Tuesday, March 17, 2015

পাঁচ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে মুক্ত হলো নিউ ইয়র্কে পণবন্দী বাংলাদেশী পরিবার by ইমরান আনসারী

জ্যামাইকার পণবন্দী অবস্থা থেকে বাংলাদেশী
পরিবারকে উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা
পুলিশের দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শেষ হলো নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকায় বাংলাদেশী একটি পরিবারকে পণবন্দী করার ঘটনা। মূলত ডাকাতির উদ্দেশ্যেই মুখোশধারী ওই সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায় বলে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে পরিবারটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সোমবার নিউ ইয়র্ক সময় সকাল সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যামাইকার ১৬৮ স্ট্রিটে ঘটে এ ঘটনা ঘটে। অস্ত্রধারী এক সন্ত্রাসী জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের অপর দিকে ৮৫ এভিনিউর ২০ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় দরজায় আঘাত করতে থাকলে বাংলাদেশী পরিবারটি দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়। পরে ওই সন্ত্রাসী নিচ তলায় গায়ানিজ বংশোদ্ভূত এক পরিবারের বাসায় দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে। অস্ত্রের মুখে হাতিয়ে নেয় বেশ কিছু ডলার।
বাংলাদেশী ওমর আলী জানান, ‘আনুমানিক সাড়ে ৭টার পর সন্ত্রাসী আমার বাসায় ঢোকার চেষ্টা করলে আমার স্ত্রী দরজা না খুলে পুলিশকে খবর দেয়। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই পুলিশ বাসার সামনে অবস্থান নিলে মুখোশধারী ওই সন্ত্রাসী আমার বাসার ছাদ দিয়ে পাশের আরেকটি বাড়িতে এক বাংলাদেশীর বাসায় ঢুকে পড়ে’।
অস্ত্রধারী ওই সন্ত্রাসীকে আটক করতে মুহূর্তের মধ্যে নিউ ইয়র্ক পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সামনের রাস্তাটি ব্লক করে সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তিন দফা হেলিকপ্টারের মহড়া চলে। বন্ধ করে দেয়া হয় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার। পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
সশস্ত্র ওই সন্ত্রাসী ৮৫ এভিনিউর ২৮ নম্বর বাড়িতে ঢুকে বাংলাদেশী পরিবারটিকে পণবন্দী করার চেষ্টা করে। পাঁচ ঘণ্টার সেই অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই বাসার বড় ছেলে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘সে দরজায় জোরে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে আমার বৃদ্ধা মাকে নিচে ফেলে দেয়। আমার ছোট ভাই ও বাবা ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা উঠেই মুখোশধারী সশস্ত্র ওই সন্ত্রাসীকে দেখতে পান। পরে সে দ্রুত আমার জামাকাপড় পরে নেয়। আমার ছোট ভাইকে বলে, পুলিশ ঢুকলে যেন বলা হয় সে আমাদের মেহমান। ইতোমধ্যে পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। বাসায় সন্ত্রাসী অবস্থানের বিষয়টি আমাকে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে জানাতে থাকলে আমি তা পুলিশকে অবগত করি।’
একপর্যায়ে পুলিশের সোয়াত টিম বাসার দরজার সামনে অবস্থান নেয়। পুলিশের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক সময় ১টা ১৫ মিনিটে আত্মসমর্পণ করে ২৪ বছর বয়স্ক ওই সন্ত্রাসী। পরে পুলিশ বাসার বৃদ্ধ মহিলাকে চিকিৎসার জন্য হসপিটালে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, ওই সন্ত্রাসী ছিল আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কিছুই জানানো হয়নি। সোমবার সন্ধ্যার পর বাংলাদেশী পরিবার দু’টির খোঁজখবর নিতে যান নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি কন্সাল জেনারেল শাহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় জ্যামাইকাজুড়ে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খালেদার সাথে স্ত্রীর সাক্ষাত, সালাহউদ্দিনকে অক্ষত ফেরত চেয়েছেন খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলের নিখোঁজ যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ও তার দুই  সন্তান। রাত পৌনে ৮টার দিকে তারা গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে তারা রাত ৯টার দিকে কার্যালয় থেকে বের হন। কার্যালয়ের সামনে হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সালাহউদ্দিন আহমেদকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হাসিনা আহমেদ আরও বলেন, আমি জানতে চাই আমার স্বামী কোথায় আছেন? সুস্থ অবস্থায় তাকে ছেলে-মেয়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক, এটাই আমার আবেদন। এসময় সালাহউদ্দিন আহমেদের ছোট ছেলে সৈয়দ ইউসুফ আহমেদ, ছোট মেয়ে ফারিবা আহমেদ রাইদা ও ভাবী শামীম আরা উপস্থিত ছিলেন।
‘সালাহ উদ্দিন আত্মগোপনে আছেন’ -স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ আগেও আত্মগোপনে ছিলেন, এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, উনি (সালাহ উদ্দিন আহমেদ) এর আগেও আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন সময় তালেবানি পদ্ধতিতে সংবাদ মাধ্যমে বার্তা পাঠাতেন। আমরা আগেও তাকে খুঁজছিলাম, এখন গোয়েন্দা পুলিশ তাকে খুঁজছে। বিদেশে পলাতক খুনের আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই রায় : ব্যারিস্টার খোকন

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো সম্পাদক পদে জয়ী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে আজকে আইনজীবীরা এই রায় দিয়েছেন বাংলাদেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আমি শুধু বলতে চাই- সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্মানিত সদস্যরা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, আমাকে যে সমর্থন দিয়েছেন, আমার দল বা যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সারাজীবন আমি গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাবো, আইনের শাসনের জন্য কাজ করে যাবে, মানবাধিকারের জন্য কাজ করে যাবো।
তিনি আরো বলেন, আমি প্রথমেই সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ও আমার নিজের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সকল নির্বাচন কমিশনারগণ এবং এই নির্বাচনে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে সকল সদস্যের নিকট কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি- এই বার অ্যাসোসিয়েশনের ৫৭ বছরের রেকর্ডে তৃতীয়বারের মতো সম্পাদক পদে আমাকে নির্বাচিত করার জন্য। আমি মহান আল্লাহ তা-আলার নিকট শুকরিয়া আদায় করছি। দলমত নির্বিশেষে সকলের নিকট কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি এ সময় বিশেষভাবে স্মরণ করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি।
তিনি বলেন, আমাদের বিচার ব্যবস্থা ঘুনে ধরা বিচার ব্যবস্থা। মানুষ চায় ন্যায়বিচার। আজ প্রধান বিচারপতির নিকট অনুরোধ করতে চাই- নিম্ন আদালতে যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, যেসব বিচারক মামলার রায় দেয়ার সময় রাজনৈতিক চিন্তা করেন, যেসব বিচারক আইন চিন্তা না করে মন্ত্রণালয়ের কথা অনুযায়ী বিচার করেন, অনতিবিলম্বে সেইসব বিচারককে অপসারণ করা হোক। প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আপনাকে অনুরোধ করতে চাই, এই সুপ্রিম কোর্টে যেসব বিচারক দলবাজি করেন, মানুষকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেন, তাদের অপসারণ করা হোক। ওইসব দুর্নীতিবাজ এবং দলবাজ বিচারপতিদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই- যদি বিচারপতির চেয়ারের সম্মান ধরে রাখতে না পারেন তবে দয়া করে সরে যান। তিনি বলেন, যদি তারা না চলে যায়, তবে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই যে, বিচারপতিদেরও বিচার হয়।
তিনি আরো বলেন, আজ দেশে গণতন্ত্রের নামে প্রতারণা চলছে। বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় মানুষ যেতে পারবে না, গ্রেফতার করা হবে। এটা কোন ধরণের গণতন্ত্র? আজ বেগম খালেদা জিয়ার বাসা ইটের ট্রাক, বালুর ট্রাক দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। আবার নিম্ন আদালতের বিচারক বলছেন, আসে না কেন, ওয়ারেন্ট দিচ্ছি। এটা কোন ধরনের বিচার? আজ বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় খাবার যেতে দেয়া হচ্ছে না। আমি মনে করি- সরকার গণতন্ত্রের নামে গোটা জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এই গণতন্ত্র আমরা চাই না।
তিনি আরো বলেন, আজ সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তারা ধরে নিয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অধিকারে মানুষ নিয়ে যায়? কোন অধিকারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাতের বেলা সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করে?

‘ইন্ডিয়ারে হারাই দিমু!’ by মোছাব্বের হোসেন

বাংলাদেশ নিয়ে দর্শকদের আবেগটা এমনই। ছবি: সাজিদ হোসেন
বাংলাদেশ নিয়ে দর্শকদের আবেগটা এমনই। ছবি: সাহাদাত পারভেজ
ক্রিকেটপাগল আবদুস সালাম। দেশের বাড়ি বগুড়ার গাবতলীতে। রাজধানীতে ১৮-১৯ বছর ধরে রিকশা চালান। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা হলেই রিকশা বন্ধ তাঁর। আগারগাঁওয়ে রিকশার গ্যারেজে বসে খেলা দেখেন। সালামের সঙ্গে কথা হলো গ্রিন রোডে। বললেন, ‘খেলার দিন রিকশা পুরাই বন্ধ। গ্যারেজে বইসা খেলা দেহি। একটাও মিছ দেই নাই। বাংলাদেশ খেলব আর তা দেখমু না, তা-ই কি হয়!’ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয় নিয়েও আশাবাদী সালাম, ‘ইন্ডিয়ার লগে আমাদের খেলা ভালো হয়। বাংলাদেশ জিতবই, এইটাই আমার বিশ্বাস। ইন্ডিয়ারে হারাই দিমু!’ সালামের মতো সারা দেশের মানুষ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বুঁদ। ক্রিকেট-জ্বরে কাঁপছে সারা দেশ! সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, চায়ের দোকানদার, সবজিবিক্রেতা, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ছেলে-বুড়ো সবার আলোচনা এখন শুধু ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে। ক্রিকেট-ঝড় বইছে ফেসবুকেও। ফেসবুকে অনেকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন ১৯ তারিখ যেন সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। অনেকে ইভেন্টও খুলেছেন। আবার দেশের পতাকা না তোলা নিয়েও অনেকে সমালোচনা করছেন। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন। দেশের পক্ষে অনেকে নানা ধরনের ব্যানার তৈরি করে কাভার ও প্রোফাইল ছবি দিচ্ছেন। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। কারওয়ান বাজারের সবজি বাজারের একপাশে বিসমিল্লাহ কনফেকশনারির পাশ দিয়ে যেতেই শোনা গেল ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি দুই তরুণের সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে বেশ কথার পিঠে কথা জুড়ে দিচ্ছেন। কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দিতেই বললেন, ‘আমার নাম আবুল কালাম। কাপড়ের দোকানি।’ পাশেই তাঁর দোকান। বাংলাদেশের খেলা শুরু হলে নিজের দোকান বন্ধ করে এখানেই খেলা দেখতে আসেন। দোকানটিতে ছয় ইঞ্চি সাদা-কালো ছোট্ট একটি টেলিভিশন। কালাম বললেন, ‘খালি আমি না, বাংলাদেশের খেলার সময় মার্কেটের সক্কলে মিইল্যা খেলা দেহি। খেলার সমু ব্যবসা করমু তা-ই কি হয়!’ কালামের কথার ফাঁকে কনফেকশনারির বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দেইখেন বিশ্বকাপ আমাগোর ঘরেই আইব।’
খেলার সময় হলেই সাইফুলদের দোকানের চারপাশে ভিড় জমে যায়। নিজেই বলেন, ‘ছোট্ট টিভি তো, ভালা কইরা দেখা যায় না, খেলা টিভিতে দেখলেও স্কোর শুনি রেডিওতে। অন্যরাও তা-ই করে।’ ক্রিকেট খেলা কে কোথায় দেখবে, এ নিয়ে চিন্তা শুরু হয়েছে অনেকের। অনেক চাকরি করেন। সেটা বাদ দিয়ে কীভাবে খেলা দেখবেন, সেই চিন্তা এখন অনেকের মনে। রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী মোমিনুল। তরুণ মোমিনুলের ক্রিকেটে ব্যাপক আগ্রহ। সঙ্গে থাকা মোবাইল সেটে রেডিও চালু করে খেলার খবর শোনেন। বাংলাদেশের খেলা একটাও বাদ যায় না। মোমিনুল বলেন, ‘চাকরি তো করতে হইব। দাঁড়ায় দাঁড়ায় রেডিও শুনি। যখন মাহমুদউল্লাহ ছয় মারে, তখন মন চায় টেলিভিশনে গিয়া দেহি।’
বাংলাদেশের খেলার দিনও তিনি এভাবে রেডিতেই শুনবেন খেলা। বাংলাদেশের বিজয় নিয়ে তিনিও বেশ আশাবাদী। মোমিনুল বলেন, ‘বাংলাদেশকে জিততে হইলে ৩০০-এর ওপরে রান করতে হইব। আর শুরুতেই ওগো উইকেট ফেলায় দিতে হইব। তাইলেই আমাগো কেউ ঠেকাইতে পরব না।’ বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার দিন টেলিভিশনের দোকানগুলোকেও সামলাতে হয় বাড়তি চাপ। কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে সেমিটেক গ্লোবাল ইলেকট্রনিকসে গিয়ে কথা বলতেই দোকানের কর্মী আলী আহমেদ বললেন, ‘বাংলাদেশের খেলার দিনে প্রচুর ভিড় হয় দোকানের সামনে। সরতেও বলতে পারি না। বাংলাদেশের খেলা তো আর রোজ হয় না। এই চাপ আমাদের কাছে ভালোই লাগে। আবার বাংলাদেশ জিতলে আরও ভালো লাগে। পরশুও বাংলাদেশ জিতুক এইটাই চাই আমরা।’ রাজধানীর একটি গার্মেন্টস কর্মকর্তা হাসান মাহমুদের মন খারাপ। কারণ খেলার দিনে অফিস করতে হবে। তার পরও খেলার দিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে মোবাইলে খেলার আপডেট দেখবেন, ‘মনকে তো কাজে বসাতেই পারব না, মন পড়ে থাকবে খেলার দিকে।’ মণিপুরী পাড়ায় রাস্তায় দুই বন্ধুর মধ্যে তর্ক হচ্ছে, ‘ফুটবলের সময় দেখি নানা দেশের পতাকা উড়ে। আর ক্রিকেটের সময় বাংলাদেশের পতাকা কই?’ অপর বন্ধুর চটপট জবাব, ‘ফুটবলে আমরা নানা দেশের সাপোর্ট করি বলে নানা দেশের পতাকা থাকে। কিন্তু ক্রিকেটে আমরা সবাই বাংলাদেশের সাপোর্টার। ওটা আলাদা করে জানান দেওয়ার দরকার কী! বিয়েবাড়িতে জামাইকে কি কেউ জিজ্ঞেস করে, আপনি বরপক্ষ না কনেপক্ষ!’ ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে নানান জিনিস বিক্রি করেন মো. আকাশ। বাংলাদেশের খেলা নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি আছে তাঁর, ‘এমন জায়গায় বসমু, যার আশপাশে টিভি আছে। আমার মোবাইলে রেডিও আছে। হেইটাও চালু রাখমু। আর সামনে জিতলে তো কথাই নাই, বন্ধুগো বইলা দিছি, জিতলেই বিরিয়ানি খাওয়ামু।’

