Thursday, April 10, 2025
বদলে যাচ্ছে নির্বাচনী আচরণবিধি by মো. আল-আমিন
খসড়ার নির্বাচনী ব্যয়সীমা সংক্রান্ত বাধা-নিষেধে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা দলের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী বিষয়ক সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সকল ডিজিটাল প্রচারণা ব্যয় শিরোনামে সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন বরাবর দাখিল করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে সমস্ত ব্যয়সমূহ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। সামাজিক প্রচার অভিযানে বিদেশি অর্থায়নে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা কার্যক্রম চালাতে পারবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে প্রতি ৭ দিন অন্তর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং কর্মকর্তা/সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা-বিধি লঙ্ঘিত হলে ডিজিটাল/সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
এদিকে খসড়া আচরণ বিধিমালায় সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় নতুন করে উপদেষ্টা ও তাদের সমমর্যাদার ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছে। আচরণ বিধিমালার খসড়ায় নির্বাচনের সময়কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন থেকে তফসিল পর্যন্ত সময়কে নির্বাচন-পূর্ব সময়, তফসিল ঘোষণা থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের সময়কে নির্বাচনকালীন সময় এবং ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময়কে নির্বাচন-পরবর্তী সময় উল্লেখ করা হয়েছে। খসড়ায় প্রচারে পোস্টার বাতিল করে ব্যানার শব্দ রাখা হয়েছে। ব্যানারের অর্থ বোঝানো হয়েছে কাপড়ের তৈরি প্রচারপত্র। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যানার সাদা-কালো রঙের ও আয়তন অনধিক ৩ মিটার বাই ১ মিটার হবে এবং ব্যানারে প্রার্থী তার প্রতীক ও নিজের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপাতে পারবে না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত হলে তিনি তার বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে ছাপাতে পারবে। প্রচারপত্রে পলিথিনের আবরণ বা প্লাস্টিক ব্যানার লেমিনেটিং ব্যবহার করা যাবে না। জনসভার দিন, সময় ও স্থানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ন্যূনতম ৭২ ঘণ্টা আগে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। জনসভার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ৫ জনের অধিক থাকতে পারবে না। এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা তার পক্ষে ক্যাপ ব্যবহার করা যাবে না।
খসড়ায় বিলবোর্ড ব্যবহার সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে কোনো প্রকারের স্থায়ী বা অস্থায়ী বিলবোর্ড ভূমি বা অন্য কোনো কাঠামো বা বৃক্ষ ইত্যাদিতে স্থাপন বা ব্যবহার করা যাবে না। ওদিকে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের মান ৬০ ডেসিবেল রাখার এবং বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়। যেটা আগে ছিল রাত ৮টা পর্যন্ত।
সরকারি সুবিধাভোগীদের নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে পূর্বে সভাপতি বা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হয়ে থাকলে বা তৎকর্তৃক কোনো মনোনয়ন প্রদত্ত হয়ে থাকলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে তিনি বা তৎকর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো সভায় সভাপতিত্ব বা অংশগ্রহণ করবে না অথবা উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে জড়িত হবে না। নির্বাচনী প্রচারণার সময়কাল শুরু হওয়ার আগেই উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
খসড়ায় নতুন করে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ড কিংবা লিখিত রেকর্ড হতে কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেছে বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছে এবং অনুরূপ লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের চেষ্টার জন্য তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হতে পারেন, তাহলে কমিশন বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর কমিশন যদি মনে করেন আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে, সেক্ষেত্রে কমিশন উক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রার্থিতা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধান মোতাবেক বাতিল করতে পারবেন। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলসমূহ এই আচরণবিধির সকল বিধান মেনে চলবে মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে দাখিল করবে।
গত সোমবার এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, খসড়াটি প্রায় চূড়ান্ত। এখন নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া নেয়া হবে। ইসি অনুমোদন দিলে ফাইনালি পাবলিশড হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের অধিকাংশ সুপারিশ প্রস্তাবিত আচরণবিধিতে যুক্ত করা হয়েছে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো আছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণমাধ্যমে আসা অন্যান্য বিষয়গুলো ইনকরপোরেট করার উদ্যোগ নিয়েছি। একটা চমৎকার আচরণবিধিমালা হবে-এটা প্রত্যাশা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত ফ্রান্স: প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন by আব্দুল মোমিত
আগামী জুনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কনফারেন্সে ফিলিস্তনকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করবে ফ্রান্স- এমন সম্ভাবনা রয়েছে । ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে মতামত দিচ্ছে । তবে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে সমর্থন জানালো ফ্রান্স ।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন স্পষ্ট করে বলেছেন, আমি এটি করব কারণ আমি মনে করি এক সময় এটি সঠিক হবে। আমি একটি যৌথ গতিশীলতাতে যুক্ত হতে চাই ।
এদিকে ফ্রান্সের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্সেন আঘাবেকিয়ান শাহিন। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ফিলিস্তিনকে ফ্রান্সের স্বীকৃতি দেশটির অধিকার রক্ষা এবং দ্বি-রাষ্ট্র নীতির পক্ষে একটি সঠিক পদক্ষেপ হবে। ফিলিস্তিনকে গত বছরের ২৮ মে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। তারও আগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় স্পেন ও নরওয়ে । এই তিন দেশের স্বীকৃতি দেয়ার পর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ফ্রান্স।
এদিকে ফরাসি আইনপ্রণেতারা ২০১৪ সালে তাদের সরকারকে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আহ্বান জানাতে ভোট দিয়েছিলেন। এটি একটি প্রতীকী পদক্ষেপ ছিল যা ফ্রান্সের কূটনীতিক অবস্থানে সামান্য প্রভাব ফেলেছিল । শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় তাহলে এটি তাদের পররাষ্ট্রনীতির বড় পরিবর্তন হবেI ইতিমধ্যে বার্তা সংস্থা এ এফ পি জানিয়েছে, ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলে ক্ষুদ্ধ হতে পারে দখলদার ইসরাইল। কারণ তারা দাবি করছে এখনই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হবে অপরিপক্ক।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: অপরাধের শত বছর, অন্যায়ের ৮০, পাপের ৬৯ by আসজাদুল কিবরিয়া
‘মহামান্য (ব্রিটিশ) সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য জাতীয় আবাসভূমি গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আর এই লক্ষ্য অর্জনে তার সর্বোত্তম প্রয়াস প্রয়োগ করা হবে এবং এটাও পরিষ্কার যে এমন কিছু করা হবে না, যা ফিলিস্তিনে বিদ্যমান অ-ইহুদি সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার কিংবা অন্য কোনো দেশে ইহুদিদের বিরাজমান অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করতে পারে।’
