Monday, August 23, 2010

বেলুচিস্তানের বহু এলাকা প্লাবিত

পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফা বন্যায় বেলুচিস্তানের বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই বন্যায় সিন্ধু অঞ্চলের প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছয় লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
ত্রাণকাজে অংশ নেওয়া যেসব দাতব্য সংস্থার কর্মীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন পাকিস্তানের জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি ডলার জরুরি ত্রাণসহায়তা সংগ্রহ হওয়ায় বিশ্ববাসীকে সতর্ক অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, দেশটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে। এদিকে, পাকিস্তানি আমেরিকানরা ত্রাণসহায়তা কার্যক্রম বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিন্ধু এলাকার অনেক নতুন এলাকা গত শুক্রবার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। সেখানে এক হাজার ৪৪৭টি ত্রাণশিবিরে ছয় লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, লাখ লাখ মানুষকে ত্রাণ দিতে আরও সহযোগিতা দরকার। গারি খেরু থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের কারণে সিন্ধু প্রদেশের শাদাতকোট, কাবু সাইদ খান, মেরো খান ও সাজোয়াল শহর বন্যার হুমকিতে রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সিন্ধু নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং দু-এক দিনের মধ্যে ওই নদীর কোত্রি ব্যারেজ হুমকিগ্রস্ত হতে পারে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী দাতব্য সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পাকিস্তান। এসব সংস্থা ত্রাণ কাজে অংশ নেওয়ার কারণে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে দেশটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনগুলোর যাওয়ার অনুমতি নেই। তাদের কেউ সেখানে গেলে গ্রেপ্তার করা হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন প্রায় ৫০ কোটি ডলার জরুরি ত্রাণসহায়তা সংগ্রহ হওয়ায় বিশ্ববাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গত শুক্রবার প্রকাশিত দাতাদের তথ্য সংগ্রহকারী ডাটাবেজ দ্য ফাইন্যানশিয়াল ট্র্যাকিং সার্ভিস (এফটিএস) জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ব্রিটেনের নেতৃত্বে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি ডলার ত্রাণসহায়তা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও সাড়ে ৩২ কোটি ডলার সহায়তার অঙ্গীকার পাওয়া গেছে।
এদিকে, পাকিস্তানি আমেরিকানরা ত্রাণসহায়তা কার্যক্রম বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দ্য কাউন্সিল অন পাকিস্তান রিলেশন্সের নির্বাহী পরিচালক মাহেরা রহমান বলেন, পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা দিয়ে পাকিস্তানিদের আমেরিকাবিরোধী মনোভাব দূর করার এটাই উপযুক্ত সময়।

পেন্টাগনে নিয়মিত নামাজ পড়েন মুসলমানরা

কোনো বিতর্ক কিংবা প্রতিবাদ ছাড়াই মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের একটি উপাসনালয়ে নিয়মিত নামাজ আদায় করে থাকেন মুসলমানরা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জঙ্গিদের ছিনতাই করা বিমান যে ভবনে আঘাত হানে, তার সামান্য দূরেই ওই উপাসনালয়ের অবস্থান।
নানা ধর্মবিশ্বাসীর এই উপাসনালয়ে মুসলমান, ইহুদি, ক্যাথলিক, প্রোটেস্টান্ট, মরম ধর্মবিশ্বাসীরা নিয়মিত প্রার্থনা করে থাকেন।
নিউইয়র্কে গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে যেখানে তুমুল তীব্র বিতর্ক চলছে, সেখানে পেন্টাগনের এই চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতাকারীরা বলছেন, প্রস্তাবিত ইসলামিক সেন্টার নাইন ইলেভেন হামলায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি অবজ্ঞা।
মুসলমানদের নিয়মিত নামাজ আদায় প্রসঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জর্জ রাইট বলেন, ‘আমি এখানে প্রায় চার বছর ধরে আছি। আমি কখনো কোনো ধরনের অভিযোগ শুনিনি।’
এই মুখপাত্র বলেন, নাইন ইলেভেনে পেন্টাগনে হামলায় নিহতদের পরিবার মুসলমানদের নামাজ আদায় সম্পর্কে কখনো কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি।
সেখানে নামাজ পড়া এক ব্যক্তি বললেন, পবিত্র রমজান মাস শুরুর পর থেকে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে গেছে। ওই ব্যক্তি বলেন, পেন্টাগনে নামাজ পড়া একেবারেই স্বাভাবিক। যা আমেরিকান মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
পেন্টাগনে কর্মরত কয়েক ব্যক্তি বলেন, চলতি সপ্তাহে গণমাধ্যমে খবর বের হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁরা ওই উপাসনালয় কিংবা মুসলমানদের নামাজ আদায় সম্পর্কে জানতেন না।

