Monday, March 17, 2014

এই তরুণদের আমরা কী কাজে লাগাচ্ছি? by সোহরাব হাসান

মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় অর্থনীতি বিষয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শিরোনাম ছিল যথাক্রমে ‘উচ্চশিক্ষিতদের প্রায় অর্ধেকই বেকার’, ‘স্বল্পশিক্ষিতদের হাতেই সচল অর্থনীতি’ এবং ‘চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরাই বেশি বেকার’। ব্যতিক্রমী ও অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদনগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকদের ধন্যবাদ জানাই। আমাদের নেতা-নেত্রীরা যখন মধ্য আয়ের এবং আরও এক ধাপ এগিয়ে উন্নত দেশের স্বপ্নে বিভোর, তখন এই প্রতিবেদন চোখে আঙুল দিয়ে কঠিন সত্যই তুলে ধরেছে।

বিশ্বায়নের কাল- ভদ্র পুলিশের কেলেঙ্কারি by কামাল আহমেদ

পর্যটক আকর্ষণের এক বিস্ময়কর ক্ষমতা রয়েছে ব্রিটেনের। পর্যটকেরা আসেন নানা কারণে। রাজপরিবারের প্রতি আকর্ষণ, সাহিত্য-শিল্পকলার টান, ঔপনিবেশিক ইতিহাসের নিদর্শনগুলো প্রত্যক্ষ করার আগ্রহ, কেনাকাটা ইত্যাদি। ‘ভিজিট ব্রিটেন’ নামের এক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ বিদেশি পর্যটক ব্রিটিশ অর্থনীতিতে দুই হাজার ১০০ কোটি পাউন্ড জোগান দিয়েছেন। প্রতিদিন এই যে হাজার হাজার পর্যটক দেশটি দেখতে আসেন, তাঁদের অনেকেরই বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে ব্রিটিশ পুলিশ। ব্রিটিশ পুলিশ বলতে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ, যা সংক্ষেপে ‘মেট’ নামে পরিচিত। পর্যটকেরা ব্রিটেনের যেসব স্মারক কিনে থাকেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য হচ্ছে মেট পুলিশের হেলমেটের নমুনা বা রেপ্লিকা। ব্রিটিশ পুলিশের প্রতি এই আগ্রহের কারণ হচ্ছে তাদের সুনাম। বিশ্বের সবচেয়ে মার্জিত বা ভদ্র ও বন্ধুসুলভ আচরণের জন্য আদর্শ পুলিশের উদাহরণ হলো ব্রিটিশ পুলিশ। তাদের নিরস্ত্র টহলদারি ও দায়িত্ব পালন অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয়। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। যেমন, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট। কিন্তু সাধারণভাবে তারা সব সময়ই নিরস্ত্র অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে থাকে। ব্রিটিশ পুলিশের মূল শক্তি তাদের প্রতি জনগণের আস্থা, যেটির ভিত্তি হচ্ছে তাদের কার্যক্রমের মূলনীতি: জনসম্মতির ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ইংরেজিতে ‘পোলিসিং বাই কনসেন্ট’। কিন্তু গত এক সপ্তাহে এই মেট পুলিশের যেসব কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা অকল্পনীয়।

