় থেকে মুক্ত নন। মন্ত্রী জোর দেন সবার সচেতনতার ওপর। গণমাধ্যমকে এ নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরির পরামর্শ দেন। জীবিত বা মৃত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত আনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, একজনের মরদেহ বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার নাম উত্তম কুমার দাস। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভূমকাড়া (পোস্ট অফিস চকদা বাজার) গ্রামের গৌতম দাসের ছেলে তিনি। তার ভাইকে ছবি পাঠানোর পর তিনি শনাক্ত করেছেন। তার লাশ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জীবিতরা চাইলে তাদের বিষয়ে আরও খোজ খবর নিয়ে ফেরানো হবে।
‘নিখোঁজ’ ৩৯ বাংলাদেশির ২২ জনই সিলেটের: এদিকে দূতাবাসের পাঠানো রিপোর্টের উদ্বৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন দুর্ভ্যগ্যজনক হলেও সত্য যে সাগরে হারিয়ে যাওয়া ৩৯ বাংলাদেশির ২২ জনের বাড়িই বৃহত্তর সিলেটে। সিলেট-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মোমেন বলেন, দুষ্ট দালাল চক্রের কুবুদ্ধিতে ওই সম্ভাবনাময় তরুণরা প্রাণ হারিয়েছেন। তারা যে টাকা দালালকে দিয়েছেন। ৪ জনের টাকা একত্র করলে ৩২ লাখ টাকা হয়। এই টাকা দিয়ে দেশে ভাল দোকান করা যায়। যৌথ ওই বিনিয়োগে তারা দেশেই ভালভাবে বাঁচতে পারতেন- আফসোস করেন মন্ত্রী। তার দেয়া তথ্য মতে, নিহত সিলেটের ২২ হতভাগা হলেন- আবদুল আজিজ, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট; আহমদ ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট; লিটন আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট; খোকন, বিশ্বনাথ, সিলেট; আফজাল হোসেন, গোলাপগঞ্জ, সিলেট; মমিন আহমেদ, বিশ্বনাথ, সিলেট; দিলাল আহমেদ, বিশ্বনাথ, সিলেট; কাশেম, গোলাপগঞ্জ, সিলেট; মৌলানা মাহবুবুর রহমান, সুনামগঞ্জ; জিল্লুর রহমান, বাংলাবাজার, সিলেট; কামরান আহমেদ মারুফ, সিলেট; রুকন আহমেদ, বিশ্বনাথ, সিলেট; নাজির আহমেদ, সুনামগঞ্জ; হাফিজ শামিম আহমেদ, মৌলভীবাজার; আয়াজ আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট; ফাহাদ আহমেদ, বড়লেখা, মৌলভীবাজার, সুজন আহমেদ, বিয়ানীবাজার, সিলেট; ইন্দ্রজিত, সিলেট; জুয়েল, বড়লেখা সিলেট (মৌলভীবাজার হওয়ার কথা); মুক্তাদির, হবিগঞ্জ; শোয়েব, বিয়ানীবাজার, সিলেট এবং সাজু, সিলেট।
নিখোঁজ অন্য জেলার বাসিন্দারা হলেন- সাব্বির, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ; আলি আকবর, বাগমারা, শিবচর, মাদারীপুর; জাকির হাওলাদার, শিবচর, মাদারীপুর; মনির, শরিয়তপুর; শাহেদ, রাজৈর, মাদারীপুর; নাঈম, রাজৈর, মাদারীপুর; রাজিব, শরীয়তপুর; জালালউদ্দিন, কিশোরগঞ্জ; পারভেজ, শরীয়তপুর; স্বপন, মাদারীপুর; সজল, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ; জাহিদ, নরসিংদী; আবদুর রহিম, নোয়াখালী; নাদিম, রাজৈর, মাদারীপুর; নাসির আহমেদ, চাটখালি, নোয়াখালী ও সজিব, মাদারীপুর। উল্লেখ্য, গত ১০ই মে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে শরণার্থীবাহী একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আগেই জানিয়েছিল নৌকাটিতে বাংলাদেশি ও মরক্কোর নাগরিকসহ আরো কয়েকটি দেশের শরণার্থী ছিলেন। তাদের বেশীরভাগেরই সলিল সমাধি হয়েছে। তবে নৌকাটিতে ঠিক কতজন বাংলাদেশি বা কোন দেশের কতজন নাগরিক ছিলেন সে সম্পর্কে জীবিতরা সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেনি। জাতিসংঘের তথ্য মতে, গত জানুয়ারি মাসের পর ভূমধ্যসাগরে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা। জানুয়ারি মাসের ওই নৌকাডুবির ঘটনায় ১১৭ জন নিঁখোজ হয়েছিলেন।
৩ লাশের দিকে চেয়ে আছে গোটা বাংলাদেশ: এদিকে ত্রিপলীর বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, তিউনিসিয়া উপকূলে স্ফ্যাক্স শহরে উদ্ধার হওয়া ৩ অভিবাসীর মৃতদেহ রয়েছে। এটি দেখতে গেছেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। ওই লাশগুলো আজ হিমঘর থেকে বের করা হবে। এর মধ্যে এখনও নিখোঁজ ৩৯ বাংলাদেশির কেউ আছেন কি-না? সেদিকেই চেয়ে আছে দূতাবাস, কার্যত গোটা বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মুখোমুখি বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মুখোমুখি! বাড়ছে উত্তেজনা। বাজছে যুদ্ধের দামামা। চারদিক দিয়ে ইরানকে ঘিরে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ। ইরানও মাথা নিচু করে কথা বলছে না। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার হিম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ আতঙ্ককে আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গতকালের এক নির্দেশনায়। ওই নির্দেশনায় ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত দূতাবাস ও ইরবিলে কন্স্যুলেট ত্যাগ করতে বলা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় (নন-ইমার্জেন্সি) স্টাফদের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের প্রতিবেশী ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা যখন টগবগ করে ফুটছে, ঠিক তখনই এ নির্দেশ দেয়া হলো। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন জানে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ নিজ স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। তারা শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হবে। ইরান বিজয়ীর বেশে শির উন্নত করে বেরিয়ে আসবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