‘ইরাক অভিযান একদিন ব্যর্থ প্রমাণিত হবে’

ইরাক অভিযানকে ব্যর্থ মনে করে অধিকাংশ মার্কিন। তাদের বিশ্বাস, ইতিহাসই একদিন প্রমাণ করে দেবে যে ইরাকযুদ্ধে মার্কিনরা সফল হতে পারেনি। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক জনমত জরিপের ফলাফলে মার্কিনদের এ মনোভাব জানা গেছে।
মার্কিন সংস্থা গ্যালপ এ জরিপটি চালায়। এতে অংশ নেয় এক হাজার ১৩ জন। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইরাকযুদ্ধকে ইতিহাস কীভাবে মূল্যায়ন করবে। জবাবে ৫৩ শতাংশ মার্কিন জানায়, তারা বিশ্বাস করে, ইতিহাস একদিন ঠিকই প্রমাণ করবে যে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক অভিযান সঠিক ছিল না। এটা ছিল একটি ব্যর্থ অভিযান। ইরাকে তারা সফলতার পরিবর্তে ব্যর্থ হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪২ শতাংশ মার্কিন অবশ্য ইরাক অভিযানকে সফল হিসেবে মন্তব্য করে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে তার সব যুদ্ধসেনা প্রত্যাহারের এক দিনের মাথায় জরিপের এ ফলাফল প্রকাশ করা হলো। ময়দানে যুদ্ধরত সেনা সরিয়ে নেওয়া হলেও ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণ ও আল-কায়েদার মতো সংগঠনকে বিশেষ অবস্থায় মোকাবিলা করার জন্য দেশটিতে এখনো ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ২০০৩ সালে ইরাকে অভিযান চালায়। যুদ্ধে ইরাকি সেনাদের মার্কিনরা সহজেই ধরাশায়ী করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনসহ ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির অধিকাংশ নেতাকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে মার্কিনদের মদদপুষ্ট সরকার সাদ্দম হোসেন ও তাঁর অধিকাংশ সহযোগীকে ফাঁসিতে ঝোলায়। ইরাকি সেনাদের সহজে পরাজিত করলেও ইরাকি গেরিলাদের আয়ত্তে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন মূল্য দিতে হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরাকে গেরিলা হামলায় চার হাজার ৪১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এর কয়েক গুণ। ধ্বংস হয়েছে হাজার হাজার সামরিক যান। এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ৭০ হাজার কোটি ডলার।

পন্টিংয়ের সত্যোপলব্ধি

‘অর্থই অনর্থের মূল’—পাঠ্যপুস্তকে নিশ্চয়ই অনেকবার পড়েছেন রিকি পন্টিং। বাস্তব জীবনেও কথাটির সত্যতা দেখতে পেয়েছেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। দেখেছেন অটুট সুখের সংসারে কীভাবে চিড় ধরায় অর্থ। তাঁর ডায়েরি ‘দ্য ক্যাপ্টেনস ইয়ার’-এ পন্টিং জানিয়েছেন, আইপিএলে খেলা না-খেলা নিয়ে কীভাবে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সম্পর্কে।
ঘটনা গত আইপিএলের আগের। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা রেগ ডিকাসন বলেছিলেন, নিরাপত্তার জন্য অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের ভারতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ডিকাসনের রিপোর্টের পর গত ফেব্রুয়ারিতে পন্টিং বলেছিলেন, আইপিএলে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের ঝুঁকি নিয়ে ভারতে যাওয়া ঠিক হবে না। এরপর করণীয় নিয়ে এক সভায় বসেছিলেন আইপিএলে চুক্তিবদ্ধ বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা। সভায় দুটি গ্রুপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বর্তমান ক্রিকেটারদের বেশির ভাগের মত ছিল, আইপিএল খেলতে না যাওয়ার পক্ষে, আর সাবেকেরা সবাই ছিলেন খেলার পক্ষে। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, শেন ওয়ার্নরা পন্টিংয়ের কথার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।
সেই অভিজ্ঞতাকে পন্টিংয়ের মনে হয়েছে নির্মম সত্যোপলব্ধি, ‘সভাটা আমার মনে দারুণ ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। হঠাৎ করেই আমি বুঝতে পারলাম, যে পরিবেশের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা বেড়ে ওঠে, আইপিএল এসে সেটা পাল্টে দিয়েছে। আগে সব সময়ই সবার চিন্তাভাবনা, মানসিকতা প্রায় একই ছিল। কিন্তু এখানে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সতর্কবাণী মানা উচিত কি না, এটা নিয়ে বর্তমান ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্যদের সঙ্গে আমার তর্ক করতে হচ্ছিল।’
শেষ পর্যন্ত অবশ্য টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল অস্ট্রেলীয়রা এবং কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই সফলভাবে শেষ হয়েছে আইপিএলের তৃতীয় আসর।