কুমিল্লার ঐতিহ্য- মহেশাঙ্গন ও রামমালা পাঠাগার by শান্ত নূরুননবী

ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিটঘর গ্রামে জন্ম নেওয়া কর্মযোগী মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ১৯৪৪ সালে পরলোকগমন করেন। পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া না করতে পারা এই ব্যক্তি সেই সময়ের কুমিল্লা শহরে এসে ব্যবসা শুরু করেন এবং বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হন। কিন্তু বৈষয়িক উন্নতির চেয়ে জ্ঞানচর্চার উন্নতিকেই তিনি মানুষের মুক্তির প্রকৃত উপায় হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। তাই নিজের আয়ের অর্ধেক নিয়মিতভাবে তিনি দান করে গেছেন প্রজন্মের শিক্ষাবিস্তারের পেছনে। এমনকি তাঁর কুমিল্লার সম্পত্তি, ব্যবসা—সবই দান করে গেছেন শিক্ষাজ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে। ভারতের কাশিতেও আছে তাঁর আনুকূল্যে গড়ে ওঠা বিদ্যাপীঠ (১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত)। নিজের এই ঔদার্যের কথা তিনি কাউকে জানতে দিতে চাননি। সে কারণেই হয়তো আজও বাংলাদেশের মানুষ তাঁর সম্পর্কে অবগত নয়। অথচ কুমিল্লায় সেই আমলে তিনি যা করেছেন, অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর সে তথ্য প্রচারণার প্রয়োজন ছিল জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য।

নিঃস্ব এক প্রধানমন্ত্রী

বলছি একজন প্রধানমন্ত্রীর কথা। তার বয়স ৭৫ বছর। নেই নিজস্ব কোন জমিজমা, বাড়িঘর। নেই ব্যাংকে কোন অর্থ। এমন কি একটি ব্যাংক একাউন্টও নেই তার। বিয়ে করেন নি। কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোন কোম্পানিতে তার নেই কোন বিনিয়োগ। জীবনের সবটা সময় একা একা কাটিয়ে দিচ্ছেন। সম্পদ বলতে আছে মাত্র তিনটি মোবাইলফোন। অনেকেই বিস্মিত হতে পারেন এ খবরে। কিন্তু ঘটনা সত্য।

এই তরুণদের আমরা কী কাজে লাগাচ্ছি?