কয়েকদিনে তেহরানের ওপর  প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে ওয়াশিংটন। তারা অভিযোগ করছে, ওই অঞ্চল ও পারস্য উপসাগরে আমেরিকান সেনাবাহিনীর উপস্থিতির বিরুদ্ধে অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও দাবি করেছেন, তার দেশ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চাইছে না। তা সত্ত্বেও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কারণ, কয়েক দিনে ইরানের চারপাশে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে যুদ্ধবিমান বহনকারী জাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও ইরবিলে কন্স্যুলেটে সাময়িক সময়ের জন্য স্বাভাবিক ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি ওই দুটি স্থান থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের যত দ্রুত সম্ভব সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে কি পরিমাণ মার্কিন কর্মকর্তা এই নির্দেশের ফলে সরে যাবেন তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের দিক থেকে আসতে পারে এমন ‘আনস্পেসিফায়েড’ হুমকি মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মোতায়েন করেছে যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম জাহাজ, বি-৫২ বোম্বারস, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারিজ। ইরানের চারদিকে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান এরই মধ্যে ‘ডিটারেন্স’ মিশন শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাটিক শ্যানাহান বলেছেন, এসবই মোতায়েনের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি বার্তা দিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তাহলো, মার্কিনি অথবা আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো রকম হামলা হলে যথোপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন এমন রণপ্রস্তুতির মধ্যেই ‘স্যাবোটাজ’ রহস্য সৃষ্টি হয়। তাতে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন প্রথম ঘটনায় সৌদি আরবের নৌযানে হামলা হয়েছে। সর্বশেষ আরামকো তেলক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করে হামলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব রণপ্রস্তুতিকে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপোরেশন।
উত্তেজনা আছে কিন্তু যুদ্ধ হবে না: খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কখনো সামরিক পর্যায়ে যাবে না এবং কার্যত কোনো যুদ্ধের আশংকাও নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যার ওই সমাবেশে যোগ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানী, পার্লামেন্ট স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্যগণসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। এ সময় খামেনি বলেন, ওয়াশিংটন জানে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ নিজ স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংঘাতে শেষ পর্যন্ত মার্কিনিরা পিছু হটতে বাধ্য হবে। তাই আমরা কিংবা তারা, যারাই মনে করে যুদ্ধ তাদের অনুকূলে যাবে না তাদের কেউই যুদ্ধ চায় না। দু’দেশের চলমান উত্তেজনা হচ্ছে ‘আকাঙ্ক্ষার সংঘাত’। এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরান বিজয়ীর বেশে উন্নত শির নিয়ে বেরিয়ে আসবে। চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ ইরানকে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারো আলোচনা হচ্ছে বিষপান করার সমান। দেশটি আলোচনা করতে চায় দরকষাকষির স্বার্থে। তাদের উদ্দেশ্য আমাদের শক্তিমত্তায় আঘাত দেয়া। তারা আমাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। তাদের দাবি মেনে নিয়ে কেউ আলোচনায় বসলে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে।
অভিযোগের তীর ইরানসমর্থিত হুতির দিকে
সৌদি আরবের দুটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের দাবি এ হামলার পেছনে রয়েছে ইরানসমর্থিত ইয়েমেনি হুতি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে দেশটি একে কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে তেলবাহী সৌদি জাহাজে রহস্যময় হামলার ২ দিনের মাথায় এমন ঘটনা ঘটলো। সৌদি আরবের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ থেকে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু সমুদ্র বন্দরের দিকে যাওয়া একটি তেল লাইনে এ হামলা হয়। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ সৌদি প্রেস এজেন্সিকে এক বিবৃতিতে জানান, হামলায় অতি সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এই হামলা আবারো প্রমাণ করেছে যে, আমাদের উচিত ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুতি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।
কোনো পক্ষ নেয়ার ঝুঁকি নেবে না পাকিস্তান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে পাকিস্তান। তবে কোনো সংঘাত বাধলে ইসলামাবাদ কারো পক্ষে যোগ দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আলাপকালে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে পাকিস্তান উদ্বিগ্ন। যেকোনো সংঘাত পাকিস্তানসহ গোটা অঞ্চলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট কৌশল থাকতে হবে। এসময় উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনায় পাকিস্তান কোনো পক্ষে থাকবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন তিনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বাধার আশঙ্কার মধ্যে কুরেশির কাছ থেকে এই বক্তব্য আসে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানের কাছ থেকে হুমকির ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য পাওয়া গেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী ও বোম্বার টাস্কফোর্স পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ওই অঞ্চলের তেলবাহী জাহাজ চলাচলকে টার্গেট করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই মার্কিন মিত্র সৌদি আরব দাবি করে রহস্যজনক হামলায় তাদের দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে মঙ্গলবার সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরানসমর্থিত হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি আরব। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, অবস্থা যেভাবে আগাচ্ছে তাতে মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে ইরানের একটি যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বাধলে তা হবে পাকিস্তানের কূটনীতির জন্য পরীক্ষা। ইরানের প্রধান শত্রু সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে পাকিস্তানের। অন্যদিকে সে প্রতিবেশীকেও ক্ষুব্ধ করতে চায় না। আরব-ইরান শত্রুতার কথা উল্লেখ না করেই কোরেশি বলেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা আমাদের সম্পর্কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখেই পাকিস্তান তার কৌশল প্রণয়ন করবে। এ জন্য পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ করবে সরকার। এই কাউন্সিলে প্রবীণ কূটনীতিকরা রয়েছেন। তিনি বলেন, এটা খুবই স্পর্শকাতর ইস্যু। আমরা পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছি। পরিস্থিতি বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আমরা এমন একটি কৌশল প্রণয়নের চেষ্টা করছি যেন আমাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত এবং এই অঞ্চল অস্থিতিশীল না হয়ে পড়ে।

