Showing posts with label প্রতিদিনের সংবাদ. Show all posts
Showing posts with label প্রতিদিনের সংবাদ. Show all posts

Thursday, July 28, 2022

আহমদ ছফার অবিনয় by তৌহিদ ইমাম

২৮ জুলাই আহমদ ছফার মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে
আমরা আটকে আছি ভীষণ ক্ষতিকর একটি প্রথাগত বিশ্বাসে—বিনয়ই সৌজন্য, ভদ্রতা; বিনয়ই সর্ব উদ্দেশ্য সাধনের উপায়। আমাদের ধারণা, শ্রদ্ধা ও সম্মান একই বস্তু। তাই আমরা যত পারি বিনয়ী হই, বিনয়ে মাথা নোয়াই। এই সুযোগটাই নেয় ক্ষমতাসীন শক্তিমান; আমাদের নোয়ানো মাথা আর তুলতে দেয় না। আমরা তাদের পায়ের কাছে ঘাড় গোঁজ করে পড়ে থাকি। আর প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠান, শক্তিমান আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে বুলিয়ে পোষ মানিয়ে রাখে।

আহমদ ছফা অস্বীকার করেছেন সমস্ত প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠান আর শক্তিমানকে। তিনি জানতেন, এসবই পরিপূর্ণ বিকাশের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠান আর শক্তিমান একেকটা পাথুরে দেয়াল। আহমদ ছফার সাধনা ছিল দেয়ালগুলো ভেঙে দিয়ে সৃষ্টিশীল বায়ুর অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা। আহমদ ছফা তাঁর দিনপঞ্জিকার একটি অংশে (৪ মার্চ, ১৯৭৩) লিখেছেন, ‘সমস্ত শক্তি জড়ো করে সামনে যদি পথ না হাঁটি আমার দম বন্ধ হয়ে আসবে। আমি নিজের ভেতরেই পচে উঠব। সুযোগ, সুবিধা, লোভ কিছুর কাছেই নতি স্বীকার করতে পারব না। নতি স্বীকার করা আর আমার মরে যাওয়া একই কথা।’ কোনো দুর্বল মুহূর্তে নিজের একান্ত মনোভাবনার প্রকাশ নয় এটি, বরং সারা জীবনের অবিচলিত সংকল্প। এজন্য অবশ্য আহমদ ছফাকে কম নিগ্রহের সম্মুখীন হতে হয়নি।

সেটিই স্বাভাবিক ছিল। প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠান আর শক্তিমান চায় ক্ষণ ভঙ্গুর মেরুদণ্ডহীন মানুষ। যে মানুষ কেবলই তাদের স্তব, স্তুতি করবে; অনুগত সারমেয়র মতো পদলেহী হবে। বিনিময়ে নানা রকম সুযোগ-সুবিধার প্রসাদ পেয়ে চেটেপুটে খাবে। কিন্তু আহমদ ছফা ছিলেন সিংহাসন উল্টে দেওয়া সংগ্রামী গণমানুষের প্রতিনিধি। যে মানুষই সভ্যতা গড়ে, সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

আহমদ ছফার জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হারিশপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে। আহমদ ছফা খুব গর্বভরে নিজের পরিচয় দিতেন ‘কিষানের ছাওয়াল’ বলে। মুসলমান কৃষক সম্প্রদায়ের প্রতি ছিল তাঁর অপার মমতা। যেহেতু তিনি উঠে এসেছেন সেই শ্রেণির ভেতর থেকে। কিন্তু ছিলেন প্রবল অসাম্প্রদায়িক। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনার পাঠ তিনি নিয়েছেন নজরুলের জীবন ও রচনাবলি থেকে।

শুধু নজরুল নয়, আহমদ ছফার চেতনা ও সৃষ্টিশীলতায় অনেকেরই প্রভাব ছিল; বিশেষভাবে গ্যেটে, রাসেল এবং রবীন্দ্রনাথ। এই তিন মনীষী শুধু যে তাঁর মনোগঠনে ভূমিকা রেখেছেন তা নয়, সৃষ্টিশীলতার দুরূহ দুর্গম পথের পথিক হতেও সৎসাহস জুগিয়েছেন। ইংরেজ মনীষী বার্ট্রান্ড রাসেল ও বাঙালি মনীষী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে আহমদ ছফা অসাধারণ দুটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধ দুটি ১৯৮১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইয়ে সংকলিত হয়েছে। প্রবন্ধ দুটি পড়লে বিস্মিত হতে হয়; রাসেল ও রবীন্দ্রনাথকে আহমদ ছফা যে দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করেছেন; সেটি একেবারেই ব্যতিক্রম, এর আগে কেউই সেভাবে ব্যাখ্যা করেননি। প্রবন্ধ দুটিতে চকিত একবার দৃষ্টি দেওয়া যাক।