আজ থেকে শতবর্ষ আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার বালফোর ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর এই ছোট্ট পত্রটি লিখেছিলেন জায়নবাদী নেতা ব্যারন রথচাইল্ডকে। এটি কালক্রমে বালফোর ঘোষণাপত্র নামে পরিচিতি পায়। এর মধ্য দিয়ে তিনি জায়নবাদ নামক উগ্র ইহুদিবাদ বা ইহুদি জাতীয়তাবাদকে স্বীকৃতি দেন, যা এক মহা বিপর্যয়ের দ্বার খুলে দেয়।
বালফোর অবশ্য জেনে-বুঝেই কাজটি করেছিলেন। আর বছরটি ছিল ১৮৯৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করা বিশ্ব জায়নবাদী সংস্থার (ওয়ার্ল্ড জায়নিস্ট অর্গানাইজেশন) ২০তম বছর।
জায়নবাদীরা বাইবেলকে আশ্রয় করে সুনিপুণভাবে এক কল্পকাহিনি সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার দীর্ঘমেয়াদি এক প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছিল। বালফোরও জানতেন, যুগের পর যুগ ধরে নিজ ভূখণ্ডে বসবাসকারীদের বিতাড়িত করে ধর্মগ্রন্থভিত্তিক কল্প-কাহিনি আশ্রিত এক মিথ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করা অপরাধ। বালফোর অপরাধটি করেছিলেন। এ জন্য তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের কোনো পরিতাপ ছিল না।
বালফোর ঘোষণার তাৎপর্য বেড়ে যায় এ জন্য যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে অটোমান সাম্রাজ্যের কাছ থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ব্রিটিশদের অধীনে চলে যায়। ১৯২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশরাজ ম্যানডেটরি প্যালেস্টাইনের শাসনভার গ্রহণ করে, যা চলে ১৯৪৮ সালের মে মাস পর্যন্ত। এটি ছিল জর্ডান নদীর পশ্চিম দিকের ভূখণ্ডে, যেখানে আজকের ইসরায়েল অবস্থিত।
ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনের শাসনভার গ্রহণ করার পর থেকেই সেখানকার ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি আরব অধিবাসীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ও দমননীতি শুরু করে। দীর্ঘ মেয়াদে ইহুদিদের জন্য ঈশ্বর ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’ (প্রমিজড ল্যান্ড) তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে ইহুদি সেটেলারদের বিভিন্নভাবে অগ্রাধিকার সুবিধা দিতে থাকে।
দলে দলে ইহুদিরা ইউরোপ ও অন্য আরব দেশ থেকে ফিলিস্তিনে পাড়ি জমাতে শুরু করে। ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ মদদেই অভিবাসী ইহুদিদের নিয়ে ১৯২১ সালেই গঠন করা হয় হাগানাহ নামের আধা সামরিক বাহিনী। এরপর আরও দুটি জায়নবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাং গড়ে ওঠে পরে।
ফিলিস্তিনিরা সন্ত্রাসবাদী বলে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্ব দশকের পর দশক ধরে প্রচারণা চালিয়ে তাদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও হত্যাযজ্ঞকে বৈধতা দিচ্ছে, অথচ ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মই হয়েছে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাগানাহ, ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাং একীভূত হয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়।
বালফোর ঘোষণার ২০ বছর পর বা আজ থেকে ৮০ বছর আগে ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ সরকারের নিয়োগকৃত পিল কমিশন ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে একটি ছোট ইহুদি রাষ্ট্র গঠন করে সেখানকার আরবদের পূর্বে ট্রান্স জর্ডান ও পশ্চিমে মিসরসংলগ্ন বৃহত্তর অংশে স্থানান্তরের এবং জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে একটি ছিটমহল হিসেবে রাখার প্রস্তাব দেয়। আরবেরা এটি প্রত্যাখ্যান করলেও জায়নবাদী নেতারা এতে সমর্থন দেন। কেননা পিল কমিশন অন্যায়ভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
১৯৩৯-৪৫ কালপর্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোল আর জার্মানিতে হিটলারের চরম ইহুদিবিদ্বেষ জায়নবাদীদের জন্য বিরাট সুযোগ এনে দেয়। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইউরোপে কমবেশি ৬০ লাখ ইহুদিকে নিধন করা হয়, যা ইতিহাসে হলোকাস্ট হিসেবে স্বীকৃত। যুদ্ধ শেষে এই হলোকাস্টই ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি স্থাপনের সবচেয়ে বড় যৌক্তিকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়।
পশ্চিমা বিশ্ব বেমালুম এটা ভুলে যায় যে ইহুদি গণহত্যার দায় ইউরোপের, অথচ ক্ষতিপূরণের জন্য মূল্য গুনতে হচ্ছে আরবদের, বিশেষত ফিলিস্তিনিদের। ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর সদ্য গঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে দুই ভাগ করার প্রস্তাব অনুমোদনের মধ্য দিয়ে কফিনের শেষ পেরেকটি বুঝি পুঁতে দেওয়া হয়।
এদিকে জায়নবাদীরা নিজ ভূখণ্ড থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে দেওয়ার ছক কেটে ফেলে। প্ল্যান দালেত বা প্ল্যান ডি নামে এই পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ান। পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী বেন গুরিয়ান ১৯০৬ সালে অটোমান ফিলিস্তিনে অভিবাসী হয়ে আসেন এবং কট্টর জায়নবাদী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।
প্ল্যান ডি ছিল হত্যা-ধর্ষণ-লুটতরাজ-সন্ত্রাসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি আরবদের নিজ ভূমি থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মহাপরিকল্পনা। ১৯৪৮ সালের ১০ মার্চ এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে ইসরায়েলি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলো তা বাস্তবায়নে পুরোদমে নেমে যায়। তখন পর্যন্ত ব্রিটিশদের শাসনাধীনে থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ বাহিনীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়, যাতে নিরস্ত্র ও অপ্রস্তুত আরবেরা সুরক্ষা না পায়।
১৯৪৮ সালের ১৪ মে ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ ম্যানডেট বা শাসন শেষ হলে বেন গুরিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান সঙ্গে সঙ্গে একে স্বীকৃতি দেন। আর আল নাকবা বা মহাবিপর্যয় নেমে আসে ফিলিস্তিনিদের ওপর। নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিঃস্ব অবস্থায় রাতারাতি লাখ লাখ ফিলিস্তিনি প্রাণ রক্ষায় ছুটে পালাতে থাকে। তাই ১৫ মে আল নাকবা (বিপর্যয়) দিবস বিবেচিত হয়।
যদিও নাকবা আসলে আগে থেকেই শুরু হয়। মূলত মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত সাত লাখ ফিলিস্তিনি আশপাশের আরব দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুসারে তাদের নিজ ভূমে ফেরার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি, যদিও এর মধ্যে কয়েক প্রজন্ম চলে গেছে। বরং যারা রয়ে গিয়েছিল, তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ইসরায়েলি দখলদারি ও সন্ত্রাসের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
আরব দেশগুলো অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীনভাবে ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। তবে ইউরোপ থেকে পাওয়া আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইসরায়েলি বাহিনীকে তারা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে পারেনি। জর্ডানের সেনাবাহিনী সবচেয়ে শক্তিশালী হলেও বেন গুরিয়ানের সঙ্গে বাদশাহ আবদুল্লাহর গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে তারা এক প্রকার নিষ্ক্রিয় ছিল। সিরীয়, মিসরীয় ও লেবাননের বাহিনীগুলোর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল না। একমাত্র ইরাকি বাহিনী কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিল। আর এরপরের ইতিহাস তো সবারই জানা।
১৯৬৭ সালে ইসরায়েলি দখলদারি আরও পোক্ত হয় গোলান উপত্যকা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে কর্তৃত্ব স্থাপনের মধ্য দিয়ে। আর তা সম্ভব হয় সে বছর আরবদের আরেক দফা পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। জায়নবাদী ভাষ্যে অবশ্য এই অধিগ্রহণ হলো ‘জুদিয়া, সামারিয়া ও গোলান উপত্যকার মুক্তি।’