রাজধানীর ৫৭ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত

রাজধানী ঢাকার ৫৭টি এলাকায় ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি বেশি দূষিত বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। আজ হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার  হোসেন সাজু।
তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াসার দেয়া প্রতিবেদন আজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ঢাকার ১০টি জোনে ৫৭ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ১ নম্বর জোনে রয়েছে, যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকগর, মান্ডা, ধোলাইপাড় ও মাতুয়াইল। ২ নম্বর জোনে রয়েছে- বাঘলপুর, লালবাগ, বকসি বাজার ও শহীদনগর; ৩ নম্বর জোনে জিগাতলা, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভুতের গলি ও মোহাম্মদপুর; ৪ নম্বর জোনে  শেওরাপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর, পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর; ৫ নম্বর জোনে মহাখালী ও তেজগাঁও; ৬ নম্বর জোনে  সিদ্ধেশ্বরী শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াতোলা, রামপুরা, মালিবাগ ও পরিবাগ; ৭ নম্বর জোনে কদমতলী, ধনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনির আখড়া,  কোনাপাড়া ও মুসলিম নগর; ৮ নম্বর জোনে বাড্ডা, আফতাব নগর, বসুন্ধরা ও ভাটারা; ৯ নম্বর জোনে উত্তরা, খিলক্ষেত, ফায়েদাবাদ, মোল্লার টেক ও রানা গোলা এবং ১০ নম্বর জোনে  কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত ও পল্লবী।
গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানীর ওয়াসার পানির ১০৬৫টি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা দরকার। প্রতিবেদনটি আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু হাইকোর্টে এ প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানানো হয়।
এর আগে গত সোমবার (১৩ মে) ঢাকা ওয়াসার কোন কোন এলাকার পানি সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ, তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিল না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষায় যে অর্থ খরচ হবে, তা নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বুধবারের (১৫ই মে) মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত।
সোমবার ঢাকা ওয়াসার অনিরাপদ পানি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষায় প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তখন আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা ওয়াসার ১১টি পানির জোন রয়েছে। প্রত্যেকটি থেকে দুই বোতল পানি নিয়েই তো পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু কোনো কথাই শুনছে না স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তারা (স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়) হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছে।
শুনানিকালে আদালতে রিটকারী আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদের কাছে অনিরাপদ পানি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বেশ কিছু প্রতিবেদন আদালতের কাছে তুলে ধরেন তিনি। ওইসব প্রতিবেদনে ঢাকার ১৬টি এলাকার ওয়াসার পানি ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী বলে তথ্য উঠে আসে।
এরপর পানি পরীক্ষায় যে অর্থ খরচ হবে, তা প্রতিবেদন আকারে দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তখন ওয়াসার পক্ষ থেকে খরচ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলে সাত দিন সময় চাওয়া হয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বুধবারের (১৫ই মে) মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ‘বুধবারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল না করলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে তলব করা হবে।

পাকিস্তানের যুবতীদের পাচার করতে চীনা পুরুষদের ফাঁদ!

শুক্রবার ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হয়েছে চীনা ২ জন পুরুষ ও পাকিস্তানের ৩ যুবতীকে। দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানি এসব যুবতীকে চীনা ওই যুবকরা বিয়ের ফাঁদে ফেলে পাচার করছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তাদেরকে চীনে নিয়ে সেখানে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি অথবা অঙ্গহানি করে ব্যবসায় ব্যবহার করা হতো। এ অভিযোগে পাকিস্তানে চীনা দূতাবাস বলেছে, পাকিস্তান ও চীনের যৌথ তদন্তে এমন অভিযোগের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় নি। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন।
এফআইএ শুক্রবার বিমানবন্দর থেকে একজোড়া দম্পতি ও একজন সিঙ্গেল যুবতীকে আটক করে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়েছে। তাদেরকে এফআইএ’র মানব পাচার বিরোধী সেলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত ইজাজ আহমেদ শাহ’র সঙ্গে দু’দফা বৈঠক করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
