Monday, September 26, 2011

নিশ্চিত মূল্যবৃদ্ধি, অনিশ্চিত জ্বালানি-নিরাপত্তা by মোশাহিদা সুলতানা

সরকার জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রধান কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে। এ বছর জ্বালানি আমদানির খরচ দিতে গিয়ে সরকার সংকটে পড়েছে মূলত ব্যালান্স অব পেমেন্ট ঘাটতির কারণে। ব্যাংকে তারল্যসংকট তৈরি হওয়ায় সরকার আমদানি ব্যয়ের টাকা পরিশোধ করতে দেশীয় ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিতে পারছে না, উপরন্তু টাকার মূল্য কমে যাওয়ায় বেশি দামে ডলারে বিল দিতে হচ্ছে। এ বছর জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় ২৫৫৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪১০৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। ধরে নিলাম, এই সংকটময় মূহূর্তে সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে এই ভার বহন করতে হবে জনগণকে। ধরে নিলাম, সরকার যা চায়, জনগণ তা-ই করল। বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনল, বেশি দামে জ্বালানি কিনল, করও দিল, বেশি দামে প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনল, বাড়িভাড়া ও পরিবহনভাড়া বাড়ার কারণে মধ্যবিত্তরা বিলাসিতা করল না; নিম্নবিত্তরা কম খেয়েও থাকল। কিন্তু এত কষ্টের বিনিময়ে জনগণ সরকারের কাছ থেকে কী পাচ্ছে এবং পাবে?
অনেকে ভাবছেন, কুইক রেন্টালের মাধ্যমে দেশের জ্বালানির চাহিদা পূরণ হবে, নিশ্চিত হবে জ্বালানি-নিরাপত্তা। কিন্তু জ্বালানি-নিরাপত্তা মানে শুধু চাহিদার সমান জোগান দেওয়া নয়, চাহিদার সমান জোগান থাকা এবং অধিকাংশ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। সরকার যদি চাহিদার সমান জোগান দিতে গিয়ে কুইক রেন্টালকে সমাধান হিসেবে বেছে নেয় এবং কয়েক মাস পর পর বলে যে সরকার সংকটে আছে, আমদানি ব্যয় বহন করতে পারছে না বলে জনগণকে বেশি দামে কিনতে হবে, তাহলে এ রকম দিন আসতে পারে, যখন আমাদের দেশে চাহিদা অনুযায়ী জোগান থাকবে কিন্তু ক্রয়ক্ষমতা থাকবে না।
সরকার যখন ২২টি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প হাতে নেয়, তখন কথা ছিল ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চার মাসের মধ্যে এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো নয় মাসের মধ্যে চালু হবে। কিন্তু এ বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত চালু হয়েছে মোট ১২টি প্রকল্প, এর মধ্যে চারটিতে নানা রকম যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্ধারিত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে না। ২২টির মধ্যে মোট ১৮টি প্রকল্পের চুক্তি সম্পন্ন হয়, যেখানে ডিজেলচালিত কেন্দ্র থেকে গড়ে প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা এবং ফার্নেস অয়েল চালিত কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট আট টাকা দর ঠিক হয়। সরকারি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের গড় উৎপাদন ব্যয় তিন-চার টাকা। সরকার গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৩ দশমিক ৬৬ টাকায়। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে জোগান দেওয়ার জন্য সরকার অনেক বেশি দামে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, জরুরি ভিত্তিতে কুইক রেন্টাল দেওয়ার কারণে আমাদের বিদ্যুৎসমস্যা খানিকটা মিটেছে এবং সরকারের এই বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা ও বেশি দামে ভর্তুকি দেওয়ার সংগত কারণ আছে, কিন্তু একটু খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় যে ভর্তুকি দেওয়া না-দেওয়ার প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ভর্তুকি কাদের দেওয়া হচ্ছে, এই বিশাল পরিমাণ ভর্তুকির টাকা দিয়ে বেশি দামে বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে জ্বালানি না কিনে এই ভতুর্কি জ্বালানি-নিরাপত্তা অর্জনে ব্যয় করা কি যেত না?
আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকাই, তাহলেই দেখব, যুক্তরাষ্ট্র সরকার জনগণের কাছে কম দামে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য বিভিন্নভাবে ২০১০ সালে ৩৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার শুধু ভর্তুকিই দেয়নি, বহু দিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে তেল উৎপাদক দেশগুলোর ওপর আধিপত্য নিশ্চিত করে রেখেছে। এর জন্য তারা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে দ্বিধা করে না। বুঝলাম, আমাদের দেশ আর যুক্তরাষ্ট্র এক নয় এবং আধিপত্য কায়েম করে জ্বালানি-নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের কাজও নয়। কিন্তু আমাদের নিজেদের জ্বালানি সম্পদ আছে। এই সম্পদ উত্তোলনে জাতীয় সক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা বিশাল ভর্তুকি ও জনগণের অর্জিত অর্থ বিদেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেওয়া থেকে মুুক্ত হতে পারি। সরকারের ওপর চাপ পড়লে সরকার যেমন জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সমস্যা থেকে বের হয়ে আসে, তেমনি আমাদের ইতিহাস বলে, জনগণের ওপর জ্বালানি ব্যয়ের বোঝা চাপালে জনগণ কষ্ট করে হলেও তার দায় বহন করে। কিন্তু স্বল্প মেয়াদে সংকট উত্তরণের সময়টা দিন দিন দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সংকট উত্তরণের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সক্ষমতা অর্জনের পদক্ষেপ যদি এভাবে পিছিয়ে পড়তে থাকে, তাহলে জনগণের ওপর এই বোঝা বাড়তে বাড়তে পাহাড়সমান হয়ে যাওয়ার পরও ভবিষ্যৎ সরকার একই যুক্তি দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে চলবে। সরকারকে এই নিরাপত্তাহীনতার কথা ভেবে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ মুহূর্তে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে মুদ্রাস্ফীতি। আমাদের অর্থমন্ত্রী যদি জানেন, কী কৌশল অবলম্বন করলে অর্থনীতির সব সূত্রের বাইরে গিয়ে জ্বালানির দাম বাড়ার পর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে সেই বিষয়ে জনগণকে জানাতে হবে। জনগণ এখনো এই অভিনব পদ্ধতি সম্পর্কে জানে না। অন্যদিকে গ্যাসক্ষেত্রগুলো আবারও বিদেশি কোম্পানির হাতে দিয়ে দেওয়ার জন্য এরই মধ্যে নতুন পিএসসি চুক্তি করার প্রস্তুতি চলছে। ভর্তুকির দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে জনগণের অর্থ বিদেশি কোম্পানির কাছে দিয়ে দেওয়াটা খুব সহজ কাজ। দেশীয় সক্ষমতা অর্জনের প্রসঙ্গ উঠলেই কাজটি আর সহজ থাকে না। তাই সহজ পথ অবলম্বন করে, অদূরদর্শী পরিকল্পনা করে এই ঘন ঘন তেলের মূল্যবৃদ্ধি তো আসলে আশ্চর্য হওয়ার ঘটনা নয়। সরকার যে সংকটের কথা বলছে, সাধারণ নিয়মে তো এ রকমই হওয়ার কথা ছিল। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার মধ্য দিয়েই দেশ ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে এবং যত দিন যাচ্ছে, সে তার করণীয় কাজগুলো আরও কঠিন করে ফেলছে। সরকারের এই সংকট মুহূর্ত এবং জনগণের এই ভোগান্তি—দুই পক্ষকেই যদি প্রশ্নবিদ্ধ না করে, তাহলে শুধু ভর্তুকির পক্ষের বা বিপক্ষের যুক্তি দেখানো হবে অর্থহীন কাজ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি কি জ্বালানি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে?
মোশাহিদা সুলতানা: প্রভাষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নানা উদ্যোগেও ঠেকানো যাচ্ছে না দরপতন