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জায়নবাদীরা যে পাপের সূচনা ঘটিয়েছে, তা একাধারে অপরাধ ও দখলদারির মধ্য দিয়ে দশকের পর দশক ধরে বিস্তৃত হয়ে আসছে। এ জন্য ৬৯ বছর ধরে জায়নবাদীরা প্রকৃত ইতিহাসের বিকৃতি শুধু ঘটায়নি, বরং বাছাই করা সত্য ও সযত্নে তৈরি মিথ্যার সুদক্ষ মিশেলে নিজেদের অপকর্মের বৈধতার জন্য বিভ্রান্তিকর ভাষ্য তৈরি করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে।
আশার কথা হলো, খোদ ইসরায়েলের ভেতর থেকেই এর প্রতিবাদ ও পাল্টা ভাষ্য উঠে আসছে, প্রকৃত ইতিহাস ও তার নির্মোহ বিশ্লেষণ করছেন ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ও গবেষকেরাই। এই দলে আছেন বেনি মরিস, শলমো স্যান্ড, ইলান পেপে, অভি শ্লিম, ইয়ায়েল লোটান, ইউরি আভনেরিসহ অনেকেই। জায়নবাদীদের তীব্র সমালোচনা ও অশালীন আক্রমণ তাঁদের নিবৃত্ত করতে পারেনি, ইসরায়েল রাষ্ট্রের দমননীতি তাঁদের টলাতে পারেনি। বরং তাঁরা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে ও পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন নিয়ে বৈশ্বিক নিয়মনীতি অবজ্ঞা করে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে উদ্বাস্তু বানিয়ে এবং নিজ ভূমে তাদের অবরুদ্ধ করে ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা পূরণ না করেও (সুনির্দিষ্ট ভূ-সীমা) ইসরায়েল প্রচণ্ড প্রতাপের সঙ্গে টিকে আছে। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে চরম উৎকর্ষ ইসরায়েলের বিকশিত হওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। সামরিক শক্তিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রসহ বিশাল অত্যাধুনিক অস্ত্রভান্ডার গড়ে তুলেছে। তবে এত কিছুর পরও জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল শান্তিতে নেই।
নিঃশর্তে নিজ ভূমে ফিলিস্তিনিদের ফিরতে না দিলে, দখলদারির অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিনিদের জমি-পানি-সম্পদ ফিরিয়ে না দিলে এবং জাতিগত নিশ্চিহ্নকরণের জন্য ক্ষমা না চাইলে আর যা-ই হোক, শান্তি আসবে না। অবসান হবে না ফিলিস্তিনি নাকবার।
* আসজাদুল কিবরিয়া লেখক ও সাংবাদিক asjadulk@gmail.com

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংসদীয় গণতন্ত্র নাকি ‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ অন্য রূপ by নিজাম উদ্দিন আহমদ
------ ২.
ইমরান সিদ্দিক লিখেছেন, ‘...সংবিধানের ১২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বরাবরই মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ করে থাকেন।’ লক্ষণীয় হলো, রাষ্ট্রপতির মহা–হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বাছাই করার কোনো এখতিয়ার নেই। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিকেই নিয়োগ দিতে হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, ‘কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।’ অতএব বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতায় মহা–হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দিতে পারেন না।
ইমরান সিদ্দিকের মতে, বাস্তবে এসব (রাষ্ট্রের উচ্চতর পদগুলোয়) নিয়োগপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে না। কিন্তু সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে মহা–হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য তাঁকে কারও পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে না। তিনি তাঁর স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতায় এ নিয়োগ দিতে পারবেন।
কমিশনের এ সুপারিশের অন্যতম প্রধান ত্রুটি হলো, এটা বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছাধীন নিয়োগ প্রদানের এই ক্ষমতাকে একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে।
ইদানীং ভারতের বিরোধী দলগুলো বারবার নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদি সরকার দেশটির সিএজি দপ্তরের একটি প্রতিবেদনকে ব্যবহার করে আম আদমি পার্টিকে বেকায়দায় ফেলেছিল—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সিএজি দপ্তরকে ব্যবহার করে যেভাবে একটি রাজ্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিও একই ধরনের কাজ করতে পারেন—এমন আশঙ্কা অমূলক নয়।
একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়, সংবিধান সংস্কার কমিশন সব সাংবিধানিক পদের নিয়োগের ক্ষমতা জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলকে (এনসিসি) দেওয়ার সুপারিশ করেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম সিএজি। সিএজি নিয়োগের ক্ষমতা কেন রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আমার মতে, সিএজি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে এনসিসির ওপর ন্যস্ত করা প্রয়োজন। তা না হলে সিএজি দপ্তরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের যে আশঙ্কা, সেটা রয়েই যাবে।
* সিএজি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে এনসিসির ওপর ন্যস্ত করা প্রয়োজন। তা না হলে সিএজি দপ্তরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের যে আশঙ্কা, সেটা রয়েই যাবে।
* মৌলিক গণতন্ত্রীরা যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একইভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন।
------- ৩.
ইমরান সিদ্দিক জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আমার বক্তব্যকে সঠিক নয় বলে তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, সাংবিধানিক কাউন্সিলের নয়জন সদস্যের মধ্যে তিনজন সরকারি দলের, তিনজন বিরোধী দলের এবং তিনজন নিরপেক্ষ। আমি আমার লেখায় বলেছিলাম, কাউন্সিলের মোট সদস্যের পাঁচজন বিরোধীদলীয় এবং এর ফলে কাউন্সিলের কাজে একধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা যেতে পারে।
ইমরান সিদ্দিক সম্ভবত উচ্চকক্ষের স্পিকারকে সরকারি দলের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি যেটা হিসাবের মধ্যে নেননি, তা হলো, উচ্চকক্ষের স্পিকার ও নিম্নকক্ষের স্পিকারের নির্বাচন একইভাবে হবে না। নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারিত হবে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে। যে দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করবে, সেই দল থেকে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার নির্বাচিত হবেন।
অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে (পিআর পদ্ধতিতে)। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যেসব দেশে উচ্চকক্ষ আছে, তার মধ্যে বেশির ভাগ দেশেই কোনো দল এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পায় না। এর ফলে বিভিন্ন দলের মধ্যে পদগুলো (স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, হুইপ) ভাগাভাগির বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এটা ধারণা করা যায়, আগামী নির্বাচনে বিরোধীদের সম্মিলিত ভোট সরকারি দলের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি হবে। এতে বিরোধীদের জন্য উচ্চকক্ষের স্পিকার পদ পাওয়া সম্ভব হবে। অবার সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে উচ্চকক্ষে ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে বিরোধীরাই সম্মিলিতভাবে উচ্চকক্ষ নিয়ন্ত্রণ করবে—এমনটাই অনুমিত হচ্ছে। সরকারকে উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের সঙ্গে ‘আঁতাত’ বা ‘সমঝোতা’ করতে হবে, যা সংসদীয় রাজনীতিতে নৈতিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধিত্বকারী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের উভয় কক্ষের সদস্যরা ব্যতীত আইনসভার উভয় কক্ষের বাকি সব সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তাঁদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন সাংবিধানিক কাউন্সিলের সদস্য হবেন।’
এই বিধান অনুসারে, সংসদে সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের বাইরে যেসব দল থাকবে, তাদের মধ্য থেকেই তথাকথিত নিরপেক্ষ সদস্যকে বাছাই করতে হবে। ইমরান সিদ্দিক ছোট ছোট বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত সদস্যকে ‘নিরপেক্ষ’ বলে বিবেচনা করেছেন, এটা সঠিক নয়। দলীয় ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তি ভোটের পর নিরপেক্ষ হয়ে যাবেন—এ রকমটা মনে করার কোন কারণ নেই।
------- ৪.