এ সময় তারা কথিত অভিযোগে চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রকাশ্যে জানানোতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চীন। চীন কর্তৃপক্ষ খুব পরিষ্কারভাবে বলেছে, যদি কোনো ব্যক্তিবিশেষ কোনো অন্যায় করে থাকেন তাহলে তা সংবাদ সম্মেলন করে জানানো উচিত ছিল না। কারণ, এতে তাদের দেশের দুর্নাম হয়।
এছাড়া শুক্রবার চীনা দূতাবাস একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে তারা এ অভিযোগে তদন্ত করেছে। অভিযোগ আছে, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতে অথবা অঙ্গহানি করে তা বিক্রির জন্য পাকিস্তানি নারীদের বিয়ে করে নিয়ে যাচ্ছে চীনারা। এ অভিযোগ তদন্ত করে কোনো প্রমাণ মেলে নি। চীন দূতাবাস বলেছে, অভিযোগ তদন্তের জন্য চীনের জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি টাস্কফোর্স পাকিস্তানে পাঠিয়েছে। তারা পাকিস্তানি আইনপ্রয়োগকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কোনো প্রমাণ মেলে নি।
দূতাবাসের এই বক্তব্য দৃশ্যত এফআইএ’র সঙ্গে সংঘাতময়। এফআইএ তার সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, কিভাবে প্রলুব্ধ করে পাকিস্তানি যুবতীদের বিয়ে করছে চীনারা। এরপর তাদেরকে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে চীনে। সেখানে নিয়ে ব্যবহার করছে পতিতা হিসেবে। তবে চীনা দূতাবাস বলেছে, তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র বলেছে, আটক চীনা নাগরিকরা ‘পৌঁছামাত্র বিজনেস ভিসা’য় পাকিস্তান সফর করছিলেন। ফলে তারা কেউই অবৈধ অভিবাসী নন। তারা পাকিস্তানে পৌঁছার পর স্থানীয় দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাকিস্তানি মেয়েদের প্রলুব্ধ করে বিয়েতে রাজি হতে।
চীন বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের কেউ যদি চীনে গ্রেপ্তার হন তাহলে কর্তৃপক্ষ তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করে না। শুধু তাদেরকে দক্ষিণ এশিয়ান হিসেবে প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে চীনা নাগরিকদের নাম প্রকাশ করে দেয়ায় অসন্তুষ্ট চীন।
এয়ার চায়না সিজেড-৬০০৮ ফ্লাইটে করে চীন যাওয়ার পথে শুক্রবার এফআইএ ওই দুই দম্পতি ও একজন সিঙ্গেল যুবতীকে আটক করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন ঝেং ঝিলি এবং লাহোরের যুবতী সামরিন ফাতিমা। তারা দম্পতি পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে গুও ওয়েনচাও এবং রাওয়ালপিন্ডির যুবতী রাবিয়া নিজেদেরকে দম্পতি পরিচয় দিয়েছেন। সিঙ্গেল যুবতী লাহোরের মাসুমা কুলসুমকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু তারা চীন সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথার্থ বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এফআইএর কাছে। মিসেস কুলসুম বলেছেন, তিনি চীন সফরের যাচ্ছিলেন সেখানে তার স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে।
ওদিকে এফআইএ তার সর্বশেষ রিপোর্টে বলেছে, তারা চীনা তিনজন নাগরিক ও তাদের পাকিস্তানি পার্টনারদের ভুয়া বিয়ের অভিযোগে আটক করেছে। এ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর থেকে কমপক্ষে দু’ডজন চীনা নাগরিককে আটক করেছে তারা।

ফিলিস্তিন দখলের বার্ষিকীতে গাজায় লাখ লাখ মানুষের বিক্ষোভ

ফিলিস্তিন দখল করে ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রতিষ্ঠার বার্ষিকীতে বুধবার গাজায় লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছর ১৫ মে মাতৃভূমি হারানোর বার্ষিকীকে ‘নাকবা’ বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯৪৮ সালের এই দিনে অন্তত ৮ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বুধবার গাজার সর্বত্র সব শ্রেণীর মানুষ রাস্তায় নেমে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের পূর্বপুরুষদের ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার অধিকার বাস্তবায়ন ও গাজা অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
নাকবা দিবস উপলক্ষে গাজার স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারাও আজকের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ব্যবসায়ী ও দোকানিরাও দিবসটি উপলক্ষে নিজেদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। আল-মায়াদিন টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, ইহদিবাদী সেনারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মুখপাত্র হাযেম কাসেম বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণ কখনোই নিজেদের অধিকার ও আদর্শ থেকে পিছু হটবে না। তিনি বলেন, গাজায় কয়েক লাখ মানুষের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সবাইকে এ বার্তাই দিচ্ছে যে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রাম কখনোই বন্ধ হবে না এবং তাদের দৃঢ় মনোবলও নষ্ট হবে না।

লিবিয়া-তুরস্কের পথে হাজারো তরুণ by মিলাদ জয়নুল

ইউরোপ যাওয়ার ট্রানজিট রুট লিবিয়া-তুরস্কের পথ ধরেছে হাজারো তরুণ। স্বপ্নের ভুবনের হাতছানিতে মুগ্ধ হয়ে এসব তরুণ বাড়ি ছেড়েছে। তাদের কেউ আছে ঢাকা-চট্টগ্রামে কেউ আছে লিবিয়া-তুরস্কের অদূরে। বিদেশগামী তরুণদের কিছুসংখ্যক লিবিয়া-তুরস্কে পাড়ি জমানোর জন্য ‘থার্ডকান্ট্রি’তে অবস্থান করছে। তাদের কারো বাড়িতে চলছে কান্নার রোল, কারো বাড়িতে খুশির জোয়ার। তারা সবাই ইউরোপে যেতে চায়। যেখানে আছে মোটা টাকা, ইউরো।
প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষ যে কোনো উপায়ে ইউরোপে যেতে চায়। গত ক’বছর বাংলাদেশ থেকে প্রবাস গমনের হার মাত্রাতিরিক্ত কমে যাওয়ায় এ উপজেলার তরুণরা হতাশ ছিল। তাছাড়া দু’-একটি দেশ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভিসা প্রায় বন্ধ থাকায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব অনেকটা বেড়ে যায়। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে ক’মাস থেকে লিবিয়া-তুরস্ক হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছে হাজারো তরুণ। গত ৬ মাসে বিয়ানীবাজারের অন্তত ৩ শতাধিক যুবক এ দু’টি দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল পাড়ি জমিয়েছে। একটি সূত্র জানায়, তাদের যাত্রা শুরু হয় চট্টগ্রাম আমানত শাহ বিমানবন্দর থেকে।