বার্ট্রান্ড রাসেলকে নিয়ে লিখিত প্রবন্ধটির শিরোনাম ‘বার্ট্রান্ড রাসেল’। ১৯৭০ সালের দিকে অধুনালুপ্ত ‘মুখপত্র’ পত্রিকায় লেখাটি প্রকাশিত হয়। আহমদ ছফা রচনাটি লিখেছিলেন ছাত্রাবস্থায় ও ড. আহমদ শরীফের বাড়িতে একটি সাপ্তাহিক পাঠচক্রের সভায় পাঠের উদ্দেশ্যে। আহমদ ছফা প্রবন্ধটি শুরু করেছেন এভাবে—‘বার্ট্রান্ড রাসেলের দর্শন ও মনীষার এক অংশ মাত্র সাধারণের চোখে পড়েছে। অপর অংশ চাঁদের অপর পিঠের মতো লোকলোচনের অন্তরালে রয়ে গেছে।’ এরপর পুরো প্রবন্ধের পরতে পরতে আহমদ ছফা যে ভাষায় ও ভঙ্গির তির্যকতায় রাসেলের ব্যক্তিজীবন ও কর্মের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা অনবদ্য। প্রবন্ধটির শেষ প্যারার কথা কটির ভেতর দিয়ে প্রায় অলৌকিক ও পৌরাণিক ভাবমূর্তি ভেঙে লৌকিক রাসেল বেরিয়ে এসেছেন। আহমদ ছফা প্রবন্ধটি শেষ করেছেন এভাবে—‘প্রথম যৌবনে তিনি খ্যাতি, প্রতিপত্তি কিছু কামনা করেননি। শুধু চেয়েছিলেন সন্তানের জনক হতে। একেবারে আদিম কামনা। জুলু হটেন্টটের সঙ্গে কোনো প্রভেদ নেই। প্রথম সন্তানের জনক হওয়ার সংবাদে এমন বিভোর আনন্দ পরিবেশন করেছেন নেহায়েত জৈবকর্মে বিরক্ত মানুষের মনেও একঝলক দখিনা হাওয়া সমীরিত হয়। এই মানুষী আবেগটিই রাসেলের অমরত্বের কারণ। তিনি বিশাল পুরুষ, বিখ্যাত মানুষ। কণ্ঠস্বর আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে পাঁচ মহাদেশের কানে কানাকানি করে। এমন বিখ্যাত মানুষের আনন্দিত হওয়ার জন্য সুগায়কের গানের একটি কলি, জাতশিল্পীর ছবির একটু দর্শন, সবুজ বনানীর একটু অন্তরঙ্গ ছোঁয়া এই-ই যথেষ্ট। হাসি পাওয়ার মতো সাধারণ। সমস্ত অসাধারণেরাই অতিবেশি সাধারণ, কথাটি বোধ করি সত্য।’ কী অনন্যসাধারণ উপলব্ধি! বার্ট্রান্ড রাসেলের প্রতি এই মুগ্ধতা আহমদ ছফাকে দিয়ে রাসেলের Sceptical Essays-এর অনুবাদ করিয়ে নিয়েছে; ‘সংশয়ী রচনা’ শিরোনামের অনুবাদগ্রন্থটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
  • আহমদ ছফাকে পড়তে হলে বসতে হবে সমস্ত মনোযোগ ও মনন নিয়ে। সেই সঙ্গে থাকতে হবে ইতিহাস ও সমাজতত্ত্ব পাঠের অভিজ্ঞতা। কোনো অপ্রস্তুত পাঠকের পক্ষে আহমদ ছফার রচনা হজম করা কঠিন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে আহমদ ছফা যে প্রবন্ধটি লিখেছিলেন, সেটি লিখিত হয়েছিল সেই সময়, যখন পাকিস্তানের গভর্নর আইয়ুব খানের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন রেডিও-টিভিতে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। আহমদ ছফার উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথবিষয়ক প্রবন্ধের একটি সংকলনগ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যার সম্পাদক ছিলেন ড. আনিসুজ্জামান। ‘রবীন্দ্রনাথের সংস্কৃতি-সাধনা’ শীর্ষক রচনাটি সেই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ভীষণ কাব্যিক এই প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘ জীবনের শিল্পসাধনার সারাৎসার। রবীন্দ্রনাথ কাদের সৃষ্টিশীলতা ও চৈতন্যকে আত্তীকরণ করেছেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আহমদ ছফা প্রবন্ধের এক জায়গায় লিখেছেন—‘য়ুরোপের অহমিকা তাকে আহত করেছে, কিন্তু গরিমাও মুগ্ধ করেছে। শেক্সপিয়রের মানবোপলব্ধি, মিল্টনের কল্পসাঁতার, শেলির মুক্ত প্রমিথিউস, বায়রনের উদ্দামতা, কিটসের তন্ময়তা, ব্রাউনিঙের অধ্যাত্মোপলব্ধি, গ্যয়টের মানবীয়তা, রাসকিনের প্রগাঢ়তা, টলস্টয়ের ব্যাপ্তি এবং ফরাসি সাহিত্যিকদের বাগবৈদগ্ধ তাকে স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণ করেছে। তাছাড়া আরো নানা প্রাণের স্পর্শ প্রাণে এসে অবশ্যই লেগেছে।’ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আহমদ ছফা পরেও লিখেছেন, কিন্তু এই গদ্যটিই রবীন্দ্রনাথের ওপর আহমদ ছফা লিখিত সেরা রচনা বলে মনে করি।

কিন্তু বার্ট্রান্ড রাসেল ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়েও যে মনীষী আহমদ ছফার চেতনালোককে অধিকতর আলোড়িত করেছেন বলে মনে করি, তিনি জার্মান কবি ও নাট্যকার যোহান ভন গ্যেটে। এই মনীষীর বৈভবময় জীবন ও বিপুল সৃষ্টি ছফাকে সূর্যাভিমুখী পুষ্পের মতো প্রস্ফুটিত করেছে। গ্যেটের অমর কাব্য ‘ফাউস্ট’, যেটি তিনি দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে রচনা করেছেন, সেই বৃহদায়তন রচনাটি অনুবাদের যে সৎসাহসিক উদ্যোগ আহমদ ছফা নিয়েছিলেন, তাই তাকে বাংলা সাহিত্যে চির অমর করে দিয়ে গেছে। এই কর্মটিই প্রমাণ করে আহমদ ছফা গ্যেটে দ্বারা কী ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন।

কিন্তু এসবই কি আহমদ ছফার অবিনয়? আমার তো তাই মনে হয়। ব্যক্তিজীবনে ও সৃষ্টিশীলতায় আহমদ ছফা যে পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেটি একেবারেই অপ্রথাগত। তিনি জীবনযাপনে ছিলেন উদ্দাম, বাঁধনহারা, সৃষ্টিশীলতায় ছিলেন বিচিত্রাভিসারী। তিনি যে সাহিত্যের নতুন কোনো ফর্ম নিয়ে কাজ করেছেন, তা নয়। তিনি কবিতা লিখেছেন, লিখেছেন গল্প-উপন্যাস, লিখেছেন প্রবন্ধ-স্মৃতিকথা-দিনলিপি, করেছেন অনুবাদ; অর্থাৎ একেবারেই প্রচলিত ধারা ও ফর্মে। কিন্তু আহমদ ছফার বিশেষত্ব ও অসাধারণত্ব সেসবের ভেতর দিয়েই হীরের দ্যুতির মতো ঠিকরে বেরিয়ে এসেছে। আহমদ ছফার লেখা পাঠ কোনো আরামদায়ক অভিজ্ঞতা নয়, বরং যথেষ্ট অস্বস্তিদায়ক। এমনকি উপন্যাসগুলো পর্যন্ত এতটা সুখপাঠ্য নয় যে, বালিশে আলতো হেলান দিয়ে পড়া যাবে। আহমদ ছফাকে পড়তে হলে বসতে হবে সমস্ত মনোযোগ ও মনন নিয়ে। সেই সঙ্গে থাকতে হবে ইতিহাস ও সমাজতত্ত্ব পাঠের অভিজ্ঞতা। কোনো অপ্রস্তুত পাঠকের পক্ষে আহমদ ছফার রচনা হজম করা কঠিন।