পাকিস্তানের সমব্যথী জিম্বাবুয়ে

সেই ২০০৯-এর মার্চে শ্রীলঙ্কার টিমবাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই নিজের দেশেই পরবাসী পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সেদিন থেকেই ক্রিকেট-বিশ্বে ঘুরে ফিরছে একটি প্রশ্ন, আবার কবে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারবে পাকিস্তান?
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হয়ত পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কথা সত্যি হলে খুব দ্রুতই পাকিস্তানে হতে পারে পাকিস্তান-জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট সিরিজ। না, পাকিস্তান জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানায়নি। জিম্বাবুয়ে নিজে থেকেই পাকিস্তান সফর করতে চাইছে। ‘একঘরে’ পাকিস্তানের প্রতি জিম্বাবুয়ের এমন সহানুভূতি দেখানোর কারণ, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা। অবশ্য টেস্ট ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নেওয়া জিম্বাবুয়েরও এতে উপকার হবে বৈকি!
পিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার নাদিম সরওয়ার বলেছেন, ‘তারা (জিম্বাবুয়ে) এখানে আসতে চায় এবং বন্যার্তদের সাহায্যে একটি সিরিজ খেলতে চায়। তারা তারিখ এবং সফরের সূচি দিতে বলেছে।’
বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে দেড় হাজারের বেশি মানুষ। ভেসে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া। বন্যাদুর্গতদের দুঃখে দুঃখী সবাই। তবে অনুশোচনার মধ্যেও বন্যা যেন পিসিবির জন্য আশীর্বাদ। আজ জিম্বাবুয়ে কাল আরেক দেশ, এমনি করেই যদি দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অধিকারটা আবার ফিরে পাওয়া যায়!
জিম্বাবুয়ে আসতে চাইছে নিজে থেকেই। এদিকে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে ভারতের সঙ্গে প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজন করতে চাইছে পিসিবি।