দেশের শেয়ারবাজার আলোচিত আরেকটি সপ্তাহ পার করল। স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নানা সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সপ্তাহজুড়েই ছিল দরপতন। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ৩১৪ পয়েন্ট কমেছে। এ ছাড়া ওই সপ্তাহে বড় ধরনের দুটি দরপতন দেখলেন বিনিয়োগকারীরা, যদিও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সপ্তাহজুড়েই নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বড় ধরনের দরপতন দিয়ে গত রোববার সপ্তাহটি শুরু হয়েছিল। ওই দিন ডিএসইর মূল্যসূচক পড়ে যায় ১৬৬ পয়েন্ট। ওই অবস্থায় দরপতন ঠেকাতে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুপারিশে পরদিন সোমবার আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একক গ্রাহক ঋণসীমা ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের সময় এক বছর বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারির আগেই সেদিন দরপতনের প্রতিবাদে মতিঝিলের রাস্তায় ব্যাপক বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় তাঁরা বেশকিছু গাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের কাচ ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এত সব ঘটনার পর সোমবার দিনশেষে বাজার ইতিবাচক আচরণ করে। তার প্রধান কারণ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন দুটি। একই দিন বাংলাদেশ ফান্ডের ইউনিট বিক্রি শুরুর কথা জানায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।
পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের এখনই উত্তম সময় বলে জানান আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামান।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিবির উদ্যোগের পর বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু তা হয়নি। মঙ্গলবারই বাজার ফিরে যায় আবার দরপতনের ধারায়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার আবারও বড় দরপতনের ঘটনা ঘটে।
এরপর ওই দিনই তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এসইসি। পাশাপাশি সাধারণ শেয়ারধারীদের মধ্যে কারও হাতে যদি কোনো কোম্পানির পাঁচ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার থাকে তাও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া ওই দিনই তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি সালমান এফ রহমান।
বুধবারের এসব সিদ্ধান্তের পরদিনই বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
গত সপ্তাহে দরপতনের মধ্যেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১০৬ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬৫২ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ৩১৪ পয়েন্ট কম।

সপ্তাহের শুরুতেই চাঙাভাব পুঁজিবাজারে

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে আজ রোববার পুঁজিবাজারে চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দুটি স্টক এক্সচেঞ্জেই আজ লেনদেন হওয়া প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর ফলে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। একই সঙ্গে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতন রোধ করতে সম্প্রতি ডিএসই ও এসইসি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। ওই পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১৩২.৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫৭৮৪.৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের শুরুর দিকে ডিএসইতে সূচক দ্রুত ওঠানামা করতে থাকে। লেনদেনের পাঁচ মিনিটে সূচক ৩১ পয়েন্ট বাড়ে। তবে ২০ মিনিটে সূচক কমে যায় ১৩ পয়েন্ট। এরপর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। এভাবে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪৫টির ও কমেছে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৩৬৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৬৬ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স, সামিট পাওয়ার, ফু-ওয়াং ফুড, মালেক স্পিনিং, এনবিএল, এমআই সিমেন্ট ও তিতাস গ্যাস।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক ৪৪৫.০৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৬৪১৪.৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭১টির, কমেছে ১০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ৫২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে সাত কোটি টাকা বেশি।

ছোট দলের মতো খেলছে রিয়াল!