‘পরমাণু ক্ষেত্রে ভারতকে প্রতিহত করতে চায় পাকিস্তান’

পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র শাহিন
ভারতকে প্রতিহত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে পাকিস্তান নিজের পরমাণু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন ইসলামাবাদের কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত স্টাডিজ বিভাগের সাদিয়া তাসলিম। তিনি আরো বলেন, ভারতে আঘাত হানার ক্ষমতা জোরদার হলেই নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে পাকিস্তান। গত ৯ মার্চ আরব সাগরে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম শাহিন ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, শাহিন ৩-এর ঘোষিত পাল্লা ১,৭০০ মাইল বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ভারতের দূরবর্তী এলাকায়ও আঘাত হানতে পারবে এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
তিনি আরো বলেন, ভারতের ব্যাপক ভিত্তিক পরমাণু কর্মসূচির মুখে নূন্যতম পরমাণু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়তে চায় পাকিস্তান। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতেই পাকিস্তান নিজ পরমাণু প্রতিরক্ষা চাহিদার হিসাব করছে বলে জানান তিনি।
ভারতকে ঘিরে পাকিস্তানের পরমাণু নীতি তৈরি হলেও ভারতের পরমাণু নীতি পাকিস্তানকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে কিনা জানতে চাওয়া হলে সাদিয়া তাসলিম বলেন, এ অঞ্চলে ভারতের বৃহৎ লক্ষ্য রয়েছে; তাই পরমাণু নীতিও বহুমুখী হয়ে উঠেছে।
ভারত যখন নিজের পরমাণু বোমার মজুদ বাড়িয়ে চলেছে তখন পাকিস্তানও একই কাজ করবে কিনা জানতে চাওয়া হলে সাদিয়া বলেন, চূড়ান্তভাবে পাকিস্তান কি করবে তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। এর সঙ্গে ইচ্ছা-অনিচ্ছা, অবকাঠামো, জাতীয় অগ্রাধিকার এবং সম্পদের বিষয় জড়িত বলে জানান তিনি। তবে বর্তমান প্রবণতা দেখে মনে হয়, পরমাণু ক্ষেত্রে ভারতের উন্নয়নে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন পাকিস্তান এবং এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উন্নতি করতে না পারলেও এ ক্ষেত্রে অন্তত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ইসলামাবাদ।
সূত্র : রেডিও তেহরান।

উত্তরার সেই বাড়ির লোকজনের মুখে কুলুপ

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে যে বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল সেই বাড়ির লোকজন মুখে এখন কুলুপ এঁটে রেখেছেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩/বি নম্বর রোডের ৪৯/বি নম্বর সেই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায় পিনপতন নীরবতা। বাড়ির সামনের গেট বন্ধ দেখা গেছে। গেটের ভেতরে বাড়ির নিচতলায় গাড়ি পার্কিংয়ে চেয়ার নিয়ে বসে আছেন তিন নিরাপত্তাকর্মী। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেয়ায় একজন গেটের সামনে আসেন। পকেট গেট খোলার অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, গেট খোলা যাবে না। সালাহউদ্দিনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাকে চিনি না। আর ওই দিন যিনি ডিউটিতে ছিলেন তিনিও এখন নেই। কোথায় গেছেন, জানতে চাইলে বলেন তার অন্য শিফটে ডিউটি। হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওই নিরাপত্তাকর্মী বলেন, আপনি চলে যান। আমরা সালাহউদ্দিন নামে কাউকে চিনি না। এ সময় হাফহাতা শার্ট পরা কালো লম্বা এক নিরাপত্তাকর্মী ছুটে এসে বলেন, ভাই আমরা গরিব মানুষ। আমাদের নাম পরিচয়ও জানতে চাইয়েন না। আর আমাদের নিয়ে টানা-হেঁচড়া কইরেন না। ওই দিন পুলিশ একজনকে ধরে নিয়ে রাতভর আটকে রেখে ছেড়ে দিয়েছে। ভাই আমরা খুব ভয়ে আছি। তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমি ছিলাম না। তবে অন্য একজনের কাছে শুনেছি তিনটি গাড়ি বাড়ির গেটের বাইরে এসে দাঁড়ায়। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয় দিয়ে পকেট গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি জানাতে পারেননি।
এ সময় এক ব্যক্তিকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। তিনি ওই বাড়ির বাসিন্দা। তার কাছে ওই রাতে কি হয়েছিল জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।
এ দিকে গত ছয় দিনেও সালাহউদ্দিন আহমদের হদিস মেলেনি। আদালতের নির্দেশের পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সালাহউদ্দিনের কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।
গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরার ওই বাড়ির দ্বিতীয়তলার পশ্চিম পাসের ফ্যাট থেকে তুলে নেয়া হয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। ওই ফ্যাটে থাকতেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিএমডি হাবিব হাসনাত ও তার স্ত্রী সুমনা। জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সালাহউদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়। এ সময় বাসার দুই গৃহকর্মী ও সালাহউদ্দিন আহমদের চালককেও পুলিশ নিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চালক ও পুরুষ গৃহকর্মীকে ছেড়ে দেয়া হলেও একজন নারী গৃহকর্মীর কোনো হদিস নেই। ঘটনার পরের দিন রাতেই সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমদ রাজধানীর উত্তরা, গুলশান ও বনানী থানায় যান সাধারণ ডায়েরি করার জন্য। কিন্তু কোনো থানাতেই তার ডায়েরি গ্রহণ করেনি পুলিশ। এরপর ১২ মার্চ সালাহউদ্দিনের স্ত্রী একটি রিট আবেদন করেন হাইকোর্টে। ওই আবেদনের পরিপ্রেেিত গত রোববারের মধ্যে সালাহউদ্দিনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন আদালত। আইনশৃঙ্খলা রাকারী সংস্থার সদস্যদের এই নির্দেশ প্রদান করা হয়। গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উইংগুলো পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করেছে আদালতে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সালাহউদ্দিনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এ দিকে গতকাল সালাহউদ্দিন আহমদকে কেন আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হবে না, সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সরকারকে যে রুল দিয়েছিল তার শুনানি আবারো ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ যখন সেখানে যায়, তখন ফ্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আখতার জানান, চার দিন আগে হাসনাত-সুমনা দম্পতি বাইরে যান। এ সময় ‘রায়হান’ নামে একজন মেহমানকে রেখে যান। হাসনাত দারোয়ানদের বলে যান, তাদের অনুপস্থিতিতে এই মেহমান বাসায় থাকবেন। ওই বাড়িতে রাত ১১টা পর্যন্ত ভাড়াটেরা গাড়ি নিয়ে আসা-যাওয়া করতেন। ১০ মার্চ আনুমানিক ৯টার দিকে চার-পাঁচজন হাসনাতের বাসায় যান। আনুমানিক আধা ঘণ্টা পর মেহমান ওই চার-পাঁচজনের সাথে গাড়িতে উঠে চলে যান। ওই লোকটি সালাহউদ্দিন কি না, তা তারা জানেন না। বাসায় যাওয়া লোকদের গায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ছিল না। তাদের কাছে কোনো অস্ত্রও দেখা যায়নি। বাইরে যে গাড়িটি অপো করছিল, তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ির মতো মনে হয়নি। মেহমানের হাতে কোনো হাতকড়া ছিল না, তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও মনে হয়নি।
তবে গত বৃহস্পতিবার আখতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বেশ কয়েকটি গাড়ি নিয়ে একদল লোক ওই বাসার সামনে আসেন। বাসার সামনে তিনটি গাড়ি ছিল। কিছুণ পর রাত ১০টা নাগাদ তারা এসে বলেন, আমরা ডিবির লোক। কোনো সমস্যা নেই। পকেট গেট খোলা ছিল। তারা কয়েকজন সেই গেট দিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকে পড়লে আখতারুল জিজ্ঞেস করেন, ‘কী কারণে আসছেন? তারা বলেন, পরে জানতে পারবি।’
ওই সময় আখতারুল আরো বলেন, এ সময় দু’জন তাকে ‘চটকনা’ দেন। তাদের কাছে পিস্তল দেখে ভয় পান আখতারুল। তারা নিজেদের ডিবির লোক বলে পরিচয় দেন ও আখতারুলকে ‘চুপ করে বইসা থাক’ বলে কয়েকজন দোতলায় চলে যান। লোকগুলো এরপর ২০-২৫ মিনিট ছিলেন। নামার সময় চোখ বাঁধা অবস্থায় দু’জন দুই পাশে ধরে তাকে (সালাহউদ্দিন) নিয়ে নেমে যান। পরে একটি মাইক্রোবাসে তুলে সালাহউদ্দিনকে নিয়ে চলে যান অস্ত্রধারীরা।

সুপ্রিম কোর্টে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের বিপুল জয়

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিপুল জয়লাভ করেছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। কার্যনির্বাহি কমিটির ১৪ টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ নয়টি পদে জয় লাভ করেছেন এ প্যানেলের প্রার্থীরা। অন্যদিকে একজন সহ-সভাপতি ও একজন সহ-সম্পাদকসহ পাঁচটি পদে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন এক হাজার ৮০৬ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন পেয়েছেন এক হাজার ৬২৭ ভোট। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন এক হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়ে নীল প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কমিটির সদস্য মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদি  পেয়েছেন এক হাজার ৫২৯ ভোট।
এছাড়া, নির্বাচনে দু’টি সহ-সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের এএসএম মোক্তার কবির খান এবং সরকার সমর্থক প্যানেলের আবুল খায়ের নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের শওকত আরা বেগম দুলালী। দু’টি সহ-সম্পাদক পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জল এবং সরকার সমর্থিত প্যানেলের দেলওয়ার মোস্তফা চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।
সদস্য পদে বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থকদের প্যানেলের নির্বাচিতরা হলেন- শামীমা সুলতানা দিপ্তী, আনোয়ারুল ইসলাম শাহিন, মির্জা আল মাহমুদ ও মো. জসিম সরকার। সরকার সমর্থিত প্যানেলের সদস্যরা হলেন- মহিউদ্দিন শামীম,  একেএম দাউদুর রহমান মিনা, অমিত দাশগুপ্ত। রোব ও সোমবার ভোট গ্রহণ শেষে গতরাতে নির্বাচনের এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

