Tuesday, November 17, 2009

যাহা বায়ান্ন, তাহাই তিপ্পান্ন -বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন byমুশফিক মান্নান চৌধুরী

শর্তসাপেক্ষে শাখা ক্যাম্পাস ও দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখে মন্ত্রিসভায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সম্প্র্রতি অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আইনটিকে যদি কেউ ‘যাহা বায়ান্ন, তাহাই তিপান্ন’ বলে অভিহিত করে, তাহলে দোষ দেব কাকে?
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে শিক্ষা-বাণিজ্য, আর এই বাণিজ্যের প্রধান বাহন বা বিপণিকেন্দ্র হচ্ছে এর শাখা বা আউটার ক্যাম্পাস এবং দূরশিক্ষণ কার্যক্রম।
১৯৯২ সালের প্রথম আইন এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালে সংশোধিত আইনে দূরশিক্ষণ ও শাখা ক্যাম্পাসের প্রসঙ্গ ছিল না। তারপরও অনুমতি ছাড়া এবং আইন অমান্য করে এমন শিক্ষা চালুর মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা বিতর্কিত করে তোলা হয়। ২০০৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এ ধরনের শিক্ষা অবৈধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। এর পরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আইনের আশ্রয় নিয়ে বা গায়ের জোরে অবৈধ শাখা পরিচালনা করে যাচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রণীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে শাখা ক্যাম্পাস ও দূরশিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিষয়টি ছিল মেঘ না চাইতেই জলের মতো বিষয়। ওই অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদ গ্রহণ করেনি। ধারণা করা হচ্ছিল, এবারের আইন থেকে দূরশিক্ষণ, শাখা ক্যাম্পাস ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার প্রসঙ্গ বাদ যাবে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ না চাইলেও সেটি বাদ যায়নি। এ প্রসঙ্গে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমে বলছে, আইনে এসব বিষয় থাকলেও প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিন আইনে ছিল না, তারপরও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা ঠেকানো যায়নি। এবার আইনে উল্লেখ থাকায় এক ধরনের বৈধতা এল। যেখানে আইন কেউ মানতে চায় না, সেখানে নীতি দিয়ে এটা কতটা ঠেকানো যাবে, সেটা দেখার বিষয়।
গত বছর প্রথম আলো ‘উচ্চশিক্ষার ফেরিওয়ালা’ শিরোনামে বেশ কয়েকটি পর্বে দূরশিক্ষণ ও আউটার ক্যাম্পাস কার্যক্রমের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। সরেজমিন ওই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শাখা ক্যাম্পাস ও দূরশিক্ষা কার্যক্রমের কারণেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ শতাংশ বদনাম হচ্ছে।
প্রথম আলোর (২২ অক্টোবর) জরিপে দেখা যায়, শতকরা ৬১ দশমিক ৪৬ ভাগ উত্তরদাতা এই শাখা ক্যাম্পাস ও দূরশিক্ষণের বিরোধী। কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করা গেল, শর্তসাপেক্ষে কথাটা জুড়ে দিয়ে এই শিক্ষার বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
শাখা ক্যাম্পাস বা দূরশিক্ষণের শর্তাবলি পালন করতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সংগতি প্রয়োজন। এই সংগতি ইতিমধ্যে আইন অমান্যকারীরা অর্জন করে রেখেছেন। তাঁদের কেউ কেউ দেশের প্রতিটি জেলায় এমনকি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষায় মাছবাজারের পেছনেও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে শাখা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাঁদের অনেকের আয় হয়েছে বিপুল পরিমাণ, ব্যয় হয়েছে যত্সামান্য। তার একাংশ হয়েছে দালালের পেছনে, একাংশ খরচ হয়েছে মুখ বন্ধ করার কাজে আর একাংশ ব্যয় হয়েছে সনদ মুদ্রণ বাবদ। এই শর্তসাপেক্ষ কথাটি জুড়ে দিয়ে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এবার তারা গাছেরটা খেয়ে তলারটাও কুড়াবে। আর কেউ যদি ভেবে থাকেন নতুন আইনে নবাগতরা ঢাকা কিংবা ঢাকার বাইরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করবে, তাদের আশায় গুড়ে বালি। নতুন আইনটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, আইনটি মুষ্টিমেয় স্থানীয় রাঘববোয়াল কিংবা নামসর্বস্ব বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুপ্রবেশের জন্য করা হয়েছে।
কতিপয় ক্ষমতাবানের একগুঁয়েমি, কতিপয় সুবিধাভোগীর স্বার্থান্ধতা এবং কিছু ব্যক্তির অদূরদর্শিতা কখনো কখনো মহত্ উদ্যোগকে বিনষ্ট করে দিতে পারে, তার প্রমাণ এই আইনের ফাঁকফোকরে আছে। জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার আগে আইনটির বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন। নইলে সমালোচনার গণ্ডি থেকে বের হতে পারবে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা।
ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী: সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

লুকোচুরি না করে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা হোক -টিফা চুক্তি by আবুল কালাম আজাদ