রোনালদো, কাকা, হিগুয়েইন, বেনজেমা...বড় বড় সব নাম রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে। কিন্তু খেলায় কেমন দৈন্য! ফাউল, মারামারি, অন্যের স্বাভাবিক ছন্দময় খেলা নষ্ট করে দেওয়ার প্রবণতা। রিয়াল মাদ্রিদের এমন খেলা দেখে অনেকেরই প্রশ্ন—হোসে মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছেন?
সাধারণ সমর্থক থেকে শুরু করে ফুটবলপণ্ডিত কিংবা খেলোয়াড়—অনেকেই মনে করেন, মরিনহো স্পেনের ফুটবলের জন্যই ক্ষতিকর। রিয়ালের এমন খেলা নিয়ে সর্বশেষ কথা বলেছেন বার্সেলোনার সাবেক উইঙ্গার কার্লেস রেজাচ। সরাসরি মরিনহোর দিকে আঙুল তোলেননি তিনি। তবে যা বলেছেন, তাতে মরিনহো বাদ যান কী করে? ‘রিয়াল মাদ্রিদ ছোট দলের মতো খেলে’—রেকর্ড ৩১ বার স্প্যানিশ লিগ আর সর্বোচ্চ ৯ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা রিয়ালের বর্তমান খেলার ধরন এভাবেই বিশ্লেষণ করেছেন রেজাচ।
১৯৬৭ থেকে ১৯৮১—এই ১৪ বছর বার্সেলোনায় খেলেছেন, ছিলেন ‘স্বপ্নের বার্সেলোনা দলে’ ইয়োহান ক্রুইফের সহকারী কোচ। তাঁর কাছে রিয়ালের সমস্যা ওই একটাই, ‘আমি বলছি না তাদের (রিয়াল মাদ্রিদ) মানসিকতার ঘাটতি আছে। কিন্তু তারা বড় দলের মতো খেলে না। তাদের যেসব খেলোয়াড় আছে ওদের নিয়ে পজেশনাল ফুটবল খেলা উচিত।’
আদতে দোষটা মরিনহোর ওপরই বর্তায়। স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’ রিয়াল মাদ্রিদকে বড় দলের মতো খেলাচ্ছেন না বা খেলাতে ব্যর্থ। চেলসির সাবেক কোচ অবশ্য এসব সমালোচনার জবাব দিয়ে একবার বলেছিলেন, ‘আমি সুন্দর ফুটবলের পক্ষের লোক নই, আমি রিয়ালকে শিরোপা জেতাতে চাই।’ কিন্তু আগের মৌসুমে রিয়ালে এসে একমাত্র কোপা ডেল রে ছাড়া এখন পর্যন্ত বড় কোনো শিরোপা তো জেতাতে পারলেন না!
শিরোপা তিনি জিতুন আর না-ই জিতুন, সুন্দর ফুটবল তাঁর দল না খেলতে পারে; মরিনহো কিন্তু সমর্থন পাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের। তাঁর কাছে মরিনহো বিশ্বের সেরা কোচ, ‘দারুণ একটি দল যেমন আছে আমাদের, তেমনি বিশ্বের সেরা ট্রেনারকেও পেয়েছি আমরা।’
রিয়ালের হয়তো সেরা ট্রেনার আছে, বার্সেলোনার আছে এক বছরে রেকর্ড ৬টি শিরোপা জেতা কোচ পেপ গার্দিওলা। কিন্তু কালকের ম্যাচের আগে পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় দুই দলেরই অবস্থান ছোট দলের কাতারে। বার্সেলোনা ৮ পয়েন্ট নিয়ে ছিল চতুর্থ স্থানে। সমান ৪ ম্যাচে ১ পয়েন্ট কম নিয়ে রিয়াল ছিল সপ্তম স্থানে। তাহলে এবার স্প্যানিশ লিগটা শুধু বার্সা-রিয়ালের লড়াই হচ্ছে না?
রিয়াল-বার্সার দুই কোচ মরিনহো আর গার্দিওলা অবশ্য মৌসুমের শুরু থেকেই বলছেন, স্প্যানিশ লিগটা শুধুই দুই দলের লড়াই নয়। তবে রেজাচ এর সঙ্গে একমত নন। রিয়াল অথবা বার্সা, বার্সা অথবা রিয়াল—রেজাচের কাছে স্প্যানিশ লিগটা এখনো এ রকমই। ভ্যালেন্সিয়া ভালো শুরু করতে পারে, কিন্তু এক-তৃতীয়াংশ পেরোলেই দেখা যাবে এটা ওই রিয়াল-বার্সারই লড়াই।