সব কিছু নিয়েই আহমদ ছফার ছিল নিজস্ব পর্যবেক্ষণ। তাঁর দেখার চোখ ছিল একেবারেই অন্যরকম। কোনো সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চ ব্যাখ্যাতেও থাকত তাঁর নিজস্বতার ছাপ। এমনকি সাহিত্যের কোনো সংঘটন কিংবা উপন্যাসের কোনো চরিত্র নিয়ে যখন তিনি আলোচনা করেছেন, সেখানেও পাওয়া গেছে নব আলোকের উদ্ভাস। উদাহরণ হিসেবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুল পঠিত উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র একটি চরিত্র হোসেন মিয়ার কথা বলা যেতে পারে। এই চরিত্রটিকে আহমদ ছফা যে দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন, আহমদ ছফার আগে কিংবা পরে কারও পক্ষেই এমন অভিনব ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হয়নি। হোসেন মিয়াকে তিনি দেবরাজ জিউসের মতো সর্বইচ্ছা শক্তিসম্পন্ন চরিত্র হিসেবে দেখিয়েছেন। দেখিয়েছেন কলম্বাস, ক্যাপ্টেন কুকের বঙ্গীয় সংস্করণ হিসেবে। অথবা ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ প্রবন্ধে তাঁর যে ব্যাখ্যাসমূহ, সেগুলো বিস্ময়েরই উদ্রেক করে। লেখক হতে হলে কতটা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, কতটা মননদীপ্ত, কতটা বৈপ্লবিক হতে হয় আহমদ ছফা তাঁর সেরা দৃষ্টান্তগুলোর একজন।

অন্যদিকে জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে তাঁর যে অবিসংবাদিত স্মৃতিগ্রন্থ ‘যদ্যপি আমার গুরু’, সেটি পড়লে যে আহমদ ছফাকে আমরা পাই, সেই আহমদ ছফা অত্যন্ত সংবেদনশীল, প্রচণ্ড পড়ুয়া ও অস্থির অনুসন্ধিৎসু। এবং অবশ্যই স্মৃতিধর।

আহমদ ছফার পরিচয়ের বহুমুখিতা এখানেই শেষ নয়; তিনি যে কতটা বহুমাত্রিক মানুষ ছিলেন, সেটি তাঁর জীবনযাপনই প্রমাণ করে। আহমদ ছফার কুসুমকোমল অন্তঃকরণের পরিচয় পাই অনুজ-তরুণ লেখকদের প্রতি প্রগাঢ় স্নেহশীলতায়। আজকে খ্যাতিমান, লব্ধপ্রতিষ্ঠ অনেক লেখকেরই সেদিন ছিলেন সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক, মহত্তম উৎসাহদাতা। সে সময়কার বহু তরুণের প্রথম বই আহমদ ছফার অর্থায়নে প্রকাশিত হয়েছে। এরই উল্টোদিকে আছে আহমদ ছফার রাগী, অনমনীয়, অনাপসী, সংকল্পদৃঢ় চরিত্র। জীবনে কোনো দিন কোনো অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করেননি তিনি। শুধু নিজের সঙ্গে অন্যায় নয়, যখন দেখেছেন অন্যের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে, তখনও রুখে দাঁড়িয়েছেন। এস এম সুলতানের মতো একজন বিশ্বমানের চিত্রশিল্পী যখন শহুরেজনের নিরন্তর অবজ্ঞা-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে, আহমদ ছফা তখন প্রতিজ্ঞা করে বসেন—যে করেই হোক সুলতানকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেবেন। কয়েক বছর পড়াশোনার পর তিনি লিখেন ‘বাঙালির চিত্র-ঐতিহ্য : এস এম সুলতানের সাধনা’ নামের দীর্ঘ একটি প্রবন্ধ। সেই সময় প্রবন্ধটি শিক্ষাভিমানী শহরবাসীর ভেতরে প্রবল উত্তেজনা তৈরি করে। এ দেশের তথাকথিত শিল্পগুরুরা খড়গহস্ত হন সুলতানকে পৃথিবীর সেরা চিত্রশিল্পীদের একজন বলে দাবি করায়। কিন্তু কোনো বিরোধিতাই সুলতানের প্রোজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে আর নিষ্প্রভ করতে পারেনি। এসবই সম্ভব হয়েছিল আহমদ ছফার ইস্পাতদৃঢ় ব্যক্তিত্বের কারণে। আহমদ ছফা সেদিন অবিনয়ী ছিলেন বলেই কমটেম্পরারি গ্রেট মাস্টার্স পিকাসো, ডালি, মাতিস, পল ক্লে, মিকেল্যাঞ্জেলোদের কাতারে আমাদের সুলতানের আসন চিরস্থায়ী হয়ে যায়।

ড. আহমদ শরীফ একবার ‘বেয়াদবি জিন্দাবাদ’ নামের একটি প্রবন্ধ লিখে ‘বেয়াদব’দের (?) স্তবগান গেয়েছিলেন। কারা এই বেয়াদব? তারাই, যারা অস্বীকার করে সমস্ত প্রথা, প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠান আর শক্তিমানদের। নিজস্ব বিচার-বিবেচনা দিয়ে যারা সৃষ্টিশীলতাকেই মেনে নিয়েছে সর্বেশ্বর হিসেবে। অন্তরের আলোই যাদের চলার পথের পাথেয়। লোভ-লালসা যেমন এদের সম্মোহিত করতে পারে না, ভয়ের রক্তচক্ষুও টলাতে পারে না নিজের সংকল্প থেকে। আহমদ ছফার চরিত্রে না ছিল লোভ, না ছিল কোনো কিছুকে ভয়। ফলে জীবনের অনেক সংকটজনক পরিস্থিতিতে আহমদ ছফা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কোনো গড়পড়তা মানুষের পক্ষে সেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল না।