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রেক্ষাপটে টিফা বা ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট আবারও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে সংবাদপত্রে বেশ কিছু লেখালেখি ও টেলিভিশনের বিভিন্ন টক শোতে আলোচনা হচ্ছে। এসব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ টিফা চুক্তি সই না করে বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে এবং পৃথিবীর স্বল্পোন্নত থেকে উন্নত যে অর্ধশতাধিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ চুক্তি সই করেছে, তারা কত বোকা! কয়েক সপ্তাহ আগে এক টেলিভিশনের রাত ১১টার টক শোতে এক বিজ্ঞ আলোচক বললেন, টিফা সই করলে নাকি পেটেন্ট রাইটসের কারণে আমাদের দেশে প্যারাসিটামলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। কী সাংঘাতিক কথা! প্যারাসিটামলের পেটেন্ট রাইটস তো কয়েক যুগ আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই প্যারাসিটামল বা যেসব ওষুধের পেটেন্ট রাইটস ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোর দাম বাড়ার প্রশ্ন অবান্তর। এভাবে জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার কেন করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।
টিফা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি কাঠামো চুক্তি। এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে এতদ্সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে টিফা সম্পাদনে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। ১৯৮৯ সালে তারা প্রথম এ ধরনের চুক্তি করে ফিলিপাইনের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশসহ মোট ৪১টি দেশ ও পাঁচটি আঞ্চলিক সংস্থার (যেমন ক্যারিকম, কমেসা, আসিয়ান ইত্যাদি) সঙ্গে টিফা সম্পাদন করেছে।
২০০৩ সালের প্রথম দিকে সম্ভবত জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের বিবেচনার জন্য টিফার প্রথম খসড়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। অন্যান্য যেকোনো চুক্তির মতো টিফাও দুটি অংশে বিভক্ত—প্রিয়েম্বল বা প্রস্তাবনা এবং আর্টিকেল বা অনুচ্ছেদ। ২০০৩ সালের খসড়ায় ১৭টি (বর্তমানে ১৯টি) প্রস্তাবনা ও সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রস্তাবনার ১৭টির মধ্যে দুটি বিষয়ে বাংলাদেশের জোরালো আপত্তি ছিল। এর একটি হলো মেধাসম্পদ অধিকারের সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব স্বীকার করা এবং অন্যটি নিজ নিজ দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব স্বীকার করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রমমান বজায় রাখা। এ খসড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধের ইচ্ছাসংক্রান্ত প্রস্তাবনাটি ছিল না। প্রকৃত পক্ষে ২০০৪ সাল পর্যন্ত যেসব টিফা স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলোতে এটি ছিল না। যক্তরাষ্ট্র সরকারের নীতি পরিবর্তনের ফলে ২০০৫ সাল থেকে দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধের ইচ্ছাসংক্রান্ত প্রস্তাবনাটি যোগ করা হয়। সর্বশেষ ২০০৮ সালের খসড়ায় নিজ নিজ দেশের আইন অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ উন্নয়নের গুরুত্ব স্বীকার করার বিষয়টিও প্রস্তাবনায় যোগ করা হয়েছে। প্রস্তাবনার এই চারটি বিষয়ে বাংলাদেশ আপত্তি তুলেছে।
টিফার অনুচ্ছেদ অংশে যে বিধানাবলি সন্নিবেশিত হয়েছে, তা মোটামুটিভাবে নিম্নরূপ: ১. বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং পণ্য ও সেবা বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উভয় পক্ষের দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা। ২. উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কাউন্সিল গঠন, কাউন্সিল বছরে অন্তত পক্ষে একবার সভা করবে এবং কাউন্সিল তার কাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। ৩. দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য উন্নয়নে কাউন্সিলের কার্যপরিধি। ৪. কাউন্সিলের সভা ডাকার পদ্ধতি। ৫. উভয় দেশের বলবত্ আইন বা অন্য কোনো চুক্তির দায়দায়িত্ব ও অধিকারকে টিফা দ্বারা ক্ষুণ্ন না করা। ৬. স্বাক্ষরের দিন থেকে চুক্তি কার্যকর হওয়া এবং ৭. ছয় মাসের নোটিশে চুক্তি বাতিল করার বিধান।
যেকোনো চুক্তির প্রস্তাবনায় কিছু স্বীকৃতি ও অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয় এবং সেগুলো বিবেচনায় এনে অনুচ্ছেদ অংশের বিধানাবলি প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সম্মত হয়। তাই অনুচ্ছেদ অংশের বিধানাবলি অবশ্যপালনীয়, পক্ষান্তরে প্রস্তাবনার বিষয়গুলো অভিপ্রায়মাত্র। টিফার অনুচ্ছেদ অংশে আপত্তির কিছু নেই এবং বাংলাদেশও এই অংশে কোনো আপত্তি তোলেনি। টিফার প্রস্তাবনা অংশের যে বিষয়গুলো নিয়ে জনমনে ভীতি বা সংশয় আছে, সেগুলোর ওপর কিছু আলোকপাত করা সমীচীন মনে করছি। প্রথমেই ধরা যাক, নিজ নিজ দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব স্বীকার করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রমমান বজায় রাখার প্রস্তাবনা। নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, এটা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের হাত মোচড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি-সুবিধা ভোগ করছে, এমন দেশের (বাংলাদেশসহ) হাত মোচড়াতে টিফার প্রয়োজন নেই; জিএসপি আইনেই তারা সেটি করতে পারে। বাংলাদেশের ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন-ব্যবস্থা নেই, এমন অভিযোগ এনে এ দেশের জিএসপি বাতিলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তরে আবেদন দিয়েছে সে দেশের শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও। আবেদনটি এখনো বিবেচনাধীন। আমরা আমাদের শ্রম আইন ও আইএলও কনভেনশন যদি মেনে চলি, তাহলে তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া বাইরের চাপে যদি আমাদের শ্রমিকদের কল্যাণ হয়, তাতে সর্বনাশটা কোথায়?
দ্বিতীয়ত, মেধাসম্পদ অধিকারের (Intellectual Property Rights) সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব স্বীকার করাসংক্রান্ত প্রস্তাবনা। এ বিষয়ে বিশিষ্টজনেরা সংশয় প্রকাশ করেছেন, টিফায় ট্রিপস ঢুকলে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের গাছপালা, গরু-ছাগল, মাছসহ সব পণ্যের ওপর পেটেন্ট করার অধিকার পেয়ে যাবে। এটি অমূলক। পেটেন্ট আইনমতে, নতুন কোনো আবিষ্কারের জন্যই কেবল আবিষ্কারক পেটেন্ট রাইটস পেতে পারেন। এই আবিষ্কারের নতুনত্ব (Novelty) ও Inventive steps থাকতে হবে; জানা কোনো কিছুর পেটেন্ট মঞ্জুর করা যায় না। অনেকে বলছেন, টিফা স্বাক্ষর করলে বাংলাদেশ ট্রিপসের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এ ধারণাটিও ঠিক নয়। কারণ এ বিষয়ে টিফার প্রিয়েম্বল বা প্রস্তাবনায় নিম্নরূপ রক্ষাকবচ রয়েছে: ‘...noting that this Agreement is without prejudice to each Party’s rights and obligations, where applicable, under the Marrakesh Agreement Establishing the WTO and the agreements, understandings, and other instruments relating thereto or concluded under the auspices of the WTO’. অর্থাত্ ডব্লিউটিওর আওতায় ট্রিপসসহ বিভিন্ন চুক্তিতে বাংলাদেশের যে দায়দায়িত্ব ও অধিকার বিদ্যমান আছে, তা টিফা দ্বারা ক্ষুণ্ন হবে না। অনুরূপভাবে বাণিজ্য ও পরিবেশ (Trade and Environment) বিষয়টি ডব্লিউটিওর দোহা রাউন্ডে আলোচিত হচ্ছে। সেখানে কোনো চুক্তি হলে বাংলাদেশ তার সুবিধা-অসবিধা দুটোই ভোগ করবে। তা ছাড়া পরিবেশের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন আমাদের নিজেদের জন্যও অতি গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর আসছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধের ইচ্ছাসংক্রান্ত প্রস্তাবনাটি। আগেই বলেছি, এটি ২০০৩ সালের প্রথম খসড়ায় ছিল না, ২০০৫ সালে যোগ করা হয়েছে। ওই সময় ঢাকায় টিফা নিয়ে নেগোসিয়েশনের সময় ইউএসটিআর দপ্তরের বাংলাদেশ ডেস্ক অফিসার মিজ বেটসি স্টিলম্যান To eliminate bribery and corruption-এর পরিবর্তে favor good governance শব্দগুলো প্রতিস্থাপনে নিমরাজি হলেও ওয়াশিংটনে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেয়নি। প্রকৃতপক্ষে ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো টিফাই এটি ছাড়া হয়নি। এমনকি দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে পরিচিত আইসল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের টিফায়ও এটি আছে। এটি টিফায় সন্নিবেশের কারণে ওই সব দেশের মান না গেলে আমাদের মান যাবে কেন? উপরন্তু এতে যদি বাংলাদেশের ঘুষ ও দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে, তাতে ক্ষতি তো কিছু দেখছি না। বরং বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান বাড়বে, মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্ট (এমসিএ) থেকে সহায়তা প্রাপ্তিও সহজতর হবে।
কম্বোডিয়া, ইয়েমেন, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে সম্ভবত বাংলাদেশের মতো এত বিশেষজ্ঞ সার্জন নেই, তাই টিফা নামক ফোঁড়া কাটতে তারা অত শত চিন্তা করেনি। ভিয়েতনামের মতো সমাজতান্ত্রিক দেশও তাদের এককালের শত্রুর সঙ্গে টিফা সম্পাদন করেছে এবং তাও আবার বিদ্যুত্গতিতে। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ভিয়েতনাম ডব্লিউটিওর সদস্যপদ লাভ করে। ওই বছরের মার্চ মাসে টিফা নেগোসিয়েশন শুরু করে জুন মাসে চুক্তি সই করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের রপ্তানি তর তর করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ বিগত প্রায় সাত বছরেও টিফা সম্পাদন করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিরোধ আলোচনার জন্য আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক ফোরাম নেই। টিফা এই শূন্যস্থানটি পূরণ করে দিতে পারে। তা ছাড়া টিফাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই আর লুকোচুরি না করে টিফার ওপরে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা হোক এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে অবিলম্বে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
আবুল কালাম আজাদ: অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও সাবেক ইকোনমিক মিনিস্টার, বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি।

পুরান ঢাকার সিক্কাটুলি পুকুর -সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করতে পদক্ষেপ নিন

বর্ষা মৌসুমে ঢাকা মহানগরের জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি দিন দিন স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভারী বর্ষণ হলে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়। এর কারণ, বৃষ্টির পর পানি বের হতে না পারা। রাজধানীতে যেসংখ্যক জলাধার দরকার, তা না থাকায় এমনটি ঘটে। অথচ একসময় ঢাকায় অগুনতি পুকুর- জলাশয় ছিল, প্রায় ৫০টির মতো খাল ছিল। এগুলোর অধিকাংশ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভূমি-আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। ঢাকায় জলাবদ্ধতা ও পরিবেশের বিপর্যয় যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত অবশিষ্ট জলাধারগুলো সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।
গত শনিবারের প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, পুরান ঢাকার সিক্কাটুলির ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি রক্ষার জন্য নগরবাসী সরব হয়েছেন। গত শুক্রবার পরিবেশবাদী ও স্থানীয় লোকজন পুকুরটি ভরাট বন্ধের দাবি জানিয়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূর করা, আগুন লাগলে পানির উত্স হিসেবে এবং স্থানীয় লোকজনের নানা প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুরটির অবদান রয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেছেন, একটি চক্র এ পুকুরটির মালিকানা দাবি করে সেখানে ভবন নির্মাণের চক্রান্ত করছে, যা জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-এর লঙ্ঘন। শতবর্ষী সেই পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে তাঁরা এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জলাশয় সংরক্ষণে বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি না নিয়ে কোনো জলাশয় ভরাট করা যায় না। আইনটির কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা দরকার। আমরা বহু জলাশয় হারিয়ে যেতে দেখেছি, আর নয়। আশার কথা, পরিবেশবাদীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে সচেতন হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, জনগণের দাবির প্রতিফলন ঘটতে দেখা যাবে কর্তৃপক্ষের কাজে।

প্রস্তাবিত ভৈরব জেলা -আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করুন

প্রস্তাবিত ভৈরব জেলা বাস্তবায়ন এবং অখণ্ড কিশোরগঞ্জ জেলা রক্ষার পরস্পরবিরোধী অনমনীয় অবস্থানের কারণে পুরো কিশোরগঞ্জেই এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভৈরব জেলা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ভৈরবে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে। অবরোধের কারণে কিশোরগঞ্জের সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীপথেও সৃষ্টি করা হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। এ কারণে মানুষের বেশ দুর্ভোগ হচ্ছে। সমস্যাটি যে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সমাধান করা উচিত, তেমন কোনো লক্ষণ সরকারের মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে না।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের স্বার্থে নতুন জেলা গঠনকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের। দেশের ৬৪ জেলার বাইরে যে কয়টি সমৃদ্ধ জনপদ রয়েছে, ভৈরব এর অন্যতম। ভৈরববাসী মনে করে, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের বিবেচনায় ভৈরব কিশোরগঞ্জের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন জেলা প্রতিষ্ঠার সময় আন্ত-উপজেলা যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু প্রস্তাবিত ভৈরব জেলার ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে ভৈরবসহ পাঁচটি উপজেলা নিয়ে প্রস্তাবিত ভৈরব জেলার গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি—বাজিতপুর, নিকলী ও কটিয়াদীর যোগাযোগ কিশোরগঞ্জ সদরের সঙ্গেই বেশি। নরসিংদী জেলার রায়পুরা (একাংশ) উপজেলা প্রস্তাবিত ভৈরব জেলায় অন্তর্ভুক্ত হতে চায়। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা ভৈরবের নিকটবর্তী হওয়ায় অষ্টগ্রামকেও ভৈরবের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে অনেকেই।
এ ধরনের মত-দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু তা নিয়ে রাস্তাঘাটে সমাবেশ-অবরোধ না করে আলোচনায় বসে সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করা উচিত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয় এমন পদক্ষেপ নেওয়া কোনো পক্ষেরই উচিত নয়। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ইচ্ছার বাস্তবায়ন করতে গিয়েই ভৈরব জেলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রপতি ছাড়াও স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ এবং এলজিআরডি মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের সন্তান। রাষ্ট্রের তিনজন অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এলাকা হিসেবেও সমস্যাটি বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার আশু সমাধান করা হোক।