রিয়ালে নেইমারকে চান কাকা

সান্তোস ছেড়ে নেইমার রিয়াল মাদ্রিদে কবে নাম লেখাবেন? অধীর অপেক্ষায় আছেন কাকা। স্বদেশি স্ট্রাইকারকে রিয়াল মাদ্রিদে পেতে উন্মুখ ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার। ব্রাজিলের হয়ে এখনো একসঙ্গে খেলা হয়নি দুজনের, নেইমারের পাশে কাকা খেলতে চান রিয়াল মাদ্রিদে।
১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকারকে নিয়ে অনেক দিন থেকেই গুঞ্জন—ব্রাজিল ছেড়ে পাড়ি জমাবেন ইউরোপে। রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা, স্পেনের দুই পরাশক্তিরই চোখ তাঁর দিকে। কদিন আগে তো রটেছে, নেইমার গোপনে সেরে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টেস্ট। নেইমার অবশ্য বলেছেন, এ খবর ঠিক নয়। ওয়েবসাইট।
তবে আপাতত নেইমার রিয়ালে না এলেও তাঁর ভবিষ্যৎ ঠিকানা যে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, এটা বলছেন অনেকেই। কাকা বলেছেন, ‘গ্রীষ্মের দলবদলের সময় স্পেনে নেইমারকে নিয়ে খুব আলোচনা হলো। তার সঙ্গে ক্লাবের কী আলোচনা হয়েছে, তার বিস্তারিত আমরা জানি না। তবে নেইমারকে সতীর্থ হিসেবে পেলে আমার ভালোই লাগবে।’

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকেও দুষলেন ওয়াটসন

গত অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতার দায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ারও (সিএ) কম নয়! নিজের লেখা বই ওয়াট্টোতে বোর্ডের ওপরও দায়টা চাপিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়ক শেন ওয়াটসনই।
ওয়াটসন লিখেছেন, ২০১০-১১ অ্যাশেজের আগে ক্রিকেটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল সিএ। সিরিজের প্রথম টেস্টের ১০ দিন আগে ১৭ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণাই নাকি এই আতঙ্কের কারণ। ওয়াটসনের বই ওয়াট্টো থেকে অস্ট্রেলীয় দৈনিক সিডনি মর্নিং হেরাল্ড তাঁকে উদ্ধৃত করেছে এভাবে, ‘আমার মনে হয়েছিল, সবার মধ্যেই একটা আতঙ্ক কাজ করছে। অ্যাশেজের জন্য সাধারণত যে রকম দল দেওয়া হয়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তার চেয়ে বড় দল ঘোষণা করাটা কাজের কাজ কিছু হয়নি।’
ওয়াটসন আরও লিখেছেন, ‘জানি না কেন অত তাড়াতাড়ি দলটা ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের আরও একটা রাউন্ড বাকি ছিল তখনো। খেলা বাকি ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া “এ” দলেরও। ব্যাপারটা আতঙ্কিত হওয়ার মতোই ছিল। পুরো দলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল সেটা।’
১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের পর গতবারই নিজেদের মাটিতে ইংল্যান্ডের কাছে প্রথমবারের মতো অ্যাশেজ হারে অস্ট্রেলিয়া। এই ব্যর্থতার পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে আমূল পরিবর্তন এসেছে। যার ফলে কোচ টিম নিলসেন ও প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচকে সরে যেতে হয়েছে।

প্রথম পয়েন্ট হারাল ম্যানইউ

অবশেষে টান পড়ল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়ের ধারায়। কাল স্টোক সিটির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মৌসুমে প্রথম পয়েন্ট হারাল স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল। এই সুযোগে পয়েন্ট তালিকায় ম্যানইউকে ধরে ফেলল নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি। নিজেদের মাঠে এভারটনকে কাল ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রবার্তো মানচিনির দল। এই জয়ে ম্যানইউর সমান ১৬ পয়েন্ট তাদের।
ম্যান সিটির সঙ্গে কাল জয় পেয়েছে চেলসি, আর্সেনাল, লিভারপুল ও টটেনহামও। তার পরও দিনটিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফেবারিটদের দিন বলা যাচ্ছে না ম্যানইউ ড্র করায়। কালকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত এভারটন-ম্যানচেস্টার সিটির সাক্ষাৎ ছিল আটবার। সাতবারই হেরেছে সিটি। দুই বদলি খেলোয়াড় বালোতেল্লি ও মিলনারের গোলে নবমবারে এসে এভারটন-কুফা কাটাল সিটি।
নিজেদের মাঠ স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে সোয়ানসির বিপক্ষে চেলসিকে ৪-১ গোলের জয় এনে দিতে ফার্নান্দো তোরেস করেছেন মৌসুমের দ্বিতীয় গোল। নিজেদের মাঠ এমিরেটসে আর্সেনাল বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে পেয়েছে হতাশা কাটানো ৩-০ গোলের জয়, অ্যানফিল্ডে ওলভারহাম্পটনের বিপক্ষে অলরেডদের জয়টি ২-১ গোলে। উইগানের বিপক্ষে টটেনহামের জয়ও ২-১ গোলের।

ফিলিস্তিনের সদস্যপদ নিয়ে কাল নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা

জাতিসংঘের সদস্যপদ পেতে ফিলিস্তিনের আবেদনের ব্যাপারে আলোচনা করতে আগামীকাল সোমবার আলোচনায় বসছে নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত গত শুক্রবার এ কথা জানান।
সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত হলেও গত শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে আবেদনের মুহূর্তটি ব্যাপকভাবে উদ্যাপন করে ফিলিস্তিনিরা। এদিকে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দুই পক্ষের মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী ‘দ্য কোয়াট্রেট’ বলে পরিচিত জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
জাতিসংঘে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাওয়াফ সালাম নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সদস্যপদ চেয়ে ফিলিস্তিনের আবেদনপত্রটি নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্যরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছি। ওই আবেদনপত্র নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার বিকেল তিনটায় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।’
সদস্যপদ পেতে গত শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। পরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণে তিনি বলেন, ‘এর আগে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সব চেষ্টা ইসরায়েল সরকারের কট্টর অবস্থানের কাছে বারবার গুঁড়িয়ে গেছে।’ এ জন্যই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে তাঁরা জাতিসংঘে এসেছেন।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। ফিলিস্তিনের আবেদন ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত হওয়ার পর এর পক্ষে কমপক্ষে পরিষদের নয় সদস্যের ভোট পেতে হবে এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন) কেউ ভেটো না দিলে তা পাস হবে। যদি নিরাপত্তা পরিষদের কোনো স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র ভেটো দেয়, সে ক্ষেত্রে নয় বা তার চেয়ে বেশি ভোট পেলেও প্রস্তাবটি পাস হবে না। নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হলে পরে তা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। সেখানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তা অনুমোদিত হতে হবে। তবেই জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাবে ফিলিস্তিন। সদস্যপদ পেলে জাতিসংঘের ১৯৪তম সদস্যরাষ্ট্র হবে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের সদস্যপদ পেতে অনিশ্চয়তার মূল কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ভেটো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সদস্যপদের জন্য আবেদনের মুহূর্তটিতে আনন্দ-উল্লাস করেছে ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিম তীরের প্রধান শহরগুলোর কেন্দ্রস্থলে হাজার হাজার জনতা ফিলিস্তিনের পতাকা ও প্রেসিডেন্ট আব্বাসের ছবি নিয়ে জড়ো হয়।
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে এক মাসের মধ্যে আবারও সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইইউ। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে ২০১২ সালের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানানো হয়। গত শুক্রবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট আব্বাসের ভাষণের পর এ আহ্বান জানানো হয়।

মার্কিন সেনার সাত বছরের কারাদণ্ড

আফগানিস্তানে এক বেসামরিক কিশোরকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যার দায়ে এক মার্কিন সেনার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সামরিক আদালতে এ রায় দেওয়া হয়।
দণ্ড পাওয়া মার্কিন সেনার নাম অ্যান্ড্রু হোমস। তিনি আদালতে তাঁর দোষ স্বীকার করে বলেন, ওই আফগান কিশোরকে গুলি করে হত্যা ছিল একটা খারাপ সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাঁর বাবা ও ভাইদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে চাই।

অন্ধ্র প্রদেশের তেলেঙ্গানা ধর্মঘটে অচল

পৃথক রাজ্যের দাবিতে ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে গতকাল শনিবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের তেলেঙ্গানা অঞ্চল অচল হয়ে পড়ে। ট্রেন, বাস ও অটোরিকশা—কোনো কিছুই চলেনি। স্থবির হয়ে পড়েছিল সেখানকার জনজীবন। তেলেঙ্গানা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (টি-জেএসি) এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল।
ট্রেন চলাচল ব্যাহত করতে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস), ভারতীয় জনতা পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ে ট্রাকের ওপর বসে পড়ে। সেকেন্দারাবাদের কাছে মাওলা আলী স্টেশনে আন্দোলনকারীরা মঞ্চ নির্মাণ ও তাঁবু তৈরি করে। অন্যান্য স্থানে প্ল্যাটফর্মের ওপর খেলে কাবাডি। ধর্মঘটে রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদ রেলস্টেশন ছিল একেবারে ফাঁকা।
ধর্মঘটের কারণে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সাউথ সেন্ট্রাল রেলওয়ে (এসসিআর) কর্তৃপক্ষ তেলেঙ্গানা অঞ্চলে ট্রেন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব-পশ্চিম অঞ্চলের দূরপাল্লার ট্রেনগুলো অন্য অঞ্চলের ভিন্ন পথ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে।

ইসরায়েলের কাছে বাংকার-বিধ্বংসী বোমা বিক্রি করেছেন ওবামা!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মুখে ফিলিস্তিনকে ছাড় দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি চাপ দিলেও গোপনে দেশটির কাছে অত্যাধুনিক বাংকার-বিধ্বংসী বোমা বিক্রি করেছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ওবামা গোপনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে শক্তিশালী বাংকার-বিধ্বংসী বোমাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন আগামীকাল সোমবার প্রকাশিত হবে নিউজউইক-এ। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে আগাম এর কিছু অংশ প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশ দুটির কর্মকর্তারা নিউজউইককে বলেছেন, ‘জিবিইউ-২৮ হার্ড টার্গেট পেনিট্রেটরস’ নামের ওই বাংকার-বিধ্বংসী বোমাটি ২০০৯ সালেই ইসরায়েলকে সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেটি ইরানের পরমাণুকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবস্থার সময় কাজে লাগাতে পারবে ইসরায়েল।
রাষ্ট্রের স্বীকৃতির আবেদনে প্রেসিডেন্ট ওবামার বিরোধিতা করায় ফিলিস্তিনি এলাকায় মার্কিন ও ওবামাবিরোধী মনোভাব যখন তুঙ্গে, ঠিক তখন এই খবর বের হলো।