সাহিত্যিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিন্তাবিদ, মনীষী আহমদ ছফা ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মারা যান। ১৯৪৩ থেকে ২০০১ সাল—আহমদ ছফার প্রায় ছয় দশকের জীবনযাপন আমাদের সামনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বের এমন একজনকে তুলে ধরে, যিনি ছিলেন পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য উন্মুখ। পরিপূর্ণ বিকাশ শুধু তাঁর পক্ষেই সম্ভব, যিনি হতে পারেন স্বতঃসিদ্ধ স্বয়ংপুরুষ। আহমদ ছফার অভিজ্ঞতায় সাতচল্লিশের দেশভাগ অস্পষ্ট হলেও পাকিস্তানের সামরিক শাসন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসন, ছদ্মগণতন্ত্র—আহমদ ছফার চিন্তাচেতনায় স্পষ্ট ছাপ ফেলেছে। সেইসঙ্গে নতুন নতুন কর্মোদ্যমে নিয়োজিত করেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম বইটি আহমদ ছফারই রচিত। মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশের অরাজকতা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন আহমদ ছফাকে এতটাই ক্রুদ্ধ ও বেদনাহত করেছিল যে, তাকে তিনি আখ্যায়িত করেন ‘বেহাত বিপ্লব’ বলে। তবু আহমদ ছফা অফুরান আনন্দ, উৎসাহ আর কর্মোৎসাহের প্রেরণা হয়ে থাকবেন আমাদের কাছে। আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তার যে কীর্তিমান সন্তানগুলোর জন্য গর্ববোধ করবে, আহমদ ছফা হবেন তাঁদের ভেতরে উজ্জ্বলতরদের একজন।

Tuesday, July 21, 2020

অবহেলিত মহাকবি কায়কোবাদ

মহাকবি কায়কোবাদ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে ১৮৫৭ সালের ২৫ ফেরুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মহাকবি কায়কোবাদ। কায়কোবাদ কবির সাহিত্যিক নাম হলেও প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরায়শী। তার পিতা ঢাকা জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী শাহামাতুল্লাহ আল কোরায়শী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৮৭০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’ প্রকাশ হলে বাংলা সাহিতাঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ১৯০৪ সালে তার মহাকাব্য মহাশ্মশান প্রকাশ হলে তিনি মহাকবি উপাধি লাভ করেন। কবিতা লেখার পাশাপাশি দীর্ঘদিন আগলা ডাকঘরে চাকরি করেছেন।

১৯৫১ সালের ২১ জুলাই পরলোকগমন করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এই কবি। আজ রোববার মহাকবিরর প্রয়াণ দিবস। বাংলা সাহিত্যে কায়কোবাদের অসাধারণ অবদানের জন্য সারাদেশের মানুষের কাছে কবি সমাদৃত হলেও তার জন্মভূমিতেই এখন অবহেলিত তিনি।

মহাকবির বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিজ গ্রামে কবির স্মৃতিচিহ্ন বলতে তেমন কোনো কিছু  নেই। মহাকবির ব্যবহৃত একটি ভাঙা ঘর ও একটি আম গাছ ছাড়া আর কিছু নেই কবির স্মৃতি হিসেবে। কবির বাড়িতে যারা বসবাস করছেন তারা কবির তথ্য দিতে নারাজ। তবে রান্না কাজে ব্যস্ত একজন গৃহিণী বলেন, কবির কোনো চিহ্ন এখন আর ওই বাড়িতে নেই। কবির বংশধররা সম্পূর্ণ জমি বিক্রি করে চলে গেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কবির বংশধররা কিছু জমি বিক্রি করেছিলেন। কিন্ত প্রতিবেশিরা সম্পূর্ণ জমিই দখল করে নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৬ সালে জেলা পরিষদের উদ্যোগে কবির বাড়ির সামনের রাস্তাটি কবির নামে নামকরণ করে একটি ফলক নির্মাণ করা হলেও ফলকটি রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ভেঙে ফেলেছে। ফলে রাস্তাটি যে কায়কোবাদের নামে করা হয়েছে সেটিও এলাকার অনেকে জানে না। ১৯৭২ সালে সাবেক এমপি সুবিদ আলী খান কায়কোবাদের সম্মানে তার কর্মস্থল আগলা ডাকঘর-সংলগ্ন জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন কায়কোবাদ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।

এছাড়া কবির বাড়ির পশ্চিমে ১৯৮৩ সালে আগলা মাছপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় কায়কোবাদ যুব ক্লাব ও গণপাঠাগার। গত ১০/১২ বছর ধরে পাঠাগারটির সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোনো দর্শনার্থী আগলা গ্রামে গেলে কবি সর্ম্পকে কিছ্ইু জানতে পারেন না। পাঠাগারটি পূনরায় চালু করার ব্যাপারে বারবার উদ্যোগের কথা বলা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে জটিলতা থাকায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার চৌরাস্তায় কায়কোবাদের নামে গোল চত্বর নির্মাণ করা হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চত্বরটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা চত্বর স্থাপন করা হয়। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে চত্বরটি পুনঃস্থাপনের দাবি জানালেও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাকবি শুধু আগলা না নবাবগঞ্জের গর্ব। তবে আমরা তাকে সেভাবে মূল্যায়ন করতে পারি না। কবি সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্ম কিছুই জানে না। নিজ ভূমিতেই কবি আজ অবহেলিত।

কায়কোবাদের নাতি টুটুল আলম কোরায়শী বলেন, কবির বাড়িটি দখলমুক্ত করে কবির নামে একটি পাঠাগার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হলে তার সর্ম্পকে নতুন প্রজম্ম অনেক কিছু জানতে পারবে। মহাকবি কায়কোবাদ নবাবগঞ্জের গর্ব। কবির বাড়ির সামনে যে মসজিদের আযান শুনে আযান কবিতাটি লিখেছিলেন সেটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলা ১৩০০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার মজিদ মিয়া। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা কাজল চৌধুরী বলেন, এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তেন কবি কায়কোবাদ। মহাকবিকে মূল্যায়ন করতে না পারাটা আমাদের জন্যে লজ্জার।
মহাকবি কায়কোবাদ (মৃত্যু : ২১ জুলাই ১৯৫১)