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার ব্যাপারে বহুদিন ধরেই একরকম মতৈক্য রয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কার কমিশন যেভাবে সুপারিশ করেছে, সেভাবে নয়। কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, অর্থ বিল ব্যতীত নিম্নকক্ষের সদস্যরা তাঁদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন।
আমার লেখায় উল্লেখ করেছিলাম, এ প্রস্তাব স্থিতিশীল সরকার গঠনের পরিপন্থী। এর ফলে ‘হর্স ট্রেডিং’-এর সুযোগ বাড়বে এবং দলীয় নেতৃত্বে ঘন ঘন পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকবে। সরকারের অস্থিতিশীলতার সুযোগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়বে এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব অনিবার্য হয়ে উঠবে। এ বিধান চালু হলে সরকারের বিরুদ্ধে ‘অনাস্থা প্রস্তাব’ উত্থাপনের প্রবণতা বাড়বে।
ইমরান সিদ্দিক ‘অনাস্থা প্রস্তাব’কে সরকারের জবাবদিহির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটা অনেক পুরোনো ধারণা। জবাবদিহির পদ্ধতি হিসেবে অনাস্থা প্রস্তাবকে আজকাল তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
শুধু বাংলাদেশে নয়, আরও অনেক দেশেই ‘ফ্লোর ক্রসিং’-এর ব্যাপারে বিধিনিষেধ রয়েছে। এর ফলে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার অধিকার অত্যন্ত সীমিত। এমনকি যেসব দেশে এ ধরনের আইন নেই, সেসব দেশেও সংসদ সদস্যরা চাইলেই অতি সহজে নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। এ রকমটা করলে তাঁদের দল ও নির্বাচকমণ্ডলীর (ভোটার) কাছে জবাবদিহি করতে হয়; যাঁরা দলের বিরুদ্ধে যান, অনেক সময় তাঁরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে বিবেচিত হন।
ব্রিটেনে বাংলাদেশের মতো ফ্লোর ক্রসিংবিরোধী আইন নেই; তাই বলে সংসদ সদস্যরা ‘পূর্ণ’ স্বাধীনতা ভোগ করে না। সেখানে দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। লেবার পার্টির এমপি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আফসানা বেগম একবার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁকে ছয় মাসের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সব গণতান্ত্রিক দেশেই সংসদ সদস্যদের কিছু নিয়মের মধ্যে কাজ করতে হয়। কিন্তু সংবিধান সংস্কার কমিশন বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের জন্য ‘সীমাহীন’ স্বাধীনতার সুপারিশ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এর সঙ্গে একমত হতে পারেনি বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মতো রাজনৈতিক দলগুলো। (নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা চায় না প্রধান দলগুলো, প্রথম আলো, ২ এপ্রিল ২০২৫)
ইমরান সিদ্দিক লিখেছেন, ‘অনাস্থা ভোট’ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে না, বরং শক্তিশালী করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৭৯ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জেমস ক্যালাহানের মাত্র ১ ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি যদি ব্রিটেনের উদাহরণ না দিয়ে ১৯৫০-এর দশকের পাকিস্তানের উদাহরণ দিতেন, তাহলে বিষয়টি অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হতো।
১৯৫১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের মৃত্যুর পর পুরো দশকই রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ছিল। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত সাত বছরে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠন করেন। এ সময় সংসদ সদস্যদের মধ্যে দলত্যাগ অথবা দলবদলের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়; কিছুদিন পরপর সরকার গঠন ও ভেঙে যাওয়া অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়। পাকিস্তান আমলের অভিজ্ঞতা থেকেই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে স্বাধীনতার পর প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত ফ্লোর ক্রসিংবিরোধী কোনো আইন ছিল না। এর ফলে ১৯৭০–এর দশকে ভারতের রাজনীতিতে তুমুল অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। তখন বিশেষ করে বিধানসভার সদস্যদের দলত্যাগের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন দলের সদস্যরা ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বড় মাত্রায় দলবদল শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে সরকার গঠন ও সরকার টিকিয়ে রাখা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ১৯৮৬ সালে সেখানে ফ্লোর ক্রসিংবিরোধী–সংক্রান্ত একটা আইন কার্যকর হয়, যার প্রধান উদ্দেশ্য সরকারকে স্থিতিশীল করা এবং সংসদীয় কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা।
পাকিস্তানেও ১৯৯৭ সালে এ ধরনের একটি আইন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী পাকিস্তানের কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য চার ক্ষেত্রে দলীয় নির্দেশনার বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। এগুলো হলো, প্রধানমন্ত্রী অথবা মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন, বাজেট পাস, সংবিধান সংশোধনের বিল পাস এবং অনাস্থা ভোট। এসব বিষয় ছাড়া বাকি সব বিষয়ে দেশটির সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন এবং ভোট দিতে পারবেন।
ভারত ও পাকিস্তান, উভয় দেশের আইন আমাদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের তুলনায় অনেকটাই নমনীয়। বাংলাদেশে যা প্রয়োজন, তা হলো, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের যৌক্তিক সংস্কার, কিন্তু বিলোপ বা মৌলিক পরিবর্তন নয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
-------- ৫.