স্যাটেলাইটের ভগ্নাংশ কানাডায় পড়ে থাকতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) কক্ষচ্যুত কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) ভগ্নাংশ পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার নাসা জানায়, এসব ভগ্নাংশ সম্ভবত কানাডার ভেতর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সঠিক অবস্থানের ব্যাপারে তারা কিছু জানায়নি।
নাসা জানায়, গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী গতকাল ভোর তিনটা ৪৫ মিনিট থেকে চারটা ৪৫ মিনিটের মধ্যে পৃথিবীতে এসে পড়েছে ওই আপার অ্যাটমসফিয়ার রিসার্চ স্যাটেলাইটের (ইউএআরএস) ২৬টি খণ্ড।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত জয়েন্ট স্পেস অপারেশনস সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, উপগ্রহটি প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরের অংশ দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকেছে। তবে পৃথিবীর ঠিক কোন স্থানে আছড়ে পড়েছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাসা জানায়, ইউএআরএসের খণ্ডিত অংশগুলো কানাডা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরের একটি বড় অঞ্চলের ওপর দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে বিভিন্ন ব্যক্তি টুইটে জানিয়েছেন, কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের ক্যালগ্যারির ওকোটোকস শহরে কিছু ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। এসব নাসার উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ হতে পারে।
ছয় টন ওজনের ইউএআরএস পৃথিবীতে ভেঙে পড়লেও সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষতি হওয়ার তেমন কোনো আশঙ্কা নেই বলে বারবার জানিয়েছে নাসা।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওজন ও অন্যান্য রাসায়নিকের ওপর গবেষণা চালানোর জন্য ১৯৯১ সালে মহাকাশ যানের মাধ্যমে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছিল ইউএআরএস। ২০০৫ সালে এটি তার মিশন শেষ করে। এরপর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এটি ধীরে ধীরে কক্ষচ্যুত হতে শুরু করে।
৩৫ ফুট লম্বা ও ১৫ ফুট ব্যাসার্ধের ইউএআরএস হলো সবচেয়ে বড় কৃত্রিম উপগ্রহ, যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীতে ভেঙে পড়ল।

মমতার লক্ষ্য ভোটের ব্যবধান বাড়ানো

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ রোববার। আসন দুটি হলো দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট (উত্তর) আসন। এই দুটি আসনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা লড়ছেন ভবানীপুর আসনে। এই আসনের বিধায়ক ও রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য সুব্রত বকসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই আসনে লড়ার জন্য আসনটি ছেড়ে দেন। আর বসিরহাট (উত্তর) আসনটির সিপিএমের বিধায়ক মোস্তফা বিন কাসেম মে মাসে আত্মহত্যা করলে আসনটি শূন্য হয়।
ভবানীপুর আসনে মমতা যে জিতবেন, তা নিশ্চিত হয়ে গেলেও এখন তাঁর লক্ষ্য এই আসনে ভোটের ব্যবধান বাড়ানো। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে জয়ী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সুব্রত বকসী জিতেছিলেন ৪৯ হাজার ৯৩৬ ভোটের ব্যবধানে। তিনি পেয়েছিলেন ৮৭ হাজার ৯০৩ ভোট, হারিয়েছিলেন সিপিএমের প্রার্থী নারায়ণ জৈনকে। তাই মমতার লক্ষ্য এই আসনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতে চমকে দেবেন রাজ্যবাসীকে।
এবার মমতার বিরুদ্ধে সিপিএমের প্রার্থী হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখার্জি এবং বসিরহাট (উত্তর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের স্থানীয় নেতা সুবিদ আলী গাজি।
সিপিএমও চাইছে ভবানীপুর আসনে গত নির্বাচনের চেয়ে ভোটের ব্যবধান বাড়াতে। মমতা জিতে গেলেও গত নির্বাচনের ভোটের চেয়ে সিপিএমের প্রার্থী যাতে বেশি ভোট পান, সে লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সিপিএম তাদের প্রার্থী অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখার্জিকে নিয়ে।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারের বিধানসভার নির্বাচনে কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। দল তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছে। এবার সংবিধান মেনে গদিতে বসার ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যে যেকোনো একটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে আসতে হবে মমতাকে। সেই লক্ষ্যে মমতা ভবানীপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে লড়ছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।

দরিদ্র দেশগুলোর উন্নয়নে বিল গেটসের প্রস্তাব

দরিদ্র দেশগুলোর উন্নয়নে অর্থনৈতিক লেনদেনবিষয়ক কর আরোপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তবে ফ্রান্স জানিয়েছে, জি-২০ দেশগুলোর বেশির ভাগ এই ধারণাকে সমর্থন করে না।
ওয়াশিংটনে গত শুক্রবার জি-২০ দেশগুলোর মন্ত্রীদের এক বৈঠকে এক প্রতিবেদনে বিল গেটস এ প্রস্তাব করেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থনৈতিক লেনদেন, তামাকজাত দ্রব্য, জাহাজ ও বিমানের জ্বালানির ওপর কর আরোপ করে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তহবিল সংগ্রহ করা যেতে পারে। বিল গেটসের এ প্রস্তাব আগামী নভেম্বরে ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে উত্থাপন করা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় আট হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি ডলার ঘাটতি পূরণসহ অন্যান্য খাতের তহবিল সংগ্রহের উপায় নিয়ে গেটস ফাউন্ডেশন কাজ করছে।

জাপানের ধানে অতিমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা

জাপানে এই প্রথম ধানের মধ্যে সরকার-নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রার তেজস্ক্রিয় উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ফুকুশিমার নিহনমাৎসু নগরে নির্ধারিত সময়ের আগে তোলা কিছু ধানের প্রাথমিক পরীক্ষায় সিজিয়াম নামের এই তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় যেসব ধান কাটা হবে, তা এখন বিশদভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার রাতে জাপানের খামারবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নিহনমাৎসু নগরে আগেভাগে তোলা কিছু ধানের নমুনা পরীক্ষা করে প্রতি কেজি ধানে ৫০০ বিকুয়েরেলস পরিমাণ সিজিয়াম পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে ওই পরিমাণ ধানে সরকার-নির্ধারিত স্বাভাবিক মাত্রা ২০০ বিকুয়েরেলসের কম। জাপানে উৎপাদিত ধানে এত বেশি তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়ার ঘটনা এই প্রথম। এতে পুরো ওই এলাকার ধানে তেজস্ক্রিয় পদার্থের মাত্রা পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। গত ১১ মার্চ জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার পর দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
ফুকুশিমার পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর পানি থেকে শুরু করে খাদ্যশস্য ও শাকসবজিতে তেজস্ক্রিয়াজনিত দূষণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