এই তরুণদের আমরা কী কাজে লাগাচ্ছি?
মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় অর্থনীতি বিষয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শিরোনাম ছিল যথাক্রমে ‘উচ্চশিক্ষিতদের প্রায় অর্ধেকই বেকার’, ‘স্বল্পশিক্ষিতদের হাতেই সচল অর্থনীতি’ এবং ‘চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরাই বেশি বেকার’। ব্যতিক্রমী ও অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদনগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকদের ধন্যবাদ জানাই। আমাদের নেতা-নেত্রীরা যখন মধ্য আয়ের এবং আরও এক ধাপ এগিয়ে উন্নত দেশের স্বপ্নে বিভোর, তখন এই প্রতিবেদন চোখে আঙুল দিয়ে কঠিন সত্যই তুলে ধরেছে। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রথম আলো আরও জানায়,
‘বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার। দক্ষিণ এশিয়ায় এর চেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিত বেকার আছেন কেবল আফগানিস্তানে, ৬৫ শতাংশ। এর বাইরে ভারতে এ হার ৩৩ শতাংশ, নেপালে ২০ শতাংশের বেশি, পাকিস্তানে ২৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও) তথ্যমতে, বেকারত্বের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৫ সালে মোট বেকারের সংখ্যা ছয় কোটিতে দাঁড়াবে। সংস্থাটির মতে, বেকারত্ব বাড়ছে—এমন ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১২তম। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০১২ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তরসহ উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ। তাঁদের মধ্যে ৯২ হাজার ৭৪৭ জন স্নাতক পাস, এক লাখ ২৮ হাজার ৪৮১ জন স্নাতক সম্মান এবং ২১ হাজার ৩৮০ জন কারিগরি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯৪ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, দুই হাজার ৩৮৫ জন স্নাতকোত্তর (কারিগরি) এবং এক হাজার ৭৬৩ জন এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অন্যদিকে বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা বা সনদ অর্জন করেন দুই হাজার ৩৩৫ জন। পরিসংখ্যান বলছে, বেকারদের মধ্যে চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের হার ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ মধ্যে নারী চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের অবস্থা আরও খারাপ। তাঁদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩১ শতাংশ। এর পরেই আছেন উচ্চমাধ্যমিক পাস করা ব্যক্তিরা। তাঁদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর বেকারদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছেন স্নাতকোত্তররা, ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এসব তথ্য-উপাত্ত থেকে আমাদের রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা শিক্ষা নেবেন কি? একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো সেই দেশের প্রতিটি কর্মক্ষম নাগরিকের কর্মসংস্থান। যত দিন আমরা সেই অবস্থায় যেতে না পারব, তত দিন নিজেদের মধ্য আয়ের দেশ দাবি করা বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছু নয়। জনসংখ্যার ভারে প্রায় ন্যুব্জ এই দেশটিকে আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি ওই অবস্থায় নিয়ে যেতে পারব না, যাতে প্রত্যেক বেকার যুবককে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভাতা দেওয়া যাবে। অতএব, কর্মসংস্থানের প্রতিই নজর দিতে হবে এবং প্রতিটি নাগরিককে দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশত্তিতে পরিণত করতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আমাদের যে বিপুলসংখ্যক অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষিত জনশক্তি আছে, তাঁদের নিয়েও চিন্তা করতে হবে। ভবিষ্যতে এসব দেশ দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিকই নিতে চাইবে। এই যে দেশের শিক্ষিত তরুণেরা চাকরি পাচ্ছেন না, তাঁদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে পারছেন না, সেটি কেবল ব্যক্তি বা পারিবারিক ক্ষতি নয়; আমাদের জাতীয় ক্ষতি। শিক্ষিত ও মেধাবী জনশক্তির প্রতি রাষ্ট্রের এই উপেক্ষা মেনে নেওয়া যায় না। ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ১৫ বছর থেকে ৬৫ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা সাত কোটি ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৫ জন। অর্থাৎ তাঁরা সবাই কর্মক্ষম। কিন্তু তাঁদের কাজে লাগাতে পারছি না। এমনকি কাজে লাগানোর জন্য যে সুষ্ঠু ও সুস্থ পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন, সেই উপলব্ধি রাষ্ট্রের পরিচালকদের মাথায় আছে বলে মনে হয় না। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো জনসভায় লোক আনতে তরুণদের ব্যবহার করতে যতটা সক্রিয়, তাঁদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ততটাই নিষ্ক্রিয়। প্রতিবছর কর্মবাজারে যে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি আসছে, তাঁদের কাজের সংস্থান করতে হলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা খাতের প্রসার ঘটাতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