ইতালিতে আশ্রয় নেয়া যুবক নাহিদের কাছ থেকে শুনুন- ‘উত্তাল সমুদ্রে ভাসছে নৌকা। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে নৌকায় পানি উঠতে শুরু করেছে। নৌকা ঘিরে চলছে হাঙ্গর ও ডলফিন। নৌকার মানুষগুলোর মৃত্যু হলেই গিলে ফেলবে হাঙ্গর! ভাগ্য বদলের আশায় লিবিয়ার জোয়ারা উপকূল থেকে অশান্ত সাগরে ভাসছেন বাংলাদেশের রবিউলসহ ৮০ জন। গন্তব্য ইউরোপে পাড়ি জমানো। কিন্তু মৃত্যু এখন তাদের খুব কাছে। ডুবছে নৌকা, সেই নৌকায় সোমালিয়া, ক্যামেরুনের কালো চামড়ার মানুষের ভিড়ে থাকা রবিউলদের কান্না কি শুনতে পাচ্ছে।’
সূত্র জানায়, বর্তমানে অবৈধপথে ইউরোপে যাওয়ার সবচেয়ে উত্তম রাস্তা লিবিয়া অথবা তুরস্কে যেতে একজন তরুণকে দালালদের হাতে তুলে দিতে হয় সাড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। ‘ট্রানজিট দেশে’ পৌঁছার পর সেখানে কিছুদিন থাকতে হয়। এরপর সাগর পথে প্রথমে ইতালি, তারপর ফ্রান্স কিংবা অন্যান্য দেশে আশ্রয় নিচ্ছে এসব তরুণ। লিবিয়া-তুরস্ক থেকে সাগরপথ পাড়ি দিতে গুনতে হয় আরো লাখ দেড়েক টাকা। ইতালিতে আশ্রয় নেয়া যুবক আলিম উদ্দিন (২৯) জানান, ‘লিবিয়া থেকে শুকনো খাবার সঙ্গে করে তারা দেড়শ’ যুবক একটি জাহাজে করে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেন। ইতালির সীমান্তে পৌঁছার পর ছোট ট্রলারে তাদের তুলে দেয়া হয়। এরপর জাতিসংঘের সাহায্যকারী জাহাজগুলো এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে ইতালির তীরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বাংলাদেশিরা পালিয়ে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে আশ্রয় নেয়।’ ফ্রান্সে পাড়ি দেয়া জাফর আহমদ (২৮) বলেন, ‘শুকনো খাবার বলতে চিঁড়া, বিস্কুট, মুড়ি ইত্যাদি সঙ্গে রাখতে হয়। সঙ্গে ঠাণ্ডা নিবারণের কাপড়, লাইফ জ্যাকেট রাখা বাধ্যতামূলক।’ মোট ১৩ লাখ টাকায় গত অক্টোবর মাসে ফ্রান্সে আশ্রয় নেন বলে জানান তিনি। লিবিয়া যেতে চট্টগামের একটি হোটেলে থাকা শাহীন জানান- ‘৬ দিন থেকে হোটেলে আছেন। এরমধ্যে দু’দফা তাকে বিমানবন্দরে নেয়া হয়। কিন্তু সবুজ সংকেত না থাকায় ফিরে আসতে হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ফের তাকে বিমানবন্দরে নেয়া হবে।’ তিনি বলেন- ‘চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেলে বিয়ানীবাজারের প্রায় ২ শতাধিক যুবক আশ্রয় নিয়েছে। তারা সবাই লিবিয়া-তুরস্ক হয়ে ইউরোপে যেতে চায়।’
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজারের আরও সহস্রাধিক যুবক বেকারত্ব ঘোচাতে লিবিয়া-তুরস্ক হয়ে ইউরোপ পাড়ি জমানোর স্বপ্নে বিভোর। তুরস্কে পাড়ি জমানো সংবাদকর্মী হাসান আহমদ বলেন- ‘সাড়ে ৫ লাখ টাকায় তিনি তুরস্কে পৌঁছেছেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর ইউরোপে যাওয়ার পথ ধরবেন।’ সম্প্রতি সাগরপথে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে চারখাইয়ের এক মাদ্‌রাসা ছাত্রের সলিল সমাধি হয়েছে। ইতালির সীমান্তে তার লাশ পাওয়া গেলে সেখানকার জাতিসংঘ স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা তার লাশ দাফন করে। আকাখাজানার আশফাক আহমদ বলেন, ‘ইতালিতে যাওয়ার সময় সাগরে ডুবে তার সঙ্গে থাকা সাত যুবক মারা যায়। লিবিয়ায় অবস্থানকালে দালালের অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সইতে হয়েছে।’ তিনি বাংলাদেশি তরুণদের এ পথে পা না বাড়ানোর অনুরোধ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আদম ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত দু’মাসে তার মাধ্যমে ৪ জন তরুণ লিবিয়া গেছে। আরো কয়েকজন লাইনে আছে। আমি তাদেরকে লিবিয়া পাঠানোর কন্ট্রাক্ট নিয়েছি। বাকি পথ তারা কীভাবে যাবে, তা তিনি জানেন না।’
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ট্রাভেল ওয়েস্টের মালিক হুমায়ুন কবির বলেন- ইউরোপে যেতে অনেক পথ খোলা রয়েছে। তবুও কেন এখানকার তরুণরা অবৈধপথে পা বাড়ায়, তা তার বোধগম্য নয়। তিনি এভাবে বিদেশ পাড়ি না জমাতে সবার প্রতি অনুরোধ করেন। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি শিব্বির আহমদ বলেন, দেশে কর্মসংস্থান কম থাকায় ছেলেরা এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ যাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর জানান- ‘আসলে আমরা মানবপাচার সিন্ডিকেটের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক রয়েছি। কোনো তথ্য পেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়।’ তিনি বলেন- ‘সব জীবনই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই না জীবিকার জন্য কেউ এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোথাও পাড়ি জমাক।’

সাবধান যুদ্ধে জড়াবেন না, মার্কিনদের ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা

ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদর দপ্তর সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের বিষয়ে সাবধান করেছেন ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও স্বল্প সময়ের নোটিশে সম্প্রতি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তাঁর দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়ে অবিহিত করতে সোমবার ব্রাসেলস সফর করেছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে তাঁর দেশের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে এসেছিলেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের তিন দেশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স, যারা প্রথম থেকেই পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধের ও যুদ্ধের বিষয়ে সাবধান করেছে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস তাঁর মার্কিন প্রতিপক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে যুদ্ধের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘পারমাণবিক চুক্তি আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন।’ ব্রাসেলসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে বৈঠক শেষে জানান, ‘আমরা ইরানে কোনো রকম সামরিক অভিযান চাই না।’