নরেন বিশ্বাসের ঐতিহ্য-অঙ্গীকার by বিপ্লব বালা

প্রয়াত নরেন বিশ্বাসের আজ ৬৩তম জন্মদিন। ১৯৯৮ সালে তাঁর প্রয়াণ ঘটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এটা তাঁর বড় পরিচয় নয়। প্রাণভরে ভালোবেসেছিলেন তিনি ভাষা, বাংলা ভাষা। তার কাব্য-সাহিত্যের বিবিধ রতন, অতুল অলংকার আর উচ্চারণ-সূত্র বিভোর আকুলতায় উপভোগ-ব্যাখ্যান করে গেছেন জীবনভর। সাধারণ শিক্ষার্থী আর আপামরজনে বিতরণ করেছেন ভাষার রূপ-রস-নন্দন। সব বাংলাভাষীর জন্য বাচিক উচ্চারণ-সূত্র একজীবনের মূল্যে প্রণয়ন-সন্ধান, দেশজোড়া নিরন্তর কর্মশালায় তার শিক্ষাচর্চা সম্পন্ন করে চলেছিলেন। বড় আকুল প্রেমভরে। শুষ্ক নিরস উচ্চারণ নিয়মরীতি তাঁর বাচনে হয়ে উঠেছিল কিশোর প্রেমিকের মুগ্ধ আশ্লেষ যেন বা। প্রণয়ের চিরবিস্ময়-লাবণ্য ভাষ!
জন্মেছিলেন গোপালগঞ্জের অজ এক পাড়াগাঁয়ে। নিম্নবর্ণের বাঙাল শূদ্র, এই জলি নমো কোথায় পেয়েছিলেন তবে অপরূপ ভাষা-রাজকন্যার সন্ধান-পরিচয়? চিকন কালা কৃষ্ণ কানাইয়ার মতোই সে একলব্য-ব্রত নিষ্ঠা? বাংলা মনের এমন ঐতিহ্য অঙ্গীকারধারা বুঝি অনিঃশেষ ফল্গুধারায় আজও চিরবহমান, যার উত্তরাধিকার নাগরিকজনের আয়ত্তগম্য হয় না তত। যতই কেন পণ্ডিতমন্য অধ্যাপক সুযোগ-সুবিধার ভাষাজীবিকায় ক্ষমতালেহী হয়ে ওঠেন। তার জন্য চাই যে অন্যতর দেশ-সমাজ-মানুষ সম্বন্ধন। নিরক্ষর গ্রাম-সমাজের বিপুল বিচিত্র ভাব-ভাষা শ্রুতির অতুল ভাণ্ডার, মাতৃভাষা-রূপ খনির জোগান লাগে। সেই সব কথক-গায়েন-কবিয়াল আর গ্রামের শিক্ষক-পণ্ডিতের কাছেই হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। তাতে বাল্য-কৈশোর বেলায়ই ভাষার ভাব-রসে নাড়া-বাঁধা দীক্ষা পেয়ে যান, যাতে জীবিকার চাকরি তাঁকে কেবল বিদ্যাজীবী হতে বাদ সেধেছিল। তাই বুঝি, ভাষা সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা বা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা তাঁর অমল সরস মনটি কিংবা মুখের অমন দেশি বাংলা হাসিটি মুছে দিতে, নেভাতে পারেনি। ‘অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়া ছাড়া/ সুখ নেই’ যে নাগরিক সমাজের।
মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন কলেজের বাংলা ক্লাসে তাঁর রক্তাক্ত প্রান্তর পাঠাভিনয় হয়ে উঠত পথচারী সাধারণজনেরও নাট্য রস-ভোক্তার অবাধ এক আসর। কে বলবে এই ওস্তাদ কথক-নটবর দাড়িয়াল শিক্ষক বামপন্থী এক কট্টর সমর্থক কর্মী শুভানুধ্যায়ী। মুক্তিযুদ্ধকালে যাঁর ভিন্ন রাজনীতির নাটক হামলা করেই বন্ধ করা হয় শরণার্থী ক্যাম্পে ক্যাম্পে। যদিও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর কবিতা, গান, নাটক প্রচারিতও হয়েছে। পরবর্তীকালে দেশে ফিরে, এক মন্ত্রীপ্রবরকে উদ্দেশ করে সংবর্ধনাপত্র লিখতে রাজি না হওয়ায় দিন কয়েকের হাজত নাকি মাস তিনেকের কারাবাসই ঘটেছিল।
তবে ক্রমে তিনি বুঝে নিয়েছিলেন, রাজনীতির এই ডন কিহোতিপনা তাঁর মনের স্বধর্ম নয়। আশৈশব তিনি যে বাগদত্ত ভিন্ন এক প্রণয়কলায়। তাঁরও বিহনে বদনখানি নয়নজলে মলিন সে রোরুদ্যমানার—যাহার ‘ভাষা হায় সকলে ভুলিতে চায়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের ক্লাসেই অতঃপর শুরু হয় তাঁর বাংলা ভাষার প্রেমাভিসার। ক্রমে তাঁর অপ্রতিরোধ্য বিস্তার ঘটে টিএসসির সর্বদলীয় কর্মশালায়—আবৃত্তির, নাটকের। গণমাধ্যমগুলোতে আর দেশজোড়া বিবিধ আয়োজনে। গোপালগঞ্জী এই বাঙাল, যাঁর চ-বর্গ উচ্চারণে যতই কেন ভুল ধরতে থাকে সূক্ষ্মশীলনীরা, উচ্চারণের সূত্র তাঁকে যে গিলিয়ে মাতাতে হবে যত আঞ্চলিক সাক্ষর শিক্ষিতজনে—এমনই ছিল যেন তাঁর ‘দাবায় রাখতে পারবা না’ রোখ, বাঙালের গোঁ আর কাকে বলে! একাই প্রণয়ন করে ফেলেন ৩০ হাজার শব্দের আস্ত এক উচ্চারণ অভিধান। এই কাজে তিনি হাসিমুখে বাটিয়া দেন তাঁর মনপ্রাণদেহের একের পর এক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কড়ায়-গণ্ডায় বিনিময় মূল্য হিসেবেই যেন। সবশেষে, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও বাংলা সাহিত্যের গদ্য-পদ্য-নাটকের পঙিক্তমালা ধারণ করেন ক্যাসেট-সিডিতে—‘ঐতিহ্যের অঙ্গীকার’ নামে। আনিসুজ্জামান থেকে সুবর্ণা মুস্তফা—আবৃত্তি-অভিনয়ের সর্বসেরা কথক নট-নটীবর সহযোগে, সবার মধ্যমণি ছিলেন তবে তিনি। পূর্বকার সাহিত্যপ্রথা ভেঙেই তাই ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন উচ্চমন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে। বিপুল জোয়ারই এক জেগেছিল বুঝি নাগরিক সংস্কৃতি-সমাজে। যখন কিনা বাংলা ভাষা দুয়োরানির কালিমায় নির্বাসিতা রাষ্ট্রে, প্রশাসনে, শিক্ষায়, চাকরিতে। বছর কয়েক পর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশ্বমর্যাদা পেয়ে যায়, হতচকিত বিস্ময়ে আমাদের হতবাক করে। থোঁতা মুখ ভোঁতা করা এই মণিহার সাজে কি আজ আর আমাদের—কে আছে এমন বুকে হাত দিয়ে বলে সে কথা?
‘পাওয়া ধন খোয়ানোর’ এই দেশ-জাতি কতটাই বা মনে রাখবে তার এক নকিব বান্দায়? তাঁর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান তাই কি তাঁর নাম তেমন নেয় না —তাঁর নামে বছরওয়ারি স্মৃতিপদক দিয়ে চললেও। ‘বাক-শিল্পাচার্য’ উপাধি প্রদায়কগণের কণ্ঠবাদনও কি আজ শুনি তত? সারা দেশের নাগরিক জনমনে তবুও কি আসীন নন কোথাও নরেন বিশ্বাস—তাঁর অমন দিব্য লোক-মহিমায়? ‘স্মরণ আজিও তার হানে তরবারি’—কালের যাত্রার ধ্বনি যতই কেন পাই শুনিবারে—তার সম্মার্জনী সম্পাতে, অকরুণ ঘাতে, প্রতিঘাতে!

স্বাগতম গ্রামীণফোন by মামুন রশীদ

আজ সোমবার থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে গ্রামীণফোনের শেয়ারের লেনদেন শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম কোম্পানি গ্রামীণফোনের শেয়ার ইস্যু করার প্রক্রিয়া ২০০৫ সাল থেকে শুরু হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক এবং প্রক্রিয়াভিত্তিক জটিলতার কারণে প্রাথমিক শেয়ার ইস্যু বা আইপিও বিলম্বিত হয়ে যায়। তবে এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, ডিএসই প্রেসিডেন্টসহ বর্তমান অর্থমন্ত্রী, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, অর্থসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির প্রধানসহ অনেকেই বিভিন্ন সময়ে সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। উল্লেখ্য, সিটিগ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটস গ্রামীণফোনের শেয়ার ইস্যু করার প্রক্রিয়ায় ইস্যু ম্যানেজার এবং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে। এ ছাড়া মেইন ব্যাংকার টু দা ইস্যুর দায়িত্বও পালন করেছে সিটিব্যাংক এনএ। গ্রামীণফোন আইপিওর মাধ্যমে ৪৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ইস্যু করে, যা বংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ আইপিও। তার আগে ২০০৮ সালের জুলাইতে গ্রামীণফোন ৪৮৬ কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রি-আইপিও প্লেসমেন্ট হিসেবে তুলে নেয়। তার মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের ট্রাস্ট এবং গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। গ্রামীণফোনের শেয়ারকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। ফলে আইপিও তিন গুণের বেশি (১৭৫৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা এসেছে প্রবাসীদের কাছ থেকে) ওভার সাবসক্রাইবড হয়। গ্রামীণফোন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় টেলিকম অপারেটর, এ রকম একটি সুবৃহত্ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ইস্যু এবং স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার ব্যাপারটি নিঃসন্দেহে দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা। বাজার বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, এর ফলে দেশের শেয়ারবাজারের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে, শেয়ারবাজারে ফটকাবাজি হ্রাস পাবে, শেয়ারবাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি এবং সচেতন বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন এবং সর্বোপরি বিশ্ব অর্থবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ়তর হবে। আজ এই দিনে গ্রামীণফোনের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী টেলিনর, গ্রামীণ টেলিকমসহ সব বিনিয়োগকারী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চটগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সব সংশ্লিষ্ট মহল এবং শুভানুধ্যায়ীকে জানাই অভিনন্দন। আজকের এই যুগান্তকরী ঘটনা আমাদের দেশের শেয়ারবাজার গভীরতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সুদৃঢ় করার মাধ্যমে যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ভাবমূর্তির উন্নয়নের পথ সুগম করে, এই আমাদের প্রত্যাশা। স্বাগতম গ্রামীণফোন!
মামুন রশীদ: চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের একজন মনোনীত পরিচালক।