Sunday, July 19, 2020

স্মরণ: জাদুকর হুমায়ূন by অলোক আচার্য

হুমায়ূন আহমেদ
সাহিত্যকর্ম কেন সৃষ্টি হয় এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো পাঠকের জন্য। পাঠক পাঠ করে আনন্দ পায়। আত্মার ক্ষুধা মেটায়। সাহিত্য সৃষ্টির বিচারে কে জনপ্রিয় লেখক এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। জনপ্রিয়তার ধরনেও রয়েছে পার্থক্য। তবে একটা কথা মেনে নিতে হয়, লেখকের লেখা পাঠকের অন্তরে স্থান করে নেয় তিনিই লেখক হিসেবে স্বার্থকতা পান। পাঠক মজে থাকে লেখকের লেখার জাদুতে। মঞ্চের জাদুকর কিছুক্ষণ জাদু দেখিয়ে দর্শকদের বাহবা পান।

একজন লেখক তার লেখার জাদুতে মুগ্ধ রাখেন বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। এই যেমন দেবদাস বা শেষের কবিতার অমিত বা এরকম কোনো চরিত্র নিয়ে আজও মানুষ আবেগপ্রবণ হয়, সত্যি মনে করে, অনেকটা সেরকম। তাই লেখকের চেয়ে বড় কোনো জাদুকর নেই। যেমন জাদুকর ছিলেন আমাদের প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি বেঁচে থাকতে পাঠককে নিজের লেখার জাদুতে মুগ্ধ রেখেছেন, আবার পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েও পাঠককে তার সৃষ্টির জাদুতে মুগ্ধ রেখেছেন। তাই এদেশের সবচেয়ে বড় জাদুকর মনে হয় তিনিই। বাংলাদেশের সাহিত্যে প্রবাদ পুরুষ হুমায়ূন আহমেদ। বেঁচে থাকতে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গস্পর্শী এবং তার মৃত্যুর পরেও তার জনপ্রিয়তা কমেনি।

সহজ, সরল আর সাবলীল গতিতে সৃষ্টি হওয়া এক একটি সাহিত্যকর্ম যেন পাঠকের প্রাণ। লেখকের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো তার লেখায় পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা। কোনো একটি বই পড়তে গিয়ে অর্ধেক পড়ার পর যদি বিরক্তির জন্ম হয় তখন বুঝতে হবে লেখায় পাঠককে টানার ক্ষমতা কম ছিল। একটি বইয়ের যত গভীরে যাওয়া যাবে তত বইটি শেষ করার ইচ্ছা জাগতে হবে। উপন্যাস বা ছোটগল্পের চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে কল্পনা করেও অনেক পাঠক তৃপ্তি বোধ করেন। যেমন কেউ হুমায়ূন আহমেদের হিমু সেজে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়।
  • লেখকের চেয়ে বড় কোনো জাদুকর নেই। যেমন জাদুকর ছিলেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি বেঁচে থাকতে পাঠককে নিজের লেখার জাদুতে মুগ্ধ রেখেছেন, আবার পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েও পাঠককে তার সৃষ্টির জাদুতে মুগ্ধ রেখেছেন। তাই এদেশের সবচেয়ে বড় জাদুকর মনে হয় তিনিই।
আজকের যুগে লেখালেখি করার ক্ষেত্র বা সুযোগ অনেক বেশি। দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতা ছাড়াও প্রতি বছর মেলায় গাদা গাদা বই প্রকাশিত হয়। প্রচুর নতুন লেখক, কবিদের আগমন ঘটে। আবার বইমেলা শেষ হলে সেসব লেখকের বেশিরভাগেরই আর দেখা পাওয়া যায় না। একজন লেখক তার লেখা চালিয়ে যান সারা বছর। পাঠকই লেখকের লেখা খুঁজে বের করে। হুমায়ূন আহমেদের চলে যাবার পর আজও সেই পাঠক তৈরি করার মতো লেখকের দেখা পাইনি। যারা লিখে এসেছে তারাই লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। হুমায়ূন আহমেদ চলে যাবার পরও প্রতিটি বইমেলায় তার বই কিনতে পাঠকদের আগ্রহ দেখেছি। তার সৃষ্টি মিসির আলী, হিমু বা রুপা চরিত্রগুলো আজও বইয়ের পাতা থেকে রাস্তায় দেখা যায়। বাংলা সাহিত্যে এত তুমুল জনপ্রিয় লেখকের দেখা খুব কমই পেয়েছে সাহিত্যনুরাগীরা।

কোনো লেখকের শূন্যতাই পূরণ হবার নয়। তিনি ছিলেন পাঠক নন্দিত লেখক। পাঠকের অন্তরে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন বলেই এমন বলা হয়। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হয়, তখনই বোঝা গিয়েছিল কথাসাহিত্যের বিশাল জগতে তিনি অল্প সময়ের জন্য আসেননি, এসেছেন রাজত্ব করতে। সাহিত্যের ভুবনে ছিলেন সম্রাট। তার পাঠক শ্রেণি ছিল আলাদা। যারা গোগ্রাসে তার লেখা পড়তো। মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রা অসাধারণ দক্ষতায় তুলে এনেছেন। অবশ্য তার সমালোচক শ্রেণিরও অভাব ছিল না। সমালোচনা তার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি তার লেখার ধরন নিজের মতো ঠিখ রেখেছেন। সে সমালোচনা তাকে আরো উঁচুতে পৌঁছে দিয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের লজিক ও অ্যান্টিলজিক চরিত্র হিমু ও মিসির আলী চরিত্র দুটি আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয়। এ চরিত্র নিয়েই দেশে বহু আলোচনা হয়েছে। বাস্তবতার সঙ্গে মেলানোর প্রচেষ্টাও করা হয়েছে। অনেক সময় চরিত্র দুটির স্রষ্টাকেই এই চরিত্রের সত্যিকারের মানুষ বলে মনে হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশে যে তুমুল জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ছিলেন সে কথা দ্বিধাহীনভাবেই বলা যায়। তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন তা জানতে হলে তার কর্ম এবং সৃষ্টির দিকে তাকাতে হবে। হুমায়ূন আহমেদের স্পর্শ যেন সফলতার অন্য নাম। সহজ, সরল সাবলীল ভাষায় পাঠককে গল্পের ভেতর টেনে নেওয়ার যে ক্ষমতা তা তার ছিল। তিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই সফল হয়েছেন।