‘ভয়–ডরহীন’ বাংলাদেশ

ছন্দ ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ, বললেন সাকিব। ছবি: শামসুল হক
অনেকে বলেন, ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসল মজা-রোমাঞ্চ নাকি নকআউট পর্বে। এ পর্বটাও আবার এই শুরু এই শেষ! সংক্ষিপ্ত রোমাঞ্চকর সেই নকআউট পর্বের শুরু আগামীকাল। তবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখা বাংলাদেশের খেলা পরশু। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের হারানোর কিছু নেই; বরং ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলার কথাই বললেন সাকিব আল হাসান।
বাংলাদেশের সামনে আট বছর আগের স্মৃতি। ২০০৭ বিশ্বকাপে এ দিনে পোর্ট অব স্পেনে ভারতের বিপক্ষে এসেছিল সেই দারুণ জয়। সেই ম্যাচে ৫৩ রান করা সাকিব আজ সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘আমার মনে হয় সেদিন (আট বছর আগে) আমরা ভয়হীন ক্রিকেট খেলেছিলাম। সেদিন যেমনটা খেলেছিলাম, তেমনটাই খেলতে চাই। এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মনে হয় সেটি করতে পেরেছি। ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন খেলেছি, তেমনটা খেললে আশা করি ম্যাচটা দারুণই হবে। এটি আসলে ওই দিনের ওপর নির্ভর করছে। এ জন্য আমাদের শুরুটা ভালো করা প্রয়োজন। আমরা যদি ছন্দ ধরে রাখতে পারি, তাহলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’
এ বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে রয়েছে ভারত। ছয়ে-ছয় নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা। দলে রয়েছে ভীতিজাগানিয়া কয়েকটি নাম—মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান। সাকিবও মানছেন তা। তবে নিজেদের সেরা দিনে কোনো বড় নামে কাজ হয় না, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন বাংলাদেশ-সেরা অলরাউন্ডার, ‘ভারত খুবই ভালো দল। তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তাদের দলে বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। তবে আমরাও কিন্তু এ বিশ্বকাপে ভালো খেলছি। আমাদের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। এ ম্যাচের জন্য আমরা প্রস্তুত। অবশ্যই কাগজে-কলমে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত এগিয়ে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এটি এক ম্যাচের খেলা। যদি দিনটা আমাদের হয় আর তাদের খারাপ হয়, তবে কেউ জানে না কী হবে।’
বাংলাদেশের দলীয় লক্ষ্য ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। সেটি পূরণ হয়েছে। কাজেই ভারতের বিপক্ষে হারানোর কিছু নেই বললেন সাকিব, ‘দর্শকেরা দলের কাছে সব সময় অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। তাদের প্রত্যাশামতো আমরা বেশ ভালো খেলেছি। আমাদের এখন প্রয়োজন খেলায় মনোযোগ দেওয়া এবং খেলায় কীভাবে ভালো করতে হয় , সেটিই মূল বিষয়। যদি সেটা ঠিকঠাক করতে পারি, আশা করি ফলই সব বলে দেবে। জয়-পরাজয় ব্যাপার নয়। যদি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, সেটিই হবে মূল বিষয়।’

হরতাল নেই, আছে অস্বস্তি

ঢাকায় হরতালের চিরাচরিত দৃশ্য গত দুই মাসে কখনোই ছিল না। এখন হরতালে যানজট যেন স্বাভাবিক ঘটনা। ঢাকার বাইরেও হরতাল হচ্ছে না। তার পরও হরতালের ঘোষণা আছে। তাই একটু অস্বস্তি আছে সর্বত্রই। বেশি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি শিক্ষাঙ্গনে।
বিএনপি-জামায়াতসহ ২০-দলীয় জোট গত ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ এবং ১৫ জানুয়ারি থেকে দফায় দফায় হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছে। কখনো সরকারের পদত্যাগ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান, আবার কখনো জোটের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার-নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্র-শনিবার ছাড়া প্রতিদিনই হরতাল ঘোষণা করা হচ্ছে।
চলতি দফায় গত রোববার সকাল ছয়টা থেকে ৭২ ঘণ্টার (কাল বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত) যে হরতাল ঘোষণা করা হয়, তা পঞ্চদশ দফা। এই দফারও ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের হরতাল কর্মসূচিতে দেশের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষেরই সাড়া মেলেনি।
সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, ব্যক্তিগত—সব ধরনের অফিস নিয়মিত চলছে। সব অফিসে উপস্থিতি ও কাজকর্ম স্বাভাবিক আছে। উচ্চতম থেকে নিম্নতম পর্যায় পর্যন্ত সকল আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, কাজকর্ম, বিভিন্ন বিষয়ে বিদেশি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সভা-বৈঠক সবই নিয়মিত ও স্বাভাবিকভাবে চলছে।
তবে সচিবালয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এটিকে বরং সচিবালয়ের কর্মপরিবেশের জন্য ভালো মনে করছেন। দর্শনার্থী কম থাকায় কাজে সময় বেশি দেওয়া যাচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি।
রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক। ঢাকায় যাঁরা নিত্যযাত্রী, অপরিহার্য প্রয়োজনে যাঁদের প্রতিদিন ঘরের বাইরে বের হতে হয়, বাস-ট্যাক্সি, রিকশা-টেম্পোতে চেপে যাতায়াত করতে হয়, তাঁরা রাস্তায় তীব্র যানজটে পড়ছেন। হঠাৎ করে গরম পড়ায় জটের মধ্যে যানবাহনে অস্থির অনেককে বলতে শোনা যায়, ‘ছাতুর হরতাল। মোটামুটি একটু হরতাল হলেও তো এত যানজট হতো না। একটু আরামে কাজকর্ম সেরে বাসায় ফেরা যেত।’ যানবাহনের যেমন অভাব নেই, তেমনি যাত্রীসংখ্যায়ও কমতি নেই।
ঢাকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার নৌ ও রেল যোগাযোগ সব সময়ই প্রায় স্বাভাবিক ছিল। এখন সড়ক যোগাযোগও স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দিনের বেলায় দূরপাল্লার বাস-ট্রাক চলাচল এখন প্রায় স্বাভাবিক। তবে রাতের যাত্রা নিয়ে এখনো কিছুটা শঙ্কা রয়েছে সবার মধ্যেই। যানবাহনের মালিকদের মতো যাত্রীরাও রাতে চলাচল এখনো সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করতে পারছেন না। তাই এখনো রাতে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল কম। যাত্রীও সীমিত। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ এখনো রাতে ভ্রমণ করতে ভরসা পাচ্ছেন না। তবে ক্রমান্বয়ে রাতে যানবাহনের চলাচল ও যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে।
ব্যবসায়ী-দোকানদারেরা কিছুদিন আগেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের এক দরজা খুলে আরেক দরজা বন্ধ রাখতেন। এখন তাঁরা সব দরজা খুলে বসছেন পসরা সাজিয়ে। পাইকারি ও খুচরা সব ক্ষেত্রে বেচাকেনাও জমে উঠছে। ঢাকার মৌলভীবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেছেন, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকেও আজকাল অনেক ক্রেতা আসছেন। ক্রমেই তাঁদের সংখ্যা বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কখনোই কমেনি। চাল-ডাল, তেল-লবণ, শাকসবজি, মাছ-মাংস প্রভৃতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহও কমেনি হরতাল-অবরোধের কারণে। তবে জামা-কাপড়, জুতা-ছাতা, মনোহারি ও প্রসাধন সামগ্রীসহ শৌখিন দ্রব্যাদির বেচাকেনায় বেশ খানিকটা খরা চলছিল। এখন আর তা নেই।
উত্তরার রাজলক্ষ্মী বিপণিবিতানের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা এখন বুঝে গেছি কখন কী ঘোষণা আসবে, কতক্ষণ ঘোষক বিশ্রাম নেবেন। আর আমাদের কী করতে হবে। আমরা ঘোষণা শুনব। কাজকর্মও করব। কাজ ছাড়া তো আমাদের চলবে না। তবে একটু সাবধানে থাকতে হবে। কারণ, মানুষের জীবনের দাম তো কমেই চলেছে।’
রাজধানীর যেসব স্কুলে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা যায়, সেই স্কুলগুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব স্কুলের ক্লাস ও পরীক্ষা দুই মাস ধরে শুক্র ও শনিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। যেসব স্কুলে আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা যায়, সেগুলোতে আবার ক্লাস-পরীক্ষা নিয়মিতই হচ্ছে। এ অবস্থায় অভিভাবকেরা গৃহশিক্ষক ও কোচিং ক্লাসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছেন।
রাজধানীর কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সবগুলোই খোলা। তবে কোনো কোনোটিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এখনো কিছুটা কম। কারণ, অনেক অভিভাবক শঙ্কায় সন্তানদের পাঠাচ্ছেন না। অবশ্য এ সংখ্যাও ক্রমে বাড়ছে। তার পরও চলমান হরতাল-অবরোধে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থীরা।

ধোনির কোনো ‘বুজরুকি’ নেই!

এভাবেই প্রতি ম্যাচে ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষকে
গুঁড়িয়ে দিয়েছে ধোনির ভারত। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কী হাবুডুবুটাই না খেল ভারত! সেই দলটি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। টুর্নামেন্টের আগে যে দলকে অনেকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন, সে দলটাই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। শুধু এবারই নয়, আইসিসির টুর্নামেন্ট হলেই যেন ধোনির কী এক আশ্চর্য জাদুমন্ত্রের ছোঁয়ায় বদলে যায় ভারত।
রীতিমতো চমকে দিয়েই ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত, অথচ সে বছরই আসল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে প্রথম পর্বে বিদায় নেওয়ার পর বিরাট ধাক্কা। ওলট-পলট ভারতীয় ক্রিকেটে। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে দায়িত্ব পাওয়ার পর ধোনির প্রথম ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ ছিল ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আর প্রথম সুযোগেই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’!
এরপর তাঁরই নেতৃত্বে ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপ জয়, ২০১৩ ইংল্যান্ডের প্রতিকূল কন্ডিশনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়। ধোনিই একমাত্র অধিনায়ক, যার অধীনে দল জিতেছে আইসিসির তিনটি টুর্নামেন্টই। গত বছর ভুলে যাওয়ার মতো নিউজিল্যান্ড সফর ও এশিয়া কাপে বাজে ফর্মের পরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত উঠেছিল ফাইনালে। এবারও বিশ্বকাপের আগে হাবুডুবু খাচ্ছিল ব্যর্থতার চোরাবালিতে। অথচ সেই ভারত এখন শিরোপা থেকে ‘তিন ম্যাচ’ দূরে! বড় মঞ্চে ভারতকে এমন বদলে দিতে ধোনির ভেতর কাজ করে কী এক ‘জাদুমন্ত্র’!
সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক ও কোচ মুশতাক মোহাম্মদ মনে করেন ‘বুজরুকি’ নয়, ধোনির সাফল্যের রহস্যের পেছনে রয়েছেন কয়েকজন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান। মুশতাক বললেন, ‘ধোনির অর্জনকে আমি খাটো করে দেখতে চাই না। তাকে ভালোভাবেই মূল্যায়ন করি। মূল কথা হচ্ছে, এখন ধোনির হাতে রয়েছে কিছু সেরা ব্যাটসম্যান, এটাই তার বড় সুবিধা।’
ক্রিকেটে একজন অধিনায়ক তখনই সফল যখন তাঁর দল সাফল্যে পায়। মুশতাক তাই প্রচলিত কথাটিই মনে করিয়ে দিলেন, ‘একটি বিজয়ী দলের অধিনায়কত্ব করা সব সময়ই সহজ কাজ। বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ায় বাজে একটা সিরিজের পরও বিশ্বকাপে এসে দলে যেভাবে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে সে কারণে ধোনিকে সাধুবাদ জানতে হবে। শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের কারণে ফিল্ডিংয়ের সময় ধোনি অনায়সে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারে। সে জানে প্রতিপক্ষ যত রানই করুক তার দল সেটা তাড়া করতে পারবে। তাদের বর্তমান একাদশের বাইরে যেসব ব্যাটসম্যানরা আছে, তারাও তো দুর্দান্ত!’ তথ্যসূত্র: পিটিআই।

সালাহ উদ্দিনের অন্তর্ধান- রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত

এক সপ্তাহ পরও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের নিখোঁজ রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়া গভীর উদ্বেগজনক। আমরা আশা করব, তাঁর হদিস দিতে আগামী ৮ এপ্রিলে হাইকোর্ট বিভাগের শুনানি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। তাঁকে খুঁজে পেতে সরকার যে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণে নিয়োজিত রয়েছে, জনমনে তেমন ধারণা তৈরি করা সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ—উভয়ের জন্য জরুরি। কিন্তু সে ক্ষেত্রে দুঃখজনকভাবে বিরাট ঘাটতি চলছে বলে মনে হয়। যদিও হাইকোর্ট বিভাগের তরফে দ্রুত রুল জারির ঘটনা হেবিয়াস কর্পাসের মামলা হিসেবে জনমনে কিছুটা আস্থা সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অতীতের অন্যান্য নিখোঁজের ঘটনার চেয়ে সালাহ উদ্দিনের অন্তর্ধান বাড়তি গুরুত্ববহ। কারণ, তিনি একটি চরম রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়ে দেশের প্রধান বিরোধী দলের সক্রিয় এবং বলা যায় একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। সুতরাং তাঁর গতিবিধির ওপর গোয়েন্দাসহ একাধিক সংস্থার সার্বক্ষণিক নিবিড় নজরদারি অন্তত গত জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে থাকাটাই স্বাভাবিক বলে ধরে নিতে হবে। এ রকম একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কোনো খোঁজ না থাকার বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর নির্বিকার বা অজ্ঞতার মনোভাব সাধারণভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়। আট বস্তা ময়লার সঙ্গে তাঁকে পাচার করার জবাব খালেদা জিয়াই দিতে পারবেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তির্যক মন্তব্য করেছেন, তা খুবই পীড়াদায়ক। সালাহ উদ্দিনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি রাজনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। পুলিশের সদর দপ্তর ও চারটি শাখার দাবি, তিনি পুলিশের কাছে নেই। সালাহ উদ্দিনের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে ডিবি পরিচয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে কারা তাঁকে নিয়ে গেছে, তাদের চিহ্নিত করা বা তাঁকে খুঁজে বের করে এই অভিযোগকে ভুল প্রমাণিত করা। আমরা তাঁকে দ্রুত খুঁজে বের করা এবং এর আগে এ নিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদানে সংশ্লিষ্ট সব মহলের কাছে দায়িত্বশীলতা আশা করি।