অর্থনীতির চাকা যাতে সচল ও প্রবহমান থাকে, তার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের অসুস্থ রাজনীতি বরাবরই অর্থনীতিকে অসুস্থ করে দিতে তৎপর থাকে। আমাদের সরকার ও বিরোধী দল কোনো বিষয়েই একমত হতে পারে না। এ মুহূর্তে দেশে হরতাল-অবরোধ নেই সত্য, কিন্তু কত দিন এই স্বস্তি থাকবে, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। নানা প্রতিকূলতা ও বাধা সত্ত্বেও দেশের তরুণেরা নিজেদের চেষ্টায় কিছু করতে চান। তাঁরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে চান। কিন্তু রাষ্ট্রের অভিভাবকদের কাছ থেকে তেমন সহায়তা পান না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে শুরু করে বেসিক ব্যাংক—সব উদ্যোগেই অশুভ শক্তির অশুভ ছায়া দেখা গেছে। আমাদের ভালো ভালো উদ্যোগগুলো দলীয়করণ, আত্মীয়করণের কারণে এবং অযোগ্যদের হাতে পড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। যাঁরা দেশের ও সমাজের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারতেন, সেই মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত জনশক্তিকেই আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। ফলে বহু তরুণ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, প্রযুক্তিবিদ বিদেশে চলে যাচ্ছেন। আমরা প্রতিবছর সেশনজট বাড়িয়ে পরীক্ষা পিছিয়ে শিক্ষিত তরুণদের মেধাও অপচয় করছি। কিন্তু দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবছি না। ভাবছি ক্ষমতায় থাকা ও যাওয়ার কথা। সরকার কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষার কথা বললেও কর্মবিমুখ শিক্ষাকেই উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশের তরুণ বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, তাতে গড়ে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের তরুণ বেকারদের হার ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। ১৯৮৬ সালে এ হার ছিল সবচেয়ে কম, ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০০০ সালে সবচেয়ে বেশি, ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। গত ১০ বছরে বেকারের হার আরও বেড়েছে। কিন্তু এসব নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।
২. গত শনিবার তৃতীয় দফায় ৮১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হলো। আগের দুই দফার সঙ্গে তুলনা করলে এবার সংঘাত, সংঘর্ষ, সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে অনেক বেশি। তিনজন মারা গেছে। এটাই কি আমাদের ভবিতব্য ছিল? এই নির্বাচনই কি আমরা চেয়েছিলাম? নির্বাচন নিয়ে এই যে সংঘাত-সংঘর্ষ ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানো হলো, তাতে কার লাভ হলো? বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, এবার মারামারিটা একতরফা হয়নি। বিবদমান দুই পক্ষই মোটামুটি প্রস্তুত ছিল। ফেনীর দাগনভূঞার একটি ভোটকেন্দ্রের চিত্র তুলে ধরেছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধি। তিনি জানিয়েছেন, ‘ভোর চারটায় ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে আওয়ামী লীগ, আর ভোর পাঁচটায় বিএনপির কর্মীরা সেই বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে যান।’ আমরা ছবিতে দেখতে পাচ্ছি, ব্যালটবাক্স পাহারা দিচ্ছেন দুজন নিরাপত্তাকর্মী। তার আগেই অনেকগুলো বাক্সে ব্যালট ভর্তি করেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা এবং সেই বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যান বিএনপির কর্মীরা। গত দুই দফার নির্বাচনী ফলাফলে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সম্ভবত উজ্জীবিত হয়ে থাকবেন। কিংবা হতে পারে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের প্রাথমিক মহড়া ছিল এটি। আরেকটি খবরে দেখা যায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সিদালয় গোলাবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এই যে এ পক্ষে ও পক্ষে থেকে একে অপরের ওপর হামলা চালালেন, তাঁরা সবাই কম বয়সী তরুণ। এই তরুণদের আমরা কী কাজে ব্যবহার করছি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব একবার ভেবে দেখেছেন?
এর এক দিন আগেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হলো। ৩৫ বছর আগে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আলোকিত মানুষ গড়ার যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, তার সৌরভ এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। তিনি ১৫ লাখ ছেলেমেয়েকে বইপড়া আন্দোলনে যুক্ত করেছেন। ওই দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে শিশু-তরুণদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ উৎসব পালন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এটি ছিল তাদের ১৫তম উৎসব। প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানো হয়, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানানো হয়। এই মুহূর্তে সারা দেশে প্রথম আলোর উদ্যোগে যে ভাষা প্রতিযোগ চলছে, তাতেও হাজার হাজার ছেলেমেয়ে অংশ নিয়ে নিজেদের ঋদ্ধ করছে। মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে শিখছে। আরও অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সাধ্যমতো তরুণদের নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু রাজনীতি চলছে উল্টো পথে। কোনো রাজনৈতিক দলকে এ ধরনের আলোকিত কর্মসূচি নিতে দেখা যায় না। তারা তরুণদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ না করে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার তালিম দেয়। কয়েক দিন আগে এক মন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলকে মোকাবিলা করতে ছাত্রলীগই নাকি যথেষ্ট। রাজনৈতিক দলগুলো কেন তরুণদের এই সর্বনাশা পথে ঠেলে দিচ্ছে? তরুণেরা আর কত ক্ষমতান্ধ এই রাজনীতির হাতিয়ার হবেন?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