ওডিশার আইনপ্রণেতা ও দেহরক্ষীকে গুলি করে হত্যা

ভারতের ওডিশা রাজ্যের আইনপ্রণেতা (এমএলএ) জগবন্ধু মাঝি (৩৯) ও তাঁর দেহরক্ষী পি কে পাত্রকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্দেহভাজন মাওবাদী গেরিলারা।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজ্যের নওয়ারংপুর জেলার গোনা গ্রামে আয়োজিত এক সভায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বিশিষ্ট উপজাতি নেতা জগবন্ধু মাঝি ওডিশার ক্ষমতাসীন বিজু জনতা দলের (বিজেডি) উমরকোট আসন থেকে নির্বাচিত আইনপ্রণেতা ছিলেন।
রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক মনমোহন প্রহারাজ বলেন, গোনা গ্রামবাসীর মধ্যে জমির দলিলপত্র বিতরণের সময় অজ্ঞাতনামা চার ব্যক্তি গুলি ছুড়ে জগবন্ধু মাঝি ও তাঁর দেহরক্ষীকে হত্যা করে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই জায়গাটির পাশেই মাওবাদী গেরিলাদের এলাকা ছত্তিশগড়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মাওবাদীরা জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নওয়ারংপুর জেলার পুলিশ সুপার নীতি শেখর বলেন, জগবন্ধু মাঝি ও তাঁর দেহরক্ষীর লাশ উদ্ধার করে রায়গড় পুলিশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

আবার প্রেসিডেন্ট পদে পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল শনিবার বলেছেন, ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের উচিত আবার ছয় বছর মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া। জবাবে প্রধানমন্ত্রী পুতিন বলেছেন, মেদভেদেভের এই প্রস্তাব তাঁর জন্য খুবই সম্মানের।
ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে মেদভেদেভ বলেন, আগামী বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সরকারের জন্য কাজ করতে তিনি প্রস্তুত। এর মাধ্যমে তিনি এ আভাস দিলেন যে নতুন প্রেসিডেন্টের অধীনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
মেদভেদেভ বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট পদে দলের চেয়ারম্যান পুতিনকে সমর্থন করাই দলের জন্য সঠিক কাজ হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে দল জয়ী হবে বলে আমি প্রায় নিশ্চিত। তা যদি হয়, তাহলে দেশকে আরও আধুনিক করার জন্য প্রকৃত কাজ করে যেতে আমি প্রস্তুত।’ সংবিধান পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছরের পরিবর্তে ছয় বছর করেছেন মেদভেদেভ। পুতিনের ক্ষমতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট পদে পুতিনের নাম প্রস্তাব করায় মেদভেদেভকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুতিন বলেছেন, ‘আমার জন্য এটা খুবই সম্মানের।’
পুতিন এর আগেই বলেছিলেন, দেশের জন্য ভবিষ্যতে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, এ নিয়ে মেদভেদেভ ও তাঁর মধ্যে অনেক আগেই সমঝোতা হয়েছে। পরপর দুই মেয়াদে আট বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করার পর ২০০৮ সালে ক্রেমলিন ছাড়েন পুতিন। এরপর প্রেসিডেন্ট হন মেদভেদেভ।

সালেহ ফেরার পর ইয়েমেনে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার পর দেশজুড়ে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানী সানায় সংঘর্ষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিদ্রোহী সেনাসহ ৪০ জনেরও বেশি নিহত হয়। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৬৭ জন। বিক্ষোভকারী, বিদ্রোহী সেনা ও সানার হাসপাতালের চিকিৎসক সূত্রে এ কথা জানা যায়।
সালেহবিরোধী আন্দোলনের সংগঠক কমিটির এক সদস্য বলেন, চেঞ্জ স্কয়ারসহ সানার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে গতকাল ৪০ জনেরও বেশি নিহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রেসিডেন্ট সালেহর অনুগত সেনারা চেঞ্জ স্কয়ারে সরকারবিরোধীদের প্রধান শিবির লক্ষ্য করে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে মর্টারের গোলা ছুড়তে শুরু করে। তারা গোপন স্থান থেকে গুলিও ছুড়তে থাকে। গতকাল তা জোরদার হয়। রাজধানীজুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল সরকারবিরোধীরা চেঞ্জ স্কয়ার থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তবে সরকারি সেনারা কয়েকটি স্থান থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে।
সানার এক বাসিন্দা জানান, শুক্রবার রাতে গোলাগুলির শব্দ শুনতে শুনতেই তাঁরা ঘুমাতে যান। ভোরে গোলাগুলির শব্দের মধ্যেই তাঁদের ঘুম ভেঙেছে।
প্রেসিডেন্ট সালেহর ছেলে আহমেদ নিয়ন্ত্রিত রিপাবলিকান গার্ড এক সপ্তাহ ধরে জেনারেল আলী মোহসেন আল-আমর নিয়ন্ত্রিত ফার্স্ট আর্মার্ড ব্রিগেডের বিদ্রোহী সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। ব্রিগেডের একজন মুখপাত্র জানান, রিপাবলিকান গার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে গতকাল তাঁদের ১১ জন সদস্য নিহত ও ১১২ জন আহত হয়েছে।
সরকারি সেনাদের মর্টারের গোলা ও গুলিবর্ষণে শুক্রবার মধ্যরাতে চেঞ্জ স্কয়ারে অবস্থান নেওয়া ১৭ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত হয় বলে সানার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। গত রোববার বিদ্রোহী সেনাদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াই শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭৩ জন নিহত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সালেহ চিকিৎসা শেষে তিন মাসেরও বেশি সময় পর গত শুক্রবার সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই তিনি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক ও সামরিক দলগুলোর প্রতি অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দেন। সালেহকে স্বাগত জানাতে তাঁর বাসভবনের পাশে সাবিন স্কয়ারে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়। সেখানে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি শান্তির প্রতীক পায়রা ও জলপাইগাছের শাখা হাতে নিয়ে দেশে ফিরেছি, কারও প্রতি ঘৃণা নিয়ে নয়। জাতীয় স্বার্থে এবং সম্মানের খাতিরে সব ব্যথা ও আঘাত ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কুলি থেকে প্রেসিডেন্ট