ইমরান সিদ্দিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকের সংখ্যা নিয়ে আমার বক্তব্যকে খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ‘প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকায় মাত্র কয়েক হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হতে পারেন, যেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সারা দেশের জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেবেন...।’
ইমরান সিদ্দিক সম্ভবত জনগণের প্রত্যক্ষ অথবা সরাসরি ভোটে নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচন—এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে পারেননি। লক্ষণীয় হলো, জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী অথবা বিরোধীদলীয় নেতার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা হয়তো একটি, দুটি বা তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাঁদের নির্বাচনী এলাকা দেশব্যাপী বিস্তৃত। তাঁরা যেমন তাঁদের দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার–প্রচারণা করেন, একই সঙ্গে দলীয় প্রার্থীদের ‘নিজের প্রার্থী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এ অবস্থা শুধু বাংলাদেশেই নয়; পৃথিবীর অধিকাংশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশেই বিদ্যমান।
এটা স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী শুধু কোনো নির্দিষ্ট আসন বা নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বে থাকেন না; তাঁর দায়িত্বের পরিধি অনেক বড়। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী অথবা প্রধান বিরোধী নেতাই দলের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা দলের পক্ষে কোটি কোটি ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন; দলের জয়–পরাজয়ের দায় তাঁদের ওপরই বর্তায়। ‘প্রধানমন্ত্রী কয়েক হাজার ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন’—এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা ও অবদানকে খাটো করা হয়।
-------- ৬.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ হলো, রাষ্ট্রপতি পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হলো, একজন পরোক্ষভাবে নির্বাচিত ব্যক্তির ওপর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণ কি যথাযথ হবে? অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন প্রত্যক্ষ ভোটে। এ ক্ষেত্রে জনগণ আগে থেকেই অবহিত থাকেন যে তাঁরা কাকে বা কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।
কিন্তু পরোক্ষ পদ্ধতিতে ৫০৫ সংসদ সদস্যের পাশাপাশি কয়েক হাজার স্থানীয় প্রতিনিধির পক্ষ থেকে মাত্র ৭৬ জন স্থানীয় প্রতিনিধি (সমন্বয়ক) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন; স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা থাকবে না। এটাই ‘মৌলিক’ গণতন্ত্রের আরেক রূপ। আইয়ুব খানের আমলে মৌলিক গণতন্ত্রীরা যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একইভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন।
নির্বাচনের এই পদ্ধতি রাষ্ট্রপতিকে অধিকতর ‘বৈধতা’ দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা। তথাকথিত এই বৈধতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতিকে অতিরিক্ত ক্ষমতায়িত করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ রকম কোনো কিছু সংসদীয় সরকারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
● ড. নিজাম উদ্দিন আহমদ সাবেক অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের তাড়াহুড়ো: ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বিবিসির কূটনৈতিক করেন্সপন্ডেন্ট জেমস ল্যান্ডেল তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ডনাল্ড ট্রাম্প তাড়াহুড়ো করা একজন মানুষ। ক্ষমতায় আসার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজা ও ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জোর চেষ্টা শুরু করেন। তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ইয়েমেনে বোমা বর্ষণ শুরু করেছেন। বিশ্বকে ঠেলে দিয়েছেন বাণিজ্য যুদ্ধের খাদে। এখন তিনি নজর দিয়েছেন ইরানের দিকে। রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের কাজের তালিকায় এটি সবসময়ই গুরুত্ব পেয়েছে। কেননা প্রথম মেয়াদে তিনি এ বিষয়টি সমাধান করতে পারেননি। ইস্যুটি তখন যেমন ছিল এখনও তেমন রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের সন্ধান থেকে কী বিরত রাখা যাবে?
ইরান বারবার এমন উচ্চাকাঙ্খার কথা অস্বীকার করলেও বিশ্বের অনেক দেশই বিশ্বাস করে যে, পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির ক্ষমতা চায় তেহরান।
কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ইরানের এই উচ্চাকাঙ্খা মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা এমনকি সর্বাত্মক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। ২০১৫ সালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। যার নাম দেয়া হয়েছে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যকশন বা জেসিপিওএ। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা সীমিত করবে এবং তাদের দেশে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকের প্রবেশের অনুমতি দেবে। যার বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। কিন্তু ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে আসেন ট্রাম্প। তখন তিনি প্রথম মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। তার অভিযোগ হচ্ছে, ইরান হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো নিজের ভাড়াটে যোদ্ধাদের অর্থায়ন করছে ইরান। এর মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
পরবর্তীতে চুক্তির কিছু বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে তেহরান। এর মাধ্যমে তারা আরও বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক জ্বালানি সংগ্রহ করতে শুরু করে। বিশ্লেষকদের ধারণা শিগগিরই পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে অস্ত্রের গ্রেড ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে ইরান। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আনুমাণিক তথ্য বলছে, ইরানের ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়ামের মজুদ পরবর্তী এবং চূড়ান্ত স্তরে সমৃদ্ধ করা হলে দেশটি প্রায় ছয়টি পারমাণবিক বোমা তৈরিতে সক্ষম হবে।
শপথগ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানের ওপর তথাকথিত সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে আগের নীতি অনুসরণ করেন ট্রাম্প। ৪ ফেব্রুয়ারি তার ট্রেডমার্ক ফ্যাট-টিপ কলম দিয়ে একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। যেখানে মার্কিন অর্থবিভাগকে ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী দেশগুলোকে শাস্তির দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। বিশেষ করে যে দেশগুলো ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। বর্তমানে সেই অর্থনৈতিক চাপকে কূটনীতির সঙ্গে তালগোল পাকায়ে দেখার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস।
গতমাসে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি এ বিষয়ে চুক্তির জন্যও অনুরোধ জানান তিনি। এর ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহের শনিবার ওমানে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ। এখানে ইরানের প্রতি মার্কিন হুমকি স্পষ্ট। হয় চুক্তিতে আসো নইলে সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হও। গত সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরানের সঙ্গে আলোচনা সফল না হয়, তাহলে আমার মনে হয় বড় বিপদের মধ্যে পড়বে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে?
নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, তেহরান এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছতে চাইবে যাতে তারা নিষেধজ্ঞা এড়াতে পারে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার দরপতনের কারণে ভয়াবহ সংকটের মধ্যে রয়েছে ইরানের অর্থনীতি। কিন্তু এ ধরণের যেকোনো চুক্তি কার্যকর করতে আপস করতে হতে পারে, যা কট্টরপন্থীদের পক্ষে হজম করা কঠিন হবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চতুর্মুখী চাপে পড়েছে তেহরান। ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ এবং তার আঞ্চলিক মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনে তাদের ভাড়াটে যোদ্ধারা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারো কারো মতে, এখনই তেহরানকে পারমাণবিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার সর্বোত্তম সময়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, উভয় দেশের মধ্যে এখনও অনেক দূরত্ব রয়ে গেছে। কেননা তাদের আলোচনার কেন্দ্র এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে ফেলতে চায়। তেহরান যেন কোনোভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না পারে সেদিকেই লক্ষ্য ঠিক করেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনে হুথিদের জন্য যেন কোনো অর্থায়ন করতে না পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব শর্ত ইরানের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বেসামরিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও ইরানের যেকোনো পারমাণবিক নিষেধজ্ঞা তাদের জন্য চরম বিপত্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিবিসির ওই প্রতিবেদক বলছেন, ইরানের প্রযুক্তিগত দক্ষতার কিছু সমস্যাও রয়েছে। তাদের বিজ্ঞানীরা এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে এক দশক আগের পদ্ধতির বাইরে তেমন কিছু জানে না।
এদিকে ইসরাইলও চাইছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হোক। লিবিয়ায় যেভাবে এটা করা হয়েছিল সেভাবে করার কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এখানে বলে বলে রাখা ভালো, ২০০৩ সালে নিষধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে সম্পূর্ণরূপে পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ইরান সাবেক ওই প্রেসিডেন্টের পথে হাঁটবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হলে কি হবে?