আপিল বিভাগে এবার সচিবেরা কী বলবেন by মিজানুর রহমান খা

সরকারের ঘোষিত নতুন পে-স্কেলে জুডিশিয়াল পে কমিশনের সুপারিশ অগ্রাহ্য হয়েছে। তবে নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩০ ভাগ ভাতা সংযোজন করা হয়েছে। তবে আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বাধীন নয় সদস্যের জুডিশিয়াল কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে; তার আইনানুগ অস্তিত্ব অস্বীকৃত হয়েছে। আগের মতো যুগ্ম সচিবদের সঙ্গে সমতা বজায় রেখে জেলা জজদের রাখা হলো তিন নম্বর গ্রেডেই। আসলে ৩০ ভাগ ভাতা যোগ করার মতো একটি সিদ্ধান্তের জন্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠন ও তার কার্যক্রমের দরকার ছিল না।
মাসদার হোসেন মামলার রায়ে বিচারকদের প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে না ভাবতে, তাদের সঙ্গে তুলনা না করতে এবং সুস্পষ্টভাবে বিচারকদের অন্য সুবিধাদি ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পেনশনের নিরাপত্তাকে বিচারিক স্বাধীনতার দ্বিতীয় প্রয়োজনীয় শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নির্বাহী বিভাগ, বিশেষ করে আমাদের আমলাশাসিত রাজনীতিকদের মনোজগতে কখনো এর কোনো স্বীকৃতি দেখিনি। সে কারণেই দিনবদলের মন্ত্রিসভা প্রথমে জুডিশিয়াল পে-কমিশনের প্রস্তাব মতে বিচারকদের জন্য ১০০ ভাগ ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরে তাদের পুনর্বিবেচনায় ৩০ ভাগ ভাতা উতরে যায়।
মাসদার হোসেন মামলার রায়ের বাস্তবায়নে ঘোরতর অশ্রদ্ধা দেখানোর জন্য ২০০৪ সালে আদালত অবমাননার একটি মামলা হয়েছিল। এই মামলাটি ইতিমধ্যেই একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আমরা ক্ষমতার বিভিন্নমুখী পালাবদল প্রত্যক্ষ করেছি। জরুরি অবস্থায় বন্দুকের নলের ডগায় হামাগুড়ি দিয়ে আমরা আমাদের বহুপ্রত্যাশিত পৃথক্করণের একটা আংশিক অর্জন পেয়েছি। দেখার বিষয় হলো, অনির্বাচিত শাসকেরা দুবার বাজেট প্রদানের সুযোগ পেলেও অত্যন্ত সচেতনভাবে বিচারিক স্বাধীনতার ওই দ্বিতীয় প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করতে সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।
নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা তাই যেদিন বিচারকদের ১০০ ভাগ ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব পুরোপুরি নাকচ করে, তখন সে খবরে অবাক হইনি। তবে আমরা ৩০ ভাগ ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে ‘যাক, তবু হাত খুলেছে’ হিসেবে বিবেচনায় নিই। আর অনেক গুণ বেশি আগ্রহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করব যে আমাদের আপিল বিভাগে মাসদার হোসেন মামলার রায় অগ্রাহ্য হওয়ার বিষয়টি কীভাবে পাক খেতে থাকে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের ফুল কোর্টে ওই বিষয়টি সর্বশেষ আদালতে আসে ২২ অক্টোবর ২০০৯। একটি চিঠি অবিকল আদালতে তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আতোয়ার রহমানের সই করা ওই পত্রে বলা হয় : ‘‘১. মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ০৭/২০০৪ কনটেম্পট পিটিশনসহ ৭৯/১৯৯৯ নং সিভিল আপিলে ০৯.০৮.২০০৯ তারিখে যে নির্দেশনা প্রদান করে, এর মধ্যে নিম্নবর্ণিত নির্দেশনার সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে:
সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো, বিশেষ করে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ২০০৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমতে বিচারকদের বেতন, বাড়ি ভাড়া, অন্যান্য ভাতা, বয়সসীমা প্রভৃতি পুনর্নির্ধারণকল্পে গত ২ জুন ২০০৯ প্রদত্ত জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ কার্যকর ও সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হলো।বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উল্লিখিত সচিবেরা তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রের ‘এফিডেভিট অব কমপ্লায়েন্স’ আগামী তারিখের আগে বা পরে আদালতে পেশ করবেন। ২২ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের জন্য পুনরায় কার্যতালিকায় আসবে। ২. জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের সুপারিশ সংবলিত একটি সার-সংক্ষেপ মন্ত্রিসভার জন্য অর্থ বিভাগ হতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হলে তা গত ১৮ মে ২০০৯ তারিখে মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপিত হয়। মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, সরকার কর্তৃক ঘোষিত নতুন জাতীয় বেতন স্কেল এবং ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের বাজেটের সহিত সমন্বয় করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন কর্তৃক জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য সুপারিশকৃত ভাতাদি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্তটি অর্থ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। এ পর্যায়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনিষ্পন্ন কোন কার্যক্রম নেই। ৩. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে গৃহীত কার্যক্রম মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগকে হলফনামার মাধ্যমে অবহিত করতে অনুরোধ করা হল।’’ অ্যাটর্নি জেনারেল এই সিদ্ধান্তই ২২ অক্টোবরে হলফনামার মাধ্যমে জানিয়ে দেন।
মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ওই আদেশে স্পষ্ট যে, আপিল বিভাগ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদনের ‘কার্যকর’ এবং ‘সন্তোষজনক’ বাস্তবায়ন চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মাসদার হোসেন মামলার বাদীপক্ষ অর্থাত্ বিচারকসমাজের রিট-সংক্রান্ত পরিহাস স্মরণ করা যেতে পারে। বিএনপির আইন ও বিচারমন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ জেলা জজদের বেতন স্কেল অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে উন্নীত করেছিলেন; কিন্তু তখন আমলাতন্ত্র যথারীতি গেল গেল বলে রব তোলে। অগত্যা তাদের খুশি করতে সেই বেতন স্কেল তাত্ক্ষণিক হরণ করা হয়। বিচারকেরা তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলেন। সেই রিটের ফসল মাসদার হোসেন মামলার আলোচিত রায় ও জরুরি অবস্থায় বিচার বিভাগ পৃথক্করণ প্রাপ্তি। কিন্তু বিচারকেরা লড়াই করেও যা পাননি, তা হলো বিচারকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল, আর্থিক স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে বিচারকের স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়নের সুযোগ। এ তো আসলে নেহাত রায় নয়, নির্বাহী বিভাগ নামের অনিচ্ছুক ঘোড়াকে পানি খাওয়ানোর প্রচেষ্টাও। মাসদার হোসেন মামলার ওই রায় মতে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে নয় সদস্যের কমিশন গঠিত হয়। বিচারপতি মো. ফজলুল করিম সভাপতি। হাইকোর্ট বিভাগ থেকে এলেন বিচারপতি নাজমুন আরা। সরকারের প্রতিনিধিত্ব সংখ্যালঘু বটে, তবে তারা প্রত্যেকে জবরদস্ত। আইন, সংস্থাপন, অর্থ এবং মন্ত্রিসভা বিভাগের সচিব। এ ছাড়া আছেন মহাহিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার এবং ঢাকা মহানগর জেলা ও দায়রা জজ। খোঁজ নিয়ে জানলাম, গত ২১ জুনে সরকারের কাছে প্রেরিত প্রতিবেদনটি পে-কমিশন কিন্তু তৈরি করেছিল মতৈক্যের ভিত্তিতেই। মূল প্রস্তাব তিনটি: প্রথমত, বিচারকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল করা; দ্বিতীয়ত, জেলা জজদের মূল বেতন এক নম্বর গ্রেডভুক্ত করা; তৃতীয়ত, জুডিশিয়াল সার্ভিস সদস্যদের ভাতা ১০০ ভাগ করা। সরকারের নতুন বেতন স্কেলে এর একটিও বাস্তব রূপ নেয়নি।
জেলা ও দায়রা জজ জুডিশিয়াল ক্যাডার সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ, এমনকি এক অর্থে সাংবিধানিক বললেও খুব রং চড়িয়ে বলা হয় না; কারণ জেলা জজ কথাটি সংবিধানে আছে। এ জন্য প্রথম গ্রেডের সমতায় এনে জেলা জজ পদের মূল বেতন ৪০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়। ১৯৭৯ সালের দিকে জেলা জজরা যুগ্ম সচিবদের স্কেলে বেতন পেতে শুরু করেন।
৩০ বছর পর এবার মন্ত্রিসভার সামনে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতনকাঠামোতে বিরাট পরিবর্তন আনার দরকারি সুযোগটা আসে। আপাতত সেটি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এই সুযোগ অবশ্য শাসক-দলের জন্য কোনো নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয় ছিল না। এখানে কোনো বিচক্ষণ বা দূরদর্শী নেতা-নেত্রীর প্রজ্ঞা দেখানোর সুযোগের প্রশ্ন ছিল না, প্রশ্নটা ছিল শতভাগ বিশুদ্ধ সংবিধানসম্মত; সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বাস্তবায়নের প্রশ্ন, সংবিধান মেনে চলার শপথ রক্ষার প্রশ্ন। এখানে কারও ভালো লাগা বা মন্দ লাগার বিষয় ছিল না। কিন্তু এখন আমরা খালি চোখে দেখতে ও বুঝতে পারছি, জেলা জজদের আগের মতোই যুগ্ম সচিবের পদমর্যাদায় রাখা হয়েছে। শতভাগ ভাতার সুপারিশ ছেঁটে ফেলা হয়েছে। তাঁদের ৩০ ভাগ ভাতা দেওয়া হয়েছে। তাদের নবতর প্রাপ্তিযোগে আরও একটি যোগ অবশ্য আছে। আমাদের মন্ত্রিসভা সত্যিই একেবারে হাড়কিপটে নয়, তারা পোশাক ভাতাও বাড়িয়েছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সংগতি রেখে চলতে হিমশিম খাওয়া বিচারকদের ললাটের ভাঁজ এতে একটু হলেও মেলাতে পারে!
শুনেছিলাম, জুডিশিয়াল পে-কমিশনের সুপারিশ যাতে ‘কার্যকর’ ও ‘সন্তোষজনকভাবে’ বাস্তবায়িত না হয়, সে জন্য সুপরিচিত বিয়াম-বিদ্রোহীদের শক্তিমান গুরুরা গর্জন তুলেছিলেন। সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক এক একান্ত আলাপচারিতায় সম্প্রতি জুডিশিয়াল পে-কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অবশ্য একটু আশ্বস্ত হয়েছিলাম তাঁর কথা শুনেই। তিনি বললেন, ভারতে একটা ডেলিগেশন পাঠিয়েছি। তাঁরা সেখানকার বিচারকদের হাঁড়ির খবর আনবেন। ভাবি, তাহলে তো ভালোই হলো। আমাদের প্রধান বিচারপতির বেতন এখনো সাকল্যে ৩২ হাজার টাকা; আর ভারতের প্রধান বিচারপতির বেতন গত জানুয়ারিতে ৩৩ হাজার রুপি থেকে ১ লাখ রুপি করা হয়েছে। এরপর বিচারপতিদের সম্মিলনে তাঁদের বেতন-ভাতা আরও কয়েক গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং তাতে সরকারের দ্বিমত জানা যায়নি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন বাড়াতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পে-কমিটি করেছে। জনপ্রশাসন ট্যারা চোখে তাকায়নি। ২৮ জুলাই ২০০৯ প্রদত্ত ওই কমিটির রিপোর্টে জেলা জজের বর্তমান মূল বেতন ২৩ হাজার ৮৫০ থেকে ৭৩ হাজার ৩৭০ রুপিতে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন জ্যেষ্ঠ জেলা জজের মূল বেতন ১৬ হাজার ৮০০ টাকা।
পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির বেতন দুই লাখ রুপির ওপরে। সেখানে জনপ্রশাসনের সর্বোচ্চ স্কেল ২৩ হাজার ৬৫ থেকে ৪৬ হাজার ২৩৫ রুপি। সচিবেরা এই স্কেলেই বেতন পান। পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকার জনপ্রশাসনের বেতন না বাড়িয়ে একটা বিপ্লব করে। তারা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জেলা জজের মূল বেতন ২৮ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার রুপি করে। সেখানে কোনো আমলা-অসন্তোষ ঘটেনি। শ্রীলঙ্কায় জ্যেষ্ঠ জেলা জজের মূল বেতন ৫০ হাজার রুপির বেশি, সাকল্যে এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। তো প্রতিবেশীদের ঘরে যখন এই রকম পরিবর্তন, তখন দিনবদলের স্লোগানমুখর সরকার বিচারকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের সূচনা ঘটাতেই কার্পণ্য দেখাল। এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে জুডিশিয়াল পে-কমিশনের বৈঠকের সুপারিশ কী করে সর্বসম্মত হতে পারল। কেবল অর্থসচিব শেষের এক বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন; কিন্তু তাই বলে তিনি ভিন্নমত দেননি। সর্বশেষ আপিল বিভাগের ১১ জন মাননীয় বিচারপতি পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সর্বসম্মত মত দিলেন। সেখানেও আমরা কোনো ভিন্নমত দেখি না।
মাসদার হোসেন মামলা থেকে উদ্ভূত ওই আদালত অবমাননার মামলার শুনানি আপিল বিভাগে আগামীকাল হওয়ার তারিখ আছে বলে শুনেছি। আমরা ঔত্সুক্য নিয়ে অপেক্ষা করব, জুডিশিয়াল পে-কমিশনের প্রতিবেদন অগ্রাহ্য করার বিষয়টিকে সরকার কীভাবে ব্যাখ্যা দিতে সচেষ্ট হয়। আমরা পে-কমিশনের সুপারিশপ্রণেতা-সদস্য হিসেবে কয়েকজন সচিবের নাম পাই; এবং একই সঙ্গে আপিল বিভাগের গত ৯ আগস্ট প্রদত্ত নির্দেশনায় নির্দিষ্টভাবে কয়েকজন সচিবের নাম পাই। সত্যি, এ বিষয়টি কৌতূহলোদ্দীপক বটে!
আজ বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে জেলা জজদের অবস্থানবিষয়ক একটি রিটের শুনানি হতে পারে। বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে জেলা জজরা অপাঙেক্তয় অবস্থায় আছেন। জেলা প্রশাসক, লে. কর্নেল বা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিংয়ের পরিচালকের মতো পদবিধারীদের কাতারে আছেন জ্যেষ্ঠ জেলা জজ। অন্যদিকে গতকাল জানলাম, প্রশাসন ক্যাডার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে খামচি মেরে যে বিচারিক ক্ষমতা হরণ করেছিল, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও একটি রিট হয়েছে। এই দুটি রিটই আসলে ওই মাসদার হোসেন মামলার রায়ের বিষয় এবং চূড়ান্ত বিশ্লেষণে এর সবকিছুই তার সব বৈপরীত্য ও স্ববিরোধিতা নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে একই সূত্রে গাঁথা।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