সাঙ্গাকারাকে নিয়েই নামছে শ্রীলঙ্কা

বড় বাঁচা বেঁচে গেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। পরশু বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ম্যাচে নাথান ম্যাককালামকে ধাক্কা মারায় আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছিল শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ভারতের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের আজকের ম্যাচে খেলতে পারতেন না সাঙ্গাকারা। তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে সাঙ্গাকারাকে নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি অ্যালান হার্স্ট। বাঁচা-মরার ম্যাচে আজ তাই অধিনায়ককে নিয়েই নামতে পারছে শ্রীলঙ্কা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ২৬তম ওভারের পঞ্চম বলে রান নেওয়ার সময় নাথান ম্যাককালামকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। মাঠে দুজনের হালকা বাদানুবাদও হয়। প্রাথমিকভাবে আচরণবিধির ২.২.৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় সাঙ্গাকারার বিরুদ্ধে। এই ধারা ভঙ্গের প্রমাণ মিললে ম্যাচ ফির ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ জরিমানা কিংবা একটি টেস্ট অথবা দুটি ওয়ানডে অথবা দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বহিষ্কারের নিয়ম আছে।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য সাঙ্গাকারার দোষ খুঁজে পাননি ম্যাচ রেফারি সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার হার্স্ট, ‘বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে আমি ওই ঘটনার ভিডিও দেখেছি। কিন্তু সাঙ্গাকারা ইচ্ছে করেই ধাক্কা মেরেছে, এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।’ সাঙ্গাকারা ইচ্ছে করেই ধাক্কা মেরেছে, বিশ্বাস করেন না তাঁর ডেপুটি ও ভালো বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনে। ব্যাপারটা এখন পুরোপুরি মিটে গেছে বলেও জানিয়েছেন জয়াবর্ধনে, ‘আমি পরে রিপ্লে দেখেছি, দ্বিতীয় রান নেওয়ার সময় সাঙ্গাকারা ঠিকমতো খেয়াল না করায় ম্যাককালামের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে। পরে ড্রেসিংরুমে দুজনেরই কথা হয়েছে। ব্যাপারটা এখন চুকেবুকে গেছে।’
শাস্তি একটা হয়েছে পরশুর ম্যাচ চলার সময়ও। ক্রিকেটের বিরল এক অপরাধে শাস্তি পেতে হয়েছে কাইল মিলসকে। নতুন স্পেলে বোলিং শুরুর সময় ‘গা গরমের বল’ পপিং ক্রিজে করায় আধঘণ্টা বোলিং করতে দেওয়া হয়নি কিউই সহ-অধিনায়ক মিলসকে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক রস টেলর জানিয়েছেন, ক্রিকেটের এই ১৭.১ নম্বর আইনটির কথা জানা ছিল না তাঁর ডেপুটির।
প্রথমে সুরাজ রণদিভের ‘নো বল’ বিতর্ক, পরে সাঙ্গাকারার এ ঘটনায় যথেষ্টই ক্ষুব্ধ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। তিনবার আইসিসির ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’ জয়ী দেশটির বোর্ড সাঙ্গাকারাকে বলে দিয়েছে আরও সাবধান হতে। এতসব বিতর্ক মাথায় নিয়েই আজ ত্রিদেশীয় সিরিজের মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামছে শ্রীলঙ্কা। ৩ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৫। সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড, ২ ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট ৫। আজ ভারত জিতলেই নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে উঠে যাবে ফাইনালে।

আঠারো মাস পর ৪ মাসের চুক্তি

ভাবুন তো, আঠারো মাস ধরে ‘মৌখিক চুক্তি’তে কাজ করে যাচ্ছেন জেমি সিডন্স!
ব্যাপারটা ঠাট্টা বলে উড়িয়ে দেবেন না। ক্রিকেটে না হোক, বাংলাদেশের হকি আঠারো মাস ধরে এই ‘ঠাট্টা’টা দেখে আসছে। কোনো রকম আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই হকি দল নিয়ে কাজ করছিলেন জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড। অবশেষে সেই ‘রসিকতা’র শেষ হলো কাল।
হকি ফেডারেশনে গেরহার্ডের সঙ্গে চার মাস মেয়াদি আনুষ্ঠানিক একটা চুক্তি করল হকি ফেডারেশন। সে অনুষ্ঠানেরও আবার কী ছিরি! কোচ এসে বসে রইলেন, সঙ্গে ফেডারেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা। ফেডারেশনের পক্ষে যিনি চুক্তি সই করবেন, সেই সাধারণ সম্পাদকের কোনো দেখা নেই। তিনি যানজটে আটকা পড়ে রইলেন। পরে অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে এই বিলম্বের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন।
চুক্তি সই ছাড়াই সে অনুষ্ঠান শেষ হলো। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথন শেষে অনুষ্ঠান-টনুষ্ঠান যখন শেষ, সবাই যাঁর যাঁর পথ মেপেছেন; তখন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসে চুক্তি সই করলেন।
সে চুক্তিতে কী আছে? সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য আনভীর আদেল বললেন, ‘খুবই স্বচ্ছ একটা চুক্তি করছি আমরা। এটুকু বলতে পারি, চুক্তিতে দুই পক্ষেরই স্বার্থ যত দূর সম্ভব রক্ষা করা হয়েছে।’
চুক্তি অনুযায়ী গেরহার্ড মাসে ৩ হাজার ডলার করে পাবেন। বিনিময়ে গেরহার্ড কী করবেন? কোচ কোচিং ছাড়া আর কী করাবেন! না, এই কোচ একটু বাড়তি কাজ করে থাকেন। আগে একবার নিজে উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জার্মান সফরে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাতে কী উপকার হয়েছে না-হয়েছে তা নিয়ে তর্ক হতে পারে।
তবে কোনো তর্কবিতর্কের ধার না ধেরে আবার গেরহার্ড জাতীয় পর্যায়ের ১৮ খেলোয়াড়কে জার্মানিতে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে একটা ক্লাবের সঙ্গে সপ্তাহান্তে ম্যাচ খেলবেন খেলোয়াড়েরা। আর ইউরোপীয় কন্ডিশনে অনুশীলন হবে।
এর মানে অবশ্য এই নয় যে, ইউরোপ সফরে যাওয়া এই ১৮ জনের ভেতর থেকেই ১৬ জনের এশিয়ান গেমসের দল করা হবে। কোচের বক্তব্য, সে দল করার জন্য দেশে থাকা খেলোয়াড়দেরও বিবেচনা করা হবে!