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক বিকল্প বিবেচনা করে আসছে ইসরাইল। কিন্তু তাদের অনেকেই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের গভীরে চাপা পড়ে আছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে হামলার জন্য কেবল মার্কিন সহায়তা পেলেই হবে না, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ধ্বংস করতে স্থলভাগে ইসরাইলের বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে সামরিক পদক্ষেপ ইসরাইলকে বেশ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এছাড়া এর সাফল্য নিয়েও সংশয় রয়েছে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে বিশ্ববাসীকে কথিত ‘চিরদিনের যুদ্ধ’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানকে নিয়ে সর্বাত্মক আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানো তার প্রতিশ্রুতির একটা হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ইসরাইলকে এখনও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তেল আবিবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বি২ যুদ্ধবিমান দিয়ে সহযোগিতা করছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে ট্রাম্প কূটনৈতিকভাবে সমাধান খুঁজছেন। এমন একটি সমাধান সন্ধান করছেন যা ইসরাইলকে তার বিধান নির্বিশেষে একটি বাস্তব সমাধানের পথে এগিয়ে নিতে পারে। কিন্তু যদি কোনো চুক্তি না হয় তাহলে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। এছাড়া চুক্তিতে সম্মত হতে দুই মাসের সময় বেধে দিয়েছেন ট্রাম্প। এক্ষেত্রে ট্রাম্প হয়ত ভুলে গেছেন জেসিপিওএ এর চুক্তিতে পৌঁছাতে দেশগুলোর দুই বছর সময় লেগেছি। তাড়াহুড়ো করে কূটনৈতিক সমাধান পাওয়া যায়ন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমেরিকান পণ্য বর্জন করছেন কানাডিয়ান এবং ড্যানিশরা
তার স্ত্রীর সাথে বাজারে বেরিয়ে ব্রেম্যান পছন্দের ওয়াইনসহ যে সমস্ত আমেরিকান পণ্য কিনতেন তার পরিবর্তে এখন কানাডিয়ান ওয়াইন পান করা শুরু করেছেন। ব্রেম্যানের কথায়, তবে কোন পণ্যগুলো কানাডিয়ান তা নির্ধারণ করা সবসময় সহজ নয়। কখনও কখনও লেবেলিং বিভ্রান্তিকর হতে পারে। সাহায্য করার জন্য তিনি এখন তার ফোনে একটি অ্যাপ ব্যবহার করেন যা কোনও পণ্যের বারকোড স্ক্যান করতে পারে এবং এটি কোথা থেকে এসেছে তা শনাক্ত করতে পারে। ম্যাপেল স্ক্যান নামে এই অ্যাপটি কানাডার স্থানীয় পণ্য কেনাকাটা করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা।
ম্যাপেল স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা সাশা ইভানভ বলেছেন যে, গত মাসে চালু হওয়ার পর থেকে তার অ্যাপটি ১০০,০০০ বার ডাউনলোড হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে কানাডিয়ানরা এভাবেই নিজের দেশের জিনিস কিনতে থাকবে। ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত আমদানি শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় ব্রেম্যানের মতো কানাডিয়ানরা আমেরিকান পণ্য বর্জন করছেন। ইতিমধ্যেই সমস্ত বিদেশি গাড়ি, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের উপর ২৫% শুল্ক এবং অন্যান্য কানাডিয়ান এবং মেক্সিকান পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তার জেরেই এই প্রতিক্রিয়া।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের উপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হবে, যেখানে যুক্তরাজ্য ১০% শুল্ক আরোপের সম্মুখীন হবে।ট্রাম্প বলেছেন যে, এই শুল্ক মার্কিন উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। কর রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাবে। তবে, তারা বিশ্ব বাজারকে আতঙ্কিত করে তুলেছে, যা গত মাসে তীব্রভাবে পতনের সম্মুখীন হয়েছে। ট্রাম্প এমনকি কানাডাকে ৫১তম রাজ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যা কানাডিয়ান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। অটোয়াও পাল্টা শুল্ক হিসেবে ৬০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার এবং মার্কিন অটো সেক্টরের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী কানাডিয়ানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোতেও মার্কিন পণ্য বর্জনের হিড়িক বেড়েছে। মার্কিন পণ্য বয়কটের জন্য বিশেষভাবে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছে ডেনমার্কে, যেখানে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ড অধিগ্রহণ করতে চান বলে জানিয়েছেন। ডেনমার্কের বৃহত্তম মুদি দোকান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্যালিং গ্রুপ সম্প্রতি ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোকে ফোকাস করতে পণ্যের ওপর একটি কালো তারকা প্রতীক যুক্ত করেছে। কোপেনহেগেনের শহরতলির স্কোভলুন্ডে বসবাসকারী একটি স্কুলের অধ্যক্ষ বো আলবার্টাস বলেন, তিনি এই বয়কটে যোগ দিয়েছেন।
তার কথায়, ‘গ্রিনল্যান্ড কিনতে চাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা মেনে নেয়া যায় না। আমি আমেরিকান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই হয়তো করতে পারবো না, তবে আমি আমার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ভোট দিতে পারি।’
আলবার্টাসসের প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি ছিল নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস এবং অ্যাপল টিভিসহ মার্কিন স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলোর সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা। আলবার্টাস হলেন ডেনিশ ফেসবুক গ্রুপের প্রশাসক যিনি মার্কিন পণ্য বর্জনে জনগণকে সহায়তা করার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ৯০,০০০ সদস্য বিশিষ্ট এই গ্রুপে, লোকেরা জুতা থেকে শুরু করে লন মাওয়ার পর্যন্ত মার্কিন পণ্যের স্থানীয় বিকল্পগুলো শেয়ার করে।
কোপেনহেগেনের ব্রডার্স নামক একটি মুদি দোকানের মালিক মেটে হিরুল্ফ ক্রিশ্চিয়ানসেন তার দোকানে চিটোস ক্রিস্পস এবং হার্শি'স চকলেটের মতো আমেরিকান পণ্য মজুদ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। ডেনিশ বা ইউরোপীয় পণ্য দিয়ে সেগুলো প্রতিস্থাপন করছেন। তিনি মনে করছেন যে, কিছু পণ্য প্রতিস্থাপন করা সহজ। যেমন কোকা-কোলা ডেনিশ ব্র্যান্ড জলি কোলা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ। কিন্তু ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি এড়ানো বেশ কঠিন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ডেনমার্কের বয়কট আন্দোলন ট্রাম্পের নীতি এবং বাগাড়ম্বরের প্রতি মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মার্কিন বাণিজ্য নীতির ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ডগলাস আরউইন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের পণ্য বয়কট কতটা অর্থনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে তা বিচার করা কঠিন। অতীতে, বয়কট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং তা থেকে খুব বেশি কিছু অর্জন করা যায়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পদক্ষেপের প্রতি প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া হিসাবে শুরু হয় কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা ম্লান হয়ে যায়।
যদিও কানাডায় ‘বাই কানাডিয়ান’ মনোভাব বৃদ্ধির ফলে অনেক স্থানীয় ব্র্যান্ডের বিক্রয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কানাডিয়ান মুদি দোকানের সিইও লোবলা লিঙ্কডইনে পোস্ট করেছেন যে কানাডিয়ান পণ্যের সাপ্তাহিক বিক্রয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাডার আলবার্টার বাসিন্দা বিয়ানকা পার্সনস, স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের প্রচারণার জন্য ‘মেড ইন আলবার্টা’ নামে একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক আরোপের পর থেকে এই পণ্যের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। আমরা এখন প্রতি দুই সপ্তাহে ২০,০০০ এরও বেশি ভিজিটর পাচ্ছি।’