ইউরো অঞ্চল মন্দা থেকে বেরিয়ে এসেছে

অবশেষে মন্দা থেকে বেরিয়ে এসেছে ইউরো অঞ্চল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরো ব্যবহারকারী ইউরোপের ১৬টি দেশকে একত্রে ইউরো অঞ্চল বলা হয়।
গত শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইউরো অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি সমন্বিতভাবে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে দশমিক ৪০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ইউরো অঞ্চল এপ্রিল-জুন সময়কালে দশমিক ২০ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছিল।
এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই অর্থনীতি জার্মানি ও ফ্রান্স আলোচ্য সময়কালে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করার মধ্য দিয়ে মন্দা থেকে বেরিয়ে আসা নিশ্চিত করেছে।
আলোচ্য প্রান্তিকে জার্মানির অর্থনীতি দশমিক ৭০ শতাংশ হারে এবং ফ্রান্সের অর্থনীতি দশমিক ৩০ শতাংশ হারে বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম বলে মনে করা হচ্ছে। জাপানের পাশাপাশি এই দুটি অর্থনীতি বছরখানেক ধরে সংকুচিত হওয়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারা থেকে বেরিয়ে আসে এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে।
অবশ্য অনেকে এটাও বলছেন, গভীর মন্দা থেকে জার্মানির অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসতে পেরেছে।
জার্মানি ও ফ্রান্স বিশ্বমন্দায় তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্ত হয়েছে এ জন্য যে, দেশ দুটির অর্থনীতিতে আর্থিক খাত যুক্তরাজ্যের চেয়ে কম অবদান রাখে।
যুক্তরাজ্য এখনো মন্দার মধ্যে রয়ে গেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি দশমিক ৪০ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছে।
শক্তিশালী রপ্তানি, জোরালো ভোগব্যয় এবং সরকারি উদ্দীপনামূলক ব্যয় ইউরো অঞ্চলকে মন্দা থেকে বের হয়ে আসতে সহায়তা করেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, তৃতীয় প্রান্তিকে ইতালি, অস্ট্রিয়া ও স্লোভাকিয়া মন্দা থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে স্পেনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এই প্রান্তিকেও সংকুচিত হয়েছে।

পেশোয়ারে জঙ্গি হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭

পাকিস্তানের পেশোয়ারে গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সদর দপ্তরে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। শুক্রবার সকালে ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ১২ জন। চালানো হয়। এতে সদর দপ্তরের ভবনের বেশির ভাগই ধ্বংস হয়ে যায়।
এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ওই হামলার পর আরও চারটি মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে হাসপাতালে মারা যান আরও এক কর্মকর্তা। সোয়াতে গতকাল পৃথক দুটি ঘটনায় ১৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

ক্ষুধার্ত মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশে অনশন করবেন বান

বিশ্বের ১০০ কোটি ক্ষুধার্ত মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের লক্ষ্যে জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধানের ডাকে ২৪ ঘণ্টার অনশনে যোগ দেবেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। আগামী সপ্তাহে রোমে অনুষ্ঠেয় খাদ্যনিরাপত্তা সম্মেলন সামনে রেখে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একজন মুখপাত্র শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।
এফএওর মহাপরিচালক জ্যাক দিউফ বুধবার জানিয়েছেন, বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল শনিবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা তিনি কিছু খাবেন না এবং বিশ্বের অন্যান্য স্থানের লোকদেরও তা করার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।
জাতিসংঘের মুখপাত্র ম্যারি ওকাবে সাংবাদিকদের বলেন, মহাসচিব এ সপ্তাহান্তে ওই অনশনে যোগ দেবেন। অনশন করা অবস্থায় মুন এফএওর সম্মেলনে যোগ দিতে রোমে যাবেন।
১৬ থেকে ১৮ নভেম্বরে এফএওর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত খসড়ায় ২০২৫ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার বিষয়ে কোনো প্রস্তাব নেই। এতে শুধু কৃষির উন্নয়নের জন্য আরও অর্থ দেওয়ার একটি সাধারণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