অপেক্ষায় সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবার by কাজী সুমন

বাবাকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় সালাহউদ্দিন আহমেদের সন্তানেরা। চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের। অজানা আতঙ্কে বন্ধ রয়েছে ছোট দুই সন্তানের স্কুলে যাওয়া। বাবাকে ফিরে পেতে নফল রোজা রাখছেন পরিবারের সদস্যরা। সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ স্বামীর খোঁজে দিনভর ছোটাছুটি করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তর ও আদালতের বারান্দায়। ধরনা দিচ্ছেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের কাছেও। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকেই আশার কোন বাণী পাননি তিনি। সালাহউদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৬ দিন ধরে চুলায় আগুন জ্বলেনি তার বাসায়। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাসিনা আহমেদ বলেন, ১০ই মার্চ রাত ১০টার দিকে সালাহউদ্দিন আমাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু কথা বলতে পারেননি। আমার ধারণা ওই সময়ে তাকে আটক করা হয়। তিনি হয়তো এ সংবাদটাই আমাকে জানাতে চেয়েছিলেন। এর আগে আমাদের বাসায় কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসেছিল। কিন্তু তাকে না পেয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের পিএ এবং দুই গাড়িচালককে আটক করে নিয়ে যায়। তারা রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে আছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ গুম হওয়ার আশঙ্কা কখনও করেননি মন্তব্য করে হাসিনা আহমেদ বলেন, আগে থেকেই তিনি গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু নিখোঁজ বা গুম হতে পারেন- এমন আশঙ্কার কথা আমাকে কখনও বলেননি। হাসিনা আহমেদ বলেন, ওইদিন ঘটনার সময় তিনি যে বাসায় ছিলেন, তার মালিক এ ঘটনায় প্রচ  রকমের ভয় পেয়ে পরদিন সকালেই দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যান। তিনি আমাকে ফোনে ঘটনার বিবরণ জানান। একইসঙ্গে ওই বাসার দারোয়ানও আমাকে জানান, ঘটনার রাতে ডিবি পরিচয়ে ১৫-২০ জনের একটি টিম সালাহউদ্দিন আহমেদকে বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায়। এসময়ে তার চোখ ও হাত বাঁধা ছিল বলেও তারা আমাকে জানিয়েছে। তিনি বলেন, আসলে আমি রাজনীতি নিয়ে কখনও মাথা ঘামাইনি। আমার স্বামীই রাজনীতি নিয়ে থাকতো। এখন তার নিখোঁজের পর আমরা তো আর বসে থাকতে পারি না। চেষ্টা করছি। দলের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আমাকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন। এছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও যোগাযোগ রাখছেন। সাহস যোগাচ্ছেন। পিতার নিখোঁজের হওয়ার সন্তানরা ভেঙে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বড় ছেলে ইব্রাহিম (২৩) কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন। দ্বিতীয় সন্তান ইকরা (১৯) মালয়েশিয়ায় একটি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছেন। বড় দুই সন্তান ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন করে বাবার খোঁজ জানতে চাইছেন। মার কাছে ফোন করে তারা কান্নাকাটি করেন। বাবাকে ফিরে পেতে নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন। ইন্টারনেটে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে খোঁজ রাখছেন- কোথাও বাবার সন্ধানের কোন সংবাদ আছে কিনা। এদিকে তৃতীয় সন্তান রাইদা (১৭) রাজধানীর একটি স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। সবচেয়ে ছোট সন্তান ইউসুফ (১৪) নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। পিতা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। বাবাকে ফিরে পাওয়ার আশায় নফল রোজা রাখছে তারা। সালাহউদ্দিনের এক নিকটাত্মীয় জানান, ১১ই মার্চ নিখোঁজের ঘটনা জানার পর থেকে তাদের বাসায় রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজনরা শুকনো খাবার যা নিয়ে আসছেন সেটাই তারা খাচ্ছেন। তবে ছোট দুই সন্তান রাইদা ও ইউসুফ বাবার জন্য প্রতিমুহূর্তেই কান্নাকাটি করছেন। ছেলে-মেয়ে দুটির চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। তাদের জোর করেও কোচিংয়ে পাঠানো যাচ্ছে না। আত্মীয়-স্বজন যারাই বাসায় আসেন তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেন। বাসার পরিবেশ দেখে মনে হয়, এটা কোন মৃত বাড়ি। এদিকে স্বামীর সন্ধানের জন্য গত কয়েকদিন ধরে আদালত প্রাঙ্গণ ও আইনজীবীদের দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছেন হাসিনা আহমেদ। সালাহউদ্দিনকে আদালতে হাজির করতে হাইকোর্টে দায়ের করা শুনানি দুদফা রোববার ও সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৮ই এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতিব ঘোষণা করেছে আদালত। সোমবার রাত পর্যন্ত সালাহউদ্দিনের কোন সন্ধান জানতে পারেননি তারা। উল্লেখ্য, গত ৩০শে জানুয়ারি রাতে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের দপ্তরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ৩৯ দিন দায়িত্ব পালন করার পর রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় ১৫-২০ জন লোক। ২০১৩ সালের শেষদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন একইভাবে রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তারের পর দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। সেবারও তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছিল পুলিশ। কিন্তু এবার নিখোঁজের ৬ দিন পরও তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তাকেও  বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর ভাগ্য বরণ করতে হয় কিনা- এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে।
সালাহউদ্দিনকে খোঁজা নিয়ে রুলের শুনানি ৮ই এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করা নিয়ে জারি করা রুলের শুনানি আগামী ৮ই এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন। আজ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকবে। গতকাল ছুটির আগে শেষ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শুনানি করেন। পরে সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে তা মিথ্যা।
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে সালাহউদ্দিন আহমেদকে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীও একই তথ্য জানান। সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে গত বৃহস্পতিবার হাসিনা আহমেদ হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সালাহউদ্দিন আহমেদকে কেন খুঁজে বের করা হবে না এবং কেন হাজির করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ, র?্যাব, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বিশেষ শাখা (এসবি)। পাঁচটি প্রতিবেদনেই বলা হয়, সালাহউদ্দিন আহমেদের খোঁজ জানে না পুলিশ। তারা তাকে গ্রেপ্তার বা আটক করেনি।
সালাহউদ্দিনকে খুঁজে না পাওয়া রাজনীতির অশুভ লক্ষণ: সুরঞ্জিত
এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে না পাওয়া রাজনীতির জন্য অশুভ লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেছেন, সবমহলের প্রচেষ্টায় সালাহউদ্দিনকে খুঁজতে হবে। আশা করি সালাহউদ্দিন সম্পর্কে ভাল খবর পাব। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘চলমান রাজনীতি’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি সংগঠন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে সহিংসতাকে উসকে দিয়েছেন অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, এতদিন পর খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে আসলেন। মানুষ ভেবেছিল সংবাদ সম্মেলনে চলমান সংঘর্ষ-সংঘাতের রাজনীতি পরিহারের কথা বলবেন তিনি। কিন্তু উনি যেন এই সংঘাতের রাজনীতিকে আরও উসকে দিলেন। সুরঞ্জিত বলেন, খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র নেতারা ছিলেন না। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এত বড় নেতা। উনার পরিচয় লিখতে গেলে এক পাতা শেষ হয়ে যায়। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যিনি নেত্রী ডাকলেও আছেন, না ডাকলেও আছেন। তিনিও উপস্থিত ছিলেন না। অন্তরালের রাজনীতি অন্তর্ধানে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি হবে প্রকাশ্যে। জনগণের জন্য জনগণকে নিয়েই হবে রাজনীতি। অন্তরালের রাজনীতি না হওয়াই ভাল।
তিনি বলেন, বেগম জিয়ার অফিস আছে, লোকজন আছে। সেখান থেকে খবর পাঠালে কী হতো? রাজনীতি কোন অজানা পথে যাচ্ছি আমরা জানি না। সুরঞ্জিত বলেন, বাংলাদেশ বাংলাদেশেই থাকবে। বাঙালি বাঙালিই থাকবে। এ দেশকে মধ্যপ্রাচ্য বানানো যাবে না। এ দেশের শ্যামল মানুষকে উগ্র জঙ্গিবাদী বানানো যাবে না। গণতন্ত্রই আমাদের ঐতিহ্য। গণতন্ত্রই আমাদের রাজনীতি। আলোচনা সভায় আয়োজক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিনেও সালাহউদ্দিনকে খুঁজে না পাওয়ায় ড্যাবের উদ্বেগ
দীর্ঘ ৬ দিনেও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড্যাব-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, সালাহউদ্দিনের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় স্পষ্ট যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, থানায় তাদের জিডি পর্যন্ত নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে শরণাপন্ন হন তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা বেগম। কিন্তু সেখানেও আজ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫টি সংস্থা আদালতকে জানান- তারা কোন সন্ধান পাননি। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজনরা আতঙ্কিত। তারা আরও বলেন, ছেলে-মেয়েদের কান্নার রোলে ভারি হয়ে উঠেছে বাতাস। দেশের সাধারণ জনগণের মতো ড্যাবও এই নিখোঁজের ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদের মতো সজ্জন, দেশপ্রেমিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক আমলা, আজ ৬ দিন ধরে নিখোঁজের পরও তাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনভিতপ্রিয় বক্তব্য দেশের সাধারণ মানুষকে ব্যথিত করেছে। আমরা এরূপ বক্তব্যের নিন্দা জানাই। সরকার যেখানে আজ পর্যন্ত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, ঢাকার জনপ্রিয় ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমসহ হাজার হাজার  নেতাকর্মীর সন্ধান দিতে পারেনি। সেই ব্যর্থ সরকারই আজ সালাউদ্দিনকে নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। আমরা চিকিৎসক সমাজ সাধারণ জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং সকল নোংরামি বন্ধ করে অনতিবিলম্বে সালাউদ্দিন আহমেদকে অক্ষত অবস্থায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকার যদি সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে কোনরূপ অপকৌশলের আশ্রয় নেয় তাহলে দেশের জনগণ তাদের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। বাংলার মাটিতে এসকল দুষ্কৃতকারীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে যাবে ভবিষ্যতে এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তির সাহস কেউ দেখাতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রী পুনঃনির্বাচিত হলে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থাকবে না: নেতানিয়াহু

আগামীকাল সকাল থেকে ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি পুনঃনির্বাচিত হলে, কোন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থাকবে না। নেতানিয়াহু সরকারি এক রেডিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, দুই-রাষ্ট্র সমাধান এখন অপ্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে।  পরপর দুই মেয়াদে ইসরাইলের প্রধামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দেশটির সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে তৃতীয়বারের মতো ডানপন্থী ভোটারদের মন জয় করতে নেতানিয়াহু এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী দল লিকুদ পার্টি মধ্য-বামপন্থী দল জিওনিস্ট ইউনিয়নের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে নামবে এবং পাল্লাটা বিরোধীদের দিকেই ভারি। লিকুদ পার্টি জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে রয়েছে। হার হোমা অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার সময় নেতানিয়াহু বলেন, আমরা জেরুজালেমের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকবো। সেক্ষেত্রে জেরুজালেমের বিভাজন সম্ভব হবে না এবং চিরকাল ঐক্যবদ্ধ থাকবে। অন্যদিকে, তিনি মনে করেন প্রতিদ্বন্দ্বী দল জিতলে, সেক্ষেত্রে তারা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপোস করবে। জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণও থাকবে না। জেরুজালেম শহরের পূর্বাঞ্চলে ফিলিস্তিনকে কখনও রাজধানী স্থাপন না করতে দেয়া এবং হাজার হাজার নতুন বসতি স্থাপনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমে তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী স্থাপন করতে চায়। বিরোধী দল জিওনিস্ট ইউনিয়নের নেতা আইজ্যাক হেরজোগ ও সাবেক শান্তি বিষয়ক মধ্যস্থতাকারী তাজিপি লিভনি ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ থেকে জেরুজালেমের অধিকার ছাড়তে প্রস্তুত বলে বারবার অভিযোগ আনেন নেতানিয়াহু।