তাই বলে গালে-বুকে অন্যের পতাকা?

নির্বাচনী সহিংসতা ফিরে আসছে
খেলায় পাকিস্তানকে সমর্থন কেন?
এশিয়া কাপে ভিনদেশের পতাকা ওড়ানো নিয়েই মতামত পাতায় এ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। রাজনীতি যদি রাজনীতির ময়দানে দাঁড়িয়ে খোলাখুলি করা না যায়, তখন বেজায়গায় তা প্রকাশ পাবেই। খেলার মাঠ নাকি সে রকম এক বেজায়গা। প্রশ্নটা তাই এখন দাঁড়িয়েছে, খেলার সঙ্গে রাজনীতি যদি মেশেই, তাহলে কোন ধরনের রাজনীতি মেশানো শ্রেয়? এ ব্যাপারে পাঠক এম মোরশেদ লিখেছেন, জাতীয় দলগুলোর নিজস্ব পতাকা থাকা উচিত, ক্লাব দলগুলোর মতো। এম সাকলাইন: আসলে যেকোনো খেলায় নিজের দেশ বাদ দিয়ে অন্য দেশকে সমর্থন করা অবৈধ। জেড রহমান: উপমহাদেশে পাকিস্তানের বোলিং আর ভারতের ব্যাটিং-ভক্ত অনেক ক্রিকেটপাগল মানুষ। এটা নিয়ে রাজনীতি না করলেই ভালো হয়। ভারত-পাকিস্তান খেলায় কেউ ভারতকে, কেউ পাকিস্তানকে সমর্থন করতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে খেলায় যদি কেউ নিজ মাতৃভূমিকে না করে অন্য দলকে সাপোর্ট করে, তাহলে তাকে রাজাকার বলা চলে। সুমন: লেখকের সঙ্গে সহমত। ভারত-পাকিস্তান উভয়ের দ্বারা আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং হচ্ছি। খেলার ছলে তাদের পতাকা নিয়ে লাফালাফি করাটা বেমানান। ইফতেখার চৌধুরী: ছোটবেলায় আমরা ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ নামে রচনা শিখেছিলাম। যেখানে সবাই লিখতাম, ‘বড় হয়ে চিকিৎসক হব এবং গ্রামের গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করব’!!
ওই লাইনটা মুখস্থ ছিল, না বুঝেই লিখতাম! পাকিস্তানের সমর্থকেরাও মুখস্থ বলে ‘খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত না!’ ভাই, দেশ ব্যাপারটা কি রাজনীতি? আমি আমার জাতীয়তা দেখাব, সেটা কি রাজনীতি? আচ্ছা মানলাম, খেলায় সমর্থন থাকতেই পারে, তাই বলে মাঠে গিয়ে গালে-বুকে আরেক দেশের পতাকা এঁকে-নাম লিখে, ওই দেশের নামে চিল্লাতে হবে?! পৃথিবীতে আর একটা দেশ দেখাতে পারবেন, যেখানকার দর্শকেরা এমন অদ্ভুত বিজাতীয় ভালোবাসা দেখায়?!! পাকিস্তান-ভারত দুই দলের সমর্থকের কাছেই প্রশ্নগুলো রাখলাম...। মো. মোক্তারুল ইসলাম: শিরোনামটা ভুল হয়ছে, এমন হওয়া ঠিক ছিল, ‘নিজ দেশের খেলায় ভারত, পাকিস্তানকে সমর্থন কেন?’ মো. নিয়ামুল হক খান: অদ্ভুত লাগে, মানুষের মন্তব্য আর লাইক বা ডিজলাইক দেখেও! পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানোর সমর্থনে ভারতকে খারাপ বলে সবাই পার পেয়ে যাচ্ছে! আর খেলায় রাজনীতির কথাও বলা হচ্ছে! এসব মানুষ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলেই আজকে দেশের এ অবস্থা। একাত্তর দেখিনি, কিন্তু শুনেছি। যারা গালে পতাকা আঁকছে বা খেলায় রাজনীতি না আনার দোহাই দিয়ে পাকিস্তানকে সমর্থনের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে, তাদের যদি টাইম মেশিনে করে একাত্তরে পাঠিয়ে দেওয়া যেত, তারপর দেখতাম, তারা শরীরের কোথায় পাকিস্তানের পতাকা আঁকছে আর এটাকে খেলায় রাজনীতি না আনার কথা বলে কীভাবে সমর্থনও দিচ্ছে! সমর্থন করা নিয়ে আমার আপত্তি নেই। খেলায় দল হিসেবে ওদের খেলা ভালো লেগে সমর্থন করলেও শরীরে তাদের পতাকা ধারণ বা হাতে নিয়ে ওড়ানো, কখনোই বাংলাদেশি হিসেবে দেখতে চাই না
কমিশন নিশ্চুপ, নির্বাচনী সহিংসতা ফিরে আসছে!