মেনেজেস কাজ করে যাবেন

ফুটবল-বিশ্বে আবার প্রীতি ম্যাচের মেলা বসবে সেপ্টেম্বরে। কিন্তু সেই মেলায় থাকবে না পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রীতি ম্যাচ না থাকলেও সময়টাকে নষ্ট করতে চান না ব্রাজিলের নতুন কোচ মানো মেনেজেস। তিনি তা কাজে লাগাতে চান অন্যভাবে।
ব্রাজিল দলে সুযোগ পেতে পারেন, ইউরোপের এমন ২২ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে এক সপ্তাহের অনুশীলন করবেন মেনেজেস। এরই মধ্যে সেই ২২ জন খেলোয়াড়কে ডেকেছেনও ব্রাজিল কোচ। এঁদের মধ্যে আছেন চেলসি ডিফেন্ডার অ্যালেক্স, বার্সেলোনা ডিফেন্ডার দানি আলভেজ, ম্যানচেস্টার সিটি ও এসি মিলান স্ট্রাইকার রবিনহো ও আলেক্সান্দ্রে পাতো। সবাইকে নিয়ে সেপ্টেম্বরে বার্সেলোনায় মিলিত হবেন মেনেজেস।

টি-টোয়েন্টিতে স্মিথের উত্তরসূরি বোথা

দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে দলে গ্রায়েম স্মিথের ডেপুটি ছিলেন ইয়োহান বোথা। অন্তত একটা দলে আর সহকারী হয়ে থাকতে হচ্ছে না তাঁকে। নিজের ওপর চাপ কমাতে স্মিথ টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। তাঁর জায়গায় দক্ষিণ আফ্র্রিকার টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়েছে বোথাকে।
ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী জেরাল্ড মাজোলা বোথাকে অধিনায়ক করার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘সর্বসম্মতভাবে বোর্ড বোথাকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওর ওপর আমাদের আস্থা আছে, ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালোভাবে দল পরিচালনা করতে পারবে।’
অধিনায়কত্বটা চাপ হয়ে কাঁধের ওপর বসবে না বলে মনে করেন বোথাও, ‘আগে গ্রায়েমের অনুপস্থিতিতে আমি যখন অধিনায়কত্ব করেছি, উপভোগই করেছি। আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’
মাজোলা অবশ্য টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া স্মিথকে সংকটে হাল ধরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেন। তবে স্মিথের কোচ কোরি ফন জিল এ ব্যাপারে আগে থেকে নাকি কিছুই জানতেন না!

মারা গেছেন কনোলি

১৯৫৬ মেলবোর্ন অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন। হ্যামার থ্রোয়ের সাবেক বিশ্ব রেকর্ডধারী হ্যারল্ড কনোলি মারা গেছেন গত বুধবার। কনোলি মেলবোর্ন অলিম্পিকে আলোচনায় এসেছিলেন ব্যালে নাচের জুতো পরে অংশ নেওয়ায়। এই জুতো নাকি তাঁর পারফরম্যান্স বাড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও পরের তিনটি অলিম্পিকে ভালো কিছু করে দেখাতে পারেনি ছয়বার বিশ্ব রেকর্ড গড়া এই মার্কিন।