অন্টারিও এবং নোভা স্কটিয়াসহ বেশ কয়েকটি কানাডার প্রদেশ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় তাদের মদের দোকানের তাক থেকে আমেরিকার তৈরি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় সরিয়ে ফেলেছে। জ্যাক ড্যানিয়েলের নির্মাতা ব্রাউন-ফরম্যানে এই পদক্ষেপকে ‘শুল্কের চেয়েও খারাপ’ বলে অভিহিত করেছেন।বয়কটের শিকার হওয়া আমেরিকান ব্যবসাগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যালেডোনিয়া স্পিরিটস, যা কানাডিয়ান সীমান্তের কাছে ভার্মন্টে অবস্থিত একটি ডিস্টিলার। ক্যালেডোনিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান ডিস্টিলার রায়ান ক্রিশ্চিয়ানসেন বলেছেন যে, শুল্ক ঘোষণার পর তার অনেক অর্ডার সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কে অবস্থিত আমেরিকান মশলা কোম্পানি বার্ল্যাপ অ্যান্ড ব্যারেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইথান ফ্রিশ, যারা কানাডাতেও মশলা রপ্তানি করে, বলেছেন যে তিনি ভোক্তা বয়কটের চেয়ে তার কোম্পানির আমদানির উপর শুল্কের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বেশি চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এমন একটি ধারণা আছে যে, যদি আপনি কোনও আমেরিকান কোম্পানি বয়কট করেন, তাহলে এর অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়বে। সেইসঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয় এই ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ মার্কিন অর্থনীতি এমনিই ভেঙে পড়ছে। আমাদের মতো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে।’
সূত্র: বিবিসি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বকে বদলে দেয়ার অভিনব সব ধারণা আমাদের আছে: বিনিয়োগ সম্মেলনে ড. ইউনূস
বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চার দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২৫’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
স্পেন থেকে অস্কার গার্সিয়া, যুক্তরাজ্য থেকে রোজি উইন্টারটন এবং বাংলাদেশ থেকে নাসিম মঞ্জুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশের ব্যবসা এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনার ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, নির্বাহী এবং নীতিনির্ধারকেরা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গৃহীত অর্থনৈতিক সংস্কার এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পাইপলাইন গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আপনি যদি কোনো লক্ষ্য নিয়ে ব্যবসা করতে চান, তাহলে বাংলাদেশই আপনার সেই জায়গা। বাংলাদেশ কাজ করে দেখায়, আর একবার কেউ শুরু করলে অন্যরাও তার অনুসরণ করে।
কীভাবে মানুষ ব্যবসার মাধ্যমে সুখী হয়, তার বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘টাকা উপার্জন করে মানুষ নিঃসন্দেহে আনন্দ বা সুখ পায়, কিন্তু অন্যকে সুখী করার মধ্যে অতিরিক্ত আনন্দ বা সুখ নিহিত রয়েছে।’
সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমে ব্যবসায়ীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যদি আপনি বাংলাদেশে ব্যবসা করেন, তাহলে আপনি সুখ এবং অতিরিক্ত আনন্দ দু’টিই পাবেন। কোনো খরচ ছাড়াই এই অতিরিক্ত আনন্দ আপনি লাভ করতে পারেন এবং এটি করে আপনি গর্বিত হবেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো এই অঞ্চলকেই দেখেন যেখানে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি একসঙ্গে অর্থ উপার্জন এবং মানুষের জীবন পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আপনাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এই অতিরিক্ত সুখ বা আনন্দ উপভোগ করতে পারবে, যদি তারা তাদের প্রভাব মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য বিশ্ব বদলে দেয়ার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার এবং এর মাধ্যমে নতুন সভ্যতা গঠনের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, আমি বলছি, আমরা ‘তিন শূন্য’র একটি পৃথিবী তৈরি করতে পারি। এটা সরকার দিয়ে নয়, ব্যবসার মাধ্যমে করা সম্ভব। কারণ এটা সরকারের কাজ নয়, বরং ব্যক্তিমাত্র, মানুষ হিসেবে আমাদের কাজ। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা মানুষ। আমরাই বিশ্বকে বদলে দিতে পারি।’
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের নিদারুণ কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ খাদ্যের অভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তবে ১৯৭৪ সাল থেকে এই স্বল্প সময়ের যাত্রায় আমরা এক অভূতপূর্ব অবস্থানে চলে এসেছি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তিনি বলেন, আপনারা আমাদের এই অগ্রযাত্রায় শামিল হন।
এদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ অবদানের’ স্বীকৃতিতে এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক ইয়ংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাংকে বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে তার হাতে নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তুলে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় নাগরিক না হয়েও ‘সম্মানিত নাগরিক’ মর্যাদা পেলেন কিহাক সাং। কিহাক সাং বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সম্মানসূচক নাগরিকত্ব পেয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। কিহাক সাংসহ মোট পাঁচজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। উদ্ভাবনে-ফ্যাব্রিক লাগবে লিমিটেড, বিদেশি বিনিয়োগে-বিকাশ, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ওয়ালটনকে এক্সেলেন্স ইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর কাছ থেকে ‘এক্সিলেন্স ইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’-এর ক্রেস্ট গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম মাহবুবুল আলম।
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটের তৃতীয় দিনে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে, দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে এফবিসিসিআই। সেমিনারের শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান নীতিগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর সমাধান করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার অবকাঠামোতে বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।
এদিকে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২৫’ এ কর-স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য একটি প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করবো; যা নিশ্চিত করবে ন্যায্য আচরণ, কর-স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার। এ আইনি কাঠামো প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেবে এবং বাংলাদেশকে একটি স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসাবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরবে।
সন্ধ্যায় বিনিয়োগ সম্মেলনের তৃতীয়দিনের আয়োজনের উপর অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বিশ্বব্যাপী উন্নতমানের নিটেড টেক্সটাইল, ডাইং প্রসেস এবং পোশাক উৎপাদনের জন্য চীনভিত্তিক স্বনামধন্য পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বাংলাদেশে ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই লক্ষ্যে বিডা ও হান্ডা টেক্সটাইল কোং লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। তারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতাধীন টেক্সটাইল ও ডাইং খাতে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের আওতাধীন পোশাক শিল্পে ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো- পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যাল ও কৃষি অন্যতম।
বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আমাদের একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে। আমরা চিন্তাভাবনা করেছি ফ্রি ট্রেড জোনের দিকে চলে যাবো। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জেবেল আলী পোর্ট আছে, সেটি আমিরাতের অর্থনীতিতে ২৫ শতাংশ অবদান রাখে। সেই বন্দরের মতো করে আমরা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি কোনো এক জায়গায় এই ফ্রি ট্রেড জোনের কথা চিন্তা করছি।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়ম এসেছেন আমাদের প্রোগ্রামে অংশ নিতে। তিনি আমিরাতের একজন ভিআইপি, এমনকি রাজপরিবারের খুব কাছের লোক। উনি একটা ছোট্ট প্রোগ্রাম করেছেন এখানে। তবে তার প্রোগ্রাম ফুল ছিল, এমনকি অনেক দর্শককে আমরা জায়গা দিতে পারিনি। ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ নিয়ে, বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে আমরা ফ্রি ট্রেড জোন করার চেষ্টা করছি। এটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
এ সময় তিনি জানান, এবারের সামিটে এমন সাড়া পাওয়া গেছে যে, অনেককে জায়গা দেয়া যায়নি। অনেকে জায়গা না পেয়েও এসেছেন বিনিয়োগকারীদের দেখা পেতে। সেজন্য আমরা ভাবছি, আগামী সামিট চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নিয়ে যাবো। এটার চাহিদা ওখানেই বেশি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইইউ’র সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে ঢাকা by মিজানুর রহমান
জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ) মো. নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার রাজনৈতিক উত্তরণ ঘটবে পিসিএ-সইয়ের মাধ্যমে। ফলে রূপরেখা চুক্তিটি সই হলে গণতন্ত্র, সুশাসন, নিরাপত্তা, মানবাধিকারের পাশাপাশি অর্থনীতি এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগের মতো নানা ইস্যুতে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
তিনি জানান, দর কষাকষি শেষ করে আগামী বছরের জুনে চুক্তিটি সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ইইউ’র সঙ্গে পিসিএ সই করবে।
পিসিএ এবং এর গুরুত্ব: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী পিসিএ হলো আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি যা ইইউ এবং একটি অংশীদার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করে।
অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইইউ অংশীদার দেশগুলোতে রাজনৈতিক সংলাপ, শান্তি ও নিরাপত্তা, সুশাসন ও মানবাধিকার, বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং আর্থিক সহযোগিতাসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ এই সহযোগিতার পরিধিতে রয়েছে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমর্থন করা। একটি শক্তিশালী মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশের বিকাশ নিশ্চিত করা। নানা ক্ষেত্রে বাণিজ্য সম্পর্ক এবং সহযোগিতা জোরদার করা।
পিসিএর উপাদান: চুক্তির আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, শ্রম অধিকার, সংযুক্তি, প্রতিরক্ষা, অন্তর্জাল নিরাপত্তা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জ্বালানি, মৎস্য, দক্ষ অভিবাসন, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে সহযোগিতা, কৃষিসহ প্রায় ৩৫টি বিষয় রয়েছে।
পিসিএ নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এবার মূল আলোচনা শুরু হবে। ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা চুক্তি ভবিষ্যতে প্রতিস্থাপন হবে পিসিএ চুক্তির মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত ২০০১ সালে ইইউ’র সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। সেই চুক্তিতে অর্থনীতি, উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাজনৈতিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষায়
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্কের বিস্তৃতির লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫শে অক্টোবর নতুন করে ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ব্রাসেলসে ওই অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় পিসিএ চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছিল ইইউ। পরবর্তীতে ইইউ অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পিসিএ সই করার সিদ্ধান্ত নিলে নভেম্বরে ঢাকায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক হাজার ফিলিস্তিনিকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেবে ইন্দোনেশিয়া
দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি সোচ্চার সমর্থক হিসেবে কাজ করে এসেছে। ইন্দোনেশিয়া সরকার ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য জোর দিয়ে এসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিনিদের জোর করে উৎখাতের মন্তব্যের বিরোধিতাও করেছে দেশটি। ফিলিস্তিনি ও তাদের স্বাধীনতার প্রতি ইন্দোনেশিয়ার সমর্থনের প্রতিশ্রুতি আমাদের সরকারকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে প্রেরণা জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রাবায়ো। উল্লেখ্য, প্রাবায়ো তার কূটনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে তুরস্ক, মিশর ও কাতার সফর করবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনুরোধে গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণে ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তাপদাহে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে by তামান্না মোমিন খান
মানুষ তৃষ্ণা মেটানোর জন্য রাস্তা থেকেই শরবত, আখের রস ও বিভিন্ন জাতীয় পানীয় কিনে খায় যা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ থেকে আমাশয়, ডায়রিয়া ও জন্ডিসের মতো রোগ দেখা দেয়। পানিটা অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে। এজন্য পানি ভালোভাবে টগবগ করে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে খেতে হবে। শরবতটাও ফুটানো পানি দিয়েই তৈরি করতে হবে। যারা বাইরে থাকবেন তারা যত্রতত্র শরবত বা পানি পান করা থেকে বিরত থাকবেন। ডাব বা রসালো ফল খেতে পারেন। গরমে শরীরে পানি শূন্যতা তৈরি হতে পারে। যেহেতু ঈদের ছুটি শেষে স্কুল খুলে যাচ্ছে তাই শিশুদের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে। তারা যেন স্কুলে গিয়ে আম মাখা, আচার, চাটনি বা ঝাল মুড়ি- এধরনের খাবার না খায়। কারণ শিশুরা ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়। যারা বয়স্ক তাদের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। ডায়রিয়া দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ওর স্যালাইন খাওয়া শুরু করতে হবে। আর লক্ষ্য রাখতে হবে শরীরে পানি শূন্যতা যেন না হয়। পানি শূন্যতা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে হবে। সুতরাং পিতামাতাকে কিন্তু এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এরই মধ্যে ডেঙ্গুতে একজন মারা গিয়েছে। ডেঙ্গুর বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বাড়ির আশপাশে যেন ডেঙ্গু মশা জন্মাতে না পারে সেজন্য চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। ডেঙ্গু হলে প্রতিদিন তিন থেকে চার লিটার পানি পান করতে হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1361)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
April
(427)
-
▼
Apr 10
(10)
- বদলে যাচ্ছে নির্বাচনী আচরণবিধি by মো. আল-আমিন
- ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প...
- ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: অপরাধের শত বছর, অন্যায়ে...
- সংসদীয় গণতন্ত্র নাকি ‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ অন্য রূপ b...
- ট্রাম্পের তাড়াহুড়ো: ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিত...
- আমেরিকান পণ্য বর্জন করছেন কানাডিয়ান এবং ড্যানিশরা
- বিশ্বকে বদলে দেয়ার অভিনব সব ধারণা আমাদের আছে: বিনি...
- ইইউ’র সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে ঢাকা by ম...
- এক হাজার ফিলিস্তিনিকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেবে ইন্দো...
- তাপদাহে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে by তামান্না মোমিন খান
-
▼
Apr 10
(10)
-
▼
April
(427)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...