ইরাকে ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, সরকারি তদন্ত শুরু

ইরাকে নিযুক্ত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে যৌন নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ইরাকি বন্দীদের পক্ষের কৌঁসুলিরা ব্রিটেন সরকারের কাছে এসব অভিযোগের সরকারি তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এসব অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিল র্যামেল বলেছেন, ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে আনা এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে।
ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইনডিপেনডেন্ট বলেছে, ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ৩৩টি অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ব্রিটিশ কারাগারে ইরাকি নাগরিক বাহা মুসা নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বাহা মুসার শরীরে ৯৩টি পৃথক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তাঁকে ব্রিটিশ সেনারা বলাত্কার করেছেন। আবার অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাঁকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়েছে এবং ছবি তোলা হয়েছে।
একজন ইরাকি বন্দী অভিযোগ করেছেন, তাঁকে আটকের সময় ব্রিটিশ সেনারা লাথি মেরেছেন, পিটিয়েছেন। ব্রিটিশ সেনারা তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দিয়েছেন। ২০০৬ সালে আটক আরেক ইরাকি জানিয়েছেন, তাঁকে ইরাকি সেনারা যৌন নির্যাতন করেছেন।
আইনজীবীরা বলেছেন, বসরা থেকে ব্রিটিশ সেনাদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকে তাঁদের কাছে এসব অভিযোগ আসতে থাকে।

চেচনিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জঙ্গি নিহত: কর্তৃপক্ষ

রাশিয়ার চেচনিয়ায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার প্রদেশের দক্ষিণে পার্বত্য এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দাগেস্তান প্রদেশে একটি সমাধিক্ষেত্রে বোমা বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইঙ্গুশেতিয়ায় তিনজন সন্দেহভাজন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।
অস্ত্রভাণ্ডারে বিস্ফোরণ, নিহত ২
রাশিয়ার উলিয়ানোভস্কোতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের ওই বিস্ফোরণের পর অস্ত্রভাণ্ডারটিতে আগুন ধরে যায়। রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা গতকাল শনিবার এ খবর প্রকাশ করেন

ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে পূর্ণ সমর্থন জানাবে রাশিয়া

বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে সমর্থন জানাবে রাশিয়া। পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তাতে শতভাগ পূর্ণ সমর্থন দেবে দেশটি। গতকাল শনিবার রাশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রশাসন সূত্রের বরাত দিয়ে ডেইলি কমেরসন্ত বলেছে, ‘বেশ কিছু দিন ধরে মেদভেদেভ প্রশাসনের সূত্রগুলো প্রায়ই বলে আসছে, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে সমর্থন জানাতে রাশিয়া ১০০ ভাগ প্রস্তুত।’
পত্রিকাটির ভাষ্যমতে, ‘তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে। সিঙ্গাপুরে চলমান এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোটের (অ্যাপেক) সম্মেলনের বাইরে আজ রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।’
ডেইলি কমেরসন্ত বলেছে, ‘সিঙ্গাপুরে বৈঠকে ওবামা ও মেদভেদেভ শুধু ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা করবেন না। তাঁরা ইরানের বিরুদ্ধে কবে নাগাদ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে, এ ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র রাশিয়া ও চীন এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গড়িমসি করে আসছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা আইএইএ সমর্থিত একটি প্রস্তাবের ব্যাপারে ইরান এখনো কোনো সদুত্তর না দেওয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব অস্থির হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিমানে উঠবেন প্রতিভা পাতিল

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাতিল এবার যুদ্ধবিমানে চড়বেন। আগামী ২৫ নভেম্বর তিনি পুনের লোহেগাঁও বিমানঘাঁটি থেকে সুখোই-৩০ এম কে আই যুদ্ধবিমানে উঠবেন।
রাষ্ট্রপতি ভারতের সামরিক বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার। তাঁর বয়স এখন ৭৪। বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল পি ভি নায়েক শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি এখন বিমানে চড়ার জন্য পুরোপুরি সুস্থ আছেন। তবুও বিমানে চড়ার আগে চূড়ান্তভাবে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে অবশ্য ওই যুদ্ধবিমানে চড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম। কিন্তু কোনো ভারতীয় নারী যুদ্ধবিমানে চড়েননি

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের মনোবল কমছে: জরিপ

আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মনোবল কমে যাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত এক জরিপ থেকে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, যেসব সেনা ইউনিট ও সেনাকে তিনবার কিংবা তার চেয়ে বেশিবার যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়েছে, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য ও দাম্পত্যসংকট অন্য সেনাদের চেয়ে বেশি। গত শুক্রবার মার্কিন সেনাবাহিনী এ কথা জানায়।
চলতি বছর ইরাকে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর চালানো একই ধরনের মূল্যায়নে দেখা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় সেনাদের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমে এসেছে। মার্কিন সেনা সূত্র জানায়, ইরাকে সহিংসতার মাত্রা এখন কমে গেছে।
গত সপ্তাহে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে সেনাবাহিনীর মনোচিকিত্সক মেজর নিদাল মালিক হাসান হত্যাকাণ্ড চালান। এরপর সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি ওঠে। এ অবস্থায় উদ্বেগজনক এই তথ্য প্রকাশ করা হলো।
জরিপে দেখা গেছে, মাত্র শতকরা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ সেনার মনোবল বা আত্মবিশ্বাস এখন প্রবল থেকে প্রবলতর। ২০০৭ সালে এই হার ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ।
জরিপে দেখা যায়, যে সেনাদের তিনবার বা তার চেয়েও বেশিবার যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৩১ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। যাঁদের দ্বিতীয়বারের মতো মোতায়েন করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত। অন্যদিকে, যাঁদের প্রথমবার মোতায়েন করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ওই সমস্যায় ভুগছেন।
বেশিবার যে সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়েছে তাঁদের দাম্পত্যসংকট তুলনামূলকভাবে অন্যদের চেয়ে বেশি। তিন কিংবা তার বেশিবার মোতায়েন করা সৈন্যদের মধ্যে ৩০ দশমিক শতাংশ ভাগ দাম্পত্য সংকটের মুখোমুখি। অথচ যাঁদেরকে প্রথমবার মোতায়েন করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শতকরা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ ওই সংকটে ভুগছেন।
যে দলটি এই জরিপ পরিচালনা করেছে, তারা আফগানিস্তানে আরও বেশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সুপারিশ করেছে।

সীমান্ত রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: পিয়ংইয়ং -সতর্কাবস্থায় দ. কোরীয় সেনাবাহিনী

পীত সাগরে নিজেদের সমুদ্রসীমা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, গত সপ্তাহের সংঘর্ষের জন্য সিউলকে চড়া মূল্য দিতে হবে। গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরীয় পক্ষকে পাঠানো এক বার্তায় উত্তর কোরীয় সামরিক বাহিনী এ কথা জানায়। প্রতিপক্ষের এ ধরনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছে দক্ষিণ কোরীয় সরকার। গত মঙ্গলবার দুই পক্ষের নৌবাহিনীর মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সিউল সফরের পাঁচ দিন আগে এই হুঁশিয়ারি জানালো পিয়ংইয়ং। এ ধরনের মারমুখী বক্তব্য না দেওয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে জাতিসংঘের চিহ্নিত করে দেওয়া সমুদ্রসীমা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে পিয়ংইয়ং। তাদের দাবি, ওই সীমানা চিহ্নিতকারী রেখা আরও দক্ষিণে সরাতে হবে।
সিউলকে পাঠানো বার্তায় উত্তর কোরীয় সামরিক বাহিনী বলেছে, “আমাদের ভূখণ্ডের অংশ আমাদেরই থাকবে। পীত সাগরে আমাদের তরফ থেকে এ ব্যাপারে সীমানা চিহ্নিত করা আছে। এখন থেকে ওই সীমানা রক্ষায় আমরা ‘নির্দয়ভাবে’ সামরিক পদক্ষেপ নেব।”
ওই বার্তার বরাত দিয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের জন্য সিউলকে আবার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। ‘জাতীয় ঐক্য স্থাপন ও দুই কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনা নস্যাত্ করার জন্য দক্ষিণ পক্ষই দায়ী থাকবে। আর এ জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।’ ওই বার্তায় আবারও দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের জন্য সিউলই দায়ী।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য উসকানিমূলক পদক্ষেপ মোকাবিলায় আমাদের সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।’ এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ কোরীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে-ইয়াং আশঙ্কা জানিয়ে বলেন, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আরও উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে উত্তর কোরিয়া।
গত সপ্তাহে পীত সাগরে দুই কোরিয়ার নৌবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে উত্তর কোরিয়ার একটি টহল জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে সিউল। পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, দক্ষিণ কোরীয় পক্ষ বিনা উসকানিতে ওই হামলা করেছে।

চাঁদে ‘প্রচুর পানির’ সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

চাঁদে প্রচুর পানির সন্ধান পেয়েছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) এক বিবৃতিতে গত শুক্রবার বলা হয়, এই আবিষ্কার চাঁদ সম্পর্কে আমাদের গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
বার্তা সংস্থা জানায়, গত মাসে নাসা চাঁদে দুটি মহাকাশযান পাঠায়। একটি রকেট চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ক্যাবিউস নামের একটি বিশাল গহ্বরে ঘণ্টায় নয় হাজার কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়ে। এর ফলে এই গহ্বর থেকে বিভিন্ন পদার্থের একটি শিখা বের হয়ে আসে। চার মিনিট পর এই দৃশ্য ধারণ করে ক্যামেরাসজ্জিত অপর একটি মহাকাশযান। ক্যামেরায় ধারণ করা উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা চাঁদে পানির অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত হন।
নাসার এই মিশনের প্রধান বিজ্ঞানী অ্যান্থনি কোলাপ্রেট বলেন, ‘অল্প পানি নয়, আমরা প্রচুর পানির সন্ধান পেয়েছি।’ অপর এক বিজ্ঞানী বলেন, দুই গ্যালন ধারণক্ষমতাবিশিষ্ট এক ডজন বালতিতে যতটা পানি ধরে, আমরা তত পানির খোঁজ পেয়েছি।’
ওয়াশিংটনে নাসা সদর দপ্তরের চন্দ্র গবেষণার প্রধান মাইকেল ওয়ারগো বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশীর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছি। আরও বৃহত্ পরিসরে দেখলে সৌরজগতের রহস্য ভেদ করছি।’
চাঁদে আগেই পানি পাওয়া গিয়েছিল, তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছিলেন চাঁদের স্থায়ী ছায়াবৃত অংশের গহ্বরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পানির অস্তিত্ব পাওয়া যাবে। ক্যাবিউস নামের ওই গহ্বর থেকে বের হওয়া পদার্থ পরীক্ষা করে তাঁরা সেই প্রমাণই পেলেন।
সন্ধান পাওয়া এই পানি যদি কোটি কোটি বছরের পুরোনো হয়, তাহলে এর মাধ্যমে সৌরজগতের বিবর্তন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পানি মহাকাশ অভিযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হতে পারে এবং পানের কাজেও লাগতে পারে।
লুনার ক্রেটার অবজারভেশন অ্যান্ড সেন্সিং স্যাটেলাইট (এলসিআরওএসএস) নামের নাসার এই মিশনের প্রধান বিজ্ঞানী অ্যান্থনি কোলাপ্রেট বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। চাঁদে পানির অস্তিত্ব ও এর বিস্তৃতি এবং অন্যান্য পদার্থ নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে এটা বলা যায় যে, ক্যাবিউসে পানি আছে।’
কোলাপ্রেট আরও বলেন, এলসিআরওএসএসের উপাত্ত থেকে পূর্ণ ধারণা পেতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। তবে এই উপাত্ত সমৃদ্ধ।