আর্সেনাল-চেলসির বড় জয়

৬৪ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন হ্যাটট্রিক করার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। গতকাল এক গোলও করতে পারলেন না দিদিয়ের দ্রগবা। তাতে চেলসির কিছু এসে গেল না। সলোমন কালু ও নিকোলাস আনেলকার জোড়া গোল এবং মালুদা ও বেনাইয়নের গোলে উইগান অ্যাথলেটিককে হারাল তারা ৬-০ গোলে।
দ্রগবা না পারলেও কাল প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিক করেছেন থিও ওয়ালকট। ওয়ালকটের তিন গোল এবং আরশাভিন, দিয়াবি ও চামাখের গোলে ব্ল্যাকপুলের বিপক্ষে ৬-০ ব্যবধানে জিতেছে আর্সেনাল।
ওদিকে পরশু বুন্দেসলিগায় বায়ার্নকে শুভসূচনা এনে দিয়েছেন টমাস মুলার ও বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার। তাঁদের দুই গোলে নতুন মৌসুমে ভলফসবুর্গকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন।
ম্যাচের ৯ মিনিটেই বায়ার্নকে এগিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতা মুলার। তবে তাঁর এ গোলটি ফেরত দিয়ে ভলফসবুর্গকে সমতায় ফেরান এডিন জেকো। এরপর কিছুতেই আর গোলের দেখা পাচ্ছিল না বায়ার্ন। অবশেষে শেষ বাঁশি বাজার কয়েক সেকেন্ড আগে বায়ার্নের জয়সূচক গোলটি করেন শোয়েনস্টাইগার।
জার্মানি কিংবা বায়ার্ন মিউনিখ, দুই দলে গোল করানোই মুলার কিংবা শোয়েনস্টাইগারের মূল কাজ। কিন্তু এদিন বায়ার্নের গোল দুটি করলেন মাঝ মাঠের এই দুই খেলোয়াড়।
শোয়েনস্টাইগার তো কথাটা বলেই ফেললেন, ‘গোল করা আমার আসল কাজ নয়। কিন্তু মাঝেমধ্যেই আমরা গোল করি। জয়সূচক গোল করার মাহাত্ম্য তো আলাদাই।’ মুলার অবশ্য বিশ্বকাপের মতো নিজের গোলের ধারা বজায় থাকার চেয়ে দলের জয়টাকেই দেখছেন বড় করে, ‘প্রথম ম্যাচেই জয় দলের জন্য একটা খুশির খবর।’

মেসির হ্যাটট্রিক, সুপার কাপ বার্সার

প্রথম লেগে হারে লজ্জা পেতে হয়েছে। এ হারের কারণেই হয়তো এতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেই হারের ক্ষোভ মেটালেন ফিফা বর্ষসেরা এই ফুটবলার। মেসির হ্যাটট্রিকের সুবাদে গতকাল শনিবার সেভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তাঁর ক্লাব বার্সেলোনা। প্রথম লেগের খেলায় ৩-১-এ হারের কারণে ৫-৩ গোলে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জিতল বার্সা।
প্রথম লেগের ম্যাচে বিশ্বকাপ জয়ী স্পেনের আটজন তারকার সবাইকেই বিশ্রামে রেখেছিল বার্সেলোনা! মূল একাদশে রাখা হয়নি এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকেও। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে ইব্রাহিমোভিচের বদলি হিসেবে নামানো হয় মেসিকে। তবে সতীর্থদের কাছে থেকে সেভাবে সহায়তা না পেয়ে নিজেকে সেভাবে তুলে ধরতে পারেননি তিনি, বার্সাকেও মাঠ ছাড়তে হয় হার নিয়ে। গতকাল বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলাররা নেমেছিলেন, জ্বলে উঠেছিলেন মেসিও।
খেলার ১৩ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সেভিয়ার কনকো। ম্যাচের পরবর্তী সময়ে হওয়া সব কটি গোলই করেন মেসি। ২৪ মিনিটে জাভির পাস থেকে বার্সার গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, প্রথমার্ধের একেবারের শেষ মুহূর্তে এসে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পাস থেকে ম্যাচের ৯০ মিনিটে হ্যাটট্রিকটাও করে ফেলে বার্সার এই তারকা।
ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে উচ্ছ্বসিত মেসি বলেন, ‘হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জিতলাম আমরা। এখন আমরা মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ী।’ মেসির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্লাবের হয়ে তিনি যতটা উজ্জ্বল, জাতীয় দলের হয়ে ঠিক ততটাই নিষ্প্রভ। যার প্রমাণও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে একটিও গোলের দেখা পাননি, অথচ বার্সেলোনার হয়ে প্রতিপক্ষকে গোল-বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন। সমালোচনা প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবলকে আনন্দের বিষয় হিসেবেই দেখি। ক্লাবের হয়ে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, একইভাবে জাতীয় দলের হয়েও নিজেকে উজাড় করে খেলি।

মাসেই বিবর্ণ ৭ কোটি টাকার ভবন

সাত মাস না যেতেই ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৪ হাজার বর্গফুটের ত্রিতল একাডেমি ভবনের শরীরে ফুটে উঠছে বার্ধক্যের নানা জীর্ণতা