প্রকৃতির প্রতি বিশেষ টান তার চরিত্রের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। ছোটবেলায় হুমায়ূন আহমেদ ভালোবাসতেন সবুজ অরণ্য, বৃষ্টি আর টিনের চালে সেই ছন্দ, বৃষ্টির পানিতে ভেজা। তার তৈরি নুহাশপল্লীতে তিনি সেভাইে সাজিয়েছিলেন প্রকৃতিকে। তার লেখার বহু বর্ণনায় সেসব পাওয়া যায়।

বিংশ শতাব্দির জনপ্রিয় বাঙালি ঔপন্যাসিকদের তিনি অন্যতম। তার এই লেখার জাদুতে আরো বহু যুগ পাঠক মুগ্ধ থাকবে। বহু যুগ পার হয়ে গেলেও পাঠক হুমায়ূন আহমেদে মশগুল থাকবে—এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

>>>লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক
sopnil.roy@gmail.com

Thursday, August 15, 2019

দুই মলাটে সৈয়দ হাসান ইমামের আত্মজীবনী

দেশের নাট্য জগতের আলোকিত মানুষ ও প্রবীণ অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম। তাকে নিয়ে প্রকাশিত হলো আত্মজীবনীমূলক বই ‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’।

গত ৩০ জুন রোববার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সৈয়দ হাসান ইমাম, তার স্ত্রী লায়লা হাসান এবং নূহ-উল-আলম লেনিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুছ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স’র চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শায়ক, মাহমুদ সেলিম, রতন সিদ্দিকী সহ অনেকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সৈয়দ হাসান ইমামকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘বিনম্র মানুষ বিক্ষুব্ধ শিল্পী’ দেখানো হয়। ৭১ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রটির পরিচালক সৈয়দ হাসান ইমাম ও লায়লা হাসানের মেয়ে সঙ্গীতা ইমাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৈয়দ হাসান ইমামের মেয়ে সঙ্গীতা ইমাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী।

‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’ বইতে উল্লেখিত হয়েছে সৈয়দ হাসান ইমামের কর্ম ও জীবনের নানা আখ্যান। আছে অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজনীতি, দেশভাগ, একষট্টির প্রতিবাদী রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষ, চৌষট্টির সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, সত্তরের ত্রাণকার্য এবং সাধারণ নির্বাচন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা, জহির রায়হানের স্টপ জেনোসাইড নির্মাণের বর্ণনা।

৩৪০ পৃষ্ঠার বইতে আরও রয়েছে শিল্পী সংস্থার কার্যক্রম, স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন, শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা, পনেরই আগস্টের নির্মমতা, মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে চলচ্চিত্রের নানা অজানা অধ্যায়।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম দিকপাল সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, জহির রায়হান, আলমগীর কবীরসহ আরও অনেক নির্মাতা ও তাদের সৃষ্টি সম্বন্ধে নিজস্ব স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিশদ আলোচনা করেছেন সৈয়দ হাসান ইমাম।

গ্রন্থটিতে রয়েছে অনেক দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র। ধ্রুব এষের প্রচ্ছদে ‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’ বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড।

বিয়ের আগেই গর্ভে সন্তান

শরীরে কোনো সুতোও নেই। গর্ভে সন্তান নিয়ে খোলামেলা ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী অ্যামি জ্যাকশন। প্রথমবার সন্তানের মা হতে চলেছেন তিনি। গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেবি বাম্পের নানা ছবি শেয়ার করে চলেছেন অভিনেত্রী। এবার বেবি-বাম্প নিয়ে টপলেস হলেন নায়িকা।
ইনস্টাগ্রামে সেই ছবি শেয়ার করে ঝড় তুলেছেন অ্যামি। জানা গেছে, এখন তিনি ৩৩ সপ্তাহের গর্ভবতী। চলতি বছর মার্চেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর শেয়ার করেছিলেন অ্যামি ও তার হবু বরজর্জ পানাইয়োতু।
তামিল ছবি দিয়ে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন অ্যামি। তেলেগু ও কন্নড় ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। শেষ তাকে রজনীকান্তের সঙ্গে রোবট ড্রামা ২.০ -তে দেখা গিয়েছিল।
চার বছরের অধিক সময় ধরে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জর্জ পানাইয়োতুরের সঙ্গে প্রেম করছেন হলিউড ও বলিউড অভিনেত্রী অ্যামি জ্যাকশন। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রেমিককে চুমো খাওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন এই আন্তর্জাতিক তারকা। তার দুদিন আগে আংটি বদল হয়েছিল তাদের।
সে সময় অ্যামি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে জর্জের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন তিনি। সেই হিসেবে বিয়ে হতে এখনও আট-নয় মাস বাকি। বিয়ের আগেই ভক্তদের চমকপ্রদ খবর শোনালেন নায়িকা।

Saturday, August 10, 2019

শিল্পকলায় ‘শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু’ প্রদর্শনী

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি জুড়ে শুধু বঙ্গবন্ধু। চিত্রে, গানে, কবিতায় এ যেন এক অনন্য স্মরণ উৎসব। আর সে উৎসবের নাম ‘শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু’।

গত ৩ জুলাই শনিবার বিকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে আগস্ট মাসব্যাপী চিত্রে, গানে, কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছ ‘আর্কাইভ ১৯৭১’।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আর্কাইভ ১৯৭১ এর উপদেষ্টা এম এ সরোয়ার এবং শহিদুল ইসলাম শাহীন।

প্রদর্শনী উদ্বোধনের আগে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এটিএন বাংলা এবং এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আর্কাইভ ১৯৭১ প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মুন্নী সাহা এবং প্রণব সাহা।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রণব সাহা এই প্রদর্শনী নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে স্কুলে ঘুরেছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা থেকেই তিনি আগামী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে উজ্জিবীত করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অনন্য প্রতিভার ব্যক্তি। তিনি মানুষের কথা, দেশের কথা চিন্তা করতেন। আর এখন তার দর্শনগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন একটি চিত্রনাট্যের মতো, ধাপে ধাপে যার সফল মঞ্চায়ন হয়েছে। তিনি এক মহাযাত্রার পথ পাড়ি দিয়েছেন, যার শেষ ছিল স্বাধীনতা।