দেশে নির্বাচনী সহিংসতার সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে। ইতিমধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষ্ক্রিয়তা এর জন্য বহুলাংশে দায়ী। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা ঘটনায় শক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইতিমধ্যে কমিশন সমালোচিত হয়েছে। এ ব্যাপারে পাঠক মাহফুজা বুলবুলের মন্তব্য: কমিশনের কি মুখে টেপ লাগানো? হাত-পা বাঁধা? রাজীব চৌধুরী: দেশে নির্বাচনী সহিংসতার জন্য আওয়ামী লীগ এবং এই অথর্ব নির্বাচন কমিশন দায়ী। আর আমি মনে করি, এটা নির্বাচন কমিশন না, এটা আওয়ামী কমিশন। করিম হাওলাদার: কী দরকার ছিল আবার এই নির্বাচন দেওয়ার! মো. শাহ আলম: আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ হয়—এমন দাবি এখন বানের পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। শিকদার দস্তগীর: একসময় দেখতাম, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে বা এ রকম দায়িত্বশীল পদে থেকে স্বেচ্ছায় রিজাইন করে চলে যেতেন। এতে করে অসুস্থ রাজনীতির চর্চা কিছুটা হলেও হোঁচট খেত। কিন্তু ৩০-৩৫ বছর ধরে সাধারণ জনগণের আশ্রয়স্থল ইনস্টিটিউশনগুলো যেভাবে নিজেদের কবর নিজেরা রচনা করে আসছে, তা দেখে আমজনতা হতবাক হয়ে যাচ্ছে। সাব্বির আহমেদ জুয়েল: আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব ঘটনার প্রতিটির জন্য শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কারণটা কি, দেশটা মগের মুল্লুক নাকি!
ক্রসফায়ারে খুশি হচ্ছে কারা
ক্রসফায়ারের সমালোচনা করে সম্পাদকীয় পাতায় এই মতামত ছাপা হয়েছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত এসেছে। এর সমালোচনা করে লেখকের উদ্দেশে সাইফ খান লিখেছেন: আমরা আসাদুজ্জামান নূরের ওপর বর্বর আক্রমণের ঘটনা দেখে বিচলিত হয়েছিলাম। কিন্তু নূরের বহরে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আজকের মতো কোনো ক্ষুরধার লেখা আপনার কলমে আসেনি সেদিন, সেই ঘটনার বিরুদ্ধে কিছু লিখতে হবে বলে সারা সপ্তাহ ধরে কোনো পত্রিকায় কলাম লেখা পর্যন্ত বন্ধ রেখেছিলেন। আব্দুল্লাহ আল মামুন: ক্রসফায়ার একটি পক্ষের প্রতিশোধের হাতিয়ার। এফ ফয়সল: একজন মন্ত্রী প্রকাশ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করছেন, এর চেয়ে ন্যক্কারজনক আর কী হতে পারে? অন্য দেশ হলে শুধু এই কারণে মন্ত্রিত্ব চলে যেত। সাহিদুল ইসলাম: যারা বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে নিহত ব্যক্তিদের লাশ আনতে যায়, সকালে বা সন্ধ্যায়, তাদের বোবা প্রতিবাদের ভাষা পড়ার ক্ষমতা জাতি হিসেবেই হয়তো আমরা হারিয়ে ফেলেছি। এফ আর শামস: ক্রসফায়ারে আমি খুশি—গৎবাঁধা কথার বুলি আওড়াতে চাই না। মানবাধিকার থাকবে। তবে যে সন্ত্রাসী একাধিক ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তার অধিকার রক্ষা করার কোনো মানে হয় না।
৬১ ফুট গভীর থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের ৬১ ফুট গভীর থেকে শাহিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এক মাস আগে প্রবাসী স্বামীর ভাড়াটে লোকেরা তাঁকে হত্যা করে নলকূপে ঢুকিয়ে রেখেছিল। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস সাত দিন পর উদ্ধার করা হলো হতভাগ্য গৃহবধূর লাশ। এ ব্যাপারে পাঠক আব্দুল হকের মন্তব্য: মানুষের মানসিকতা, মনুষ্যত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, তা ভাবতে হবে এখনই। প্রতিরোধের পথ আবিষ্কার করতে হবে। সবাই মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন এই পশুদের বিরুদ্ধে। জহিরুল ইসলাম: ধন্যবাদ, পুলিশ ভাইদের। ওপরের চাপ না থাকলে আমাদের দেশের পুলিশ ভাইয়েরা সবই করতে পারেন। রবিউল হোসেন: খুবই হূদয়বিদারক ঘটনা। জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাহলে এমন অপরাধ করার সাহস কেউ পাবে না।