বাইরে থেকে দেখলে তো বটেই, মোটা কাচের দরজা ঠেলে যখন ভেতরে পা রাখবেন, মনে হবে কোনো পাঁচ তারকা হোটেলেই বুঝি ঢুকলেন। সাদা পাথরের মেঝে, আধুনিক নির্মাণশৈলীর অন্দরসজ্জা। সুপরিসর কামরাগুলোর নির্মাণেও আছে নান্দনিকতা। কিন্তু চোখ যদি গিয়ে পড়ে দেয়ালে আর ছাদে, ভুল ভাঙতে সময় লাগবে না। ব্যবহার শুরুর মাত্র সাত মাসের মধ্যে একি হাল গ্রামীণফোন-বিসিবি একাডেমি ভবনের! স্যাঁতসেঁতে দেয়াল আর ছাদে শ্যাওলা পড়ে জায়গায় জায়গায় বিবর্ণ। সিড়ির গাঁয়ে হলুদ ছাপ একে দিয়েছে বৃষ্টির পানির স্রোত।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের নিজস্ব একাডেমি ভবনে কার্যক্রম শুরু করেছে গত ২৪ জানুয়ারি। কিন্তু সাত মাস না যেতেই ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৪ হাজার বর্গফুটের ত্রিতল ভবনের শরীরে ফুটে উঠছে বার্ধক্যের জীর্ণতা। একটু বৃষ্টি হলেই ওপর, নিচ আর চারপাশ থেকে পানি ঢুকতে শুরু করে ভবনে। রান্নাঘরের মেঝে চুইয়ে পানি ওঠে, ওপর থেকে পানির স্রোত নামে ছাদের সিঁড়ি বেয়ে। কার্নিশ নেই, তাই বৃষ্টির ঝাপটা বেশি হলে জানালা দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। কখনো কখনো সদর দরজা দিয়েও।
নিষ্কাশন-ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় গোসল করার সময় দোতলা-তিনতলার অনেক কক্ষের বাথরুমেও পানি জমে যায়! কক্ষগুলোর দেয়ালে দেয়ালে ড্যাম্প, শ্যাওলা ধরে খসে পড়তে শুরু করেছে রং। একজন আবাসিক কর্মকর্তা ছাড়া ভবনে কর্মচারী মাত্র তিনজন। পরিষ্কার করার লোক নেই বলে নোংরা হয়ে আছে সিঁড়ি-করিডর। সব দেখে মনেই হবে না এই ভবনের বয়স মাত্র সাত মাস, গ্রামীণফোনের পৃষ্ঠপোষণায় এর পেছনে বিসিবির খরচ হয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা!
অভিযোগ আছে, একাডেমির বিভিন্ন কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র আর আসবাবপত্রও নিম্নমানের। অনেক ফিটিংসই বদলে ফেলতে হয়েছে এরই মধ্যে। ভবনে একাধিকবার থাকা এক খেলোয়াড় নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করলেন, ‘বেশির ভাগ এসিই ঠিকমতো কাজ করে না। বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে প্রায়ই। যারা এই ভবন বানিয়েছে, তারা ইচ্ছেমতো টাকা মেরেছে। বিসিবিকে একটা বিল্ডিং বুঝিয়ে দিতে হয় বলে, নইলে পুরো টাকাটাই মেরে দিত।’ আরেক ক্রিকেটারের ক্ষোভ, ‘বাইরে থেকে মনে হবে ফাইভ স্টার হোটেল। কিন্তু দুদিন থাকলেই বুঝবেন, এটা আসলে কী। চারদিক দিয়ে পানি ঢোকে। ফার্নিচারও সব দুই নাম্বার।’ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্মাণের পর এক বছর পর্যন্ত যাবতীয় ত্রুটি সারানোর দায়িত্ব নির্মাণসংস্থার। তারা সেটা করছেও। দুশ্চিন্তাটা এক বছর পর কী হবে, তা নিয়েই।
মাত্র সাত মাসেই একাডেমি ভবনের এমন হাল কেন, সেটা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। বিসিবির গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ কমিটির প্রধান শফিকুর রহমান প্রথমে ‘নির্মাণকাজে প্রাথমিকভাবে এ রকম সমস্যা থাকেই’ বললেও পরে বলেছেন, ‘নির্মাণসংস্থার কাছ থেকে ১০ শতাংশ জামানত রাখা আছে। তা ছাড়া তাদের বিলও পুরোপুরি শোধ হয়নি, এখনো দুই কোটি টাকার মতো পায় আমাদের কাছে। তারা যদি সমস্যাগুলোর সমাধান না করে, তাহলে এই টাকা দিয়ে আমরাই সে কাজ করব।’
কিন্তু একাডেমি ভবন নির্মাণে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বসত আর্কিটেক্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রধান স্থপতি মাসুদুর রহমান খান বলেছেন, একাডেমি ভবনের যে এই হাল, সেটা নাকি তাঁরা জানেনই না, ‘আমরা যখন বিসিবিকে ভবন বুঝিয়ে দিই, তখন কিছু সমস্যার কথা বলা হয়েছিল। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশ বিল্ডার্সকে সেসব ঠিক করে দিতে বলেছি। এত দিনে কাজগুলো তাদের করেও দেওয়ার কথা। না দিলে বিসিবির উচিত ছিল আমাদের জানানো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এ রকম কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি।’