দোকান খুলল গুগল

লন্ডনে চালু হয়েছে বিশ্বের প্রথম ‘গুগল শপ’৷ অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ক্রোমবুক ল্যাপটপ আর ক্রোমকাস্ট টিভি সার্ভিসসহ একাধিক গুগলের পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে এই দোকান চালু করেছে গুগল৷সোমবার টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে৷
জানা গেছে, লন্ডনের টটেনহ্যাম কোর্ট রোডে অবস্থিত কারিস পিসি ওয়ার্ল্ডকে নিজেদের প্রথম ‘ব্র্যান্ড শপ’-এর স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে গুগল কতৃপক্ষ৷
‘গুগল শপ’ নামের ওই দোকানে অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ট্যাবলেট, ক্রোমবুক ল্যাপটপ আর ক্রোমকাস্ট টিভি সার্ভিস বিক্রি করবে এই ওয়েব জায়েন্ট৷বিভিন্ন পণ্য কেনার পাশাপাশি এই দোকানে পণ্যগুলোর ব্যবহার করার রীতিও দেখে নিতে পারবেন ক্রেতারা৷
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডনে খুব তাড়াতাড়ি আরো দুটি দোকান চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ খুব তাড়াতাড়ি তারা এই দুটি শপ চালু করবে৷পাশাপাশি গুগলের পক্ষ থেকে খুব তাড়াতাড়ি ইউরোপের বাইরেও তাদের এই শপ চালু করা হবে৷ তবে কবে নাগাদ চালু করা হবে এ ব্যাপারে গুগল কিছুই জানায়নি৷
সূত্র : ইন্টারনেট

সিটি নির্বাচন হবে, ভোট দিতে পারব তো? by সোহরাব হাসান

তফসিল ঘোষণার আগেই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন মহলে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ঢাকার বিভিন্ন দেয়ালে, লাইটপোস্টে, ফুটওভারব্রিজে পোস্টার লাগানোর মহড়া চলছে। এমনকি রাস্তার দুই পাশে বড় বড় ব্যানার-সাইনবোর্ড টাঙিয়েও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের চেহারা মোবারক প্রদর্শন করে চলেছেন। সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরাও মাঠে নেমেছেন, নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তাহলে বিলম্বে হলেও বহুপ্রতীক্ষিত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সত্যিই আলোর মুখ দেখছে? সরকারি দলের নেতাদের হাবভাব দেখে তা-ই মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসএসসি পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। জুনের তৃতীয় সপ্তাহে রোজা শুরু হবে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। আমরা প্রস্তুত।’ নির্বাচন কমিশন আভাস দিয়েছে যে এইচএসসি পরীক্ষা ও রোজার মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন হতে পারে। সরকার চাইলে তারা রোজার মধ্যেও নির্বাচন করতে পারে।
যে নির্বাচনের জন্য হঠাৎ এত তোড়জোড়, সেই নির্বাচন এত দিন হলো না কেন? কমিশন বলবে, কারণ মামলা। যুক্তি বটে! আইনের প্রতি আস্থাশীল কমিশন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে কীভাবে? দ্বিতীয়ত, সীমানাসংক্রান্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গেজেট নোটিফিকেশন তাদের হাতে আগে পৌঁছেনি। এখন পৌঁছেছে বলেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রকৃত কারণ হলো, সরকার চাইছে বলেই নির্বাচন কমিশন নড়েচড়ে বসেছে। আবার সরকার না চাইলে তারা নীরব হয়ে যাবে। এ টি এম শামসুল হুদার কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাচন করেছিল। দফায় দফায় বৈঠক করে ‘ক্ষুব্ধ’ বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসতে পেরেছিল। সে রকম সদিচ্ছা ও সাহস বর্তমান কমিশনের আছে বলে মনে হয় না। তাই তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বলা যাবে না, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবেই।
ঢাকা সিটি করপোরেশনে সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে। সেই হিসাবে প্রায় সাত বছর সিটির বাসিন্দারা নির্বাচিত প্রতিনিধি থেকে বঞ্চিত। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে, তার চেয়েও জরুরি প্রশ্ন হলো, এত দিন হলো না কেন? তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়ে সে রকম কোনো জটিলতা হয়নি। ১৯৯৪ সালের পর থেকে সেখানে পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন হয়ে আসছে। তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। একবার মোহাম্মদ মন্জুর আলম। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে দুবার নির্বাচন হয়েছে। প্রথমবার জিতেছেন আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ হানিফ, দ্বিতীয়বার বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকা। হানিফ বিপুল ভোটে হারিয়েছিলেন মির্জা আব্বাসকে। আর ২০০২ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা-ই করেনি। ফলে সাদেক হোসেন ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জয়ী হন। এবার কি তার ‘প্রতিদান’ হবে? আওয়ামী লীগের সমর্থক প্রার্থীদ্বয় কি ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জিতে যাবেন?
আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রার্থী ঠিক করতে পারলেও চট্টগ্রামের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। সেখানে প্রার্থিতার জন্য তিনজন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। স্থানীয় ১৪ দল মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সমর্থন করলেও আওয়ামী লীগের একাংশ ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। শেষমেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে চট্টগ্রামে কে প্রার্থী হচ্ছেন। কিছু দিন আগ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষে বর্তমান মন্জ্‌ুর আলম ও নগর সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেনের পক্ষে পোস্টার–ব্যানার টানানো হলেও এখন চুপচাপ। অর্থাৎ তারাও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
এবারে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কী হবে? নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু করা যেমন কমিশনের দায়িত্ব, তেমনি অংশগ্রহণমূলকও। নির্বাচন অর্থ বাছাই। সেই বাছাইয়ের কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্যই প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশে একটি নির্বাচন কমিশন থাকে। এটি কোনো সরকারের অধীন প্রতিষ্ঠান নয়। স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এ প্রতিষ্ঠান যাকেই বাধা মনে করবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, নিয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সেই হিম্মত আছে কি না, সেটি আরও একবার পরীক্ষা হবে। নির্বাচন বা বাছাই-প্রক্রিয়াটিতেই যদি গলদ থাকে, তাহলে গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই হয়ে পড়ে অকার্যকর; যার ভুক্তভোগী দেশের ১৬ কোটি মানুষ। বিগত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ পাননি। অনেকে বলবেন, বিরোধী দল আসেনি। বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনার জন্য যে আস্থা দরকার, নির্বাচন কমিশন কেন সেটি নিশ্চিত করতে পারল না? এটি যতটা না রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা, তার চেয়ে বেশি নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা। সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ নেয়, তাহলে কমিশনের দায়িত্ব হবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। আর যদি বিএনপি অংশ না নেয়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং সেটি একতরফা ও একপেশে নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হবে। তখন হয়তো ক্ষমতাসীনেরা বলবেন, ‘চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দুটিই আমরা।’ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত ও শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ যতটা গৌরবের, নির্বাচনী যুদ্ধে একই দল থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়া ততটাই লজ্জাজনক।
স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর নির্বাচন রাজনৈতিক ব্যানারে না হলেও প্রার্থীরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। তাঁদের পক্ষে প্রচারণায় গোটা দলের নেতৃত্ব নেমে পড়েন। তাই এটিকে অরাজনৈতিক বলারও সুযোগ নেই। কোনো কোনো স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ এর রাজনৈতিক পরিচয়ে আপত্তি তুলেছেন। আবার কেউ বলছেন, এ নির্বাচনও দলীয় পরিচয়ে হওয়া উচিত। নাচতে নেমে ঘোমটা দেওয়া কেন? রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়েও নাগরিকদের একান্ত চাওয়া হলো একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নগরবাসী যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া। আর সেটি তখনই সম্ভব যখন সব পক্ষ অংশ নেবে। জাতীয় নির্বাচন বর্জনকারী দলও স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে। এমনকি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জন করার দুই মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি জোট ভালো ফল করেছিল। নির্বাচনটি একই দিনে হলে বিএনপি হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয়ী হতো।
এবারের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন কেমন হবে? কাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তরে ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক ও দক্ষিণে সাঈদ খোকনের নাম ঘোষণা করেছে। জাতীয় পার্টিও আলাদা প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছে। নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না জেলখানা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। কয়েকটি বাম দলও তাদের সমর্থক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলে দুই ধরনের চিন্তাভাবনা আছে। এক পক্ষ ভাবছে, ক্ষমতাসীনদের ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া ঠিক হবে না। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দল সভা-সমাবেশের সুযোগ পাবে, জনগণের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবে। সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি জোট যাকেই প্রার্থী করুক না কেন, জেতার সম্ভাবনা আছে।
কিন্তু অন্য অংশ দেখছে এটিকে সরকারের ফাঁদ হিসেবে। তারা মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচনেই বিএনপির যাওয়া ঠিক হবে না। কেননা, ঢাকায় মেয়র পদে তাদের প্রার্থী জিতলেও গাজীপুর, রাজশাহী ও সিলেটের পরিণতি হবে। তা ছাড়া, তারা যখন সর্বাত্মক অবরোধে আছে, তখন কীভাবে নির্বাচন করে? নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অর্থ হবে নিজেদের কর্মসূচিকে নাকচ করে দেওয়া।
সিটি নির্বাচনে সব দল যদি অংশ নেয় তাহলে নির্বাচনটি যেমন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তেমনি তাদের হালনাগাদ জনপ্রিয়তা যাচাইও হয়ে যাবে। আর বিএনপির মতো একটি বড় দল না এলে সেটি হবে একতরফা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন। এখন নির্বাচন কমিশনকেই ঠিক করতে হবে তারা কী ধরনের নির্বাচন করবে।
ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হলো, সেই নির্বাচনে নগরবাসী ভোট দিতে পারবেন কি না? গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার বেশির ভাগ ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এবারেও যদি নির্বাচন কমিশন সে ধরনের একটি একতরফা ও ‘বিনা ভোটের’ নির্বাচন আয়োজন করে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দুই সিটি করপোরেশনের ৪৪ লাখ ভোটার। নগরবাসী আরেকটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন চায় না, চায় অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। আশা করি, নির্বাচন কমিশন জনগণের ওপর আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচন চাপিয়ে দেবে না।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab০3@dhaka.net