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা মার্কিনদের চাপের কাছে নতিস্বীকার করব না। আমরা ইউরোপীয় দেশগুলো পুরোপুরি একমত যে আমাদের নিরাপত্তার কারণেই পারমাণবিক চুক্তির প্রয়োজন। জার্মানির সরকার খুবই উদ্বিগ্ন যে পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।’
একইভাবে বৈঠকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনা ক্রমেও যেন পারস্য উপসাগরে কোনো রকম সংঘাত সৃষ্টি না হয়। সময় নিয়ে আমাদের বুঝতে হবে উভয় পক্ষ বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছেন।’
২০১৮ সালের ৪ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি বা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন বা (জসিপিওএ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের প্রতি অর্থনৈতিক অবরোধ সৃষ্টি করেছে এবং অন্যদেরও এই অবরোধে শামিল হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
ইরান ২০১৫ সালে ছয় পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। শুধু যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সবাই এই পারমাণবিক চুক্তিটি রাখার পক্ষে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর অভিমুখে দুটি মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস আরলিংটন যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে। গত রোববার ওমান উপসাগরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে নাশকতামূলক হামলার পর ওই এলাকার পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়েছে। তবে কারা জাহাজগুলোতে নাশকতামূলক হামলা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী সালিদ আল ফালহ বলেছেন, তাঁদের দুটি তৈলবাহী ট্যাংকার এই নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্রিনপিস, ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে আবেদন করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপকূলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে তার মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে কোনোমতেই যেন ২০০৩ সালে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এমন মৃত্যুতে হতভম্ব ভৈরব by রুদ্র মিজান

শোকে ভারি হয়ে উঠেছে কর্মব্যস্ত ভৈরবের বাতাস। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত কিশোরগঞ্জের এই মফস্বল শহরের মানুষ হতভম্ব। সবার চোখে-মুখে নানা জিজ্ঞাসা। এই এলাকার একটি পরিবারের করুণ পরিণতি, তিন সদস্যের চাঞ্চল্যকর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তারা। ঢাকার উত্তরখানের বাসায় মা, মেয়ে ও ছেলের মৃত্যুকে রহস্যময় হিসেবে দেখছেন ভৈরবের মানুষ। শোকাচ্ছন্ন নিহতের স্বজনরা। এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। প্রতিবেশী, স্বজনরা জানিয়েছেন পরিবারের কর্তা ইকবাল হোসেনের মৃত্যুর পর আত্মীয়-স্বজনরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পরিবারটির। তারা ক্রমশ দুরে চলে গেলে হতাশ হয়ে যান মা ও ছেলে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বাবার পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে পদে পদে বাধার মুখোমুখি হওয়া, অসুস্থ বোনকে নিয়ে ভোগান্তি, আর্থিক সঙ্কটে পড়ে দিশেহারা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা মুহিব হাসান রশ্মি ও তার মা জাহানারা বেগম মুক্তা। আর্থিক সঙ্কটের কারণেই ঢাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন গ্রামে। পৈত্রিক জায়গায় বাসা বানিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন রশ্মি। এ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। চাচাদের গুরুত্বহীনতার কারণে সেটাও দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ে যায়।
গতকাল দিনভর ভৈরব শহর ও নিহতদের বাড়ি পৌরশহরের জগন্নাথপুরের উত্তরপাড়ার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নানা তথ্য। ঢাকা সিলেট-মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ভৈরব শহরে পা দিতেই দেখা গেলো অনেকের দৃষ্টি পত্রিকার পাতায় ছাপা হওয়া নিহত মা, মেয়ে ও ছেলের ছবি-সংবাদে। সংবাদকর্মী পরিচয় পেতেই তাদের জিজ্ঞাসা, তিন জনের মৃত্যুর কারণ কি, এভাবে কেন আত্মহত্যা করবে তারা, কিভাবে সম্ভব? এরকম নানা প্রশ্ন। পিচঢালা সড়ক দিয়ে লক্ষীপুর পেরিয়ে জগন্নাথপুরের উত্তরপাড়ার ফকির বাড়ি মসজিদ। মসজিদের সামনে, পথে পথে মানুষের জটলা।
আলোচনার বিষয় অভিন্ন। মসজিদের পেছনেই মুহিব হাসান রশ্মির বাবা ও চাচাদের বাড়ি। তিন শতাংশ জায়গাতে চার কক্ষের একটা পাকা ঘর। এই বাড়িতেই মা ও বোনকে নিয়ে আশ্রয় চেয়েছিলেন রশ্মি। কিন্তু চাচারা দেই-দিচ্ছি করে সময় নিচ্ছিলেন। কেন তিনি ঢাকা থেকে গ্রামে যেতে চেয়েছিলেন এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের রুরাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার ইকবাল হোসেনের ছেলে মুহিব হাসান রশ্মি লেখাপড়া করতেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি মেয়ে আফিয়া সুলতানা মিম ও স্ত্রী জাহানারা বেগমকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে থাকতেন তিনি। ২০১৬ সালে ইকবাল হোসেন মারা যান। তখন সবেমাত্র সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে অনার্স পাস করেছেন রশ্মি। বন্ধুদের কাছে রশি নামে পরিচিত রশ্মি ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিতার্কিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে যান মামা ও খালারা। ঢাকার কাফরুলে রশ্মির খালা রওশন আরা বেগমের বাসার পাশে একটি ভাড়া বাসায় উঠেন তারা।