দেশ বিল্ডার্সের পরিচালক মোফাজ্জল হোসেনের দাবি, একাডেমি ভবন সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, ‘ভবনে কোনো সমস্যা নেই। শুরুতে টুকটাক সমস্যা থাকলেও সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। দেয়াল ড্যাম্প করার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা দেয়ালের ভেতরে থাকা কিছু পানির পাইপ লিক করার কারণে। পানি শুকিয়ে গেলে আমরা দেয়াল আবার রং করে দেব।’ কার্নিশ না থাকায় বিভিন্ন জায়গা দিয়ে ভবনে পানি ঢোকার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য, ‘বসত আমাদের যে নকশা দিয়েছে, আমরা সে অনুযায়ীই কাজ করেছি। নকশায় কার্নিশ না থাকলে আমরা কেন কার্নিশ দেব?’
নিম্নমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও আসবাবের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘বিসিবি আমাদের যে নমুনা দিয়েছে, আমরা সে অনুযায়ীই আসবাব দিয়েছি। এখন সেগুলো নিম্নমানের হলে দায় তো আমাদের নয়।’ দেশ বিল্ডার্স নির্মাণকাজ করলেও একাডেমি ভবনের নকশা করেছে বসত আর্কিটেক্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স।
একাডেমি ভবন বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া নিয়েও আছে অস্পষ্টতা। বসতের দাবি, বিসিবি নাকি গত জানুয়ারি থেকে একরকম জোর করেই একাডেমি ভবন ব্যবহার শুরু করেছে। কাজ শেষ হয়নি বলে ভবন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেয়নি তারা। এ ছাড়া ঠিকাদারদের বিল ঠিকমতো পরিশোধ না করায়ও কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলছেন, ‘জোর করে ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে, কথাটা ঠিক নয়। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই গত জানুয়ারিতে ভবন বুঝে নেয় বিসিবি। তবে যেহেতু আমরা এখনো তাদের পুরো বিল পরিশোধ করিনি, কিছু আনুষ্ঠানিকতা তো বাকি আছেই। সব কাজ বুঝে নিয়েই বাকি বিল শোধ করা হবে।’
বিসিবিকে বসতের ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ২০০৯ সালের এপ্রিলে, আর এখন ২০১০ সালের আগস্ট। ভবন যদি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে না-ই দেওয়া হয়, তাহলে তো পুরোনো প্রশ্নটাই ওঠে—কবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে সেটা? কবে শেষ হবে একাডেমি ভবনের কাজ?

পাকিস্তানে বন্যার্তদের সাহায্যে হাত বাড়াল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট

জিম্বাবুয়ের পর এবার পাকিস্তানের বন্যার্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে চেয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। বন্যার্তদের সাহায্যার্থে তহবিল গঠনের জন্য পাকিস্তানে একটি সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
আজ রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র নাদিম সারওয়ার বলেছেন, ‘আমরা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে একটা ই-মেইল পেয়েছি। তারা বন্যার্তদের সাহায্যার্থে তহবিল গঠনের জন্য পাকিস্তানে একটা সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে।’ এর আগে জিম্বাবুয়েও পাকিস্তানে একটি সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিয়েছিল।
গত বছর মার্চে পাকিস্তান সফরে এসে শ্রীলঙ্কার টিমবাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজিত হচ্ছে পাকিস্তানের হোম সিরিজগুলো। এবার বন্যার্তদের সহায়তার সুযোগে আবার হয়তো পাকিস্তানে চালু হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।