মিসবাহকে চান ইউসুফ

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের হয়ে নিজের খেলা সর্বশেষ ম্যাচে ৪১ রান করেছেন। তার পরও নিউজিল্যান্ড সফরের দলে সুযোগ পাননি বলে হতাশ মিসবাহ-উল-হক। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে খেলতে এসে গাজী ট্যাংক সতীর্থদের সে হতাশার কথা বলেছেনও। তবে মিসবাহর হতাশা বোধহয় এবার দূর হচ্ছে। পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ নিউজিল্যান্ড সফরের দলে ইউনুস খানের পরিবর্তক হিসেবেই চাইছেন মিসবাহকে।
মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, ‘সব মিলিয়ে দলটা ভালোই... তবে ইউনুস এই সিরিজ খেলছে না বলে মিডল অর্ডারে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, সেটা পূরণের জন্য আমি মিসবাহর কথা বলেছি বোর্ডকে। মিসবাহ ভালো ব্যাটসম্যান, আশা করি সে দলের কাজে আসবে।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে এবং টেস্ট—তিন ধরনের দল থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল মিসবাহকে। ২০০৭ সালের তুলনায় তাঁর গত বছরের ফর্মটাকে একটু খারাপই মনে হয়েছিল নির্বাচকদের কাছে।
দল থেকে বাদ পড়ার পরদিনই মিসবাহ দেখালেন তাঁর রূপ। ঘরোয়া চার দিনের ক্রিকেটে সুই নর্দান গ্যাস পাইপ লাইনস লিমিটেডের হয়ে করলেন ক্যারিয়ার-সেরা ২৮৪ রান, উসমান আরশাদের সঙ্গে ৪৭৯ রানের জুটি, পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে যা কিনা রেকর্ড। এই পারফরম্যান্সের সূত্র ধরেই ইউসুফ বললেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে সে ভালো খেলছে এবং আশা করি সুযোগ পেলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ভালো খেলবে।’
গাজী ট্যাংকের হয়ে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ খেলতে মিসবাহ-উল-হক এখন সপরিবারে ঢাকায়। তবে কালকের দিনটা ছুটি নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ বেড়াতে বেরিয়েছিলেন বলে মোহাম্মদ ইউসুফের বক্তব্য সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা গেল না। তা ছাড়া ঢাকায় এসে বাংলাদেশের কোনো মোবাইল ফোনও নেননি তিনি। ব্যবহার করছেন পাকিস্তানের রোমিং নম্বর। ঠিকই আছে, ঢাকার চেয়ে পাকিস্তান থেকে আসা ফোনই এখন বেশি কাঙ্ক্ষিত তাঁর কাছে!

দক্ষিণ আফ্রিকার বৃষ্টি-ট্র্যাজেডি

বৃষ্টি শুরু হয়েছিল বেশ কিছুক্ষণ আগেই। ১২তম ওভারের শুরুতে তীব্রতা খানিকটা বেড়ে গেল। ওই ওভার শেষে খেলা বন্ধ হয়ে গেলে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন দাঁড়াত ১১৯ রান। গ্রায়েম সোয়ানের করা ওভারটির চার বল পর্যন্ত প্রোটিয়াদের রান ছিল ১১৫। পঞ্চম বলে ছয় মেরে আলবি মরকেল নিশ্চিত করলেন এবার অন্তত বৃষ্টি-ট্র্যাজেডির শিকার হচ্ছে না তারা।
কিন্তু বৃষ্টির সঙ্গে যে তাদের চিরশত্রুতা! ওভার শেষে খেলা থামবে কি, থামল বৃষ্টি। জেমস অ্যান্ডারসনের করা পরের ওভারে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও মরকেল নিতে পারলেন ৫টি সিঙ্গেল, সঙ্গে একটি ওয়াইড। ওভার শেষে দলের রান ৩ উইকেটে ১২৭, বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় খেলা বন্ধ। ডার্কওয়ার্থ-লুইস আইনে দেখা গেল জয়ের জন্য প্রোটিয়াদের প্রয়োজন ছিল ১২৮! খেলা আর শুরু হতে পারেনি এবং আবারও বৃষ্টির নির্মম রসিকতার শিকার দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়টা কিছুটা সৌভাগ্যপ্রসূত হলেও ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক কৃতিত্ব দিয়েছেন নিজেদেরও, ‘এটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল খেলার ভেতর একটি খেলা। তবে সামগ্রিকভাবে ভালো খেলেই আমরা জিতেছি।’ আজই সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি।

বিমানের পতন এবার কলাবাগানে

এক হিসেবে খুবই ম্যাড়মেড়ে হওয়ার কথা ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের কালকের দিনটা। এক বিমান ছাড়া তিন ম্যাচে বড় দল বলতে কেউ নেই। কিন্তু হলো উল্টো। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, বিকেএসপি এবং ফতুল্লায় চরম উত্তেজনায় কাটল ক্রিকেট লিগ। সে সঙ্গে হয়তো অঘটনও দেখল তা।
ফতুল্লায় শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে বিকেএসপির তরুণদের কাছে ভিক্টোরিয়ার ৩ রানের হার অঘটনই। মিরপুরে বিমানকে ২০ রানে হারিয়ে অঘটন ঘটিয়েছে কলাবাগানও। আর বিকেএসপিতে নবাগত খেলাঘরের বিপক্ষে ওল্ড ডিওএইচএস ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে মাত্র ১ বল বাকি থাকতে।
ওপেনার সৌম্য সরকার আর আসিফ আহমেদের ফিফটির পরও অলআউট হওয়ার আগে ২০২ রান করতে পেরেছিল বিকেএসপি। ৭.৪ ওভারে ৩৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তাদের প্রায় একাই ধসিয়ে দেন পেসার মোহাম্মদ শরীফ। কিন্তু শরীফ হাসিটা ধরে রাখতে পারেননি নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। আবুল বাশারের ৭৩ রানের পরও শেষ বল পর্যন্ত খেলে ১৯৯ রানে অলআউট তারা। লিগে বিকেএসপির এটি দ্বিতীয় জয়, ভিক্টোরিয়ার চতুর্থ পরাজয়।
খেলাঘরের দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেট ছুঁতে ৪৯.৫ ওভার পর্যন্ত খেলেছে ওল্ড ডিওএইচএস। ওয়াসিম নাঈম ও ফজলে রাব্বির ৯৭ রানের ওপেনিং জুটি, ওয়ান ডাউনে রুম্মান আহমেদের ফিফটি। কিন্তু তারপরও মিডল-অর্ডারের ব্যর্থতায় একপর্যায়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল ওল্ড ডিওএইচএসের জয়। এর আগে আসলাম আলীর ফিফটির (৬৬) সৌজন্যে ৪৮.৫ ওভারে ২০৩ রান করেছে খেলাঘর। লিগে ছয় ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের দেখা পায়নি তারা।
ফলাফল দেখে ম্যাচটাকে তেমন উত্তেজনাপূর্ণ মনে না হলেও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল শেষ বিকেলে জমে উঠেছিল কলাবাগান-বিমান ম্যাচ। কলাবাগানের ২১৯ রানের জবাবে শেষ ২ ওভারে ২১ রান দরকার ছিল বিমানের। কিন্তু ৪৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলের ১৯৯ রানের মাথায় শফিউল ইসলাম ক্যাচ তুলে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুস সাদাতের বোলিংয়ে। নাজমুসও অসাধারণ দক্ষতায় তালুবন্দী করলেন সেটা। ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারালেও মূলত জিহান মোবারকের ৬৫ রানই শেষ পর্যন্ত ম্যাচে রেখেছিল বিমানকে। এর আগে জুবায়ের আহমেদের ফিফটিতে (৬৬) ৮ উইকেটে ২১৯ রান করেছিল কলাবাগান। প্রথম ম্যাচে হারার পর কলাবাগানের এটি টানা পঞ্চম জয়। অন্যদিকে বিমান প্রথম চার ম্যাচে জিতলেও হারল পর পর দুই ম্যাচে।

পাওনা বুঝে পেলেই ঢাকা ছাড়বেন ডিডো

গত সোমবার বাফুফে তাঁকে বরখাস্ত করার পর থেকে জাতীয় দলের ব্রাজিলীয় কোচ নিজেকে বন্দী করে ফেলেছেন গুলশানের বাসায়। কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন, তা এখনো ঠিক করতে পারেননি এডসন সিলভা ডিডো। বাফুফের কাছ থেকে পাওনা বুঝে পেলেই ঢাকা ছাড়বেন বলে জানা গেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ডিডোকে প্রাথমিকভাবে এক বছরের নিয়োগ দিয়েছিল বাফুফে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বরখাস্ত হওয়ায় কোচ চাকরির শর্ত অনুযায়ী পুরো এক বছরের বেতন পাবেন। ডিডো ৯ মাসের বেতন পেয়েছেন বলে বাফুফে জানিয়েছে। এখন তাঁকে বাকি তিন মাসের টাকা দেওয়া হবে।
এই টাকা কবে পাবেন ডিডো, নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বীর সাদী, ‘আমরা তাঁকে ৩ মাসের বেতন দেব (১২ হাজার ডলার)। এই সপ্তাহে দিতে পারি, আগামী সপ্তাহও লাগতে পারে। ৮-৯ লাখ টাকার ব্যাপার, একটু সময় তো লাগবেই।’
তত দিন পর্যন্ত ডিডোকে বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে ঢাকায়। পাওনা বুঝে পেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এদিকে গতকালও সাংবাদিকদের ফোন ধরেননি বাংলাদেশের ফুটবলে ‘অতীত’ হয়ে যাওয়া এই কোচ।