ওই সময়ে বাসা ভাড়াসহ এই পরিবারের যাবতীয় আর্থিক যোগান দিচ্ছিলেন রশ্মির আমেরিকা প্রবাসী মামা মনিরুল হক, মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও খালা রওশন আরা বেগম। এরমধ্যেই গত বছরে বিইউপি থেকে এমবিএ করেন রশ্মি। এরমধ্যেই আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেন মামা মনিরুল হক। ধীরে ধীরে আর্থিক সঙ্কট দেখা দেয়। আর্থিক সঙ্কটের কারণেই ঢাকার কাফরুলের বাসা ছেড়ে ভৈরবে গ্রামের বাড়িতে চলে যান তারা। এ বিষয়ে রশ্মির মামা মনিরুল ইসলাম বলেন, সবসময়ই আমরা বোন জাহানারার পরিবারকে আর্থিক সাপোর্ট দিয়েছি। কিন্তু বোনের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি মেয়ে আফিয়া সুলতানা মীমের কারণে সবসময় মানসিক চাপের মধ্যে ছিলো জাহানারা ও ভাগ্নে রশ্মি। তিনি জানান, কাফরুলের বাসার প্রতিবেশীরা প্রায়ই অভিযোগ করতো। অনেক সময় অযথা পাশের ফ্ল্যাটের কলিংবেল চাপতো, বাচ্চাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো, মীমকে সামলাতে গিয়ে তার মা ও ভাইকে হিমশিম খেতো হতো। এজন্য মানুষের নানা কটুকথা শুনতে হতো। মনিরুল ইসলাম বলেন, তাছাড়া আমরা যতোই আর্থিক সহযোগিতা করি একটা সঙ্কটতো ছিলোই।
তিনি জানান, রশ্মির পিতার পেনশন উত্তোলন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। পেনশন উঠাতে পারেনি। দীর্ঘদিন পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে, দেশের বিভিন্ন অফিসে দৌড়ঝাঁপ করেছে মুহিব হাসান রশ্মি। তার বাবা ইকবাল হোসেন পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ঋণ প্রদান সংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলেন। তার দেয়া অনেক ঋণ আদায় হয়নি। তাই বিভাগীয় মামলা ছিলো। এসব কারণে পেনশন উত্তোলন করতে জটিলতার সৃষ্টি হয়। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তার পেনশনের প্রায় অর্ধেক টাকা কর্তন করে রাখা হবে। সবকিছু মিলিয়ে হতাশ ছিলেন রশ্মি ও তার মা। এই অবস্থাতেই গত মার্চ মাসে ভৈরবে নিজেদের বাড়ির পাশে মা ও বোনকে নিয়ে একটা ভাড়া বাসায় উঠেন রশ্মি। বাসার মালিক সারোয়ার মাহমুদ মুকুল জানান, তিন তলা  ভবনের নিচ তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নেন রশ্মি। চার রুম ও তিন বাথরুমের ওই ফ্ল্যাটের ভাড়া ছিল সাড়ে ৭ হাজার টাকা।
নিজ বাড়িতে না উঠে ভাড়া বাসায় উঠার কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, তিন শতাংশ জায়গার মধ্যে একটি চার কক্ষের ঘর। ওই ঘরে থাকেন রশ্মির দুই চাচার পরিবার। বাড়িটির মালিক রশ্মির বাবাসহ তিন চাচা। তার বড় চাচা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ কোরেশী থাকেন ঢাকায়। বাকি দুই ভাই বিদেশ ফেরত আশরাফুল আলম ও একটি বেসরকারি মেডিকেলের কর্মচারী আহসান উল্লাহ পরিবার নিয়ে থাকেন ওই বাড়িতে। এই বাড়ি ছাড়া তাদের পৈত্রিক আর কোনো সম্পত্তি নেই। এই বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন রশ্মি। এজন্য ভাগ-বাটোয়ারা করতে চেয়েছিলেন। চাচারা দেই-দিচ্ছি করে সময় অতিবাহিত করেন। রশ্মি দ্বারস্থ হন স্থানীয় মুরুব্বি ও আত্মীয় রইছ উদ্দিনের। রইছ উদ্দিন জানান, এ নিয়ে রশ্মির চাচাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তার বড় চাচা সুলতান আহমেদ জানিয়েছিলেন ঈদের সময় বাড়িতে এসে ভাগ-বাটোয়ারা করবেন। সুলতান আহমেদ কোরেশী জানান, সবাই মিলে এখানে দু’তলা করার ইচ্ছে ছিলো তার। কিন্তু ঈদের আগেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাও করতে পারেননি তারা।
দুই মাসের মধ্যেই ভৈরবের ওই বাসা ছেড়ে মা-বোনকে নিয়ে ঢাকার উত্তরখানে বাসা নেন রশ্মি। রশ্মির মামা মনিরুল হক জানান, উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকায় পিতা-মাতার নামে সাড়ে চার কাঠা জমি রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির মালিক রশ্মির মা জাহানারাসহ তারা চার ভাই-বোন। জাহানারা তাকে বলেছিলেন, মফস্বলে থাকা সম্ভব না। ঢাকাতেই থাকতে হবে। এজন্য ওই জমিতে টিনশেড ঘর তৈরি করতে চান তিনি। যদি বাকি তিন ভাই-বোন আপত্তি না দেন। টিনশেড ঘর তৈরি করতে অনুমতি দিয়েছিলেন তারা। কথা ছিলো রমজানের মধ্যেই এ বিষয়ে বৈঠক করবেন জাহানারার সঙ্গে। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে। ঘর তৈরি করার প্রস্তুতি নিয়ে কেন তার বোন, বোনের ছেলে-মেয়ে আত্মহত্যা করবে তা বুঝতে পারছেন না মনিরুল হক। একই কথা জানান ভৈরবের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের সবার প্রশ্ন, সম্ভাবনাময় একটি তরুণ ছেলে থাকতে কেন তাদের মরতে হবে। একই পরিবারের তিনজনের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় শোকে ভারী উঠেছে মেঘনা নদীর তীরের এই শহর।
গত রোববার রাতে উত্তরখানের বাসা থেকে তিন জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, মা ও মেয়েকে শ্বাসরুদ্ধ ও ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, জানালেন ছাত্রলীগের সভাপতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়ে দুই পক্ষের হট্টগোলের একপর্যায়ে চেয়ার ছুড়ে মারছেন একজন। মধুর ক্যানটিন, ১৩ মে। ছবি: সাইফুল ইসলাম
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে ‘বিতর্কিত’দের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ আজ বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে গণভবনে ডেকে এ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা৷
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কমিটি থেকে ‘বিতর্কিত’দের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন৷ নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করে ‘বিতর্কিত’দের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
ছাত্রলীগের সভাপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ‘বিতর্কিত’দের ব্যাপারে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাঁদের সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ যাঁদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা আছে, যাঁরা বিবাহিত, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যাঁদের সংশ্লিষ্টতা আছে কিংবা যাঁদের পরিবার বিএনপি-জামায়াত ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত, তাঁদেরও কমিটি থেকে অব্যাহতি দিতে বলেছেন তিনি৷
ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর গত সোমবার সংগঠনের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়৷ ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না-পাওয়া ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান৷ এতে কয়েকজন নারী নেত্রীসহ ১০-১২ জন আহত হন৷