ইউক্রেন- পশ্চিমা বিশ্বের উভয়সংকট by খলিলউল্লাহ্

ইউক্রেনকে ঘিরে পূর্ব ইউরোপের সাম্প্রতিক সংকটটি বুঝতে হলে রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক কৌশলটির দিকে সবার আগে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তার পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলো কী পদক্ষেপ নিতে পারে এবং তার বাস্তবভিত্তিক সম্ভাবনা কতটুকু, তা-ও খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ, সংকট সৃষ্টিতে এবং সমাধানে এই দুটি বিষয়ই বেশি ভূমিকা রাখে। ইউক্রেনের জাতিগত দ্বিধাবিভক্তি এ ক্ষেত্রে একটি উর্বর স্থান করে দিয়েছে। গত ১০ বছরের নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় যে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ পূর্ব ইউক্রেন (বিশেষ করে দোনেৎস্ক) এবং ক্রিমিয়ায় বিপুল সমর্থন পেয়েছেন এবং যার ঠিক উল্টোটা ঘটেছে পশ্চিমাঞ্চলে।

‘গুজরাটের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার সাহস গণমাধ্যমের নেই’

অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গতকাল শনিবার আবার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি নরেন্দ্র মোদির গুজরাট রাজ্যের ‘প্রকৃত অবস্থা’ তুলে ধরার সাহস গণমাধ্যমের রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ব্যাঙ্গালুরুতে রোড শোর উদ্বোধনের আগে গতকাল সাংবাদিকদের উদ্দেশে কেজরিওয়াল বলেন, গণমাধ্যম আসলে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাপারে ‘সত্য’ জনসমক্ষে প্রকাশ করছে না। কেজরিওয়ালের সাম্প্রতিক বক্তব্যে গণমাধ্যমের পাশাপাশি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কেজরিওয়াল গত বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, গোটা গণমাধ্যম ‘বিক্রি’ হয়ে গেছে এবং তারা ‘বড় অঙ্কের অর্থের’ বিনিময়ে সমর্থন করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদিকে। এএপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যমের লোকজনকে কারাগারে পাঠানো হবে। গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে কেজরিওয়ালের ওই বক্তব্যে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। কর্ণাটক রাজ্যে দুই দিনের সফরকালে কেজরিওয়াল একটি বিশেষ ভোজে অংশ নিচ্ছেন।
দলের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে ওই ভোজে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ হাজার রুপি করে অর্থ নেওয়া হবে। কেজরিওয়াল দাবি করেন, বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদি জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছেন বলে জনগণ বলছে। কিন্তু গণমাধ্যম এসব কথা প্রচারের বাইরে রাখছে। নিজের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়ার পর তাঁরা অত্যন্ত করুণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু মোদিকে কৃষকদের রক্ষক হিসেবেই বর্ণনা করছে গণমাধ্যম। পিটিআই।