দুর্নীতির বিরুদ্ধে চাই সামাজিক প্রতিরোধ by নুরুল আমিন

অতি সম্প্রতি টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। গত বছরের (১৬তম) অবস্থান থেকে আমাদের অবনমন হয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আমরা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্থানে। এমনকি পাকিস্তানের অবস্থানও আমাদের ওপরে যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণকে পীড়িত করছে। বর্তমান সময়ে দুর্নীতির তেজ বা ব্যাপকতা বুঝতে টিআইবির রিপোর্টের প্রয়োজন নেই, ঘরের বাইরে ভাঙা রাস্তায় পা রাখলেই তা আঁচ করা যায়। দুর্নীতির কালো থাবায় সমাজের প্রতি স্তরে বিরাজ করছে অস্থিরতা এবং ধসে পড়েছে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক, অফিস-আদালতের শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধ। এখন সবাই শুধু টাকার পেছনে ছুটছে এবং যেনতেন তা পকেটে ভরে ভোগবিলাসে ডুবে যাচ্ছে। কোথায় আইন, কোথায় মূল্যবোধ ও লাজলজ্জা, তার তোয়াক্কা কেউ করছে না। যুগ যুগ ধরে ক্ষমতাবান ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গদের টাকার সাগরে আকণ্ঠ ডুবে যেতে দেখেও দুদকের চৈতন্যের শক্তি নেই। এমন অবাধ দুর্নীতি চলতে থাকলে এটাই নিয়মে পরিণত হবে এবং হচ্ছে। এখন সরকারি যেকোনো অফিস আদালতে ঘোষণা দিয়ে লাখ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়, যা এ সরকারের বিগত আমলেও এত খোলামেলা ছিল না। অর্থমন্ত্রীর স্পিড মানি তত্ত্বও দুর্নীতিকে এ কয়েক মাসে ত্বরান্বিত করেছে বহু গুণে। এ রকম দুর্নীতিগ্রস্ত ও দ্রুত ক্ষয়িঞ্চু মূল্যবোধ নিয়ে কিভাবে একটি দেশ মধ্যম আয় ও উন্নত দেশে উন্নীত হবে? আর হলেও বা আমজনতার অর্জন হবে কতটুকু? গবেষকেরা বলছেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা গেলে দেশে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সম্ভব। আবার বিশ্বব্যাংক বলছে, দুর্নীতি জিডিপির ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খেয়ে ফেলছে। দুর্নীতি থেকে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ আবার দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে (২০০৩-২০১২) বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা দিয়ে কয়েকটি পদ্মা, যমুনা সেতু হতো এবং ঢাকা শহরকে ফাইওভার দিয়ে ঢেকে দেয়া যেত। দুর্নীতি আমাদের শ্রমিক, কৃষক ও প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে এবং বাড়িয়ে তুলছে দেশে আয় বৈষম্য, বিদেশী পণ্যের বাজার ও বেকারত্ব। অর্থাৎ দুর্নীতি সম্মিলিতভাবে নষ্ট করছে উন্নয়ন, সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা, দেশীয় পণ্যের বাজার এবং মানুষের মনের শান্তি। দুর্নীতিকে অনেকটা সামুদ্রিক ঝড় সিডর বা আইলার সাথে তুলনা করা যায়, যা সব কিছুকে তছনছ করে দিয়ে যায়। পার্থক্য হচ্ছে প্রকৃতি আপনা-আপনি উঠে দাঁড়ালেও দেশ বা জাতির জন্য দরকার হয় উপযুক্ত থেরাপি। দুর্নীতির মূল কারণকে চিহ্নিত করে দিতে হবে প্রয়োজনীয় থেরাপি ও চিকিৎসা। দুর্নীতির প্রধান কারণই হলো দুর্নীতিগ্রস্ত দলীয় রাজনীতি ও তার থেকে সৃষ্ট সরকার। চার দশক ধরে জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারগুলো দিয়ে নাকাল হয়ে বারবার সরকার পরিবর্তন করেও সুফল পায়নি। যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। জনগণ বারবার প্রতারিত হয়েছে এবং হচ্ছে। গড়ে উঠছে না বিকল্প দল বা জোট। তাই একমাত্র সামাজিক প্রতিরোধই দুর্নীতির রাহু গ্রাস থেকে আমাদের কিছুটা আগলে রাখতে পারে। ছোটবেলায় অল্প শিক্ষিত বাবা-দাদাদের দেখেছি ঘুষ ও সুদখোরদের বাসায় কৌশলে দাওয়াত বর্জন করতে।
আবার অনেককে দেখেছি দুর্নীতিগ্রস্তদের সাথে বন্ধুত্ব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে এবং কথায় ও কর্মে তাদের ঘৃণা করতে। এখন সেদিন বিগত হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেমিনার ও স্থানে স্থানে গণজমায়েত করে শিক্ষার্থী ও জনগণকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। গণিত উৎসব ও বন্ধু সভার মতো দেশের আনাচে-কানাচে দুর্নীতিবিরোধী সভা-সমাবেশের আয়োজন জরুরি। সুশীলসমাজ ও দেশের থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসতে হবে এবং দুর্নীতি আধিক্য সরকারি অফিসের সামনে দুর্নীতিবিরোধী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সুজন, বাপা, সিপিডি, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিরোধে একসাথে কাজ করতে পারে। প্রয়োজনে বিকল্প রাজনৈতিক জোট গঠনে সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। কয়েক দিন আগে নাগরিক ঐক্যের দুর্নীতিবিরোধী একটি সমাবেশে স্বল্প লোকের উপস্থিতি আমাদের কষ্ট দেয়। আয়োজকদের সামনের নেতৃত্বের সারিতে আরো ভারিক্কি নেতানেত্রীর প্রয়োজন। ঐক্যের নেতৃত্বে নিজেদের বড় নেতা মনে করলে এ প্রচেষ্টা ভণ্ডুল হবে। প্রাজ্ঞজনেরা বলেন, দুর্নীতি সব সময় আত্মঘাতী। দেশে দেশে এর অসংখ্য প্রমাণ আমরা পাই। যেমন- ফিলিপাইনে মার্কোস, ইন্দোনেশিয়ায় সুহার্তো, আমাদের এরশাদ সরকারের পতন ও এক-এগারোর ধাক্কা এবং সম্প্রতি ভারতে কংগ্রেসের ভরাডুবি এর ভালো উদাহরণ। তাই সবাইকে বুঝতে ও বুঝাতে হবে দুর্নীতিবাজ দুর্নীতি করে ধনী হলেও সে যেমন দুর্নীতির কুফল থেকে মুক্ত নয়, তেমনি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার নিজের পতন নিজেই ডেকে আনে।
লেখক : খণ্ডকালীন শিক্ষক, রয়েল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

স্বামীকে বাঁচিয়ে রাখতে সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর আকুতি

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ তার স্বামীর প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছেন। স্বামীর জীবন নিয়ে গভীর সংশয়ে থাকা স্ত্রী হাসিনা বার্তা সংস্থা এএফপি’কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি (সালাহউদ্দিন) যদি কোন কারণে অভিযুক্ত হন, তাদের উচিত তার বিচার করা। তিনি বলেন, দয়া করে তাকে বাঁচিয়ে রাখুন। হাসিনা বলেন, সম্প্রতি যে বাড়িতে তার স্বামী আত্মগোপনে ছিলেন, সেখানে গত মঙ্গলবার গোয়েন্দারা তল্লাশি চালায় এবং তার স্বামীকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এএফপি’র ওই প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, সালাহউদ্দিন আহমেদ গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মুখপাত্র নির্বাচিত হন। বিএনপি’র ডাকা সড়ক-অবরোধের শুরুতে সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে তার পূর্বসুরিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে সাদা পোশাকধারী ডিবি পুলিশ সালাহউদ্দিন আহমেদকে একটি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অপহরণ করেছে বলে সোমবার অভিযোগ আনে বিএনপি। বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সহযোগী শিমুল বিশ্বাস এএফপি’কে বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায় আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যরা এবং আমরা বিশ্বাস করি তিনি এখনও তাদের নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন। তিনি বলেন, তাকে মুক্তি দেয়া বা আদালতে হাজির করা উচিত। এদিকে গত শনিবার পুলিশ প্রধান শহিদুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ  বা আইন-প্রয়োগকারী কোন সংস্থা সালাহউদ্দিনকে অপহরণ করেনি বলে মন্তব্য করেন।

১০ দিন পর পুতিনের দেখা

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভের সঙ্গে বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিন
এমনটা এর আগে কখনোই হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন টানা ১০ দিন ধরে জনসমক্ষে নেই। পুতিনের এই ব্যাখ্যাহীন অনুপস্থিতি নিয়ে ক্রেমলিনের নীরবতায় গুজবের ডালপালা ছড়ায় বিস্তর।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল সোমবার দেখা দিলেন লৌহমানব হিসেবে পরিচিত এ রুশ নেতা। খবর বিবিসি ও এএফপির।
পুতিন গতকাল কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে যোগ দেন। ৫ মার্চের পর এই প্রথম খবর ও দর্শন পাওয়া গেল তাঁর।
পরিবেশটা আঁচ করতে পেরে গতকাল আতামবায়েভের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেই বসেন, ‘কোনো গুজব না থাকলে জীবনটাই নিরামিষ হয়ে যায়।’ সেন্ট পিটার্সবার্গের বাইরে কনস্টান্টিনভস প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয় বৈঠকটি।
গতকালের আগে পুতিনকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ৫ মার্চ ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। এরপর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে একটি নারী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে ছবি প্রকাশ হয়েছিল। তবে রাশিয়ার গণমাধ্যমের একাংশে বলা হয়, ওই সাক্ষাতের ছবিটি আসলে ৫ মার্চ তোলা।
এমন কথাও রটে যে, পুতিন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ক্রেমলিনের দুর্ভেদ্য দেয়ালের অভ্যন্তরে এমন কিছু ঘটেছে, যা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও নিশ্চুপ রয়েছে সবাই। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পুতিন নিহত হয়েছেন বলেও গুজব ওঠে।
ছবি বিনিময়ের সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পুতিন ঘনিষ্ঠ চেচেন নেতা রামাজান কাদিরভের মন্তব্য রহস্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সেখানে কাদিরভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করে লেখেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে তাঁর (পুতিন) আমি একজন ভক্ত। তিনি যে অবস্থানেই থাকুন, সেটি কোনো বিষয় না!’
কাদিরভের মন্তব্যে এই গুজবও পোক্ত হয় যে, পুতিনকে ঘিরে থাকা প্রভাবশালীদের ঐক্যে চিড় ধরেছে এবং তাদের একটি অংশ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। গত মাসে পুতিনবিরোধী নেতা বরিস নেমেৎসভ আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর শুরু হয়েছিল এই গুজব। ওই হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া জাউর দাদায়েভ একজন চেচেন। চেচেন নেতা কাদিরভ তাঁকে ‘প্রকৃত যোদ্ধা এবং দেশপ্রেমিক’ বলে আখ্যায়িত করে বসেন।
এর ফলে আরেকটি ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। সেটি হলো, চেচেন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই নেমেৎসভকে হত্যা করা হয়েছে। আর এর ফলে রাশিয়ার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি ক্ষুব্ধ হয়। চেচেন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পুতিনও বেকায়দায় পড়েন।
এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের একটি ট্যাবলয়েড খবর প্রকাশ করে, পুতিন তাঁর গোপন ভালোবাসাবাসির সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ায় তাকে দেখতে সুইজারল্যান্ডে আছেন।
গতকাল কিরগিজ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পুতিনকে একটু ফ্যাকাশে দেখাচ্ছিল। তবে তিনি অতিথি আতামবায়েভকে প্রাসাদের কিছু অংশ ঘুরিয়ে দেখান বলে জানানো হয়েছে। এতে মনে করা হচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্টের অসুস্থতা হয়তো তত গুরুতর নয়।
পুতিন হাসিমুখেই টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে বসেন। কিরগিজ প্রেসিডেন্ট আতামায়েভ বলেন, ‘পুতিন একটু আগেই আমাকে পুরো এলাকাটি ঘুরে দেখিয়েছেন। নিজেই গাড়ি চালিয়েছেন তিনি।’

অপহৃত শিশু হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ওলামা লীগ নেতাও, কনস্টেবল বরখাস্ত

সিলেটে স্কুলছাত্র আবু সাঈদকে অপহরণ ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে
তার স্কুল হাজী শাহমীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরমানববন্ধন।
হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান l ছবি: প্রথম আলো
সিলেটে স্কুলছাত্র আবু সাঈদকে (৯) অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিলেট জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক এন ইসলাম তালুকদার ওরফে রাকীবও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি মহানগর হাকিমের আদালতে জবানবন্দি দেন।
এর আগে অপহরণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে গত রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান। দুজনের জবানবন্দির বক্তব্যে মিল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জবানবন্দিতে এবাদুর বলেছিলেন, টাকার জন্যই সাঈদকে অপহরণ করা হয়। কিন্তু সাঈদ তাঁকে (এবাদুর) চিনে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ওলামা লীগের নেতা রাকীবসহ পাঁচজন জড়িত।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ জানান, বিমানবন্দর থানার কনস্টেবল এবাদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা ও পরবর্তী সময়ে মামলা হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এবাদুরের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘সোর্স’ গেদা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সকালে মহানগর হাকিমের আদালতে গেদাকে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) শাহ মো. ফজলে আজিম পাটওয়ারী ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গেদা মিয়াকে গতকালই রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানায়।
সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার বাসিন্দা মতিন মিয়ার ছেলে আবু সাঈদকে গত বুধবার অপহরণ করে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুঠোফোনে ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীদের শনাক্ত করে পুলিশ শনিবার রাতে কনস্টেবল এবাদুরকে আটক করে। পরে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওই রাতে নগরের কুমারপাড়ার ঝেরঝেরিপাড়ায় তাঁর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় সাঈদের লাশ।
এ ঘটনায় এবাদুরের সহযোগী গেদা মিয়া ও এন ইসলাম তালুকদারকে আটক করা হয়। সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন এবাদুর। সাঈদ তাঁকে ‘মামা’ সম্বোধন করতেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এবাদুর ‘টাকার জন্য’ সাঈদকে অপহরণ করার কথা জানিয়ে ‘চিনে ফেলায় হত্যা করা হয়’ বলে উল্লেখ করেন। অপহরণের ঘটনায় সঙ্গে গেদা ও রাকীব ছাড়া আরও তিনজন ছিলেন বলে জানান এবাদুর।
সাঈদের সহপাঠীদের প্রতিবাদ: নগরের রায়নগর হাজি শাহমীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল আবু সাঈদ। ওই বিদ্যালয়ের সামনে গতকাল বেলা ১১টায় এলাকাবাসী মানববন্ধনের আয়োজন করলে ওই বিদ্যালয় ছাড়াও আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। মানববন্ধনে সাঈদের সহপাঠীরা কালো ব্যাজ পরে নিজ হাতে লেখা প্রতিবাদী নানা ফেস্টুন প্রদর্শন করে। এ সময় তাদের অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। মানববন্ধন থেকে সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল রায়নগর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরী রানী দেবী জানান, ঘটনা জানাজানি হলে শনিবার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম থাকায় পাঠদান হয়নি। গতকালও এ অবস্থা ছিল।
সংশোধনী: গতকাল প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশে মুক্তিপণের পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করলেও দুই লাখ টাকা তাদের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করছিল সাঈদের পরিবার। বিষয়টি আগেই পুলিশকে জানানোয় এই টাকা অপহরণকারীরা নিতে পারেনি।