প্রদর্শনীটি  আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ছুটির দিনে বেলা ৩টায় প্রদর্শনী শুরু হবে।

Thursday, August 8, 2019

এবার রাখির হানিমুনের ছবি ভাইরাল

কিছুদিন আগেই বিয়ের পোশাকে তার ছবি ভাইরাল হয়েছিল। তখন তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, যে এটা ব্রাইডাল ফটোশুট। এরপর হোটেলের রুমে তার হানিমুনের ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে।

বিয়ের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর বিয়ের কথা প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। জানিয়েছেন তিনি নাকি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাখি জানিয়েছেন যে, প্রবাসী এক ভারতীয় ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেছেন তিনি।

রাখি জানান, তার স্বামী ইউ কে তে থাকেন। তিনি আরও জানিযয়েছেন, যে তার ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ভিসা পেলেই উড়ে যাবেন সেখানে। তার স্বামীর নাম রীতেশ।

এদিকে নতুন করে ভাইরাল হয়ে যাওয়া হানিমুনের ছবিগুলিতে স্বল্প পোশাকে আবেদনময়ী হিসাবে দেখা যাচ্ছে রাখিকে। যদিও ছবিতে রাখির স্বামীকে কোথাও দেখা যায়নি।

রাখি বলেছেন, তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন যে তিনি টিভি শো প্রডিউস করবেন। এবার তার সেই স্বপ্ন সত্যি হবে বলে মনে করছেন তিনি। কিভাবে তাদের প্রেমের শুরু সেই গল্পও বলেছেন রাখি।

রাখি বলেছেন, প্রভু চাওলার সঙ্গে তার সাক্ষাৎকার দেখার পরই প্রেমে পড়ে যান তিনি। এরপর থেকেই তাকে হোয়াটসঅ্যাপ করতে শুরু করেন। এরপর ফোনে কথা শুরু হয় দুজনের। প্রায় বছর দেড়েক আগে থেকেই তাদের বন্ধুত্বের শুরু। এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম অতপর বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন।

আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়ালো

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার নতুন করে ২ হাজার ৪২৮ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ হিসাবে প্রতি মিনিটে প্রায় দু'জন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে একজন এবং একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে নতুন করে দুই হাজার ৪২৮ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় এক হাজার ২৭৫ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার ১৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট থেকে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। ৩ আগস্ট নতুন করে এক হাজার ৭০৩ আক্রান্ত হয়েছিল। এরপর বুধবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এক হাজার ৮৯৬ জন, দুই হাজার ৮৫ জন, দুই হাজার ৩৪৮ জন এবং দুই হাজার ৪২৮ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। চলতি আগস্টের ৭ দিনে রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩২ হাজার ৩৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ৬১০ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

বর্তমানে ৮ হাজার ৭০৭ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার ৩৮ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ৩৮৯ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ৩ হাজার ৩১৮ জন ভর্তি আছে।

Wednesday, July 31, 2019

অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি পুরস্কার পেলেন ১০ সাহিত্যিক

অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার-১৪২৪ পেয়েছেন দেশের ১০ গুণী শিশুসাহিত্যিক।

বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে লেখকদের হাতে পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি।

এবার কবিতা-ছড়া-গানে যৌথভাবে ‘দুরন্ত কিশোরের উড়ন্ত মন’র লেখক আহ্‌মেদ সাব্বির ও ‘আমায় পড়া পাতায় ভরা’র লেখক সোহেল মল্লিক; গল্প-উপন্যাস ও রূপকথায় ‘ঘিয়ের পিদিম’ লেখক নিলয় নন্দী; জীবনী প্রবন্ধে যৌথভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র লেখক মনি হায়দার ও ‘গল্পে গল্পে বাংলাদেশ’র লেখক শিবুকান্তি দাস; স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ‘পৃথিবীর বাইরে’র লেখক মিন্টু হোসেন; অনুবাদ ও ভ্রমণ কাহিনীতে ‘লুইস ক্যারল অ্যালিসের অ্যাডভেঞ্চার’র লেখক সামিন ইয়াসার; নাটকে যৌথভাবে ‘আকাশ আর মৃত্তিকার গল্প’র লেখক মোস্তফা হোসেইন ও ‘বিষ্টি বন্ধু’র লেখক মোহাম্মদ মারুফুল এবং অলঙ্করণে ‘এক সকালের টম’র লেখক মামুন হোসাইন এ পুরস্কার পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা বলেন, শিশুসাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে শিশুসাহিত্য পুরস্কার একটি ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার। ১৯৮০ সাল থেকে শিশু একাডেমি এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। অভিনন্দন যারা আজ পুরস্কার পেয়েছেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুরা উদ্দীপনা পাবে। শুরু থেকে এই পুরস্কারে সহায়তা করার জন্য অগ্রণী ব্যাংককে ধন্যবাদ। পুরস্কারপ্রাপ্তরা শিল্প-সাহিত্যের চর্চায় মানুষের মূল্যবোধ নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পেরেছেন। আজকের শিশুরা বড় হয়ে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের হাল ধরবে। সেই শিশুদের নিয়ে লেখাও গর্বের।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, যারা এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তাদের ধন্যবাদ। আজকে বাংলা ১৪২৪ সালের পুরস্কার দেওয়া হলো। আমরা চেষ্টা করছি, খুব দ্রুত বাকি থাকা ১৪২৫ এবং ১৪২৬ সালের পুরস্কারগুলো দেওয়ার।

অনুভূতি প্রকাশ করে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক মোস্তফা হোসেইন বলেন, এই আয়োজন করার জন্য শিশু একাডেমিকে এবং সহযোগিতা করার জন্য অগ্রণী ব্যাংককে ধন্যবাদ। শিশুসাহিত্য চর্চার যে ধারা শিশু একাডেমির চালু রয়েছে, তার জন্য আমি এখানে নিয়মিত আসি। যারা শিশুসাহিত্য চর্চা করেন, তাদের শিশু একাডেমির সদস্য করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহবান তিনি।

 বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সারাদেশের শিশু বিষয়ক লেখক ও পাঠকদের মুখোমুখি করতে একটি অনুষ্ঠান করার জন্যও শিশু একাডেমিকে অনুরোধ জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে শিশু একাডেমির উপ-পরিচালক মনির হোসেন বলেন, ৩৮ বছর ধরে শিশু একাডেমি এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। আজকের পুরস্কারপ্রাপ্তরা তাদের কাজে আরও বেশি আগ্রহী হবেন বলেন আশা করছি। সভাপতির বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার।

অনুষ্ঠান শেষে শিশুদের পরিবেশনায় সংগীত ও নাট্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Thursday, July 25, 2019

লোককাহিনী নির্ভর নাটক ‘আমিনা সুন্দরী’

চট্টগ্রামের অমর লোককাহিনী নছর মালুম ও ভেলুয়া সুন্দরী অবলম্বনে নাটকের দল থিয়েটার আর্ট ইউনিটের দর্শকনন্দিত নাটক ‘আমিনা সুন্দরী’। থিয়েটারের খ্যাপা পাগলা-খ্যাত বরেণ্য নাট্যকার-নির্দেশক এস এম সোলায়মান রচিত এ নাটকটি নির্দিশনা দিয়েছেন রোকেয়া রফিক বেবী।

কাল ২৬ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বেইলিরোডস্থ মহিলা সমিতিমঞ্চে প্রদর্শিত হবে আলোচিত এ নাট্যাখ্যান।

নাট্যদল থিয়েটার আর্ট ইউনিট ২০০৭ সালে মঞ্চে নিয়ে আসে নাট্য প্রযোজনা ‘আমিনা সুন্দরী’। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে নাটকটি প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাঙালি নারীর প্রেম ও পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর প্রতি পুরুষের প্রবঞ্চনা এ নাটকের মূল উপজীব্য।

নাটকের শুরুতেই দেখা যায়, পতিভক্ত নারী আমিনার সঙ্গে। যার স্বামী নছর পেশায় একজন জাহাজের মালুম। ব্যবসার জন্য বার্মার উদ্দেশ্যে যাওয়া স্বামীর অপেক্ষায় দিন কাটতে থাকে আমিনার। সেখানেই নছর বিয়ে করে বার্মা তরুণী এখিনকে। একসময় ফিরে আসে নছর, তখন স্ত্রী আমিনা বন্দী ভোলা সওদাগরের কাছে। আমিনার খোঁজ না পেয়ে ফিরে আসে সে।

এদিকে, নছরকে প্রত্যাখ্যান করে এখিনও। সর্বস্ব হারিয়ে নছর আশ্রিত হয় ভোলা সওদাগরের ঘরে। সেখানেই পুনরায় মিলন হয় নছর ও আমিনার। দশক বাদে এ সাক্ষাতে আবেগাপ্লুত আমিনা আবার প্রত্যাখ্যাত হয় স্বামীর কাছে। প্রেমের কাছে হার মানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমিনার সতীত্ব।

Thursday, July 18, 2019

ঢাকার মঞ্চে নতুন নাটক ‘রাত ভরে বৃষ্টি’

নতুন থিয়েটার দল ‘আপস্টেজ’ এবার ঢাকার মঞ্চে তাদের প্রথম প্রযোজনা হিসেবে আনতে যাচ্ছে নতুন নাটক ‘রাত ভরে বৃষ্টি’। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম আবহে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য বুদ্ধদেব বসুর নিষিদ্ধ ‍উপন্যাস ‘রাত ভরে বৃষ্টি’ অবলম্বনে নাটকটি লিখেছেন তারুণ্যদীপ্ত নাট্যনির্দেশক সাইফ সুমন।

কাল ১৯ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানীর বেইলি রোডের বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘রাত ভরে বৃষ্টি’ নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী। নাটকে মণিমালা চরিত্রে অভিনয় করছেন কাজী রোকসানা রুমা, অংশু চরিত্রে প্রশান্ত হালদার এবং জয় চরিত্রে দেখা যাবে সাথী রঞ্জন দে-কে।

নাটকটি প্রসঙ্গে নির্দেশক সাইফ সুমন বলেন, প্রথমত, উপন্যাসের ‘ভালোবাসা জরুরি, স্বামী-স্ত্রী জরুরি, বেঁচে থাকাটা জরুরি’- এই কথাগুলো আমাকে ভীষণ আলোড়িত করেছে। দ্বিতীয়ত, এই উপন্যাসে শরীর–মনের ব্যাখ্যা আমি সমর্থন করি। এসব কারণে নাটকটি মঞ্চে আনতে আগ্রহী হয়েছি।’

বিয়ে ও সংসার নামের যৌথ প্রতিষ্ঠানের জটিল পাকচক্রে আবদ্ধ তিন নর-নারীর মনোদৈহিক টানাপোড়েনের গল্পে আবৃত হয়েছে ‘রাত ভরে বৃষ্টি’। মধ্যবিত্ত সমাজজীবনে স্বামী-স্ত্রী বা বিবাহিত নারী-পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্কের নানা জটিলতার সঙ্গে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সংশয় নিয়ে এগিয়ে চলে নাটকের কাহিনি।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত বুদ্ধদেব বসুর লেখা ‘রাত ভরে বৃষ্টি’ উপন্যাস ঘিরে মামলা করেন আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা ল কলেজের জনৈক ছাত্র নীলাদ্রি গুহ। নিম্ন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট অশ্লীলতার অভিযোগে তখন নিষিদ্ধ করে উপন্যাসটি, পাণ্ডুলিপি পর্যন্ত ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছিলেন।

মামলা এমন একপর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, বুদ্ধদেব বসু তাঁর ছোট মেয়ে দময়ন্তীকে চিঠিতে লিখেছিলেন, বইটা আপাতত ‘নিহত’ হবে বলেই ধরে নে। ১৯৬৯ সালে শুরু হওয়া মামলা শেষ হয় ১৯৭৩ সালে। শেষ পর্যন্ত উপন্যাসটি সম্পর্কে অশ্লীলতার অভিযোগ খারিজ হয়।