পাকিস্তানি সাবেকেরাও করছেন কুর্নিশ

১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক শচীন টেন্ডুলকারের। তাঁর ক্যারিয়ারের ২০ বছর পূর্তিতে সেই পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাও মেতেছেন টেন্ডুলকার-বন্দনায়। ভারতের জীবন্ত এই কিংবদন্তিকে এই খেলাটার সত্যিকারের দূতই মানছেন তাঁরা।
সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ বলেছেন, তরুণদের সব সময়ই তিনি টেন্ডুলকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেন্ডুলকারের খেলা প্রথম বলটার কথা মনে করে মিয়াঁদাদ বলেছেন, ‘ইমরান, ওয়াসিম, ওয়াকার আর সেলিম জাফরকে নিয়ে দুর্দান্ত এক পেস আক্রমণ ছিল আমাদের। টেন্ডুলকার কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রথম বলটার মুখোমুখি হলো সেই দৃশ্য এখনো মনে আছে আমার। ওয়াকার বলটা করেছিল খুব জোরের ওপর, ওই তরুণ ব্যাটসম্যান ফ্রন্টফুটে এসে ড্রাইভ করল সেটা। দেখেই বোঝা গিয়েছিল ও খুব আত্মবিশ্বাসী। তখনই জানতাম, ভবিষ্যতে এই তরুণকে নিয়ে অনেক কিছু শুনব আমরা।’
পাকিস্তানের সাবেক লেগ স্পিনার আবদুল কাদির বলছেন, টেন্ডুলকার ফুরিয়ে যাননি। এখনো দেওয়ার অনেক বাকি আছে তাঁর, ‘ক্রিকেটের প্রতি ওর যে তৃষ্ণা, আমি তো মনে করি আর সব গ্রেটকে পেছনে ফেলে দিয়েছে টেন্ডুলকার।’ কাদির যখন ফর্মের তুঙ্গে, ১৯৮৯ সালের ভারত-পাকিস্তান সিরিজে পেশোয়ারের ম্যাচে তাঁর এক ওভারে তিনটি ছক্কা মেরেছিলেন টেন্ডুলকার। সেই স্মৃতি মনে করে কাদির বলেছেন, ‘আমি ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে ছিলাম তখন। ওই সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানরাও আমার ওপর চড়াও হতে দুবার ভাবত। আমি তাকে মারার জন্যই প্রলুব্ধ করছিলাম। সেও চ্যালেঞ্জটা নিল। তখনই বুঝে গিয়েছিলাম ও সাধারণ কেউ নয়।’
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল হকের কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে টেন্ডুলকারের চারিত্রিক দিকটা, ‘টেন্ডুলকারের যে দিকটা আমার বেশি ভালো লাগে...এতগুলো বছর পরও সে সেই আগের মতোই নম্র, সাধারণ। কখনোই দেখিনি, খেলার মর্যাদা নষ্ট হতে পারে এমন কিছু সে করেছে।’ আরেক সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ ইনজামামের কথার ধারাবাহিকতা রেখেই বললেন, ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটের আসল ‘রোল মডেল’ টেন্ডুলকার। সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মঈন খান বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না, আমার সময়ে তার চেয়ে বড় মাপের কোনো ব্যাটসম্যানকে আমি দেখেছি।

বাহরাইনের স্বপ্নভঙ্গ, বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড

ররি ফ্যালন না মার্ক প্যাস্টন? কাকে নায়ক বলবে নিউজিল্যান্ডের মানুষ? সত্যি বলতে, ফরোয়ার্ড ফ্যালন আর গোলরক্ষক প্যাস্টন; নিউজিল্যান্ডকে ২৭ বছর পর আবার বিশ্বকাপে তুলতে অবদান ছিল দুজনেরই। দারুণ এক হেডে ফ্যালন যেমন এগিয়ে দিয়েছিলেন ‘অল হোয়াইট’দের, আর তাঁর গোলটিকে বাঁচিয়ে দলের ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত করতে গোলরক্ষক প্যাস্টন ঠেকিয়েছেন পেনাল্টি।
ওয়েলিংটনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ম্যাচের লড়াইটা নিউজিল্যান্ড-বাহরাইন দুদলের জন্যই ছিল সোনালি স্বপ্নের হাতছানি। তবে মাঠে নামার আগ পর্যন্ত হিসাব-নিকাশে একটু এগিয়ে ছিল বাহরাইনই। বাহরাইনে প্রথম লেগটা গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। ওয়েলিংটনে কাল তাই গোল নিয়ে ড্র করতে পারলেই বিশ্বকাপে পৌঁছে যেত বাহরাইন।
ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ শুরু হতেই একটু একটু করে পিছিয়ে যেতে থাকে এশিয়ার আরব দেশটি। শুরু থেকেই বাহরাইনের ওপর চেপে বসার চেষ্টা করে নিউজিল্যান্ড। শুরুর দিকেই লিও বেরটোস ও ক্রিস কিলেনের শট গিয়ে লাগে বারে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার দর্শককে আনন্দে ভাসায় ফ্যালনের হেড। ৪৪ মিনিটে তাঁর এ গোলটির উত্স ছিল বেরটোসের কর্নার।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আশায় বুক বেঁধে নামে বাহরাইন। গত বিশ্বকাপেও ত্রিনিদাদ ও টোবাগের বিপক্ষে প্লে-অফে কাটা পড়া বাহরাইন এবার ভাগ্য বদলাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সর্বস্ব পণ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ডের রক্ষণ দুর্গে। একটি পেনাল্টিও পেয়ে যায় সফরকারীরা। কিন্তু ৫১ মিনিটে আদনানের পেনাল্টিটা ঠেকিয়ে দেন প্যাস্টন। এর পর সেই যে রক্ষণ জমাট করে তুলল নিউজিল্যান্ড, তা আর ভাঙতে পারেনি বাহরাইনের আক্রমণভাগ।
একসময় এশিয়ার ফুটবলের পরাশক্তি ছিল আরব দেশগুলোই। এ অঞ্চল থেকে বাছাইপর্ব উতরে বিশ্বকাপের টিকিট বেশির ভাগ সময়ই পেত ইরাক, ইরান আর সৌদি আরবের মতো আরব দেশগুলো। কিন্তু এবার হলো এর ঠিক উল্টো! বিশ্বকাপে আরব দেশের পতাকা ওড়ানোর শেষ আশা ছিল যাদের ঘিরে, সেই বাহরাইনের হলো স্বপ্নভঙ্গ।
এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার আরব দেশগুলোকে তাই দর্শকই হয়ে থাকতে হচ্ছে।

জোকোভিচের এবার নাদাল-বধ

গত সপ্তাহে বাসেল টুর্নামেন্টে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় রজার ফেদেরারকে হারিয়েছেন। ফর্মে থাকা নোভাক জোকোভিচ কাল হারালেন রাফায়েল নাদালকে। বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড়কে ৬-২ ও ৬-৩ গেমে হারিয়ে প্যারিস মাস্টার্সের ফাইনালে উঠে গেছেন তিনি। ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রাদেক স্তেপানেককে হারানো গায়েল মনফিলস।

বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া ক্যামেরুন

 নিজেদের জয়ের সঙ্গে প্রয়োজন ছিল তিউনিশিয়ার পরাজায়। কাল রাতে দুটো ব্যাপারই ঘটে গেল। নাইজেরিয়াও পেয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের টিকিট। নিজেদের মহাদেশের বিশ্বকাপে জায়গা হয়েছে আফ্রিকার আরেক পরাশক্তি ক্যামেরুনেরও। প্রথমার্ধ শেষে ০-১ গোলে পিছিয়ে থাকা নাইজেরিয়া কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি জিতেছে ৩-২ গোলে। ওবাফেমি মার্টিনস করেছেন জোড়া গোল। আর দারিও মন্তেইরোর ৮৩ মিনিটের গোলে মোজাম্বিকের কাছে তিউনিশিয়ার হার ০-১ গোলে। আর অ্যাচেলি ওয়েবো ও স্যামুয়েল ইতোর গোলে মরক্কোর বিপক্ষে ক্যামেরুনের জয়টি ২-০ গোলের।

কাতারের মাটিতে প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারাল ব্রাজিল

এএফসি সভাপতি মোহাম্মদ বিন হাম্মামের আয়োজনে কাতারের রাজধানী দোহারে গতকাল রোববারের রাতটি ছিল একটু অন্য রকম। বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড কাল সেখানে মুখোমুখি হয়েছিল এক প্রীতি আন্তর্জাতিক ম্যাচে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতার। তারই একটা ছোট্ট ড্রেস রিহার্সেল দিয়ে ফেলল তারা এই ম্যাচটি আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
খেলাটিতে ইংল্যান্ড দল ছিল খর্বশক্তির। ডেভিড বেকহাম তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবের কাছ থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় ম্যাচটিতে খেলতে পারেননি। ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডও ছিলেন ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত। ব্রাজিলেরও কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় ছিলেন অনুপস্থিত।
খেলার ৪৭ মিনিটে নিলমারের গোলে ব্রাজিল এগিয়ে যায়। বাকি সময়টাতে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ওয়েন রুনি ব্রাজিলের রক্ষণব্যুহে কয়েকবার হানা দিয়েও জয়ের দেখা পাননি।
ম্যাড়মেড়ে ম্যাচটিতে ব্রাজিল আরও একবার ইংলিশদের বিরুদ্ধে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।