নাগাল্যান্ডের ফরিদ খান : টার্গেটকিলিংয়ের নির্মম শিকার by জি. মুনীর

নাগাল্যান্ডে বাংলাভাষী ইস্যুতে গাত্রদাহ
ডিমাপুর শহর। এটি ভারতীয়দের কাছে নাগাল্যান্ডের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বিবেচিত। নাগাল্যান্ড হচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য। শহরটি তেমন কোনো বড় শহর নয়। তবে গত ৫ মার্চ ২০১৫ এই শহরে যে এক ভয়াবহ অমানবিক ঘটনা ঘটে গেল, তা গোটা বিশ্বের বিবেকি মানুষকে চরমভাবে ব্যথিত করেছে। সেই সাথে প্রতিটি বিবেকবান মানুষের প্রশ্ন জেগেছেÑ আধুনিক যুগের এই ভারতে কী করে দিনে দুপুরে সবার চোখের সামনে এ ধরনের একটি অমানবিক ঘটনা ঘটতে পারল, যেখানে সরকারের সব মহলকে পালন করতে দেখা গেছে নীরব দর্শকের ভূমিকা, কিংবা বলা যায় এ ধরনের ঘটনায় সরকারের বিভিন্ন মহলের ছিল মৌন সম্মতি। এ ঘটনার শিকার সৈয়দ ফরিদ খান ওরফে শরিফ খান নামে এক ভারতীয় যুবক। তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল ধর্ষণের সাজানো অভিযোগ। সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হাজার দশেক উচ্ছৃঙ্খল মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে কারাগারে গিয়ে ফটক ভেঙে তাকে বের করে এনে উলঙ্গ করে রাস্তায় ঘুরিয়ে এরপর প্রথমে পিটিয়ে ও পরে মোটরসাইকেলের পেছনে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাস্তার ওপর দিয়ে ছেঁছড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরও পর তার প্রাণহীন দেহ শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি কক টাওয়ারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। একমাত্র তখন পুলিশ এসে তাদের এ কাজে বাধা দেয়। বলা যায়, একমাত্র এটাই হচ্ছে এ ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের একমাত্র সাফল্য।
ভারতের ‘সিভিল লিভার্টিজ মনিটরিং কমিটি’ এই মর্মান্তিক পরিকল্পিত হত্যা ঘটনায় তাদের মর্মাহত হওয়ার কথা প্রকাশ করেছে। তাদের অভিমত, এ ধরনের অমানবিক ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা তাদের নেই। মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃণার মাত্রা যে কী মাত্রায় পশুত্বের পর্যায়ে নামাতে পারে, এ ঘটনা এরই এক প্রকৃষ্ট প্রমাণ ও উদাহরণ। হয়তো অনেকেই বলতে পারেন, সমাজে যেভাবে ধর্ষণের ছড়াছড়ি, তাতে করে অভিযুক্ত ফরিদ খান তার উপযুক্ত সাজাই পেয়েছে। প্রতিটি ধর্ষকের বেলায় এমনটিই হওয়া উচিত। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, তা হলে আইন আদালত থাকার দরকারটা কী? এ ছাড়া ফরিদ খানের ঘটনাটি তলিয়ে দেখলে এ ঘটনার এত সহজ সমীকরণ সম্ভব নয়।
সিভিল লিভার্টিজ মনিটরিং কমিটি এ ব্যাপারে স্পষ্টতই বলতে চায়, এটি হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত খুন। পরিকল্পিত এক গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আর এর পেছনে রয়েছে একটি মুসলিমবিরোধী প্রাইভেট গ্যাং। একই সাথে এতে সমর্থন রয়েছে রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদেরও। গোটা ঘটনাপর্বটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলে বহুল আলোচিত-সমালোচিত গুজরাট জেনোসাইডের কথাই মনে করিয়ে দেয়, যেখানে হিন্দুত্ববাদীদের সহজ শিকারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল গুজরাটের মুসলমানেরা। দেখা যাবে, ডিমাপুরের ঘটনায় জড়িত রয়েছে একই ধরনের মুসলিমবিরোধী শক্তি, আর এতে সমর্থন জুগিয়েছে নাগাল্যান্ড রাজ্য সরকার। তা না হলে কী করে ডিমাপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো একটি সুরক্ষিত কারাগার থেকে বিচারাধীন একজন অভিযুক্তকে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা বের করে নিয়ে এসে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা নানা নির্যাতনের ঘটনা পরম্পরার মধ্য দিয়ে এভাবে নির্মমভাবে প্রকাশ্য রাজপথে হত্যা করতে পারে? এ ঘটনা প্রমাণ করে ভারতীয় মুসলমানেরা সরকারের হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও নিরাপদ নয়।
ভারতসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে ডিমাপুরের এই ঘটনার বিবরণ প্রকাশ হওয়ার পাশাপাশি চলছে এ ঘটনার নানামুখী বিশ্লেষণ। ঘটনার বিবরণে প্রকাশÑ ৩০ বছরের মতো বয়েসী বাংলা ভাষাভাষী সৈয়দ ফরিদ খান ওরফে সৈয়দ শরিফ খান ভারতের আসাম রাজ্যের করিমপুর জেলার মূল অধিবাসী। কিন্তু বর্তমানে তিনি বসবাস করছিলেন নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর শহরে। সেখানে তিনি পুরনো ভাঙাগাড়ির ব্যবসায় করতেন। ব্যবসায় ভালোই চলছিল। চার বছর আগে তিনি বিয়ে করেন এক নাগা মহিলাকে। সেখানে এরা সুখেই সংসার করছিলেন। তাদের রয়েছে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান। ফরিদ খানের ছোট ভাই নাসিরুদ্দিন তার সাথেই বসবাস করতেন। বাংলা ভাষাভাষী হওয়ার কারণে ফরিদ খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্ট বলে অপপ্রচার চালানো হয়। কিন্তু বাস্তবতা এ দাবির অসারতাই প্রমাণ করে। তার বাবা ভারতীয় বিমানবাহিনীতে চাকরি করেছেন ২০ বছর। তার দুই ভাই এখনো ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরিরত। তার এক ভাই ১৯৯৯ সালে নিহত হন কারগিল যুদ্ধে, ভারতের বাহিনীর হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময়।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ফরিদ খান তার স্ত্রীর এক জ্ঞাতিবোন ও এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে স্থানীয় একটি হোটেলে যান একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। পরদিন পুলিশ তার বাসায় এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। বলা হয়, তার স্ত্রীর ওই জ্ঞাতিবোন তার বিরুদ্ধে থানায় একটি ধর্ষণ মামলার এফআইআর দাখিল করেছে। জানা গেল, পরদিন এই মহিলা ফরিদ খানের স্ত্রীর কাছে গিয়ে তার কাছে দুই লাখ রুপি দাবি করে। এ পরিমাণ অর্থ তাকে দেয়া হলে তিনি এই ধর্ষণ মামলা তুলে নেবেন বলে জানান। ফরিদ খানের স্ত্রী এ অর্থ তাকে দিতে অস্বীকার করেন। অপর দিকে ফরিদ খানকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে পাঠানো হয় ডিমাপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি এই কারাগারের হেফাজতেই ছিলেন। তাকে গ্রেফতার ও কারাগারে আটক রাখার খবর স্থানীয় একটি খবরের কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয় ঘটনার এক সপ্তাহ পর। এ ছাড়া এ ব্যাপারে উসকানিমূলক খবর ছড়িয়ে দেয়া হয় ফেসবুকে।
গত ৪ মার্চে নাগাল্যান্ডের একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী জেলাপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে অভিযুক্ত ফরিদ খানকে তাদের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানায়। ৫ জানুয়ারি এক হিসাবে ছয় হাজার থেকে সাত হাজার, অন্য হিসাবে ১০ হাজার উচ্ছৃঙ্খল জনতা বিক্ষোভ মিছিল করে ডিমাপুর কারাগারে যায়। উল্লেখ্য, এদের মধ্যে প্রচুর নারী ও শিশুও ছিল। এরা কড়া নিরাপত্তায় থাকা কারাগারের ফটক ভেঙে ফরিদ খানকে টেনেহিঁচড়ে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসে রাস্তায়। এর পর তার জামা-কাপড় টেনে খুলে উলঙ্গ করে মারধর শুরু করে। এ সময় তার ওপর পাথরও ছোড়া হয়। এরপর তার দেহ নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে দড়ি দিয়ে একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বেঁধে ডিমাপুর শহরের কেন্দ্রস্থলের রাস্তায় ছেঁছড়িয়ে মারা হয়। এরও পর তার লাশ প্রদর্শনের জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি কক টাওয়ারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। উল্লেখ্য, ডিমাপুর কেন্দ্রীয় কারাগারটি সিআরপিএফ সিকিউরিটির আওতাধীন একটি কারাগার। এ ধরনের নিরাপত্তাধীন কারাগার থেকে একজন বন্দীকে জেল থেকে জনতা বের করে নিয়ে গেল, অথচ কারারক্ষীরা ন্যূনতম ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাকে রক্ষার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিলো নাÑ বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর ও রহস্যজনক।
ডিমাপুরের এসপি বলেছেন, ধর্ষণের এ অভিযোগটি ছিল মিথ্যা। আসলে মেয়েটি এর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার প্রয়াস চালিয়েছিল। অবশ্য এই এসপিকে পরে বরখাস্ত করা হয়। মেডিক্যাল রিপোর্টেও ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তা ছাড়া হোটেলের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যেও ওই মেয়েটির সাথে ফরিদ খানের কোনো অস্বাভাবিক আচরণের কোনো দৃশ্যও ধরা পড়েনি। সব মিলিয়ে গোটা ধর্ষণের অভিযোগটি যে ছিল সাজানো, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু ফরিদ খানের জীবনে যা ঘটার তা ঘটে গেছে। তার পরিবারের জন্য যে ক্ষতি হওয়ার তা-ও হয়ে গেছে।
উচ্ছৃঙ্খল জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে করতে কারাগারে গেল। সেখানে এরা পূর্বপরিকল্পনামতে শুধু ওই ফরিদ খানকেই টার্গেটে পরিণত করল। এর কারণ দুটো। প্রথম কারণ তিনি ছিলেন মুসলমান। দ্বিতীয়ত তিনি ছিলেন বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান। যার ফলে তাকে বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর সহজ সুযোগ এরা হাতের কাছে পেয়ে যায়। তাই উদ্দেশ্যমূলক তাকে পরিচিত করে তোলা হয় অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী হিসেবে। বিষয়টি পরিকল্পিত ছিল বলেই এই উচ্ছৃঙ্খল জনতা সেখানে থাকা অন্য এক অভিযুক্ত ধর্ষণকারীকে স্পর্শমাত্র করেনি। কারণ, তিনি মুসলমান কিংবা বাঙালি এর কোনোটিই ছিলেন না। আসলে ওই অভিযুক্ত ধর্ষক ছিলেন একজন নাগা। এ ঘটনা প্রমাণ করে, ফরিদ খানের এই অমানবিক নির্যাতন মৃত্যুর পেছনে শুধু ওই মহিলারই হাত ছিল না, বরং এটি ছিল একজন মুসলিম যুবকের জীবনে নেমে আসা সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যতাড়িত পূর্বপরিকল্পিত এক টার্গেটকিলিং।
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের এই নাগাল্যান্ড রাজ্যটি প্রধানত খ্রিষ্টান অধ্যুষিত এলাকা হলেও ভারতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সেখানে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর মাঝে মুসলমানবিরোধী একটি সাম্প্রদায়িক মনোভাব ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আগে যেখানে আসামে মুসলমানদের ওপর মাঝে মাঝে নানা অজুহাতে হামলা চালিয়ে নির্বিচারে মুসলমানদের হত্যা করা হতো, এখন সেই একই কাজটি নাগারাও শুরু করেছে নাগাল্যান্ডে। ফরিদ খানের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় : প্রথমত সেখানকার মুসলমানেরা এখন সরকার ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সহজ টার্গেট; এমনকি সেখানকার মুসলমানেরা জুডিশিয়াল কাস্টোডিতেও নিরাপদ নয়; জুডিশিয়ারি, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার এ হত্যাকাণ্ডের জন্য পুরোপুরি দায়ী। উল্লিখিত ‘সিভিল লিভার্টিজ মনিটরিং কমিটি’ও মনে করে, এর জন্য দায়ী জুডিশিয়ারি। কারণ, ফরিদ খান সরকারের কারাগারের হেফাজতে ছিল। আর প্রশাসনিকভাবে নাগাল্যান্ড সরকার ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ ক্ষেত্রে দণ্ডণীয় অপরাধে অপরাধী। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যতাড়িত মানবতাবিরোধী এক ঘৃণ্য অপরাধ। এ জন্য এই কমিটি এ ব্যাপারে ভারতের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে। তাদের প্রশ্ন, কেন জুডিশিয়ারি কাস্টোডিতে থাকা অবস্থায় একজন নাগরিককে এ ধরনের নির্মমতার শিকার হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে? এখানে সরকারের দায় কোথায়? এ কমিটি মনে করে প্রধান বিচারপতির উচিত এ ব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমটো অ্যাকশন) কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এসব প্রশ্নের জবাব সে দেশের মানুষকে জানানো এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা। একই সাথে এই কমিটি নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করে। কারণ এরা উভয়ই নাগাল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত। এই কমিটি অবশ্য এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে নাগা স্টুডেন্ট ফেডারেশনের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেনি। কিন্তু যেহেতু কারাগারে নিয়ে যাওয়া উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিক্ষোভ মিছিলটির নেতৃত্বে ছিল এই স্টুডেন্ট ফেডারেশন, অতএব এই ফেডারেশন এ ঘটনার দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না। এ ফেডারেশনের নেতাদের নেতৃত্বেই জনতা জোর করে কারাগারে ঢুকে ফরিদ খানকে বের করে নিয়ে এসে এ ঘটনা ঘটায়।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, যখন এমন খবর ছড়িয়ে দেয়া হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি নাগাল্যান্ডের লোক নন, তিনি করিমগঞ্জের লোক। তখন স্থানীয় জনতা আরো বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। কারণ এরা ভাবে বাইরে থেকে একজন লোক এসে নাগাল্যান্ডের লোকের বিরুদ্ধে এমন কাণ্ড ঘটিয়ে যাবে, তা হতে দেয়া যায় না। এর ফলে আসাম থেকে নাগাল্যান্ডে এসে যারা ব্যবসায় বাণিজ্য করছেন কিংবা অন্যান্য ধরনের রোজিরোজগারে নিয়োজিত, তারাও আজ হুমকির মুখে। ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে প্রচুর লোক নাগাল্যান্ডে এসে ব্যবসায় বাণিজ্য ও নানা ধরনের কাজকর্ম করে জীবন নির্বাহ করছে। সে জন্য স্থানীয় লোকদের ব্যবসায় বাণিজ্য ও কাজকর্মের সুযোগ ক্রমেই সঙ্কোচিত হয়ে পড়ছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের অসন্তুষ্টিও কাজ করছে। তবে সেখানে এমন একটি ধারণাও কাজ করছে, বাইরে থেকে নাগাল্যান্ডে আসা এসব লোক প্রধানত বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসী। এসব কারণে, নাগাল্যান্ডে তথাকথিত ‘বহিরাগতদের’ ব্যাপারে এক ধরনের বিদ্বেষ নাগাদের মধ্যে কাজ করে। এই বিদ্বেষ ফরিদ খানের ঘটনার ক্ষেত্রে অংশত কাজ করেছে। একজন ধর্ষণকারী হিসেবে ফরিদ খানের ওপর এদের যতটা না ক্ষোভ ছিল, তার চেয়ে বেশি ক্ষোভ ছিল একজন ‘বহিরাগত’ হিসেবে। নাগাল্যান্ডে ‘ইনসাইডার-আউটসাইডার’ নামে একটি পলিটিক্যাল ডিকোটমি তথা রাজনৈতিক দ্বিবিভাজন কাজ করে। ফরিদ খান সেই পলিটিক্যাল ডিকোটমিরই শিকার। ফরিদ খানের ভাই দাবি করেছেন, তার ভাইকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা উচিত। নাগাল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে এরা এক ধরনের জেনোফোবিয়া তথা বহিরাগতভীতিতে ভোগে। এরা মনে করে, বহিরাগতরা নাগাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের পথে বাধা হিসেবে কাজ করে বা করবে। সে উপলব্ধি থেকে এদের মধ্যে এক ধরনের বহিরাগতবিদ্বেষ সব সময় কাজ করে। ফরিদ খানের বেলায়ও হয়তো সে বিদ্বেষও কাজ করেছে।