কার নিয়ন্ত্রণে ছিল সেই উড়োজাহাজ?

মালয়েশিয়ার নিখোঁজ হওয়া উড়োজাহাজটি নিয়ে রহস্য দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। উঠছে নানা প্রশ্নও। উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হওয়ার আগে একটা সময় গন্তব্যপথ বেইজিংয়ের দিক পরিবর্তন করে সম্ভবত কুয়ালালামপুরের দিকে ফিরতে চেয়েছিল। এই তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, ওই সময় উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ কি অন্য কারও হাতে চলে যায়? যাঁরা এই প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের যুক্তি উড়োজাহাজটি কুয়ালালামপুরে ফিরে যেতে চেয়েছিল—তার অর্থ হলো, অন্য কেউ উড়োজাহাজটির দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে। হতে পারে, রাজনৈতিক কারণে ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে কেউ উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করানোর চেষ্টা করেছে। যদিও এখনো কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকার দাবি করেনি। কেউ কেউ বলেছেন, উড়োজাহাজটির পাইলট আত্মহত্যা করতে পারেন। এটা বিরল কোনো ঘটনা নয়। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মিসরগামী একটি উড়োজাহাজের পাইলট আত্মহত্যা করলে সেটি আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। তবে মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজটির ক্ষেত্রে পাইলটের আত্মহত্যা করার তত্ত্ব মানা যায় না।
কারণ বলা হচ্ছে, উড়োজাহাজটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আকাশে উড়েছিল এটি। এই তথ্যটিও উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ারই আভাস দেয়। উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ার আরেকটি ইঙ্গিত হলো, এর ট্রান্সপন্ডারের (সংকেত আদান-প্রদানের যন্ত্র) সুইচ বন্ধ হয়ে যাওয়া। বলা হচ্ছে, যারা উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল, তারাই ট্রান্সপন্ডারের সুইচও বন্ধ করে দেয়। উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ যদি সত্যিই অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের হাতে চলে যায়, তাহলে এটা নিশ্চিত, ওই ব্যক্তিরা বেসামরিক বিমান চলাচল সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা রাখেই। এমনকি এটাও জানেন, কীভাবে ট্রান্সপন্ডার অকার্যকর করে ফেলা যায়। মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজটি ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে আট দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। কুয়ালালামপুর থেকে যাত্রার এক ঘণ্টা পরই উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সিএনএন।

সেই গ্লেন আর নেই

চুম্বনরত গ্লেন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের পর এক সেবিকার সঙ্গে চুম্বনরত ছবিতে ধরা পড়া মার্কিন সেনা গ্লেন ম্যাকডাফিয়ে (৮৬) আর নেই। তিনি ৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট জাপানি সেনারা আত্মসমর্পণ করে। এ সংবাদ শোনার পর মার্কিন নৌসেনা গ্লেন আনন্দে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে একজন সেবিকাকে চুম্বন করেন। এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেন লাইফ সাময়িকীর খ্যাতিমান আলোকচিত্রী আলফ্রেড আইসেনস্টায়েডট। চুম্বনরত এই ছবির সুুবাদে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন গ্লেন। সূত্র: বিবিসি