লন্ডনের ভিক্টোরিয়া স্টেশনে অন্য সব পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো তিনিও করতেন ঝাড়ামোছার কাজ। সুযোগ পেলে করতেন কুলির কাজও। এভাবে চলত তাঁর দিন। বড় হওয়ার স্বপ্ন, মানবকল্যাণের ব্রত ও নিরলস চেষ্টা তাঁকে নিয়ে গেছে সাফল্যের শিখরে। রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি পৌঁছে গেছেন রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে।
সেদিনের সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কুলিই আজ জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট মাইকেল সাতা। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার শপথ নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি লন্ডনের রেলওয়ে স্টেশনের চেয়েও মাতৃভূমিকে বেশি পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ৭৪ বছর বয়সী সাতা আট সন্তানের জনক।
পূর্বসূরি রুপিয়া বান্দার সাবেক সরকারের সমালোচনা করে সাতা বলেছেন, দুর্নীতির ব্যাপারে বান্দার সরকার ছিল নমনীয়। তাই তাঁর প্রথম কাজ হচ্ছে দুর্নীতি দমন করে দেশের খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন করা।
স্পষ্টভাষী বলে ‘কিং কোবরা’ হিসেবে পরিচিত সাতা। জাম্বিয়া যখন ব্রিটিশ-শাসকদের উপনিবেশ ছিল, ওই সময় সাতার জন্ম। তিনি লন্ডনে যান গত শতকের পঞ্চাশের দশকের দিকে। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কুলি হিসেবে কাজ করেন ভিক্টোরিয়া স্টেশনে। কাজের ফাঁকে খণ্ডকালীন পড়াশোনা করেছেন। দেশে ফিরে যোগ দেন পুলিশ বাহিনীতে।
সারা দেশের মানুষ নিরাপদ পানি পান করার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত নিজে কোনো বোতলজাত পানি পান করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সাতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন তিনি। গঠন করেন প্যাট্রিওটিক ফ্রন্ট।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশটিতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও প্রভাবের ঘোরবিরোধী সাতা। সমালোচকেরা বলছেন, সাতার বেইজিংবিরোধী এ মনোভাবের কারণে জাম্বিয়ার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জাম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, সাতার সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত তাঁর দেশ।

প্রোস্টেট ক্যানসারে আলফা রশ্মি ব্যবহারে সাফল্য

প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিৎসায় আলফা রশ্মির বিকিরণ ব্যবহারে পরীক্ষামূলকভাবে দারুণ সাফল্য পাওয়া গেছে—দাবি করে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের অগ্রগতি।
লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা দাবি করেন, আলফা রশ্মির বিকিরণ প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসারের কোষবাহী টিউমারের বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। প্রোস্টেট ক্যানসার রোগীদের ওপর শক্তিশালী আলফা রশ্মি ব্যবহার করে চিকিৎসকেরা দেখেছেন, এতে রোগীরা কম কষ্ট পায়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম। চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা এই ক্যানসারে আক্রান্ত অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় বাঁচেন।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিউমারের ক্ষতিকর কোষের বিস্তার রোধে রশ্মি ব্যবহূত হচ্ছে। এই রশ্মি ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার জেনেটিক কোড ধ্বংস করে। রশ্মির জগতে আলফা কণা বড় ও বিপুল। এটা বেটা রশ্মির চেয়েও অনেক বড়।
গবেষক দলের প্রধান ক্রিস পার্কার বলেন, আলফা রশ্মি এক, দুই বা তিনবারের বেলায়ই ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম। বেটা রশ্মির ক্ষেত্রে এটা কয়েক হাজারবার লাগে। এ ছাড়া আলফা কণা ক্যানসারের আশপাশের কোষগুলোর কম ক্ষতি করে। প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিৎসায় এটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে তিনি দাবি করেন।
ক্যানসার রিসার্চ ইউকের রেডিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ এবং গ্রে ইনস্টিটিউট ফর রেডিয়েশন অনকোলজি অ্যান্ড বায়োলজির পরিচালক অধ্যাপক গিলিস ম্যাককেনা বলেন, গবেষণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকা টিউমারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ ফলাফল অর্জন গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।