চীন অস্ত্র বিক্রিতেও বিশ্বে তৃতীয়

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে নিরাপত্তা এবং অভিয়েশন মেলায়
চীনের তৈরি অস্ত্রের প্রদর্শনী। ছবিটি ৭ মার্চ তোলা। ছবি: রয়টার্স।
এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তির দেশ চীন। আইএমএফের তথ্যমতে, ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এখন চীন। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির আদলে এই চীনের উদ্যোগেই গঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। সেই চীনই অস্ত্র রপ্তানিতে শীর্ষ তিনটি দেশের একটি। বিশ্বে যারা অস্ত্র বিক্রি করে তাদের মধ্যে চীন তৃতীয়। এখন তাদের ওপরে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।  সুইডেনের স্টকহোমভিত্তিক আন্তর্জাতিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরই) বরাত দিয়ে আজ সোমবার বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির হিসাব করে এসআইপিআরই এ তথ্য দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র বিক্রিতে চীনের সামনে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। চীনের পরে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। চীন বিশ্বের অস্ত্র বাজারে ৫ শতাংশ অস্ত্র রপ্তানি করে। ওই ৫ শতাংশ অস্ত্রের দুই-তৃতীয়াংশ কেনে এশিয়ার তিনটি দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।
এই পাঁচ বছরের মধ্যে এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে আফ্রিকার ১৮টি দেশে চীনের অস্ত্র রপ্তানি হচ্ছে। তবে ওই প্রতিবেদনে অস্ত্র রপ্তানির কথা বলা হলেও অর্থের হিসাবের ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩১ ও রাশিয়া ২৭ শতাংশ অস্ত্র বিক্রি করে থাকে। চীন, জার্মানি, ফ্রান্স বিক্রি করে শতকরা ৫ শতাংশ। যুক্তরাজ্য ৪ শতাংশ, স্পেন, ইতালি, ইউক্রেন ৩ শতাংশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল ২ শতাংশ অস্ত্র বিশ্ববাজারে বিক্রি করে।
চীনের রপ্তানি ৫ বছরে (২০১০-২০১৪ সাল) বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ। অথচ এই সময়ে জার্মানির ৪৩ এবং ফ্রান্সের ২৭ শতাংশ অস্ত্র রপ্তানি কমেছে। অস্ত্র বিক্রি কমার কারণে হার একই (৫ শতাংশ) থাকা সত্ত্বেও জার্মানি ও ফ্রান্সকে পেছনে ফেলেছে চীন।
এই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ওই পাঁচ বছরে সারা বিশ্বে ১৬ শতাংশ অস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে। বিশ্ববাজারে চীনের অস্ত্র রপ্তানি হয়তো অনেক বেড়েছে কিন্তু অস্ত্র রপ্তানির বড় দুই মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ব্যবধান এখনো অনেক। এই ৫ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৩ ও রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৩৭ শতাংশ।

মেহমানদের সঙ্গে নিরুদ্দেশ সালাহ উদ্দিন! by কবির হোসেন

উত্তরার যেই বাসা থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার দাবি করা হচ্ছে ঘটনার দিন সেই বাসা থেকে রায়হান নামের একজন তার চার/পাঁচজন মেহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে গেছেন বলে পুলিশের তদন্তে বের হয়ে এসেছে। রোববার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে হাইকোর্টে পাঠানো উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্যই দেয়া হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ দাবি করে আসছেন, ‘১০ মার্চ রাত ১০টার দিকে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩-বি রোডের ৪৯/বি নম্বর ভবনের দোতলা বাসা থেকে তার স্বামীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’
তবে ওসি রফিকুল ইসলামের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জিজ্ঞাসাবাদে বাড়িটির দারোয়ান আক্তার জানায়, ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিএমডি হাবিব হাসনাত চারদিন আগে সস্ত্রীক বাসা ছেড়ে চলে যান। যাওয়ার সময় রায়হান নামের একজন পুরুষ মেহমান রেখে যান। হাসনাত সাহেব যাওয়ার সময় বলে যান তাদের অনুপস্থিতিতে মেহমান বাসায় থাকবেন।
দারোয়ান আক্তার আরও জানায়, রাত ১১টা পর্যন্ত ভাড়াটিয়ারা বাসায় যাওয়া-আসা করেন। ১০ মার্চ আনুমানিক রাত ৯টার দিকে গাড়ি নিয়ে চার/পাঁচজন মেহমান দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের হাসনাত সাহেবের বাসায় আসেন। আনুমানিক আধাঘণ্টা পর ওই মেহমানদের সঙ্গে আগের পুরুষ লোকটি নিচে নেমে গাড়িযোগে চলে যান। তবে ওই লোকটি সালাহ উদ্দিন আহমেদ কিনা তা তারা জানেন না।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘বাসার আসা- যাওয়ার লোকগুলোর গায়ে কোনো আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক ছিল না। তাদের সঙ্গে কোনো অস্ত্র ছিল না। বাইরে রাখা গাড়ি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ির মতো মনে হয়নি। হাতকড়া ছিল না। মেহমানকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়নি। অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এখান থেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর কেউ কাউকে ধরে নিয়ে গেছে এমন তথ্য জানা নেই। এমনকি হাবিব হাসনাত সাহেব মেহমান রেখে অন্যত্র কোথায় গেছে তাও তারা জানেন না। তবে তাদের ব্যবহৃত গাড়িটি দু-তিনদিন ধরে গ্যারেজে নেই।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ঘটনার সত্যতা নিরূপণের জন্য হাবিব হাসনাত ও তার স্ত্রী সুমনার সন্ধান করে জানতে পারি যে, হাবিব হাসনাত তার ব্যাংক থেকে ছুটি নিয়েছেন। সুমনা তার বাবার বাড়িতেও নেই। উল্লেখ্য, এই দম্পতির উভয়েরই দ্বিতীয় বিবাহ। উভয়ের প্রথমপক্ষের সন্তান থাকলেও তারা তাদের সঙ্গে থাকেন না। তাদের মোবাইল দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় কোনোভাবেই নিশ্চিত হওয়া যায় না যে, সালাহ উদ্দিন আহমেদ আলোচ্য বাসায় ছিল বা তাকে গ্রেফতার বা অপহরণ করেছে।’
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে ওসি রফিকুল ইসলামের এ তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াও সালাহ উদ্দিনের ব্যাপারে একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওসি রফিকুল ইসলাম নিজে ১১ মার্চ তারিখে ওই জিডি করেন। জিডিতে বলা হয়, সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ২০-২৫ জন সাংবাদিকসহ থানায় হাজির হয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন যে ১০ মার্চ তারিখে রাত আনুমানিক ৯ থেকে ১০ টার মধ্যে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩-বি রোডের, ৪৯বি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে আইনশৃংখলা বাহিনী পরিচয়ে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা কারও সঙ্গে আলাপ করে জানায়, তৃতীয় নয় দ্বিতীয় তলা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জিডি করার জন্য লিখিত কোনো আবেদন বা অভিযোগ নিয়ে আসেনি। বা তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যেতে দেখেছে বা তিনি নিজে উল্লেখিত বাসায় ছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি (হাসিনা আহমেদ) জানান, তিনি নিজে ওই বাসায় বসবাস করেন না এবং তিনি নিজে ওই বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি জানান, ‘দুবাই থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয়েছে, আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে তার স্বামীকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও তারা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেন জানাননি-এমন প্রশ্নেরও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যক্ষ সাক্ষী না থাকায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য সালাহ উদ্দিন সাহেবের স্ত্রীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই থানা এলাকা ত্যাগ করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ডায়েরি নথিভুক্ত করেন ওসি রফিকুল ইসলাম। পরে ওসি নিজেই এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্ত করেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করতে ও আদালতে হাজির করার প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানিকালে রোববার সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জিডি ও তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে তুলে ধরেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ছাড়াও র‌্যাব, সিআইডি, এসবি ও ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে পাঠানো পৃথক পৃথক প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
এসব প্রতিবেদনে সালাহ উদ্দিন আহমেদ তাদের হেফাজতে নেই বা তার সম্পর্কে অবহিত নয় বলে জানানো হয়। তবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়। র‌্যাবের প্রতিবেদনে শুধু এক লাইনে বলা হয়, ‘সালাহ উদ্দিন আহমেদকে পুলিশ হেফাজতে গ্রহণ করা হয়নি’। এছাড়া ডিবির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। কোনো এফিডেভিট ছাড়াই প্রতিবেদনগুলো আদালতে জমা দেয়া হয়। এর তীব্র বিরোধিতা করেন সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রীর আইনজীবীরা।
১১০১ চিকিৎসকরে উদ্বেগ! : সালাহ উদ্দিন আহমেদ নিখোঁজের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রোববার বিএমএ’র সাবেক কার্যকরী সদস্য ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে ১১০১ চিকিৎসক বলেন, দেশের একজন সুনামধন্য নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক আমলা যদি ৪ দিন ধরে নিখোঁজ থাকেন এবং তা যদি আবার আইনশৃংখলা বাহিনী কর্তৃক উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে তা হলে দেশের সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। অনতিবিলম্বে সালাহ উদ্দিনকে আইনের কাছে সোপর্দ করার দাবি জানানোর পাশাপাশি এর ব্যত্যয় হলে তার দায়দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তারা।
সালাহউদ্দিনকে হাজির করা সংক্রান্ত রুলের পরবর্তী শুনানি ৮ই এপ্রিল
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করে হাজির করার নির্দেশ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রুলের পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৮ই এপ্রিল ধার্য করেছে আদালত। আজ সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট  বেঞ্চ।আজ এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম হাইকোর্টের রুলের জবাবে পাঁচটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিবেদন নিয়ে শুনানি করেন। আবেদনকারী বাদীপক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ চারটি পয়েন্টে শুনানি করতে চাইলে সময় শেষ হওয়ায় সুপ্রিমকোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ৮ই এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। এর আগে রোববার তিনি প্রতিবেদনগুলো উপস্থাপন করে জানিয়েছিলেন, সালাহউদ্দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী  কোন বাহিনীর হেফাজতে নেই এবং কোন বাহিনী তার খোঁজ পায়নি। গত বৃহস্পতিবার সালাউদ্দিনকে রোববারের মধ্যে কেন খুঁজে বের করে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন একই বেঞ্চ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সালাহউদ্দিনকে হাজিরের নির্দেশনা চেয়ে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের করা  আবেদনের শুনানি শেষে এ রুল জারি করা হয়।