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত বিক্ষুব্ধ সেই অংশটি ইতিমধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ‘বিতর্কিত’দের কমিটি থেকে বাদ দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন৷ সেই আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কাল বৃহস্পতিবার৷ এই সময়ের মধ্যে ‘বিতর্কিত’দের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া না হলে তাঁরা গণপদত্যাগ কিংবা অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন৷
জানতে চাইলে নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের বিগত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিতর্কিতদের বাদ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন৷ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আজ বুধবার রাতে তাঁরা তাঁদের অবস্থান জানাবেন৷
গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদগুলো ছিল ফাঁকা। গত সোমবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পদবঞ্চিত নেতাদের ওপর ওই হামলা নিয়ে রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিশেষ করে নারী নেত্রীদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা নিয়ে নিন্দা জানান সংগঠনটির সাবেক নেতারা। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামানের ছেলে আশিক খানের সহসম্পাদক পদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।

আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় বেঁচে ফিরেছি -ওবায়দুল কাদের

সিঙ্গাপুরে টানা দুই মাস ১০ দিন চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সন্ধ্যায় দেশে ফিরে তিনি দেশবাসী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নতুন উদ্যমে  আবার তিনি কাজে আত্মনিয়োগ করতে চান। ওবায়দুল কাদের বলেন, পরম করুনাময় আল্লাহ’র ইচ্ছায় এবং দেশবাসীর দোয়ায় আমি ফিরে এসেছি। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গতকালই প্রথম গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
বিকেল ৫ টা ৫২ মিনিটে ওবায়দুল কাদেরকে বহনকারী  বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৮৫  নম্বর ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। এর আগে থেকেই বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে জড়ো হন হাজার হাজার নেতাকর্মী। এ সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তারা। এর আগে স্থানীয় সময় ৪ টা ১০ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে বিমানের ফ্লাইটটি। ঢাকায় অবতরণের পর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ দলীয় নেতারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদিকদের সামনে আসেন ওবায়দুল কাদের। এসময় তিনি বলেন, দুই মাস ১১ দিন আগে আমার জীবন ছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। বাঁচব কি-না এ নিয়ে সংশয় ছিল। সেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এবং আমাদের প্রিয় নেত্রী- যিনি চরম সঙ্কটে মা তার সন্তানের জন্য যা করেন তিনি আমার জন্য তা-ই করেছেন, তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলা হয় মাদার অব হিউম্যানিটি। তার কাছে আমি অশেষ ঋণে বাঁধা পড়ে গেলাম। তিনি বলেন, শেখ রেহানা,তিনি কোরআন শরীফ পাঠ করে আমার জন্য দোয়া করেছেন। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। যদিও সেই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না। শুনেছি, আপনজন এই সময় কাছে এসে ডাকলে মৃত্যুপথযাত্রী সাড়া দেয়। শেখ হাসিনা আমাকে নাম ধরে ডেকেছিলেন, তখন আমি সাড়া দিয়েছিলাম-এটা পরে আমাকে বলেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা দেশের মানুষ, দলের এবং দলের বাইরের সবাই আমার জন্য দোয়া করেছেন-এমনকি প্রবাসী বাঙালিরা আমার পাশে ছিলেন। সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো মানুষের ভালোবাসা। সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আপনাদের পাশে আছি। একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের ভালোবাসা পাওয়া, যা আমি পেয়েছি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আসুন, আমরা নতুন উদ্যমে কাজ করে আমাদের নেত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করি। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতি যারা আমার অনুপস্থিতিতে টিমওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হতে দেননি। আমরা এভাবেই শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবো। তিনি বলেন, আমাদের জীবনটাই হলো স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটা। আমরা এটা শিখেছি বঙ্গবন্ধুর পরিবার থেকে। শেখ হাসিনার কাছ থেকে। তিনি বলেন, আর পাঁচ মিনিট পরে যদি আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতাম তাহলে অন্য ঘটনাও ঘটে যেতে পারত। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক, মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং ডা. দেবী শেঠীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডিতে (ক্রনিক অবসট্রাকটিভপালমোনারি ডিজিজ) ভুগছেন। গত ২রা মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার বিএসএমএমইউতে ভর্তি হলে এনজিওগ্রামে ওবায়দুল কাদেরের হৃদপিন্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ঠা মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। কয়েকদিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে গত ২০শে মার্চ কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. শিভাথাসান কুমারস্বামীর নেতৃত্বে বাইপাস সার্জারি হয়। ছয় দিন পর তাকে আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করা হয় কেবিনে। এক মাস পর হাসপাতাল ছাড়লেও চিকিৎসকরা চেকআপের জন্য আরও কিছু দিন তাকে সিঙ্গাপুরে থাকার পরামর্শ দেন। এরপর একটি বাসা ভাড়া করে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন ওবায়দুল কাদের।